আবু তালিব বয়কট | উমর ও হামজার ইসলাম গ্রহণ এবং বয়কট | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

আবু তালিব বয়কট | উমর ও হামজার ইসলাম গ্রহণ এবং বয়কট, পাওয়াতের সপ্তম বছরে কুরাইশদের সব গোত্র একজোট হয়ে সিদ্ধান্ত নিল, মুহাম্মদকে (সা) এবার হত্যা করতে হবে। কীভাবে তা সম্ভব, তা নিয়ে ভাবতে লাগল। তারা ভালো করেই জানত যে, বনু হাশিম সহজে তাদের হাতে মুহাম্মদকে (সা) তুলে দেবে না। তাই কুরাইশরা পরিকল্পনা করল: “বনু হাশিম ‘ব্লাড মানি’ হিসেবে যে পরিমাণ অর্থ চাইবে তা আমরা দিয়ে দেব।

 

আবু তালিব বয়কট | উমর ও হামজার ইসলাম গ্রহণ এবং বয়কট | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

আবু তালিব বয়কট | উমর ও হামজার ইসলাম গ্রহণ এবং বয়কট | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

আমরা কেউই মুহাম্মদকে (সা) হত্যা করব না। এই কাজ অন্য কোনো উপজাতির কাউকে দিয়ে অর্থের বিনিময়ে করিয়ে নেব।” তারা আবু তালিবের কাছে গিয়ে বলল, “আপনি মুহাম্মদকে (সা) আমাদের কাছে হাতে তুলে দিন। এ জন্য আমরা আপনাকে কিছু ব্লাড মানি দেব। তবে এ কাজটি কোনো কুরাইশ করবে না। আপনি যদি এই প্রস্তাব না মানেন, তাহলে আমরা কুরাইশরা আপনার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করব। আপনাকে এ দুইয়ের একটা বেছে নিতে হবে।”

এ রকম ঘটনা আরবের ইতিহাসে আগে কখনো ঘটেনি। আবু তালিব বললেন, “কীভাবে তোমরা আমাদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করবে? আমরা তো রক্তের আত্মীয়।” কুরাইশ নেতারা জবাব দিল, “আমরা আপনাদের কাছে কোনো খাবার বা পানি পৌঁছাতে দেব না। আমরা আপনাদের বয়কট করব; আমরা আপনাদের সঙ্গে সব বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করব, আপনাদের সঙ্গে কোনো ব্যবসায়িক লেনদেন করব না।” একথা শুনে আবু তালিব রেগে গিয়ে বললেন, “তোমরা যা খুশি তা করতে পার।

 

islamiagoln.com google news
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

আমি আমার ভাতিজাকে কখনোই তোমাদের হাতে তুলে দেব না।” এক বর্ণনায় আছে, বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবকে নির্বাসনে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। তবে সম্ভবত আবু তালিব স্বেচ্ছায় অন্যত্র থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অর্থাৎ ওই দুই গোত্র নিজেদের ওপর এক প্রকার নির্বাসন চাপিয়ে দিয়ে মক্কার বাইরে বনু হাশিমের মালিকানাধীন একটি উপত্যকায় চলে গিয়েছিল, যা পরবর্তীকালে আবু তালিবের উপত্যকা নামে অভিহিত হয়।

এই নির্বাসন পাকাপোক্ত করার জন্য কুরাইশরা নিজেদের মধ্যে একটি লিখিত চুক্তি করেছিল। চুক্তিতে লেখা ছিল। তাদের কেউ ওই দুটি গোত্রের সঙ্গে কোনো কেনাবেচা করবে না, কেউই তাদের সঙ্গে বৈবাহিক কিংবা সামাজিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না। সুতরাং এটাকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক বয়কট বলা যেতে পারে। কুরাইশরা এই চুক্তিটি কাবার ভেতরে রেখে দিয়েছিল। বাগদি ইবনে আমির নামের যে ব্যক্তি চুক্তিটি লিখেছিল, নবিজি (সা) তার বিরুদ্ধে দোয়া করেন। জানা যায়, পরে বাগদির হাত পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যায়, তা কখনোই ভালো হয়নি।

বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব মক্কার বাইরে দুই-তিন বছর বাস করেছিল। এই সময় সম্পর্কে বেশি তথ্য নেই। কেন? প্রথমত, কারণ ওই সময়ের বর্ণনা দেওয়ার জন্য খুব অল্প লোকই বেঁচে ছিলেন। দ্বিতীয়ত, মানুষ খারাপ স্মৃতিগুলো সাধারণত মনে রাখতে চায় না, সেসব নিয়ে ভাবতে চায় না। তাই যারা বেঁচে ছিলেন তারাও ওই সময়ের বর্ণনা তেমন একটা রেখে যাননি। নিঃসন্দেহে সময়টা তাঁদের জন্য অত্যন্ত কঠিন ও বেদনাদায়ক ছিল।

 

আবু তালিব বয়কট | উমর ও হামজার ইসলাম গ্রহণ এবং বয়কট | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

তারা দুই-তিন বছর ধরে ওই উপত্যকায় বেঁচে থাকার উপায় বের করে নিয়েছিলেন। বৃষ্টির পানি, ঝোপঝাড়ের লতাপাতা ইত্যাদির মধ্যেই তাঁদের জীবনধারণের উপকরণ খুঁজে নিতে হয়েছিল। তবে মক্কার কুরাইশদের মধ্যে যারা তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল, তারা গোপনে তাদের খাবারদাবার পাঠিয়ে দিত। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মুর্তিম ইবনে আদি। তিনি ছিলেন কুরাইশদের অন্যতম উপগোত্র বনু নওফালের একজন প্রধান নেতা। তিনি বদরের যুদ্ধের এক বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন ইসলামের প্রতি সহানুভূতিশীল অমুসলিম ব্যক্তিদের অন্যতম। নবিজি (সা) বিভিন্ন সময়ে তাঁর অনেক প্রশংসা করেছেন। বদরের যুদ্ধের পরে নবিজি (সা) বলেন, মুর্তিম বেঁচে থাকলে এবং সব যুদ্ধবন্দিতে মুক্তি দিতে বললে তিনি কোনো রকম প্রশ্ন ছাড়াই তা করতেন।

বয়কটের সময় মুর্তিম ইবনে আদি কয়েক সপ্তাহ পর পরই এক মস্ত উটের পিঠে করে খাবার, পানি, শস্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে ওই উপত্যকায় যেতেন। বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব উটের মাংস শুকিয়ে রেখে সপ্তাহর পর সপ্তাহ ধরে খেতেন। জানা যায়, এই বয়কটের দুই-তিন বছর আরও কয়েকজন ব্যক্তি এ রকম সাহায্য করতেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন হাকিম ইবনে হিজাম। তিনি ছিলেন খাদিজার (রা) ভাগিনা। পরে তিনি একজন বিশিষ্ট সাহাবি হিসেবে খ্যাতি পান।

কিছু সহানুভূতিশীল মানুষের সাহায্য না পেলে বয়কটের সময় বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবের পক্ষে অস্তিত্ব রক্ষা করা দুষ্কর হতো। কারণ সেখানে কেউ গেলে আবু জেহেল বলত, “এই লোকদের কাছে কোনো কিছু বিক্রি করো না। তারা যা দাম দেয় আমি তার দ্বিগুণ দাম দেব।” বয়কটের এই দুই-তিন বছরেও হজ মৌসুমে নবিজি (সা) ইসলামের দাওয়াত অব্যাহত রাখেন। তিনি উপত্যকা থেকে বের হয়ে এসে বিভিন্ন গোত্রের লোকদের সঙ্গে মিলিত হতেন, তাদের ইসলামের দাওয়াত দিতেন।

আরো পড়ূনঃ

Leave a Comment