আবু সালামা | আবিসিনিয়ায় দ্বিতীয় অভিবাসন (হিজরত) | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

আবু সালামা | আবিসিনিয়ায় দ্বিতীয় অভিবাসন (হিজরত), আবু সালামা (রা) ছিলেন নবিজির (সা) আপন ফুপাতো ভাই। তিনি ছিলেন একজন মাখজুমি, অর্থাৎ আবু জেহেলের গোত্রের। আবু সালামা সুরক্ষার জন্য তাঁর মামা আবু তালিবের কাছে গেলেন। লক্ষ করুন, তিনি কিন্তু নিজ বনু মাথঘুমের নেতা আবু জেহেলের কাছে যাননি, কারণ আবু জেহেল কোনো মুসলিমকে সুরক্ষা দেবে এমন সম্ভাবনা ছিল না।

 

আবু সালামা | আবিসিনিয়ায় দ্বিতীয় অভিবাসন (হিজরত) | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

আবু সালামা | আবিসিনিয়ায় দ্বিতীয় অভিবাসন (হিজরত) | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

আবু তালিব তাঁকে বললেন, “অবশ্যই আমি তোমাকে সুরক্ষা দেব।” আবু জেহেল বিষয়টি জানতে পেরে আবু তালিবের প্রতি রেগে গেল। তবে আবু তালিবের পরিষ্কার যুক্তি হলো, ‘আমি যদি আমার ভাতিজাকে (মুহাম্মদকে) সুরক্ষা দিতে পারি, তাহলে কেন আমার ভাগিনাকে (আবু-সালামাকে) তা দিতে পারব না?’ আবু-সালামার সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে কুরাইশদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হলে আবু লাহাব হঠাৎ তার ভাই আবু তালিবের প্রতি এক ধরনের মায়া অনুভব করে।

 

islamiagoln.com google news
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

সে বিরিক্ত হয়ে আবু জেহেলকে বলে, “তুমি কি এই বৃদ্ধকে (আবু তালিবকে) যথেষ্ট জ্বালাতন করনি? তাঁকে তাঁর মতো থাকতে দাও। আল্লাহর কসম, তুমি যদি এভাবে (তাঁকে জ্বালাতন করা) চালিয়ে যেতে থাক, তবে আমি বাধ্য হয়ে তাঁর পক্ষ নেব।” লক্ষ করুন, এ ক্ষেত্রে বনু হাশিম গোত্রের আবু লাহাব ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসার কারণে আবু তালিবের পক্ষে অবস্থান নিল।

 

আবু সালামা | আবিসিনিয়ায় দ্বিতীয় অভিবাসন (হিজরত) | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

যদিও এই ক্ষেত্রে তার অবস্থান সেই সময়ে ইসলামের উপকারে এসেছিল, তবু এই ধরনের ভালোবাসা কাউকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে অব্যাহতি দেবে না; যেহেতু এটি আল্লাহ ও তাঁর রসুলের (সা) প্রতি ধর্মীয় ভালোবাসা থেকে আসেনি। নিশ্চয়ই আল্লাহ যেভাবে চান, সেভাবেই তিনি ইসলামকে সাহায্য করেন। নবিজি (সা) অনেক বছর পরে মদিনায় বলেছিলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা এই দ্বীনকে এমনকি অবিশ্বাসী ও মন্দ ব্যক্তির মাধ্যমেও সাহায্য করেন।”

আরো পড়ুনঃ

Leave a Comment