মিরাজ: আল্লাহর সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ | রাতের ভ্রমণ এবং ঊর্ধ্বলোকে আরোহণ-2 | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

মিরাজ: আল্লাহর সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ | রাতের ভ্রমণ এবং ঊর্ধ্বলোকে আরোহণ-2, তারপর নবি করিম (সা) মিরাজে আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সাক্ষাতের বর্ণনা দেন। অনেক ক্লাসিক্যাল গ্রন্থ, বিবরণী, গবেষণামূলক প্রবন্ধ ইত্যাদি পর্যালোচনা করেও আমরা এই সাক্ষাতের কোনো “বিস্তারিত বিবরণ খুঁজে পাই না, যা আসনটিক হিসেবে গ্রহণ করতে পারি এই সাক্ষাৎ নিয়ে অনেক বানোয়াট গল্প ও মনগড়া কাহিনি প্রচলিত আছে। বানোয়াট বিষয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ‘তাশাহহুদ (আত্তাহিয়াতু লিল্লাহি), যা এই সাক্ষাতের সময়ে সংঘটিত কথোপকথনের সংক্ষিপ্তসার বলে বহুলভাবে প্রচলিত।

 

মিরাজ: আল্লাহর সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ | রাতের ভ্রমণ এবং ঊর্ধ্বলোকে আরোহণ-2 | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

মিরাজ: আল্লাহর সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ | রাতের ভ্রমণ এবং ঊর্ধ্বলোকে আরোহণ-2 | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

নবিজি (সা) কি একাই সিদরাতুল মুনতাহা পার হয়ে গিয়েছিলেন? নাকি ফেরেশতা জিব্রাইল (আ) তাঁকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন? এ বিষয়ে সহিহ বুখারিতে শুধু একটি রেফারেন্স পরোক্ষভাবে এসেছে। তা হলো, নবিজি (সা) বলেছেন, “তখন আমি আরও ঊর্ধ্বে আরোহণ করলাম।” এখানে ‘আমি একবচনে ব্যবহৃত হয়েছে, জিব্রাইলের (আ) উল্লেখ নেই। এর (সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত পৌঁছানোর) আগের সব বর্ণনায় এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে: “জিব্রাইল (আ) আমার সঙ্গে যেতে থাকেন।” আল্লাহ ভালো জানেন। তবে আমরা নবিজির (সা) এই কথা থেকে অনুমান করতে পারি যে তিনি সিদরাতুল মুনতাহা পার হয়ে একাই এগিয়ে গিয়েছিলেন।

 

সূরা মুমিনূন

 

তারপর তিনি বলেছেন, “আমি এমন একটি স্তরে উঠেছিলাম যেখানে কলম দিয়ে লেখার শব্দ শুনতে পেয়েছি।” এখানে কলমের বিষয়টি কী? আর লিখছেই বা কে? আমরা অন্য এক হাদিস অনুসারে জানি, নবিজি (সা) বলেছেন, “আল্লাহ সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টি করেন। তারপর তিনি কলমকে বললেন, ‘লেখো।’ কলম জিজ্ঞেস করল, “কী লিখব?’ আল্লাহ বললেন, ‘কেয়ামতের দিন অবধি যা যা ঘটবে তা লেখো।” সুতরাং বলা যেতে পারে, আল্লাহর সৃষ্ট কলম একা একাই লিখছে।

 

মিরাজ: আল্লাহর সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ | রাতের ভ্রমণ এবং ঊর্ধ্বলোকে আরোহণ-2 | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

শুধু ৫০ বার নামাজের বিষয় ছাড়া ওই আল্লাহর সঙ্গে নবিজির (সা) ব্যক্তিগত সাক্ষাতে আর কী কী ঘটেছিল তা সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো বিবরণ নেই, যদিও আমরা অনুমান করতে পারি, আল্লাহর সঙ্গে নবিজির (সা) আরও কিছু কথা হয়েছিল। আমরা শুধু ৫০ বার নামাজের বিষয়টি সম্পর্কেই জানি। আমরা যে আর বেশি কিছু জানি না, এ বিষয়ে সম্ভবত আল্লাহ তায়ালার কোনো প্রজ্ঞা আছে। হয়তো সেখানে যা ঘটেছিল তা একান্তই নবিজির (সা) ব্যক্তিগত। হয়তো নবিজি (সা) আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছ থেকে এমন কিছু পেয়েছিলেন যা তিনি আমাদের বলতে চাননি, অথবা যা আমাদের জানার প্রয়োজন নেই। সম্পূর্ণ আলাপচারিতা সম্পর্কে শুধু আল্লাহ ও তাঁর রসুলই (সা) জানেন।

আরও পড়ূনঃ

Leave a Comment