মসজিদ নির্মাণের সময় নবিজির (সা) সঙ্গে আম্মার ইবনে ইয়াসিরের বাক্যালাপ | ইসলামের প্রথম মসজিদ নির্মাণ

মসজিদ নির্মাণের সময় নবিজির (সা) সঙ্গে আম্মার ইবনে ইয়াসিরের বাক্যালাপ | ইসলামের প্রথম মসজিদ নির্মাণ, মসজিদের নির্মাণকাজ চলার সময় আম্মার ইবনে ইয়াসির দুটি বড় পাথর বহন করছিলেন। তা করতে গিয়ে তিনি হিমশিম খাচ্ছিলেন। একসময় তিনি রসিকতা করে বললেন, “হে আল্লাহর রসুল! তাঁরা দুটি পাথর বহন করতে দিয়ে আমাকে মেরে ফেলার উপক্রম করছেন, আর নিজেরা বহন করছেন কেবল একটি পাথর।” [এ থেকে আমরা দেখতে পাই, সাহাবিরা নবিজির (সা) সঙ্গে হাস্যরসও করতেন। এ থেকে আমরা একটি ফিকহ বিষয়েও ধারণা পাই। এই ধরনের ঠাট্টা- রসিকতা “মিথ্যা” হিসেবে বিবেচিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত যাকে বলা হচ্ছে তিনি বুঝতে যে এটি একটি রসিকতা।]

 

মসজিদ নির্মাণের সময় নবিজির (সা) সঙ্গে আম্মার ইবনে ইয়াসিরের বাক্যালাপ | ইসলামের প্রথম মসজিদ নির্মাণ

 

মসজিদ নির্মাণের সময় নবিজির (সা) সঙ্গে আম্মার ইবনে ইয়াসিরের বাক্যালাপ | ইসলামের প্রথম মসজিদ নির্মাণ

নবিজি (সা) মুচকি হেসে বললেন, “না, সুমাইয়ার পুত্র। তাঁরা তোমাকে মেরে ফেলছে না। বরং তোমাকে যারা মেরে ফেলবে তারা হবে ‘আল-ফিয়াত আল-বাগিয়াহ’ (সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া দল)।” এখানে তিনি তাঁর মা ইসলামের প্রথম শহিদ সুমাইয়াকে সম্মান জানাতে তাকে ‘সুমাইয়ের পুত্র’ বলে সম্বোধন করেন। এরপর থেকে সাহাবিরা সব সময় তাঁকে ‘সুমাইয়ের পুত্র’ বলে ডাকতেন, কারণ নবিজি (সা) তাঁকে এই নামে ডেকেছিলেন। তিনি আম্মারকে আরও বলেন, “সবাই একটি করে পুরস্কার পাচ্ছে, আর তুমি পাচ্ছে দুটি। আর এই পৃথিবীতে তুমি শেষ যা পান করবে তা হলো এক গ্লাস দুধ।”

শুরুতে আম্মার কেবল ঠাট্টা করে ওই কথাটি বলেছিলেন। কিন্তু নবিজির (সা) এমন একটি জবাব দিয়েছিলেন যার ধর্মতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। আম্মার ইবনে ইয়াসিরের মৃত্যুর ঘটনাটি পরবর্তী সময়ের প্রেক্ষাপটে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ৩৭ হিজরি সালে আলির (রা) খেলাফতকালে ফিতনার সময় আম্মার মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের পক্ষ না নিয়ে আলি ইবনে আবি তালিবের পক্ষ অবলম্বন করেন। আম্মারের কথার যে জবাব নবিজি (সা) দিয়েছিলেন তার ভিত্তিতে সুন্নি হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি যে, আলি (রা) মুয়াবিয়ার (রা) চেয়ে সত্যের কাছাকাছি ছিলেন। সুন্নি হিসেবেও আমরা সকল সাহাবিকেই সম্মান করে থাকি। তাই আমরা মুয়াবিয়া (রা) সম্পর্কে খারাপ কিছু বলি না। আমরা বলি যে, মুয়াবিয়াও (রা) আন্তরিক ছিলেন, তবে আলি (রা) সত্যের অধিক নিকটবর্তী ছিলেন। আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট থাকুন।

 

islamiagoln.com google news
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

[প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ্য, ফিতনার সময় সাহাবিরা তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে পড়েন ]

 (১) আলি ইবনে আবি তালিবের দল,

(২) মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের দল, এবং

(৩) যারা কোনো দলের পক্ষেই যুদ্ধ করেনি; যেমন: আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা), আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) এবং আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) প্রমুখ। তাদেরকে একাধিকবার যুদ্ধে অংশ নিতে বলা হলেও তাঁরা প্রতিবারই তা প্রত্যাখ্যান করেন।

 

মসজিদ নির্মাণের সময় নবিজির (সা) সঙ্গে আম্মার ইবনে ইয়াসিরের বাক্যালাপ | ইসলামের প্রথম মসজিদ নির্মাণ

 

ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, “আপনি আলির দলে আছেন, না আয়েশার (রা) দলে?” তিনি জবাবে বলেছিলেন, “কোনো দলেই না। আমাকে এর মধ্যে জড়িত করো না। আমি নবি মুহাম্মদের (সা) দলে।” ইবনে তাইমিয়া বলেছেন, “সাহাবিদের এই দল (যাঁরা কোনো পক্ষকেই বেছে নেননি) সত্যের ওপর ছিলেন। আলি (রা) ছিলেন সত্যের কাছাকাছি, আর মুয়াবিয়া (রা) আলির (রা) মতো সত্যের কাছাকাছি ছিলেন না।” | বাস্তবে যা ঘটেছিল তা হলো, যেমনটি নবিজি (সা) ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, আম্মার ইবনে ইয়াসির মুয়াবিয়ার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার আগে দুধ পান করেন এবং যুদ্ধের ময়দানে তিরের আঘাতে মৃত্যুবরণ করেন।

আরও পড়ূনঃ

Leave a Comment