কাফেলা টার্গেট করা | বদরের যুদ্ধের প্রস্তুতি | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

কাফেলা টার্গেট করা | বদরের যুদ্ধের প্রস্তুতি, মুসলিমদের সামনে দুই ধরনের সমস্যা বা হুমকি ছিল। ভেতর থেকে উদ্ভূত সমস্যা হলো, মদিনা তখনও ঐক্যবদ্ধ হয়নি। হিজরতের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল তাতে একদল লোক খুশি হতে পারেনি। তাদের মধ্যে ছিল মদিনার ইহুদি ও মুশরিকরা। অন্যদিকে বাইরের দিক থেকে আসা সমস্যা হলো মক্কার কুরাইশরা। তবে আমরা দেখতে পাব, আস্তে আস্তে এক সময় পুরো আরব অঞ্চলই সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে, এই প্রথমবারের মতো পুরো উপদ্বীপটি দুটি আলাদা শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়বে। এই মেরুকরণের মধ্য দিয়েই শেষ পর্যন্ত মহানবি মুহাম্মদের (সা) অধীনে আরবরা আবার একত্রিত হবে। এবং এটি ঘটবে মূলত সামরিক অভিযানের মাধ্যমে।

সিরাহর মদিনার পর্বের ইতিহাস মূলত সামরিক অভিযানের ইতিহাস । বর্ণনাকারীরা কেবল সেসব বিষয়ই বিশদভাবে বর্ণনা করেছে যা তাঁদের দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সে কারণেই সম্ভবত মদিনার পর্বের ৮০ শতাংশ কেবল একের পর এক যুদ্ধের বর্ণনা । 

কাফেলা টার্গেট করা | বদরের যুদ্ধের প্রস্তুতি | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

কাফেলা টার্গেট করা | বদরের যুদ্ধের প্রস্তুতি | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

কাফেলা টার্গেট করা

কাফেলা টার্গেট করার ধারণাটি অনেক আগে থেকেই ছিল। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত একটি ঘটনা থেকে আমরা জানতে পারি, কাফেলাগুলোকে লক্ষ করে আক্রমণ করার বিষয়টি এমনকি আনসাররাও ভেবেছিলেন। জাহেলি যুগে বিশিষ্ট আনসার সাদ ইবনে মুআদ ছিলেন বেলালের মনিব উমাইয়া ইবনে খালাফের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাঁরা এতটাই ঘনিষ্ঠ ছিলেন যে, উমাইয়া যখনই মক্কা থেকে উত্তর দিকে সফরে যেতেন, তখন প্রতিবারই মদিনায় এসে সাদের বাড়িতে আতিথ্য গ্রহণ করতেন। অনুরূপভাবে সাদও মক্কা গেলে উমাইয়ার বাড়িতে অবস্থান করতেন।

প্রথম হিজরি সালের কোনো একদিন সাদ সম্ভবত ব্যবসায়িক কোনো কাজে মক্কায় যান। সেই সময়ের রীতি ছিল, কেউ মক্কায় এলে কাবাঘর তাওয়াফ  করত। সাদ উমাইয়াকে জিজ্ঞেস করলেন, “তাওয়াফ করার জন্য সবচেয়ে ভালো সময় কখন?” উমাইয়া জবাবে বললেন, “যখন অন্য কেউ থাকবে না, তখন সেখানে যেও।” সাদের ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারটি তখনও কুরাইশদের জানা ছিল। না। তারা শুধু জানত যে, তিনি মুসলিমদের সমর্থন ও নিরাপত্তা-সুরক্ষা নিচ্ছেন। তবু সাদকে সর্বসমক্ষে দেখা গেলে এক ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টির আশঙ্কা ছিল। তাই উমাইয়া রাতের অন্ধকারে তাওয়াফ করার জন্য তাঁর বন্ধুকে পরামর্শ দিয়েছিলেন।

 

islamiagoln.com google news
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

কিন্তু সেই রাতের অন্ধকারে যখন তাঁরা তাওয়াফ করছিলেন, ঘটনাক্রমে তখনই সেখানে আবু জেহেলের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়ে গেল । আবু জেহেলের মনে সন্দেহের উদ্রেক হলো। সে উমাইয়াকে জিজ্ঞেস করল, “তোমার এই বন্ধুটি কে?” উমাইয়া বললেন, “ইনি সাদ ইবনে মুআদ, ইয়াসরিব থেকে এসেছেন।” আবু জেহেল রেগে গিয়ে সাদকে উদ্দেশ করে বললেন, “এটা কীভাবে সম্ভব যে তুমি ‘সুবাদের প্রটেকশন দিয়ে তাদেরকে সাহায্য করার ঘোষণা দেওয়ার পরও কাবাঘরের চারপাশে নিরাপদে তাওয়াফ করছ? তোমার কত বড় সাহস যে, তুমি এখন সশরীরে মক্কায় এসে নিরাপদে তাওয়াফ করছ? আল্লাহর কসম, তুমি যদি আবু সাফওয়ানের (উমাইয়া) অতিথি না হতে তাহলে নিজের শরীর নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারতে না।” উল্লেখ্য যে, কুরাইশরা মুসলিমদের ‘সুবা’ বা ধর্মত্যাগী (পূর্বপুরুষদের ধর্ম ত্যাগকারী লোক) বলে অভিহিত করত ।

এটি একটি প্রকাশ্য হুমকি। মজার ব্যাপার হলো, এই হুমকি দেওয়ার মধ্য দিয়ে আবু জেহেল কিন্তু তাদের ধর্মের বিধানও লঙ্ঘন করছিল। তারা ভালো করেই জানত যে, ইব্রাহিমের (আ) সময় থেকেই মক্কা একটি পবিত্র স্থান [সুরা আল ইমরান, ৩:৯৯] (১)। সুতরাং কাউকে মক্কায় আসতে বাধা দেওয়ার অধিকার কারও নেই। কিন্তু ইসলামকে মোকাবেলা করতে গিয়ে তারা ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ (দ্বিচারিতা) অবলম্বন করছে।

 

কাফেলা টার্গেট করা | বদরের যুদ্ধের প্রস্তুতি | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

আবু জেহেলের এই কথায় সাদ খুব রেগে গেলেন। তিনি উচ্চস্বরে বললেন, “আল্লাহর কসম, যদি তুমি আমাকে হুমকি দাও এবং তাওয়াফ করা থেকে বিরত করো, তাহলে আমি তোমাকে এমন কিছু থেকে বঞ্চিত করব যা হবে তোমার জন্য এর থেকেও বেশি বেদনাদায়ক।” সাদ এখানে সিরিয়ার দিকে কুরাইশদের বাণিজ্য কাফেলার যাত্রায় বাধা দেওয়ার বিষয়ে পরিষ্কার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

অতএব কুরাইশদের কাফেলাকে টার্গেট করার ধারণাটি যে নবিজি (সা) প্রথমে দিয়েছিলেন তেমন নয়। যদিও এখন পর্যন্ত আনসাররা কোনো অভিযানে অংশ নেয়নি, তবু সাদ নিজের মধ্যে এক ধরনের দায়িত্ব অনুভব করছিলেন। তিনি আসলে আবু জেহেলকে বোঝাতে চেয়েছিলেন, তুমি আমাকে হুমকি দিচ্ছ? এখন তুমিও দেখতে পারে আমরা তোমাদের কী করতে যাচ্ছি!

আরও পড়ুনঃ

Leave a Comment