কুবা মসজিদ নির্মাণ এবং মসজিদটির বরকত | ইসলামের প্রথম মসজিদ নির্মাণ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

কুবা মসজিদ নির্মাণ এবং মসজিদটির বরকত | ইসলামের প্রথম মসজিদ নির্মাণ,  মদিনায় (আরও বিশেষভাবে বললে কুবায়) আগমনের পরপরই নবিজি (সা) মদিনায় প্রথম মসজিদটি নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন; পরবর্তীকালে সেটি ‘কুবা মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। অবশ্য তার আগেই সেখানকার সাহাবিদের নামাজ পড়ার জন্য একটি অস্থায়ী মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল। সম্ভবত সেটি ছিল আসাদ ইবনে জুরারার বাড়িতে। মুসআব ইবনে উমায়ের অবস্থান করার সময় থেকেই সেখানে জুমার নামাজ পড়া শুরু হয়ে গিয়েছিল। নবিজি (সা) কিন্তু তখন পর্যন্ত জুমা পড়েননি ।

 

কুবা মসজিদ নির্মাণ এবং মসজিদটির বরকত | ইসলামের প্রথম মসজিদ নির্মাণ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

কুবা মসজিদ নির্মাণ এবং মসজিদটির বরকত | ইসলামের প্রথম মসজিদ নির্মাণ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

প্রকৃতপক্ষে কুবা মসজিদটির নির্মাণকাজ হয় আলির (রা) সেখানে আগমনের পর; অর্থাৎ নবিজির (সা) আগমনের দুই-তিন দিন পর। নবিজি (সা) ও আবু বকরের (রা) মক্কা ত্যাগের কয়েক দিনের মধ্যেই আলি (রা) মক্কা ত্যাগ করেন। তাঁরা দুটি আলাদা পথে মদিনায় আসেন। নবিজি (সা) ও আবু বকর (রা) সাওর গুহায় কয়েক রাত অবস্থান করা ছাড়াও দীর্ঘতর পথ দিয়ে এসেছিলেন। অন্যদিকে, আলি (রা) নিয়েছিলেন দ্রুততর পথ। যা-ই হোক, আলি (রা) বুধবার অথবা বৃহস্পতিবার কুবায় পৌঁছেন। ইবনে ইসহাকের বর্ণনা অনুসারে, তাঁরা শুক্রবার সকালে মদিনা শহরের কেন্দ্রস্থলের উদ্দেশে রওনা হন।

সেই হিসেবে বুধবার কিংবা বৃহস্পতিবারে কুবা মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। নবিজি (সা) মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তারপর আলি (রা) ও আবু বকর (রা) প্রস্তর স্থাপনের কাজে অংশ নেন। সবশেষে আনসাররা বাকি কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নবিজি (সা) কুবা মসজিদ তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন বটে, কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। তিনি যে মসজিদটি তৈরির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিলেন এবং যেখানে প্রথম নামাজ আদায় করেন সেটি মসজিদুন নববি। সুতরাং উভয় মসজিদের ক্ষেত্রেই ‘প্রথম’ হওয়ার ব্যাপারটি রয়েছে।

পবিত্র কোরানের সুরা তওবাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর রসুলকে (সা) বলছেন: “তুমি নামাজের জন্য কখনও সেখানে দাঁড়াবে না। যে মসজিদ প্রথম দিন থেকেই তাকওয়ার ওপর নির্মিত হয়েছে সেটিই তোমার নামাজের জন্য অধিক যোগ্য। তথায় এমন লোক আছে যারা পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে, আর পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে আল্লাহ পছন্দ করেন।” [৯:১০৮] আয়াতের শুরুতে যে মসজিদটির কথা বলা হয়েছে তা ‘মসজিদুল দিরার’ (মুনাফেকদের মসজিদ)।

 

islamiagoln.com google news
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

আমরা পরবর্তী কোনো একটি পর্বে মসজিদ আল- দিরারের কাহিনি আলোচনা করব। উপরে উল্লিখিত আয়াত ও পরের দুটি আয়াতের বিষয়ে তাফসিরকারকদের মধ্যে কিছুটা বিতর্ক রয়েছে। মসজিদ আল-দিরারের প্রসঙ্গের পরে ১০৮ নম্বর আয়াতের বাকি অংশে কোন মসজিদের কথা বলা হচ্ছে? সেটা এমন এক মসজিদ যা ‘তাকওয়ার ওপর নির্মিত’। সেটা কি কুবা মসজিদ? নাকি মসজিদুন নববি? এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে।

 ১) সংখ্যাগরিষ্ঠ পণ্ডিতের মত অনুসারে, এটা কুবা মসজিদ, যেহেতু মসজিদুল দিরার (মুনাফেকদের মসজিদ) এর কাছাকাছিই অবস্থিত ছিল। আবু দাউদের একটা হাদিসেও উল্লেখ আছে যে এটা কুবা মসজিদ। এই আয়াত (৯:১০৮) নাজিল হওয়ার পর কুবার লোকদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, “আল্লাহ কেন আপনাদের এমন প্রশংসা করেছেন—’তথায় এমন লোক আছে যারা পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে’- যা তিনি আমাদের জন্য করেননি? তাঁদের জবাব ছিল, কারণ টয়লেট ব্যবহারের পরে তাঁরা নিজেদের পরিচ্ছন্ন/পবিত্র করার জন্য প্রথমে মুছে নিত এবং পরে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলত।

 

কুবা মসজিদ নির্মাণ এবং মসজিদটির বরকত | ইসলামের প্রথম মসজিদ নির্মাণ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

সেই সময়ে বেশিরভাগ মানুষ শুধু মুছে নেওয়ার কাজটি করত, কিন্তু পানি ব্যবহার করত না। এ কারণেই আল্লাহ বলেছেন, তারা নিজেকে বিশুদ্ধ/পবিত্র করতে পছন্দ করে। কুবা মসজিদের নেয়ামত সম্পর্কে নবিজি (সা) বলেছেন, “যে ব্যক্তি নিজের বাড়ি থেকে ওযু করে কুবা মসজিদে গিয়ে দুই রাকাত নামাজ পড়বেন, তিনি একটি ওমরা করার সওয়াব পাবেন।” নবিজি (সা) নিয়ম করে প্রতি সপ্তাহে একবার (সাধারণত সোমবার) কুবা মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তেন ।

২) তিরমিজিতে বর্ণিত একটি সহিহ হাদিস অনুসারে, একদিন এক সাহারি নবিজির (সা) কাছে এসে জিজ্ঞেস করেন, সুরা তওবার ওই আয়াতটিতে (৯:১০৮) আল্লাহ প্রকৃতপক্ষে কোন মসজিদ বুঝিয়েছেন। জবাবে নবিজি (সা) বলেন, “আল্লাহর কসম, অবশ্যই এটি আমার মসজিদ (অর্থাৎ মসজিদুন নববি)।” তাহলে প্রশ্ন হলো, কোন মসজিদের কথা এখানে উল্লেখ করা হয়েছে? উত্তর হলো: উভয়ই। এই আয়াতটি উভয় মসজিদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। উভয় মসজিদই প্রথম দিন থেকেই তাকওয়ার ওপর নির্মিত হয়েছিল।

আরও পড়ূনঃ

ক্রন্দনরত গাছের গুঁড়ির কাহিনি | মদিনা যুগের সূচনা | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

Leave a Comment