প্রত্যক্ষ নির্যাতনঃ খাবাব ইবনুল আরাত (রা) | কুরাইশদের বিরোধিতা-২ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

প্রত্যক্ষ নির্যাতনঃ খাবাব ইবনুল আরাত (রা) | কুরাইশদের বিরোধিতা-২, বেলাল ইবনে রাবাহ আল-হাবাশি (রা) কোনো অত্যাচারের কাছেই আপস করেননি। ইবনে মাসউদ (রা) বলেছেন, বেলাল আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার জন্য নিজের প্রাণ বিসর্জন দিতে সব সময়ের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। কুরাইশরাও তাঁকে কঠিনতর শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করত। তাঁকে গুণ্ডা প্রকৃতির মানুষদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হতো। তারা তাঁকে গলায় দড়ি দিয়ে রাস্তায় টেনে-হিচড়ে নিয়ে যেত। সেই কষ্ট-যন্ত্রণার মধ্যেও বেলাল উচ্চস্বরে আল্লাহর একত্ব ঘোষণা করতেন, “আহাদুন আহাদ। আহাদুন আহাদ।” অর্থাৎ, আল্লাহ একক এবং একমাত্র সত্তা।

 

প্রত্যক্ষ নির্যাতনঃ খাবাব ইবনুল আরাত (রা) | কুরাইশদের বিরোধিতা-২ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

প্রত্যক্ষ নির্যাতনঃ খাবাব ইবনুল আরাত (রা) | কুরাইশদের বিরোধিতা-২ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

বেলালের মালিক উমাইয়া ইবনে খালাফও তাঁকে নির্যাতনে অংশ নিয়েছিল। উমাইয়ার জন্য এটি একটু কঠিন কাজ। কারণ ক্রীতদাসরা সেই সময় ছিল খুবই দামি সম্পদ’, এমনকি বাড়িঘর কিংবা উটের চেয়েও দামি। নিজের ক্রীতদাসকে শাস্তি দেওয়ার অর্থ আপনি নিজের সম্পদ এবং আয়ের ক্ষতি করছেন। ক্ষতি মেনে নিয়েও উমাইয়া তাঁকে নির্যাতন করতে করতে মেরে ফেলার উপক্রম করে ফেলেছিল।

কখনও কখনও কুরাইশরা বেলালকে প্রচণ্ড রোদে উত্তপ্ত পাথর চাপা দিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে রাখত। এত অত্যাচারের পরেও বেলালের বেঁচে থাকাটা ছিল অবাক করা ব্যাপার। আমর ইবনুল আস বর্ণনা করেছেন, পাথরগুলো এত উত্তপ্ত ছিল, আক্ষরিক অর্থেই তার ওপর কাঁচা মাংস রাখলে তা রান্না হয়ে যেত। নির্যাতনের সময় তিনি বেলালকে বলতে শুনেছিলেন, “আমি আল-লাত ও আল- উজ্জাকে মানি না, আমি শুধু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালায় বিশ্বাস রাখি।”

 

islamiagoln.com google news
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

এত শাস্তি দেওয়ার পরও বেলাল নতি স্বীকার করেননি। তাঁর মুখে ওই একই কথা, “আহাদুন আহাদ আহাদুন আহাদ !” বহু বছর পরে আয়েশার (রা) বোনের ছেলে উরওয়া ইবনে জুবায়ের বর্ণনা করেছেন, “বেলালকে অনেক নির্যাতন করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি নির্যাতনকারীদের খুশি করার জন্য কখনও একটি কথাও বলেননি।”

 

প্রত্যক্ষ নির্যাতনঃ খাবাব ইবনুল আরাত (রা) | কুরাইশদের বিরোধিতা-২ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

দেখুন, আল্লাহ তায়ালা শেষ পর্যন্ত তাঁকে কীভাবে পুরস্কৃত করলেন। আরবিতে একটি প্রবচন আছে, ‘আপনি যা যা করবেন, আপনার পুরস্কার বা শাস্তি ঠিক সেই পরিমাণই হবে। মুসলিম হিসাবে আমরাও দৃঢ়ভাবে এই কথাটি বিশ্বাস করি। বেলাল ইসলামের সর্বপ্রথম এবং নবিজির (সা) একমাত্র ‘অফিশিয়াল’ মুয়াজ্জিন হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার মাধ্যমে পুরষ্কৃত হয়েছিলেন। যে কন্ঠস্বর এক সময় ‘আহাদুন আহাদ, আহাদুন আহাদ’ বলে চিৎকার করত, তারই সুললিত কণ্ঠে বেজে উঠল আজানের ধ্বনি! তিনি এখন সম্মানের চূড়ায় ।

বেলালকে মুয়াজ্জিন হিসেবে বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ ছিল, সাহাবিদের মধ্যে তাঁর কণ্ঠস্বরই ছিল সবচেয়ে মধুর। মদিনায় হিজরতের পর থেকে দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে নবিজি (সা) প্রতিটি নামাজের ওয়াক্তে বেলালের কণ্ঠে আজান শুনতেন, এটিই ছিল বেলালের জন্য সবচেয়ে বড় পুরস্কার। মক্কা বিজয়ের পর তিনি হারাম শরিফে প্রথম আজান দিয়েছিলেন।

আরো পড়ুনঃ

Leave a Comment