খুতবা আল-হাজাহ | ইসলামের প্রথম মসজিদ নির্মাণ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

খুতবা আল-হাজাহ | ইসলামের প্রথম মসজিদ নির্মাণ,  “নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি এবং আমরা তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা নিজের ভেতরের মন্দ এবং মন্দ কর্মের পরিণতি থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাঁকে পথ দেখান তিনি কখনও বিপথগামী হবেন না, আর যে পথভ্রষ্ট হয় তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ (সা) তাঁর বান্দা এবং রসুল।

 

খুতবা আল-হাজাহ | ইসলামের প্রথম মসজিদ নির্মাণ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

খুতবা আল-হাজাহ | ইসলামের প্রথম মসজিদ নির্মাণ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যেমন ভয় করা উচিত এবং মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না । হে মানবজাতি, আল্লাহকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে একটি প্রাণ (আলম) থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তাঁর সঙ্গীকে (হাওয়া) সৃষ্টি করেছেন। এবং তাদের উভয় থেকে তিনি বহু নর-নারীকে বের করেছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো যাঁর কাছে তোমরা তোমাদের পারস্পরিক অধিকার চাও। আল্লাহ তোমাদের ওপর সর্বশক্তিমান।

হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসুলের আনুগত্য করে, তিনি অবশ্যই বড় সফলতা অর্জন করেছেন।” খুতবাটি সংক্ষিপ্ত হলেও বক্তব্য খুব প্রাঞ্জল, সুন্দর তাৎপর্যপূর্ণ। এর অর্থ এতই শক্তিশালী ছিল যে অনেক লোক এই খুতবার কারণে ইসলাম গ্রহণ করেন। এ বিষয়ে সবচেয়ে বিখ্যাত উদাহরণ দিমাদ আল-আজদি। দিমাদ ছিলেন ইয়েমেনের উপজাতিদের একজন নেতা, পেশায় চিকিৎসক। তিনি একবার মক্কায় সফরে এলে সেখানকার লোকেরা তাঁকে বলেন, “এই লোকটির (মুহাম্মদ) থেকে সাবধান থাকবেন। তিনি একজন জাদুকর এবং পাগল।” মক্কার লোকদের কথায় ভয় পেয়ে তিনি নবিজির (সা) সামনে গেলে কানে তুলা দিয়ে রাখতে শুরু করেন।

 

islamiagoln.com google news
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

একপর্যায়ে তিনি নিজে নিজেই ভাবলেন, “আমি তো একজন বুদ্ধিমান মানুষ। তাঁর কথার কতই বা শক্তি থাকবে? তিনি যদি ভুল পথে থাকেন, তবে আমি তাঁকে পথ দেখাব। তিনি যদি অসুস্থ থাকেন, তবে আমি তো চিকিৎসা জানি, তাঁকে সারিয়ে তুলব।” তারপর তিনি কান থেকে তুলা বের করে নবিজির (সা) কাছে গিয়ে বললেন, “আপনার লোকেরা আমাকে আপনার ব্যাপারে সতর্ক করেছে। তবে আমি আপনার বক্তব্য শুনতে চাই।” দিমাদের এই কথায় নবিজি (সা) খুতবা আল-হাজাহ পাঠ করে বললেন, “আম্মা বা’দ”, অর্থাৎ তিনি এবার তাঁর বক্তব্য শুরু করতে যাচ্ছিলেন।

 

খুতবা আল-হাজাহ | ইসলামের প্রথম মসজিদ নির্মাণ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

দিমান বললেন, “দয়া করে বিরতি দিন এবং এইমাত্র যা বলেছেন সেই কথাগুলো আবার বলুন।” নবিজি (সা) পুরো খুতবা আল-হাজাহ পুনরাবৃত্তি করলেন। এবার দিমাপ বললেন, “(আরব অঞ্চলের) সব কবির কবিতা আমার মুখস্থ আছে। আমি নিজেকে একজন বুদ্ধিমান ও শিক্ষিত মানুষ বলে মনে করি। কিন্তু আমি এর আগে কখনও এমন প্রাঞ্জল কিছু শুনিনি। আল্লাহর কসম, আপনি নিশ্চয়ই এমন একজন মানুষ যাকে আল্লাহ অন্তঃপ্রাণিত করেছেন।”  আলোচনার সেখানেই পরিসমাপ্তি। দিমান আল-আজনি তৎক্ষণাৎ সেখানে ইসলাম গ্রহণ করলেন।

খুতবা আল-হাজাহর অর্থ এত গভীর ও ব্যাপক যে এ নিয়ে দীর্ঘ পরিসরে আলাদা আলোচনা হতে পারে। অনেকে এই খুতবার বিষয়ে বই লিখেছেন। খুতবা আল-হাজাহ ব্যাখ্যা করার জন্য ইবনে তাইমিয়ার একটি বই রয়েছে। সুনান আবি দাউদের ওপর ইবনুল কাইয়িমের তাফসিরে এই খুতবার ওপর অনেক পৃষ্ঠা আছে। আমাদের সময়ে নাসিরুদ্দিন আলবানি খুতবা আল-হাজাহ সম্পর্কে একটি সম্পূর্ণ পুস্তিকা লিখেছেন।

আরও পড়ূনঃ

Leave a Comment