মহানবি মুহাম্মদের (সা) জন্মের সময়কাল | মহানবি মুহাম্মদের (সা) জন্ম | মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ জীবন

মহানবি মুহাম্মদের (সা) জন্মের সময়কাল | মহানবি মুহাম্মদের (সা) জন্ম, মহানবি মুহাম্মদ (সা) ঠিক কবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন? সাধারণভাবে জানা যায়, দিনটি ছিল আরবি রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ। তবে এ বিষয়ে সবাই একমত নন। একবার এক ব্যক্তি নবিজিকে (সা) জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আপনি প্রতি সোমবারে রোজা রাখেন কেন?” উত্তরে তিনি বলেছিলেন, “এদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি। এবং এদিনই ওহি নাজিল (অবতীর্ণ হওয়া) শুরু হয়েছিল।”

 

 

মহানবি মুহাম্মদের (সা) জন্মের সময়কাল | মহানবি মুহাম্মদের (সা) জন্ম | মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ জীবন

 

মহানবি মুহাম্মদের (সা) জন্মের সময়কাল | মহানবি মুহাম্মদের (সা) জন্ম | মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ জীবন

তাঁর জন্যের বছর সম্পর্কে হজরত উসমান ইবনে আফফান (রা) এক বয়োজ্যেষ্ঠ কুরাইশ কুবাস ইবনে আশইয়ামকে (যিনি নবিজির চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন) জিজ্ঞেস করলে তিনি (কুবাস) বলেন, “মুহাম্মদ (সা) ‘হাতির বছরে’ জন্মগ্রহণ করেছিলেন।” এখানে উল্লেখ্য, উমর (রা) ইসলামিক ক্যালেন্ডার প্রচলন করার আগ পর্যন্ত আরবদের কোনো প্রতিষ্ঠিত ক্যালেন্ডার ছিল না।

নির্দিষ্ট কোনো সময়কাল বোঝানোর জন্য তখনকার আরবরা বিশেষ কোনো ঘটনার উল্লেখ করত; যেমন ‘খরার বছর’, ‘বাইরের শত্রুর আক্রমণের বছর’ ইত্যাদি। তাহলে ‘হাতির বছর’ বলতে আমরা ঠিক কোন সাল বা বছর বুঝব? এ বিষয়ে বেশির ভাগ ইতিহাসবিদের মত অনুসারে বছরটি ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দ। নবিজির (সা) জন্মের বছর না হয় জানা গেল। এখন দেখা যাক, তাঁর জন্মের মাস ও দিন কোনটা। এ ব্যাপারে প্রথম যুগের দুটি জীবনীগ্রন্থে এভাবে উল্লেখ আছে:

(১) ইবনে ইসহাক (মৃ. ১৫০ হিজরি) বলেছেন, “নবিজি (সা) হাতিবর্ষের ১২ রবিউল আউয়াল তারিখ রোজ সোমবার জন্মগ্রহণ করেছিলেন।” তবে ইবনে ইসহাক কোথা থেকে ও কীভাবে এ তথ্য পেয়েছেন তা জানাননি। উল্লেখ্য, ইবনে ইসহাক এবং নবিজির (সা) মধ্যে সময়ের ব্যবধান প্রায় ২০০ বছর।

(২) ইবনে সাদ বলেছেন, “নবিজি (সা) সোমবার জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ইবনে আব্বাস সহ কেউ কেউ বলেছেন যে, তিনি ১০ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেন। আবার কারও কারও মতে তিনি ২ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেছিলেন।” দেখা যাচ্ছে যে, এই দুটি মতের কোনোটিই ১২ রবিউল আউয়াল তারিখের সাথে মেলে না। ইবনে কাসির বর্ণনা করেছেন, “বেশির ভাগ ইতিহাসবিদের মতে নবিজি (সা) রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।” তবে তাঁর জন্মের তারিখ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিস্তর মতভেদ রয়েছে। 

প্রথম মত:

২ তারিখে। এটি আবু মাশার আল-সিদ্ধি, ইবনে আবদ আল-বার এবং আল-ওয়াকিদির মত। তাঁরা তিনজনই প্রথম যুগের স্কলার।

 দ্বিতীয় মত:

৮ তারিখ। এটি ইবনে হাজম, ইমাম মালিক, আল-জুহরি এবং মুহাম্মদ ইবনে জুবায়ের ইবনে মুতিমের মত।

তৃতীয়টি মত:

১০ তারিখ। ইবনে আসাকির এবং জাফর আস সাদিকের (নবিজির বংশধর) মত 

চতুর্থ মত:

১২ তারিখ। ইবনে ইসহাকের মত | 

পঞ্চম মত:

১৭ তারিখ

ষষ্ঠ মতঃ

২২ তারিখ।

আরও মত আছে, এমনকি তা রবিউল আউয়াল মাসের বাইরেও। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, নবিজির (সা) জন্মের সঠিক তারিখের ব্যাপারে দশটিরও বেশি মত রয়েছে। কিন্তু কোনোটির পক্ষেই সুস্পষ্ট তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায় না। একাডেমিকভাবে বলতে গেলে, ১২ রবিউল আউয়ালের পক্ষে মতের গুরুত্ব ২, ৮ ও ১০ রবিউল আউয়ালের চেয়ে অনেক কম। এই অন্য মতগুলো (২, ৮ ও ১০ রবিউল আউয়াল) যারা দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে তাবেয়িন, তাবেয়ি- তাবেয়িন, এমনকি মহানবির (সা) বংশধররাও রয়েছেন। অন্যদিকে ১২ রবিউল আউয়ালের পক্ষে মত প্রদানকারী ইবনে ইসহাকের জন্ম নবিজির (সা) জন্মের ২০০ বছর পরে। তাছাড়া ইবনে ইসহাক এই মতের পক্ষে কোনো ‘ইসনাদ’ (বর্ণনাকারীদের নামধাম) দেননি।

 

islamiagoln.com google news
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, ১২ রবিউল আউয়াল তারিখটি এত জনপ্রিয় হলো কেন? প্রথম কারণ হলো, ৯০ শতাংশ সিরাহ (মহানবির জীবনী) লেখক শুধু ইবনে ইসহাকের বর্ণনার ওপরই নির্ভর করেছেন। ইবনে ইসহাক ১২ তারিখের কথা বলেছেন, সে কারণে ওই তারিখটি প্রতিষ্ঠা পেয়ে গেছে। দ্বিতীয় কারণটি হলো, প্রথমবার যখন নবিজির (সা) জন্মদিন জনসাধারণের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপন করা হয়েছিল, তখন তদানীন্তন শাসকরা ১২ রবিউল আউয়ালই বেছে নিয়েছিল, এবং সেই সময় থেকেই এই তারিখটি সর্বমহলে ছড়িয়ে পড়ে।

‘মওলিদ’ বা নবি করিমের (সা) জন্মদিন আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপন প্রথম শুরু হয় ৫৭০ হিজরি সালে । অর্থাৎ ইসলামের ষষ্ঠ শতাব্দীতে। জন্মদিন উদযাপন করা আরবদের রীতির মধ্যে ছিল না। এমনকি তারা সন-তারিখের কোনো রেকর্ডও রাখত না। এটি একটি পশ্চিমা ধারণা, যা পরবর্তীকালে বিশ্বের বিভিন্ন প্রাস্তের মুসলিমদের মধ্যে প্রতিষ্ঠা পায়। মওলিদ উদযাপনকারী প্রথম গ্রুপটি ছিল মিশরের গোড়া শিয়াপন্থি ফাতিমিয়রা। তারা মওলিদ ছাড়াও আরও ৩০-৪০টিরও বেশি উৎসব চালু করেছিল।

আরও অনেক বছর পরে, আনুমানিক ৬৭০ হিজরি সালের দিকে কিছু কিছু সুন্নি শাসক তাদের নিজ নিজ এলাকায় নবিজির (সা) জন্মদিন পালনের প্রথা চালু করেন। সময়ের পরিক্রমায় ধীরে ধীরে তা মুসলিম সমাজে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে পরিণত হয় । কে কার চেয়ে বড় উৎসবের আয়োজন করতে পারে তা নিয়ে এক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। বিনামূল্যে খাবার ও উপহারসামগ্রী বিতরণ ছাড়াও অনুষ্ঠানে অনেক ধরনের বাণিজ্যিক বিষয়ও চলে আসে। এভাবেই মওলিদ অনুষ্ঠান সুন্নিদের মধ্যে বহুলভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

 

মহানবি মুহাম্মদের (সা) জন্মের সময়কাল | মহানবি মুহাম্মদের (সা) জন্ম | মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ জীবন

 

প্রথমদিকে কিছু কিছু স্কলার এর বিরোধিতা করেছিলেন। কেউ কেউ বলেছিলেন, কিছু নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে এটি অনুমোদিত হতে পারে। পরবর্তীকালে জনমতের চাপে কোনো প্রতিবন্ধকতাই টিকে থাকেনি। এভাবেই কালক্রমে এটি একটি সাধারণ উৎসবে পরিণত হয়। একই সঙ্গে ১২ রবিউল আউয়াল তারিখটি নবিজির (সা) জন্মদিন হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করে।

মহানবি মুহাম্মদের (সা) জন্মের সময় সম্পর্কে যা জানা যায় তা হলো তিনি মধ্য দুপুরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যখন সূর্য খুব উজ্জ্বল থাকে। উজ্জ্বল সূর্য যেমন সবকিছুকে আলোকিত করে, ঠিক তেমনি তিনি পৃথিবীতে আবির্ভাবের মাধ্যমে সমগ্র সৃষ্টিকুলকে আলোকিত করেছিলেন।

আরো পড়ূনঃ

 

Leave a Comment