জাহান্নাম পরিদর্শন | রাতের ভ্রমণ এবং ঊর্ধ্বলোকে আরোহণ-৩ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

জাহান্নাম পরিদর্শন | রাতের ভ্রমণ এবং ঊর্ধ্বলোকে আরোহণ-৩, নবি করিম (সা) আরও বলেছেন, তিনি জাহান্নামের অনেক শাস্তি প্রত্যক্ষ করেছেন। এ থেকে ধারণা করা যায়, তিনি হয়তো সত্যিকার অর্থেই জান্নাতে প্রবেশ করেননি; কারণ তিনি স্পষ্টতই জাহান্নামে প্রবেশ করেননি। তিনি সম্ভবত জান্নাত বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করে বর্ণনা দিয়েছেন, ঠিক তেমনিভাবে জাহান্নামেরও বর্ণনা দিয়েছেন।

জাহান্নাম পরিদর্শন | রাতের ভ্রমণ এবং ঊর্ধ্বলোকে আরোহণ-৩ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

জাহান্নাম পরিদর্শন | রাতের ভ্রমণ এবং ঊর্ধ্বলোকে আরোহণ-৩ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

ইসরা ও মিরাজের রাতে নবিজির (সা) দেখা জাহান্নামের শাস্তি সম্পর্কে বহু হাদিস রয়েছে। প্রতিটি হাদিসেই আছে, তিনি শান্তি দেখে জিব্রাইলকে (আ) জিজ্ঞেস করেছিলেন, “এই লোকগুলো কারা?” একটি হাদিস অনুসারে, নবি করিম (সা) বলেছেন, জাহান্নাম পরিদর্শনকালে তিনি এমন মানুষদের শাস্তি দেখেছেন যারা এতিমের টাকা চুরি করত। তাদের নাক ছিল উটের মতো। তারা আগুনে তৈরি কয়লা খাচ্ছিল। তারা মুখ দিয়ে গরম কয়লা গ্রাস করছিল যা তাদের মলদ্বার দিয়ে বেরিয়ে আসছিল। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরানেও বলেছেন, “যারা এতিমদের ধনসম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে, তারা যেন আগুন দিয়েই নিজেদের পেট ভর্তি করে, অচিরেই এ লোকগুলো জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে থাকবে।” [সুরা নিসা, ৪:10 |

অন্য একটি হাদিস অনুসারে, নবিজি (সা) সেখানে তামার নখওয়ালা মানুষদের দেখতে পান, যারা নিজেদের শরীর ও মুখমণ্ডলে আঁচড় দিচ্ছিল, কারণ পৃথিবীতে তারা গিবত করত। নবিজি (সা) বলেছেন, তিনি এমন কিছু লোককে সেখানে দেখেছেন যাদের সামনে ভালো ও পচা, উভয় ধরনের মাংস রাখা ছিল। কিন্তু তারা ভালো মাংস না খেয়ে পচা মাংস খাচ্ছিল। তাদের সম্পর্কে জিব্রাইল (আ) বলেন, “এই লোকগুলো পৃথিবীতে ব্যভিচার করত, তারা হালাল সংসর্গ (স্বামী/স্ত্রী) বাদ দিয়ে হারাম বেছে নিত।”

 

islamiagoln.com google news
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

অন্য একটি হাদিস অনুসারে, নবিজি (সা) এমন বড় বড় পেটওয়ালা লোকদের দেখেছিলেন যারা উঠে দাঁড়াতে পারছিল না। কিছু প্রাণী এসে তাদেরকে পদদলিত করছিল। তাদের সম্পর্কে জিব্রাইল (আ) বলেন, এরা সেইসব লোক যারা রিবার থেকে অর্থ উপার্জন করত। নবিজি (সা) আরও বলেছেন, তিনি এমন লোকদের দেখেছেন যারা আগুনে রাখা তামার কাঁচি দিয়ে তাদের নিজেদের ঠোঁট ও জিহ্বা কাটছিল। এদের সম্পর্কে জিব্রাইল (আ) বলেন, এই লোকেরা অন্যদের ভালো কাজ করতে বলত, কিন্তু নিজেরাই তা করতে ভুলে যেত।

 

জাহান্নাম পরিদর্শন | রাতের ভ্রমণ এবং ঊর্ধ্বলোকে আরোহণ-৩ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

নবিজি (সা) আরও বলেছেন, তিনি দাজ্জালকে দেখেছেন, যার একটি চোখ ছিল ফোলা। আরেকটি হাদিস অনুসারে, নবিজি (সা) বলেছেন, “আমি দাজ্জালকে দেখেছি । আমি তোমাদের এমন কিছু বলব যা অন্য কোনো নবি তাঁদের উম্মতকে বলেননি। দাজ্জালের বাম চোখটি ছিল পচা আঙুরের মতো (অর্থাৎ তার একটি চোখ অস্বাভাবিক রকম ফুলে ছিল)।” তিনি আরও বলেছেন, “জেনে রেখো, দাজ্জাল এক চক্ষুবিশিষ্ট।”

আরও পড়ূনঃ

Leave a Comment