তায়েফে প্রত্যাখ্যানের পর | তায়েফের ঘটনা | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

তায়েফে প্রত্যাখ্যানের পর | তায়েফের ঘটনা, তায়েফ শহর থেকে বিতাড়িত হয়ে আঘাতে জর্জরিত রক্তাক্ত শরীর নিয়ে পথ চলতে চলতে নবিজি (সা) একপর্যায়ে ‘কারান আল মানাজিল’ নামক স্থানে পৌঁছেন। তখন তিনি ভীষণ ক্লান্ত ও অবসন্ন। এই অবস্থায় তিনি একটি প্রাচীরঘেরা বাগানের পাশে একটা গাছের নিচে কিছুটা বিশ্রামের জন্য বসেন । বাগানটির মালিক ছিল নবিজির (সা) পিতার দূর সম্পর্কের ভাই উতবা ইবনে রাবিয়া এবং শায়বা ইবনে রাবিয়া ।

 

তায়েফে প্রত্যাখ্যানের পর | তায়েফের ঘটনা | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

তায়েফে প্রত্যাখ্যানের পর | তায়েফের ঘটনা | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ্য, সেই সময় তায়েফ শহরে অনেক কুরাইশের বাগান ছিল, কারণ সেখানকার আবহাওয়া ছিল মনোরম, জলবায়ু ছিল গাছগাছালির জন্য উপযুক্ত। সেখানে প্রচুর পানির ব্যবস্থা থাকায় হরেক রকমের ফল ও শাকসবজি। উৎপন্ন হতো, যা ছিল মক্কা বা ইয়াসরিবের মানুষদের জন্য কল্পনারও অতীত। আজও তায়েফ বেড়ানোর জন্য উপযোগী একটি মনোরম শহর।

বাগানের শীতল পরিবেশে কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর নবিজি (সা) আল্লাহ তায়ালার দরবারে হাত তুলে অত্যন্ত সুন্দর ও মর্মস্পর্শী একটি দোয়া করেন। ইবনে ইসহাক দোয়াটি এভাবে বর্ণনা করেছেন: “হে আল্লাহ! আমি আপনারই কাছে আমার দুর্বলতা, অসহায়তা ও মানুষের কাছে আমার মর্যাদাহীনতা সম্পর্কে অভিযোগ করছি। দয়ালু পাতা, আপনি দুর্বলের প্রভু, আপনি আমারও প্রভু।

 

islamiagoln.com google news
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

আপনি আমাকে কার কাছে ন্যস্ত করেছেন? আমাকে কি এমন অচেনা কারো (তায়েফবাসী) হাতে ন্যস্ত করেছেন যারা আমার সঙ্গে রুক্ষ ব্যবহার করবে? না কোনো নিকটাত্মীয়র (আবু লাহাব) হাতে ন্যস্ত করেছেন যাকে আপনি আমার ওপর জয়ী হওয়ার শক্তি দিয়েছেন? যদি আপনি আমার ওপর অসন্তুষ্ট না হয়ে থাকেন, তাহলে আমি কোনো বিপদের পরোয়া করি না। কিন্তু যদি আপনার পক্ষ থেকে ভালো কিছু পাই তাহলে তা হবে আমার জন্যে অধিকতর স্বস্তিদায়ক। আপনার ক্ষমার হাতকে আমার জন্য প্রশস্ত ও প্রসারিত করুন।

 

তায়েফে প্রত্যাখ্যানের পর | তায়েফের ঘটনা | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

হে আল্লাহ, আমি আপনার সত্তার সেই আলোর আশ্রয় চাই, যা দ্বারা অন্ধকার দূর হয়ে আলোয় ভরে যায়। দুনিয়া ও আখেরাতের সকল বিষয় আপনার হাতে ন্যস্ত। আপনার অভিশাপ ও শাস্তির যোগ্য হয়ে থাকলে তা থেকে আপনি আমাকে রক্ষা করুন। আমি যেন আপনার মর্জির ওপর সন্তুষ্ট থাকতে পারি, আমাকে সেই সক্ষমতা দিন। আর আমার ওপর সদা সন্তুষ্ট থাকুন। সকল ক্ষমতা ও শক্তি শুধু আপনারই। আপনার শক্তি ছাড়া কারো কোনো শক্তি নেই।”

আরো পড়ুন;

Leave a Comment