দ্বিতীয় ভাষ্য | স্যাটানিক ভার্সেস-এর ঘটনা | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

দ্বিতীয় ভাষ্য | স্যাটানিক ভার্সেস-এর ঘটনা, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাষ্যের বিবরণ হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর কোনোটিতেই নেই। মুসনাদ ইমাম আহমদের ছয় খণ্ডের কোথাও নেই। এমনকি ইবনে ইসহাক বা ইবনে হিশামেও নেই। এগুলো তুলনামূলকভাবে কিছু অখ্যাত বইয়ে পাওয়া যায়। এই বইগুলোর তথ্য মূলত সেইসব পরবর্তীকালের উৎস থেকে সংগৃহীত যেখানে কোনো কিছু বাছবিচার না করে সব কাহিনিই লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

 

দ্বিতীয় ভাষ্য | স্যাটানিক ভার্সেস-এর ঘটনা | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

দ্বিতীয় ভাষ্য | স্যাটানিক ভার্সেস-এর ঘটনা | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

যেমন: আল- তাবারির তাফসির ও আল-ওয়াহিদির আসবাব আল-নুজুল। উল্লেখ্য, আল-তাবারি সর্বসাধারণের জন্য তাফসির লিখেননি, পণ্ডিত-গবেষকদের জন্য একটি বিশ্বকোষ রচনা করতে চেয়েছিলেন। তিনি তাঁর বিখ্যাত বইয়ের ভূমিকায় উল্লেখ করেছিলেন, “আমি যা শুনেছি, তা খাঁটি বা ভুল যা-ই হোক না কেন, তার সবই আমি লিপিবদ্ধ করব।” মনে রাখতে হবে, আল-তাবারি আর বুখারি এক মাসের নয়। বুখারি ছিলেন একজন বিচারিক দৃষ্টিভঙ্গির হাদিস সংগ্রাহক, তিনি খুব কঠোর যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো হাদিস গ্রহণ করতেন না।

আল-তাবারি ও আল-ওয়াহিদিসহ আরও কিছু সিরাহ লেখকের বর্ণনার ইবিলিস (শয়তান) সম্পর্কিত একটি গল্পের উল্লেখ রয়েছে। যেহেতু এই গল্পগুলোতে ইবলিস জড়িত ছিল, স্যার উইলিয়াম মুয়ির (মৃ. ১৯০৫) নামের এক পশ্চিমা গবেষক বা প্রাচ্যবিদ সর্বপ্রথম এটিকে ‘স্যাটানিক ভার্সেস’ বলে উল্লে করেন। ওই ভদ্রলোক ইসলাম ধর্ম নিয়ে গবেষণা করে অধ্যাপক হয়েছিলেন, ইংরেজিতে সিরাহের ওপর বেশ বড় একটি বই রচনা করেছিলেন। তিনি তাঁর সিরাহ বইয়ের এই বিষয়ের অধ্যায়টির শিরোনাম দিয়েছিলেন স্যাটানিক ভার্সেস’।

স্যাটানিক ভার্সেসের দুটি প্রচলিত ভাষ্যের (দ্বিতীয় ও তৃতীয়) মধ্যে অনেক মিল থাকা সত্ত্বেও বর্ণনায় তাদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে:

 

islamiagoln.com google news
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

দ্বিতীয় ভাষ্য

এই ভাষ্যটি সহিহ বুখারি বা সিরাহের কোনো সুপরিচিত উৎসে পাওয়া যায়নি। তবে আল-তাবারি তাঁর তাফসিরে বর্ণনা করেছেন: এই বর্ণনাটি পাওয়া যায় উরওয়া ইবনে জুবায়েরের কাছ থেকে। লক্ষ করুন, উরওয়া একজন বিখ্যাত তাবেয়ি ছিলেন, কিন্তু তিনি সাহাবি ছিলেন না। তাই তাঁর বর্ণনার ধারাবাহিকতায় একটি ছেদ রয়েছে; বর্ণনাটির ধারা নবিজি (সা) পর্যন্ত পৌঁছায়নি।

সুরা নাজমের ১৯-২২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও উজ্জা সম্বন্ধে, [১৯] আর তৃতীয়টি মানাত সম্বন্ধে? [২০] (তোমরা কি মনে করে নিয়েছ) পুত্রসন্তান সব তোমাদের জন্য আর কন্যাসন্তান সব আল্লাহর জন্য? [২১] এ রকম বণ্টন তো অসংগত। [22] উরওয়া যে কাহিনিটি বলেছেন তা এই: ২০তম আয়াতের পরে শয়তান। চিৎকার করেছিল এবং সে দুটি আয়াত যুক্ত করেছে যা কোরানে নেই, ওট আয়াতগুলো মুশরিকরা শুনেছে কিন্তু মুসলিমরা শোনেনি। অর্থাৎ ‘তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও উজ্জা সম্বন্ধে, আর তৃতীয়টি মানাত সম্বন্ধে?’—এটুকু পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শয়তান নিজ কণ্ঠে চিৎকার করে আরও দুটি বাক্য বলে: “এই প্রতিমাগুলো ক্ষমতাশালী সারস পাখি। এবং তাদের সুপারিশগুলো মঞ্জুর করা হবে।”

 

দ্বিতীয় ভাষ্য | স্যাটানিক ভার্সেস-এর ঘটনা | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

এই প্রথমবারের মতো আপাতভাবে প্রতিমাগুলোর ‘প্রশংসা’ করা হচ্ছিল। বলা হচ্ছিল যে, প্রতিমাগুলো সুন্দর পাখি, তোমরা ওদের পূজা করো, যেহেতু ওদের সুপারিশগুলো গ্রহণ করা হবে। সুতরাং মুশরিকরা এই আয়াতগুলো শুনে ভেবেছিল, ‘শেষ পর্যন্ত তিনি (মুহাম্মদ) একটি মাঝামাঝি অবস্থানে এসেছেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনি আমাদের দেবতাদের গ্রহণ করতে রাজি হয়েছেন।’

এর আগে কুরাইশরা নবিজিকে (সা) প্রস্তাব দিয়েছিল যে এক বছর সবাই আল্লাহর ইবাদত করবে, আর পরের বছর সবাই তাদের দেবতাদের (লাত, উজ্জা ইত্যাদি) ইবাদত করবে। আল্লাহর ইবাদত করার ক্ষেত্রে কুরাইশদের কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু নবিজি (সা) কুরাইশদের দেবতাদের পূজা করার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তাই তাদের ধারণা অনুসারে, যেহেতু তিনি তাদের দেবতাদের মেনে নিয়েছেন, তাই তাঁরা সকলেই তাঁর সঙ্গে আল্লাহর সেজদায় লুটিয়ে পড়েছিল ।

আরো পড়ুনঃ

Leave a Comment