নবিজিকে সা জিজ্ঞাসাবাদ | কুরাইশদের বিরোধিতা-২ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

নবিজিকে সা জিজ্ঞাসাবাদ | কুরাইশদের বিরোধিতা-২, প্রাক-ইসলামি যুগে আরবদের নবুয়ত সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। ইহুদিদের এ সম্পর্কে ভালো ধারণা ছিল যেহেতু তাদের ধর্মমতে একের পর এক নবি এসেছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পবিত্র কোরানে কুরাইশদের সম্পর্কে বলেছেন, এরা এমন এক সম্প্রদায় যাদের কাছে আগে কোনো সতর্ককারী (মবি) আসেনি’ [৩২:৩]। ইব্রাহিম (আ) ওই অঞ্চলে এলেও তা এত আগের ঘটনা যে, তাঁর কথা সবাই প্রায় ভুলেই গিয়েছিল।

 

নবিজিকে (সা) জিজ্ঞাসাবাদ | কুরাইশদের বিরোধিতা-২ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

নবিজিকে সা জিজ্ঞাসাবাদ | কুরাইশদের বিরোধিতা-২ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

কুরাইশরা পরীক্ষা করতে চেয়েছিল মুহাম্মদ (সা) সত্যই নবি কি না। তারা জানত যে ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা নবুয়তে বিশ্বাস করে। তাই তারা এ ব্যাপারে সাহায্য চেয়ে ইয়াসরিবের ইহুদিদের কাছে দূত পাঠাল। কুরাইশদের দূত মদিনায় ইহুদিদের কাছে গিয়ে বলল, “আমাদের এমন কিছু প্রশ্ন বলে দিন যা আমরা মুহাম্মদকে (সা) জিজ্ঞেস করতে পারি, যাতে সে মিথ্যাবানী বলে প্রমাণিত হয়ে যায়।” তখন ইহুদিরা তাদের শিখিয়ে দিল, “তাঁকে ইসহাক, ইয়াকুব ও ইউসুফ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো। ইয়াকুবের পরিবারের কী হয়েছে সে সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করো।”

কুরাইশরা নবিজির (সা) কাছে গিয়ে তাকে ইউসুফ (আ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তার উত্তর হিসেবে আল্লাহ তায়ালা পুরো সুরা ইউসুফ নাজিল করলেন: “(হে রসুল!) এ কাহিনি অদৃশ্যলোকের খবর যা আমি তোমাকে ওহির মাধ্যমে অবহিত করছি। তুমি তো উপস্থিত ছিলে না যখন ওরা (ইউসুফের ভাইয়েরা) একজোট হয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল।” [১২: ১০২) ইউসুফ (আ) কে ছিলেন তা সম্পর্কে কুরাইশদের তো কোনো ধারণাই ছিল না। নবিজিরও (সা) তা জানার কথা নয়, তবু তিনি কোরানের সুরার মাধ্যমে অলৌকিকভাবে তাদের প্রশ্নের যথোপযুক্ত জবাব দিয়েছিলেন।

 

islamiagoln.com google news
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

আরবরা আবার মদিনায় প্রতিনিধি পাঠিয়ে ইহুদিদের জিজ্ঞেস করল, “আমরা মুহাম্মদকে (সা) কী কী প্রশ্ন করতে পারি?” এবার তারা তাঁকে এই তিনটি প্রশ্ন বলে দিয়েছিল, যার উত্তর একজন প্রকৃত নবির পক্ষেই কেবল জানা সম্ভব:

১) তাঁর কাছে সেইসব যুবকের কাহিনি জানতে চাও, যারা একটি ভয় প্রবেশ করেছিল এবং দীর্ঘ সময় সেখানে ঘুমিয়ে ছিল।

 ২) তাঁকে এমন একজন ব্যক্তির বিষয়ে জিজ্ঞেস করো, যিনি পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিমে সফর করেছিলেন।

৩) তাঁকে জিজ্ঞেস করো রুহ (আত্মা) সম্পর্কে; রুহ কী দিয়ে তৈরি এবং কোথা থেকে এসেছে।

কুরাইশরা নবিজিকে (সা) এই তিনটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে তিনি তাদের বললেন, “আগামীকাল আবার এসো, তখন আমি তোমাদেরকে উত্তর জানাব।” নবিজি (সা) ব্যাপারটি নিয়ে অতিমাত্রায় আত্মবিশ্বাসী ছিলেন এবং ইনশাআল্লাহ’ বলেননি। সে কারণে তাঁর কাছে ওহি আসতে এক দিনের পরিবর্তে দুই সপ্তাহ সময় লেগেছিল। এ নিয়ে কুরাইশরা ঠাট্টা-মশকরা শুরু করে দিয়েছিল। অবশেষে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সুরা কাহফের মাধ্যমে প্রশ্নগুলোর। জবাব নিলেন: 

 

নবিজিকে (সা) জিজ্ঞাসাবাদ | কুরাইশদের বিরোধিতা-২ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

১) গুহায় থাকা যুবকদের সম্পর্কে এমন বিশদ বিবরণ দেওয়া হয়েছে যা ইহুদিরাও জানত না।

২) এখানে জুলকারনায়েনের কথা বলা হয়েছে। [আনুসঙ্গিক বিষয়: আমাদের সময়ে কারো কারো মতে জুলকারনায়েনই আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট। তবে এর পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। বরং আলেকজান্ডার সম্পর্কে আমাদের জানা অনেক কিছুর সঙ্গেই এর অসংগতি রয়েছে; যেমন: আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট ছিলেন একজন পৌত্তলিক, তাঁর গুরু অ্যারিস্টটল গ্রিক দেবতায় বিশ্বাস করতেন। অন্যদিকে জুলকারনায়েন ছিলেন এক ধার্মিক একেশ্বরবাদী। তবে জুলকারনায়েন একজন নবি ছিলেন কি না সে সম্পর্কে পণ্ডিতগণের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।]

৩) রুহ সম্পর্কে আল্লাহ কোরানে অন্য সুরায় একটি আয়াত নাজিল করেছেন:

“তারা তোমাকে রুহ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বলো, ‘রুহ আমার প্রতিপালকের আজ্ঞাধীন।’ এ বিষয়ে তোমাদেরকে সামান্যই জ্ঞান দেওয়া হয়েছে।” [সুরা বনি ইসরাইল, ১৭:৮৫] এখানে আল্লাহ রুহ সম্পর্কিত প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি। তবে তিনি বলেছেন যে এটি আল্লাহর রহস্য যা তোমরা কখনই জানতে পারবে না। এটি ছিল একটি কৌশলী প্রশ্ন। ইহুদিরা জানত যে রুহ সম্পর্কে কারও জ্ঞান নেই। অতএব নবিজি (সা) যদি বিশদভাবে উত্তর দিতেন তাহলে ইহুদি সম্প্রদায় তাঁকে একজন *ভুয়া নবি হিসেবে পরিগণিত করত।

আরো পড়ুনঃ

Leave a Comment