নবিজির সা চারজন চাচার ভিন্ন ভিন্ন মর্যাদা | ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইসলামের দাওয়াত | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

নবিজির সা চারজন চাচার ভিন্ন ভিন্ন মর্যাদা | ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইসলামের দাওয়াত, আমরা নবি করিমের (সা) জীবনে চারজন চাচার বর্ণনা ও ভূমিকা দেখতে পাই। তাঁরা সবাই ছিলেন আবদুল মুত্তালিবের সন্তান, কিন্তু ইসলাম ধর্মমতে প্রত্যেকেরই মর্যাদা আলাদা। ইসলামে বংশধারার আলাদা মূল্য নেই। এখানে ব্যক্তির মর্যাদা নিজের কাজের ওপর নির্ভরশীল।

 

নবিজির সা চারজন চাচার ভিন্ন ভিন্ন মর্যাদা | ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইসলামের দাওয়াত | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

নবিজির সা চারজন চাচার ভিন্ন ভিন্ন মর্যাদা | ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইসলামের দাওয়াত | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

নবিজির (সা) চাচাদের মধ্যে দুজন মুসলিম ও দুজন অনুসলিম। তাঁদের কার কী মর্যাদা ছিল তা সংক্ষেপে আলোচনা করা যাক: 

১) নবিজির (সা) চাচাদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান হলেন হামজা (রা)। তাঁকে ‘সাইয়্যিদ আল-শুহাদা অর্থাৎ শহিদদের নেতা আখ্যায়িত করা হয়।

 ২) তারপর আব্বাস (রা)। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের (রা) পিতা। তিনি একজন বিশিষ্ট মুসলিম ছিলেন, ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন সিরাহের শেষের সময়ে। কিন্তু তাঁকে হামজা (রা) কিংবা অন্য দশজন অভিজাত সাহাবির সঙ্গে তুলনা করা যায় না।

৩) আবু তালিব। তিনি ইসলামের ইতিহাসে অমুসলিমদের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মানিত ব্যক্তি। অন্য কোনো অমুসলিম তাঁর চেয়ে উঁচু মর্যাদার অধিকারী নন। সহিহ মুসলিমের একটি হাদিস অনুসারে, আল-আব্বাস একবার নবিজিকে (সা) জিজ্ঞেস করেছিলেন, “হে আল্লাহর রসুল! আপনার চাচা (আবু তালিব) আপনার এত উপকার করেছেন, আপনি কি তার পাল্টা উপকার করতে পারেন না?” জবাবে নবিজি (সা) বলেন, “হ্যাঁ, আমি করেছি। তাঁর জন্য আমার দোয়ার কারণেই তাঁকে জাহান্নামের আগুনের বাইরের প্রান্তে রাখা হয়েছে। আমার দোয়া না থাকলে তাঁর স্থান হতো জাহান্নামের আগুনের অনেক গভীরে।” অন্য এক বর্ণনা অনুসারে, আবু তালিবকে জাহান্নামের সব লোকের মধ্যে সবচেয়ে কম শান্তির মধ্যে রাখা হবে। কিন্তু পৌত্তলিক হওয়ার কারণে তিনি জান্নাতে স্থান পাবেন না।

 

islamiagoln.com google news
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

৪) আবু লাহাব। তাঁর জন্য আল্লাহ তায়ালা একটি পুরো সুরা নাজিল করেছেন। ইসলামের শত্রুদের মধ্যে আবু লাহাবই একমাত্র ব্যক্তি যাঁর নাম উল্লেখ করে কোরানে অভিশাপ দেওয়া হয়েছে। সরাসরি নাম উল্লেখ না করে আরও অনেকের প্রসঙ্গ কোরানে পরোক্ষভাবে এসেছে। শুধু আবু লাহাবের ক্ষেত্রেই নাম উল্লিখিত হয়েছে। আমরা এই সুরাটি তেলাওয়াত করার সময় আবু লাহাবের কৃতকর্মের জন্য তাঁর ওপর আল্লাহর অভিশাপ কামনা করি, যা কেয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে।

 

নবিজির সা চারজন চাচার ভিন্ন ভিন্ন মর্যাদা | ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইসলামের দাওয়াত | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

এখানে দেখা যাচ্ছে, এই চার ভাই একই পিতার পুত্র হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের মর্যাদা ভিন্ন ভিন্ন। তাঁরা সকলেই পৃথিবীর ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানবের চাচা। এ থেকে বোঝা যায়, আমাদের পিতৃপুরুষ বা সন্তানেরা কেয়ামতের দিন আমাদের কোনো সাহায্য করতে পারবে না। আমরা নিজেরা এই পৃথিবীতে যা কিছু করছি, পরকালে তাই-ই হবে আমাদের পাথেয়। যেমনটি নবি করিম (সা) তাঁর প্রথম খুতবায় বলেছিলেন, “তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেদের বাঁচাও। আমি তোমাদের কোনোরূপ সাহায্য করতে সক্ষম হব না।” অর্থাৎ আল্লাহর আজাব থেকে কেউ আমাদের সাহায্য করতে পারবে না; নিজেদেরই নিজেদেরকে বাঁচাতে হবে। ধর্মনিষ্ঠ জীবন যাপনের মাধ্যমেই সেটা সম্ভব।

আরো পড়ূনঃ

Leave a Comment