নাজাশিকে ঘুষ দেওয়ার জন্য কুরাইশদের প্রচেষ্টা | আবিসিনিয়ায় দ্বিতীয় অভিবাসন (হিজরত) | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

নাজাশিকে ঘুষ দেওয়ার জন্য কুরাইশদের প্রচেষ্টা | আবিসিনিয়ায় দ্বিতীয় অভিবাসন (হিজরত), সে সময়ে মক্কায় বসবাসকারী লোকের সংখ্যা ৮০০ জনের বেশি ছিল না। তাঁদের মধ্যে ৮০ জন চলে যাচ্ছে, যা মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ। কুরাইশরা ছিল হারামের রক্ষক বা জিম্মাদার, আর এখন তাদের লোকজনই মক্কা ছেড়ে চলে যাচ্ছে! মক্কার কুরাইশদের জন্য এ ছিল এক বিশাল বিব্রতকর ব্যাপার।

তাই দ্বিতীয়বার আবিসিনিয়ায় হিজরতের সময় তারা মুসলিমদের দেশত্যাগে বাধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। তারা তখন আবিসিনিয়ার সম্রাট নাজাশির (পুরো নাম আসহামা ইবনে আবজার) কাছে মুসলিমদের আশ্রয় না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে দুজন প্রতিনিধি পাঠাল। প্রতিনিধিদের একজন ছিল আমর ইবনুল আস, যিনি ছিলেন তৎকালীন মক্কায় একজন চতুর ও বিচক্ষণ ব্যক্তি। দ্বিতীয়জন কে ছিল তার পরিচয় নিয়ে ইতিহাসবিদরা একমত হতে পারেননি ।

উম্মে সালামা (রা) আবিসিনিয়ায় জীবন সম্পর্কে অনেক বিবরণ দিয়ে গেছেন। তিনি বর্ণনা করেন: “আমরা যখন আবিসিনিয়ায় পৌঁছলাম, তখন আমাদের আন্তরিক আতিথেয়তায় বরণ করে নেওয়া হয়। নাজাশি (নেগাস) আমাদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। আমাদের নিয়ে একবারের জন্যও ঠাট্টা-বিদ্রূপ শুনিনি। তবে কুরাইশরা যখন সেখানে আমাদের ভালো অবস্থার কথা জানতে পারল, তখন আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করল। তারা এ কাজ করার জন্য দুজন লোককে প্রচুর উপহারসামগ্রীসহ (যেমন উটের চামড়ার তৈরি পণ্য) আবিসিনিয়ায় পাঠাল।

 

নাজাশিকে ঘুষ দেওয়ার জন্য কুরাইশদের প্রচেষ্টা | আবিসিনিয়ায় দ্বিতীয় অভিবাসন (হিজরত) | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

নাজাশিকে ঘুষ দেওয়ার জন্য কুরাইশদের প্রচেষ্টা | আবিসিনিয়ায় দ্বিতীয় অভিবাসন (হিজরত) | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

ওই দুজন প্রথমেই নাজাশির উজিরদের (মন্ত্রীদের) প্রত্যেককে চামড়া এবং আরও কিছু দামি সামগ্রী উপহার হিসেবে দিল। তারপর তারা বলল, ‘আমাদের একদল বিদ্রোহী লোক আপনাদের এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছে। আমরা তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা চাই আপনারা আমাদের এ ক্ষেত্রে সমর্থন করুন। আর নেগাসকে আমরা যখন উপহার পৌঁছে দেব তখন আপনাদের দেওয়া আমাদের উপহারগুলোর কথাও খেয়াল রাখবেন। [ এটাকে প্রকাশ্য ঘুষ ছাড়া আর কী বলা যেতে পারে?]

পরের দিন তাঁরা দুজন নাজাশির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে বলল, ‘আমাদের দেশের কিছু সংখ্যক আবোধ ও অর্বাচীন যুবক পালিয়ে এসে আপনার দেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারা তাদের পূর্বপুরুষদের নিকট থেকে বংশপরম্পরা সূত্রে চলে আসা ধর্ম পরিত্যাগ করেছে। তারা নাকি একটা নতুন ধর্মমতও উদ্ভাবন করেছে। তারা একদিকে আমাদের ধর্ম ছেড়ে গেছে, অন্যদিকে আপনার ধর্মও গ্রহণ করেনি। আমাদের নেতারা আপনার কাছে আমাদের পাঠিয়েছেন, যাতে আপনি এই বোকা যুবকদেরকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেন।”

এরপর তাঁরা নাজাশিকে প্রচুর পরিমাণে চমৎকার সব সামগ্রী উপহার দিল। [আনুষঙ্গিক দ্রষ্টব্য: আধুনিক ব্যবস্থা চালু হওয়ার অনেক আগেই নবি করিম (সা) আমরা এখন যাকে ‘লবিং’ (তদবির) বলি, তা কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। আমাদের ধর্ম এতই নিখুঁত। ইসলামি ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের কর্মচারীদেরকে আলাদাভাবে অর্থ দেওয়ার মোটেই অনুমতি নেই। এটা তাদের চাকরি। তাদের বেতন আসে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। আমাদের সময়ে কিছু দেশে টাকাটা সরাসরি দেওয়ার বদলে ‘লবিং’ নাম করে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেওয়াকে অনুমোদন দেওয়া হলেও এ দুটো আসলে একই বিষয়।

ঘুষ/তদবির নিষিদ্ধ করে আরেকটি বিখ্যাত হাদিস আছে। নবিজি (সা) একবার জাকাত সংগ্রহ করার জন্য এক ব্যক্তিকে নিয়োগ করেছিলেন। একদিন সেই ব্যক্তি ফিরে এসে বলল, “হে আল্লাহর রসুল (সা), এই উপহারগুলো আপনার জন্য। সঙ্গে তারা আমাকেও ছোট্ট একটি উপহার দিয়েছে।” এই ঘটনায় নবিজি (সা) ক্ষুব্ধ হয়ে সাহাবিদের ডেকে বললেন, “তোমাদের কারও কারও কী হয়েছে? আমরা তাকে একটি চাকরির জন্য নিয়োগ করেছি, সে জন্য তাকে বেতন সেই। আর সে ফিরে এসে বলে, ‘এই উপহার আপনার জন্য আর এই উপহারটি আমার জন্য। সে তার মায়ের বাড়িতে কোনো কাজ না করে বসে থেকে দেখুক, তার কাছে কোনো উপহার আসে কি না।”

স্পষ্টই কুরাইশ দূতরা নাজাশিকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছে। লক্ষ করুন, তারা নাজাশিকে নানা ধরনের ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক যুক্তি দিয়ে প্রভাবিত করতে চেয়েছে। যেমন, তারা বলেছে, ‘একদল যুবক আমাদের ধর্ম ছেড়ে বেরিয়ে গেছে, কিন্তু আপনার ধর্মও গ্রহণ করেনি’, ‘এরা অপরিচিত মানুষ, জানি না কী করবে’, ‘আমাদের হাতে ছেড়ে দিন, আমরা জানি কী করতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। যে কোনো সরকারই অজানা উৎস থেকে আসা বিপদকে ভয় পেতে পারে। কুরাইশ দূতরা নাজাশিকে এটা ওটা বলে সেই সুযোগটাই নিতে চেয়েছিল।

কুরাইশ দূতদের কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নাজাশির উজিররা উঠে দাঁড়িয়ে বললেন: “হে আমাদের সম্রাট! এই দূতরা যা বলছে তাতে যুক্তি আছে। আপনি বরং মুসলিমদেরকে তাদের লোকদের কাছে ফিরিয়ে দিন। ওরা যা করার করুক গিয়ে।” উজিরদের সুপারিশ সত্ত্বেও নাজাশি বললেন, “না। আল্লাহর কসম, তাঁরা আমার দেশে থাকার জন্য আসার পর আমি তাঁদের ফিরিয়ে দিতে পারি না।” এখানে অনুমান করা যায়, মুসলিমরা আবিসিনিয়ায় প্রবেশের আগে নিশ্চয়ই নাজাশির কাছে তাঁর দেশে বাস করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। নাজাশি নিশ্চয়ই সেই আবেদন মঞ্জুর করেছিলেন। তাই তিনি বললেন, “তাঁরা অন্য কোনো দেশের বদলে আমার দেশকে বেছে নিয়েছে এবং আমার কাছে সুরক্ষা চেয়েছে। আমাকে নিদেনপক্ষে তাঁদের বক্তব্য শুনতে হবে।”

নাজাশি সত্যিই একজন ন্যায়নিষ্ঠ শাসক ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “যতক্ষণ না আমি তাঁদের কথা শুনছি ততক্ষণ তাঁদের ফিরিয়ে দেব না।” এ থেকে আমরা তাঁর বিচক্ষণতার প্রমাণ পাই। নাজাশি মুসলিমদের নেতা জাফর ইবনে আবি তালিবের কাছে একজন বার্তাবাহক পাঠিয়ে বললেন, তিনি (জাফর) যেন প্রাসাদে এসে ব্যাখ্যা করেন, কেন তাঁরা আবিসিনিয়ায় এসেছেন আর কেনই বা তাঁদের দেশের লোকেরা তাঁদের বিরোধিতা করছে। খবর পেয়ে মুসলিমরা ভয় পেয়ে গেলেন। জাফর তাঁদের বললেন, “আমরা সত্য কথা বলব। আমাদের নবিজি (সা) আমাদের যা বলতে বলেছেন তাই-ই বলব।”

 

islamiagoln.com google news
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

মুসলিমরা প্রাসাদে পৌঁছে নাজাশিকে তাঁর উজির ও অন্যান্য বয়োজ্যেষ্ঠ সভাসদদের দ্বারা পরিবেষ্টিত অবস্থায় দেখতে পেয়ে বুঝতে পারলেন, এটি একটি আনুষ্ঠানিক সভা যেখানে দুই পক্ষের বক্তব্যই শোনা হবে। একদিকে আমর ইবনুল আস ও তার সহযোগী। অন্যদিকে জাফর ও অন্য মুসলিমরা। আমর ও তার সহযোগী প্রথমে সভাকক্ষে প্রবেশ করে নাজাশির সামনে সেজদা করল। অন্যদিকে জাফর তাঁর মাথা এক ইঞ্চি নিচু না করে দৃঢ়পায়ে হেঁটে সভাকক্ষের ভেতরে প্রবেশ করলেন।

প্রথমেই এক উজির জাফরকে বললেন, “তোমার কত বড় সাহস যে তুমি নাজাশিকে সেজদা না করে ভেতরে প্রবেশ করলে!” সময়টা এমন ছিল যখন মুসলিমদের জীবন পুরোপুরি ঝুঁকির মধ্যে। তবু তাঁরা কোনো আপসের কথা চিন্তা করলেন না। জাফর উত্তরে বললেন, “আমাদের নবি (সা) বলেছেন আমরা শুধু আমাদের প্রতিপালককেই সেজদা করতে পারি।”

নাজাশি বললেন, “বলো, তোমাদের এই নতুন ধর্ম কী? কেন তোমরা তোমাদের লোকদের ধর্ম ত্যাগ করলে? কেনই বা খ্রিষ্টান কিংবা ইহুদি ধর্ম গ্রহণ করলে না?” তখন জাফর নাজাশির দরবারে অত্যন্ত বাগ্মিতাপূর্ণ এক চমৎকার বক্তব্য রাখলেন:

“হে মহিমান্বিত সম্রাট। আমরা ছিলাম অজ্ঞতা, অশ্লীলতা ও অনাচারের অন্ধকারে নিমজ্জিত এক জাতি; এবং আমরা প্রতিমাপূজা করতাম; এবং আমরা মৃত জীব-জানোয়ারের মাংস খেতাম; এবং আমরা নির্বিচারে ব্যভিচার ও অশ্লীলতায় লিপ্ত থাকতাম;

এবং, আমরা আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতাম;

এবং, প্রতিবেশীদের সাথে অন্যায় আচরণ করতাম;

এবং, মানুষের অধিকার নষ্ট করতাম; এবং, দুর্বলদের সহায়-সম্পদ গ্রাস করতাম;

এবং, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের কাছে একজন রসুল না পাঠানো পর্যন্ত আমরা এমনই অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজে জীবনযাপন করে আসছিলাম,

 এবং, এই রসুল আগে থেকেই আমাদের চেনা, তিনি আমাদের সম্প্রদায়েরই মানুষ;

এবং, আমরা তাঁর বংশমর্যাদা, সত্যতা, সহনশীলতা, ন্যায়নিষ্ঠা, পরোপকারিতা ইত্যাদি গুণ ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আগে থেকেই অবহিত ছিলাম; 

এবং, তিনি কখনও জীবনে একটিও মিথ্যা কথা বলেননি।

তিনি আমাদেরকে আহ্বান জানিয়েছেন এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ইবাদত না করতে;

এবং, প্রতিমাপূজা ছেড়ে দিতে; এবং, আমাদের পূর্বপুরুষদের জীবনধারা ত্যাগ করতে;

এবং, পাথর ও মূর্তি পূজা ছেড়ে দিতে;

এবং, মিথ্যা বর্জন করে সব সময় সত্য কথা বলতে; এবং, আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখতে;

এবং, আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে;

এবং, আমাদের প্রতিবেশীদের সাথে সদ্ব্যবহার করতে:

এবং, অবৈধ ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকতে;

এবং, রক্তপাত পরিহার করে চলতে;

এবং, সর্বদা সত্য সাক্ষা দিতে:

এবং, এতিমদের সম্পত্তি আত্মসাৎ না করতে; এবং, অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ না আনতে; তিনি আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন শুধু আল্লাহরই ইবাদত করতে এবং, তাঁর সাথে কাউকে শরিক না করতে;

এবং, নামাজ পড়তে

এবং, রোজা রাখতে;

এবং, দান-খয়রাত করতে। আমরা তাঁকে বিশ্বাস করেছি।

এবং, আমরা তাঁকে অনুসরণ করেছি;

এবং, আমরা তাঁর ওপর আস্থা রেখেছি;

এবং, আমরা শুধু এক আল্লাহরই ইবাদত করেছি; এবং, আমরা প্রতিমাপূজা ছেড়ে দিয়েছি;

এবং, তিনি আমাদের যা যা করতে নিষেধ করেছেন, সে মেনে নিয়েছি । সব করা থেকে বিরত থাকছি; 

এবং, তিনি আমাদের যা যা করার অনুমতি দিয়েছেন, সে সব করণীয় হিসেবে কিন্তু আমাদের জনগণ আমাদের বিরোধিতা করেছে;

এবং, তারা আমাদের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে; 

এবং, তারা আমাদের ওপর অত্যাচার-নিপীড়ন করেছে;

এবং, তারা আমাদের শাস্তি দিয়েছে;

এবং, তারা আমাদের প্রতিমাপূজাতে ফিরে যেতে জোর-জবরদস্তি করেছে।

এবং, তারা আমাদের প্রতি অন্যায় আচরণ করেছে;

এবং, তারা আমাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে;

এবং, আমরা যা করতে চাই তাতে তারা বাধা দিয়েছে। অতএব যেহেতু তারা আমাদের সাথে এ রকম আচরণ করছিল, তাই বাধ্য হয়ে আমরা আপনার দেশে চলে এসেছি; 

এবং, আমরা অন্য যে কোনো শাসকের ওপরে আপনাকে বেছে নিয়েছি;

এবং, আমরা আপনার সহৃদয়তা, উদারতা এবং, আতিথেয়তার ছায়াতলে থাকার ইচ্ছা পোষণ করছি। 

এবং, আমরা আপনার ওপর আমাদের আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছি।

হে সর্বোচ্চ মর্যাদাবান। আশা করি আমরা আপনার রাজত্বে কোনো অন্যায়ের শিকার হন না।”

 

নাজাশিকে ঘুষ দেওয়ার জন্য কুরাইশদের প্রচেষ্টা | আবিসিনিয়ায় দ্বিতীয় অভিবাসন (হিজরত) | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

জাফরের বক্তৃতাটি এতই জোরালো ও আবেগময় ছিল যে, উপস্থিত সবার মধ্যে মুসললিমদের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব চলে আসে এবং কুরাইশদের প্রেরিত দুজন প্রতিনিধি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা জন্ম নেয়। জাফর ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে ইসলাম আসার আগে তাদের কোনো আইন-কানুন ছিল না, অন্যদিকে আবিসিনিয়া একটি সভ্য জাতি হিসেবে পরিচিত। জাফরের এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি নবুয়ত সম্পর্কে নাজাশির পূর্বধারণা থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁর বক্তব্য এভাবে সাজিয়েছিলেন।

নাজাশি তখন মুসলিমদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার কাছে কি কোনো ওহি আছে?” জাফর তখন তাঁর অন্তরের ভাবাবেগ দিয়ে সুরা প্রথম কয়েক আয়াত পাঠ করে শোনালেন। প্রায় আট মিনিট ধরে তেলাওয়াত করা সুরাটিতে মরিয়ম ও যিশুখ্রিষ্ট সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা আছে। জাফরের সুললিত কন্ঠের ও সুরের মোহনীয়তায় নাজাশি এতটাই আপ্লুত হলেন যে তাঁর দুচোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। নাজাশির সঙ্গে তাঁর সভাসদও কাঁদতে শুরু করল, যদিও তারা ভালোভাবে আরবি বুঝত না।। নাজাশি বললেন, “আমি ঈশ্বরের কসম খেয়ে বলছি, এই বাণী এবং মুসা ও ইসার বাণীর উৎস একই।” এবার তিনি আমর ইবনুল আস ও তাঁর সহযোগীকে বললেন, “তোমরা আমার কাছ থেকে চলে যাও। একথা কখনই ভেবো না যে, আমি এই লোকদের তোমাদের হাতে তুলে দেব।”

আরো পড়ূনঃ

Leave a Comment