নাজাশি মুসলিম হয়েছিলেন | আবিসিনিয়ায় দ্বিতীয় অভিবাসন (হিজরত) | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

নাজাশি মুসলিম হয়েছিলেন | আবিসিনিয়ায় দ্বিতীয় অভিবাসন (হিজরত), দালাইল আল-নুবুওয়াহতে, আল-বায়হাকি বর্ণনা করেন, নবি করিম (সা) মদিনায় হিজরতের পরে নাজাশিকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। তার জবাবে নাজাশি তাঁকে লেখেন, “আমি একজন মুসলিম, আমি আপনাকে অনুসরণ করি। আপনি যদি আদেশ দেন, তবে আমি মদিনায় এসে আপনার সেবা করব।” এই বিষয়ে পরে আলোচনা আছে।

 

নাজাশি মুসলিম হয়েছিলেন | আবিসিনিয়ায় দ্বিতীয় অভিবাসন (হিজরত) | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

নাজাশি মুসলিম হয়েছিলেন | আবিসিনিয়ায় দ্বিতীয়-অভিবাসন (হিজরত) | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

নাজাশির দেশে গৃহযুদ্ধ

আরেকটি কাহিনি থেকে জানা যায়, অন্য একটি শক্তি (গোত্র) নাজাশিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার চেষ্টা করেছিল। বিষয়টি বড় হতে হতে গৃহযুদ্ধ লাগার উপক্রম হয়। উম্মে সালামা বর্ণনা করেন, “আমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে নাজাশির জন্য সাহায্য প্রার্থনা করে দোয়া করেছি।” এক সময় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। মুসলিমরা নিজেদের মধ্যে বললেন, “আমাদের মধ্যে কি কেউ একজন গিয়ে যুদ্ধের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আমাদেরকে জানাবে যে কে জয়ী হতে যাচ্ছে, যাতে আমরা প্রয়োজন হলে চলে যেতে পারি?” জুবায়ের ইবনুল আওয়াম স্বেচ্ছায় এই দায়িত্ব নিলেন।

যুদ্ধ হচ্ছিল নীল নদের তীরে। তাই জুবায়ের নদীর তীরে তাঁবু গেড়ে যুদ্ধের অবস্থা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। উম্মে সালামা বর্ণনা করেছেন, “আমরা আল্লাহর নিকট আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করেছিলাম, ‘হে আল্লাহ! নাজাশিকে ক্ষমতায় থাকতে দিন এবং তাঁকে পৃথিবীর বুকে কর্তৃত্ব দান করুন।” জুবায়ের ফিরে এসে জানালেন, “সবাই আনন্দ করুন। নাজাশি যুদ্ধে জিতেছেন।”

 

islamiagoln.com google news
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

এখানে লক্ষণীয়, গৃহযুদ্ধে নাজাশি বা তাঁর শত্রুপক্ষ, কেউ ইসলামের বিরুদ্ধে লড়ছিলেন না। যুদ্ধের কারণ ছিল নিছক রাজনৈতিক। তবু মুসলিমরা এক পক্ষকে মানসিকভাবে সমর্থন তাঁরা সেই দেশের নাগরিক না হওয়ায় অন্য কোনোভাবে জড়িত হতে পারেননি। বিষয়টি আমাদের সময়ের প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করুন। দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধলে যে পক্ষটি মুসলিমদের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল, তাকে সমর্থন করায় দোষের কিছু নেই। আমরা মুসলিমরা চাইতেই পারি যে সেই সহানুভূতিশীল দলটি অন্যটির বিরুদ্ধে জয়লাভ করুক। যদি আবিসিনিয়ার মুসলিমরা নাজাশিকে সাহায্য করার মতো অবস্থানে থাকতেন, তাহলে কি তাঁরা তাঁকে সাহায্য করতেন না? অবশ্যই করতেন। কারণ, সেটা ছিল তাঁদের বাঁচা-মরার বিষয়। যে কোনো একটি পক্ষ বেছে নেওয়া ইসলাম সমর্থন করে।

 

নাজাশি মুসলিম হয়েছিলেন | আবিসিনিয়ায় দ্বিতীয় অভিবাসন (হিজরত) | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

নাজাশির মৃত্যু ঃ

এর বেশ কয়েক বছর পর নাজাশি মারা যান। নবি করিম (সা) বলেন, “জিব্রাইল (আ) এসে আমাকে জানিয়েছেন, ‘আপনার এক ধার্মিক ভাই পাশের দেশে মারা গেছেন।” তিনি সাহাবিদের নাজাশির জন্য গায়েবানা জানাজাতে (‘সালাত আল- জানাজা আলা আল-গায়েব’, অর্থাৎ মৃতদেহ ছাড়াই জানাজার নামাজ) অংশ নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এটিই ছিল নবিজির (সা) তাঁর জীবদ্দশায় অংশ নেওয়া একমাত্র গায়েবানা জানাজার নামাজ। এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে, নবিজি (সা) কেন নাজাশির জন্য এই নামাজ পড়েছিলেন? এ সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। আমার (ইয়াসির কাদি) মতে, নবিজি (সা) এটি করেছিলেন কারণ নাজাশির মুসলিম হওয়ার বিষয়টি গোপন থাকার কারণে আবিসিনিয়ায় কেউ তাঁর জন্য জানাজার নামাজ আদায় করেনি।

আরো পড়ূনঃ

Leave a Comment