ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে বেদনাদায়ক পরিস্থিতি | খাদিজার (রা) সঙ্গে বিয়ে এবং কাবা পুনর্নির্মাণ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে বেদনাদায়ক পরিস্থিতি | খাদিজার (রা) সঙ্গে বিয়ে এবং কাবা পুনর্নির্মাণ, করিম (সা) ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে একের পর এক বেদনাদায়ক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। একজন মানুষের কাছে পিতামাতা ও সন্তান হারানোর চেয়ে বেশি কষ্টদায়ক আর কী-ই বা হতে পারে। নবিজিকে (সা) এই দুটি কষ্টের মধ্য দিয়েই যেতে হয়েছিল। তিনি জীবনে একাধিকবার এতিম হয়েছেন।

 

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে বেদনাদায়ক পরিস্থিতি | খাদিজার (রা) সঙ্গে বিয়ে এবং কাবা পুনর্নির্মাণ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে বেদনাদায়ক পরিস্থিতি | খাদিজার (রা) সঙ্গে বিয়ে এবং কাবা পুনর্নির্মাণ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

তারপর নবুয়তে পৌঁছানোর আগেই একের পর এক পুত্রসন্তানদের হারিয়েছেন: প্রথমে আল-কাসিমকে, তারপর আবদুল্লাহকে এবং সবশেষে ইব্রাহিমকে। আল্লাহ তায়ালা হয়তো তাঁর প্রিয় বান্দাকে এরকম কঠিন ও করুণ পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছিলেন জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়ার জন্য; এসব পরীক্ষার মাধ্যমে বান্দার সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য। এই পরীক্ষাগুলোর মধ্য দিয়ে নবিজির (সা) ধৈর্যশক্তির বিকাশ ঘটেছিল, যা তাঁর নবুয়তের মিশনে পৌঁছার জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ছিল। এ ছাড়া, আল্লাহ তাঁকে এসব দুঃখকষ্টের মধ্যে ফেলেছিলেন এ জন্য যে এভাবে তাঁর অন্তর কোমল হবে;  তিনি নিজেকে একজন সংবেদনশীল ও করুণাময় ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন।

আল্লাহ নবিজিকে (সা) পরীক্ষায় ফেললেও তাঁর সামর্থ্যের বাইরে কিছু চাপিয়ে দেননি। আল্লাহ তাঁকে সন্তানাদি দিয়েছিলেন একদিকে পিতৃত্বের স্বাদ দেওয়ার জন্য, অন্যদিকে তাঁকে যারা বিদ্রূপ করার চেষ্টা করেছিল তাদেরকে চুপ করিয়ে দেওয়ার জন্য। কারণ, তিনি যদি নিঃসন্তান থাকতেন তাহলে লোকেরা তাঁকে নিয়ে আরও অনেক বেশি ঠাট্টা-মশকরা করত।

 

islamiagoln.com google news
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

তারপরও পুত্র আবদুল্লাহ মারা গেলে আল-আস ইবনে ওয়াইল নামের এক ব্যক্তি আনন্দের আতিশয্যে মক্কার রাস্তায় চিৎকার করে বলেছিল যে তাঁর বংশের ধারা কাটা পড়েছে। একটা মানুষ কতটা কুরুচিপূর্ণ ও জঘন্য মানসিকতার হলে এরকম বলতে পারে! কল্পনা করতে পারেন, আপনি পুত্র হারানোর বেদনায় কাতর, আর একজন (হোক না সে আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু) আপনার কষ্ট নিয়ে আনন্দ-উল্লাস করছে? এই পরিপ্রেক্ষিতেই আল্লাহ তায়ালা সুরা কাওসার নাজিল করেছিলেন: “নিঃসন্দেহে আমি তোমাকে কাউসার (ইহকাল ও পরকালের কল্যাণের প্রাচুর্য) দান করেছি। সুতরাং তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ পড় এবং কোরবানি দাও।

যে তোমার দুশমন সে-ই তো নির্বংশ।” [সুরা কাওসার, ১০৮:১-৩) সুরাটির তিনটি সংক্ষিপ্ত আয়াত নবি করিমকে (সা) অনেক স্বস্তি দিয়েছিল। আল্লাহ বলতে চেয়েছেন, ‘আমি তোমাকে অনেক দিয়েছি, তাই চিন্তা করো না। আমি তোমার কাছ থেকে একটি জিনিস ফিরিয়ে নিয়েছি, কিন্তু বিনিময়ে তোমাকে দিয়েছি আল-কাওসার (আল-কাওসার অর্থ অনেক কিছুই হতে পারে: জান্নাত, জান্নাতের নদী, জান্নাতের সবকিছু)। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা কর। আর যারা তোমাদের বিরোধিতা করে তারাই তো সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

 

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে বেদনাদায়ক পরিস্থিতি | খাদিজার (রা) সঙ্গে বিয়ে এবং কাবা পুনর্নির্মাণ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

দেখুন, আল্লাহ তায়ালা কীভাবে তাঁর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন এবং নবিজির (সা) শত্রুদেরকে অসম্মানিত করেছেন। তারা কি কোনো লিগ্যাসি বা উত্তরাধিকার রেখে যেতে পেরেছে? নবিজির (সা) পুত্রসন্তান না রেখে যাওয়ার পেছনের প্রজ্ঞা নবি করিম (সা) কেন কোনো পুত্রসন্তান রেখে যেতে পারেননি এ বিষয়ে ধর্মতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা ও প্রজ্ঞা রয়েছে বলে আমরা মনে করতে পারি। পুত্র ইব্রাহিমের যখন জন্ম হয়, তখন নবিজির (সা) বয়স ছিল ৫৯ বা ৬০ বছর। শিশুটি মাত্র ১৮ মাসের মতো বেঁচে ছিল। আদর-সোহাগে মাখানো ওই ছোট্ট সন্তানকে হারানো একজন পিতার জন্য কতই না বেদনাদায়ক। আল্লাহ তায়ালা তাঁর রসুলকে (সা) শেষ বয়সে সন্তানের পিতা হওয়ার মধ্য দিয়ে যেমন করে আশীর্বাদ করেছিলেন, তেমনি এত অল্প বয়সে ইব্রাহিমকে ফিরিয়ে নিয়ে তাঁকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন।

জানা যায়, ইব্রাহিমের মৃত্যুতে নবিজি (সা) শোকে মুহ্যমান হয়ে অনেক কেঁদেছিলেন। ইবনে মাজাহে উল্লেখ আছে, নবি করিম (সা) বলেছেন, “ইব্রাহিম বেঁচে থাকলে সে একজন নবি হয়ে যেতে পারত।” এর অর্থ, এটা হওয়া ঠিক হতো না (পরবর্তী সময়ের লোকেরা নবির পুত্রকেও নবি হিসেবে গণ্য করতে পারত। কিন্তু মুহাম্মদ (সা) তো ছিলেন সর্বশেষ নবি। তাঁর পরে আর কোনো নবি পৃথিবীতে আসবে না। শুধু এই ধর্মতাত্ত্বিক কারণেই নবিজির (সা) কোনো পুত্রসন্তান বেঁচে না থাকাই অর্থবহ।

দেখুন না, নবিজির (সা) মৃত্যুর পর তাঁর মেয়ের ঘরের নাতিদের নিয়ে মুসলিমরা কত কী করেছে। তাদের মর্যাদা অতিরঞ্জিত করে দলাদলিতে লিপ্ত। হয়েছে। নবিজির (সা) যদি কোনো পুত্রসন্তান বেঁচে থাকত, তাহলে উম্মতেরা হয়তো তাকে নরি/ঈশ্বরের মতো কিছু একটা বানিয়ে ফেলত। অতএব আল্লাহরই ইচ্ছা ছিল, মহানবির (সা) পুত্রসন্তানেরা পৃথিবীতে বেশিদিন থাকবে না।

আরো পড়ূনঃ

 

Leave a Comment