মসজিদ আল নববি (মসজিদুন নববি) তৈরি | মদিনা যুগের সূচনা | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

মসজিদ আল নববি (মসজিদুন নববি) তৈরি | মদিনা যুগের সূচনা, আবার আমরা উটের গল্পে ফিরে যাই। উটটি বাগানের এমন একটি স্থানে বসেছিল যেখানে খেজুরগাছ ছিল না। জায়গাটি খেজুর শুকানোর কাজে ব্যবহৃত হতো। নবিজি (সা) জিজ্ঞেস করলেন, “এই জায়গার মালিক কে?” তাঁকে জানানো হলো, এর মালিক সাহাল এবং সুহাইল নামের দুটি এতিম শিশু। তারা তাদের পিতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে এই জমি পেয়েছে। আনসাররা বললেন, “হে নবি (সা), এটা আমাদের পক্ষ থেকে আল্লাহর জন্য উপহার।” নবিজি (সা) বললেন, “না, আমি জমিটি ন্যায্য মূল্য দিয়েই নেব।”

 

মসজিদ আল নববি (মসজিদুন নববি) তৈরি | মদিনা যুগের সূচনা | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

মসজিদ আল নববি (মসজিদুন নববি) তৈরি | মদিনা যুগের সূচনা | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

এরপর তিনি তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে জমিটির দাম নির্ধারণ করলেন এবং জমির মালিককে সেই অর্থ প্রদান করলেন। জমিতে কিছু খেজুর গাছ ছিল; তিনি সেগুলো কেটে ফেলার নির্দেশ দিলেন। তা ছাড়া ওই জমিতে আগে দুটি মৃতদেহ কবর দেওয়া হয়েছিল। নবিজি (সা) জমি খনন করে লাশ দুটি অন্য কোথাও দাফন করতে বললেন। এ থেকে আমরা ফিকহ বিষয়ে দুটি দিকনির্দেশনা পাই।

(১) বৈধ কারণে কবর খননের অনুমোদন রয়েছে; এবং

(২) বৈধ প্রয়োজনে (যেমন, নির্মাণকাজ) হারামের গাছও কাটা যেতে পারে। কাটা গাছগুলো মসজিদের সামনের ও পেছনের দেয়াল নির্মাণে ব্যবহার করা হয়। বাকি দুই পাশের দেয়ালগুলো নির্মিত হয়েছিল ইট দিয়ে; সাহাবিরা মাটি থেকে ইট তৈরি করেছিলেন। এখানে উল্লেখ্য, নবিজি (সা) সশরীরে নির্মাণকাজে অংশ নিয়েছিলেন; নির্মাণকর্মীদের সঙ্গে সারি বেঁধে ইট বহনের কাজ করেছিলেন। সাহাবিরা অনেক অনুরোধ করেও তাঁকে বিরত রাখতে পারেননি।

 

islamiagoln.com google news
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

সহিহ বুখারিতে বর্ণিত আছে, মসজিদের নির্মাণকাজ চলার সময় নবিজি (সা) দোয়া করেছিলেন, “হে আল্লাহ। আখেরাতের কল্যাণ ছাড়া আর কোনো কল্যাণ নেই; সুতরাং আনসার ও মুহাজিরদের ওপর আপনার করুণা বর্ষণ করুন।” সাহাবিরা হাতে হাতে ইট আদান-প্রদানের সময় কবিতার ছন্দে ছন্দে নবিজির (সা) দোয়ার এই কথাগুলো উচ্চারণ করেছিলেন। আল-বায়হাকির দালাইল আন-নুবুওয়াত-এ বর্ণিত আছে, মসজিদটি তৈরি করতে প্রায় দুই সপ্তাহ লেগেছিল।

সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে তা মসজিদটি ছিল বেশ বড় আকারের স্থাপনা। আপনি যদি সত্যিকারের রওজায় যান, তবে আপনি এর আকার সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। আল্লাহ ভালো জানেন। তবে অনুমান করা হয় যে, মসজিদটির দৈর্ঘ্য ছিল ১৩০ ফুট, প্রস্ত ছিল ১০০ ফুট। আমরা আরো জানতে পারি যে, মসজিদটির কমপক্ষে তিনটি প্রধান দরজা ছিল:

১) দক্ষিণ দিকে বাব আল-রহমা (রহমতের দরজা)

২) পশ্চিম দিকে বাব জিব্রাইল (জিব্রাইলের দরজা)

৩) পূর্ব দিকে বাব আল-নিসা (নারীদের দরজা

 

মসজিদ আল নববি (মসজিদুন নববি) তৈরি | মদিনা যুগের সূচনা | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

আজও মসজিদে নববিতে ‘বাব আল-রহমা’, ‘বাব জিব্রাইল’ ও ‘বাব আল- নিসা’ নামের পিলার আছে। মূল দরজার স্থানেই পিলারগুলো অবস্থিত। মসজিদে নির্দিষ্ট একটি দরজা নারীদের জন্য বিশেষভাবে রাখা হয়েছিল। কারণ, উমর (রা) নবিজিকে (সা) বলেছিলেন যে পুরুষ এবং নারীদের একই দরজা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করা উচিত হবে না। তিনটি প্রধান দরজা ছাড়াও কমপক্ষে অর্ধ ডজন ব্যক্তিগত প্রবেশপথ ছিল যা দিয়ে মসজিদের দেয়ালের অপর পাশের বাড়িগুলো থেকে প্রবেশ করা যেত ।

যাদের বাড়ি মসজিদের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল, আবু বকর (রা) ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম। আমরা এটা কীভাবে জানতে পারি? নবিজি (সা) মৃত্যুশয্যায় বলেছিলেন, “আবু বকরের (রা) দরজা বাদে এখন থেকে মসজিদের প্রত্যেকটি প্রাইভেট দরজা বন্ধ করে দেওয়া উচিত।” নবিজির (সা) বাড়িটিও (আয়েশার ঘর) মসজিদের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল, যা কেবল একটি পর্দা দ্বারা পৃথক করা ছিল।

মসজিদের ছালটি ছিল খুব নিচু। প্রথমদিকে নবিজি (সা) কেবল মসজিদের এক অংশ (উত্তর দিকের) ছাদ দিয়ে ঢেকে দিয়েছিলেন, যা সেই সময় ছিল কেবলার (জেরুসালেম) দিক। পরে কেবলা পরিবর্তন করে মক্কার (দক্ষিণমুখী ) দিকে করা হলে ছাপযুক্ত অংশটি মসজিদের পেছনে পড়ে যায়। মসজিদের এই ছায়াবৃত অংশে সাহাবিরা দিনের বেলায় সময় কাটাতেন। কেবলা পরিবর্তন নিয়ে পরবর্তী একটি পর্বে বিশদ বর্ণনা আছে।

পরবর্তীকালে নবিজি (সা) মসজিদের পুরো অংশজুড়ে ছাদ নির্মাণ করেন। তা করা হয়েছিল কেবল রোদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য, শীত কিংবা বৃষ্টি থেকে ব্রক্ষার জন্য নয়। সহিহ বুখারির বর্ণনা থেকে আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে, সম্ভবত অষ্টম হিজরির ২০ রমজান মদিনায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়; মসজিদের পুরো মেঝে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। নবিজি (সা) তবুও সেখানে সম্পূর্ণ নামাজ আদায় করেছিলেন। তিনি যখন সেজদা থেকে ওঠেন, তখন তাঁর কপালে ও নাকে কাদা লেগে ছিল। এ থেকে বোঝা যায়, মসজিদের ছাদটি মজবুত ছিল না এবং তা ফুটো হয়ে গিয়েছিল।

আরও পড়ূনঃ

Leave a Comment