মহানবির সা বিশেষত্বসমূহ | মহানবি মুহাম্মদের (সা) বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ ১ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ জীবন

মহানবির সা বিশেষত্বসমূহ | মহানবি মুহাম্মদের (সা) বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ, নবি করিমের (সা) এমন কিছু বৈশিষ্ট্য বা বিশেষত্ব নিয়ে আলোচনা করব যা আল্লাহ তায়ালা কেবল তাঁকেই দিয়েছিলেন, অন্য কাউকে দেননি। এ বিষয়ে কিছু কিছু পণ্ডিত-গবেষক নবিজির (সা) ৫০টি পর্যন্ত অনন্য কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি এখানে বলব:

 

মহানবির সা বিশেষত্বসমূহ | মহানবি মুহাম্মদের (সা) বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ ১ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ জীবন

 

মহানবির সা বিশেষত্বসমূহ | মহানবি মুহাম্মদের (সা) বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ ১ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ জীবন

১) নিশ্চিতভাবেই তিনি সর্বশেষ নবি। আল্লাহ পবিত্র কোরানে বলেছেন: “মুহাম্মদ তোমাদের কারও পিতা নন, তিনি আল্লাহর রসুল এবং নবিদের মধ্যে সর্বশেষ।” [আল আহজাব, ৩৩:80] 

২) মহানবি মুহাম্মদের (সা) নবুয়তের ব্যপারটি অনেক আগেই নির্ধারিত ছিল, এমনকি আদমকে (আ) সৃষ্টি করারও আগে। একবার একজন সাহাবি নবিজিকে (সা) জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আল্লাহ আপনাকে কখন নবুয়ত দিয়েছিলেন?” জবাবে তিনি বলেছিলেন, “যখন আদম কাদা এবং রুহের মাঝে ছিল।”

৩) তিনিই একমাত্র নবি যাঁকে পাঠানো হয়েছিল সমগ্র মানবজাতির জন্য। এমনকি জিনদের জন্যও। কেউ হয়তো বলতে পারেন, আদম (আ) ও নুহকেও (আ) তো সেই সময়ে সমগ্র মানবতার জন্য প্রেরণ করা হয়েছিল। এর উত্তরে বলা যেতে পারে, আদম (আ) ও নুহ (আ) উভয়ই ছিলেন ব্যতিক্রম। আদম (আ) ছিলেন প্রথম মানুষ, এবং পুরো মানবজাতিই তাঁর সরাসরি বংশধর। আর নুহের (আ) ক্ষেত্রেও প্রায় একই রকম ব্যাপার ঘটেছে, যেহেতু পৃথিবীতে তখন কেবল একটি মাত্র জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায় ছিল ।

৪) নবিজি (সা) যখন যুদ্ধে যেতেন, তখন অনেক ক্ষেত্রেই শত্রুপক্ষ তাঁর কাছে পৌঁছানোর আগেই তাঁকে ভয় পেয়ে সরে যেত। তাঁর কথায়, “আমি আমার শত্রুদের কাছে পৌঁছানোর আগেই আল্লাহ তাদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেন।”

৫) আমাদের নবিজিকে (সা) সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মাহ দান করা হয়েছে। এক হাদিস অনুসারে, যতদূর দৃষ্টি যায় তত বড় এক উম্মাহ দেখে নবি মুহাম্মদ (সা) বলেছিলেন, “সম্ভবত এটি আমার উম্মাহ।” তখন তাঁকে বলা হলো, “না, এটি মুসার।” এবং তারপরে আরও বৃহত্তর একটি উম্মাহ দেখে তাঁর দৃষ্টি আটকে গেলে তখন তাঁকে বলা হলো, “এটি আপনার উম্মাহ।”

অন্য হাদিস অনুসারে, একদিন নবিজি (সা) সাহাবিদের বললেন, “তোমরা কি চাও যে জান্নাতের লোকদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই তোমাদের সম্প্রদায় থেকে হোক?” তারা জবাব দিল, “আল্লাহু আকবার!” তিনি তখন বললেন, “যদি আমি বলি যে জান্নাতের লোকদের অর্ধেকই তোমাদের মধ্য থেকে হবে, তার তোমরা কি খুশি হবে?” তারা জবাব দিল, “আল্লাহু আকবার!” তিনি এবার বললেন, “আল্লাহর কসম, আমার আশা যে আমাদের উম্মাহ জান্নাতবাসীদের দুই তৃতীয়াংশ হবে!” সুবহানআল্লাহ!

 

islamiagoln.com google news
আমাদের কে গুগুল নিউজে ফলো করুন

 

৬) মহানবি মুহাম্মদকে (সা) দেওয়া হয়েছে সবচেয়ে বড় বিস্ময়, আর তা হলো আল কোরান। পৃথিবীতে এমন বিস্ময়কর কিছু আর নেই যার সঙ্গে কোরানের তুলনা করা যায়। আমরা বিশ্বাস করি, মুসা (আ) লোহিত সাগরকে বিভাজিত করেছিলেন এবং ইসা (আ) মৃতদের পুনরুজ্জিবিত করতেন। কিন্তু আমরা ওই অলৌকিক ঘটনাগুলো নিজেরা কখনও দেখিনি, তাই অনুভব করতে পারি না। অন্যদিকে কোরান এমন একটি অলৌকিক বিষয় যা আমরা অনুভব করতে পারি, পাঠ করতে পারি, এমনকি দিব্য দৃষ্টিতে দেখতেও পারি। তাই কোরান একটি জীবন্ত বিস্ময়।

৭) ‘আল ইসরা ওয়াল মিরাজ’ নবি করিমের (সা) জন্য আরও একটা বিশেষ ব্যাপার। জীবিত থাকাকালে অন্য কোনো নবির এ জাতীয় অভিজ্ঞতা হয়নি। যখন আল্লাহ মুসা (আ) সঙ্গে কথা বলেছিলেন, মুসা (আ) তখন পৃথিবীতে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু আমাদের নবিজি (সা) ছিলেন একমাত্র মানব, যিনি আল্লাহর সান্নিধ্যে যাওয়ার জন্য এই পৃথিবী ছেড়ে এমন এক যাত্রা করেছিলেন, অন্য কথায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এটি আর কারও ক্ষেত্রে ঘটেনি। মিরাজের যাত্রাপথে নবিজি (সা) এমন এক স্তর বা স্থান পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন যার পরে এমনকি ফেরেশতা জিব্রাইলেরও (আ) যাওয়ার অনুমতি ছিল না। জিব্রাইল (আ) বলেছিলেন, “আমার অনুমতি এখানেই শেষ, আমি আর যেতে পারব না, আপনাকে এর পরের স্তরে একাই যেতে হবে।”

৮) নবিজি (সা) ছিলেন সমস্ত মানবজাতির নেতা। তিনি নিজেই বলেছেন, “আমি আদম সন্তানদের মধ্যে ‘সাইয়েদ’। এখানে সাইয়েদ মানে হলো যিনি দায়িত্বে আছেন, অর্থাৎ নেতা ।

৯) হাশরের ময়দানে তিনিই সর্বপ্রথম পুনরুত্থিত হবেন। নবিজির (সা) আরেক নাম ‘আল-হাশির’ থেকেও এটি বোঝা যায়।

১০) নবি করিমকে (সা) ‘কাওসার’ দান করা হবে। কাওসার জান্নাতের প্রধান একটি নদী; জান্নাতের সব নদীরই উৎপত্তি সেখান থেকে । সবাই নবিজিকে (সা) দেওয়া উপহার থেকে পানি পান করবে জান্নাতবাসী ।

 

মহানবির সা বিশেষত্বসমূহ | মহানবি মুহাম্মদের (সা) বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ ১ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ জীবন

 

১১) তিনিই সর্বপ্রথম ‘সিরাত’ পার হবেন, তাঁর উম্মতদের জান্নাতের দিকে পথপ্রদর্শন করবেন, এবং সর্বপ্রথম জান্নাতের দরজা পর্যন্ত পৌঁছুবেন। তাঁর জন্যই জান্নাতের দ্বার প্রথম উন্মুক্ত করা হবে। জান্নাতের প্রহরী তাঁকে জিজ্ঞেস করবে, ‘আপনি কে? নবিজি (সা) পরিচয় দিতেই সে বলবে, ‘আপনাকে দরজা খুলে দিতে আমাকে আদেশ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং জান্নাতে প্রথম পা পড়বে মহানবি মুহাম্মদের (সা)। তারপর তাঁর উম্মতেরা তাঁকে অনুসরণ করবে।

১২) আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে স্থান দিয়ে মহিমান্বিত করবেন। কোনো কোনো পণ্ডিতের মতে, জান্নাত অনেকটা পিরামিডের মতো—যত ওপরে মানুষ তত কম । এভাবে ওপরে যেতে যেতে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে এমন এক স্থান আছে যা শুধু বিশেষ একজন মানুষের জন্যই নির্ধারিত। স্থানটি ‘আল-ফিরদাউস আল-আলা’-এর সর্বোচ্চ চূড়ায় এবং আল্লাহ তায়ালার আরশের ঠিক নিচে অবস্থিত; নাম ‘আল-ফাদিলা’। নবিজি (সা) বলেছেন, “ফাদিলা হচ্ছে জান্নাতের এমন একটি স্তর যা আল্লাহ তাঁর এক বিশেষ বান্দার জন্যই নির্ধারিত করে রেখেছেন।” এরপর তিনি বিনয়ের সঙ্গে বলেছেন, ‘আমি আশা করছি যে, আমিই সেই ব্যক্তি।’

নবিজি (সা) তাঁর উম্মতদের (অর্থাৎ আমাদের) প্রার্থনা করতে বলেছেন যে, আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁকে এই ‘ওয়াসিলা ও ফাদিলা’ দান করেন। এবং সে কারণেই আমরা প্রতিবার আজানের পর আল্লা রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা করে বলি: “হজরত মুহাম্মদকে (সা) ওয়াসিলা’ তথা জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তর এবং ‘ফাদিলা’ তথা সকল সৃষ্টির ওপর অতিরিক্ত মর্যাদা দান করুন। আর তাঁকে মাকামে মাহমুদে (সর্বোচ্চ প্রশংসিত স্থানে) আধিষ্ঠিত করুন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাকে দিয়েছেন।” এমনকি যারা এই দুনিয়ায় তাঁকে বিদ্রূপ করেছে, উপহাস করেছে, তারাও শেষ বিচারের দিনে তাঁর প্রশংসা করবে। এবং আখেরাতে তাঁকে দেওয়া হবে আল-ওয়াসিলা আল-ফাদিলা।

আরো পড়ুনঃ

 

Leave a Comment