মহিলা নবি কি থাকতে পারে ? | দ্বিতীয়বারের ওহি | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

মহিলা নবি কি থাকতে পারে ? | দ্বিতীয়বারের ওহি,  মহিলা নবি কি থাকতে পারে? অর্থাৎ মহিলাদের মধ্যে কি কেউ নবি ছিলেন? নিঃসন্দেহে এ নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ও কৌতূহল থাকতে পারে। মহিলাদের মধ্যে নবি ছিলেন বলে যাঁরা বিশ্বাস করেন তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় উদাহরণ মরিয়ম (আ) এবং মুসার (আ) মা।

 

মহিলা নবি কি থাকতে পারে ? | দ্বিতীয়বারের ওহি | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

মহিলা নবি কি থাকতে পারে ? | দ্বিতীয়বারের ওহি | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

এই মত পোষণকারী স্কলারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন আবুল হাসান আল-আশআরি আল-কুরতুবি ও ইবনে হাজম আল-আন্দালুসি এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হলে শুরুতেই দেখতে হয় মরিয়ম (আ) এবং মুসার (আ) মা সম্পর্কে কোরানে কী বর্ণনা আছে। এ বিষয়ে কোনো ভিন্নমত নেই যে, ফেরেশতা জিব্রাইল (আ) ইসার মা মরিয়মের (আ) কাছে দেখা দিয়েছিলেন।

কিন্তু এ কারণেই কি বলা যাবে যে তিনি (মরিয়ম) নবুয়তপ্রাপ্ত হয়েছেন? উত্তর হলো না। কিছু সাহাবিরাও তো জিব্রাইলকে (আ) দেখেছিলেন, কিন্তু সে জন্য তাঁদেরকে নবি বলা যাবে না। এই মতের পক্ষের স্কলাররা এমন যুক্তি দিয়েছেন যে, আল্লাহ পবিত্র কোরানে ‘ওহি’ শব্দটি মুসার (আ) মায়ের জন্য ব্যবহার করেছেন। কিন্তু এ কারণে কি মুসার (আ) মাকে নবি বলা যাবে? উত্তর হলো: না।

 

islamiagoln.com google news
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

আমরা ইতিমধ্যে উল্লেখ করেছি, ইলহাম শুধু নবিদের জন্য প্রযোজ্য নয়। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “মরিয়মের পুত্র মসিহ তো কেবল একজন রসুল, তাঁর পূর্বে (তাঁর মতো) কত রসুল গত হয়েছে; আর তাঁর মা ছিলেন সিদ্দিকা (সত্যনিষ্ঠ)।” লক্ষ করুন, আল্লাহ বলছেন, ইসা (আ) একজন রসুল এবং তাঁর মা মরিয়ম একজন সিদ্দিকা। এখানে আল্লাহ স্পষ্টভাবেই পার্থক্যটি উল্লেখ করছেন।

আমরা কোরানের অন্য একটি আয়াত [সুরা নিসা, ৪:৬৯] থেকে জানি যে, আল্লাহর অনুগ্রহপ্রাপ্ত মানুষদের স্তরগুলো হলো: ১। নাবিয়িন (নবিগণ), ২। সিদ্দিকিন (সত্যবাদীগণ), ৩। শুহাদা (শহিদগণ) এবং ৪। সালেহিন (সৎকর্মপরায়ণ ব্যক্তিগণ)। ইসা (আ) ছিলেন প্রথম স্তরের; তাঁর মা ছিলেন দ্বিতীয় স্তরের।

 

মহিলা নবি কি থাকতে পারে ? | দ্বিতীয়বারের ওহি | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

আল্লাহ তায়ালা কোরানে মরিয়ম (আ) সম্পর্কে বলছেন, “যখন ফেরেশতারা বলেছিল, ‘ও মরিয়ম! আল্লাহ তো তোমাকে মনোনীত ও পবিত্র করেছেন আর বিশ্বে নারীদের মধ্যে তোমাকে নির্বাচিত (শ্রেষ্ঠ মর্যাদায় অভিষিক্ত) করেছেন’।” [সুরা আল-ই-ইমরান, ৩:৪২] এখান থেকে প্রতীয়মান হয় যে, যদি বিশ্বের সেরা মহিলাই একজন সিদ্দিকা হন, তবে অবশ্যই কোনো মহিলা নবি থাকতে পারেন না। কোরানের অন্য এক আয়াতে আছে, আগে বিভিন্ন জনপদে আমি যতজনকে রসুল করে পাঠিয়েছি, তাঁরা (তোমারই মতো) পুরুষই ছিল। আমি তাদের কাছে ওহি প্রেরণ করতাম।” [সুরা ইউসুফ, ১২:১৯] উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নবুয়তের জন্য দুটি শর্ত উল্লেখ করেছেন: (১) পুরুষ এবং (২) জনপদবাসীদের মধ্য থেকে একজন। অতএব সমস্ত সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মত হলো, আল্লাহর নবি শুধু পুরুষই ছিলেন।

আরো পড়ূনঃ

Leave a Comment