আবদুল মুত্তালিবের অভিভাবকত্ব | মহানবি মুহাম্মদের (সা) শৈশব | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

আবদুল মুত্তালিবের অভিভাবকত্ব | মহানবি মুহাম্মদের (সা) শৈশব. নবিজির (সা) মা গর্ভবতী থাকা অবস্থায় তাঁর পিতা আবদুল্লাহ মারা যান। আর ছয় বছর বয়সে তিনি মা আমিনাকে হারান। মায়ের মৃত্যুর পর বালক মুহাম্মদের (সা) অভিভাবকত্ব নেন তাঁর পিতামহ কুরাইশ সরদার আবদুল মুত্তালিব; তখন তিনি ৮০ বছরের বৃদ্ধ এবং প্রায় অন্ধ। ইবনে ইসহাক ও ইবনে সাদের কাছ থেকে।

 

আবদুল মুত্তালিবের অভিভাবকত্ব | মহানবি মুহাম্মদের (সা) শৈশব | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

আবদুল মুত্তালিবের অভিভাবকত্ব | মহানবি মুহাম্মদের (সা) শৈশব | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

পাওয়া ছোট ছোট কয়েকটি ঘটনা ছাড়া আমরা মুহাম্মদের (সা) সঙ্গে আবদুল মুত্তালিবের সম্পর্কের বিষয়ে আর তেমন কিছু জানতে পারিনি। ইবনে ইসহাক একজন তাবোধনের বরাত দিয়ে বর্ণনা করেছেন, “কাবা ঘরের ছায়ার আবদুল মুত্তালিবের জন্য বিশেষ একটি আসন বিছানো থাকত। আবদুল মুত্তালিব সে আসনে বসতেন, তাঁর সন্তানেরা বসতেন তাঁর পাশের জায়গায়। পিতার সম্মানার্থে তাঁর কোনো সন্তান ওই বিশেষ আসনে বসতেন না। একবার শিশু মুহাম্মদ (সা) দৌড়ে গিয়ে আবদুল মুত্তালিবের পাশে বসে পড়েছিলেন। তখন তাঁর চাচারা তাঁকে সেখান থেকে নামিয়ে আনতে উদ্যত হলে আবদুল মুত্তালিব তাঁদের থামিয়ে দিয়ে বলেন, “ওকে তোমরা এ আসন থেকে নামানোর চেষ্টা করো না, ওকে ছেড়ে দাও।

 

islamiagoln.com google news
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

ইবনে সাদ উল্লেখ করেছেন, একবার মুহাম্মদের (সা) চাচারা তাঁকে কয়েকটি হারানো উট খুঁজে বের করার কাজে লাগিয়েছিলেন। চাচারা জানতেন যে তাদের সাত-আট বছর বয়সী ভাতিজা যে কাজেই হাত দেয় তাতেই সফল হয়, কোনো কিছুতে ব্যর্থ হয় না। তাই তাঁরা উটগুলো খুঁজে বের করার জন্য বালক মুহাম্মদের (সা) সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আবদুল মুত্তালিব এই ঘটনার কথা জানতে পেরে চাচাদের ওপর ভীষণ রেগে গিয়েছিলেন। মুহাম্মদ (সা) ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি তাঁকে জড়িয়ে ধরে বলেন, “এখন থেকে আমি তোমাকে কখনই আমার দৃষ্টির বাইরে রাখব না।” এ থেকে বোঝা যায়, তিনি নাতিকে বিশেষভাবে ভালোবাসতেন ও তাঁর বিশেষ যত্ন করতেন।

 

আবদুল মুত্তালিবের অভিভাবকত্ব | মহানবি মুহাম্মদের (সা) শৈশব | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

দাদা আবদুল মুত্তালিব ইন্তেকাল করলে মুহাম্মদ (সা) আট বছর বয়সে তৃতীয়বারের মতো এতিম হয়ে পড়েন। ইবনে সাদের একটি বর্ণনা অনুসারে, এক সাহাবি জিজ্ঞেস করেছিলেন, “হে আল্লাহর রসুল! আপনার কি আবদুল মুত্তালিবের কথা মনে আছে?” আবদুল মুত্তালিব সেই সময়ে আরবদের মধ্যে কিংবদন্তিতুল্য ব্যক্তি ছিলেন বলে সাহাবিদের এ বিষয়ে কৌতূহল ছিল। তাঁদের ওই প্রশ্নের উত্তরে নবিজি (সা) বলেছিলেন, “হ্যাঁ, তাঁর কথা আমার মনে আছে। তিনি মারা যাওয়ার সময় আমার বয়স ছিল আট বছর।” তবে এই হাদিসটি কিছুটা দুর্বল। আবদুল মুত্তালিব মৃত্যুশয্যায় নাতি মুহাম্মদের (সা) রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন নিজের পুত্র আবু তালিবের ওপর। কারণ আবু তালিব ছিলেন। মুহাম্মদের (সা) পিতা আবদুল্লাহর আপন ভাই। আবু তালিব দীর্ঘদিন বেঁচে ছিলেন, নবিজির (সা) বয়স যখন ৫০ বছর, তখন তিনি মারা যান ।

আরো পড়ুনঃ

 

Leave a Comment