মুসলমানদের সাথে সম্পর্কিত বিষয় | চুক্তি ও মদিনার সংবিধান | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

মুসলমানদের সাথে সম্পর্কিত বিষয় | চুক্তি ও মদিনার সংবিধান, (ক) সংবিধানে এভাবে আছে, “কুরাইশ ও ইয়াসরিব থেকে আসা মুসলিমরা…।” লক্ষ করুন, এখানে ‘ইয়াসরিব’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা থেকে এর সত্যতার পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়, কারণ নবিজি (সা) মদিনা আগমনের ঠিক পরের কিছু সময় পর্যন্ত শহরটি ইয়াসরিব নামেই পরিচিত ছিল।

ইয়াসকিব নামে সম্বোধন করার মাধ্যমে ধারণা করা যায় যে, তিনি যাদের সঙ্গে কথা বলছেন তারা তখনও মদিনা নামের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেনি এবং ‘মুহাজির’ ও ‘আনসার শব্দ দুটির ব্যবহারও শুরু হয়নি। সংবিধান অনুসারে, “মক্কা ও ইয়াসরিব থেকে আসা মুসলিমরা এবং যারা তাদের সাথে যোগ দেয় তারা এক উম্মাহ। এই উম্মাহ নিজেই স্বতন্ত্র (অর্থাৎ এই উম্মাহ অবশিষ্ট মানবজাতি থেকে স্বতন্ত্র একটি জনগোষ্ঠী)।

 

মুসলমানদের সাথে সম্পর্কিত বিষয় | চুক্তি ও মদিনার সংবিধান | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

মুসলমানদের সাথে সম্পর্কিত বিষয় | চুক্তি ও মদিনার সংবিধান | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

(খ) সংবিধানে নাম ধরে ধরে ৪০টি গোত্রের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, “ইসলাম গ্রহণের আগে প্রত্যেক গোত্র যেভাবে ছিল সেভাবেই তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবে। ব্লাড মনি (রক্ত মূল্য) সংক্রান্ত বিরোধ, যুদ্ধবন্দি, দরিদ্রদের দেখভাল করার ব্যবস্থা ইত্যাদির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট গোত্রগুলো নেবে। তাই প্রাথমিক অবস্থায় কল্যাণ ব্যবস্থা স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে। কারও সাহায্যের প্রয়োজন হলে তার গোত্রকেই তা মেটাতে হবে।

 

islamiagoln.com google news
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

(গ) যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব মুসলিম ঐক্যবদ্ধ হবে, এমনকি অন্যায়কারী তাদের নিজ গোত্রের কেউ হলেও। এর অর্থ, “কেউ যদি ‘ফুলম (অন্যায়) করে, তবে সে একজন মুসলিমও হলেও আমরা সেই জালিমের (অন্যায়কারীর) বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হব।” এটি অনেকটা হিলফুল ফুজুলের সন্ধির মতো: “আমরা সকলেই আমাদের নিজেদের মধ্যে থাকা জালিমদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হব।’

 

মুসলমানদের সাথে সম্পর্কিত বিষয় | চুক্তি ও মদিনার সংবিধান | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

(ঘ) সবশেষ ধারাটি ছিল, “যে কোনো মুসলিম একই ধরনের সুরক্ষা দিতে পারবে, এমনকি তাদের মধ্যে নিম্নতম সামাজিক মর্যাদার ব্যক্তিও কাউকে সুরক্ষা দিতে পারবে।” অর্থাৎ যত নিম্নতম মর্যাদারই (যেমন: ক্রীতদাস, শিশু ইত্যাদি) হোক না কেন, প্রত্যেক তার পরিচিত যে কেউকে মদিনায় প্রবেশ করার ‘ভিসা’ দিতে পারবে। কেউ ‘ভিসা’ নিয়ে মদিনায় এলে অন্য কেউ তার ক্ষতি করতে পারবে না।

আরও পড়ূনঃ

Leave a Comment