মুহাম্মদের সা অনাথ হওয়ার পেছনে আল্লাহর প্রজ্ঞা | মহানবি মুহাম্মদের (সা) শৈশব | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

মুহাম্মদের সা অনাথ হওয়ার পেছনে আল্লাহর প্রজ্ঞা | মহানবি মুহাম্মদের (সা) শৈশব, মহানবি (সা) পর পর তিনবার এতিম হয়েছিলেন। আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তাহলে তো তিনি মা-বাবার আদর ও বিলাসিতার মধ্যে জন্ম নিতে ও বেড়ে উঠতে পারতেন। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা কেন এত ছোট বাচ্চাটিকে এত বেশি পরীক্ষার ফেলেছিলেন? নবিজির (সা) বারবার অনাথ হওয়ার পেছনে আল্লাহর কী প্রজ্ঞা থাকতে পারে সে বিষয়ে স্কলাররা বেশ কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেছেন। যেমন:

 

মুহাম্মদের সা অনাথ হওয়ার পেছনে আল্লাহর প্রজ্ঞা | মহানবি মুহাম্মদের (সা) শৈশব | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

মুহাম্মদের সা অনাথ হওয়ার পেছনে আল্লাহর প্রজ্ঞা | মহানবি মুহাম্মদের (সা) শৈশব | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

১) মুসা (আ) সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: “এবং আমি তোমাকে আমার নিজের (কাজের) জন্য প্রস্তুত করেছি।” [সুরা তাহা, ২০:৪১ ) “আর আমি তোমার প্রতি ভালোবাসা বর্ষণ করেছিলাম যাতে তুমি আমার দৃষ্টির মধ্যে প্রতিপালিত হতে পারো।” [সুরা তাহা, ২০:৩৯] এটি আমাদের নবি মুহাম্মদের (সা) জন্যও প্রযোজ্য। নবিজির (সা) দেখভালও সরাসরি আল্লাহ-তায়ালাই করেছেন।

২) একজন এতিমের জীবন নিঃসন্দেহে অনেক কঠিন। আবার এই কঠিন জীবনই আমাদের নবিজিকে (সা) অনেক সদগুণ অর্জনের উপায় বাতলে দিয়েছে। আল্লাহর পথে মানুষকে ডাকার এক বিশেষ মিশনে তাঁকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল। আমোদ-আহ্লাদে ভরপুর জীবনে তিনি সেই উদ্দেশ্য পূরণের জন্য প্রস্তুত হতে পারতেন না। বরং পিতামাতার ভালোবাসাহীন এক এক কঠোর পরিবেশে বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে তিনি শক্ত, স্বাধীন, পরিপক্ক ও প্রজ্ঞাময় ব্যক্তি হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছিলেন।

 

islamiagoln.com google news
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

এই বিষয়টি আমরা আমাদের আশেপাশেও লক্ষ করি। আমরা জানি যে, বিলাসবহুল পরিবেশে জন্ম নেওয়া শিশুদের তুলনায় কঠিন পরিস্থিতিতে জন্ম নেওয়া একটি শিশু অনেক বেশি পরিপক্ক হয়। এটাই বাস্তবতা। এই ধারণার সপক্ষে উন্নত দেশগুলোতে জন্ম নেওয়া শিশুদের সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জন্ম নেওয়া শিশুদের তুলনা করা যায়। বলা যায়, ওই কঠিন বাস্তবতাই মহানবিকে (সা) তাঁর মিশন বাস্তবায়ন করার জন্য উপযোগী করে গড়ে তুলেছে।

 

সূরা মুমিনূনমুহাম্মদের সা অনাথ হওয়ার পেছনে আল্লাহর প্রজ্ঞা | মহানবি মুহাম্মদের (সা) শৈশব | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

৩) দারিদ্র্য, আশেপাশের মানুষের নির্মম আচরণ, কষ্টকর জীবনযাপন ইত্যাদি একজন ব্যক্তিকে অনেক বেশি সংবেদনশীল, সহানুভূতিশীল ও করুণাময় করে গড়ে তোলে। পবিত্র কোরানেও এতিমের যত্ন নেওয়া এবং এতিমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে উল্লেখ আছে। নিজে কষ্টকর জীবন অতিবাহিত করার মাধ্যমে বিি (সা) মনে এতিম ও দুর্বলদের জন্য স্নেহময়তার সৃষ্টি হয়েছিল, নবি হওয়ার জন্য যা ছিল একটি আবশ্যকীয় ব্যাপার।

৪) ছোটবেলায় বনু সাদ গোত্রে থাকার মাধ্যমে নবি করিম (সা) কথাবার্তায় একজন সুস্পষ্ট ও পরিশীলিত ব্যক্তি হিসেবে গড়ে গড়ে উঠেছিলেন। জানা যায়, তিনি আরবি ভাষায় খুব সুন্দর করে কথা বলতে পারতেন। এক হাদিসে আছে, নবিজি (সা) বলেছেন, “আল্লাহ তায়ালা আমাকে সংক্ষেপে ও নির্ভুলভাবে কথা বলার ক্ষমতা দিয়েছেন।

আরো পড়ূনঃ

 

Leave a Comment