সরাসরি নির্যাতন | কুরাইশদের বিরোধিতা-২ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

সরাসরি নির্যাতন | কুরাইশদের বিরোধিতা-২, তৎকালীন আরব সমাজে কোনো ব্যক্তির জন্য তার বংশ বা গোত্রই ছিল একমাত্র নিরাপত্তা-সুরক্ষা। নবিজি কুরাইশ ছিলেন, তাঁর সুরক্ষা ছিল কুরাইশ বংশ। তবে মুসলিমদের মধ্যে যারা ‘মাওলা’ ও ক্রীতদাস ছিল, তাদের সুরক্ষা ছিল না। [উল্লেখ্য, মাওলারা ছিল মুক্ত, কিন্তু তারা ছিল তাদের মনিবদের কাছে আনুগত্যের ঋণে ঋণী, অনেকটা চুক্তিভিত্তিক চাকরের মতো ।]

 

সরাসরি নির্যাতন | কুরাইশদের বিরোধিতা-২ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

সরাসরি নির্যাতন | কুরাইশদের বিরোধিতা-২ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

সাদ ইবনে জুবায়ের একবার ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “ইসলামের প্রথম দিনগুলোতে সাহাবিদের ওপর কতটা অত্যাচার হতো? আসলেই কি তা এতটা খারাপ ছিল?” ইবনে আব্বাস বলেছিলেন, “তখন নতুন মুসলিমদের ওপর ভীষণ অত্যাচার করা হতো। তাঁদেরকে এমনকি খাবার ও পানি থেকেও বঞ্চিত করা হতো। অবস্থা এমন হতো যে, তাঁরা ব্যথার কারণে বসতেও পারতেন না। পৌত্তলিকরা তাদেরকে অত্যাচার করতে করতে জিজ্ঞেস করত, ‘আল-লাত এবং আল-উজ্জা কি তোমাদের ঈশ্বর?’ ওই অবস্থায় অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে তারা বলতে বাধ্য হতো, “হ্যাঁ, আল-লাত এবং আল-উজ্জা আমাদের ঈশ্বর।’ অত্যাচারের মাত্রা এমন চরমে পৌঁছেছিল যে, কোনো পোকা দেখেও যদি তাঁদেরকে ঈশ্বর বলতে বলা হতো, তাহলেও তাঁরা তাই-ই বলতেন।”

 

islamiagoln.com google news
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

আবু জেহেল ছিল এই নিপীড়ন-নির্যাতনের মূল হোতা। এ কারণেই নবিজি (সা) তাকে ‘এই উম্মতের ফেরাউন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। নিপীড়নের জন্য আবু জেহেল ও তার অনুসারীরা কয়েকটি কৌশল অবলম্বন করত:

(১) অভিজাত কুরাইশদের মধ্য থেকে কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে তাঁকে তারা মৌখিকভাবে অপদস্থ করা শুরু করত।

(২) কুরাইশের সঙ্গে ব্যবসা করছে এমন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলে তারা তাকে বয়কট করত।

 (৩) কোনো ক্রীতদাস কিংবা মাওলা ধর্মান্তরিত হলে তারা তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করত, এমনকি তাদের হত্যা করারও চেষ্টা চালাত।

 

সরাসরি নির্যাতন | কুরাইশদের বিরোধিতা-২ | মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) জীবন

 

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা নবিজিকে (সা) তাঁর চাচা আবু তালিবের মাধ্যমে সুরক্ষা দিয়েছিলেন। আবু বকরকে তাঁর বনু কাহাফা গোত্রের মাধ্যমে রক্ষা করেছিলেন। কুরাইশরা বাকি সবাইকে জড়ো করে তাঁদের ওপর বিভিন্নভাবে অত্যাচার শুরু করে (যেমন: গায়ের ওপর ভারি লোহার ওজন দিয়ে চাপ দেওয়া, তপ্ত বালুতে শুইয়ে রাখা ইত্যাদি)। অত্যাচারের একপর্যায়ে বেলাল ছাড়া বাকি সবাই কুরাইশরা যা বলতে বলত তাই-ই বলে কষ্ট থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পেতে চাইত।

আরো পড়ুনঃ

Leave a Comment