প্রকৃত খ্রিষ্টানদের অবশিষ্টাংশ: সালমান আল-ফারিসির কাহিনি | ইসলাম-পূর্ব বিশ্বে ধর্মীয় পরিস্থিতি | মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ জীবন

প্রকৃত খ্রিষ্টানদের অবশিষ্টাংশ: সালমান আল-ফারিসির কাহিনি | ইসলাম-পূর্ব বিশ্বে ধর্মীয় পরিস্থিতি, সালমান আল-ফারিসি ছিলেন পারস্যের একজন জোরোস্ট্রীয় ধর্মযাজকের ছেলে। জোরোস্ট্রীয়রা ছিল অগ্নি-উপাসক। মন্দিরে সার্বক্ষণিক আগুন জ্বালিয়ে রাখা ছিল। তাদের ধর্মীয় রীতির একটা অংশ। তারা বিশ্বাস করত যে আগুন চিরন্তন। তাই নতুন কোনো মন্দির নির্মাণ করলে তারা অন্য মন্দিরে যেখানে আগুন আগে থেকেই জ্বলছে সেখান থেকে তা নিয়ে এসে জ্বালাত। এটিই ছিল তাদের ধর্মীয় রীতি। ধর্মযাজক হিসেবে সালমানের পিতা মন্দিরে আগুন জ্বালিয়ে রাখার দায়িত্বে ছিলেন। পিতার কাছ থেকেই সালমান শিখেছিলেন কীভাবে আগুন সার্বক্ষণিকভাবে জ্বালিয়ে রাখতে হয়।

 

প্রকৃত খ্রিষ্টানদের অবশিষ্টাংশ: সালমান আল-ফারিসির কাহিনি | ইসলাম-পূর্ব বিশ্বে ধর্মীয় পরিস্থিতি | মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ জীবন

 

প্রকৃত খ্রিষ্টানদের অবশিষ্টাংশ: সালমান আল-ফারিসির কাহিনি | ইসলাম-পূর্ব বিশ্বে ধর্মীয় পরিস্থিতি | মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ জীবন

সালমান আল-ফারিসি নিজের মুখেই কাহিনিটি বলেন। তাঁর ভাষায়: “ইস্ফাহানের জাই নামক এক স্থানে আমার জন্ম। আমি ছিলাম আমার বাবার সবচেয়ে প্রিয় পুত্র। আমার বাবা তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্যে একজন অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। আমরা আগুনের উপাসনা করতাম। বলতে গেলে আমি অগ্নি-উপাসনায় নিজেকে নিবেদিত করেছিলাম। আমি যে আগুন জ্বালিয়েছিলাম, তা কখনও নিভতে দিতাম না।

“আমার বাবার একটা ভূসম্পত্তি ছিল। একদিন তিনি আমাকে সেখানে কাজে পাঠালেন। পথিমধ্যে আমি একটা গির্জার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে কতিপয় খ্রিষ্টানকে প্রার্থনা করতে শুনলাম। কৌতূহলবশত আমি ভেতরে গিয়ে দেখলাম তারা কী করছে। তাদের প্রার্থনা দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ হলাম। আমি ভাবলাম, ‘এটি আমাদের ধর্মের চেয়ে উত্তম।’ আমি সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানেই রয়ে গেলাম। বাবা আমাকে যে কাজে পাঠিয়েছিলেন সেটির কথাও ভুলে গিয়েছিলাম। পরে বাবা লোক পাঠিয়ে আমাকে খুঁজে বের করেন। আমি খ্রিষ্টানদের ধর্ম এবং প্রার্থনা সম্পর্কে তাদের জিজ্ঞেস করলাম। তাদের ধর্মের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তারা উত্তর দিয়েছিল, ‘সিরিয়ায়’।

“বাবার কাছে ফিরে গিয়ে বললাম, ‘আমি গির্জার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ভেতরে লোকদের প্রার্থনা দেখে খুবই মুগ্ধ হয়েছি। আমি বুঝতে যে তাদের ধর্ম আমাদের ধর্মের চেয়ে উত্তম।’ তারপর বাবার সঙ্গে আমার এ বিষয়টি নিয়ে কিছুক্ষণ কথাবার্তা হওয়ার পর তিনি আমাকে পায়ে শেকল পরিয়ে আটকে রাখেন। তখন আমি ওই খ্রিষ্টানদের কাছে গোপনে এই বার্তা পাঠালাম যে, আমি তাদের ধর্ম গ্রহণ করেছি। আমি তাদের অনুরোধ করি, যখনই সিরিয়া থেকে কোনো কাফেলা আসবে তখন তারা যেন কাফেলাটি ফিরে যাওয়ার আগে আমাকে খবর দেয়। পরবর্তী কাফেলা আসার পর তারা আমাকে খবর দিলে আমি লোহার বেড়িটা কিছুটা আলগা করে নিজেকে মুক্ত করি, এবং কাফেলাটির সঙ্গে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করি।

“সিরিয়ায় পৌঁছে আমি সেখানকার লোকদের জিজ্ঞেস করলাম, “তোমাদের ধর্মের মধ্যে সবচেয়ে বড় বুজুর্গ ব্যক্তিটি কে?’ তারা জবাব দিল, “গির্জার বিশপ।’ তখন আমি বিশপের কাছে গিয়ে আমার কাহিনি খুলে বললাম। পরবর্তী সময়ে আমি তার সঙ্গে থেকেছি, প্রার্থনা করেছি, তার কাছ থেকে শিখেছি এবং তার সেবা করেছি। কিন্তু এই বিশপ লোকটি অতটা ভালো ছিল না। সে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিত গরিবদের মধ্যে বিতরণ করবে বলে; কিন্তু সেটা না করে টাকাগুলো।

নিজে রেখে দিত। সে মারা যাবার পর সবাইকে এই বিষয়টি প্রকাশ করে দিলাম। লোকেরা আমাকে জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কীভাবে তা জানলে? সে তার ধনসম্পত্তি কোথায় রেখেছে তা আমাদের দেখাও। যখন আমি তাদেরকে সোনা-রুপায় ভরা সাতটি সিন্দুক দেখিয়ে দিলাম তখন তারা বলল, ‘আল্লাহর কসম, আমরা কখনই তাকে দাফন করব না।’ তারপর তারা নতুন একজনকে তার জায়গায় বিশপ হিসেবে নিয়োগ দিল।

 

islamiagoln.com google news
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

“আমি ওই নতুন বিশপের চেয়ে ভালো মানুষ আর দেখিনি। তিনি এই দুনিয়া থেকে আখেরাতকে বড় করে দেখতেন এবং দিনরাত ইবাদত-বন্দেগি করে কাটাতেন। আমি তাঁকে এতটাই ভালোবেসেছিলাম যা আমি আগে আর কখনও কাউকে বাসিনি। আমি কিছুদিন তাঁর সঙ্গে কাটালাম। যখন তিনি মৃত্যুশয্যায়, তখন আমি তাঁকে বললাম, ‘আমি আপনার সঙ্গে এতদিন ছিলাম। আমি আপনাকে এমনভাবে ভালোবেসেছি যা আগে কখনও কাউকে বাসিনি। এখন আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি যদি চলে যান, তবে আপনি আমাকে কার কাছে রেখে যাবেন? আমাকে কোথায় যাওয়ার জন্য সুপারিশ করবেন?’ তিনি বললেন, “হে আমার পুত্র! আমি যে পথে চলেছি এবং যে ধরনের জীবনযাপন করেছি। সেরকম মাত্র একজন মানুষের কথাই জানি, যিনি মসুলে বসবাস করেন।

“বিশপ মারা গেলে আমি মসুলের সেই ব্যক্তির কাছে গিয়ে আমার কাহিনি। খুলে বললাম, এবং তাঁর সঙ্গে থাকতে থাকলাম। একসময় মৃত্যু তাঁর নিকটবর্তী হলে আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনি আমাকে কার কাছে যেতে পরামর্শ দেবেন?’ তিনি আমাকে নিসিবিনের এক ধার্মিক ব্যক্তির কাছে যেতে বললেন। আমি নিসিধিনের সেই ব্যক্তির কাছে গিয়ে তাঁকে আমার এতদিনকার কাহিনি খুলে বললাম, এবং তাঁর সঙ্গে থাকতে লাগলাম। তাঁরও যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তখন আমি তাঁকেও আগের মতো একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আমাকে বাইজান্টিয়ামের আমুরিয়ায় একজনের সঙ্গে দেখা করতে বললেন ।

“এবারও আমি বাইজান্টিয়ামের সেই লোকটির কাছে গিয়ে তাঁর সঙ্গে থাকতে লাগলাম। সেখানে আমি গবাদি পশু ও ভেড়া পালন করে জীবিকা নির্বাহ করতাম। অতঃপর যখন তাঁরও মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল, তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘এখন আমি কার কাছে যাব?’ তিনি বললেন, ‘হে আমার পুত্র! আমি এমন কাউকে চিনি না যাকে অনুসরণ করার জন্য তোমাকে পরামর্শ দিতে পারি। কিন্তু এটি বলতে পারি যে, এখন সময় এসেছে একজন নবির, যাকে পৃথিবীর বুকে ইব্রাহিমের ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য প্রেরণ করা হবে। তিনি এমন এক স্থানে প্রেরিত হবেন যেখানে খেজুর গাছ আছে। তিনটি লক্ষণ দেখে তুমি তাঁকে চিনতে পারবে: (১) তিনি দান-খয়রাত থেকে কিছু খাবেন না; (২) কিন্তু তিনি উপহার গ্রহণ করবেন; এবং (৩) তাঁর কাঁধ দুটির মাঝখানে নবুয়তের মোহর আছে।’

“তারপর একদিন একটি কাফেলা আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাদের জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম, তারা আরব উপদ্বীপ থেকে এসেছে। তাদের বললাম, ‘তোমরা কি আমাকে তোমাদের দেশে নিয়ে যাবে? বিনিময়ে আমি আমার এই গবাদি পশু এবং মেষগুলো তোমাদেরকে দিয়ে দেব।’ তারা আমার প্রস্তাবে রাজি হলো এবং আমাকে তাদের সঙ্গে নিয়ে ওয়াদি আল-কুরা নামক স্থান পর্যন্ত গেল।

সেখানে যাওয়ার পর তারা আমার প্রতি অন্যায় করল, আমাকে এক ইহুদির কাছে ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি করে দিল। যাই হোক, সেই স্থানে অনেক খেজুর গাছ দেখে মনের মধ্যে এই আশা লালন করতে লাগলাম যে এটি হয়তো সেই দেশ যেখানে নবি আবির্ভূত হবে বলে শুনেছি। কিন্তু বাস্তবে তা দেখতে পেলাম না। আমি ওই ইহুদির সঙ্গেই থাকতে থাকলাম। এরপর সে একদিন বনি কুরায়জা গোত্রের আরেক ইহুদির কাছে আমাকে বিক্রি করে দিল।

 

প্রকৃত খ্রিষ্টানদের অবশিষ্টাংশ: সালমান আল-ফারিসির কাহিনি | ইসলাম-পূর্ব বিশ্বে ধর্মীয় পরিস্থিতি | মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ জীবন

 

“এবার আমি আমার নতুন মনিবের সঙ্গে থাকতে লাগলাম। নতুন মনিব । এক সময় আমাকে ইয়াসরিবে নিয়ে এল। একদিন আমি একটি খেজুর গাছের উপরে উঠে কাজ করছিলাম। আমার মনিব নিচে বসে ছিল। এমন সময় তার এক কাজিন এসে তাকে বলল, ‘আল্লাহ বনি কায়লাকে ধ্বংস করুন! তারা মক্কা থেকে আগত এক ব্যক্তির সম্পর্কে গুজব ছড়াচ্ছে যে, সে নিজেকে নবি হিসেবে দাখি করছে।’ তার এই কথা শুনে এমনভাবে কাঁপতে শুরু করলাম যে মনে হচ্ছিল যেন আমি গাছ থেকে পড়ে যাব।

আমি তাড়াতাড়ি গাছ থেকে নেমে এসে লোকটিতে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনি এটা কী বলছেন? ব্যাপারটা কী? আমার কথা শুনে আমার মনিব আমাকে কষে এক চড় দিয়ে বলল, ‘তাতে তোমার কী? তুমি তোমার কাজে ফিরে যাও’। আমি কাজে ফিরে গেলাম।

“রাতের বেলা আমার যা কিছু ছিল তা সব নিয়ে বের হয়ে আগত নবির খোঁজে কুবা পর্যন্ত গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখলাম মুহাম্মদ (সা) নামের এক ব্যক্তি তাঁর কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে বসে আছেন। তাঁকে বললাম, ‘আমি শুনেছি যে আপনি একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি এবং আপনার কিছু সঙ্গীসাথি আছে যারা আমার সঙ্গে কিছু খাবার আছে যা আমি দান করতে চাই। আমার মনে হচ্ছে আপনার চেয়ে বেশি প্রয়োজন আর কারও নেই।’ এই বলে আমি তাঁকে কিছু খাবার এগিয়ে দিলাম। তিনি তাঁর সঙ্গীদের বললেন, ‘এগুলো খেয়ে নাও।’

তবে তিনি নিজে ওগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকলেন। আমি মনে মনে বললাম, ‘এটি একটি নিদর্শন। তিনি দান-খয়রাত থেকে খান না। পরের দিন আমি আরও কিছু খাবার নিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে বললাম, ‘আমি দেখেছি আপনি দান- খয়রাত থেকে কিছু খান না। আমার কাছে কিছু খাবার আছে যা আমি আপনাকে উপহার হিসাবে দিতে চাই।’ এই বলে আমি খাবারগুলো তাঁর সামনে রাখলাম। তিনি তাঁর সঙ্গীদের বললেন, ‘খাও।’ এবং তিনি নিজেও তাদের সঙ্গে খেলেন। এবার আমি নিজেকে বললাম, ‘এটি দ্বিতীয় চিহ্ন। তিনি উপহার থেকে খান।

“আমি ফিরে এসে কিছুদিন দূরে দূরে থাকলাম। তারপর একদিন আমি আবার তাঁর কাছে উপস্থিত হলাম। তিনি তখন এক মৃতদেহ সৎকার থেকে ফিরে এসে তাঁর সঙ্গীসাথিদের সঙ্গে বসে ছিলেন। তাঁর গায়ে দুটি কাপড় ছিল; একটি তিনি পরিধান করে ছিলেন আর অন্যটি তাঁর কাঁধের ওপরে ছিল। আমি তাঁকে অভিবাদন জানালাম। তারপর একটু বাঁকা চোখে তার পিঠের ওপরের অংশটি দেখার জন্য চেষ্টা করলাম। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন আমি কী খুঁজছিলাম। তিনি নিজের পোশাকটি তার কাঁধ থেকে ফেলে দিলেন।

তাঁর কাঁধের মধ্যে সেই চিহ্নটি (অর্থাৎ নবুয়তের সিলমোহর) স্পষ্ট দেখতে পেলাম, যেমনটি খ্রিষ্টান সন্ন্যাসী আমাকে বর্ণনা করেছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে আমি তাঁর দিকে ঝাঁপিয়ে পড়লাম, চুমু খেয়ে কাঁদতে লাগলাম। তিনি আমাকে এগিয়ে আসার জন্য ডাকলে আমি তাঁকে তাঁর গিয়ে বসলাম। আমি তখন আমার পুরো কাহিনিটা তাঁকে বিস্তারিতিভাবে বর্ণনা করলাম। আমি তৎক্ষণাৎ মুসলিম হয়ে গেলাম। তবে দাসত্বের কারণে আমি বদর ও হুদ যুদ্ধে অংশ নিতে পারিনি।

নবিজি (সা) আমাকে পরামর্শ দিলেন, ‘তোমার মুক্তির জন্য তোমার মনিবের সঙ্গে সমঝোতা করো।’ আমি তার উপদেশ মানতে সচেষ্ট হলাম। মণিজি (সা) তাঁর কয়েকজন সাহাবিকে আমাকে সহায়তা করার জন্য বললেন। ফলে আল্লাহর ইচ্ছায় একদিন আমি পাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে একজন স্বাধীন মুসলিমে পরিণত হলাম। তারপর খন্দকের যুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রায় সব সময়ই আমি নবিজির (সা) সঙ্গে ছিলাম। “

সালমানের কাহিনি থেকে বোঝা যায়, সেই সময় খুবই কম সংখ্যক প্রকৃত খ্রিষ্টান পৃথিবীতে ছিল। এ থেকে আমরা আরও ধারণা করতে পারি, সালমানের শিক্ষকেরা ‘পলিন খ্রিষ্টান’ ছিলেন না। তাঁদের কাছে এমন জ্ঞান ছিল যা নিউ টেস্টামেন্টে ছিল না। সম্রাট কনস্ট্যান্টাইনের সময় চারটি ছাড়া অন্য সব খ্রিষ্টান ধর্মগ্রন্থ পুড়িয়ে দেওয়ার ফলেই ওই জ্ঞান লুপ্ত হয়ে যায়।

আরো পড়ুনঃ

 

Leave a Comment