সূরা আন নিসা আয়াত ১।[ উত্তরাধিকার বণ্টন ও এতিমদের অধিকার ] সূরা ৪ । কুরআন

সূরা আন নিসা আয়াত ১ ,সূরা আন নিসা (আরবি ভাষায়: سورة النساء, Sūratu an-Nisā, অর্থ “মহিলা”) মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের চতুর্থ সূরা, এর আয়াত সংখ্যা ১৭৬টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ২৪টি। আন নিসা সূরাটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। এই সূরাতে মুসলিমদের জীবন পরিচালনা ও কিভাবে একতাবদ্ধ থাকতে হবে সে সম্পর্কে বলা আছে।

সূরা আন নিসা আয়াত ১

সূরা আন নিসা আয়াত ১

আন নিসা

হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্ঝা করে থাক এবং আত্নীয় জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন।

O mankind! Be dutiful to your Lord, Who created you from a single person (Adam), and from him (Adam) He created his wife [Hawwa (Eve)], and from them both He created many men and women and fear Allâh through Whom you demand your mutual (rights), and (do not cut the relations of) the wombs (kinship). Surely, Allâh is Ever an All­Watcher over you.

يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُواْ رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاء وَاتَّقُواْ اللّهَ الَّذِي تَسَاءلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا

Ya ayyuha alnnasu ittaqoo rabbakumu allathee khalaqakum min nafsin wahidatin wakhalaqa minha zawjaha wabaththa minhuma rijalan katheeran wanisaan waittaqoo Allaha allathee tasaaloona bihi waal-arhama inna Allaha kana AAalaykum raqeeban

আন নিসা

YUSUFALI: O mankind! reverence your Guardian-Lord, who created you from a single person, created, of like nature, His mate, and from them twain scattered (like seeds) countless men and women;- reverence Allah, through whom ye demand your mutual (rights), and (reverence) the wombs (That bore you): for Allah ever watches over you.

PICKTHAL: O mankind! Be careful of your duty to your Lord Who created you from a single soul and from it created its mate and from them twain hath spread abroad a multitude of men and women. Be careful of your duty toward Allah in Whom ye claim (your rights) of one another, and toward the wombs (that bare you). Lo! Allah hath been a watcher over you.

SHAKIR: O people! be careful of (your duty to) your Lord, Who created you from a single being and created its mate of the same (kind) and spread from these two, many men and women; and be careful of (your duty to) Allah, by Whom you demand one of another (your rights), and (to) the ties of relationship; surely Allah ever watches over you.
KHALIFA: O people, observe your Lord; the One who created you from one being, and created from it its mate, then spread from the two many men and women. You shall regard GOD, by whom you swear, and regard the parents. GOD is watching over you.

আন নিসা

১। হে মানব সম্প্রদায় ! তোমার অভিভাবক প্রভুকে ভয় কর, যিনি তোমাকে এক ব্যক্তি সত্ত্বা থেকে সৃষ্টি করেছেন ও তা থেকে তিনি তাঁর সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের দুজন থেকে [বৃক্ষের বীজের ন্যায়] অসংখ্য নর-নারী ইতস্ততঃ ছড়িয়ে দিয়েছেন। আল্লাহকে ভয় কর যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে [অধিকার] ৫০৫ দাবী কর। এবং যে গর্ভ [তোমাকে ধারণ করে] তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হও ৫০৬। কারণ আল্লাহ্‌ সর্বদা তোমাদের পর্যবেক্ষণ করছেন।

৫০৫। জীবনের সকল কর্মকান্ড আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে নিবেদিত। “Ye demand your mutual (right)” যার বঙ্গানুবাদ করা হয়েছে “তোমরা একে অপরের কাছে [অধিকার] দাবী কর।” পরস্পরের প্রতি আমাদের কর্তব্য ও অধিকার সবই আল্লাহ্‌র ইচ্ছা বা আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। আমরা তার দাস বা বান্দা। তার ইচ্ছাই তার বিধান আমাদের জন্য। আমরা আমাদের জীবন কতটুকু তার ইচ্ছার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পেরেছি তাই-ই হবে মূল্যায়নের বিষয়। বিখ্যাত ইংরেজ কবি টেনিসন বলেছেন “Our wills are ours, to make them Thine.” (In Memorium). আমাদের পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও দায়িত্ব সবই আল্লাহ্‌র বিধান এবং আমাদের চরিত্রের এই কর্তব্য ও দায়িত্ববোধ আল্লাহ্‌রই দান।

৫০৬। মওলানা ইউসুফ আলী সাহেব লিখেছেন – “And (reverence) the wombs (that bore you)” যার বাংলা অনুবাদ হওয়া উচিত “যে গর্ভ তোমাকে ধারণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হও।” কিন্তু অনেক বঙ্গানুবাদ করা হয়েছে, “সতর্ক থাক জ্ঞাতি বন্ধন সম্পর্কে।”

আমি (অনুবাদক) মওলানা ইউসুফ আলী সাহেবের ব্যাখ্যা এখানে প্রদান করলাম।
পৃথিবীতে যতগুলি অত্যাচার্য রহস্য আছে তার মধ্যে নারী ও পুরুষের মিলনের রহস্য অন্যতম। এই মিলনের ফলেই সন্তানের জন্ম। এই মিলনের ফলেই সাংসারিক বন্ধন, প্রেম, ভালোবাসা। পুরুষ তার শারীরিক শক্তির আধিক্যে, নিজের শ্রেষ্ঠত্ব বোধে, অহংকারে ভুলে যায় সৃষ্টির এই আশ্চর্য রহস্যে মেয়েদের ভূমিকা তাদের থেকে কোন অংশে কম নয়। তার যুগল জীবনের সুখ শান্তি তার ভবিষ্যত জীবনের বংশধর, এ সব কিছুর জন্য সে মেয়েদের ভূমিকার কাছে ঋণী। যে গর্ভে ধারণ করে তিনি অবশ্যই শ্রদ্ধার পাত্রী। স্ত্রীর কারণেই পুরুষ পিতৃত্বের গৌরব অনুভব করে।

এ কারণেই পুরুষ জাতির মেয়েদের সম্মান করা উচিত। পুরুষ ও নারীর মিলিত জীবনই হচ্ছে সংসার জীবনের মূল সেতুবন্ধ। সুতরাং যৌন জীবনকে কখনও অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়। কারণ এই মিলিত জীবনই হচ্ছে সংসারের কেন্দ্র বিন্দু। আর প্রতিটি সংসারই হচ্ছে সমাজের মূল একক। সংসারের বিশৃঙ্খলা বা মূল্যবোধের অবক্ষয়- এর অর্থই হচ্ছে সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়। যে যৌন জীবন আমাদের শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেয়, যা আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনকে পরিচালিত করে,

আন নিসা

যার সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিচালনায় আমাদের জীবন হয় ঐশ্বর্যমন্ডিত ও সমৃদ্ধ সেই যৌন জীবন সম্বন্ধে আমাদের লজ্জা, ভয় বা ঘৃণা থাকা উচিত নয়। অথবা এ জীবনকে শুধুমাত্র উপভোগের সামগ্রীতেও পরিণত করা উচিত নয়। এ জীবনকে শ্রদ্ধার সাথে, সম্মানের সাথে, সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করতে হবে। যে গর্ভ তোমাকে ধারণ করে অর্থাৎ স্ত্রী জাতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।

যারা অনুবাদ করেছেন “সতর্ক থাক জ্ঞাতি বন্ধন সম্বন্ধে” তাদের বক্তব্য নিম্নরূপ :
এই আয়াতে ‘আরহাম’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা মূলতঃ একটি বহুবচনবোধক শব্দ। এর একবচন হচ্ছে ‘রেহম’। আর ‘রেহম’ অর্থ জরায়ু বা গর্ভাশয়। অর্থাৎ জন্মের প্রাক্কালে মায়ের উদরে যে স্থানে সন্তান জন্ম লাভ করে। জন্ম সূত্রেই মানুষ পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে, আত্মীয়তার ক্ষেত্রে, জ্ঞাতি সম্পর্কের ক্ষেত্রে উপণীত হয়। সেই জন্য এখানে অনুবাদ করা হয়েছে জন্মসূত্রে জ্ঞাতি সম্পর্কের ক্ষেত্রে সতর্ক বা মনোযোগী হতে।

আরও দেখুনঃ 

সূরা আন নিসা পার্ট-১

সূরা আল ইমরান পার্ট-১

সূরা বাকারা পার্ট -৭

সূরা নিসা – উইকিপিডিয়া

 

Leave a Comment