সূরা আম্বিয়া পার্ট-১ [অনেক নবীর কথা বর্ণনা রয়েছে ] সূরা ২১। কুরআন ।

সূরা আম্বিয়া পার্ট-১ [অনেক নবীর কথা বর্ণনা রয়েছে ] সূরা ২১। কুরআন ।  আল আম্বিয়া (আরবি: سورة الأنبياء‎‎ “নবীগণ”) মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের একুশতম সূরা। এই সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ১১২ টি।

সূরা আম্বিয়া পার্ট-১

সূরা আম্বিয়া পার্ট-১

সূরা আম্বিয়া

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ০১)

মানুষের হিসাব-কিতাবের সময় নিকটবর্তী; অথচ তারা বেখবর হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

Closer and closer to mankind comes their Reckoning: yet they heed not and they turn away.

اقْتَرَبَ لِلنَّاسِ حِسَابُهُمْ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ مَّعْرِضُونَ

Iqtaraba lilnnasi hisabuhum wahum fee ghaflatin muAAridoona

Pickthall: Their reckoning draweth nigh for mankind, while they turn away in heedlessness.
Yusuf Ali: Closer and closer to mankind comes their Reckoning: yet they heed not and they turn away.

Hilali-Khan: Draws near for mankind their reckoning, while they turn away in heedlessness.

Shakir: Their reckoning has drawn near to men, and in heedlessness are they turning aside.

Sher Ali: Nigh unto men has drawn their reckoning, yet they turn away in heedlessness.

Khalifa: Fast approaching is the reckoning for the people, but they are oblivious, averse.

Arberry: Nigh unto men has drawn their reckoning, while they in heedlessness are yet turning away;
Palmer: Their reckoning draws nigh to men, yet in heedlessness they turn aside.

Rodwell: THIS people’s reckoning hath drawn nigh, yet, sunk in carelessness, they turn aside.

Sale : The [time of giving up] their account draweth nigh unto the people [of Mecca]; while they are [sunk] in negligence, turning aside [from the consideration thereof].

০১। মানুষের হিসাব নিকাশের সময় ক্রমাগত নিকটবর্তী হচ্ছে , তবুও তারা উদাসীন এবং তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় ২৬৬২।

২৬৬২। হিসাব নিকাশের সময় অর্থাৎ কেয়ামতের দিন। যে ব্যক্তি মরে যায়, তার কেয়ামতের তখনই শুরু হয়ে যায়। অর্থাৎ হিসাব নিকাশ শুরু হয়। মানুষ যত দীর্ঘায়ুই হোক না কেন তার মৃত্যু দূরে নয়। সেই হিসেবে হিসাব নিকাশের সময় আসন্ন। কিন্তু দুর্ভাগ্য এই অমোঘ সত্যকে জানার পরেও তারা উদাসীন এবং যে বাণী বা উপদেশ তাদের পরলোকের শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে তা থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ০২)

তাদের কাছে তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে যখনই কোন নতুন উপদেশ আসে, তারা তা খেলার ছলে শ্রবণ করে।

Comes not unto them an admonition (a chapter of the Qur’ân) from their Lord as a recent revelation but they listen to it while they play,

مَا يَأْتِيهِم مِّن ذِكْرٍ مَّن رَّبِّهِم مُّحْدَثٍ إِلَّا اسْتَمَعُوهُ وَهُمْ يَلْعَبُونَ

Ma ya/teehim min thikrin min rabbihim muhdathin illa istamaAAoohu wahum yalAAaboona

YUSUFALI: Never comes (aught) to them of a renewed Message from their Lord, but they listen to it as in jest,-

PICKTHAL: Never cometh there unto them a new reminder from their Lord but they listen to it while they play,

SHAKIR: There comes not to them a new reminder from their Lord but they hear it while they sport,

KHALIFA: When a proof comes to them from their Lord, that is new, they listen to it heedlessly.

০২। যখনই তাদের প্রভুর নিকট থেকে তাঁর বাণী নবায়ন হয়ে আসে , তারা তা কৌতুকচ্ছলে শোনে ২৬৬৩।

২৬৬৩। আল্লাহ্‌ তাঁর বিধানকে যুগোপযোগী করার জন্য যুগে যুগে নবী ও রসুলদের পাঠিয়েছেন। কিন্তু যখনই কোন নূতন নিদর্শন প্রেরিত হয়, তখন তারা একে কৌতুক ও হাস্য উপহাসচ্ছলে গ্রহণ করে পরবর্তীতে যা শত্রুতাতে পরিণত হয়।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ০৩)

তাদের অন্তর থাকে খেলায় মত্ত। জালেমরা গোপনে পরামর্শ করে, সে তো তোমাদেরই মত একজন মানুষ; এমতাবস্থায় দেখে শুনে তোমরা তার যাদুর কবলে কেন পড়?

With their hearts occupied (with evil things) those who do wrong, conceal their private counsels, (saying): ”Is this (Muhammad SAW) more than a human being like you? Will you submit to magic while you see it?”

لَاهِيَةً قُلُوبُهُمْ وَأَسَرُّواْ النَّجْوَى الَّذِينَ ظَلَمُواْ هَلْ هَذَا إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ أَفَتَأْتُونَ السِّحْرَ وَأَنتُمْ تُبْصِرُونَ

Lahiyatan quloobuhum waasarroo alnnajwa allatheena thalamoo hal hatha illa basharun mithlukum afata/toona alssihra waantum tubsiroona

YUSUFALI: Their hearts toying as with trifles. The wrong-doers conceal their private counsels, (saying), “Is this (one) more than a man like yourselves? Will ye go to witchcraft with your eyes open?”

PICKTHAL: With hearts preoccupied. And they confer in secret. The wrong-doers say: Is this other than a mortal like you? Will ye then succumb to magic when ye see (it)?

SHAKIR: Their hearts trifling; and those who are unjust counsel together in secret: He is nothing but a mortal like yourselves; what! will you then yield to enchantment while you see?

KHALIFA: Their minds are heedless. And the transgressors confer secretly: “Is he not just a human being like you? Would you accept the magic that is presented to you?”

০৩। তাদের অন্তর [ তা নিয়ে ] তুচ্ছ বিষয়ের মত খেলা করে। পাপীরা তাদের গোপন পরামর্শ লুকিয়ে রেখে [বলে] ” সে কি তোমাদের মত একজন মানুষ নয়? তোমরা কি দেখে শুনে যাদুর কবলে পড়বে ?” ২৬৬৪, ২৬৬৫।

২৬৬৪। সীমা লংঘনকারীরা পরলোক সম্বন্ধে উদাসীন , এই আয়াত তাদের মানসিক অবস্থার অতিরিক্ত বর্ণনা। আল্লাহ্‌র বাণীর মিষ্টতা, প্রাঞ্জলতা ও ক্রিয়াশক্তি দিবালোকের মত ভাস্বর। কিন্তু সীমালংঘনকারীরা আল্লাহ্‌র নিদর্শনকে গ্রহণ করার পরিবর্তে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তারা এর বিরুদ্দে গোপনে শলা পরামর্শ করে যেনো , লোকসমক্ষে তাদের ষড়যন্ত্রকারীরূপে চিহ্নিত করা না হয়। তাদের এই ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতার কারণ হচ্ছে তাদের অন্তরে হিংসা রীপুর আধিক্য। হিংসা তাদের বাধা দান করে সত্যকে গ্রহণ করতে। হিংসা এই জন্য যে তাদের মতই একজন সাধারণ মানুষ সত্যকে প্রচারের জন্য আল্লাহ্‌ কর্তৃক মনোনীত হয়েছেন পথপ্রদর্শক ও রসুলরূপে।

উপদেশ : হিংসা সর্বদা প্রকৃত সত্যকে অনুধাবনে বাধা দান করে।

২৬৬৫। যখন আল্লাহ্‌র বাণীর মিষ্টতা , প্রাঞ্জলতা ও মানুষের আধ্যাত্মিক জগতের উপরে এর ক্রিয়াশক্তি, এর নৈতিক মূল্যবোধ, আধ্যাত্মিক অন্তর্দৃষ্টি এবং রসুলের [ সা ] এই বাণী প্রচারে বাগ্মীতা ও আন্তরিকতা সকলকে মুগ্ধ করে তোলে , তখন এ সব সীমালংঘনকারীরা বলে, ” দেখে শুনে যাদুর কবলে পড়বে ? ” তারা রসুলকে [ সা ] যাদুকররূপে অভিযুক্ত করে, যার কোন সত্যের ভিত্তি ছিলো না সম্ভবতঃ তা ছিলো প্রবঞ্চনা।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ০৪)

পয়গম্বর বললেনঃ নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের কথাই আমার পালনকর্তা জানেন। তিনি সবকিছু শোনেন, সবকিছু জানেন।

He (Muhammad SAW) said: ”My Lord knows (every) word (spoken) in the heavens and on earth. And He is the All-Hearer, the All-Knower.”

قَالَ رَبِّي يَعْلَمُ الْقَوْلَ فِي السَّمَاء وَالأَرْضِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

Qala rabbee yaAAlamu alqawla fee alssama-i waal-ardi wahuwa alssameeAAu alAAaleemu

YUSUFALI: Say: “My Lord knoweth (every) word (spoken) in the heavens and on earth: He is the One that heareth and knoweth (all things).”

PICKTHAL: He saith: My Lord knoweth what is spoken in the heaven and the earth. He is the Hearer, the Knower.

SHAKIR: He said: My Lord knows what is spoken in the heaven and the earth, and He is the Hearing, the Knowing.

KHALIFA: He said, “My Lord knows every thought in the heaven and the earth. He is the Hearer, the Omniscient.”

০৪। বল, ২৬৬৬ ” আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবীর [ প্রতিটি ] কথা আমার প্রভু অবগত আছেন ২৬৬৭। তিনিই সব কিছু শোনেন এবং জানেন।”

২৬৬৬। লক্ষ্য করুন, সাধারণত : আরবী ভাষাতে “Qala” শব্দটি [ According to Qiraat of Hafs ] বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন উচ্চারণে পাঠ করা হয়। শব্দটি এই [ ২১ : ৪ ] আয়াতে ও [ ২১ : ১১২ ] আয়াতে এবং [২৩:১১২] আয়াতে বিদ্যমান।

কিন্তু এই আয়াতগুলিতে “Qala” এর উচ্চারণ অন্য আয়াতের উচ্চারণ থেকে আলাদা [ যেমন ২০ : ১২৫ – ১২৬ ]। বসরা কিরাতে [ Basra Qiraat ] এর উচ্চারণ হয়েছে “Qul “, যার অর্থ “তুমি বল” আদেশবাচক শব্দ। ” আর যদি অনুবাদ হয় “সে বলিল” তবে সে অর্থ রসুলকে [ সা ] বোঝানো হয়েছে।

কিন্তু বেশীর ভাগ তফসীরকারের মতে শব্দটির অনুবাদ আদেশবাচক হওয়া উচিত এবং ইউসুফ আলী সাহেবেও এ ব্যাপারে একমত। তবে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যে, যে ভাবেই অনুবাদ করা হোক না কেন অর্থের খুব একটা হেরফের হয় না, মূল বক্তব্য একই থেকে যায়। দেখুন আয়াত [ ২৩ : ১১২ ] এবং টিকা ২৯৪৮।

২৬৬৭। আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞ। তিনি সব কিছুই জানেন। সরবে, নীরবে, গোপনে যা কিছুই বলা হোক না কেন সবই আল্লাহ্‌র নিকট জ্ঞাত। পাপিষ্ঠরা এবং অজ্ঞ ব্যক্তিরা যেনো ধারণা না করে যে, তাদের গোপন পরিকল্পনা আল্লাহ্‌র নিকট গোপন রাখা সম্ভব।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ০৫)

এছাড়া তারা আরও বলেঃ অলীক স্বপ্ন; না সে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে, না সে একজন কবি। অতএব সে আমাদের কাছে কোন নিদর্শন আনয়ন করুক, যেমন নিদর্শন সহ আগমন করেছিলেন পূর্ববর্তীগন।

Nay, they say:”These (revelations of the Qur’ân which are inspired to Muhammad SAW) are mixed up false dreams! Nay, he has invented it! Nay, he is a poet! Let him then bring us an Ayâh (sign as a proof) like the ones (Prophets) that were sent before (with signs)!”

بَلْ قَالُواْ أَضْغَاثُ أَحْلاَمٍ بَلِ افْتَرَاهُ بَلْ هُوَ شَاعِرٌ فَلْيَأْتِنَا بِآيَةٍ كَمَا أُرْسِلَ الأَوَّلُونَ

Bal qaloo adghathu ahlamin bali iftarahu bal huwa shaAAirun falya/tina bi-ayatin kama orsila al-awwaloona

YUSUFALI: “Nay,” they say, “(these are) medleys of dream! – Nay, He forged it! – Nay, He is (but) a poet! Let him then bring us a Sign like the ones that were sent to (Prophets) of old!”

PICKTHAL: Nay, say they, (these are but) muddled dreams; nay, he hath but invented it; nay, he is but a poet. Let him bring us a portent even as those of old (who were Allah’s messengers) were sent (with portents).

SHAKIR: Nay! say they: Medleys of dreams; nay! he has forged it; nay! he is a poet; so let him bring to us a sign as the former (prophets) were sent (with).

KHALIFA: They even said, “Hallucinations,” “He made it up,” and, “He is a poet. Let him show us a miracle like those of the previous messengers.”

০৫। তারা বলে, ” না, [ এ সমস্তই ] অলীক কল্পনা। সে মিথ্যা রচনা করেছে। না হয় সে একজন কবি ২৬৬৮। পূর্ববর্তী [ রাসুলগণ ] যেরূপ নিদর্শনসহ প্রেরিত হয়েছিলো , সে সেরূপ নিদর্শন আমাদের নিকট আনায়ন করুক।”

২৬৬৮। আল্লাহ্‌র প্রেরিত রাসুলের [ সা ] প্রতি কাফেরদের বিভিন্ন অভিযোগ গুলি এখানে বর্ণনা করা হয়েছে। কেউ বললো এসব ” অলীক কল্পনা ” বৈ কিছু নয়, কারণ ” আমরা তা বুঝতে পারি না”। অন্য জন বলে, হায় ! সে তো মিথ্যা রচনা করেছে “।

কিন্তু যদি এই কল্পনা জীবনকে সমৃদ্ধ করে, তবে তারা বলে, ” সে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে।” আবার অনেকে বলে ” সে একজন কবি, কারণ কবিরাই উদ্ভাবন করতে পারে।” আবার অনেকে বাধাদান করে বলে, ” আমরা অলৌকিক মোজেজা দেখতে চাই। যেরূপ মোজেজার অধিকারী পূর্ববর্তী রসুলেরা ছিলেন ইত্যাদি।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ০৬)

তাদের পূর্বে যেসব জনপদ আমি ধবংস করে দিয়েছি, তারা বিশ্বাস স্থাপন করেনি; এখন এরা কি বিশ্বাস স্থাপন করবে?

Not one of the towns (populations), of those which We destroyed, believed before them (though We sent them signs), will they then believe?

مَا آمَنَتْ قَبْلَهُم مِّن قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا أَفَهُمْ يُؤْمِنُونَ

Ma amanat qablahum min qaryatin ahlaknaha afahum yu/minoona

YUSUFALI: (As to those) before them, not one of the populations which We destroyed believed: will these believe?

PICKTHAL: Not a township believed of those which We destroyed before them (though We sent them portents): would they then believe?

SHAKIR: There did not believe before them any town which We destroyed, will they then believe?

KHALIFA: We never annihilated a believing community in the past. Are these people believers?

০৬। তাদের পূর্বে যে সব জনপদ আমি ধ্বংস করেছি তার অধিবাসীরা ঈমান আনে নাই। এরা কি ঈমান আনবে ? ২৬৬৯

২৬৬৯। অলৌকিক মোজেজা কখনও ঈমান বা বিশ্বাসের ভিত্তি হতে পারে না। পূর্ববর্তী নবী রসুলদের অলৌকিক ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কাফেররা ঈমান আনে নাই। সুতারাং মোজেজা দর্শনে ঈমান আনার কথা বলা; বাহানা বই আর কিছু নয়।

অলৌকিক ক্ষমতা দর্শন ঈমানের ভিত্তি হতে পারে না। ঈমান হচ্ছে অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাস আল্লাহ্‌র প্রতি এবং একান্ত নির্ভরশীলতা সেই স্রষ্টার প্রতি যিনি এক এবং অদ্বিতীয়। এটা এক ধরণের মানসিক অবস্থা [ State of mind ] এর সাথে মোজেজার কোনও সম্পর্ক নাই।

সূরা আম্বিয়া

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ০৭)

আপনার পূর্বে আমি মানুষই প্রেরণ করেছি, যাদের কাছে আমি ওহী পাঠাতাম। অতএব তোমরা যদি না জান তবে যারা স্মরণ রাখে তাদেরকে জিজ্ঞেস কর।

And We sent not before you (O Muhammad SAW) but men to whom We inspired, so ask the people of the Reminder [Scriptures – the Taurât (Torah), the Injeel (Gospel)] if you do not know.

وَمَا أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ إِلاَّ رِجَالاً نُّوحِي إِلَيْهِمْ فَاسْأَلُواْ أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لاَ تَعْلَمُونَ

Wama arsalna qablaka illa rijalan noohee ilayhim fais-aloo ahla alththikri in kuntum la taAAlamoona

YUSUFALI: Before thee, also, the messengers We sent were but men, to whom We granted inspiration: If ye realise this not, ask of those who possess the Message.

PICKTHAL: And We sent not (as Our messengers) before thee other than men, whom We inspired. Ask the followers of the Reminder if ye know not?

SHAKIR: And We did not send before you any but men to whom We sent revelation, so ask the followers of the reminder if you do not

KHALIFA: We did not send before you except men whom we inspired. Ask those who know the scripture, if you do not know.

০৭। তোমার পূর্বে যে সব পয়গম্বর আমি প্রেরণ করেছিলাম তারাও ছিলো মানুষ , যাদের জন্য আমি ওহী মঞ্জুর করেছিলাম। যদি তোমরা তা না বুঝে থাক, তবে তাদের জিজ্ঞাসা কর যারা [আল্লাহ্‌র ] বাণীকে ধারণ করে থাকে ২৬৭০।

২৬৭০। দেখুন অনুরূপ আয়াত [ ১৬ : ৪৩ ] এবং টিকা ২০৬৯। অবিশ্বাসী বা ঈমানহীনদের কথা ” সেতো আমাদের মতই সাধারণ মানুষ” এই ব্যঙ্গ বিদ্রূপের উত্তরে এই আয়াতে দেয়া হয়েছে।

এ কথা সত্য যে, আল্লাহ্‌র রসুলদের প্রেরণ করেছেন মানুষের মধ্যে থেকেই , যেনো সাধারণ মানুষ তাদের বুঝতে পারে এবং তাঁরাও সাধারণ মানুষের মন মানসিকতা বুঝতে পারে।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ০৮)

আমি তাদেরকে এমন দেহ বিশিষ্ট করিনি যে, তারা খাদ্য ভক্ষণ করত না এবং তারা চিরস্থায়ীও ছিল না।
And We did not create them (the Messengers, with) bodies that ate not food, nor were they immortals,

وَمَا جَعَلْنَاهُمْ جَسَدًا لَّا يَأْكُلُونَ الطَّعَامَ وَمَا كَانُوا خَالِدِينَ
Wama jaAAalnahum jasadan la ya/kuloona alttaAAama wama kanoo khalideena

YUSUFALI: Nor did We give them bodies that ate no food, nor were they exempt from death.

PICKTHAL: We gave them not bodies that would not eat food, nor were they immortals.

SHAKIR: And We did not make them bodies not eating the food, and they were not to abide (forever).

KHALIFA: We did not give them bodies that did not eat, nor were they immortal.

০৮। আমি তাদের এমন কোন শরীর দিই নাই যা আহার গ্রহণ করবে না, অথবা তারা মৃত্যু থেকেও অব্যহতি পাবে না ২৬৭১।

২৬৭১। সাধারণ মানুষের শারীরিক যে চাহিদা ,নবী রসুলদের ছিলো সেই একই চাহিদা। কারণ তারাও ছিলেন শারীরিক দিক থেকে সাধারণ মানুষ। তারা খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করতেন এবং তারাও ছিলেন মৃত্যুর আয়ত্তাধীন।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ০৯)

অতঃপর আমি তাদেরকে দেয়া আমার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করলাম সুতরাং তাদেরকে এবং যাদেরকে ইচ্ছা বাঁচিয়ে দিলাম এবং ধবংস করে ছিলাম সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে।

Then We fulfilled to them the promise, and We saved them and those whom We willed, but We destroyed Al-Musrifûn (i.e. extravagants in oppression, polytheism and in sin).

ثُمَّ صَدَقْنَاهُمُ الْوَعْدَ فَأَنجَيْنَاهُمْ وَمَن نَّشَاء وَأَهْلَكْنَا الْمُسْرِفِينَ

Thumma sadaqnahumu alwaAAda faanjaynahum waman nashao waahlakna almusrifeena

YUSUFALI: In the end We fulfilled to them Our Promise, and We saved them and those whom We pleased, but We destroyed those who transgressed beyond bounds.

PICKTHAL: Then we fulfilled the promise unto them. So we delivered them and whom We would, and We destroyed the prodigals.

SHAKIR: Then We made Our promise good to them, so We delivered them and those whom We pleased, and We destroyed the ex

KHALIFA: We fulfilled our promise to them; we saved them together with whomever we willed, and annihilated the transgressors.

০৯। শেষ পর্যন্ত তাদের প্রতি আমার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছিলাম এবং আমি তাদের ও তাদের মধ্যে যাদের ইচ্ছা তাদের রক্ষা করেছিলাম। কিন্তু যারা সীমালংঘন করেছিলো তাদের ধবংস করেছিলাম ২৬৭২।

২৬৭২। আল্লাহ্‌র প্রেরিত নবী রসুলদের যদিও সাধারণ মানুষ থেকে শারীরিক দিক থেকে কোনও পার্থক্য ছিলো না কিন্তু আত্মিক দিক থেকে তারা আল্লাহ্‌র রহমতে ধন্য ছিলেন। তাঁদের প্রতি আল্লাহ্‌র অর্পিত দায়িত্ব ছিলো অত্যন্ত কঠিন দায়িত্ব।

আপাতঃদৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে, এই দায়িত্ব সম্পন্ন করা এক অসম্ভব ব্যাপার। কিন্তু আল্লাহ্‌র রহমতে এরা শেষ পর্যন্ত সাফল্য লাভ করেন, এবং বিরুদ্ধচারীরা পরাজিত হয়। বিভিন্ন সূরাতে উদাহরণের মাধ্যমে এই সত্যকে তুলে ধরা হয়েছে।

বিশেষতঃ আয়াত [ ২১ : ৫১ – ৯৩ ] গুলিতে এই সত্যকে প্রকাশ করা হয়েছে। যারা আল্লাহ্‌র রাসুল আল্লাহ্‌ তাদের রক্ষা করেন, ধ্বংস থেকে , যেখানে অবিশ্বাসীরা আল্লাহ্‌র ক্রোধে নিপতিত হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। এই উপদেশ সকল মানুষ , সকল জাতির জন্য, সর্বকালে, সর্বযুগে প্রযোজ্য।

যে ব্যক্তি বা জাতি আল্লাহ্‌র বিধান মেনে চলে , অর্থাৎ আল্লাহ্‌র ইচ্ছা ও পরিকল্পনার নিকট আত্মসমর্পন করে তাদের সাফল্য অনিবার্য অপর পক্ষে যারা আল্লাহ্‌র বিধান মানে না, অর্থাৎ আল্লাহ্‌র ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করে,

আল্লাহ্‌ যা নিষেধ করেছেন সেই সব পাপের পথে পা বাড়ায় তাদের শেষ পরিণতি অনিবার্য ধবংস। পৃথিবীর ইতিহাস এই সাক্ষ্য দেয়। পূণ্যাত্মাদের সাফল্য ও পাপীদের ধ্বংস এই -ই হচ্ছে আল্লাহ্‌র বিধান বা ইচ্ছা। ” যাদের ইচ্ছা” বাক্যটি দ্বারা আল্লাহ্‌র এই বিশ্বজনীন ইচ্ছাকেই প্রকাশ করা হয়েছে যা সর্বকাল ও সর্বযুগের জন্য প্রযোজ্য।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ১০)

আমি তোমাদের প্রতি একটি কিতাব অবর্তীর্ণ করেছি; এতে তোমাদের জন্যে উপদেশ রয়েছে। তোমরা কি বোঝ না?

Indeed, We have sent down for you (O mankind) a Book, (the Qur’ân) in which there is Dhikrukum, (your Reminder or an honour for you i.e. honour for the one who follows the teaching of the Qur’ân and acts on its orders). Will you not then understand?

لَقَدْ أَنزَلْنَا إِلَيْكُمْ كِتَابًا فِيهِ ذِكْرُكُمْ أَفَلَا تَعْقِلُونَ

Laqad anzalna ilaykum kitaban feehi thikrukum afala taAAqiloona

YUSUFALI: We have revealed for you (O men!) a book in which is a Message for you: will ye not then understand?

PICKTHAL: Now We have revealed unto you a Scripture wherein is your Reminder. Have ye then no sense?

SHAKIR: Certainly We have revealed to you a Book in which is your good remembrance; what! do you not then understand?

KHALIFA: We have sent down to you a scripture containing your message. Do you not understand?

১০। [হে মানুষ! ] আমি তো তোমাদের জন্য এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি যার মধ্য তোমাদের জন্য আছে উপদেশ। তবুও কি তোমরা বুঝবে না ?

রুকু – ২

১১। কত জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি তাদের পাপের জন্য, এবং তাদের স্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছি অন্য জাতিকে।

১২। তথাপি; যখন তারা অনুভব করেছিলো যে আমার শাস্তি [ আগত ] , দেখো, তারা সেখান থেকে পলায়নের [ চেষ্টা করে ] ২৬৭৩।

২৬৭৩। পাপীদের যখন বলা হয়েছিলো অনুতাপের মাধ্যমে আল্লাহ্‌র রাস্তায় ফিরে আসতে, তারা তা প্রত্যাখান করে। শুধু প্রত্যাখানই করে না, তারা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কিন্তু যখন তারা দেখে যে আল্লাহ্‌র শাস্তি নেমে আসছে, তখন তারা সভয়ে পলায়ন করতে থাকে। কিন্তু আল্লাহ্‌র শাস্তি থেকে পলায়ন করা সুদূর পরাহত।

কারণ অনুতাপ করার জন্য তখন তা অনেক দেরী হয়ে গেছে। আল্লাহ্‌র ক্রোধ থেকে তারা এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের কোথায় লুকাতে পারে ? পরের আয়াতে [ ২১ : ১৩ ] বিদ্রূপের সাথে তাদের সম্বোধন করা হয়েছে যে, ” যে গৃহকে তোমরা নিরাপদ ও স্থায়ী বলে চিন্তা করতে সেই গৃহের ভোগ সম্ভোগের দিকে ফিরে যাও।”

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ১১)

আমি কত জনপদের ধ্বংস সাধন করেছি যার অধিবাসীরা ছিল পাপী এবং তাদের পর সৃষ্টি করেছি অন্য জাতি।

How many a town (community), that were wrong-doers, have We destroyed, and raised up after them another people!

وَكَمْ قَصَمْنَا مِن قَرْيَةٍ كَانَتْ ظَالِمَةً وَأَنشَأْنَا بَعْدَهَا قَوْمًا آخَرِينَ

Wakam qasamna min qaryatin kanat thalimatan waansha/na baAAdaha qawman akhareena

YUSUFALI: How many were the populations We utterly destroyed because of their iniquities, setting up in their places other peoples?

PICKTHAL: How many a community that dealt unjustly have We shattered, and raised up after them another folk!

SHAKIR: And how many a town which was iniquitous did We demolish, and We raised up after it another people!

KHALIFA: Many a community we terminated because of their transgression, and we substituted other people in their place.

১০। [হে মানুষ! ] আমি তো তোমাদের জন্য এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি যার মধ্য তোমাদের জন্য আছে উপদেশ। তবুও কি তোমরা বুঝবে না ?

রুকু – ২

১১। কত জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি তাদের পাপের জন্য, এবং তাদের স্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছি অন্য জাতিকে।

১২। তথাপি; যখন তারা অনুভব করেছিলো যে আমার শাস্তি [ আগত ] , দেখো, তারা সেখান থেকে পলায়নের [ চেষ্টা করে ] ২৬৭৩।

২৬৭৩। পাপীদের যখন বলা হয়েছিলো অনুতাপের মাধ্যমে আল্লাহ্‌র রাস্তায় ফিরে আসতে, তারা তা প্রত্যাখান করে। শুধু প্রত্যাখানই করে না, তারা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কিন্তু যখন তারা দেখে যে আল্লাহ্‌র শাস্তি নেমে আসছে, তখন তারা সভয়ে পলায়ন করতে থাকে। কিন্তু আল্লাহ্‌র শাস্তি থেকে পলায়ন করা সুদূর পরাহত।

কারণ অনুতাপ করার জন্য তখন তা অনেক দেরী হয়ে গেছে। আল্লাহ্‌র ক্রোধ থেকে তারা এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের কোথায় লুকাতে পারে ? পরের আয়াতে [ ২১ : ১৩ ] বিদ্রূপের সাথে তাদের সম্বোধন করা হয়েছে যে, ” যে গৃহকে তোমরা নিরাপদ ও স্থায়ী বলে চিন্তা করতে সেই গৃহের ভোগ সম্ভোগের দিকে ফিরে যাও।”

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ১২)

অতঃপর যখন তারা আমার আযাবের কথা টের পেল, তখনই তারা সেখান থেকে পলায়ন করতে লাগল।
Then, when they perceived (saw) Our Torment (coming), behold, they (tried to) flee from it.

فَلَمَّا أَحَسُّوا بَأْسَنَا إِذَا هُم مِّنْهَا يَرْكُضُونَ
Falamma ahassoo ba/sana itha hum minha yarkudoona

YUSUFALI: Yet, when they felt Our Punishment (coming), behold, they (tried to) flee from it.
PICKTHAL: And, when they felt Our might, behold them fleeing from it!

SHAKIR: So when they felt Our punishment, lo! they began to fly
KHALIFA: When our requital came to pass, they started to run.

১০। [হে মানুষ! ] আমি তো তোমাদের জন্য এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি যার মধ্য তোমাদের জন্য আছে উপদেশ। তবুও কি তোমরা বুঝবে না ?

রুকু – ২

১১। কত জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি তাদের পাপের জন্য, এবং তাদের স্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছি অন্য জাতিকে।

১২। তথাপি; যখন তারা অনুভব করেছিলো যে আমার শাস্তি [ আগত ] , দেখো, তারা সেখান থেকে পলায়নের [ চেষ্টা করে ] ২৬৭৩।

২৬৭৩। পাপীদের যখন বলা হয়েছিলো অনুতাপের মাধ্যমে আল্লাহ্‌র রাস্তায় ফিরে আসতে, তারা তা প্রত্যাখান করে। শুধু প্রত্যাখানই করে না, তারা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কিন্তু যখন তারা দেখে যে আল্লাহ্‌র শাস্তি নেমে আসছে, তখন তারা সভয়ে পলায়ন করতে থাকে।

কিন্তু আল্লাহ্‌র শাস্তি থেকে পলায়ন করা সুদূর পরাহত। কারণ অনুতাপ করার জন্য তখন তা অনেক দেরী হয়ে গেছে। আল্লাহ্‌র ক্রোধ থেকে তারা এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের কোথায় লুকাতে পারে ? পরের আয়াতে [ ২১ : ১৩ ] বিদ্রূপের সাথে তাদের সম্বোধন করা হয়েছে যে, ” যে গৃহকে তোমরা নিরাপদ ও স্থায়ী বলে চিন্তা করতে সেই গৃহের ভোগ সম্ভোগের দিকে ফিরে যাও।”

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ১৩)

পলায়ন করো না এবং ফিরে এস, যেখানে তোমরা বিলাসিতায় মত্ত ছিলে ও তোমাদের আবাসগৃহে; সম্ভবত; কেউ তোমাদের জিজ্ঞেস করবে।

Flee not, but return to that wherein you lived a luxurious life, and to your homes, in order that you may be questioned.

لَا تَرْكُضُوا وَارْجِعُوا إِلَى مَا أُتْرِفْتُمْ فِيهِ وَمَسَاكِنِكُمْ لَعَلَّكُمْ تُسْأَلُونَ

La tarkudoo wairjiAAoo ila ma otriftum feehi wamasakinikum laAAallakum tus-aloona

YUSUFALI: Flee not, but return to the good things of this life which were given you, and to your homes in order that ye may be called to account.

PICKTHAL: (But it was said unto them): Flee not, but return to that (existence) which emasculated you and to your dwellings, that ye may be questioned.

SHAKIR: Do not fly (now) and come back to what you were made to lead easy lives in and to your dwellings, haply you will be questioned.

KHALIFA: Do not run, and come back to your luxuries and your mansions, for you must be held accountable.

১৩। পলাইও না , বরং ফিরে এসো তোমাদের ভোগ সামগ্রীর দিকে এবং তোমাদের আবাসগৃহে, যেনো হিসাব গ্রহণের জন্য তোমাদের ডাকা যেতে পারে ২৬৭৪।

২৬৭৪। পূর্বের টিকা দেখুন। এখানে বলা হয়েছে , ” তোমরা ধারণা করেছিলে যে, তোমাদের আবাসস্থল অত্যন্ত আরামদায়ক ও নিরাপদ। এখন কেন সেখানে ফিরে যাচ্ছ না ? যেখানেই থাক জবাবদিহি তোমাদের অবশ্যই করতে হবে।

শাস্তি তোমাদের ভাগ্যলিপি হয়ে দাঁড়াবে – তোমাদের কৃত কর্মের দরুণ।” যখন আর অনুতাপ করার জন্য কোন সময় থাকবে না ; পাপীরা তখন হৃদয়ঙ্গম করবে তাদের অপরাধ। প্রকৃত সত্যকে তারা বুঝতে পারবে। কিন্তু তাদের এই অনুধাবন তাদের অনুতাপের জন্য অনেক দেরী হয়ে যাবে। তখন কোন কিছুই তাদের আল্লাহ্‌র ক্রোধ থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

সূরা আম্বিয়া

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ১৪)

তারা বললঃ হায়, দুর্ভোগ আমাদের, আমরা অবশ্যই পাপী ছিলাম।

They cried: ”Woe to us! Certainly! We have been Zâlimûn (polytheists, wrong-doers and disbelievers in the Oneness of Allâh, etc.).”

قَالُوا يَا وَيْلَنَا إِنَّا كُنَّا ظَالِمِينَ
Qaloo ya waylana inna kunna thalimeena

YUSUFALI: They said: “Ah! woe to us! We were indeed wrong-doers!”
PICKTHAL: They cried: Alas for us! we were wrong-doers.

SHAKIR: They said: O woe to us! surely we were unjust.
KHALIFA: They said, “Woe to us. We were really wicked.”

১৪। তারা বলেছিলো, ” হায় ! দুর্ভাগ্য আমাদের, সত্যিই আমরা ছিলাম পাপী।”

১৫। তাদের সে কান্না থামবে না, যতক্ষণ না আমি তাদের শষ্য কাটার পরের মাঠ সদৃশ্য এবং স্তব্ধ নির্বাপিত ছাই এর ন্যায় পরিণত করি ২৬৭৫।

২৬৭৫। পাপীদের আর্তনাদকে দুইটি উপমার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। পাপীরা যখন আল্লাহ্‌র শাস্তিকে প্রত্যক্ষ করবে, তখন তারা সভয়ে সেখান থেকে পলায়ন করতে চাইবে। কিন্তু সেদিন কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না। শুধু পাপীদের আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারাক্রান্ত হয়ে পড়বে। কিন্তু তাদের সেই আর্তনাদকে ধীরে ধীরে স্তব্ধ করে দেয়া হবে,

ঠিক সেই ভাবে, যে ভাবে পাকা শষ্যে ভরা মাঠ থেকে শষ্যকে কেটে অদৃশ্য করা হয় অথবা নির্বাপিত আগুন যে ভাবে ধীরে ধীরে নিভে যায়। তাদের আর্তনাদ স্তব্ধ হলেও তারা মৃত হবে না, কিন্তু তাদের ইচ্ছা হবে তারা যেনো নির্মূল হয়ে যায় বা ধ্বংস হয়ে যায় বা মরে যায়; দেখুন আয়াত [ ৭৮ : ৪০ ]।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ১৫)

তাদের এই আর্তনাদ সব সময় ছিল, শেষ পর্যন্ত আমি তাদেরকে করে দিলাম যেন কর্তিত শস্য ও নির্বাপিত অগ্নি।
And that cry of theirs ceased not, till We made them as a field that is reaped, extinct (dead).

فَمَا زَالَت تِّلْكَ دَعْوَاهُمْ حَتَّى جَعَلْنَاهُمْ حَصِيدًا خَامِدِينَ
Fama zalat tilka daAAwahum hatta jaAAalnahum haseedan khamideena

YUSUFALI: And that cry of theirs ceased not, till We made them as a field that is mown, as ashes silent and quenched.

PICKTHAL: And this their crying ceased not till We made them as reaped corn, extinct.

SHAKIR: And this ceased not to be their cry till We made them cut

KHALIFA: This continued to be their proclamation, until we completely wiped them out.

১৪। তারা বলেছিলো, ” হায় ! দুর্ভাগ্য আমাদের, সত্যিই আমরা ছিলাম পাপী।”

১৫। তাদের সে কান্না থামবে না, যতক্ষণ না আমি তাদের শষ্য কাটার পরের মাঠ সদৃশ্য এবং স্তব্ধ নির্বাপিত ছাই এর ন্যায় পরিণত করি ২৬৭৫।

২৬৭৫। পাপীদের আর্তনাদকে দুইটি উপমার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। পাপীরা যখন আল্লাহ্‌র শাস্তিকে প্রত্যক্ষ করবে, তখন তারা সভয়ে সেখান থেকে পলায়ন করতে চাইবে। কিন্তু সেদিন কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না।

শুধু পাপীদের আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারাক্রান্ত হয়ে পড়বে। কিন্তু তাদের সেই আর্তনাদকে ধীরে ধীরে স্তব্ধ করে দেয়া হবে, ঠিক সেই ভাবে, যে ভাবে পাকা শষ্যে ভরা মাঠ থেকে শষ্যকে কেটে অদৃশ্য করা হয় অথবা নির্বাপিত আগুন যে ভাবে ধীরে ধীরে নিভে যায়। তাদের আর্তনাদ স্তব্ধ হলেও তারা মৃত হবে না, কিন্তু তাদের ইচ্ছা হবে তারা যেনো নির্মূল হয়ে যায় বা ধ্বংস হয়ে যায় বা মরে যায়; দেখুন আয়াত [ ৭৮ : ৪০ ]।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ১৬)

আকাশ পৃথিবী এতদুভয়ের মধ্যে যা আছে, তা আমি ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করিনি।
We created not the heavens and the earth and all that is between them for a (mere) play .

وَمَا خَلَقْنَا السَّمَاء وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا لَاعِبِينَ
Wama khalaqna alssamaa waal-arda wama baynahuma laAAibeena

YUSUFALI: Not for (idle) sport did We create the heavens and the earth and all that is between!

PICKTHAL: We created not the heaven and the earth and all that is between them in play.

SHAKIR: And We did not create the heaven and the earth and what is between them for sport.

KHALIFA: We did not create the heavens and the earth, and everything between them just for amusement.

১৬। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং এর মধ্যবর্তী যা কিছু , আমি তা [ অলস ] ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করি নাই ২৬৭৬।

২৬৭৬। হিন্দু ধর্মে বলা হয় পৃথিবীর সৃষ্টি ” ভগবানের লীলাখেলা ” – অর্থাৎ ভগবানের খেয়ালখূশী। কিন্তু ইসলামের বক্তব্য এ সম্বন্ধে সুস্পষ্ট। বিশ্বব্রহ্মান্ডের সৃষ্টি হয়েছে আল্লাহ্‌র আইনকে মানার জন্য, আল্লাহ্‌র আইন ও বিধানকে প্রতিষ্ঠার জন্য।

সত্য , পূণ্য, করুণা, ন্যায়পরায়ণতা ইত্যাদি বিভিন্ন গুণাবলী আল্লাহ্‌র নামেরই গুণবাচক শব্দ। পৃথিবীতে যা কিছু সত্য ও সুন্দর তাই আল্লাহ্‌র বিশেষণ। আর এ সব প্রতিষ্ঠার জন্যই পৃথিবীকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি তার সৃষ্টির সাথে তামাশা কৌতুক করেন না।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ১৭)

আমি যদি ক্রীড়া উপকরণ সৃষ্টি করতে চাইতাম, তবে আমি আমার কাছে যা আছে তা দ্বারাই তা করতাম, যদি আমাকে করতে হত।

Had We intended to take a pastime (i.e. a wife or a son, etc.), We could surely have taken it from Us, if We were going to do (that).

لَوْ أَرَدْنَا أَن نَّتَّخِذَ لَهْوًا لَّاتَّخَذْنَاهُ مِن لَّدُنَّا إِن كُنَّا فَاعِلِينَ

Law aradna an nattakhitha lahwan laittakhathnahu min ladunna in kunna faAAileena

YUSUFALI: If it had been Our wish to take (just) a pastime, We should surely have taken it from the things nearest to Us, if We would do (such a thing)!

PICKTHAL: If We had wished to find a pastime, We could have found it in Our presence – if We ever did.

SHAKIR: Had We wished to make a diversion, We would have made it from before Ourselves: by no means would We do (it).

KHALIFA: If we needed amusement, we could have initiated it without any of this, if that is what we wanted to do.

১৭। যদি [ শুধুমাত্র ] ক্রীড়াকৌতুকই আমার মনঃষ্কামনা হতো ,তবে আমার নিকটবর্তী যে সব জিনিষ আছে তা দিয়েই তা করতাম ২৬৭৭।

২৬৭৭। যদি আল্লাহ্‌র সম্বন্ধে খেলাধূলার ধারণা দেয়া হয়, তবে তার জন্য মানুষের মত নশ্বর দেহধারীর প্রয়োজন ছিলো না। মাটির তৈরী মানুষ অপেক্ষা আলোর তৈরী তাঁর নিকটবর্তীদের নিয়েই তিনি খেলাধূলা করতেন। সুতারাং মানুষ সৃষ্টি খেলাধূলার জন্য এ এক অবান্তর ধারণা।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ১৮)

বরং আমি সত্যকে মিথ্যার উপর নিক্ষেপ করি, অতঃপর সত্য মিথ্যার মস্তক চুর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়, অতঃপর মিথ্যা তৎক্ষণাৎ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। তোমরা যা বলছ, তার জন্যে তোমাদের দুর্ভোগ।

Nay, We fling (send down) the truth (this Qur’ân) against the falsehood (disbelief), so it destroys it, and behold, it (falsehood) is vanished. And woe to you for that (lie) which you ascribe (to Us) (against Allâh by uttering that Allâh has a wife and a son).

بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌ وَلَكُمُ الْوَيْلُ مِمَّا تَصِفُونَ

Bal naqthifu bialhaqqi AAala albatili fayadmaghuhu fa-itha huwa zahiqun walakumu alwaylu mimma tasifoona

YUSUFALI: Nay, We hurl the Truth against falsehood, and it knocks out its brain, and behold, falsehood doth perish! Ah! woe be to you for the (false) things ye ascribe (to Us).

PICKTHAL: Nay, but We hurl the true against the false, and it doth break its head and lo! it vanisheth. And yours will be woe for that which ye ascribe (unto Him).

SHAKIR: Nay! We cast the truth against the falsehood, so that it breaks its head, and lo! it vanishes; and woe to you for what you describe;

KHALIFA: Instead, it is our plan to support the truth against falsehood, in order to defeat it. Woe to you for the utterances you utter.

১৮। আমি সত্য দ্বারা মিথ্যাকে আঘাত করি, ফলে উহা মিথ্যাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয় এবং দেখো, মিথ্যা ধ্বংস হয়ে যায়। হায়! দুর্ভোগ তোমাদের। তোমরা [ আমার ] সম্বন্ধে যে মিথ্যা আরোপ করছো তার জন্য ২৬৭৮।

২৬৭৮। পৃথিবীতে বিভিন্ন সময়ে আল্লাহ্‌র নামে মিথ্যা আরোপ করা হয় যেমন ১) আল্লাহ্‌র সাথে অংশীদার কল্পনা করা হয় [ ২১ : ২২ ] অথবা ২) আল্লাহ্‌র ছেলে আছে [ ২১ : ২৬ ] অথবা ৩) আল্লাহ্‌র কন্যা সন্তান আছে [ ১৬: ৫৭ ]। এ সমস্ত আল্লাহ্‌র নামে মিথ্যা আরোপ করা যা অসম্মানজনক। এই আয়াতে বলা হয়েছে এসব মিথ্যার অন্ধকার সত্যের আলোর অবির্ভাবে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় বা বিদূরিত হয়।

উপদেশ : যদি আয়াতটির অর্থ ব্যপক অর্থে ধরা যায়, তাহলে দেখা যাবে যে, পৃথিবীতে মিথ্যার স্থায়ীত্ব স্বল্পকালীন। সত্যের দ্বারা মিথ্যা সর্বদা পরাজিত ও বিদূরীত হয়। এই হচ্ছে আল্লাহ্‌র অমোঘ আইন। ” আমি সত্য দ্বারা আঘাত হানি মিথ্যার উপর ফলে উহা মিথ্যাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়। “

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ১৯)

নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলে যারা আছে, তারা তাঁরই। আর যারা তাঁর সান্নিধ্যে আছে তারা তাঁর ইবাদতে অহংকার করে না এবং অলসতাও করে না।

To Him belongs whosoever is in the heavens and on earth. And those who are near Him (i.e. the angels) are not too proud to worship Him, nor are they weary (of His worship).

وَلَهُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ عِندَهُ لَا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَلَا يَسْتَحْسِرُونَ

Walahu man fee alssamawati waal-ardi waman AAindahu la yastakbiroona AAan AAibadatihi wala yastahsiroona

YUSUFALI: To Him belong all (creatures) in the heavens and on earth: Even those who are in His (very) Presence are not too proud to serve Him, nor are they (ever) weary (of His service):

PICKTHAL: Unto Him belongeth whosoever is in the heavens and the earth. And those who dwell in His presence are not too proud to worship Him, nor do they weary;

SHAKIR: And whoever is in the heavens and the earth is His; and those who are with Him are not proud to serve Him, nor do they grow weary.

KHALIFA: To Him belongs everyone in the heavens and the earth, and those at Him are never too arrogant to worship Him, nor do they ever waver.

১৯। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সকল [ প্রাণী ] আল্লাহ্‌র অধীনে। যারা তাঁর সান্নিধ্যে রয়েছে তারাও তাঁর এবাদত করতে অহংকার বোধ করে না, [ এমনকি ] ক্লান্তিও বোধ করে না ,২৬৭৯

২০। তারা দিবা -রাত্র তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছে। তারা অবসন্ন হয় না বা বন্ধ করে না।

২৭৭৯। ফেরেশতাকূল যারা আলোর সৃষ্টি, তারা আল্লাহ্‌র সিংহাসনকে ঘিরে সর্বদা আল্লাহ্‌র গুণগানে নিমগ্ন। ” তারাও তার এবাদত করতে অহংকার বোধ করে না ” আল্লাহ্‌ অবস্থান সুউচ্চ সব কিছুর উর্দ্ধে।

সূরা আম্বিয়া

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ২০)

তারা রাত্রিদিন তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করে এবং ক্লান্ত হয় না।

They (i.e. the angels) glorify His Praises night and day, (and) they never slacken (to do so).

يُسَبِّحُونَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ لَا يَفْتُرُونَ

Yusabbihoona allayla waalnnahara la yafturoona

YUSUFALI: They celebrate His praises night and day, nor do they ever flag or intermit.
PICKTHAL: They glorify (Him) night and day; they flag not.

SHAKIR: They glorify (Him) by night and day; they are never languid.
KHALIFA: They glorify night and day, without ever tiring.

১৯। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সকল [ প্রাণী ] আল্লাহ্‌র অধীনে। যারা তাঁর সান্নিধ্যে রয়েছে তারাও তাঁর এবাদত করতে অহংকার বোধ করে না, [ এমনকি ] ক্লান্তিও বোধ করে না ,২৬৭৯

২০। তারা দিবা -রাত্র তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছে। তারা অবসন্ন হয় না বা বন্ধ করে না।

২৭৭৯। ফেরেশতাকূল যারা আলোর সৃষ্টি, তারা আল্লাহ্‌র সিংহাসনকে ঘিরে সর্বদা আল্লাহ্‌র গুণগানে নিমগ্ন। ” তারাও তার এবাদত করতে অহংকার বোধ করে না ” আল্লাহ্‌ অবস্থান সুউচ্চ সব কিছুর উর্দ্ধে।

আরও দেখুনঃ 

সূরা আম্বিয়া পার্ট-২

সূরা ত্বোয়া-হা পার্ট-৬

সূরা ত্বোয়া-হা পার্ট-৫

সূরা ত্বোয়া-হা পার্ট-৪

সূরা ত্বোয়া-হা পার্ট-৩

সূরা ত্বোয়া-হা পার্ট-২

সূরা আম্বিয়া – উইকিপিডিয়া

 

Leave a Comment