সূরা আম্বিয়া পার্ট-২ [অনেক নবীর কথা বর্ণনা রয়েছে ] সূরা ২১। কুরআন ।

সূরা আম্বিয়া পার্ট-২ , সূরা আম্বিয়া(আরবি: سورة الأنبياء‎‎ “নবীগণ”) মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের একুশতম সূরা। এই সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ১১২ টি।

সূরা আম্বিয়া পার্ট-২

সূরা আম্বিয়া পার্ট-২
সূরা আম্বিয়া

সূরা আম্বিয়া

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ২১)

তারা কি মৃত্তিকা দ্বারা তৈরী উপাস্য গ্রহণ করেছে, যে তারা তাদেরকে জীবিত করবে?
Or have they taken (for worship) âliha (gods) from the earth who raise the dead?

أَمِ اتَّخَذُوا آلِهَةً مِّنَ الْأَرْضِ هُمْ يُنشِرُونَ

Ami ittakhathoo alihatan mina al-ardi hum yunshiroona

YUSUFALI: Or have they taken (for worship) gods from the earth who can raise (the dead)?

PICKTHAL: Or have they chosen gods from the earth who raise the dead?

SHAKIR: Or have they taken gods from the earth who raise (the dead).

KHALIFA: Have they found gods on earth who can create?

২১। ওরা মাটি থেকে তৈরী যে সব দেবতা [ এবাদতের জন্য ] গ্রহণ করেছে, তারা কি [ মৃতকে ] জীবিত করতে সক্ষম? ২৬৮০ , ২৬৮১

২৬৮০। বিশ্ব ভূবনের মালিক শুধুমাত্র এক আল্লাহ্‌। কিন্তু মানুষ আল্লাহ্‌ ব্যতীত বহু ইলাহ্ এর এবাদত করতে ভালোবাসে। আর এসব বহু ইলাহ্‌ তার নিজেরই মনের কল্পনা প্রসূত। আয়াত [ ২১ : ২৩ ] পর্যন্ত এই সব বহু ইলাহ্‌ এদের সম্বন্ধে বলা হয়েছে। এ সব ইলাহ্‌ কখনও হয় মাটির তৈরী দেব মূর্তি, কখনও ভক্তির পাত্রপাত্রী,

কখনও স্থানীয় লোকদের পূজনীয় , কখনও জাতীয় বীর, বিশেষ প্রাণী বা বিশাল মহীরূহ অথবা প্রাকৃতিক শক্তি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন জাতি যুগে যুগে এরূপ মনগড়া ইলাহ্‌ এর পূঁজা করেছে বা করে। কিন্তু আল্লাহ্‌ বলছেন যে, এসব দেব-দেবী বা পূজনীয় ঈশ্বর ক্ষমতাহীন। এদের প্রতি যে ক্ষমতা আরোপ করা হয়, তা তাদের ভক্তদের সৃষ্টি মাত্র।

২৬৮১। ” মৃতকে জীবিত করিতে সক্ষম ? ” উত্তর অবশ্যই হবে ” না ” আল্লাহ্‌ ব্যতীত এ ক্ষমতা আর কারও নাই। যীশু খৃষ্টকে আল্লাহ্‌ এই অলৌকিক ক্ষমতা দান করেছিলেন। দেখুন যীশু খৃষ্টের অলৌকিক ক্ষমতা বা মোজেজা [ ৩ : ৪৯ এবং ৫ : ১১৩ ] আয়াত। কিন্তু যীশু খৃষ্টের এই অলৌকিক ক্ষমতা তার নিজস্ব কোন ক্ষমতা নয়, এ ক্ষমতা তাকে আল্লাহ্‌ দান করেছিলেন। এটা ছিলো আল্লাহ্‌র অলৌকিক ক্ষমতার প্রকাশ যীশুর মাধ্যমে। পৃথিবীর সব ক্ষমতার মালিক একমাত্র আল্লাহ্‌।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ২২)

যদি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলে আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য উপাস্য থাকত, তবে উভয়ের ধ্বংস হয়ে যেত। অতএব তারা যা বলে, তা থেকে আরশের অধিপতি আল্লাহ পবিত্র।

Had there been therein (in the heavens and the earth) gods besides Allâh, then verily both would have been ruined. Glorified be Allâh, the Lord of the Throne, (High is He) above what they attribute to Him!

لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا فَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ

Law kana feehima alihatun illa Allahu lafasadata fasubhana Allahi rabbi alAAarshi AAamma yasifoona

YUSUFALI: If there were, in the heavens and the earth, other gods besides Allah, there would have been confusion in both! but glory to Allah, the Lord of the Throne: (High is He) above what they attribute to Him!

PICKTHAL: If there were therein gods beside Allah, then verily both (the heavens and the earth) had been disordered. Glorified be Allah, the Lord of the Throne, from all that they ascribe (unto Him).

SHAKIR: If there had been in them any gods except Allah, they would both have certainly been in a state of disorder; therefore glory be to Allah, the Lord of the dominion, above what they attribute (to Him).

KHALIFA: If there were in them (the heavens and the earth) other gods beside GOD, there would have been chaos. Glory be to GOD; the Lord with absolute authority. He is high above their claims.

২২। আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবীতে আল্লাহ্‌ ব্যতীত যদি অন্য উপাস্য থাকতো , তবে সেখানে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করতো ২৬৮২। আরশের অধিপতি আল্লাহ্‌ মহান পবিত্র। তারা যা আরোপ করে তিনি তার [ বহু উর্দ্ধে ]।

২৬৮২। পৌত্তলিক হিন্দুদের তেত্রিশ কোটি দেব দেবী। প্রাচীন বহু ধর্মে দেখা যায় দেব-দেবীর আধিক্য; যেমন গ্রীকদের বহু দেব-দেবী বিদ্যমান ছিলো। এ সব দেব দেবীদের কাহিনী হচ্ছে পরস্পরের প্রতি শত্রুতা , যুদ্ধ ইত্যাদি।

হিন্দুদের পৌরাণিক কাহিনী ও গ্রীকদের কাহিনী হচ্ছে পরস্পরের এই শত্রুতা, বিদ্বেষ ও যুদ্ধের কাহিনী। যদি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে আল্লাহ্‌ ব্যতীত বহু ইলাহ্‌ থাকতো, তবে তাদের ঝগড়া-ঝাটি এবং যুদ্ধের পরিণতিতে সকল বিশ্ব ব্রহ্মান্ড ধ্বংস হয়ে যেতো বা পৃথিবী এক কুরুক্ষেত্রে পরিণত হতো।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ২৩)

তিনি যা করেন, তৎসম্পর্কে তিনি জিজ্ঞাসিত হবেন না এবং তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে।
He cannot be questioned as to what He does, while they will be questioned.

لَا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ
La yus-alu AAamma yafAAalu wahum yus-aloona

YUSUFALI: He cannot be questioned for His acts, but they will be questioned (for theirs).
PICKTHAL: He will not be questioned as to that which He doeth, but they will be questioned.

SHAKIR: He cannot be questioned concerning what He does and they shall be questioned.
KHALIFA: He is never to be asked about anything He does, while all others are questioned.

২৩। তাঁর কাজের জন্য তাঁকে প্রশ্ন করা যাবে না , বরং [ তাদেরকে ] প্রশ্ন করা হবে ২৬৮৩।

২৬৮৩। আল্লাহ্‌ স্বয়ং সম্পূর্ণ ও স্বনির্ভর। বিশ্ব সংসারের সকল জীবনকে তাঁর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। আল্লাহ্‌ কারও কাছে জবাবদিহি করবেন না। সকলেই তাঁর উপরে নির্ভরশীল , তিনি কারও উপরে নির্ভরশীল নন।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ২৪)

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ২৫)

২৪। অথবা ওরা কি আল্লাহ্‌ ব্যতীত [ অন্য ] উপাস্য গ্রহণ করেছে ? ২৬৮৪। বল, ” তোমাদের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থিত কর। ইহা আমার সাথে যারা আছে তাদের জন্য উপদেশ এবং আমার পূর্বে যারা ছিলো তাদের জন্য উপদেশ ” ২৬৮৫। কিন্তু ওদের অধিকাংশই প্রকৃত সত্য জানে না , ফলে তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়।

আপনার পূর্বে আমি যে রাসূলই প্রেরণ করেছি, তাকে এ আদেশই প্রেরণ করেছি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। সুতরাং আমারই এবাদত কর।

And We did not send any Messenger before you (O Muhammad SAW) but We inspired him (saying): Lâ ilâha illa Ana [none has the right to be worshipped but I (Allâh)], so worship Me (Alone and none else).”

وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ

Wama arsalna min qablika min rasoolin illa noohee ilayhi annahu la ilaha illa ana faoAAbudooni

YUSUFALI: Not a messenger did We send before thee without this inspiration sent by Us to him: that there is no god but I; therefore worship and serve Me.

PICKTHAL: And We sent no messenger before thee but We inspired him, (saying): There is no Allah save Me (Allah), so worship Me.

SHAKIR: And We did not send before you any messenger but We revealed to him that there is no god but Me, therefore serve Me.

KHALIFA: We did not send any messenger before you except with the inspiration: “There is no god except Me; you shall worship Me alone.”

২৫। আমি তোমার পূর্বে এমন কোন রাসুল প্রেরণ করি নাই, তার প্রতি এই ওহী ব্যতীত যে , আমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই। সুতারাং আমার এবাদত কর এবং আনুগত্য কর।

২৬৮৪। উপরের টিকা ২৬৮২ তে দুধরণের ইলাহ্‌ বা মিথ্যা উপাস্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যদি এই দুধরণের মিথ্যা উপাস্য থাকতো তবে তার পরিণতির উল্লেখ করা হয়েছে। এই আয়াতে বহু উপাস্যের ফলে তৃতীয় আর এক পরিণতি বা ক্ষতির উল্লেখ করা হয়েছে।

আরব মোশরেকরা বহু উপাস্যের উদ্ভাবনে ছিলো উর্বর মস্তিষ্ক। কিন্তু তা ছিলো প্রকৃত সত্য থেকে বহুদূর। নীচের [২৬ ] আয়াতে চতুর্থ আর এক ধরণের উপাস্যের ব্যাপারে সাবধান করা হয়েছে। যারা ধারণা করে আল্লাহ্‌র পুত্র সন্তান পৃথিবীতে জন্ম গ্রহণ করেছে এবং আল্লাহ্‌র পরিবর্তে তাই হচ্ছে উপাস্য।

২৬৮৫। এই আয়াতটি [ ২৪ ] পরবর্তী [২৫ ] আয়াতের সাথে সমন্বিত করে পড়তে হবে। পূর্ববর্তী আয়াতগুলিতে এ কথাই বলা হয়েছে যে, বহু উপাস্যের ধারণা পরস্পর বিরোধী ধারণা যা সৃষ্টিকে রক্ষা করার পরিবর্তে ধ্বংস করে দেবে। সমস্ত সৃষ্টি আল্লাহ্‌র একত্বের দিকে নির্দ্দেশ করে।

এই একত্ববাদের ধারণা শুধু যে ইসলামে বিদ্যমান তা নয়। শুধু যে হযরত মুহম্মদ [সা] এই বাণী প্রচার করেছেন তা নয়; এই আয়াতে রসুলুল্লাহ্‌ [সা] বলছেন যে তার পূর্ববর্তী নবী ও রসুলেরাও এই একই একত্ববাদের প্রচার করে গেছেন।

প্রচারক হিসেবে হযরত মুহম্মদ [ সা ] শেষ নবী। সৃষ্টির আদিতে হযরত আদম থেকে শেষ নবী হযরত মুহম্মদ [সা] পর্যন্ত আল্লাহ্‌র একত্বের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সকল নবী ও রসুলদের প্রত্যাদেশের মর্মবাণীই ছিলো আল্লাহ্‌র একত্বের ঘোষণা। পৃথিবীতে আধ্যাত্মিক , নৈতিক, জাগতিক সকল বিষয়বস্তুর মূল সূত্র হচ্ছে আল্লাহ্‌র একত্বে বিশ্বাস থেকে উদ্ভুদ।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ২৬)

তারা বললঃ দয়াময় আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছে। তাঁর জন্য কখনও ইহা যোগ্য নয়; বরং তারা তো তাঁর সম্মানিত বান্দা।

And they say: ”The Most Beneficent (Allâh) has begotten a son (or children).” Glory to Him! They [those whom they call children of Allâh i.e. the angels, ’Iesa (Jesus) son of Maryam (Mary), ’Uzair (Ezra), etc.], are but honoured slaves.

وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَدًا سُبْحَانَهُ بَلْ عِبَادٌ مُّكْرَمُونَ

Waqaloo ittakhatha alrrahmanu waladan subhanahu bal AAibadun mukramoona

YUSUFALI: And they say: “(Allah) Most Gracious has begotten offspring.” Glory to Him! they are (but) servants raised to honour.

PICKTHAL: And they say: The Beneficent hath taken unto Himself a son. Be He Glorified! Nay, but (those whom they call sons) are honoured slaves;

SHAKIR: And they say: The Beneficent Allah has taken to Himself a ! son. Glory be to Him. Nay! they are honored servants

KHALIFA: Yet, they said, “The Most Gracious has begotten a son!” Glory be to Him. All (messengers) are (His) honored servants.

২৬। এবং তারা বলেছিলো, ” পরম করুণাময় [আল্লাহ্‌ ] সন্তান গ্রহণ করেছেন। তিনি পবিত্র, মহান ! তাঁরা তো কেবল সম্মানিত বান্দা ২৬৮৬।

২৬৮৬। ” পরম করুণাময় [আল্লাহ্‌] সন্তান গ্রহণ করেছেন ” – এই বাক্যটি দ্বারা খৃষ্টানদের “ট্রিনিটির” ধারণা ও আবর মোশরেকদের ধারণা যে দেবদূতেরা আল্লাহ্‌র কন্যা প্রকাশ করা হয়েছে, এই উভয় ধারণাকে সন্তান কথাটির দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে। এ সকল ধারণা হচ্ছে কুসংস্কার যা আল্লাহ্‌র মাহাত্ম্যকে খর্ব করে।

নবী ও রসুল এবং ফেরেশতারা আল্লাহ্‌র অনুগত ভৃত্য বই আর কিছু নয়। নবী ও রসুলেরা আল্লাহ্‌র সম্মানিত বান্দা , সুতারাং তারা আমাদের নিকট সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মানের পাত্র। কিন্তু তাই বলে আল্লাহ্‌র পুত্র হিসেবে উপাস্য নয়।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ২৭)

তারা আগে বেড়ে কথা বলতে পারে না এবং তারা তাঁর আদেশেই কাজ করে।
They speak not until He has spoken, and they act on His Command.

لَا يَسْبِقُونَهُ بِالْقَوْلِ وَهُم بِأَمْرِهِ يَعْمَلُونَ
La yasbiqoonahu bialqawli wahum bi-amrihi yaAAmaloona

YUSUFALI: They speak not before He speaks, and they act (in all things) by His Command.

PICKTHAL: They speak not until He hath spoken, and they act by His command.

SHAKIR: They do not precede Him in speech and (only) according to His commandment do they act.

KHALIFA: They never speak on their own, and they strictly follow His commands.

২৭। তিনি কথা বলার পূর্বে তারা কথা বলে না ২৬৮৭। তারা [ সকল ব্যাপারে ] তার আদেশ অনুসারে কাজ করে।

২৬৮৭। আল্লাহ্‌র প্রেরিত নবী ও রসুলেরা আল্লাহ্‌র হুকুম ব্যতীত কোন বার্তা বা বাণী প্রচার করেন না। তাদের জীবনের সকল ক্রিয়াকর্ম আল্লাহ্‌র হুকুম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেন্ট জনের গসপেলে যীশু ঠিক এই কথা বলেছেন, [xii 49 – 50 ]

সূরা আম্বিয়া

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ২৮)

তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা আছে, তা তিনি জানেন। তারা শুধু তাদের জন্যে সুপারিশ করে, যাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট এবং তারা তাঁর ভয়ে ভীত।

He knows what is before them, and what is behind them, and they cannot intercede except for him with whom He is pleased. And they stand in awe for fear of Him.

يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَى وَهُم مِّنْ خَشْيَتِهِ مُشْفِقُونَ

YaAAlamu ma bayna aydeehim wama khalfahum wala yashfaAAoona illa limani irtada wahum min khashyatihi mushfiqoona

YUSUFALI: He knows what is before them, and what is behind them, and they offer no intercession except for those who are acceptable, and they stand in awe and reverence of His (Glory).

PICKTHAL: He knoweth what is before them and what is behind them, and they cannot intercede except for him whom He accepteth, and they quake for awe of Him.

SHAKIR: He knows what is before them and what is behind them, and they do not intercede except for him whom He approves and for fear of Him they tremble.

KHALIFA: He knows their future and their past. They do not intercede, except for those already accepted by Him, and they are worried about their own necks.

২৮। তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা কিছু আছে তা তিনি অবগত। তাঁরা সুপারিশ করে শুধু তাদের জন্য যাদের প্রতি আল্লাহ্‌ সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহ্‌র প্রতি ভয়ে সশ্রদ্ধ ভীত ২৬৮৮, ২৬৮৯।

২৬৮৮। দেখুন আয়াত [ ২০: ১০৯ ] যারা আল্লাহ্‌র ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পন করে আল্লাহ্‌ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট। যারা আল্লাহ্‌র ইচ্ছা অর্থাৎ তাঁর আইন বা বিধানকে পৃথিবীতে মেনে চলে, তারাই আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভ করে।

২৬৮৯। “তাঁরা ” বিশেষণটি তাঁদের সম্বন্ধেই ব্যবহার করা হয়েছে যারা সুপারিশ করে থাকেন। এরা সকলেই আল্লাহ্‌র একান্ত অনুগত ভৃত্য। আবার ” তাঁরা” বিশেষণটি তাদের জন্যও ব্যবহৃত হতে পারে যারা সুপারিশের জন্য আকুল আগ্রহে অপেক্ষা করেন। তারা সুপারিশকে তাদের অধিকার বা প্রাপ্য বলে জানেন না। সুতারাং তারা ভীত ও সন্ত্রস্ত অবস্থায় অপেক্ষা করেন।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ২৯)

তাদের মধ্যে যে বলে যে, তিনি ব্যতীত আমিই উপাস্য, তাকে আমি জাহান্নামের শাস্তি দেব। আমি জালেমদেরকে এভাবেই প্রতিফল দিয়ে থাকি।

And if any of them should say: ”Verily, I am an ilâh (a god) besides Him (Allâh),” such a one We should recompense with Hell. Thus We recompense the Zâlimûn (polytheists and wrong-doers, etc.).

وَمَن يَقُلْ مِنْهُمْ إِنِّي إِلَهٌ مِّن دُونِهِ فَذَلِكَ نَجْزِيهِ جَهَنَّمَ كَذَلِكَ نَجْزِي الظَّالِمِينَ

Waman yaqul minhum innee ilahun min doonihi fathalika najzeehi jahannama kathalika najzee alththalimeena

YUSUFALI: If any of them should say, “I am a god besides Him”, such a one We should reward with Hell: thus do We reward those who do wrong.

PICKTHAL: And one of them who should say: Lo! I am a god beside Him, that one We should repay with hell. Thus We Repay wrong-doers.

SHAKIR: And whoever of them should say: Surely I am a god besides Him, such a one do We recompense with hell; thus do, We recompense the unjust.

KHALIFA: If any of them claims to be a god beside Him, we requite him with Hell; we thus requite the wicked.

২৯। যদি তাদের মধ্যে কেউ বলে, ” তিনি ব্যতীত আমি উপাস্য” তাকে আমি পুরষ্কার দিব্‌ জাহান্নাম। এ ভাবেই আমি যারা পাপ করে তাদের পুরষ্কৃত করে থাকি।

রুকু – ৩

৩০। অবিশ্বাসীরা কি দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী পৃথক হওয়ার পূর্বে সংযুক্ত ছিলো [ একক বস্তু হিসেবে ] ২৬৯০ ? আমি পানি থেকে সকল জীবিত প্রাণী সৃষ্টি করেছি ২৬৯১। এর পরেও কি তারা বিশ্বাস করবে না ?

২৬৯০। এই আয়াতে বির্বতনের মাধ্যমে বিশ্ব ব্রহ্মান্ড সৃষ্টির ইতিহাসের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতের সাথে এই আয়াতে আল্লাহ্‌ পৃথিবী ও বিশ্বব্রহ্মান্ড সৃষ্টি সম্বন্ধে যে ইঙ্গিত করেছেন তা অভিন্ন।

চৌদ্দশত বৎসর পূর্বে যখন বর্তমান বিজ্ঞান সম্বন্ধে মানুষের কোনও ধারণাই ছিলো না, তখন এই বৈজ্ঞানিক ধারণাই প্রমাণ করে এই মহাগ্রন্থ সেই বিশ্ব স্রষ্টার নিকট থেকে আগত। আধুনিক মতে সৃষ্টির আদিতে সূর্য , নক্ষত্র, আকাশ , পৃথিবী এদের কোন পৃথক সত্তা ছিলো না। মহাবিশ্ব ছিলো নিহারীকা নামক অসংখ্য গ্যাসীয় কণার সমষ্টি , যা পরবর্তীতে বহু অংশে বিভক্ত হয়ে , নক্ষত্রপুঞ্জ , সূর্য ও পৃথিবীর জন্ম দেয়।

২৬৯১। ” আমি পানি থেকে সকল জীবিত প্রাণী সৃষ্টি করেছি ” পৃথিবীর চার ভাগের তিন ভাগ পানি দ্বারা আবৃত। পৃথিবীর প্রায় ৭২% পানি দ্বারা আবৃত। যদি পৃথিবীর স্থলভাগকে সমানভাবে সমুদ্রের তলদেশ থেকে স্থলভাগে সমান ভাবে বিস্তৃত করা হতো – কোথাও কোন উঁচু নীচু থাকতো না, তবে হিসাব করে দেখা গেছে যে,

পৃথিবীতে কোনও স্থলাভাগ বিদ্যমান থাকতো না। সে সময়ে স্থলাভাগের যে গড় উচ্চতা হতো তা গড়ে ৭,০০০ – ১০,০০০ ফুট সমুদ্রের পানির নীচে থাকতো। এই উপাত্তকে তুলে ধরা হলো এজন্য যে সমস্ত পৃথিবীতে যে পানির আধিক্য বেশী তা বোঝানোর জন্য।

বর্তমানে জীব বিজ্ঞান বলে যে জীবনের আবির্ভাব ঘটে পানি থেকে যা চৌদ্দশ বছর পূর্বে কোরাণের ভাষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। জীব বিজ্ঞানের মতে সাগরের অভ্যন্তরে অর্থাৎ পানিতেই জীবনের মূল উপাদান প্রোটপ্লাজম থেকে জীবের প্রথম সৃষ্টি হয়।

আরও দেখা যায় যে , স্থলাভাগে মেরুদণ্ডী প্রাণীর দেহে এমন কিছু অংগ বিদ্যমান যা জলভাগের প্রাণী মাছেও বিদ্যমান। এ উপাত্ত এ সত্যের দিকে ইঙ্গিত করে যে, জীবনের প্রথম সৃষ্টি পানিতে। এখানে লক্ষণীয় যে প্রোটোপ্লাজমের ৮০ -৮৫ ই হচ্ছে পানি দ্বারা গঠিত।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৩০)

কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না?

Have not those who disbelieve known that the heavens and the earth were joined together as one united piece, then We parted them? And We have made from water every living thing. Will they not then believe?

أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاء كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ

Awa lam yara allatheena kafaroo anna alssamawati waal-arda kanata ratqan fafataqnahuma wajaAAalna mina alma-i kulla shay-in hayyin afala yu/minoona

YUSUFALI: Do not the Unbelievers see that the heavens and the earth were joined together (as one unit of creation), before we clove them asunder? We made from water every living thing. Will they not then believe?

PICKTHAL: Have not those who disbelieve known that the heavens and the earth were of one piece, then We parted them, and we made every living thing of water? Will they not then believe?

SHAKIR: Do not those who disbelieve see that the heavens and the earth were closed up, but We have opened them; and We have made of water everything living, will they not then believe?

KHALIFA: Do the unbelievers not realize that the heaven and the earth used to be one solid mass that we exploded into existence? And from water we made all living things. Would they believe?

রুকু – ৩

৩০। অবিশ্বাসীরা কি দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী পৃথক হওয়ার পূর্বে সংযুক্ত ছিলো [ একক বস্তু হিসেবে ] ২৬৯০ ? আমি পানি থেকে সকল জীবিত প্রাণী সৃষ্টি করেছি ২৬৯১। এর পরেও কি তারা বিশ্বাস করবে না ?

২৬৯০। এই আয়াতে বির্বতনের মাধ্যমে বিশ্ব ব্রহ্মান্ড সৃষ্টির ইতিহাসের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতের সাথে এই আয়াতে আল্লাহ্‌ পৃথিবী ও বিশ্বব্রহ্মান্ড সৃষ্টি সম্বন্ধে যে ইঙ্গিত করেছেন তা অভিন্ন।

চৌদ্দশত বৎসর পূর্বে যখন বর্তমান বিজ্ঞান সম্বন্ধে মানুষের কোনও ধারণাই ছিলো না, তখন এই বৈজ্ঞানিক ধারণাই প্রমাণ করে এই মহাগ্রন্থ সেই বিশ্ব স্রষ্টার নিকট থেকে আগত। আধুনিক মতে সৃষ্টির আদিতে সূর্য , নক্ষত্র, আকাশ , পৃথিবী এদের কোন পৃথক সত্তা ছিলো না। মহাবিশ্ব ছিলো নিহারীকা নামক অসংখ্য গ্যাসীয় কণার সমষ্টি , যা পরবর্তীতে বহু অংশে বিভক্ত হয়ে , নক্ষত্রপুঞ্জ , সূর্য ও পৃথিবীর জন্ম দেয়।

২৬৯১। ” আমি পানি থেকে সকল জীবিত প্রাণী সৃষ্টি করেছি ” পৃথিবীর চার ভাগের তিন ভাগ পানি দ্বারা আবৃত। পৃথিবীর প্রায় ৭২% পানি দ্বারা আবৃত। যদি পৃথিবীর স্থলভাগকে সমানভাবে সমুদ্রের তলদেশ থেকে স্থলভাগে সমান ভাবে বিস্তৃত করা হতো – কোথাও কোন উঁচু নীচু থাকতো না, তবে হিসাব করে দেখা গেছে যে, পৃথিবীতে কোনও স্থলাভাগ বিদ্যমান থাকতো না।

সে সময়ে স্থলাভাগের যে গড় উচ্চতা হতো তা গড়ে ৭,০০০ – ১০,০০০ ফুট সমুদ্রের পানির নীচে থাকতো। এই উপাত্তকে তুলে ধরা হলো এজন্য যে সমস্ত পৃথিবীতে যে পানির আধিক্য বেশী তা বোঝানোর জন্য। বর্তমানে জীব বিজ্ঞান বলে যে জীবনের আবির্ভাব ঘটে পানি থেকে যা চৌদ্দশ বছর পূর্বে কোরাণের ভাষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

জীব বিজ্ঞানের মতে সাগরের অভ্যন্তরে অর্থাৎ পানিতেই জীবনের মূল উপাদান প্রোটপ্লাজম থেকে জীবের প্রথম সৃষ্টি হয়। আরও দেখা যায় যে , স্থলাভাগে মেরুদণ্ডী প্রাণীর দেহে এমন কিছু অংগ বিদ্যমান যা জলভাগের প্রাণী মাছেও বিদ্যমান। এ উপাত্ত এ সত্যের দিকে ইঙ্গিত করে যে, জীবনের প্রথম সৃষ্টি পানিতে। এখানে লক্ষণীয় যে প্রোটোপ্লাজমের ৮০ -৮৫ ই হচ্ছে পানি দ্বারা গঠিত।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৩১)

আমি পৃথিবীতে ভারী বোঝা রেখে দিয়েছি যাতে তাদেরকে নিয়ে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে এবং তাতে প্রশস্ত পথ রেখেছি, যাতে তারা পথ প্রাপ্ত হয়।

And We have placed on the earth firm mountains, lest it should shake with them, and We placed therein broad highways for them to pass through, that they may be guided.

وَجَعَلْنَا فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَن تَمِيدَ بِهِمْ وَجَعَلْنَا فِيهَا فِجَاجًا سُبُلًا لَعَلَّهُمْ يَهْتَدُونَ

WajaAAalna fee al-ardi rawasiya an tameeda bihim wajaAAalna feeha fijajan subulan laAAallahum yahtadoona

YUSUFALI: And We have set on the earth mountains standing firm, lest it should shake with them, and We have made therein broad highways (between mountains) for them to pass through: that they may receive Guidance.

PICKTHAL: And We have placed in the earth firm hills lest it quake with them, and We have placed therein ravines as roads that haply they may find their way.

SHAKIR: And We have made great mountains in the earth lest it might be convulsed with them, and We have made in it wide ways that they may follow a right direction.

KHALIFA: And we placed on earth stabilizers, lest it tumbles with them, and we placed straight roads therein, that they may be guided.

৩১। আমি পৃথিবীতে স্থাপন করেছি সুদৃঢ় পর্বতমালা, যেনো তাদের নিয়ে পৃথিবী দুলতে না পারে ২৬৯২। এবং আমি সেখানে [ দুই পর্বতের মধ্যে ] প্রশস্ত বাণিজ্য পথের সৃষ্টি করেছি তাদের চলাচলের জন্য, যেনো তারা পথ নির্দ্দেশ লাভ করে ২৬৯৩।

২৬৯২। অনুরূপ আয়াতের জন্য দেখুন [ ১৬ : ১৫ ] আয়াত এবং টিকা ২০৩৮ এবং আয়াত [৭৮ : ৭ ]।

২৬৯৩। তারা শব্দটি দ্বারা সকল মনুষ্য সম্প্রদায়কে বোঝানো হয়েছে, তবে বিশেষভাবে ইঙ্গিত করা হয়েছে তাদের প্রতি যারা আল্লাহ্‌র করুণা ও দয়া অনুধাবনে অক্ষম। পাহাড় যা দুদেশের মাঝে প্রাচীরবৎ দাড়িয়ে থাকে। আল্লাহ্‌র অসীম করুণা পাহাড়ের মাঝের গিপিপথ তাদের সুউচ্চ পর্বতমালাকে অতিক্রমে সাহায্য করে।

তাদের ব্যবসা বাণিজ্যে সুবিধা হয় এবং বাণিজ্য শেষে গৃহে প্রত্যাবর্তন অধিক সহজ হয়। পূর্বের টিকাতে [ ২৬৯১] দেখুন পর্বতসমূহ সুউচ্চ না থাকলে সকল স্থলভাগ সমুদ্রের নীচে তলিয়ে যেতো। সুতারাং স্থলাভাগের জীবনের নিরাপত্তার জন্য পর্বতের সৃষ্টি। আবার টিকাতে [ ২০৩৮ ] দেখুন পর্বতমালা কিভাবে ভূগর্ভস্থ চলমান শিলাকে স্বস্থানে রাখতে সাহায্য করে – অন্যথায় পৃথিবীতে সর্বদা ভূমিকম্প লেগে থাকতো, ফলে সভ্যতার বিকাশ বাঁধাগ্রস্থ হতো।

পৃথিবীর বৃষ্টিপাত, বায়ু প্রবাহ বহু প্রকার প্রাকৃতিক ঘটনা সুউচ্চ পর্বতের সাথে জড়িত। এই আয়াতে বলা হয়েছে, ” যেনো তারা পথ নির্দ্দেশ লাভ করে ” বাক্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই বাক্যটির যেমন আক্ষরিক অর্থ বিদ্যমান ঠিক সেরূপ এর আছে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ মর্মার্থ। আক্ষরিক অর্থে মানুষ গিরিপথে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে,

বিদেশ ও স্বদেশের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হয়। আলঙ্কারিক বা উপমার্থে এর অর্থ হচ্ছে , আল্লাহ্‌র রাজ্যে এ সব সৃষ্টি মানুষকে চিন্তা করতে শেখাবে, আল্লাহ্‌র শক্তিকে অনুধাবনের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ ক্ষমতার বিশালতা, আল্লাহ্‌র দয়া ও করুণার ব্যপকতা অনুধাবন ক্ষমতা জন্মাবে। ফলে মানুষ হেদায়েতের আলোর সন্ধান লাভ করবে।

সুউচ্চ পর্বতের বাধা অতিক্রম করে গিরিপথ যেরূপ ব্যক্তিকে তার নিজ দেশে প্রত্যার্পনকে সহজ করে। ঠিক সেরূপ আল্লাহ্‌র ক্ষমতা , শক্তি , ও করুণা অনুধাবনের ফলে হেদায়েতের আলো লাভ করে মঞ্জিলে পৌঁছানো অনেক সহজ হয়ে যায়।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৩২)

আমি আকাশকে সুরক্ষিত ছাদ করেছি; অথচ তারা আমার আকাশস্থ নিদর্শনাবলী থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে।

And We have made the heaven a roof, safe and well guarded. Yet they turn away from its signs (i.e. sun, moon, winds, clouds, etc.).

وَجَعَلْنَا السَّمَاء سَقْفًا مَّحْفُوظًا وَهُمْ عَنْ آيَاتِهَا مُعْرِضُونَ
WajaAAalna alssamaa saqfan mahfoothan wahum AAan ayatiha muAAridoona

YUSUFALI: And We have made the heavens as a canopy well guarded: yet do they turn away from the Signs which these things (point to)!

PICKTHAL: And we have made the sky a roof withheld (from them). Yet they turn away from its portents.

SHAKIR: And We have made the heaven a guarded canopy and (yet) they turn aside from its signs.

KHALIFA: And we rendered the sky a guarded ceiling. Yet, they are totally oblivious to all the portents therein.

৩২। আমি আকাশকে সুরক্ষিত ছাদ হিসেবে বানিয়েছি ২৬৯৪। এ সব জিনিষ যার প্রতি [ নির্দ্দেশ করে ], নিদর্শন দেখার পরও তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

২৬৯৪। “সুরক্ষিত ছাদ ” – অর্থাৎ আকাশটা যেনো গৃহের ছাদের মত যা সুরক্ষিত যেনো পড়ে না যায়। সুউচ্চ আকাশ মহিমান্বিত রহস্যময় সৌন্দর্য্যের সৃষ্টি করে যার খুব অল্পই মানুষ অনুধাবন করতে পারে।

সব ক্ষতিকর শক্তি থেকে পৃথিবী আকাশ দ্বারা সুরক্ষিত। দেখুন [ ১৫ : ১৭ ]। আল্লাহ্‌র সৃষ্টিকে অনুধাবনের মাধ্যমেই একমাত্র আল্লাহ্‌র ক্ষমতা, সৃষ্টি নৈপুণ্য,জ্ঞান ও প্রজ্ঞা সৃষ্টির জন্য তাঁর করুণা দয়াকে অনুধাবন করা সম্ভব।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৩৩)

তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে।

And He it is Who has created the night and the day, and the sun and the moon, each in an orbit floating.

وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ

Wahuwa allathee khalaqa allayla waalnnahara waalshshamsa waalqamara kullun fee falakin yasbahoona

YUSUFALI: It is He Who created the Night and the Day, and the sun and the moon: all (the celestial bodies) swim along, each in its rounded course.

PICKTHAL: And He it is Who created the night and the day, and the sun and the moon. They float, each in an orbit.

SHAKIR: And He it is Who created the night and the day and the sun and the moon; all (orbs) travel along swiftly in their celestial spheres.

KHALIFA: And He is the One who created the night and the day, and the sun and the moon; each floating in its own orbit.

৩৩। তিনিই রাত্রি ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র সৃষ্টি করেছেন। সকল [ স্বর্গীয় বস্তু ] নিজ নিজ কক্ষ পথে বিচরণ করে ২৬৯৫।

২৬৯৫। এই আয়াতটি অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক ধ্যান ধারণা সম্বলিত। আজ থেকে চৌদ্দশত বৎসর পূর্বে এই আয়াতটি রাত্রি দিবস কথাটি দ্বারা পৃথিবীর আহ্নিক গতি এবং পৃথিবী সূর্য ও চন্দ্রের নিজস্ব কক্ষপথ পরিক্রমের দিকে ইঙ্গিত করে যা সেসময়ে ছিলো ধারণারও বাইরে। এটিও আল্লাহ্‌র করুণারই আর এক স্বাক্ষর।

সূরা আম্বিয়া

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৩৪)

আপনার পূর্বেও কোন মানুষকে আমি অনন্ত জীবন দান করিনি। সুতরাং আপনার মৃত্যু হলে তারা কি চিরঞ্জীব হবে?

And We granted not to any human being immortality before you (O Muhammad SAW), then if you die, would they live forever?

وَمَا جَعَلْنَا لِبَشَرٍ مِّن قَبْلِكَ الْخُلْدَ أَفَإِن مِّتَّ فَهُمُ الْخَالِدُونَ

Wama jaAAalna libasharin min qablika alkhulda afa-in mitta fahumu alkhalidoona

YUSUFALI: We granted not to any man before thee permanent life (here): if then thou shouldst die, would they live permanently?

PICKTHAL: We appointed immortality for no mortal before thee. What! if thou diest, can they be immortal!

SHAKIR: And We did not ordain abiding for any mortal before you. What! Then if you die, will they abide?

KHALIFA: We never decreed immortality for anyone before you; should you die, are they immortal?

৩৪। [ পৃথিবীতে ] তোমার পূর্বেও কোন মানুষকে অনন্ত জীবন দান করা হয় নাই ২৬৯৬। সুতারাং তোমার মৃত্যু হলে ওরা কি চিরদিন বেঁচে থাকবে ?

২৬৯৬। যেদিনই মানব শিশু পৃথিবীতে জন্ম লাভ করে ,তার পর থেকেই শুরু হয় তার মৃত্যুর দিকে পথযাত্রা। প্রতিটি জীবন মানেই মৃত্যু। নবী রসুলেরাও এর ব্যতিক্রম নয়। কাফেররা হযরত মুহম্মদকে [সা] বিদ্রূপ করতো যে তিনি যদি সত্য নবী হন তবে মৃত্যু তাঁকে স্পর্শ করবে না। এরই প্রেক্ষিতে উক্ত আয়াত নাজেল হয়।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৩৫)

প্রত্যেককে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভাল দ্বারা পরীক্ষা করে থাকি এবং আমারই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।

Everyone is going to taste death, and We shall make a trial of you with evil and with good, and to Us you will be returned.

كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ وَنَبْلُوكُم بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً وَإِلَيْنَا تُرْجَعُونَ

Kullu nafsin tha-iqatu almawti wanablookum bialshsharri waalkhayri fitnatan wa-ilayna turjaAAoona

YUSUFALI: Every soul shall have a taste of death: and We test you by evil and by good by way of trial. to Us must ye return.

PICKTHAL: Every soul must taste of death, and We try you with evil and with good, for ordeal. And unto Us ye will be returned.

SHAKIR: Every soul must taste of death and We try you by evil and good by way of probation; and to Us you shall be brought back.

KHALIFA: Every person will taste death, after we put you to the test through adversity and prosperity, then to us you ultimately return.

৩৫। প্রতিটি আত্মাকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে ২৬৯৭। আমি তোমাদের মন্দ ও ভালো দ্বারা পরীক্ষা করে থাকি। আমারই নিকট তোমরা ফিরে আসবে।

২৬৯৭। দেখুন অনুরূপ আয়াত [ ৩ : ১৮৫ ] এবং টিকা ৪৯১। আত্মা চিরঞ্জীব, অমর। কারণ আত্মা তো সেই পরমাত্মার অংশ। আল্লাহ্‌ আদম সৃষ্টির আদিতে মৃত্তিকার তৈরী নশ্বর দেহে রুহু বা আত্মা দান করেছেন [ ১৫ : ২৯] ][৩২:৯], [৩৮:৭২]। সময়ের পরিক্রমায় এই নশ্বর দেহ বার্দ্ধক্য ,

জরা, রোগে আক্রান্ত হয় এবং একদিন আত্মা এই বার্দ্ধক্য ও জরা পীড়িত দেহ ত্যাগ করে মৃত্যুর সিংহদুয়ার অতিক্রম করে এবং পরলোকে যাত্রা করে। যে আত্মা সুদীর্ঘকাল দেহের খাঁচায় বন্দী থেকে দেহের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়; মৃত্যুর মাধ্যমে আত্মা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

নশ্বর দেহ পড়ে থাকে মাটির পৃথিবীতে, কিন্তু দেহকে ত্যাগ করার যে অভিজ্ঞতা তাই হচ্ছে আত্মার জন্য “মৃত্যুর স্বাদ” বা অভিজ্ঞতা যা আত্মা বহন করে নেবে পরলোকে। এই পৃথিবীতে আত্মার অবস্থান ক্ষণকালীন ” শিক্ষানবীশ” হিসেবে পরলোকের জন্য।

পৃথিবীর যাত্রাপথে দেহের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আত্মা লাভ করে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা। আমাদের দৃঢ়তা, চরিত্রের গুণাবলী সবই পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হতে হবে পৃথিবীর এই শিক্ষানবীশ কালে। এ সব পরীক্ষা কখনও আসে বিপদ দুর্বিপাকের আকারে। কখনও আসে শোক ও দুঃখের মাধ্যমে, কখনও আসে প্রাচুর্য ও সুখের রূপ ধরে।

আল্লাহ্‌ পরীক্ষা করে নেন তাঁর কোন বান্দা দুঃখের অমানিশাতে ধৈর্য্য না হারিয়ে শুধু মাত্র আল্লাহ্‌র উপরে নির্ভর করে বিপদ ও দুঃখকে অতিক্রম করতে পারে। পরীক্ষা করে নেন তাঁর কোন বান্দা প্রাচুর্য ও সুখের দিনে অহংকারে ও দম্ভে স্ফীত না হয়ে , বিনয়ের মাধ্যমে আল্লাহ্‌র শোকর গোজারী করে এবং আল্লাহ্‌র রাস্তায় সকল অবস্থায় আল্লাহ্‌র উপরে নির্ভরশীল হয় – বান্দার এই মানসিক অবস্থা [ State of mind ] , যা আল্লাহ্‌র প্রতি একান্ত নিবেদিত, আল্লাহ্‌র কাম্য। বান্দা যখন আল্লাহ্‌র প্রতি নিবেদিত এবং নির্ভরশীলতার এই আত্মিক অবস্থা লাভ করে ,

তখন ব্যক্তির চরিত্রে দুর্লভ গুণাবলীর জন্ম লাভ করে। ধৈর্য্য, সহিষ্ণুতা, দৃঢ়তা, সংযম, সাহসিকতা,একাগ্রতা, অধ্যবসায়ী প্রভৃতি বিভিন্ন চারিত্রিক গুণাবলী তাঁর চরিত্রকে করে উজ্জ্বল ও সমুন্নত। যদি আমরা এই পৃথিবীর জীবনে আমাদের চরিত্রকে সমুন্নত রাখতে পারি, চারিত্রিক গুণাবলীতে সমৃদ্ধ করতে পারি, তবেই আমরা আমাদের ক্ষণকালীন ”

শিক্ষানবীশ কাল” সাফল্যের সাথে উত্তরণ করতে সক্ষম হব। প্রত্যেককেই মৃত্যুর দুয়ার পেরিয়ে পরলোকে আল্লাহ্‌র নিকট নীত করা হবে। এবং সেখানেই তাদের পৃথিবীর শিক্ষানবীশ কালের মূল্যায়ন করা হবে।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৩৬)

কাফেররা যখন আপনাকে দেখে তখন আপনার সাথে ঠাট্টা করা ছাড়া তাদের আর কোন কাজ থাকে না, একি সেই ব্যক্তি, যে তোমাদের দেব-দেবীদের সমালোচনা করে? এবং তারাই তো রহমান’ এর আলোচনায় অস্বীকার করে।

And when those who disbelieve (in the Oneness of Allâh) see you (O Muhammad SAW), they take you not except for mockery (saying): ”Is this the one who talks (badly) about your gods?” While they disbelieve at the mention of the Most Beneficent (Allâh). [Tafsir. Al-Qurtubî].

وَإِذَا رَآكَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِن يَتَّخِذُونَكَ إِلَّا هُزُوًا أَهَذَا الَّذِي يَذْكُرُ آلِهَتَكُمْ وَهُم بِذِكْرِ الرَّحْمَنِ هُمْ كَافِرُونَ

Wa-itha raaka allatheena kafaroo in yattakhithoonaka illa huzuwan ahatha allathee yathkuru alihatakum wahum bithikri alrrahmani hum kafiroona

YUSUFALI: When the Unbelievers see thee, they treat thee not except with ridicule. “Is this,” (they say), “the one who talks of your gods?” and they blaspheme at the mention of (Allah) Most Gracious!

PICKTHAL: And when those who disbelieve behold thee, they but choose thee out for mockery, (saying): Is this he who maketh mention of your gods? And they would deny all mention of the Beneficent.

SHAKIR: And when those who disbelieve see you, they do not take you but for one to be scoffed at: Is this he who speaks of your gods? And they are deniers at the mention of the Beneficent Allah.

KHALIFA: When those who disbelieve see you, they ridicule you: “Is this the one who challenges your gods?” Meanwhile, they remain totally heedless of the message from the Most Gracious.

৩৬। অবিশ্বাসীরা যখন তোমাকে দেখে, তখন ওরা তোমাকে কেবল বিদ্রূপের পাত্ররূপেই গ্রহণ করে। [ তারা বলে ] “এই কি সেই যে তোমাদের দেব-দেবীদের সমালোচনা করে ? ” এবং তারা পরম করুণাময় [আল্লাহ্‌র ] উল্লেখে নিন্দা বাক্য প্রয়োগ করে ২৬৯৮।

২৬৯৮। এই আয়াতটিতে আমাদের নবীকে সম্বোধন করা হয়েছে; কিন্তু এর আবেদন সার্বজনীন। যারা প্রকৃত মোমেন বান্দা, তাদের নিকট প্রকৃত এবাদত ও মিথ্যা এবাদতের মধ্যে দুস্তর ব্যবধান। কাফের ও সন্দেহবাতিকদের নিকট এবাদত হাসি ঠাট্টার বিষয়বস্তু।

তারা ধর্মকে হাসি ঠাট্টার বিষয়বস্তু রূপে গ্রহণ করে এবং মোমেন বান্দাদের ব্যঙ্গ বিদ্রূপ করে যেরূপ আরবের কাফেররা নবীকে করতো। তারা নবীকে শুধু ঠাট্টা বিদ্রূপই করতো না , তারা আল্লাহ্‌র নামের উল্লেখে মাত্র তার নিন্দা জ্ঞাপন করতো। এর উত্তর পরবর্তী আয়াতে দেয়া হয়েছে।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৩৭)

সৃষ্টিগত ভাবে মানুষ ত্বরাপ্রবণ, আমি সত্তরই তোমাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী দেখাব। অতএব আমাকে শীঘ্র করতে বলো না।

Man is created of haste, I will show you My Ayât (torments, proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.).So ask Me not to hasten (them).

خُلِقَ الْإِنسَانُ مِنْ عَجَلٍ سَأُرِيكُمْ آيَاتِي فَلَا تَسْتَعْجِلُونِ

Khuliqa al-insanu min AAajalin saoreekum ayatee fala tastaAAjiloona

YUSUFALI: Man is a creature of haste: soon (enough) will I show you My Signs; then ye will not ask Me to hasten them!

PICKTHAL: Man is made of haste. I shall show you My portents, but ask Me not to hasten.

SHAKIR: Man is created of haste; now will I show to you My signs, therefore do not ask Me to hasten (them) on.

KHALIFA: The human being is impatient by nature. I will inevitably show you My signs; do not be in such a hurry.

৩৭। মানুষ [ সৃষ্টিগত ভাবে ] ত্বরাপ্রবণ প্রাণী ২৬৯৯। শীঘ্রই আমি আমার নিদর্শনাবলী দেখাব। সুতারাং [ তাদের সম্বন্ধে ] ত্বরা করতে বলো না।

২৬৯৯। মানুষকে আল্লাহ্‌ সৃষ্টিগত ভাবেই অধৈর্য করে সৃষ্টি করেছেন। যখন তাকে অনুতাপ করে আল্লাহ্‌র রাস্তায় ফিরে আসার জন্য অবকাশ দান করা হয় ,সে সেই সুযোগ গ্রহণ করার পরিবর্তে অধৈর্য হয়ে উঠে। সে অস্থির ভাবে বলে,

“যদি সত্যি তুমি সত্য কথা বলে থাক, তবে সেই শাস্তি শীঘ্রই হাজির কর। ” হায়! সে যদি জানতো শাস্তি অবধারিত। যখন তা নিপতিত হবে তখন সে আর ত্বরা করবে না। সে বরং তার অবসর কালকে প্রলম্বিত করতে চাইবে। হতভাগ্য জীব এরা।

উপদেশ : ধৈর্যহীনতা বা ত্বরা করার প্রবণতা যদিও মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা তবুও আল্লাহ্‌র হুকুম হচ্ছে ধৈর্য্য ধারণ করে ধীর স্থির ভাবে অগ্রসর হওয়া। সবর বা ধৈর্য্যধারণ চরিত্রের এক প্রধান গুণ।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৩৮)

এবং তারা বলেঃ যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে এই ওয়াদা কবে পুর্ণ হবে?
And they say: ”When will this promise (come to pass), if you are truthful.”

وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
Wayaqooloona mata hatha alwaAAdu in kuntum sadiqeena

YUSUFALI: They say: “When will this promise come to pass, if ye are telling the truth?”
PICKTHAL: And they say: When will this promise (be fulfilled), if ye are truthful?

SHAKIR: And they say: When will this threat come to pass if you are truthful?
KHALIFA: They challenge: “Where is that (retribution), if you are truthful?”

৩৮। তারা বলে, ” তোমরা যদি সত্য বলে থাক, তাহলে বল, এই প্রতিশ্রুতি কখন পূর্ণ হবে ? ”

৩৯। যদি অবিশ্বাসীরা [সেই সময়ের কথা ] জানতো ২৭০০ , যখন তারা তাদের সম্মুখ থেকে আগুন প্রতিরোধ করতে পারবে না , পশ্চাৎ থেকেও পারবে না, কোন সাহায্য তাদের নিকট পৌঁছবে না।

২৭০০। যদি কাফেররা তাদের শেষ পরিণতির কথা সম্যকভাবে উপলব্ধি করতে পারতো তবে অবশ্যই তারা শাস্তিকে ত্বরান্বিত করার জন্য অধৈর্য্য হতো না। তাদের শাস্তির বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে : শাস্তির আগুন তাদের সর্বদিক থেকে আবৃত করে ফেলবে।

তারা কোনও সাহায্যকারী পাবে না। তাহলে শেষ পরিণতির কথা চিন্তা করে এখনই অনুতাপ করার শ্রেষ্ঠ সময় নয় কি ? তাদের উপরে নিপতিত শাস্তি সহসাই আসবে যার কথা পরবর্তী আয়াতে বলা হয়েছে।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৩৯)

যদি কাফেররা ঐ সময়টি জানত, যখন তারা তাদের সম্মুখ ও পৃষ্ঠদেশ থেকে অগ্নি প্রতিরোধ করতে পারবে না এবং তারা সাহায্য প্রাপ্ত হবে না।

If only those who disbelieved knew (the time) when they will not be able to ward off the Fire from their faces, nor from their backs; and they will not be helped.

لَوْ يَعْلَمُ الَّذِينَ كَفَرُوا حِينَ لَا يَكُفُّونَ عَن وُجُوهِهِمُ النَّارَ وَلَا عَن ظُهُورِهِمْ وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ

Law yaAAlamu allatheena kafaroo heena la yakuffoona AAan wujoohihimu alnnara wala AAan thuhoorihim wala hum yunsaroona

YUSUFALI: If only the Unbelievers knew (the time) when they will not be able to ward off the fire from their faces, nor yet from their backs, and (when) no help can reach them!

PICKTHAL: If those who disbelieved but knew the time when they will not be able to drive off the fire from their faces and from their backs, and they will not be helped!

SHAKIR: Had those who disbelieve but known (of the time) when they shall not be able to ward off the fire from their faces nor from their backs, nor shall they be helped.

KHALIFA: If only those who disbelieve could envision themselves when they try to ward off the fire – off their faces and their backs! No one will help them then.

৩৮। তারা বলে, ” তোমরা যদি সত্য বলে থাক, তাহলে বল, এই প্রতিশ্রুতি কখন পূর্ণ হবে ? ”

৩৯। যদি অবিশ্বাসীরা [সেই সময়ের কথা ] জানতো ২৭০০ , যখন তারা তাদের সম্মুখ থেকে আগুন প্রতিরোধ করতে পারবে না , পশ্চাৎ থেকেও পারবে না, কোন সাহায্য তাদের নিকট পৌঁছবে না।

২৭০০। যদি কাফেররা তাদের শেষ পরিণতির কথা সম্যকভাবে উপলব্ধি করতে পারতো তবে অবশ্যই তারা শাস্তিকে ত্বরান্বিত করার জন্য অধৈর্য্য হতো না। তাদের শাস্তির বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে : শাস্তির আগুন তাদের সর্বদিক থেকে আবৃত করে ফেলবে।

তারা কোনও সাহায্যকারী পাবে না। তাহলে শেষ পরিণতির কথা চিন্তা করে এখনই অনুতাপ করার শ্রেষ্ঠ সময় নয় কি ? তাদের উপরে নিপতিত শাস্তি সহসাই আসবে যার কথা পরবর্তী আয়াতে বলা হয়েছে।

সূরা আম্বিয়া

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৪০)

বরং তা আসবে তাদের উপর অতর্কিত ভাবে, অতঃপর তাদেরকে তা হতবুদ্ধি করে দেবে, তখন তারা তা রোধ করতেও পারবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেয়া হবে না।

Nay, it (the Fire or the Day of Resurrection) will come upon them all of a sudden and will perplex them, and they will have no power to avert it, nor will they get respite.

بَلْ تَأْتِيهِم بَغْتَةً فَتَبْهَتُهُمْ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ رَدَّهَا وَلَا هُمْ يُنظَرُونَ
Bal ta/teehim baghtatan fatabhatuhum fala yastateeAAoona raddaha wala hum yuntharoona

YUSUFALI: Nay, it may come to them all of a sudden and confound them: no power will they have then to avert it, nor will they (then) get respite.

PICKTHAL: Nay, but it will come upon them unawares so that it will stupefy them, and they will be unable to repel it, neither will they be reprieved.

SHAKIR: Nay, it shall come on them all of a sudden and cause them to become confounded, so they shall not have the power to avert it, nor shall they be respited.

KHALIFA: Indeed, it will come to them suddenly, and they will be utterly stunned. They can neither avoid it, nor can they receive any respite.

৪০। কেবল তাই নয়, উহা তাদের উপর আসতে পারে অতর্কিত ভাবে এবং তা তাদের হতবুদ্ধি করে দেবে। উহা নিবারণ করার কোন শক্তিই তাদের থাকবে না। [ তখন ] ওদের কোন অবকাশও দেয়া হবে না।

৪১। তোমার পূর্বে [ অনেক ] রাসুলকে বিদ্রূপ করা হয়েছিলো। পরিণামে তারা যা নিয়ে ঠাট্টা – বিদ্রূপ করতো তা বিদ্রূপকারীদের পরিবেষ্টন করবে ২৭০১।

২৭০১। অনুরূপ আয়াতের জন্য দেখুন [ ৬ : ১০ ] আয়াত এবং টিকা ৮৪৩। কাফেররা যা নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপ করতো সেই ব্যঙ্গ বিদ্রূপের শাস্তি তাদের ঘিরে ধরবে।

আরও দেখুনঃ 

সূরা আম্বিয়া পার্ট-৩

সূরা আম্বিয়া পার্ট-১

সূরা ত্বোয়া-হা পার্ট-৬

সূরা ত্বোয়া-হা পার্ট-৫

সূরা ত্বোয়া-হা পার্ট-৪

সূরা আম্বিয়া – উইকিপিডিয়া

Leave a Comment