সূরা আল আম্বিয়া [অনেক নবীর কথা বর্ণনা রয়েছে ] সূরা ২১। কুরআন । পার্ট-৫

সূরা আল আম্বিয়া (আরবি: سورة الأنبياء‎‎ “নবীগণ”) মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের একুশতম সূরা। এই সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ১১২ টি।

সূরা আল আম্বিয়া

সূরা আল আম্বিয়া

সূরা আম্বিয়া

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৭৮)

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৭৯)

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৮০)

আমি তাঁকে তোমাদের জন্যে বর্ম নির্মান শিক্ষা দিয়েছিলাম, যাতে তা যুদ্ধে তোমাদেরকে রক্ষা করে। অতএব তোমরা কি কৃতজ্ঞ হবে?
And We taught him the making of metal coats of mail (for battles), to protect you in your fighting. Are you then grateful?

وَعَلَّمْنَاهُ صَنْعَةَ لَبُوسٍ لَّكُمْ لِتُحْصِنَكُم مِّن بَأْسِكُمْ فَهَلْ أَنتُمْ شَاكِرُونَ

WaAAallamnahu sanAAata laboosin lakum lituhsinakum min ba/sikum fahal antum shakiroona

YUSUFALI: It was We Who taught him the making of coats of mail for your benefit, to guard you from each other’s violence: will ye then be grateful?
PICKTHAL: And We taught him the art of making garments (of mail) to protect you in your daring. Are ye then thankful?

SHAKIR: And We taught him the making of coats of mail for you, that they might protect you in your wars; will you then be grateful?
KHALIFA: And we taught him the skill of making shields to protect you in war. Are you then thankful?

৮০। আমিই তোমাদের উপকারেরর জন্য তাঁকে লোহার কোট [ বর্ম ] তৈরী করতে শিখিয়েছিলাম , যেনো তোমরা [যুদ্ধক্ষেত্রে ] পরস্পরের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে পার। সুতারাং তোমরা কি কৃতজ্ঞ হবে না ? ২৭৩৪, ২৭৩৫।

২৭৩৪। দাউদ নবী সর্বপ্রথম লোহার বর্ম তৈরী করেন। প্রাচীনযুগে যখন তরবারীর সাহায্যে যুদ্ধ হতো , সে ক্ষেত্রে আত্মরক্ষার জন্য লোহার বর্মের আবিষ্কার এক অত্যাশ্চর্য আবিষ্কার বইকি। [ ৩৪ : ১০ – ১১ ] আয়াতে আল্লাহ্‌ বলেছেন যে,এই বিশেষ দক্ষতাটি দাউদ নবীকে আল্লাহ্‌ দান করেছেন, কারণ দাউদ নবী ছিলেন একজন ন্যায়পরায়ণ ও পূণ্যাত্মা ব্যক্তি [ ৩৪ : ১১ ]। তাঁর এই বিশেষ দক্ষতাটি তিনি ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ও নির্যাতিতের রক্ষার জন্য ব্যয় করবেন। অর্থাৎ তাঁর যুদ্ধ হবে ধর্মযুদ্ধ। এই আয়াতের মাধ্যমে এই উপদেশ দেয়া হয়েছে যে,

আল্লাহ্‌র দান যে কোন দক্ষতাকে মহত্বর উদ্দেশ্যের প্রতি নিবেদন করতে হবে। বর্তমান যুগে বিশ্ব জুড়ে যে অস্ত্র প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে তার পিছনে কোন মহত্বর উদ্দেশ্য নাই, কোন কল্যাণ নাই; যা আছে তা হচ্ছে হিংসা ও সন্ত্রাস ও অন্যকে অবদমিত করার প্রয়াস মাত্র।

২৭৩৫। দাউদ নবীর গুণাবলী কোরাণ শরীফে এ পর্যন্ত যে ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে তার সারসংক্ষেপ হচ্ছে : ১) তিনি খুব সহজেই ন্যায়কে অন্যায় থেকে পার্থক্য করতে পারতেন, ২) তিনি যে প্রার্থনা সংগীত বা ধর্ম সংগীত গাইতেন তা বিশ্ব প্রকৃতিতে আলোড়ন তুলতো, তারা দাউদ নবীর সংগীতের প্রতিধ্বনি তুলতো, ৩) তিনি লোহার আত্মরক্ষামূলক বর্ম তৈরীতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি এ সব করতে সক্ষম ছিলেন কারণ আল্লাহ্‌ তাকে এই বিশেষ দক্ষতা বা ক্ষমতা দান করেছিলেন।

এই আয়াতে আল্লাহ্‌ এই উপদেশ দিয়েছেন যে, জ্ঞান , বিজ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য , সংগীত, ইত্যাদি বিভিন্ন মানসিক দক্ষতা বা ক্ষমতা যার সাহায্যে মানুষ সৃজনশীল ক্ষমতার অধিকারী হয় তা সবই আল্লাহ্‌র বিশেষ দান। মানুষ এই সাধারণ কথাটি ভুলে যেয়ে নিজস্ব কৃতিত্বের অহংকারে মত্ত হয়ে যায় তাই আল্লাহ্‌ বলেছেন, ” সুতারাং তোমরা কি কৃতজ্ঞ হইবে না ? ” এসব নেয়ামতের জন্য মানুষের কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৮১)

এবং সুলায়মানের অধীন করে দিয়েছিলাম প্রবল বায়ুকে; তা তাঁর আদেশে প্রবাহিত হত ঐ দেশের দিকে, যেখানে আমি কল্যাণ দান করেছি। আমি সব বিষয়েই সম্যক অবগত রয়েছি।
And to Sulaimân (Solomon) (We subjected) the wind strongly raging, running by his command towards the land which We had blessed. And of everything We are the All-Knower.

وَلِسُلَيْمَانَ الرِّيحَ عَاصِفَةً تَجْرِي بِأَمْرِهِ إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا وَكُنَّا بِكُلِّ شَيْءٍ عَالِمِينَ
Walisulaymana alrreeha AAasifatan tajree bi-amrihi ila al-ardi allatee barakna feeha wakunna bikulli shay-in AAalimeena

YUSUFALI: (It was Our power that made) the violent (unruly) wind flow (tamely) for Solomon, to his order, to the land which We had blessed: for We do know all things.
PICKTHAL: And unto Solomon (We subdued) the wind in its raging. It set by his command toward the land which We had blessed. And of everything We are Aware.

SHAKIR: And (We made subservient) to Sulaiman the wind blowing violent, pursuing its course by his command to the land which We had blessed, and We are knower of ail things.
KHALIFA: For Solomon, we committed the wind gusting and blowing at his disposal. He could direct it as he wished, to whatever land he chose, and we blessed such land for him. We are fully aware of all things.

৮১। এবং আমি প্রবল বাতাসকে সুলাইমানের আজ্ঞাধীন করেছিলাম ২৭৩৬, যেনো বাতাস তাঁর হুকুমে [ মুদু গতিতে ] বয়ে যেতে পারে সেই সব দেশে যে দেশকে আমি আর্শীবাদ ধন্য করেছি। নিশ্চয়ই আমি সকল বিষয় সম্বন্ধে অবগত ২৭৩৭।

২৭৩৬। দেখুন আয়াত [ ৩৪ : ১২ এবং ৩৮ : ৩৬ – ৩৮ ]। এই আয়াতগুলিতে বলা হয়েছে যে, সোলেমান নবীকে আল্লাহ্‌ অলৌকিক ক্ষমতা দান করেছিলেন। বাতাস তাঁর হুকুমে প্রবাহিত হতো। হযরত সোলায়মান এই ক্ষমতা লাভ করেন আল্লাহ্‌র বিশেষ নেয়ামত স্বরূপ। তাঁর সমস্ত ক্ষমতার উৎস ছিলেন আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামীন। এ ভাবেই মহাক্ষমতাধর আল্লাহ্‌ মানুষকে ক্ষমতা দান করে থাকেন যেনো সে প্রকৃতিকে জয় করতে পারে। বিজ্ঞানের ক্ষমতা বলে আজকের মানুষ প্রকৃতিকে জয় করতে সক্ষম। কিন্তু বিজ্ঞানের জ্ঞান বা এই অত্যাশ্চর্য দক্ষতা আল্লাহ্‌র -ই দান এ কথা লোকে ভুলে যায়।

২৭৩৭। “সেই দেশে, যে দেশকে আমি আর্শীবাদ ধন্য করেছি “। অর্থাৎ প্যালেস্টাইনের দিকে যেখানে সোলায়মান বাদশার বাজধানী ছিলো ; যদিও তাঁর রাজত্ব সিরিয়ার উত্তর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৮২)

এবং অধীন করেছি শয়তানদের কতককে, যারা তার জন্যে ডুবুরীর কাজ করত এবং এ ছাড়া অন্য আরও অনেক কাজ করত। আমি তাদেরকে নিয়ন্ত্রন করে রাখতাম।
And of the Shayâtin (devils) (from the jinns) were some who dived for him, and did other work besides that; and it was We Who guarded them.

وَمِنَ الشَّيَاطِينِ مَن يَغُوصُونَ لَهُ وَيَعْمَلُونَ عَمَلًا دُونَ ذَلِكَ وَكُنَّا لَهُمْ حَافِظِينَ
Wamina alshshayateeni man yaghoosoona lahu wayaAAmaloona AAamalan doona thalika wakunna lahum hafitheena

YUSUFALI: And of the evil ones, were some who dived for him, and did other work besides; and it was We Who guarded them.
PICKTHAL: And of the evil ones (subdued We unto him) some who dived (for pearls) for him and did other work, and We were warders unto them.

SHAKIR: And of the rebellious people there were those who dived for him and did other work besides that, and We kept guard over them;
KHALIFA: And of the devils there were those who would dive for him (to harvest the sea), or do whatever else he commanded them to do. We committed them in his service.

৮২। এবং কিছু মন্দ [ জ্বিন ] তার জন্য ডুবুরীর কাজ এবং এছাড়াও অন্যান্য কাজও করতো ২৭৩৮। আমিই তাদের পাহারা দিয়ে রাখতাম।

২৭৩৮। পৃথিবীর বিভিন্ন শক্তিকে হযরত সোলায়মানের বশীভূত করে দেয়া হয়েছিলো ; কিন্তু সকল শক্তির বা ক্ষমতার উৎস এক আল্লাহ্‌। আল্লাহ্‌র অনুগ্রহের ফলে সোলায়মান জ্বিনদের বশীভূত করেন।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৮৩)

এবং স্মরণ করুন আইয়্যুবের কথা, যখন তিনি তাঁর পালনকর্তাকে আহবান করে বলেছিলেনঃ আমি দুঃখকষ্টে পতিত হয়েছি এবং আপনি দয়াবানদের চাইতেও সর্বশ্রেষ্ট দয়াবান।
And (remember) Ayûb (Job), when he cried to his Lord: ”Verily, distress has seized me, and You are the Most Merciful of all those who show mercy.”

وَأَيُّوبَ إِذْ نَادَى رَبَّهُ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
Waayyooba ith nada rabbahu annee massaniya alddurru waanta arhamu alrrahimeena

YUSUFALI: And (remember) Job, when He cried to his Lord, “Truly distress has seized me, but Thou art the Most Merciful of those that are merciful.”
PICKTHAL: And Job, when he cried unto his Lord, (saying): Lo! adversity afflicteth me, and Thou art Most Merciful of all who show mercy.

SHAKIR: And Ayub, when he cried to his Lord, (saying): Harm has afflicted me, and Thou art the most Merciful of the merciful.
KHALIFA: And Job implored his Lord: “Adversity has befallen me, and, of all the merciful ones, You are the Most Merciful.”

৮৩। এবং [ স্মরণ কর ! ] , যখন আইউব তাঁর প্রভুর নিকট কেঁদে বলেছিলো, ” দুঃখ – দুর্দ্দশা আমাকে গ্রেফতার করে ফেলেছে ২৭৩৯। কিন্তু তুমি তো দয়ালুদের মধ্যেও সর্বশ্রেষ্ঠ। ”

২৭৩৯। আইউব নবী আরবের উত্তর পূর্ব প্রান্তের কোন এক জায়গায় থাকতেন। প্রথম জীবনে তিনি ছিলেন সম্পদশালী। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর উপরে বিপর্যয়ের ঝড় বয়ে যায়। তাঁর পশু সম্পদ বিনষ্ট হয়, ভৃত্যরা নিহত হয়, পরিবার পরিজন ধ্বসে পড়া বাড়ীর নীচে চাপা পড়ে মৃত্যু বরণ করে। এত বিপর্যয়েও আইউব নবী তাঁর ধৈর্য্য হারান নাই, তিনি আল্লাহ্‌র প্রতি ছিলেন বিশ্বাসে অটল। তার বিপদ বিপর্যয় এখানেই শেষ হয় নাই। তাঁর সমস্ত শরীর পা থেকে মাথা পর্যন্ত পুজ রক্ত পূর্ণ ক্ষততে ভরে যায়।

ওল্ড টেস্টামেন্টের বর্ণনা অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত আইউব নবীর ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটে। তিনি পৃথিবীতে তাঁর জন্মকেই অভিশপ্ত মনে করতে থাকেন। তার বন্ধু বলে আখ্যায়িত ব্যক্তিরা তাঁকে ত্যাগ করে চলে যায় এবং বলে যে এ সব তাঁর পাপের পরিণতি। তাঁর এ সব বন্ধুরা প্রকৃত পক্ষে বন্ধু ছিলো না। ফলে শেষ পর্যন্ত তিনি মানসিক ভারসাম্য হারান। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রতি আল্লাহ্‌র করুণা হয় এবং তিনি তাঁর মনের ধৈর্য্য, সহিষ্ণুতা, বিনয় বিশ্বাসের দৃঢ়তা, এবং বিচার বুদ্ধি ফিরে পান। আল্লাহ্‌ তাকে সুস্থ করে তোলেন এবং তাঁর ধন সম্পদ ,মান – মর্যাদা , পরিবার – পরিজন সব ফিরিয়ে দেন এবং তা পূর্বাপেক্ষা দ্বিগুণ ভাবে ফিরিয়ে দেন।

তাঁর বন্ধুবান্ধব আত্মীয় – স্বজনেরা আবার তাঁর নিকট ফিরে আসে। তিনি নূতন ভাবে পরিবারের সৃষ্টি করেন। এবারে তার সাত ছেলে ও তিন মেয়ে জন্ম লাভ করে। এরপর তিনি বহু বছর জীবিত ছিলেন। ওল্ড টেস্টামেন্টে হীব্রু ভাষাতে এসব কথা লেখা আছে। বাইবেলে হযরত আইউবের চরিত্রকে যেভাবে অংকন করা হয়েছে তার থেকে কোরানের এবং হাদীসের ভাষ্য ভিন্নতর। মুসলিম ধর্মগ্রন্থে তাঁকে চিত্রিত করা হয়েছে ধৈর্য্যের প্রতীক হিসেবে , সম্মানীয় নবী এবং সর্ব অবস্থায় আল্লাহ্‌র উপরে নির্ভরশীল এবং বিশ্বস্ত হিসেবে।

বাইবেলে তাঁকে এভাবে চিত্রিত করা হয়েছে যে, তিনি বিপদ বিপর্যয়ের দ্বারা অধৈর্য্য হয়ে মনের ভারসাম্য হারান এবং নিজেকে অভিশপ্ত মনে করেন। একথা সত্যের অপলাপ ব্যতীত আর কিছু নয়। কারণ কোরাণ তাঁকে বর্ণনা করেছে বিপদ বিপর্যয়ের দ্বারা আল্লাহ্‌র পরীক্ষার মাঝে তিনি ছিলেন দৃঢ়তা ,সহিষ্ণুতার প্রতীক স্বরূপ। তিনি সবর করে যান, অবশেষে আল্লাহ্‌র রহমতে মুক্তি পান। সবরের মাধ্যমেই আল্লাহ্‌ তাঁর প্রিয় বান্দাদের কাছে টেনে নেন।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৮৪)

অতঃপর আমি তাঁর আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাঁর দুঃখকষ্ট দূর করে দিলাম এবং তাঁর পরিবরাবর্গ ফিরিয়ে দিলাম, আর তাদের সাথে তাদের সমপরিমাণ আরও দিলাম আমার পক্ষ থেকে কৃপাবশতঃ আর এটা এবাদত কারীদের জন্যে উপদেশ স্বরূপ।

So We answered his call, and We removed the distress that was on him, and We restored his family to him (that he had lost), and the like thereof along with them, as a mercy from Ourselves and a Reminder for all who worship Us.

فَاسْتَجَبْنَا لَهُ فَكَشَفْنَا مَا بِهِ مِن ضُرٍّ وَآتَيْنَاهُ أَهْلَهُ وَمِثْلَهُم مَّعَهُمْ رَحْمَةً مِّنْ عِندِنَا وَذِكْرَى لِلْعَابِدِينَ

Faistajabna lahu fakashafna ma bihi min durrin waataynahu ahlahu wamithlahum maAAahum rahmatan min AAindina wathikra lilAAabideena

YUSUFALI: So We listened to him: We removed the distress that was on him, and We restored his people to him, and doubled their number,- as a Grace from Ourselves, and a thing for commemoration, for all who serve Us.

PICKTHAL: Then We heard his prayer and removed that adversity from which he suffered, and We gave him his household (that he had lost) and the like thereof along with them, a mercy from Our store, and a remembrance for the worshippers;

SHAKIR: Therefore We responded to him and took off what harm he had, and We gave him his family and the like of them with them: a mercy from Us and a reminder to the worshippers.

KHALIFA: We responded to him, relieved his adversity, and restored his family for him, even twice as much. That was a mercy from us, and a reminder for the worshipers.

৮৪। সুতারাং আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম ও তাঁর দুঃখ-দুর্দ্দশা দূর করে দিলাম। এবং তাঁকে তাঁর পরিবার -পরিজন প্রত্যার্পন করলাম এবং তাদের সংখ্যা দ্বিগুণ করলাম – আমার রহমত স্বরূপ ,এবং যারা আমার আনুগত্য করে তাদের জন্য উপদেশ স্বরূপ ২৭৪০।

২৭৪০। আইউব নবী ছিলেন বিনয়, ধৈর্য্য এবং আল্লাহ্‌র প্রতি অটল বিশ্বাসের প্রতীক স্বরূপ। এই অস্ত্রের সাহায্যেই তিনি সকল প্রতিকূলতা, বিপদ, বিপর্যয়কে দূর করেন। যারা এবাদতকারী তাদের জন্য হযরত আইউবের জীবনী উপদেশ স্বরূপ।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৮৫)

এবং ইসমাঈল, ই’দ্রীস ও যুলকিফলের কথা স্মরণ করুন, তাঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন সবরকারী।
And (remember) Isma’îl (Ishmael), and Idris (Enoch) and Dhul-Kifl (Isaiah), all were from among As-Sâbirin (the patient ones, etc.).

وَإِسْمَاعِيلَ وَإِدْرِيسَ وَذَا الْكِفْلِ كُلٌّ مِّنَ الصَّابِرِينَ
Wa-ismaAAeela wa-idreesa watha alkifli kullun mina alssabireena

YUSUFALI: And (remember) Isma’il, Idris, and Zul-kifl, all (men) of constancy and patience;
PICKTHAL: And (mention) Ishmael, and Idris, and Dhu’l-Kifl. All were of the steadfast.

SHAKIR: And Ismail and Idris and Zulkifl; all were of the patient ones;
KHALIFA: Also, Ismail, Idris, Zal-Kifl; all were steadfast, patient.

৮৫। এবং [স্মরণ কর ] ইসমাঈল ২৭৪১, ইদ্রিস ২৭৪২, এবং যুল – কিফল এর কথা ২৭৪৩, এরা প্রত্যেকেই ছিলো দৃঢ় চরিত্রের এবং ধৈর্য্যশীল।

২৭৪১। হযরত ইব্রাহীমের বংশের সম্মানীয় দুইটি ধারা হযরত ইসহাক ও হযরত ইসমাঈল দ্বারা সূচিত হয়। হযরত ইস্‌হাকের বংশধারা যা [ ২১ : ৭২ ] আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে তা ব্যতীত এই আয়াতে হযরত ইসমাঈলের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি হচ্ছেন বিশাল মুসলিম উম্মার প্রতিষ্ঠাতা। ধৈর্য্য, সহিষ্ণুতা ও দৃঢ়তার তিনিও ছিলেন অগ্রপথিক। যুগে যুগে যারা আল্লাহ্‌র প্রিয় বান্দা তাদের আল্লাহ্‌র বিপদ বিপর্যয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে কাছে টেনে নেন। যারা সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে তারাই আল্লাহ্‌র সান্নিধ্য লাভের যোগ্যতা অর্জন করে।

হযরত ইসমাঈলের দুঃখ কষ্ট শিশু অবস্থায় শৈশবেই শুরু হয় , [ দেখুন টিকা ১৬০ এবং আয়াত ২ : ১৫৮ ] যখন তিনি নির্বাসিত হন। তিনি ধৈর্য্য , দৃঢ়তা ও সহিষ্ণুতার পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হন যখন তিনি দৃঢ় ও নির্ভিকভাবে আল্লাহ্‌র কাছে কোরবানীর জন্য প্রস্তত হন। তিনি যথার্থই ” আল্লাহ্‌র জন্য উৎসর্গীত ” বা “Sacrifice to Allah” এই উপাধির যোগ্য [দেখুন টিকা ২৫০৬ এবং আয়াত ১৯ : ৫৪ ] তাঁর ধৈর্য্য ও দৃঢ়তার প্রধান বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ্‌র ইচ্ছার কাছে নিবেদিত।

২৭৪২। হযরত ইদরীসের জন্য দেখুন টিকা ২৫০৮ এবং আয়াত [ ১৯ : ৫৬ ] জীবনে তিনি উচ্চ সম্মানে অধিষ্ঠিত ছিলেন, কিন্তু তা তাকে বিপথে চালিত করতে পারে নাই। তিনি ছিলেন সত্যের প্রতি একনিষ্ঠ। তাঁর চরিত্রের দৃঢ়তা ছিলো ধৈর্য্য ও সংকল্পের দৃঢ়তার বৈশিষ্ট্য।

২৭৪৩। “Zul-Kifl” শব্দটির আক্ষরিক অর্থ ‘মালিক’ বা “দ্বিগুণ প্রতিদান” বা “অংশ” অথবা “যে দু-পরল বা দু-স্তরে কাপড় পরিধান করে।”তফসীর কার গণ মতদ্বৈত প্রকাশ করেন যে এই উপাধিটি কাকে এবং কখন দান করা হয় এবং কেন তাঁকে হযরত ইসমাঈল এবং ইদরীসদের মত নবীদের সাথে এক সাথে উল্লেখ করা হয়। মনে হয় এ ব্যাপারে “Karsten Niebuhr” এর গ্রন্থ Reisebeschreibung nach Arabien [ ii 264- 266] , যা ১৭৭৮ খৃষ্টাব্দে কোপেনহেগেন থেকে প্রকাশিত হয় তার প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য।

যেখানে তিনি Encyclopaedia of Islam under ‘Dhul – Kifl’ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। তিনি ইরাকের Meshed Ali এবং Najaf এবং Hilla [ Babylon ] মধ্যবর্তী ছোট শহর Kefil পরিদর্শন করেন। তাঁর মতে EzeKielএর মন্দির এই শহরে অবস্থিত। ইহুদীরা তীর্থযাত্রার জন্য এই শহরে আগমন করে।

যদি আমরা “Zul – Kifl” কে গুণবাচক উপাধি হিসেবে গ্রহণ না করে “EzeKiel” এর আরবী সংস্করণ হিসেবে গ্রহণ করি তবে তা আমাদের বর্তমান প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। “EzeKiel ” ছিলেন ইহুদীদের একজন নবী যিনি বেবীলনের রাজা নেবুচাঁদনেজার দ্বারা দ্বিতীয় বার জেরুজালেম আক্রমণের পরে [ খৃষ্ট পূর্ব ৫৯৯ শতাব্দী ] বন্দী হন। তাঁর বাণী ইংরেজী বাইবেলে [ Old Testament ] স্থান পেয়েছে। নেবুচাঁদনেজার তাকে শৃঙ্খলিত করে কারাগারে পাঠান এবং সেখানেই তাঁকে দীর্ঘদিন ফেলে রাখা হয়।

তিনি তাঁর এই দুঃসহ নির্যাতন ধৈর্য্য ; দৃঢ়তা ও সহিষ্ণুতার সাথে মোকাবিলা করেন এবং শত নির্যাতনেও ইহুদীদের পাপ কার্যের তীব্র নিন্দা অব্যাহত রাখেন। জ্বালাময়ী ভাষায় তিনি তাদের বিপথগামী নেতাদের সমালোচনা ও অস্বীকার করেন।

“Zul – Kifl” এর উল্লেখ আবারও কোরাণে করা হয়েছে [ ৩৮ : ৪৮ ] আয়াতে ইসমাঈল এবং আল- আইসার সাথে।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৮৬)

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৮৭)

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৮৮)

অতঃপর আমি তাঁর আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাঁকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিলাম। আমি এমনি ভাবে বিশ্ববাসীদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকি।

So We answered his call, and delivered him from the distress. And thus We do deliver the believers (who believe in the Oneness of Allâh, abstain from evil and work righteousness).

فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْغَمِّ وَكَذَلِكَ نُنجِي الْمُؤْمِنِينَ
Faistajabna lahu wanajjaynahu mina alghammi wakathalika nunjee almu/mineena

YUSUFALI: So We listened to him: and delivered him from distress: and thus do We deliver those who have faith.
PICKTHAL: Then we heard his prayer and saved him from the anguish. Thus we save believers.

SHAKIR: So We responded to him and delivered him from the grief and thus do We deliver the believers.
KHALIFA: We responded to him, and saved him from the crisis; we thus save the believers.

৮৮। সুতারাং আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম এবং তাঁকে দুর্দ্দশা থেকে উদ্ধার করলাম। এভাবেই আমি তাদের উদ্ধার করি যাদের ঈমান আছে।

৮৯। এবং [স্মরণ কর ] জাকারিয়ার ২৭৪৫ কথা , যখন সে তাঁর প্রভুর নিকট কেঁদে বলেছিলো, ” হে আমার প্রভু! আমাকে নিঃসন্তান [ অবস্থায় ] ত্যাগ করো না, যদিও তুমিই সর্বশ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারী ২৭৪৬। ”

২৭৪৫। ” আমাকে নিঃসন্তান অবস্থায় ত্যাগ করো না ” এ স্থলে দেখুন আয়াত [ ১৯ : ২ – ১৫ ] এবং [ ৩ : ৩৮ – ৪১]। জাকারিয়া একজন পুরোহিত ছিলেন। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী দুজনেই ছিলেন একান্ত অনুগত এবং কর্তব্য কর্মে অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ও দৃঢ়। তাঁরা বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন কিন্তু তাঁদের কোনও বংশধর ছিলো না। এ ব্যাপারে জাকারিয়া মানসিক দিক থেকে অত্যন্ত উদ্বেগ বোধ করছিলেন। উদ্বেগের কারণ এ নয় যে তিনি তাঁর বংশধর না রেখে এ ধরাধাম ত্যাগ করবেন,

উদ্বেগের কারণ হচ্ছে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁর অবর্তমানে তাঁর কর্মভার বহন করার লোকের বড় অভাব হবে। কারণ তিনি যদি কাউকে আল্লাহ্‌র কাজের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে না যান তবে আল্লাহ্‌র কাজের জন্য নিঃস্বার্থ ও বিশ্বস্ত লোক তাঁর মৃত্যুর পরে থাকবে না। আল্লাহ্‌ তাঁকে এক পুত্র সন্তান দান করেন। যার নাম রাখা হয়েছিলো ইয়াহিয়া [ John the Baptist ]। ইয়াহিয়া তাঁর বংশের আল্লাহ্‌র প্রতি একান্ত আনুগত্যের ধারাটি রক্ষা করেন। আল্লাহ্‌ তাঁকে বলেছেন, ” নেতা, জিতেন্দ্রীয় এবং পূণ্যবানদের মধ্যে একজন নবী ” [ ৩ : ৩৯]।

এভাবেই পিতা, মাতা এবং পুত্র প্রত্যেকেই ছিলো সৎকাজের যোগ্যতা সম্পন্ন , তারা সৎকাজে প্রতিযোগীতা করতো, পাপ থেকে দূরে থাকতো এবং আশা ও ভীতির সাথে আল্লাহ্‌র নিকট বিণীত থাকতো।

২৭৪৬। ” তুমিই সর্বশ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারী ” আকাশ , পৃথিবী বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের মালিক একমাত্র আল্লাহ্‌। এই বিপুল বিশ্ব ভূবনের সৃষ্টি , রক্ষণাবেক্ষণ তাঁরই করুণা, তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিপালক ও মালিক। জাকারিয়া ছিলেন পূণ্যাত্মা। তিনি বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের এই সত্যকে অনুধাবন করেছিলেন খুব সহজেই যে, পৃথিবীর কিছুই স্থায়ী নয়। সুতারাং উত্তরাধিকারী বা বংশধারা যার জন্য মানুষ খুব ব্যগ্র থাকে তাও কিছু স্থায়ী নয়। তিনি উত্তরাধিকারী বা বংশধর রেখে যাওয়ার জন্য ব্যগ্র ছিলেন না। তাঁর আশঙ্কা ছিলো যে, হয়তো বা তাঁর মৃত্যুর পর আল্লাহ্‌র পথে আহ্বান করার জন্য অকৃত্রিম নিবেদিত প্রাণ আর কেউ থাকবে না। সেই কারণে তিনি এক পুত্র সন্তান কামনা করেন যাকে তিনি উপযুক্ত রূপে গড়ে তুলতে পারবেন।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৮৯)

এবং যাকারিয়ার কথা স্মরণ করুন, যখন সে তার পালনকর্তাকে আহবান করেছিল; হে আমার পালনকর্তা আমাকে একা রেখো না। তুমি তো উত্তম ওয়ারিস।
And (remember) Zakariya (Zachariah), when he cried to his Lord: ”O My Lord! Leave me not single (childless), though You are the Best of the inheritors.”

وَزَكَرِيَّا إِذْ نَادَى رَبَّهُ رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ
Wazakariyya ith nada rabbahu rabbi la tatharnee fardan waanta khayru alwaritheena

YUSUFALI: And (remember) Zakariya, when he cried to his Lord: “O my Lord! leave me not without offspring, though thou art the best of inheritors.”
PICKTHAL: And Zachariah, when he cried unto his Lord: My Lord! Leave me not childless, though Thou art the Best of inheritors.

SHAKIR: And Zakariya, when he cried to his Lord: O my Lord leave me not alone; and Thou art the best of inheritors.
KHALIFA: And Zachariah implored his Lord: “My Lord, do not keep me without an heir, though You are the best inheritor.”

৮৮। সুতারাং আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম এবং তাঁকে দুর্দ্দশা থেকে উদ্ধার করলাম। এভাবেই আমি তাদের উদ্ধার করি যাদের ঈমান আছে।

৮৯। এবং [স্মরণ কর ] জাকারিয়ার ২৭৪৫ কথা , যখন সে তাঁর প্রভুর নিকট কেঁদে বলেছিলো, ” হে আমার প্রভু! আমাকে নিঃসন্তান [ অবস্থায় ] ত্যাগ করো না, যদিও তুমিই সর্বশ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারী ২৭৪৬। ”

২৭৪৫। ” আমাকে নিঃসন্তান অবস্থায় ত্যাগ করো না ” এ স্থলে দেখুন আয়াত [ ১৯ : ২ – ১৫ ] এবং [ ৩ : ৩৮ – ৪১]। জাকারিয়া একজন পুরোহিত ছিলেন। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী দুজনেই ছিলেন একান্ত অনুগত এবং কর্তব্য কর্মে অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ও দৃঢ়। তাঁরা বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন কিন্তু তাঁদের কোনও বংশধর ছিলো না। এ ব্যাপারে জাকারিয়া মানসিক দিক থেকে অত্যন্ত উদ্বেগ বোধ করছিলেন। উদ্বেগের কারণ এ নয় যে তিনি তাঁর বংশধর না রেখে এ ধরাধাম ত্যাগ করবেন, উদ্বেগের কারণ হচ্ছে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁর অবর্তমানে তাঁর কর্মভার বহন করার লোকের বড় অভাব হবে।

কারণ তিনি যদি কাউকে আল্লাহ্‌র কাজের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে না যান তবে আল্লাহ্‌র কাজের জন্য নিঃস্বার্থ ও বিশ্বস্ত লোক তাঁর মৃত্যুর পরে থাকবে না। আল্লাহ্‌ তাঁকে এক পুত্র সন্তান দান করেন। যার নাম রাখা হয়েছিলো ইয়াহিয়া [ John the Baptist ]। ইয়াহিয়া তাঁর বংশের আল্লাহ্‌র প্রতি একান্ত আনুগত্যের ধারাটি রক্ষা করেন। আল্লাহ্‌ তাঁকে বলেছেন, ” নেতা, জিতেন্দ্রীয় এবং পূণ্যবানদের মধ্যে একজন নবী ” [ ৩ : ৩৯]।
এভাবেই পিতা, মাতা এবং পুত্র প্রত্যেকেই ছিলো সৎকাজের যোগ্যতা সম্পন্ন , তারা সৎকাজে প্রতিযোগীতা করতো, পাপ থেকে দূরে থাকতো এবং আশা ও ভীতির সাথে আল্লাহ্‌র নিকট বিণীত থাকতো।

২৭৪৬। ” তুমিই সর্বশ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারী ” আকাশ , পৃথিবী বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের মালিক একমাত্র আল্লাহ্‌। এই বিপুল বিশ্ব ভূবনের সৃষ্টি , রক্ষণাবেক্ষণ তাঁরই করুণা, তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিপালক ও মালিক। জাকারিয়া ছিলেন পূণ্যাত্মা। তিনি বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের এই সত্যকে অনুধাবন করেছিলেন খুব সহজেই যে, পৃথিবীর কিছুই স্থায়ী নয়। সুতারাং উত্তরাধিকারী বা বংশধারা যার জন্য মানুষ খুব ব্যগ্র থাকে তাও কিছু স্থায়ী নয়। তিনি উত্তরাধিকারী বা বংশধর রেখে যাওয়ার জন্য ব্যগ্র ছিলেন না। তাঁর আশঙ্কা ছিলো যে, হয়তো বা তাঁর মৃত্যুর পর আল্লাহ্‌র পথে আহ্বান করার জন্য অকৃত্রিম নিবেদিত প্রাণ আর কেউ থাকবে না। সেই কারণে তিনি এক পুত্র সন্তান কামনা করেন যাকে তিনি উপযুক্ত রূপে গড়ে তুলতে পারবেন।

সূরা আম্বিয়া

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৯০)

অতঃপর আমি তার দোয়া কবুল করেছিলাম, তাকে দান করেছিলাম ইয়াহইয়া এবং তার জন্যে তার স্ত্রীকে প্রসব যোগ্য করেছিলাম। তারা সৎকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ত, তারা আশা ও ভীতি সহকারে আমাকে ডাকত এবং তারা ছিল আমার কাছে বিনীত।

So We answered his call, and We bestowed upon him Yahya (John), and cured his wife (to bear a child) for him. Verily, they used to hasten on to do good deeds, and they used to call on Us with hope and fear, and used to humble themselves before Us.

فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَوَهَبْنَا لَهُ يَحْيَى وَأَصْلَحْنَا لَهُ زَوْجَهُ إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا وَكَانُوا لَنَا خَاشِعِينَ
Faistajabna lahu wawahabna lahu yahya waaslahna lahu zawjahu innahum kanoo yusariAAoona fee alkhayrati wayadAAoonana raghaban warahaban wakanoo lana khashiAAeena

YUSUFALI: So We listened to him: and We granted him Yahya: We cured his wife’s (Barrenness) for him. These (three) were ever quick in emulation in good works; they used to call on Us with love and reverence, and humble themselves before Us.

PICKTHAL: Then We heard his prayer, and bestowed upon him John, and adjusted his wife (to bear a child) for him. Lo! they used to vie one with the other in good deeds, and they cried unto Us in longing and in fear, and were submissive unto Us.

 

SHAKIR: So We responded to him and gave him Yahya and made his wife fit for him; surely they used to hasten, one with another In deeds of goodness and to call upon Us, hoping and fearing and they were humble before Us.

KHALIFA: We responded to him and granted him John; we fixed his wife for him. That is because they used to hasten to work righteousness, and implored us in situations of joy, as well as fear. To us, they were reverent.

৯০। সুতারাং আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম এবং ইয়াহ্‌ইয়াকে দান করেছিলাম। আমি তাঁর স্ত্রীর [ বন্ধ্যাত্ব ] আরোগ্য করেছিলাম ২৭৪৭। তারা [ তিনজন ] সৎ কাজে প্রতিযোগীতা করত। তারা আমাকে ভালোবাসা ও ভক্তি সহকারে ডাকতো , এবং নিজেদের আমার সামনে করতো বিনীত।

২৭৪৭। “Aslaha” – সংশোধন করে উন্নত করা। এখানে শব্দটি যোগ করা হয়েছে জাকারিয়ার স্ত্রীর সম্পর্কে। শব্দটির প্রয়োগ সম্পর্কে দুরকমের ব্যাখ্যা করা যায়। ১) তাঁর বন্ধ্যাত্ব দূর করে তাঁকে মাতৃত্ব ধারণের উপযোগী করা এবং ২) তাঁর আধ্যাত্মিক জগতের অন্ধকার দূর করে তাঁকে সমুন্নত করা হয়েছিলো মহামানব ইয়াহিয়ার [ John the Baptist ] মাতৃত্বের উপযোগী করার জন্য।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৯১)

এবং সেই নারীর কথা আলোচনা করুন, যে তার কামপ্রবৃত্তিকে বশে রেখেছিল, অতঃপর আমি তার মধ্যে আমার রূহ ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং তাকে তার পুত্রকে বিশ্ববাসীর জন্য নিদর্শন করেছিলাম।

And (remember) she who guarded her chastity [Virgin Maryam (Mary)], We breathed into (the sleeves of) her (shirt or garment) [through Our Rûh ­ Jibrael (Gabriel)], and We made her and her son [’Iesa (Jesus)] a sign for Al-’Alamin (the mankind and jinns).

وَالَّتِي أَحْصَنَتْ فَرْجَهَا فَنَفَخْنَا فِيهَا مِن رُّوحِنَا وَجَعَلْنَاهَا وَابْنَهَا آيَةً لِّلْعَالَمِينَ
Waallatee ahsanat farjaha fanafakhna feeha min roohina wajaAAalnaha waibnaha ayatan lilAAalameena

YUSUFALI: And (remember) her who guarded her chastity: We breathed into her of Our spirit, and We made her and her son a sign for all peoples.
PICKTHAL: And she who was chaste, therefor We breathed into her (something) of Our Spirit and made her and her son a token for (all) peoples.

SHAKIR: And she who guarded her chastity, so We breathed into her of Our inspiration and made her and her son a sign for the nations.
KHALIFA: As for the one who maintained her virginity, we blew into her from our spirit, and thus, we made her and her son a portent for the whole world.

৯১। এবং [ স্মরণ কর ] সেই নারীকে যে তার সতীত্ব রক্ষা করেছিলো। আমি তাঁর মধ্য আমার রুহুকে ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং আমি তাঁকে ও তাঁর পুত্রকে বিশ্বাসীর জন্য করেছিলাম এক নিদর্শন ২৭৪৮।

২৭৪৮। মরিয়ম [ আ ] ছিলেন হযরত ঈসা [ আ ] এর মাতা। এই আয়াতে আল্লাহ্‌ বলছেন যে সতীত্ব ছিলো তাঁর বিশেষ গুণ। তিনি ছিলেন কুমারী মাতা। পিতা ব্যতীত সন্তানের জন্ম দান দ্বারা তিনি এবং তাঁর পুত্রকে আল্লাহ্‌ বিশ্ববাসীর জন্য করেছেন এক অলৌকিক নিদর্শন।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৯২)

তারা সকলেই তোমাদের ধর্মের; একই ধর্মে তো বিশ্বাসী সবাই এবং আমিই তোমাদের পালনকর্তা, অতএব আমার বন্দেগী কর।
Truly! This, your Ummah [Sharia or religion (Islâmic Monotheism)] is one religion, and I am your Lord, therefore worship Me (Alone). [Tafsîr Ibn Kathîr]

إِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاعْبُدُونِ
Inna hathihi ommatukum ommatan wahidatan waana rabbukum faoAAbudooni

YUSUFALI: Verily, this brotherhood of yours is a single brotherhood, and I am your Lord and Cherisher: therefore serve Me (and no other).
PICKTHAL: Lo! this, your religion, is one religion, and I am your Lord, so worship Me.

SHAKIR: Surely this Islam is your religion, one religion (only), and I am your Lord, therefore serve Me.
KHALIFA: Your congregation is but one congregation, and I alone am your Lord; you shall worship Me alone.

৯২। অবশ্যই তোমাদের এই উম্মত হচ্ছে একই উম্মত ২৭৪৯। এবং আমি তোমাদের প্রভু ও প্রতিপালক। সুতারাং আমার আনুগত্য কর [অন্য কারও নয় ]।

২৭৪৯। “Ummat ” এই শব্দটি ‘জাতি’ শব্দটির দ্বারা অনুবাদ করা যায়। ‘সম্প্রদায় ‘ ‘শ্রেণী’ বা ‘বংশ ‘ , “জাতি” ইত্যাদি শব্দগুলিও উম্মত শব্দটি দ্বারা বোঝানো হয়। আবার ‘উম্মত’ শব্দটির থেকে যে ভাবধারা প্রয়োগ হতে পারে তা হচ্ছে , “একই ধর্ম বিশিষ্ট ” বা “জীবনধারা বিশিষ্ট “যার প্রয়োগ অন্যান্য স্থানে করা হয়েছে ; কিন্তু এ আয়াতে তা প্রযোজ্য নয়। এই আয়াতে আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন জাতির প্রতি। বিভিন্ন জাতি, বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারার অধিকারী।

যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে জাতির বা সম্প্রদায়ের জীবনে তাদের জীবনধারা ও সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটে। কারণ এগুলি কোনটাই স্থায়ী নয়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কারের ফলে মানুষের জীবনধারা আমূল পাল্টে যায়। ফলে জাতির শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি সবই হয়ে পরে পরিবর্তনশীল। পৃথিবীতে স্থান ও কালের দূরত্বের জন্য , সময়ের ব্যবধানের জন্য , ভাষার পার্থক্যের জন্য, পরিবেশ ও প্রকৃতির বিভিন্নতার কারণে, মানুষে মানুষে, জাতিতে জাতিতে ভাষাগত , সংস্কৃতিগত পার্থক্যের উদ্ভব ঘটে।

কিন্তু যারা আল্লাহ্‌র সেবায় নিয়োজিত, যাদের জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জন ও সান্নিধ্য লাভের কামনা , তারা পৃথিবীর যেখানেই বাস করুন না কেন, যে পরিবেশেই থাকুন না কেন তারা “একই জাতি” বা সম্প্রদায়। কারণ দেশে দেশে জাতিতে জাতিতে যে পার্থক্য তা মানুষের রচনা। যে মুহুর্তে যে কোন ব্যক্তি আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে জীবনকে নিয়োজিত করে সে বৃহত্তর উম্মত বা সম্প্রদায়ের তালিকাভূক্ত হয়ে যায়। সে নারীই হোক বা পুরুষই হোক সে বিশ্বমানবতার জন্য উৎসর্গীকৃত এক সম্মানজনক সম্প্রদায়ের সদস্যভূক্ত হয়ে যায়। যারা শুধুমাত্র এক আল্লাহ্‌র এবাদত করে ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তাঁর সেবা বা তাঁর সৃষ্টির সেবায় আত্ম নিয়োগ করে। এ ভাবেই তারা একই জাতি বা ধর্ম বিশিষ্ট। এভাবেই ইসলাম বিশ্ব মানবতার অগ্রপথিক।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৯৩)

এবং মানুষ তাদের কার্যকলাপ দ্বারা পারস্পরিক বিষয়ে ভেদ সৃষ্টি করেছে। প্রত্যেকেই আমার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।
But they have broken up and differed as regards their religion among themselves. (And) they all shall return to Us.

وَتَقَطَّعُوا أَمْرَهُم بَيْنَهُمْ كُلٌّ إِلَيْنَا رَاجِعُونَ
WataqattaAAoo amrahum baynahum kullun ilayna rajiAAoona

YUSUFALI: But (later generations) cut off their affair (of unity), one from another: (yet) will they all return to Us.
PICKTHAL: And they have broken their religion (into fragments) among them, (yet) all are returning unto Us.

SHAKIR: And they broke their religion (into sects) between them: to Us shall all come back.
KHALIFA: However, they divided themselves into disputing religions. All of them will come back to us (for judgment).

৯৩। কিন্তু [ পরবর্তী প্রজন্ম ] তাদের ধর্মের ব্যাপারে নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে ফেলেছে , কিন্তু সকলেই আমার নিকট ফিরে আসতে হবে ২৭৫০।

২৭৫০। কালের প্রবাহে যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষ আল্লাহ্‌র প্রেরিত বিশ্বমানবতার এই শ্বাশত বাণীকে ভুলে যায়। ভুলে যায় যে, ধর্ম কোন আনুষ্ঠানিক ব্যাপার নয়। ধর্ম ও জীবন এক এবং অবিচ্ছেদ্য। সৃষ্টির আদি থেকে একটাই ধর্ম প্রচলিত হচ্ছে আর তা হচ্ছে আল্লাহ্‌র একত্ববাদের ধর্ম। আল্লাহ্‌র হুকুম হচ্ছে ” [ শুধুমাত্র ] আমার ইবাদত কর।” এভাবেই বিশ্বমানব সম্প্রদায় এক সম্প্রদায় , এক জাতিতে পরিণত হয়।

সে কারণে আল্লাহ্‌র প্রেরিত সকল নবী রসুলকে ইসলামের দৃষ্টিতে সম্মানীয় বিবেচনা করা হয় এবং মুসলমান মাত্রই বিশ্বাস করে যে, তারা সকলেই এক মহাপরাক্রমশালী, মহাজ্ঞানী আল্লাহ্‌র নিকট থেকে প্রেরিত। এখানেই ইসলামে সাম্য বিরাজ করে। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে পূর্ববর্তী সম্প্রদায় আল্লাহ্‌র এই অমোঘ বাণীর তাৎপর্য অনুধাবন করে না, ফলে সঙ্কীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গীর কারণে, শুধুমাত্র নাম সর্বস্ব ধর্মীয় মূল্যবোধকে আকড়ে ধরে। এর ফলে মানুষে মানুষে, জাতিতে জাতিতে ভেদাভেদ সৃষ্টি হয়।

আল্লাহ্‌র বাণীর মূল মর্মার্থ জীবন থেকে হারিয়ে যায়। সৃষ্টি হয় ধর্মের নামে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়। এক জাতির পরিবর্তে সৃষ্টি হয় বহু বিশ্বাসের ভিত্তিতে বহু জাতি, বহু সম্প্রদায়। এ সবই মানুষের সংকীর্ণতা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের মূল মূল্যবোধ অনুধাবন না করার ফলশ্রুতি।

উপদেশ : পূর্ববর্তী ধর্মীয় ভেদাভেদ সম্বন্ধে যা বলা হয়েছে আজকের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এ কথা আজ সমভাবে প্রযোজ্য। বিশ্বব্যপী মুসলমানেরা আজ ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিশ্ব সভাতে হচ্ছে নির্যাতিত ও লাঞ্ছিত।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৯৪)

অতঃপর যে বিশ্বাসী অবস্থায় সৎকর্ম সম্পাদন করে, তার প্রচেষ্টা অস্বীকৃত হবে না এবং আমি তা লিপিবদ্ধ করে রাখি।
So whoever does righteous good deeds while he is a believer (in the Oneness of Allâh Islâmic Monotheism), his efforts will not be rejected. Verily! We record it in his Book of deeds.

فَمَن يَعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتِ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَا كُفْرَانَ لِسَعْيِهِ وَإِنَّا لَهُ كَاتِبُونَ
Faman yaAAmal mina alssalihati wahuwa mu/minun fala kufrana lisaAAyihi wa-inna lahu katiboona

YUSUFALI: Whoever works any act of righteousness and has faith,- His endeavour will not be rejected: We shall record it in his favour.
PICKTHAL: Then whoso doeth some good works and is a believer, there will be no rejection of his effort. Lo! We record (it) for him.

SHAKIR: Therefore whoever shall do of good deeds and he is a believer, there shall be no denying of his exertion, and surely We will write (It) down for him.
KHALIFA: As for those who work righteousness, while believing, their work will not go to waste; we are recording it.

রুকু – ৭

৯৪। যদি কারও ঈমান থাকে ও কোন সৎকাজ করে , তার প্রচেষ্টা কখনও প্রত্যাখান করা হবে না। আমি তা তাঁর অনুকূলে লিখে রাখবো ২৭৫১।

২৭৫১। ‘সৎকাজ’ অর্থাৎ ‘ভালোকাজ’ – মানুষের যে কোনও সৎকাজকে আল্লাহ্‌ হারিয়ে যেতে দেন না, তা যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন। সৎকাজকে আল্লাহ্‌ অত্যন্ত সম্মান করেন এবং আল্লাহ্‌ বান্দাকে তাঁর সৎকাজের প্রতিদান করেন বহুগুণ বৃদ্ধি করে। যদি আল্লাহ্‌র প্রতি আন্তরিক বিশ্বাস রেখে, শুধু তাঁর সন্তুষ্টির জন্য সৎ কাজ করা হয় তবে বান্দার জীবনে তা হবে আত্মিক উন্নতির সোপান স্বরূপ। সৎ কাজ কখনও মহাকালের গর্ভে হারিয়ে যায় না। আল্লাহ্‌র কাছে তার হিসাব লেখা থাকে।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৯৫)

যেসব জনপদকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি, তার অধিবাসীদের ফিরে না আসা অবধারিত।
And a ban is laid on every town (population) which We have destroyed that they shall not return (to this world again, nor repent to Us).

وَحَرَامٌ عَلَى قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا أَنَّهُمْ لَا يَرْجِعُونَ
Waharamun AAala qaryatin ahlaknaha annahum la yarjiAAoona

YUSUFALI: But there is a ban on any population which We have destroyed: that they shall not return,
PICKTHAL: And there is a ban upon any community which We have destroyed: that they shall not return.

SHAKIR: And it is binding on a town which We destroy that they shall not return.
KHALIFA: It is forbidden for any community we had annihilated to return.

৯৫। যে জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি তার লোকদের উপরে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে; তারা আর ফিরে আসবে না ২৭৫২,

২৭৫২। যখন কোন ব্যক্তি বা জাতি পাপের সর্বোচ্চ সীমায় উপণীত হয়, তখন সে ধ্বংসের প্রান্তসীমায় নীত হয়। আল্লাহ্‌ শাস্তির সময়কাল সেই ব্যক্তি বা জাতির জন্য অতি আসন্ন। কোরাণ শরীফে এরূপ বহু জাতির বিবরণ আছে যারা আল্লাহ্‌র ক্রোধের পাত্রে পরিণত হয়ে ধবংস হয়ে যায়। যেমন সদম ও গোমরাহ্‌ শহরের বাসিন্দাদের পাপ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার আর কোনও আশা ছিলো না। এ সব ক্ষেত্রে কোরাণ শরীফে উল্লেখ আছে যে, যারা পূণ্যাত্মা আল্লাহ্‌র ক্রোধের প্রকাশের পূর্বেই তাদের সাবধান করে দেয়া হয় এবং তাঁদের ধ্বংসজজ্ঞ থেকে রক্ষা করা হয় যেমনটি করা হয়েছিলো হযরত নূহ্‌ ও লূতকে।

এই আয়াতে বলা হয়েছে যে, যারা ধ্বংস প্রাপ্ত হবে সে সব পাপীদের অনুতাপের ও সংশোধনের জন্য আর কোনও সুযোগ দেয়া হবে না। কারণ তারা তাদের সুযোগের সদ্ব্যবহার করার পরিবর্তে তা হাসি ঠাট্টার বিষয়বস্তুতে এবং অবজ্ঞার পাত্রে পরিণত করেছিলো। সুতারাং তাদের আর পৃথিবীতে ফিরে আসার সুযোগ দেয়া হবে না। শেষ বিচারের দিনে তাদের পুনরুত্থিত করা হবে।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৯৬)

যে পর্যন্ত না ইয়াজুজ ও মাজুজকে বন্ধন মুক্ত করে দেয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উচ্চভুমি থেকে দ্রুত ছুটে আসবে।
Until, when Ya’jûj and Ma’jûj (Gog and Magog) are let loose (from their barrier), and they swiftly swarm from every mound.

حَتَّى إِذَا فُتِحَتْ يَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَهُم مِّن كُلِّ حَدَبٍ يَنسِلُونَ
Hatta itha futihat ya/jooju wama/jooju wahum min kulli hadabin yansiloona

YUSUFALI: Until the Gog and Magog (people) are let through (their barrier), and they swiftly swarm from every hill.
PICKTHAL: Until, when Gog and Magog are let loose, and they hasten out of every mound,

SHAKIR: Even when Gog and Magog are let loose and they shall break forth from every elevated place.
KHALIFA: Not until Gog and Magog reappear, will they then return – they will come from every direction.

৯৬। যতক্ষণ না ইয়াযুজ মাজুজ [ সম্প্রদায়কে ] তাদের বন্ধন মুক্ত করা হবে ২৭৫৩। এবং তারা প্রত্যেক উচ্চস্থান থেকে পতঙ্গের পালের ন্যায় [ ঝাঁকে ঝাঁকে ] ছুটে আসবে।

২৭৫৩। ইয়াজুজ ও মাজুজ সম্বন্ধে দেখুন টিকা ২৪৩৯ এবং আয়াত [ ১৮ : ৯৪ ]। এই নাম দুটি অসভ্য বর্বর জাতিদের প্রতি প্রতীক স্বরূপ ব্যবহার করা হয়। বুনো বর্বর জাতিরা পঙ্গপালের মত ঝাঁকে ঝাঁকে সমস্ত বাধা নিষেধের প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলে সমস্ত পৃথিবী অধিকার করে ফেলবে। ইয়াজুজ , মাজুজের নাম এখানে প্রতীক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ রোজ কেয়ামতের পূর্বে সারা পৃথিবীতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটবে। অন্যায়কারী উচ্ছৃঙ্খল জনতার দখলে পৃথিবীর শাসন ভার চলে যাবে। এই হবে রোজ কেয়ামতের পূর্ব লক্ষণ। কোরাণের ভবিষ্যত বাণী এরূপ।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৯৭)

আমোঘ প্রতিশ্রুত সময় নিকটবর্তী হলে কাফেরদের চক্ষু উচ্চে স্থির হয়ে যাবে; হায় আমাদের দূর্ভাগ্য, আমরা এ বিষয়ে বেখবর ছিলাম; বরং আমরা গোনাহগরই ছিলাম।

And the true promise (Day of Resurrection) shall draw near (of fulfillment). Then (when mankind is resurrected from their graves), you shall see the eyes of the disbelievers fixedly stare in horror. (They will say): ”Woe to us! We were indeed heedless of this; nay, but we were Zâlimûn (polytheists and wrong-doers, etc.).”

وَاقْتَرَبَ الْوَعْدُ الْحَقُّ فَإِذَا هِيَ شَاخِصَةٌ أَبْصَارُ الَّذِينَ كَفَرُوا يَا وَيْلَنَا قَدْ كُنَّا فِي غَفْلَةٍ مِّنْ هَذَا بَلْ كُنَّا ظَالِمِينَ

Waiqtaraba alwaAAdu alhaqqu fa-itha hiya shakhisatun absaru allatheena kafaroo ya waylana qad kunna fee ghaflatin min hatha bal kunna thalimeena

YUSUFALI: Then will the true promise draw nigh (of fulfilment): then behold! the eyes of the Unbelievers will fixedly stare in horror: “Ah! Woe to us! we were indeed heedless of this; nay, we truly did wrong!”

PICKTHAL: And the True Promise draweth nigh; then behold them, staring wide (in terror), the eyes of those who disbelieve! (They say): Alas for us! We (lived) in forgetfulness of this. Ah, but we were wrong-doers!

SHAKIR: And the true promise shall draw nigh, then lo! the eyes of those who disbelieved shall be fixedly open: O woe to us! surely we were m a state of heedlessness as to this; nay, we were unjust.

KHALIFA: That is when the inevitable prophecy will come to pass, and the disbelievers will stare in horror: “Woe to us; we have been oblivious. Indeed, we have been wicked.”

৯৭। তখন অমোঘ প্রতিশ্রুতি কাল নিকটে এসে পৌঁছবে। অতঃপর দেখো! অবিশ্বাসীদের চক্ষু আতঙ্কে স্থির হয়ে যাবে ২৭৫৪। ” হায় ! দুর্ভোগ আমাদের ! সত্যই আমরা এ থেকে অমনোযোগী ছিলাম , আমরা [ বাস্তবিকই ] পাপ করেছিলাম। ”

২৭৫৪। দেখুন আয়াত [ ১৪ : ৪২ ]

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৯৮)

তোমরা এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের পুজা কর, সেগুলো দোযখের ইন্ধন। তোমরাই তাতে প্রবেশ করবে।
Certainly! You (disbelievers) and that which you are worshipping now besides Allâh, are (but) fuel for Hell! (Surely), you will enter it.

إِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ حَصَبُ جَهَنَّمَ أَنتُمْ لَهَا وَارِدُونَ
Innakum wama taAAbudoona min dooni Allahi hasabu jahannama antum laha waridoona

YUSUFALI: Verily ye, (unbelievers), and the (false) gods that ye worship besides Allah, are (but) fuel for Hell! to it will ye (surely) come!
PICKTHAL: Lo! ye (idolaters) and that which ye worship beside Allah are fuel of hell. Thereunto ye will come.
SHAKIR: Surely you and what you worship besides Allah are the firewood of hell; to it you shall come.
KHALIFA: You and the idols you worship besides GOD will be fuel for Hell; this is your inevitable destiny.

৯৮। নিশ্চয়ই তোমরা [ অবিশ্বাসীরা ] এবং আল্লাহ্‌ বাদে তোমরা যে [মিথ্যা ] উপাস্যের এবাদত করতে সকলকেই জাহান্নামের ইন্ধন হতে হবে। [ অবশ্যই ] তোমরা সকলে তাতে প্রবেশ করবে।

৯৯। যদি তারা [ প্রকৃত ] উপাস্য হতো ,তবে তারা সেখানে প্রবেশ করতো না ২৭৫৫। কিন্তু প্রত্যেকেই সেখানে চিরকাল থাকবে।

২৭৫৫। সত্য এবং মিথ্যার মধ্যে সর্বোচ্চ প্রমাণ হচ্ছে ; সত্য শেষ পর্যন্ত বিকাশমান ও স্থায়ী , অপর পক্ষে মিথ্যা অস্থায়ী ও এর ধ্বংস অনিবার্য। সেরূপ যারা সত্যের পূজারী তাঁরা তাঁদের আত্মার মাঝে সত্যের আলোকে অনুধাবনে সক্ষম হবেন। সত্যের আলো তাদের পথের ঠিকানা বাতলে দেবে। এই সত্য হচ্ছে একত্ববাদ , সত্যের অনুধাবন হচ্ছে একত্ববাদের আলো। একত্ববাদ আত্মাকে সর্বোচ্চ সত্যকে অনুভবের ক্ষমতা দান করে যা একজন বহু ইলাহী এর এবাদতকারীর চরিত্রে জন্ম লাভ করে না। কারণ তাদের শেষ পরিণতি দোযখের আগুন। পৃথিবীতে তারা এই শাস্তির পরিণাম কল্পনাও করতে পারে নাই। সুতারাং যখন তারা শাস্তিকে প্রত্যক্ষ করবে , তখন অনুতাপের মাধ্যমে ফিরে আসার উপায় থাকবে না। তখন শুধু আর্তনাদ , হাহাকার এবং দীর্ঘশ্বাস হবে তাদের স্থায়ী জীবন।

সূরা আম্বিয়া

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ৯৯)

এই মূর্তিরা যদি উপাস্য হত, তবে জাহান্নামে প্রবেশ করত না। প্রত্যেকেই তাতে চিরস্থায়ী হয়ে পড়ে থাকবে।
Had these (idols, etc.) been âliha (gods), they would not have entered there (Hell), and all of them will abide therein.

لَوْ كَانَ هَؤُلَاء آلِهَةً مَّا وَرَدُوهَا وَكُلٌّ فِيهَا خَالِدُونَ
Law kana haola-i alihatan ma waradooha wakullun feeha khalidoona

YUSUFALI: If these had been gods, they would not have got there! but each one will abide therein.
PICKTHAL: If these had been gods they would not have come thither, but all will abide therein.

SHAKIR: Had these been gods, they would not have come to it and all shall abide therein.
KHALIFA: If those were gods, they would not have ended up in Hell. All its inhabitants abide in it forever.

৯৮। নিশ্চয়ই তোমরা [ অবিশ্বাসীরা ] এবং আল্লাহ্‌ বাদে তোমরা যে [মিথ্যা ] উপাস্যের এবাদত করতে সকলকেই জাহান্নামের ইন্ধন হতে হবে। [ অবশ্যই ] তোমরা সকলে তাতে প্রবেশ করবে।

৯৯। যদি তারা [ প্রকৃত ] উপাস্য হতো ,তবে তারা সেখানে প্রবেশ করতো না ২৭৫৫। কিন্তু প্রত্যেকেই সেখানে চিরকাল থাকবে।

২৭৫৫। সত্য এবং মিথ্যার মধ্যে সর্বোচ্চ প্রমাণ হচ্ছে ; সত্য শেষ পর্যন্ত বিকাশমান ও স্থায়ী , অপর পক্ষে মিথ্যা অস্থায়ী ও এর ধ্বংস অনিবার্য। সেরূপ যারা সত্যের পূজারী তাঁরা তাঁদের আত্মার মাঝে সত্যের আলোকে অনুধাবনে সক্ষম হবেন। সত্যের আলো তাদের পথের ঠিকানা বাতলে দেবে। এই সত্য হচ্ছে একত্ববাদ , সত্যের অনুধাবন হচ্ছে একত্ববাদের আলো। একত্ববাদ আত্মাকে সর্বোচ্চ সত্যকে অনুভবের ক্ষমতা দান করে যা একজন বহু ইলাহী এর এবাদতকারীর চরিত্রে জন্ম লাভ করে না।

কারণ তাদের শেষ পরিণতি দোযখের আগুন। পৃথিবীতে তারা এই শাস্তির পরিণাম কল্পনাও করতে পারে নাই। সুতারাং যখন তারা শাস্তিকে প্রত্যক্ষ করবে , তখন অনুতাপের মাধ্যমে ফিরে আসার উপায় থাকবে না। তখন শুধু আর্তনাদ , হাহাকার এবং দীর্ঘশ্বাস হবে তাদের স্থায়ী জীবন।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ১০০)

তারা সেখানে চীৎকার করবে এবং সেখানে তারা কিছুই শুনতে পাবে না।
Therein breathing out with deep sighs and roaring will be their portion, and therein they will hear not.

لَهُمْ فِيهَا زَفِيرٌ وَهُمْ فِيهَا لَا يَسْمَعُونَ
Lahum feeha zafeerun wahum feeha la yasmaAAoona

YUSUFALI: There, sobbing will be their lot, nor will they there hear (aught else).
PICKTHAL: Therein wailing is their portion, and therein they hear not.

SHAKIR: For them therein shall be groaning and therein they shall not hear.
KHALIFA: They will sigh and groan therein, and they will have no access to any news.

১০০। তাদের নিয়তি হবে কাঁদা; সেখানে তারা কিছুই শুনতে পাবে না।

১০১। যাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে পূর্বেই মঙ্গল নির্ধারিত হয়েছে তাদের সেখান থেকে বহু দূরে রাখা হবে ২৭৫৬।

২৭৫৬। অপর পক্ষে , যারা সৎকর্মশীল এবং একত্ববাদের সত্যে বিশ্বাসী তাদের তুলনা করা হয়েছে ঐ সব বহুশরীকবাদী দোযখবাসীদে সাথে। এ সব সৎকর্মশীল ও সত্যে বিশ্বাসীদের নিকট দোযখের কোন আর্তনাদ, হাহাকার বা দীর্ঘশ্বাস পৌঁছবে না। সত্যের আলোতে উদ্ভাসিত এ সব আত্মার সকল আশা আকাঙ্খা পরিপূর্ণভাবে এবং অনন্তকালের জন্য পূর্ণ করা হবে এবং তাদের পৌঁছে দেয়া হবে স্থায়ী সুখ শান্তির ঠিকানায়। এই ঠিকানা পৃথিবীর সুখের মত ক্ষণস্থায়ী হবে না। তা হবে অনন্তকাল ব্যপী, চিরস্থায়ী।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ১০১)

যাদের জন্য প্রথম থেকেই আমার পক্ষ থেকে কল্যাণ নির্ধারিত হয়েছে তারা দোযখ থেকে দূরে থাকবে।
Verily those for whom the good has preceded from Us, they will be removed far therefrom (Hell) [e.g. ’Iesa (Jesus), son of Maryam (Mary); ’Uzair (Ezra), etc.].

إِنَّ الَّذِينَ سَبَقَتْ لَهُم مِّنَّا الْحُسْنَى أُوْلَئِكَ عَنْهَا مُبْعَدُونَ
Inna allatheena sabaqat lahum minna alhusna ola-ika AAanha mubAAadoona

YUSUFALI: Those for whom the good (record) from Us has gone before, will be removed far therefrom.
PICKTHAL: Lo! those unto whom kindness hath gone forth before from Us, they will be far removed from thence.

SHAKIR: Surely (as for) those for whom the good has already gone forth from Us, they shall be kept far off from it;
KHALIFA: As for those who deserved our magnificent rewards, they will be protected from it.

১০০। তাদের নিয়তি হবে কাঁদা; সেখানে তারা কিছুই শুনতে পাবে না।

১০১। যাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে পূর্বেই মঙ্গল নির্ধারিত হয়েছে তাদের সেখান থেকে বহু দূরে রাখা হবে ২৭৫৬।

২৭৫৬। অপর পক্ষে , যারা সৎকর্মশীল এবং একত্ববাদের সত্যে বিশ্বাসী তাদের তুলনা করা হয়েছে ঐ সব বহুশরীকবাদী দোযখবাসীদে সাথে। এ সব সৎকর্মশীল ও সত্যে বিশ্বাসীদের নিকট দোযখের কোন আর্তনাদ, হাহাকার বা দীর্ঘশ্বাস পৌঁছবে না। সত্যের আলোতে উদ্ভাসিত এ সব আত্মার সকল আশা আকাঙ্খা পরিপূর্ণভাবে এবং অনন্তকালের জন্য পূর্ণ করা হবে এবং তাদের পৌঁছে দেয়া হবে স্থায়ী সুখ শান্তির ঠিকানায়। এই ঠিকানা পৃথিবীর সুখের মত ক্ষণস্থায়ী হবে না। তা হবে অনন্তকাল ব্যপী, চিরস্থায়ী।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ১০২)

তারা তার ক্ষীণতম শব্দও শুনবে না এবং তারা তাদের মনের বাসনা অনুযায়ী চিরকাল বসবাস করবে।
They shall not hear the slightest sound of it (Hell), while they abide in that which their ownselves desire.

لَا يَسْمَعُونَ حَسِيسَهَا وَهُمْ فِي مَا اشْتَهَتْ أَنفُسُهُمْ خَالِدُونَ
La yasmaAAoona haseesaha wahum fee ma ishtahat anfusuhum khalidoona

YUSUFALI: Not the slightest sound will they hear of Hell: what their souls desired, in that will they dwell.
PICKTHAL: They will not hear the slightest sound thereof, while they abide in that which their souls desire.

SHAKIR: They will not hear its faintest sound, and they shall abide in that which their souls long for.
KHALIFA: They will not hear its hissing. They will enjoy an abode where they can get everything they desire, forever.

১০২। তারা [ পূণ্যাত্মারা ] দোযখের ক্ষীণতম শব্দও শুনবে না। তাদের আত্মা যা চায়, তারা তার মধ্যেই [ চিরকাল ] থাকবে।

১০৩। মহাভীতি তাদের কোন দুঃখ দেবে না ২৭৫৭। পক্ষান্তরে ফেরেশতারা তাদের অভ্যর্থনা করবে এই বলে, ” আজকে তোমাদের দিন, যে দিন সম্বন্ধে তোমাদের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিলো। ”

২৭৫৭। শেষ বিচারের দিনে পাপীদের অন্তর জবাবদিহিতার আতঙ্কে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। কিন্তু যারা পূণ্যাত্মা তারা থাকবেন এসব ভয় ভীতি , উদ্বেগ, দুঃশ্চিন্তা ও দুঃখ দুর্দ্দশা মুক্ত। এই সেই দিন যেদিন তাদের আশা আকাঙ্খার পরিপূর্ণতা লাভ করবে। সুখ ও শান্তি তাদের জীবনকে ধন্য করবে। পৃথিবীর সৎ কর্মফল পরলোকে তাদের সাফল্যের স্বর্ণ দুয়ারে পৌঁছে দেবে। সেখানে তাদের ফেরেশতারা স্বাগতম জানাবে, সাদরে অভ্যর্থনা করবে। আল্লাহ্‌র সান্নিধ্যে লাভের মাধ্যমে তাদের মানব জীবনের সর্বোচ্চ সফলতা লাভ করবে, অপার নিঃসীম শান্তির ক্রোড়ে হবে তাঁদের অবস্থান।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ১০৩)

মহা ত্রাস তাদেরকে চিন্তান্বিত করবে না এবং ফেরেশতারা তাদেরকে অভ্যর্থনা করবেঃ আজ তোমাদের দিন, যে দিনের ওয়াদা তোমাদেরকে দেয়া হয়েছিল।

The greatest terror (on the Day of Resurrection) will not grieve them, and the angels will meet them, (with the greeting): ”This is your Day which you were promised.”

لَا يَحْزُنُهُمُ الْفَزَعُ الْأَكْبَرُ وَتَتَلَقَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ هَذَا يَوْمُكُمُ الَّذِي كُنتُمْ تُوعَدُونَ
La yahzunuhumu alfazaAAu al-akbaru watatalaqqahumu almala-ikatu hatha yawmukumu allathee kuntum tooAAadoona

YUSUFALI: The Great Terror will bring them no grief: but the angels will meet them (with mutual greetings): “This is your Day,- (the Day) that ye were promised.”
PICKTHAL: The Supreme Horror will not grieve them, and the angels will welcome them, (saying): This is your Day which ye were promised;

SHAKIR: The great fearful event shall not grieve them, and the angels shall meet them: This is your day which you were promised.
KHALIFA: The great horror will not worry them, and the angels will receive them joyfully: “This is your day, that has been promised to you.”

১০২। তারা [ পূণ্যাত্মারা ] দোযখের ক্ষীণতম শব্দও শুনবে না। তাদের আত্মা যা চায়, তারা তার মধ্যেই [ চিরকাল ] থাকবে।

১০৩। মহাভীতি তাদের কোন দুঃখ দেবে না ২৭৫৭। পক্ষান্তরে ফেরেশতারা তাদের অভ্যর্থনা করবে এই বলে, ” আজকে তোমাদের দিন, যে দিন সম্বন্ধে তোমাদের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিলো। ”

২৭৫৭। শেষ বিচারের দিনে পাপীদের অন্তর জবাবদিহিতার আতঙ্কে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। কিন্তু যারা পূণ্যাত্মা তারা থাকবেন এসব ভয় ভীতি , উদ্বেগ, দুঃশ্চিন্তা ও দুঃখ দুর্দ্দশা মুক্ত। এই সেই দিন যেদিন তাদের আশা আকাঙ্খার পরিপূর্ণতা লাভ করবে। সুখ ও শান্তি তাদের জীবনকে ধন্য করবে। পৃথিবীর সৎ কর্মফল পরলোকে তাদের সাফল্যের স্বর্ণ দুয়ারে পৌঁছে দেবে। সেখানে তাদের ফেরেশতারা স্বাগতম জানাবে, সাদরে অভ্যর্থনা করবে। আল্লাহ্‌র সান্নিধ্যে লাভের মাধ্যমে তাদের মানব জীবনের সর্বোচ্চ সফলতা লাভ করবে, অপার নিঃসীম শান্তির ক্রোড়ে হবে তাঁদের অবস্থান।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ১০৪)

সেদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে নেব, যেমন গুটানো হয় লিখিত কাগজপত্র। যেভাবে আমি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম, সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব। আমার ওয়াদা নিশ্চিত, আমাকে তা পূর্ণ করতেই হবে।
And (remember) the Day when We shall roll up the heavens like a scroll rolled up for books, as We began the first creation, We shall repeat it, (it is) a promise binding upon Us. Truly, We shall do it.

يَوْمَ نَطْوِي السَّمَاء كَطَيِّ السِّجِلِّ لِلْكُتُبِ كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُّعِيدُهُ وَعْدًا عَلَيْنَا إِنَّا كُنَّا فَاعِلِينَ
Yawma natwee alssamaa katayyi alssijlli lilkutubi kama bada/na awwala khalqin nuAAeeduhu waAAdan AAalayna inna kunna faAAileena

YUSUFALI: The Day that We roll up the heavens like a scroll rolled up for books (completed),- even as We produced the first creation, so shall We produce a new one: a promise We have undertaken: truly shall We fulfil it.

PICKTHAL: The Day when We shall roll up the heavens as a recorder rolleth up a written scroll. As We began the first creation, We shall repeat it. (It is) a promise (binding) upon Us. Lo! We are to perform it.

SHAKIR: On the day when We will roll up heaven like the rolling up of the scroll for writings, as We originated the first creation, (so) We shall reproduce it; a promise (binding on Us); surely We will bring it about.

KHALIFA: On that day, we will fold the heaven, like the folding of a book. Just as we initiated the first creation, we will repeat it. This is our promise; we will certainly carry it out.

১০৪। সেদিন আকাশমন্ডলীকে আমি গুটানো কাগজের ন্যায় পেঁচিয়ে গুটিয়ে ফেলবো। যে ভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম , সেভাবেই আমি নূতন সৃষ্টি করবো ২৭৫৮। যে প্রতিশ্রুতির দায়িত্ব আমি নিয়েছি, আমি তা অবশ্যই পালন করবো।

২৭৫৮। প্রাচীন কালে দলীল দস্তাবীজ, ফরমান ইত্যাদি গুটিয়ে রাখা হতো। এই গুটানোকে উপমা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এই সেই দিন যেদিন সারা বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের সকল কাজকে শেষ করে গুটিয়ে ফেলা হবে। এখানে আকাশমন্ডলী দ্বারা পৃথিবী এবং সারা বিশ্ব জাহান অর্থাৎ নভোমন্ডল, গ্যালাক্সী ইত্যাদি সকলকে বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ্‌ যদি শূন্য থেকে পৃথিবী সৃষ্টির ক্ষমতা রাখেন [Big Bang Theory ] , তবে তাঁর পক্ষে নূতন পৃথিবী সৃষ্টিও সম্ভব। এ হবে সম্পূর্ণ নূতন পৃথিবী , হয়তো বা তা হবে নূতন মাত্রা বিশিষ্ট [ Another Plane ] , যার সম্বন্ধে বর্তমান মানুষের ধারণা করাও সম্ভব নয়। এই হচ্ছে বিশ্ববিধাতার পরিকল্পনা, এই তাঁর প্রতিজ্ঞা। নূতন মাত্রার পৃথিবীর জন্য দেখুন [ ১৪ : ৪৮ ] , [ ৫৬ : ৬১ ] আয়াত।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ১০৫)

আমি উপদেশের পর যবুরে লিখে দিয়েছি যে, আমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাগণ অবশেষে পৃথিবীর অধিকারী হবে।
And indeed We have written in Zabûr (Psalms) [i.e. all the revealed Holy Books the Taurât (Torah), the Injeel (Gospel), the Qur’ân] after (We have already written in) Al-Lauh Al-Mahfûz (the Book, that is in the heaven with Allâh), that My righteous slaves shall inherit the land (i.e. the land of Paradise).

وَلَقَدْ كَتَبْنَا فِي الزَّبُورِ مِن بَعْدِ الذِّكْرِ أَنَّ الْأَرْضَ يَرِثُهَا عِبَادِيَ الصَّالِحُونَ
Walaqad katabna fee alzzaboori min baAAdi alththikri anna al-arda yarithuha AAibadiya alssalihoona

YUSUFALI: Before this We wrote in the Psalms, after the Message (given to Moses): My servants the righteous, shall inherit the earth.”
PICKTHAL: And verily we have written in the Scripture, after the Reminder: My righteous slaves will inherit the earth:

SHAKIR: And certainly We wrote in the Book after the reminder that (as for) the land, My righteous servants shall inherit it.
KHALIFA: We have decreed in the Psalms, as well as in other scriptures, that the earth shall be inherited by My righteous worshipers.

১০৫। নিশ্চয়ই আমি [ মুসার ] সর্তককারী তাওরাতের পরে যবুরের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছি যে , ” আমার পূণ্যাত্মা সৎ বান্দারাই পৃথিবীর উত্তরাধিকারী হবে।” ২৭৫৯, ২৭৬০।

২৭৫৯। “” দাউদ নবীর কাছে প্রার্থনা সংগীত পূর্ণ যে কিতাব প্রেরণ করা হয় তার নাম যবুর “। দাউদ নবীর উল্লেখের সাথে আয়াতে [ ৪ : ১৬৩ এবং ১৭ : ৫৫ ], ‘যবুরের’ উল্লেখ আছে। যবুরে যে সব উপদেশ আছে তা নিম্নরূপ : “Psalms xxv : 13 , ” his seed shall inherit the earth” xxxvii : 11, ” The meek shall inherit the earth” [ quoted by Jesus in Matt v . 3 ] ; and xxxvii : 29 , “The righteous shall inherit the land” কোরাণের উপদেশ হচ্ছে, My servants / the righteous , shall inherit the earth. যার বাংলা অনুবাদ হয়েছে, ” পূণ্যাত্মা সৎ বান্দারাই পৃথিবীর অধিকারী হবে।”

২৭৬০। একই প্রতিশ্রুতি আছে Pentatench বা বাইবেলের প্রথম পাঁচটি খন্ডে Exod xxxii : 13.

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ১০৬)

এতে এবাদতকারী সম্প্রদায়ের জন্যে পর্যাপ্ত বিষয়বস্তু আছে।
Verily, in this (the Qur’ân) there is a plain Message for people who worship Allâh (i.e. the true, real believers of Islâmic Monotheism who act practically on the Qur’ân and the Sunnah legal ways of the Prophet SAW).

إِنَّ فِي هَذَا لَبَلَاغًا لِّقَوْمٍ عَابِدِينَ
Inna fee hatha labalaghan liqawmin AAabideena

YUSUFALI: Verily in this (Qur’an) is a Message for people who would (truly) worship Allah.
PICKTHAL: Lo! there is a plain statement for folk who are devout.

SHAKIR: Most surely in this is a message to a people who serve
KHALIFA: This is a proclamation for people who are worshipers.

১০৬। নিশ্চয়ই এই [ কোর-আন হচ্ছে ] তাদের জন্য উপদেশ যারা [ প্রকৃতই ] আল্লাহ্‌র এবাদত করে ২৭৬১।

২৭৬১। আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশের সর্বোচ্চ পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়েছে কোরাণ শরীফ নাজেল হওয়ার মাধ্যমে। কোরাণ পূর্ববর্তী প্রত্যাদেশ সমূহকে সত্যায়ন করে, মানুষ এ সব প্রত্যাদেশের যে সব অংশ বিকৃত করে ফেলেছিলো , কোরাণ তা সংশোধন করে এবং যারা আল্লাহ্‌র প্রকৃত এবাদতকারী তাদের জন্য আছে বিশদ ব্যাখ্যা ও সত্য পথের পথ- নির্দ্দেশ। কোরাণ জাতি , ধর্ম , স্থান কাল নির্বিশেষে , সকলের জন্য , তারা পূর্ববর্তী কিতাবের অনুসারী হোক কিংবা না হোক, সকলের জন্য সুপথ প্রদর্শক। কারণ এখানে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে ,

” এতে রয়েছে তাদের জন্য উপদেশ যারা আল্লাহ্‌র এবাদত করে।” অর্থাৎ যারা শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র একত্বে বিশ্বাসী। যাদের এবাদতে কোনও অংশীদারিত্ব নাই, জাতি, ধর্ম , নির্বিশেষে তাদের জন্য কোরাণ হচ্ছে সত্য পথের দিশারী , পথ প্রদর্শক।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ১০৭)

আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি।
And We have sent you (O Muhammad SAW) not but as a mercy for the ’Alamîn (mankind, jinns and all that exists).

وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِينَ
Wama arsalnaka illa rahmatan lilAAalameena

YUSUFALI: We sent thee not, but as a Mercy for all creatures.
PICKTHAL: We sent thee not save as a mercy for the peoples.

SHAKIR: And We have not sent you but as a mercy to the worlds.
KHALIFA: We have sent you out of mercy from us towards the whole world.

১০৭। এবং আমি তোমাকে সকল সৃষ্টির জন্য রহমত স্বরূপ পাঠিয়েছি ২৭৬২।

২৭৬২। এই আয়াতটির মাধ্যমে এই সত্যের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, হযরত মুহম্মদ [ সা ] কে আল্লাহ্‌ পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন জাতি ধর্ম নির্বিশেষে ‘বিশ্ব জগত’ অর্থাৎ সারা দুনিয়ার জন্য রহমত স্বরূপ। জাতিতে – জাতিতে, বা আল্লাহ্‌র নির্বাচিত শ্রেণীর দাবীদার, বা ইব্রাহীমের প্রজন্ম , বা দাউদ নবীর প্রজন্ম, হিন্দু বা ইহুদী অথবা অ-ইহুদী, আরব – অথবা অ-আরব, তুর্কী অথবা তাজিক, ইউরোপীয়ান অথবা এশিয়ান, সাদা অথবা কালো, আর্য অথবা অনার্য , মঙ্গোলিয়ান অথবা আফ্রিকান, আমেরিকান অথবা অস্ট্রেলিয়ান , একেশ্বরবাদী অথবা বহু ঈশ্বরবাদী পৃথিবীর সকলের জন্য তিনি হচ্ছেন রহমত স্বরূপ। যাদেরই আল্লাহ্‌ আধ্যাত্মিক দায়িত্ব দান করেছেন তাদের সকলের জন্য এই আয়াতের বক্তব্য প্রযোজ্য। ইসলাম হচ্ছে সার্বজনীন বিশ্ব ধর্ম।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ১০৮)

বলুনঃ আমাকে তো এ আদেশই দেয়া হয়েছে যে, তোমাদের উপাস্য একমাত্র উপাস্য। সুতরাংতোমরা কি আজ্ঞাবহ হবে?
Say (O Muhammad SAW): ”It is revealed to me that your Ilâh (God) is only one Ilâh (God – Allâh). Will you then submit to His Will (become Muslims and stop worshipping others besides Allâh)?”

قُلْ إِنَّمَا يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَهَلْ أَنتُم مُّسْلِمُونَ
Qul innama yooha ilayya annama ilahukum ilahun wahidun fahal antum muslimoona

YUSUFALI: Say: “What has come to me by inspiration is that your Allah is One Allah: will ye therefore bow to His Will (in Islam)?”
PICKTHAL: Say: It is only inspired in me that your Allah is One Allah. Will ye then surrender (unto Him)?

SHAKIR: Say: It is only revealed to me that your Allah is one Allah; will you then submit?
KHALIFA: Proclaim, “I have been given divine inspiration that your god is one god. Will you then submit?”

১০৮। বল, ” আমার নিকট যে ওহী এসেছে তা হচ্ছে , তোমাদের একমাত্র প্রভু হচ্ছেন আল্লাহ্‌। সুতারাং তোমরা কি তাহলে আল্লাহ্‌র ইচ্ছার কাছে অনুগত হবে [ ইসলামে ] ? ” ২৭৬৩।

২৭৬৩। এই বিশাল মহা-বিশ্ব , আকাশ – পৃথিবীর স্রষ্টা একজনই , আর তিনি-ই শুধুমাত্র সকলের এবাদতের অধিকারী। তিনি এক এবং অদ্বিতীয় , তিনি স্রষ্টা , পালনকর্তা ও রক্ষাকর্তা।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ১০৯)

অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলে দিনঃ আমি তোমাদেরকে পরিস্কার ভাবে সতর্ক করেছি এবং আমি জানি না, তোমাদেরকে যে ওয়াদা দেয়া হয়েছে, তা নিকটবর্তী না দূরবর্তী।

But if they (disbelievers, idolaters, Jews, Christians, polytheists, etc.) turn away (from Islâmic Monotheism) say (to them O Muhammad SAW): ”I give you a notice (of war as) to be known to us all alike. And I know not whether that which you are promised (i.e. the torment or the Day of Resurrection) is near or far.”

فَإِن تَوَلَّوْا فَقُلْ آذَنتُكُمْ عَلَى سَوَاء وَإِنْ أَدْرِي أَقَرِيبٌ أَم بَعِيدٌ مَّا تُوعَدُونَ
Fa-in tawallaw faqul athantukum AAala sawa-in wa-in adree aqareebun am baAAeedun ma tooAAadoona

YUSUFALI: But if they turn back, Say: “I have proclaimed the Message to you all alike and in truth; but I know not whether that which ye are promised is near or far.
PICKTHAL: But if they are averse, then say: I have warned you all alike, although I know not whether nigh or far is that which ye are promised.

SHAKIR: But if they turn back, say: I have given you warning in fairness and I do not know whether what you are threatened with is near or far;
KHALIFA: If they turn away, then say, “I have warned you sufficiently, and I have no idea how soon or late (the retribution) will come to you.

১০৯। কিন্তু যদি তারা [ অবাধ্যভাবে ] ফিরে যায়, তবে বল, ” আমি তোমাদের সকলের নিকট সমান ভাবে উপদেশ ও সত্যকে ঘোষণা করেছি। কিন্তু আমি জানি না তোমাদের যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা নিকটে না দূরে ২৭৬৪।

২৭৬৪। রসুলুল্লাহ্‌ [ সা ] যে বাণী প্রচার করেছেন , কেউ যদি তার মর্মার্থ অনুধাবন করতে না পারে , তবে সে দায়িত্ব রসুলুল্লাহ্‌ -র [ সা ] নয়। মানুষ স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ জীব কারণ স্রষ্টা তাকে সীমিত আকারে হলেও “স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি”দান করেছেন, সে ইচ্ছা করলে ভালোকে গ্রহণ ও মন্দকে বর্জন করতে পারে। অথবা মন্দকে গ্রহণ ও ভালোকে বর্জন করতে পারে। এই স্বাধীনতা স্রষ্টা আদম – সন্তানকে দান করেছেন এবং এখানেই মানুষের প্রাণী জগতে শ্রেষ্ঠত্ব।

তবে এই “স্বাধীন সীমিত ইচ্ছা শক্তির ” জবাবদিহিতা তাকে করতে হবে পরকালে। রসুল [সা] পূণ্যাত্মাদের সুখবর ও পাপীদের সাবধান করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি নিরপেক্ষ , কোনও ব্যক্তি বা জাতি বা গোষ্ঠির প্রতি কোন বিশেষ অনুগ্রহ দেখান নাই এবং একবিন্দু সত্যকেও তিনি গোপন করেন নাই। সত্যকে তিনি প্রচার করেছেন মুক্ত ভাবে সততার সাথে। অবিশ্বাসীরা রসুলকে কেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। এই আয়াতে আল্লাহ্‌ রসুলকে বলতে বলেছেন, ” আমি জানি না, তা নিকট না দূরে ” একমাত্র আল্লাহ্‌র নিকট কেয়ামত দিবসের জ্ঞান, তিনি ব্যতীত এ জ্ঞান আর কারও কাছে নাই।

সূরা আম্বিয়া

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ১১০)

তিনি জানেন, যে কথা সশব্দে বল এবং যে কথা তোমরা গোপন কর।
(Say O Muhammad SAW) Verily, He (Allâh) knows that which is spoken aloud (openly) and that which you conceal.

إِنَّهُ يَعْلَمُ الْجَهْرَ مِنَ الْقَوْلِ وَيَعْلَمُ مَا تَكْتُمُونَ
Innahu yaAAlamu aljahra mina alqawli wayaAAlamu ma taktumoona

YUSUFALI: “It is He Who knows what is open in speech and what ye hide (in your hearts).
PICKTHAL: Lo! He knoweth that which is said openly, and that which ye conceal.

SHAKIR: Surely He knows what is spoken openly and He knows what you hide;
KHALIFA: “He is fully aware of your public utterances, and He is fully aware of everything you conceal.

১১০। ” তোমাদের কথায় যা প্রকাশ কর এবং যা [ তোমাদের অন্তরে ] গোপন রাখ তিনি [সব ] জানেন ২৭৬৫।

২৭৬৫। আল্লাহ্‌র রসুল [ সা ] আল্লাহ্‌র সত্যকে সারা বিশ্ব জাহানের জন্য প্রচার করেছেন। এই সত্যকে গ্রহণের মাধ্যমেই মানুষ ‘সরল পথ’ বা সঠিক পথের ঠিকানা খুঁজে পায়, কে সঠিক পথে চলার জন্য আন্তরিক আর কে শুধুমাত্র নিজস্ব স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ভান করে তা সবই রাব্বুল আলামীন মহান আল্লাহ্‌র নিকট দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। মোনফেকরা নিজস্ব স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ভালো মানুষের ছদ্মবেসে নিজেকে জাহির করে এবং মুসলিম উম্মার সৎ সম্প্রদায়ের নিকট গমন করে। তাদের কাজে কোনও মহৎ উদ্দেশ্য বা আল্লাহ্‌র প্রতি ভালোবাসা থাকে না। পৃথিবীর কেউ মোনাফেকদের মনের এই ভাব বা চিন্তাধারার টের না পেলেও মহাশক্তিধর আল্লাহ্‌র নিকট কিছুই গোপন থাকে না।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ১১১)

আমি জানি না সম্ভবতঃ বিলম্বের মধ্যে তোমাদের জন্যে একটি পরীক্ষা এবং এক সময় পর্যন্ত ভোগ করার সুযোগ।
And I know not, perhaps it may be a trial for you, and an enjoyment for a while.

وَإِنْ أَدْرِي لَعَلَّهُ فِتْنَةٌ لَّكُمْ وَمَتَاعٌ إِلَى حِينٍ
Wa-in adree laAAallahu fitnatun lakum wamataAAun ila heenin

YUSUFALI: “I know not but that it may be a trial for you, and a grant of (worldly) livelihood (to you) for a time.”
PICKTHAL: And I know not but that this may be a trial for you, and enjoyment for a while.

SHAKIR: And I do not know if this may be a trial for you and a provision till a time.
KHALIFA: “For all that I know, this world is a test for you, and a temporary enjoyment.”

১১১। ” আমি জানি না , [তোমাদের জন্য পার্থিব ] জীবনোপকরণ কিছুকালের জন্য অনুমোদন করা , হয়তো তোমাদের জন্য এক পরীক্ষা বিশেষ।” ২৭৬৬

২৭৬৬। সৎ উদ্দেশ্য ও সৎ কর্ম যে পৃথিবীতে সর্বদা স্বীকৃতি লাভ করে তা সত্য নয়। বরং জগৎ সংসারে এর বিপরীত ব্যবস্থাই ঘটে থাকে। যারা অসৎ ও মোনাফেক তারাই জগৎ সংসারে খুব সহজেই প্রতিষ্ঠা পায়। এই আয়াতে বলা হয়েছে যে কারও জাগতিক ও পার্থিব সমৃদ্ধিতে যেনো সৎ লোকদের মনঃকষ্ট না হয়। কারণ এই জাগতিক ও পার্থিব বিষয়বস্তু বান্দার জন্য পরীক্ষা স্বরূপ। এ সবের সঠিক ব্যবহার করতে না পারলে পরলোকের জবাবদিহিতা হবে অত্যন্ত কঠিন। এ সব পার্থিব সম্পদ না থাকা মানেই দুর্ভাগ্য নয়। হয়তো প্রলোভন, পাপ ইত্যাদি থেকে ইহকালে অব্যহতি দেয়ার জন্যই স্রষ্টার এই ব্যবস্থা পূণ্যাত্মাদের জন্য। রসুলকে [ সা ] আল্লাহ্‌র এই বার্তা প্রচারের জন্য নির্দ্দেশ দান করেছেন এই আয়াতে।

সূরা আম্বিয়া(আয়াত ১১২)

পয়গাম্বর বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা, আপনি ন্যায়ানুগ ফয়সালা করে দিন। আমাদের পালনকর্তা তো দয়াময়, তোমরা যা বলছ, সে বিষয়ে আমরা তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।

He (Muhammad SAW) said:”My Lord! Judge You in truth! Our Lord is the Most Beneficent, Whose Help is to be sought against that which you attribute (unto Allâh that He has offspring, and unto Muhammad SAW that he is a sorcerer, and unto the Qur’ân that it is poetry, etc.)!”

قَالَ رَبِّ احْكُم بِالْحَقِّ وَرَبُّنَا الرَّحْمَنُ الْمُسْتَعَانُ عَلَى مَا تَصِفُونَ
Qala rabbi ohkum bialhaqqi warabbuna alrrahmanu almustaAAanu AAala ma tasifoona

YUSUFALI: Say: “O my Lord! judge Thou in truth!” “Our Lord Most Gracious is the One Whose assistance should be sought against the blasphemies ye utter!”

PICKTHAL: He saith: My Lord! Judge Thou with truth. Our Lord is the Beneficent, Whose help is to be implored against that which ye ascribe (unto Him).

SHAKIR: He said: O my Lord! judge Thou with truth; and our Lord is the Beneficent Allah, Whose help is sought against what you ascribe (to Him).

KHALIFA: Say, “My Lord, Your judgment is the absolute justice. Our Lord is the Most Gracious; only His help is sought in the face of your claims.”

১১২। বল, ২৭৬৭, ” হে আমার প্রভু ! তুমি ন্যায়ের সাথে ফয়সালা করে দিও ” ২৭৬৮। ” আমাদের প্রভু পরম করুণাময়, তোমরা আল্লাহর প্রতি যে বিদ্রোহ বাক্য উচ্চারণ করছো তার বিরুদ্ধে আমরা তাহারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি।” ২৭৬৯।

২৭৬৭। দেখুন টিকা ২৬৬৬ এবং আয়াত [ ২১ : ৪ ]। ইউসুফ আলী সাহেবের মতে অনুবাদ হওয়া উচিত “বল” – যার দ্বারা রসুলের [ সা ] প্রতি আল্লাহ্‌র আদেশকে বোঝায়। আয়াত [ ২১ : ১০৯ – ১১২ ] গুলির মাধ্যমে আল্লাহ্‌ রাসুলকে [ সা ] তিনটি বিষয়ের প্রতি মনোযোগী হতে আদেশ দিয়েছেন। ১) আয়াত [ ২১ : ১০৯ – ১১১ ] গুলিতে যারা আল্লাহ্‌র হেদায়েত থেকে বিমুখ তাদের সম্বোধন করা হয়েছে। ২) [২১ :১১২ ] আয়াতের প্রথমার্ধে ” হে আমার প্রতিপালক ! তুমি ন্যায় বিচার করো ” আল্লাহ্‌র নিকট প্রার্থনা জ্ঞাপন করা হয়েছে। এবং ৩) [ ২১ : ১১২ ] আয়াতের শেষার্ধে ” আমাদের প্রভু পরম করুণাময়, তোমরা আল্লাহর প্রতি যে বিদ্রোহ বাক্য উচ্চারণ করছো তার বিরুদ্ধে আমরা তাহারই সাহায্য প্রার্থনা করি।” বিশ্বাসীদের জন্য পরোক্ষভাবে উপদেশ প্রদান করা হয়েছে।

২৭৬৮। ” ন্যায়ের সহিত ফয়সালা করে দিও ” এই বাক্যটি দ্বারা বিভিন্ন ভাবকে বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ্‌র ফয়সালা কামনা করেছেন তাঁর প্রেরিত দূত ও অবিশ্বাসীদের মধ্যে অথবা মোমেন বান্দা ও তাদের যারা উপহাস করতো নিম্ন অবস্থার জন্য তাদের মধ্যে। আর এই ফয়সালা একদিন হবেই – এ অবধারিত সত্য। এবং আল্লাহ্‌র বাণীর প্রচারক ও মোমেন বান্দারা অবশ্যই এ ব্যাপারে শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র উপরেই নির্ভর করবে।

২৭৬৯। আল্লাহ্‌র নিন্দা এক মহাপাপ। আমরা সর্বদা আমাদের নিজেদের এই মহাপাপ থেকে বিরত রাখবো। শুধু নিবৃত রাখা নয় সদা সর্বদা নিজেদের সর্তকাবস্থায় রাখবো যেনো এ পাপ আমাদের স্পর্শ না করে। কিন্তু অন্যকে যদি আমরা এ পাপ থেকে বিরত রাখতে না পারি তখন আমাদের যে কর্তব্য তারই ইঙ্গিত এখানে দেয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে আমরা সেই সর্বশক্তিমানের ক্ষমতার উপরে নির্ভর করবো। কখনও জিঘাংসা বৃত্তির আশ্রয় গ্রহণ করবো না। “তোমরা আল্লাহর প্রতি যে বিদ্রোহ বাক্য ………….. ” অর্থাৎ তিনিই একমাত্র আশ্রয়স্থল।

মন্তব্য : আজকে বাংলাদেশে ধর্মের নামে যে হানাহানি চলছে তার সমাধান আছে এই আয়াতে।

আরও দেখুনঃ 

সূরা হাজ্জ্ব পার্ট-১

সূরা আম্বিয়া পার্ট-৪

সূরা আম্বিয়া পার্ট-৩

সূরা আম্বিয়া পার্ট-২

সূরা আম্বিয়া পার্ট-১

সূরা আম্বিয়া – উইকিপিডিয়া

Leave a Comment