সূরা আল মু’মিনূন[ চারিত্রিক গুণাবলী যা মুমিন বা বিশ্বাসী হওয়ার ‘বীজতলা ‘ বা মূলভিত্তি ] সূরা ২৩। কুরআন । পার্ট-৩

সূরা আল মু’মিনূন, (আরবি: سورة المؤمنون‎‎), (মুমিনগণ) মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের ২৩ তম সূরা। এই সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ১১৮টি।

সূরা আল মু’মিনূন

সূরা মুমিনূন

সূরা মুমিনূন

সূরা মুমিনূন (আয়াত ৪৫)

অতঃপর আমি মূসা ও হারুণকে প্রেরণ করেছিলাম আমার নিদর্শনাবলী ও সুস্পষ্ট সনদসহ,
Then We sent Mûsa (Moses) and his brother Hârûn (Aaron), with Our Ayât (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.) and manifest authority,

ثُمَّ أَرْسَلْنَا مُوسَى وَأَخَاهُ هَارُونَ بِآيَاتِنَا وَسُلْطَانٍ مُّبِينٍ
Thumma arsalna moosa waakhahu haroona bi-ayatina wasultanin mubeenin

YUSUFALI: Then We sent Moses and his brother Aaron, with Our Signs and authority manifest,
PICKTHAL: Then We sent Moses and his brother Aaron with Our tokens and a clear warrant

SHAKIR: Then We sent Musa and his brother Haroun, with Our communications and a clear authority,
KHALIFA: Then we sent Moses and his brother Aaron with our revelations and a profound proof.

৪৫। অতঃপর আমি মুসা ও তাঁর ভাই হারুনকে আমার নিদর্শন ও সুস্পষ্ট প্রমাণসহ পাঠিয়েছিলাম , ২৯০৩-

২৯০৩। মুসা ও হারুনের প্রতি আল্লাহ্‌ দ্বিবিধ কর্তব্য সম্পাদনের জন্য প্রেরণ করেন : ১) ফেরাউন ও তার সভাসদ্‌দের প্রতি। এরা ছিলো উদ্ধত ও অহংকারী। ২) ইসরাঈলীদের প্রতি যাদের জন্য ধর্মীয় বিধান আল্লাহ্‌ সিনাই পর্বতে হযরত মুসাকে দান করেন। কিন্তু ইহুদীরা বারে বারে আল্লাহ্‌র বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। এই উভয় ক্ষেত্রে তাদের বিশ্বাস উৎপন্ন করার জন্য আল্লাহ্‌ হযরত মুসাকে অলৌকিক নিদর্শন এবং সুস্পষ্ট প্রমাণসহ প্রেরণ করেন। তিনি যে, আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশকে কার্যকর করার জন্য আগত এই বিশ্বাস অর্জন করার জন্যই তাঁকে নিদর্শন ও সুস্পষ্ট প্রমাণসহ প্রেরণ করা হয়।

সূরা মুমিনূন (আয়াত ৪৬)

ফেরআউন ও তার অমাত্যদের কাছে। অতঃপর তারা অহংকার করল এবং তারা উদ্ধত সম্প্রদায় ছিল।
To Fir’aun (Pharaoh) and his chiefs, but they behaved insolently and they were people self-exalting (by disobeying their Lord, and exalting themselves over and above the Messenger of Allâh).

إِلَى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ فَاسْتَكْبَرُوا وَكَانُوا قَوْمًا عَالِينَ
Ila firAAawna wamala-ihi faistakbaroo wakanoo qawman AAaleena

YUSUFALI: To Pharaoh and his Chiefs: But these behaved insolently: they were an arrogant people.
PICKTHAL: Unto Pharaoh and his chiefs, but they scorned (them) and they were despotic folk.

SHAKIR: To Firon and his chiefs, but they behaved haughtily and they were an insolent people.
KHALIFA: To Pharaoh and his elders, but they turned arrogant. They were oppressive people.

৪৬। ফেরাউন ও তার পরিষদবর্গের নিকট। কিন্তু তারা উদ্ধত আচরণ করলো। তারা ছিলো এক উদ্ধত সম্প্রদায়।

৪৭। তারা বলেছিলো, ” আমরা কি আমাদের মত দুজন মানুষের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবো ? অথচ তাদের সম্প্রদায়ের লোকেরা আমাদের দাসত্ব করে।” ২৯০৪।

২৯০৪। মিশর সে যুগে পৃথিবীর সভ্যতার পাদপীঠরূপে বিবেচিত ছিলো। শৈর্যে, বীর্যে তারা ছিলো পৃথিবীতে অতুলনীয়। তাদের সভ্যতা, তাদের শক্তি, তাদের প্রাচুর্য, তাদের করে তোলে অহংকারী গর্বিত ও উদ্ধত। তাই তারা সত্যের ডাককে শুনতে পায় নাই, শুনেও সাড়া দিতে পারে নাই। বরং তারা উদ্ধত অহংকারে বলেছিলো, ” অথচ তাদের সম্প্রদায় আমাদিগের দাসত্ব করে। ” তাদের আমরা আল্লাহ্‌র নবী বলে কি ভাবে মানবো ?

উপদেশ : অহংকার মানুষকে প্রকৃত সত্যকে চিনতে বাঁধা দান করে।

সূরা মুমিনূন (আয়াত ৪৭)

তারা বললঃ আমরা কি আমাদের মতই এ দুই ব্যক্তিতে বিশ্বাস স্থাপন করব; অথচ তাদের সম্প্রদায় আমাদের দাস?
They said: ”Shall we believe in two men like ourselves, and their people are obedient to us with humility (and we use them to serve us as we like).”

فَقَالُوا أَنُؤْمِنُ لِبَشَرَيْنِ مِثْلِنَا وَقَوْمُهُمَا لَنَا عَابِدُونَ
Faqaloo anu/minu libasharayni mithlina waqawmuhuma lana AAabidoona

YUSUFALI: They said: “Shall we believe in two men like ourselves? And their people are subject to us!”
PICKTHAL: And they said: Shall we put faith in two mortals like ourselves, and whose folk are servile unto us?

SHAKIR: And they said: What! shall we believe in two mortals like ourselves while their people serve us?
KHALIFA: They said, “Shall we believe for two men whose people are our slaves?”

৪৬। ফেরাউন ও তার পরিষদবর্গের নিকট। কিন্তু তারা উদ্ধত আচরণ করলো। তারা ছিলো এক উদ্ধত সম্প্রদায়।

৪৭। তারা বলেছিলো, ” আমরা কি আমাদের মত দুজন মানুষের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবো ? অথচ তাদের সম্প্রদায়ের লোকেরা আমাদের দাসত্ব করে।” ২৯০৪।

২৯০৪। মিশর সে যুগে পৃথিবীর সভ্যতার পাদপীঠরূপে বিবেচিত ছিলো। শৈর্যে, বীর্যে তারা ছিলো পৃথিবীতে অতুলনীয়। তাদের সভ্যতা, তাদের শক্তি, তাদের প্রাচুর্য, তাদের করে তোলে অহংকারী গর্বিত ও উদ্ধত। তাই তারা সত্যের ডাককে শুনতে পায় নাই, শুনেও সাড়া দিতে পারে নাই। বরং তারা উদ্ধত অহংকারে বলেছিলো, ” অথচ তাদের সম্প্রদায় আমাদিগের দাসত্ব করে। ” তাদের আমরা আল্লাহ্‌র নবী বলে কি ভাবে মানবো ?

উপদেশ : অহংকার মানুষকে প্রকৃত সত্যকে চিনতে বাঁধা দান করে।

সূরা মুমিনূন (আয়াত ৪৮)

অতঃপর তারা উভয়কে মিথ্যাবাদী বলল। ফলে তারা ধ্বংস প্রাপ্ত হল।
So they denied them both [Mûsa (Moses) and Hârûn (Aaron)] and became of those who were destroyed.

فَكَذَّبُوهُمَا فَكَانُوا مِنَ الْمُهْلَكِينَ
Fakaththaboohuma fakanoo mina almuhlakeena

YUSUFALI: So they accused them of falsehood, and they became of those who were destroyed.
PICKTHAL: So they denied them, and became of those who were destroyed.

SHAKIR: So they rejected them and became of those who were destroyed.
KHALIFA: They rejected the two, and consequently, they were annihilated.

৪৮। সুতারাং তারা তাদের মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করলো, এবং [ ফলে ] যারা ধবংস হয়েছিলো তাদের অর্ন্তভূক্ত হলো।

৪৯। আমি মুসাকে কিতাব দিয়েছিলাম , যেনো তারা পথ নির্দ্দেশ লাভ করে ২৯০৫।

২৯০৫। হযরত মুসা আল্লাহ্‌র নিকট থেকে যে দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়েছিলেন, সেই কর্তব্য ও দায়িত্বের দ্বিতীয় অংশের বর্ণনা আছে এই আয়াতে। এখানে ” তারা ” অর্থাৎ ইসরাঈলীদের বোঝানো হয়েছে, যারা শেষ পর্যন্ত ঈমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়। দেখুন টিকা ২৯০৩।

সূরা মুমিনূন (আয়াত ৪৯)

আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম যাতে তারা সৎপথ পায়।
And indeed We gave Mûsa (Moses) the Scripture, that they may be guided.

وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ لَعَلَّهُمْ يَهْتَدُونَ
Walaqad atayna moosa alkitaba laAAallahum yahtadoona

YUSUFALI: And We gave Moses the Book, in order that they might receive guidance.
PICKTHAL: And We verily gave Moses the Scripture, that haply they might go aright.

SHAKIR: And certainly We gave Musa the Book that they may follow a right direction.
KHALIFA: We gave Moses the scripture, that they may be guided.

৪৮। সুতারাং তারা তাদের মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করলো, এবং [ ফলে ] যারা ধবংস হয়েছিলো তাদের অর্ন্তভূক্ত হলো।

৪৯। আমি মুসাকে কিতাব দিয়েছিলাম , যেনো তারা পথ নির্দ্দেশ লাভ করে ২৯০৫।

২৯০৫। হযরত মুসা আল্লাহ্‌র নিকট থেকে যে দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়েছিলেন, সেই কর্তব্য ও দায়িত্বের দ্বিতীয় অংশের বর্ণনা আছে এই আয়াতে। এখানে ” তারা ” অর্থাৎ ইসরাঈলীদের বোঝানো হয়েছে, যারা শেষ পর্যন্ত ঈমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়। দেখুন টিকা ২৯০৩।

সূরা মুমিনূন (আয়াত ৫০)

এবং আমি মরিয়ম তনয় ও তাঁর মাতাকে এক নিদর্শন দান করেছিলাম। এবং তাদেরকে এক অবস্থানযোগ্য স্বচ্ছ পানি বিশিষ্ট টিলায় আশ্রয় দিয়েছিলাম।
And We made the son of Maryam (Mary) and his mother as a sign, And We gave them refuge on high ground, a place of rest, security and flowing streams.

وَجَعَلْنَا ابْنَ مَرْيَمَ وَأُمَّهُ آيَةً وَآوَيْنَاهُمَا إِلَى رَبْوَةٍ ذَاتِ قَرَارٍ وَمَعِينٍ
WajaAAalna ibna maryama waommahu ayatan waawaynahuma ila rabwatin thati qararin wamaAAeenin

YUSUFALI: And We made the son of Mary and his mother as a Sign: We gave them both shelter on high ground, affording rest and security and furnished with springs.
PICKTHAL: And We made the son of Mary and his mother a portent, and We gave them refuge on a height, a place of flocks and watersprings.

SHAKIR: And We made the son of Marium and his mother a sign, and We gave them a shelter on a lofty ground having meadows and springs.
KHALIFA: We made the son of Mary and his mother a sign, and we gave them refuge on a mesa with food and drink.

৫০। এবং আমি মারইয়াম পুত্র ও তাঁর মাতাকে নিদর্শন স্বরূপ করেছিলাম ২৯০৬। আমি তাদের ঊভয়কে ঝরণা বিশিষ্ট উচ্চ স্থানে আরাম ও নিরাপদে বসবাসের জন্য আশ্রয় দান করেছিলাম ২৯০৭।

২৯০৬। “মরিয়ম তনয়” অর্থাৎ হযরত ঈসার কথা এখানে বলা হয়েছে, কুমারী মরিয়মের গর্ভে ঈসার জন্ম বিশ্বে এক অলৌকিক ঘটনা। কিন্তু আল্লাহ্‌র এই অলৌকিক কর্ম বোঝার ক্ষমতা সমসাময়িক লোকদের ছিলো না। তারা বিবি মরিয়মকে অসতীরূপে আখ্যায়িত করেছিলো। কিন্তু শিশু ঈসা তাঁর অলৌকিক ক্ষমতা প্রদর্শন দ্বারা তাঁর মাতাকে এই অপমান ও গ্লানি থেকে উদ্ধার করেন [ ১৯ : ২৭ – ৩৩ ] এবং প্রমাণ করেন যে মরিয়মের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ মিথ্যা।

২৯০৭। বিবি মরিয়ম ও শিশু ঈসার কাহিনী বর্ণনা আছে [ ১৯ : ২২-২৬ ] আয়াতে। যেখানে মরিয়ম ও শিশু ঈসা আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন সেই স্থানের বর্ণনা আছে এই আয়াতে। নিজ গোত্র থেকে বিতাড়িত হয়ে, তিনি যেখানে আশ্রয় গ্রহণ করেন তা ছিলো খেজুর গাছ বিশিষ্ট উচ্চভূমি যার নিচ দিয়ে প্রস্রবণ বয়ে যাচ্ছিল। সেখানেই বিবি মরিয়ম সন্তান প্রসব করেন এবং কিছুকাল বিশ্রাম করেন এবং সেখান থেকেই শিশুসহ নিজ গোত্রের নিকট গমন করেন।

সূরা মুমিনূন

সূরা মুমিনূন (আয়াত ৫১)

হে রসূলগণ, পবিত্র বস্তু আহার করুন এবং সৎকাজ করুন। আপনারা যা করেন সে বিষয়ে আমি পরিজ্ঞাত।

O (you) Messengers! Eat of the Taiyibât [all kinds of Halâl (legal) foods which Allâh has made legal (meat of slaughtered eatable animals, milk products, fats, vegetables, fruits, etc.], and do righteous deeds. Verily! I am Well-Acquainted with what you do.

يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ

Ya ayyuha alrrusulu kuloo mina alttayyibati waiAAmaloo salihan innee bima taAAmaloona AAaleemun

YUSUFALI: O ye messengers! enjoy (all) things good and pure, and work righteousness: for I am well-acquainted with (all) that ye do.
PICKTHAL: O ye messengers! Eat of the good things, and do right. Lo! I am Aware of what ye do.

SHAKIR: O messengers! eat of the good things and do good; surely I know what you do.
KHALIFA: O you messengers, eat from the good provisions, and work righteousness. I am fully aware of everything you do.

রুকু – ৪

৫১। হে রাসুলগণ ! [ সকল ] ভালো ও পবিত্র বস্তু উপভোগ কর , এবং সৎ কাজ কর। নিশ্চয়ই তোমরা যা কিছু কর [ সে সব ] সম্বন্ধে আমি সবিশেষ অবহিত ২৯০৮।

২৯০৮। “উপভোগ কর” বাক্যটি প্রতীক অর্থে ব্যবহৃত। দেখুন টিকা ৭৭৬ এবং আয়াত [ ৫ : ৬৬ ] যেখানে শব্দটির ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই আয়াতে সুস্পষ্ট নির্দ্দেশ আছে যে, যারা আল্লাহ্‌র রাসুল, নবী বা ওলী তাদেরও কঠোর সংযমী হওয়ার প্রয়োজন নাই। আল্লাহ্‌ প্রদত্ত সকল নেয়ামত তারা ভোগ করবে এবং সে জন্য আল্লাহ্‌র দরবারে তারা কৃতজ্ঞতা জানাবে। এখানেই ইসলামের সৌন্দর্য। খৃষ্টান, ইহুদী ও পৃথিবীর বহু ধর্মে সংসার ত্যাগী সাধু, সন্ন্যাসীদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়।

কিন্তু ইসলাম সংসার ত্যাগ করে শুধু মাত্র ধর্মকে অবলম্বন করা অনুমোদন করে না। দ্বীন ও দুনিয়া এই দুয়ে মিলেই ইসলাম ধর্ম। দুনিয়া ব্যতীত দ্বীনকে ইসলাম অনুমোদন করে না। কারণ একটু চিন্তা করলেই বোঝা যাবে যে, ধর্মীয় বিধান হচ্ছে জীবনের মূল নৈতিক নীতিমালা , যা সমাজ ও রাষ্ট্রকে সুষ্ঠ ও সুন্দর রাখতে সাহায্য করে। যে সমাজ আল্লাহ্‌র প্রেরিত নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত সে সমাজ উন্নতি লাভে শীর্ষে অবস্থান করবে। উদাহরণ : যেমন সততা – যদি সমাজে সততা বিরাজ করে ,

তবে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার লাভ ঘটবে। যদি ন্যায় বিরাজ করে তবে সমাজের প্রতিটি ক্রিয়াকর্ম সুষ্ঠভাবে সম্পাদিত হবে। যদি গরীবের প্রতি নিষ্পেষণ না করা হয়, তবে সমাজের প্রতিটি নাগরিক সমভাবে বাঁচার অধিকার লাভ করবে। এ ভাবে আল্লাহ্‌র প্রেরিত প্রতিটি নৈতিক নীতিমালা একটি সমাজকে সুখী ও সমৃদ্ধিশালী হতে সাহায্য করে। সুতারাং ইসলাম ও জীবন ব্যবস্থা কোনও পৃথক ব্যবস্থা নয়।

সূরা মুমিনূন (আয়াত ৫২)

আপনাদের এই উম্মত সব তো একই ধর্মের অনুসারী এবং আমি আপনাদের পালনকর্তা; অতএব আমাকে ভয় করুন।
And verily! This your religion (of Islâmic Monotheism) is one religion, and I am your Lord, so keep your duty to Me.

وَإِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاتَّقُونِ
Wa-inna hathihi ommatukum ommatan wahidatan waana rabbukum faittaqooni

YUSUFALI: And verily this Brotherhood of yours is a single Brotherhood, and I am your Lord and Cherisher: therefore fear Me (and no other).
PICKTHAL: And lo! this your religion is one religion and I am your Lord, so keep your duty unto Me.

SHAKIR: And surely this your religion is one religion and I am your Lord, therefore be careful (of your duty) to Me.
KHALIFA: Such is your congregation – one congregation – and I am your Lord; you shall reverence Me.

৫২। এবং নিশ্চয়ই তোমাদের এই ভাতৃত্ব একই ভাতৃত্ব ২৯০৯, এবং আমি তোমাদের প্রভু ও প্রতিপালক। সুতারাং আমাকে ভয় কর [ অন্য কাউকে নয়]।

২৯০৯। দেখুন আয়াত [ ২১ : ৯২ – ৯৩ ]। নবী ও রসুলেরা বিভিন্ন স্থানে জন্মগ্রহণ করতে পারেন কিন্তু তারা সকলেই একই ভ্রাতৃত্বের অন্তর্ভূক্ত। কারণ তাঁদের চিন্তা, কর্ম, এবং প্রচারিত বাণীর মর্মার্থ এক। কারণ তারা সকলে এক আল্লাহ্‌র নিকট থেকে আগত এবং তাঁদের প্রচারিত বিশ্বাস, ধর্ম ও শিক্ষা এক। তাঁরা সকলেই এক বিশ্ব স্রষ্টার এবাদত করে থাকেন – যিনি তাদের প্রতিপালন করেন ও ভালোবাসেন। তাঁরা এক আল্লাহ্‌র নিকট শুধুমাত্র আমানতের অঙ্গীকারে আবদ্ধ। জন্মসূত্রে তাঁরা বিভিন্ন হলেও আত্মিক বন্ধনে তারা এক। সুতারাং যুগে যুগে নবী রসুলেরা যে ধর্মের প্রচার করেছেন তা একই ধর্ম , আর তা হচ্ছে ইসলাম।

সূরা মুমিনূন (আয়াত ৫৩)

অতঃপর মানুষ তাদের বিষয়কে বহুধা বিভক্ত করে দিয়েছে। প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে আনন্দিত হচ্ছে।
But they (men) have broken their religion among them into sects, each group rejoicing in its belief.

فَتَقَطَّعُوا أَمْرَهُم بَيْنَهُمْ زُبُرًا كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ
FataqattaAAoo amrahum baynahum zuburan kullu hizbin bima ladayhim farihoona

YUSUFALI: But people have cut off their affair (of unity), between them, into sects: each party rejoices in that which is with itself.
PICKTHAL: But they (mankind) have broken their religion among them into sects, each group rejoicing in its tenets.

SHAKIR: But they cut off their religion among themselves into sects, each part rejoicing in that which is with them.
KHALIFA: But they tore themselves into disputing factions; each party happy with what they have.

৫৩। কিন্তু মানুষ নিজেদের মধ্যে তাদের দ্বীনকে নানা ভাগে বিভক্ত করেছে। প্রত্যেক দলই তাদের নিকট যা আছে তা নিয়ে আনন্দিত ২৯১০।

২৯১০। পরবর্তী প্রজন্ম ধর্মের নামে বিভিন্ন সম্প্রদায়ে বিভক্ত হয়ে যায়। তাদের এই বিভক্তির ভিত্তি ধর্মের প্রতি অনুরাগ নয় বরং হীন স্বার্থপরতা থেকে উদ্ভুদ। ফলে তা হয়ে পড়ে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পে বিষাক্ত। কিন্তু ধর্মের নামে এই সব সম্প্রদায় নিজেদের ক্ষুদ্র ও সীমাবদ্ধ মতবাদে সন্তুষ্ট ও আত্মতৃপ্ত।

তারা আল্লাহ্‌র বিশ্বজনীন ধর্মের রূপ অনুধাবনে অক্ষম ও অন্ধ। ফলে জন্ম নেয় ধর্মন্ধতা ও মৌলবাদীর। এরা ইসলামের সার্বজনীন রূপকে গ্রহণের পরিবর্তে ধর্মকে সাম্প্রদায়িক গন্ডির মধ্যে টেনে আনে, তাদের এই সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ধর্মন্ধতা তাদের নিজেদের সৃষ্টি। পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ্‌ বলেছেন যে, তাদের উন্মাদনা স্থায়ী হবে না,সত্যের আলোতে তা ধবংস হয়ে যাবে।

সূরা মুমিনূন (আয়াত ৫৪)

অতএব তাদের কিছু কালের জন্যে তাদের অজ্ঞানতায় নিমজ্জত থাকতে দিন।
So leave them in their error for a time.

فَذَرْهُمْ فِي غَمْرَتِهِمْ حَتَّى حِينٍ
Fatharhum fee ghamratihim hatta heenin

YUSUFALI: But leave them in their confused ignorance for a time.
PICKTHAL: So leave them in their error till a time.

SHAKIR: Therefore leave them in their overwhelming ignorance till
KHALIFA: Therefore, just leave them in their confusion, for awhile.

৫৪। অতএব কিছু কালের জন্য ওদের অজ্ঞতার বিভ্রান্তিতে থাকতে দাও।

৫৫। তারা কি মনে করে যেহেতু তাদের আমি অপরিমিত সম্পদ ও সন্তান সন্ততি দান করেছি , –

৫৬। আমি তাদের জন্য সকল প্রকার মঙ্গল ত্বরান্বিত করবো ? না তারা কিছুই বোঝে না ২৯১১।

২৯১১। আল্লাহ্‌ বারে বারে আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, পার্থিব অর্থ-সম্পদ, প্রভাব-প্রতিপত্তি ও ক্ষমত সবই বান্দার জন্য পরীক্ষা স্বরূপ দেয়া আল্লাহ্‌র তরফ থেকে। যারা আল্লাহ্‌র এ সব নেয়ামত লাভ করেছেন তারা যেনো মনে না করেন যে, পার্থিব ভোগ্য বস্তুই সকল সুখ ও শান্তির উৎস।

সূরা মুমিনূন (আয়াত ৫৫)

তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে যাচ্ছি।
Do they think that We enlarge them in wealth and children,

أَيَحْسَبُونَ أَنَّمَا نُمِدُّهُم بِهِ مِن مَّالٍ وَبَنِينَ
Ayahsaboona annama numidduhum bihi min malin wabaneena

YUSUFALI: Do they think that because We have granted them abundance of wealth and sons,
PICKTHAL: Think they that in the wealth and sons wherewith We provide them

SHAKIR: Do they think that by what We aid them with of wealth and children,
KHALIFA: Do they think that, since we provided them with money and children,

৫৪। অতএব কিছু কালের জন্য ওদের অজ্ঞতার বিভ্রান্তিতে থাকতে দাও।

৫৫। তারা কি মনে করে যেহেতু তাদের আমি অপরিমিত সম্পদ ও সন্তান সন্ততি দান করেছি , –

৫৬। আমি তাদের জন্য সকল প্রকার মঙ্গল ত্বরান্বিত করবো ? না তারা কিছুই বোঝে না ২৯১১।

২৯১১। আল্লাহ্‌ বারে বারে আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, পার্থিব অর্থ-সম্পদ, প্রভাব-প্রতিপত্তি ও ক্ষমত সবই বান্দার জন্য পরীক্ষা স্বরূপ দেয়া আল্লাহ্‌র তরফ থেকে। যারা আল্লাহ্‌র এ সব নেয়ামত লাভ করেছেন তারা যেনো মনে না করেন যে, পার্থিব ভোগ্য বস্তুই সকল সুখ ও শান্তির উৎস।

সূরা মুমিনূন (আয়াত ৫৬)

তাতে করে তাদেরকে দ্রুত মঙ্গলের দিকে নিয়ে যাচ্ছি? বরং তারা বোঝে না।
We hasten unto them with good things (in this worldly life so that they will have no share of good things in the Hereafter)? Nay, but they perceive not.

نُسَارِعُ لَهُمْ فِي الْخَيْرَاتِ بَل لَّا يَشْعُرُونَ
NusariAAu lahum fee alkhayrati bal la yashAAuroona

YUSUFALI: We would hasten them on in every good? Nay, they do not understand.
PICKTHAL: We hasten unto them with good things? Nay, but they perceive not.

SHAKIR: We are hastening to them of good things? Nay, they do not perceive.
KHALIFA: we must be showering them with blessings? Indeed, they have no idea.

৫৪। অতএব কিছু কালের জন্য ওদের অজ্ঞতার বিভ্রান্তিতে থাকতে দাও।

৫৫। তারা কি মনে করে যেহেতু তাদের আমি অপরিমিত সম্পদ ও সন্তান সন্ততি দান করেছি , –

৫৬। আমি তাদের জন্য সকল প্রকার মঙ্গল ত্বরান্বিত করবো ? না তারা কিছুই বোঝে না ২৯১১।

২৯১১। আল্লাহ্‌ বারে বারে আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, পার্থিব অর্থ-সম্পদ, প্রভাব-প্রতিপত্তি ও ক্ষমত সবই বান্দার জন্য পরীক্ষা স্বরূপ দেয়া আল্লাহ্‌র তরফ থেকে। যারা আল্লাহ্‌র এ সব নেয়ামত লাভ করেছেন তারা যেনো মনে না করেন যে, পার্থিব ভোগ্য বস্তুই সকল সুখ ও শান্তির উৎস।

সূরা মুমিনূন (আয়াত ৫৭)

নিশ্চয় যারা তাদের পালনকর্তার ভয়ে সন্ত্রস্ত,
Verily! Those who live in awe for fear of their Lord;

إِنَّ الَّذِينَ هُم مِّنْ خَشْيَةِ رَبِّهِم مُّشْفِقُونَ
Inna allatheena hum min khashyati rabbihim mushfiqoona

YUSUFALI: Verily those who live in awe for fear of their Lord;
PICKTHAL: Lo! those who go in awe for fear of their Lord.

SHAKIR: Surely they who from fear of their Lord are cautious,
KHALIFA: Surely, those who are reverently conscious of their Lord,

৫৭। নিশ্চয় যারা তাদের প্রভুর ভয়ে সন্ত্রস্ত;

৫৮। যারা তাদের প্রভুর নিদর্শনাবলীতে ঈমান আনে;

৫৯। যারা তাদের প্রভুর সাথে শরীক করে না;

৬০। যারা তাদের প্রভুর নিকট প্রত্যাবর্তনের ভয়ে, ভীত কম্পিত হৃদয়ে দান করে ২৯১২।

২৯১২। যারা আল্লাহ্‌র নেয়ামতে ধন্য তাদের কথা বর্ণনা করা হয়েছে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আয়াতগুলিতে। আল্লাহ্‌র প্রতি ভয় ভক্তি ও ভালোবাসাতে তাঁদের হৃদয় পূর্ণ থাকে। তাদের দানের উদ্দেশ্য একটাই আর তা হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভ। তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে পরলোকের জন্য জবাবদিহিতায়। তাদের আর এক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা তাদের সৎকর্মের জন্য সর্বদা ভীত চিত্তে স্রষ্টার প্রসন্নতার ও সন্তুষ্টির জন্য উদ্বিগ্ন থাকে। সর্ব কাজে তাদের বিশ্বাসের ভিত্তি হবে স্রষ্টার সন্তুষ্টি লাভ। পরের আয়াতে এদের কথাই বলা, হয়েছে , যারা কল্যাণকর কাজে দ্রুতগামী এবং অগ্রগামী।

সূরা মুমিনূন (আয়াত ৫৮)

যারা তাদের পালনকর্তার কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে,
And those who believe in the Ayât (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.) of their Lord,

وَالَّذِينَ هُم بِآيَاتِ رَبِّهِمْ يُؤْمِنُونَ
Waallatheena hum bi-ayati rabbihim yu/minoona

YUSUFALI: Those who believe in the Signs of their Lord;
PICKTHAL: And those who believe in the revelations of their Lord,

SHAKIR: And those who believe in the communications of their Lord,
KHALIFA: And who believe in the revelations of their Lord,

৫৭। নিশ্চয় যারা তাদের প্রভুর ভয়ে সন্ত্রস্ত;

৫৮। যারা তাদের প্রভুর নিদর্শনাবলীতে ঈমান আনে;

৫৯। যারা তাদের প্রভুর সাথে শরীক করে না;

৬০। যারা তাদের প্রভুর নিকট প্রত্যাবর্তনের ভয়ে, ভীত কম্পিত হৃদয়ে দান করে ২৯১২।

২৯১২। যারা আল্লাহ্‌র নেয়ামতে ধন্য তাদের কথা বর্ণনা করা হয়েছে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আয়াতগুলিতে। আল্লাহ্‌র প্রতি ভয় ভক্তি ও ভালোবাসাতে তাঁদের হৃদয় পূর্ণ থাকে। তাদের দানের উদ্দেশ্য একটাই আর তা হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভ। তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে পরলোকের জন্য জবাবদিহিতায়। তাদের আর এক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা তাদের সৎকর্মের জন্য সর্বদা ভীত চিত্তে স্রষ্টার প্রসন্নতার ও সন্তুষ্টির জন্য উদ্বিগ্ন থাকে। সর্ব কাজে তাদের বিশ্বাসের ভিত্তি হবে স্রষ্টার সন্তুষ্টি লাভ। পরের আয়াতে এদের কথাই বলা, হয়েছে , যারা কল্যাণকর কাজে দ্রুতগামী এবং অগ্রগামী।

সূরা মুমিনূন

সূরা মুমিনূন (আয়াত ৫৯)

যারা তাদের পালনকর্তার সাথে কাউকে শরীক করে না
And those who join not anyone (in worship) as partners with their Lord;

وَالَّذِينَ هُم بِرَبِّهِمْ لَا يُشْرِكُونَ
Waallatheena hum birabbihim la yushrikoona

YUSUFALI: Those who join not (in worship) partners with their Lord;
PICKTHAL: And those who ascribe not partners unto their Lord,

SHAKIR: And those who do not associate (aught) with their Lord,
KHALIFA: And who never set up any idols beside their Lord,

৫৭। নিশ্চয় যারা তাদের প্রভুর ভয়ে সন্ত্রস্ত;

৫৮। যারা তাদের প্রভুর নিদর্শনাবলীতে ঈমান আনে;

৫৯। যারা তাদের প্রভুর সাথে শরীক করে না;

৬০। যারা তাদের প্রভুর নিকট প্রত্যাবর্তনের ভয়ে, ভীত কম্পিত হৃদয়ে দান করে ২৯১২।

২৯১২। যারা আল্লাহ্‌র নেয়ামতে ধন্য তাদের কথা বর্ণনা করা হয়েছে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আয়াতগুলিতে। আল্লাহ্‌র প্রতি ভয় ভক্তি ও ভালোবাসাতে তাঁদের হৃদয় পূর্ণ থাকে। তাদের দানের উদ্দেশ্য একটাই আর তা হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভ। তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে পরলোকের জন্য জবাবদিহিতায়। তাদের আর এক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা তাদের সৎকর্মের জন্য সর্বদা ভীত চিত্তে স্রষ্টার প্রসন্নতার ও সন্তুষ্টির জন্য উদ্বিগ্ন থাকে। সর্ব কাজে তাদের বিশ্বাসের ভিত্তি হবে স্রষ্টার সন্তুষ্টি লাভ। পরের আয়াতে এদের কথাই বলা, হয়েছে , যারা কল্যাণকর কাজে দ্রুতগামী এবং অগ্রগামী।

সূরা মুমিনূন (আয়াত ৬০)

এবং যারা যা দান করবার, তা ভীত, কম্পিত হৃদয়ে এ কারণে দান করে যে, তারা তাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তন করবে,

And those who give that (their charity) which they give (and also do other good deeds) with their hearts full of fear (whether their alms and charities, etc., have been accepted or not), because they are sure to return to their Lord (for reckoning).

وَالَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا آتَوا وَّقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ أَنَّهُمْ إِلَى رَبِّهِمْ رَاجِعُونَ
Waallatheena yu/toona ma ataw waquloobuhum wajilatun annahum ila rabbihim rajiAAoona

YUSUFALI: And those who dispense their charity with their hearts full of fear, because they will return to their Lord;-
PICKTHAL: And those who give that which they give with hearts afraid because they are about to return unto their Lord,

SHAKIR: And those who give what they give (in alms) while their hearts are full of fear that to their Lord they must return,
KHALIFA: As they give their charities, their hearts are fully reverent. For they recognize that they will be summoned before their Lord,

৫৭। নিশ্চয় যারা তাদের প্রভুর ভয়ে সন্ত্রস্ত;

৫৮। যারা তাদের প্রভুর নিদর্শনাবলীতে ঈমান আনে;

৫৯। যারা তাদের প্রভুর সাথে শরীক করে না;

৬০। যারা তাদের প্রভুর নিকট প্রত্যাবর্তনের ভয়ে, ভীত কম্পিত হৃদয়ে দান করে ২৯১২।

২৯১২। যারা আল্লাহ্‌র নেয়ামতে ধন্য তাদের কথা বর্ণনা করা হয়েছে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আয়াতগুলিতে। আল্লাহ্‌র প্রতি ভয় ভক্তি ও ভালোবাসাতে তাঁদের হৃদয় পূর্ণ থাকে। তাদের দানের উদ্দেশ্য একটাই আর তা হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভ। তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে পরলোকের জন্য জবাবদিহিতায়।

তাদের আর এক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা তাদের সৎকর্মের জন্য সর্বদা ভীত চিত্তে স্রষ্টার প্রসন্নতার ও সন্তুষ্টির জন্য উদ্বিগ্ন থাকে। সর্ব কাজে তাদের বিশ্বাসের ভিত্তি হবে স্রষ্টার সন্তুষ্টি লাভ। পরের আয়াতে এদের কথাই বলা, হয়েছে , যারা কল্যাণকর কাজে দ্রুতগামী এবং অগ্রগামী।

সূরা মুমিনূন (আয়াত ৬১)

তারাই কল্যাণ দ্রুত অর্জন করে এবং তারা তাতে অগ্রগামী।
It is these who race for the good deeds, and they are foremost in them [e.g. offering the compulsory Salât (prayers) in their (early) stated, fixed times and so on].

أُوْلَئِكَ يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَهُمْ لَهَا سَابِقُونَ
Ola-ika yusariAAoona fee alkhayrati wahum laha sabiqoona

YUSUFALI: It is these who hasten in every good work, and these who are foremost in them.
PICKTHAL: These race for the good things, and they shall win them in the race.

SHAKIR: These hasten to good things and they are foremost in (attaining) them.
KHALIFA: They are eager to do righteous works; they compete in doing them.

৬১। এরাই তারা যারা ভালো কাজে দ্রুতগামী , এবং এরাই তারা যারা তাতে অগ্রগামী।

৬২। আমি কাউকে তার সাধ্যাতীত ভার অর্পন করি না ২৯১৩। আমার সামনে আছে এক তালিকাপুস্তক যা সত্যকে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে ২৯১৪। তাদের প্রতি কোন অন্যায় করা হবে না।

২৯১৩। অনুরূপ আয়াত দেখুন [ ২ : ২৮৬ ] এবং টিকা ৩৩৯।

২৯১৪। আমাদের সকল চিন্তা-ভাবনা কার্যের নিয়ত, কৃতকার্য , সাফল্য-ব্যর্থতা, মন-মানসিকতা, পরিবেশ সবই আল্লাহ্‌র দরবারে মূহুর্তের মধ্যে নীত হয় এবং রক্ষিত হয়। প্রতিটি আত্মার পৃথিবীর কর্মপ্রণালীর সব হিসাব আল্লাহ্‌র কাছে বিদ্যমান। কর্মের দ্বারাই জবাবদিহিতার বিচার করা হবে। সেখানে কোনও প্রকার অন্যায় করা হবে না। পাপীরা ততটুকুই শাস্তি ভোগ করবে যতটুকু পাপ তারা করেছে। কিন্তু পূণ্যাত্মারা তাদের পূণ্যকর্মের উপযুক্ত সম্মানী তো পাবেনই , উপরন্তু আল্লাহ্‌র তরফ থেকে তাদের জন্য আছে পুরষ্কার। পাপীদের জুলুম করা হবে না, কিন্তু পূণ্যাত্মারা তাদের প্রাপ্য বাদেও পুরষ্কার লাভ করবে।

সূরা মুমিনূন (আয়াত ৬২)

আমি কাউকে তার সাধ্যাতীত দায়িত্ব অর্পন করি না। আমার এক কিতাব আছে, যা সত্য ব্যক্ত করে এবং তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।
And We tax not any person except according to his capacity, and with Us is a Record which speaks the truth, and they will not be wronged.

وَلَا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا وَلَدَيْنَا كِتَابٌ يَنطِقُ بِالْحَقِّ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
Wala nukallifu nafsan illa wusAAaha waladayna kitabun yantiqu bialhaqqi wahum la yuthlamoona

YUSUFALI: On no soul do We place a burden greater than it can bear: before Us is a record which clearly shows the truth: they will never be wronged.
PICKTHAL: And we task not any soul beyond its scope, and with Us is a Record which speaketh the truth, and they will not be wronged.

SHAKIR: And We do not lay on any soul a burden except to the extent of its ability, and with Us is a book which speaks the truth, and they shall not be dealt with unjustly.
KHALIFA: We never burden any soul beyond its means, and we keep a record that utters the truth. No one will suffer injustice.

৬১। এরাই তারা যারা ভালো কাজে দ্রুতগামী , এবং এরাই তারা যারা তাতে অগ্রগামী।

৬২। আমি কাউকে তার সাধ্যাতীত ভার অর্পন করি না ২৯১৩। আমার সামনে আছে এক তালিকাপুস্তক যা সত্যকে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে ২৯১৪। তাদের প্রতি কোন অন্যায় করা হবে না।

২৯১৩। অনুরূপ আয়াত দেখুন [ ২ : ২৮৬ ] এবং টিকা ৩৩৯।

২৯১৪। আমাদের সকল চিন্তা-ভাবনা কার্যের নিয়ত, কৃতকার্য , সাফল্য-ব্যর্থতা, মন-মানসিকতা, পরিবেশ সবই আল্লাহ্‌র দরবারে মূহুর্তের মধ্যে নীত হয় এবং রক্ষিত হয়। প্রতিটি আত্মার পৃথিবীর কর্মপ্রণালীর সব হিসাব আল্লাহ্‌র কাছে বিদ্যমান। কর্মের দ্বারাই জবাবদিহিতার বিচার করা হবে। সেখানে কোনও প্রকার অন্যায় করা হবে না। পাপীরা ততটুকুই শাস্তি ভোগ করবে যতটুকু পাপ তারা করেছে। কিন্তু পূণ্যাত্মারা তাদের পূণ্যকর্মের উপযুক্ত সম্মানী তো পাবেনই , উপরন্তু আল্লাহ্‌র তরফ থেকে তাদের জন্য আছে পুরষ্কার। পাপীদের জুলুম করা হবে না, কিন্তু পূণ্যাত্মারা তাদের প্রাপ্য বাদেও পুরষ্কার লাভ করবে।

সূরা মুমিনূন (আয়াত ৬৩)

না, তাদের অন্তর এ বিষয়ে অজ্ঞানতায় আচ্ছন্ন, এ ছাড়া তাদের আরও কাজ রয়েছে, যা তারা করছে।
Nay, but their hearts are covered (blind) from understanding this (the Qur’ân), and they have other (evil) deeds, besides, which they are doing.

بَلْ قُلُوبُهُمْ فِي غَمْرَةٍ مِّنْ هَذَا وَلَهُمْ أَعْمَالٌ مِن دُونِ ذَلِكَ هُمْ لَهَا عَامِلُونَ
Bal quloobuhum fee ghamratin min hatha walahum aAAmalun min dooni thalika hum laha AAamiloona

YUSUFALI: But their hearts are in confused ignorance of this; and there are, besides that, deeds of theirs, which they will (continue) to do,-
PICKTHAL: Nay, but their hearts are in ignorance of this (Qur’an), and they have other works, besides, which they are doing;

SHAKIR: Nay, their hearts are in overwhelming ignorance with respect to it and they have besides this other deeds which they do.
KHALIFA: Because their minds are oblivious to this, they commit works that do not conform with this; their works are evil.

৬৩। কিন্তু তাদের হৃদয় এই বিষয়ে অজ্ঞতায় বিভ্রান্ত ২৯১৫। এ ছাড়াও তাদের আরও পাপ কাজ আছে যা তারা করতেই থাকবে, ২৯১৬।

৬৪। যতক্ষণ না আমি শাস্তি দ্বারা ধৃত করবো তাদের , যারা এই পৃথিবীতে ভালো জিনিষ লাভ করেছে। দেখো! [তখন] তারা আর্তনাদ করে মিনতি করে থাকে।

২৯১৫ ” তাদের হৃদয় এই বিষয়ে অজ্ঞতায় বিভ্রান্ত” – এই বাক্যটি তাদের সম্বন্ধেই বলা হয়েছে যারা অবিশ্বাসী ও আল্লাহ্‌র সত্যকে প্রত্যাখান করে এবং পার্থিব ধনসম্পদ ও ক্ষমতা প্রতিপত্তির মোহে,দম্ভে ও অহংকারে স্ফীত হয়। এ সব লোকের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এরা সত্যের ঘোষণার প্রতি সন্দেহ পোষণ করে। পরলোকের সম্বন্ধে এরা সন্দিহান। শেষ দিবসের বিচারকে এরা বিশ্বাস করে না। কারণ “তাদের অন্তর অজ্ঞানতায় বিভ্রান্ত।”

২৯১৬। সত্যকে প্রত্যাখান ব্যতীতও আরও পাপ কাজ এসব লোকেরা করে থাকে। সত্যকে প্রতিহত করা ও সত্যের আলোকে ঘৃণা করা থেকে তারা বিরত থাকবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ্‌ তাদের “শাস্তি দ্বারা ধৃত করেন”। কিন্তু তখন আর অনুতাপ করার সময় থাকবে না।

সূরা মুমিনূন (আয়াত ৬৪)

এমনকি, যখন আমি তাদের ঐশ্বর্যশালী লোকদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করব, তখনই তারা চীৎকার জুড়ে দেবে।
Until, when We grasp those of them who lead a luxurious life with punishment, behold! They make humble invocation with a loud voice.

حَتَّى إِذَا أَخَذْنَا مُتْرَفِيهِم بِالْعَذَابِ إِذَا هُمْ يَجْأَرُونَ
Hatta itha akhathna mutrafeehim bialAAathabi itha hum yaj-aroona

YUSUFALI: Until, when We seize in Punishment those of them who received the good things of this world, behold, they will groan in supplication!
PICKTHAL: Till when We grasp their luxurious ones with the punishment, behold! they supplicate.

SHAKIR: Until when We overtake those who lead easy lives among them with punishment, lo! they cry for succor.
KHALIFA: Then, when we requite their leaders with retribution, they complain.

৬৩। কিন্তু তাদের হৃদয় এই বিষয়ে অজ্ঞতায় বিভ্রান্ত ২৯১৫। এ ছাড়াও তাদের আরও পাপ কাজ আছে যা তারা করতেই থাকবে, ২৯১৬।

৬৪। যতক্ষণ না আমি শাস্তি দ্বারা ধৃত করবো তাদের , যারা এই পৃথিবীতে ভালো জিনিষ লাভ করেছে। দেখো! [তখন] তারা আর্তনাদ করে মিনতি করে থাকে।

২৯১৫ ” তাদের হৃদয় এই বিষয়ে অজ্ঞতায় বিভ্রান্ত” – এই বাক্যটি তাদের সম্বন্ধেই বলা হয়েছে যারা অবিশ্বাসী ও আল্লাহ্‌র সত্যকে প্রত্যাখান করে এবং পার্থিব ধনসম্পদ ও ক্ষমতা প্রতিপত্তির মোহে,দম্ভে ও অহংকারে স্ফীত হয়। এ সব লোকের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এরা সত্যের ঘোষণার প্রতি সন্দেহ পোষণ করে। পরলোকের সম্বন্ধে এরা সন্দিহান। শেষ দিবসের বিচারকে এরা বিশ্বাস করে না। কারণ “তাদের অন্তর অজ্ঞানতায় বিভ্রান্ত।”

২৯১৬। সত্যকে প্রত্যাখান ব্যতীতও আরও পাপ কাজ এসব লোকেরা করে থাকে। সত্যকে প্রতিহত করা ও সত্যের আলোকে ঘৃণা করা থেকে তারা বিরত থাকবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ্‌ তাদের “শাস্তি দ্বারা ধৃত করেন”। কিন্তু তখন আর অনুতাপ করার সময় থাকবে না।

সূরা মুমিনূন (আয়াত ৬৫)

Leave a Comment