সূরা কাসাস

সূরা কাসাস  (আরবি: سورة القصص‎‎; কাহিনী) মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের ২৮ তম সূরা। এই সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ৮৮টি।

সূরা কাসাস

ত্বা-সীন-মীম।
Tâ­Sîn­Mîm. [These letters are one of the miracles of the Qur’ân, and none but Allâh (Alone) knows their meanings]

طسم
Ta-seen-meem

YUSUFALI: Ta. Sin. Mim.
PICKTHAL: Ta. Sin. Mim.
SHAKIR: Ta sin Mim.
KHALIFA: T. S. M.

সূরা কাসাস

০১। তা – সীন – মীম ;

০২। এগুলি কিতাবের আয়াত , যা [ সকল কিছু ] সুস্পষ্ট করে ৩৩২৭।

৩৩২৭। দেখুন আয়াত [২৬: ২ ] এবং টিকা ৩১৩৮।

এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।
These are Verses of the manifest Book (that makes clear truth from falsehood, good from evil, etc.).

تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْمُبِينِ
Tilka ayatu alkitabi almubeeni

YUSUFALI: These are Verses of the Book that makes (things) clear.
PICKTHAL: These are revelations of the Scripture that maketh plain.
SHAKIR: These are the verses of the Book that makes (things) clear.
KHALIFA: These (letters) constitute proofs of this profound book.

০১। তা – সীন – মীম ;

০২। এগুলি কিতাবের আয়াত , যা [ সকল কিছু ] সুস্পষ্ট করে ৩৩২৭।

৩৩২৭। দেখুন আয়াত [২৬: ২ ] এবং টিকা ৩১৩৮।

আমি আপনার কাছে মূসা ও ফেরাউনের বৃত্তান্ত সত্য সহকারে বর্ণনা করছি ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্যে।
We recite to you some of the news of Mûsa (Moses) and Fir’aun (Pharaoh) in truth, for a people who believe (those who believe in this Qur’ân, and in the Oneness of Allâh).

نَتْلُوا عَلَيْكَ مِن نَّبَإِ مُوسَى وَفِرْعَوْنَ بِالْحَقِّ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
Natloo AAalayka min naba-i moosa wafirAAawna bialhaqqi liqawmin yu/minoona

YUSUFALI: We rehearse to thee some of the story of Moses and Pharaoh in Truth, for people who believe.
PICKTHAL: We narrate unto thee (somewhat) of the story of Moses and Pharaoh with truth, for folk who believe.
SHAKIR: We recite to you from the account of Musa and Firon with truth for people who believe.
KHALIFA: We recite to you herein some history of Moses and Pharaoh, truthfully, for the benefit of people who believe.

০৩। আমি তোমার নিকট মুসা ও ফিরআউনের কাহিনী যথাযথ ভাবে বর্ণনা করেছি বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য ৩৩২৮।

৩৩২৮। হযরত মুসার কাহিনীর কিছু কিছু অংশ এই সূরাতে বর্ণনা করা হয়েছে যেগুলি হচ্ছে : কিভাবে মুসার শৈশবে আল্লাহ্‌ তাঁর মাকে অনুপ্রাণীত করেন। মুসা যখন বড় হতে থাকেন, আল্লাহ্‌ কিভাবে তাঁকে মহত্তর ও বৃহত্তর উদ্দেশ্যের জন্য প্রস্তুত করেন। যৌবনে মুসা কিভাবে বিপদ বিপর্যয়ের মাঝে শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র উপরে বিশ্বাস স্থাপন করেন, শুধু তাঁরই সাহায্য কামনা করেন। কিভাবে তিনি নির্বাসনে পলায়ন করেও অপরের ভালোবাসা ও সাহায্য সহযোগীতা লাভ করেন তার ভালো কাজের দরুন। দায়িত্ব প্রাপ্তির পরে , আল্লাহ্‌র অনুগ্রহে কি ভাবে তিনি শত্রুদের পরিকল্পনা ধূলিস্যাৎ করেন। এ সব বর্ণনা দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে যে, আল্লাহ্‌র পরিকল্পনা ক্রমাগত ধীরে ধীরে কাজ করে যাবে। যারা বিশ্বাসী ,তাঁরা জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহ্‌র হাতের স্পর্শ অনুভব করতে পারবে আত্মার মাঝে এবং প্রত্যাদেশের মাধ্যমে , যে আলো তাদের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে, তাকে সাদর সম্ভাষণ জানাবে। এ সব কাহিনীর মাধ্যমে মুমিনদের আল্লাহ্‌র কার্যপ্রণালী অনুধাবনের উপদেশ দেয়া হয়েছে।

ফেরাউন তার দেশে উদ্ধত হয়েছিল এবং সে দেশবাসীকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে তাদের একটি দলকে দূর্বল করে দিয়েছিল। সে তাদের পুত্র-সন্তানদেরকে হত্যা করত এবং নারীদেরকে জীবিত রাখত। নিশ্চয় সে ছিল অনর্থ সৃষ্টিকারী।
Verily, Fir’aun (Pharaoh) exalted himself in the land and made its people sects, weakening (oppressing) a group (i.e. Children of Israel) among them, killing their sons, and letting their females live. Verily, he was of the Mufsidûn (i.e. those who commit great sins and crimes, oppressors, tyrants, etc.).

إِنَّ فِرْعَوْنَ عَلَا فِي الْأَرْضِ وَجَعَلَ أَهْلَهَا شِيَعًا يَسْتَضْعِفُ طَائِفَةً مِّنْهُمْ يُذَبِّحُ أَبْنَاءهُمْ وَيَسْتَحْيِي نِسَاءهُمْ إِنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ
Inna firAAawna AAala fee al-ardi wajaAAala ahlaha shiyaAAan yastadAAifu ta-ifatan minhum yuthabbihu abnaahum wayastahyee nisaahum innahu kana mina almufsideena

YUSUFALI: Truly Pharaoh elated himself in the land and broke up its people into sections, depressing a small group among them: their sons he slew, but he kept alive their females: for he was indeed a maker of mischief.
PICKTHAL: Lo! Pharaoh exalted himself in the earth and made its people castes. A tribe among them he oppressed, killing their sons and sparing their women. Lo! he was of those who work corruption.
SHAKIR: Surely Firon exalted himself in the land and made its people into parties, weakening one party from among them; he slaughtered their sons and let their women live; surely he was one of the mischiefmakers.
KHALIFA: Pharaoh turned into a tyrant on earth, and discriminated against some people. He persecuted a helpless group of them, slaughtering their sons, while sparing their daughters. He was indeed wicked.

০৪। ফেরাউন দেশে পরাক্রমশালী হয়েছিলো এবং সে [ দেশের ] অধিবাসীদের নানা দলে বিভক্ত করেছিলো ৩৩২৯। তাদের মধ্যে একটি দলকে সে অবদমিত করে রেখেছিলো। সে তাদের পুত্র সন্তানদের হত্যা করতো, কিন্তু তাদের কন্যাদের জীবিত রাখতো। অবশ্যই সে ছিলো অশান্তি সৃষ্টিকারী।

৩৩২৯। কোন রাজা বা প্রশাসক যখন এমন কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যা প্রজাদের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করে ও অসন্তুষ্ট করে; বিশেষভাবে যদি প্রজাদের এক অংশকে নিষ্পেষিত ও নির্যাতিত করা হয়, তবে আল্লাহ্‌র চোখে সেই রাজা বা প্রশাসক তার কর্তব্য ত্যাগের জন্য দায়ী। একে আল্লাহ্‌ ” অশান্তি সৃষ্টিকারী ” রূপে বর্ণনা করেছেন ও তাঁর কুচক্রীদল তাদের জাতিগত মর্যদা ও পার্থিব সভ্যতার গর্বে, দম্ভ ও অহংকারে স্ফীত হয়ে ইসরাঈলীদের তুচ্ছ জ্ঞান করতো। ফলে ইহুদীদের তারা অত্যাচার ও নির্যাতন করতো। ফেরাউন ঘোষণা করেছিলেন যে, ইসরাঈলীদের সকল পুত্র সন্তানকে হত্যা করা হবে, এবং মেয়ে সন্তানকে জীবিত রাখা হবে মিশরবাসীদের মনোরঞ্জনের জন্য। পরর্বতী আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে আল্লাহ্‌র ক্ষমতায় , মুসা কিরূপ অলৌকিক ভাবে রক্ষা পেয়ে যান।

দেশে যাদেরকে দূর্বল করা হয়েছিল, আমার ইচ্ছা হল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করার, তাদেরকে নেতা করার এবং তাদেরকে দেশের উত্তরাধিকারী করার।
And We wished to do a favour to those who were weak (and oppressed) in the land, and to make them rulers and to make them the inheritors,

وَنُرِيدُ أَن نَّمُنَّ عَلَى الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا فِي الْأَرْضِ وَنَجْعَلَهُمْ أَئِمَّةً وَنَجْعَلَهُمُ الْوَارِثِينَ
Wanureedu an namunna AAala allatheena istudAAifoo fee al-ardi wanajAAalahum a-immatan wanajAAalahumu alwaritheena

YUSUFALI: And We wished to be Gracious to those who were being depressed in the land, to make them leaders (in Faith) and make them heirs,
PICKTHAL: And We desired to show favour unto those who were oppressed in the earth, and to make them examples and to make them the inheritors,
SHAKIR: And We desired to bestow a favor upon those who were deemed weak in the land, and to make them the Imams, and to make them the heirs,
KHALIFA: We willed to compensate those who were oppressed on earth, and to turn them into leaders, and make them the inheritors.

০৫। এবং আমি ইচ্ছা করলাম যে, যাদের দেশের মধ্যে অবদমিত করা হয়েছিলো , তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে – তাদের [ ধর্মীয় ] নেতৃত্ব দান করতে এবং উত্তরাধীকারী করতে ৩৩৩০।

৩৩৩০। ফেরাউনের ইচ্ছা ছিলো ইসরাঈলীদের হীনবল করে ধ্বংস করা। কিন্তু আল্লাহ্‌র ইচ্ছা ছিলো ভিন্নরূপ। আল্লাহ্‌ চেয়েছিলেন ইসরাঈলীদের রক্ষা করতে, কারণ তারা ছিলো দুর্বল। আল্লাহ্‌র ইচ্ছা ছিলো তিনি ইহুদীদের আল্লাহ্‌র ধর্মের রক্ষক ও নেতা রূপে নির্বাচন করবেন এবং তাদের ” দুধ ও মধু প্রবাহিত দেশের [ Flowing with milk and honey ]” উত্তরাধীকারী করবেন। কার্যক্ষেত্রে ইসরাঈলীরা যতদিন আল্লাহ্‌র বিধান মেনে নিজেদের জীবনকে পরিচালিত করেছে ততদিন তারা সেখানে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত ছিলো।

এবং তাদেরকে দেশের ক্ষমতায় আসীন করার এবং ফেরাউন, হামান ও তাদের সৈন্য-বাহিনীকে তা দেখিয়ে দেয়ার, যা তারা সেই দূর্বল দলের তরফ থেকে আশংকা করত।
And to establish them in the land, and We let Fir’aun (Pharaoh) and Hâmân and their hosts receive from them that which they feared.

وَنُمَكِّنَ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَنُرِي فِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَجُنُودَهُمَا مِنْهُم مَّا كَانُوا يَحْذَرُونَ
Wanumakkina lahum fee al-ardi wanuriya firAAawna wahamana wajunoodahuma minhum ma kanoo yahtharoona

YUSUFALI: To establish a firm place for them in the land, and to show Pharaoh, Haman, and their hosts, at their hands, the very things against which they were taking precautions.
PICKTHAL: And to establish them in the earth, and to show Pharaoh and Haman and their hosts that which they feared from them.
SHAKIR: And to grant them power in the land, and to make Firon and Haman and their hosts see from them what they feared.
KHALIFA: And to establish them on earth, and to give Pharaoh, Hamaan, and their troops a taste of their own medicine.

০৬। দেশে তাদের ক্ষমতায় সুপ্রতিষ্ঠিত করতে এবং ফেরাউন, হামান, ৩৩৩১ ও তাদের বাহিনীকে সেই জিনিষ দেখাতে যার বিরুদ্ধে তারা সাবধানতা অবলম্বন করেছিলো ৩৩৩২।

৩৩৩১। হামান ছিলেন ফেরাউনের মন্ত্রী। ওল্ড টেস্টামেন্টে [ Esther iii ] যে হামানের উল্লেখ আছে তার সাথে এই হামান এক নয়। ওল্ড টেস্টামেন্টের উল্লেখিত হামান ছিলেন পারস্যের রাজার Ahasuerus [ Xeres ] এর মন্ত্রী। এই রাজা গ্রীস আক্রমণ করেন এবং খৃষ্ট পূর্ব ৪৮৫ – ৪৬৪ পর্যন্ত রাজত্ব করেন।

৩৩৩২। বনী ইসরাঈলীদের সংখ্যা ও শক্তি বৃদ্ধির কারণে ফেরাউন শঙ্কিত হয়েছিলো। ফলে ফেরাউন তাদের ধ্বংস করে দেবার পরিকল্পনা করে। তাদের পরিকল্পনা তো সফল হয়ই নাই উপরন্তু মুসার আহ্বানে তাদের উপরে প্লেগ রোগের প্রার্দুভাব হয় এবং হাজার হাজার লোক মারা যায় [ ৭ : ১৬৩ এবং টিকা ১০৯১ – ৯২ ]। আল্লাহ্‌ ফেরাউনের লোকদের ধ্বংস করেন কারণ তারা ছিলো উদ্ধত, অহংকারী এবং পাপে নিমজ্জিত। পলায়ণপর ইসরাঈলীদের অনুসরণ করতে যেয়ে ফেরাউন ও তার অনুসারীগণ ডুবে মারা যায়।তাদের সাবধানতা কোন কাজে আসলো না। সুতারাং ফেরাউন যে আশঙ্কা করেছিলো তা সত্যে পরিণত হলো। কারণ অত্যাচারী , অহংকারীদের শেষ পরিণতি হবে ধ্বংস। এই আল্লাহ্‌র বিধান। এই কাহিনীর এটাই নৈতিক উপদেশ।

আমি মূসা-জননীকে আদেশ পাঠালাম যে, তাকে স্তন্য দান করতে থাক। অতঃপর যখন তুমি তার সম্পর্কে বিপদের আশংকা কর, তখন তাকে দরিয়ায় নিক্ষেপ কর এবং ভয় করো না, দুঃখও করো না। আমি অবশ্যই তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেব এবং তাকে পয়গম্বরগণের একজন করব।
And We inspired the mother of Mûsa (Moses), (saying): ”Suckle him [Mûsa (Moses)], but when you fear for him, then cast him into the river and fear not, nor grieve. Verily! We shall bring him back to you, and shall make him one of (Our) Messengers.”

وَأَوْحَيْنَا إِلَى أُمِّ مُوسَى أَنْ أَرْضِعِيهِ فَإِذَا خِفْتِ عَلَيْهِ فَأَلْقِيهِ فِي الْيَمِّ وَلَا تَخَافِي وَلَا تَحْزَنِي إِنَّا رَادُّوهُ إِلَيْكِ وَجَاعِلُوهُ مِنَ الْمُرْسَلِينَ
Waawhayna ila ommi moosa an ardiAAeehi fa-itha khifti AAalayhi faalqeehi fee alyammi wala takhafee wala tahzanee inna raddoohu ilayki wajaAAiloohu mina almursaleena

YUSUFALI: So We sent this inspiration to the mother of Moses: “Suckle (thy child), but when thou hast fears about him, cast him into the river, but fear not nor grieve: for We shall restore him to thee, and We shall make him one of Our messengers.”
PICKTHAL: And We inspired the mother of Moses, saying: Suckle him and, when thou fearest for him, then cast him into the river and fear not nor grieve. Lo! We shall bring him back unto thee and shall make him (one) of Our messengers.
SHAKIR: And We revealed to Musa’s mothers, saying: Give him suck, then when you fear for him, cast him into the river and do not fear nor grieve; surely We wi!l bring him back to you and make him one of the messengers.
KHALIFA: We inspired Moses’ mother: “Nurse him, and when you fear for his life, throw him into the river without fear or grief. We will return him to you, and will make him one of the messengers.”

০৭। সুতারাং আমি মুসার মায়ের প্রতি ওহী পাঠিয়েছিলাম যে, ” [ তোমার শিশুকে ] স্তন্য দান কর। কিন্তু যখন তুমি তার সম্পর্কে আশংকা করবে তখন তাঁকে তুমি নদীতে নিক্ষেপ করবে ৩৩৩৩। কিন্তু ভয় পেয়ো না বা দুঃখিত হয়ো না। নিশ্চয়ই আমি তাঁকে তোমার নিকট ফিরিয়ে দেবো এবং আমি তাঁকে রাসুলদের মধ্যে একজন করবো।”

৩৩৩৩। মিশরে ধাত্রীদের উপরে হুকুম ছিলো ইসরাঈলীদের ছেলে সন্তানকে জন্মের পরই মেরে ফেলার জন্য। হযরত মুসার জীবন এ থেকে গোপনে রক্ষা পায় এবং তাঁর মা তাঁকে বুকের দুধ খাইয়ে বড় করতে থাকেন। যখন আর মুসার উপস্থিতি গোপন রাখা সম্ভব ছিলো না , তখন মুসার মা তাঁকে একটি ঝুরিতে রেখে নীল নদীতে ভাসিয়ে দেন। ঝুড়িটি ভাসতে ভাসতে রাজার প্রাসাদ সংলগ্ন বাগানে থেমে থাকে। পরর্বতী আয়াতে বলা হয়েছে যে, সেখান থেকে তাকে তুলে নেয়া হয়। আল্লাহ্‌ মুসার মাতাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, তিনি তাঁর সন্তানকে তাঁর কোলে ফিরিয়ে দেবেন। বাস্তবে মুসা তাঁর মায়ের স্নেহের তত্বাবধানেই বড় হতে থাকেন এবং পরবর্তীতে আল্লাহ্‌র নবী হন।

অতঃপর ফেরাউন পরিবার মূসাকে কুড়িয়ে নিল, যাতে তিনি তাদের শত্রু ও দুঃখের কারণ হয়ে যান। নিশ্চয় ফেরাউন, হামান, ও তাদের সৈন্যবাহিনী অপরাধী ছিল।
Then the household of Fir’aun (Pharaoh) picked him up, that he might become for them an enemy and a (cause of) grief. Verily! Fir’aun (Pharaoh), Hâmân and their hosts were sinners.

فَالْتَقَطَهُ آلُ فِرْعَوْنَ لِيَكُونَ لَهُمْ عَدُوًّا وَحَزَنًا إِنَّ فِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَجُنُودَهُمَا كَانُوا خَاطِئِينَ
Failtaqatahu alu firAAawna liyakoona lahum AAaduwwan wahazanan inna firAAawna wahamana wajunoodahuma kanoo khati-eena

YUSUFALI: Then the people of Pharaoh picked him up (from the river): (It was intended) that (Moses) should be to them an adversary and a cause of sorrow: for Pharaoh and Haman and (all) their hosts were men of sin.
PICKTHAL: And the family of Pharaoh took him up, that he might become for them an enemy and a sorrow, Lo! Pharaoh and Haman and their hosts were ever sinning.
SHAKIR: And Firon’s family took him up that he might be an enemy and a grief for them; surely Firon and Haman and their hosts were wrongdoers.
KHALIFA: Pharaoh’s family picked him up, only to have him lead the opposition and to be a source of grief for them. That is because Pharaoh, Hamaan, and their troops were transgressors.

০৮। অতঃপর ফেরাউনের লোকজনে তাঁকে [ নদী থেকে ] উঠিয়ে নিল [ এই অভিপ্রায়ে যে মুসা ] যেনো তাদের শত্রু ও দুঃখের কারণ হতে পারে ৩৩৩৪। ফেরাউন ও হামান এবং তাদের [ সকল ] লোক লষ্কর ছিলো পাপী।

৩৩৩৪। “মুসা যেনো তাদের শত্রু ও দুঃখের কারণ হতে পারে।” এই আয়াতটির মাধ্যমে আল্লাহ্‌ আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, কিভাবে তাঁর দুরদর্শিতা, বিচক্ষণতা, পরিকল্পনা কাজ করে। দুষ্ট ও পাপীরা তাদের দুরভিষন্ধির জাল নিক্ষেপ করে বিপক্ষের প্রতি, কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সে জাল তাদেরকেই বেষ্টন করে ফেলে , যে ভাবে তারা মুসাকে লালন-পালনের মাধ্যমে নিজেদের শাস্তির অস্ত্রকে নিজেরাই তৈরী করছিলো এবং শাণিত করেছিলো। অথবা অন্যদৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায় যে, মুসাকে আল্লাহ্‌ মিশরবাসীদের সমস্ত জ্ঞান বিজ্ঞান শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন যেনো তিনি সে সবের অন্তঃসারশূন্যতা ও প্রতারণার খেলা বুঝতে পারেন। এভাবেই আল্লাহ্‌র পরিকল্পনা আমাদের জীবনকে এক নির্দ্দিষ্ট উদ্দেশ্যের প্রতি নিয়ে যায় যা হয়তো অনেক সময়েই আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় না।

ফেরাউনের স্ত্রী বলল, এ শিশু আমার ও তোমার নয়নমণি, তাকে হত্যা করো না। এ আমাদের উপকারে আসতে পারে অথবা আমরা তাকে পুত্র করে নিতে পারি। প্রকৃতপক্ষে পরিণাম সম্পর্কে তাদের কোন খবর ছিল না।
And the wife of Fir’aun (Pharaoh) said: ”A comfort of the eye for me and for you. Kill him not, perhaps he may be of benefit to us, or we may adopt him as a son.” And they perceive not (the result of that).

وَقَالَتِ امْرَأَتُ فِرْعَوْنَ قُرَّتُ عَيْنٍ لِّي وَلَكَ لَا تَقْتُلُوهُ عَسَى أَن يَنفَعَنَا أَوْ نَتَّخِذَهُ وَلَدًا وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ
Waqalati imraatu firAAawna qurratu AAaynin lee walaka la taqtuloohu AAasa an yanfaAAana aw nattakhithahu waladan wahum la yashAAuroona

YUSUFALI: The wife of Pharaoh said: “(Here is) joy of the eye, for me and for thee: slay him not. It may be that he will be use to us, or we may adopt him as a son.” And they perceived not (what they were doing)!
PICKTHAL: And the wife of Pharaoh said: (He will be) a consolation for me and for thee. Kill him not. Peradventure he may be of use to us, or we may choose him for a son. And they perceived not.
SHAKIR: And Firon’s wife said: A refreshment of the eye to me and to you; do not slay him; maybe he will be useful to us, or we may take him for a son; and they did not perceive.
KHALIFA: Pharaoh’s wife said, “This can be a joyous find for me and you. Do not kill him, for he may be of some benefit for us, or we may adopt him to be our son.” They had no idea.

০৯। ফেরাউনের স্ত্রী বলেছিলো, ” [ এই শিশু ] আমার ও তোমার চক্ষু শীতলকারী ৩৩৩৫। ওকে হত্যা করো না। এমনও হতে পারে যে, সে আমাদের উপকারে আসবে অথবা আমরা তাঁকে পুত্ররূপে গ্রহণ করতে পারবো।” বস্তুতঃ তারা অনুধাবন করতে পারে নাই [কি তাদের কাজের পরিণাম ] ৩৩৩৬।

৩৩৩৫। হযরত মুসা দেখতে ছিলেন অত্যন্ত সুন্দর। ফেরাউনের কোনও পুত্র সন্তান ছিলো না, শুধু একটি কন্যা ছিলো পরবর্তীতে যে কন্যা ফেরাউনের সিংহাসনের অংশ গ্রহণ করে। অনেকে মনে করেন এই ফেরাউন হচ্ছেন তুত্‌মাস।

৩৩৩৬। আল্লাহ্‌র পরিকল্পনা ও দূরদর্শিতা কি ভাবে কাজ করে তার অনুধাবন করা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। ঐশ্বরিক বিচক্ষণতার পরিণামে দেখা যায় পাপী তার নিজস্ব কর্মের দ্বারাই শেষ পর্যন্ত ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। শুধু তাই-ই নয়, পাপীর ইচ্ছা না থাকলেও অনিচ্ছাকৃত ভাবে হলেও তারই কর্মের পরিণামে মন্দ অবদমিত হয়ে ভালো প্রতিষ্ঠা লাভ করে থাকে। হযরত মুসার কাহিনীর মাধ্যমে এই চিরন্তন সত্যের দিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। যে বালক সম্পর্কে স্বপ্ন ও স্বপ্নের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে ফেরাউন শঙ্কিত হয়েছিলো এবং যার কারণে বনী ইসরাঈলীদের অসংখ্য নবজাতক পুত্র সন্তানকে হত্যা করার আইন জারি করা হয়েছিলো , তাকে আল্লাহ্‌ এই ফেরাউনেরই গৃহে, তারই হাতে লালিত পালিত করলেন। এ ভাবেই বিস্ময়কর ভাবে আল্লাহ্‌র সূদূর প্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয় যা সাধারণ মানুষের পক্ষে অনুধাবন করা অসাধ্য। সে কারণে কোন দুর্যোগ বা বিপদে ধৈর্য্যহারা না হয়ে আল্লাহ্‌র প্রতি ভরসা রেখে অগ্রসর হতে বলা হয়েছে। আজ যা বিপদের কালো মেঘ , আগামীতে তাই-ই হয়তো সফলতার স্বর্ণ উজ্জ্বল দিন হয়ে দেখা যাবে যার সংবাদ শুধু আল্লাহ্‌-ই জ্ঞাত।

সকালে মূসা জননীর অন্তর অস্থির হয়ে পড়ল। যদি আমি তাঁর হৃদয়কে দৃঢ় করে না দিতাম, তবে তিনি মূসাজনিত অস্থিরতা প্রকাশ করেই দিতেন। দৃঢ় করলাম, যাতে তিনি থাকেন বিশ্ববাসীগণের মধ্যে।
And the heart of the mother of Mûsa (Moses) became empty [from every thought, except the thought of Mûsa (Moses)]. She was very near to disclose his (case, i.e. the child is her son), had We not strengthened her heart (with Faith), so that she might remain as one of the believers.

وَأَصْبَحَ فُؤَادُ أُمِّ مُوسَى فَارِغًا إِن كَادَتْ لَتُبْدِي بِهِ لَوْلَا أَن رَّبَطْنَا عَلَى قَلْبِهَا لِتَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ
Waasbaha fu-adu ommi moosa farighan in kadat latubdee bihi lawla an rabatna AAala qalbiha litakoona mina almu/mineena

YUSUFALI: But there came to be a void in the heart of the mother of Moses: She was going almost to disclose his (case), had We not strengthened her heart (with faith), so that she might remain a (firm) believer.
PICKTHAL: And the heart of the mother of Moses became void, and she would have betrayed him if We had not fortified her heart, that she might be of the believers.
SHAKIR: And the heart of Musa’s mother was free (from anxiety) she would have almost disclosed it had We not strengthened her heart so that she might be of the believers.
KHALIFA: The mind of Moses’ mother was growing so anxious that she almost gave away his identity. But we strengthened her heart, to make her a believer.

১০। কিন্তু মুসা- জননীর হৃদয় অস্থির হয়ে পড়েছিলো। আমি তার হৃদয়কে [ বিশ্বাসে] দৃঢ় করে না দিলে, সে তো তাঁর [ মুসার ] পরিচয় প্রকাশে প্রায় উদ্যত হয়েছিলো ৩৩৩৭।

৩৩৩৭। সন্তানের থেকে বিচ্ছেদের ফলে, মুসার মায়ের হৃদয় দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছিলো। কিন্তু তাঁর ছিলো আল্লাহ্‌র কল্যাণকর পরিকল্পনার উপরে অগাধ বিশ্বাস, ফলে আল্লাহ্‌ জননীর মনঃস্তুষ্টির জন্য তারই কোলে সন্তানকে বিষ্ময়করভাবে পৌঁছে দেন। ঘটনাটি এরূপ : শিশু মুসা কোনও ধাত্রীরই স্তন্য পান করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। শেষে মুসার জননী ধাত্রীর পরিচয়ে মুসাকে স্তন্য পান করানোর প্রস্তাব দেন। এবারে শিশু মুসা নিজ মাতার স্তন্য পান করতে থাকেন। এ ভাবেই নিজ মাতা, ধাত্রীর পরিচয়ে মুসাকে নিজ তত্বাবধানে রাখতে সক্ষম হন। ঐশ্বরিক পরিকল্পনা কত বিস্ময়করভাবেই না কাজ করে। আল্লাহ্‌র পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার জন্য সময়ের প্রয়োজন। সেই সময় পর্যন্ত ধৈর্য্য ধারণের প্রয়োজন হয়। মুসার জননীর হৃদয়ে আল্লাহ্‌ ধৈর্য্য ধারণের ক্ষমতা দ্বারা শক্তিশালী করেছিলেন। আল্লাহ্‌ পরম করুণাময়।

তিনি মূসার ভগিণীকে বললেন, তার পেছন পেছন যাও। সে তাদের অজ্ঞাতসারে অপরিচিতা হয়ে তাকে দেখে যেতে লাগল।
And she said to his [Musa’s (Moses)] sister: ”Follow him.” So she (his sister) watched him from a far place secretly, while they perceived not.

وَقَالَتْ لِأُخْتِهِ قُصِّيهِ فَبَصُرَتْ بِهِ عَن جُنُبٍ وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ
Waqalat li-okhtihi qusseehi fabasurat bihi AAan junubin wahum la yashAAuroona

YUSUFALI: And she said to the sister of (Moses), “Follow him” so she (the sister) watched him in the character of a stranger. And they knew not.
PICKTHAL: And she said unto his sister: Trace him. So she observed him from afar, and they perceived not.
SHAKIR: And she said to his sister: Follow him up. So she watched him from a distance while they did not perceive,
KHALIFA: She said to his sister, “Trace his path.” She watched him from afar, while they did not perceive.

১১। এবং সে [ মুসার] বোনকে বলেছিলো, ” ওকে অনুসরণ কর।” সুতারাং সে [বোনটি ] অপরিচিত হিসেবে [ দূর থেকে ] তার প্রতি নজর রাখতে থাকলো। ফেরাউনের লোকেরা তা বুঝতে পারলো না।

১২। আমি পূর্বেই তাঁকে [ অন্য ধাত্রীর ] স্তন্য পান করাতে নিষেধ করেছিলাম , যতক্ষণ না [ তাঁর বোন এসে ] বলেছিলো : ” আমি কি তোমাদের এমন এক পরিবার দেখিয়ে দেবো যারা তাঁর হিতাকাঙ্খী হয়ে তোমাদের হয়ে তাঁকে লালন পালন করবে ? ” ৩৩৩৮

৩৩৩৮। “তোমাদিগের হয়ে ” – অর্থাৎ ফেরাউনের পরিবারের পরিবর্তে শিশু মুসার মা সে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এভাবেই শিশু মুসা মাতৃদুগ্ধ পানের ও মাতৃস্নেহ লাভের সুযোগ পান এবং একই সাথে রাজকীয় পরিবারে লালিত-পালিত হওয়ার সুযোগ লাভ করেন। সেখানে তিনি শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের দ্বারা মিশরের জ্ঞান বিজ্ঞান শেখার সুযোগ লাভ করেন। এসব দেখে মায়ের অন্তর শান্তিতে ভরে যায়। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে মুসা যে নিজ জননী ব্যতীত অন্য ধাত্রীদের স্তন্য পান করে নাই তা ছিলো আল্লাহ্‌রই পরিকল্পনা – জননীকে নিজ সন্তানকে ফিরিয়ে দেয়ার কৌশল মাত্র।

পূর্ব থেকেই আমি ধাত্রীদেরকে মূসা থেকে বিরত রেখেছিলাম। মূসার ভগিনী বলল, আমি তোমাদেরকে এমন এক পরিবারের কথা বলব কি, যারা তোমাদের জন্যে একে লালন-পালন করবে এবং তারা হবে তার হিতাকাঙ্ক্ষী?
And We had already forbidden (other) foster suckling mothers for him, until she (his sister came up and) said: ”Shall I direct you to a household who will rear him for you, and sincerely they will look after him in a good manner?”

وَحَرَّمْنَا عَلَيْهِ الْمَرَاضِعَ مِن قَبْلُ فَقَالَتْ هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى أَهْلِ بَيْتٍ يَكْفُلُونَهُ لَكُمْ وَهُمْ لَهُ نَاصِحُونَ
Waharramna AAalayhi almaradiAAa min qablu faqalat hal adullukum AAala ahli baytin yakfuloonahu lakum wahum lahu nasihoona

YUSUFALI: And we ordained that he refused suck at first, until (His sister came up and) said: “Shall I point out to you the people of a house that will nourish and bring him up for you and be sincerely attached to him?”…
PICKTHAL: And We had before forbidden foster-mothers for him, so she said: Shall I show you a household who will rear him for you and take care of him?
SHAKIR: And We ordained that he refused to suck any foster mother before, so she said: Shall I point out to you the people of a house who will take care of him for you, and they will be benevolent to him?
KHALIFA: We forbade him from accepting all the nursing mothers. (His sister) then said, “I can show you a family that can raise him for you, and take good care of him.”

১১। এবং সে [ মুসার] বোনকে বলেছিলো, ” ওকে অনুসরণ কর।” সুতারাং সে [বোনটি ] অপরিচিত হিসেবে [ দূর থেকে ] তার প্রতি নজর রাখতে থাকলো। ফেরাউনের লোকেরা তা বুঝতে পারলো না।

১২। আমি পূর্বেই তাঁকে [ অন্য ধাত্রীর ] স্তন্য পান করাতে নিষেধ করেছিলাম , যতক্ষণ না [ তাঁর বোন এসে ] বলেছিলো : ” আমি কি তোমাদের এমন এক পরিবার দেখিয়ে দেবো যারা তাঁর হিতাকাঙ্খী হয়ে তোমাদের হয়ে তাঁকে লালন পালন করবে ? ” ৩৩৩৮

৩৩৩৮। “তোমাদিগের হয়ে ” – অর্থাৎ ফেরাউনের পরিবারের পরিবর্তে শিশু মুসার মা সে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এভাবেই শিশু মুসা মাতৃদুগ্ধ পানের ও মাতৃস্নেহ লাভের সুযোগ পান এবং একই সাথে রাজকীয় পরিবারে লালিত-পালিত হওয়ার সুযোগ লাভ করেন। সেখানে তিনি শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের দ্বারা মিশরের জ্ঞান বিজ্ঞান শেখার সুযোগ লাভ করেন। এসব দেখে মায়ের অন্তর শান্তিতে ভরে যায়। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে মুসা যে নিজ জননী ব্যতীত অন্য ধাত্রীদের স্তন্য পান করে নাই তা ছিলো আল্লাহ্‌রই পরিকল্পনা – জননীকে নিজ সন্তানকে ফিরিয়ে দেয়ার কৌশল মাত্র।

অতঃপর আমি তাকে জননীর কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার চক্ষু জুড়ায় এবং তিনি দুঃখ না করেন এবং যাতে তিনি জানেন যে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য, কিন্তু অনেক মানুষ তা জানে না।
So did We restore him to his mother, that she might be delighted, and that she might not grieve, and that she might know that the Promise of Allâh is true. But most of them know not.

فَرَدَدْنَاهُ إِلَى أُمِّهِ كَيْ تَقَرَّ عَيْنُهَا وَلَا تَحْزَنَ وَلِتَعْلَمَ أَنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
Faradadnahu ila ommihi kay taqarra AAaynuha wala tahzana walitaAAlama anna waAAda Allahi haqqun walakinna aktharahum la yaAAlamoona

YUSUFALI: Thus did We restore him to his mother, that her eye might be comforted, that she might not grieve, and that she might know that the promise of Allah is true: but most of them do not understand.
PICKTHAL: So We restored him to his mother that she might be comforted and not grieve, and that she might know that the promise of Allah is true. But most of them know not.
SHAKIR: So We gave him back to his mother that her eye might be refreshed, and that she might no grieve, and that she might know that the promise of Allah is true, but most of them do not know.
KHALIFA: Thus, we restored him to his mother, in order to please her, remove her worries, and to let her know that GOD’s promise is the truth. However, most of them do not know.

১৩। এভাবেই আমি তাকে তার মায়ের নিকট ফিরিয়ে দিলাম, যেনো তার চক্ষু জুড়ায় , যেনো সে দুঃখ না করে এবং সে যেনো বুঝতে পারে যে, আল্লাহ্‌র প্রতিশ্রুতি সত্য। কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা বুঝতে পারে না ৩৩৩৯।

৩৩৩৯। এ ভাবেই আল্লাহ্‌ জননীর কোলে তাঁর সন্তানকে ফিরিয়ে দেন। আল্লাহ্‌র প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হবেই। কিন্তু যাদের বিচক্ষণতা, অন্তর্দৃষ্টি, ও অনুধাবন ক্ষমতা কম তারা তা উপলব্ধি করতে অক্ষম। এ সব লোকেরা যে সব পরিকল্পনা করে যদি তা সামান্য ব্যাহত হয়, তবে সাথে সাথে তারা অস্থির হয়ে পড়ে। তারা আল্লাহ্‌র বিচক্ষণতা , জ্ঞান , ক্ষমতা এবং মঙ্গলাকাঙ্খা অনুধাবনে অক্ষম হয়। আল্লাহ্‌র ক্ষমতা, বিচক্ষণতা , জ্ঞান, পরিকল্পনা কাজ করে সময়ের বৃহত্তর পরিসরে যা ব্যাপক এবং কল্যাণকর। কিন্তু মানুষ অন্তর্দৃষ্টি ও জ্ঞানের অভাবে তা অনুধাবনে অক্ষম।

যখন মূসা যৌবনে পদার্পন করলেন এবং পরিণত বয়স্ক হয়ে গেলেন, তখন আমি তাঁকে প্রজ্ঞা ও জ্ঞানদান করলাম। এমনিভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
And when he attained his full strength, and was perfect (in manhood), We bestowed on him Hukman (Prophethood, right judgement of the affairs) and religious knowledge [of the religion of his forefathers i.e. Islâmic Monotheism]. And thus do We reward the Muhsinûn (i.e. good doers – see the footnote of V.9:120).

وَلَمَّا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَاسْتَوَى آتَيْنَاهُ حُكْمًا وَعِلْمًا وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ
Walamma balagha ashuddahu waistawa ataynahu hukman waAAilman wakathalika najzee almuhsineena

YUSUFALI: When he reached full age, and was firmly established (in life), We bestowed on him wisdom and knowledge: for thus do We reward those who do good.
PICKTHAL: And when he reached his full strength and was ripe, We gave him wisdom and knowledge. Thus do We reward the good.
SHAKIR: And when he attained his maturity and became full grown, We granted him wisdom and knowledge; and thus do We reward those who do good (to others).
KHALIFA: When he reached maturity and strength, we endowed him with wisdom and knowledge. We thus reward the righteous.

রুকু – ২

১৪। যখন সে পূর্ণ যৌবনে উপণীত ও পরিণত বয়স প্রাপ্ত হলো , এবং [ জীবনে ] দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো ৩৩৪০ ; আমি তাকে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করলাম। যারা ভালো কাজ করে তাদের আমি এ ভাবেই পুরষ্কৃত করে থাকি।

৩৩৪০। “পূর্ণ যৌবনে উপণীত ও পরিণত বয়স্ক হলো ” – এই বয়েসকে ধরা যায় ১৮ থেকে ৩০ বৎসরের মধ্যে। এই সময়ের মধ্যে যে কোনও ব্যক্তির শারীরিক বৃদ্ধি সম্পূর্ণ হয়ে যায় এবং মানসিক দক্ষতা সমূহও পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়। তার নৈতিক চরিত্র এবং অভ্যাসসমূহ এক বাঁধাধরা নিয়মে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সে কর্ম জীবনে প্রবেশ লাভ করে। এই বয়সে মুসার চরিত্রে প্রকাশ পায় তার আত্মার পবিত্রতা , মানুষের জন্য মঙ্গলাকাঙ্খা , নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি আনুগত্য, বিশ্বস্ততা, এবং সর্বোপরি সকলের জন্য ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার প্রতি অনুরাগ। তিনি চরিত্রের এ সব গুণাবলী নিজ চেষ্টায় অর্জন করেন, যার ফলে আল্লাহ্‌ তাঁকে পুরষ্কৃত করেন হিকমত বা বিবেক এবং জ্ঞান দ্বারা; যেনো এ দ্বারা তিনি ভবিষ্যত জীবনের দুর্যোগকে মোকাবিলা করতে পারেন। মুসার চরিত্রের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ সকল মানুষের জন্য এই বারতা পৌঁছে দিয়েছেন যে, ” আমি সৎকর্ম পরায়ণদিগকে পুরষ্কার প্রদান করে থাকি” হিক্‌মত ও জ্ঞান দ্বারা।

তিনি শহরে প্রবেশ করলেন, যখন তার অধিবাসীরা ছিল বেখবর। তথায় তিনি দুই ব্যক্তিকে লড়াইরত দেখলেন। এদের একজন ছিল তাঁর নিজ দলের এবং অন্য জন তাঁর শত্রু দলের। অতঃপর যে তাঁর নিজ দলের সে তাঁর শত্রু দলের লোকটির বিরুদ্ধে তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করল। তখন মূসা তাকে ঘুষি মারলেন এবং এতেই তার মৃত্যু হয়ে গেল। মূসা বললেন, এটা শয়তানের কাজ। নিশ্চয় সে প্রকাশ্য শত্রু, বিভ্রান্তকারী।
And he entered the city at a time of unawareness of its people, and he found there two men fighting, – one of his party (his religion – from the Children of Israel), and the other of his foes. The man of his (own) party asked him for help against his foe, so Mûsa (Moses) struck him with his fist and killed him. He said: ”This is of Shaitân’s (Satan) doing, verily, he is a plain misleading enemy.”

وَدَخَلَ الْمَدِينَةَ عَلَى حِينِ غَفْلَةٍ مِّنْ أَهْلِهَا فَوَجَدَ فِيهَا رَجُلَيْنِ يَقْتَتِلَانِ هَذَا مِن شِيعَتِهِ وَهَذَا مِنْ عَدُوِّهِ فَاسْتَغَاثَهُ الَّذِي مِن شِيعَتِهِ عَلَى الَّذِي مِنْ عَدُوِّهِ فَوَكَزَهُ مُوسَى فَقَضَى عَلَيْهِ قَالَ هَذَا مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ عَدُوٌّ مُّضِلٌّ مُّبِينٌ
Wadakhala almadeenata AAala heeni ghaflatin min ahliha fawajada feeha rajulayni yaqtatilani hatha min sheeAAatihi wahatha min AAaduwwihi faistaghathahu allathee min sheeAAatihi AAala allathee min AAaduwwihi fawakazahu moosa faqada AAalayhi qala hatha min AAamali alshshaytani innahu AAaduwwun mudillun mubeenun

YUSUFALI: And he entered the city at a time when its people were not watching: and he found there two men fighting,- one of his own religion, and the other, of his foes. Now the man of his own religion appealed to him against his foe, and Moses struck him with his fist and made an end of him. He said: “This is a work of Evil (Satan): for he is an enemy that manifestly misleads!”
PICKTHAL: And he entered the city at a time of carelessness of its folk, and he found therein two men fighting, one of his own caste, and the other of his enemies; and he who was of his caste asked him for help against him who was of his enemies. So Moses struck him with his fist and killed him. He said: This is of the devil’s doing. Lo! he is an enemy, a mere misleader.
SHAKIR: And he went into the city at a time of unvigilance on the part of its people, so he found therein two men fighting, one being of his party and the other of his foes, and he who was of his party cried out to him for help against him who was of his enemies, so Musa struck him with his fist and killed him. He said: This is on account of the Shaitan’s doing; surely he is an enemy, openly leading astray.
KHALIFA: Once he entered the city unexpectedly, without being recognized by the people. He found two men fighting; one was (a Hebrew) from his people, and the other was (an Egyptian) from his enemies. The one from his people called on him for help against his enemy. Moses punched him, killing him. He said, “This is the work of the devil; he is a real enemy, and a profound misleader.”

১৫। [ মুসা একদিন ] নগরে প্রবেশ করলো যখন উহার অধিবাসীরা সর্তক ছিলো না ৩৩৪১। এবং সে সেখানে দুইটি লোককে সংঘর্ষে লিপ্ত অবস্থায় দেখলো। একজন তার নিজ ধর্মের এবং অপরজন তার শত্রুদলের। এখন মুসার নিজ ধর্মের লোকটি তার শত্রুর বিরুদ্ধে মুসার নিকট সাহায্যের আবেদন করলো, এবং মুসা তাকে ঘুষি মারলো ৩৩৪২। ফলে তার জীবন অবসান হলো। সে [মুসা ] বলেছিলো, ” এটা শয়তানের কাজ। সে তো প্রকাশ্য বিভ্রান্তকারী শত্রু।”

৩৩৪১। মুসা যখন নগরীতে প্রবেশ করলো, সম্ভবতঃ তা ছিলো মধ্যাহ্ন কাল, যখন মিশরের ব্যবসা বাণিজ্য কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ থাকে। প্রচন্ড সূর্যতাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য লোকজন গৃহের ছায়াতে আশ্রয় নেয়। অথবা সময় কালটি ছিলো রাত্রিকাল – যখন শহরের অধিবাসীরা সুপ্তির কোলে আশ্রয় গ্রহণ করে। আয়াত ১৮ এর বর্ণনা অনুযায়ী শেষের বর্ণনাটিই অধিক প্রযোজ্য মনে হয়, এর আর একটি কারণ হতে পারে মুসা রাজপরিবারে রাজপুত্রের ন্যায় প্রতিপালিত। সুতারাং একজন রাজপুরুষের যে কোনও সময়ে নাগরিক সুবিধা বঞ্চিতদের সমাজে, হীনভাবে বিবেচিতদের আবাসস্থলে যে কোনও সময়ে ভ্রমণ করা সম্ভব নয়। অবশ্যই সময়টা এমন হতে হবে, যখন তাঁকে কেউ লক্ষ্য করবে না। মুসা সেই সব কারণে প্রহরীদের ফাঁকি দিয়ে গোপনে রাতে ভ্রমণ করেছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিলো নিজ চোখে ইহুদীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা। ইহুদীদের প্রতি যে নিদারুণ অত্যাচার অবিচারের কাহিনী তিনি শুনেছিলেন সম্ভবতঃ তা তিনি নিজে বিচার করতে চেয়েছিলেন। আমরা ধরে নিতে পারি তিনি তাঁর মায়ের সংস্পর্শে সব সময়েই ছিলেন – যার ফলে তাঁর মধ্যে ইহুদীদের প্রতি বিশেষ এক আত্মিক সম্পর্ক অনুভব করা যায়।

৩৩৪২। সংঘর্ষ হচ্ছিল ইহুদী ও মিশরবাসীর মধ্যে। মুসার উদ্দেশ্য ছিলো মিশরবাসীকে আঘাত করে ইহুদীকে মুক্ত করা। তিনি মিশরবাসীটিকে হত্যা করতে চান নাই। কিন্তু ঘটনাচক্রে মিশরবাসীটি মুসার এক ঘুষিতেই মৃত্যুবরণ করে। সম্পূর্ণ ঘটনাটি মুসার জন্য ছিলো বহুকারণে দুর্ভাগ্যজনক। কারণ প্রথমতঃ মুসা নিয়ম বর্হিভূত ভাবে গোপনে নগরী ভ্রমণ করছিলো, দ্বিতীয়তঃ দুর্বলের পক্ষ অবলম্বন করতে যেয়ে তিনি একজন স্বাধীন মিশরবাসীর মৃত্যুর কারণ হয়েছেন। এসব কারণে তিনি অত্যন্ত দুঃখিত ও অনুতপ্ত হয়ে পড়েন এবং আল্লাহ্‌র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং আল্লাহ্‌র ক্ষমা লাভ করেন।

তিনি বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আমি তো নিজের উপর জুলুম করে ফেলেছি। অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করলেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।
He said: ”My Lord! Verily, I have wronged myself, so forgive me.” Then He forgave him. Verily, He is the Oft-Forgiving, the Most Merciful.

قَالَ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَغَفَرَ لَهُ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
Qala rabbi innee thalamtu nafsee faighfir lee faghafara lahu innahu huwa alghafooru alrraheemu

YUSUFALI: He prayed: “O my Lord! I have indeed wronged my soul! Do Thou then forgive me!” So (Allah) forgave him: for He is the Oft-Forgiving, Most Merciful.
PICKTHAL: He said: My Lord! Lo! I have wronged my soul, so forgive me. Then He forgave him. Lo! He is the Forgiving, the Merciful.
SHAKIR: He said: My Lord! surely I have done harm to myself, so do Thou protect me. So He protected him; surely He is the Forgiving, the Merciful.
KHALIFA: He said, “My Lord, I have wronged my soul. Please forgive me,” and He forgave him. He is the Forgiver, Most Merciful.

১৬। সে প্রার্থনা করেছিলো, ” হে আমার প্রভু ! আমি সত্যিই নিজের আত্মার প্রতি অত্যাচার করেছি। এখন তুমি আমাকে ক্ষমা কর।” সুতারাং আল্লাহ্‌ তাঁকে ক্ষমা করলেন। নিশ্চয়ই তিনি বারে বারে ক্ষমাশীল , পরম করুণাময়।

১৭। সে বলেছিলো, ” হে আমার প্রভু! যেহেতু তুমি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছ, সুতারাং আমি আর কখনও পাপীদের সাহায্যকারী হব না।” ৩৩৪৩

৩৩৪৩। আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য জীবন উৎসর্গ করার জন্য হযরত মুসা প্রতিজ্ঞা করেন একান্ত আন্তরিক ও অনুগত ভাবে। তিনি প্রতিজ্ঞা করেন যে,তিনি ভবিষ্যতে কখনও অপরাধীদের সাহায্য করবেন না। সম্ভবতঃ ইহুদীটি ছিলো কলহপ্রিয়, সেই কারণে মুসা অনুতপ্ত অবস্থায় উপরের প্রতিজ্ঞা করেন। কিন্তু তখনও দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে নাই , যে ঘটনার পরিণামে তাঁকে মিশর ত্যাগ করতে হয়।

তিনি বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন, এরপর আমি কখনও অপরাধীদের সাহায্যকারী হব না।
He said: ”My Lord! For that with which You have favoured me, I will never more be a helper for the Mujrimûn (criminals, disobedient to Allâh, polytheists, sinners, etc.)!”

قَالَ رَبِّ بِمَا أَنْعَمْتَ عَلَيَّ فَلَنْ أَكُونَ ظَهِيرًا لِّلْمُجْرِمِينَ
Qala rabbi bima anAAamta AAalayya falan akoona thaheeran lilmujrimeena

YUSUFALI: He said: “O my Lord! For that Thou hast bestowed Thy Grace on me, never shall I be a help to those who sin!”
PICKTHAL: He said: My Lord! Forasmuch as Thou hast favoured me, I will nevermore be a supporter of the guilty.
SHAKIR: He said: My Lord! because Thou hast bestowed a favor on me, I shall never be a backer of the guilty.
KHALIFA: He said, “My Lord, in return for Your blessings upon me, I will never be a supporter of the guilty ones.”

১৬। সে প্রার্থনা করেছিলো, ” হে আমার প্রভু ! আমি সত্যিই নিজের আত্মার প্রতি অত্যাচার করেছি। এখন তুমি আমাকে ক্ষমা কর।” সুতারাং আল্লাহ্‌ তাঁকে ক্ষমা করলেন। নিশ্চয়ই তিনি বারে বারে ক্ষমাশীল , পরম করুণাময়।

১৭। সে বলেছিলো, ” হে আমার প্রভু! যেহেতু তুমি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছ, সুতারাং আমি আর কখনও পাপীদের সাহায্যকারী হব না।” ৩৩৪৩

৩৩৪৩। আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য জীবন উৎসর্গ করার জন্য হযরত মুসা প্রতিজ্ঞা করেন একান্ত আন্তরিক ও অনুগত ভাবে। তিনি প্রতিজ্ঞা করেন যে,তিনি ভবিষ্যতে কখনও অপরাধীদের সাহায্য করবেন না। সম্ভবতঃ ইহুদীটি ছিলো কলহপ্রিয়, সেই কারণে মুসা অনুতপ্ত অবস্থায় উপরের প্রতিজ্ঞা করেন। কিন্তু তখনও দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে নাই , যে ঘটনার পরিণামে তাঁকে মিশর ত্যাগ করতে হয়।

অতঃপর তিনি প্রভাতে উঠলেন সে শহরে ভীত-শংকিত অবস্থায়। হঠাৎ তিনি দেখলেন, গতকল্য যে ব্যক্তি তাঁর সাহায্য চেয়েছিল, সে চিৎকার করে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করছে। মূসা তাকে বললেন, তুমি তো একজন প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট ব্যক্তি।
So he became afraid, looking about in the city (waiting as to what will be the result of his crime of killing), when behold, the man who had sought his help the day before, called for his help (again). Mûsa (Moses) said to him: ”Verily, you are a plain misleader!”

فَأَصْبَحَ فِي الْمَدِينَةِ خَائِفًا يَتَرَقَّبُ فَإِذَا الَّذِي اسْتَنصَرَهُ بِالْأَمْسِ يَسْتَصْرِخُهُ قَالَ لَهُ مُوسَى إِنَّكَ لَغَوِيٌّ مُّبِينٌ
Faasbaha fee almadeenati kha-ifan yataraqqabu fa-itha allathee istansarahu bial-amsi yastasrikhuhu qala lahu moosa innaka laghawiyyun mubeenun

YUSUFALI: So he saw the morning in the city, looking about, in a state of fear, when behold, the man who had, the day before, sought his help called aloud for his help (again). Moses said to him: “Thou art truly, it is clear, a quarrelsome fellow!”
PICKTHAL: And morning found him in the city, fearing, vigilant, when behold! he who had appealed to him the day before cried out to him for help. Moses said unto him: Lo! thou art indeed a mere hothead.
SHAKIR: And he was in the city, fearing, awaiting, when lo! he who had asked his assistance the day before was crying out to him for aid. Musa said to him: You are most surely one erring manifestly.
KHALIFA: In the morning, he was in the city, afraid and watchful. The one who sought his help yesterday, asked for his help again. Moses said to him, “You are really a trouble maker.”

১৮। অতঃপর ভীত-সতর্ক অবস্থায় সেই নগরীতে তাঁর প্রভাত হলো। হঠাৎ সে শুনতে পেলো, পূর্বদিন যে ব্যক্তি তার সাহায্য চেয়েছিলো সে চীৎকার করে [ পুণরায় ] তার সাহায্য প্রার্থনা করছে। মুসা তাকে বললো, ” এটা পরিষ্কার যে, তুমি একজন ঝগড়াটে ব্যক্তি ৩৩৪৪।”

৩৩৪৪। লোকটি ছিলো পূর্বদিনের ইসরাঈলী। এদিন মুসা তাকে সাহায্যের জন্য আগ্রহ বোধ করলেন না কারণ বলা হয়েছে টিকা ৩৩৪২ এ। মুসা অত্যন্ত ক্রুব্ধ বোধ করেন।

অতঃপর মূসা যখন উভয়ের শত্রুকে শায়েস্তা করতে চাইলেন, তখন সে বলল, গতকল্য তুমি যেমন এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে, সে রকম আমাকেও কি হত্যা করতে চাও? তুমি তো পৃথিবীতে স্বৈরাচারী হতে চাচ্ছ এবং সন্ধি স্থাপনকারী হতে চাও না।
Then when he decided to seize the man who was an enemy to both of them, the man said: ”O Mûsa (Moses)! Is it your intention to kill me as you killed a man yesterday? Your aim is nothing but to become a tyrant in the land, and not to be one of those who do right.”

فَلَمَّا أَنْ أَرَادَ أَن يَبْطِشَ بِالَّذِي هُوَ عَدُوٌّ لَّهُمَا قَالَ يَا مُوسَى أَتُرِيدُ أَن تَقْتُلَنِي كَمَا قَتَلْتَ نَفْسًا بِالْأَمْسِ إِن تُرِيدُ إِلَّا أَن تَكُونَ جَبَّارًا فِي الْأَرْضِ وَمَا تُرِيدُ أَن تَكُونَ مِنَ الْمُصْلِحِينَ
Falamma an arada an yabtisha biallathee huwa AAaduwwun lahuma qala ya moosa atureedu an taqtulanee kama qatalta nafsan bial-amsi in tureedu illa an takoona jabbaran fee al-ardi wama tureedu an takoona mina almusliheena

YUSUFALI: Then, when he decided to lay hold of the man who was an enemy to both of them, that man said: “O Moses! Is it thy intention to slay me as thou slewest a man yesterday? Thy intention is none other than to become a powerful violent man in the land, and not to be one who sets things right!”
PICKTHAL: And when he would have fallen upon the man who was an enemy unto them both, he said: O Moses! Wouldst thou kill me as thou didst kill a person yesterday. Thou wouldst be nothing but a tyrant in the land, thou wouldst not be of the reformers.
SHAKIR: So when he desired to seize him who was an enemy to them both, he said: O Musa! do you intend to kill me as you killed a person yesterday? You desire nothing but that you should be a tyrant in the land, and you do not desire to be of those who act aright.
KHALIFA: Before he attempted to strike their common enemy, he said, “O Moses, do you want to kill me, as you killed the other man yesterday? Obviously, you wish to be a tyrant on earth; you do not wish to be righteous.”

১৯। অতঃপর, মুসা যখন তাদের উভয়ের শত্রুকে ধরতে উদ্যত হলো ৩৩৪৫; তখন সে ব্যক্তি বলে ঊঠলো, ” হে মুসা ! গতকাল তুমি যেভাবে এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছ, তোমার উদ্দেশ্য কি সেভাবে আমাকে হত্যা করা ? [আসলে] তোমার উদ্দেশ্য হচ্ছে পৃথিবীতে স্বেচ্ছাচারী উৎপীড়ক হওয়া ; শান্তিস্থাপনকারী হওয়া নয়। ” ৩৩৪৬

৩৩৪৫। এর পরের ঘটনা হচ্ছে ,মুসা যখন আবার ধারণা করলেন যে মিশরবাসীটিই অন্যায়ভাবে ইহুদীটিকে মারধর করছে, তিনি ব্যাপারটিতে হস্তক্ষেপ করতে পুণরায় মনস্ত করলেন। ” উভয়ের শত্রু ” অর্থাৎ মুসা এবং ইহুদীটির শত্রু মিশরবাসীটি। ঠিক সে সময়েই তিনি দ্বিবিধ সর্তকবাণী লাভ করেন। একটি হচ্ছে যুদ্ধরত মিশরবাসীটির কাছ থেকে , অন্যটি অপর এক বন্ধুসুলভ ব্যক্তির নিকট থেকে যে ইসরাঈলীও হতে পারে বা মিশরবাসীও হতে পারে। ধারণা করা যেতে পারে যে প্রথম দিনের ঘটনার পরে হাট-বাজারে ঘটনাটি সম্বন্ধে প্রচুর আলোচনা হয়েছে যেখানে মিশরবাসী ও ইসরাঈলী উভয়পক্ষ অংশ গ্রহণ করেছে। ফলে যুদ্ধরত ইসরাঈলীটি নিজেকে বিজয়ী বলে ধারণা করে উৎফুল্ল হয়ে ওঠে এবং দ্বিতীয় দিনও সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং মুসাকে সাহায্যের জন্য আহ্বান করে; যে কারণে হযরত মুসা বিরক্ত হয়ে তাকে তিরষ্কার করেন। সম্ভবতঃ হত্যার ঘটনাটি মিশরবাসীদের মধ্যে ব্যপক সাড়া জাগায় ও আলোচনা হয় এবং তারা যখন প্রকৃত হত্যাকারীকে সনাক্ত করতে পারে , তখন তারা তা রাজপ্রাসাদে ঘটনাটি জ্ঞাত করে। যে কারণে মুসা রাজপ্রাসাদে ফিরে যেতে সাহস করেন নাই।

৩৩৪৬। মিশরবাসীটি পূর্বের সম্পূর্ণ ঘটনাটি অবগত ছিলো। সে মুসাকে বললো, তুমি কি গতকালের ঘটনার পুণরাবৃত্তি করতে চাও ? তুমি তো একজন স্বেচ্ছাচারী বই আর কিছু নও। আর তুমি সর্বদা ন্যায়ের ও শান্তির কথা বল। যদি তুমি সত্যবাদী হও তবে পৃথিবীতে শান্তি স্থাপন করবে।

এসময় শহরের প্রান্ত থেকে একব্যক্তি ছুটে আসল এবং বলল, হে মূসা, রাজ্যের পরিষদবর্গ তোমাকে হত্যা করার পরমর্শ করছে। অতএব, তুমি বের হয়ে যাও। আমি তোমার হিতাকাঙ্ক্ষী।
And there came a man running, from the farthest end of the city. He said: ”O Mûsa (Moses)! Verily, the chiefs are taking counsel together about you, to kill you, so escape.Truly, I am to you of those who give sincere advice.”

وَجَاء رَجُلٌ مِّنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ يَسْعَى قَالَ يَا مُوسَى إِنَّ الْمَلَأَ يَأْتَمِرُونَ بِكَ لِيَقْتُلُوكَ فَاخْرُجْ إِنِّي لَكَ مِنَ النَّاصِحِينَ
Wajaa rajulun min aqsa almadeenati yasAAa qala ya moosa inna almalaa ya/tamiroona bika liyaqtulooka faokhruj innee laka mina alnnasiheena

YUSUFALI: And there came a man, running, from the furthest end of the City. He said: “O Moses! the Chiefs are taking counsel together about thee, to slay thee: so get thee away, for I do give thee sincere advice.”
PICKTHAL: And a man came from the uttermost part of the city, running. He said: O Moses! Lo! the chiefs take counsel against thee to slay thee; therefor escape. Lo! I am of those who give thee good advice.
SHAKIR: And a man came running from the remotest part of the city. He said: O Musa! surely the chiefs are consulting together to slay you, therefore depart (at once); surely I am of those who wish well to you.
KHALIFA: A man came running from the other side of the city, saying, “O Moses, the people are plotting to kill you. You better leave immediately. I am giving you good advice.”

২০। শহরের দূর প্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি ছুটে এসে বললো, ৩৩৪৭: ” হে মুসা ! পরিষদবর্গ তোমার সম্বন্ধে পরামর্শ করছে; তোমাকে হত্যা করার জন্য। অতএব তুমি বাইরে চলে যাও। অবশ্যই আমি তোমার হিতাকাঙ্খী।”

৩৩৪৭। মিশরবাসীকে হত্যার গুজব চর্তুদ্দিকে রটনা হয়েছিলো যা শেষ পর্যন্ত রাজপ্রাসাদেও পৌঁছে যায়। সেখানে ফেরাউনের সভাষদবর্গের সভাতে মুসার জন্য মৃত্যু দণ্ডাদেশ ধার্য করা হয়।

অতঃপর তিনি সেখান থেকে ভীত অবস্থায় বের হয়ে পড়লেন পথ দেখতে দেখতে। তিনি বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আমাকে জালেম সম্প্রদায়ের কবল থেকে রক্ষা কর।
So he escaped from there, looking about in a state of fear. He said: ”My Lord! Save me from the people who are Zâlimûn (polytheists and wrong-doers)!”

فَخَرَجَ مِنْهَا خَائِفًا يَتَرَقَّبُ قَالَ رَبِّ نَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
Fakharaja minha kha-ifan yataraqqabu qala rabbi najjinee mina alqawmi alththalimeena

YUSUFALI: He therefore got away therefrom, looking about, in a state of fear. He prayed “O my Lord! save me from people given to wrong-doing.”
PICKTHAL: So he escaped from thence, fearing, vigilant. He said: My Lord! Deliver me from the wrongdoing folk.
SHAKIR: So he went forth therefrom, fearing, awaiting, (and) he said: My Lord! deliver me from the unjust people.
KHALIFA: He fled the city, afraid and watchful. He said, “My Lord, save me from the oppressive people.”

২১। সে সেখান থেকে ভীত সতর্ক অবস্থায় বের হলো ৩৩৪৮। সে প্রার্থনা করেছিলো ; ” হে আমার প্রভু ! তুমি আমাকে এই পাপী সম্প্রদায়ের হাত থেকে উদ্ধার কর।”

৩৩৪৮। মুসা উপলব্ধি করতে পারলেন যে, রাজপ্রাসাদ বা নগরী এমনকি ফেরাউনের রাজত্বের সীমানার মধ্যে তাঁর জীবন নিরাপদ নয়। সুতারাং তিনি স্বেচ্ছা নির্বাসনের মনস্ত করলেন। কিন্তু তিনি কোথায় যাবেন জানেন না। প্রচন্ড মানসিক উদ্বেগ ও উত্তেজনা তাঁকে অস্থির করে তোলে। তিনি কায়মনোবাক্যে একান্তভাবে সেই পরম করুণাময়ের নিকট প্রার্থনা করেন, যার ফলে তিনি আত্মার মাঝে শান্তি লাভ করেন, এবং উদ্বেগ থেকে মুক্ত হন। তিনি সান্তনা লাভ করেন এই ভেবে যে, অন্যায় , অবিচার ও নিষ্পেষণের মাঝে বাস করার থেকে নির্বাসনে যাওয়া অনেক কম কষ্টের।

যখন তিনি মাদইয়ান অভিমুখে রওয়ানা হলেন তখন বললেন, আশা করা যায় আমার পালনকর্তা আমাকে সরল পথ দেখাবেন।
And when he went towards (the land of) Madyan (Midian) he said: ”It may be that my Lord guides me to the Right Way.”

وَلَمَّا تَوَجَّهَ تِلْقَاء مَدْيَنَ قَالَ عَسَى رَبِّي أَن يَهْدِيَنِي سَوَاء السَّبِيلِ
Walamma tawajjaha tilqaa madyana qala AAasa rabbee an yahdiyanee sawaa alssabeeli

YUSUFALI: Then, when he turned his face towards (the land of) Madyan, he said: “I do hope that my Lord will show me the smooth and straight Path.”
PICKTHAL: And when he turned his face toward Midian, he said: Peradventure my Lord will guide me in the right road.
SHAKIR: And when he turned his face towards Madyan, he said: Maybe my Lord will guide me in the right path.
KHALIFA: As he traveled towards Midyan, he said, “May my Lord guide me in the right path.”

রুকু – ৩

২২। অতঃপর যখন সে মাদইয়ান অভিমুখে যাত্রা করলো, ৩৩৪৯ সে বলেছিলো, “আমি আশা করি, আমার প্রভু আমাকে সরল পথ দেখাবেন। ”

৩৩৪৯। মিশরের নিম্নভূমির ৩০০ মাইল পূর্বদিকে থেকে সিনাই উপদ্বীপের অবস্থান। সিনাই উপদ্বীপ দক্ষিণে সুয়েজ উপসাগর [ Gulf of Suez ] দ্বারা বেষ্টিত, উত্তরে মিশরের সাথে ভূমি দ্বারা সংযোজিত – বর্তমানে এই সংযোগস্থলকে কেটে সুয়েজ খাল নির্মাণ করা হয়েছে। প্রাচীন কালে এই সংযোজিত ভূখন্ডের উপর দিয়ে বাণিজ্য পথ মিশর থেকে প্যালেস্টাইন ও সিরিয়া পর্যন্ত প্রসারিত ছিলো। হযরত মুসা এই বাণিজ্যপথকে পরিহার করেন, কারণ তিনি ছিলেন পলাতক আসামী এবং ফেরাউনের লোকজন তাঁর সন্ধানে ব্যাপৃত ছিলো। যদি তিনি বাণিজ্য পথকে ব্যবহার করতে পারতেন , তবে তিনি মিশর ও সিনাইএর সংযোজিত এই ভূখন্ড অতিক্রমের পর পরই সিনাইর মরুভূমিতে পৌঁছুতে পারতেন। সেখান থেকে পূর্বে বা দক্ষিণ পূর্বে মাদিয়ানদের রাজ্যের শুরু। মাদিয়ানরা মিশরীয় ছিলো না – তারা ছিলো আরব। তিনি মাদিয়ানদের আবাসস্থলের দিকে যাত্রা করেন এবং যাত্রার পূর্বে আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ প্রার্থনা করেন। এখানে অনুধাবনযোগ্য যে, মুসার ভৌগলিক জ্ঞান ও জাগতিক জ্ঞান ছিলো অগাধ – কারণ তিনি রাজপ্রাসাদেই সে সম্বন্ধে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের দ্বারা শিক্ষিত হন। তা সত্বেও তিনি তাঁর প্রতিটি কাজে আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ প্রার্থনা করেছেন। এই আয়াতগুলির মাধ্যমে মুসার আল্লাহ্‌র নিকট নিঃশর্ত আত্মসমর্পনের চিত্রই ফুঠে উঠেছে।

যখন তিনি মাদইয়ানের কূপের ধারে পৌছলেন, তখন কূপের কাছে একদল লোককে পেলেন তারা জন্তুদেরকে পানি পান করানোর কাজে রত। এবং তাদের পশ্চাতে দূ’জন স্ত্রীলোককে দেখলেন তারা তাদের জন্তুদেরকে আগলিয়ে রাখছে। তিনি বললেন, তোমাদের কি ব্যাপার? তারা বলল, আমরা আমাদের জন্তুদেরকে পানি পান করাতে পারি না, যে পর্যন্ত রাখালরা তাদের জন্তুদেরকে নিয়ে সরে না যায়। আমাদের পিতা খুবই বৃদ্ধ।
And when he arrived at the water of Madyan (Midian) he found there a group of men watering (their flocks), and besides them he found two women who were keeping back (their flocks). He said: ”What is the matter with you?” They said: ”We cannot water (our flocks) until the shepherds take (their flocks). And our father is a very old man.”

وَلَمَّا وَرَدَ مَاء مَدْيَنَ وَجَدَ عَلَيْهِ أُمَّةً مِّنَ النَّاسِ يَسْقُونَ وَوَجَدَ مِن دُونِهِمُ امْرَأتَيْنِ تَذُودَانِ قَالَ مَا خَطْبُكُمَا قَالَتَا لَا نَسْقِي حَتَّى يُصْدِرَ الرِّعَاء وَأَبُونَا شَيْخٌ كَبِيرٌ
Walamma warada maa madyana wajada AAalayhi ommatan mina alnnasi yasqoona wawajada min doonihimu imraatayni tathoodani qala ma khatbukuma qalata la nasqee hatta yusdira alrriAAao waaboona shaykhun kabeerun

YUSUFALI: And when he arrived at the watering (place) in Madyan, he found there a group of men watering (their flocks), and besides them he found two women who were keeping back (their flocks). He said: “What is the matter with you?” They said: “We cannot water (our flocks) until the shepherds take back (their flocks): And our father is a very old man.”
PICKTHAL: And when he came unto the water of Midian he found there a whole tribe of men, watering. And he found apart from them two women keeping back (their flocks). He said: What aileth you? The two said: We cannot give (our flocks) to drink till the shepherds return from the water; and our father is a very old man.
SHAKIR: And when he came to the water of Madyan, he found on it a group of men watering, and he found besides them two women keeping back (their flocks). He said: What is the matter with you? They said: We cannot water until the shepherds take away (their sheep) from the water, and our father is a very old man.
KHALIFA: When he reached Midyan’s water, he found a crowd of people watering, and noticed two women waiting on the side. He said, “What is it that you need?” They said, “We are not able to water, until the crowd disperses, and our father is an old man.”

২৩। এবং যখন সে মাদইয়ানের পানির [কূপের ] নিকট পৌঁছুলো, ৩৩৫০, সে সেখানে একদল লোককে দেখলো যারা তাদের [ মেষপালকে ] পানি পান করাচ্ছে এবং তাদের পশ্চাতে সে দুজন নারীকে দেখতে পেলো, যারা তাদের [ মেষপালকে ] থামিয়ে রাখছিলো। সে বলেছিলো, ” তোমাদের ব্যাপার কি ? ” তারা বলেছিলো, ” আমরা আমাদের [ মেষপালকে ] পানি পান করাতে পারি না , যতক্ষণ না রাখালেরা তাদের [ মেষপালকে ] সরিয়ে নিয়ে যায়। এবং আমাদের পিতা অত্যন্ত বৃদ্ধ ব্যক্তি।” ৩৩৫১

৩৩৫০। প্রাচীন কালে , যারা মরুভূমি অতিক্রম করতো, তাদের যাত্রাপথে একমাত্র উদ্দেশ্য থাকতো নির্দ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য পথের মরূদ্যান বা কূপের নিকট পৌঁছানো। কারণ তা হলে গাছের ছায়াতে সূর্যের প্রচন্ড তাপ থেকে শরীরকে সুশীতল করা যায়, কূপের পানি পানে প্রচন্ড তৃষ্ণাকে নিবারণ করা যায় , সর্বোপরি মরুভূমির জনশূন্যতা থেকে রক্ষা পেয়ে মানুষ সঙ্গ লাভ করা যায়। মাদিয়ানদের জলাশয়টি ছিলো সম্ভবতঃ একটি গভীর কূপ। সিনাই উপদ্বীপ হচ্ছে বালুকাময় মরুভূমি। বালুকাময় মরুভূমিতে পানির স্তর অত্যন্ত নীচে থাকে। সেই কারণে বিশেষতঃ ঝরণা দেখা যায় না। অবশ্য নিকটর্বতী স্থানে যদি পাহাড় থাকে তাহলেই ঝরণার অস্তিত্ব সম্ভব।

৩৩৫১। এই আয়াতটি প্রেমের পূর্বরাগের কবিতার মত মধুর যা কয়েকটি মাত্র বাক্যের দ্বারা চিত্রিত করা হয়েছে। মুসা শেষ পর্যন্ত মাদিয়ানের একটি মরূদ্যানে পৌঁছাতে সক্ষম হলেন, কিন্তু তিনি ছিলেন পথশ্রমে ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত। তিনি তাঁর আজন্ম পরিচিত শৈশব , কৈশর ও যৌবনের মিশরকে ত্যাগ করেন দুর্যোগ ও দুর্ভাবনার মধ্যে। মানসিক দুশ্চিন্তা ও ভয়ে তিনি অনিশ্চিতের পথে পা বাড়ান , শুধু একমাত্র নির্ভরশীলতা ছিলো আল্লাহ্‌র উপরে। তিনি পথশ্রমে ছিলেন তৃষ্ণার্ত, সুতারাং স্বাভাবিকভাবে তিনি পানি পান করার জন্য আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু কূপে তখন দুজন রাখাল তাদের পশুপালকে পানি পান করাচ্ছিল। নূতন আগুন্তক হিসাবে তাদের সরিয়ে দেয়া ঠিক নয়। সুতারাং মুসা গাছের ছায়াতে তাদের কাজ শেষ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে মনস্ত করেন। এ সময়ে তিনি লক্ষ্য করেন যে দুজন তরুণী কুমারী তাদের পশুপাল নিয়ে অপেক্ষা করছে তাদের পশুদের পানি পান করানোর জন্য। রাখালদের সরিয়ে তাদের পশুদের স্থান করে নেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব ছিলো না। এই কথা শুনে মুসার পৌরুষ জাগরিত হয়ে উঠলো। তিনি তরুণীদের পশুপালকে নিয়ে কূপের ধারে জায়গা করে নিলেন এবং তাদের পানি পান করালেন এবং পুণরায় গাছের ছায়াতে বিশ্রাম করতে লাগলেন। এখানে মুসার চরিত্রের যে মহৎ দিক উম্মোচিত হলো তা হচ্ছে দুর্বলের প্রতি সব সময়েই তাঁর হাত ছিলো প্রসারিত। মিশর থেকে বিতাড়িত হওয়ার মূলেও ছিলো সেই এক কাহিনী। এই আয়াত ও পূর্ববর্তী আয়াতে আমরা দেখি মুসা সর্বদা সকল অবস্থায় আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ কামনা করেছেন।

এই আয়াতে তরুণীদ্বয় একটি মাত্র বাক্য , “Abu na Shaikhun Kabirun” অর্থাৎ “আমাদের পিতা অতিবৃদ্ধ” বাক্যটি দ্বারা মনের বিরাট ভাব প্রকাশ করেছে। তারা বলতে চেয়েছে যে তাদের পিতা অতি -বৃদ্ধ হওয়ার দরুণ পশুপালকে নিয়ে আসতে পারে নাই। সে কারণে তার কাজ আমাদের করতে হচ্ছে। আমাদের পক্ষে এসব পুরুষদের সরিয়ে জায়গা করা সম্ভব নয়।

অতঃপর মূসা তাদের জন্তুদেরকে পানি পান করালেন। অতঃপর তিনি ছায়ার দিকে সরে গেলেন এবং বললেন, হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ নাযিল করবে, আমি তার মুখাপেক্ষী।
So he watered (their flocks) for them, then he turned back to shade, and said: ”My Lord! Truly, I am in need of whatever good that You bestow on me!”

فَسَقَى لَهُمَا ثُمَّ تَوَلَّى إِلَى الظِّلِّ فَقَالَ رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
Fasaqa lahuma thumma tawalla ila alththilli faqala rabbi innee lima anzalta ilayya min khayrin faqeerun

YUSUFALI: So he watered (their flocks) for them; then he turned back to the shade, and said:”O my Lord! truly am I in (desperate) need of any good that Thou dost send me!”
PICKTHAL: So he watered (their flock) for them. Then he turned aside into the shade, and said: My Lord! I am needy of whatever good Thou sendest down for me.
SHAKIR: So he watered (their sheep) for them, then went back to the shade and said: My Lord! surely I stand in need of whatever good Thou mayest send down to me.
KHALIFA: He watered for them, then turned to the shade, saying, “My Lord, whatever provision you send to me, I am in dire need for it.”

২৪। সুতারাং মুসা তাদের [ মেষপালকে ] পানি পান করালো ; অতঃপর সে ছায়াতে ফিরে গিয়ে বললো , ” হে আমার প্রভু ! তোমার যে কোন অনুগ্রহের জন্য আমি প্রকৃতই [ ভীষণভাবে ] কাঙ্গাল। ” ৩৩৫২

৩৩৫২। কুমারীদ্বয় কৃতজ্ঞদৃষ্টি মুসার প্রতি নিক্ষেপ করে ওষ্ঠে মৃদু হাসির রেখা ফুটিয়ে প্রস্থান করলো। তাদের সেই দৃষ্টি , হাসি মুসার হৃদয়ে কি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করলো ? মুসা তাঁর তৃষ্ণা নিবারণ করে গাছের ছায়াতে বসে আল্লাহ্‌কে ধন্যবাদ দিলেন। কারণ সুন্দরী কুমারী তরুণীর হৃদয়ের কৃতজ্ঞতা তাঁকে প্রশান্তি এনে দিয়েছিলো। যদিও মুসা সে সময়ে ছিলেন একজন গৃহহীন, ভবঘুরে, কিন্তু তাঁর অশান্ত হৃদয় কারও কোমল স্পর্শের জন্য, সহানুভূতির জন্য হয়ে উঠেছিলো উম্মুখ। হৃদয়ের দিক থেকে এবং বিত্তের দিক থেকে তিনি সে সময়ে ছিলেন প্রায় ভিক্ষুকের সমকক্ষ। সুতারাং কুমারীদ্বয়ের হাসি ও কৃতজ্ঞতা তার কাছে মনে হয়েছিলো অনেক পাওয়া, এবং তিনি কৃতজ্ঞচিত্তে আল্লাহ্‌কে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। মুসার মনে হয়তো বা স্বপ্ন জেগে থাকবে, স্বচ্ছল বৃদ্ধ ব্যক্তি, বিশাল পশুপাল, সর্বপরি যার সুন্দরী নম্র কন্যাদ্বয় আছে, যেখানে সুখের এবং শান্তির কোনও অভাব নাই। যদিও তিনি ধারণা করেছিলেন যে তার মত ভিক্ষুকের পক্ষে এ স্বপ্ন বাতুলতা , সম্ভবতঃ তিনি আর কখনও তাদের দেখবেন না , কিন্তু এসব বাস্তব সত্য তাঁর তরুণ হৃদয়ের আবেগকে,স্বপ্নকে প্রতিহত করতে পারে নাই। হয়তো বা তিনি কল্পনায় স্বচ্ছল বৃদ্ধের সংসারে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত দেখতে পেয়েছিলেন, যে কারণে তিনি বলেছিলেন, ” তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করবে আমি তার কাঙ্গাল।” অবশ্য আল্লাহ্‌ তাঁর জন্য চরম বিস্ময় প্রস্তুত করে রেখেছিলেন।

অতঃপর বালিকাদ্বয়ের একজন লজ্জাজড়িত পদক্ষেপে তাঁর কাছে আগমন করল। বলল, আমার পিতা আপনাকে ডাকছেন, যাতে আপনি যে আমাদেরকে পানি পান করিয়েছেন, তার বিনিময়ে পুরস্কার প্রদান করেন। অতঃপর মূসা যখন তাঁর কাছে গেলেন এবং সমস্ত বৃত্তান্ত বর্ণনা করলেন, তখন তিনি বললেন, ভয় করো না, তুমি জালেম সম্প্রদায়ের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছ।
Then there came to him one of the two women, walking shyly. She said: ”Verily, my father calls you that he may reward you for having watered (our flocks) for us.” So when he came to him and narrated the story, he said: ”Fear you not. You have escaped from the people who are Zâlimûn (polytheists, disbelievers, and wrong-doers).”

فَجَاءتْهُ إِحْدَاهُمَا تَمْشِي عَلَى اسْتِحْيَاء قَالَتْ إِنَّ أَبِي يَدْعُوكَ لِيَجْزِيَكَ أَجْرَ مَا سَقَيْتَ لَنَا فَلَمَّا جَاءهُ وَقَصَّ عَلَيْهِ الْقَصَصَ قَالَ لَا تَخَفْ نَجَوْتَ مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
Fajaat-hu ihdahuma tamshee AAala istihya-in qalat inna abee yadAAooka liyajziyaka ajra ma saqayta lana falamma jaahu waqassa AAalayhi alqasasa qala la takhaf najawta mina alqawmi alththalimeena

YUSUFALI: Afterwards one of the (damsels) came (back) to him, walking bashfully. She said: “My father invites thee that he may reward thee for having watered (our flocks) for us.” So when he came to him and narrated the story, he said: “Fear thou not: (well) hast thou escaped from unjust people.”
PICKTHAL: Then there came unto him one of the two women, walking shyly. She said: Lo! my father biddeth thee, that he may reward thee with a payment for that thou didst water (the flock) for us. Then, when he came unto him and told him the (whole) story, he said: Fear not! Thou hast escaped from the wrongdoing folk.
SHAKIR: Then one of the two women came to him walking bashfully. She said: My father invites you that he may give you the reward of your having watered for us. So when he came to him and gave to him the account, he said: Fear not, you are secure from the unjust people.
KHALIFA: Soon, one of the two women approached him, shyly, and said, “My father invites you to pay you for watering for us.” When he met him, and told him his story, he said, “Have no fear. You have been saved from the oppressive people.”

সূরা কাসাস

২৫। তৎপর [তরুণীদ্বয়ের ] একজন লজ্জ্বা-জড়িত চরণে তাঁর নিকট ফিরে এলো। সে বলেছিলো, ” আমার পিতা আপনাকে আমন্ত্রণ করেছেন; আমাদের [ মেষপালকে ] আমাদের পক্ষ থেকে পানি পান করানোর পারিশ্রমিক দেয়ার জন্য ৩৩৫৩।” সুতারাং যখন সে [ মুসা ] তার নিকট এসে সকল বৃত্তান্ত বর্ণনা করলো, সে বললো, ” ভয় পেয়ো না; তুমি অত্যাচারী সম্প্রদায়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছ।” ৩৩৫৪

৩৩৫৩। মুসা যখন সবেমাত্র বিশ্রাম নিচ্ছিলেন , সে সময়ে কুমারীদ্বয়ের একজন লজ্জাবনত চরণে মুসার নিকট আগমন করলেন এবং বিণীতভাবে বললেন : ” আপনি আমাদের জন্য যা করেছেন, তার জন্য আমার পিতা আপনার কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জন্য এবং পারিশ্রমিক দেবার জন্য ডেকেছেন।”

৩৩৫৪। হযরত মুসা এই আমন্ত্রণকে সুস্বাগত জানালেন – বিশেষভাবে আমন্ত্রণের র্বাতা যিনি বহন করে এনেছিলেন। হযরত মুসার সে সময়কার অবস্থার তুলনায় এর থেকে সুখবর আর কি বা হতে পারে ? মুসা বৃদ্ধ লোকটির আমন্ত্রণ রক্ষা করতে গেলেন। নিমন্ত্রণ কর্তা ছিলেন সমৃদ্ধ এবং এক সুশৃঙ্খল সুখী পরিবারের মালিক। পরিবারের সকল সদস্য ও সদস্যারা পরস্পর পরস্পরের প্রতি স্নেহ ও ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ। তাদের পরস্পরের প্রতি ছিলো বিশ্বাস ও আনুগত্য। সুতারাং তারা যখন নব আগুন্তকের সম্বন্ধে বর্ণনা করেছিলো, তাদের বর্ণনা শুনে তাদের পিতা মুসা সম্বন্ধে পূর্বেই ভালো ধারণা পোষণ করেন এবং তাঁকে তাদের গৃহে সাদর অভ্যর্থনা করেন। আল্লাহ্‌র পরিকল্পনা সাধারণ মানুষের অগম্য। হয়তো নিমন্ত্রণ পাওয়ার পরে মুসার জগৎ রঙ্গীন স্বপ্নে ভরে যায়। কন্যাদ্বয়ের পিতাকে তিনি মহৎভাবে নিজ হৃদয়ে অঙ্কিত করতে থাকেন এবং কন্যাদ্বয়কে দেবীর ন্যায় হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত করেন। এ সমস্তই আল্লাহ্‌র পরিকল্পনা। ফলে বৃদ্ধ পিতা ও মুসা দেখা হওয়া মাত্র তৎক্ষণাত বন্ধুতে পরিণত হয়ে যায়। মুসা তাঁকে তাঁর জীবন কাহিনী বিবৃত করেন – তিনি কে ছিলেন, কিভাবে তিনি এখানে এলেন, কি পরিপ্রেক্ষিতে তিনি জন্মভূমি মিশর ত্যাগে বাধ্য হন – তার সকল দুর্ভাগ্যের পূর্ণ বিবরণ তিনি বৃদ্ধ লোককে বর্ণনা করেন। সম্ভবতঃ বৃদ্ধের সমগ্র পরিবার এই কাহিনী শ্রবণে অংশগ্রহণ করে। অবশ্যই সেখানে বৃদ্ধের কন্যাদ্বয়ও উপস্থিত ছিলো। আমরা কল্পনা করতে পারি এই সুঠাম সুদর্শন যুবকের দুঃসাহসিক অভিযাত্রার কাহিনী শুনতে শুনতে তরুণীদ্বয়ের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিলো। চক্ষু বিস্ফোরিত হয়ে যাচ্ছিল এবং তাদের হৃদয় এই যুবকের জন্য সশ্রদ্ধ ভক্তি ও অনুকম্পাতে ভরে যাচ্ছিল। সম্ভবতঃ যে তরুণীটি তাঁকে সঙ্গে করে গৃহে নিয়ে এসেছিলো তাঁর হৃদয়ে এই যুবকের জন্য পূর্বরাগের মৃদু ছোঁয়াতে ভরে যাচ্ছিল।

মোট কথা সমগ্র পরিবার সাদর অভ্যর্থনা দ্বারা মুসাকে তাদের পরিবারে গ্রহণ করে। মুসা সমগ্র পরিবারের হৃদয় জয় করতে সক্ষম হন। ফলে পরিবারের প্রধান বৃদ্ধ ব্যক্তিটি মুসাকে তাঁর আতিথেয়তা গ্রহণের আমন্ত্রণ জানান এবং বলেন যে, মুসা এখানে সম্পূর্ণ নিরাপদ। বৃদ্ধ পরিবার প্রধান মুসাকে আরও বলেন যে, ” অত্যাচারী জালিমদের মাঝে কে বাস করতে চায় ? এটা খুব ভালো যে তুমি জালিমদের কবল থেকে বেঁচে গেছ।” বৃদ্ধের জীবনের বহু অভিজ্ঞতাই তাকে এই সিদ্ধান্তে আসতে সাহায্য করে।

বালিকাদ্বয়ের একজন বলল পিতাঃ তাকে চাকর নিযুক্ত করুন। কেননা, আপনার চাকর হিসেবে সে-ই উত্তম হবে, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।
And said one of them (the two women): ”O my father! Hire him! Verily, the best of men for you to hire is the strong, the trustworthy.”

قَالَتْ إِحْدَاهُمَا يَا أَبَتِ اسْتَأْجِرْهُ إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ
Qalat ihdahuma ya abati ista/jirhu inna khayra mani ista/jarta alqawiyyu al-ameenu

YUSUFALI: Said one of the (damsels): “O my (dear) father! engage him on wages: truly the best of men for thee to employ is the (man) who is strong and trusty”….
PICKTHAL: One of the two women said: O my father! Hire him! For the best (man) that thou canst hire in the strong, the trustworthy.
SHAKIR: Said one of them: O my father! employ him, surely the best of those that you can employ is the strong man, the faithful one.
KHALIFA: One of the two women said, “O my father, hire him. He is the best one to hire, for he is strong and honest.”

২৬। যুবতীদের একজন বলেছিলো, ” হে আমার [ প্রিয় ] পিতা ! তুমি তাকে মজুর হিসেবে নিয়োগ কর ৩৩৫৫। কারণ নিয়োগ করার জন্য তোমার জন্য উত্তম হবে সেই [ ব্যক্তি ] সে শক্তিশালী , বিশ্বস্ত “৩৩৫৬।

৩৩৫৫। এভাবেই গল্প গুজবে সময় অতিক্রান্ত হয়। কিন্তু অতিথি তো আর দীর্ঘদিন থাকতে পারে না। কিন্তু তারা অনুভব করছিলো এরূপ নীতিবান, শক্তিশালী , বিশ্বস্ত ও মহৎ হৃদয়ের যুবক তাদের পরিবারের জন্য কত প্রয়োজন। তাদের সকলের মনেই অনুরিত হচ্ছিল যে, যদি তাকে চিরদিনের জন্য পরিবারের সদস্য করা যেতো। অবশেষে যে তরুণীটি তাঁর হৃদয়কে ইতিমধ্যেই মুসার প্রতি সমর্পন করে ফেলেছিলো , সে তার না বলা কথাটি অন্যভাবে প্রকাশ করে। সে বলে মুসাকে তো পশু চারণের জন্য মজুর হিসেবে নিযুক্ত করা যায়। কারণ তাদের পিতা বৃদ্ধ, তাদের পরিবারে শক্তিশালী পুরুষ অনুপস্থিত। সুতারাং এই শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত যুবক তাদের সে অভাব পূরণ করবে।

৩৩৫৬। “শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত ” – হযরত মুসা পরিবারটির কাছে নিজেকে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত বলে প্রমাণ করতে পেরেছিলেন। আর এই বিশেষ গুণাবলী যা যে কোন তরুণীদের অত্যন্ত পছন্দনীয়।

পিতা মূসাকে বললেন, আমি আমার এই কন্যাদ্বয়ের একজনকে তোমার সাথে বিবাহে দিতে চাই এই শর্তে যে, তুমি আট বছর আমার চাকুরী করবে, যদি তুমি দশ বছর পূর্ণ কর, তা তোমার ইচ্ছা। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না। আল্লাহ চাহেন তো তুমি আমাকে সৎকর্মপরায়ণ পাবে।
He said: ”I intend to wed one of these two daughters of mine to you, on condition that you serve me for eight years, but if you complete ten years, it will be (a favour) from you. But I intend not to place you under a difficulty. If Allâh will, you will find me one of the righteous.”

قَالَ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُنكِحَكَ إِحْدَى ابْنَتَيَّ هَاتَيْنِ عَلَى أَن تَأْجُرَنِي ثَمَانِيَ حِجَجٍ فَإِنْ أَتْمَمْتَ عَشْرًا فَمِنْ عِندِكَ وَمَا أُرِيدُ أَنْ أَشُقَّ عَلَيْكَ سَتَجِدُنِي إِن شَاء اللَّهُ مِنَ الصَّالِحِينَ
Qala innee oreedu an onkihaka ihda ibnatayya hatayni AAala an ta/juranee thamaniya hijajin fa-in atmamta AAashran famin AAindika wama oreedu an ashuqqa AAalayka satajidunee in shaa Allahu mina alssaliheena

YUSUFALI: He said: “I intend to wed one of these my daughters to thee, on condition that thou serve me for eight years; but if thou complete ten years, it will be (grace) from thee. But I intend not to place thee under a difficulty: thou wilt find me, indeed, if Allah wills, one of the righteous.”
PICKTHAL: He said: Lo! I fain would marry thee to one of these two daughters of mine on condition that thou hirest thyself to me for (the term of) eight pilgrimages. Then if thou completest ten it will be of thine own accord, for I would not make it hard for thee. Allah willing, thou wilt find me of the righteous.
SHAKIR: He said: I desire to marry one of these two daughters of mine to you on condition that you should serve me for eight years; but if you complete ten, it will be of your own free will, and I do not wish to be hard to you; if Allah please, you will find me one of the good.
KHALIFA: He said, “I wish to offer one of my two daughters for you to marry, in return for working for me for eight pilgrimages; if you make them ten, it will be voluntary on your part. I do not wish to make this matter too difficult for you. You will find me, GOD willing, righteous.”

২৭। সে মুসাকে বলেছিলো, ” আমি আমার এই কন্যাদ্বয়ের একজনকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে চাই, এই শর্তে যে, তুমি [ মোহার হিসেবে ] আট বৎসর আমার চাকুরী করবে ৩৩৫৭। আর যদি দশ বৎসর পূর্ণ করতে চাও তবে তা হবে তোমার পক্ষ থেকে [ অনুগ্রহ ]। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না। আল্লাহ্‌ ইচ্ছা করলে তুমি আমাকে সৎলোক হিসেবে পাবে। ”

৩৩৫৭। বেশ কিছুদিন গত হয়েছে; মুসা পরিবারের মধ্যে, নিজস্ব স্থান করে নিয়েছেন তাঁর নিজস্ব গুণাবলী দ্বারা। এ সময়েই বৃদ্ধ পিতা বিবাহের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। মুসা ছিলেন পলাতক, সুতারাং তাঁর পক্ষে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা সম্ভব নয়, বিশেষতঃ যখন ধন-সম্পদ ও স্থায়ী নিবাসী হিসেবে কন্যাপক্ষের অবস্থান মুসার বহু উর্দ্ধে। বৃদ্ধ পিতার প্রস্তাব ছিলো মুসা তার যে কোনও একটি কন্যাকে বিবাহ করতে পারে , বিনিময়ে, তাঁকে কমপক্ষে আট বছর তাঁর পশুচারণের কাজ করতে হবে। অবশ্য মুসা ইচ্ছা করলে দশ বছরও থাকতে পারে। কারণ মুসার কন্যার পিতাকে কোনও যৌতুক দেবার ক্ষমতা ছিলো না। সুতারাং যৌতুকের পরিবর্তে এই সময় পর্যন্ত কাজ করে যাওয়া তাঁর জন্য যথেষ্ট হবে। অবশ্য কোন কন্যাটিকে মুসা পরিণয় সুত্রে আবদ্ধ করবেন, তা তরুণ হৃদয় দুটি আল্লাহ্‌কে সাক্ষী হিসেবে আবেদন করলেন। বৃদ্ধ পিতা জামাতা হিসেবে মুসার যোগ্যতা জানতেন। আর এও জানতেন যে মুসা অত্যন্ত বিশ্বস্ত , কখনও কথার বরখেলাপ হবে না। সুতারাং তিনি মুসাকে আস্বস্ত করলেন যে, তিনি মনিব হিসেবে মুসার প্রতি কঠোর হবেন না এবং মুসার অসহায়ত্বের সুযোগ গ্রহণ করবেন না। মুসার অনুপোযোগী কোনও কাজের অনুরোধ করবেন না। এ ভাবেই মুসার নূতন জীবন শুরু হয়। এ হচ্ছে মুসার স্বল্পকালীন ” শিক্ষানবীশ কাল।” রাজকীয় জীবন থেকে সাধারণ গৃহী জীবনে উত্তোরণের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ তাকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে নিচ্ছিলেন।

মূসা বললেন, আমার ও আপনার মধ্যে এই চুক্তি স্থির হল। দু’টি মেয়াদের মধ্য থেকে যে কোন একটি পূর্ণ করলে আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকবে না। আমরা যা বলছি, তাতে আল্লাহর উপর ভরসা।
He [Mûsa (Moses)] said: ”That (is settled) between me and you whichever of the two terms I fulfill, there will be no injustice to me, and Allâh is Surety over what we say.”

قَالَ ذَلِكَ بَيْنِي وَبَيْنَكَ أَيَّمَا الْأَجَلَيْنِ قَضَيْتُ فَلَا عُدْوَانَ عَلَيَّ وَاللَّهُ عَلَى مَا نَقُولُ وَكِيلٌ
Qala thalika baynee wabaynaka ayyama al-ajalayni qadaytu fala AAudwana AAalayya waAllahu AAala ma naqoolu wakeelun

YUSUFALI: He said: “Be that (the agreement) between me and thee: whichever of the two terms I fulfil, let there be no ill-will to me. Be Allah a witness to what we say.”
PICKTHAL: He said: That (is settled) between thee and me. Whichever of the two terms I fulfil, there will be no injustice to me, and Allah is Surety over what we say.
SHAKIR: He said: This shall be (an agreement) between me and you; whichever of the two terms I fulfill, there shall be no wrongdoing to me; and Allah is a witness of what we say.
KHALIFA: He said, “It is an agreement between me and you. Whichever period I fulfill, you will not be averse to either one. GOD is the guarantor of what we said.”

২৮। মুসা বলেছিলো, ” আমার ও আপনার মধ্যে এই [ চুক্তি ] রইল। এই দুটি মেয়াদের যে কোনটি আমি পূর্ণ করলে আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকবে না। আমরা যে বিষয়ে কথা বলছি আল্লাহ্‌ তার সাক্ষী ৩৩৫৮।”

৩৩৫৮। পিতৃতন্ত্র সমাজে কন্যার পিতাকে যৌতুক প্রদান করা খুব একটা নূতন বা অভিনব কিছু নয়। তবে মুসাকে গৃহী করার মাধ্যমে আল্লাহ্‌ মানুষকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তা হচ্ছে :

১) যিনি আল্লাহ্‌র ভবিষ্যতে নবী হবেন, তাকেও সাধারণ মানুষের মত দৈনন্দিক জীবনের উত্থান পতনের মাধ্যমে, আবেগ অনুভূতি অনুভবের মাঝে জীবনের পথকে অতিক্রম করতে হয়। তবে সাধারণ লোকদের থেকে তাঁর পার্থক্য হবে তিনি জীবনের এই বন্ধুর পথ অতিক্রম করেন সৌন্দর্যমন্ডিত ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ভাবে , যা সাধারণ লোকের পক্ষে সম্ভব নয়।

২) বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর প্রেম ও ভালোবাসার সম্পর্ক স্থাপিত হয় , দৈহিক ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত দেহাতীত ভালোবাসাতে রূপান্তরিত হয়। এ ভাবেই আধ্যাত্মিক ভালোবাসার সন্ধান পাওয়া যায় যা মুসার জন্য অপেক্ষা করছিলো। মুসার জন্য ভবিষ্যতে অপেক্ষা করছিলো সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক জগতের মুক্তি ও সম্মান। এখানে শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে নারীর ভালোবাসা কোনও প্রলোভনের ফাঁদ নয়, নারীকে সাধারণত যেভাবে চিত্রায়িত করা হয়। নারী হতে পারে পুরুষের সহকর্মী, যে তাঁর সহমর্মিতায় ভালোবাসাতে স্বামীকে নির্দ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে, ঠিক যেমনটি আমাদের রসুলের [ সা ] জীবনে ছিলো বিবি খাদিজার ভূমিকা। নারীর এই ভূমিকা মুসার জীবনে নবুয়ত পাওয়ার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে প্রয়োজন ছিলো। পৃথিবীতে যে কোন মহৎ ও কল্যাণকর কার্য নারী পুরুষের সম্মিলীত প্রয়াসেই করা সম্ভব।

এই বার্তাকেই কবি নজরুল এ ভাবে ব্যক্ত করেছেন,

” বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর
অর্দ্ধেক তার সৃজিয়াছে নারী, অর্দ্ধেক তার নর। ”

আল্লাহ্‌র নবীদের জীবনীর মাধ্যমে নারীর এই ভূমিকাকেই তুলে ধরা হয়েছে। যারা ধর্মের নামে নারীকে পৃথিবীর কর্মশালা থেকে বিতাড়িত করে বদ্ধ ঘরে আবদ্ধ করতে চায় তারা স্রষ্টার এই অমোঘ নিয়মকেই অস্বীকার করে থাকে।

অতঃপর মূসা (আঃ) যখন সেই মেয়াদ পূর্ণ করল এবং সপরিবারে যাত্রা করল, তখন সে তুর পর্বতের দিক থেকে আগুন দেখতে পেল। সে তার পরিবারবর্গকে বলল, তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুন দেখেছি। সম্ভবতঃ আমি সেখান থেকে তোমাদের কাছে কোন খবর নিয়ে আসতে পারি অথবা কোন জ্বলন্ত কাষ্ঠখন্ড আনতে পারি, যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।
Then, when Mûsa (Moses) had fulfilled the term, and was travelling with his family, he saw a fire in the direction of Tûr (Mount). He said to his family: ”Wait, I have seen a fire; perhaps I may bring to you from there some information, or a burning fire-brand that you may warm yourselves.”

فَلَمَّا قَضَى مُوسَىالْأَجَلَ وَسَارَ بِأَهْلِهِ آنَسَ مِن جَانِبِ الطُّورِ نَارًا قَالَ لِأَهْلِهِ امْكُثُوا إِنِّي آنَسْتُ نَارًا لَّعَلِّي آتِيكُم مِّنْهَا بِخَبَرٍ أَوْ جَذْوَةٍ مِنَ النَّارِ لَعَلَّكُمْ تَصْطَلُونَ
Falamma qada moosa al-ajala wasara bi-ahlihi anasa min janibi alttoori naran qala li-ahlihi omkuthoo innee anastu naran laAAallee ateekum minha bikhabarin aw jathwatin mina alnnari laAAallakum tastaloona

YUSUFALI: Now when Moses had fulfilled the term, and was travelling with his family, he perceived a fire in the direction of Mount Tur. He said to his family: “Tarry ye; I perceive a fire; I hope to bring you from there some information, or a burning firebrand, that ye may warm yourselves.”
PICKTHAL: Then, when Moses had fulfilled the term, and was travelling with his housefolk, he saw in the distance a fire and said unto his housefolk: Bide ye (here). Lo! I see in the distance a fire; peradventure I shall bring you tidings thence, or a brand from the fire that ye may warm yourselves.
SHAKIR: So when Musa had fulfilled the term, and he journeyed with his family, he perceived on this side of the mountain a fire. He said to his family: Wait, I have seen a fire, maybe I will bring to you from it some news or a brand of fire, so that you may warm yourselves.
KHALIFA: When he had fulfilled his obligation, he traveled with his family (towards Egypt). He saw from the slope of Mount Sinai a fire. He said to his family, “Stay here. I have seen a fire. Maybe I can bring to you news, or a portion of the fire to warm you.”

রুকু – ৪

২৯। এখন মুসা যখন তার মেয়াদকাল পূর্ণ করলো সে সপরিবারে যাত্রা শুরু করলো ৩৩৫৯। সে তূর পর্বতের দিক থেকে এক আগুন দেখতে পেলো। সে তাঁর পরিবারকে বলেছিলো , ” তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুন দেখছি, আমি আশা করি সেখান থেকে তোমাদের জন্য [ পথের ] খবর আনতে পারবো কিংবা একখন্ড জ্বলন্ত কাষ্ঠখন্ড আনতে পারবো যাতে তোমরা নিজেদের উষ্ণ করতে পার ৩৩৬০।”

৩৩৫৯। এতক্ষণ বর্ণনা করা হয়েছে মরুভূমির মাঝে মুসার বিভিন্ন ব্যক্তির সংস্পর্শে সামাজিক জীবন যাত্রা। এখন তাঁর মহত্তর ও বৃহত্তর মর্যদার জন্য প্রস্তুতি কাজ সম্পন্ন হয়েছে , এখন তিনি ঐশ্বরিক দায়িত্বের দারপ্রান্তে এরই প্রেক্ষাপটে এই আয়াতটি অবতীর্ণ। এই আয়াতকে তুলনা করা চলে [ ২৭ : ৭-১৪ ] আয়াতসমূহের সাথে।

কিন্তু সেখানের প্রেক্ষাপট ছিলো আলাদা যা পূর্ববর্তী আয়াত সমূহের টিকাতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে – এখানে তা আর পুণরাবৃত্তি করা হলো না।

৩৩৬০। এখানে লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে সুখী পরিবারের প্রধান হিসেবে মুসার, পরিবারের সুখের জন্য চিন্তা ভাবনা, কি ভাবে নবুয়তের দায়িত্বের জন্য রূপান্তরিত হয়ে যায়।

যখন সে তার কাছে পৌছল, তখন পবিত্র ভূমিতে অবস্থিত উপত্যকার ডান প্রান্তের বৃক্ষ থেকে তাকে আওয়াজ দেয়া হল, হে মূসা! আমি আল্লাহ, বিশ্ব পালনকর্তা।
So when he reached it (the fire), he was called from the right side of the valley, in the blessed place from the tree: ”O Mûsa (Moses)! Verily! I am Allâh, the Lord of the ’Alamîn (mankind, jinns and all that exists)!

فَلَمَّا أَتَاهَا نُودِي مِن شَاطِئِ الْوَادِي الْأَيْمَنِ فِي الْبُقْعَةِ الْمُبَارَكَةِ مِنَ الشَّجَرَةِ أَن يَا مُوسَى إِنِّي أَنَا اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ
Falamma ataha noodiya min shati-i alwadi al-aymani fee albuqAAati almubarakati mina alshshajarati an ya moosa innee ana Allahu rabbu alAAalameena

YUSUFALI: But when he came to the (fire), a voice was heard from the right bank of the valley, from a tree in hallowed ground: “O Moses! Verily I am Allah, the Lord of the Worlds….
PICKTHAL: And when he reached it, he was called from the right side of the valley in the blessed field, from the tree: O Moses! Lo! I, even I, am Allah, the Lord of the Worlds;
SHAKIR: And when he came to it, a voice was uttered from the right side of the valley in the blessed spot of the bush, saying: O Musa! surely I am Allah, the Lord of the worlds.
KHALIFA: When he reached it, he was called from the edge of the right side of the valley, in the blessed spot where the burning bush was located: “O Moses, this is Me. GOD; Lord of the universe.

৩০। কিন্তু যখন সে [ আগুনের ] কাছে এলো, তখন উপত্যকার দক্ষিণ পার্শ্বের পবিত্র ভূমিস্থিত এক বৃক্ষের মধ্য থেকে আওয়াজ শোনা গেলো : ” হে মুসা ! আমিই আল্লাহ্‌ , জগতসমূহের প্রভু।” ৩৩৬১

৩৩৬১। এই বৃক্ষের বর্ণনা আছে [ ২৭ : ৮ ] আয়াতে এবং টিকা ৩২৪৫। বাইবেলে এ বৃক্ষের বর্ণনা আছে ,Bush burning but not consumed” [ Exod iii2 ] হিসেবে।

আরও বলা হল, তুমি তোমার লাঠি নিক্ষেপ কর। অতঃপর যখন সে লাঠিকে সর্পের ন্যায় দৌড়াদৌড়ি করতে দেখল, তখন সে মুখ ফিরিয়ে বিপরীত দিকে পালাতে লাগল এবং পেছন ফিরে দেখল না। হে মূসা, সামনে এস এবং ভয় করো না। তোমার কোন আশংকা নেই।
”And throw your stick!” But when he saw it moving as if it were a snake, he turned in flight, and looked not back. (It was said): ”O Mûsa (Moses)! Draw near, and fear not. Verily, you are of those who are secure.

وَأَنْ أَلْقِ عَصَاكَ فَلَمَّا رَآهَا تَهْتَزُّ كَأَنَّهَا جَانٌّ وَلَّى مُدْبِرًا وَلَمْ يُعَقِّبْ يَا مُوسَى أَقْبِلْ وَلَا تَخَفْ إِنَّكَ مِنَ الْآمِنِينَ
Waan alqi AAasaka falamma raaha tahtazzu kaannaha jannun walla mudbiran walam yuAAaqqib ya moosa aqbil wala takhaf innaka mina al-amineena

YUSUFALI: “Now do thou throw thy rod!” but when he saw it moving (of its own accord) as if it had been a snake, he turned back in retreat, and retraced not his steps: O Moses!” (It was said), “Draw near, and fear not: for thou art of those who are secure.
PICKTHAL: Throw down thy staff. And when he saw it writhing as it had been a demon, he turned to flee headlong, (and it was said unto him): O Moses! Draw nigh and fear not. Lo! thou art of those who are secure.
SHAKIR: And saying: Cast down you staff. So when he saw it in motion as if it were a serpent, he turned back retreating, and did not return. O Musa! come forward and fear not; surely you are of those who are secure;
KHALIFA: “Throw down your staff.” When he saw it moving like a demon, he turned around and fled. “O Moses, come back; do not be afraid. You are perfectly safe.

৩১। ” এখন তুমি তোমার লাঠি নিক্ষেপ কর।” কিন্তু যখন সে দেখলো তা [ স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে] সর্পের ন্যায় নড়াচড়া করছে, সে [ভয়ে] পিছিয়ে এলো এবং আর ফিরে তাকালো না। আহবান এলোঃ ” হে মুসা; এগিয়ে এসো, ভয় করো না। কারণ যারা নিরাপত্তা লাভ করে তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত। ৩৩৬২

৩৩৬২। এই আয়াতটির সাধারণ অর্থ এই দাড়ায় যে, আল্লাহ্‌ মুসাকে বলেছেনঃ ” হে মুসা তুমি ভয় পেয়ো না, এটা তোমার জন্য সাপ নয়, ফেরাউনের জন্য সাপ , তুমি নিরাপদ। ” কিন্তু এই বাক্যটি গভীর অর্থবোধক। আল্লাহ্‌ মুসাকে উচ্চতর মর্যদাসম্পন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত করবেন, আল্লাহ্‌র নবী হিসেবে তাকে দায়িত্ব দেয়া হবে। তাঁকে মিশরবাসীদের ঘৃণা ও প্রতারণার কৌশলকে মোকাবিলা করতে হবে। সুতারাং মুসাকে সে জন্য ঈমানের নিরাপত্তা দান করা হয়েছে। জীবনের সকল বিপদ -বিপর্যয়ের মাঝে আল্লাহ্‌ হবেন তাঁর পথ প্রদর্শক তাঁর রক্ষক। কারণ তিনি এখন আল্লাহ্‌র কাজে, আল্লাহ্‌র সেবার জন্য নিবেদিত।

তোমার হাত বগলে রাখ। তা বের হয়ে আসবে নিরাময় উজ্জ্বল হয়ে এবং ভয় হেতু তোমার হাত তোমার উপর চেপে ধর। এই দু’টি ফেরাউন ও তার পরিষদবর্গের প্রতি তোমার পালনকর্তার তরফ থেকে প্রমাণ। নিশ্চয় তারা পাপাচারী সম্প্রদায়।
”Put your hand in your bosom, it will come forth white without a disease, and draw your hand close to your side to be free from fear (that which you suffered from the snake, and also by that your hand will return to its original state). these are two Burhân (signs, miracles, evidences, proofs) from your Lord to Fir’aun (Pharaoh) and his chiefs. Verily, they are the people who are Fâsiqûn (rebellious, disobedient to Allâh).

اسْلُكْ يَدَكَ فِي جَيْبِكَ تَخْرُجْ بَيْضَاء مِنْ غَيْرِ سُوءٍ وَاضْمُمْ إِلَيْكَ جَنَاحَكَ مِنَ الرَّهْبِ فَذَانِكَ بُرْهَانَانِ مِن رَّبِّكَ إِلَى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ
Osluk yadaka fee jaybika takhruj baydaa min ghayri soo-in waodmum ilayka janahaka mina alrrahbi fathanika burhanani min rabbika ila firAAawna wamala-ihi innahum kanoo qawman fasiqeena

YUSUFALI: “Move thy hand into thy bosom, and it will come forth white without stain (or harm), and draw thy hand close to thy side (to guard) against fear. Those are the two credentials from thy Lord to Pharaoh and his Chiefs: for truly they are a people rebellious and wicked.”
PICKTHAL: Thrust thy hand into the bosom of thy robe it will come forth white without hurt. And guard thy heart from fear. Then these shall be two proofs from your Lord unto Pharaoh and his chiefs. Lo! they are evil-living folk.
SHAKIR: Enter your hand into the opening of your bosom, it will come forth white without evil, and draw your hand to yourself to ward off fear: so these two shall be two arguments from your Lord to Firon and his chiefs, surely they are a transgressing people.
KHALIFA: “Put your hand into your pocket; it will come out white without a blemish. Fold your wings and settle down from your fear. These are two proofs from your Lord, to be shown to Pharaoh and his elders; they have been wicked people.”

৩২। ” তোমার হাত বগলে রাখ, এবং ইহা শুভ্র সমুজ্জল রূপে বের হয়ে আসবে [ক্ষতি ছাড়াই ] ; এবং ভয় দূর করার জন্য তোমার হাত দুটি নিজের দুপাশে চেপে ধর ৩৩৬৩। এই দুটি তোমার প্রভুর প্রদত্ত প্রমাণ; ফেরাঊন ও তার পরিষদ বর্গের জন্য। প্রকৃতই তারা এক বিদ্রোহী ও দুষ্ট সম্প্রদায়।”

৩৩৬৩। ” হস্তদ্বয় নিজের দুপাশে চেপে ধর ” – অর্থাৎ নিজের বক্ষের উপরে স্থাপন করা। এই আয়াতে আল্লাহ্‌ মুসাকে বলেছেন যে, ভয় পেলে হস্তদ্বয় নিজের দিকে অর্থাৎ বুকের দিকে টেনে আনতে। এ যেনো ঠিক পাখী যে ভাবে উড়ন্ত অবস্থা থেকে তার ডানা নিজের দিকে টেনে আনে। যখন পাখী ওড়ে বা ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়, তখন তার ডানা বিস্তৃত থাকে। কিন্তু যখন পাখী নির্ভয়ে শান্তিতে থাকে, তখন তার ডানা গুটানো থাকে দুপাশে – এটা হচ্ছে পাখীর মনের শান্তির প্রতীক, নিরাপত্তার প্রতীক। দেখুন আয়াত [ ২০-২২ ]

মূসা বলল, হে আমার পালনকর্তা, আমি তাদের এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছি। কাজেই আমি ভয় করছি যে, তারা আমাকে হত্যা করবে।
He said: ”My Lord! I have killed a man among them, and I fear that they will kill me.

قَالَ رَبِّ إِنِّي قَتَلْتُ مِنْهُمْ نَفْسًا فَأَخَافُ أَن يَقْتُلُونِ
Qala rabbi innee qataltu minhum nafsan faakhafu an yaqtulooni

YUSUFALI: He said: “O my Lord! I have slain a man among them, and I fear lest they slay me.
PICKTHAL: He said: My Lord! Lo! I killed a man among them and I fear that they will kill me.
SHAKIR: He said: My Lord! surely I killed one of them, so I fear lest they should slay me;
KHALIFA: He said, “My Lord, I killed one of them, and I fear lest they kill me.

৩৩। সে বলেছিলো ” হে আমার প্রভু ; আমি উহাদের একজন মানুষকে হত্যা করেছি। ফলে আমি আশংকা করছি ওরা আমাকে হত্যা করবে ৩৩৬৪।

৩৩৬৪। আল্লাহ্‌ মুসাকে শুধুমাত্র লাঠিকে সাপে রূপান্তর হওয়ার ফলে যে ভয়, তাই থেকে আস্বস্ত করেন নাই, তিনি তাঁকে নূতন অপরিচিত ও পবিত্র পরিবেশের প্রভাব, তাঁর ভয় থেকেও আশ্বস্ত করেন। মুসার হৃদয়কে আল্লাহ্‌ তাঁর নিরাপত্তা দানে শক্তিশালী ও আশ্বস্ত করেন। কিন্তু নূতন দায়িত্ব লাভে মুসা ছিলো ভীত , তাঁর নিকট ভবিষ্যত ছিলো অস্পষ্ট। কারণ তাঁর দায়িত্ব ছিলো ফেরাউনের মুখোমুখি হওয়া। ফেরাউনের লোকদের হত্যার অপরাধে ফেরাউন তাঁকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। এরূপ পরিস্থিতিতে আল্লাহ্‌ মুসাকে ফেরাউনের নিকট যেতে আদেশ দিলেন এবং তাঁকে ও তাঁর পরিষদবর্গকে তিরষ্কার করতে হুকুম দিলেন। মানুষ হিসেবে প্রতিটি মানুষের দুর্বলতা থাকে। মুসারও তাঁর ভয় ও দুর্বলতা আল্লাহ্‌র নিকট নিবেদন করলেন, এবং লোকবলের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করলেন। আল্লাহ্‌র সাহায্য অদৃশ্যলোক থেকে আগত হয় – যা অত্যন্ত শক্তিশালী ও তুলনা হীন। তবুও মানবিক দুর্বলতার কারণে মুসা এরূপ সাহায্য বা লোকবলের জন্য প্রার্থনা করেন এবং আল্লাহ্‌ তা তৎক্ষণাত মঞ্জুর করেন। আল্লাহ্‌ মুসার ভাই হারুনকে মুসার সাহায্যের জন্য নিয়োজিত করেন।

আমার ভাই হারুণ, সে আমা অপেক্ষা প্রাঞ্জলভাষী। অতএব, তাকে আমার সাথে সাহায্যের জন্যে প্রেরণ করুন। সে আমাকে সমর্থন জানাবে। আমি আশংকা করি যে, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে।
”And my brother Hârûn (Aaron) he is more eloquent in speech than me so send him with me as a helper to confirm me. Verily! I fear that they will belie me.”

وَأَخِي هَارُونُ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّي لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِيَ رِدْءًا يُصَدِّقُنِي إِنِّي أَخَافُ أَن يُكَذِّبُونِ
Waakhee haroonu huwa afsahu minnee lisanan faarsilhu maAAiya rid-an yusaddiqunee innee akhafu an yukaththibooni

YUSUFALI: “And my brother Aaron – He is more eloquent in speech than I: so send him with me as a helper, to confirm (and strengthen) me: for I fear that they may accuse me of falsehood.”
PICKTHAL: My brother Aaron is more eloquent than me in speech. Therefor send him with me as a helper to confirm me. Lo! I fear that they will give the lie to me.
SHAKIR: And my brother, Haroun, he is more eloquent of tongue than I, therefore send him with me as an aider, verifying me: surely I fear that they would reject me.
KHALIFA: “Also, my brother Aaron is more eloquent than I. Send him with me as a helper to confirm and strengthen me. I fear lest they disbelieve me.”

৩৪। ” আমার ভাই হারুন আমার অপেক্ষা বাকপটু। সুতরাং সাহায্যকারী হিসেবে তাকে আমার সাথে পাঠাও ,আমাকে সমর্থন [ও শক্তিশালী ] করার জন্য। কেননা আশংকা করি যে, ওরা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে।”

৩৫। আল্লাহ বলেছিলেন,” আমি তোমার ভ্রাতার দ্বারা তোমার হাতকে শক্তিশালী করবো এবং তোমাদের উভয়কে কর্তৃত্ব দান করবো যেনো, ফেরাউনের লোকেরা তোমাদের স্পর্শ করতে সক্ষম না হয় ৩৩৬৫। তোমরা দুজনে এবং তোমাদের অনুসারীরা – তোমরা সকলে আমার নিদর্শনের সাহায্যে জয়লাভ করবে ৩৩৬৬।”

৩৩৬৫। “তোমাদের স্পর্শ করতে সক্ষম হবে না” আল্লাহ্‌ মুসাকে যে অত্যাশ্চার্য নিদর্শন সমূহ দ্বারা শক্তিশালী করেছেন , তাতে নিকটবর্তী হয়ে কেউ তাঁর ক্ষতি করতে পারবে না।

৩৩৬৬। এই লাইনটি সার্বজনীন, সকলের উদ্দেশ্যে, যারা সাধারণভাবে আল্লাহ্‌র অনুসারী তাদেরকে সম্বোধন করে বলা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে শুধু মুসা ও হারুণই নয়, যারাই আল্লাহ্‌র অনুসারী তারাই আল্লাহ্‌র ‘নিদর্শনের’ শক্তিতে শক্তিশালী হবে। নবী রসুলেরা অলৌকিক ঘটনা ঘটাতে পারেন। এখানে বলা হয়েছে যারা আন্তরিকভাবে নবী রসুলদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, সামান্য পরিমাণে হলেও তারাও সেরূপ ক্ষমতা প্রাপ্ত হবে জালেমদের উপরে। অলৌকিক ঘটনা মানুষের মনে প্রচন্ড প্রভাব ফেলতে পারে সত্য। কিন্তু আল্লাহ্‌র ক্ষমতার সেটাই সর্বোচ্চ স্বাক্ষর নয়। আল্লাহ্‌র ক্ষমতার সাক্ষর আমাদের চারিপাশেই ছড়ানো আছে।

আল্লাহ বললেন, আমি তোমার বাহু শক্তিশালী করব তোমার ভাই দ্বারা এবং তোমাদের প্রধান্য দান করব। ফলে, তারা তোমার কাছে পৌছাতে পারবে না। আমার নিদর্শনাবলীর জোরে তোমরা এবং তোমাদের অনুসারীরা প্রবল থাকবে।
Allâh said: ”We will strengthen your arm through your brother, and give you both power, so they shall not be able to harm you, with Our Ayât (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.), you two as well as those who follow you will be the victors.”

قَالَ سَنَشُدُّ عَضُدَكَ بِأَخِيكَ وَنَجْعَلُ لَكُمَا سُلْطَانًا فَلَا يَصِلُونَ إِلَيْكُمَا بِآيَاتِنَا أَنتُمَا وَمَنِ اتَّبَعَكُمَا الْغَالِبُونَ
Qala sanashuddu AAadudaka bi-akheeka wanajAAalu lakuma sultanan fala yasiloona ilaykuma bi-ayatina antuma wamani ittabaAAakuma alghaliboona

YUSUFALI: He said: “We will certainly strengthen thy arm through thy brother, and invest you both with authority, so they shall not be able to touch you: with Our Sign shall ye triumph,- you two as well as those who follow you.”
PICKTHAL: He said: We will strengthen thine arm with thy brother, and We will give unto you both power so that they cannot reach you for Our portents. Ye twain, and those who follow you, will be the winners.
SHAKIR: He said: We will strengthen your arm with your brother, and We will give you both an authority, so that they shall not reach you; (go) with Our signs; you two and those who follow you shall be uppermost.
KHALIFA: He said, “We will strengthen you with your brother, and we will provide you both with manifest authority. Thus, they will not be able to touch either one of you. With our miracles, the two of you, together with those who follow you, will be the victors.”

৩৪। ” আমার ভাই হারুন আমার অপেক্ষা বাকপটু। সুতরাং সাহায্যকারী হিসেবে তাকে আমার সাথে পাঠাও ,আমাকে সমর্থন [ও শক্তিশালী ] করার জন্য। কেননা আশংকা করি যে, ওরা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে।”

৩৫। আল্লাহ বলেছিলেন,” আমি তোমার ভ্রাতার দ্বারা তোমার হাতকে শক্তিশালী করবো এবং তোমাদের উভয়কে কর্তৃত্ব দান করবো যেনো, ফেরাউনের লোকেরা তোমাদের স্পর্শ করতে সক্ষম না হয় ৩৩৬৫। তোমরা দুজনে এবং তোমাদের অনুসারীরা – তোমরা সকলে আমার নিদর্শনের সাহায্যে জয়লাভ করবে ৩৩৬৬।”

৩৩৬৫। “তোমাদের স্পর্শ করতে সক্ষম হবে না” আল্লাহ্‌ মুসাকে যে অত্যাশ্চার্য নিদর্শন সমূহ দ্বারা শক্তিশালী করেছেন , তাতে নিকটবর্তী হয়ে কেউ তাঁর ক্ষতি করতে পারবে না।

৩৩৬৬। এই লাইনটি সার্বজনীন, সকলের উদ্দেশ্যে, যারা সাধারণভাবে আল্লাহ্‌র অনুসারী তাদেরকে সম্বোধন করে বলা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে শুধু মুসা ও হারুণই নয়, যারাই আল্লাহ্‌র অনুসারী তারাই আল্লাহ্‌র ‘নিদর্শনের’ শক্তিতে শক্তিশালী হবে। নবী রসুলেরা অলৌকিক ঘটনা ঘটাতে পারেন। এখানে বলা হয়েছে যারা আন্তরিকভাবে নবী রসুলদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, সামান্য পরিমাণে হলেও তারাও সেরূপ ক্ষমতা প্রাপ্ত হবে জালেমদের উপরে। অলৌকিক ঘটনা মানুষের মনে প্রচন্ড প্রভাব ফেলতে পারে সত্য। কিন্তু আল্লাহ্‌র ক্ষমতার সেটাই সর্বোচ্চ স্বাক্ষর নয়। আল্লাহ্‌র ক্ষমতার সাক্ষর আমাদের চারিপাশেই ছড়ানো আছে।

অতঃপর মূসা যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে পৌছল, তখন তারা বলল, এতো অলীক জাদু মাত্র। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে এ কথা শুনিনি।
Then when Mûsa (Moses) came to them with Our Clear Ayât (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.), they said: ”This is nothing but invented magic. Never did we hear of this among our fathers of old.”

فَلَمَّا جَاءهُم مُّوسَى بِآيَاتِنَا بَيِّنَاتٍ قَالُوا مَا هَذَا إِلَّا سِحْرٌ مُّفْتَرًى وَمَا سَمِعْنَا بِهَذَا فِي آبَائِنَا الْأَوَّلِينَ
Falamma jaahum moosa bi-ayatina bayyinatin qaloo ma hatha illa sihrun muftaran wama samiAAna bihatha fee aba-ina al-awwaleena

YUSUFALI: When Moses came to them with Our clear signs, they said: “This is nothing but sorcery faked up: never did we head the like among our fathers of old!”
PICKTHAL: But when Moses came unto them with Our clear tokens, they said: This is naught but invented magic. We never heard of this among our fathers of old.
SHAKIR: So when Musa came to them with Our clear signs, they said: This is nothing but forged enchantment, and we never heard of it amongst our fathers of old.
KHALIFA: When Moses went to them with our proofs, clear and profound, they said, “This is fabricated magic. We have never heard of this from our ancient ancestors.”

৩৬। মুসা যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ তাদের নিকট ঊপস্থিত হলো তারা বলেছিলো ” এটা মিথ্যা যাদু ব্যতীত অন্য কিছু নয় ৩৩৬৭। আমাদের পূর্ব পুরুষদের কালে কখনও এরূপ কথা শুনি নাই। ” ৩৩৬৮।

৩৩৬৭। হযরত মুসার অলৌকিক ক্রিয়াকর্ম প্রদর্শন করে ফেরাউন ও তার সভাষদবর্গ বললো, ” ইহা তো অলীক ইন্দ্রজাল মাত্র।” আর ঠিক এই ভয়-ই মুসা করেছিলেন যে, তাঁকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করা হবে, এবং প্রকৃত সত্যকে প্রত্যাখান করা হবে। সে যুগে এবং বর্তমান কালেও পৃথিবীতে সাধারণ মানুষের মনস্ততঃকে এই আয়াতের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। নবী রসুলদের যুগ থেকে, গ্যালেলিওর প্রচারিত বিজ্ঞানের সত্যও মানুষ মিথ্যা বলে প্রচার করেছিলো। সর্বোচ্চ ও প্রকৃত সত্যকে তারাই মিথ্যা বলে প্রচার করে থাকে যারা তাদের জীবনে মিথ্যা , প্রতারণা ও যাদুবিদ্যার আশ্রয় গ্রহণ করে থাকে সাধারণ লোকদের প্রতারণা করার জন্য। ফেরাউনের লোকজনও ছিলো এদের দলেরই।

৩৩৬৮। হযরত মুসা যখন এক আল্লাহ্‌র উপাসনার জন্য ফেরাউন ও তাঁর সভাষদদের বললেন, তখন ফেরাউনের লোকজন এই উক্তি করেছিলো।

মূসা বলল, আমার পালনকর্তা সম্যক জানেন যে তার নিকট থেকে হেদায়েতের কথা নিয়ে আগমন করেছে এবং যে প্রাপ্ত হবে পরকালের গৃহ। নিশ্চয় জালেমরা সফলকাম হবে না।
Mûsa (Moses) said: ”My Lord knows best him who came with guidance from Him, and whose will be the happy end in the Hereafter. Verily, the Zâlimûn (wrong-doers, polytheists and disbelievers in the Oneness of Allâh) will not be successful.”

وَقَالَ مُوسَى رَبِّي أَعْلَمُ بِمَن جَاء بِالْهُدَى مِنْ عِندِهِ وَمَن تَكُونُ لَهُ عَاقِبَةُ الدَّارِ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الظَّالِمُونَ
Waqala moosa rabbee aAAlamu biman jaa bialhuda min AAindihi waman takoonu lahu AAaqibatu alddari innahu la yuflihu alththalimoona

YUSUFALI: Moses said: “My Lord knows best who it is that comes with guidance from Him and whose end will be best in the Hereafter: certain it is that the wrong-doers will not prosper.”
PICKTHAL: And Moses said: My Lord is Best Aware of him who bringeth guidance from His presence, and whose will be the sequel of the Home (of bliss). Lo! wrong-doers will not be successful.
SHAKIR: And Musa said: My Lord knows best who comes with guidance from Him, and whose shall be the good end of the abode; surely the unjust shall not be successful.
KHALIFA: Moses said, “My Lord knows best who brought the guidance from Him, and who will be the ultimate victors. Surely, the transgressors never succeed.”

৩৭। মুসা বলেছিলো, ” আমার প্রভু সবচেয়ে ভালো জানেন কে তাঁর নিকট থেকে পথ নির্দেশ নিয়ে এসেছে এবং পরলোকে কার পরিণাম শুভ হবে নিশ্চয়ই পাপীরা কখনও সফলকাম হবে না।” ৩৩৬৯।

৩৩৬৯। “পাপীরা সফলকাম হবে না ” এই উক্তিটি আছে আয়াত [ ৬ : ১৫ ]। যারা নির্বোধের ন্যায় প্রকৃত সত্যকে প্রত্যাখান করে, পূর্বপুরুষদের দোহাই দেয় তাদের জন্য যুক্তি তর্ক বৃথা। তাই মুসা এ ক্ষেত্রে সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌র নিকট আবেদন করেছিলেন এবং জালিমদের পরিণতি সম্পর্কে সাবধান বাণী উচ্চারণ করেছিলেন। পরলোকের শেষ পরিণতি সম্বন্ধে বিশ্বাস করতে হলে আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমানের প্রয়োজন। কিন্তু যাদের আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস নাই তারা অবশ্যই পূর্বপুরুষদের মিথ্যা এবং পাপকেই গ্রহণ করবে – যা তাদের ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে।ফলে তাদের জাতীয় উন্নতি বাঁধাপ্রাপ্ত হবে এবং পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চে তারা হয় অবহেলিত ও অপমানিত ( যেমন বাংলাদেশ)।

ফেরাউন বলল, হে পরিষদবর্গ, আমি জানি না যে, আমি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য আছে। হে হামান, তুমি ইট পোড়াও, অতঃপর আমার জন্যে একটি প্রাসাদ নির্মাণ কর, যাতে আমি মূসার উপাস্যকে উকি মেরে দেখতে পারি। আমার তো ধারণা এই যে, সে একজন মিথ্যাবাদী।
Fir’aun (Pharaoh) said: ”O chiefs! I know not that you have an ilâh (a god) other than me, so kindle for me (a fire), O Hâmân, to bake (bricks out of) clay, and set up for me a Sarhan (a lofty tower, or palace, etc.) in order that I may look at (or look for) the Ilâh (God) of Mûsa (Moses); and verily, I think that he [Mûsa (Moses)] is one of the liars.”

وَقَالَ فِرْعَوْنُ يَا أَيُّهَا الْمَلَأُ مَا عَلِمْتُ لَكُم مِّنْ إِلَهٍ غَيْرِي فَأَوْقِدْ لِي يَا هَامَانُ عَلَى الطِّينِ فَاجْعَل لِّي صَرْحًا لَّعَلِّي أَطَّلِعُ إِلَى إِلَهِ مُوسَى وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ مِنَ الْكَاذِبِينَ
Waqala firAAawnu ya ayyuha almalao ma AAalimtu lakum min ilahin ghayree faawqid lee ya hamanu AAala altteeni faijAAal lee sarhan laAAallee attaliAAu ila ilahi moosa wa-innee laathunnuhu mina alkathibeena

YUSUFALI: Pharaoh said: “O Chiefs! no god do I know for you but myself: therefore, O Haman! light me a (kiln to bake bricks) out of clay, and build me a lofty palace, that I may mount up to the god of Moses: but as far as I am concerned, I think (Moses) is a liar!”
PICKTHAL: And Pharaoh said: O chiefs! I know not that ye have a god other than me, so kindle for me (a fire), O Haman, to bake the mud; and set up for me a lofty tower in order that I may survey the god of Moses; and lo! I deem him of the liars.
SHAKIR: And Firon said: O chiefs! I do not know of any god for you besides myself; therefore kindle a fire for me, O Haman, for brick, then prepare for me a lofty building so that I may obtain knowledge of Musa’s god, and most surely I think him to be one of the liars.
KHALIFA: Pharaoh said, “O you elders, I have not known of any god for you other than me. Therefore, fire the adobe, O Hamaan, in order to build a tower, that I may take a look at the god of Moses. I am sure that he is a liar.”

৩৮। ফেরাউন বলেছিলো ,” হে পরিষদ বর্গ ! আমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য তোমাদের জন্য আছে বলে জানি না। ৩৩৭০। সুতরাং ওহে হামান! তুমি আমার জন্য (ভাটিতে) ইট পোড়াও এবং সুউচ্চ প্রাসাদ তৈরী কর, হয়তো আমি ইহাতে আরোহন করে মুসার উপাস্যের নিকট যেতে পারবো। কিন্তু আমার ধারণায় আমি মনে করি (মুসা) একজন মিথ্যাবাদী।” ৩৩৭১

৩৩৭০। ফেরাউন নিজেকে ঈশ্বর বলে ঘোষণা করেছিলো বহু ঈশ্বরের একজন নয় , একমাত্র ঈশ্বর বলে। দেখুন সূরা [ ৭৯ : ২৪ ] আয়াতে; ফেরাউন ঘোষণা করেছিলো ,”I am the Lord most High.” দম্ভ ও অহংকার তাকে এতটাই মোহাবিষ্ট এবং বিপথে চালিত করেছিলো যে, সে কিছুতেই বুঝতে পারছিলো না কেন লোকে তাকে ব্যতীত অন্য কারও এবাদত করবে।

৩৩৭১। মওলানা ইউসুফ আলী সাহেবের মতে ফেরাউনের এই বাক্যটি ছিলো বিদ্রূপাত্মক। হযরত মুসার আল্লাহকে ব্যঙ্গ করার জন্য সে এরূপ কথা উচ্চারণ করে। তবে অনেক তফসীরকার ফেরাউনের বাক্যটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেন এবং কল্পনা করেন যে ফেরাউন সত্য সত্যই সুউচ্চ টাওয়ার তৈরী করতে চেয়েছিলো আকাশে পৌঁছানোর জন্য।

ফেরাউন ও তার বাহিনী অন্যায়ভাবে পৃথিবীতে অহংকার করতে লাগল এবং তারা মনে করল যে, তারা আমার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে না।
And he and his hosts were arrogant in the land, without right, and they thought that they would never return to Us.

وَاسْتَكْبَرَ هُوَ وَجُنُودُهُ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ إِلَيْنَا لَا يُرْجَعُونَ
Waistakbara huwa wajunooduhu fee al-ardi bighayri alhaqqi wathannoo annahum ilayna la yurjaAAoona

YUSUFALI: And he was arrogant and insolent in the land, beyond reason,- He and his hosts: they thought that they would not have to return to Us!
PICKTHAL: And he and his hosts were haughty in the land without right, and deemed that they would never be brought back to Us.
SHAKIR: And he was unjustly proud in the land, he and his hosts, and they deemed that they would not be brought back to Us.
KHALIFA: Thus, he and his troops continued to commit arrogance on earth, without any right, and thought that they would not be returned to us.

৩৯। এবং পৃথিবীতে ফেরাউন ও তাঁর দল-বল ছিলো কোন কারণ ছাড়াই উদ্ধত এবং অন্যায়কারী। তারা মনে করতো যে তারা আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করবে না। ৩৩৭২

৩৩৭২। ” তারা আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করবে না।” – ফেরাউন ও তার বাহিনী পরলোকের জগত সম্বন্ধে কোনও বিশ্বাসই করতো না। তাদের অহংকার ও দম্ভ এই সহজ সত্যকে অনুধাবনে অক্ষম করে যে, প্রতিটি কাজেরই প্রতিফল আছে। ভালো কাজের পরিণাম ভালো এবং মন্দ কাজের পরিণাম মন্দ। এই ভালো ও মন্দ কাজের ফলাফল পরলোকে আমাদের আল্লাহ্‌র নিকট থেকে গ্রহণ করতে হবে। একমাত্র পরম করুণাময়ের করুণাতেই মন্দ পরিণাম থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

অতঃপর আমি তাকে ও তার বাহিনীকে পাকড়াও করলাম, তৎপর আমি তাদেরকে সমুËেদ্র নিক্ষেপ করলাম। অতএব, দেখ জালেমদের পরিণাম কি হয়েছে।
So We seized him and his hosts, and We threw them all into the sea (and drowned them). So behold (O Muhammad SAW) what was the end of the Zâlimûn [wrong-doers, polytheists and those who disbelieved in the Oneness of their Lord (Allâh), or rejected the advice of His Messenger Mûsa (Moses) ].

فَأَخَذْنَاهُ وَجُنُودَهُ فَنَبَذْنَاهُمْ فِي الْيَمِّ فَانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الظَّالِمِينَ
Faakhathnahu wajunoodahu fanabathnahum fee alyammi faonthur kayfa kana AAaqibatu alththalimeena

YUSUFALI: So We seized him and his hosts, and We flung them into the sea: Now behold what was the end of those who did wrong!
PICKTHAL: Therefor We seized him and his hosts, and abandoned them unto the sea. Behold the nature of the consequence for evil-doers!
SHAKIR: So We caught hold of him and his hosts, then We cast them into the sea, and see how was the end of the unjust.
KHALIFA: Consequently, we punished him and his troops, by throwing them into the sea. Note the consequences for the transgressors.

৪০। সুতারাং আমি তাকে ও তার বাহিনীকে পাকড়াও করলাম এবং আমি তাদের সমুদ্রে নিক্ষেপ করলাম ৩৩৭৩। এখন দেখো ; যারা পাপ করে তাদের শেষ পরিণতি কি ঘটে।

৩৩৭৩। দেখুন সূরা [ ৭ : ১৩০ – ১৩৬ ] আয়াত যেখানে বর্ণনা করা হয়েছে ফেরাউনের বিভিন্ন ঘটনা এবং বলা হয়েছে শেষ পর্যন্ত তাকে সমুদ্রে ডুবিয়ে দেয়া হয়। এখানেও সমুদ্রে নিক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। ফেরাউন ও তার বাহিনী হচ্ছে সেই রকম লোক যারা শুধু ধবংস ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। ফলে নিজেরাও ধ্বংস হয়ে যায়। সুখ বা শান্তির জন্য তারা কোনও কিছু করতে অক্ষম কারণ তাদের আত্মার মাঝে বিরাজ করে প্রচন্ড দম্ভ ও অহংকার। এই দম্ভ ও অহংকারের ফলে তাদের আত্মায় জন্ম নেয় হিংসা, ঘৃণা , বিদ্বেষ ও আক্রোশ। আমাদের চারিপাশে যাদের চরিত্রে দম্ভ, অহংকার , হিংসা , দ্বেষ , আক্রোশে পরিপূর্ণ তারা নিজেরাও শান্তি পায় না , তাদের চারিপাশে যারা অবস্থান করে তাদেরও শান্তি হরণ করে নেয়।

আমি তাদেরকে নেতা করেছিলাম। তারা জাহান্নামের দিকে আহবান করত। কেয়ামতের দিন তারা সাহায্য প্রাপ্ত হবে না।
And We made them leaders inviting to the Fire, and on the Day of Resurrection, they will not be helped.

وَجَعَلْنَاهُمْ أَئِمَّةً يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يُنصَرُونَ
WajaAAalnahum a-immatan yadAAoona ila alnnari wayawma alqiyamati la yunsaroona

YUSUFALI: And we made them (but) leaders inviting to the Fire; and on the Day of Judgment no help shall they find.
PICKTHAL: And We made them patterns that invite unto the Fire, and on the Day of Resurrection they will not be helped.
SHAKIR: And We made them Imams who call to the fire, and on the day of resurrection they shall not be assisted.
KHALIFA: We made them imams who led their people to Hell. Furthermore, on the Day of Resurrection, they will have no help.

৪১। এবং আমি তো তাদের জাহান্নামের দিকে আহ্বান করার জন্য নেতা করেছিলাম। এবং শেষ বিচারের দিনে তারা কোন সাহায্য লাভ করবে না।

৪২। এই পৃথিবীর জীবনে তাদের পশ্চাদ্‌ধাবন করেছিলো আমার অভিসম্পাত্‌ ৩৩৭৪। এবং শেষ বিচারের দিনে তারা হবে অতিশয় ঘৃণিতদের অন্যতম।

৩৩৭৪। ফেরাউনের ও তার পরিষদবর্গকে আল্লাহ্‌ দেশ ও জাতির নেতা করে দিয়েছিলেন , কিন্তু এই ভ্রান্ত নেতারা জাতিকে জাহান্নামের দিকে আহ্বান করতো। জাহান্নাম কথাটি এখানে রূপক অর্থে বব্যহৃত। এর অর্থ হচ্ছে পাপের দিকে আহ্বান করতো , যার পরিণাম ছিলো জাহান্নাম। এসব নেতারা যখন ক্ষমতায় আসীন থাকে, মোসাহেব এবং সুযোগ সন্ধানীরা তাদের গুণকীর্তনে আকাশ বাতাস মুখরিত করে তোলে , যার ফলে তারা দম্ভ ও অহংকারে ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু করে। এসবের ফলে যখন তাদের পতন শুরু হয়, তারা অসম্মান ও অপমানের সম্মুখীন হয় এই পৃথিবীর জীবনেই। জীবিতকালে যদি কারও কুকীর্তি প্রকাশ নাও হয়, যদি অসম্মানিত নাও হয়, অনেক সময়েই দেখা যায় মৃত্যুর পরে সত্য প্রকাশ পায়। ফলে ভবিষ্যত প্রজন্মের লোকেরা তার নামে অভিসম্পাত করে, কারণ তাদের কুকীর্তি; অন্যায় -অবিচার , লোভ-লালসা ও পাপের ফলশ্রুতি হচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মের দুঃখ দুর্দ্দশার কারণ। এসব পাপীরা আল্লাহ্‌র দুনিয়াকে নিকৃষ্ট স্থানে পরিণত করার প্রয়াস পায়। তবে এখানেই তাদের পাপের শেষ পরিণতি নয়। তাদের শেষ পরিণতি হচ্ছে পরলোকের ভয়াবহ শাস্তি। সেখানেই তাদের কাজের প্রকৃত রূপকে প্রকাশ করা হবে এবং মূল্যায়ন করা হবে। ফলে পৃথিবীর সর্বোচ্চ অত্যাচারী শক্তিশালী ব্যক্তি সেখানে সর্বাপেক্ষা নিম্নস্তরে অবস্থান করবে।

আমি এই পৃথিবীতে অভিশাপকে তাদের পশ্চাতে লাগিয়ে দিয়েছি এবং কেয়ামতের দিন তারা হবে দুর্দশাগ্রস্ত।
And We made a curse to follow them in this world, and on the Day of Resurrection, they will be among Al-Maqbuhûn (those who are prevented to receive Allâh’s Mercy or any good, despised or destroyed, etc.).

وَأَتْبَعْنَاهُمْ فِي هَذِهِ الدُّنْيَا لَعْنَةً وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ هُم مِّنَ الْمَقْبُوحِينَ
WaatbaAAnahum fee hathihi alddunya laAAnatan wayawma alqiyamati hum mina almaqbooheena

YUSUFALI: in this world We made a curse to follow them and on the Day of Judgment they will be among the loathed (and despised).
PICKTHAL: And We made a curse to follow them in this world, and on the Day of Resurrection they will be among the hateful.
SHAKIR: And We caused a curse to follow them in this world, and on the day of resurrection they shall be of those made to appear hideous.
KHALIFA: They incurred in this life condemnation, and on the Day of Resurrection they will be despised.

৪১। এবং আমি তো তাদের জাহান্নামের দিকে আহ্বান করার জন্য নেতা করেছিলাম। এবং শেষ বিচারের দিনে তারা কোন সাহায্য লাভ করবে না।

৪২। এই পৃথিবীর জীবনে তাদের পশ্চাদ্‌ধাবন করেছিলো আমার অভিসম্পাত্‌ ৩৩৭৪। এবং শেষ বিচারের দিনে তারা হবে অতিশয় ঘৃণিতদের অন্যতম।

৩৩৭৪। ফেরাউনের ও তার পরিষদবর্গকে আল্লাহ্‌ দেশ ও জাতির নেতা করে দিয়েছিলেন , কিন্তু এই ভ্রান্ত নেতারা জাতিকে জাহান্নামের দিকে আহ্বান করতো। জাহান্নাম কথাটি এখানে রূপক অর্থে বব্যহৃত। এর অর্থ হচ্ছে পাপের দিকে আহ্বান করতো , যার পরিণাম ছিলো জাহান্নাম। এসব নেতারা যখন ক্ষমতায় আসীন থাকে, মোসাহেব এবং সুযোগ সন্ধানীরা তাদের গুণকীর্তনে আকাশ বাতাস মুখরিত করে তোলে , যার ফলে তারা দম্ভ ও অহংকারে ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু করে। এসবের ফলে যখন তাদের পতন শুরু হয়, তারা অসম্মান ও অপমানের সম্মুখীন হয় এই পৃথিবীর জীবনেই। জীবিতকালে যদি কারও কুকীর্তি প্রকাশ নাও হয়, যদি অসম্মানিত নাও হয়, অনেক সময়েই দেখা যায় মৃত্যুর পরে সত্য প্রকাশ পায়। ফলে ভবিষ্যত প্রজন্মের লোকেরা তার নামে অভিসম্পাত করে, কারণ তাদের কুকীর্তি; অন্যায় -অবিচার , লোভ-লালসা ও পাপের ফলশ্রুতি হচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মের দুঃখ দুর্দ্দশার কারণ। এসব পাপীরা আল্লাহ্‌র দুনিয়াকে নিকৃষ্ট স্থানে পরিণত করার প্রয়াস পায়। তবে এখানেই তাদের পাপের শেষ পরিণতি নয়। তাদের শেষ পরিণতি হচ্ছে পরলোকের ভয়াবহ শাস্তি। সেখানেই তাদের কাজের প্রকৃত রূপকে প্রকাশ করা হবে এবং মূল্যায়ন করা হবে। ফলে পৃথিবীর সর্বোচ্চ অত্যাচারী শক্তিশালী ব্যক্তি সেখানে সর্বাপেক্ষা নিম্নস্তরে অবস্থান করবে।

আমি পূর্ববর্তী অনেক সম্প্রদায়কে ধ্বংস করার পর মূসাকে কিতাব দিয়েছি মানুষের জন্যে জ্ঞানবর্তিকা। হেদায়েত ও রহমত, যাতে তারা স্মরণ রাখে।
And indeed We gave Mûsa (Moses), after We had destroyed the generations of old, the Scripture [the Taurât (Torah)] as an enlightenment for mankind, and a guidance and a mercy, that they might remember (or receive admonition).

وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ مِن بَعْدِ مَا أَهْلَكْنَا الْقُرُونَ الْأُولَى بَصَائِرَ لِلنَّاسِ وَهُدًى وَرَحْمَةً لَّعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ
Walaqad atayna moosa alkitaba min baAAdi ma ahlakna alquroona al-oola basa-ira lilnnasi wahudan warahmatan laAAallahum yatathakkaroona

YUSUFALI: We did reveal to Moses the Book after We had destroyed the earlier generations, (to give) Insight to men, and guidance and Mercy, that they might receive admonition.
PICKTHAL: And We verily gave the Scripture unto Moses after We had destroyed the generations of old: clear testimonies for mankind, and a guidance and a mercy, that haply they might reflect.
SHAKIR: And certainly We gave Musa the Book after We had destroyed the former generations, clear arguments for men and a guidance and a mercy, that they may be mindful.
KHALIFA: We gave Moses the scripture – after having annihilated the previous generations, and after setting the examples through them – to provide enlightenment for the people, and guidance, and mercy, that they may take heed.

রুকু – ৫

৪৩। পূর্ববর্তী বহু প্রজন্মকে ধবংস করার পরে আমি মুসাকে কিতাব দান করেছিলাম মানুষের জন্য অন্তর্দৃষ্টি [ বা জ্ঞান বর্তিকা ] এবং পথনির্দ্দেশ ও দয়া স্বরূপ ; যেনো তারা উপদেশ গ্রহণ করে ৩৩৭৫।

৩৩৭৫। অত্যাচারী ফেরাউন এবং ফেরাউনের ন্যায় বহু অত্যাচারীকে ধ্বংসের পরে আল্লাহ্‌ পৃথিবীর মানুষের জন্য হযরত মুসার মাধ্যমে নূতন ভাবে প্রত্যাদেশ প্রেরণ করেন – মুসার যুগে তার নিকট প্রেরিত কিতাবে। মানবতার ইতিহাস আবার নূতন ভাবে শুরু হয় – এ যেনো নূতন স্লেটে প্রথম আঁচরের মত। মুসার কিতাব হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ প্রত্যাদেশ যা তিনটি দৃষ্টিভঙ্গী থেকে দেখার জন্য আমাদের দৃষ্টি আর্কষণ করা হয়েছে। এই কিতাব হচ্ছে :

১) জ্ঞান বর্তিকা বা জ্ঞানের প্রদীপ বা অন্তর্দৃষ্টি বা দিব্যজ্ঞান ,যা মানুষের বিবেককে জাগরিত করে বা আলোকিত করে।

২) পথ-নির্দ্দেশ , যা সংসার জীবনে এই পৃথিবীতে সঠিক পথে চলার নির্দ্দেশ দান করে থাকে। মানুষকে পরিষ্কার ভাষায় পাপ ও পূণ্যের পথের নির্দ্দেশ দান করা হয়েছে, যেনো সে ভুল করে পাপের পথে না যায়।

৩) আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ ও করুণা স্বরূপ। কারণ আল্লাহ্‌র নির্দ্দেশিত পথে চলার ফলেই মানব আল্লাহ্‌র ক্ষমা ও করুণা লাভে সক্ষম হবে। সূরা [ ৬ : ৯১] আয়াতে জ্ঞান বর্তিকা ও পথ নির্দ্দেশের কথা বলা হয়েছে , হযরত মুসার প্রত্যাদেশের প্রসঙ্গে এবং [ ৬ : ১৫৪ ] আয়াতে পথ-নির্দ্দেশ ও করুণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে ঐ একই প্রসঙ্গে। এই আয়াতে জ্ঞানের প্রদীপ বা দিব্যজ্ঞান , পথ নির্দ্দেশ, আল্লাহ্‌র করুণা ও ক্ষমা , তিনটিকে এক সুত্রে গ্রথিত করা হয়েছে। এখানে ‘Nur’ শব্দটির স্থলে ‘Basair’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।

মূসাকে যখন আমি নির্দেশনামা দিয়েছিলাম, তখন আপনি পশ্চিম প্রান্তে ছিলেন না এবং আপনি প্রত্যক্ষদর্শীও ছিলেন না।
And you (O Muhammad SAW) were not on the western side (of the Mount), when We made clear to Mûsa (Moses) the commandment, and you were not among those present.

وَمَا كُنتَ بِجَانِبِ الْغَرْبِيِّ إِذْ قَضَيْنَا إِلَى مُوسَى الْأَمْرَ وَمَا كُنتَ مِنَ الشَّاهِدِينَ
Wama kunta bijanibi algharbiyyi ith qadayna ila moosa al-amra wama kunta mina alshshahideena

YUSUFALI: Thou wast not on the Western side when We decreed the Commission to Moses, nor wast thou a witness (of those events).
PICKTHAL: And thou (Muhammad) wast not on the western side (of the Mount) when We expounded unto Moses the commandment, and thou wast not among those present;
SHAKIR: And you were not on the western side when We revealed to Musa the commandment, and you were not among the witnesses;
KHALIFA: You were not present on the slope of the western mount, when we issued the command to Moses; you were not a witness.

৪৪। এবং [ হে মুহম্মদ (সা) ] ; তুমি তো তখন [ তূর পাহাড়ের ] পশ্চিম দিকে উপস্থিত ছিলে না , যখন আমি মুসাকে নবুয়তের জন্য নিয়োজিত করেছিলাম ৩৩৭৬। এবং তুমি তো [ ঘটনার ] প্রত্যক্ষদর্শীও ছিলে না।

৩৩৭৬। সিনাই উপদ্বীপ আরবের উত্তরপশ্চিম কোনে অবস্থিত। এখানে তুওয়া উপত্যকার পশ্চিম প্রান্তের উল্লেখ করা হয়েছে। তূর পাহাড় – যেখানে হযরত মুসা তার নবুয়তের দায়িত্ব প্রাপ্ত হন, তুওয়া উপত্যকার পশ্চিমে অবস্থিত।

কিন্তু আমি অনেক সম্প্রদায় সৃষ্টি করেছিলাম, অতঃপর তাদের অনেক যুগ অতিবাহিত হয়েছে। আর আপনি মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে ছিলেন না যে, তাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করতেন। কিন্তু আমিই ছিলাম রসূল প্রেরণকারী।
But We created generations [after generations i.e. after Mûsa (Moses) ], and long were the ages that passed over them. And you (O Muhammad SAW) were not a dweller among the people of Madyan (Midian), reciting Our Verses to them. But it is We Who kept sending (Messengers).

وَلَكِنَّا أَنشَأْنَا قُرُونًا فَتَطَاوَلَ عَلَيْهِمُ الْعُمُرُ وَمَا كُنتَ ثَاوِيًا فِي أَهْلِ مَدْيَنَ تَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِنَا وَلَكِنَّا كُنَّا مُرْسِلِينَ
Walakinna ansha-na quroonan fatatawala AAalayhimu alAAumuru wama kunta thawiyan fee ahli madyana tatloo AAalayhim ayatina walakinna kunna mursileena

YUSUFALI: But We raised up (new) generations, and long were the ages that passed over them; but thou wast not a dweller among the people of Madyan, rehearsing Our Signs to them; but it is We Who send messengers (with inspiration).
PICKTHAL: But We brought forth generations, and their lives dragged on for them. And thou wast not a dweller in Midian, reciting unto them Our revelations, but We kept sending (messengers to men).
SHAKIR: But We raised up generations, then life became prolonged to them; and you were not dwelling among the people of Madyan, reciting to them Our communications, but We were the senders.
KHALIFA: But we established many generations, and, because of the length of time, (they deviated). Nor were you among the people of Midyan, reciting our revelations to them. But we did send messengers.

৪৫। কিন্তু আমি [ নূতন ] বহু মানব গোষ্ঠির আবির্ভাব ঘটিয়েছিলাম; তাদের উপর দিয়ে বহু সময় পার হয়ে গেছে ৩৩৭৭। আমার আয়াত সমূহ আবৃত্তি করার জন্য তুমি তো মাদিয়ানবাসীদের মধ্যেও ছিলে না। কিন্তু আমি অবশ্যই [ ওহীসহ ] রাসুল পাঠিয়ে এসেছি ৩৩৭৮।

৩৩৭৭। হযরত মুসা ও হযরত মুহম্মদ [সা] মাঝে বহু যুগ অতিক্রান্ত হয়ে গেছে বহু মানবগোষ্ঠির উত্থান পতন ঘটেছে , কিন্তু তা সত্বেও অক্ষরজ্ঞানহীন নবী [ সা ] আল্লাহ্‌র প্রেরিত প্রত্যাদেশের মাধ্যমে সেই সব ঘটনার জ্ঞান লাভ করেন। যদি রসুল [ সা ] সেই সময়ে আরবে বাস করতেন তবুও তাঁর পক্ষে মাদয়ানবাসীদের জ্ঞান লাভ করা সম্ভব ছিলো না। একমাত্র আল্লাহ্‌র পক্ষেই সম্ভব সময়ের ও দূরত্বের ব্যবধান ঘুচিয়ে মানুষের অজ্ঞানতা দূর করে তাকে জ্ঞানে সমৃদ্ধ করা। কারণ আল্লাহ্‌ স্থান, কাল ও সময়ের উর্দ্ধে।

৩৩৭৮। যদিও রাসুল [ সা] মাদ্‌য়াইনবাসীদের মাঝে কখনও ছিলেন না এবং তাদের সম্বন্ধে জানার কোনও সুযোগই তাঁর ছিলো না , তবুও আল্লাহ্‌ প্রত্যাদেশের মাধ্যমে রাসুলকে [ সা ] মাদ্‌য়ানবাসীদের মাঝে মুসার অবস্থানের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট ও বিবরণ অবগত করান। উম্মী নবীর পক্ষে এরূপ জ্ঞান লাভ করাই কি নিদর্শন নয় যে তিনি আল্লাহ্‌র প্রেরিত দূত ? তবুও কি লোকেরা বুঝবে না ?

আমি যখন মূসাকে আওয়াজ দিয়েছিলাম, তখন আপনি তুর পর্বতের পার্শ্বে ছিলেন না। কিন্তু এটা আপনার পালনকর্তার রহমত স্বরূপ, যাতে আপনি এমন এক সম্প্রদায়কে ভীতি প্রদর্শন করেন, যাদের কাছে আপনার পূর্বে কোন ভীতি প্রদর্শনকারী আগমন করেনি, যাতে তারা স্মরণ রাখে।
And you (O Muhammad SAW) were not at the side of the Tûr (Mount) when We did call, [it is said that Allâh called the followers of Muhammad SAW , and they answered His Call, or that Allâh called Mûsa (Moses)]. But (you are sent) as a mercy from your Lord, to give warning to a people to whom no warner had come before you, in order that they may remember or receive admonition. [Tafsir At-Tabarî, Vol. 20, Page 81].

وَمَا كُنتَ بِجَانِبِ الطُّورِ إِذْ نَادَيْنَا وَلَكِن رَّحْمَةً مِّن رَّبِّكَ لِتُنذِرَ قَوْمًا مَّا أَتَاهُم مِّن نَّذِيرٍ مِّن قَبْلِكَ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ
Wama kunta bijanibi alttoori ith nadayna walakin rahmatan min rabbika litunthira qawman ma atahum min natheerin min qablika laAAallahum yatathakkaroona

YUSUFALI: Nor wast thou at the side of (the Mountain of) Tur when we called (to Moses). Yet (art thou sent) as Mercy from thy Lord, to give warning to a people to whom no warner had come before thee: in order that they may receive admonition.
PICKTHAL: And thou was not beside the Mount when We did call; but (the knowledge of it is) a mercy from thy Lord that thou mayst warn a folk unto whom no warner came before thee, that haply they may give heed.
SHAKIR: And you were not on this side of the mountain when We called, but a mercy from your Lord that you may warn a people to whom no warner came before you, that they may be mindful.
KHALIFA: Nor were you on the slope of Mount Sinai when we called (Moses). But it is mercy from your Lord, (towards the people,) in order to warn people who received no warner before you, that they may take heed.

৪৬। মুসাকে যখন আমি আহ্বান করেছিলাম, তখন তুমি তূর পর্বত পার্শ্বে ছিলে না। তথাপি ইহা তোমার প্রভুর নিকট থেকে দয়াস্বরূপ [ প্রেরণ করা হয়েছে ], যাতে তুমি এমন এক সম্প্রদায়কে সর্তক করতে পার; যাদের নিকট তোমার পূর্বে কোন সতর্ককারী আসে নাই ৩৩৭৯। [এ জন্য ] যেনো তারা উপদেশ গ্রহণ করে।

৩৩৭৯। এই সম্প্রদায় হচ্ছে কোরেশ সম্প্রদায়। এখানে বক্তব্য : আল্লাহ্‌ রাসুলকে [ সা ] সম্বোধন করে বলছেন, “যদিও তুমি প্রত্যক্ষ কর নাই যে, কিভাবে মুসাকে তূর পর্বতে নবুয়ত দান করা হয়েছিলো , কিন্তু তোমাকেও আমরা সেই অনুরূপ অভিজ্ঞতায় ধন্য করেছি। তোমাকে প্রেরণ করা হয়েছে কোরেশ সম্প্রদায়ের মাঝে, তাদের সর্তক করতে , তারা যেনো পাপ পরিহার করে এবং অনুতাপের মাধ্যমে এক আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান আনে।

আর এ জন্য যে, তাদের কৃতকর্মের জন্যে তাদের কোন বিপদ হলে তারা বলত, হে আমাদের পালনকর্তা, তুমি আমাদের কাছে কোন রসূল প্রেরণ করলে না কেন? করলে আমরা তোমার আয়াতসমূহের অনুসরণ করতাম এবং আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারী হয়ে যেতাম।
And if (We had) not (sent you to the people of Makkah) in case a calamity should seize them for (the deeds) that their hands have sent forth, they should have said: ”Our Lord! Why did You not send us a Messenger? We should then have followed Your Ayât (Verses of the Qur’ân) and should have been among the believers.”

وَلَوْلَا أَن تُصِيبَهُم مُّصِيبَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ فَيَقُولُوا رَبَّنَا لَوْلَا أَرْسَلْتَ إِلَيْنَا رَسُولًا فَنَتَّبِعَ آيَاتِكَ وَنَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ
Walawla an tuseebahum museebatun bima qaddamat aydeehim fayaqooloo rabbana lawla arsalta ilayna rasoolan fanattabiAAa ayatika wanakoona mina almu/mineena

YUSUFALI: If (We had) not (sent thee to the Quraish),- in case a calamity should seize them for (the deeds) that their hands have sent forth, they might say: “Our Lord! why didst Thou not sent us a messenger? We should then have followed Thy Signs and been amongst those who believe!”
PICKTHAL: Otherwise, if disaster should afflict them because of that which their own hands have sent before (them), they might say: Our Lord! Why sentest Thou no messenger unto us, that we might have followed Thy revelations and been of the believers?
SHAKIR: And were it not that there should befall them a disaster for what their hands have sent before, then they should say: Our Lord! why didst Thou not send to us a messenger so that we should have followed Thy communications and been of the believers !
KHALIFA: Thus, they cannot say, when a disaster strikes them as a consequence of their own deeds, “Our Lord, had You sent a messenger to us, we would have followed Your revelations, and would have been believers.”

৪৭। [ যদি আমি তোমাকে কুরাইশদের নিকট প্রেরণ না করতাম ], তাহলে তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদের কোন বিপদ ঘটলে তারা বলতো, ” হে আমাদের প্রভু ! কেন তুমি আমাদের নিকট কোন রাসুল প্রেরণ করলে না ? করলে আমরা তোমার নিদর্শন সমূহ মেনে চলতাম এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের অন্তর্ভূক্ত হতাম। ” ৩৩৮০

৩৩৮০। ‘কৃতকার্য’ অর্থাৎ মানুষ যা করে। “কৃতকার্যের জন্য তাদের কোন বিপদ হলে ” – অর্থাৎ যে কোনও বিপদ ও বিপর্যয় মানুষেরই কৃত কর্মের ফল। কারণ মানুষের কর্ম দ্বারাই আল্লাহ্‌র হুকুম নিয়ন্ত্রিত হয়। যখন আমাদের নবীর আগমন ঘটলো ,যিনি পূর্ববর্তী সকল রসুলদের জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন, যা তিনি লাভ করেছিলো স্বর্গীয় প্রত্যাদেশের মাধ্যমে, তাঁকে অস্বীকার করার কোন যুক্তিযুক্ত কারণ ছিলো না। রসুলের [ সা] আগমনের পরে কারও এ কথা বলার কোনও সুযোগ থাকবে না , যে, ” তুমি আমাদের নিকট কোন রাসুল প্রেরণ করলে না কেন? ” তাদের পাপের দরুণ, তাদের কৃতকর্মের দরুণ যদি কোন বিপর্যয় তাদের উপরে নিপতিত হয়, তবে তারা আল্লাহ্‌কে দোষারোপ করতে পারবে না যে, তাদের পূর্বেই সর্তক করে দেয়া হয় নাই কেন।

অতঃপর আমার কাছ থেকে যখন তাদের কাছে সত্য আগমন করল, তখন তারা বলল, মূসাকে যেরূপ দেয়া হয়েছিল, এই রসূলকে সেরূপ দেয়া হল না কেন? পূর্বে মূসাকে যা দেয়া হয়েছিল, তারা কি তা অস্বীকার করেনি? তারা বলেছিল, উভয়ই জাদু, পরস্পরে একাত্ম। তারা আরও বলেছিল, আমরা উভয়কে মানি না।
But when the truth (i.e. Muhammad SAW with his Message) has come to them from Us, they say: ”Why is he not given the like of what was given to Mûsa (Moses)? Did they not disbelieve in that which was given to Mûsa (Moses) of old? They say: ”Two kinds of magic [the Taurât (Torah) and the Qur’ân] each helping the other!” And they say: ”Verily! In both we are disbelievers.”

فَلَمَّا جَاءهُمُ الْحَقُّ مِنْ عِندِنَا قَالُوا لَوْلَا أُوتِيَ مِثْلَ مَا أُوتِيَ مُوسَى أَوَلَمْ يَكْفُرُوا بِمَا أُوتِيَ مُوسَى مِن قَبْلُ قَالُوا سِحْرَانِ تَظَاهَرَا وَقَالُوا إِنَّا بِكُلٍّ كَافِرُونَ
Falamma jaahumu alhaqqu min AAindina qaloo lawla ootiya mithla ma ootiya moosa awa lam yakfuroo bima ootiya moosa min qablu qaloo sihrani tathahara waqaloo inna bikullin kafiroona

YUSUFALI: But (now), when the Truth has come to them from Ourselves, they say, “Why are not (Signs) sent to him, like those which were sent to Moses?” Do they not then reject (the Signs) which were formerly sent to Moses? They say: “Two kinds of sorcery, each assisting the other!” And they say: “For us, we reject all (such things)!”
PICKTHAL: But when there came unto them the Truth from Our presence, they said: Why is he not given the like of what was given unto Moses? Did they not disbelieve in that which was given unto Moses of old? They say: Two magics that support each other; and they say: Lo! in both we are disbelievers.
SHAKIR: But (now) when the truth has come to them from Us, they say: Why is he not given the like of what was given to Musa? What! did they not disbelieve in what Musa was given before? They say: Two magicians backing up each other; and they say: Surely we are unbelievers in all.
KHALIFA: Now that the truth has come to them from us, they said, “If only we could be given what was given to Moses!” Did they not disbelieve in what was given to Moses in the past? They said, “Both (scriptures) are works of magic that copied one another.” They also said, “We are disbelievers in both of them.”

৪৮। কিন্তু [ এখন ] যখন আমার নিকট থেকে তাদের নিকট সত্য এসেছে , তারা বলতে লাগলো , ” মুসাকে যেরূপ দেয়া হয়েছিলো , তাঁকে সেরূপ [ নিদর্শন সমূহ ] দেয়া হলো না কেন ? ৩৩৮১।” পূর্বে মুসাকে যে [নিদর্শনসমূহ ] দেয়া হয়েছিলো তারা কি তা প্রত্যাখ্যান করে নাই ? তারা বলতে লাগলো, ” দুই প্রকার যাদু [ যা ] একে অপরকে সমর্থন করে থাকে।” ৩৩৮২। এবং তারা বলে, ” [ এরূপ ] সকলকেই আমরা প্রত্যাখান করি।”

৩৩৮১। কোরাণ অবতীর্ণ হয়েছিলো , যুগোপযোগী করে। মুসার যুগের থেকে হযরত মুহম্মদের [ সা ] যুগের মধ্যে সময়ের বহু ব্যবধান। কোরাণ যখন যুগের দাবী অনুযায়ী পূর্ববর্তী প্রত্যাদেশকে পরিমার্জিত ভাবে অবতীর্ণ করা হলো , তখন কোরেশরা তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলো , কারণ তারা মুসার মত অলৌকিক ক্রিয়াকর্ম দর্শনে আগ্রহী ছিলো। আমাদের রসুলের [ সা ] মধ্যে বহু সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যায় যা হযরত মুসার মাঝে বিদ্যমান ছিলো। কিন্তু হযরতের [ সা ] সময়কাল মুসার সয়মকাল থেকে আলাদা ছিলো, মুসার সময়কাল ছিলো যাদুবিদ্যার কাল – মানুষ যাদুর চমকপ্রদ প্রতারণাকে অলৌকিক ভেবে বিশ্বাস করতো। কিন্তু হযরতের [ সা ] সময়ে যাদুর কাল অতিক্রান্ত হয়েছে – মানুষের দৃষ্টিভঙ্গী ও বিশ্বাস হয়েছে অনেক যুক্তিসঙ্গত ও বৈজ্ঞানিক ধারণায় বিশ্বাসী। সুতারাং মানুষের মানসিক অগ্রসরতার সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে যুগের দাবী অনুযায়ী পরিমার্জিতরূপে আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশকে প্রেরণ করা হয় – আর এই হচ্ছে আল্‌-কোরাণ ; যার বাণী , শিক্ষা ,পথের নির্দ্দেশ, আবেদন বিশ্বজনীন , যুগ, কাল অতিক্রান্ত। মুসাকে যেরূপ উজ্জ্বল হাত ও লাঠির মোজেজা দ্বারা শক্তিশালী করা হয়। আল্‌-কোরাণ হচ্ছে এ যুগের আল্লাহ্‌র প্রেরিত মোজেজা বা অলৌকিক ক্রিয়া কর্ম যা রসুলকে [সা] দান করা হয়। কোরাণ হচ্ছে, অন্ধকার যুগের প্রতিশোধক, ভবিষ্যত পথের নির্দ্দেশ। সে হিসেবে কোরাণ মুসার লাঠি ও সাদা হাত অপেক্ষা অধিক অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন ও ভিন্ন প্রকৃতির। কোরেশরা কখনও আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশে বিশ্বাস স্থাপন করতো না। যদিও তারা বলছে যে মুসার মত রসুল [ সা ] যদি অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন হতেন তবে তারা বিশ্বাস স্থাপন করতো, কিন্তু তা সত্য নয়। তখন তারা অন্য অজুহাত সৃষ্টি করতো। তারা তো শুধু ইহুদীদের সাথে পূর্বাহ্নে আপোষে চুক্তি করে অভিযোগগুলির উত্থাপন করে – প্রকৃত সত্য হচ্ছে মুসার অলৌকিক মোজেজা সম্বন্ধেও তাদের কোন বিশ্বাস ছিলো না।

৩৩৮২। মিশরবাসীরা হযরত মুসাকে যাদুকর আখ্যা দিয়েছিলো, কোরেশরা কোরাণের আবির্ভাবকেও যাদু আখ্যা দিয়েছিলো। যেহেতু কোরাণ হযরত মুসার নিকট আল্লাহ্‌র প্রেরিত প্রত্যাদেশকে সত্যায়ন করে, সেহেতু কোরায়েশরা আপত্তি উত্থাপন করে যে, হযরত মুসার কিতাব ও কোরাণ উভয়ে একে অপরকে সমর্থন করছে এবং ষড়যন্ত্রে সহযোগীতা করছে।

বলুন, তোমরা সত্যবাদী হলে এখন আল্লাহর কাছ থেকে কোন কিতাব আন, যা এতদুভয় থেকে উত্তম পথপ্রদর্শক হয়। আমি সেই কিতাব অনুসরণ করব।
Say (to them, O Muhammad SAW): ”Then bring a Book from Allâh, which is a better guide than these two [the Taurât (Torah) and the Qur’ân], that I may follow it, if you are truthful.”

قُلْ فَأْتُوا بِكِتَابٍ مِّنْ عِندِ اللَّهِ هُوَ أَهْدَى مِنْهُمَا أَتَّبِعْهُ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
Qul fa/too bikitabin min AAindi Allahi huwa ahda minhuma attabiAAhu in kuntum sadiqeena

YUSUFALI: Say: “Then bring ye a Book from Allah, which is a better guide than either of them, that I may follow it! (do), if ye are truthful!”
PICKTHAL: Say (unto them, O Muhammad): Then bring a scripture from the presence of Allah that giveth clearer guidance than these two (that) I may follow it, if ye are truthful.
SHAKIR: Say: Then bring some (other) book from Allah which is a better guide than both of them, (that) I may follow it, if you are truthful.
KHALIFA: Say, “Then produce a scripture from GOD with better guidance than the two, so I can follow it, if you are truthful.”

৪৯। বল, ” তবে তোমরা আল্লাহ্‌র নিকট থেকে এমন এক কিতাব আন যা হবে এই উভয় [ তাওরাত ও কুর-আন ] কিতাব অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ পথ প্রদর্শক, যেন আমি তা অনুসরণ করতে পারি। যদি তোমরা সত্যবাদী হও [তবে তা কর ]।”

৫০। কিন্তু যদি তারা তোমার কথা না শোনে ৩৩৮৩, তবে জেনে রাখ , তারা শুধু তাদের নিজ প্রবৃ্ত্তির অনুসরণ করে থাকে। আল্লাহ্‌র পথ-নির্দ্দেশ ত্যাগ করে যে তার নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে তার থেকে বেশী পথভ্রষ্ট আর কে আছে ? যারা পাপে আসক্ত আল্লাহ্‌ তাদের পথ দেখান না।

৩৩৮৩। কোরেশদের প্রতি আল্লাহ্‌ প্রতিদ্বন্দ্বিতা আহ্বান করেছেন যদি ক্ষমতা থাকে, তবে তারা কোরাণ বা তাওরাতের থেকে অধিক ভালো কিছু সৃষ্টি করুক। আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশে পাপ ও পূণ্যের পার্থক্য, পার্থিব জীবন পরিচালনার সঠিক নির্দ্দেশ যে ভাবে দান করা হয়েছে, যে নৈতিক মূল্যবোধ সর্বযুগের সর্বকালের জন্য জীবন পথের পথ নির্দ্দেশনা হিসেবে বিবেচিত , তা সৃষ্টি করা কোনও মানব বা সম্প্রদায়ের জন্য সম্ভব নয়। সুতারাং কোরেশরা যে তা পারবে না সেটাই তো স্বাভাবিক। তাদের প্রত্যাখান ও অভিযোগ ছিলো বিদ্বেষ প্রসূত। তারা তো প্রকৃত পক্ষে সত্যকে জানতে চায় নাই – তারা অনুসরণ করে তাদের বিকৃত কামনা,বাসনা ও স্বার্থপরতার মানসিকতা । অনুসরণ করে, তাদের ক্ষমতা , স্বেচ্ছাচারিতা, একচ্ছত্র আধিপত্য। গরীবকে শোষণ ও তাদের অন্যায়-অত্যাচার ইত্যাদি যাতে কোনওরূপ বাধাগ্রস্থ না হয় সেটাই হচ্ছে কোরাণের শিক্ষাকে প্রত্যাখান করার মূল কারণ। যাদের মন এরূপ স্বার্থপরতা, স্বেচ্ছাচারিতায় পরিপূর্ণ তারা কিভাবে আল্লাহ্‌র হেদায়েতের আলো পেতে পারে ?

অতঃপর তারা যদি আপনার কথায় সাড়া না দেয়, তবে জানবেন, তারা শুধু নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। আল্লাহর হেদায়েতের পরিবর্তে যে ব্যক্তি নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার চাইতে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? নিশ্চয় আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে পথ দেখান না।
But if they answer you not (i.e. do not believe in your doctrine of Islâmic Monotheism, nor follow you), then know that they only follow their own lusts. And who is more astray than one who follows his own lusts, without guidance from Allâh? Verily! Allâh guides not the people who are Zâlimûn (wrong-doers, disobedient to Allâh, and polytheists).

فَإِن لَّمْ يَسْتَجِيبُوا لَكَ فَاعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهْوَاءهُمْ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِّنَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ
Fa-in lam yastajeeboo laka faiAAlam annama yattabiAAoona ahwaahum waman adallu mimmani ittabaAAa hawahu bighayri hudan mina Allahi inna Allaha la yahdee alqawma alththalimeena

YUSUFALI: But if they hearken not to thee, know that they only follow their own lusts: and who is more astray than one who follow his own lusts, devoid of guidance from Allah? for Allah guides not people given to wrong-doing.
PICKTHAL: And if they answer thee not, then know that what they follow is their lusts. And who goeth farther astray than he who followeth his lust without guidance from Allah. Lo! Allah guideth not wrongdoing folk.
SHAKIR: But if they do not answer you, then know that they only follow their low desires; and who is more erring than he who follows his low desires without any guidance from Allah? Surely Allah does not guide the unjust people.
KHALIFA: If they fail to respond to you, then know that they follow only their own opinions. Who is farther astray than those who follow their own opinions, without guidance from GOD? GOD does not guide such wicked people.

৪৯। বল, ” তবে তোমরা আল্লাহ্‌র নিকট থেকে এমন এক কিতাব আন যা হবে এই উভয় [ তাওরাত ও কুর-আন ] কিতাব অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ পথ প্রদর্শক, যেন আমি তা অনুসরণ করতে পারি। যদি তোমরা সত্যবাদী হও [তবে তা কর ]।”

৫০। কিন্তু যদি তারা তোমার কথা না শোনে ৩৩৮৩, তবে জেনে রাখ , তারা শুধু তাদের নিজ প্রবৃ্ত্তির অনুসরণ করে থাকে। আল্লাহ্‌র পথ-নির্দ্দেশ ত্যাগ করে যে তার নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে তার থেকে বেশী পথভ্রষ্ট আর কে আছে ? যারা পাপে আসক্ত আল্লাহ্‌ তাদের পথ দেখান না।

৩৩৮৩। কোরেশদের প্রতি আল্লাহ্‌ প্রতিদ্বন্দ্বিতা আহ্বান করেছেন যদি ক্ষমতা থাকে, তবে তারা কোরাণ বা তাওরাতের থেকে অধিক ভালো কিছু সৃষ্টি করুক। আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশে পাপ ও পূণ্যের পার্থক্য, পার্থিব জীবন পরিচালনার সঠিক নির্দ্দেশ যে ভাবে দান করা হয়েছে, যে নৈতিক মূল্যবোধ সর্বযুগের সর্বকালের জন্য জীবন পথের পথ নির্দ্দেশনা হিসেবে বিবেচিত , তা সৃষ্টি করা কোনও মানব বা সম্প্রদায়ের জন্য সম্ভব নয়। সুতারাং কোরেশরা যে তা পারবে না সেটাই তো স্বাভাবিক। তাদের প্রত্যাখান ও অভিযোগ ছিলো বিদ্বেষ প্রসূত। তারা তো প্রকৃত পক্ষে সত্যকে জানতে চায় নাই – তারা অনুসরণ করে তাদের বিকৃত কামনা,বাসনা ও স্বার্থপরতার মানসিকতা । অনুসরণ করে, তাদের ক্ষমতা , স্বেচ্ছাচারিতা, একচ্ছত্র আধিপত্য। গরীবকে শোষণ ও তাদের অন্যায়-অত্যাচার ইত্যাদি যাতে কোনওরূপ বাধাগ্রস্থ না হয় সেটাই হচ্ছে কোরাণের শিক্ষাকে প্রত্যাখান করার মূল কারণ। যাদের মন এরূপ স্বার্থপরতা, স্বেচ্ছাচারিতায় পরিপূর্ণ তারা কিভাবে আল্লাহ্‌র হেদায়েতের আলো পেতে পারে ?

আমি তাদের কাছে উপর্যুপরি বাণী পৌছিয়েছি। যাতে তারা অনুধাবন করে।
And indeed now We have conveyed the Word (this Qur’ân in which is the news of everything to them), in order that they may remember (or receive admonition).

وَلَقَدْ وَصَّلْنَا لَهُمُ الْقَوْلَ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ
Walaqad wassalna lahumu alqawla laAAallahum yatathakkaroona

YUSUFALI: Now have We caused the Word to reach them themselves, in order that they may receive admonition.
PICKTHAL: And now verily We have caused the Word to reach them, that haply they may give heed.
SHAKIR: And certainly We have made the word to reach them so that they may be mindful.
KHALIFA: We have delivered the message to them, that they may take heed.

রুকু – ৬

৫১। আর আমি নিশ্চয়ই তাদের নিকট বারে বারে আমার বাণী পৌঁছে দিয়েছি, যেনো তারা উপদেশ গ্রহণ করে ৩৩৮৪।

৩৩৮৪। কোরাণ অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে কোরেশরা অভিযোগ করতো যে আল্লাহ্‌র বাণী তো হিব্‌রু ভাষাতে অবতীর্ণ হয়েছে, সুতারাং তাদের পক্ষে তা বোঝা সম্ভব নয়। কিন্তু কোরাণের আগমনে তাদের সে অভিযোগের কোনও ভিত্তি রইল না। এখন কোরাণ বা আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশ তাদের নিজ মাতৃভাষাতে , তাদের গৃহদ্বারে, তাদের নিজ জাতির লোক এবং নিজ পরিবারের লোকের কাছে অবতীর্ণ। সুতারাং কোরাণের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষাকে গ্রহণ করার কোন বাধা বা অভিযোগ থাকা উচিত নয়।

কোরআনের পূর্বে আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি, তারা এতে বিশ্বাস করে।
Those to whom We gave the Scripture [i.e. the Taurât (Torah) and the Injeel (Gospel), etc.] before it, – they believe in it (the Qur’ân).

الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ مِن قَبْلِهِ هُم بِهِ يُؤْمِنُونَ
Allatheena ataynahumu alkitaba min qablihi hum bihi yu/minoona

YUSUFALI: Those to whom We sent the Book before this,- they do believe in this (revelation):
PICKTHAL: Those unto whom We gave the Scripture before it, they believe in it,
SHAKIR: (As to) those whom We gave the Book before it, they are believers in it.
KHALIFA: Those whom we blessed with the previous scriptures will believe in this.

৫২। এর পূর্বে যাদের আমি কিতাব প্রেরণ করেছিলাম , তারা এই [ প্রত্যাদেশ ] বিশ্বাস করে।

৫৩। এবং ইহা তাদের নিকট আবৃত্তি করা হয়, তারা বলে, ” আমরা ইহাতে বিশ্বাস স্থাপন করলাম , নিশ্চয়ই ইহা আমাদের প্রভুর প্রেরিত সত্য। আমরা তো ইহার পূর্বেও মুসলমান [আল্লাহ্‌র ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পনকারী ] ছিলাম।” ৩৩৮৫।

৩৩৮৫। কোরাণ যখন অবতীর্ণ হয়, কিছু সংখ্যক খৃষ্টান ও ইহুদী ছিলো যারা হযরত মুহম্মদের [সা ] প্রচারিত ইসলাম ধর্মকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলো। তারাঁ বুঝতে পেরেছিলো যে, ইসলাম ধর্ম এবং কোরাণের প্রত্যাদেশ হচ্ছে পূর্ববর্তী ঐশী প্রত্যাদেশ সমূহের যুক্তিসঙ্গত ধারাবাহিকতা। এটা কোনও নূতন ধর্ম নয়। সুতারাং তারা শুধু ইসলামকে অভিনন্দনই জানান নাই, তারা সানন্দে ইসলাম গ্রহণ করেন। এদের কথাই উপরের আয়াতে বলা হয়েছে , যারা বলেছিলেন , ” আমরা ইহাতে ঈমান আনি, ইহা আমাদিগের প্রতিপালক হইতে আগত সত্য। আমরা তো পূর্বেও আত্মসমর্পনকারী ছিলাম।” আত্মসমর্পনকারী অর্থাৎ ইসলামে বিশ্বাসী। ইহুদীদের মধ্যে আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে সালাত [ রাঃ ] ও অন্যান্য এবং আবিসিনিয়ার কিছু খৃষ্টান ইসলাম গ্রহণ করেন। এদের সম্বন্ধেই এই আয়াতে বলা হয়েছে।

তাঁরা সঠিকভাবেই দাবী করেছিলেন যে, তারা পূর্বেও মুসলিম ছিলেন। সে হিসেবে হযরত আদম , নূহ্‌, ইব্রাহীম, মুসা এবং যীশুখৃষ্ট সকলেই মুসলমান ছিলেন। যদিও এই আয়াতে এদের সম্পর্কেই বলা হয়েছে ,কিন্তু এর আবেদন সার্বজনীন। এই আয়াতের বক্তব্য তখনও প্রযোজ্য ছিলো এখনও প্রযোজ্য আছে। কারণ তাওরাত ও ইঞ্জিলের যে শিক্ষা সে শিক্ষাও হচ্ছে ইসলাম। তবে সময়ের ব্যবধানে মানুষ তাওরাত ও ইঞ্জিলের শিক্ষাকে বিকৃত করে ফেলেছে। ফলে বর্তমানে যে গ্রন্থ আছে তা হযরত মুসা ও ঈসার গ্রন্থের প্রকৃত রূপ নয়। যদি কেউ প্রকৃত পক্ষেই তাওরাত ও ইঞ্জিলের শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে তবে সে অবশ্যই রসুলুল্লাহ্‌ [ সা ] ও তার নিকট প্রেরিত প্রত্যাদেশকে সনাক্ত করতে সক্ষম হবে।

যখন তাদের কাছে এটা পাঠ করা হয়, তখন তারা বলে, আমরা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম। এটা আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সত্য। আমরা এর পূর্বেও আজ্ঞাবহ ছিলাম।
And when it is recited to them, they say: ”We believe in it. Verily, it is the truth from our Lord. Indeed even before it we have been from those who submit themselves to Allâh in Islâm as Muslims (like ’Abdullâh bin Salâm and Salmân Al-Farisî, etc.).

وَإِذَا يُتْلَى عَلَيْهِمْ قَالُوا آمَنَّا بِهِ إِنَّهُ الْحَقُّ مِن رَّبِّنَا إِنَّا كُنَّا مِن قَبْلِهِ مُسْلِمِينَ
Wa-itha yutla AAalayhim qaloo amanna bihi innahu alhaqqu min rabbina inna kunna min qablihi muslimeena

YUSUFALI: And when it is recited to them, they say: “We believe therein, for it is the Truth from our Lord: indeed we have been Muslims (bowing to Allah’s Will) from before this.
PICKTHAL: And when it is recited unto them, they say: We believe in it. Lo! it is the Truth from our Lord. Lo! even before it we were of those who surrender (unto Him).
SHAKIR: And when it is recited to them they say: We believe in it surely it is the truth from our Lord; surely we were submitters before this.
KHALIFA: When it is recited to them, they will say, “We believe in it. This is the truth from our Lord. Even before we heard of it, we were submitters.”

৫২। এর পূর্বে যাদের আমি কিতাব প্রেরণ করেছিলাম , তারা এই [ প্রত্যাদেশ ] বিশ্বাস করে।

৫৩। এবং ইহা তাদের নিকট আবৃত্তি করা হয়, তারা বলে, ” আমরা ইহাতে বিশ্বাস স্থাপন করলাম , নিশ্চয়ই ইহা আমাদের প্রভুর প্রেরিত সত্য। আমরা তো ইহার পূর্বেও মুসলমান [আল্লাহ্‌র ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পনকারী ] ছিলাম।” ৩৩৮৫।

৩৩৮৫। কোরাণ যখন অবতীর্ণ হয়, কিছু সংখ্যক খৃষ্টান ও ইহুদী ছিলো যারা হযরত মুহম্মদের [সা ] প্রচারিত ইসলাম ধর্মকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলো। তারাঁ বুঝতে পেরেছিলো যে, ইসলাম ধর্ম এবং কোরাণের প্রত্যাদেশ হচ্ছে পূর্ববর্তী ঐশী প্রত্যাদেশ সমূহের যুক্তিসঙ্গত ধারাবাহিকতা। এটা কোনও নূতন ধর্ম নয়। সুতারাং তারা শুধু ইসলামকে অভিনন্দনই জানান নাই, তারা সানন্দে ইসলাম গ্রহণ করেন। এদের কথাই উপরের আয়াতে বলা হয়েছে , যারা বলেছিলেন , ” আমরা ইহাতে ঈমান আনি, ইহা আমাদিগের প্রতিপালক হইতে আগত সত্য। আমরা তো পূর্বেও আত্মসমর্পনকারী ছিলাম।” আত্মসমর্পনকারী অর্থাৎ ইসলামে বিশ্বাসী। ইহুদীদের মধ্যে আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে সালাত [ রাঃ ] ও অন্যান্য এবং আবিসিনিয়ার কিছু খৃষ্টান ইসলাম গ্রহণ করেন। এদের সম্বন্ধেই এই আয়াতে বলা হয়েছে।

তাঁরা সঠিকভাবেই দাবী করেছিলেন যে, তারা পূর্বেও মুসলিম ছিলেন। সে হিসেবে হযরত আদম , নূহ্‌, ইব্রাহীম, মুসা এবং যীশুখৃষ্ট সকলেই মুসলমান ছিলেন। যদিও এই আয়াতে এদের সম্পর্কেই বলা হয়েছে ,কিন্তু এর আবেদন সার্বজনীন। এই আয়াতের বক্তব্য তখনও প্রযোজ্য ছিলো এখনও প্রযোজ্য আছে। কারণ তাওরাত ও ইঞ্জিলের যে শিক্ষা সে শিক্ষাও হচ্ছে ইসলাম। তবে সময়ের ব্যবধানে মানুষ তাওরাত ও ইঞ্জিলের শিক্ষাকে বিকৃত করে ফেলেছে। ফলে বর্তমানে যে গ্রন্থ আছে তা হযরত মুসা ও ঈসার গ্রন্থের প্রকৃত রূপ নয়। যদি কেউ প্রকৃত পক্ষেই তাওরাত ও ইঞ্জিলের শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে তবে সে অবশ্যই রসুলুল্লাহ্‌ [ সা ] ও তার নিকট প্রেরিত প্রত্যাদেশকে সনাক্ত করতে সক্ষম হবে।

তারা দুইবার পুরস্কৃত হবে তাদের সবরের কারণে। তারা মন্দের জওয়াবে ভাল করে এবং আমি তাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।
These will be given their reward twice over, because they are patient, and repel evil with good, and spend (in charity) out of what We have provided them.

أُوْلَئِكَ يُؤْتَوْنَ أَجْرَهُم مَّرَّتَيْنِ بِمَا صَبَرُوا وَيَدْرَؤُونَ بِالْحَسَنَةِ السَّيِّئَةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ
Ola-ika yu/tawna ajrahum marratayni bima sabaroo wayadraoona bialhasanati alssayyi-ata wamimma razaqnahum yunfiqoona

YUSUFALI: Twice will they be given their reward, for that they have persevered, that they avert Evil with Good, and that they spend (in charity) out of what We have given them.
PICKTHAL: These will be given their reward twice over, because they are steadfast and repel evil with good, and spend of that wherewith We have provided them,
SHAKIR: These shall be granted their reward twice, because they are steadfast and they repel evil with good and spend out of what We have given them.
KHALIFA: To these we grant twice the reward, because they steadfastly persevere. They counter evil works with good works, and from our provisions to them, they give.

৫৪। তাদের দুবার পুরষ্কার দেয়া হবে ৩৩৮৬; এজন্য যে , তারা ধৈর্য্যশীল , তারা মন্দকে ভালো দ্বারা প্রতিহত করে এবং আমি তাদের যা দিয়েছি তা থেকে [ দানে ] ব্যয় করে থাকে।

৩৩৮৬। উপরের আয়াতে যাদের কথা বর্ণনা করা হয়েছে, এই আয়াতে বলা হয়েছে যে, এদের জন্য দ্বিবিধ পারিশ্রমিক আছে। প্রথমটির কারণ তারা পূর্বেও ইসলামে বিশ্বাসী ছিলো অর্থাৎ আত্মসমর্পনকারী ছিলো; কারণ তারা পূর্ববর্তী যে ধর্মীয় আইন আল্লাহ্‌ রাসুলুল্লাহ্‌র পূর্বে প্রেরণ করেছেন তা তারা আন্তরিকতার সাথে কায়মনোবাক্যে অনুসরণ করতো। দ্বিতীয়ত পরবর্তীতে রাসুল [সা ] যখন ইসলামের দাওয়াত দিলেন তারা তৎক্ষণাত তা আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশ রূপে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এবং মুসলমান হয়েছিলেন। নব্য মুসলিম হিসেবে তাদেরও নির্যাতনের মুখে ধৈর্য্য ও অধ্যাবসায়ের পরীক্ষা দিতে হয়েছে। সুতারাং ধর্মের জন্য আল্লাহ্‌র জন্য তারা যে কষ্ট সহ্য করেছেন সেই পূণ্যের ফলেও তারা পারিশ্রমিক পাবেন। এদের গুণাবলী সম্বন্ধে বলা হয়েছে এরা ১) ধৈর্য্যশীল, ২) ভালোর দ্বারা মন্দের মোকাবিলা করেন, ৩) আল্লাহ্‌র দেয়া রিয্‌ক থেকে দান করে থাকেন।

তারা যখন অবাঞ্চিত বাজে কথাবার্তা শ্রবণ করে, তখন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, আমাদের জন্যে আমাদের কাজ এবং তোমাদের জন্যে তোমাদের কাজ। তোমাদের প্রতি সালাম। আমরা অজ্ঞদের সাথে জড়িত হতে চাই না।
And when they hear Al­Laghw (dirty, false, evil vain talk), they withdraw from it and say: ”To us our deeds, and to you your deeds. Peace be to you. We seek not the ignorant.”

وَإِذَا سَمِعُوا اللَّغْوَ أَعْرَضُوا عَنْهُ وَقَالُوا لَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ سَلَامٌ عَلَيْكُمْ لَا نَبْتَغِي الْجَاهِلِينَ
Wa-itha samiAAoo allaghwa aAAradoo AAanhu waqaloo lana aAAmaluna walakum aAAmalukum salamun AAalaykum la nabtaghee aljahileena

YUSUFALI: And when they hear vain talk, they turn away therefrom and say: “To us our deeds, and to you yours; peace be to you: we seek not the ignorant.”
PICKTHAL: And when they hear vanity they withdraw from it and say: Unto us our works and unto you your works. Peace be unto you! We desire not the ignorant.
SHAKIR: And when they hear idle talk they turn aside from it and say: We shall have our deeds and you shall have your deeds; peace be on you, we do not desire the ignorant.
KHALIFA: When they come across vain talk, they disregard it and say, “We are responsible for our deeds, and you are responsible for your deeds. Peace be upon you. We do not wish to behave like the ignorant ones.”

৫৫। এবং যখন তারা অন্তঃস্বার শূন্য কথা শোনে, তা থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, এবং বলে, ” আমাদের কর্মফল আমাদের , তোমাদের কর্মফল তোমাদের ৩৩৮৭। তোমাদের প্রতি সালাম। আমরা অজ্ঞ লোকদের [সংস্রব ] চাই না। ”

৩৩৮৭। যারা মোমেন বান্দা তাঁরা কখনও ধর্ম সম্বন্ধে র্তক বির্তকে লিপ্ত হবেন না। যদি তারা কখনও এরূপ পরিবেশে ও পরিস্থিতিতে পড়েন তবে তাঁরা সে সব সঙ্গ ত্যাগ করবেন বিনয়ের সাথে। অবিশ্বাসীদের প্রতি তাঁদের বক্তব্য হবে, ” আমরা আমাদের কাজের জন্য দায়বদ্ধ আর তোমরা তোমাদের কাজের জন্য দায়বদ্ধ। আমাদের তোমাদের প্রতি কোনও বিদ্বেষ নাই। আমরা তোমাদের মঙ্গল কামনা করি, সেই কারণে , আমরা যে ঐশ্বরিক জ্ঞান লাভ করেছি তা তোমাদের মঙ্গলার্থে তোমাদের জানাতে চাই। ঐশ্বরিক জ্ঞান লাভের পরে কেউ কি পারে পুণরায় অজ্ঞতার অন্ধকারে ফিরে যেতে ? “

সূরা কাসাস

আপনি যাকে পছন্দ করেন, তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না, তবে আল্লাহ তা’আলাই যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন। কে সৎপথে আসবে, সে সম্পর্কে তিনিই ভাল জানেন।
Verily! You (O Muhammad SAW) guide not whom you like, but Allâh guides whom He wills. And He knows best those who are the guided.

إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَن يَشَاء وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ
Innaka la tahdee man ahbabta walakinna Allaha yahdee man yashao wahuwa aAAlamu bialmuhtadeena

YUSUFALI: It is true thou wilt not be able to guide every one, whom thou lovest; but Allah guides those whom He will and He knows best those who receive guidance.
PICKTHAL: Lo! thou (O Muhammad) guidest not whom thou lovest, but Allah guideth whom He will. And He is Best Aware of those who walk aright.
SHAKIR: Surely you cannot guide whom you love, but Allah guides whom He pleases, and He knows best the followers of the right way.
KHALIFA: You cannot guide the ones you love. GOD is the only One who guides in accordance with His will, and in accordance with His knowledge of those who deserve the guidance.

৫৬। এ কথা সত্য যে, তুমি যাদের ভালোবাস তাদের প্রত্যেককে তুমি সুপথে চালিত করতে সক্ষম হবে না ৩৩৮৮। কিন্তু আল্লাহ্‌ যাকে ইচ্ছা করেন সুপথ প্রদর্শন করতে পারেন। কে সুপথ লাভ করবে তিনি তা উত্তম রূপে জানেন।

৩৩৮৮। হযরত মুহম্মদের [সা ] চাচা আবু তালেবের মৃত্যুর পরে আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। হযরত [সা ] এই চাচাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং তিনিও হযরতকে [ সা ] বিপদে সাহায্যে এগিয়ে আসতেন এবং প্রতিটি আচরণে হযরতের [সা ] সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করতেন। স্বাভাবিকভাবেই হযরত [সা ] অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলেন যে তাঁর চাচা যেনো সত্য ধর্মে অর্থাৎ ইসলামে প্রতিষ্ঠিত অবস্থায় দেহত্যাগ করেন। কিন্তু তাঁর চাচা পিতৃপুরুষদের ধর্মে অনড়ভাবে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। সুতারাং তাঁর মৃত্যুর পরে ,তার পরিণতির কথা চিন্তা করে স্বাভাবিকভাবে হযরত [সা] দুঃখে অভিভূত হয়ে পড়েন। এই ছিলো আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট। এরূপ ঘটনা সকলের জীবনেই ঘটতে পারে। এরূপ ক্ষেত্রে আমাদের দুঃখ করতে নিষেধ করা হয়েছে। যাদের আমরা ভালোবাসি, তারা সব সময়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী বা মতামত বা বিশ্বাস গ্রহণ নাও করতে পারে। আমরা তাদের বিচার করতে পারি না। আল্লাহ্‌ যাকে যে ভাবে খুশী পরিচালনা করার ক্ষমতা রাখেন। একমাত্র আল্লাহ্‌-ই সকল অদৃশ্য খবরের মালিক। মানুষের অন্তরের খবরও আল্লাহ্‌ জ্ঞাত।

তারা বলে, যদি আমরা আপনার সাথে সুপথে আসি, তবে আমরা আমাদের দেশ থেকে উৎখাত হব। আমি কি তাদের জন্যে একটি নিরাপদ হরম প্রতিষ্ঠিত করিনি? এখানে সর্বপ্রকার ফল-মূল আমদানী হয় আমার দেয়া রিযিকস্বরূপ। কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।
And they say: ”If we follow the guidance with you, we would be snatched away from our land.” Have We not established for them a secure sanctuary (Makkah), to which are brought fruits of all kinds, a provision from Ourselves, but most of them know not.

وَقَالُوا إِن نَّتَّبِعِ الْهُدَى مَعَكَ نُتَخَطَّفْ مِنْ أَرْضِنَا أَوَلَمْ نُمَكِّن لَّهُمْ حَرَمًا آمِنًا يُجْبَى إِلَيْهِ ثَمَرَاتُ كُلِّ شَيْءٍ رِزْقًا مِن لَّدُنَّا وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
Waqaloo in nattabiAAi alhuda maAAaka nutakhattaf min ardina awa lam numakkin lahum haraman aminan yujba ilayhi thamaratu kulli shay-in rizqan min ladunna walakinna aktharahum la yaAAlamoona

YUSUFALI: They say: “If we were to follow the guidance with thee, we should be snatched away from our land.” Have We not established for them a secure sanctuary, to which are brought as tribute fruits of all kinds,- a provision from Ourselves? but most of them understand not.
PICKTHAL: And they say: If we were to follow the Guidance with thee we should be torn out of our land. Have We not established for them a sure sanctuary, whereunto the produce of all things is brought (in trade), a provision from Our presence? But most of them know not.
SHAKIR: And they say: If we follow the guidance with you, we shall be carried off from our country. What ! have We not settled them in a safe, sacred territory to which fruits of every kind shall be drawn?– a sustenance from Us; but most of them do not know.
KHALIFA: They said, “If we follow your guidance, we will suffer persecution.” Did we not establish for them a Sacred Sanctuary, to which all kinds of fruits are offered, as a provision from us? Indeed, most of them do not know.

৫৭। তারা বলে, ” আমরা যদি তোমার সাথে সৎপথ অনুসরণ করি, তাহলে, আমাদের দেশ থেকে উৎখাত করা হবে ৩৩৮৯। ” আমি কি তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল প্রতিষ্ঠা করি নাই ; যেখানে আহারের জন্য আমার দেয়া সব রকম ফল উপহার স্বরূপ নিয়ে আসা হয় ? কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা বুঝতে অক্ষম।

৩৩৮৯। কোন কোন কোরেশ বলতো যে, ” আমরা ইসলামের মাঝে সত্যকে প্রত্যক্ষ করি , কিন্তু তা গ্রহণ করলে আমাদের দেশ থেকে উৎখাত করা হবে, ফলে আমরা আমাদের ভূমির উপরে আমাদের অধিকার হারাবো ,এবং অন্য লোকেরা তা অধিকার করে নেবে।” এখানে যে উত্তর দেয়া হয়েছে তার অর্থ দ্বিবিধ। একটি আক্ষরিক অন্যটি গভীর অর্থবোধক। আল্লাহ্‌ বলেছেন,

১) ” তোমরা তোমাদের ভূমির কথা চিন্তা করছো ? ; কেন আমি কি তোমাদের জন্য মক্কাকে নিরাপদ হারাম শরীফ করি নাই। [ নির্দ্দিষ্ট সীমানা দ্বারা চিহ্নিত মক্কার পবিত্র স্থানকে ‘হারাম ‘ বলা হয়, এই স্থানে কিছু কিছু কাজ নিষিদ্ধ আছে ] যদি তোমরা আল্লাহ্‌র হুকুম মেনে চল, তবে তোমাদের শক্তিশালী করা হবে, দুর্বল নয়।

২) মক্কা হচ্ছে আধ্যাত্মিক কল্যাণের ও নিরাপত্তার প্রতীক স্বরূপ। মানুষের কর্ম-ই তার আত্মাকে আলোকিত করে, অথবা অন্ধকারে নিমজ্জিত করে। সৎ কর্ম আত্মার আলো স্বরূপ, অসৎ কর্ম অন্ধকার স্বরূপ। তোমাদের ভয় কিসের ? তোমরা তো আল্লাহ্‌র নির্বাচিত দুর্গের মাঝে বাস করছো। যতই তোমরা আল্লাহ্‌র আশ্রয় প্রার্থনা করবে ততই তোমাদের নিরাপত্তা নিচ্ছিদ্র হবে।

আমি অনেক জনপদ ধবংস করেছি, যার অধিবাসীরা তাদের জীবন যাপনে মদমত্ত ছিল। এগুলোই এখন তাদের ঘর-বাড়ী। তাদের পর এগুলোতে মানুষ সামান্যই বসবাস করেছে। অবশেষে আমিই মালিক রয়েছি।
And how many a town (population) have We destroyed, which were thankless for its means of livelihood (disobeyed Allâh, and His Messengers, by doing evil deeds and crimes) ! And those are their dwellings, which have not been inhabited after them except a little. And verily! We have been the inheritors.

وَكَمْ أَهْلَكْنَا مِن قَرْيَةٍ بَطِرَتْ مَعِيشَتَهَا فَتِلْكَ مَسَاكِنُهُمْ لَمْ تُسْكَن مِّن بَعْدِهِمْ إِلَّا قَلِيلًا وَكُنَّا نَحْنُ الْوَارِثِينَ
Wakam ahlakna min qaryatin batirat maAAeeshataha fatilka masakinuhum lam tuskan min baAAdihim illa qaleelan wakunna nahnu alwaritheena

YUSUFALI: And how many populations We destroyed, which exulted in their life (of ease and plenty)! now those habitations of theirs, after them, are deserted,- All but a (miserable) few! and We are their heirs!
PICKTHAL: And how many a community have We destroyed that was thankless for its means of livelihood! And yonder are their dwellings, which have not been inhabited after them save a little. And We, even We, were the inheritors.
SHAKIR: And how many a town have We destroyed which exulted in its means of subsistence, so these are their abodes, they have not been dwelt in after them except a little, and We are the inheritors,
KHALIFA: Many a community we annihilated for turning unappreciative of their lives. Consequently, here are their homes, nothing but uninhabited ruins after them, except a few. We were the inheritors.

৫৮। কত জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি যার বাসীন্দারা জীবন ধারণের [ আরাম – আয়েশ ও প্রাচুর্যের ] দম্ভ করতো। এখন তাদের পরে সেসব জনপদসমূহ, অল্প কিছু [দুঃস্থ ] লোকজনের বসবাস ব্যতীত , পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে ৩৩৯০। এবং আমিই তাদের উত্তরাধীকারী হয়েছি।

৫৯। তোমার প্রভু কোন জনপদকে ধ্বংস করেন না , যতক্ষণ না তিনি উহার কেন্দ্রস্থলে রাসুল প্রেরণ করে থাকেন, যে তাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করবে। এবং জনপদসমূহকে তখনই ধ্বংস করবো যখন এর বাসিন্দারা অন্যায় করার অভ্যাস করে।

৩৩৯০। এই আয়াতটিতে মহাকালের এক অমূল্য উপদেশকে তুলে ধরা হয়েছে। আরাম আয়েস এবং প্রাচুর্য হচ্ছে শুধুমাত্র গর্বের বিষয়বস্তু। তবুও আমরা দেখি মানুষ ব্যক্তিগত ভাবে বা শহর কেন্দ্রিকভাবে বা জাতিগতভাবে সভ্যতা ,সম্পদ বা প্রাচুর্যের জন্য দম্ভ ও অহংকার করে থাকে। মানুষ কখনও ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না। এ রূপ কত সভ্যতা কালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে যারা একদিন নিজেদের প্রাচুর্য ,সম্পদ ও ক্ষমতা ও সভ্যতার জন্য গর্বিত ও অহংকারী হয়ে পড়েছিলো। ভারতের মোহন-জো-দারো , ফাতেপুর-সীক্রী ইত্যাদি স্থান , মিশরের ফেরাউনের স্থান ইত্যাদি বহু সভ্যতার ইতিহাস পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে। এ সব সভ্যতার উন্নতি ও ধ্বংসের ইতিহাস সর্বদাই এক। যতদিন তারা ন্যায় ও সত্যের পথে চলেছে ততদিন তারা ক্রমান্বয়ে উন্নতি করেছে। কিন্তু যখনই তারা ন্যায় ও সত্যকে পরিহার করে অহংকার ও দম্ভে অন্যায় ও অত্যাচারের পথকে বেছে নেয় তখনই তাদের পতনের কারণ ঘটে। ন্যায় ও সত্য হচ্ছে আল্লাহ্‌র আইন।

আপনার পালনকর্তা জনপদসমূহকে ধ্বংস করেন না, যে পর্যন্ত তার কেন্দ্রস্থলে রসূল প্রেরণ না করেন, যিনি তাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করেন এবং আমি জনপদসমূহকে তখনই ধ্বংস করি, যখন তার বাসিন্দারা জুলুম করে।
And never will your Lord destroy the towns (populations) until He sends to their mother town a Messenger reciting to them Our Verses. And never would We destroy the towns unless the people thereof are Zâlimûn (polytheists, wrong-doers, disbelievers in the Oneness of Allâh, oppressors and tyrants).

وَمَا كَانَ رَبُّكَ مُهْلِكَ الْقُرَى حَتَّى يَبْعَثَ فِي أُمِّهَا رَسُولًا يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِنَا وَمَا كُنَّا مُهْلِكِي الْقُرَى إِلَّا وَأَهْلُهَا ظَالِمُونَ
Wama kana rabbuka muhlika alqura hatta yabAAatha fee ommiha rasoolan yatloo AAalayhim ayatina wama kunna muhlikee alqura illa waahluha thalimoona

YUSUFALI: Nor was thy Lord the one to destroy a population until He had sent to its centre a messenger, rehearsing to them Our Signs; nor are We going to destroy a population except when its members practise iniquity.
PICKTHAL: And never did thy Lord destroy the townships, till He had raised up in their mother(-town) a messenger reciting unto them Our revelations. And never did We destroy the townships unless the folk thereof were evil-doers.
SHAKIR: And your Lord never destroyed the towns until He raised in their metropolis a messenger, reciting to them Our communications, and We never destroyed the towns except when their people were unjust.
KHALIFA: For your Lord never annihilates any community without sending a messenger in the midst thereof, to recite our revelations to them. We never annihilate any community, unless its people are wicked.

৫৮। কত জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি যার বাসীন্দারা জীবন ধারণের [ আরাম – আয়েশ ও প্রাচুর্যের ] দম্ভ করতো। এখন তাদের পরে সেসব জনপদসমূহ, অল্প কিছু [দুঃস্থ ] লোকজনের বসবাস ব্যতীত , পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে ৩৩৯০। এবং আমিই তাদের উত্তরাধীকারী হয়েছি।

৫৯। তোমার প্রভু কোন জনপদকে ধ্বংস করেন না , যতক্ষণ না তিনি উহার কেন্দ্রস্থলে রাসুল প্রেরণ করে থাকেন, যে তাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করবে। এবং জনপদসমূহকে তখনই ধ্বংস করবো যখন এর বাসিন্দারা অন্যায় করার অভ্যাস করে।

৩৩৯০। এই আয়াতটিতে মহাকালের এক অমূল্য উপদেশকে তুলে ধরা হয়েছে। আরাম আয়েস এবং প্রাচুর্য হচ্ছে শুধুমাত্র গর্বের বিষয়বস্তু। তবুও আমরা দেখি মানুষ ব্যক্তিগত ভাবে বা শহর কেন্দ্রিকভাবে বা জাতিগতভাবে সভ্যতা ,সম্পদ বা প্রাচুর্যের জন্য দম্ভ ও অহংকার করে থাকে। মানুষ কখনও ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না। এ রূপ কত সভ্যতা কালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে যারা একদিন নিজেদের প্রাচুর্য ,সম্পদ ও ক্ষমতা ও সভ্যতার জন্য গর্বিত ও অহংকারী হয়ে পড়েছিলো। ভারতের মোহন-জো-দারো , ফাতেপুর-সীক্রী ইত্যাদি স্থান , মিশরের ফেরাউনের স্থান ইত্যাদি বহু সভ্যতার ইতিহাস পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে। এ সব সভ্যতার উন্নতি ও ধ্বংসের ইতিহাস সর্বদাই এক। যতদিন তারা ন্যায় ও সত্যের পথে চলেছে ততদিন তারা ক্রমান্বয়ে উন্নতি করেছে। কিন্তু যখনই তারা ন্যায় ও সত্যকে পরিহার করে অহংকার ও দম্ভে অন্যায় ও অত্যাচারের পথকে বেছে নেয় তখনই তাদের পতনের কারণ ঘটে। ন্যায় ও সত্য হচ্ছে আল্লাহ্‌র আইন।

তোমাদেরকে যা কিছু দেয়া হয়েছে, তা পার্থিব জীবনের ভোগ ও শোভা বৈ নয়। আর আল্লাহর কাছে যা আছে, তা উত্তম ও স্থায়ী। তোমরা কি বোঝ না ?
And whatever you have been given is an enjoyment of the life of (this) world and its adornment, and that (Hereafter) which is with Allâh is better and will remain forever. Have you then no sense?

وَمَا أُوتِيتُم مِّن شَيْءٍ فَمَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَزِينَتُهَا وَمَا عِندَ اللَّهِ خَيْرٌ وَأَبْقَى أَفَلَا تَعْقِلُونَ
Wama ooteetum min shay-in famataAAu alhayati alddunya wazeenatuha wama AAinda Allahi khayrun waabqa afala taAAqiloona

YUSUFALI: The (material) things which ye are given are but the conveniences of this life and the glitter thereof; but that which is with Allah is better and more enduring: will ye not then be wise?
PICKTHAL: And whatsoever ye have been given is a comfort of the life of the world and an ornament thereof; and that which Allah hath is better and more lasting. Have ye then no sense?
SHAKIR: And whatever things you have been given are only a provision of this world’s life and its adornment, and whatever is with Allah is better and more lasting; do you not then understand?
KHALIFA: Everything that is given to you is only the material of this life, and its vanity. What is with GOD is far better, and everlasting. Do you not understand?

৬০। [ পার্থিব ] জিনিষ তোমাদের যা দেয়া হয়েছে তা তো পার্থিব জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও জাঁকজমক ৩৩৯১। কিন্তু আল্লাহ্‌র কাছে যা আছে তা উত্তম ও চিরস্থায়ী। তবুও কি তোমরা অনুধাবন করবে না ?

৩৩৯১। পার্থিব ভোগের জিনিষ জাগতিক আরাম আয়েশের জন্য। এই পার্থিব ধন-সম্পদ , আরাম আয়েস খুবই ক্ষণস্থায়ী। ক্ষণস্থায়ী জীবন শেষে মৃত্যুর সাথে সাথে তা শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু আত্মার সাথে যা থাকবে তা মৃত্যুঞ্জয়ী। মৃত্যুকে অতিক্রম করে তা পরলোকেও স্থায়ী হবে। যে আত্মার মাঝে ইহলোকে ন্যায় ও সত্যের অনুধাবন ক্ষমতা আছে, সেই তো আল্লাহ্‌র কল্যাণময় স্পর্শের অনুভবে সমৃদ্ধ। আর এই অনুভব স্থায়ী। যে দিব্যজ্ঞানের অধিকারী সে কি কখনও স্থায়ী সত্যকে ত্যাগ করে অস্থায়ী বস্তুর জন্য ঘুরে বেড়াতে পারে? তবুও মানুষ জাগতিক বিষয় বস্তুর পিছনে সারাটা জীবন ঘুরে বেড়ায় সুখ-শান্তির অণ্বেষনে। কিন্তু তার সে ছুটে বেড়ানো হচেছ মরীচিকার পিছনে ঘুরে বেড়ানোর মত। কারণ জাগতিক বস্তু কখনও স্থায়ী সুখের ঠিকানা দিতে পারে না। স্থায়ী সুখের ঠিকানা একমাত্র আল্লাহ্‌ নির্দ্দেশিত পথে নিহিত।

যাকে আমি উত্তম প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, যা সে পাবে, সে কি ঐ ব্যক্তির সমান, যাকে আমি পার্থিব জীবনের ভোগ-সম্ভার দিয়েছি, অতঃপর তাকে কেয়ামতের দিন অপরাধীরূপে হাযির করা হবে?
Is he whom We have promised an excellent promise (Paradise), which he will find true, like him whom We have made to enjoy the luxuries of the life of (this) world, then on the Day of Resurrection, he will be among those brought up (to be punished in the Hell-fire)?

أَفَمَن وَعَدْنَاهُ وَعْدًا حَسَنًا فَهُوَ لَاقِيهِ كَمَن مَّتَّعْنَاهُ مَتَاعَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ثُمَّ هُوَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنَ الْمُحْضَرِينَ
Afaman waAAadnahu waAAdan hasanan fahuwa laqeehi kaman mattaAAnahu mataAAa alhayati alddunya thumma huwa yawma alqiyamati mina almuhdareena

YUSUFALI: Are (these two) alike?- one to whom We have made a goodly promise, and who is going to reach its (fulfilment), and one to whom We have given the good things of this life, but who, on the Day of Judgment, is to be among those brought up (for punishment)?
PICKTHAL: Is he whom We have promised a fair promise which he will find (true) like him whom We suffer to enjoy awhile the comfort of the life of the world, then on the Day of Resurrection he will be of those arraigned?
SHAKIR: Is he to whom We have promised a goodly promise which he shall meet with like him whom We have provided with the provisions of this world’s life, then on the day of resurrection he shall be of those who are brought up?
KHALIFA: Is one whom we promised a good promise that will surely come to pass, equal to one whom we provide with the temporary materials of this life, then suffers eternal doom on the Day of Resurrection?

রুকু – ৭

৬১। যাকে আমি উত্তম প্রতিশ্রুতি দিয়েছি এবং যে সেই [ প্রতিশ্রুতি পূর্ণতার ] স্তরে পৌঁছাচ্ছে , সে কি সেই ব্যক্তির সমান যাকে আমি পার্থিব জীবনের ভোগ-সম্ভার দিয়েছি কিন্তু যাকে পরে শেষ বিচারের দিনে হাজির করা হবে [ শাস্তি প্রদানের জন্য ] ? ৩৩৯২

৩৩৯২। এই আয়াতে দুই শ্রেণীর লোকের বিবরণ দেয়া হয়েছে। এরা হচ্ছে :

১) যাদের আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস আছে এবং যারা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ্‌ মোমেন ব্যক্তিদের পরকালে পুরষ্কৃত করবেন। এরা তাদের জীবনের পূর্ণতার জন্য, আল্লাহ্‌কে খুশী করার জন্য এই পৃথিবীতে ভালো কাজ করে যায়। অর্থাৎ তাঁরা শুধুমাত্র আল্লাহ্‌কে খুশী করার জন্য আল্লাহ্‌র হুকুম মান্য করে থাকে। তাদের জীবন বিশ্বাস ও সৎকাজ এই দুয়ের সমন্বয়ে ভরে ওঠে।

২) অপরপক্ষে, আল্লাহ্‌ যাদের প্রাচুর্য ,সম্পদ ও জীবনের প্রয়োজনীয় অন্যান্য উৎকৃষ্ট বস্তু দান করেছেন,তারা আল্লাহ্‌র প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের পরিবর্তে অকৃতজ্ঞ হয়। তারা আল্লাহ্‌র স্মরণ থেকে বিচ্যুত হয়ে শুধুমাত্র অর্থ ও বিত্ত, ক্ষমতার পূঁজা করে। তাদের আত্মা সর্বদা আল্লাহ্‌র পরিবর্তে এসব জাগতিক বিষয়বস্তুর ধ্যানেই মগ্ন থাকে, অথবা অন্য যে কোনও বস্তুর ধ্যানে তারা মগ্ন থাকে , তাদের এই পূজনীয় বস্তুই হচ্ছে আল্লাহ্‌র সাথে শরীক স্বরূপ।

এরাই তারা যারা আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাসকে প্রত্যাখান করে এবং অসৎ ও পাপে ভরা জীবন যাপন করে। এদেরকে পরকালে জবাবদিহি ও শাস্তির জন্য সমবেত করা হবে। এই দুই শ্রেণীর লোক তাদের চিন্তায় , কাজে , বিশ্বাসে দুই মেরুর অধিবাসী। এই দুই শ্রেণী কখনও এক শ্রেণীভূক্ত হতে পারে না।

যেদিন আল্লাহ তাদেরকে আওয়াজ দিয়ে বলবেন, তোমরা যাদেরকে আমার শরীক দাবী করতে, তারা কোথায়?
And (remember) the Day when He will call to them, and say: ”Where are My (so-called) partners whom you used to assert?”

وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ فَيَقُولُ أَيْنَ شُرَكَائِيَ الَّذِينَ كُنتُمْ تَزْعُمُونَ
Wayawma yunadeehim fayaqoolu ayna shuraka-iya allatheena kuntum tazAAumoona

YUSUFALI: That Day (Allah) will call to them, and say “Where are my ‘partners’?- whom ye imagined (to be such)?”
PICKTHAL: On the day when He will call unto them and say: Where are My partners whom ye imagined?
SHAKIR: And on the day when He will call them and say: Where are those whom you deemed to be My associates?
KHALIFA: The day will come when He calls upon them, saying, “Where are those idols you had set up beside Me?”

৬২। সেদিন [আল্লাহ্‌ ] তাদের ডেকে বলবেন, ” আমার অংশীদাররা কোথায় ? – যাদের তোমরা [ আমার শরীক বলে ] মনে করতে ? ”

৬৩। যাদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ হবে ৩৩৯৩ তারা বলবে, ” হে আমাদের প্রভু ! এরাই তারা যাদের আমরা বিপথে চালিত করেছিলাম। আমরা নিজেরা যেমন পথভ্রষ্ট হয়েছিলাম এদেরও তেমনি পথভ্রষ্ট করেছিলাম। [এখন] তোমার উপস্থিতিতে আমরা [ তাদের ] দায়িত্ব থেকে অব্যহতি চাচ্ছি। এরা শুধু আমাদেরই পূঁজা করতো না [ বরং নিজেদের প্রবৃত্তিরও পূঁজা করতো ] ৩৩৯৪।

৩৩৯৩। এই আয়াতটি ও পরের আয়াতে তাদেরকেই পরীক্ষা করা হয়েছে যারা পৃথিবীতে সত্যকে ত্যাগ করেছিলো এবং পূণ্যকাজকে অবহেলা করেছিলো ও মিথ্যা মনগড়া উপাস্যের উপাসনাতে মগ্ন ছিলো। এ সব উপাস্যকে তারা আল্লাহ্‌র সমকক্ষ শক্তিশালী মনে করতো। এরাই ছিলো পাপীদের পৃথিবীতে নেতা স্বরূপ। কিন্তু শেষ বিচারের দিনে এ সব নেতারা তাদের দায়িত্ব অস্বীকার করবে। তাদের ভাষ্য হবে , ” আমরা ভ্রান্ত ছিলাম। ওরা আমাদের উদাহরণ অনুসরণ করে কারণ ওরা তাতে আনন্দ পায় এবং ওদের জন্য তা ছিলো উপযুক্ত। ওরা আমাদের পূঁজা করে নাই প্রকৃত পক্ষে ওরা নিজেদের কামনা বাসনা চরিতার্থ করার উপায় অন্বেষণ করেছিলো।

৩৩৯৪। দেখুন আয়াত [ ১০: ২৮ ] যারা মিথ্যা উপাস্যের উপাসনা করে , তারা প্রকৃতপক্ষে আত্মপূঁজা ব্যতীত অন্য কিছুই করে না। অর্থ , সম্পদ, ক্ষমতা, প্রতিপত্তি বিভিন্ন বিষয় মানুষের মিথ্যা উপাস্য হতে পারে। যে নামেই তাকে ডাকুক না কেন, যখন তাদের উপরে শেষ বিচারের দিনে আল্লাহ্‌র শাস্তির খড়গ নেমে আসবে তখন উভয়েরই বোধদয় ঘটবে। প্রত্যেকটি পাপী তখন তাদের কাজের পরিণাম সম্বন্ধে সচেতন হবে। ঘটনার পরিণতি তাদের বিহ্বল করে তুলবে। তারা তখন ইচ্ছা করবে যে, তারা যদি সময় থাকতে আল্লাহ্‌র নবীর অনুসরণ করতো।

যাদের জন্যে শাস্তির আদেশ অবধারিত হয়েছে, তারা বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা। এদেরকেই আমরা পথভ্রষ্ট করেছিলাম। আমরা তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম, যেমন আমরা পথভ্রষ্ট হয়েছিলাম। আমরা আপনার সামনে দায়মুক্ত হচ্ছি। তারা কেবল আমাদেরই এবাদত করত না।
Those about whom the Word will have come true (to be punished) will say: ”Our Lord! These are they whom we led astray. We led them astray, as we were astray ourselves. We declare our innocence (from them) before You. It was not us they worshipped.”

قَالَ الَّذِينَ حَقَّ عَلَيْهِمُ الْقَوْلُ رَبَّنَا هَؤُلَاء الَّذِينَ أَغْوَيْنَا أَغْوَيْنَاهُمْ كَمَا غَوَيْنَا تَبَرَّأْنَا إِلَيْكَ مَا كَانُوا إِيَّانَا يَعْبُدُونَ ‘
Qala allatheena haqqa AAalayhimu alqawlu rabbana haola-i allatheena aghwayna aghwaynahum kama ghawayna tabarra/na ilayka ma kanoo iyyana yaAAbudoona

YUSUFALI: Those against whom the charge will be proved, will say: “Our Lord! These are the ones whom we led astray: we led them astray, as we were astray ourselves: we free ourselves (from them) in Thy presence: it was not us they worshipped.”
PICKTHAL: Those concerning whom the Word will have come true will say: Our Lord! These are they whom we led astray. We led them astray even as we ourselves were astray. We declare our innocence before Thee: us they never worshipped.
SHAKIR: Those against whom the sentence has become confirmed will say: Our Lord! these are they whom we caused to err; we caused them to err as we ourselves did err; to Thee we declare ourselves to be clear (of them); they never served Us.
KHALIFA: Those who incurred the judgment will say, “Our Lord, these are the ones we misled; we misled them only because we ourselves had gone astray. We now devote ourselves totally to You. They were not really worshiping us.”

৬২। সেদিন [আল্লাহ্‌ ] তাদের ডেকে বলবেন, ” আমার অংশীদাররা কোথায় ? – যাদের তোমরা [ আমার শরীক বলে ] মনে করতে ? ”

৬৩। যাদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ হবে ৩৩৯৩ তারা বলবে, ” হে আমাদের প্রভু ! এরাই তারা যাদের আমরা বিপথে চালিত করেছিলাম। আমরা নিজেরা যেমন পথভ্রষ্ট হয়েছিলাম এদেরও তেমনি পথভ্রষ্ট করেছিলাম। [এখন] তোমার উপস্থিতিতে আমরা [ তাদের ] দায়িত্ব থেকে অব্যহতি চাচ্ছি। এরা শুধু আমাদেরই পূঁজা করতো না [ বরং নিজেদের প্রবৃত্তিরও পূঁজা করতো ] ৩৩৯৪।

৩৩৯৩। এই আয়াতটি ও পরের আয়াতে তাদেরকেই পরীক্ষা করা হয়েছে যারা পৃথিবীতে সত্যকে ত্যাগ করেছিলো এবং পূণ্যকাজকে অবহেলা করেছিলো ও মিথ্যা মনগড়া উপাস্যের উপাসনাতে মগ্ন ছিলো। এ সব উপাস্যকে তারা আল্লাহ্‌র সমকক্ষ শক্তিশালী মনে করতো। এরাই ছিলো পাপীদের পৃথিবীতে নেতা স্বরূপ। কিন্তু শেষ বিচারের দিনে এ সব নেতারা তাদের দায়িত্ব অস্বীকার করবে। তাদের ভাষ্য হবে , ” আমরা ভ্রান্ত ছিলাম। ওরা আমাদের উদাহরণ অনুসরণ করে কারণ ওরা তাতে আনন্দ পায় এবং ওদের জন্য তা ছিলো উপযুক্ত। ওরা আমাদের পূঁজা করে নাই প্রকৃত পক্ষে ওরা নিজেদের কামনা বাসনা চরিতার্থ করার উপায় অন্বেষণ করেছিলো।

৩৩৯৪। দেখুন আয়াত [ ১০: ২৮ ] যারা মিথ্যা উপাস্যের উপাসনা করে , তারা প্রকৃতপক্ষে আত্মপূঁজা ব্যতীত অন্য কিছুই করে না। অর্থ , সম্পদ, ক্ষমতা, প্রতিপত্তি বিভিন্ন বিষয় মানুষের মিথ্যা উপাস্য হতে পারে। যে নামেই তাকে ডাকুক না কেন, যখন তাদের উপরে শেষ বিচারের দিনে আল্লাহ্‌র শাস্তির খড়গ নেমে আসবে তখন উভয়েরই বোধদয় ঘটবে। প্রত্যেকটি পাপী তখন তাদের কাজের পরিণাম সম্বন্ধে সচেতন হবে। ঘটনার পরিণতি তাদের বিহ্বল করে তুলবে। তারা তখন ইচ্ছা করবে যে, তারা যদি সময় থাকতে আল্লাহ্‌র নবীর অনুসরণ করতো।

বলা হবে, তোমরা তোমাদের শরীকদের আহবান কর। তখন তারা ডাকবে,। অতঃপর তারা তাদের ডাকে সাড়া দিবে না এবং তারা আযাব দেখবে। হায়! তারা যদি সৎপথ প্রাপ্ত হত।
And it will be said (to them): ”Call upon your (so-called) partners (of Allâh), and they will call upon them, but they will give no answer to them, and they will see the torment. (They will then wish) if only they had been guided!

وَقِيلَ ادْعُوا شُرَكَاءكُمْ فَدَعَوْهُمْ فَلَمْ يَسْتَجِيبُوا لَهُمْ وَرَأَوُا الْعَذَابَ لَوْ أَنَّهُمْ كَانُوا يَهْتَدُونَ
Waqeela odAAoo shurakaakum fadaAAawhum falam yastajeeboo lahum waraawoo alAAathaba law annahum kanoo yahtadoona

YUSUFALI: It will be said (to them): “Call upon your ‘partners’ (for help)” :they will call upon them, but they will not listen to them; and they will see the Penalty (before them); (how they will wish) ‘if only they had been open to guidance!’
PICKTHAL: And it will be said: Cry unto your (so-called) partners (of Allah). And they will cry unto them, and they will give no answer unto them, and they will see the Doom. Ah, if they had but been guided!
SHAKIR: And it will be said: Call your associate-gods. So they will call upon them, but they will not answer them, and they shall see the punishment; would that they had followed the right way!
KHALIFA: It will be said, “Call upon your idols (to help you).” They will call upon them, but they will not respond. They will suffer the retribution, and wish that they were guided!

৬৪। [ তাদেরকে ] বলা হবে, ” [ সাহায্যের জন্য ] তোমাদের শরীকদের ডাক।” তারা উহাদের ডাকবে , কিন্তু উহারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না। তারা [ তাদের সম্মুখে ] শাস্তিকে প্রত্যক্ষ করবে। [ তারা কত ব্যাকুলভাবে চাইবে যে ] “যদি তারা সৎপথের উপরে প্রতিষ্ঠিত থাকতো।”

৬৫। সেদিন আল্লাহ্‌ তাদের ডেকে বলবেন, ৩৩৯৫ ” রাসুলদের তোমরা কি উত্তর দিয়েছিলে ? ”

৩৩৯৫। যারা পৃথিবীতে আল্লাহ্‌র নবীদের শিক্ষাকে প্রত্যাখান করেছিলো, তাদের হত্যা করেছিলো , তাদের বিচার যে ভাবে শুরু হবে তারই বর্ণনা আছে এই আয়াতে। [ ২৮ : ৬২ – ৬৪ ] আয়াতে যাদের কথা বলা হয়েছে এরা তারাই তবে এখানে তাদের বিরুদ্ধে অন্য আর এক অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।

যে দিন আল্লাহ তাদেরকে ডেকে বলবেন, তোমরা রসূলগণকে কি জওয়াব দিয়েছিলে?
And (remember) the Day (Allâh) will call to them, and say: ”What answer gave you to the Messengers?”

وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ فَيَقُولُ مَاذَا أَجَبْتُمُ الْمُرْسَلِينَ
Wayawma yunadeehim fayaqoolu matha ajabtumu almursaleena

YUSUFALI: That Day (Allah) will call to them, and say: “What was the answer ye gave to the messengers?”
PICKTHAL: And on the Day when He will call unto them and say: What answer gave ye to the messengers?
SHAKIR: And on the day when He shall call them and say: What was the answer you gave to the messengers?
KHALIFA: On that day, He will ask everyone, “How did you respond to the messengers?”

৬৪। [ তাদেরকে ] বলা হবে, ” [ সাহায্যের জন্য ] তোমাদের শরীকদের ডাক।” তারা উহাদের ডাকবে , কিন্তু উহারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না। তারা [ তাদের সম্মুখে ] শাস্তিকে প্রত্যক্ষ করবে। [ তারা কত ব্যাকুলভাবে চাইবে যে ] “যদি তারা সৎপথের উপরে প্রতিষ্ঠিত থাকতো।”

৬৫। সেদিন আল্লাহ্‌ তাদের ডেকে বলবেন, ৩৩৯৫ ” রাসুলদের তোমরা কি উত্তর দিয়েছিলে ? ”

৩৩৯৫। যারা পৃথিবীতে আল্লাহ্‌র নবীদের শিক্ষাকে প্রত্যাখান করেছিলো, তাদের হত্যা করেছিলো , তাদের বিচার যে ভাবে শুরু হবে তারই বর্ণনা আছে এই আয়াতে। [ ২৮ : ৬২ – ৬৪ ] আয়াতে যাদের কথা বলা হয়েছে এরা তারাই তবে এখানে তাদের বিরুদ্ধে অন্য আর এক অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।

অতঃপর তাদের কথাবার্তা বন্ধ হয়ে যাবে এবং তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে না।
Then the news of a good answer will be obscured to them on that day, and they will not be able to ask one another.

فَعَمِيَتْ عَلَيْهِمُ الْأَنبَاء يَوْمَئِذٍ فَهُمْ لَا يَتَسَاءلُونَ
FaAAamiyat AAalayhimu al-anbao yawma-ithin fahum la yatasaaloona

YUSUFALI: Then the (whole) story that Day will seem obscure to them (like light to the blind) and they will not be able (even) to question each other.
PICKTHAL: On that day (all) tidings will be dimmed for them, nor will they ask one of another,
SHAKIR: Then the pleas shall become obscure to them on that day, so they shall not ask each other.
KHALIFA: They will be so stunned by the facts on that day, they will be speechless.

৬৬। সেদিন সকল তথ্য তাদের সম্মুখে অস্পষ্ট হয়ে পড়বে। [ এমনকি ] তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাও করতে সক্ষম হবে না ৩৩৯৬।

৩৩৯৬। ঘটনার প্রচন্ডতায় তাদের মন হতবিহ্বল, বিভ্রান্ত ও হতাশ হয়ে পড়বে। অতীত তাদের কাছে মনে হবে অবাস্তব স্বপ্ন , বর্তমানকে মনে হবে তাদের বুদ্ধির অগম্য। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের উত্তর দানের জন্য পরস্পরের মধ্যে আলোচনা করার ক্ষমতাও তাদের থাকবে না। কারণ প্রত্যেকের মানসিক অবস্থা হবে একই প্রকার।

তবে যে তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আশা করা যায়, সে সফলকাম হবে।
But as for him who repented (from polytheism and sins, etc.), believed (in the Oneness of Allâh, and in His Messenger Muhammad SAW), and did righteous deeds (in the life of this world), then he will be among those who are successful.

فَأَمَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَعَسَى أَن يَكُونَ مِنَ الْمُفْلِحِينَ
Faamma man taba waamana waAAamila salihan faAAasa an yakoona mina almufliheena

YUSUFALI: But any that (in this life) had repented, believed, and worked righteousness, will have hopes to be among those who achieve salvation.
PICKTHAL: But as for him who shall repent and believe and do right, he haply may be one of the successful.
SHAKIR: But as to him who repents and believes and does good, maybe he will be among the successful:
KHALIFA: As for those who repent, believe, and lead a righteous life, they will end up with the winners.

৬৭। কিন্তু [এই জীবনে ] যারা অনুতপ্ত হয়েছিলো, ঈমান এনেছিলো, এবং সৎ কাজ করেছিলো – আশা করা যায় তারা পরিত্রাণ প্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে।

৬৮। তোমার প্রভু যাকে ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং মনোনীত করেন ৩৩৯৭। [ এ ব্যাপারে ] তাদের কোন হাত নাই। আল্লাহ্‌ পবিত্র , মহান , এবং ওরা যাকে শরীক করে থাকে তা থেকে তিনি বহু উর্দ্ধে।

৩৩৯৭। “যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন ” – তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী। এই বাক্যটি দ্বারা আল্লাহ্‌র ক্ষমতার প্রকাশ করা হয়েছে। সর্বশক্তিমান কারও উপরে নির্ভরশীল নন, কারও উপদেশ বা সাহায্যের তাঁর প্রয়োজন নাই। তাঁর কোনও অংশীদার নাই। সমস্ত সৃষ্টিই তাঁর ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। কোন জিনিষটি কেমন হবে সে সম্পর্কে কেউ তাঁকে নির্দ্দেশ দান করার ক্ষমতা রাখে না। কারণ তিনি জ্ঞানে এবং বিচক্ষণতায় সর্বশ্রেষ্ঠ। তাঁর প্রেরিত নবীদের ধরাতলে আগমন একমাত্র তাঁরই মনোনয়নের প্রকাশ। আর কেহ এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা রাখে না।

আপনার পালনকর্তা যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং পছন্দ করেন। তাদের কোন ক্ষমতা নেই। আল্লাহ পবিত্র এবং তারা যাকে শরীক করে, তা থেকে উর্ধ্বে।
And your Lord creates whatsoever He wills and chooses, no choice have they (in any matter). Glorified be Allâh, and exalted above all that they associate as partners (with Him).

وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاء وَيَخْتَارُ مَا كَانَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ سُبْحَانَ اللَّهِ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ
Warabbuka yakhluqu ma yashao wayakhtaru ma kana lahumu alkhiyaratu subhana Allahi wataAAala AAamma yushrikoona

YUSUFALI: Thy Lord does create and choose as He pleases: no choice have they (in the matter): Glory to Allah! and far is He above the partners they ascribe (to Him)!
PICKTHAL: Thy Lord bringeth to pass what He willeth and chooseth. They have never any choice. Glorified be Allah and Exalted above all that they associate (with Him)!
SHAKIR: And your Lord creates and chooses whom He pleases; to choose is not theirs; glory be to Allah, and exalted be He above what they associate (with Him).
KHALIFA: Your Lord is the One who creates whatever He wills, and chooses; no one else does any choosing. Glory be to GOD, the Most Exalted. He is far above needing partners.

৬৭। কিন্তু [এই জীবনে ] যারা অনুতপ্ত হয়েছিলো, ঈমান এনেছিলো, এবং সৎ কাজ করেছিলো – আশা করা যায় তারা পরিত্রাণ প্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে।

৬৮। তোমার প্রভু যাকে ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং মনোনীত করেন ৩৩৯৭। [ এ ব্যাপারে ] তাদের কোন হাত নাই। আল্লাহ্‌ পবিত্র , মহান , এবং ওরা যাকে শরীক করে থাকে তা থেকে তিনি বহু উর্দ্ধে।

৩৩৯৭। “যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন ” – তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী। এই বাক্যটি দ্বারা আল্লাহ্‌র ক্ষমতার প্রকাশ করা হয়েছে। সর্বশক্তিমান কারও উপরে নির্ভরশীল নন, কারও উপদেশ বা সাহায্যের তাঁর প্রয়োজন নাই। তাঁর কোনও অংশীদার নাই। সমস্ত সৃষ্টিই তাঁর ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। কোন জিনিষটি কেমন হবে সে সম্পর্কে কেউ তাঁকে নির্দ্দেশ দান করার ক্ষমতা রাখে না। কারণ তিনি জ্ঞানে এবং বিচক্ষণতায় সর্বশ্রেষ্ঠ। তাঁর প্রেরিত নবীদের ধরাতলে আগমন একমাত্র তাঁরই মনোনয়নের প্রকাশ। আর কেহ এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা রাখে না।

তাদের অন্তর যা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে, আপনার পালনকর্তা তা জানেন।
And your Lord knows what their breasts conceal, and what they reveal.

وَرَبُّكَ يَعْلَمُ مَا تُكِنُّ صُدُورُهُمْ وَمَا يُعْلِنُونَ
Warabbuka yaAAlamu ma tukinnu sudooruhum wama yuAAlinoona

YUSUFALI: And thy Lord knows all that their hearts conceal and all that they reveal.
PICKTHAL: And thy Lord knoweth what their breasts conceal, and what they publish.
SHAKIR: And your Lord knows what their breasts conceal and what they manifest.
KHALIFA: Your Lord knows the innermost thoughts hidden in their chests, as well as everything they declare.

৬৯। এবং তাদের অন্তর যা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে ,তোমার প্রভু তা সব জানেন ৩৩৯৮।

৩৩৯৮। মানুষ পৃথিবীর স্বল্প কালীন জীবনে বহু পরিকল্পনা করে যার অনেক কিছুই সে গোপন রাখে, অনেক ইচ্ছাই অপূরণীয় থেকে যায়। কিন্তু সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌র নিকট সকলের অন্তরের খবর দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। আল্লাহ্‌র ইচ্ছাই সর্বশ্রেষ্ঠ এবং তা বাধা দেয়ার ক্ষমতা কারও নাই।

তিনিই আল্লাহ তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। ইহকাল ও পরকালে তাঁরই প্রশংসা। বিধান তাঁরই ক্ষমতাধীন এবং তোমরা তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।
And He is Allâh; Lâ ilâha illa Huwa (none has the right to be worshipped but He). His is all praise, in the first (i.e. in this world) and in the last (i.e.in the Hereafter). And for Him is the Decision, and to Him shall you (all) be returned.

وَهُوَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَهُ الْحَمْدُ فِي الْأُولَى وَالْآخِرَةِ وَلَهُ الْحُكْمُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
Wahuwa Allahu la ilaha illa huwa lahu alhamdu fee al-oola waal-akhirati walahu alhukmu wa-ilayhi turjaAAoona

YUSUFALI: And He is Allah: There is no god but He. To Him be praise, at the first and at the last: for Him is the Command, and to Him shall ye (all) be brought back.
PICKTHAL: And He is Allah; there is no Allah save Him. His is all praise in the former and the latter (state), and His is the command, and unto Him ye will be brought back.
SHAKIR: And He is Allah, there is no god but He! All praise is due to Him in this (life) and the hereafter, and His is the judgment, and to Him you shall be brought back.
KHALIFA: He is the one GOD; there is no other god beside Him. To Him belongs all praise in this first life, and in the Hereafter. All judgment belongs with Him, and to Him you will be returned.

৭০। এবং তিনি আল্লাহ্‌। তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই। [সৃষ্টির ] আদিতে এবং অন্তে – সকল প্রশংসা তারই। বিধান তারই। তোমাদের [ সকলকে ] তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত করা হবে।

৭১। বল : ” তোমরা কি চিন্তা করে দেখেছ ? আল্লাহ্‌ যদি রাত্রিকে শেষ বিচারের দিন পর্যন্ত চিরস্থায়ী করতেন, তবে আল্লাহ্‌ ব্যতীত এমন কোন উপাস্য আছে কি যে তোমাদের আলোকসম্পাত করতে পারতো ? তবুও কি তোমরা শুনবে না ? ৩৩৯৯

৩৩৯৯। এই আয়াতগুলির মাধ্যমে আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ সমূহকে তুলে ধরা হয়েছে। কত সুক্ষ ও গভীর ভাবে মানুষের অনুভূতি ও উপলব্ধিকে জাগরিত করার প্রয়াস হয়েছে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমরা দিবারাত্রের পর্যায়ক্রমে অভ্যস্ত। কিন্তু এর মাঝে যে আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ রয়েছে তা কখনও অনুভব করি না, হৃদয়ঙ্গম করি না। দিন হচ্ছে আমাদের দিবসের কাজের জন্য নির্ধারিত আর রাত্রি বিশ্রামের জন্য। যদি ধরাপৃষ্ঠে কোনও দিনের আভির্ভাব না ঘটতো, রাত্রি যদি অনাদি অনন্তকাল ব্যপী দীর্ঘ হতো তবে আমাদের কি পরিণতি ঘটতো ? আমাদের সকল বুদ্ধি , অনুভব ক্ষমতা হারিয়ে যেতো। আমরা মাটির নীচের অন্ধকার জীবে পরিণত হতাম। সারা পৃথিবী বৃক্ষলতা শূন্য বিরান ভূমিতে পরিণত হতো। দিনের পৃথিবীর সৌন্দর্য্য , অনুভব জীবন থেকে হারিয়ে যেতো। আমাদের সকল মানসিক দক্ষতা নষ্ট হয়ে যেতো, আবার যদি রাত্রির আগমন না ঘটে পৃথিবীতে শুধুই দিন থাকতো , তবে দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের শেষে গভীর সুপ্তির কোলে বিশ্রাম ঘটতো না। ফলে ক্লান্তি ধীরে ধীরে আমাদের গ্রাস করে ফেলতো , আমাদের কর্মক্ষমতা হারিয়ে যেতো। পৃথিবী ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ না পেয়ে মাটি প্রচন্ড উত্তপ্ত হয়ে যেতো ফলে পৃথিবী বৃক্ষলতা শূন্য হয়ে জীবনের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হতো। দিনরাত্রির পর্যায়ক্রমের ফলে আমাদের প্রতিদিনের জীবন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত সমৃদ্ধ ও সুখী। এ ভাবেই আমরা আমাদের পৃথিবীর শিক্ষানবীশ কালকে সমাপ্ত করে পরলোকের স্থায়ী জীবনের জন্য প্রস্তুত হতে পারি। আমাদের আধ্যাত্মিক জীবনের সমৃদ্ধিও দিন রাত্রির প্রতিদিনের ন্যায় পর্যায়ক্রমে গঠিত হয়। আধ্যাত্মিক সমৃদ্ধির জন্য চেষ্টাও ক্রমাগত ধারাবাহিক ভাবে চলতে পারে না। কখনও তা সক্রিয় কখনও তা নিষ্ক্রিয় থাকে। পৃথিবীতে আল্লাহ্‌ র নির্দ্দেশিত পথে পূত পবিত্র জীবন যাপনের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সমৃদ্ধি ঘটে, তবে মাঝে মাঝে ক্ষণস্থায়ী ঘটনা প্রবাহ বাঁধার সৃষ্টি করে বিশ্রামের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। পৃথিবীর ইতিহাসেও আমরা দেখি আল্লাহ্‌র নবী রসুলদের আগমনে পৃথিবীতে তীব্র আধ্যাত্মিক আলোড়নের সৃষ্টি হয় পৃথিবী উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে স্বর্গীয় আলোয়। আবার এমন সময় আসে যখন পৃথিবী আত্মিক আলো বিহীন হয়ে পাপের অন্ধকারে ডুবে যায় [ অন্ধকার যুগ ]। এ সবই ঘটে থাকে পর্যায়ক্রমে।তবে এ কথা স্মরণ রাখতে হবে যে, এ সবই হচ্ছে আল্লাহ্‌র পরিকল্পনার অংশ মাত্র। তাঁর জ্ঞান, বিচক্ষণতা ও দয়া, তুলনাহীন, যা শুধুমাত্র পৃথিবী ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত প্রযোজ্য। এরপরে সৃষ্টি হবে নূতন পৃথিবী নূতন আঙ্গিকে , নূতন আইনে।

বলুন, ভেবে দেখ তো, আল্লাহ যদি রাত্রিকে কেয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করেন, তবে আল্লাহ ব্যতীত এমন উপাস্য কে আছে, যে তোমাদেরকে আলোক দান করতে পারে? তোমরা কি তবুও কর্ণêপাত করবে না?
Say (O Muhammad SAW): ”Tell me! If Allâh made night continuous for you till the Day of Resurrection, who is an ilâh (a god) besides Allâh who could bring you light? Will you not then hear?”

قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِن جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ اللَّيْلَ سَرْمَدًا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ إِلَهٌ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُم بِضِيَاء أَفَلَا تَسْمَعُونَ
Qul araaytum in jaAAala Allahu AAalaykumu allayla sarmadan ila yawmi alqiyamati man ilahun ghayru Allahi ya/teekum bidiya-in afala tasmaAAoona

YUSUFALI: Say: See ye? If Allah were to make the night perpetual over you to the Day of Judgment, what god is there other than Allah, who can give you enlightenment? Will ye not then hearken?
PICKTHAL: Say: Have ye thought, if Allah made night everlasting for you till the Day of Resurrection, who is a god beside Allah who could bring you light? Will ye not then hear?
SHAKIR: Say: Tell me, if Allah were to make the night to continue incessantly on you till the day of resurrection, who is the god besides Allah that could bring you light? Do you not then hear?
KHALIFA: Say, “What if GOD made the night perpetual, until the Day of Resurrection? Which god, other than GOD, can provide you with light? Do you not hear?”

৭০। এবং তিনি আল্লাহ্‌। তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই। [সৃষ্টির ] আদিতে এবং অন্তে – সকল প্রশংসা তারই। বিধান তারই। তোমাদের [ সকলকে ] তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত করা হবে।

৭১। বল : ” তোমরা কি চিন্তা করে দেখেছ ? আল্লাহ্‌ যদি রাত্রিকে শেষ বিচারের দিন পর্যন্ত চিরস্থায়ী করতেন, তবে আল্লাহ্‌ ব্যতীত এমন কোন উপাস্য আছে কি যে তোমাদের আলোকসম্পাত করতে পারতো ? তবুও কি তোমরা শুনবে না ? ৩৩৯৯

৩৩৯৯। এই আয়াতগুলির মাধ্যমে আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ সমূহকে তুলে ধরা হয়েছে। কত সুক্ষ ও গভীর ভাবে মানুষের অনুভূতি ও উপলব্ধিকে জাগরিত করার প্রয়াস হয়েছে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমরা দিবারাত্রের পর্যায়ক্রমে অভ্যস্ত। কিন্তু এর মাঝে যে আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ রয়েছে তা কখনও অনুভব করি না, হৃদয়ঙ্গম করি না। দিন হচ্ছে আমাদের দিবসের কাজের জন্য নির্ধারিত আর রাত্রি বিশ্রামের জন্য। যদি ধরাপৃষ্ঠে কোনও দিনের আভির্ভাব না ঘটতো, রাত্রি যদি অনাদি অনন্তকাল ব্যপী দীর্ঘ হতো তবে আমাদের কি পরিণতি ঘটতো ? আমাদের সকল বুদ্ধি , অনুভব ক্ষমতা হারিয়ে যেতো। আমরা মাটির নীচের অন্ধকার জীবে পরিণত হতাম। সারা পৃথিবী বৃক্ষলতা শূন্য বিরান ভূমিতে পরিণত হতো। দিনের পৃথিবীর সৌন্দর্য্য , অনুভব জীবন থেকে হারিয়ে যেতো। আমাদের সকল মানসিক দক্ষতা নষ্ট হয়ে যেতো, আবার যদি রাত্রির আগমন না ঘটে পৃথিবীতে শুধুই দিন থাকতো , তবে দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের শেষে গভীর সুপ্তির কোলে বিশ্রাম ঘটতো না। ফলে ক্লান্তি ধীরে ধীরে আমাদের গ্রাস করে ফেলতো , আমাদের কর্মক্ষমতা হারিয়ে যেতো। পৃথিবী ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ না পেয়ে মাটি প্রচন্ড উত্তপ্ত হয়ে যেতো ফলে পৃথিবী বৃক্ষলতা শূন্য হয়ে জীবনের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হতো। দিনরাত্রির পর্যায়ক্রমের ফলে আমাদের প্রতিদিনের জীবন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত সমৃদ্ধ ও সুখী। এ ভাবেই আমরা আমাদের পৃথিবীর শিক্ষানবীশ কালকে সমাপ্ত করে পরলোকের স্থায়ী জীবনের জন্য প্রস্তুত হতে পারি। আমাদের আধ্যাত্মিক জীবনের সমৃদ্ধিও দিন রাত্রির প্রতিদিনের ন্যায় পর্যায়ক্রমে গঠিত হয়। আধ্যাত্মিক সমৃদ্ধির জন্য চেষ্টাও ক্রমাগত ধারাবাহিক ভাবে চলতে পারে না। কখনও তা সক্রিয় কখনও তা নিষ্ক্রিয় থাকে। পৃথিবীতে আল্লাহ্‌ র নির্দ্দেশিত পথে পূত পবিত্র জীবন যাপনের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সমৃদ্ধি ঘটে, তবে মাঝে মাঝে ক্ষণস্থায়ী ঘটনা প্রবাহ বাঁধার সৃষ্টি করে বিশ্রামের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। পৃথিবীর ইতিহাসেও আমরা দেখি আল্লাহ্‌র নবী রসুলদের আগমনে পৃথিবীতে তীব্র আধ্যাত্মিক আলোড়নের সৃষ্টি হয় পৃথিবী উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে স্বর্গীয় আলোয়। আবার এমন সময় আসে যখন পৃথিবী আত্মিক আলো বিহীন হয়ে পাপের অন্ধকারে ডুবে যায় [ অন্ধকার যুগ ]। এ সবই ঘটে থাকে পর্যায়ক্রমে।তবে এ কথা স্মরণ রাখতে হবে যে, এ সবই হচ্ছে আল্লাহ্‌র পরিকল্পনার অংশ মাত্র। তাঁর জ্ঞান, বিচক্ষণতা ও দয়া, তুলনাহীন, যা শুধুমাত্র পৃথিবী ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত প্রযোজ্য। এরপরে সৃষ্টি হবে নূতন পৃথিবী নূতন আঙ্গিকে , নূতন আইনে।

বলুন, ভেবে দেখ তো, আল্লাহ যদি দিনকে কেয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করেন, তবে আল্লাহ ব্যতীত এমন উপাস্য কে আছে যে, তোমাদেরকে রাত্রি দান করতে পারে, যাতে তোমরা বিশ্রাম করবে ? তোমরা কি তবুও ভেবে দেখবে না ?
Say (O Muhammad SAW): ”Tell me! If Allâh made day continuous for you till the Day of Resurrection, who is an ilâh (a god) besides Allâh who could bring you night wherein you rest? Will you not then see?”

قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِن جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ النَّهَارَ سَرْمَدًا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ إِلَهٌ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُم بِلَيْلٍ تَسْكُنُونَ فِيهِ أَفَلَا تُبْصِرُونَ
Qul araaytum in jaAAala Allahu AAalaykumu alnnahara sarmadan ila yawmi alqiyamati man ilahun ghayru Allahi ya/teekum bilaylin taskunoona feehi afala tubsiroona

YUSUFALI: Say: See ye? If Allah were to make the day perpetual over you to the Day of Judgment, what god is there other than Allah, who can give you a night in which ye can rest? Will ye not then see?
PICKTHAL: Say: Have ye thought, if Allah made day everlasting for you till the Day of Resurrection, who is a god beside Allah who could bring you night wherein ye rest? Will ye not then see?
SHAKIR: Say: Tell me, if Allah were to make the day to continue incessantly on you till the day of resurrection, who is the god besides Allah that could bring you the night in which you take rest? Do you not then see?
KHALIFA: Say, “What if GOD made the daylight perpetual, until the Day of Resurrection? Which god, other than GOD, can provide you with a night for your rest? Do you not see?”

৭২। বল; ” তোমরা কি চিন্তা করে দেখেছ ? আল্লাহ্‌ যদি দিনকে শেষ বিচারের দিন পর্যন্ত চিরস্থায়ী করতেন, তবে আল্লাহ্‌ ব্যতীত এমন কোন উপাস্য আছে কি , যে তোমাদের বিশ্রামের জন্য রাত্রি দান করতে পারতো ? তবু কি তোমরা ভেবে দেখবে না ? “৩৪০০

৩৪০০। আয়াত [ ২৮ : ৭১ ] এ চিরস্থায়ী রাত্রির কথা বলা হয়েছে। অনন্ত বিশ্রাম মৃত্যুর সমতুল্য যা মানুষের মানসিক দক্ষতাকে পঙ্গু করে ফেলে। সুতারাং আয়াতটি শেষ করা হয়েছে যে কোনও র্বাতা শোনা বা উপলব্ধি করার মানসিক দক্ষতার কাছে আবেদন করে বলা হয়েছে : ” তোমরা কি ভেবে দেখবে না ? ” এই আয়াতে [ ২৮ : ৭২ ] চিরস্থায়ী দিনের উল্লেখ আছে। দিনের সাথে দেখার ও অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের সম্পর্ক বিদ্যমান। সুতারাং এই আয়াতটি ” ভেবে দেখবে না ” বাক্যটি দ্বারা শেষ করা হয়েছে। কারণ মানুষ জাগ্রত অবস্থায় আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ অন্বেষণের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে , চিন্তা করে, অনুভব করে , উপলব্ধি করে। পৃথিবীর অভিজ্ঞতা বিভিন্ন ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে ব্যক্তির সত্ত্বার মাঝে প্রবেশ করে এবং তার অভিজ্ঞতার ভান্ডার সমৃদ্ধ করে। আত্মার অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করার এটা কি স্রষ্টার এক বিশেষ অবদান নয়?

তিনিই স্বীয় রহমতে তোমাদের জন্যে রাত ও দিন করেছেন, যাতে তোমরা তাতে বিশ্রাম গ্রহণ কর ও তাঁর অনুগ্রহ অন্বেষণ কর এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
It is out of His Mercy that He has put for you night and day, that you may rest therein (i.e. during the night) and that you may seek of His Bounty (i.e. during the day), and in order that you may be grateful.

وَمِن رَّحْمَتِهِ جَعَلَ لَكُمُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ لِتَسْكُنُوا فِيهِ وَلِتَبْتَغُوا مِن فَضْلِهِ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
Wamin rahmatihi jaAAala lakumu allayla waalnnahara litaskunoo feehi walitabtaghoo min fadlihi walaAAallakum tashkuroona

YUSUFALI: It is out of His Mercy that He has made for you Night and Day,- that ye may rest therein, and that ye may seek of his Grace;- and in order that ye may be grateful.
PICKTHAL: Of His mercy hath He appointed for you night and day, that therein ye may rest, and that ye may seek His bounty, and that haply ye may be thankful.
SHAKIR: And out of His mercy He has made for you the night and the day, that you may rest therein, and that you may seek of His grace, and that you may give thanks.
KHALIFA: It is mercy from Him that He created for you the night and the day in order to rest (during the night), then seek His provisions (during the day), that you may be appreciative.

৭৩। এটা তাঁর একান্ত দয়া যে, তিনি তোমাদের জন্য রাত্রি ও দিনকে সৃষ্টি করেছেন – যেনো তোমরা তাতে বিশ্রাম করতে পার ও তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার; – এবং যেনো তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার।

৭৪। সেদিন তিনি তাদের ডেকে জিজ্ঞাসা করবেন, ” আমার শরীকরা কোথায় – যাদের তোমরা [ শরীক বলে ] কল্পনা করতে ? ” ৩৪০১

৩৪০১। দেখুন আয়াত [ ২৮ : ৬২ ] আয়াত। এই আয়াতটি দ্বারা এই পরিচ্ছেদের সমাপ্তি করা হয়েছে।

যেদিন আল্লাহ তাদেরকে ডেকে বলবেন, তোমরা যাদেরকে আমার শরীক মনে করতে, তারা কোথায়?
And (remember) the Day when He (your Lord Allâh) will call them (those who worshipped others along with Allâh), and will say: ”Where are My (so-called) partners, whom you used to assert?”

وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ فَيَقُولُ أَيْنَ شُرَكَائِيَ الَّذِينَ كُنتُمْ تَزْعُمُونَ
Wayawma yunadeehim fayaqoolu ayna shuraka-iya allatheena kuntum tazAAumoona

YUSUFALI: The Day that He will call on them, He will say: “Where are my ‘partners’? whom ye imagined (to be such)?”
PICKTHAL: And on the Day when He shall call unto them and say: Where are My partners whom ye pretended?
SHAKIR: And on the day when He shall call them and say: Where are those whom you deemed to be My associates?
KHALIFA: The day will come when He asks them, “Where are the idols you had fabricated to rank with Me?”

৭৩। এটা তাঁর একান্ত দয়া যে, তিনি তোমাদের জন্য রাত্রি ও দিনকে সৃষ্টি করেছেন – যেনো তোমরা তাতে বিশ্রাম করতে পার ও তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার; – এবং যেনো তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার।

৭৪। সেদিন তিনি তাদের ডেকে জিজ্ঞাসা করবেন, ” আমার শরীকরা কোথায় – যাদের তোমরা [ শরীক বলে ] কল্পনা করতে ? ” ৩৪০১

৩৪০১। দেখুন আয়াত [ ২৮ : ৬২ ] আয়াত। এই আয়াতটি দ্বারা এই পরিচ্ছেদের সমাপ্তি করা হয়েছে।

প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে আমি একজন সাক্ষী আলাদা করব; অতঃপর বলব, তোমাদের প্রমাণ আন। তখন তারা জানতে পারবে যে, সত্য আল্লাহর এবং তারা যা গড়ত, তা তাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে যাবে।
And We shall take out from every nation a witness, and We shall say: ”Bring your proof.” Then they shall know that the truth is with Allâh (Alone), and the lies (false gods) which they invented will disappear from them.

وَنَزَعْنَا مِن كُلِّ أُمَّةٍ شَهِيدًا فَقُلْنَا هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ فَعَلِمُوا أَنَّ الْحَقَّ لِلَّهِ وَضَلَّ عَنْهُم مَّا كَانُوا يَفْتَرُونَ
WanazaAAna min kulli ommatin shaheedan faqulna hatoo burhanakum faAAalimoo anna alhaqqa lillahi wadalla AAanhum ma kanoo yaftaroona

YUSUFALI: And from each people shall We draw a witness, and We shall say: “Produce your Proof”: then shall they know that the Truth is in Allah (alone), and the (lies) which they invented will leave them in lurch.
PICKTHAL: And We shall take out from every nation a witness and We shall say: Bring your proof. Then they will know that Allah hath the Truth, and all that they invented will have failed them.
SHAKIR: And We will draw forth from among every nation a witness and say: Bring your proof; then shall they know that the truth is Allah’s, and that which they forged shall depart from them.
KHALIFA: We will select from every community a witness, then say, “Present your proof.” They will realize then that all truth belongs with GOD, while the idols they had fabricated will abandon them.

৭৫। এবং প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে আমি একজন সাক্ষী বের করে আনবো এবং বলবো ৩৪০২ ; ” তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর।” তখন তারা জানবে যে সত্য [ একমাত্র ] আল্লাহ্‌ ,এবং যে [ মিথ্যা ] তারা উদ্ভাবন করেছিলো, তা তাদের হতাশার মাঝে পরিত্যাগ করে ফেলে যাবে ৩৪০৩।

৩৪০২। দেখুন [ ৪: ৪১] শেষ বিচারের দিনে প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে একজন নবীকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করা হবে , যারা সাক্ষী দেবে যে, তারা আল্লাহ্‌র একত্বের কথা যথাযথ ভাবে প্রচার করেছেন। যারা এই একত্ববাদকে এই পৃথিবীতে অস্বীকার করে বিভিন্ন উপাস্যের উপাসনা করেছে তাদের প্রমাণ উপস্থিত করতে বলা হবে যে, কোন অধিকারের বলে তারা আল্লাহ্‌র একত্বকে অস্বীকার করেছিলো।

৩৪০৩। রোজ কিয়ামতের পরে শেষ বিচারের দিনে যে পৃথিবীর কথা বলা হয়েছে তা হবে এক নূতন পৃথিবী যার পরিচিতি বর্তমান এই পৃথিবী থেকে লাভ করা বা উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। বর্তমান পৃথিবীতে আমরা বেঁচে থাকার জন্য , শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য, অর্থ-সম্পদ, প্রভাব প্রতিপত্তি কুক্ষিগত করার জন্য যত রকম মিথ্যা বা অর্ধ সত্য বা প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করি তা সবই শেষ বিচারের দিনে মনে হবে মিথ্যা মায়া -মরীচিকা। জাগতিক সকল মিথ্যা অন্তর্হিত হয়ে যাবে, প্রকৃত সত্যের স্বরূপ হবে ভাস্বর। ফলে পৃথিবীতে যারা মিথ্যার উপরে জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলো তারা চরম হতাশায় নিমজ্জিত হবে।

কারুন ছিল মূসার সম্প্রদায়ভুক্ত। অতঃপর সে তাদের প্রতি দুষ্টামি করতে আরম্ভ করল। আমি তাকে এত ধন-ভান্ডার দান করেছিলাম যার চাবি বহন করা কয়েকজন শক্তিশালী লোকের পক্ষে কষ্টসাধ্য ছিল। যখন তার সম্প্রদায় তাকে বলল, দম্ভ করো না, আল্লাহ দাম্ভিকদেরকে ভালবাসেন না।
Verily, Qârûn (Korah) was of Mûsa’s (Moses) people, but he behaved arrogantly towards them. And We gave him of the treasures, that of which the keys would have been a burden to a body of strong men. When his people said to him: ”Do not be glad (with ungratefulness to Allâh’s Favours). Verily! Allâh likes not those who are glad (with ungratefulness to Allâh’s Favours).

إِنَّ قَارُونَ كَانَ مِن قَوْمِ مُوسَى فَبَغَى عَلَيْهِمْ وَآتَيْنَاهُ مِنَ الْكُنُوزِ مَا إِنَّ مَفَاتِحَهُ لَتَنُوءُ بِالْعُصْبَةِ أُولِي الْقُوَّةِ إِذْ قَالَ لَهُ قَوْمُهُ لَا تَفْرَحْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْفَرِحِينَ
Inna qaroona kana min qawmi moosa fabagha AAalayhim waataynahu mina alkunoozi ma inna mafatihahu latanoo-o bialAAusbati olee alquwwati ith qala lahu qawmuhu la tafrah inna Allaha la yuhibbu alfariheena

YUSUFALI: Qarun was doubtless, of the people of Moses; but he acted insolently towards them: such were the treasures We had bestowed on him that their very keys would have been a burden to a body of strong men, behold, his people said to him: “Exult not, for Allah loveth not those who exult (in riches).
PICKTHAL: Now Korah was of Moses’ folk, but he oppressed them; and We gave him so much treasure that the stores thereof would verily have been a burden for a troop of mighty men. When his own folk said unto him: Exult not; lo! Allah loveth not the exultant;
SHAKIR: Surely Qaroun was of the people of Musa, but he rebelled against them, and We had given him of the treasures, so much so that his hoards of wealth would certainly weigh down a company of men possessed of great strength. When his people said to him: Do not exult, surely Allah does not love the exultant;
KHALIFA: Qaaroon (the slave driver) was one of Moses’ people who betrayed them and oppressed them. We gave him so many treasures that the keys thereof were almost too heavy for the strongest hand. His people said to him, “Do not be so arrogant; GOD does not love those who are arrogant.

রুকু – ৮

৭৬। কারুণ ছিলো নিঃসন্দেহে মুসার সম্প্রদায়ভুক্ত লোক ৩৪০৪। কিন্তু সে তাদের প্রতি ঔদ্ধত্যপূর্ণ ব্যবহার করতো। অথচ আমি তাকে দান করেছিলাম এমন অগাধ ধন-ভান্ডার ৩৪০৫ , যে যার চাবিগুলি বহন করা একদল বলবান লোকের পক্ষেও কষ্টসাধ্য ছিলো ৩৪০৬। স্মরণ কর, তার সম্প্রদায় তাকে বলেছিলো , ” দম্ভ করো না , নিশ্চয়ই যারা [ সম্পদের ] অহংকার করে আল্লাহ্‌ তাদের পছন্দ করেন না।”

৩৪০৪। ইংরেজী বাইবেলে কারুণকে কোরাহ্‌ নামে অভিহিত করা হয়েছে। সেখানে কোরাহ্‌ এর কাহিনী [ Num xvi i – 13 ] নিম্নরূপ। কোরাহ্‌ এবং তার দুইশত পঞ্চাশ জন অনুসারী মুসা এবং হারূণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। তাঁদের বিদ্রোহের কারণ তাদের ধারণা, তাদের সম্মান, প্রতিপত্তি, অর্থবিত্ত তাদের মুসা এবং হারূণের মত আধ্যাত্মিক নেতা হওয়ার যোগ্যতা দান করেছে। জাগতিক বৈভব এবং সম্মানের দরুণ তারা মুসা ও হারূণের মতই পবিত্র ও পূণ্যাত্মা এবং তারা পূরোহিতের ন্যায় পূঁজা করার অধিকারী। এদেরকেই আল্লাহ্‌ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দান করেন, ” পৃথিবী মুখ ব্যদান করেছিলো এবং কোরাহ্‌ এর সকল সম্পত্তি এবং অধিকারভূক্ত সকল লোকজনসহ কোরাহ্‌ কে গ্রাস করে ফেলে। পৃথিবীর মুখ বন্ধ হয়ে যায় ,ফলে সে এবং তার অধিকারে যারা ছিলো সকলে মৃত্তিকা গর্ভে জীবন্ত বিলীন হয়ে যায়। ফলে জনসমাবেশের মধ্যে থেকেও তারা ধ্বংস হয়ে যায়।

৩৪০৫। এখানে কারূণের অশেষ সম্পদের বর্ণনা করা হয়েছে।

৩৪০৬। ‘Usbat’ অর্থ বলবান লোকের শরীর। এখানে সাধারণ ভাবে দশ থেকে চল্লিশ জন বলবান লোককে বোঝানো হয়েছে। প্রাচীন কালে সিন্ধুকের চাবিগুলি ছিলো বৃহৎ আকার এবং ভারী। যদি কারুণের একশতটি সিন্ধুকেও থেকে থাকে, তবে ধারণা করা যায় যে, সেই চাবিগুলির ওজন ছিলো অত্যাধিক। যখন কারূণ এক স্থান থেকে থেকে অন্য স্থানে মরুভূমির মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করতো , সে ধনরত্ন ভরা সিন্ধুকগুলি মিশরে রেখে শুধু চাবিগুলি নিজের সাথে বহন করে নিত। সেই চাবিগুলি বহন করতেই একদল বলবান লোকের প্রয়োজন হতো।

আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন, তদ্বারা পরকালের গৃহ অনুসন্ধান কর, এবং ইহকাল থেকে তোমার অংশ ভূলে যেয়ো না। তুমি অনুগ্রহ কর, যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করতে প্রয়াসী হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ অনর্থ সৃষ্টিকারীদেরকে পছন্দ করেন না।
But seek, with that (wealth) which Allâh has bestowed on you, the home of the Hereafter, and forget not your portion of legal enjoyment in this world, and do good as Allâh has been good to you, and seek not mischief in the land. Verily, Allâh likes not the Mufsidûn (those who commit great crimes and sins, oppressors, tyrants, mischief-makers, corrupts).

وَابْتَغِ فِيمَا آتَاكَ اللَّهُ الدَّارَ الْآخِرَةَ وَلَا تَنسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا وَأَحْسِن كَمَا أَحْسَنَ اللَّهُ إِلَيْكَ وَلَا تَبْغِ الْفَسَادَ فِي الْأَرْضِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ
Waibtaghi feema ataka Allahu alddara al-akhirata wala tansa naseebaka mina alddunya waahsin kama ahsana Allahu ilayka wala tabghi alfasada fee al-ardi inna Allaha la yuhibbu almufsideena

YUSUFALI: “But seek, with the (wealth) which Allah has bestowed on thee, the Home of the Hereafter, nor forget thy portion in this world: but do thou good, as Allah has been good to thee, and seek not (occasions for) mischief in the land: for Allah loves not those who do mischief.”
PICKTHAL: But seek the abode of the Hereafter in that which Allah hath given thee and neglect not thy portion of the world, and be thou kind even as Allah hath been kind to thee, and seek not corruption in the earth; lo! Allah loveth not corrupters,
SHAKIR: And seek by means of what Allah has given you the future abode, and do not neglect your portion of this world, and do good (to others) as Allah has done good to you, and do not seek to make mischief in the land, surely Allah does not love the mischief-makers.
KHALIFA: “Use the provisions bestowed upon you by GOD to seek the abode of the Hereafter, without neglecting your share in this world. Be charitable, as GOD has been charitable towards you. Do not keep on corrupting the earth. GOD does not love the corruptors.”

৭৭। বরং আল্লাহ্‌ যে [সম্পদ ] তোমাকে দান করেছেন , তা দিয়ে পরলোকের আবাস অনুসন্ধান কর ৩৪০৭। এই পৃথিবীতে তোমার অংশ ভুলে যেও না। পরের উপকার কর যেমন আল্লাহ্‌ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করার কারণ [ অনুসন্ধান ] করো না। কারণ যারা অশান্তি সৃষ্টি করে আল্লাহ্‌ তাদের ভালোবাসেন না।

৩৪০৭। আখিরাতের আবাস অনুসন্ধানের পথ এখানে বলে দেয়া হয়েছে। সে পথ হচ্ছে , ” পরোপকার করা।” ভালো কাজে আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য দান করা। মানুষের অর্থ-সম্পদ , বিষয়-বৈভব,মান সম্মান , সবই সেই সর্ব শক্তিমানের অনুগ্রহ এই সাধারণ সত্য কথাটি মানুষ ভুলে যায়। আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ , আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করা প্রয়োজন। তার অর্থ এই নয় যে, কেউ তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনকে অস্বীকার করবে ” পৃথিবীতে তোমার অংশ ভুলে যেও না।” একমাত্র কৃপণ যারা তারাই ব্যক্তিগত প্রয়োজনেও খরচ করে না। যারা সর্বদা শুধুমাত্র অর্থ সম্পদের কথাই দিনরাত্রি চিন্তা করে তারাই বিশেষতঃ কৃপণ হয়। যদি অর্থ সম্পদ সঠিকভাবে খরচ করা না হয়, তবে নিম্নোক্ত তিন ধরণের পাপের দ্বারা সম্পদের অধিকারী ব্যক্তিরা বেষ্টিত হয় :

১) তারা হয় অত্যন্ত কৃপণ ! তারা নিজের ও পরিবারবর্গের ব্যক্তিগত প্রয়োজনেও খরচ করতে পারে না।

২) সে গরীবের দুঃখ কষ্ট বুঝতে অক্ষম অথবা কোনও মহৎ কাজেও সে সম্পদের সদ্ব্যবহার করতে অক্ষম।

৩) এবং সে সম্পদের অপব্যবহার করে এবং সমাজের বহু ক্ষতি সাধন করে।

বাহ্যতঃ প্রতীয়মান হয় যে, কারূণ এই তিন ধরণের পাপেই আসক্ত ছিলো

সে বলল, আমি এই ধন আমার নিজস্ব জ্ঞান-গরিমা দ্বারা প্রাপ্ত হয়েছি। সে কি জানে না যে, আল্লাহ তার পূর্বে অনেক সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছেন, যারা শক্তিতে ছিল তার চাইতে প্রবল এবং ধন-সম্পদে অধিক প্রাচুর্যশীল? পাপীদেরকে তাদের পাপকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে না।
He said: ”This has been given to me only because of knowledge I possess.” Did he not know that Allâh had destroyed before him generations, men who were stronger than him in might and greater in the amount (of riches) they had collected. But the Mujrimûn (criminals, disbelievers, polytheists, sinners, etc.) will not be questioned of their sins (because Allâh knows them well, so they will be punished without account).

قَالَ إِنَّمَا أُوتِيتُهُ عَلَى عِلْمٍ عِندِي أَوَلَمْ يَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ قَدْ أَهْلَكَ مِن قَبْلِهِ مِنَ القُرُونِ مَنْ هُوَ أَشَدُّ مِنْهُ قُوَّةً وَأَكْثَرُ جَمْعًا وَلَا يُسْأَلُ عَن ذُنُوبِهِمُ الْمُجْرِمُونَ
Qala innama ooteetuhu AAala AAilmin AAindee awa lam yaAAlam anna Allaha qad ahlaka min qablihi mina alqurooni man huwa ashaddu minhu quwwatan waaktharu jamAAan wala yus-alu AAan thunoobihimu almujrimoona

YUSUFALI: He said: “This has been given to me because of a certain knowledge which I have.” Did he not know that Allah had destroyed, before him, (whole) generations,- which were superior to him in strength and greater in the amount (of riches) they had collected? but the wicked are not called (immediately) to account for their sins.
PICKTHAL: He said: I have been given it only on account of knowledge I possess. Knew he not that Allah had destroyed already of the generations before him men who were mightier than him in strength and greater in respect of following? The guilty are not questioned of their sins.
SHAKIR: He said: I have been given this only on account of the knowledge I have. Did he not know that Allah had destroyed before him of the generations those who were mightier in strength than he and greater in assemblage? And the guilty shall not be asked about their faults.
KHALIFA: He said, “I attained all this because of my own cleverness.” Did he not realize that GOD had annihilated before him generations that were much stronger than he, and greater in number? The (annihilated) transgressors were not asked about their crimes.

৭৮। সে বলেছিলো, ” এসব আমি পেয়েছি আমার নিজস্ব জ্ঞানের দ্বারা ৩৪০৮।” সে কি জানে না যে, তার পূর্বে আল্লাহ্‌ [ বহু ] মানব গোষ্ঠিকে ধ্বংস করেছেন , যারা ছিলো তার থেকে শক্তিতে প্রবল, এবং তাদের সংগৃহিত [ ধনসম্পদ ] ছিলো আরও অধিক? কিন্তু অপরাধীদের নিকট [ সঙ্গে সঙ্গে ] তাদের পাপের হিসাব চাওয়া হবে না। ৩৪০৯।

৩৪০৮। কারূণ সম্পদের অহংকারে এতটাই অন্ধ ও উদ্ধত হয়ে গিয়েছিলো যে, তার ধারণা হয়েছিলো যা কিছু সম্পদ সবই সে অর্জন করেছে নিজের মেধা, জ্ঞান, দক্ষতা, বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে। সেখানে আল্লাহ্‌র কোনও অনুগ্রহ নাই। যেহেতু সব কৃতিত্ব তার একার সুতারাং সে সকলের থেকে শ্রেষ্ঠ এবং সকলে তার পায়ের তলার যোগ্য। – হতভাগ্য ! আল্লাহ্‌ তাকে টেনে নীচে নামিয়ে ফেলেছিলেন। কারূণের যে মানসিকতা , যুগে যুগে এবং বর্তমানেও যারা প্রভূত সম্পদের অধিকারী এই একই মানসিকতা তাদের মাঝেও কাজ করে। তাদের অপরাধ সম্পর্কে তৎক্ষণাত জিজ্ঞাসা করা হবে না। কারণ তাদের সব হিসেব আল্লাহ্‌র নিকট আছে।

৩৪০৯। অপরাধীদের অপরাধ সম্পর্কে তৎক্ষণাত প্রশ্ন করা হবে না। এমন কি কারূণকেও সুদীর্ঘ সময় দেয়া হয়েছিলো তাঁর অগাধ বৈভব-বিত্ত উপভোগ করার জন্য। যখন তার পাপের পাত্র পূর্ণ হয়েছিলো তখনই তাকে ধবংস করে দেয়া হয়।

অতঃপর কারুন জাঁকজমক সহকারে তার সম্প্রদায়ের সামনে বের হল। যারা পার্থিব জীবন কামনা করত, তারা বলল, হায়, কারুন যা প্রাপ্ত হয়েছে, আমাদেরকে যদি তা দেয়া হত! নিশ্চয় সে বড় ভাগ্যবান।
So he went forth before his people in his pomp. Those who were desirous of the life of the world, said: ”Ah, would that we had the like of what Qârûn (Korah) has been given? Verily! He is the owner of a great fortune.”

فَخَرَجَ عَلَى قَوْمِهِ فِي زِينَتِهِ قَالَ الَّذِينَ يُرِيدُونَ الْحَيَاةَ الدُّنيَا يَا لَيْتَ لَنَا مِثْلَ مَا أُوتِيَ قَارُونُ إِنَّهُ لَذُو حَظٍّ عَظِيمٍ
Fakharaja AAala qawmihi fee zeenatihi qala allatheena yureedoona alhayata alddunya ya layta lana mithla ma ootiya qaroonu innahu lathoo haththin AAatheemin

YUSUFALI: So he went forth among his people in the (pride of his wordly) glitter. Said those whose aim is the Life of this World: “Oh! that we had the like of what Qarun has got! for he is truly a lord of mighty good fortune!”
PICKTHAL: Then went he forth before his people in his pomp. Those who were desirous of the life of the world said: Ah, would that we had the like of what hath been given unto Korah! Lo! he is lord of rare good fortune.
SHAKIR: So he went forth to his people in his finery. Those who desire this world’s life said: O would that we had the like of what Qaroun is given; most surely he is possessed of mighty good fortune.
KHALIFA: One day, he came out to his people in full splendor. Those who preferred this worldly life said, “Oh, we wish that we possessed what Qaaroon has attained. Indeed, he is very fortunate.”

৭৯। সুতারাং সে তার সম্প্রদায়ের মধ্যে [ পার্থিব সম্পদের অহংকারে ] জাঁকজমকের সাথে উপস্থিত হলো। যাদের জীবনের লক্ষ্য হলো [ শুধু ] পৃথিবীর জীবন, তারা বলেছিলো , ” কারূণ যেরূপ পেয়েছে , আমরাও যদি সেরূপ পেতাম ! নিশ্চয় সে মহা ভাগ্যবান ব্যক্তি।” ৩৪১০

৩৪১০। কারূণের বিজয় গৌরব যখন মধ্য গগণে, কারূণের পার্থিব সম্পদ, জাগতিক বিষয়বুদ্ধি সম্পন্ন লোকদের মনে হিংসার উদ্রেক করতো। তারা মনে করতো যে, কারূণের মত ধন ঐশ্বর্যের অধিকারী হলে তারা কতই না সুখী হতো। কিন্তু যারা প্রকৃত জ্ঞানী তারা ঘটনার তাৎপর্য উপলব্ধিতে সক্ষম হয়েছিলেন। পরবর্তী আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে।

আর যারা জ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছিল, তার বলল, ধিক তোমাদেরকে, যারা ঈমানদার এবং সৎকর্মী, তাদের জন্যে আল্লাহর দেয়া সওয়াবই উৎকৃষ্ট। এটা তারাই পায়, যারা সবরকারী।
But those who had been given (religious) knowledge said: ”Woe to you! The Reward of Allâh (in the Hereafter) is better for those who believe and do righteous good deeds, and this none shall attain except those who are patient (in following the truth).”

وَقَالَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ وَيْلَكُمْ ثَوَابُ اللَّهِ خَيْرٌ لِّمَنْ آمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا وَلَا يُلَقَّاهَا إِلَّا الصَّابِرُونَ
Waqala allatheena ootoo alAAilma waylakum thawabu Allahi khayrun liman amana waAAamila salihan wala yulaqqaha illa alssabiroona

YUSUFALI: But those who had been granted (true) knowledge said: “Alas for you! The reward of Allah (in the Hereafter) is best for those who believe and work righteousness: but this none shall attain, save those who steadfastly persevere (in good).”
PICKTHAL: But those who had been given knowledge said: Woe unto you! The reward of Allah for him who believeth and doeth right is better, and only the steadfast will obtain it.
SHAKIR: And those who were given the knowledge said: Woe to you! Allah’s reward is better for him who believes and does good, and none is made to receive this except the patient.
KHALIFA: As for those who were blessed with knowledge, they said, “Woe to you, GOD’s recompense is far better for those who believe and lead a righteous life.” None attains this except the steadfast.

৮০। কিন্তু যাদের [সত্য ] জ্ঞান দান করা হয়েছিলো , তারা বলেছিলো , ” তোমাদের জন্য আফসোস্‌ ! যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে [ পরলোকে ] আল্লাহ্‌র দেয় পুরষ্কার তাদের জন্য হবে সর্বোৎকৃষ্ট। যারা [ সত্যের প্রতি ] দৃঢ়তার সাথে অধ্যাবসায়ী হয় তারা ব্যতীত অন্য কেউ তা অর্জনে সক্ষম হবে না।”

৮১। অতঃপর আমি তাকে এবং তার প্রাসাদকে ভূগর্ভে প্রোথিত করলাম। তার পক্ষে এমন কোন [ছোট ] দলও ছিলো না যারা আল্লাহ্‌র বিরুদ্ধে তাকে সাহায্য করতে পারতো, সে নিজেও আত্মরক্ষায় সক্ষম ছিলো না ৩৪১১।

৩৪১১। দেখুন টিকা ৩৪০৪ আরও দেখুন [ ১৬ : ৪৫ ] আয়াত ও টিকা ২০৭১। এই কাহিনীর নৈতিক উপদেশ হচ্ছে, আর্থিক ধন-সম্পদ খুবই ক্ষণস্থায়ী বস্তু , কিন্তু তবুও তা অনেকের জন্য একান্ত কাম্য বস্তু এবং পরিণামে ধ্বংসের কারণ। তবে মওলানা ইউসুফ আলীর মতে সম্পূর্ণ কাহিনীতে আরও কিছু রূপক শোভিত অর্থ বিদ্যমান সেগুলি নিম্নরূপ :

১) সোনা বা রূপা বা সম্পদ এর নিজস্ব কোনও মূল্যমান নাই। যা কিছু মূল্যমান তা সমাজ সংসার থেকে আরোপিত।

২) কারূণ গোত্র হিসেবে ইহুদীদের গোত্রভূক্ত ছিলো। সে হিসেবে শারীরিক দিক থেকে ইহুদীদের সাথেই মরুভূমিতে ভ্রমণ করছিলো , কিন্তু তার হৃদয়, আত্মা , মন সবই মিশরে পড়ে ছিলো কারণ সেখানের সম্পদের দাসত্বে সে ছিলো বন্দী। কারূণের মত অবস্থা বহু মোনাফেকের হয়। এ সব মোনাফেকের নিজেদের পূণ্যাত্মাদের সমপর্যায়ে দেখতে ভালোবাসে , কিন্তু তাদের চিন্তা কার্য , আকাঙ্খা পূণ্যাত্মাদের সঙ্গের অনুপযোগী।

৩) সকলের মঙ্গলের উৎস আল্লাহ্‌। যদি আমরা তা না বুঝতে পারি , তবেই আমরা আল্লাহ্‌র সাথে শরীক কল্পনা করি। আমাদের জ্ঞান, বুদ্ধি এতটাই সীমিত যে, তা যেনো উদ্ধত অন্ধ অহংকারে আল্লাহ্‌র সাথে প্রতিদ্বন্দিতা না করে।

৪) কারূণ যদি তার ঐশ্বর্যের গর্বে অন্ধ হয়ে না যেতো, তা হলে সে বুঝতে পারতো জাগতিক বুদ্ধি জ্ঞান, আধ্যাত্মিক জ্ঞানের নিকট কত অকিঞ্চিতকর। আধ্যাত্মিক নেতার তুলনায় রাজনৈতিক নেতা অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও নগন্য।

অতঃপর আমি কারুনকে ও তার প্রাসাদকে ভূগর্ভে বিলীন করে দিলাম। তার পক্ষে আল্লাহ ব্যতীত এমন কোন দল ছিল না, যারা তাকে সাহায্য করতে পারে এবং সে নিজেও আত্মরক্ষা করতে পারল না।
So We caused the earth to swallow him and his dwelling place. Then he had no group or party to help him against Allâh, nor was he one of those who could save themselves.

فَخَسَفْنَا بِهِ وَبِدَارِهِ الْأَرْضَ فَمَا كَانَ لَهُ مِن فِئَةٍ يَنصُرُونَهُ مِن دُونِ اللَّهِ وَمَا كَانَ مِنَ المُنتَصِرِينَ
Fakhasafna bihi wabidarihi al-arda fama kana lahu min fi-atin yansuroonahu min dooni Allahi wama kana mina almuntasireena

YUSUFALI: Then We caused the earth to swallow up him and his house; and he had not (the least little) party to help him against Allah, nor could he defend himself.
PICKTHAL: So We caused the earth to swallow him and his dwelling-place. Then he had no host to help him against Allah, nor was he of those who can save themselves.
SHAKIR: Thus We made the earth to swallow up him and his abode; so he had no body of helpers to assist him against Allah nor was he of those who can defend themselves.
KHALIFA: We then caused the earth to swallow him and his mansion. No army could have helped him against GOD; he was not destined to be a winner.

৮০। কিন্তু যাদের [সত্য ] জ্ঞান দান করা হয়েছিলো , তারা বলেছিলো , ” তোমাদের জন্য আফসোস্‌ ! যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে [ পরলোকে ] আল্লাহ্‌র দেয় পুরষ্কার তাদের জন্য হবে সর্বোৎকৃষ্ট। যারা [ সত্যের প্রতি ] দৃঢ়তার সাথে অধ্যাবসায়ী হয় তারা ব্যতীত অন্য কেউ তা অর্জনে সক্ষম হবে না।”

৮১। অতঃপর আমি তাকে এবং তার প্রাসাদকে ভূগর্ভে প্রোথিত করলাম। তার পক্ষে এমন কোন [ছোট ] দলও ছিলো না যারা আল্লাহ্‌র বিরুদ্ধে তাকে সাহায্য করতে পারতো, সে নিজেও আত্মরক্ষায় সক্ষম ছিলো না ৩৪১১।

সূরা কাসাস

৩৪১১। দেখুন টিকা ৩৪০৪ আরও দেখুন [ ১৬ : ৪৫ ] আয়াত ও টিকা ২০৭১। এই কাহিনীর নৈতিক উপদেশ হচ্ছে, আর্থিক ধন-সম্পদ খুবই ক্ষণস্থায়ী বস্তু , কিন্তু তবুও তা অনেকের জন্য একান্ত কাম্য বস্তু এবং পরিণামে ধ্বংসের কারণ। তবে মওলানা ইউসুফ আলীর মতে সম্পূর্ণ কাহিনীতে আরও কিছু রূপক শোভিত অর্থ বিদ্যমান সেগুলি নিম্নরূপ :

১) সোনা বা রূপা বা সম্পদ এর নিজস্ব কোনও মূল্যমান নাই। যা কিছু মূল্যমান তা সমাজ সংসার থেকে আরোপিত।

২) কারূণ গোত্র হিসেবে ইহুদীদের গোত্রভূক্ত ছিলো। সে হিসেবে শারীরিক দিক থেকে ইহুদীদের সাথেই মরুভূমিতে ভ্রমণ করছিলো , কিন্তু তার হৃদয়, আত্মা , মন সবই মিশরে পড়ে ছিলো কারণ সেখানের সম্পদের দাসত্বে সে ছিলো বন্দী। কারূণের মত অবস্থা বহু মোনাফেকের হয়। এ সব মোনাফেকের নিজেদের পূণ্যাত্মাদের সমপর্যায়ে দেখতে ভালোবাসে , কিন্তু তাদের চিন্তা কার্য , আকাঙ্খা পূণ্যাত্মাদের সঙ্গের অনুপযোগী।

৩) সকলের মঙ্গলের উৎস আল্লাহ্‌। যদি আমরা তা না বুঝতে পারি , তবেই আমরা আল্লাহ্‌র সাথে শরীক কল্পনা করি। আমাদের জ্ঞান, বুদ্ধি এতটাই সীমিত যে, তা যেনো উদ্ধত অন্ধ অহংকারে আল্লাহ্‌র সাথে প্রতিদ্বন্দিতা না করে।

৪) কারূণ যদি তার ঐশ্বর্যের গর্বে অন্ধ হয়ে না যেতো, তা হলে সে বুঝতে পারতো জাগতিক বুদ্ধি জ্ঞান, আধ্যাত্মিক জ্ঞানের নিকট কত অকিঞ্চিতকর। আধ্যাত্মিক নেতার তুলনায় রাজনৈতিক নেতা অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও নগন্য।

গতকল্য যারা তার মত হওয়ার বাসনা প্রকাশ করেছিল, তারা প্রত্যুষে বলতে লাগল, হায়, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্যে ইচ্ছা রিযিক বর্ধিত করেন ও হ্রাস করেন। আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করলে আমাদেরকেও ভূগর্ভে বিলীন করে দিতেন। হায়, কাফেররা সফলকাম হবে না।
And those who had desired (for a position like) his position the day before, began to say: ”Know you not that it is Allâh Who enlarges the provision or restricts it to whomsoever He pleases of His slaves. Had it not been that Allâh was Gracious to us, He could have caused the earth to swallow us up (also)! Know you not that the disbelievers will never be successful.

وَأَصْبَحَ الَّذِينَ تَمَنَّوْا مَكَانَهُ بِالْأَمْسِ يَقُولُونَ وَيْكَأَنَّ اللَّهَ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَن يَشَاء مِنْ عِبَادِهِ وَيَقْدِرُ لَوْلَا أَن مَّنَّ اللَّهُ عَلَيْنَا لَخَسَفَ بِنَا وَيْكَأَنَّهُ لَا يُفْلِحُ الْكَافِرُونَ
Waasbaha allatheena tamannaw makanahu bial-amsi yaqooloona waykaanna Allaha yabsutu alrrizqa liman yashao min AAibadihi wayaqdiru lawla an manna Allahu AAalayna lakhasafa bina waykaannahu la yuflihu alkafiroona

YUSUFALI: And those who had envied his position the day before began to say on the morrow: “Ah! it is indeed Allah Who enlarges the provision or restricts it, to any of His servants He pleases! had it not been that Allah was gracious to us, He could have caused the earth to swallow us up! Ah! those who reject Allah will assuredly never prosper.”
PICKTHAL: And morning found those who had coveted his place but yesterday crying: Ah, welladay! Allah enlargeth the provision for whom He will of His slaves and straiteneth it (for whom He will). If Allah had not been gracious unto us He would have caused it to swallow us (also). Ah, welladay! the disbelievers never prosper.
SHAKIR: And those who yearned for his place only the day before began to say: Ah! (know) that Allah amplifies and straitens the means of subsistence for whom He pleases of His servants; had not Allah been gracious to us, He would most surely have abased us; ah! (know) that the ungrateful are never successful.
KHALIFA: Those who were envious of him the day before said, “Now we realize that GOD is the One who provides for whomever He chooses from among His servants, and withholds. If it were not for GOD’s grace towards us, He could have caused the earth to swallow us too. We now realize that the disbelievers never succeed.”

৮২। পূর্ব দিনে যারা তার ভাগ্যকে হিংসা করেছিলো , পরের দিন তারা বলতে শুরু করলো, ” আঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা করেন রিযিক বাড়িয়ে দেন যাকে ইচ্ছা কমিয়ে দেন ৩৪১২। আল্লাহ্‌ যদি আমাদের প্রতি অনুগ্রহশীল না হতেন , তবে আমাদেরও ভূগর্ভে প্রোথিত করতে পারতেন। আ : ! যারা আল্লাহ্‌কে প্রত্যাখান করে নিঃসন্দেহে তারা উন্নতি করতে পারবে না। ”

৩৪১২। রিযিক বা আহার। এই শব্দটি আক্ষরিক অর্থে ও আলংকারিক অর্থে প্রয়োগ করা হয়েছে। রিযিক বা আহার আমাদের দৈহিক প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন। এই রিযিক হচ্ছে শরীরের আবার আর এক ধরণের রিযিক আছে যা আত্মার খোরাক ,আত্মার সমৃদ্ধির জন্য যা প্রয়োজন। আত্মার সমৃদ্ধি অর্থাৎ উন্নততর মানসিক গুণ ও আধ্যাত্মিক ক্ষমতা। নির্বোধ জনসাধারণ কারূণের জাঁকজমক ও পার্থিব সমৃদ্ধিতে মুগ্ধ হয়ে প্রশংসা করতে থাকে। কারূণের ধ্বংসের পরে তাদের বোধদয় ঘটে। তারা বুঝতে পারে যে, পার্থিব সম্পদ ব্যতীতও আল্লাহ্‌র আরও অনুগ্রহ বা দান আছে যা পার্থিব সম্পদ অপেক্ষা মহার্ঘ এবং যা সকলের জন্য কাম্য হওয়া উচিত। যারা পার্থিব ধন-ঐশ্বর্য এবং সমৃদ্ধি উপভোগ করে সাধারণত তারা আধ্যাত্মিক জীবনের এই উচ্চতর ধারণা লাভে অক্ষম হয়। পার্থিব চাকচিক্যময় জীবন তাদের চক্ষু ধাঁধিয়ে দেয় , ফলে আধ্যাত্মিক জীবন সম্বন্ধে তারা হয় অন্ধ। তাদের পার্থিব সমৃদ্ধি প্রকৃত পক্ষে কোনও সমৃদ্ধি -ই নয়। কারণ যে সমৃদ্ধি আধ্যাত্মিক সমৃদ্ধির সাথে সর্ম্পকিত নয় তা মিথ্যা এবং অস্তিত্ববিহীন। মৃত্যুর সাথে সাথে তার কোনও অস্তিত্ব থাকে না তা বিলীন হয়ে যায়।

এই পরকাল আমি তাদের জন্যে নির্ধারিত করি, যারা দুনিয়ার বুকে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে ও অনর্থ সৃষ্টি করতে চায় না। খোদাভীরুদের জন্যে শুভ পরিণাম।
That home of the Hereafter (i.e. Paradise), We shall assign to those who rebel not against the truth with pride and oppression in the land nor do mischief by committing crimes. And the good end is for the Muttaqûn (pious – see V.2:2).

تِلْكَ الدَّارُ الْآخِرَةُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِينَ لَا يُرِيدُونَ عُلُوًّا فِي الْأَرْضِ وَلَا فَسَادًا وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ
Tilka alddaru al-akhiratu najAAaluha lillatheena la yureedoona AAuluwwan fee al-ardi wala fasadan waalAAaqibatu lilmuttaqeena

YUSUFALI: That Home of the Hereafter We shall give to those who intend not high-handedness or mischief on earth: and the end is (best) for the righteous.
PICKTHAL: As for that Abode of the Hereafter We assign it unto those who seek not oppression in the earth, nor yet corruption. The sequel is for those who ward off (evil).
SHAKIR: (As for) that future abode, We assign it to those who have no desire to exalt themselves in the earth nor to make mischief and the good end is for those who guard (against evil)
KHALIFA: We reserve the abode of the Hereafter for those who do not seek exaltation on earth, nor corruption. The ultimate victory belongs to the righteous.

রুকু – ৯

৮৩। যারা পৃথিবীতে স্বেচ্ছাচারী হয় না এবং অশান্তির সৃষ্টি করে না, পরকালের আবাস আমি তাদের জন্য নির্ধারিত করি ৩৪১৩। এবং পূণ্যাত্মাদের শেষ পরিণতি [ সর্বোৎকৃষ্ট ]।

৩৪১৩। ” স্বেচ্ছাচারী ও অশান্তি সৃষ্টিকারী “। ইসলাম অর্থ আল্লাহ্‌র ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পনকারী। যারা আত্মসমর্পনকারী বা মোমেন বান্দা তারা সর্বদা আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য ভালো কাজ করেন যার বিপরীত হচ্ছে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী। যারা মোমেন তারাই শেষ পর্যন্ত জয়ী হবেন এই আল্লাহ্‌র বিধান। ” পূণ্যাত্মাদের শেষ পরিণতি [ সর্বোৎকৃষ্ট ]।

যে সৎকর্ম নিয়ে আসবে, সে তদপেক্ষা উত্তম ফল পাবে এবং যে মন্দ কর্ম নিয়ে আসবে, এরূপ মন্দ কর্মীরা সে মন্দ কর্ম পরিমানেই প্রতিফল পাবে।
Whosoever brings good (Islâmic Monotheism along with righteous deeds), he shall have the better thereof, and whosoever brings evil (polytheism along with evil deeds) then, those who do evil deeds will only be requited for what they used to do.

مَن جَاء بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ خَيْرٌ مِّنْهَا وَمَن جَاء بِالسَّيِّئَةِ فَلَا يُجْزَى الَّذِينَ عَمِلُوا السَّيِّئَاتِ إِلَّا مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
Man jaa bialhasanati falahu khayrun minha waman jaa bialssayyi-ati fala yujza allatheena AAamiloo alssayyi-ati illa ma kanoo yaAAmaloona

YUSUFALI: If any does good, the reward to him is better than his deed; but if any does evil, the doers of evil are only punished (to the extent) of their deeds.
PICKTHAL: Whoso bringeth a good deed, he will have better than the same; while as for him who bringeth an ill-deed, those who do ill-deeds will be requited only what they did.
SHAKIR: Whoever brings good, he shall have better than it, and whoever brings evil, those who do evil shall not be rewarded (for) aught except what they did.
KHALIFA: Whoever works righteousness receives a far better reward. As for those who commit sins, the retribution for their sins is precisely equivalent to their works.

৮৪। যদি কেউ ভালো কাজ করে, তবে তার পুরষ্কার হবে তার কর্ম অপেক্ষাও উত্তম। কিন্তু কেউ যদি পাপ করে তবে তাদের [ততটুকুই ] শাস্তি দেয়া হবে যতটুকু পাপ কাজ তারা করেছে ৩৪১৪।

৩৪১৪। সৎকর্ম বয়ে আনে আল্লাহ্‌র পুরষ্কার। আর আল্লাহ্‌ বলেছেন এই পুরষ্কার হবে তার কর্মের দরুণ যা প্রাপ্য তা অপেক্ষা বহুগুণ বেশী। কারণ আল্লাহ্‌ তো পরম করুণাময়। অনুতাপ ও সংশোধনের মাধ্যমে পাপীদের পাপ ক্ষমা করা হবে। কিন্তু যদি তারা অনুতপ্ত না হয়, তবে তারা ততটুকুই শাস্তি পাবে যা ন্যায়বিচারে তাদের প্রাপ্য, তার বেশী নয়।

যিনি আপনার প্রতি কোরআনের বিধান পাঠিয়েছেন, তিনি অবশ্যই আপনাকে স্বদেশে ফিরিয়ে আনবেন। বলুন আমার পালনকর্তা ভাল জানেন কে হেদায়েত নিয়ে এসেছে এবং কে প্রকাশ্য বিভ্রান্তিতে আছে।
Verily, He Who has given you (O Muhammad SAW) the Qur’an (i.e. ordered you to act on its laws and to preach it to others) will surely bring you back to the Ma’âd (place of return, either to Makkah or to Paradise after your death, etc.). Say (O Muhammad SAW): ”My Lord is Aware of him who brings guidance, and he who is in manifest error.”

إِنَّ الَّذِي فَرَضَ عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لَرَادُّكَ إِلَى مَعَادٍ قُل رَّبِّي أَعْلَمُ مَن جَاء بِالْهُدَى وَمَنْ هُوَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ
Inna allathee farada AAalayka alqur-ana laradduka ila maAAadin qul rabbee aAAlamu man jaa bialhuda waman huwa fee dalalin mubeenin

YUSUFALI: Verily He Who ordained the Qur’an for thee, will bring thee back to the Place of Return. Say: “My Lord knows best who it is that brings true guidance, and who is in manifest error.”
PICKTHAL: Lo! He Who hath given thee the Qur’an for a law will surely bring thee home again. Say: My Lord is Best Aware of him who bringeth guidance and him who is in error manifest.
SHAKIR: Most surely He Who has made the Quran binding on you will bring you back to the destination. Say: My Lord knows best him who has brought the guidance and him who is in manifest error.
KHALIFA: Surely, the One who decreed the Quran for you will summon you to a predetermined appointment. Say, “My Lord is fully aware of those who uphold the guidance, and those who have gone astray.”

৮৫। যিনি তোমার জন্য কোরআনকে বিধান করেছেন ৩৪১৫, নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে পূর্ব স্থানে ফিরিয়ে আনবেন ৩৪১৬। বল, ” আমার প্রভুই সবচেয়ে ভাল জানেন কে সত্য পথের নির্দ্দেশ নিয়ে এসেছে এবং কে স্পষ্ট ভুলের মাঝে রয়েছে ৩৪১৭। ”

৩৪১৫। “কুরাণকে করেছেন বিধান “- কোরাণ আল্লাহ্‌র আইন বা বিধান মানুষের জন্য এবং এই বিধান পালনের মাধ্যমেই আছে মানবাত্মার মুক্তির পথ যা আল্লাহ্‌র অপার করুণা। পরবর্তীতে আরও হুকুম দেয়া হয়েছে যে, আয়াতসমূহ পড়তে হবে এবং অন্যকে শিক্ষা দিতে হবে এবং এর মূল নীতিগুলি জীবন ব্যবস্থায় প্রতিফলিত করতে হবে । রাসুল [ সা ] কোরাণের শিক্ষাকে প্রচার করেন, ফলে, তিনি অত্যাচার নির্যাতনের সম্মুখীন হন। কিন্তু যেহেতু কোরাণ আল্লাহ্‌র তরফ থেকে অবতীর্ণ , সুতারাং যারা এর অনুসরণ করবে তারা শেষ পর্যন্ত আর নির্যাতিত বা অত্যাচারিত হবে না। তাদের শেষ পর্যন্ত প্রত্যাবর্তন স্থলে ফিরিয়ে আনা হবে এবং সুখী করা হবে। দেখুন পরবর্তী টিকা।

৩৪১৬। ” পূর্বস্থানে ফিরিয়ে আনবেন” – এর মানে দ্বিবিধ হতে পারে। ১) অর্থাৎ মক্কা শরীফে। ২) পুনরুত্থানের পরে আমরা যখন আবার আমাদের প্রভুর সমীপে হাজির হব। বলা হয়ে থাকে যে আয়াতটি মক্কা থেকে মদিনা যাওয়ার পথে জুহ্‌ফা [ Juhfa ] নামক স্থানে অবতীর্ণ হয়। রাস্তাটি মক্কা থেকে মদীনাতে হিজরতের সংক্ষিপ্ত পথ। এই পথে হিজরতের সময়ে রাসুলের [ সা ] হৃদয় নিজ মাতৃভূমি ত্যাগের দুঃখে কষ্টে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছিলো। এই আয়াতটির মাধ্যমে আল্লাহ্‌ তাঁকে সান্তনা ও আশ্বাস দিয়েছেন। আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার এই ছিলো প্রেক্ষাপট, কিন্তু এর অর্থ সার্বজনীন। মৃত্যুর পরে যখন পুণরুত্থান ঘটবে, তখন সকলকে প্রত্যাবর্তন স্থলে ফিরে যেতে হবে – তখন পৃথিবীর কৃত্রিম মূল্যবোধ ও অশুভ শক্তি মিলিয়ে যাবে মরীচিকার ন্যায়, প্রকৃত ও সত্য মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে।

৩৪১৭। আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞ। তিনি জানেন কোনটা সত্য , কোনটা মিথ্যা। যদি আমাদের বিশ্বাস ও ঈমানের জন্য, সঠিক কর্তব্য কাজের জন্য , আমাদের নির্যাতিত করা হয় , অত্যাচার করা হয়, তিরষ্কার করা হয়, এরূপ ক্ষেত্রে আমাদের নিশ্চিত আশ্রয়স্থল হচ্ছেন সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌। আমরা তাঁর কাছেই আশ্রয়ের জন্য আবেদন করবো, কোনও মানুষের কাছে নয়।

আপনি আশা করতেন না যে, আপনার প্রতি কিতাব অবর্তীর্ণ হবে। এটা কেবল আপনার পালনকর্তার রহমত। অতএব আপনি কাফেরদের সাহায্যকারী হবেন না।
And you were not expecting that the Book (this Qur’ân) would be sent down to you, but it is a mercy from your Lord. So never be a supporter of the disbelievers.

وَمَا كُنتَ تَرْجُو أَن يُلْقَى إِلَيْكَ الْكِتَابُ إِلَّا رَحْمَةً مِّن رَّبِّكَ فَلَا تَكُونَنَّ ظَهِيرًا لِّلْكَافِرِينَ
Wama kunta tarjoo an yulqa ilayka alkitabu illa rahmatan min rabbika fala takoonanna thaheeran lilkafireena

YUSUFALI: And thou hadst not expected that the Book would be sent to thee except as a Mercy from thy Lord: Therefore lend not thou support in any way to those who reject (Allah’s Message).
PICKTHAL: Thou hadst no hope that the Scripture would be inspired in thee; but it is a mercy from thy Lord, so never be a helper to the disbelievers.
SHAKIR: And you did not expect that the Book would be inspired to you, but it is a mercy from your Lord, therefore be not a backer-up of the unbelievers.
KHALIFA: You never expected this scripture to come your way; but this is a mercy from your Lord. Therefore, you shall not side with the disbelievers.

৮৬। আর তুমি তো আশা কর নাই যে, তোমার নিকট কিতাব প্রেরণ করা হবে। ইহা তো কেবল তোমার প্রভুর অনুগ্রহ ৩৪১৮। অতএব, কোন ভাবেই তুমি তাদের সমর্থন করো না যারা [আল্লাহ্‌র বাণীকে ] প্রত্যাখান করে ৩৪১৯।

৩৪১৮। আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশ লাভ করা এবং সত্যকে প্রচার করা হচ্ছে বিরোধ , ও নির্যাতনের আরম্ভ। যিনি সত্যকে প্রচার করেন তাঁর জন্য শুরু হয় দুঃখময় ও যন্ত্রণাময় দিনের। জাগতিক দৃষ্টিভঙ্গীতে বিচার করলে একে দুঃখময় রাত্রি বলা চলে – কিন্তু প্রকৃত পক্ষে তা হচ্ছে আল্লাহ্‌র করুণা লাভের পূর্বশর্ত। আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ বান্দা লাভ করে অপ্রত্যাশিত ভাবে। নবী রসুলদের নিকটও আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশ বা অনুগ্রহ এসেছে অপ্রত্যাশিত ভাবে। তাঁরা সজ্ঞানে বা সচেতন ভাবে প্রত্যাদেশের জন্য প্রার্থনা করেন নাই। ধর্মীয় ইতিহাসে এ কথা প্রমাণিত হয়েছে হযরত মুসার জীবনে, আমাদের রাসুলের [সা ] জীবনে। এই আয়াত তারই উল্লেখ আছে।

৩৪১৯। পৃথিবীতে যুগে যুগে যখনই সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয়, অন্যায় , অসত্য ও পাপ তাদের সর্বশক্তি দিয়ে তা প্রতিরোধ করে। কারণ পাপীদের নিকট আল্লাহ্‌র বাণী সর্বদাই অরুচীকর মনে হবে। অন্যায় ও অসত্যের প্রতিরোধের ক্ষমতায় অনেকের মন দ্বিধাগ্রস্থ হতে পারে – এরা মনে করে যে, কাফেরদের প্রতিরোধে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয় তা কি আল্লাহ্‌র -ই ইচ্ছার প্রকাশ নয় ? তাদের এই দ্বিধা গ্রস্থ মনোভাব পরোক্ষভাবে কাফেরদের প্রতিরোধ এবং আক্রমণাত্মক মনোভাবকে সহযোগীতা দান করে থাকে। সুতারাং আল্লাহ্‌র হুকুম হচ্ছে আল্লাহ্‌র সৈনিকরা দৃঢ় ও নির্ভিকভাবে কাফেরদের বিরুদ্ধে দাড়াবে। তাঁরা হচ্ছে আল্লাহ্‌র ‘মুজাহিদ ‘ বা সত্যের নির্ভিক সৈনিক।তারা হবে দুঃসাহসিক কারণ তারা জানে আল্লাহ্‌ তাঁদের সহায়।

কাফেররা যেন আপনাকে আল্লাহর আয়াত থেকে বিমুখ না করে সেগুলো আপনার প্রতি অবর্তীর্ণ হওয়ার পর আপনি আপনার পালনকর্তার প্রতি দাওয়াত দিন এবং কিছুতেই মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
And let them not turn you (O Muhammad SAW) away from (preaching) the Ayât (revelations and verses) of Allâh after they have been sent down to you, and invite (men) to (believe in) your Lord [i.e: in the Oneness (Tauhîd) of Allâh (1) Oneness of the Lordship of Allâh; (2) Oneness of the worship of Allâh; (3) Oneness of the Names and Qualities of Allâh], and be not of Al-Mushrikûn (those who associate partners with Allâh, e.g. polytheists, pagans, idolaters, those who disbelieve in the Oneness of Allâh and deny the Prophethood of Messenger Muhammad SAW).

وَلَا يَصُدُّنَّكَ عَنْ آيَاتِ اللَّهِ بَعْدَ إِذْ أُنزِلَتْ إِلَيْكَ وَادْعُ إِلَى رَبِّكَ وَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُشْرِكِينَ
Wala yasuddunnaka AAan ayati Allahi baAAda ith onzilat ilayka waodAAu ila rabbika wala takoonanna mina almushrikeena

YUSUFALI: And let nothing keep thee back from the Signs of Allah after they have been revealed to thee: and invite (men) to thy Lord, and be not of the company of those who join gods with Allah.
PICKTHAL: And let them not divert thee from the revelations of Allah after they have been sent down unto thee; but call (mankind) unto thy Lord, and be not of those who ascribe partners (unto Him).
SHAKIR: And let them not turn you aside from the communications of Allah after they have been revealed to you, and call (men) to your Lord and be not of the polytheists.
KHALIFA: Nor shall you be diverted from GOD’s revelations, after they have come to you, and invite the others to your Lord. And do not ever fall into idol worship.

৮৭। তোমার নিকট আল্লাহ্‌র আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হওয়ার পর কোন কিছুই যেনো তোমাকে তা থেকে ফিরিয়ে নিতে না পারে। [ মানব সম্প্রদায়কে ] তোমার প্রভুর দিকে আহ্বান কর, এবং তাদের সঙ্গী হয়ো না যারা আল্লাহ্‌র সাথে অন্য উপাস্য ধারণ করে ৩৪২০।

৩৪২০। এই আয়াতটিতে রাসুলকে [সা ] সম্বোধন করা হলেও এর আবেদন সার্বজনীন। আল্লাহ্‌র সৈনিকরা হবে নির্ভিক অন্যায় , অসত্য ও পাপের বিরুদ্ধে। একবার স্বর্গীয় আলোতে [আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশ সমূহ ] যে অবগাহন করেছে সে কখনও এক ইঞ্চি পরিমাণও অসত্য ও অন্যায়কে মেনে নেবে না। এই হচ্ছে সত্যের সৈনিকদের উপরে আল্লাহ্‌র হুকুম। তিনি সকলকে আল্লাহ্‌র পথে আহ্বান করবেন। কোনও অবস্থাতেই মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।

আপনি আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে আহবান করবেন না। তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। আল্লাহর সত্তা ব্যতীত সবকিছু ধবংস হবে। বিধান তাঁরই এবং তোমরা তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।
And invoke not any other ilâh (god) along with Allâh, Lâ ilâha illa Huwa (none has the right to be worshipped but He). Everything will perish save His Face. His is the Decision, and to Him you (all) shall be returned.

وَلَا تَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَهُ لَهُ الْحُكْمُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
Wala tadAAu maAAa Allahi ilahan akhara la ilaha illa huwa kullu shay-in halikun illa wajhahu lahu alhukmu wa-ilayhi turjaAAoona

YUSUFALI: And call not, besides Allah, on another god. There is no god but He. Everything (that exists) will perish except His own Face. To Him belongs the Command, and to Him will ye (all) be brought back.
PICKTHAL: And cry not unto any other god along with Allah. There is no Allah save Him. Everything will perish save His countenance. His is the command, and unto Him ye will be brought back.
SHAKIR: And call not with Allah any other god; there is no god but He, every thing is perishable but He; His is the judgment, and to Him you shall be brought back.
KHALIFA: You shall not worship beside GOD any other god. There is no other god beside Him. Everything perishes except His presence. To Him belongs all sovereignty, and to Him you will be returned.

৮৮। আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য উপাস্যকে ডাকবে না। তিনি ব্যতীত অন্য উপাস্য নাই। তাঁর সত্তা ব্যতীত সকল কিছুই ধ্বংস হবে ৩৪২১। সকল বিধান তারই অধীনে এবং তোমাদের [সকলকে ] তারই নিকট ফিরিয়ে নেয়া হবে।

৩৪২১। এই আয়াতটির মাধ্যমে সম্পূর্ণ সূরাটির সার সংক্ষেপ করা হয়েছে। একমাত্র আল্লাহ্‌ই হচ্ছেন অনাদি ও অনন্ত সত্য। এই বিশাল বিশ্বব্রহ্মান্ডের সকল কিছুই সর্বদা পরিবর্তনশীল। কিছুই স্থায়ী নয়। সবই সময়ের সাথে সাথে ধ্বংস হয়ে যায় ও ধ্বংস হয়ে যাবে। একমাত্র আল্লাহ্‌র সত্ত্বাই শেষ পর্যন্ত বিরাজ করবে

আরও দেখুন :

 

Leave a Comment