সূরা নমল

সূরা নমল (আরবি: سورة النمل‎‎) মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের ২৭তম সূরা। এই সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ৯৩টি। নম্‌ল শব্দের অর্থ (পিপীলিকা)।

সূরা নমল

ত্বা-সীন; এগুলো আল-কোরআনের আয়াত এবং আয়াত সুস্পষ্ট কিতাবের।
Tâ­Sîn. [These letters are one of the miracles of the Qur’ân, and none but Allâh (Alone) knows their meanings]. These are the Verses of the Qur’ân, and (it is) a Book (that makes things) clear;

طس تِلْكَ آيَاتُ الْقُرْآنِ وَكِتَابٍ مُّبِينٍ
Ta-seen tilka ayatu alqur-ani wakitabin mubeenin

YUSUFALI: These are verses of the Qur’an,-a book that makes (things) clear;
PICKTHAL: Ta. Sin. These are revelations of the Qur’an and a Scripture that maketh plain;
SHAKIR: Ta Sin! These are the verses of the Quran and the Book that makes (things) clear
KHALIFA: T. S. These (letters) constitute proofs of the Quran; a profound scripture.

সূরা নমল

০১। তা – সীন্‌ ৩২৪০। এইগুলি আল্‌ কুর-আনের আয়াত – যে কিতাব [সকল বিষয় ] সুস্পষ্ট করে।

৩২৪০। এগুলির অর্থ একমাত্র প্রজ্ঞাময় আল্লাহ্‌-ই জানেন।

মুমিনদের জন্যে পথ নির্দেশ ও সুসংবাদ।
A guide (to the Right Path); and glad tidings for the believers [who believe in the Oneness of Allâh (i.e. Islâmic Monotheism)].

هُدًى وَبُشْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ
Hudan wabushra lilmu/mineena

YUSUFALI: A guide: and glad tidings for the believers,-
PICKTHAL: A guidance and good tidings for believers
SHAKIR: A guidance and good news for the believers,
KHALIFA: A beacon, and good news, for the believers.

০২। যা বিশ্বাসীদের পথ নির্দ্দেশ ও সুসংবাদ ৩২৪১,-

০৩। যারা নিয়মিত নামাজ কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, এবং পরকালের প্রতি স্থির বিশ্বাস রাখে।

৩২৪১। আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশকে তিনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে :

১) প্রত্যাদেশ আমাদের জ্ঞাত করে আল্লাহ্‌র অপার মহিমা ও করুণা, আল্লাহ্‌র গুণাবলী , স্রষ্টার সাথে আমাদের এবং বিশ্বচরাচরের সম্পর্ক।

২) প্রত্যাদেশের অর্থাৎ কোরাণের আয়াতের মাধ্যমে আমরা আমাদের জীবনে চলার পথের নির্দ্দেশ খুঁজে পাই। আমাদের জীবন পথের সঠিক নির্দ্দেশনার মানদণ্ড এই কোরাণ। সঠিক পথ নির্দ্দেশ ও পাপকে সনাক্ত করণের উপায় হচ্ছে আল্লাহ্‌র আয়াত বা প্রত্যাদেশ।

৩) যারা আল্লাহ্‌র পথ নির্দ্দেশকে জীবনে গ্রহণ করে এবং আল্লাহ্‌র উপরে বিশ্বাস স্থাপন করে তাদের জন্য আছে আল্লাহ্‌র ক্ষমা , আত্মিক পরিশুদ্ধতা ও আত্মার মুক্তির সুসংবাদ।

যারা নামায কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং পরকালে নিশ্চিত বিশ্বাস করে।
Those who perform As­Salât (Iqâmat­as­Salât) and give Zakât and they believe with certainty in the Hereafter (resurrection, recompense of their good and bad deeds, Paradise and Hell, etc.).

الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُم بِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ
Allatheena yuqeemoona alssalata wayu/toona alzzakata wahum bial-akhirati hum yooqinoona

YUSUFALI: Those who establish regular prayers and give in regular charity, and also have (full) assurance of the hereafter.
PICKTHAL: Who establish worship and pay the poor-due and are sure of the Hereafter.
SHAKIR: Who keep up prayer and pay the poor-rate, and of the hereafter, they are sure.
KHALIFA: Who observe the Contact Prayers (Salat), give the obligatory charity (Zakat), and they are, with regard to the Hereafter, absolutely certain.

০২। যা বিশ্বাসীদের পথ নির্দ্দেশ ও সুসংবাদ ৩২৪১,-

০৩। যারা নিয়মিত নামাজ কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, এবং পরকালের প্রতি স্থির বিশ্বাস রাখে।

৩২৪১। আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশকে তিনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে :

১) প্রত্যাদেশ আমাদের জ্ঞাত করে আল্লাহ্‌র অপার মহিমা ও করুণা, আল্লাহ্‌র গুণাবলী , স্রষ্টার সাথে আমাদের এবং বিশ্বচরাচরের সম্পর্ক।

২) প্রত্যাদেশের অর্থাৎ কোরাণের আয়াতের মাধ্যমে আমরা আমাদের জীবনে চলার পথের নির্দ্দেশ খুঁজে পাই। আমাদের জীবন পথের সঠিক নির্দ্দেশনার মানদণ্ড এই কোরাণ। সঠিক পথ নির্দ্দেশ ও পাপকে সনাক্ত করণের উপায় হচ্ছে আল্লাহ্‌র আয়াত বা প্রত্যাদেশ।

৩) যারা আল্লাহ্‌র পথ নির্দ্দেশকে জীবনে গ্রহণ করে এবং আল্লাহ্‌র উপরে বিশ্বাস স্থাপন করে তাদের জন্য আছে আল্লাহ্‌র ক্ষমা , আত্মিক পরিশুদ্ধতা ও আত্মার মুক্তির সুসংবাদ।

যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, আমি তাদের দৃষ্টিতে তাদের কর্মকান্ডকে সুশোভিত করে দিয়েছি। অতএব, তারা উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়।
Verily, those who believe not in the Hereafter, We have made their deeds fair-seeming to them, so they wander about blindly.

إِنَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ زَيَّنَّا لَهُمْ أَعْمَالَهُمْ فَهُمْ يَعْمَهُونَ
Inna allatheena la yu/minoona bial-akhirati zayyanna lahum aAAmalahum fahum yaAAmahoona

YUSUFALI: As to those who believe not in the Hereafter, We have made their deeds pleasing in their eyes; and so they wander about in distraction.
PICKTHAL: Lo! as for those who believe not in the Hereafter, We have made their works fairseeming unto them so that they are all astray.
SHAKIR: As to those who do not believe in the hereafter, We have surely made their deeds fair-seeming to them, but they blindly wander on.
KHALIFA: Those who do not believe in the Hereafter, we adorn their works in their eyes. Thus, they continue to blunder.

০৪। যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের দৃষ্টিতে আমি তাদের কর্মকে শোভন করেছি ৩২৪২। সুতারাং তারা বিভ্রান্তিতে ঘুরে বেড়ায়।

৩২৪২। যারা আল্লাহ্‌ প্রদত্ত বিধানকে প্রত্যাখান করে এবং পাপের পথে নিজেকে পরিচালিত করে , তাদের নিজেদের কর্মকে তাদের নিজের চোখে অতিশয় মনোহর বলে মনে হবে এবং তারা আত্মগর্বে বিমোহিত থাকবে। এই হচ্ছে বিধির বিধান। যদিও তাদের কৃতকর্ম অন্য কেউ পছন্দ করবে না, কিন্তু পাপীদের চোখে নিজস্ব পাপকে স্বীয় সাফল্যের মানদন্ডরূপে বিবেচিত হবে। কারণ আল্লাহ্‌ তা তাদের চোখে শোভন করেন। কারণ যেহেতু তারা আল্লাহ্‌ প্রদত্ত পথকে প্রত্যাখান করেছে, সেহেতু আল্লাহ্‌ তাদের গৃহীত পাপের পথকে তাদের দৃষ্টিতে শোভন করে দেন। অন্যায় ও পাপকে তখন আর তাদের ধারণায় অন্যায় ও পাপ বলে বোধ হয় না। ন্যায় ও সত্য তাদের চোখে মনে হবে হাস্যস্কর ব্যাপার মাত্র। আল্লাহ্‌ তাদের অনুতাপ করার জন্য আরও সুযোগ দান করেন। কিন্তু এসব পাপীরা আর সুপথে ফিরে আসে না , তারা তাদের নিজস্ব কল্পনা ও খেয়ালেরই অনুসরণ করে থাকে। ফলে তারা আধ্যাত্মিক দিক থেকে বিভ্রান্তকর অবস্থায় পৌঁছে যায়। এই বিশ্বচরাচরের সকল কিছুই এক স্রষ্টার আদেশ মান্য করে চলেছে। মানুষকেও সেই একই উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই নশ্বর দেহের মাঝে যে অমর আত্মার বাস তার ধর্মই হচ্ছে এক আল্লাহ্‌র প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা, আয়াতে (৫১:৫৬) বলা হয়েছে ” আমি জ্বিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি এজন্য যে, তারা শুধু আমারই এবাদত করবে।” যখন সে আল্লাহ্‌ প্রদত্ত পথ নির্দ্দেশকে উপেক্ষা করে পাপের পথে ধাবিত হয় , তখন সে তার আদি ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়। ফলে আত্মা হয় পথ ভ্রান্ত , বিভ্রান্ত ও স্ব ধর্মচ্যুত। কারণ আত্মার জন্য তখন অনুসরণযোগ্য কোনও নির্দ্দিষ্ট মানদণ্ড তখন থাকে না। আত্মার প্রকৃত গুণাবলী নষ্ট হয়ে যায় , সেই আত্মা বিশ্বস্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের যোগ্যতা হারায়। উদাহরণ দিয়ে বুঝাতে চেষ্টা করবো : স্বচ্ছ সলিল সে কোনও বস্তুর ময়লাধুয়ে পরিচ্ছন্ন করে দেয়। কিন্তু সেই পানিই যদি ড্রেনের ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানি হয়, তবে তা পরিষ্কার করার যোগ্যতা হারায় – যদিও বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সে পানিরও মূল উপাদান ঐ স্বচ্ছ পানির ন্যায়।

সেই রূপ পাপে আসক্ত আত্মা – ঐ ড্রেনের পানির সমতুল্য , যার পবিত্রতা নষ্ট হয়ে যায় , ফলে সে স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের যোগ্যতা হারায়।

তাদের জন্যেই রয়েছে মন্দ শাস্তি এবং তারাই পরকালে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত।
They are those for whom there will be an evil torment (in this world). And in the Hereafter they will be the greatest losers.

أُوْلَئِكَ الَّذِينَ لَهُمْ سُوءُ الْعَذَابِ وَهُمْ فِي الْآخِرَةِ هُمُ الْأَخْسَرُونَ
Ola-ika allatheena lahum soo-o alAAathabi wahum fee al-akhirati humu al-akhsaroona

YUSUFALI: Such are they for whom a grievous Penalty is (waiting); and in the Hereafter theirs will be the greatest loss.
PICKTHAL: Those are they for whom is the worst of punishment, and in the Hereafter they will be the greatest losers.
SHAKIR: These are they who shall have an evil punishment, and in the hereafter they shall be the greatest losers.
KHALIFA: It is these who incur the worst retribution, and in the Hereafter, they will be the worst losers.

০৫। এদের জন্যই [ অপেক্ষা করছে ] ভয়াবহ শাস্তি। এবং পরকালে রয়েছে আরও অধিক ক্ষতি ৩২৪৩।

৩২৪৩। সব কাজেরই মূল্যায়ন ঘটে শেষ যোগফলের মাধ্যমে। এ সব পাপী আত্মার শেষ পরিণতি এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। পরলোকে যখন হিসাবের জন্য এ সব আত্মাকে উপস্থিত করা হবে, তখন দেখা যাবে তারা বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন। পার্থিব জগতের পাপ কাজ তাদের যে আত্মপ্রসাদ ও পরিতৃপ্তি দান করতো তার শেষ পরিণতি হবে সর্বাধিক ক্ষতি।

এবং আপনাকে কোরআন প্রদত্ত হচ্ছে প্রজ্ঞাময়, জ্ঞানময় আল্লাহর কাছ থেকে।
And verily, you (O Muhammad SAW) are receiving the Qur’ân from the One, All-Wise, All-Knowing.

وَإِنَّكَ لَتُلَقَّى الْقُرْآنَ مِن لَّدُنْ حَكِيمٍ عَلِيمٍ
Wa-innaka latulaqqa alqur-ana min ladun hakeemin AAaleemin

YUSUFALI: As to thee, the Qur’an is bestowed upon thee from the presence of one who is wise and all-knowing.
PICKTHAL: Lo! as for thee (Muhammad), thou verily receivest the Qur’an from the presence of One Wise, Aware.
SHAKIR: And most surely you are made to receive the Quran from the Wise, the Knowing Allah.
KHALIFA: Surely, you are receiving the Quran from a Most Wise, Omniscient.

০৬। তোমার জন্য, কুর-আনকে অবতীর্ণ করা হয়েছে প্রজ্ঞাময় এবং সর্বজ্ঞের নিকট থেকে।

০৭। স্মরণ কর! মুসা তাঁর পরিবারকে বলেছিলো,৩২৪৪: ” আমি আগুনের [ অস্তিত্ব ] উপলব্ধি করছি। শীঘ্রই আমি ঐ স্থান থেকে তোমাদের জন্য কোন সংবাদ অথবা, তোমাদের জন্য জ্বলন্ত অঙ্গার আনবো যা হবে তোমাদের উষ্ণ করার জন্য জ্বালানী।

৩২৪৪। দেখুন অনুরূপ আয়াত [ ২০: ৯ – ২৪ ]। উল্লেখিত আয়াতগুলি এবং এই আয়াতে যে আগুনের উল্লেখ আছে তা হচ্ছে হযরত মুসার হৃদয়ে আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশ পাওয়ার ঊষালগ্নের বিবরণ। পূর্বের বর্ণনায় যার উপরে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে তা আনুসঙ্গিক টিকাতে দ্রষ্টব্য। এই আয়াতে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে ঐশ্বরিক আগুনের প্রকৃতির উপরে এবং বর্ণনা করা হয়েছে কিভাবে হযরত মুসা ঐশ্বরিক আলোতে অবগাহন করে পরিবর্তিত মানুষে রূপান্তরিত হন। বর্ণনা অনুযায়ী হযরত মুসা পরিবার পরিজন সহ সিনাই উপত্যকাতে পরিভ্রমণ করছিলেন। তিনি আলো উষ্ণতার জন্য সাধারণ আগুনের অন্বেষণে ছিলেন – কিন্তু আল্লাহ্‌ তাঁকে সর্বোচ্চ আলো ও আল্লাহ্‌ প্রেমের উষ্ণতা দান করেন যা ছিলো আল্লাহ্‌র নৈকট্য এবং আল্লাহ্‌র অলৌকিক নিদর্শন। আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভ কোনও অলৌকিক বা আকস্মিক ঘটনা নয়। ব্যক্তির আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধতাই হচ্ছে আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভের একমাত্র উপায়। মানুষের আধ্যাত্মিক শুদ্ধতা হচ্ছে মানুষের অন্তরের ইতিহাস। পৃথিবীর মানদন্ডে ক্ষমতা অবস্থান যা ব্যক্তিকে সাধারণ মানুষের চোখে সম্মানীয় ও স্মরণীয় হতে সাহায্য করে, তার সাথে আত্মিক পরিশুদ্ধতার কোনও যোগসূত্র নাই। আত্মিক শুদ্ধতা হচ্ছে একমাত্র মানদন্ড যা আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভের একান্ত নিজস্ব ইতিহাস। হযরত মুসা আধ্যাত্মিক আলো লাভের পূর্বেই সেই পরিশুদ্ধতা লাভ করেন।

যখন মূসা তাঁর পরিবারবর্গকে বললেনঃ আমি অগ্নি দেখেছি, এখন আমি সেখান থেকে তোমাদের জন্যে কোন খবর আনতে পারব অথবা তোমাদের জন্যে জ্বলন্ত অঙ্গার নিয়ে আসতে পারব যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।
(Remember) when Mûsa (Moses) said to his household: ”Verily! I have seen a fire, I will bring you from there some information, or I will bring you a burning brand, that you may warm yourselves.”

إِذْ قَالَ مُوسَى لِأَهْلِهِ إِنِّي آنَسْتُ نَارًا سَآتِيكُم مِّنْهَا بِخَبَرٍ أَوْ آتِيكُم بِشِهَابٍ قَبَسٍ لَّعَلَّكُمْ تَصْطَلُونَ
Ith qala moosa li-ahlihi innee anastu naran saateekum minha bikhabarin aw ateekum bishihabin qabasin laAAallakum tastaloona

YUSUFALI: Behold! Moses said to his family: “I perceive a fire; soon will I bring you from there some information, or I will bring you a burning brand to light our fuel, that ye may warn yourselves.
PICKTHAL: (Remember) when Moses said unto his household: Lo! I spy afar off a fire; I will bring you tidings thence, or bring to you a borrowed flame that ye may warm yourselves.
SHAKIR: When Musa said to his family: Surely I see fire; I will bring to you from it some news, or I will bring to you therefrom a burning firebrand so that you may warm yourselves.
KHALIFA: Recall that Moses said to his family, “I see a fire; let me bring you news therefrom, or a torch to warm you.”

০৬। তোমার জন্য, কুর-আনকে অবতীর্ণ করা হয়েছে প্রজ্ঞাময় এবং সর্বজ্ঞের নিকট থেকে।

০৭। স্মরণ কর! মুসা তাঁর পরিবারকে বলেছিলো,৩২৪৪: ” আমি আগুনের [ অস্তিত্ব ] উপলব্ধি করছি। শীঘ্রই আমি ঐ স্থান থেকে তোমাদের জন্য কোন সংবাদ অথবা, তোমাদের জন্য জ্বলন্ত অঙ্গার আনবো যা হবে তোমাদের উষ্ণ করার জন্য জ্বালানী।

৩২৪৪। দেখুন অনুরূপ আয়াত [ ২০: ৯ – ২৪ ]। উল্লেখিত আয়াতগুলি এবং এই আয়াতে যে আগুনের উল্লেখ আছে তা হচ্ছে হযরত মুসার হৃদয়ে আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশ পাওয়ার ঊষালগ্নের বিবরণ। পূর্বের বর্ণনায় যার উপরে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে তা আনুসঙ্গিক টিকাতে দ্রষ্টব্য। এই আয়াতে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে ঐশ্বরিক আগুনের প্রকৃতির উপরে এবং বর্ণনা করা হয়েছে কিভাবে হযরত মুসা ঐশ্বরিক আলোতে অবগাহন করে পরিবর্তিত মানুষে রূপান্তরিত হন। বর্ণনা অনুযায়ী হযরত মুসা পরিবার পরিজন সহ সিনাই উপত্যকাতে পরিভ্রমণ করছিলেন। তিনি আলো উষ্ণতার জন্য সাধারণ আগুনের অন্বেষণে ছিলেন – কিন্তু আল্লাহ্‌ তাঁকে সর্বোচ্চ আলো ও আল্লাহ্‌ প্রেমের উষ্ণতা দান করেন যা ছিলো আল্লাহ্‌র নৈকট্য এবং আল্লাহ্‌র অলৌকিক নিদর্শন। আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভ কোনও অলৌকিক বা আকস্মিক ঘটনা নয়। ব্যক্তির আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধতাই হচ্ছে আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভের একমাত্র উপায়। মানুষের আধ্যাত্মিক শুদ্ধতা হচ্ছে মানুষের অন্তরের ইতিহাস। পৃথিবীর মানদন্ডে ক্ষমতা অবস্থান যা ব্যক্তিকে সাধারণ মানুষের চোখে সম্মানীয় ও স্মরণীয় হতে সাহায্য করে, তার সাথে আত্মিক পরিশুদ্ধতার কোনও যোগসূত্র নাই। আত্মিক শুদ্ধতা হচ্ছে একমাত্র মানদন্ড যা আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভের একান্ত নিজস্ব ইতিহাস। হযরত মুসা আধ্যাত্মিক আলো লাভের পূর্বেই সেই পরিশুদ্ধতা লাভ করেন।

অতঃপর যখন তিনি আগুনের কাছে আসলেন তখন আওয়াজ হল ধন্য তিনি, যিনি আগুনের স্থানে আছেন এবং যারা আগুনের আশেপাশে আছেন। বিশ্ব জাহানের পালনকর্তা আল্লাহ পবিত্র ও মহিমান্বিত।
But when he came to it, he was called: ”Blessed is whosoever is in the fire, and whosoever is round about it! And glorified be Allâh, the Lord of the ’Alamîn (mankind, jinns and all that exists).

فَلَمَّا جَاءهَا نُودِيَ أَن بُورِكَ مَن فِي النَّارِ وَمَنْ حَوْلَهَا وَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
Falamma jaaha noodiya an boorika man fee alnnari waman hawlaha wasubhana Allahi rabbi alAAalameena

YUSUFALI: But when he came to the (fire), a voice was heard: “Blessed are those in the fire and those around: and glory to Allah, the Lord of the worlds.
PICKTHAL: But when he reached it, he was called, saying: Blessed is Whosoever is in the fire and Whosoever is round about it! And Glorified be Allah, the Lord of the Worlds!
SHAKIR: So when he came to it a voice was uttered saying: Blessed is Whoever is in the fire and whatever is about it; and glory be to Allah, the Lord of the worlds;
KHALIFA: When he came to it, he was called: “Blessed is the One (who is speaking from) within the fire, and those around it.” Glory be to GOD, Lord of the universe.

০৮। কিন্তু যখন সে [ আগুনের ] কাছে এলো, একটি কণ্ঠস্বর শোনা গেলো; ” যারা এই আলোর মধ্যে এবং এর চর্তুপাশ্বে আছে তারা আশীর্বাদ ধন্য। সকল মহিমা জগতসমূহের প্রভু আল্লাহ্‌র ৩২৪৫।

৩২৪৫। তফসীরকারগণ মনে করেন যে, এটা কোনও জাগতিক আগুন নয় , এটা ছিলো স্বর্গীয় আলোর বিচ্ছুরণ , আল্লাহ্‌র নূরের প্রকাশ।

হে মূসা, আমি আল্লাহ, প্রবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
”O Mûsa (Moses)! Verily! It is I, Allâh, the All-Mighty, the All-Wise.

يَا مُوسَى إِنَّهُ أَنَا اللَّهُ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
Ya moosa innahu ana Allahu alAAazeezu alhakeemu

YUSUFALI: “O Moses! verily, I am Allah, the exalted in might, the wise!….
PICKTHAL: O Moses! Lo! it is I, Allah, the Mighty, the Wise.
SHAKIR: O Musa! surely I am Allah, the Mighty, the Wise;
KHALIFA: “O Moses, this is Me, GOD, the Almighty, Most Wise.

০৯। হে মুসা ! অবশ্যই আমি মহাপরাক্রমশালী , প্রজ্ঞাময় আল্লাহ্‌।

১০। ” এখন তুমি তোমার লাঠিটি নিক্ষেপ কর ৩২৪৬।” কিন্তু যখন সে উহাকে সাপের মত [ স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে ] নড়াচড়া করতে দেখলো , সে পিছন ফিরে পশ্চাদপসরণ করলো এবং আর সামনে গেলো না। [ বলা হলো ], ” হে মুসা! ভয় পেয়ো না : কেননা যাদের রাসুল বলা হয়, তাদের আমার সান্নিধ্যে কোন ভয় নাই , ৩২৪৭ –

৩২৪৬। হযরত মুসা এখন এক সম্পূর্ণ পরিবর্তিত মানুষ। স্বর্গীয় আলোর স্পর্শে তিনি আত্মিক দিক থেকে এক নূতন পৃথিবীর সন্ধান পেয়েছেন। যা তিনি মনে করেছিলেন সাধারণ আগুন তা ছিলো স্বর্গীয় আলোর বিচ্ছুরণ। জাগতিক জীবনের মলিনতার উর্দ্ধে ঐশ্বরিক আলোর ভূবনে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঐশ্বরিক আলোর মাধ্যমে তিনি দিব্যজ্ঞান ও ক্ষমতা লাভ করেন। তাঁর মেষ চরানোর সাধারণ লাঠি আর প্রাণহীন লাঠিমাত্র ছিলো না। তা রূপান্তরিত হয় জীবন্ত প্রাণীতে। জীবনের সকল অনুভব সে লাঠিতে বিরাজ করে। ঠিক সেই রকম স্বর্গীয় আলোর সংস্পর্শে হযরত মুসা সম্পূর্ণ পরিবর্তিত মানুষে পরিণত হন। মুসার পরিবর্তন বর্ণনা করা হয়েছে পরবর্তী টিকাতে।

৩২৪৭। হযরত মুসা এখন সম্পূর্ণ নূতন এক আধ্যাত্মিক জগতে আগমন করেছেন। এই নূতন জগতের অপূর্ব সৌন্দর্য ও আলোর ঝলকানি তাঁকে ভীত ও সন্ত্রস্ত করে তোলে। অন্ধকার থেকে আলোতে হঠাৎ প্রবেশ কালে চক্ষুকে যেরূপ আলোর সাথে বিন্যস্ত করে নিতে হয়, সেরূপ আধ্যাত্মিক ভাবে ঐশ্বরিক আলোতে আলোকিত উদ্ভাসিত জগতের সাথে সামঞ্জস্য বিধানে মুসাকে চেষ্টা করতে হয়। প্রাণহীন লাঠি সাপে রূপান্তরিত হওয়ার ফলে তিনি ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। যদিও লাঠিটি ছিলো তাঁর প্রতিদিনের সঙ্গী, মেষ চারণের প্রয়োজনীয় উপকরণ। এখন হযরত মুসার কর্মক্ষেত্র পরিবর্তিত হয়েছে। মেষ পাল পরিচালনার পরিবর্তে এখন তাঁকে ইসরাঈলীদের রাসুল রূপে প্রেরণ করা হবে ; তাই তাঁর লাঠিকেও পরিবর্তিত কর্মক্ষেত্রের উপযোগী করা হয়। সুতারাং তাঁর মন থেকে সকল ভয় দূর করতে বলা হয় – কারণ তিনি আল্লাহ্‌ কর্তৃক নির্বাচিত ব্যক্তি।

আপনি নিক্ষেপ করুন আপনার লাঠি। অতঃপর যখন তিনি তাকে সর্পের ন্যায় ছুটাছুটি করতে দেখলেন, তখন তিনি বিপরীত দিকে ছুটতে লাগলেন এবং পেছন ফিরেও দেখলেন না। হে মূসা, ভয় করবেন না। আমি যে রয়েছি, আমার কাছে পয়গম্বরগণ ভয় করেন না।
”And throw down your stick!” But when he saw it moving as if it were a snake, he turned in flight, and did not look back. (It was said): ”O Mûsa (Moses)! Fear not, verily! The Messengers fear not in front of Me.

وَأَلْقِ عَصَاكَ فَلَمَّا رَآهَا تَهْتَزُّ كَأَنَّهَا جَانٌّ وَلَّى مُدْبِرًا وَلَمْ يُعَقِّبْ يَا مُوسَى لَا تَخَفْ إِنِّي لَا يَخَافُ لَدَيَّ الْمُرْسَلُونَ
Waalqi AAasaka falamma raaha tahtazzu kaannaha jannun walla mudbiran walam yuAAaqqib ya moosa la takhaf innee la yakhafu ladayya almursaloona

YUSUFALI: “Now do thou throw thy rod!” But when he saw it moving (of its own accord)as if it had been a snake, he turned back in retreat, and retraced not his steps: “O Moses!” (it was said), “Fear not: truly, in My presence, those called as messengers have no fear,-
PICKTHAL: And throw down thy staff! But when he saw it writhing as it were a demon, he turned to flee headlong; (but it was said unto him): O Moses! Fear not! the emissaries fear not in My presence,
SHAKIR: And cast down your staff. So when he saw it in motion as if it were a serpent, he turned back retreating and did not return: O Musa! fear not; surely the messengers shall not fear in My presence;
KHALIFA: “Throw down your staff.” When he saw it moving like a demon, he turned around and fled. “O Moses, do not be afraid. My messengers shall not fear.

০৯। হে মুসা ! অবশ্যই আমি মহাপরাক্রমশালী , প্রজ্ঞাময় আল্লাহ্‌।

১০। ” এখন তুমি তোমার লাঠিটি নিক্ষেপ কর ৩২৪৬।” কিন্তু যখন সে উহাকে সাপের মত [ স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে ] নড়াচড়া করতে দেখলো , সে পিছন ফিরে পশ্চাদপসরণ করলো এবং আর সামনে গেলো না। [ বলা হলো ], ” হে মুসা! ভয় পেয়ো না : কেননা যাদের রাসুল বলা হয়, তাদের আমার সান্নিধ্যে কোন ভয় নাই , ৩২৪৭ –

৩২৪৬। হযরত মুসা এখন এক সম্পূর্ণ পরিবর্তিত মানুষ। স্বর্গীয় আলোর স্পর্শে তিনি আত্মিক দিক থেকে এক নূতন পৃথিবীর সন্ধান পেয়েছেন। যা তিনি মনে করেছিলেন সাধারণ আগুন তা ছিলো স্বর্গীয় আলোর বিচ্ছুরণ। জাগতিক জীবনের মলিনতার উর্দ্ধে ঐশ্বরিক আলোর ভূবনে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঐশ্বরিক আলোর মাধ্যমে তিনি দিব্যজ্ঞান ও ক্ষমতা লাভ করেন। তাঁর মেষ চরানোর সাধারণ লাঠি আর প্রাণহীন লাঠিমাত্র ছিলো না। তা রূপান্তরিত হয় জীবন্ত প্রাণীতে। জীবনের সকল অনুভব সে লাঠিতে বিরাজ করে। ঠিক সেই রকম স্বর্গীয় আলোর সংস্পর্শে হযরত মুসা সম্পূর্ণ পরিবর্তিত মানুষে পরিণত হন। মুসার পরিবর্তন বর্ণনা করা হয়েছে পরবর্তী টিকাতে।

৩২৪৭। হযরত মুসা এখন সম্পূর্ণ নূতন এক আধ্যাত্মিক জগতে আগমন করেছেন। এই নূতন জগতের অপূর্ব সৌন্দর্য ও আলোর ঝলকানি তাঁকে ভীত ও সন্ত্রস্ত করে তোলে। অন্ধকার থেকে আলোতে হঠাৎ প্রবেশ কালে চক্ষুকে যেরূপ আলোর সাথে বিন্যস্ত করে নিতে হয়, সেরূপ আধ্যাত্মিক ভাবে ঐশ্বরিক আলোতে আলোকিত উদ্ভাসিত জগতের সাথে সামঞ্জস্য বিধানে মুসাকে চেষ্টা করতে হয়। প্রাণহীন লাঠি সাপে রূপান্তরিত হওয়ার ফলে তিনি ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। যদিও লাঠিটি ছিলো তাঁর প্রতিদিনের সঙ্গী, মেষ চারণের প্রয়োজনীয় উপকরণ। এখন হযরত মুসার কর্মক্ষেত্র পরিবর্তিত হয়েছে। মেষ পাল পরিচালনার পরিবর্তে এখন তাঁকে ইসরাঈলীদের রাসুল রূপে প্রেরণ করা হবে ; তাই তাঁর লাঠিকেও পরিবর্তিত কর্মক্ষেত্রের উপযোগী করা হয়। সুতারাং তাঁর মন থেকে সকল ভয় দূর করতে বলা হয় – কারণ তিনি আল্লাহ্‌ কর্তৃক নির্বাচিত ব্যক্তি।

তবে যে বাড়াবাড়ি করে এরপর মন্দ কর্মের পরিবর্তে সৎকর্ম করে। নিশ্চয় আমি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
”Except him who has done wrong and afterwards has changed evil for good, then surely, I am Oft-Forgiving, Most Merciful.

إِلَّا مَن ظَلَمَ ثُمَّ بَدَّلَ حُسْنًا بَعْدَ سُوءٍ فَإِنِّي غَفُورٌ رَّحِيمٌ
Illa man thalama thumma baddala husnan baAAda soo-in fa-innee ghafoorun raheemun

YUSUFALI: “But if any have done wrong and have thereafter substituted good to take the place of evil, truly, I am Oft-Forgiving, Most Merciful.
PICKTHAL: Save him who hath done wrong and afterward hath changed evil for good. And lo! I am Forgiving, Merciful.
SHAKIR: Neither he who has been unjust, then he does good instead after evil, for surely I am the Forgiving, the Merciful:
KHALIFA: “Except those who commit a transgression, then substitute righteousness after sinning; I am Forgiving, Most Merciful.

১১। “কিন্তু যদি কেউ পাপ করে ফেলে। এবং তারপরে মন্দের পরিবর্তে সৎকর্ম করে, তবে নিশ্চয় আমি বারে বারে ক্ষমাশীল , পরম করুণাময় ৩২৪৮।

৩২৪৮। মিশরে অবস্থান কালে হযরত মুসা দুর্ঘটনাক্রমে একজন মিশরবাসীকে হত্যা করে ফেলেন। [ দেখুন টিকা ৩১৪৬ এবং আয়াত ২৬ : ১৪ ] যদিও হত্যাটি সংঘটিত হয় অত্যাচারীকে প্রতিরোধ এবং নির্যাতিতকে রক্ষা কল্পে; তবে তা ছিলো একটি দুর্ঘটনা বই আর কিছু নয়। তবুও সেই পাপ থেকে হযরত মুসার পরিশুদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। আল্লাহ্‌ পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু। আল্লাহ্‌ তাঁকে শুধু ক্ষমাই করেন নাই তাঁকে আরও অলৌকিক ক্ষমতা দান করেন। এই আয়াতটি যদিও হযরত মুসার নবুয়ত পাওয়ার প্রেক্ষিতে বর্ণনা করা হয়েছে , কিন্তু এর আবেদন সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য। যদি কেউ জুলুম করে, অর্থাৎ আত্মার প্রতি জুলুম করে। আত্মার প্রতি জুলুম , তখনই ঘটে যখন কেউ পাপ কাজে আসক্ত হয়ে যায়। যদি কেউ পাপ করে তখন সে নিজ আত্মার প্রতি জুলুম করে। পরবর্তীতে যদি সে অনুতপ্ত হয়ে নিজেকে সৎ ও ভালো কাজে নিয়োজিত করে তবে পরম করুণাময় আল্লাহ্‌ তার প্রতি ক্ষমাশীল। বিশ্ব মানবের জন্য এ এক মহান বার্তা।

আপনার হাত আপনার বগলে ঢুকিয়ে দিন, সুশুভ্র হয়ে বের হবে নির্দোষ অবস্থায়। এগুলো ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়ের কাছে আনীত নয়টি নিদর্শনের অন্যতম। নিশ্চয় তারা ছিল পাপাচারী সম্প্রদায়।
”And put your hand into your bosom, it will come forth white without hurt. (These are) among the nine signs (you will take) to Fir’aun (Pharaoh) and his people, they are a people who are the Fâsiqûn (rebellious, disobedient to Allâh).

وَأَدْخِلْ يَدَكَ فِي جَيْبِكَ تَخْرُجْ بَيْضَاء مِنْ غَيْرِ سُوءٍ فِي تِسْعِ آيَاتٍ إِلَى فِرْعَوْنَ وَقَوْمِهِ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ
Waadkhil yadaka fee jaybika takhruj baydaa min ghayri soo-in fee tisAAi ayatin ila firAAawna waqawmihi innahum kanoo qawman fasiqeena

YUSUFALI: “Now put thy hand into thy bosom, and it will come forth white without stain (or harm): (these are) among the nine Signs (thou wilt take) to Pharaoh and his people: for they are a people rebellious in transgression.”
PICKTHAL: And put thy hand into the bosom of thy robe, it will come forth white but unhurt. (This will be one) among nine tokens unto Pharaoh and his people Lo! they were ever evil-living folk.
SHAKIR: And enter your hand into the opening of your bosom, it shall come forth white without evil; among nine signs to Firon and his people, surely they are a transgressing people.
KHALIFA: “Put your hand in your pocket; it will come out white, without a blemish. These are among nine miracles to Pharaoh and his people, for they are wicked people.”

১২। “এখন তোমার হাতকে তোমার বগলে রাখ; ইহা বের হয়ে আসবে শুভ্র নির্মল অবস্থায় ৩২৪৯। [ এই দুটি ] নয়টি নিদর্শনের অর্ন্তগত। [ ইহা নিয়ে ] তুমি ফেরাউন ও তার জাতির নিকটে যাও, কেননা তারা এক বিদ্রোহী ও সীমালংঘনকারী সম্প্রদায় ৩২৫০। ”

৩২৪৯। দেখুন আয়াত [ ২০: ২২ ] যেখানে বর্ণনা করা হয়েছে , “Draw thy hand close to thy side” হাতের প্রাকৃতিক ধর্মের দিক থেকে উপরের বর্ণনা ও এই আয়াতের বর্ণনার মধ্যে খুব বেশী পার্থক্য নাই। কারণ হাতের যে বৈশিষ্ট্য তা উভয় আয়াতে একই রূপ ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। হযরত মুসার পোষাক ছিলো ঢিলা ঢোলা – প্রাচীন যুগের লোকদের যেরূপ থাকতো। যদি তিনি তাঁর ডান হাতকে ঢিলা পোষাকের ডান দিক দিয়ে প্রবেশ করান , তবে তা বুকের বাঁ দিকে পৌঁছাবে। অনুরূপ ভাবে বাঁ হাত ডান দিকে পৌঁছাবে। সুতারাং দুইটি আয়াতেরই বর্ণনা সামঞ্জস্যপূর্ণ। যখন হযরত মুসা হাতকে বের করে আনেন তখন তা উজ্জ্বল সাদা আলো বিচ্ছুরণ করে। সাধারণভাবে শরীরের কোনও অংশ সাদা হওয়াকে শ্বেত কুষ্ঠের পরিণতি হিসেবে পরিগণিত করা হয়। কিন্তু এখানের সাদা ছিলো ঠিক তার বিপরীত। এই সাদা ছিলো পূত পবিত্রতা ও স্বর্গীয় আলোর প্রতীক।

৩২৫০। নয়টি নিদর্শনের জন্য দেখুন টিকা ১০৯১ এবং আয়াত [ ৭ : ১৩৩ ]।

অতঃপর যখন তাদের কাছে আমার উজ্জল নিদর্শনাবলী আগমন করল, তখন তারা বলল, এটা তো সুস্পষ্ট জাদু।
But when Our Ayât (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.) came to them, clear to see, they said: ”This is a manifest magic.”

فَلَمَّا جَاءتْهُمْ آيَاتُنَا مُبْصِرَةً قَالُوا هَذَا سِحْرٌ مُّبِينٌ
Falamma jaat-hum ayatuna mubsiratan qaloo hatha sihrun mubeenun

YUSUFALI: But when Our Signs came to them, that should have opened their eyes, they said: “This is sorcery manifest!”
PICKTHAL: But when Our tokens came unto them, plain to see, they said: This is mere magic,
SHAKIR: So when Our clear signs came to them, they said: This is clear enchantment.
KHALIFA: When our miracles were presented to them, clear and profound, they said, “This is obviously magic.”

১৩। কিন্তু যখন আমার নিদর্শন সমূহ তাদের নিকট এসেছিলো , যার ফলে তাদের [ জ্ঞান ] চক্ষু উন্মোচিত হওয়া উচিত ছিলো, তারা বলেছিলো, ” ইহা তো স্পষ্ট যাদু ! ” ৩২৫১

৩২৫১। যদি ফেরাউনের লোকেরা প্রকৃত সত্যকে অনুধাবন করতে চাইত, তবে হযরত মুসার নিকট প্রেরিত আল্লাহ্‌র স্পষ্ট নিদর্শন সমূহ তাদের জ্ঞান চক্ষুকে উন্মীলনে সাহায্য করতো। কিন্তু যারা জ্ঞান পাপী, বিকৃত মানসিকতা সম্পন্ন , তারা সত্যকে তাদের হৃদয়ে অনুধাবন করলেও তা গ্রহণ করে না। সত্যকে তাদের হৃদয়ে অনুভব করে; কিন্তু উদ্ধতভাবে তারা সত্যকে বা আল্লাহ্‌র নিদর্শনকে প্রত্যাখান করে। তাদের অন্তর এগুলিকে সত্য বলে অনুধাবন করলেও তারা তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। এভাবেই তারা তাদের বিবেককে অন্যায় ও অসত্যের নীচে পাথর চাপা দিয়ে ফেলে। এ ভাবেই তারা তাদের পাপের পাত্র পূর্ণ করে। এরাই হলো বিপর্যয় সৃষ্টিকারী ফেরাউনের উদাহরণের মাধ্যমে পৃথিবীতে সর্বযুগে বিপর্যয়কারী এ সব লোকের কথাই বলা হয়েছে।

তারা অন্যায় ও অহংকার করে নিদর্শনাবলীকে প্রত্যাখ্যান করল, যদিও তাদের অন্তর এগুলো সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল। অতএব দেখুন, অনর্থকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল?
And they belied them (those Ayât) wrongfully and arrogantly, though their ownselves were convinced thereof [i.e. those (Ayât) are from Allâh, and Mûsa (Moses) is the Messenger of Allâh in truth, but they disliked to obey Mûsa (Moses), and hated to believe in his Message of Monotheism]. So see what was the end of the Mufsidûn (disbelievers, disobedient to Allâh, evil-doers, liars.).

وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنفُسُهُمْ ظُلْمًا وَعُلُوًّا فَانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ
Wajahadoo biha waistayqanat-ha anfusuhum thulman waAAuluwwan faonthur kayfa kana AAaqibatu almufsideena

YUSUFALI: And they rejected those Signs in iniquity and arrogance, though their souls were convinced thereof: so see what was the end of those who acted corruptly!
PICKTHAL: And they denied them, though their souls acknowledged them, for spite and arrogance. Then see the nature of the consequence for the wrong-doers!
SHAKIR: And they denied them unjustly and proudly while their soul had been convinced of them; consider, then how was the end of the mischief-makers.
KHALIFA: They rejected them and were utterly convinced of their wrong ways, due to their arrogance. Note the consequences for the evildoers.

১৪। এবং তারা সেই সব নিদর্শন অন্যায় উদ্ধত্যের সাথে প্রত্যাখান করেছিলো, যদিও তাদের অন্তরে বিশ্বাস জন্মেছিলো। সুতারাং যারা মিথ্যার বেসাতি করে, তাদের শেষ পরিণতি দেখো।

আমি অবশ্যই দাউদ ও সুলায়মানকে জ্ঞান দান করেছিলাম। তাঁরা বলে ছিলেন, আল্লাহর প্রশংসা, যিনি আমাদেরকে তাঁর অনেক মুমিন বান্দার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।
And indeed We gave knowledge to Dawûd (David) and Sulaimân (Solomon), and they both said: ”All the praises and thanks be to Allâh, Who has preferred us above many of His believing slaves!”

وَلَقَدْ آتَيْنَا دَاوُودَ وَسُلَيْمَانَ عِلْمًا وَقَالَا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي فَضَّلَنَا عَلَى كَثِيرٍ مِّنْ عِبَادِهِ الْمُؤْمِنِينَ
Walaqad atayna dawooda wasulaymana AAilman waqala alhamdu lillahi allathee faddalana AAala katheerin min AAibadihi almu/mineena

YUSUFALI: We gave (in the past) knowledge to David and Solomon: And they both said: “Praise be to Allah, Who has favoured us above many of his servants who believe!”
PICKTHAL: And We verily gave knowledge unto David and Solomon, and they said: Praise be to Allah, Who hath preferred us above many of His believing slaves!
SHAKIR: And certainly We gave knowledge to Dawood and Sulaiman, and they both said: Praise be to Allah, Who has made us to excel many of His believing servants.
KHALIFA: We endowed David and Solomon with knowledge, and they said, “Praise GOD for blessing us more than many of His believing servants.”

রুকু – ২

১৫। [ অতীতে ] আমি দাউদ ও সুলায়মানকে জ্ঞান দান করেছিলাম ৩২৫২; এবং তারা উভয়েই বলেছিলো , “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র ; যিনি তার বিশ্বাসী বহু বান্দার উপরে আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। ” ৩২৫৩

৩২৫২। দেখুন আয়াত [ ২১ : ৭৮ – ৮২ ]। আমরা সাধারণভাবে জ্ঞানীলোক বলতে তাদেরই বুঝাই যারা জাগতিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ। জাগতিক জ্ঞান অর্থাৎ যে জ্ঞান পার্থিব সম্পদ অর্জনে সহায়ক। এ সব অর্থকরী জ্ঞানের উদাহরণ যেমন : বিজ্ঞানের জ্ঞান, প্রযুক্তির জ্ঞান , শিল্প সাহিত্যের জ্ঞান , মানবিক জ্ঞান ইত্যাদি। এ সব জ্ঞান আমাদের জীবনের মান উন্নয়নে সহায়ক। এ সব জ্ঞান ব্যতীত অন্য আর এক ধরণের জ্ঞানের উল্লেখ এই আয়াতে পরম করুণাময় আল্লাহ্‌ করেছেন। যে জ্ঞান শুধুমাত্র সেই সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌র নিকট থেকে আগত। যে ‘ জ্ঞান ‘ তিনি দাউদ নবী ও সুলাইমান কে দান করেন। এই ‘জ্ঞান ‘ হচ্ছে আল্লাহ্‌র হেদায়েতের জ্ঞান বা ‘মারেফতী’ জ্ঞান। যিনি এই জ্ঞান অর্জন করেছেন তিনি হন বিচক্ষণ , বিবেকবান, ও প্রজ্ঞা সম্পন্ন ব্যক্তি। তাদের এই জ্ঞানের প্রতিফলন ঘটে তাদের প্রতিদিনের জীবনে।

তারা বিচক্ষণতার সাথে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তৎপর এবং তারা হবেন ন্যায়বান। জীবনের মহত্তর ও বৃহত্তর দিক অনুধাবনে তারা সক্ষম, এই পার্থিব জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য তারা হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন যা সাধারণ মানুষের পক্ষে এক অসাধারণ ঘটনা। দাউদ নবী ও হযরত সুলাইমান দুজনেই ছিলেন ধর্মভীরু , ন্যায়বান এবং আল্লাহ্‌র ইচ্ছার কাছে সমর্পিত বান্দা। তাই আল্লাহ্‌ তাদের অদৃশ্য জ্ঞানে সমৃদ্ধ করেন যে জ্ঞান জীবনকে বুঝতে ,জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্যকে অনুধাবন করতে, জীবনকে মহত্তর ও উচ্চতর দিকে পরিচালিত করতে সাহায্য করে। দাউদ ও সুলাইমানের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ আমাদের অনুধাবন করতে বলেছেন যে, যারা পূত ও পবিত্র জীবন যাপন করবে, অন্যায় অসত্য থেকে দূরে থাকবে , জীবনের সকল ইচ্ছাকে সেই সর্বশক্তিমানের ইচ্ছার কাছে সমর্পন করবে আল্লাহ্‌ তাদের অদৃশ্য জ্ঞানে সমৃদ্ধ করবেন। বড় বড় ওলি ও আওলিয়ারা এই জ্ঞানে ধন্য হন।

৩২৫৩। ” প্রশংসা আল্লাহ্‌র ……………. শ্রেষ্ঠত্ব দিয়াছেন ” দাউদ নবী ও হযরত সুলাইমানের এই বাক্যটির মাধ্যমে প্রকাশ পায় তাদের বিনয় ও আল্লাহ্‌ ইচ্ছার নিকট আত্ম সমর্পিত দৃষ্টিভঙ্গি। তাঁরা ছিলেন ন্যায়বান, বিচক্ষণ, বিবেকবান ও জ্ঞানী। কিন্তু তাঁরা সে জন্য কোনও রূপ অহংকার প্রকাশ করেন নাই। কারণ তাঁরা জানতেন সকল জ্ঞানের উৎস সেই সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌। তাই তাঁরা তাঁদের জ্ঞান, বিবেক , অন্তর্দৃষ্টি , বিচক্ষণতা, ক্ষমতা সব কিছুর জন্য আল্লাহ্‌কে উৎস বলে অনুধাবন করতে পেরেছিলেন।

উপদেশ : ব্যক্তিগত কৃতিত্ব বা সাফল্য নিজস্ব বলে ধারণা করার কোনও কারণ নাই। সবই সেই করুণাময়ের দান। কৃতিত্ব বা সাফল্য নিজস্ব বলে ধারণা করলেই তখন দাম্ভিকতা ও অহংকারের উৎপত্তি হয়।

সুলায়মান দাউদের উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘হে লোক সকল, আমাকে উড়ন্ত পক্ষীকূলের ভাষা শিক্ষা দেয়া হয়েছে এবং আমাকে সব কিছু দেয়া হয়েছে। নিশ্চয় এটা সুস্পষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব। ’
And Sulaimân (Solomon) inherited (the knowledge of) Dawûd (David). He said: ”O mankind! We have been taught the language of birds, and on us have been bestowed all things. This, verily, is an evident grace (from Allâh).”

وَوَرِثَ سُلَيْمَانُ دَاوُودَ وَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ عُلِّمْنَا مَنطِقَ الطَّيْرِ وَأُوتِينَا مِن كُلِّ شَيْءٍ إِنَّ هَذَا لَهُوَ الْفَضْلُ الْمُبِينُ
Wawaritha sulaymanu dawooda waqala ya ayyuha alnnasu AAullimna mantiqa alttayri waooteena min kulli shay-in inna hatha lahuwa alfadlu almubeenu

YUSUFALI: And Solomon was David’s heir. He said: “O ye people! We have been taught the speech of birds, and on us has been bestowed (a little) of all things: this is indeed Grace manifest (from Allah.)”
PICKTHAL: And Solomon was David’s heir. And he said: O mankind! Lo! we have been taught the language of birds, and have been given (abundance) of all things. This surely is evident favour.
SHAKIR: And Sulaiman was Dawood’s heir, and he said: O men! we have been taught the language of birds, and we have been given all things; most surely this is manifest grace.
KHALIFA: Solomon was David’s heir. He said, “O people, we have been endowed with understanding the language of the birds, and all kinds of things have been bestowed upon us. This is indeed a real blessing.”

১৬। এবং সুলায়মান ছিলো দাউদের উত্তরাধিকারী , ৩২৫৪। সে বলেছিলো, ” হে আমার সম্প্রদায় ! আমাকে পাখীর ভাষা শিক্ষা দেয়া হয়েছে ৩২৫৫, এবং আমাকে সকল জিনিষই দেয়া হয়েছে। ইহা অবশ্যই [আল্লাহ্‌র ] সুস্পষ্ট অনুগ্রহ।” ৩২৫৬

৩২৫৪। হযরত সুলাইমান শুধু যে তাঁর পিতার সিংহাসনের উত্তরাধীকারী হন তাই -ই নয়, তিনি তাঁর পিতার নবী সুলভ জ্ঞান , প্রজ্ঞা , বিচক্ষণতা ও অন্তর্দৃষ্টি লাভ করেন। এটা ছিলো আল্লাহ্‌র এক বিশেষ অনুগ্রহ। কারণ এসব জিনিষ আল্লাহ্‌ বংশ পরম্পরায় দান করেন না। আল্লাহ্‌র বিশেষ অনুগ্রহ দেখেই এখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে সুলাইমান ছিলেন দাউদের উত্তরাধীকারী।

৩২৫৫। পাখীরা কি কথা বলে ? হয়তো তারা মানুষের মত ভাষার মাধ্যমে কথা বলে না। কিন্তু পাখী এবং অন্যান্য প্রাণীকূল যারা যুথবদ্ধভাবে বাস করে তাদের আচরণ লক্ষ্য করলেই একথা সুস্পষ্ট হয় যে, তারা তাদের মাঝে ভাবের আদান প্রদান ঘটায়। বসন্তের সোনালী প্রভাতে পাখীরা গান গায় , জোড়া বাঁধে , বাসা তৈরী করে। অপরাহ্নে পাখীরা যখন দিনশেষে গৃহে প্রত্যাবর্তন করে , দল বেঁধে একই শ্রেণীর পাখী একই গাছে থাকে। কিচির মিচির করে মনের ভাব প্রকাশ করে, পরস্পরের মাঝে। যুথবদ্ধ প্রাণীকূলেও দেখা যায় তারা পরস্পরের মাঝে ভাবের আদান প্রদান করে থাকে। দেশান্তরে ভ্রমণশীল পাখীদের [ Migratory bird ] শৃঙ্খলা , পিপীলিকা মৌমাছির সুশৃঙ্খল আচরণ ও যে সব প্রাণী যুথবদ্ধ ভাবে বাস করে তাদের জীবন পদ্ধতি থেকে বোঝা যায়, এ সব প্রাণীরাও পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে; ভাবের আদান -প্রদান করে। হযরত সুলাইমানকে আল্লাহ্‌ সেই জ্ঞান দান করেছিলেন যার মাধ্যমে তিনি স্বল্প বুদ্ধি সম্পন্ন এ সব বিহঙ্গকূল ও প্রাণীকূলের ভাবের আদান-প্রদানকে বুঝতে পারতেন।

৩২৫৬। হযরত সুলাইমান ছিলেন মহাপরাক্রান্ত , ক্ষমতাশালী নৃপতি। তাঁর নিজস্ব রাজত্বের বাইরেও তাঁর প্রতিবেশী নৃপতিদের উপরেও তার প্রভাব ছিলো। তিনি যে শুধুমাত্র শক্তিশালী নৃপতিই ছিলেন তাই-ই নয় আল্লাহ্‌ তাঁকে আরও বহুবিধ নেয়ামতে ধন্য করেছিলেন। তিনি বিহঙ্গকূলের এবং প্রাণী কূলের ভাষা বুঝতে পারতেন। তিনি ছিলেন জ্ঞানী , বিচক্ষণ , ন্যায়বান ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। সবচেয়ে বড় কথা, তাঁর ছিলো আধ্যাত্মিক অন্তর্দৃষ্টি , যার ফলে তিনি আল্লাহ্‌র সান্নিধ্য লাভের যোগ্যতা অর্জন করেন। এভাবেই আল্লাহ্‌ তাঁকে কাঙ্খিত ” সকল কিছু ” নেয়ামতে ধন্য করেন। হযরত সুলাইমান এই ” সকল কিছু ” নেয়ামতের জন্য আল্লাহ্‌কে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ক্ষমতা , অর্থ , বিত্ত , জ্ঞান , প্রভাব প্রতিপত্তির সর্বোচ্চ শিখরে থেকেও সুলাইমান অনুধাবন করেছিলেন আল্লাহ্‌র বিশেষ ‘ অনুগ্রহকে ‘। কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষ আল্লাহ্‌র নেয়ামতের সামান্য কণা মাত্র আয়ত্ব করলে অন্ধ অহংকার ও দম্ভে আত্মবিস্মৃত হয়ে পড়ি যে, সব কিছুর মালিক সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌। ভুলে যাই তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানাতে। দম্ভ ও অহংকার আমাদের সত্ত্বাকে গ্রাস করে ফেলে। দাউদ নবী ও সুলাইমানের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ আমাদের এই উপদেশ দিয়েছেন যে, আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ বিনয়ের সাথে অবনত মস্তকে কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়।

সুলায়মানের সামনে তার সেনাবাহিনীকে সমবেত করা হল। জ্বিন-মানুষ ও পক্ষীকুলকে, অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন ব্যূহে বিভক্ত করা হল।
And there were gathered before Sulaimân (Solomon) his hosts of jinns and men, and birds, and they all were set in battle order (marching forwards).

وَحُشِرَ لِسُلَيْمَانَ جُنُودُهُ مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ وَالطَّيْرِ فَهُمْ يُوزَعُونَ
Wahushira lisulaymana junooduhu mina aljinni waal-insi waalttayri fahum yoozaAAoona

YUSUFALI: And before Solomon were marshalled his hosts,- of Jinns and men and birds, and they were all kept in order and ranks.
PICKTHAL: And there were gathered together unto Solomon his armies of the jinn and humankind, and of the birds, and they were set in battle order;
SHAKIR: And his hosts of the jinn and the men and the birds were gathered to him, and they were formed into groups.
KHALIFA: Mobilized in the service of Solomon were his obedient soldiers of jinns and humans, as well as the birds; all at his disposal.

১৭। সুলায়মানের সম্মুখে সমবেত করা হলো; তাঁর বাহিনীকে – জ্বিন, মানুষ ও বিহঙ্গকূলকে এবং উহাদের বিন্যস্ত করা হলো বিভিন্ন সারিতে ৩২৫৭।

৩২৫৭। এই আয়াতটির আক্ষরিক অর্থের বাইরেও এর অপর প্রতীকধর্মী অর্থ বিদ্যমান। যেমন :
১) সুলাইমান প্রজাকূলকে তাদের বুদ্ধি , রুচি, সভ্যতার বিকাশ অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করেন এবং তাদের শৃঙ্খলা ও ন্যায়ের সাথে সুদক্ষ প্রশাসনের মাধ্যমে পরস্পরকে সমন্বিত করেন।

২) তিনি আল্লাহ্‌র নিকট থেকে যে সব বিশেষ অনুগ্রহ লাভ করেছিলেন [ পরবর্তী আয়াত দ্রষ্টব্য ] তা তিনি দক্ষ প্রশাসনের জন্য বিভিন্ন শ্রেণীতে বিন্যাস্ত করেন, সমন্বিত করেন যেনো তারা কোনও সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনী। এ ভাবেই তিনি আল্লাহ্‌ প্রাপ্ত গুণাবলীর সর্বোচ্চ ব্যবহারকে নিশ্চিত করেন যেনো জীবনে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করতে পারেন।

উপদেশ : জীবনে সাফল্য লাভের প্রধান উপায় এই আয়াতে সুলাইমানের মাধ্যমে শিক্ষা দান করা হয়েছে। শৃঙ্খলা এবং সমন্বিত কার্য পদ্ধতিই একমাত্র সাফল্যের চাবিকাঠি।

যখন তারা পিপীলিকা অধ্যূষিত উপত্যকায় পৌঁছাল, তখন এক পিপীলিকা বলল, হে পিপীলিকার দল, তোমরা তোমাদের গৃহে প্রবেশ কর। অন্যথায় সুলায়মান ও তার বাহিনী অজ্ঞাতসারে তোমাদেরকে পিষ্ট করে ফেলবে।
Till, when they came to the valley of the ants, one of the ants said: ”O ants! Enter your dwellings, lest Sulaimân (Solomon) and his hosts crush you, while they perceive not.”

حَتَّى إِذَا أَتَوْا عَلَى وَادِي النَّمْلِ قَالَتْ نَمْلَةٌ يَا أَيُّهَا النَّمْلُ ادْخُلُوا مَسَاكِنَكُمْ لَا يَحْطِمَنَّكُمْ سُلَيْمَانُ وَجُنُودُهُ وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ
atta itha ataw AAala wadi alnnamli qalat namlatun ya ayyuha alnnamlu odkhuloo masakinakum la yahtimannakum sulaymanu wajunooduhu wahum la yashAAuroona

YUSUFALI: At length, when they came to a (lowly) valley of ants, one of the ants said: “O ye ants, get into your habitations, lest Solomon and his hosts crush you (under foot) without knowing it.”
PICKTHAL: Till, when they reached the Valley of the Ants, an ant exclaimed: O ants! Enter your dwellings lest Solomon and his armies crush you, unperceiving.
SHAKIR: Until when they came to the valley of the Naml, a Namlite said: O Naml! enter your houses, (that) Sulaiman and his hosts may not crush you while they do not know.
KHALIFA: When they approached the valley of the ants, one ant said, “O you ants, go into your homes, lest you get crushed by Solomon and his soldiers, without perceiving.”

১৮। অবশেষে , যখন তারা পিঁপড়া অধ্যুষিত [ নীচু ] উপত্যকাতে পৌঁছুলো , তখন এক পিঁপড়া বলেছিলো, ” হে পিপীলিকা সকল! তোমরা নিজেদের গৃহে প্রবেশ কর যেনো, সুলায়মান এবং তাঁর বাহিনী তাদের অজ্ঞাতসারে তোমাদের পদতলে পিষে না ফেলে ৩২৫৮। ”

৩২৫৮। এই আয়াতটি ও পরবর্তী আয়াতটি একসাথে পড়তে হবে, তাহলেই আয়াতগুলির প্রতীকধর্মী অর্থ সুস্পষ্ট হবে। পিপীলিকা খুবই ক্ষুদ্র ও নগণ্য প্রাণী। পৃথিবীর শক্তিশালী ও বিশাল প্রাণীকূল দ্বারা তার ক্ষতির সম্ভাবনা , এমন কি অজ্ঞানতা ও অসাবধানতাবশতঃ পদতলে পিষ্ঠ হওয়ার প্রচুর সম্ভাবনা বিদ্যমান। তবুও এত ক্ষুদ্র প্রাণী হওয়া সত্বেও তারা তাদের গৃহে সুরক্ষিত। যুগ যুগ অতিক্রান্ত হয়েছে কিন্তু ক্ষুদ্রতা সত্বেও তারা ধরাতল থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় নাই। তাদের মাঝে মহান স্রষ্টা যে জ্ঞান দান করেছেন তার সাহায্যেই তারা যুগ যুগ ধরে পৃথিবীতে টিকে আছে এবং পৃথিবীর প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে চলেছে। ঠিক সে ভাবেই পার্থিব জগতে যারা সমাজের চোখে নগন্য , হতভাগ্য – তাদের জন্যও আধ্যাত্মিক জগতের দ্বারা উম্মুক্ত করে রেখেছেন মহান স্রষ্টা । আল্লাহ্‌র চোখে তারাও নগন্য নয়।

তার কথা শুনে সুলায়মান মুচকি হাসলেন এবং বললেন, হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমাকে সামর্থø দাও যাতে আমি তোমার সেই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, যা তুমি আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে দান করেছ এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকর্ম করতে পারি এবং আমাকে নিজ অনুগ্রহে তোমার সৎকর্মপরায়ন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত কর।
So he [Sulaimân (Solomon)] smiled, amused at her speech and said: ”My Lord! Inspire and bestow upon me the power and ability that I may be grateful for Your Favours which You have bestowed on me and on my parents, and that I may do righteous good deeds that will please You, and admit me by Your Mercy among Your righteous slaves.”

فَتَبَسَّمَ ضَاحِكًا مِّن قَوْلِهَا وَقَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَدْخِلْنِي بِرَحْمَتِكَ فِي عِبَادِكَ الصَّالِحِينَ
Fatabassama dahikan min qawliha waqala rabbi awziAAnee an ashkura niAAmataka allatee anAAamta AAalayya waAAala walidayya waan aAAmala salihan tardahu waadkhilnee birahmatika fee AAibadika alssaliheena

YUSUFALI: So he smiled, amused at her speech; and he said: “O my Lord! so order me that I may be grateful for Thy favours, which thou hast bestowed on me and on my parents, and that I may work the righteousness that will please Thee: And admit me, by Thy Grace, to the ranks of Thy righteous Servants.”
PICKTHAL: And (Solomon) smiled, laughing at her speech, and said: My Lord, arouse me to be thankful for Thy favour wherewith Thou hast favoured me and my parents, and to do good that shall be pleasing unto Thee, and include me in (the number of) Thy righteous slaves.
SHAKIR: So he smiled, wondering at her word, and said: My Lord! grant me that I should be grateful for Thy favor which Thou hast bestowed on me and on my parents, and that I should do good such as Thou art pleased with, and make me enter, by Thy mercy, into Thy servants, the good ones.
KHALIFA: He smiled and laughed at her statement, and said, “My Lord, direct me to be appreciative of the blessings You have bestowed upon me and my parents, and to do the righteous works that please You. Admit me by Your mercy into the company of Your righteous servants.”

১৯। সুতারাং সুলায়মান উহার উক্তিতে কৌতুক বোধ করে মুচ্‌কি হেসে বললো, ” হে আমার প্রভু ! তুমি আমাকে সামর্থ দান কর যেনো আমি তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, আমার প্রতি ও আমার পিতা-মাতার প্রতি তুমি যে অনুগ্রহ দান করেছ তার জন্য ৩২৫৯ এবং যাতে আমি তোমার পছন্দ অনুযায়ী সৎকাজ করতে পারি ৩২৬০। তোমার অনুগ্রহে তোমার পূণ্যাত্মা বান্দাদের মধ্যে আমাকে অর্ন্তভুক্ত কর।” ৩২৬১

৩২৫৯। নগন্য পিপীলিকার প্রেক্ষাপটের বিপরীতে হযরত সুলাইমানের অবস্থান বর্ণনা করা হয়েছে যার শক্তি , ক্ষমতা, শৈর্য্য, বীর্য, সমসাময়িক ধরাতলকে প্রকম্পিত করতো। পিপীলিকার বক্তব্যের বিপরীতে সুলাইমানের প্রার্থনাটি উল্লেখযোগ্য। তিনি প্রার্থনা করেন যে, তাঁর ক্ষমতা , জ্ঞান , এবং অন্য আর সকল অনুগ্রহ যা আল্লাহ্‌ তাঁকে দান করেছেন তার সব যেনো তিনি সৎ কাজে সকলের মঙ্গলের জন্য ব্যয় করতে পারেন। যাতে তিনি আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভ করতে পারেন। ক্ষুদ্র পিপীলিকার বক্তব্য তাঁর চিন্তাধারা কে উদ্বেলিত করেছিলো এভাবে যে , আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ তাঁকে যেন শক্তিমদমত্ত করে না তোলে। এমন কি অসর্তক ভাবেও তিনি যেনো পিপীলিকার মত ক্ষুদ্র প্রাণীকে পদদলিত করে না ফেলেন। পিপীলিকাকে পদদলিত করা প্রতীক অর্থে বলা হচ্ছে। অর্থাৎ তাঁর চতুপার্শ্বে যারা ক্ষুদ্র সামান্য, তিনি যেনো ভুলবশতঃ বা অসাবধানে তাঁদের কোনও ক্ষতি করে না ফেলেন।

৩২৬০। এমন অনেক কাজ আছে যা সমাজ ও সংসারে প্রশংসার দাবীদার। কিন্তু আল্লাহ্‌র চোখে তা অপছন্দনীয়। সুলাইমান প্রার্থনা করেন যে, তিনি যেনো আল্লাহ্‌র পছন্দের কাজকে জীবনের শ্রেষ্ঠ মানদণ্ডরূপে পরিগণিত করতে পারেন। পার্থিব প্রশংসা বা জাগতিক সাফল্যের মোহ যেনো তাকে আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভ থেকে বিচ্যুত করতে না পারে। আল্লাহ্‌র ইচ্ছার কাছে তিনি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করতে ইচ্ছুক।

৩২৬১। আল্লাহ্‌র রাজত্বে সৎকর্ম পরায়ণতা হচ্ছে নাগরিকত্বের পরিচয় জ্ঞাপক চিহ্ন। যদিও আল্লাহ্‌র রাজত্বে সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের মধ্যে শ্রেণী বিভাগ আছে। [ দেখুন আয়াত ৪ : ৬৯ এবং টিকা ৫৮৬ ] , কিন্তু তাদের মূল পরিচয় হচ্ছে সৎ কাজে তারা একে অপরের অংশীদার। এভাবেই তারা এক বিশাল সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের শ্রেণী বা বিশ্ব ভাতৃত্বের অংশ। সুলাইমান সেই বান্দাদের শ্রেণীভুক্ত হওয়ার জন্য প্রার্থনা করেন।

সুলায়মান পক্ষীদের খোঁজ খবর নিলেন, অতঃপর বললেন, কি হল, হুদহুদকে দেখছি না কেন? নাকি সে অনুপস্থিত?
He inspected the birds, and said: ”What is the matter that I see not the hoopoe? Or is he among the absentees?

وَتَفَقَّدَ الطَّيْرَ فَقَالَ مَا لِيَ لَا أَرَى الْهُدْهُدَ أَمْ كَانَ مِنَ الْغَائِبِينَ
Watafaqqada alttayra faqala ma liya la ara alhudhuda am kana mina algha-ibeena

YUSUFALI: And he took a muster of the Birds; and he said: “Why is it I see not the Hoopoe? Or is he among the absentees?
PICKTHAL: And he sought among the birds and said: How is it that I see not the hoopoe, or is he among the absent?
SHAKIR: And he reviewed the birds, then said: How is it I see not the hoopoe or is it that he is of the absentees?
KHALIFA: He inspected the birds, and noted: “Why do I not see the hoopoe? Why is he missing?

২০। এবং সে পাখীদের সমবেত করলো ; এবং বলেছিলো , ” ব্যাপার কি ; আমি হুদহুদকে দেখছি না কেন ? সে কি অনুপস্থিত আছে ? ৩২৬২

৩২৬২। পূর্বেই বলা হয়েছে হযরত সুলাইমান আল্লাহ্‌ প্রদত্ত সকল ক্ষমতা ও অনুগ্রহ, শৃঙ্খলার সাথে বিন্যস্ত ও সমন্বিত করতেন। এ ব্যাপারে তিনি ছিলেন কঠোর পরিশ্রমী। তিনি তাঁর প্রশাসনের সকল সংস্থা , সেনাদল ও শক্তির উৎস সমূহ সর্বদা কঠোর তত্বাবধানে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করতেন। তার বিচরণশীল সেনাদলে ছিলো বিহঙ্গকূল। বিহঙ্গরা সর্বত্র উড়ে বেড়াতো এবং রাজত্বের সকল খবরা-খবর সংগ্রহ করতো। একদিন সুলাইমান হুদ্‌হুদ্‌ কে অনুপস্থিত দেখতে পেলেন সমাবেশে। হুদহুদ পাখীর স্বাভাবিক সৌষ্ঠব হচ্ছে হালকা এবং সৌন্দর্য্য মন্ডিত। এর পালকগুলি বহুবর্ণে রঞ্জিত। মাথায় সুন্দর হলুদ পালকগুচ্ছ মুকুটের ন্যায় শোভা পায় – যার ফলে হুদ্‌হুদ্‌ কে পাখীর রাজার ন্যায় দেখায়।

আমি অবশ্যই তাকে কঠোর শাস্তি দেব কিংবা হত্যা করব অথবা সে উপস্থিত করবে উপযুক্ত কারণ।
”I will surely punish him with a severe torment, or slaughter him, unless he brings me a clear reason.”

لَأُعَذِّبَنَّهُ عَذَابًا شَدِيدًا أَوْ لَأَذْبَحَنَّهُ أَوْ لَيَأْتِيَنِّي بِسُلْطَانٍ مُّبِينٍ
LaoAAaththibannahu AAathaban shadeedan aw laathbahannahu aw laya/tiyannee bisultanin mubeenin

YUSUFALI: “I will certainly punish him with a severe penalty, or execute him, unless he bring me a clear reason (for absence).”
PICKTHAL: I verily will punish him with hard punishment or I verily will slay him, or he verily shall bring me a plain excuse.
SHAKIR: I will most certainly punish him with a severe punishment, or kill him, or he shall bring to me a clear plea.
KHALIFA: “I will punish him severely or sacrifice him, unless he gives me a good excuse.”

২১। ” [ অনুপস্থিত থাকার জন্য ] সে উপযুক্ত কারণ না দর্শালে আমি তাকে কঠিন শাস্তি দান করবো , অথবা প্রাণদন্ড দিব।”

২২। কিন্তু অনতিবিলম্বে হুদহুদ এসে পড়লো এবং বললো; ” আমি এমন এক রাজ্য প্রদক্ষিণ করে এসেছি যা আপনি করেন নাই, এবং আমি আপনার নিকট সাবা দেশ থেকে সত্য খবর এনেছি ৩২৬৩।

৩২৬৩। বাইবেলে উল্লেখিত নগরী সেবা ও এখানে উল্লেখিত সাবা একই নগরী। পরবর্তীতে সূরা সাবাতে [ ৩৪ : ১৫ – ২০ ] এই নগরীর নাম অনুযায়ী নামকরণ করা হয়। সাবা ইয়েমেনের একটি নগরী। সা’না থেকে তিন দিনের পদব্রজের পথ [ প্রায় ৫০ মাইল ]। একজন জার্মান প্রত্নতত্ববিদ Dr. Hans Helfritz বর্তমানে দাবী করেন যে তিনি হাদরামাউতে [ Hadhramaut ] সাবার অবস্থান সনাক্ত করতে পেরেছেন। বিখ্যাত Maarib এর বাঁধ দেশটিকে সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত করে, ফলে তারা উন্নত সভ্যতার সৃষ্টি করে। সুতারাং সেবার রাণী এরূপ একটি উন্নত সভ্যতা ও সমৃদ্ধশালী সম্রাজ্যের রাণী হওয়ার দরুণ স্বাভাবিক ভাবেই গর্বিত ছিলেন যতদিন না তিনি সুলাইমানের যশ ও গৌরব দর্শন করেছিলেন।

কিছুক্ষণ পড়েই হুদ এসে বলল, আপনি যা অবগত নন, আমি তা অবগত হয়েছি। আমি আপনার কাছে সাবা থেকে নিশ্চিত সংবাদ নিয়ে আগমন করেছি।
But the hoopoe stayed not long, he (came up and) said: ”I have grasped (the knowledge of a thing) which you have not grasped and I have come to you from Saba’ (Sheba) with true news.

فَمَكَثَ غَيْرَ بَعِيدٍ فَقَالَ أَحَطتُ بِمَا لَمْ تُحِطْ بِهِ وَجِئْتُكَ مِن سَبَإٍ بِنَبَإٍ يَقِينٍ
Famakatha ghayra baAAeedin faqala ahattu bima lam tuhit bihi waji/tuka min saba-in binaba-in yaqeenin

YUSUFALI: But the Hoopoe tarried not far: he (came up and) said: “I have compassed (territory) which thou hast not compassed, and I have come to thee from Saba with tidings true.
PICKTHAL: But he was not long in coming, and he said: I have found out (a thing) that thou apprehendest not, and I come unto thee from Sheba with sure tidings.
SHAKIR: And he tarried not long, then said: I comprehend that which you do not comprehend and I have brought to you a sure information from Sheba.
KHALIFA: He did not wait for long. (The hoopoe) said, “I have news that you do not have. I brought to you from Sheba, some important information.

২১। ” [ অনুপস্থিত থাকার জন্য ] সে উপযুক্ত কারণ না দর্শালে আমি তাকে কঠিন শাস্তি দান করবো , অথবা প্রাণদন্ড দিব।”

২২। কিন্তু অনতিবিলম্বে হুদহুদ এসে পড়লো এবং বললো; ” আমি এমন এক রাজ্য প্রদক্ষিণ করে এসেছি যা আপনি করেন নাই, এবং আমি আপনার নিকট সাবা দেশ থেকে সত্য খবর এনেছি ৩২৬৩।

৩২৬৩। বাইবেলে উল্লেখিত নগরী সেবা ও এখানে উল্লেখিত সাবা একই নগরী। পরবর্তীতে সূরা সাবাতে [ ৩৪ : ১৫ – ২০ ] এই নগরীর নাম অনুযায়ী নামকরণ করা হয়। সাবা ইয়েমেনের একটি নগরী। সা’না থেকে তিন দিনের পদব্রজের পথ [ প্রায় ৫০ মাইল ]। একজন জার্মান প্রত্নতত্ববিদ Dr. Hans Helfritz বর্তমানে দাবী করেন যে তিনি হাদরামাউতে [ Hadhramaut ] সাবার অবস্থান সনাক্ত করতে পেরেছেন। বিখ্যাত Maarib এর বাঁধ দেশটিকে সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত করে, ফলে তারা উন্নত সভ্যতার সৃষ্টি করে। সুতারাং সেবার রাণী এরূপ একটি উন্নত সভ্যতা ও সমৃদ্ধশালী সম্রাজ্যের রাণী হওয়ার দরুণ স্বাভাবিক ভাবেই গর্বিত ছিলেন যতদিন না তিনি সুলাইমানের যশ ও গৌরব দর্শন করেছিলেন।

আমি এক নারীকে সাবাবাসীদের উপর রাজত্ব করতে দেখেছি। তাকে সবকিছুই দেয়া হয়েছে এবং তার একটা বিরাট সিংহাসন আছে।
”I found a woman ruling over them, and she has been given all things that could be possessed by any ruler of the earth, and she has a great throne.

إِنِّي وَجَدتُّ امْرَأَةً تَمْلِكُهُمْ وَأُوتِيَتْ مِن كُلِّ شَيْءٍ وَلَهَا عَرْشٌ عَظِيمٌ
Innee wajadtu imraatan tamlikuhum waootiyat min kulli shay-in walaha AAarshun AAatheemun

YUSUFALI: “I found (there) a woman ruling over them and provided with every requisite; and she has a magnificent throne.
PICKTHAL: Lo! I found a woman ruling over them, and she hath been given (abundance) of all things, and hers is a mighty throne.
SHAKIR: Surely I found a woman ruling over them, and she has been given abundance and she has a mighty throne:
KHALIFA: “I found a woman ruling them, who is blessed with everything, and possesses a tremendous palace.

২৩। ” আমি সেখানে তাদের উপরে এক নারীকে রাজত্ব করতে দেখলাম ৩২৬৪। তাকে প্রয়োজনীয় সকল কিছুই দেয়া হয়েছে। এবং তাঁর আছে এক জঁমকালো সিংহাসন ৩২৬৫।

৩২৬৪। এই মহিলা ছিলেন সেবার রাণী বিলকিস্‌। আরব দেশে প্রথা অনুযায়ী সেবার রাণীকে বিলকিস ডাকা হতো। সেবার রাণী ইয়েমেন থেকে আগত, তবে তাঁর আবেসিনিয়ার সাথে জ্ঞাতি সম্পর্ক ছিলো। সম্ভবতঃ তিনি আবেসিনিয়াও শাসন করতেন। হাবাসা গোত্র [ Habasha ] ইয়েমেন থেকে আগত এবং হাবাসার নাম অনুসারে আবেসিনিয়ার নামকরণ করা হয়। ইয়েমেনের দক্ষিণ উপকূল এবং আবেসিনিয়ার উত্তর পূর্ব উপকূল মাত্র ২০ মাইল সংঙ্কীর্ণ প্রণালী [ Bab-al- Maudab ] দ্বারা বিভক্ত। খৃষ্টপূর্ব ১০ – ১১ শতাব্দীতে আরব থেকে ঘন ঘন আবেসিনিয়া আক্রমণ করা হতো যে সময় কাল সুলাইমানের রাজত্বকালের সাথে [ খৃষ্টপূর্ব ৯৯২ – ৯৫২ ] সামঞ্জস্য পূর্ণ। দক্ষিণ আরবে ইসলাম পূর্ব যে শিলালিপি পাওয়া যায় তার বর্ণমালার প্রভাব সাবাঈন [Sabaean] এবং হিমেয়ারাইট [ Himyarite ] বর্ণমালাতে লক্ষ্য করা যায়। এই ভাষা ইথিওপিয়ার মাধ্যমে আবেসিনিয়ার ভাষারূপে পরিচিত। আবেসিনিয়ার ঐতিহাসিক ঐতিহ্য বর্তমান”The Book of The Glory of Kings” [ Kebra Nagast ] MÖš’wU Sir E. A. Wallis Budge [Oxford 1932 ] দ্বারা ইংরেজীতে অনুবাদ করা হয়েছে। এই বইতে সেবার রাণী এবং তাঁর একমাত্র পুত্র Menyelek I যিনি আবেসিনিয়ার রাজবংশের পত্তন করেন, তার বর্ণনা আছে।

৩২৬৫। “সকল কিছু ” বাক্যটি মওলানা ইউসুফ আলীর মতে শুধুমাত্র ঐশ্বর্য,সোনা-দানা বা খাদ্য সম্ভারের প্রাচুর্য-ই নয়। এসব ব্যতীতও সেবার রাণীর রাজত্বে বিজ্ঞান ও শিল্পেরও চর্চ্চা করা হতো।

আমি তাকে ও তার সম্প্রদায়কে দেখলাম তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সেজদা করছে। শয়তান তাদের দৃষ্টিতে তাদের কার্যাবলী সুশোভিত করে দিয়েছে। অতঃপর তাদেরকে সৎপথ থেকে নিবৃত্ত করেছে। অতএব তারা সৎপথ পায় না।
”I found her and her people worshipping the sun instead of Allâh, and Shaitân (Satan) has made their deeds fair-seeming to them, and has barred them from (Allâh’s) Way, so they have no guidance,”

وَجَدتُّهَا وَقَوْمَهَا يَسْجُدُونَ لِلشَّمْسِ مِن دُونِ اللَّهِ وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ السَّبِيلِ فَهُمْ لَا يَهْتَدُونَ
Wajadtuha waqawmaha yasjudoona lilshshamsi min dooni Allahi wazayyana lahumu alshshaytanu aAAmalahum fasaddahum AAani alssabeeli fahum la yahtadoona

YUSUFALI: “I found her and her people worshipping the sun besides Allah: Satan has made their deeds seem pleasing in their eyes, and has kept them away from the Path,- so they receive no guidance,-
PICKTHAL: I found her and her people worshipping the sun instead of Allah; and Satan maketh their works fairseeming unto them, and debarreth them from the way (of Truth), so that they go not aright;
SHAKIR: I found her and her people adoring the sun instead of Allah, and the Shaitan has made their deeds fair-seeming to them and thus turned them from the way, so they do not go aright
KHALIFA: “I found her and her people prostrating before the sun, instead of GOD. The devil has adorned their works in their eyes, and has repulsed them from the path; consequently, they are not guided.”

২৪। ” আমি তাকে ও তার সম্প্রদায়কে দেখলাম আল্লাহ্‌র পরিবর্তে সূর্যের এবাদত করতে ৩২৬৬। শয়তান তাদের কার্যাবলী তাদের চোখে মনোহর করেছে এবং সে তাদের সঠিক পথ থেকে নিবৃত্ত করেছে – সুতারাং তারা পথ-নির্দ্দেশ লাভ করে না, –

৩২৬৬। সাবার লোকদের [ Himyar or Sabaeans ] প্রাচীন ধর্ম ছিলো নভোমন্ডলের সূর্য, চন্দ্র ও তারকারাজিকে পূঁজা করা। সম্ভবতঃ এই ধর্ম বিশ্বাস হযরত ইব্রাহীমের পিতার দেশ চালদিয়া [ Chaldaea ] থেকে আগত। দেখুন আয়াত [ ৬ : ৭৫ – ৭৯ এবং এর টিকা ]। কারণ আবেসিনিয়া মেসোপটেমিয়া এবং পারস্য উপসাগরে ইয়েমেনবাসীদের অবাধ যাতায়াত ছিলো।

সাবাঈনদের ধর্ম [ Sabaean আরবীতে সিন্‌ দিয়ে লেখা হয় ] এবং সাবীয়ানদের ধর্মের [ Sabian আরবীতে সোয়াদ দিয়ে লেখা হয় ] মধ্যে তালগোল পাকিয়ে ফেলা ঠিক নয়। সাবীয়ানদের সম্পর্কে দেখুন আয়াত [ ২ : ৬২ ] এবং টিকা ৭৬।

তারা আল্লাহকে সেজদা করে না কেন, যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের গোপন বস্তু প্রকাশ করেন এবং জানেন যা তোমরা গোপন কর ও যা প্রকাশ কর।
Al-Lâ (this word has two interpretations) (A) [As Shaitân (Satan) has barred them from Allâh’s Way] so that they do not worship (prostrate before) Allâh, or (B) So that they may worship (prostrate before) Allâh, Who brings to light what is hidden in the heavens and the earth, and knows what you conceal and what you reveal. [Tafsir At-Tabarî, Vol. 19, Page 149]

أَلَّا يَسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي يُخْرِجُ الْخَبْءَ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَيَعْلَمُ مَا تُخْفُونَ وَمَا تُعْلِنُونَ
Alla yasjudoo lillahi allathee yukhriju alkhabaa fee alssamawati waal-ardi wayaAAlamu ma tukhfoona wama tuAAlinoona

YUSUFALI: “(Kept them away from the Path), that they should not worship Allah, Who brings to light what is hidden in the heavens and the earth, and knows what ye hide and what ye reveal.
PICKTHAL: So that they worship not Allah, Who bringeth forth the hidden in the heavens and the earth, and knoweth what ye hide and what ye proclaim,
SHAKIR: That they do not make obeisance to Allah, Who brings forth what is hidden in the heavens and the earth and knows what you hide and what you make manifest:
KHALIFA: They should have been prostrating before GOD, the One who manifests all the mysteries in the heavens and the earth, and the One who knows everything you conceal and everything you declare.

২৫। ” [ নিবৃত্ত করেছে এজন্য যে ] ,তারা যেনো এবাদত না করে আল্লাহ্‌র , যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর লুক্কায়িত বস্তুকে প্রকাশ করেন এবং যিনি জানেন যা তোমরা গোপন কর এবং যা তোমরা প্রকাশ কর ৩২৬৭।

৩২৬৭। সাবাঈনদের মিথ্যা উপাস্যের উপাসনাকে তিন ভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে।

১) তারা তাদের নিজেদের সাফল্যে বিমোহিত কারণ শয়তান তাদের কার্যাবলী তাদের চোখে শোভন করে দেয়। তারা সর্ব সাফল্যের জন্য আল্লাহ্‌র অনুগ্রহকে স্মরণ করতে ভুলে যায়।

২) যে জ্যোতিষ্কমন্ডলীর পূঁজা তারা করে, সে সবের অস্তিত্ব আল্লাহ্‌র অনুগ্রহের উপরে নির্ভরশীল। স্রষ্টাকে পূঁজা করতে হয়, তাঁর সৃষ্টিকে নয়, এই সহজ সত্য তারা শয়তানের প্ররোচনাতে অনুধাবনে ব্যর্থ।

৩) আল্লাহ্‌ মানুষের মনের ব্যক্ত অব্যক্ত সকল চিন্তাধারা সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল। তারা যার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে সে সম্বন্ধেও আল্লাহ্‌ ওয়াকিবহাল। আসলে তাদের আনুগত্য তাদের আত্ম পূঁজা। নিজেদের মনগড়া মিথ্যা উপাস্য তাদের নিজেদেরই সৃষ্টি। নিজের সৃষ্টির পূঁজার মাধ্যমে তারা আত্মপূঁজাতেই আত্মনিমগ্ন থাকে। স্রষ্টাকে ভয় পায়। কারণ তিনি সব কিছু জানেন। তাদের অন্তরের গোপন পাপের খবরও তিনি জ্ঞাত।

আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তিনি মহা আরশের মালিক।
Allâh, Lâ ilâha illa Huwa (none has the right to be worshipped but He), the Lord of the Supreme Throne!

اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
Allahu la ilaha illa huwa rabbu alAAarshi alAAatheemi

YUSUFALI: “Allah!- there is no god but He!- Lord of the Throne Supreme!”
PICKTHAL: Allah; there is no Allah save Him, the Lord of the Tremendous Throne.
SHAKIR: Allah, there is no god but He: He is the Lord of mighty power.
KHALIFA: GOD: there is no other god beside Him; the Lord with the great dominion.

২৬। ” আল্লাহ্‌ ! তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই ! – তিনি মহা আরশের অধিপতি ৩২৬৮। ”

৩২৬৮। হুদ্‌হুদ্‌ ছিলো হযরত সুলাইমানের উপযুক্ত পূণ্যাত্মা দূত। তার বক্তব্য ছিলো : প্রথমে সাবাঈনের মিথ্যা উপাস্যের উপাসনার উল্লেখ করে সে একত্ববাদের ঘোষণা করে এবং আল্লাহ্‌কে মহা আরশের অধিপতিরূপে প্রতিষ্ঠিত করে। কারণ সে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করে যে, মানুষের সিংহাসন যত চমৎকার ও জাঁকজমকপূর্ণ হোক না কেন [ ২৭ : ২৩ ] – সবার উপরে আল্লাহ্‌র আরশের অবস্থান। এর মানে এই নয় যে, সে সুলাইমানের বিশ্বস্ত ছিলো না, এখানে শুধু সে একত্ববাদের ধর্মকে ব্যাখ্যাদান করে।

সুলায়মান বললেন, এখন আমি দেখব তুমি সত্য বলছ, না তুমি মিথ্যবাদী।
[Sulaimân (Solomon)] said: ”We shall see whether you speak the truth or you are (one) of the liars.

قَالَ سَنَنظُرُ أَصَدَقْتَ أَمْ كُنتَ مِنَ الْكَاذِبِينَ
Qala sananthuru asadaqta am kunta mina alkathibeena

YUSUFALI: (Solomon) said: “Soon shall we see whether thou hast told the truth or lied!
PICKTHAL: (Solomon) said: We shall see whether thou speakest truth or whether thou art of the liars.
SHAKIR: He said: We will see whether you have told the truth or whether you are of the liars:
KHALIFA: (Solomon) said, “We will see if you told the truth, or if you are a liar.

২৭। [ সুলেমান ] বলেছিলো, ” শীঘ্রই আমি দেখবো , তুমি কি সত্য বলেছ না মিথ্যা বলেছ ! ৩২৬৯

৩২৬৯। হুদহুদের নূতন দেশ ভ্রমণের বর্ণনা সুলাইমান সন্দেহ করেন নাই, কিন্তু তিনি পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন যে, বর্ণনার মধ্যে অতিরঞ্জিত আছে কি না। হুদহুদের কল্পনা , বাস্তব ঐশ্বর্য, জাঁকজমক ও তাদের ধর্মের বর্ণনাকে অতিক্রম করে বাহুল্যেতে পর্যবসিত কি না , এই ছিলো সুলাইমানের পরীক্ষার বিষয়।

তুমি আমার এই পত্র নিয়ে যাও এবং এটা তাদের কাছে অর্পন কর। অতঃপর তাদের কাছ থেকে সরে পড় এবং দেখ, তারা কি জওয়াব দেয়।
”Go you with this letter of mine, and deliver it to them, then draw back from them, and see what (answer) they return.”

اذْهَب بِّكِتَابِي هَذَا فَأَلْقِهْ إِلَيْهِمْ ثُمَّ تَوَلَّ عَنْهُمْ فَانظُرْ مَاذَا يَرْجِعُونَ
Ithhab bikitabee hatha faalqih ilayhim thumma tawalla AAanhum faonthur matha yarjiAAoona

YUSUFALI: “Go thou, with this letter of mine, and deliver it to them: then draw back from them, and (wait to) see what answer they return”…
PICKTHAL: Go with this my letter and throw it down unto them; then turn away and see what (answer) they return,
SHAKIR: Take this my letter and hand it over to them, then turn away from them and see what (answer) they return.
KHALIFA: “Take this letter from me, give it to them, then watch for their response.”

২৮। ” আমার এই চিঠি নিয়ে [ সেখানে ] যাও , এবং সেটা তাদের নিকট অর্পন কর। অতঃপর তাদের নিকট থেকে প্রত্যাগমন করে [ অপেক্ষা কর ] এবং দেখ তারা কি প্রত্যুত্তর দেয় ” ……….

২৯। [ রাণী ] বলেছিলো, ” হে পরিষদবর্গ আমাকে এক সম্মানীত পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। ”

৩০। ” এটা এসেছে সুলেমানের পক্ষ থেকে এবং তা এই : ” দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ! ৩২৭০”

৩২৭০। সুলাইমান তাঁর পত্র পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে শুরু করে এ কথাই বোঝাতে চেয়েছেন যে, তিনি নূতন সম্প্রদায়কে আল্লাহ্‌র প্রতি সত্যের প্রতি আহ্বান করেছেন। তাঁর এই আহ্বান সমর শক্তি দ্বারা দেশ জয় করার অভিপ্রায় নয়। এই আহ্বান ছিলো সম্মানজনক আহ্বান আল্লাহ্‌র হেদায়েতের আলোয়।

বিলকীস বলল, হে পরিষদবর্গ, আমাকে একটি সম্মানিত পত্র দেয়া হয়েছে।
She said: ”O chiefs! Verily! Here is delivered to me a noble letter,

قَالَتْ يَا أَيُّهَا المَلَأُ إِنِّي أُلْقِيَ إِلَيَّ كِتَابٌ كَرِيمٌ
Qalat ya ayyuha almalao innee olqiya ilayya kitabun kareemun

YUSUFALI: (The queen) said: “Ye chiefs! here is delivered to me – a letter worthy of respect.
PICKTHAL: (The Queen of Sheba) said (when she received the letter): O chieftains! Lo! there hath been thrown unto me a noble letter.
SHAKIR: She said: O chief! surely an honorable letter has been delivered to me
KHALIFA: She said, “O my advisers, I have received an honorable letter.

২৮। ” আমার এই চিঠি নিয়ে [ সেখানে ] যাও , এবং সেটা তাদের নিকট অর্পন কর। অতঃপর তাদের নিকট থেকে প্রত্যাগমন করে [ অপেক্ষা কর ] এবং দেখ তারা কি প্রত্যুত্তর দেয় ” ……….

২৯। [ রাণী ] বলেছিলো, ” হে পরিষদবর্গ আমাকে এক সম্মানীত পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। ”

৩০। ” এটা এসেছে সুলেমানের পক্ষ থেকে এবং তা এই : ” দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ! ৩২৭০”

৩২৭০। সুলাইমান তাঁর পত্র পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে শুরু করে এ কথাই বোঝাতে চেয়েছেন যে, তিনি নূতন সম্প্রদায়কে আল্লাহ্‌র প্রতি সত্যের প্রতি আহ্বান করেছেন। তাঁর এই আহ্বান সমর শক্তি দ্বারা দেশ জয় করার অভিপ্রায় নয়। এই আহ্বান ছিলো সম্মানজনক আহ্বান আল্লাহ্‌র হেদায়েতের আলোয়।

সেই পত্র সুলায়মানের পক্ষ থেকে এবং তা এইঃ সসীম দাতা, পরম দয়ালু, আল্লাহর নামে শুরু;
”Verily! It is from Sulaimân (Solomon), and verily! It (reads): In the Name of Allâh, the Most Beneficent, the Most Merciful;

إِنَّهُ مِن سُلَيْمَانَ وَإِنَّهُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
Innahu min sulaymana wa-innahu bismi Allahi alrrahmani alrraheemi

YUSUFALI: “It is from Solomon, and is (as follows): ‘In the name of Allah, Most Gracious, Most Merciful:
PICKTHAL: Lo! it is from Solomon, and lo! it is: In the name of Allah, the Beneficent, the Merciful;
SHAKIR: Surely it is from Sulaiman, and surely it is in the name of Allah, the Beneficent, the Merciful;
KHALIFA: “It is from Solomon, and it is, `In the name of GOD, Most Gracious, Most Merciful.’

২৮। ” আমার এই চিঠি নিয়ে [ সেখানে ] যাও , এবং সেটা তাদের নিকট অর্পন কর। অতঃপর তাদের নিকট থেকে প্রত্যাগমন করে [ অপেক্ষা কর ] এবং দেখ তারা কি প্রত্যুত্তর দেয় ” ……….

২৯। [ রাণী ] বলেছিলো, ” হে পরিষদবর্গ আমাকে এক সম্মানীত পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। ”

৩০। ” এটা এসেছে সুলেমানের পক্ষ থেকে এবং তা এই : ” দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ! ৩২৭০”

৩২৭০। সুলাইমান তাঁর পত্র পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে শুরু করে এ কথাই বোঝাতে চেয়েছেন যে, তিনি নূতন সম্প্রদায়কে আল্লাহ্‌র প্রতি সত্যের প্রতি আহ্বান করেছেন। তাঁর এই আহ্বান সমর শক্তি দ্বারা দেশ জয় করার অভিপ্রায় নয়। এই আহ্বান ছিলো সম্মানজনক আহ্বান আল্লাহ্‌র হেদায়েতের আলোয়।

আমার মোকাবেলায় শক্তি প্রদর্শন করো না এবং বশ্যতা স্বীকার করে আমার কাছে উপস্থিত হও।
”Be you not exalted against me, but come to me as Muslims (true believers who submit to Allâh with full submission)’ ”

أَلَّا تَعْلُوا عَلَيَّ وَأْتُونِي مُسْلِمِينَ
Alla taAAloo AAalayya wa/toonee muslimeena

YUSUFALI: “‘Be ye not arrogant against me, but come to me in submission (to the true Religion).’”
PICKTHAL: Exalt not yourselves against me, but come unto me as those who surrender.
SHAKIR: Saying: exalt not yourselves against me and come to me in submission.
KHALIFA: “Proclaiming: `Do not be arrogant; come to me as submitters.’ ”

৩১। ” আমার বিরুদ্ধে উদ্ধত হয়ো না, বরং [ সত্য ধর্মে ] অনুগত হয়ে আমার নিকট উপস্থিত হও।”

বিলকীস বলল, হে পরিষদবর্গ, আমাকে আমার কাজে পরামর্শ দাও। তোমাদের উপস্থিতি ব্যতিরেকে আমি কোন কাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না।
She said: ”O chiefs! Advise me in (this) case of mine. I decide no case till you are present with me.”

قَالَتْ يَا أَيُّهَا المَلَأُ أَفْتُونِي فِي أَمْرِي مَا كُنتُ قَاطِعَةً أَمْرًا حَتَّى تَشْهَدُونِ
Qalat ya ayyuha almalao aftoonee fee amree ma kuntu qatiAAatan amran hatta tashhadoona

YUSUFALI: She said: “Ye chiefs! advise me in (this) my affair: no affair have I decided except in your presence.”
PICKTHAL: She said: O chieftains! Pronounce for me in my case. I decide no case till ye are present with me.
SHAKIR: She said: O chiefs! give me advice respecting my affair: I never decide an affair until you are in my presence.
KHALIFA: She said, “O my advisers, counsel me in this matter. I am not deciding anything until you advise me.”

রুকু – ৩

৩২। সে বলেছিলো, ” হে পরিষদবর্গ ! আমার এই ব্যাপারে আমাকে পরামর্শ দাও। কোন ব্যাপারে আমি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না, তোমাদের উপস্থিতি ছাড়া।”

৩৩। তারা বলেছিলো, ” আমরা তো শক্তিতে সমৃদ্ধ প্রচন্ড যুদ্ধে পারদর্শী। কিন্তু আপনি হুকুম দেয়ার মালিক। সুতারাং ভেবে বলুন আপনি কি হুকুম দেবেন। ”

৩৪। সে বলেছিলো, ” রাজা-বাদশারা যখন কোন দেশে [ বিজয়ী রূপে ] প্রবেশ করে, তখন সে দেশ লুণ্ঠন করে ৩২৭১। সেখানের মর্যদাবান ব্যক্তিদের লাঞ্ছিত করে। এরাও এরূপই করবে।

৩২৭১। এই আয়াতের মাধ্যমে রাণী বিলকিসের চরিত্রের বিশেষ দিক প্রকাশিত করা হয়েছে। রাণী শাসক হিসেবে ক্ষমতা, ঐশ্বর্য্য ,সম্মান , প্রজাদের আনুগত্য সব কিছুই পূর্ণমাত্রায় ভোগ করছিলেন। কিন্তু তিনি পরিষদদের সাথে আলোচনা ব্যতীত কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন না। তাঁর পরিষদবর্গ ছিলো তাঁর একান্ত অনুগত এবং তাঁর আদেশ মানার জন্য সর্বদা প্রস্তুত। তাঁর প্রজাবর্গ ছিলো সাহসী, অনুগত ও তৃপ্ত। যদিও তাঁরা দেশকে শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য সর্বদা প্রস্তুত ছিলো। কিন্তু রাণী বিলকিস সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে ছিলেন দূরদর্শী ও বিচক্ষণ। তিনি তাঁর দেশকে যুদ্ধ বিগ্রহে লিপ্ত করতে চান নাই। তিনি তাঁর বিচক্ষণতার দ্বারা অনুধাবন করেছিলেন যে, সুলাইমান ঠিক অন্য আর সকল নৃপতির মত অস্ত্রের মাধ্যমে দেশ জয়ের পক্ষপাতি নন। সম্ভবতঃ বিলকিসের হৃদয় ছিলো পবিত্র, তাই আল্লাহ্‌র হেদায়েতের আলো পূর্ব থেকেই সে হৃদয়ে প্রবেশ করেছিলো , যার দরুণ সত্য ও মিথ্যাকে প্রভেদ করার ক্ষমতা স্বতঃস্ফুর্তভাবে তাঁর হৃদয়ে তিনি লাভ করেছিলেন ; যদিও তাঁর রাজত্বে তাঁর সকল প্রজা ছিলো মোশরেক। রাণী ছিলেন একজন সুদক্ষ শাসক এবং প্রজাবৎসল। প্রজাদের জন্য তাঁর ছিলো অপরিমেয় স্নেহ ভালোবাসা। সুতারাং প্রজারাও তাদের রাণীকে যৎপরনাস্তি ভালোবাসতো। যে কোন অবস্থাতেই তারা রাণীর পাশে অবস্থান নেবে। সুতারাং যুদ্ধের রাস্তায় না যেয়ে রাণী সিদ্ধান্ত নিলেন যে, উপঢৌকন প্রেরণ করা হোক। সম্ভবতঃ রাণীর হৃদয়ে আধ্যাত্মিক আলোর অনুপ্রবেশ ঘটেছিলো – কারণ তাঁর সিদ্ধান্ত ছিলো মানবিক ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন। রাণী বিলকিসের চরিত্রে দূরদর্শিতা ও নারীর মমত্বের রূপ লক্ষ্য করা যায় কারণ প্রজাদের যুদ্ধংদেহী মনোভাব সত্বেও তিনি শান্তির পথে তাদের টেনে নিতে সক্ষম ছিলেন।

সূরা নমল

তারা বলল, আমরা শক্তিশালী এবং কঠোর যোদ্ধা। এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আপনারই। অতএব আপনি ভেবে দেখুন, আমাদেরকে কি আদেশ করবেন।
They said: ”We have great strength, and great ability for war, but it is for you to command; so think over what you will command.”

قَالُوا نَحْنُ أُوْلُوا قُوَّةٍ وَأُولُوا بَأْسٍ شَدِيدٍ وَالْأَمْرُ إِلَيْكِ فَانظُرِي مَاذَا تَأْمُرِينَ
Qaloo nahnu oloo quwwatin waoloo ba/sin shadeedin waal-amru ilayki faonthuree matha ta/mureena

YUSUFALI: They said: “We are endued with strength, and given to vehement war: but the command is with thee; so consider what thou wilt command.”
PICKTHAL: They said: We are lords of might and lords of great prowess, but it is for thee to command; so consider what thou wilt command.
SHAKIR: They said: We are possessors of strength and possessors of mighty prowess, and the command is yours, therefore see what you will command.
KHALIFA: They said, “We possess the power, we possess the fighting skills, and the ultimate command is in your hand. You decide what to do.”

রুকু – ৩

৩২। সে বলেছিলো, ” হে পরিষদবর্গ ! আমার এই ব্যাপারে আমাকে পরামর্শ দাও। কোন ব্যাপারে আমি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না, তোমাদের উপস্থিতি ছাড়া।”

৩৩। তারা বলেছিলো, ” আমরা তো শক্তিতে সমৃদ্ধ প্রচন্ড যুদ্ধে পারদর্শী। কিন্তু আপনি হুকুম দেয়ার মালিক। সুতারাং ভেবে বলুন আপনি কি হুকুম দেবেন। ”

৩৪। সে বলেছিলো, ” রাজা-বাদশারা যখন কোন দেশে [ বিজয়ী রূপে ] প্রবেশ করে, তখন সে দেশ লুণ্ঠন করে ৩২৭১। সেখানের মর্যদাবান ব্যক্তিদের লাঞ্ছিত করে। এরাও এরূপই করবে।

৩২৭১। এই আয়াতের মাধ্যমে রাণী বিলকিসের চরিত্রের বিশেষ দিক প্রকাশিত করা হয়েছে। রাণী শাসক হিসেবে ক্ষমতা, ঐশ্বর্য্য ,সম্মান , প্রজাদের আনুগত্য সব কিছুই পূর্ণমাত্রায় ভোগ করছিলেন। কিন্তু তিনি পরিষদদের সাথে আলোচনা ব্যতীত কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন না। তাঁর পরিষদবর্গ ছিলো তাঁর একান্ত অনুগত এবং তাঁর আদেশ মানার জন্য সর্বদা প্রস্তুত। তাঁর প্রজাবর্গ ছিলো সাহসী, অনুগত ও তৃপ্ত। যদিও তাঁরা দেশকে শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য সর্বদা প্রস্তুত ছিলো। কিন্তু রাণী বিলকিস সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে ছিলেন দূরদর্শী ও বিচক্ষণ। তিনি তাঁর দেশকে যুদ্ধ বিগ্রহে লিপ্ত করতে চান নাই। তিনি তাঁর বিচক্ষণতার দ্বারা অনুধাবন করেছিলেন যে, সুলাইমান ঠিক অন্য আর সকল নৃপতির মত অস্ত্রের মাধ্যমে দেশ জয়ের পক্ষপাতি নন। সম্ভবতঃ বিলকিসের হৃদয় ছিলো পবিত্র, তাই আল্লাহ্‌র হেদায়েতের আলো পূর্ব থেকেই সে হৃদয়ে প্রবেশ করেছিলো , যার দরুণ সত্য ও মিথ্যাকে প্রভেদ করার ক্ষমতা স্বতঃস্ফুর্তভাবে তাঁর হৃদয়ে তিনি লাভ করেছিলেন ; যদিও তাঁর রাজত্বে তাঁর সকল প্রজা ছিলো মোশরেক। রাণী ছিলেন একজন সুদক্ষ শাসক এবং প্রজাবৎসল। প্রজাদের জন্য তাঁর ছিলো অপরিমেয় স্নেহ ভালোবাসা। সুতারাং প্রজারাও তাদের রাণীকে যৎপরনাস্তি ভালোবাসতো। যে কোন অবস্থাতেই তারা রাণীর পাশে অবস্থান নেবে। সুতারাং যুদ্ধের রাস্তায় না যেয়ে রাণী সিদ্ধান্ত নিলেন যে, উপঢৌকন প্রেরণ করা হোক। সম্ভবতঃ রাণীর হৃদয়ে আধ্যাত্মিক আলোর অনুপ্রবেশ ঘটেছিলো – কারণ তাঁর সিদ্ধান্ত ছিলো মানবিক ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন। রাণী বিলকিসের চরিত্রে দূরদর্শিতা ও নারীর মমত্বের রূপ লক্ষ্য করা যায় কারণ প্রজাদের যুদ্ধংদেহী মনোভাব সত্বেও তিনি শান্তির পথে তাদের টেনে নিতে সক্ষম ছিলেন।

সে বলল, রাজা বাদশারা যখন কোন জনপদে প্রবেশ করে, তখন তাকে বিপর্যস্ত করে দেয় এবং সেখানকার সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গকে অপদস্থ করে। তারাও এরূপই করবে।
She said: ”Verily! Kings, when they enter a town (country), they despoil it, and make the most honourable amongst its people low. And thus they do.

قَالَتْ إِنَّ الْمُلُوكَ إِذَا دَخَلُوا قَرْيَةً أَفْسَدُوهَا وَجَعَلُوا أَعِزَّةَ أَهْلِهَا أَذِلَّةً وَكَذَلِكَ يَفْعَلُونَ
Qalat inna almulooka itha dakhaloo qaryatan afsadooha wajaAAaloo aAAizzata ahliha athillatan wakathalika yafAAaloona

YUSUFALI: She said: “Kings, when they enter a country, despoil it, and make the noblest of its people its meanest thus do they behave.
PICKTHAL: She said: Lo! kings, when they enter a township, ruin it and make the honour of its people shame. Thus will they do.
SHAKIR: She said: Surely the kings, when they enter a town, ruin it and make the noblest of its people to be low, and thus they (always) do;
KHALIFA: She said, “The kings corrupt any land they invade, and subjugate its dignified people. This is what they usually do.

রুকু – ৩

৩২। সে বলেছিলো, ” হে পরিষদবর্গ ! আমার এই ব্যাপারে আমাকে পরামর্শ দাও। কোন ব্যাপারে আমি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না, তোমাদের উপস্থিতি ছাড়া।”

৩৩। তারা বলেছিলো, ” আমরা তো শক্তিতে সমৃদ্ধ প্রচন্ড যুদ্ধে পারদর্শী। কিন্তু আপনি হুকুম দেয়ার মালিক। সুতারাং ভেবে বলুন আপনি কি হুকুম দেবেন। ”

৩৪। সে বলেছিলো, ” রাজা-বাদশারা যখন কোন দেশে [ বিজয়ী রূপে ] প্রবেশ করে, তখন সে দেশ লুণ্ঠন করে ৩২৭১। সেখানের মর্যদাবান ব্যক্তিদের লাঞ্ছিত করে। এরাও এরূপই করবে।

৩২৭১। এই আয়াতের মাধ্যমে রাণী বিলকিসের চরিত্রের বিশেষ দিক প্রকাশিত করা হয়েছে। রাণী শাসক হিসেবে ক্ষমতা, ঐশ্বর্য্য ,সম্মান , প্রজাদের আনুগত্য সব কিছুই পূর্ণমাত্রায় ভোগ করছিলেন। কিন্তু তিনি পরিষদদের সাথে আলোচনা ব্যতীত কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন না। তাঁর পরিষদবর্গ ছিলো তাঁর একান্ত অনুগত এবং তাঁর আদেশ মানার জন্য সর্বদা প্রস্তুত। তাঁর প্রজাবর্গ ছিলো সাহসী, অনুগত ও তৃপ্ত। যদিও তাঁরা দেশকে শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য সর্বদা প্রস্তুত ছিলো। কিন্তু রাণী বিলকিস সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে ছিলেন দূরদর্শী ও বিচক্ষণ। তিনি তাঁর দেশকে যুদ্ধ বিগ্রহে লিপ্ত করতে চান নাই। তিনি তাঁর বিচক্ষণতার দ্বারা অনুধাবন করেছিলেন যে, সুলাইমান ঠিক অন্য আর সকল নৃপতির মত অস্ত্রের মাধ্যমে দেশ জয়ের পক্ষপাতি নন। সম্ভবতঃ বিলকিসের হৃদয় ছিলো পবিত্র, তাই আল্লাহ্‌র হেদায়েতের আলো পূর্ব থেকেই সে হৃদয়ে প্রবেশ করেছিলো , যার দরুণ সত্য ও মিথ্যাকে প্রভেদ করার ক্ষমতা স্বতঃস্ফুর্তভাবে তাঁর হৃদয়ে তিনি লাভ করেছিলেন ; যদিও তাঁর রাজত্বে তাঁর সকল প্রজা ছিলো মোশরেক। রাণী ছিলেন একজন সুদক্ষ শাসক এবং প্রজাবৎসল। প্রজাদের জন্য তাঁর ছিলো অপরিমেয় স্নেহ ভালোবাসা। সুতারাং প্রজারাও তাদের রাণীকে যৎপরনাস্তি ভালোবাসতো। যে কোন অবস্থাতেই তারা রাণীর পাশে অবস্থান নেবে। সুতারাং যুদ্ধের রাস্তায় না যেয়ে রাণী সিদ্ধান্ত নিলেন যে, উপঢৌকন প্রেরণ করা হোক। সম্ভবতঃ রাণীর হৃদয়ে আধ্যাত্মিক আলোর অনুপ্রবেশ ঘটেছিলো – কারণ তাঁর সিদ্ধান্ত ছিলো মানবিক ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন। রাণী বিলকিসের চরিত্রে দূরদর্শিতা ও নারীর মমত্বের রূপ লক্ষ্য করা যায় কারণ প্রজাদের যুদ্ধংদেহী মনোভাব সত্বেও তিনি শান্তির পথে তাদের টেনে নিতে সক্ষম ছিলেন।

আমি তাঁর কাছে কিছু উপঢৌকন পাঠাচ্ছি; দেখি প্রেরিত লোকেরা কি জওয়াব আনে।
”But verily! I am going to send him a present, and see with what (answer) the messengers return.”

وَإِنِّي مُرْسِلَةٌ إِلَيْهِم بِهَدِيَّةٍ فَنَاظِرَةٌ بِمَ يَرْجِعُ الْمُرْسَلُونَ
Wa-innee mursilatun ilayhim bihadiyyatin fanathiratun bima yarjiAAu almursaloona

YUSUFALI: “But I am going to send him a present, and (wait) to see with what (answer) return (my) ambassadors.”
PICKTHAL: But lo! I am going to send a present unto them, and to see with what (answer) the messengers return.
SHAKIR: And surely I am going to send a present to them, and shall wait to see what (answer) do the messengers bring back.
KHALIFA: “I am sending a gift to them; let us see what the messengers come back with.”

৩৫।” আমি তার জন্য উপঢৌকন পাঠাচ্ছি , দেখি [ আমার ] দূতেরা কি [ উত্তর ] আনে। ”

৩৬। দূতেরা যখন সুলেমানের নিকট পৌঁছুলো, সে বলেছিলো, ” তোমরা কি আমাকে প্রচুর সম্পদ দিতে চাও ? কিন্তু আল্লাহ্‌ আমাকে যা দিয়েছেন তা , তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন তা থেকে উত্তম। অথচ তোমরাই তোমাদের উপঢৌকন নিয়ে উৎফুল্ল বোধ করছো ৩২৭২।

৩২৭২। বেচারী বিলকিস্‌ – তাঁর ধারণা ছিলো যে মেয়েলী কৌশল দ্বারা সুলাইমানকে তিনি শান্ত করতে পারবেন, এবং তাঁর যুদ্ধংদেহী মনোভাব সম্পন্ন প্রজাকূলকে নিবৃত করতে পারবেন। কিন্তু রাণীর এই কৌশল সুলাইমানের উপরে উল্টো ভাবে কাজ করেছিলো। তিনি একে অপমান বলে গ্রহণ করলেন। কারণ সুলাইমানের আহ্বান কোনও রাজ্য বিস্তারের আকাঙ্খা ছিলো না। তা ছিলো সত্য ধর্মের প্রতি, এক আল্লাহ্‌র প্রতি আনুগত্যের আহ্বান। মহত্তর, সত্যের আহ্বানের পরিবর্তে উপঢৌকন , হাস্যকর ব্যাপার বৈকি। তিনি উপঢৌকন প্রত্যাখান করেন এবং বলেন যে, ” এ সব ঝকমকে তুচ্ছ বস্তু তোমাদের হৃদয়ে আনন্দ সঞ্চার করুক। আমার ওসবে প্রয়োজন নাই, কারণ আল্লাহ্‌ আমাকে জাগতিক প্রচুর ধনসম্পদ দান করেছেন। তা ব্যতীত এমন কিছু দিয়েছেন যা পার্থিব সম্পদের থেকে শ্রেষ্ঠ।” এখানে তিনি আল্লাহ্‌র হেদায়েতের আলোর কথা বলেছেন।

অতঃপর যখন দূত সুলায়মানের কাছে আগমন করল, তখন সুলায়মান বললেন, তোমরা কি ধনসম্পদ দ্বারা আমাকে সাহায্য করতে চাও? আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন, তা তোমাদেরকে প্রদত্ত বস্তু থেকে উত্তম। বরং তোমরাই তোমাদের উপঢৌকন নিয়ে সুখে থাক।
So when (the messengers with the present) came to Sulaimân (Solomon), he said: ”Will you help me in wealth? What Allâh has given me is better than that which He has given you! Nay, you rejoice in your gift!”

فَلَمَّا جَاء سُلَيْمَانَ قَالَ أَتُمِدُّونَنِ بِمَالٍ فَمَا آتَانِيَ اللَّهُ خَيْرٌ مِّمَّا آتَاكُم بَلْ أَنتُم بِهَدِيَّتِكُمْ تَفْرَحُونَ
Falamma jaa sulaymana qala atumiddoonani bimalin fama ataniya Allahu khayrun mimma atakum bal antum bihadiyyatikum tafrahoona

YUSUFALI: Now when (the embassy) came to Solomon, he said: “Will ye give me abundance in wealth? But that which Allah has given me is better than that which He has given you! Nay it is ye who rejoice in your gift!
PICKTHAL: So when (the envoy) came unto Solomon, (the King) said: What! Would ye help me with wealth? But that which Allah hath given me is better than that which He hath given you. Nay it is ye (and not I) who exult in your gift.
SHAKIR: So when he came to Sulaiman, he said: What! will you help me with wealth? But what Allah has given me is better than what He has given you. Nay, you are exultant because of your present;
KHALIFA: When the hoopoe returned to Solomon (he told him the news), and he responded (to Sheba’s people): “Are you giving me money? What GOD has given me is far better than what He has given you. You are the ones to rejoice in such gifts.”

৩৫।” আমি তার জন্য উপঢৌকন পাঠাচ্ছি , দেখি [ আমার ] দূতেরা কি [ উত্তর ] আনে। ”

৩৬। দূতেরা যখন সুলেমানের নিকট পৌঁছুলো, সে বলেছিলো, ” তোমরা কি আমাকে প্রচুর সম্পদ দিতে চাও ? কিন্তু আল্লাহ্‌ আমাকে যা দিয়েছেন তা , তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন তা থেকে উত্তম। অথচ তোমরাই তোমাদের উপঢৌকন নিয়ে উৎফুল্ল বোধ করছো ৩২৭২।

৩২৭২। বেচারী বিলকিস্‌ – তাঁর ধারণা ছিলো যে মেয়েলী কৌশল দ্বারা সুলাইমানকে তিনি শান্ত করতে পারবেন, এবং তাঁর যুদ্ধংদেহী মনোভাব সম্পন্ন প্রজাকূলকে নিবৃত করতে পারবেন। কিন্তু রাণীর এই কৌশল সুলাইমানের উপরে উল্টো ভাবে কাজ করেছিলো। তিনি একে অপমান বলে গ্রহণ করলেন। কারণ সুলাইমানের আহ্বান কোনও রাজ্য বিস্তারের আকাঙ্খা ছিলো না। তা ছিলো সত্য ধর্মের প্রতি, এক আল্লাহ্‌র প্রতি আনুগত্যের আহ্বান। মহত্তর, সত্যের আহ্বানের পরিবর্তে উপঢৌকন , হাস্যকর ব্যাপার বৈকি। তিনি উপঢৌকন প্রত্যাখান করেন এবং বলেন যে, ” এ সব ঝকমকে তুচ্ছ বস্তু তোমাদের হৃদয়ে আনন্দ সঞ্চার করুক। আমার ওসবে প্রয়োজন নাই, কারণ আল্লাহ্‌ আমাকে জাগতিক প্রচুর ধনসম্পদ দান করেছেন। তা ব্যতীত এমন কিছু দিয়েছেন যা পার্থিব সম্পদের থেকে শ্রেষ্ঠ।” এখানে তিনি আল্লাহ্‌র হেদায়েতের আলোর কথা বলেছেন।

ফিরে যাও তাদের কাছে। এখন অবশ্যই আমি তাদের বিরুদ্ধে এক সৈন্যবাহিনী নিয়ে আসব, যার মোকাবেলা করার শক্তি তাদের নেই। আমি অবশ্যই তাদেরকে অপদস্থ করে সেখান থেকে বহিষ্কৃত করব এবং তারা হবে লাঞ্ছিত।
[Then Sulaimân (Solomon) said to the chief of her messengers who brought the present]: ”Go back to them. We verily shall come to them with hosts that they cannot resist, and we shall drive them out from there in disgrace, and they will be abased.”

ارْجِعْ إِلَيْهِمْ فَلَنَأْتِيَنَّهُمْ بِجُنُودٍ لَّا قِبَلَ لَهُم بِهَا وَلَنُخْرِجَنَّهُم مِّنْهَا أَذِلَّةً وَهُمْ صَاغِرُونَ
IrjiAA ilayhim falana/tiyannahum bijunoodin la qibala lahum biha walanukhrijannahum minha athillatan wahum saghiroona

YUSUFALI: “Go back to them, and be sure we shall come to them with such hosts as they will never be able to meet: We shall expel them from there in disgrace, and they will feel humbled (indeed).”
PICKTHAL: Return unto them. We verily shall come unto them with hosts that they cannot resist, and we shall drive them out from thence with shame, and they will be abased.
SHAKIR: Go back to them, so we will most certainly come to them with hosts which they shall have no power to oppose, and we will most certainly expel them therefrom in abasement, and they shall be in a state of ignominy.
KHALIFA: (To the hoopoe, he said,) “Go back to them (and let them know that) we will come to them with forces they cannot imagine. We will evict them, humiliated and debased.”

৩৭। “তুমি তাদের নিকট ফিরে যাও , এবং নিশ্চিত থাক আমি তাদের বিরুদ্ধে এমন এক সৈন্য দল নিয়ে আসবো যার প্রতিরোধ তারা কিছুতেই করতে পারবে না। আমি তাদের সেখান থেকে লাঞ্ছিত করে , বহিষ্কার করে দেবো এবং [ তখন অবশ্যই ] তারা বিনীত হবে।”

৩৮। সে [ সুলেমান ] বলেছিলো, ” হে আমার পরিষদবর্গ তারা আমার নিকট [ আনুগত্যে ] আত্মসমর্পনের জন্য আসার পূর্বেই তোমাদের মধ্যে কে তাঁর সিংহাসন আমার নিকট নিয়ে আসতে পারবে ? ” ৩২৭৩

৩২৭৩। সিংহাসন হচ্ছে ক্ষমতা ও মর্যদার প্রতীক। রাণীর সিংহাসন [ বা ক্ষমতা ও সম্মান ] ছিলো জাগতিক অর্থ – সম্পদের উপরে প্রতিষ্ঠিত। আধ্যাত্মিক শক্তির স্থান সেখানে ছিলো না। সুলাইমান রাণীর সিংহাসনকে [ ক্ষমতা ও সম্মান ] ঈমান ও সত্য ধর্মের উপরে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন।

সুলায়মান বললেন, হে পরিষদবর্গ, তারা আত্নসমর্পণ করে আমার কাছে আসার পূর্বে কে বিলকীসের সিংহাসন আমাকে এনে দেবে?
He said: ”O chiefs! Which of you can bring me her throne before they come to me surrendering themselves in obedience?”

قَالَ يَا أَيُّهَا المَلَأُ أَيُّكُمْ يَأْتِينِي بِعَرْشِهَا قَبْلَ أَن يَأْتُونِي مُسْلِمِينَ
Qala ya ayyuha almalao ayyukum ya/teenee biAAarshiha qabla an ya/toonee muslimeena

YUSUFALI: He said (to his own men): “Ye chiefs! which of you can bring me her throne before they come to me in submission?”
PICKTHAL: He said: O chiefs! Which of you will bring me her throne before they come unto me, surrendering?
SHAKIR: He said: O chiefs! which of you can bring to me her throne before they come to me in submission?
KHALIFA: He said, “O you elders, which of you can bring me her mansion, before they arrive here as submitters?”

৩৭। “তুমি তাদের নিকট ফিরে যাও , এবং নিশ্চিত থাক আমি তাদের বিরুদ্ধে এমন এক সৈন্য দল নিয়ে আসবো যার প্রতিরোধ তারা কিছুতেই করতে পারবে না। আমি তাদের সেখান থেকে লাঞ্ছিত করে , বহিষ্কার করে দেবো এবং [ তখন অবশ্যই ] তারা বিনীত হবে।”

৩৮। সে [ সুলেমান ] বলেছিলো, ” হে আমার পরিষদবর্গ তারা আমার নিকট [ আনুগত্যে ] আত্মসমর্পনের জন্য আসার পূর্বেই তোমাদের মধ্যে কে তাঁর সিংহাসন আমার নিকট নিয়ে আসতে পারবে ? ” ৩২৭৩

৩২৭৩। সিংহাসন হচ্ছে ক্ষমতা ও মর্যদার প্রতীক। রাণীর সিংহাসন [ বা ক্ষমতা ও সম্মান ] ছিলো জাগতিক অর্থ – সম্পদের উপরে প্রতিষ্ঠিত। আধ্যাত্মিক শক্তির স্থান সেখানে ছিলো না। সুলাইমান রাণীর সিংহাসনকে [ ক্ষমতা ও সম্মান ] ঈমান ও সত্য ধর্মের উপরে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন।

জনৈক দৈত্য-জিন বলল, আপনি আপনার স্থান থেকে উঠার পূর্বে আমি তা এনে দেব এবং আমি একাজে শক্তিবান, বিশ্বস্ত।
An Ifrît (strong) from the jinns said: ”I will bring it to you before you rise from your place (council). And verily, I am indeed strong, and trustworthy for such work.”

قَالَ عِفْريتٌ مِّنَ الْجِنِّ أَنَا آتِيكَ بِهِ قَبْلَ أَن تَقُومَ مِن مَّقَامِكَ وَإِنِّي عَلَيْهِ لَقَوِيٌّ أَمِينٌ
Qala AAifreetun mina aljinni ana ateeka bihi qabla an taqooma min maqamika wa-inne AAalayhi laqawiyyun ameenun

YUSUFALI: Said an ‘Ifrit, of the Jinns: “I will bring it to thee before thou rise from thy council: indeed I have full strength for the purpose, and may be trusted.”
PICKTHAL: A stalwart of the jinn said: I will bring it thee before thou canst rise from thy place. Lo! I verily am strong and trusty for such work.
SHAKIR: One audacious among the jinn said: I will bring it to you before you rise up from your place; and most surely I am strong (and) trusty for it.
KHALIFA: One afrit from the jinns said, “I can bring it to you before you stand up. I am powerful enough to do this.”

৩৯। জ্বিনদের মধ্যে এক দৈত্য ৩২৭৪ বলেছিলো , ” তুমি তোমার পরামর্শ সভা থেকে গাত্রত্থান করার পূর্বেই আমি তা তোমার নিকট নিয়ে আসবো। অবশ্যই আমার এ কাজ করার ক্ষমতা আছে এবং আমার উপরে বিশ্বাস করা যায়।”

৩২৭৪। “Ifrit” বড় শক্তিশালী জ্বিন।

কিতাবের জ্ঞান যার ছিল, সে বলল, আপনার দিকে আপনার চোখের পলক ফেলার পূর্বেই আমি তা আপনাকে এনে দেব। অতঃপর সুলায়মান যখন তা সামনে রক্ষিত দেখলেন, তখন বললেন এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ, যাতে তিনি আমাকে পরীক্ষা করেন যে, আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, না অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, সে নিজের উপকারের জন্যেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং যে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে জানুক যে, আমার পালনকর্তা অভাবমুক্ত কৃপাশীল।
One with whom was knowledge of the Scripture said: ”I will bring it to you within the twinkling of an eye!” then when [Sulaimân (Solomon)] saw it placed before him, he said: ”This is by the Grace of my Lord to test me whether I am grateful or ungrateful! And whoever is grateful, truly, his gratitude is for (the good of) his ownself, and whoever is ungrateful, (he is ungrateful only for the loss of his ownself). Certainly! My Lord is Rich (Free of all wants), Bountiful.”

قَالَ الَّذِي عِندَهُ عِلْمٌ مِّنَ الْكِتَابِ أَنَا آتِيكَ بِهِ قَبْلَ أَن يَرْتَدَّ إِلَيْكَ طَرْفُكَ فَلَمَّا رَآهُ مُسْتَقِرًّا عِندَهُ قَالَ هَذَا مِن فَضْلِ رَبِّي لِيَبْلُوَنِي أَأَشْكُرُ أَمْ أَكْفُرُ وَمَن شَكَرَ فَإِنَّمَا يَشْكُرُ لِنَفْسِهِ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ رَبِّي غَنِيٌّ كَرِيمٌ
Qala allathee AAindahu AAilmun mina alkitabi ana ateeka bihi qabla an yartadda ilayka tarfuka falamma raahu mustaqirran AAindahu qala hatha min fadli rabbee liyabluwanee aashkuru am akfuru waman shakara fa-innama yashkuru linafsihi waman kafara fa-inna rabbee ghaniyyun kareemun

YUSUFALI: Said one who had knowledge of the Book: “I will bring it to thee within the twinkling of an eye!” Then when (Solomon) saw it placed firmly before him, he said: “This is by the Grace of my Lord!- to test me whether I am grateful or ungrateful! and if any is grateful, truly his gratitude is (a gain) for his own soul; but if any is ungrateful, truly my Lord is Free of all Needs, Supreme in Honour !”
PICKTHAL: One with whom was knowledge of the Scripture said: I will bring it thee before thy gaze returneth unto thee. And when he saw it set in his presence, (Solomon) said: This is of the bounty of my Lord, that He may try me whether I give thanks or am ungrateful. Whosoever giveth thanks he only giveth thanks for (the good of) his own soul; and whosoever is ungrateful (is ungrateful only to his own soul’s hurt). For lo! my Lord is Absolute in independence, Bountiful.
SHAKIR: One who had the knowledge of the Book said: I will bring it to you in the twinkling of an eye. Then when he saw it settled beside him, he said: This is of the grace of my Lord that He may try me whether I am grateful or ungrateful; and whoever is grateful, he is grateful only for his own soul, and whoever is ungrateful, then surely my Lord is Self-sufficient, Honored.
KHALIFA: The one who possessed knowledge from the book said, “I can bring it to you in the blink of your eye.” When he saw it settled in front of him, he said, “This is a blessing from my Lord, whereby He tests me, to show whether I am appreciative or unappreciative. Whoever is appreciative is appreciative for his own good, and if one turns unappreciative, then my Lord is in no need for him, Most Honorable.”

৪০। কিতাব সম্বন্ধে যার জ্ঞান ছিলো , এমন একজন বলেছিলো ৩২৭৫ , “আমি চোখের নিমিষে উহা আপনার নিকট নিয়ে আসবো। ” অতঃপর সুলেমান যখন উহা নিজের সম্মুখে স্থাপিত দেখতে পেলো, তখন সে বলেছিলো, ” এটা আমার প্রভুর অনুগ্রহ! তিনি আমাকে পরীক্ষা করতে চান আমি কি কৃতজ্ঞ না অকৃতজ্ঞ ৩২৭৬। যদি কেউ কৃতজ্ঞ হয়, সে তা দ্বারা নিজেরই আত্মার [ উপকার ] করে। কিন্তু যদি কেউ অকৃতজ্ঞ হয় , আমার প্রভু সত্যই সকল অভাবমুক্ত , শ্রেষ্ঠ সম্মানিত ৩২৭৭। ”

৩২৭৫। রাণী বিলকিসের জানার পূর্বেই তাঁর সিংহাসনকে সুলাইমানের দরবারে হাজির করা হলো। এখানে উল্লেখযোগ্য এবং দ্রষ্টব্য এই যে, সুলাইমানের এত শক্তিশালী জনগোষ্ঠি থাকা সত্বেও তিনি ক্ষমতার গর্বে , অহংকারে স্ফীত হয়ে ওঠেন নাই। তিনি আল্লাহ্‌র দরবারে তাঁর এই ক্ষমতার জন্য কৃতজ্ঞ ছিলেন এবং আল্লাহ্‌র অনুগ্রহের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছিলেন।

উপদেশ : যারা প্রকৃত মোমেন বান্দা , তারা তাদের সত্ত্বার মাঝে অনুভব করেন যে, পৃথিবীর সকল ক্ষমতা ও নেয়ামতের মালিক সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌। তিনি যাকে যতটুকু ইচ্ছা তাঁর নেয়ামতে ধন্য করেন।

৩২৭৬। যদি সুলাইমান আল্লাহ্‌র নেয়ামতের জন্য অকৃতজ্ঞ হতেন, তবে তিনি তাঁর ক্ষমতা ও শক্তিকে নিজস্ব জাগতিক উন্নতির জন্য ব্যবহার করতেন। ‘ইফরীত’ জ্বীনের ক্ষমতাকে তিনি পার্থিব শক্তি ও সুনামের জন্য নিয়োজিত করতেন। যে আল্লাহ্‌র নেয়ামতের জন্য অকৃতজ্ঞ সে আল্লাহ্‌র নেয়ামতকে নিজস্ব ক্ষুদ্র স্বার্থে ব্যবহার করে। আর যে, আল্লাহ্‌ প্রদত্ত নেয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ সে তার কৃতজ্ঞতার প্রকাশ ঘটায় প্রাপ্ত নেয়ামতের সুষ্ঠু ব্যবহারে। আল্লাহ্‌র সৃষ্টির সেবার মাধ্যমে তাঁর কৃতজ্ঞতার প্রকাশ ঘটে। ক্ষুদ্র স্বার্থ বুদ্ধির উর্দ্ধে উঠতে সে সক্ষম হয়। এখানে সুলাইমান ইফরীতের ক্ষমতার প্রয়োগ করে রাণী বিলকিসের সিংহাসনের এমন পরিবর্তন ঘটান ,যে পরিবর্তন রাণী ও তাঁর প্রজাকূলের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। স্বর্গীয় হেদায়েতের আলোতে তাঁরা অবগাহন করে সর্বোচ্চ কল্যাণের স্বাদ আস্বাদন করতে পারবেন। সুলাইমানের সম্মুখে খোলা ছিলো দুটি পথ। একটি হচ্ছে শক্তির সাহায্যে বিলকিসকে পরাভূত করে সামাজ্যের বিস্তার করা এবং পার্থিবভাবে লাভবান হওয়া। অন্য রাস্তাটি হচ্ছে রাণী বিলকিস ও তাঁর প্রজাকূলকে সত্যের রাস্তায় আল্লাহ্‌র হেদায়েতের রাস্তায় নিয়ে আসা। সুলাইমান দ্বিতীয় পথটি অবলম্বন করেন, কারণ তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত আল্লাহ্ভীরু এবং আল্লাহ্‌র নিকট কৃতজ্ঞ ব্যক্তি।

৩২৭৭। আল্লাহ্‌র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ফলে আল্লাহ্‌র কোন উপকার সাধিত হয় না। আল্লাহ্‌ অভাবমুক্ত। আল্লাহ্‌কে স্মরণ করা, বা আল্লাহ্‌র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে ব্যক্তিসত্ত্বার আমূল পরিবর্তন ঘটে। যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে তার নিজস্ব কল্যাণের জন্য করে। স্রষ্টার প্রতি এই কৃতজ্ঞাবোধ আত্মার মাঝে তৃপ্ত , শান্ত, অনুভবে ভরিয়ে দেয় , যা আত্মার উন্নতিতে সহায়ক , যা তাঁকে পরলোকের জীবনে উচ্চতর অবস্থানে নিতে সক্ষম হবে। কৃতজ্ঞ আত্মা শান্তির আবাসস্থল ইহলোকে এবং পরলোকেও। অপরপক্ষে অকৃতজ্ঞ ব্যক্তির অন্তর সর্বদা হাহাকারে পরিপূর্ণ থাকে। জীবনে না পাওয়ার হিসাবে সে সর্বদা ব্যস্ত – ফলে আত্মিক শান্তি হয় তিরোহিত। যে নেয়ামতে আল্লাহ্‌ তাকে ধন্য করেছেন তা সনাক্ত করতে সে অক্ষম ,ফলে তার জীবন না পাওয়ার হাহাকারে ভরে যায়। মানুষের অকৃতজ্ঞতা – আল্লাহ্‌র মহিমা সম্মান বা নেয়ামতকে খর্ব করতে পারবে না। আল্লাহ্‌ এ সবের উর্দ্ধে ; তিনি সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী , তার মহিমা ও বদ্যনতা অপ্রতিদ্বন্দী। আরবী ‘করিম ‘ শব্দটি আল্লাহ্‌র উপরিউক্ত গুনাবলীর জন্য আরোপিত।

সুলায়মান বললেন, বিলকীসের সামনে তার সিংহাসনের আকার-আকৃতি বদলিয়ে দাও, দেখব সে সঠিক বুঝতে পারে, না সে তাদের অন্তর্ভুক্ত, যাদের দিশা নেই ?
He said: ”Disguise her throne for her that we may see whether she will be guided (to recognise her throne), or she will be one of those not guided.”

قَالَ نَكِّرُوا لَهَا عَرْشَهَا نَنظُرْ أَتَهْتَدِي أَمْ تَكُونُ مِنَ الَّذِينَ لَا يَهْتَدُونَ
Qala nakkiroo laha AAarshaha nanthur atahtadee am takoonu mina allatheena la yahtadoona

YUSUFALI: He said: “Transform her throne out of all recognition by her: let us see whether she is guided (to the truth) or is one of those who receive no guidance.”
PICKTHAL: He said: Disguise her throne for her that we may see whether she will go aright or be of those not rightly guided.
SHAKIR: He said: Alter her throne for her, we will see whether she follows the right way or is of those who do not go aright.
KHALIFA: He said, “Remodel her mansion for her. Let us see if she will be guided, or continue with the misguided.”

৪১। সে বলেছিলো, ” সে যেনো তাঁর সিংহাসন চিনতে না পারে এভাবে তা বদলিয়ে দাও। দেখি সে [সত্য পথে ] পরিচালিত হয়, নাকি যারা কোন পথের নির্দ্দেশ গ্রহণ করে না তাদের শামিল হয় ৩২৭৮। ”

৩২৭৮। সিংহাসনের প্রকৃত চেহারা গোপন করা হয়েছিলো কারণ রাণী বিলকিস তা সনাক্ত করতে পারেন কি না এই ছিলো পরীক্ষা।

অতঃপর যখন বিলকীস এসে গেল, তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, তোমার সিংহাসন কি এরূপই? সে বলল, মনে হয় এটা সেটাই। আমরা পূর্বেই সমস্ত অবগত হয়েছি এবং আমরা আজ্ঞাবহও হয়ে গেছি।
So when she came, it was said (to her): ”Is your throne like this?” She said: ”(It is) as though it were the very same.” And [Sulaimân (Solomon) said]: ”Knowledge was bestowed on us before her, and we were submitted to Allâh (in Islâm as Muslims before her).”

فَلَمَّا جَاءتْ قِيلَ أَهَكَذَا عَرْشُكِ قَالَتْ كَأَنَّهُ هُوَ وَأُوتِينَا الْعِلْمَ مِن قَبْلِهَا وَكُنَّا مُسْلِمِينَ
Falamma jaat qeela ahakatha AAarshuki qalat kaannahu huwa waooteena alAAilma min qabliha wakunna muslimeena

YUSUFALI: So when she arrived, she was asked, “Is this thy throne?” She said, “It was just like this; and knowledge was bestowed on us in advance of this, and we have submitted to Allah (in Islam).”
PICKTHAL: So, when she came, it was said (unto her): Is thy throne like this? She said: (It is) as though it were the very one. And (Solomon said): We were given the knowledge before her and we had surrendered (to Allah).
SHAKIR: So when she came, it was said: Is your throne like this? She said: It is as it were the same, and we were given the knowledge before it, and we were submissive.
KHALIFA: When she arrived, she was asked, “Does your mansion look like this?” She said, “It seems that this is it.” (Solomon said,) “We knew beforehand what she was going to do, and we were already submitters.”

৪২। সুতারাং যখন সে উপস্থিত হয়েছিলো, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ” এটা কি তোমার সিংহাসন ? ” সে বলেছিলো, ” এটা ঠিক যেনো তাই-ই ৩২৭৯। এ ব্যাপারে পূর্বেই আমাকে জ্ঞান দান করা হয়েছে এবং আমরা আল্লাহ্‌র ইচ্ছার নিকট আত্মসমর্পন করেছি [ ইসলামে ]। ”

৩২৭৯। রাণী বিলকিসকে পরীক্ষা করা হলো। কিন্তু তিনি তাঁর সিংহাসনকে সনাক্ত করতে সক্ষম হলেন – যদিও তা সম্পূর্ণরূপে তাঁর মূল সিংহাসনের মত ছিলো না। পরবর্তী লাইন গুলিতে দেখা যায় , রাণী আল্লাহ্‌র রহমত ও করুণার জন্য কৃতজ্ঞ ছিলেন কারণ তিনি গর্বিত হন তাঁর সৌভাগ্যের জন্য। সৌভাগ্য এই জন্য যে, আল্লাহ্‌ তাঁর হেদায়েতের আলোর দ্বারা তাঁকে ও তাঁর প্রজাকূলকে ধন্য করেছেন, তিনি আল্লাহ্‌র নবী সুলাইমানকে সনাক্ত করতে পেরেছিলেন , এবং অন্তরের সাথে সত্য ধর্মকে গ্রহণ করেন। [ সিংহাসন হচ্ছে ক্ষমতা ও মর্যদার প্রতীক দেখুন টিকা ৩২৭৩ ]

আল্লাহর পরিবর্তে সে যার এবাদত করত, সেই তাকে ঈমান থেকে নিবৃত্ত করেছিল। নিশ্চয় সে কাফের সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
And that which she used to worship besides Allâh has prevented her (from Islâm), for she was of a disbelieving people.

وَصَدَّهَا مَا كَانَت تَّعْبُدُ مِن دُونِ اللَّهِ إِنَّهَا كَانَتْ مِن قَوْمٍ كَافِرِينَ
Wasaddaha ma kanat taAAbudu min dooni Allahi innaha kanat min qawmin kafireena

YUSUFALI: And he diverted her from the worship of others besides Allah: for she was (sprung) of a people that had no faith.
PICKTHAL: And (all) that she was wont to worship instead of Allah hindered her, for she came of disbelieving folk.
SHAKIR: And what she worshipped besides Allah prevented her, surely she was of an unbelieving people.
KHALIFA: She had been diverted by worshiping idols instead of GOD; she belonged to disbelieving people.

৪৩। এবং সে [ সুলেমান ] তাঁকে আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য উপাস্যের উপাসনা থেকে ফিরিয়ে নিয়ে এলো। সে ছিলো অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের অর্ন্তভূক্ত ৩২৮০।

৩২৮০। এই আয়াতটি দুভাবে অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে। এখানের বর্ণনা অনুযায়ী উপরের আয়াতের শেষাংশ ও এই আয়াতের প্রথমাংশ হযরত সুলাইমানের বক্তব্য ; যার অর্থ দাঁড়ায় এই যে, ” আল্লাহ্‌র হেদায়েতের জ্ঞান আমাদের [ সুলাইমানকে ] বিলকিসের পূর্বেই দান করেছেন। এবং আমরা তা গ্রহণ করেছি [পূর্বের আয়াতের শেষাংশ ] আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য উপাস্যের উপাসনা বিলকিসকে সত্য গ্রহণে বাধার সৃষ্টি করে [এই আয়াতের প্রথমাংশ ]। ”

দ্বিতীয় অনুবাদক ও তফসীরকারদের মত মওলানা ইউসুফ আলী গ্রহণ করেন , যে অনুযায়ী এর অনুবাদ হবে ,” And he diverted her from the worship of others besides Allah” অর্থাৎ সুলাইমান বিলকিসকে আল্লাহ্‌ ব্যতীত মিথ্যা উপাস্যের উপাসনা থেকে বিরত রাখেন।

তাকে বলা হল, এই প্রাসাদে প্রবেশ কর। যখন সে তার প্রতি দৃষ্টিপাত করল সে ধারণা করল যে, এটা স্বচ্ছ গভীর জলাশয়। সে তার পায়ের গোছা খুলে ফেলল। সুলায়মান বলল, এটা তো স্বচ্ছ স্ফটিক নির্মিত প্রাসাদ। বিলকীস বলল, হে আমার পালনকর্তা, আমি তো নিজের প্রতি জুলুম করেছি। আমি সুলায়মানের সাথে বিশ্ব জাহানের পালনকর্তা আল্লাহর কাছে আত্নসমর্পন করলাম।
It was said to her: ”Enter As-Sarh” [(a glass surface with water underneath it) or a palace], but when she saw it, she thought it was a pool, and she (tucked up her clothes) uncovering her legs, Sulaimân (Solomon) said: ”Verily, it is Sarh [(a glass surface with water underneath it) or a palace] paved smooth with slab of glass.” She said: ”My Lord! Verily, I have wronged myself, and I submit (in Islâm, together with Sulaimân (Solomon), to Allâh, the Lord of the ’Alamîn (mankind, jinns and all that exists).”

قِيلَ لَهَا ادْخُلِي الصَّرْحَ فَلَمَّا رَأَتْهُ حَسِبَتْهُ لُجَّةً وَكَشَفَتْ عَن سَاقَيْهَا قَالَ إِنَّهُ صَرْحٌ مُّمَرَّدٌ مِّن قَوَارِيرَ قَالَتْ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَانَ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
Qeela laha odkhulee alssarha falamma raat-hu hasibat-hu lujjatan wakashafat AAan saqayha qala innahu sarhun mumarradun min qawareera qalat rabbi innee thalamtu nafsee waaslamtu maAAa sulaymana lillahi rabbi alAAalameena

YUSUFALI: She was asked to enter the lofty Palace: but when she saw it, she thought it was a lake of water, and she (tucked up her skirts), uncovering her legs. He said: “This is but a palace paved smooth with slabs of glass.” She said: “O my Lord! I have indeed wronged my soul: I do (now) submit (in Islam), with Solomon, to the Lord of the Worlds.”
PICKTHAL: It was said unto her: Enter the hall. And when she saw it she deemed it a pool and bared her legs. (Solomon) said: Lo! it is a hall, made smooth, of glass. She said: My Lord! Lo! I have wronged myself, and I surrender with Solomon unto Allah, the Lord of the Worlds.
SHAKIR: It was said to her: Enter the palace; but when she saw it she deemed it to be a great expanse of water, and bared her legs. He said: Surely it is a palace made smooth with glass. She said: My Lord! surely I have been unjust to myself, and I submit with Sulaiman to Allah, the Lord of the worlds.
KHALIFA: She was told, “Go inside the palace.” When she saw its interior, she thought it was a pool of water, and she (pulled up her dress,) exposing her legs. He said, “This interior is now paved with crystal.” She said, “My Lord, I have wronged my soul. I now submit with Solomon to GOD, Lord of the universe.”

৪৪। তাকে [ বিলকিস কে ] সুদৃশ্য প্রাসাদে প্রবেশ করতে বলা হলো ৩২৮১। কিন্তু যখন সে তা দেখলো সে মনে করলো যে এটা একটা পানির সরোবর এবং সে তার [ ঘাঘরার প্রান্তসীমা গুটিয়ে নিল ] পদদ্বয় উম্মুক্ত করে। সুলেমান বলেছিলো, ” ইহা তো স্বচ্ছ স্ফটিক মন্ডিত প্রাসাদ।” সে বলেছিলো , ” হে আমার প্রভু ! আমি অবশ্যই আমার আত্মার প্রতি অত্যাচার করেছি ৩২৮২। আমি [ এখন ] সুলেমানের সাথে জগতসমূহের প্রভুর নিকট আত্মসমর্পন করলাম [ইসলামে ]। ”

৩২৮১। সম্পূর্ণ দৃশ্যটি এভাবে কল্পনা করা যায়। রাণী বিলকিসকে সসম্মানে সম্বর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়েছে। রাণী তাঁর পরিবর্তিত সিংহাসনকে সনাক্ত করতে পেরেছেন। সম্ভবতঃ তা ছিলো প্রাসাদের বাইরের অংশে রক্ষিত। এর পরে তাঁকে মূল প্রাসাদে প্রবেশের অনুরোধ করা হয়। মূল প্রাসাদের মেঝে ছিলো স্বচ্ছ স্ফটিকের তৈরী – যা পানির ন্যায় উজ্জ্বল চক্‌চকে ছিলো। রাণী মেঝেকে পানি বলে ভ্রম করলেন এবং অতিক্রম করার মানসে পায়ের কাপড় উচুঁ করে ধরলেন যেনো ভিজে না যায়। ফলে তাঁর নগ্ন পায়ের পাতা ও গোড়ালি দৃশ্যমান হলো। একজন রাণীর জন্য দৃশ্যটি অবশ্যই খুব অসম্মানজনক , সুলাইমান তৎক্ষণাত তাঁকে সত্য অবগত করে দেন। সত্য অবগত হওয়ার পরে রাণী আল্লাহ্‌র প্রতি কৃতজ্ঞতায় সুলাইমানের সাথে আল্লাহ্‌র নিকট আত্মসমর্পন করেন।

৩২৮২। একজন সহানুভূতিশীল নেতা তাঁর অনুসারীদের ভুল সংশোধন করে দেন নম্র ও অমায়িক ভাবে। হযরত সুলাইমান ঠিক সেইভাবে রাণী বিলকিসকে প্রকৃত সত্যকে অনুধাবনে সাহায্য করেন। সত্য অনুধাবনের পরে রাণী কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং স্বতঃস্ফুর্তভাবে তাঁর ভুলকে স্বীকার করেন। কৃতজ্ঞ রাণী আন্তরিকভাবে তাঁর শিক্ষক সুলাইমানের সাথে আল্লাহ্‌র এবাদতে আত্মনিয়োগ করেন। কারণ সকল জ্ঞান ও সত্যের মূল উৎস একমাত্র আল্লাহ্‌।

আমি সামুদ সম্প্রদায়ের কাছে তাদের ভাই সালেহকে এই মর্মে প্রেরণ করেছি যে, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। অতঃপর তারা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে বিতর্কে প্রবৃত্ত হল।
And indeed We sent to Thamûd their brother Sâlih (Saleh), saying: ”Worship Allâh (Alone and none else). Then look! They became two parties (believers and disbelievers) quarreling with each other.”

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا إِلَى ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ فَإِذَا هُمْ فَرِيقَانِ يَخْتَصِمُونَ
Walaqad arsalna ila thamooda akhahum salihan ani oAAbudoo Allaha fa-itha hum fareeqani yakhtasimoona

YUSUFALI: We sent (aforetime), to the Thamud, their brother Salih, saying, “Serve Allah”: But behold, they became two factions quarrelling with each other.
PICKTHAL: And We verily sent unto Thamud their brother Salih, saying: Worship Allah. And lo! they (then became two parties quarrelling.
SHAKIR: And certainly We sent to Samood their brother Salih, saying: Serve Allah; and lo! they became two sects quarrelling with each other.
KHALIFA: We have sent to Thamoud their brother Saaleh, saying, “You shall worship GOD.” But they turned into two feuding factions.

রুকু – ৪

৪৫। [ অতীতে ] আমি সামুদ সম্প্রদায়ের নিকট তার ভ্রাতা সালেহ্‌ কে প্রেরণ করেছিলাম এই বলে যে, ৩২৮৩ , ” আল্লাহ্‌র আনুগত্য কর।” কিন্তু দেখো ! তারা দুদলে বিভক্ত হয়ে পরস্পরের সাথে বির্তকে লিপ্ত হলো।

৩২৮৩। সামুদ সম্প্রদায়ের মূল কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে আয়াতে [ ২৬ : ১৪১ – ১৫৯ ] ; যেখানে বলা হয়েছে যে, সামুদ জাতি ধনী সম্প্রদায় ও দরিদ্র সম্প্রদায় রূপে দ্বিধাবিভক্ত হয় এবং ধনীরা গরীবদের জীবনের সকল স্বাচ্ছন্দ্য থেকে বঞ্চিত করে রাখতো। তাদের সংশোধনের নিমিত্তে পরীক্ষা স্বরূপ আল্লাহ্‌ একটি উষ্ট্রী প্রেরণ করেন। দেখুন উল্লেখিত আয়াতের টিকা সমূহে। এখানে সামুদ সম্প্রদায়ের বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে আল্লাহ্‌র নবীর বিরুদ্ধে নয় জন দুষ্ট লোক দূরভিসন্ধি ও ষড়যন্ত্র করে। সামুদ সম্প্রদায় সালেহ্‌ নবীর শিক্ষাকে অশুভ মনে করতো এবং তাদের বিপর্যয়ের কারণ বলে মনে করতো। তারা যা অশুভ শক্তি হিসেবে মনে করতো তা ছিলো তাদের পাপের শাস্তি। এসব দুষ্টলোকের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয় এবং সম্পূর্ণ সম্প্রদায় যারা পাপে নিমগ্ন ছিলো তারা ধবংস হয়ে যায়।

উপদেশ : পাপী ও দুষ্ট কখনও নিজের অসৎ কর্মকে অনুধাবন করতে পারে না।

সালেহ বললেন, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা কল্যাণের পূর্বে দ্রুত অকল্যাণ কামনা করছ কেন? তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছ না কেন? সম্ভবতঃ তোমরা দয়াপ্রাপ্ত হবে।
He said: ”O my people! Why do you seek to hasten the evil (torment) before the good (Allâh’s Mercy)? Why seek you not the Forgiveness of Allâh, that you may receive mercy?”

قَالَ يَا قَوْمِ لِمَ تَسْتَعْجِلُونَ بِالسَّيِّئَةِ قَبْلَ الْحَسَنَةِ لَوْلَا تَسْتَغْفِرُونَ اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
Qala ya qawmi lima tastaAAjiloona bialssayyi-ati qabla alhasanati lawla tastaghfiroona Allaha laAAallakum turhamoona

YUSUFALI: He said: “O my people! why ask ye to hasten on the evil in preference to the good? If only ye ask Allah for forgiveness, ye may hope to receive mercy.
PICKTHAL: He said: O my people! Why will ye hasten on the evil rather than the good? Why will ye not ask pardon of Allah, that ye may receive mercy.
SHAKIR: He said: O my people! why do you seek to hasten on the evil before the good? Why do you not ask forgiveness of Allah so that you may be dealt with mercifully?
KHALIFA: He said, “O my people, why do you hasten to commit evil instead of good works? If only you implore GOD for forgiveness, you may attain mercy.”

৪৬। সে বলেছিলো, ” হে আমার সম্প্রদায় ! তোমরা কেন কল্যাণের স্থলে অকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতেছ ? ৩২৮৪। তোমরা যদি আল্লাহ্‌র নিকট শুধুমাত্র ক্ষমা প্রার্থনা করতে, তোমরা অনুগ্রহ পেতে পারতে।”

৩২৮৪। দেখুন আয়াত [ ১৩ : ৬ ]। যারা পাপে আসক্ত থাকে তারা বুঝতে পারে না যে, তারা তাদের নিজের ধবংস নিজেই ত্বরান্বিত করে। সামুদ সম্প্রদায় গরীবদের শোষণ ও নিষ্পেষণ দ্বারা তাদের ধ্বংস ত্বরান্বিত করেছিলো। সালেহ্‌ নবীর ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার আহ্বান তাঁদের নিকট অশুভ মনে হয়েছিলো। তাদের কার্যকলাপ ছিলো অশুভ। কারণ তাদের অন্যায় কার্যাবলীই ছিলো তাদের জন্য অমঙ্গলের এবং প্রাপ্য শাস্তির কারণ।

তারা বলল, তোমাকে এবং তোমার সাথে যারা আছে, তাদেরকে আমরা অকল্যাণের প্রতীক মনে করি। সালেহ বললেন, তোমাদের মঙ্গলামঙ্গল আল্লাহর কাছে; বরং তোমরা এমন সম্প্রদায়, যাদেরকে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
They said: ”We augur ill omen from you and those with you.” He said: ”Your ill omen is with Allâh; nay, but you are a people that are being tested.”

قَالُوا اطَّيَّرْنَا بِكَ وَبِمَن مَّعَكَ قَالَ طَائِرُكُمْ عِندَ اللَّهِ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ تُفْتَنُونَ
Qaloo ittayyarna bika wabiman maAAaka qala ta-irukum AAinda Allahi bal antum qawmun tuftanoona

YUSUFALI: They said: “Ill omen do we augur from thee and those that are with thee”. He said: “Your ill omen is with Allah; yea, ye are a people under trial.”
PICKTHAL: They said: We augur evil of thee and those with thee. He said: Your evil augury is with Allah. Nay, but ye are folk that are being tested.
SHAKIR: They said: We have met with ill luck on account of you and on account of those with you. He said: The cause of your evil fortune is with Allah; nay, you are a people who are tried.
KHALIFA: They said, “We consider you a bad omen for us, you and those who joined you.” He said, “Your omen is fully controlled by GOD. Indeed, you are deviant people.”

৪৭। তারা বলেছিলো, ” তোমাকে ও তোমার সাথে যারা আছে তাদের আমরা অমঙ্গলের কারণ মনে করি। “সে বলেছিলো, ” তোমাদের অমঙ্গল আল্লাহ্‌র কাছে; হ্যাঁ তোমরা এমন এক সম্প্রদায় , যাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে ৩২৮৫। ”

৩২৮৫। পৃথিবীতে সকল পাপই সর্বদা শাস্তি পায় না। এর অর্থ এই নয় যে,এই সকল পাপ আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা লাভ করে। আল্লাহ্‌ এদের সুযোগ দান করে থাকেন যেনো তারা অনুতাপের মাধ্যমে নিজেকে সংশোধন করার সুযোগ গ্রহণ করে। আল্লাহ্‌ তাদের অনুগ্রহ করে সুযোগ দান করে থাকেন। তাদের পরীক্ষা করার মানসে। তারা যাকে ” অশুভ শক্তি ” বলে থাকে তা হচ্ছে তাদের পাপের শাস্তি। এ শাস্তি আল্লাহ্‌র তরফ থেকে আগত ন্যায় বিচার।

আর সেই শহরে ছিল এমন একজন ব্যক্তি, যারা দেশময় অনর্থ সৃষ্টি করে বেড়াত এবং সংশোধন করত না।
And there were in the city nine men (from the sons of their chiefs), who made mischief in the land, and would not reform.

وَكَانَ فِي الْمَدِينَةِ تِسْعَةُ رَهْطٍ يُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ وَلَا يُصْلِحُونَ
Wakana fee almadeenati tisAAatu rahtin yufsidoona fee al-ardi wala yuslihoona

YUSUFALI: There were in the city nine men of a family, who made mischief in the land, and would not reform.
PICKTHAL: And there were in the city nine persons who made mischief in the land and reformed not.
SHAKIR: And there were in the city nine persons who made mischief in the land and did not act aright.
KHALIFA: There were nine gangsters in the city who were wicked, and never did anything good.

৪৮। আর সেই শহরে ছিলো এমন নয় ব্যক্তি যারা দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতো এবং দোষত্রুটির সংস্কার সাধন করতে দিত না ৩২৮৬।

৩২৮৬। এখানে যে নয় ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে এরা ন্যায়কে প্রতিহত করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলো। কিন্তু তারা ন্যায় বিচারকে ধ্বংস করতে পারে নাই ; বরং ন্যায়সঙ্গতভাবে তারাই ধ্বংস হয়ে যায়।

উপদেশ : পৃথিবীতে অন্যায় শেষ পর্যন্ত ধ্বংস হবেই এবং ন্যায় জয়লাভ করবে।

তারা বলল, তোমরা পরস্পরে আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ কর যে, আমরা রাত্রিকালে তাকে ও তার পরিবারবর্গকে হত্যা করব। অতঃপর তার দাবীদারকে বলে দেব যে, তার পরিবারবর্গের হত্যাকান্ড আমরা প্রত্যক্ষ করিনি। আমরা নিশ্চয়ই সত্যবাদী।
They said: ”Swear one to another by Allâh that we shall make a secret night attack on him and his household, and afterwards we will surely say to his near relatives: ’We witnessed not the destruction of his household, and verily! We are telling the truth.’”

قَالُوا تَقَاسَمُوا بِاللَّهِ لَنُبَيِّتَنَّهُ وَأَهْلَهُ ثُمَّ لَنَقُولَنَّ لِوَلِيِّهِ مَا شَهِدْنَا مَهْلِكَ أَهْلِهِ وَإِنَّا لَصَادِقُونَ
Qaloo taqasamoo biAllahi lanubayyitannahu waahlahu thumma lanaqoolanna liwaliyyihi ma shahidna mahlika ahlihi wa-inna lasadiqoona

YUSUFALI: They said: “Swear a mutual oath by Allah that we shall make a secret night attack on him and his people, and that we shall then say to his heir (when he seeks vengeance): ‘We were not present at the slaughter of his people, and we are positively telling the truth.’”
PICKTHAL: They said: Swear one to another by Allah that we verily will attack him and his household by night, and afterward we will surely say unto his friend: We witnessed not the destruction of his household. And lo! we are truthtellers.
SHAKIR: They said: Swear to each other by Allah that we will certainly make a sudden attack on him and his family by night, then we will say to his heir: We did not witness the destruction of his family, and we are most surely truthful.
KHALIFA: They said, “Let us swear by GOD that we kill him and his people, then tell his tribe, `We know nothing about their death. We are truthful.’ ”

৪৯। তারা বলেছিলো, ” তোমরা পরস্পর আল্লাহ্‌র নামে শপথ কর, যে আমরা অবশ্যই রাত্রিকালে তাঁকে ও তাঁর [ পরিবারের ] লোকজনকে গোপনে আক্রমণ করবো ৩২৮৭ অতঃপর তার উত্তরাধিকারকে বলবো [ যখন সে প্রতিশোধ নিতে চাইবে ] ‘ তাঁর লোকজনের হত্যার সময়ে আমরা উপস্থিত ছিলাম না এবং আমরা অবশ্যই সত্য কথা বলছি’।”

৩২৮৭। তাদের ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা ছিলো অত্যন্ত কাপুরুষোচিত কারণ :

১) পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে অত্যন্ত গোপনে;

২) রাতের অন্ধাকারে তা সংঘটিত করা হবে;

৩) তাদের প্রতারণার শিকারকে সম্পূর্ণ অজ্ঞ অবস্থায় আক্রমণ করা হবে;

৪) তারা সকলে সর্তকতা অবলম্বন করেছিলো এই বলে যে তারা যদিও সালেহ্‌ নবীকে হত্যা করবে, কিন্তু তারা একযোগে ঘটনাকে অস্বীকার করবে এবং বলবে যে তারা সত্যবাদী। তারা ঘটনা সম্পর্কে কিছুই অবগত নয়। কারণ সালেহ্‌ নবীর উত্তরাধীকারী [ যদিও কেহ জীবিত থাকে ] বা তাঁর গোত্রের লোকেরা যেনো তাদের উপরে প্রতিশোধ নিতে না পারে। এই ঘটনার উল্লেখের কারণ ঠিক একই প্রকার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিলো আমাদের নবী হযরত মুহম্মদের [ সা ] সময়েও। যুগে যুগে সত্যের প্রচারকরা একই ভাবে নির্যাতিত হয়ে থাকেন। এ কথা সকল সময়ের জন্য প্রযোজ্য।

তারা এক চক্রান্ত করেছিল এবং আমিও এক চক্রান্ত করেছিলাম। কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি।
So they plotted a plot, and We planned a plan, while they perceived not.

وَمَكَرُوا مَكْرًا وَمَكَرْنَا مَكْرًا وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ
Wamakaroo makran wamakarna makran wahum la yashAAuroona

YUSUFALI: They plotted and planned, but We too planned, even while they perceived it not.
PICKTHAL: So they plotted a plot: and We plotted a plot, while they perceived not.
SHAKIR: And they planned a plan, and We planned a plan while they perceived not.
KHALIFA: They plotted and schemed, but we also plotted and schemed, while they did not perceive.

৫০। তারা চক্রান্ত করেছিলো এবং পরিকল্পনা করেছিলো ৩২৮৮। কিন্তু আমিও পরিকল্পনা করেছিলাম যদিও তারা তা অনুধাবনে সক্ষম ছিলো না।

৩২৮৮। দেখুন আয়াত [ ৩ : ৫৪ ]। আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞ। তাদের দুরভিসন্ধিমূলক দুষ্ট চক্রান্ত আল্লাহ্‌র কাছে সুবিদিত ছিলো , কিন্তু আল্লাহ্‌র ন্যায় বিচার ও কল্যাণকর পরিকল্পনা সম্বন্ধে তারা জ্ঞাত ছিলো না। সুতারাং পাপীদের পক্ষে আল্লাহ্‌র পরিকল্পনাকে নস্যাৎ করা সম্ভব ছিলো না। পাপ এবং পাপীর শেষ পরিণতি অবশ্যই ভয়াবহ।

অতএব, দেখ তাদের চক্রান্তের পরিনাম, আমি অবশ্রই তাদেরকে এবং তাদের সম্প্রদায়কে নাস্তনাবুদ করে দিয়েছি।
Then see how was the end of their plot! Verily! We destroyed them and their nation, all together.

فَانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ مَكْرِهِمْ أَنَّا دَمَّرْنَاهُمْ وَقَوْمَهُمْ أَجْمَعِينَ
Faonthur kayfa kana AAaqibatu makrihim anna dammarnahum waqawmahum ajmaAAeena

YUSUFALI: Then see what was the end of their plot!- this, that We destroyed them and their people, all (of them).
PICKTHAL: Then see the nature of the consequence of their plotting, for lo! We destroyed them and their people, every one.
SHAKIR: See, then, how was the end of their plan that We destroyed them and their people, all (of them).
KHALIFA: Note the consequences of their plotting; we annihilated them and all their people.

৫১। এরপরে দেখ; তাদের চক্রান্তের শেষ পরিণতি কি হয়েছিলো ! আমি তাদের এবং তাদের সম্প্রদায়ের সকলকে ধ্বংস করেছিলাম।

৫২। এখন এই তো তাদের ঘর বাড়ী – যা সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তুপ ; কারণ তারা পাপ কাজের অভ্যাস করতো। অবশ্যই এর মাঝে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।

৫৩। যারা ঈমান এনেছিলো এবং সৎ কাজ করতো আমি তাদের রক্ষা করেছিলাম।

৫৪। [ আমি আরও প্রেরণ করেছিলাম ] লূতকে ৩২৮৯ [ রাসুল রূপে ]। স্মরণ কর , সে তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলো , ” তোমরা [ অন্যায় ] জেনেও কি এই অশ্লীল কাজ করবে ?

৩২৮৯। লূতের কাহিনী আরও অন্যান্য সূরাতে বর্ণনা করা হয়েছে। সূরা [ ২৬ : ১৬০ – ১৭৫ ] আয়াতে এবং সূরা [ ৭ : ৮০ – ৮৪ ] আয়াতে লূতের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। এই সূরার এই আয়াতে লূতের কাহিনীর মাধ্যমে যে বিষয়ের উপরে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে , তা হচ্ছে লূতের নগরীর লোকেরা মানুষের স্বভাব ধর্মের বিপরীত কাজ করছিলো। তারা জানতো যে এ এক নিদারুণ দুষ্কার্য এবং পাপ , তবুও তারা সেই পাপে নিমগ্ন থাকতো। লূতের স্ত্রী লূতের ন্যায় পূণ্যাত্মা লোকের সংস্পর্শে থেকেও পাপীদের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন ছিলো [ দেখুন নীচের আয়াত নং ৫৭ ] এবং সে ছিলো লূতের প্রচারে অবিশ্বাসী। ফলে তাঁর ভাগ্যেও নেমে এসেছিলো শাস্তির কালো মেঘ। সেও ধ্বংস প্রাপ্তদের অর্ন্তভুক্ত হয়েছিলো।

এই তো তাদের বাড়ীঘর-তাদের অবিশ্বাসের কারণে জনশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। নিশ্চয় এতে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন আছে।
These are their houses in utter ruin, for they did wrong. Verily, in this is indeed an Ayâh (a lesson or a sign) for people who know.

فَتِلْكَ بُيُوتُهُمْ خَاوِيَةً بِمَا ظَلَمُوا إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لِّقَوْمٍ يَعْلَمُونَ
Fatilka buyootuhum khawiyatan bima thalamoo inna fee thalika laayatan liqawmin yaAAlamoona
YUSUFALI: Now such were their houses, – in utter ruin, – because they practised wrong-doing. Verily in this is a Sign for people of knowledge.
PICKTHAL: See, yonder are their dwellings empty and in ruins because they did wrong. Lo! herein is indeed a portent for a people who have knowledge.
SHAKIR: So those are their houses fallen down because they were unjust, most surely there is a sign in this for a people who know.
KHALIFA: Here are their homes utterly ruined, because of their transgression. This should be a lesson for people who know.

৫১। এরপরে দেখ; তাদের চক্রান্তের শেষ পরিণতি কি হয়েছিলো ! আমি তাদের এবং তাদের সম্প্রদায়ের সকলকে ধ্বংস করেছিলাম।

৫২। এখন এই তো তাদের ঘর বাড়ী – যা সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তুপ ; কারণ তারা পাপ কাজের অভ্যাস করতো। অবশ্যই এর মাঝে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।

৫৩। যারা ঈমান এনেছিলো এবং সৎ কাজ করতো আমি তাদের রক্ষা করেছিলাম।

৫৪। [ আমি আরও প্রেরণ করেছিলাম ] লূতকে ৩২৮৯ [ রাসুল রূপে ]। স্মরণ কর , সে তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলো , ” তোমরা [ অন্যায় ] জেনেও কি এই অশ্লীল কাজ করবে ?

৩২৮৯। লূতের কাহিনী আরও অন্যান্য সূরাতে বর্ণনা করা হয়েছে। সূরা [ ২৬ : ১৬০ – ১৭৫ ] আয়াতে এবং সূরা [ ৭ : ৮০ – ৮৪ ] আয়াতে লূতের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। এই সূরার এই আয়াতে লূতের কাহিনীর মাধ্যমে যে বিষয়ের উপরে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে , তা হচ্ছে লূতের নগরীর লোকেরা মানুষের স্বভাব ধর্মের বিপরীত কাজ করছিলো। তারা জানতো যে এ এক নিদারুণ দুষ্কার্য এবং পাপ , তবুও তারা সেই পাপে নিমগ্ন থাকতো। লূতের স্ত্রী লূতের ন্যায় পূণ্যাত্মা লোকের সংস্পর্শে থেকেও পাপীদের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন ছিলো [ দেখুন নীচের আয়াত নং ৫৭ ] এবং সে ছিলো লূতের প্রচারে অবিশ্বাসী। ফলে তাঁর ভাগ্যেও নেমে এসেছিলো শাস্তির কালো মেঘ। সেও ধ্বংস প্রাপ্তদের অর্ন্তভুক্ত হয়েছিলো।

যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছিল এবং পরহেযগার ছিল, তাদেরকে আমি উদ্ধার করেছি।
And We saved those who believed, and used to fear Allâh, and keep their duty to Him.

وَأَنجَيْنَا الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ
Waanjayna allatheena amanoo wakanoo yattaqoona

YUSUFALI: And We saved those who believed and practised righteousness.
PICKTHAL: And we saved those who believed and used to ward off (evil).
SHAKIR: .And We delivered those who believed and who guarded (against evil).
KHALIFA: We save those who believe and lead a righteous life.

৫১। এরপরে দেখ; তাদের চক্রান্তের শেষ পরিণতি কি হয়েছিলো ! আমি তাদের এবং তাদের সম্প্রদায়ের সকলকে ধ্বংস করেছিলাম।

৫২। এখন এই তো তাদের ঘর বাড়ী – যা সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তুপ ; কারণ তারা পাপ কাজের অভ্যাস করতো। অবশ্যই এর মাঝে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।

৫৩। যারা ঈমান এনেছিলো এবং সৎ কাজ করতো আমি তাদের রক্ষা করেছিলাম।

৫৪। [ আমি আরও প্রেরণ করেছিলাম ] লূতকে ৩২৮৯ [ রাসুল রূপে ]। স্মরণ কর , সে তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলো , ” তোমরা [ অন্যায় ] জেনেও কি এই অশ্লীল কাজ করবে ?

৩২৮৯। লূতের কাহিনী আরও অন্যান্য সূরাতে বর্ণনা করা হয়েছে। সূরা [ ২৬ : ১৬০ – ১৭৫ ] আয়াতে এবং সূরা [ ৭ : ৮০ – ৮৪ ] আয়াতে লূতের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। এই সূরার এই আয়াতে লূতের কাহিনীর মাধ্যমে যে বিষয়ের উপরে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে , তা হচ্ছে লূতের নগরীর লোকেরা মানুষের স্বভাব ধর্মের বিপরীত কাজ করছিলো। তারা জানতো যে এ এক নিদারুণ দুষ্কার্য এবং পাপ , তবুও তারা সেই পাপে নিমগ্ন থাকতো। লূতের স্ত্রী লূতের ন্যায় পূণ্যাত্মা লোকের সংস্পর্শে থেকেও পাপীদের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন ছিলো [ দেখুন নীচের আয়াত নং ৫৭ ] এবং সে ছিলো লূতের প্রচারে অবিশ্বাসী। ফলে তাঁর ভাগ্যেও নেমে এসেছিলো শাস্তির কালো মেঘ। সেও ধ্বংস প্রাপ্তদের অর্ন্তভুক্ত হয়েছিলো।

স্মরণ কর লূতের কথা, তিনি তাঁর কওমকে বলেছিলেন, তোমরা কেন অশ্লীল কাজ করছ? অথচ এর পরিণতির কথা তোমরা অবগত আছ!
And (remember) Lout (Lot)! When he said to his people . Do you commit Al­Fâhishah (evil, great sin, every kind of unlawful sexual intercourse, sodomy, etc.) while you see (one another doing evil without any screen, etc.)?”

وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ أَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ وَأَنتُمْ تُبْصِرُونَ
Walootan ith qala liqawmihi ata/toona alfahishata waantum tubsiroona

সূরা নমল

YUSUFALI: (We also sent) Lut (as a messenger): behold, He said to his people, “Do ye do what is shameful though ye see (its iniquity)?
PICKTHAL: And Lot! when he said unto his folk: Will ye commit abomination knowingly?
SHAKIR: And (We sent) Lut, when he said to his people: What! do you commit indecency while you see?
KHALIFA: Lot said to his people, “How could you commit such an abomination, publicly, while you see?

৫১। এরপরে দেখ; তাদের চক্রান্তের শেষ পরিণতি কি হয়েছিলো ! আমি তাদের এবং তাদের সম্প্রদায়ের সকলকে ধ্বংস করেছিলাম।

৫২। এখন এই তো তাদের ঘর বাড়ী – যা সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তুপ ; কারণ তারা পাপ কাজের অভ্যাস করতো। অবশ্যই এর মাঝে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।

৫৩। যারা ঈমান এনেছিলো এবং সৎ কাজ করতো আমি তাদের রক্ষা করেছিলাম।

৫৪। [ আমি আরও প্রেরণ করেছিলাম ] লূতকে ৩২৮৯ [ রাসুল রূপে ]। স্মরণ কর , সে তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলো , ” তোমরা [ অন্যায় ] জেনেও কি এই অশ্লীল কাজ করবে ?

৩২৮৯। লূতের কাহিনী আরও অন্যান্য সূরাতে বর্ণনা করা হয়েছে। সূরা [ ২৬ : ১৬০ – ১৭৫ ] আয়াতে এবং সূরা [ ৭ : ৮০ – ৮৪ ] আয়াতে লূতের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। এই সূরার এই আয়াতে লূতের কাহিনীর মাধ্যমে যে বিষয়ের উপরে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে , তা হচ্ছে লূতের নগরীর লোকেরা মানুষের স্বভাব ধর্মের বিপরীত কাজ করছিলো। তারা জানতো যে এ এক নিদারুণ দুষ্কার্য এবং পাপ , তবুও তারা সেই পাপে নিমগ্ন থাকতো। লূতের স্ত্রী লূতের ন্যায় পূণ্যাত্মা লোকের সংস্পর্শে থেকেও পাপীদের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন ছিলো [ দেখুন নীচের আয়াত নং ৫৭ ] এবং সে ছিলো লূতের প্রচারে অবিশ্বাসী। ফলে তাঁর ভাগ্যেও নেমে এসেছিলো শাস্তির কালো মেঘ। সেও ধ্বংস প্রাপ্তদের অর্ন্তভুক্ত হয়েছিলো।

তোমরা কি কামতৃপ্তির জন্য নারীদেরকে ছেড়ে পুরুষে উপগত হবে? তোমরা তো এক বর্বর সম্প্রদায়।
”Do you approach men in your lusts rather than women? Nay, but you are a people who behave senselessly.”

أَئِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِّن دُونِ النِّسَاء بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ
A-innakum lata/toona alrrijala shahwatan min dooni alnnisa-i bal antum qawmun tajhaloona

YUSUFALI: Would ye really approach men in your lusts rather than women? Nay, ye are a people (grossly) ignorant!
PICKTHAL: Must ye needs lust after men instead of women? Nay, but ye are folk who act senselessly.
SHAKIR: What! do you indeed approach men lustfully rather than women? Nay, you are a people who act ignorantly.
KHALIFA: “You practice sex with the men, lustfully, instead of the women. Indeed, you are ignorant people.”

৫৫। ” তোমরা কি কামতৃপ্তির জন্য নারীকে ছেড়ে পুরুষে উপগত হবে ? তোমরা তো এক [ অশ্লীল ] অজ্ঞ সম্প্রদায় ৩২৯০। ”

৩২৯০। “অজ্ঞ সম্প্রদায় ” – এই অজ্ঞতা হচ্ছে আধ্যাত্মিক অজ্ঞতা। এই অজ্ঞতা হচ্ছে সেই অজ্ঞতা যার ফলে পাপ ও পূণ্যের মধ্যে, সত্য ও মিথ্যার মধ্যে , ভালো ও মন্দের মধ্যে , ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষমতা লুপ্ত হয়ে যায়। এ সব আত্মা হচ্ছে অন্ধকার আচ্ছাদিত আত্মা। ফলে তারা পাপের যে অশ্লীলতা ও লজ্জ্বা তা অনুধাবনে অক্ষম হয় তাদের নৈতিকতা বিরোধী কাজ তাদের যে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে তা অনুধাবনেও তারা অক্ষম। অক্ষমতা তাদেরই ক্ষতির কারণ। তারা জানে যে তাদের অশ্লীল কাজ অন্যায়। তাদের এই জেনে পাপ করার দরুণ তাদের আধ্যাত্মিক অজ্ঞতা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে, ফলে তা হয় নিন্দনীয়। ঘটনা বিকৃত করার মানসে বা অন্যকে প্রতারণার করার মানসে যারা সত্যকে বিকৃত করে এবং মিথ্যা বা অর্ধ সত্যের আশ্রয় নেয় তারা জ্ঞান পাপী। যারা অভ্যেসবসে বা অসর্তকতার দরুণ বা অমনোযোগের ফলে মিথ্যা বলে তাদের তুলনায় এ সব জ্ঞান পাপীরা অনেক বেশী নিন্দনীয়। ঠিক সেরূপ লূতের সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের কার্যকে পাপ জেনেও তা করার ফলে তারা আল্লাহ্‌র রোষানলে পতিত হয়।

উত্তরে তাঁর কওম শুধু এ কথাটিই বললো, লূত পরিবারকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও। এরা তো এমন লোক যারা শুধু পাকপবিত্র সাজতে চায়।
There was no other answer given by his people except that they said: ”Drive out the family of Lout (Lot) from your city. Verily, these are men who want to be clean and pure!”

فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَن قَالُوا أَخْرِجُوا آلَ لُوطٍ مِّن قَرْيَتِكُمْ إِنَّهُمْ أُنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ
Fama kana jawaba qawmihi illa an qaloo akhrijoo ala lootin min qaryatikum innahum onasun yatatahharoona

YUSUFALI: But his people gave no other answer but this: they said, “Drive out the followers of Lut from your city: these are indeed men who want to be clean and pure!”
PICKTHAL: But the answer of his folk was naught save that they said: Expel the household of Lot from your township, for they (forsooth) are folk who would keep clean!
SHAKIR: But the answer of his people was no other except that they ~s said: Turn out Lut’s followers from your town; surely they are a people who would keep pure!
KHALIFA: The only response from his people was their saying, “Banish Lot’s family from your town; they are people who wish to be pure.”

৫৬। কিন্তু তাঁর সম্প্রদায় শুধু এই উত্তর দিল, তারা বলেছিলো, ” লূতের অনুসারীগণকে শহর থেকে বের করে দাও। কেননা তারা এমন লোক যারা পূত পবিত্র হতে চায় ৩২৯১। ”

৩২৯১। এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, অশ্লীল কাজের দরুণ লূতের সম্প্রদায় লজ্জ্বা তো পায়ই নাই , উপরন্তু তারা লূত ও তাঁর অনুসারীরা যারা পবিত্র জীবন যাপন করতেন তাদের ব্যঙ্গ বিদ্রূপে ক্ষত বিক্ষত করেছিলো। তাদের বক্তব্য থেকে মনে হয় যেনো সুপথের আহ্বানের দ্বারা লূত এক মহা অন্যায় কাজ করেছেন।

অতঃপর তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে উদ্ধার করলাম তাঁর স্ত্রী ছাড়া। কেননা, তার জন্যে ধ্বংসপ্রাপ্তদের ভাগ্যই নির্ধারিত করেছিলাম।
So We saved him and his family, except his wife. We destined her to be of those who remained behind.

فَأَنجَيْنَاهُ وَأَهْلَهُ إِلَّا امْرَأَتَهُ قَدَّرْنَاهَا مِنَ الْغَابِرِينَ
Faanjaynahu waahlahu illa imraatahu qaddarnaha mina alghabireena

YUSUFALI: But We saved him and his family, except his wife; her We destined to be of those who lagged behind.
PICKTHAL: Then We saved him and his household save his wife; We destined her to be of those who stayed behind.
SHAKIR: But We delivered him and his followers except his wife; We ordained her to be of those who remained behind.
KHALIFA: Consequently, we saved him and his family, except his wife; we counted her among the doomed.

৫৭। কিন্তু আমি তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে রক্ষা করেছিলাম – তাঁর স্ত্রী বাদে। তার ভাগ্য নির্ধারণ করেছিলাম যারা পিছনে পরে ছিলো তাদের সাথে।

 

আর তাদের উপর বর্ষণ করেছিলাম মুষলধারে বৃষ্টি। সেই সতর্ককৃতদের উপর কতই না মারাত্নক ছিল সে বৃষ্টি।
And We rained down on them a rain (of stones). So evil was the rain of those who were warned.

وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِم مَّطَرًا فَسَاء مَطَرُ الْمُنذَرِينَ
Waamtarna AAalayhim mataran fasaa mataru almunthareena

YUSUFALI: And We rained down on them a shower (of brimstone): and evil was the shower on those who were admonished (but heeded not)!
PICKTHAL: And We rained a rain upon them. Dreadful is the rain of those who have been warned.
SHAKIR: And We rained on them a rain, and evil was the rain of those who had been warned.
KHALIFA: We showered them with a certain shower. It was a miserable shower upon people who had been warned.

৫৮। এবং আমি তাদের উপরে গন্ধকের ধারা বর্ষণ করেছিলাম। কত মন্দই না ছিলো সেই বর্ষণ যা সেই সকল লোকের উপর বর্ষিত হয়েছিলো , যাদের সতর্ক করা হয়েছিলো [ কিন্তু শোনে নাই ]।

বল, সকল প্রশংসাই আল্লাহর এবং শান্তি তাঁর মনোনীত বান্দাগণের প্রতি! শ্রেষ্ঠ কে? আল্লাহ না ওরা-তারা যাদেরকে শরীক সাব্যস্ত করে।
Say (O Muhammad SAW): ”Praise and thanks be to Allâh, and peace be on His slaves whom He has chosen (for His Message)! Is Allâh better, or (all) that you ascribe as partners (to Him)?” (Of course, Allâh is Better).

قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسَلَامٌ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَى آللَّهُ خَيْرٌ أَمَّا يُشْرِكُونَ
Quli alhamdu lillahi wasalamun AAala AAibadihi allatheena istafa allahu khayrun amma yushrikoona

YUSUFALI: Say: Praise be to Allah, and Peace on his servants whom He has chosen (for his Message). (Who) is better?- Allah or the false gods they associate (with Him)?
PICKTHAL: Say (O Muhammad): Praise be to Allah, and peace be on His slaves whom He hath chosen! Is Allah best, or (all) that ye ascribe as partners (unto Him)?
SHAKIR: Say: Praise be to Allah and peace on His servants whom He has chosen: is Allah better, or what they associate (with Him)?
KHALIFA: Say, “Praise be to GOD and peace be upon His servants whom He chose. Is GOD better, or the idols some people set up?”

রুকু – ৫

৫৯। বল, সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র এবং তার সেই বান্দাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক যাদের তিনি [ রাসুল হিসেবে ] মনোনীত করেছেন ৩২৯২। কে শ্রেষ্ঠ ? – আল্লাহ্‌ না কি তারা যাদের [ তাঁর সাথে ] শরীক করে তারা?

৩২৯২। যুগে যুগে আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশ সাধারণ মানুষের জন্য নৈতিক জীবনের পথ নির্দ্দেশ , আত্মার জন্য আলো , যে আলোতে সে পথের নির্দ্দেশকে সনাক্ত করতে পারবে এবং আল্লাহ্‌র অনুগ্রহকে। আল্লাহ্‌র এই অনুগ্রহ বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন নবী রসুলদের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ আমাদের নিকট প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ্‌র এই মনোনীত বান্দাদের প্রতি আল্লাহ্‌র রহমতের জন্য আমাদের দোয়া করা উচিত। কারণ , আল্লাহ্‌র বাণী প্রচারের কারণে এসব বান্দাদের দুষ্টদের দ্বারা যে নির্মম অত্যাচার , নির্যাতন, নির্বাসন প্রভৃতি ভোগ করতে হয় তা অবর্ণনীয়। এরা মানুষের মঙ্গলের জন্য আল্লাহ্‌র বাণীকে প্রচারের জন্য জীবনের সকল সুখ স্বাচ্ছন্দকে পরিত্যাগ করেন, সুখের পথকে পরিহার করে দুঃখ কষ্টের কণ্টকাকীর্ণ পথকে গ্রহণ করেন, এরা আমাদের নমস্য। এদের আত্মত্যাগের কারণেই পৃথিবীতে আল্লাহ্‌র শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। আল্লাহ্‌-ই হচ্ছেন চরম সত্য; সর্বোচ্চ কল্যাণ। আল্লাহ্‌ ব্যতীত আর যারই এবাদত করা হোক না কেন সবই মিথ্যা এবং পাপ। তবুও কি আমরা মিথ্যা এবং পাপকে সত্য এবং মঙ্গলের উপরে স্থান দেব?

বল তো কে সৃষ্টি করেছেন নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং আকাশ থেকে তোমাদের জন্যে বর্ষণ করেছেন পানি; অতঃপর তা দ্বারা আমি মনোরম বাগান সৃষ্টি করেছি। তার বৃক্ষাদি উৎপন্ন করার শক্তিই তোমাদের নেই। অতএব, আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? বরং তারা সত্যবিচ্যুত সম্প্রদায়।
Is not He (better than your gods) Who created the heavens and the earth, and sends down for you water (rain) from the sky, whereby We cause to grow wonderful gardens full of beauty and delight? It is not in your ability to cause the growth of their trees. Is there any ilâh (god) with Allâh? Nay, but they are a people who ascribe equals (to Him)!

أَمَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَأَنزَلَ لَكُم مِّنَ السَّمَاء مَاء فَأَنبَتْنَا بِهِ حَدَائِقَ ذَاتَ بَهْجَةٍ مَّا كَانَ لَكُمْ أَن تُنبِتُوا شَجَرَهَا أَإِلَهٌ مَّعَ اللَّهِ بَلْ هُمْ قَوْمٌ يَعْدِلُونَ
Amman khalaqa alssamawati waal-arda waanzala lakum mina alssama-i maan faanbatna bihi hada-iqa thata bahjatin ma kana lakum an tunbitoo shajaraha a-ilahun maAAa Allahi bal hum qawmun yaAAdiloona

YUSUFALI: Or, Who has created the heavens and the earth, and Who sends you down rain from the sky? Yea, with it We cause to grow well-planted orchards full of beauty of delight: it is not in your power to cause the growth of the trees in them. (Can there be another) god besides Allah? Nay, they are a people who swerve from justice.
PICKTHAL: Is not He (best) Who created the heavens and the earth, and sendeth down for you water from the sky wherewith We cause to spring forth joyous orchards, whose trees it never hath been yours to cause to grow. Is there any Allah beside Allah? Nay, but they are folk who ascribe equals (unto Him)!
SHAKIR: Nay, He Who created the heavens and the earth, and sent down for you water from the cloud; then We cause to grow thereby beautiful gardens; it is not possible for you that you should make the trees thereof to grow. Is there a god with Allah? Nay! they are people who deviate.
KHALIFA: Who is the One who created the heavens and the earth? Who is the One who sends down to you from the sky water, whereby we produce gardens full of beauty – you could not possibly manufacture its trees? Is it another god with GOD? Indeed, they are people who have deviated.

৬০। অথবা কে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন ৩২৯৩। এবং কে তোমাদের জন্য আকাশ থেকে বৃষ্টি প্রেরণ করেন ? হ্যাঁ , অতঃপর আমিই উহা দ্বারা মনোরম ফলের বাগান সৃষ্টি করি যা সৌন্দর্য ও আনন্দে পরিপূর্ণ। সেখানে গাছ – পালা উদ্‌গত করার ক্ষমতা তোমাদের নাই ৩২৯৪। আল্লাহ্‌র সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি ? কিন্তু তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা ন্যায় থেকে বিচ্যুত হয়।

৩২৯৩। এই বিশাল বিশ্ব ভূবনের সৌন্দর্য্য , চমৎকারিত্ব এবং শৃঙ্খলার প্রতি আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে এই আয়াতে। আবেদন করা হয়েছে , চেয়ে দেখতে কি অপূর্ব তাঁর সৃষ্টি , সমস্ত সৃষ্টির মাঝে কি অপূর্ব সমন্বয় ও শৃঙ্খলা যা এক নির্দ্দিষ্ট উদ্দেশ্যের প্রতি ইঙ্গিত করে। যার সামান্য পরিমাণ অনুভব করার ক্ষমতা আছে সেই অনুধাবন করতে পারবে সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টার মঙ্গল ইচ্ছা মানুষের জন্য।

যারা অজ্ঞ ,অমনোযোগী ও অন্যায়কারী একমাত্র তারাই এক আল্লাহ্‌র পরিবর্তে বহু ঈশ্বরের বা মিথ্যা উপাস্যের উপাসনা করতে পারে।

৩২৯৪। আমাদের চারিপাশের প্রকৃতি – বৃক্ষ -তরুলতা , ফুল , ফলে শোভিত। প্রতিদিনের জীবনে আমরা এদের সৌন্দর্যে মোহিত হই। কিন্তু একটি বৃক্ষের জন্ম ইতিহাস যে স্রষ্টার অসীম ক্ষমতার প্রকাশ তা আমরা কখনও অনুধাবন করি না। ক্ষুদ্র বীজের যখন অঙ্কুরোদ্গম ঘটে, তখন বীজের অভ্যন্তরে যে বিশাল রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে, যার দরুণ ক্ষুদ্র বীজ শিকড়, কান্ড ও পাতাতে পরিণত হয় – সেই রূপান্তর কি মানুষের পক্ষে ঘটানো সম্ভব ? আমাদের প্রতিদিনের জীবনে, আমাদের চারিপাশে অহরহ এরূপ বহুবিধ পরিবর্তন দেখে থাকি যা আমরা অনুধাবন করি না – কি বিশাল ও জটিল সে পরিবর্তন , যে পরিবর্তন ঘটানো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। মানুষ যা পারে তা হচ্ছে সুশোভিত বাগান তৈরী করতে। সুন্দর ফুল ও ফলের বাগান আমাদের মোহিত করে – বাগানের মালিকের সৌন্দর্যবোধ, পরিকল্পনা ও নকশা আমাদের মুগ্ধ করে। গাছ গুলিকে সুনির্দ্দিষ্ট সারিতে রাখা হয় যেনো তাদের বেড়ে ওঠার সময়ে শিকড়ের প্রসারের জন্য স্থান সংঙ্কুলান না হয়, ডাল পাতা যেনো প্রচুর সূর্যালোক পায়। মাটি যেনো বায়ু চলাচলের উপযুক্ত থাকে ইত্যাদি , মালিকের সুনির্দ্দিষ্ট পরিকল্পনার ফসল। একটি ক্ষুদ্র বাগানের জন্য যখন এত পরিকল্পনা, সৌন্দর্যবোধ , সূচিন্তিত ও পরিশীলিত রুচিবোধের প্রয়োজন হয় , তখন মানুষ কি চিন্তা করে না যে এই বিশাল বিশ্বভূবন যার অণু পরমাণুতে সৌন্দর্যবোধ ও শৃঙ্খলা , সমন্বিত হয়ে আছে, প্রকৃতির সেই বিশাল বাগান মালিক বিহীন ভাবে কি বেড়ে ওঠা সম্ভব ? সৌন্দর্যের লীলা ভূমি এই ধরাতল অবশ্যই কোন মহৎ স্রষ্টার পরিকল্পনা – যা জ্ঞানী লোকদের জ্ঞান চক্ষুকে স্রষ্টার একত্বের দিকে উন্মীলন করে।

বল তো কে পৃথিবীকে বাসোপযোগী করেছেন এবং তার মাঝে মাঝে নদ-নদী প্রবাহিত করেছেন এবং তাকে স্থিত রাখার জন্যে পর্বত স্থাপন করেছেন এবং দুই সমুদ্রের মাঝখানে অন্তরায় রেখেছেন। অতএব, আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? বরং তাদের অধিকাংশই জানে না।
Is not He (better than your gods) Who has made the earth as a fixed abode, and has placed rivers in its midst, and has placed firm mountains therein, and has set a barrier between the two seas (of salt and sweet water).Is there any ilâh (god) with Allâh? Nay, but most of them know not.

أَمَّن جَعَلَ الْأَرْضَ قَرَارًا وَجَعَلَ خِلَالَهَا أَنْهَارًا وَجَعَلَ لَهَا رَوَاسِيَ وَجَعَلَ بَيْنَ الْبَحْرَيْنِ حَاجِزًا أَإِلَهٌ مَّعَ اللَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
Amman jaAAala al-arda qararan wajaAAala khilalaha anharan wajaAAala laha rawasiya wajaAAala bayna albahrayni hajizan a-ilahun maAAa Allahi bal aktharuhum la yaAAlamoona

YUSUFALI: Or, Who has made the earth firm to live in; made rivers in its midst; set thereon mountains immovable; and made a separating bar between the two bodies of flowing water? (can there be another) god besides Allah? Nay, most of them know not.
PICKTHAL: Is not He (best) Who made the earth a fixed abode, and placed rivers in the folds thereof, and placed firm hills therein, and hath set a barrier between the two seas? Is there any Allah beside Allah? Nay, but most of them know not!
SHAKIR: Or, Who made the earth a restingplace, and made in it rivers, and raised on it mountains and placed between the two seas a barrier. Is there a god with Allah? Nay! most of them do not know!
KHALIFA: Who is the One who made the earth habitable, caused rivers to run through it, placed on it mountains, and created a barrier between the two waters? Is it another god with GOD? Indeed, most of them do not know.

৬১। অথবা কে পৃথিবীকে স্থির করেছেন মানুষের বসবাসের জন্য ; এর মধ্যে প্রবাহিত করেছেন নদী সমূহ, উহাতে স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পর্বত ৩২৯৫; এবং দুই দরিয়ার মাঝে সৃষ্টি করেছেন অন্তরায় ৩২৯৬। আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য উপাস্য থাকতে পারে কি ? হ্যাঁ তাদের বেশীর ভাগ লোকই জানে না।

৩২৯৫। দেখুন আয়াত [ ১৬ : ১৫ ] এবং টিকা ২০৩৮ ও ২০৩৯ এবং [২৫:৫৩] ও টিকা ৩১১১

শুকনা স্থল ভূমি ও প্রবাহিত পানির স্রোতের মাঝে আল্লাহ্‌ সুকৌশলে পানির চক্র স্থাপন করেছেন।

পানি চক্র হচ্ছে :

সমুদ্রের লোনা পানি ->মেঘ ->বৃষ্টি ->নদী,নালা ->সমুদ্রের লোনা পানি

সব কিছুই একই পানি বারে বারে চক্রাকারে আবর্তিত হচ্ছে কিন্তু আল্লাহ্‌র কি অপার করুণা কখনও সমুদ্রের লবণাক্ত পানি আবর্তিত মিষ্টি পানির সাথে মিশে যাচ্ছে না। শুধু কি তাই; সমুদ্রের দ্বারা পরিবেষ্টিত ক্ষুদ্র দ্বীপাবলীর [ যেমন মহেশখালী ] মাঝে পাওয়া যায় মিষ্টি সুপেয় জলরাশি। স্রষ্টার এ এক অদৃশ্য বাঁধা বা অন্তরায় যার ফলে লবণাক্ত পানির দরিয়া ও সুস্বাদু মিষ্টি পানিতে কখনও মিশে যায় না।

৩২৯৬। দেখুন আয়াত [ ২৫ : ৫৩ ] এবং টিকা ৩১১১ ও ৩১১২।

বল তো কে নিঃসহায়ের ডাকে সাড়া দেন যখন সে ডাকে এবং কষ্ট দূরীভূত করেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীতে পুর্ববর্তীদের স্থলাভিষিক্ত করেন। সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? তোমরা অতি সামান্যই ধ্যান কর।
Is not He (better than your gods) Who responds to the distressed one, when he calls Him, and Who removes the evil, and makes you inheritors of the earth, generations after generations. Is there any ilâh (god) with Allâh? Little is that you remember!

أَمَّن يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَاء الْأَرْضِ أَإِلَهٌ مَّعَ اللَّهِ قَلِيلًا مَّا تَذَكَّرُونَ
Amman yujeebu almudtarra itha daAAahu wayakshifu alssoo-a wayajAAalukum khulafaa al-ardi a-ilahun maAAa Allahi qaleelan ma tathakkaroona

YUSUFALI: Or, Who listens to the (soul) distressed when it calls on Him, and Who relieves its suffering, and makes you (mankind) inheritors of the earth? (Can there be another) god besides Allah? Little it is that ye heed!
PICKTHAL: Is not He (best) Who answereth the wronged one when he crieth unto Him and removeth the evil, and hath made you viceroys of the earth? Is there any Allah beside Allah? Little do they reflect!
SHAKIR: Or, Who answers the distressed one when he calls upon Him and removes the evil, and He will make you successors in the earth. Is there a god with Allah? Little is it that you mind!
KHALIFA: Who is the One who rescues those who become desperate and call upon Him, relieves adversity, and makes you inheritors of the earth? Is it another god with GOD? Rarely do you take heed.

৬২। অথবা বিপর্যস্ত [ আত্মা ] যখন তাঁকে ডাকে কে তাতে সাড়া দেয় অথবা কে কষ্টকে উপশম করেন ৩২৯৭ এবং [ হে মানুষ ] তোমাদের পৃথিবীর উত্তরাধীকার করেন ? ৩২৯৮। আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য উপাস্য থাকতে পারে কি ? তোমরা [ উপদেশ ] সামান্যই গ্রহণ করে থাক।

৩২৯৭। এই আয়াতে আল্লাহ্‌ বলেছেন যে, বাইরের এই বিশাল বিশ্বভূবনে যেমন তাঁর নিদর্শন ও অনুগ্রহ ছড়ানো আছে, মানুষ যদি তাঁর অন্তরের মাঝে , তাঁর বিবেকের কাছে খুঁজে দেখে তবে সে আল্লাহ্‌র অসীম অপার করুণা সিন্ধুর সন্ধান পাবে। মানুষ যখন বিপদ বিপর্যয়ের মাঝে, দুঃখে-কষ্টে , দুঃশ্চিন্তা-দুর্ভাবনায় আল্লাহ্‌র সাহায্য প্রার্থনা করে , আল্লাহ্‌র সাহায্য তখন তার অতি নিকটেই থাকে। আল্লাহ্‌ মনুষ্যজাতিকে পৃথিবীতে সকল সৃষ্ট জগতের উপরে শ্রেষ্টত্ব দান করেছেন মানসিক ও আত্মিক দিক থেকে। মানুষকে করা হয়েছে আল্লাহ্‌র প্রতিনিধি স্বরূপ। এর পরেও মানুষ কি ভাবে আল্লাহ্‌কে ভুলে যায় এবং মিথ্যা উপাস্যের উপাসনা করে ?

৩২৯৮। দেখুন আয়াত [ ৬ : ১৬৫ ] এবং টিকা ৯৮০।

বল তো কে তোমাদেরকে জলে ও স্থলে অন্ধকারে পথ দেখান এবং যিনি তাঁর অনুগ্রহের পূর্বে সুসংবাদবাহী বাতাস প্রেরণ করেন? অতএব, আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? তারা যাকে শরীক করে, আল্লাহ তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।
Is not He (better than your gods) Who guides you in the darkness of the land and the sea, and Who sends the winds as heralds of glad tidings, going before His Mercy (rain)? Is there any ilâh (god) with Allâh? High Exalted be Allâh above all that they associate as partners (to Him)!

أَمَّن يَهْدِيكُمْ فِي ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَن يُرْسِلُ الرِّيَاحَ بُشْرًا بَيْنَ يَدَيْ رَحْمَتِهِ أَإِلَهٌ مَّعَ اللَّهِ تَعَالَى اللَّهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ
Amman yahdeekum fee thulumati albarri waalbahri waman yursilu alrriyaha bushran bayna yaday rahmatihi a-ilahun maAAa Allahi taAAala Allahu AAamma yushrikoona

YUSUFALI: Or, Who guides you through the depths of darkness on land and sea, and Who sends the winds as heralds of glad tidings, going before His Mercy? (Can there be another) god besides Allah?- High is Allah above what they associate with Him!
PICKTHAL: Is not He (best) Who guideth you in the darkness of the land and the sea, He Who sendeth the winds as heralds of His mercy? Is there any Allah beside Allah? High Exalted be Allah from all that they ascribe as partner (unto Him)!
SHAKIR: Or, Who guides you in utter darkness of the land and the sea, and Who sends the winds as good news before His mercy. Is there a god with Allah? Exalted by Allah above what they associate (with Him).
KHALIFA: Who is the One who guides you in the darkness of land and sea? Who is the One who sends the winds with good news, signaling His mercy? Is it another god with GOD? Most exalted is GOD, above having any partner.

৬৩। অথবা কে তোমাদের স্থলের ও সমুদ্রের গভীর অন্ধকারের মধ্যে পথ প্রদর্শন করেন, এবং কে স্বীয় অনুগ্রহের প্রাক্কালে সুসংবাদবাহী বায়ু প্রেরণ করেন ? আল্লাহ্‌ ব্যতীত কি অন্য উপাস্য থাকতে পারে ? ওরা যাদের শরীক করে আল্লাহ্‌ তা থেকে বহু উর্দ্ধে ৩২৯৯।

৩২৯৯। দেখুন [ ২৫ : ৪৮ ] আয়াত এবং টিকা ৩১০৪।

বল তো কে প্রথমবার সৃষ্টি করেন, অতঃপর তাকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন এবং কে তোমাদেরকে আকাশ ও মর্ত্য থেকে রিযিক দান করেন। সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? বলুন, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর।
Is not He (better than your so-called gods) Who originates creation, and shall thereafter repeat it, and Who provides for you from heaven and earth? Is there any ilâh (god) with Allâh? Say, ”Bring forth your proofs, if you are truthful.”

أَمَّن يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَمَن يَرْزُقُكُم مِّنَ السَّمَاء وَالْأَرْضِ أَإِلَهٌ مَّعَ اللَّهِ قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
Amman yabdao alkhalqa thumma yuAAeeduhu waman yarzuqukum mina alssama-i waal-ardi a-ilahun maAAa Allahi qul hatoo burhanakum in kuntum sadiqeena

YUSUFALI: Or, Who originates creation, then repeats it, and who gives you sustenance from heaven and earth? (Can there be another) god besides Allah? Say, “Bring forth your argument, if ye are telling the truth!”
PICKTHAL: Is not He (best) Who produceth creation, then reproduceth it, and Who provideth for you from the heaven and the earth? Is there any Allah beside Allah? Say: Bring your proof, if ye are truthful!
SHAKIR: Or, Who originates the creation, then reproduces it and Who gives you sustenance from the heaven and the earth. Is there a god With Allah? Say: Bring your proof if you are truthful.
KHALIFA: Who is the One who initiates the creation, then repeats it? Who is the One who provides for you from the heaven and the earth? Is it another god with GOD? Say, “Show me your proof, if you are truthful.”

৬৪। অথবা কে প্রথম সৃষ্টি করেন এবং তারপরে তা পুণরাবৃত্তি করেন ৩৩০০ ? কে তোমাদের আকাশ ও পৃথিবী থেকে জীবনোপকরন দিয়ে থাকেন ? ৩৩০১। আল্লাহ্‌ ব্যতীত কি অন্য উপাস্য থাকতে পারে ? বল, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের যুক্তি পেশ কর ৩৩০২।

৩৩০০। দেখুন আয়াত [ ১০ : ৩৪ ] এবং টিকা ১৪২৮।

৩৩০১। “জীবনোপকরণ ” – এখানে জীবনোপকরণ বলতে জাগতিক ও আধ্যাত্মিক উভয়ের সমৃদ্ধির জন্য যা প্রয়োজন তা বোঝানো হয়েছে।

৩৩০২। বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের সকল কিছুই আল্লাহ্‌র একত্বের দিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এমন কিছুই নাই যা আল্লাহ্‌র একত্বের বিরুদ্ধে যায়।

বলুন, আল্লাহ ব্যতীত নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে কেউ গায়বের খবর জানে না এবং তারা জানে না যে, তারা কখন পুনরুজ্জীবিত হবে।
Say: ”None in the heavens and the earth knows the Ghaib (unseen) except Allâh, nor can they perceive when they shall be resurrected.”

قُل لَّا يَعْلَمُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ وَمَا يَشْعُرُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ
Qul la yaAAlamu man fee alssamawati waal-ardi alghayba illa Allahu wama yashAAuroona ayyana yubAAathoona

YUSUFALI: Say: None in the heavens or on earth, except Allah, knows what is hidden: nor can they perceive when they shall be raised up (for Judgment).
PICKTHAL: Say (O Muhammad): None in the heavens and the earth knoweth the Unseen save Allah; and they know not when they will be raised (again).
SHAKIR: Say: No one in the heavens and the earth knows the unseen but Allah; and they do not know when they shall be raised.
KHALIFA: Say, “No one in the heavens and the earth knows the future except GOD. They do not even perceive how or when they will be resurrected.”

৬৫। বলঃ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে আল্লাহ্‌ ব্যতীত কেহই গুপ্ত বিষয় জানে না ৩৩০৩। তারা এটাও অনুধাবন করতে পারে না কখন তাদের [ বিচারের জন্য ] উত্থিত করা হবে।

৩৩০৩। বিশ্ব ব্রহ্মান্ডে আল্লাহ্‌র অস্তিত্ব সর্বত্র বিদ্যমান। সকল কিছু আল্লাহ্‌র একত্বের দিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আল্লাহ্‌ আমাদের পরলোকের জ্ঞান দান করেন; যে জ্ঞান আমাদের নিকট অদৃশ্য। আত্মার অমরত্ব ও পরলোকের অস্তিত্ব ধ্রুব সত্য। কিন্তু যারা আল্লাহ্‌র অস্তিত্বে বিশ্বাসী নয় তারা এই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান লাভে অক্ষম।

বরং পরকাল সম্পর্কে তাদের জ্ঞান নিঃশেষ হয়ে গেছে; বরং তারা এ বিষয়ে সন্দেহ পোষন করছে বরং এ বিষয়ে তারা অন্ধ।
Nay, they have no knowledge of the Hereafter. Nay, they are in doubt about it. Nay, they are blind about it.

بَلِ ادَّارَكَ عِلْمُهُمْ فِي الْآخِرَةِ بَلْ هُمْ فِي شَكٍّ مِّنْهَا بَلْ هُم مِّنْهَا عَمِونَ
Bali iddaraka AAilmuhum fee al-akhirati bal hum fee shakkin minha bal hum minha AAamoona

YUSUFALI: Still less can their knowledge comprehend the Hereafter: Nay, they are in doubt and uncertainty thereanent; nay, they are blind thereunto!
PICKTHAL: Nay, but doth their knowledge reach to the Hereafter? Nay, for they are in doubt concerning it. Nay, for they cannot see it.
SHAKIR: Nay, their knowledge respecting the hereafter is slight and hasty; nay, they are in doubt about it; nay, they are quite blind to it
KHALIFA: In fact, their knowledge concerning the Hereafter is confused. In fact, they harbor doubts about it. In fact, they are totally heedless thereof.

৬৬। তাদের জ্ঞান [ বুদ্ধি ] পরলোককে খুব কমই হুদয়ংগম করতে পারে। এ বিষয়ে তারা সন্দিহান ও অনিশ্চিত। না তারা এ বিষয়ে অন্ধ ৩৩০৪।

৩৩০৪। যারা অবিশ্বাসী তারা হয় পার্থিব বিষয় বুদ্ধি সম্পন্ন। তারা এই জাগতিক বিষয়ের বাইরে চিন্তা করতে অক্ষম। কারণ মানুষের সসীম জ্ঞান ও বুদ্ধির দ্বারা পরলোকের অদৃশ্যলোকের ধারণা করা সম্ভব নয়। আধ্যাত্মিক জীবনে বিশ্বাসের মাধ্যমে বিশ্বাসীদের সত্তার মাঝে আধ্যাত্মিক অন্তর্দৃষ্টির জন্ম নেয়। অপরপক্ষে অবিশ্বাসীরা এই অন্তর্দৃষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়। কারণ তাদের পার্থিব বিষয়বুদ্ধি তাদের সন্দেহ এবং অনিশ্চিয়তার মধ্যে নিপতিত করে। তাদের এই সন্দেহ ও অনিশ্চিয়তার ফলে তাদের আত্মায় আধ্যাত্মিক জগতের আলো প্রবেশে বাঁধা পায়, ফলে তাদের আত্মা আল্লাহ্‌র নূর বঞ্চিত হয়ে অন্ধকারে সমাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। আধ্যাত্মিক অন্ধত্ব তাদের পরলোকের ভবিষ্যত জীবনের ধারণাকে সন্দেহ ও অবিশ্বাসে ভরিয়ে তোলে। এরা চর্ম চক্ষু থাকা সত্বেও অন্তর্দৃষ্টিহীন। অন্তর্দৃষ্টিহীন ব্যক্তি আধ্যাত্মিক দিক থেকে অন্ধ। তারা শুধু দৃশ্যমান পৃথিবীকেই দেখতে পায়।

কাফেররা বলে, যখন আমরা ও আমাদের বাপ-দাদারা মৃত্তিকা হয়ে যাব, তখনও কি আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে?
And those who disbelieve say: ”When we have become dust, we and our fathers, shall we really be brought forth (again)?

وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَئِذَا كُنَّا تُرَابًا وَآبَاؤُنَا أَئِنَّا لَمُخْرَجُونَ
Waqala allatheena kafaroo a-itha kunna turaban waabaona a-inna lamukhrajoona

YUSUFALI: The Unbelievers say: “What! when we become dust,- we and our fathers,- shall we really be raised (from the dead)?
PICKTHAL: Yet those who disbelieve say: When we have become dust like our fathers, shall we verily be brought forth (again)?
SHAKIR: And those who disbelieve say: What! when we have become dust and our fathers (too), shall we certainly be brought forth?
KHALIFA: Those who disbelieved said, “After we turn into dust, and also our parents, do we get brought out?

রুকু – ৬

৬৭। অবিশ্বাসীরা বলে, ” কি ! আমরা এবং আমাদের পূর্বপুরুষেরা যখন ধূলিতে পরিণত হবে – তখনও কি আমাদের [ মৃত্যু থেকে ] উত্থিত করা হবে ?

৬৮। ” এ কথা সত্য যে , আমাদের ও আমাদের পূর্বপুরুষদের [ এ ব্যাপারে ] প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিলো। এগুলি প্রাচীন কালের কাহিনী ব্যতীত অন্য কিছু নয়। ”

৬৯। বল, ” পৃথিবী পরিভ্রমণ কর এবং দেখ যারা [ পাপের দ্বারা ] অপরাধী, তাদের শেষ পরিণতি কেমন হয়েছে।” ৩৩০৫
৩৩০৫। অবিশ্বাসীরা আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশে অবিশ্বাসী। তারা আল্লাহ্‌র প্রেরিত জীবন বিধান গ্রহণে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে, কারণ তারা পরলোকের জীবনে বিশ্বাসী নয়। তারা চর্মচক্ষুর সাহায্যে যা দেখতে পায় , তার বাইরে আর কিছুই বিশ্বাস করে না। পৃথিবীতে যা ঘটে তার বাইরে তারা আর কিছুই বিশ্বাস করে না। এই আয়াতে তাদের সম্বোধন করে আল্লাহ্‌ বলছেন যে, ” পৃথিবী ঘুরে দেখ পাপের শেষ পরিণতি সর্বদা ধ্বংস ; অপরপক্ষে সত্য ও ন্যায় শেষ পর্যন্ত সর্বদা জয় লাভ করে থাকে। “

এই ওয়াদাপ্রাপ্ত হয়েছি আমরা এবং পূর্ব থেকেই আমাদের বাপ-দাদারা। এটা তো পূর্ববর্তীদের উপকথা বৈ কিছু নয়।
”Indeed we were promised this, we and our forefathers before, Verily, these are nothing but tales of ancients.”

لَقَدْ وُعِدْنَا هَذَا نَحْنُ وَآبَاؤُنَا مِن قَبْلُ إِنْ هَذَا إِلَّا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ
Laqad wuAAidna hatha nahnu waabaona min qablu in hatha illa asateeru al-awwaleena

YUSUFALI: “It is true we were promised this,- we and our fathers before (us): these are nothing but tales of the ancients.”
PICKTHAL: We were promised this, forsooth, we and our fathers. (All) this is naught but fables of the men of old.
SHAKIR: We have certainly been promised this, we and our fathers before; these are naught but stories of the ancients
KHALIFA: “We have been given the same promise in the past. These are nothing but tales from the past.”

রুকু – ৬

৬৭। অবিশ্বাসীরা বলে, ” কি ! আমরা এবং আমাদের পূর্বপুরুষেরা যখন ধূলিতে পরিণত হবে – তখনও কি আমাদের [ মৃত্যু থেকে ] উত্থিত করা হবে ?

৬৮। ” এ কথা সত্য যে , আমাদের ও আমাদের পূর্বপুরুষদের [ এ ব্যাপারে ] প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিলো। এগুলি প্রাচীন কালের কাহিনী ব্যতীত অন্য কিছু নয়। ”

৬৯। বল, ” পৃথিবী পরিভ্রমণ কর এবং দেখ যারা [ পাপের দ্বারা ] অপরাধী, তাদের শেষ পরিণতি কেমন হয়েছে।” ৩৩০৫
৩৩০৫। অবিশ্বাসীরা আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশে অবিশ্বাসী। তারা আল্লাহ্‌র প্রেরিত জীবন বিধান গ্রহণে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে, কারণ তারা পরলোকের জীবনে বিশ্বাসী নয়। তারা চর্মচক্ষুর সাহায্যে যা দেখতে পায় , তার বাইরে আর কিছুই বিশ্বাস করে না। পৃথিবীতে যা ঘটে তার বাইরে তারা আর কিছুই বিশ্বাস করে না। এই আয়াতে তাদের সম্বোধন করে আল্লাহ্‌ বলছেন যে, ” পৃথিবী ঘুরে দেখ পাপের শেষ পরিণতি সর্বদা ধ্বংস ; অপরপক্ষে সত্য ও ন্যায় শেষ পর্যন্ত সর্বদা জয় লাভ করে থাকে। “

বলুন, পৃথিবী পরিভ্রমণ কর এবং দেখ অপরাধীদের পরিণতি কি হয়েছে।
Say to them (O Muhammad SAW) ”Travel in the land and see how has been the end of the criminals (those who denied Allâh’s Messengers and disobeyed Allâh).”

قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُجْرِمِينَ
Qul seeroo fee al-ardi faonthuroo kayfa kana AAaqibatu almujrimeena

YUSUFALI: Say: “Go ye through the earth and see what has been the end of those guilty (of sin).”
PICKTHAL: Say (unto them, O Muhammad): Travel in the land and see the nature of the sequel for the guilty!
SHAKIR: Say: Travel in the earth, then see how was the end of the guilty.
KHALIFA: Say, “Roam the earth and note the consequences for the guilty.”

রুকু – ৬

৬৭। অবিশ্বাসীরা বলে, ” কি ! আমরা এবং আমাদের পূর্বপুরুষেরা যখন ধূলিতে পরিণত হবে – তখনও কি আমাদের [ মৃত্যু থেকে ] উত্থিত করা হবে ?

৬৮। ” এ কথা সত্য যে , আমাদের ও আমাদের পূর্বপুরুষদের [ এ ব্যাপারে ] প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিলো। এগুলি প্রাচীন কালের কাহিনী ব্যতীত অন্য কিছু নয়। ”

৬৯। বল, ” পৃথিবী পরিভ্রমণ কর এবং দেখ যারা [ পাপের দ্বারা ] অপরাধী, তাদের শেষ পরিণতি কেমন হয়েছে।” ৩৩০৫
৩৩০৫। অবিশ্বাসীরা আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশে অবিশ্বাসী। তারা আল্লাহ্‌র প্রেরিত জীবন বিধান গ্রহণে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে, কারণ তারা পরলোকের জীবনে বিশ্বাসী নয়। তারা চর্মচক্ষুর সাহায্যে যা দেখতে পায় , তার বাইরে আর কিছুই বিশ্বাস করে না। পৃথিবীতে যা ঘটে তার বাইরে তারা আর কিছুই বিশ্বাস করে না। এই আয়াতে তাদের সম্বোধন করে আল্লাহ্‌ বলছেন যে, ” পৃথিবী ঘুরে দেখ পাপের শেষ পরিণতি সর্বদা ধ্বংস ; অপরপক্ষে সত্য ও ন্যায় শেষ পর্যন্ত সর্বদা জয় লাভ করে থাকে। “

তাদের কারণে আপনি দুঃখিত হবেন না এবং তারা যে চক্রান্ত করেছে এতে মনঃক্ষুন্ন হবেন না।
And grieve you not for them, nor be straitened (in distress) because of what they plot.

وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَلَا تَكُن فِي ضَيْقٍ مِّمَّا يَمْكُرُونَ
Wala tahzan AAalayhim wala takun fee dayqin mimma yamkuroona

YUSUFALI: But grieve not over them, nor distress thyself because of their plots.
PICKTHAL: And grieve thou not for them, nor be in distress because of what they plot (against thee).
SHAKIR: And grieve not for them and be not distressed because of what they plan.
KHALIFA: Do not grieve over them, and do not be annoyed by their scheming.

৭০। তাদের জন্য তুমি দুঃখ করো না। তাদের চক্রান্তে নিজেকে বিপর্যস্ত বোধ করো না ৩৩০৬।

৩৩০৬। দেখুন আয়াত [ ১৬ : ১২৭ ] এবং টিকা ২১৬৪। যারা মুত্তাকী তারা সর্বদা আল্লাহ্‌ প্রদর্শিত ন্যায় ও সত্যের পথে জীবন যাপন করেন। পৃথিবীর অন্যায় , অসত্য অনেক সময়েই তাদের জীবনকে ঘন মেঘে আচ্ছাদিত করে ফেলে। এই আয়াতে আল্লাহ্‌ মোমেন বান্দাদের আশ্বাস দিচ্ছেন যে, অন্যায় ,অসত্যের প্রচন্ড বিরোধিতায় তাদের মনক্ষুণঃ হওয়ার কোনও কারণ নাই। কারণ অন্যায় ও অসত্য আল্লাহ্‌র পরিকল্পনাকে বান্‌চাল্‌ করতে পারবে না। যদিও এই আয়াতে রসুলকে সম্বোধন করা হয়েছে। কিন্তু আল্লাহ্‌র এই আশ্বাস সকল মুত্তাকী বা সত্যের ও ন্যায়ের পূঁজারীদের জন্য প্রযোজ্য।

তারা বলে, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বল, এই ওয়াদা কখন পূর্ণ হবে?
And they (the disbelievers in the Oneness of Allâh) say: ”When (will) this promise (be fulfilled), if you are truthful?”

وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
Wayaqooloona mata hatha alwaAAdu in kuntum sadiqeena

YUSUFALI: They also say: “When will this promise (come to pass)? (Say) if ye are truthful.”
PICKTHAL: And they say: When (will) this promise (be fulfilled), if ye are truthful?
SHAKIR: And they say: When will this threat come to pass, if you are truthful?
KHALIFA: They say, “When will that promise come to pass, if you are truthful?”

৭১। তারা আরও বলে , ” যদি তুমি সত্যবাদী হও তবে বলতো কখন এই প্রতিশ্রুতি আসবে ? ”

৭২। বল, ” তোমরা যে ঘটনার জন্য তাড়াহুড়া করছো, সম্ভবতঃ তার কিছু অংশ তোমাদের পশ্চাদ্‌ধাবন করছে ৩৩০৭।”

৩৩০৭। যারা অবিশ্বাসী বা দৃঢ় বিশ্বাসী নয়, বিশ্বাসে শিথিল, তারা সাধারণতঃ বলে থাকে, “এত দূর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কি লাভ ? বরং বর্তমান জীবনকে ভোগ করে নাও।” এভাবে তারা নিজেকেই প্রতারণা করে থাকে। আখেরাত অবশ্যই আসবে – তা ধ্রুব সত্য। যখন রোজকেয়ামত আসন্ন হবে, তখন এসব অবিশ্বাসীদের জন্য ধ্বংসের ঘণ্টা বেজে উঠবে। তখন আর অনুতাপের সময় থাকবে না। আল্লাহ্‌র মঙ্গল ইচ্ছা পাপী, পূণত্মা সকলকে ঘিরে আছে। অনুতাপের মাধ্যমে, তার মঙ্গলময় ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পনের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করা যায়। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই অকৃতজ্ঞ।

বলুন, অসম্ভব কি, তোমরা যত দ্রুত কামনা করছ তাদের কিয়দংশ তোমাদের পিঠের উপর এসে গেছে।
Say: ”Perhaps that which you wish to hasten on, may be close behind you.

قُلْ عَسَى أَن يَكُونَ رَدِفَ لَكُم بَعْضُ الَّذِي تَسْتَعْجِلُونَ
Qul AAasa an yakoona radifa lakum baAAdu allathee tastaAAjiloona

YUSUFALI: Say: “It may be that some of the events which ye wish to hasten on may be (close) in your pursuit!”
PICKTHAL: Say: It may be that a part of that which ye would hasten on is close behind you.
SHAKIR: Say: Maybe there may have drawn near to you somewhat of that which you seek to hasten on.
KHALIFA: Say, “You are already suffering some of the retribution you challenge.”

৭১। তারা আরও বলে , ” যদি তুমি সত্যবাদী হও তবে বলতো কখন এই প্রতিশ্রুতি আসবে ? ”

৭২। বল, ” তোমরা যে ঘটনার জন্য তাড়াহুড়া করছো, সম্ভবতঃ তার কিছু অংশ তোমাদের পশ্চাদ্‌ধাবন করছে ৩৩০৭।”

৩৩০৭। যারা অবিশ্বাসী বা দৃঢ় বিশ্বাসী নয়, বিশ্বাসে শিথিল, তারা সাধারণতঃ বলে থাকে, “এত দূর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কি লাভ ? বরং বর্তমান জীবনকে ভোগ করে নাও।” এভাবে তারা নিজেকেই প্রতারণা করে থাকে। আখেরাত অবশ্যই আসবে – তা ধ্রুব সত্য। যখন রোজকেয়ামত আসন্ন হবে, তখন এসব অবিশ্বাসীদের জন্য ধ্বংসের ঘণ্টা বেজে উঠবে। তখন আর অনুতাপের সময় থাকবে না। আল্লাহ্‌র মঙ্গল ইচ্ছা পাপী, পূণত্মা সকলকে ঘিরে আছে। অনুতাপের মাধ্যমে, তার মঙ্গলময় ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পনের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করা যায়। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই অকৃতজ্ঞ।

আপনার পালনকর্তা মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল, কিন্তু তাদের অধিকাংশই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।
”Verily, your Lord is full of Grace for mankind, yet most of them do not give thanks.”

وَإِنَّ رَبَّكَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى النَّاسِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَشْكُرُونَ
Wa-inna rabbaka lathoo fadlin AAala alnnasi walakinna aktharahum la yashkuroona

YUSUFALI: But verily thy Lord is full of grace to mankind: Yet most of them are ungrateful.
PICKTHAL: Lo! thy Lord is full of bounty for mankind, but most of them do not give thanks.
SHAKIR: And surely your Lord is the Lord of grace to men, but most of them are not grateful.
KHALIFA: Your Lord is full of grace towards the people, but most of them are unappreciative.

৭৩। নিশ্চয়ই তোমার প্রভু মানুষের জন্য অনুগ্রহে পূর্ণ। তবুও তাদের অধিকাংশ অকৃতজ্ঞ।

৭৪। এবং তাদের অন্তর যা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে তোমার প্রভু অবশ্যই তা জানেন।

৭৫। আকাশ ও পৃথিবীতে এমন কোন কিছু অদৃশ্য নাই যা [ নথিতে ] সুস্পষ্টভাবে লেখা হয় নাই ৩৩০৮।

৩৩০৮। দেখুন [ ২২ : ৭০ ] ; [ ৩৬ : ১২ ] ; [ ৫৭ : ২২ ]

তাদের অন্তর যা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে আপনার পালনকর্তা অবশ্যই তা জানেন।
And verily, your Lord knows what their breasts conceal and what they reveal.

وَإِنَّ رَبَّكَ لَيَعْلَمُ مَا تُكِنُّ صُدُورُهُمْ وَمَا يُعْلِنُونَ
Wa-inna rabbaka layaAAlamu ma tukinnu sudooruhum wama yuAAlinoona

YUSUFALI: And verily thy Lord knoweth all that their hearts do hide. As well as all that they reveal.
PICKTHAL: Lo! thy Lord knoweth surely all that their bosoms hide, and all that they proclaim.
SHAKIR: And most surely your Lord knows what their breasts conceal and what they manifest.
KHALIFA: Your Lord fully knows what their chests hide, and what they declare.

৭৩। নিশ্চয়ই তোমার প্রভু মানুষের জন্য অনুগ্রহে পূর্ণ। তবুও তাদের অধিকাংশ অকৃতজ্ঞ।

৭৪। এবং তাদের অন্তর যা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে তোমার প্রভু অবশ্যই তা জানেন।

৭৫। আকাশ ও পৃথিবীতে এমন কোন কিছু অদৃশ্য নাই যা [ নথিতে ] সুস্পষ্টভাবে লেখা হয় নাই ৩৩০৮।

৩৩০৮। দেখুন [ ২২ : ৭০ ] ; [ ৩৬ : ১২ ] ; [ ৫৭ : ২২ ]

আকাশে ও পৃথিবীতে এমন কোন গোপন ভেদ নেই, যা সুস্পষ্ট কিতাবে না আছে।
And there is nothing hidden in the heaven and the earth, but is in a Clear Book (i.e. Al-Lauh Al-Mahfûz).

وَمَا مِنْ غَائِبَةٍ فِي السَّمَاء وَالْأَرْضِ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ
Wama min gha-ibatin fee alssama-i waal-ardi illa fee kitabin mubeenin

YUSUFALI: Nor is there aught of the unseen, in heaven or earth, but is (recorded) in a clear record.
PICKTHAL: And there is nothing hidden in the heaven or the earth but it is in a clear Record.
SHAKIR: And there is nothing concealed in the heaven and the earth but it is in a clear book.
KHALIFA: There is nothing in the heavens and the earth that is hidden (from God); everything is in a profound record.

৭৩। নিশ্চয়ই তোমার প্রভু মানুষের জন্য অনুগ্রহে পূর্ণ। তবুও তাদের অধিকাংশ অকৃতজ্ঞ।

৭৪। এবং তাদের অন্তর যা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে তোমার প্রভু অবশ্যই তা জানেন।

৭৫। আকাশ ও পৃথিবীতে এমন কোন কিছু অদৃশ্য নাই যা [ নথিতে ] সুস্পষ্টভাবে লেখা হয় নাই ৩৩০৮।

৩৩০৮। দেখুন [ ২২ : ৭০ ] ; [ ৩৬ : ১২ ] ; [ ৫৭ : ২২ ]

এই কোরআন বণী ইসরাঈল যেসব বিষয়ে মতবিরোধ করে, তার অধিকাংশ তাদের কাছে বর্ণনা করে।
Verily, this Qur’ân narrates to the Children of Israel most of that about which they differ.

إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَقُصُّ عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ أَكْثَرَ الَّذِي هُمْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ
Inna hatha alqur-ana yaqussu AAala banee isra-eela akthara allathee hum feehi yakhtalifoona

YUSUFALI: Verily this Qur’an doth explain to the Children of Israel most of the matters in which they disagree.
PICKTHAL: Lo! this Qur’an narrateth unto the Children of Israel most of that concerning which they differ.
SHAKIR: Surely this Quran declares to the children of Israel most of what they differ in.
KHALIFA: This Quran settles many issues for the Children of Israel; issues that they are still disputing.

৭৬। বনী ইসরাঈলীরা যে সমস্ত বিষয়ে মতভেদ করে থাকে, নিশ্চয়ই এই কুর-আন তা ব্যাখ্যা করে থাকে ৩৩০৯।

৭৭। যারা ঈমান আনে , ইহা তাদের জন্য অবশ্যই পথের নিশানা এবং [আল্লাহ্‌র ] অনুগ্রহ।

৩৩০৯। ইহুদীদের মাঝে ধর্মের ব্যাপারে বহু দল ও উপদল বিদ্যমান। এসব দল ও উপদল পরস্পর পরস্পরের সাথে বিবাদমান। তাদের বিভিন্ন মতবাদের যুক্তি ও কূটর্তকের সমাধান করেছে আল্‌-কোরাণ। কোরাণের মাধ্যমে মুসার আইনের সম্পূর্ণতা আনায়ন করা হয়েছে।
কোরাণ বিশদভাবে ব্যাখ্যা করে আল্লাহ্‌র বিভিন্ন গুণাবলী সম্বন্ধে, প্রত্যাদেশের প্রকৃত রূপ এবং পরলোক সম্বন্ধে মতবাদকে।

এবং নিশ্চিতই এটা মুমিনদের জন্যে হেদায়েত ও রহমত।
And truly, it (this Qur’ân) is a guide and a mercy to the believers.

وَإِنَّهُ لَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ
Wa-innahu lahudan warahmatun lilmu/mineena

YUSUFALI: And it certainly is a Guide and a Mercy to those who believe.
PICKTHAL: And lo! it is a guidance and a mercy for believers.
SHAKIR: And most surely it is a guidance and a mercy for the believers.
KHALIFA: And most assuredly, it is a guide and mercy for the believers.

৭৬। বনী ইসরাঈলীরা যে সমস্ত বিষয়ে মতভেদ করে থাকে, নিশ্চয়ই এই কুর-আন তা ব্যাখ্যা করে থাকে ৩৩০৯।

৭৭। যারা ঈমান আনে , ইহা তাদের জন্য অবশ্যই পথের নিশানা এবং [আল্লাহ্‌র ] অনুগ্রহ।

৩৩০৯। ইহুদীদের মাঝে ধর্মের ব্যাপারে বহু দল ও উপদল বিদ্যমান। এসব দল ও উপদল পরস্পর পরস্পরের সাথে বিবাদমান। তাদের বিভিন্ন মতবাদের যুক্তি ও কূটর্তকের সমাধান করেছে আল্‌-কোরাণ। কোরাণের মাধ্যমে মুসার আইনের সম্পূর্ণতা আনায়ন করা হয়েছে।
কোরাণ বিশদভাবে ব্যাখ্যা করে আল্লাহ্‌র বিভিন্ন গুণাবলী সম্বন্ধে, প্রত্যাদেশের প্রকৃত রূপ এবং পরলোক সম্বন্ধে মতবাদকে।

আপনার পালনকর্তা নিজ শাসনক্ষমতা অনুযায়ী তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন। তিনি পরাক্রমশালী, সুবিজ্ঞ।
Verily, your Lord will decide between them (various sects) by His Judgement. And He is the All-Mighty, the All-Knowing.

إِنَّ رَبَّكَ يَقْضِي بَيْنَهُم بِحُكْمِهِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْعَلِيمُ
Inna rabbaka yaqdee baynahum bihukmihi wahuwa alAAazeezu alAAaleemu

YUSUFALI: Verily thy Lord will decide between them by His Decree: and He is Exalted in Might, All-Knowing.
PICKTHAL: Lo! thy Lord will judge between them of His wisdom, and He is the Mighty, the Wise.
SHAKIR: Surely your Lord will judge between them by his judgment, and He is the Mighty, the knowing.
KHALIFA: Your Lord is the One who judges among them in accordance with His rules. He is the Almighty, the Omniscient.

৭৮। তোমার প্রভু অবশ্যই তাঁর বিধান অনুযায়ী তাদের মাঝে মীমাংসা করে দেবেন ৩৩১০। এবং তিনি ক্ষমতায় পরাক্রমশালী , সর্বজ্ঞ।

৩৩১০। বিভিন্ন মতবাদ ও দলের মধ্যে ধর্ম সম্বন্ধে ঝগড়া ও বিবাদ ও দলাদলি আল্লাহ্‌র সিদ্ধান্ত বা আইন বা হুকুম অনুযায়ী ফলসালা হবে : ১) কোরাণের প্রত্যাদেশের মাধ্যমে , অথবা ২) সময়ের বিবর্তনে – বহু গোষ্ঠি বহু উদ্ভাদিত ধর্ম হারিয়ে যায় সময়ের বিবর্তনে , অথবা ৩) শেষ বিচারের দিনে সকলেই তাদের ভুল দেখতে পাবে।

অতএব, আপনি আল্লাহর উপর ভরসা করুন। নিশ্চয় আপনি সত্য ও স্পষ্ট পথে আছেন।
So put your trust in Allâh; surely, you (O Muhammad SAW) are on manifest truth.

فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّكَ عَلَى الْحَقِّ الْمُبِينِ
Fatawakkal AAala Allahi innaka AAala alhaqqi almubeeni

YUSUFALI: So put thy trust in Allah: for thou art on (the path of) manifest Truth.
PICKTHAL: Therefor (O Muhammad) put thy trust in Allah, for thou (standest) on the plain Truth.
SHAKIR: Therefore rely on Allah; surely you are on the clear truth.
KHALIFA: Therefore, put your trust in GOD; you are following the manifest truth.

৭৯। সুতারাং তুমি আল্লাহ্‌র উপরে নির্ভর কর। অবশ্যই তুমি সুস্পষ্ট সত্য [ পথের উপরে ] প্রতিষ্ঠিত।

৮০। সত্যিই তুমি মৃতকে [ কথা ] শুনাতে পারবে না ; বধিরকেও আহ্বান শুনাতে পারবে না [ বিশেষতঃ ] যখন তারা পিছন ফিরে চলে যায় ৩৩১১।

৩৩১১। রাসুলের দায়িত্ব হচ্ছে সঠিকভাবে আল্লাহ্‌র বাণী প্রচার করা এবং আল্লাহ্‌র নির্দ্দেশিত পথকে প্রদর্শন করা। যারা পূণ্যাত্মা তারা রাসুলের প্রচারিত বাণীর মর্ম বুঝতে পারে এবং ঈমান আনায়ন করে। কিন্তু যারা অবাধ্য ও একগুয়ে ভাবে আল্লাহ্‌র নিদর্শনকে অস্বীকার করে, সত্যকে প্রতিরোধ করে, তাদের উপমা দেয়া হয়েছে এই আয়াতে। তাদের আত্মা মৃত , তারা বধির। সুতারাং তাদের অবিশ্বাসের জন্য তারা নিজেরাই দায়ী। আল্লাহ্‌র রাসুলের কোনও দায় দায়িত্ব নাই।

আপনি আহবান শোনাতে পারবেন না মৃতদেরকে এবং বধিরকেও নয়, যখন তারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে চলে যায়।
Verily, you cannot make the dead to hear (i.e. benefit them and similarly the disbelievers), nor can you make the deaf to hear the call, when they flee, turning their backs.

إِنَّكَ لَا تُسْمِعُ الْمَوْتَى وَلَا تُسْمِعُ الصُّمَّ الدُّعَاء إِذَا وَلَّوْا مُدْبِرِينَ
Innaka la tusmiAAu almawta wala tusmiAAu alssumma aldduAAaa itha wallaw mudbireena

YUSUFALI: Truly thou canst not cause the dead to listen, nor canst thou cause the deaf to hear the call, (especially) when they turn back in retreat.
PICKTHAL: Lo! thou canst not make the dead to hear, nor canst thou make the deaf to hear the call when they have turned to flee;
SHAKIR: Surely you do not make the dead to hear, and you do not make the deaf to hear the call when they go back retreating.
KHALIFA: You cannot make the dead, nor the deaf, hear the call, if they turn away.

৭৯। সুতারাং তুমি আল্লাহ্‌র উপরে নির্ভর কর। অবশ্যই তুমি সুস্পষ্ট সত্য [ পথের উপরে ] প্রতিষ্ঠিত।

৮০। সত্যিই তুমি মৃতকে [ কথা ] শুনাতে পারবে না ; বধিরকেও আহ্বান শুনাতে পারবে না [ বিশেষতঃ ] যখন তারা পিছন ফিরে চলে যায় ৩৩১১।

৩৩১১। রাসুলের দায়িত্ব হচ্ছে সঠিকভাবে আল্লাহ্‌র বাণী প্রচার করা এবং আল্লাহ্‌র নির্দ্দেশিত পথকে প্রদর্শন করা। যারা পূণ্যাত্মা তারা রাসুলের প্রচারিত বাণীর মর্ম বুঝতে পারে এবং ঈমান আনায়ন করে। কিন্তু যারা অবাধ্য ও একগুয়ে ভাবে আল্লাহ্‌র নিদর্শনকে অস্বীকার করে, সত্যকে প্রতিরোধ করে, তাদের উপমা দেয়া হয়েছে এই আয়াতে। তাদের আত্মা মৃত , তারা বধির। সুতারাং তাদের অবিশ্বাসের জন্য তারা নিজেরাই দায়ী। আল্লাহ্‌র রাসুলের কোনও দায় দায়িত্ব নাই।

আপনি অন্ধদেরকে তাদের পথভ্রষ্টতা থেকে ফিরিয়ে সৎপথে আনতে পারবেন না। আপনি কেবল তাদেরকে শোনাতে পারবেন, যারা আমার আয়াতসমূহে বিশ্বাস করে। অতএব, তারাই আজ্ঞাবহ।
Nor can you lead the blind out of their error, you can only make to hear those who believe in Our Ayât (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.), and who have submitted (themselves to Allâh in Islâm as Muslims).

وَمَا أَنتَ بِهَادِي الْعُمْيِ عَن ضَلَالَتِهِمْ إِن تُسْمِعُ إِلَّا مَن يُؤْمِنُ بِآيَاتِنَا فَهُم مُّسْلِمُونَ
Wama anta bihadee alAAumyi AAan dalalatihim in tusmiAAu illa man yu/minu bi-ayatina fahum muslimoona

YUSUFALI: Nor canst thou be a guide to the blind, (to prevent them) from straying: only those wilt thou get to listen who believe in Our Signs, and they will bow in Islam.
PICKTHAL: Nor canst thou lead the blind out of their error. Thou canst make none to hear, save those who believe Our revelations and who have surrendered.
SHAKIR: Nor can you be a guide to the blind out of their error; you cannot make to bear (any one) except those who believe in Our communications, so they submit.
KHALIFA: Nor can you guide the blind out of their straying. The only ones who will hear you are those who believe in our revelations, and decide to be submitters.

৮১। তুমি অন্ধকেও পথ দেখাতে পার না ; তাদের পথ ভ্রষ্টতা থেকে [ বিরত রাখতে ]। তুমি কেবল তাদেরকেই শোনাতে পারবে যারা আমার নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করে, এবং তারা ইসলামে আত্মসমর্পন করবে।

৮২। যখন তাদের [ অন্যায়কারীদের ] বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি কাল পূর্ণ হবে , ৩৩১২ ; [ তখন ] আমি তাদের জন্য এক জানোয়ার কে [ পশুকে ] মৃত্তিকা থেকে বের করবো ৩৩১৩। সে তাদের সাথে কথা বলবে, এই জন্য যে , মানুষ আমার নিদর্শনাবলীর আশ্বাস বাণীতে বিশ্বাস স্থাপন করে নাই।

৩৩১২। ” প্রতিশ্রুতি কাল ” অর্থাৎ পরলোকে শেষ বিচারের দিনে যখন ন্যায় ও অন্যায়ের প্রকৃত মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠিত করা হবে তখন অনুতাপের জন্য পাপীদের পৃথিবীতে যে অবকাশ দেয়া হয়েছিলো সে অবকাশের সময় শেষ হয়ে যাবে। তাদের পাপের পাত্র পূর্ণ হবে, আল্লাহ্‌র শাস্তি তাদের উপর আপতিত হবে।

৩৩১৩। কেয়ামতের পূর্বে এই জীবের আবির্ভাব ঘটবে। এই জীব মানুষের সাথে কথা বলবে। এর আগমন কেয়ামতের একটি নিদর্শন। যদি Takallimuhum এর পরিবর্তে যদি Takalimuhum পড়া হয় তবে তার অর্থ দাঁড়াবে যে জীবটি তাদের আহত করবে।

যখন প্রতিশ্রুতি (কেয়ামত) সমাগত হবে, তখন আমি তাদের সামনে ভূগর্ভ থেকে একটি জীব নির্গত করব। সে মানুষের সাথে কথা বলবে। এ কারণে যে মানুষ আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করত না।
And when the Word (of torment) is fulfilled against them, We shall bring out from the earth a beast to them, which will speak to them because mankind believed not with certainty in Our Ayât (Verses of the Qur’ân and Prophet Muhammad SAW).

وَإِذَا وَقَعَ الْقَوْلُ عَلَيْهِمْ أَخْرَجْنَا لَهُمْ دَابَّةً مِّنَ الْأَرْضِ تُكَلِّمُهُمْ أَنَّ النَّاسَ كَانُوا بِآيَاتِنَا لَا يُوقِنُونَ
Wa-itha waqaAAa alqawlu AAalayhim akhrajna lahum dabbatan mina al-ardi tukallimuhum anna alnnasa kanoo bi-ayatina la yooqinoona

YUSUFALI: And when the Word is fulfilled against them (the unjust), we shall produce from the earth a beast to (face) them: He will speak to them, for that mankind did not believe with assurance in Our Signs.
PICKTHAL: And when the word is fulfilled concerning them, We shall bring forth a beast of the earth to speak unto them because mankind had not faith in Our revelations.
SHAKIR: And when the word shall come to pass against them, We shall bring forth for them a creature from the earth that shall i wound them, because people did not believe in Our communications.
KHALIFA: At the right time, we will produce for them a creature, made of earthly materials, declaring that the people are not certain about our revelations.

৮১। তুমি অন্ধকেও পথ দেখাতে পার না ; তাদের পথ ভ্রষ্টতা থেকে [ বিরত রাখতে ]। তুমি কেবল তাদেরকেই শোনাতে পারবে যারা আমার নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করে, এবং তারা ইসলামে আত্মসমর্পন করবে।

৮২। যখন তাদের [ অন্যায়কারীদের ] বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি কাল পূর্ণ হবে , ৩৩১২ ; [ তখন ] আমি তাদের জন্য এক জানোয়ার কে [ পশুকে ] মৃত্তিকা থেকে বের করবো ৩৩১৩। সে তাদের সাথে কথা বলবে, এই জন্য যে , মানুষ আমার নিদর্শনাবলীর আশ্বাস বাণীতে বিশ্বাস স্থাপন করে নাই।

৩৩১২। ” প্রতিশ্রুতি কাল ” অর্থাৎ পরলোকে শেষ বিচারের দিনে যখন ন্যায় ও অন্যায়ের প্রকৃত মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠিত করা হবে তখন অনুতাপের জন্য পাপীদের পৃথিবীতে যে অবকাশ দেয়া হয়েছিলো সে অবকাশের সময় শেষ হয়ে যাবে। তাদের পাপের পাত্র পূর্ণ হবে, আল্লাহ্‌র শাস্তি তাদের উপর আপতিত হবে।

৩৩১৩। কেয়ামতের পূর্বে এই জীবের আবির্ভাব ঘটবে। এই জীব মানুষের সাথে কথা বলবে। এর আগমন কেয়ামতের একটি নিদর্শন। যদি Takallimuhum এর পরিবর্তে যদি Takalimuhum পড়া হয় তবে তার অর্থ দাঁড়াবে যে জীবটি তাদের আহত করবে।

যেদিন আমি একত্রিত করব একেকটি দলকে সেসব সম্প্রদায় থেকে, যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলত; অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে।
And (remember) the Day when We shall gather out of every nation a troop of those who denied Our Ayât (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.), and (then) they (all) shall be gathered (and driven to the place of reckoning),

وَيَوْمَ نَحْشُرُ مِن كُلِّ أُمَّةٍ فَوْجًا مِّمَّن يُكَذِّبُ بِآيَاتِنَا فَهُمْ يُوزَعُونَ
Wayawma nahshuru min kulli ommatin fawjan mimman yukaththibu bi-ayatina fahum yoozaAAoona

YUSUFALI: One day We shall gather together from every people a troop of those who reject our Signs, and they shall be kept in ranks,-
PICKTHAL: And (remind them of) the Day when We shall gather out of every nation a host of those who denied Our revelations, and they will be set in array;
SHAKIR: And on the day when We will gather from every nation a party from among those who rejected Our communications, then they shall be formed into groups.
KHALIFA: The day will come when we summon from every community some of those who did not believe in our proofs, forcibly.

রুকু – ৭

৮৩। একদিন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে এক একটি দলকে সমবেত করবো যারা আমার নিদর্শনাবলীকে প্রত্যাখান করতো। এবং তাদের সারিবদ্ধ ভাবে রাখা হবে , –

৮৪। যতক্ষণ না তারা [ বিচারকের সম্মুখে ] উপস্থিত হবে, [ তখন আল্লাহ্‌ ] বলবেন, ” তোমরা কি আমার নিদর্শনসমূহ প্রত্যাখান করেছিলে, যদিও তোমরা তা জ্ঞান দ্বারা হৃদয়ঙ্গম কর নাই ৩৩১৪, বরং আরও কি করেছিলে ? ”

৩৩১৪। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হবে যে, ” তোমাদের কোনও জ্ঞান না থাকা সত্বেও তোমরা আমার নিদর্শনকে উপেক্ষা করেছ। এ কথা কি সত্য ; না কি তোমাদের কোনও আবেদন আছে ?”

যখন তারা উপস্থিত হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছিলে? অথচ এগুলো সম্পর্কে তোমাদের পুর্ণ জ্ঞান ছিল না। না তোমরা অন্য কিছু করছিলে?
Till, when they come (before their Lord at the place of reckoning), He will say: ”Did you deny My Ayât (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.) when you comprehended them not in knowledge, or what (else) was it that you used to do?”

حَتَّى إِذَا جَاؤُوا قَالَ أَكَذَّبْتُم بِآيَاتِي وَلَمْ تُحِيطُوا بِهَا عِلْمًا أَمَّاذَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
Hatta itha jaoo qala akaththabtum bi-ayatee walam tuheetoo biha AAilman ammatha kuntum taAAmaloona

YUSUFALI: Until, when they come (before the Judgment-seat), (Allah) will say: “Did ye reject My Signs, though ye comprehended them not in knowledge, or what was it ye did?”
PICKTHAL: Till, when they come (before their Lord), He will say: Did ye deny My revelations when ye could not compass them in knowledge, or what was it that ye did?
SHAKIR: Until when they come, He will say: Did you reject My communications while you had no comprehensive knowledge of them? Or what was it that you did?
KHALIFA: When they arrive, He will say, “You have rejected My revelations, before acquiring knowledge about them. Is this not what you did?”

রুকু – ৭

৮৩। একদিন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে এক একটি দলকে সমবেত করবো যারা আমার নিদর্শনাবলীকে প্রত্যাখান করতো। এবং তাদের সারিবদ্ধ ভাবে রাখা হবে , –

৮৪। যতক্ষণ না তারা [ বিচারকের সম্মুখে ] উপস্থিত হবে, [ তখন আল্লাহ্‌ ] বলবেন, ” তোমরা কি আমার নিদর্শনসমূহ প্রত্যাখান করেছিলে, যদিও তোমরা তা জ্ঞান দ্বারা হৃদয়ঙ্গম কর নাই ৩৩১৪, বরং আরও কি করেছিলে ? ”

৩৩১৪। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হবে যে, ” তোমাদের কোনও জ্ঞান না থাকা সত্বেও তোমরা আমার নিদর্শনকে উপেক্ষা করেছ। এ কথা কি সত্য ; না কি তোমাদের কোনও আবেদন আছে ?”

জুলুমের কারণে তাদের কাছে আযাবের ওয়াদা এসে গেছে। এখন তারা কোন কিছু বলতে পারবে না।
And the Word (of torment) will be fulfilled against them, because they have done wrong, and they will be unable to speak (in order to defend themselves).

وَوَقَعَ الْقَوْلُ عَلَيْهِم بِمَا ظَلَمُوا فَهُمْ لَا يَنطِقُونَ
WawaqaAAa alqawlu AAalayhim bima thalamoo fahum la yantiqoona

YUSUFALI: And the Word will be fulfilled against them, because of their wrong-doing, and they will be unable to speak (in plea).
PICKTHAL: And the Word will be fulfilled concerning them because they have done wrong, and they will not speak.
SHAKIR: And the word shall come to pass against them because they were unjust, so they shall not speak.
KHALIFA: They will incur the requital for their wickedness; they will say nothing.

৮৫। এবং তাদের পাপের কারণে যখন তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হবে, তখন তারা [ আবেদন করে ] কোন কথা বলতে অক্ষম হবে ৩৩১৫।

৩৩১৫। পাপীরা কোনও আবেদন করতে পারবে না , কারণ অভিযোগের প্রতিটি কথাই সত্য। সুতারাং তাদের উপর শাস্তির খড়্‌গ নেমে আসবে।

তারা কি দেখে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্যে এবং দিনকে করেছি আলোকময়। নিশ্চয় এতে ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।
See they not that We have made the night for them to rest therein, and the day sight-giving? Verily, in this are Ayât (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.) for the people who believe.

أَلَمْ يَرَوْا أَنَّا جَعَلْنَا اللَّيْلَ لِيَسْكُنُوا فِيهِ وَالنَّهَارَ مُبْصِرًا إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
Alam yaraw anna jaAAalna allayla liyaskunoo feehi waalnnahara mubsiran inna fee thalika laayatin liqawmin yu/minoona

YUSUFALI: See they not that We have made the Night for them to rest in and the Day to give them light? Verily in this are Signs for any people that believe!
PICKTHAL: Have they not seen how We have appointed the night that they may rest therein, and the day sight-giving? Lo! therein verily are portents for a people who believe.
SHAKIR: Do they not consider that We have made the night that. they may rest therein, and the day to give light? Most surely there are signs in this for a people who believe.
KHALIFA: Have they not seen that we made the night for their rest, and the day lighted? These should be sufficient proofs for people who believe.

৮৬। তারা দেখে না যে, আমি রাত্রিকে সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিনকে করেছি আলোকময় ? ৩৩১৬ নিশ্চয়ই এতে যে কোন বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন।

৩৩১৬। রাত্রি ও দিন , বিশ্রাম এবং আলো এই আয়াতের এই শব্দগুলির আক্ষরিক অর্থের সাথে প্রতীকধর্মী অর্থ বিদ্যমান। দিবসের কর্ম ক্লান্তির পরে রাত্রি আসে বিশ্রামের জন্য। যে রাত্রিতে সুপ্তির কোলে বিশ্রাম নেয়, পরদিন সে নব উদ্যমে তার কর্ম শুরু করতে পারে। কিন্তু তা না করে যে, সারাটা রাত্রি পাপের অজ্ঞতায় নিমজ্জিত হয়। দিবস তার জন্য কিসের বারতা আনবে? সে তো অভিশপ্ত। আবার দিন হচ্ছে কর্মচাঞ্চল্যের প্রতীক। আল্লাহ্‌র নেয়ামত ও অনুগ্রহ অন্বেষণের জন্য দিবসকে করা হয়েছে আলোকময়। যে তা না করে সে আল্লাহ্‌র নেয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞ। প্রতীক অর্থে কার্যের মাধ্যমে সত্য ও ন্যায়ের সাধনার জন্য দিবসের সৃষ্টি। প্রতিদিনের জীবনে সৎ পথে , আল্লাহ্‌ নির্দ্দেশিত পথে, পৃথিবীর কর্মকান্ড যে পরিচালনা করতে পারে, সেই তো করতে পারে দিবালোকের সদ্ব্যবহার। কর্মচঞ্চল দিনের শেষে যখন রাত্রি নেমে আসে তখন সকল কর্মচাঞ্চল্যের সমাপ্তি ঘটে। ঠিক সেরূপ জীবনের শেষে আর অনুতাপের অবকাশ পাওয়া যাবে না। সত্যের সাধনার জন্য দিনের আলো শেষ হয়ে যাবে।

যেদিন সিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে, অতঃপর আল্লাহ যাদেরকে ইচ্ছা করবেন, তারা ব্যতীত নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যারা আছে, তারা সবাই ভীতবিহ্বল হয়ে পড়বে এবং সকলেই তাঁর কাছে আসবে বিনীত অবস্থায়।
And (remember) the Day on which the Trumpet will be blown and all who are in the heavens and all who are on the earth, will be terrified except him whom Allâh will (exempt). And all shall come to Him humbled.

وَيَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِ فَفَزِعَ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَمَن فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَن شَاء اللَّهُ وَكُلٌّ أَتَوْهُ دَاخِرِينَ
Wayawma yunfakhu fee alssoori fafaziAAa man fee alssamawati waman fee al-ardi illa man shaa Allahu wakullun atawhu dakhireena

YUSUFALI: And the Day that the Trumpet will be sounded – then will be smitten with terror those who are in the heavens, and those who are on earth, except such as Allah will please (to exempt): and all shall come to His (Presence) as beings conscious of their lowliness.
PICKTHAL: And (remind them of) the Day when the Trumpet will be blown, and all who are in the heavens and the earth will start in fear, save him whom Allah willeth. And all come unto Him, humbled.
SHAKIR: And on the day when the trumpet shall be blown, then those who are in the heavens and those who are in the earth shall be terrified except such as Allah please, and all shall come to him abased.
KHALIFA: On the day when the horn is blown, everyone in the heavens and the earth will be horrified, except those chosen by GOD. All will come before Him, forcibly.

৮৭। যে দিন শিঙ্গাতে ফুৎকার দেয়া হবে , সেদিন যারা আকাশমন্ডলীতে রয়েছে এবং যারা পৃথিবীতে রয়েছে সকলে ভীত বিহ্বল হয়ে পড়বে। তবে আল্লাহ্‌ যাদের [ অব্যহতি দিতে ] চান তারা ব্যতীত। সকলেই তাঁর নিকট বিনীতভাবে উপস্থিত হবে ৩৩১৭।

৩৩১৭। ‘ বিনীত অবস্থায় ‘ – অর্থাৎ সকল ঔদ্ধত্য সেদিন বিদায় নেবে। কেয়ামতের দিনে প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থানকে উপলব্ধি করতে পারবে। কারণ প্রত্যেকের মনের উপর থেকে অজ্ঞতার পর্দ্দা সরে যাবে, ফলে ভয়ে শঙ্কায় সকল উদ্ধত অহংকার ও একগুয়েমী দূর হয়ে তারা বিনীত হবে।

তুমি পর্বতমালাকে দেখে অচল মনে কর, অথচ সেদিন এগুলো মেঘমালার মত চলমান হবে। এটা আল্লাহর কারিগরী, যিনি সবকিছুকে করেছেন সুসংহত। তোমরা যা কিছু করছ, তিনি তা অবগত আছেন।
And you will see the mountains and think them solid, but they shall pass away as the passing away of the clouds. The Work of Allâh, Who perfected all things, verily! He is Well-Acquainted with what you do.

وَتَرَى الْجِبَالَ تَحْسَبُهَا جَامِدَةً وَهِيَ تَمُرُّ مَرَّ السَّحَابِ صُنْعَ اللَّهِ الَّذِي أَتْقَنَ كُلَّ شَيْءٍ إِنَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَفْعَلُونَ
Watara aljibala tahsabuha jamidatan wahiya tamurru marra alssahabi sunAAa Allahi allathee atqana kulla shay-in innahu khabeerun bima tafAAaloona

YUSUFALI: Thou seest the mountains and thinkest them firmly fixed: but they shall pass away as the clouds pass away: (such is) the artistry of Allah, who disposes of all things in perfect order: for he is well acquainted with all that ye do.
PICKTHAL: And thou seest the hills thou deemest solid flying with the flight of clouds: the doing of Allah Who perfecteth all things. Lo! He is Informed of what ye do.
SHAKIR: And you see the mountains, you think them to be solid, and they shall pass away as the passing away of the cloud– the handiwork of Allah Who has made every thing thoroughly; surely He is Aware of what you do.
KHALIFA: When you look at the mountains, you think that they are standing still. But they are moving, like the clouds. Such is the manufacture of GOD, who perfected everything. He is fully Cognizant of everything you do.

৮৮। তুমি কি পর্বতমালাকে দেখে মনে কর যে তারা দৃঢ়ভাবে প্রোথিত ৩৩১৮ ? কিন্তু [ সেদিন ] তারা হবে মেঘের ন্যায় সঞ্চারণশীল। [ এরূপই ] হচ্ছে আল্লাহ্‌র শিল্প-নৈপুণ্য , যিনি প্রতিটি জিনিষকে করেছেন সুসম ৩৩১৯। তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে নিশ্চয়ই তিনি জ্ঞাত।

৩৩১৮। পৃথিবীর বর্তমান অবস্থানে মনে হয় পর্বত সমূহ অটল, অচল, অনন্তকালব্যপী যার স্থায়ীত্ব। কিন্তু কেয়ামতের দিনে যখন নূতন পৃথিবীর সৃষ্টি হবে, এই পর্বত সমূহের অস্তিত্ব তখন থাকবে না। মেঘের মত তারা সঞ্চারমান হবে। এই আয়াতে পর্বতের উপমাকে ব্যবহার করা হয়েছে মিথ্যা মূল্যবোধ ও প্রকৃত মূল্যবোধকে বোঝানোর জন্য। পৃথিবীর জীবনে যে সব মূল্যবোধ বা সংস্কৃতি বা আচার অনুষ্ঠানকে মনে হয় পর্বতের ন্যায় দৃঢ় , অটল এবং অপরিবর্তনীয় , পরলোকে যখন প্রকৃত মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠিত করা হবে তখন পার্থিব সেই অটল অনড় মূল্যবোধ মিথ্যা বলে প্রতিপন্ন হবে। পর্বত যেরূপ মেঘের ন্যায় হাল্‌কা হয়ে উড়ে যাবে ঠিক সেরূপ মিথ্যা মূল্যবোধের পরলোকে কোনও অস্তিত্বই থাকবে না। তা শুধু কল্পনায় পর্যবেসিত হবে।

সূরা নমল

৩৩১৯। “Atqana” অর্থ সুবিন্যস্ত করা , শিল্প সম্মতভাবে সাজানো যেনো সর্বোচ্চ সফলতা লাভ করা যায়। বর্তমান পৃথিবী এবং ভবিষ্যতের পরলোকের জগৎ সব কিছুই এক সুনির্দ্দিষ্ট লক্ষ্যের প্রতি নিবেদিত। আল্লাহ্‌র পরিকল্পনায় ইহকাল ও পরকালের জীবনের আছে এক সুনির্দ্দিষ্ট লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য। আল্লাহ্‌র পরিকল্পনায় সকল কিছু সুবিন্যস্ত ও শিল্প সম্মত।

আমাদের সকল কর্মকান্ড সম্বন্ধে আল্লাহ্‌ জ্ঞাত , আমাদের সকল কর্ম, কর্মের উদ্দেশ্য, সকল চিন্তা ভাবনা , আমাদের প্রয়োজন সব সেই সর্বশক্তিমান জানেন এবং সে ভাবেই সকল কিছুকে তিনি বিন্যস্ত করেন। বিশ্ব প্রকৃতির সমন্বিত শৃঙ্খলা সেই বিশ্ব স্রষ্টার শিল্প সত্তার প্রকাশ মাত্র। যে তা অনুভবে সক্ষম সে কি তাঁর প্রশংসা না করে পারে ?

যে কেউ সৎকর্ম নিয়ে আসবে, সে উৎকৃষ্টতর প্রতিদান পাবে এবং সেদিন তারা গুরুতর অস্থিরতা থেকে নিরাপদ থাকবে।
Whoever brings a good deed (i.e. Belief in the Oneness of Allâh along with every deed of righteousness), will have better than its worth, and they will be safe from the terror on that Day.

مَن جَاء بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ خَيْرٌ مِّنْهَا وَهُم مِّن فَزَعٍ يَوْمَئِذٍ آمِنُونَ
Man jaa bialhasanati falahu khayrun minha wahum min fazaAAin yawma-ithin aminoona

YUSUFALI: If any do good, good will (accrue) to them therefrom; and they will be secure from terror that Day.
PICKTHAL: Whoso bringeth a good deed will have better than its worth; and such are safe from fear that Day.
SHAKIR: Whoever brings good, he shall have better than it; and they shall be secure from terror on the day.
KHALIFA: Those who bring good works (in their records) will receive far better rewards, and they will be perfectly secure from the horrors of that day.

৮৯। যদি কেউ ভালো কাজ করে , [ স্বাভাবিকভাবে ] তা থেকে ভালো ফল উৎপন্ন করবে, এবং তারা সেদিনের আতঙ্ক থেকে নিরাপদ থাকবে।

৯০। এবং কেউ যদি মন্দ কাজ করে , তবে তাকে অধোমুখ করে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে ৩৩২০। [ বলা হবে ] : ” তোমরা যা করতে তারই প্রতিফল তোমাদের দেয়া হচ্ছে। ” ৩৩২১

৩৩২০। ‘অধোমুখে’ অর্থাৎ মুখ নীচুদিক করে বা মুখ নীচু ও পা উপরে। শব্দটি প্রতীক অর্থে ব্যবহৃত। পাপী বা যারা পৃথিবীতে অসৎকর্ম করবে, তাদের সর্বোচ্চ পাপ কাজকে সর্বপ্রথম দোযখে নিক্ষেপ করা হবে। সম্ভবতঃ তাদের যা নিয়ে ছিলো অহংকার , গর্ব , আত্মম্ভরিতা , যে কর্মকে তারা পৃথিবীতে সর্বোচ্চ সম্মান মনে করতো সেই কর্মের ফলকেই সর্বপ্রথম আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। অর্থাৎ তাদের ধারণায় জাগতিক সর্বোচ্চ সম্মানের কর্ম, পরলোকে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট কর্মরূপে পরিগণিত হবে। তাদের এই অসৎ কর্মগুলি পৃথিবীতে তাদের নিকট মনে হয়েছিলো আকর্ষণীয়।

৩৩২১। ‘তোমরা যা করতে’ – অর্থাৎ তোমাদের পৃথিবীর জীবনের কর্মদ্বারাই তোমাদের বিচার হবে। পৃথিবীর জীবন পরকালের জীবনের জন্য ” শিক্ষানবীশ কাল” মাত্র। এই জীবনে যে তার চরিত্রকে [ Conduct of life] পূত পবিত্র রাখতে পারে এবং আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য সৎ কাজ করতে পারে সেই তো সফলকাম। যে যতটুকু পাপ করবে সে ততটুকুই শাস্তি পাবে – এই আল্লাহ্‌র বিধান।

এবং যে মন্দ কাজ নিয়ে আসবে, তাকে অগ্নিতে অধঃমূখে নিক্ষেপ করা হবে। তোমরা যা করছিলে, তারই প্রতিফল তোমরা পাবে।
And whoever brings an evil (deed) (i.e. Shirk polytheism, disbelief in the Oneness of Allâh and every evil sinful deed), they will be cast down (prone) on their faces in the Fire. (And it will be said to them) ”Are you being recompensed anything except what you used to do?”

وَمَن جَاء بِالسَّيِّئَةِ فَكُبَّتْ وُجُوهُهُمْ فِي النَّارِ هَلْ تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
Waman jaa bialssayyi-ati fakubbat wujoohuhum fee alnnari hal tujzawna illa ma kuntum taAAmaloona

YUSUFALI: And if any do evil, their faces will be thrown headlong into the Fire: “Do ye receive a reward other than that which ye have earned by your deeds?”
PICKTHAL: And whoso bringeth an ill-deed, such will be flung down on their faces in the Fire. Are ye rewarded aught save what ye did?
SHAKIR: And whoever brings evil, these shall be thrown down on their faces into the fire; shall you be rewarded (for) aught except what you did?
KHALIFA: As for those who bring evil works, they will be forced into Hell. Do you not get requited for what you did?

৮৯। যদি কেউ ভালো কাজ করে , [ স্বাভাবিকভাবে ] তা থেকে ভালো ফল উৎপন্ন করবে, এবং তারা সেদিনের আতঙ্ক থেকে নিরাপদ থাকবে।

৯০। এবং কেউ যদি মন্দ কাজ করে , তবে তাকে অধোমুখ করে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে ৩৩২০। [ বলা হবে ] : ” তোমরা যা করতে তারই প্রতিফল তোমাদের দেয়া হচ্ছে। ” ৩৩২১

৩৩২০। ‘অধোমুখে’ অর্থাৎ মুখ নীচুদিক করে বা মুখ নীচু ও পা উপরে। শব্দটি প্রতীক অর্থে ব্যবহৃত। পাপী বা যারা পৃথিবীতে অসৎকর্ম করবে, তাদের সর্বোচ্চ পাপ কাজকে সর্বপ্রথম দোযখে নিক্ষেপ করা হবে। সম্ভবতঃ তাদের যা নিয়ে ছিলো অহংকার , গর্ব , আত্মম্ভরিতা , যে কর্মকে তারা পৃথিবীতে সর্বোচ্চ সম্মান মনে করতো সেই কর্মের ফলকেই সর্বপ্রথম আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। অর্থাৎ তাদের ধারণায় জাগতিক সর্বোচ্চ সম্মানের কর্ম, পরলোকে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট কর্মরূপে পরিগণিত হবে। তাদের এই অসৎ কর্মগুলি পৃথিবীতে তাদের নিকট মনে হয়েছিলো আকর্ষণীয়।

৩৩২১। ‘তোমরা যা করতে’ – অর্থাৎ তোমাদের পৃথিবীর জীবনের কর্মদ্বারাই তোমাদের বিচার হবে। পৃথিবীর জীবন পরকালের জীবনের জন্য ” শিক্ষানবীশ কাল” মাত্র। এই জীবনে যে তার চরিত্রকে [ Conduct of life] পূত পবিত্র রাখতে পারে এবং আল্লাহ্‌র

আমি তো কেবল এই নগরীর প্রভুর এবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি, যিনি একে সম্মানিত করেছেন। এবং সব কিছু তাঁরই। আমি আরও আদিষ্ট হয়েছি যেন আমি আজ্ঞাবহদের একজন হই।
I (Muhammad SAW) have been commanded only to worship the Lord of this city (Makkah), Him Who has sanctified it and His is everything. And I am commanded to be from among the Muslims (those who submit to Allâh in Islâm).

إِنَّمَا أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ رَبَّ هَذِهِ الْبَلْدَةِ الَّذِي حَرَّمَهَا وَلَهُ كُلُّ شَيْءٍ وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ
Innama omirtu an aAAbuda rabba hathihi albaldati allathee harramaha walahu kullu shay-in waomirtu an akoona mina almuslimeena

YUSUFALI: For me, I have been commanded to serve the Lord of this city, Him Who has sanctified it and to Whom (belong) all things: and I am commanded to be of those who bow in Islam to Allah’s Will,-
PICKTHAL: (Say): I (Muhammad) am commanded only to serve the Lord of this land which He hath hallowed, and unto Whom all things belong. And I am commanded to be of those who surrender (unto Him),
SHAKIR: I am commanded only that I should serve the Lord of this city, Who has made it sacred, and His are all things; and I am commanded that I should be of these who submit;
KHALIFA: I am simply commanded to worship the Lord of this town – He has made it a safe sanctuary – and He possesses all things. I am commanded to be a submitter.

৯১। আমাকে এই নগরীর প্রভুকে এবাদত করতে আদেশ দেয়া হয়েছে। যিনি ইহাকে পবিত্র করেছেন এবং সকল কিছুই তাঁর [ অধিকারে ]। এবং আদেশ করা হয়েছে যেনো আমি আল্লাহ্‌র ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পনকারী ইসলামে অন্তর্ভুক্ত হই।

৯২। এবং [ আরও আদিষ্ট হয়েছি ] কুর-আন আবৃত্তি করতে। যদি কেউ নির্দ্দেশ গ্রহণ করে সে তা করে নিজের আত্মার কল্যাণের জন্য। এবং কেউ যদি পথভ্রষ্ট হয় তবে বল, ” আমি তো কেবলমাত্র একজন সর্তককারী।”

৯৩। এবং বল, ” সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌রই নিশ্চয়ই তিনি শীঘ্রই তোমাদের তাঁর নিদর্শন দেখাবেন , যেনো তোমরা তা চিনতে পার। এবং তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে তোমার প্রভু অমনোযোগী নন ৩৩২৫।

৩৩২৫। ইসলাম প্রচারের প্রথম যুগে নবী [সা ] ও তাঁর অনুসারীদের যে অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দ্দশা, মানসিক যন্ত্রণা, অমানবিক নির্যাতন , অত্যাচার ও নির্বাসন ভোগ করতে হয়েছে আল্লাহ্‌ সব জ্ঞাত আছেন। মহাকালের গর্ভে কিছুই হারায় না – তাদের কষ্ট ও সহিষ্ণুতার জন্য আল্লাহ্‌ তাদের পুরষ্কৃত করবেন। আল্লাহ্‌র এই আশ্বাস সর্বসাধারণের জন্য। যারাই আল্লাহ্‌র কাজে নিজেকে নিয়োজিত করবে এবং সে কারণে দুঃখ দুর্দ্দশা কষ্ট সহ্য করবে , তাদের ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতার পুরষ্কার তাঁরা পাবেন।

এবং যেন আমি কোরআন পাঠ করে শোনাই। পর যে ব্যক্তি সৎপথে চলে, সে নিজের কল্যাণার্থেই সৎপথে চলে এবং কেউ পথভ্রষ্ট হলে আপনি বলে দিন, আমি তো কেবল একজন ভীতি প্রদর্শনকারী।
And to recite the Qur’ân, so whosoever receives guidance, receives it for the good of his ownself, and whosoever goes astray, say (to him): ”I am only one of the warners.”

وَأَنْ أَتْلُوَ الْقُرْآنَ فَمَنِ اهْتَدَى فَإِنَّمَا يَهْتَدِي لِنَفْسِهِ وَمَن ضَلَّ فَقُلْ إِنَّمَا أَنَا مِنَ الْمُنذِرِينَ
Waan atluwa alqur-ana famani ihtada fa-innama yahtadee linafsihi waman dalla faqul innama ana mina almunthireena

YUSUFALI: And to rehearse the Qur’an: and if any accept guidance, they do it for the good of their own souls, and if any stray, say: “I am only a Warner”.
PICKTHAL: And to recite the Qur’an. And whoso goeth right, goeth right only for (the good of) his own soul; and as for him who goeth astray – (Unto him) say: Lo! I am only a warner.
SHAKIR: And that I should recite the Quran. Therefore whoever goes aright, he goes aright for his own soul, and whoever goes ‘ astray, then say: I am only one of the warners.
KHALIFA: And to recite the Quran. Whoever is guided is guided for his own good, and if they go astray, then say, “I am simply a warner.”

৯১। আমাকে এই নগরীর প্রভুকে এবাদত করতে আদেশ দেয়া হয়েছে। যিনি ইহাকে পবিত্র করেছেন এবং সকল কিছুই তাঁর [ অধিকারে ]। এবং আদেশ করা হয়েছে যেনো আমি আল্লাহ্‌র ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পনকারী ইসলামে অন্তর্ভুক্ত হই।

৯২। এবং [ আরও আদিষ্ট হয়েছি ] কুর-আন আবৃত্তি করতে। যদি কেউ নির্দ্দেশ গ্রহণ করে সে তা করে নিজের আত্মার কল্যাণের জন্য। এবং কেউ যদি পথভ্রষ্ট হয় তবে বল, ” আমি তো কেবলমাত্র একজন সর্তককারী।”

৯৩। এবং বল, ” সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌রই নিশ্চয়ই তিনি শীঘ্রই তোমাদের তাঁর নিদর্শন দেখাবেন , যেনো তোমরা তা চিনতে পার। এবং তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে তোমার প্রভু অমনোযোগী নন ৩৩২৫।

৩৩২৫। ইসলাম প্রচারের প্রথম যুগে নবী [সা ] ও তাঁর অনুসারীদের যে অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দ্দশা, মানসিক যন্ত্রণা, অমানবিক নির্যাতন , অত্যাচার ও নির্বাসন ভোগ করতে হয়েছে আল্লাহ্‌ সব জ্ঞাত আছেন। মহাকালের গর্ভে কিছুই হারায় না – তাদের কষ্ট ও সহিষ্ণুতার জন্য আল্লাহ্‌ তাদের পুরষ্কৃত করবেন। আল্লাহ্‌র এই আশ্বাস সর্বসাধারণের জন্য। যারাই আল্লাহ্‌র কাজে নিজেকে নিয়োজিত করবে এবং সে কারণে দুঃখ দুর্দ্দশা কষ্ট সহ্য করবে , তাদের ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতার পুরষ্কার তাঁরা পাবেন।

এবং আরও বলুন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। সত্বরই তিনি তাঁর নিদর্শনসমূহ তোমাদেরকে দেখাবেন। তখন তোমরা তা চিনতে পারবে। এবং তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে আপনার পালনকর্তা গাফেল নন।
And say [(O Muhammad SAW) to these polytheists and pagans etc.]: ”All the praises and thanks be to Allâh. He will show you His Ayât (signs, in yourselves, and in the universe or punishments, etc.), and you shall recognise them. And your Lord is not unaware of what you do.”

وَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ سَيُرِيكُمْ آيَاتِهِ فَتَعْرِفُونَهَا وَمَا رَبُّكَ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ
Waquli alhamdu lillahi sayureekum ayatihi fataAArifoonaha wama rabbuka bighafilin AAamma taAAmaloona

YUSUFALI: And say: “Praise be to Allah, Who will soon show you His Signs, so that ye shall know them”; and thy Lord is not unmindful of all that ye do.
PICKTHAL: And say: Praise be to Allah Who will show you His portents so that ye shall know them. And thy Lord is not unaware of what ye (mortals) do.
SHAKIR: And say: Praise be to Allah, He will show you His signs so that you shall recognize them; nor is your Lord heedless of what you do.
KHALIFA: And say, “Praise be to GOD; He will show you His proofs, until you recognize them. Your Lord is never unaware of anything you do.”

৯১। আমাকে এই নগরীর প্রভুকে এবাদত করতে আদেশ দেয়া হয়েছে। যিনি ইহাকে পবিত্র করেছেন এবং সকল কিছুই তাঁর [ অধিকারে ]। এবং আদেশ করা হয়েছে যেনো আমি আল্লাহ্‌র ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পনকারী ইসলামে অন্তর্ভুক্ত হই।

৯২। এবং [ আরও আদিষ্ট হয়েছি ] কুর-আন আবৃত্তি করতে। যদি কেউ নির্দ্দেশ গ্রহণ করে সে তা করে নিজের আত্মার কল্যাণের জন্য। এবং কেউ যদি পথভ্রষ্ট হয় তবে বল, ” আমি তো কেবলমাত্র একজন সর্তককারী।”

৯৩। এবং বল, ” সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌রই নিশ্চয়ই তিনি শীঘ্রই তোমাদের তাঁর নিদর্শন দেখাবেন , যেনো তোমরা তা চিনতে পার। এবং তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে তোমার প্রভু অমনোযোগী নন ৩৩২৫।

৩৩২৫। ইসলাম প্রচারের প্রথম যুগে নবী [সা ] ও তাঁর অনুসারীদের যে অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দ্দশা, মানসিক যন্ত্রণা, অমানবিক নির্যাতন , অত্যাচার ও নির্বাসন ভোগ করতে হয়েছে আল্লাহ্‌ সব জ্ঞাত আছেন। মহাকালের গর্ভে কিছুই হারায় না – তাদের কষ্ট ও সহিষ্ণুতার জন্য আল্লাহ্‌ তাদের পুরষ্কৃত করবেন। আল্লাহ্‌র এই আশ্বাস সর্বসাধারণের জন্য। যারাই আল্লাহ্‌র কাজে নিজেকে নিয়োজিত করবে এবং সে কারণে দুঃখ দুর্দ্দশা কষ্ট সহ্য করবে , তাদের ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতার পুরষ্কার তাঁরা পাবেন।

আরও দেখুন :

Leave a Comment