সূরা বাকারা আয়াত ১২৬ | সূরা বাকারা [ গাভী কুরবানী] সূরা নং ২ । মাদানী সূরা । আল কুরআন

সূরা বাকারা আয়াত ১২৬  ,আল বাকারা (আরবি ভাষায়: سورة البقرة) মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের দ্বিতীয় সূরা, এর আয়াত সংখ্যা ২৮৬ টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ৪০ টি। আল বাকারা সূরাটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে।

সূরা বাকারা আয়াত ১২৬

সূরা বাকারা আয়াত ১২৬
সূরা বাকারা আয়াত ১২৬

সূরা বাকারা

যখন ইব্রাহীম বললেন, পরওয়ারদেগার! এ স্থানকে তুমি শান্তিধান কর এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা অল্লাহ ও কিয়ামতে বিশ্বাস করে, তাদেরকে ফলের দ্বারা রিযিক দান কর। বললেনঃ যারা অবিশ্বাস করে, আমি তাদেরও কিছুদিন ফায়দা ভোগ করার সুযোগ দেব, অতঃপর তাদেরকে বলপ্রয়োগে দোযখের আযাবে ঠেলে দেবো; সেটা নিকৃষ্ট বাসস্থান।

And (remember) when Ibrâhim (Abraham) said, ”My Lord, make this city (Makkah) a place of security and provide its people with fruits, such of them as believe in Allâh and the Last Day.” He (Allâh) answered: ”As for him who disbelieves, I shall leave him in contentment for a while, then I shall compel him to the torment of the Fire, and worst indeed is that destination!”

وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَـَذَا بَلَدًا آمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ آمَنَ مِنْهُم بِاللّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ قَالَ وَمَن كَفَرَ فَأُمَتِّعُهُ قَلِيلاً ثُمَّ أَضْطَرُّهُ إِلَى عَذَابِ النَّارِ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ

Wa-ith qala ibraheemu rabbi ijAAal hatha baladan aminan waorzuq ahlahu mina alththamarati man amana minhum biAllahi waalyawmi al-akhiri qala waman kafara faomattiAAuhu qaleelan thumma adtarruhu ila AAathabi alnnari wabi/sa almaseeru

সূরা বাকারা আয়াত ১২৬
সূরা বাকারা আয়াত ১২৬

YUSUFALI: And remember Abraham said: “My Lord, make this a City of Peace, and feed its people with fruits,-such of them as believe in Allah and the Last Day.” He said: “(Yea), and such as reject Faith,-for a while will I grant them their pleasure, but will soon drive them to the torment of Fire,- an evil destination (indeed)!”

PICKTHAL: And when Abraham prayed: My Lord! Make this a region of security and bestow upon its people fruits, such of them as believe in Allah and the Last Day, He answered: As for him who disbelieveth, I shall leave him in contentment for a while, then I shall compel him to the doom of Fire – a hapless journey’s end!

SHAKIR: And when Ibrahim said: My Lord, make it a secure town and provide its people with fruits, such of them as believe in Allah and the last day. He said: And whoever disbelieves, I will grant him enjoyment for a short while, then I will drive him to the chastisement of the fire; and it is an evil destination.

KHALIFA: Abraham prayed: “My Lord, make this a peaceful land, and provide its people with fruits. Provide for those who believe in GOD and the Last Day.” (God) said, “I will also provide for those who disbelieve. I will let them enjoy, temporarily, then commit them to the retribution of Hell, and a miserable destiny.”

সূরা বাকারা আয়াত ১২৬
সূরা বাকারা আয়াত ১২৬

১২৬। এবং স্মরণ কর, ইব্রাহীম বলেছিলো, ‘হে আমার প্রভু ইহাকে শান্তির শহরে পরিণত করে দিও ১২৭; এবং এদের মধ্যে যারা আল্লাহ্‌ এবং পরকালে বিশ্বাস করে তাদের ফলমূল থেকে জীবিকা প্রদান করো’ ১২৮। তিনি বললেন, ‘[হ্যাঁ] এবং যারা ঈমানকে প্রত্যাখান করবে, তাদেরকেও কিছুকালের জন্য সুখ ভোগ করতে দেবো। কিন্তু শীঘ্রই তাদের আগুনের শাস্তির দিকে তাড়িত করা হবে-[প্রকৃতই] উহা কত নিকৃষ্ট পরিণাম।’

১২৭। মূল শব্দ ‘সালাম’। ইসলাম অর্থ ‘শান্তি’। হযরত ইব্রাহীম (আঃ) হেরেমকে শান্তির স্থলরূপে বানানোর জন্য প্রার্থনা করেন। ইসলামে হেরেমকে শান্তির শহর বলা হয়, কারণ এখানে কাবা গৃহ অবস্থিত। ইহুদীরাও জেরুজালেমকে তাদের ‘শান্তির শহর’ বলে। আয়াত [২:১৩৪, ১৪১] থেকে বোঝা যায় যে পুরনো দিন গত। সুতরাং মক্কা হবে নূতন ‘জেরুজালেম’ বা বলা যায় হযরত ইব্রাহীমের সেই ‘শান্তির আলয়’ যার জন্য হযরত ইব্রাহীম প্রার্থনা করেছিলেন। এখন থেকে হেরেম শরীফ ও কাবা ঘর হবে বিশ্ব মানবের মিলন কেন্দ্র।

আত্মিক শান্তির আশ্রয়স্থল। হেরেমের শান্তির স্থল হওয়ার বিধান হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর দোয়ারই ফলশ্রুতি যা জাহিলিয়ত যুগ থেকে কার্যকর রয়েছে। ইসলাম ও কুরআন এগুলোকে অধিকতর সুসংহত ও বিকশিত করেছে। মোটকথা হযরত ইব্রাহীমের দোয়া অনুযায়ী আল্লাহ্‌ তায়ালা শহরটিকে প্রাকৃতিক দিক থেকেও সারা বিশ্বের জন্য শান্তির আলয়ে পরিণত করে দিয়েছেন।

১২৮। হযরত ইব্রাহীমের দোয়া ছিল এই যে, এ শহরের উপজীবিকা হিসেবে যেন ফল-মূল দান করা হয়। মক্কা মুকাররমা ও পার্শ্ববর্তী ভূমি কোনরূপ বাগ-বাগিচার উপযোগী ছিল না। দূর-দূরান্তর পর্যন্ত ছিল না পানির নিশানা। কিন্তু আল্লাহ্‌ তায়ালা ইব্রাহীমের দোয়া কবুল করেন এবং ফলে মক্কার অদূরে তায়েফ হয়ে উঠে সুজলা-সুফলা শস্য শ্যামলা।

এখানে হযরত ইব্রাহীমের দোয়া থেকে মনে হয় তাঁর দোয়ায় সবটুকুই ছিল তাঁর বংশধরদের জাগতিক সুখ ও স্বাচ্ছন্দের নিশ্চয়তার জন্য। আক্ষরিকভাবে এর অর্থ তাই-ই দাঁড়ায়। কিন্তু আয়াতটির দিকে লক্ষ্য করলেই দেখা যায় হযরত ইব্রাহীমের প্রার্থনা ছিল পূণ্যাত্মাদের জন্য যারা খোদভীরু তাদের জন্য আল্লাহ্‌র নিয়ামত বা [ফল] অর্থাৎ আধ্যাত্মিক জীবনে আত্মার বিকাশ লাভের জন্য আল্লাহর নিয়ামত প্রার্থনা করা হয়েছে। আক্ষরিক অর্থে-আল্লাহ্‌র উত্তর হচ্ছে যারা ‘অবিশ্বাসী তাদের জন্যও জীবন উপভোগের সুযোগ দেওয়া হবে’।

সূরা বাকারা আয়াত ১২৬
সূরা বাকারা আয়াত ১২৬

এর রূপক অর্থ এই যে এই পৃথিবীতে পূণ্যাত্মা ও অবিশ্বাসী সবার জন্যই আল্লাহ্‌র রহমত বর্ষিত হয়। কারণ আল্লাহ্‌ রাহমানুর রহিম। কিন্তু আল্লাহ্‌র রহমতে বিশ্বাসীদের জন্য ইহকালে ও পরকালে সুখ ও শান্তি বয়ে আনে, কিন্তু অবিশ্বাসীদের জন্য শেষ পর্যন্ত এর কোন সুফল নাই।

[আল্লাহ্‌ আমাদের যে নৈতিক গুণাবলী অর্জন করতে বলেছেন তা না করে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে অন্যায়, অসত্যের, মিথ্যা ঘুষ, জোচ্চুরীর আশ্রয় নিয়েছে যার ফলাফল আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে ও জাতীয় জীবনে ছাপ ফেলেছে। একথা পৃথিবীর সব মানুষ সব জাতির জন্যই প্রযোজ্য ছিল অতীতে। প্রযোজ্য থাকবে বর্তমানে আরও থাকবে ভবিষ্যতে। কোরআনের এই বাণী শাশ্বত সর্বকালের, সর্বযুগের।

আরও দেখুনঃ 

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । [ গাভী কুরবানী] সূরা নং ২ । পবিত্র কুরআন ।

সূরা বাকারা পর্ব ৩ । সূচি । [ গাভী কুরবানী] সূরা নং ২ । পবিত্র কুরআন ।

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি । [ গাভী কুরবানী ] সূরা নং ২ । পবিত্র কুরআন ।

সূরা বাকারা পর্ব ১ । সূচি । [ গাভী কুরবানী ] সূরা নং ২ । পবিত্র কুরআন ।

নাপাকি এবং নাপাকি থেকে পবিত্রতা অর্জনের উপায়

 

Leave a Comment