সূরা বাকারা আয়াত ২৫ | সূরা বাকারা [ গাভী কুরবানী ] সূরা নং ২ । মাদানী সূরা । আল কুরআন

সূরা বাকারা আয়াত ২৫: আল বাকারা (আরবি ভাষায়: سورة البقرة) মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের দ্বিতীয় সূরা, এর আয়াত সংখ্যা ২৮৬ টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ৪০ টি। আল বাকারা সূরাটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে।

সূরা বাকারা আয়াত ২৫

সূরা বাকারা আয়াত ২৫
সূরা বাকারা আয়াত ২৫

সূরা বাকারা আয়াত ২৫

আর হে নবী (সাঃ), যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজসমূহ করেছে, আপনি তাদেরকে এমন বেহেশতের সুসংবাদ দিন, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহমান থাকবে। যখনই তারা খাবার হিসেবে কোন ফল প্রাপ্ত হবে, তখনই তারা বলবে, এতো অবিকল সে ফলই যা আমরা ইতিপূর্বেও লাভ করেছিলাম। বস্তুতঃ তাদেরকে একই প্রকৃতির ফল প্রদান করা হবে। এবং সেখানে তাদের জন্য শুদ্ধচারিনী রমণীকূল থাকবে। আর সেখানে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে।

And give glad tidings to those who believe and do righteous good deeds, that for them will be Gardens under which rivers flow (Paradise). Every time they will be provided with a fruit therefrom, they will say: ”This is what we were provided with before,” and they will be given things in resemblance (i.e. in the same form but different in taste) and they shall have therein Azwâjun Mutahharatun (purified mates or wives), (having no menses, stools, urine, etc.) and they will abide therein forever.

وَبَشِّرِ الَّذِين آمَنُواْ وَعَمِلُواْ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ كُلَّمَا رُزِقُواْ مِنْهَا مِن ثَمَرَةٍ رِّزْقاً قَالُواْ هَـذَا الَّذِي رُزِقْنَا مِن قَبْلُ وَأُتُواْ بِهِ مُتَشَابِهاً وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ وَهُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
Wabashshiri allatheena amanoo waAAamiloo alssalihati anna lahum jannatin tajree min tahtiha al-anharu kullama ruziqoo minha min thamaratin rizqan qaloo hatha allathee ruziqna min qablu waotoo bihi mutashabihan walahum feeha azwajun mutahharatun wahum feeha khalidoona

সূরা বাকারা আয়াত ২৫
সূরা বাকারা আয়াত ২৫

YUSUFALI: But give glad tidings to those who believe and work righteousness, that their portion is Gardens, beneath which rivers flow. Every time they are fed with fruits therefrom, they say: “Why, this is what we were fed with before,” for they are given things in similitude; and they have therein companions pure (and holy); and they abide therein (for ever).

PICKTHAL: And give glad tidings (O Muhammad) unto those who believe and do good works; that theirs are Gardens underneath which rivers flow; as often as they are regaled with food of the fruit thereof, they say: this is what was given us aforetime; and it is given to them in resemblance. There for them are pure companions; there for ever they abide.

SHAKIR: And convey good news to those who believe and do good deeds, that they shall have gardens in which rivers flow; whenever they shall be given a portion of the fruit thereof, they shall say: This is what was given to us before; and they shall be given the like of it, and they shall have pure mates in them, and in them, they shall abide.

KHALIFA: Give good news to those who believe and lead a righteous life that they will have gardens with flowing streams. When provided with a provision of fruits therein, they will say, “This is what was provided for us previously.” Thus, they are given allegorical descriptions. They will have pure spouses therein, and they abide therein forever.

২৫। যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে তাদের শুভ সংবাদ দাও বেহেশ্‌তের অংশীদার হিসেবে, যার পাদদেশে প্রবাহিত হয় নদী। প্রত্যেক সময়ে যখন তাদের ফলমূল খেতে দেয়া হবে, তারা বলবে, ‘কেন, এটাতো সে রকমই যা আমাদের পূর্বে খাওয়ানো হয়েছিলো।’ কারণ তাদের অনুরূপ ফলই দেয়া হবে। সেখানে তাদের দেয়া হবে পবিত্র সাথী ৪৪; সেখানে তারা [অনন্তকাল] থাকবে।
সূরা বাকারা আয়াত ২৫
সূরা বাকারা আয়াত ২৫

৪৪। এই আয়াতটি উপরের আয়াতের বিপরীত ভাব প্রকাশ করে। দোযখের শাস্তির প্রতীক হচ্ছে আগুন, বেহেশ্‌তের শান্তির প্রতীক হচ্ছে বাগান। এখানে প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে কারণ বেহেশ্‌তের শান্তি ও দোযখের শাস্তি এই পৃথিবীতে বসে কল্পনা করাও সম্ভব নয়। যখন কল্পনা বাস্তবকে অতিক্রম করে যায় তখন তা প্রকাশের ভাষা হয় একমাত্র প্রতীক। ছবির মত প্রাকৃতিক পরিবেশে বিচরণ, অবস্থান, উপভোগ সবই অত্যন্ত আরামদায়ক, শান্তিদায়ক। সেই কারণে বেহেশ্‌তের বর্ণনায় প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলীর ও সৌন্দর্য্যরে অবতারণা করা হয়েছে।

এটা এমন একটা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের আঁধার যা ভাষায় বর্ণনা করা দুঃসাধ্য। স্বচ্ছ সলিল ধারণ করে স্রোতস্বিনী ছোট নদী বয়ে যাচ্ছে একপাশ দিয়ে। তার পানি স্ফটিকের মত স্বচ্ছ যা সূর্য ও চন্দ্রালোককে প্রতিফলিত করে। সাজানো ফুল ও ফলের বাগান। বনতল ফুলে ফুলে ছাওয়া। ফলভারে গাছ অবনত।

আর এসব ফল হবে প্রত্যেকের পছন্দের প্রতীক। এখানে ফল কথাটি প্রতীকধর্মী। পার্থিব জীবনে এই পৃথিবীতে আমরা যেসব ফল খাই, তার স্বাদ আমাদের করে তৃপ্ত। বিভিন্ন ফলের বিভিন্ন স্বাদ, বিভিন্ন গন্ধ। বেহেশ্‌তী ফলকে এখানে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আত্মত্যাগ ও ভাল কাজের পরে আমাদের আত্মায় এক স্বর্গীয় অনুভূতি বিরাজ করে। যে কাজ যত বেশি নিঃস্বার্থ ও আল্লাহ্‌র প্রতি নিবেদিত, তার অনুভূতি তত তীব্র শান্তিদায়ক।

পৃথিবীর গাছের ফলের যেরূপ স্বাদের, গন্ধের ও রূপের তারতম্য আছে, আল্লাহ্‌র প্রতি নিবেদিত নিঃস্বার্থ মহৎ কাজের পরে আত্মার ভিতরের অনুভূতিরও সেরূপ তারতম্য ঘটে। এই তারতম্য ঘটে কাজের তারতম্য অনুযায়ী। ভাল কাজের পর আমরা আমাদের আত্মায় যে সুখ ও শান্তির অনুভূতি লাভ করি একেই বেহেশ্‌তি ‘ফলের’ প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

তার ফলে বেহেশ্‌তে যে ‘ফল’ আমরা ভোগ করবো তার রূপ, রস, গন্ধ, অনুভূতি সবই হবে পৃথিবীতে [নিঃস্বার্থ, আল্লাহ্‌র প্রতি নিবেদিত ভাল কাজের ফল] ভোগ করা সুখ-শান্তির অনুভূতি ফলেরই অনুরূপ। মনে হবে এ ফল তো আমরা আগেও ভোগ করেছি। অর্থাৎ ভাল কাজের পর যে স্বর্গীয় অনুভূতি সেই অনুভূতিরই অনুভব। তবে তার তীব্রতা হবে আরও গভীর, আরও সুন্দর। আত্মার অন্তঃস্থল তার পরশে হবে পুলকিত, শিহরিত, শান্ত। আত্মায় লাভ করবে অপার শান্তি। এর কারণ পূর্বেই পৃথিবীতে আমাদের সেই অভিজ্ঞতা লাভ হয়েছে।

মৃত্যুর সাথে সাথে আমাদের এই মরদেহের বিনাশ ঘটে, কিন্তু এই দেহের মাধ্যমে পৃথিবীতে আমরা যে অভিজ্ঞতা লাভ করি, মৃত্যুর পরেও আত্মা সেই অভিজ্ঞতা বহন করে পরকালের যাত্রা শুরু করে। অর্থাৎ ভাল কাজের শেষে যে স্বর্গীয় অনুভূতি বা শান্তি আর মন্দ কাজের শেষে আত্মার যন্ত্রণা বা অস্থিরতা এই অভিজ্ঞতা মৃত্যুর পরেও আমরা বহন করে নিয়ে যাব পরলোকে। পৃথিবীর অভিজ্ঞতা পরকালে বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এই অভিজ্ঞতাকেই ‘ফলের’ প্রতীকের সাহায্যে প্রকাশ করা হয়েছে।

সূরা বাকারা আয়াত ২৫
সূরা বাকারা আয়াত ২৫

বেহেশ্‌তের বর্ণনায় এর পরে এসেছে সঙ্গীর কথা। অনেকেই এই কথাটাকে স্থুলভাবে যৌনসঙ্গী রূপে প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এখানে ‘মুতাহ্‌হারাতুন’ শব্দটির দ্বারা বুঝানো হয়েছে সেই সব সঙ্গী যারা পূত ও পবিত্র। এই শব্দটির দ্বারা যে পবিত্রতা বুঝাতে চাওয়া হয়েছে তা হবে সর্বোচ্চ।

অনেকে এভাবে তফসীর করেছেন যে তারা হবে পবিত্র কারণ তারা মল-মূত্র ত্যাগ করবে না বা তাদের মাসিক হবে না। অর্থাৎ মাসিক কথাটির দ্বারা তারা বুঝাতে চাচ্ছেন সে সঙ্গীরা সবাই স্ত্রী ধর্মী। কিন্তু সঙ্গী অর্থ শুধু মেয়ে নয়। এখানে সঙ্গী কথাটি দ্বারা ‘আত্মার সঙ্গী’ এ কথাটাকেই বোঝানো হয়েছে। নশ্বর দেহ-মিলনে যে সঙ্গ-সুখ তা ক্ষণস্থায়ী, তা স্থুল, তা জৈব। এই স্থুল সঙ্গ-সুখ পেতে হলে লিঙ্গের প্রয়োজন। যৌন সঙ্গীর প্রয়োজন।

কিন্তু মরদেহ ত্যাগ করে যে অবিনশ্বর ও চিরঞ্জীব আত্মা থাকে তার কোনও লিঙ্গ নাই। সে পুরুষও নয়, মেয়েও নয়। পুত-পবিত্র আত্মারা হবে পরস্পরের সঙ্গী। এই প্রেম হবে দেহাতীত। পৃথিবীর প্রেমের যে অনুভূতি তার থেকে এর অনুভূতি হবে বহুগুণ তীব্র। এর যে শান্তি তা হবে স্থায়ী। পৃথিবীর মত তা ক্ষণস্থায়ী হবে না।

আরও দেখুনঃ 

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি । [ গাভী কুরবানী ] সূরা নং ২ । পবিত্র কুরআন ।

সূরা বাকারা পর্ব ১ । সূচি । [ গাভী কুরবানী ] সূরা নং ২ । পবিত্র কুরআন ।

নাপাকি এবং নাপাকি থেকে পবিত্রতা অর্জনের উপায়

 

Leave a Comment