সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি । [ গাভী কুরবানী ]সূরা নং ২ । মাদানী সূরা । আল কুরআন

সূরা বাকারা পর্ব ২ ,আল বাকারা (আরবি ভাষায়: سورة البقرة) মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের দ্বিতীয় সূরা, এর আয়াত সংখ্যা ২৮৬ টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ৪০ টি। আল বাকারা সূরাটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে।

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি ।
সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি ।

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি (আয়াত ২৭)

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি ।(আয়াত ২৮)

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি ।(আয়াত ২৯)

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি। (আয়াত ৩০)

 

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি ।(আয়াত ৩১)

আর আল্লাহ তা’আলা শিখালেন আদমকে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীর নাম। তারপর সে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন। অতঃপর বললেন, আমাকে তোমরা এগুলোর নাম বলে দাও, যদি তোমরা সত্য হয়ে থাক।

And He taught Adam all the names (of everything) , then He showed them to the angels and said, ”Tell Me the names of these if you are truthful.”

وَعَلَّمَ آدَمَ الأَسْمَاء كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلاَئِكَةِ فَقَالَ أَنبِئُونِي بِأَسْمَاء هَـؤُلاء إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ

WaAAallama adama al-asmaa kullaha thumma AAaradahum AAala almala-ikati faqala anbi-oonee bi-asma-i haola-i in kuntum sadiqeena

YUSUFALI: And He taught Adam the names of all things; then He placed them before the angels, and said: “Tell me the names of these if ye are right.”

PICKTHAL: And He taught Adam all the names, then showed them to the angels, saying: Inform Me of the names of these, if ye are truthful.

SHAKIR: And He taught Adam all the names, then presented them to the angels; then He said: Tell me the names of those if you are right.

KHALIFA: He taught Adam all the names then presented them to the angels, saying, “Give me the names of these, if you are right.”

৩১। আর তিনি আদমকে সকল জিনিসের প্রকৃতি শিক্ষা দেন ৪৮। অতঃপর তিনি সেগুলি ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করেন এবং বলেন, ‘এগুলির প্রকৃতি সম্বন্ধে আমাকে বল, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।’

৪৮। এই আয়াতের তর্জমা এরকম দাঁড়ায় যে, ‘বস্তুর প্রকৃতি শিক্ষা দেন’ অনুবাদেকরা একে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে বস্তুসামগ্রীর নাম, এদের গুণাগুণ ও লক্ষনাদি সম্পর্কে জ্ঞান লাভের যোগ্যতা।

অর্থাৎ একমাত্র আদমই সেই বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন যার সাহায্যে মানুষ জড় প্রকৃতিকে অতিক্রম করে তার প্রকৃত সত্তাকে উদ্‌ঘাটনে সক্ষম হবে। এ যোগ্যতা কেবলমাত্র আদম সন্তানকেই দেয়া হয়েছে।

ফেরেশতাদের স্বভাব প্রকৃতি মোটেই এর উপযোগী নয়। এসব কিছুই আদমকে তার স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ধর্ম হিসেবেই শিখিয়ে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ বাহ্যিকভাবে শিক্ষাদানের কোনও আয়োজনই করা হয় নাই।

বরং আদম (আঃ) কে সৃষ্টির প্রারম্ভিক পর্যায়ে এসব জ্ঞান স্বভাবগত করেই দেওয়া হয়েছিল। যেমন-সদ্যজাত শিশু ভূমিষ্ট হওয়ার সাথে সাথেই মায়ের দুধ পান করতে এবং হাঁসের ছানা সাঁতার কাটতে জানে। এ ব্যাপারে কোনও বাহ্যিক প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হয় না। হযরত আদমের (আঃ) জন্য জন্মগতভাবে যে বিশেষ গুণাবলী ছিল, তা হচ্ছে তার আবেগ ও অনুভূতি, যার সাহায্যে তিনি বস্তু জগতের উর্ধ্বেও চিন্তা করতে সক্ষম ছিলেন। সমস্ত আয়াতটাই এক বিশেষ অর্থবোধক।

যে বিশেষ চারিত্রিক গুণাবলীর জন্য আদম সন্তানকে ফেরেশতাদের থেকে পৃথক এবং শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে তা হচ্ছে – ১) মানুষ ভালবাসতে পারে, ২) নিজস্ব ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগে কোনও কাজের পরিকল্পনা করতে পারে, ৩) ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে, ফলে আল্লাহ্‌র প্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা রাখে। মানুষের এই বিশেষ গুণাবলীর জন্যই মানুষ স্রষ্টাকে না দেখেও নিজের সত্ত্বার ভিতরে স্রষ্টার অস্তিত্ব অনুভব করতে পারে।

সে বিশ্বাস করে সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌ আদম সন্তানকে ভালবাসেন। তিনি সর্বজ্ঞ। তিনি সব দেখেন, সব শুনেন। মানুষ তার অন্তরের অন্তঃস্থলের কোনও চিন্তা, কোনও কাজ, কোনও অনুভব, কোনও কিছু তাঁর কাছে গোপন করতে পারে না।

সর্বশক্তিমানের উপর বিশ্বাস, তাঁর প্রতি আনুগত্য, ভালবাসা, সবই জন্মলাভ করে মানুষের সেই বিশেষ চারিত্রিক গুণাবলীর জন্য, আর তা হচ্ছে আবেগ ও অনুভূতি (Feeling)। এই বিশেষ গুণটি অর্থাৎ আবেগ ও অনুভূতি শুধু যে ফেরেশতাদের মধ্যেই অনুপস্থিত তাই নয়, সমগ্র বিশ্ব চরাচরে মানুষ বাদে সমস্ত প্রাণীকূলের মধ্যেও অনুপস্থিত।

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি। (আয়াত ৩২)

তারা বলল, তুমি পবিত্র! আমরা কোন কিছুই জানি না, তবে তুমি যা আমাদিগকে শিখিয়েছ (সেগুলো ব্যতীত) নিশ্চয় তুমিই প্রকৃত জ্ঞানসম্পন্ন, হেকমতওয়ালা।
They (angels) said: ”Glory be to You, we have no knowledge except what you have taught us. Verily, it is You, the All-Knower, the All-Wise.”

قَالُواْ سُبْحَانَكَ لاَ عِلْمَ لَنَا إِلاَّ مَا عَلَّمْتَنَا إِنَّكَ أَنتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ
Qaloo subhanaka la AAilma lana illa ma AAallamtana innaka anta alAAaleemu alhakeemu

YUSUFALI: They said: “Glory to Thee, of knowledge We have none, save what Thou Hast taught us: In truth it is Thou Who art perfect in knowledge and wisdom.”

PICKTHAL: They said: Be glorified! We have no knowledge saving that which Thou hast taught us. Lo! Thou, only Thou, art the Knower, the Wise.

SHAKIR: They said: Glory be to Thee! we have no knowledge but that which Thou hast taught us; surely Thou art the Knowing, the Wise.

KHALIFA: They said, “Be You glorified, we have no knowledge, except that which You have taught us. You are the Omniscient, Most Wise.”

৩২। তারা বলল, ‘আপনি পবিত্র, আপনি যা শিক্ষা দিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের অন্য কোন জ্ঞান নাই। প্রকৃতপক্ষে আপনিই [একমাত্র] জ্ঞানে ও প্রজ্ঞায় পূর্ণাঙ্গ।
৩৩। তিনি বললেন, ‘হে আদম! এগুলির প্রকৃতি সম্বন্ধে বল।

’ যখন সে ফেরেশতাদের তা বলল, আল্লাহ্‌ বললেন, ‘আমি কি তোমাদের বলি নাই যে আমি আকাশ ও পৃথিবীর গোপন রহস্য অবগত, এবং তোমরা যা প্রকাশ কর এবং যা গোপন কর আমি তা [সব] জানি?’

৩৪। এবং স্মরণ কর, আমি ফেরেশতাদের বলেছিলাম, ‘আদমকে সেজ্‌দা কর।’ ইবলীশ ব্যতীত সকলেই সেজ্‌দা করলো ৪৯। সে অমান্য করলো এবং ঔদ্ধত্য প্রকাশ করলো। [ফলে] সে কাফেরদের অন্তুর্ভূক্ত হল।

৪৯। এই আরবী আয়াতের অনুবাদ দাঁড়ায় যে, ‘ইবলীশ ব্যতীত সকলেই সিজ্‌দা করলো।’ এর থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ইব্‌লিশ একজন ফেরেশ্‌তা কিন্তু ফেরেশ্‌তারা পথভ্রষ্ট হবে সে রকম ক্ষমতা তাদের নাই।

মুসলিম দর্শনে তা স্বীকারও করে না। সূরা ১৩ এর আয়াত ৫০-এ ইব্‌লিশকে জ্বীন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আমরা পরে এ সম্বন্ধে আলোচনা করবো।

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি। (আয়াত ৩৩)

তিনি বললেন, হে আদম, ফেরেশতাদেরকে বলে দাও এসবের নাম। তারপর যখন তিনি বলে দিলেন সে সবের নাম, তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি

যে, আমি আসমান ও যমীনের যাবতীয় গোপন বিষয় সম্পর্কে খুব ভাল করেই অবগত রয়েছি? এবং সেসব বিষয়ও জানি যা তোমরা প্রকাশ কর, আর যা তোমরা গোপন কর!

He said: ”O Adam! Inform them of their names,” and when he had informed them of their names, He said: ”Did I not tell you that I know the Ghaib (unseen) in the heavens and the earth, and I know what you reveal and what you have been concealing?”

قَالَ يَا آدَمُ أَنبِئْهُم بِأَسْمَآئِهِمْ فَلَمَّا أَنبَأَهُمْ بِأَسْمَآئِهِمْ قَالَ أَلَمْ أَقُل لَّكُمْ إِنِّي أَعْلَمُ غَيْبَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَأَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا كُنتُمْ تَكْتُمُونَ

Qala ya adamu anbi/hum bi-asma-ihim falamma anbaahum bi-asma-ihim qala alam aqul lakum innee aAAlamu ghayba alssamawati waal-ardi waaAAlamu ma tubdoona wama kuntum taktumoona

YUSUFALI: He said: “O Adam! Tell them their names.” When he had told them, Allah said: “Did I not tell you that I know the secrets of heaven and earth, and I know what ye reveal and what ye conceal?”

PICKTHAL: He said: O Adam! Inform them of their names, and when he had informed them of their names, He said: Did I not tell you that I know the secret of the heavens and the earth? And I know that which ye disclose and which ye hide.

SHAKIR: He said: O Adam! inform them of their names. Then when he had informed them of their names, He said: Did I not say to you that I surely know what is ghaib in the heavens and the earth and (that) I know what you manifest and what you hide?

KHALIFA: He said, “O Adam, tell them their names.” When he told them their names, He said, “Did I not tell you that I know the secrets of the heavens and the earth? I know what you declare, and what you conceal.”

৩২। তারা বলল, ‘আপনি পবিত্র, আপনি যা শিক্ষা দিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের অন্য কোন জ্ঞান নাই। প্রকৃতপক্ষে আপনিই [একমাত্র] জ্ঞানে ও প্রজ্ঞায় পূর্ণাঙ্গ।

৩৩। তিনি বললেন, ‘হে আদম! এগুলির প্রকৃতি সম্বন্ধে বল।’ যখন সে ফেরেশতাদের তা বলল, আল্লাহ্‌ বললেন, ‘আমি কি তোমাদের বলি নাই যে আমি আকাশ ও পৃথিবীর গোপন রহস্য অবগত, এবং তোমরা যা প্রকাশ কর এবং যা গোপন কর আমি তা [সব] জানি?’

৩৪। এবং স্মরণ কর, আমি ফেরেশতাদের বলেছিলাম, ‘আদমকে সেজ্‌দা কর।’ ইবলীশ ব্যতীত সকলেই সেজ্‌দা করলো ৪৯। সে অমান্য করলো এবং ঔদ্ধত্য প্রকাশ করলো। [ফলে] সে কাফেরদের অন্তুর্ভূক্ত হল।

৪৯। এই আরবী আয়াতের অনুবাদ দাঁড়ায় যে, ‘ইবলীশ ব্যতীত সকলেই সিজ্‌দা করলো।’ এর থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ইব্‌লিশ একজন ফেরেশ্‌তা কিন্তু ফেরেশ্‌তারা পথভ্রষ্ট হবে সে রকম ক্ষমতা তাদের নাই। মুসলিম দর্শনে তা স্বীকারও করে না। সূরা

১৩ এর আয়াত ৫০-এ ইব্‌লিশকে জ্বীন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আমরা পরে এ সম্বন্ধে আলোচনা করবো।

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি। (আয়াত ৩৪)

এবং যখন আমি হযরত আদম (আঃ)-কে সেজদা করার জন্য ফেরেশতাগণকে নির্দেশ দিলাম, তখনই ইবলীস ব্যতীত সবাই সিজদা করলো। সে (নির্দেশ) পালন করতে অস্বীকার করল এবং অহংকার প্রদর্শন করল। ফলে সে কাফেরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেল।

And (remember) when We said to the angels: ”Prostrate yourselves before Adam.”. And they prostrated except Iblîs (Satan), he refused and was proud and was one of the disbelievers (disobedient to Allâh).

وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلاَئِكَةِ اسْجُدُواْ لآدَمَ فَسَجَدُواْ إِلاَّ إِبْلِيسَ أَبَى وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ
Wa-ith qulna lilmala-ikati osjudoo li-adama fasajadoo illa ibleesa aba waistakbara wakana mina alkafireena

YUSUFALI: And behold, We said to the angels: “Bow down to Adam” and they bowed down. Not so Iblis: he refused and was haughty: He was of those who reject Faith.

PICKTHAL: And when We said unto the angels: Prostrate yourselves before Adam, they fell prostrate, all save Iblis. He demurred through pride, and so became a disbeliever.

SHAKIR: And when We said to the angels: Make obeisance to Adam they did obeisance, but Iblis (did it not). He refused and he was proud, and he was one of the unbelievers.

KHALIFA: When we said to the angels, “Fall prostrate before Adam,” they fell prostrate, except Satan; he refused, was too arrogant, and a disbeliever.

৩২। তারা বলল, ‘আপনি পবিত্র, আপনি যা শিক্ষা দিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের অন্য কোন জ্ঞান নাই। প্রকৃতপক্ষে আপনিই [একমাত্র] জ্ঞানে ও প্রজ্ঞায় পূর্ণাঙ্গ।৩৩। তিনি বললেন, ‘হে আদম! এগুলির প্রকৃতি সম্বন্ধে বল।’ যখন সে ফেরেশতাদের তা বলল, আল্লাহ্‌ বললেন, ‘আমি কি তোমাদের বলি নাই যে আমি আকাশ ও পৃথিবীর গোপন রহস্য অবগত, এবং তোমরা যা প্রকাশ কর এবং যা গোপন কর আমি তা [সব] জানি?’

৩৪। এবং স্মরণ কর, আমি ফেরেশতাদের বলেছিলাম, ‘আদমকে সেজ্‌দা কর।’ ইবলীশ ব্যতীত সকলেই সেজ্‌দা করলো ৪৯। সে অমান্য করলো এবং ঔদ্ধত্য প্রকাশ করলো। [ফলে] সে কাফেরদের অন্তুর্ভূক্ত হল।

৪৯। এই আরবী আয়াতের অনুবাদ দাঁড়ায় যে, ‘ইবলীশ ব্যতীত সকলেই সিজ্‌দা করলো।’ এর থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ইব্‌লিশ একজন ফেরেশ্‌তা কিন্তু ফেরেশ্‌তারা পথভ্রষ্ট হবে সে রকম ক্ষমতা তাদের নাই। মুসলিম দর্শনে তা স্বীকারও করে না। সূরা ১৩ এর আয়াত ৫০-এ ইব্‌লিশকে জ্বীন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আমরা পরে এ সম্বন্ধে আলোচনা করবো।

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি। (আয়াত ৩৫)

এবং আমি আদমকে হুকুম করলাম যে, তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করতে থাক এবং ওখানে যা চাও, যেখান থেকে চাও, পরিতৃপ্তিসহ খেতে থাক, কিন্তু এ গাছের নিকটবর্তী হয়ো না। অন্যথায় তোমরা যালিমদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে পড়বে।

And We said: ”O Adam! Dwell you and your wife in the Paradise and eat both of you freely with pleasure and delight of things therein as wherever you will, but come not near this tree or you both will be of the Zâlimûn (wrong-doers).”

وَقُلْنَا يَا آدَمُ اسْكُنْ أَنتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ وَكُلاَ مِنْهَا رَغَداً حَيْثُ شِئْتُمَا وَلاَ تَقْرَبَا هَـذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ الْظَّالِمِينَ
Waqulna ya adamu oskun anta wazawjuka aljannata wakula minha raghadan haythu shi/tuma wala taqraba hathihi alshshajarata fatakoona mina alththalimeena

YUSUFALI: We said: “O Adam! dwell thou and thy wife in the Garden; and eat of the bountiful things therein as (where and when) ye will; but approach not this tree, or ye run into harm and transgression.”

PICKTHAL: And We said: O Adam! Dwell thou and thy wife in the Garden, and eat ye freely (of the fruits) thereof where ye will; but come not nigh this tree lest ye become wrong-doers.

SHAKIR: And We said: O Adam! Dwell you and your wife in the garden and eat from it a plenteous (food) wherever you wish and do not approach this tree, for then you will be of the unjust.

KHALIFA: We said, “O Adam, live with your wife in Paradise, and eat therefrom generously, as you please, but do not approach this tree, lest you sin.”

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি ।
সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি ।
৩৫। আমি বললাম, ‘হে আদম! তুমি এবং তোমার স্ত্রী বেহেশ্‌তে বসবাস কর ৫০। এবং [যেখানে এবং যখন খুশী] স্বচ্ছন্দের সাথে আহার কর। কিন্তু এই গাছের নিকটবর্তী হয়ো না; তাহলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভূক্ত হবে ৫১।

৫০। প্রশ্ন হচ্ছে বেহেশ্‌তের বাগানের অবস্থান কি আমাদের পৃথিবীতেই ছিল কি না? অবশ্যই না। কারণ ৩৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে যে, ‘পৃথিবী হবে তোমাদের বাসস্থান।’

পৃথিবীতে পতনের পূর্বে আদমের অবস্থান এমন এক জায়গায় ছিল যেখানে নির্মল হৃদয়ে বিরাজ করতো অপার শান্তি, নির্মল ভালবাসা, বিশ্বাস, আত্মার ভিতরে আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাসের অপূর্ব আনুগত্য। আর পৃথিবী এমন এক জায়গা যেখানে প্রতি নিয়ত যে পরিবেশ বিরাজ করে তা কখনই বেহেশ্‌তের উপযোগী নয়।

পৃথিবীতে বিরাজ করে পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস, শত্রুতা, হিংসা-বিদ্বেষ, পরশ্রীকাতরতা। এখানে প্রতিনিয়ত স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাসের অভাব পরিলক্ষিত হয়।

সুতরাং যারা বলে আদমের স্বর্গ পৃথিবীরই কোনও এক জায়গা তারা ভুল বলে। কারণ হয়তো স্বর্গ এমন এক জায়গা যেখানে আত্মার অবস্থান হবে স্থান ও কালের (Time & space) এর উর্ধ্বে। খ্রীষ্টানরা বলে আদমের স্বর্গ থেকে পতনের কারণ আদমের ‘জ্ঞান বৃক্ষের’ নিকট গমন এবং এর ফল ভক্ষণ।

কিন্তু তা যুক্তিগ্রাহ্য হতে পারে না। কারণ আল্লাহ্‌ ফেরেশতাদের বলেছেন [২ : ৩১] যে মানুষকে তিনি জ্ঞান দান করেছেন, যা ফেরেশতাদের নাই। সুতরাং মানুষের মধ্যে যে জ্ঞান ধারণের ক্ষমতা বা বিকাশ তা স্রষ্টা মানুষ সৃষ্টির সময়েই দান করেছেন।

তাহলে কুরআন শরীফে যে বৃক্ষের নিকট আদম সন্তানকে অগ্রসর হতে নিষেধ করা হয়েছিল তা কি? তা অবশ্যই পাপ বৃক্ষ [Tree of evil]। আর এটা পাপ বৃক্ষ বলেই আল্লাহ্‌ শুধু যে এর ফল খেতে নিষেধ করেছেন তা নয়; এমনকি এর ধারে কাছে যেতেও নিষেধ করেছেন।

৫১। ‘জুল্‌ম’ আরবী শব্দটি বহুবিদ অর্থ করা যায়। এর দ্বারা ভুল, অন্যায়, ক্ষতি ইত্যাদি বুঝায়। যখন অন্যের প্রতি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল বা ক্ষতি করা হয় তখন তা অত্যাচার বা নিষ্পেষণে পরিণত হয়, তখন পাপবোধ অত্যাচারীর আত্মাকে অন্ধকারে আচ্ছন্ন করে ফেলে। সুতরাং পাপী ব্যক্তি তার আত্মাকে ‘জুল্‌ম’ করে।

আত্মার যা স্বাভাবিক বিকাশ তা বাধাগ্রস্থ হয়। স্বাভাবিকভাবে আত্মা হচ্ছে পূত, পবিত্র ও নিষ্পাপ। সৃষ্টির আদিতে আত্মার পরিচয় হচ্ছে স্বর্গীয়; শান্তিতে আপ্লুত কিন্তু কৃত পাপ তার আত্মাকে অন্ধকারে বা যন্ত্রণায় নিক্ষিপ্ত করে। ফলে আত্মার মধ্যে শান্তির পরিবর্তে যন্ত্রণার উদ্ভব হয় ‘জুল্‌ম’ এই শব্দটির দ্বারা আত্মার স্বাভাবিক গতির বিরুদ্ধাচরণ করা বুঝানো হয়েছে।

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি।(আয়াত ৩৬)

অনন্তর শয়তান তাদের উভয়কে ওখান থেকে পদস্খলিত করেছিল। পরে তারা যে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে ছিল তা থেকে তাদেরকে বের করে দিল এবং আমি বললাম, তোমরা নেমে যাও। তোমরা পরস্পর একে অপরের শক্র হবে এবং তোমাদেরকে সেখানে কিছুকাল অবস্থান করতে হবে ও লাভ সংগ্রহ করতে হবে।

Then the Shaitân (Satan) made them slip therefrom (the Paradise), and got them out from that in which they were. We said: ”Get you down, all, with enmity between yourselves. On earth will be a dwelling place for you and an enjoyment for a time.”

فَأَزَلَّهُمَا الشَّيْطَانُ عَنْهَا فَأَخْرَجَهُمَا مِمَّا كَانَا فِيهِ وَقُلْنَا اهْبِطُواْ بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ وَلَكُمْ فِي الأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ إِلَى حِينٍ

Faazallahuma alshshaytanu AAanha faakhrajahuma mimma kana feehi waqulna ihbitoo baAAdukum libaAAdin AAaduwwun walakum fee al-ardi mustaqarrun wamataAAun ila heenin

YUSUFALI: Then did Satan make them slip from the (garden), and get them out of the state (of felicity) in which they had been. We said: “Get ye down, all (ye people), with enmity between yourselves. On earth will be your dwelling-place and your means of livelihood – for a time.”

PICKTHAL: But Satan caused them to deflect therefrom and expelled them from the (happy) state in which they were; and We said: Fall down, one of you a foe unto the other! There shall be for you on earth a habitation and provision for a time.

SHAKIR: But the Shaitan made them both fall from it, and caused them to depart from that (state) in which they were; and We said: Get forth, some of you being the enemies of others, and there is for you in the earth an abode and a provision for a time.

KHALIFA: But the devil duped them, and caused their eviction therefrom. We said, “Go down as enemies of one another. On Earth shall be your habitation and provision for awhile.”

৩৬। অতঃপর শয়তান ৫২ তাদের [বেহেশত থেকে] পদস্খলন ঘটালো এবং তাদের [সুখ-শান্তির] অবস্থান থেকে বের করে দিল। আমি বললাম, ‘তোমরা সকলে পরস্পরের শত্রু হিসেবে নেমে যাও ৫৩। পৃথিবীতে কিছু কালের জন্য তোমাদের বসবাস ও জীবিকা রইল’ ৫৪।

৫২। [২ : ৩৪]-এ ‘ইব্‌লিশ’ এই কথাটির দ্বারা দুষ্টের বা শয়তানের ক্ষমতাকে (Power of Evil) বুঝানো হয়েছে। শয়তানের ক্ষমতা হচ্ছে ভালকে অবদমিত করার চেষ্টা ও শত্রুতা। ভালোর বিরুদ্ধে মন্দের বিদ্রোহ করা ও ভালোকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা, এই-ই হচ্ছে শয়তানের ক্ষমতা ও কার্যপ্রণালী।

এখানে বেহেশ্‌তের বাগান থেকে পতনকে রূপক অর্থে প্রকাশ করলে আমরা আমাদের চারিপাশের পৃথিবীতে এর অসংখ্য উদাহরণই দেখতে পাই। পৃথিবীর মানুষ প্রতিনিয়ত লোভ-প্রলোভন বা শয়তানের কুমন্ত্রণার কাছে পরাজিত হচ্ছে।

ফলে ধীরে ধীরে সে আত্মার নিষ্পাপ অবস্থা যা সৃষ্টির আদিতে সে স্রষ্টার কাছে থেকে লাভ করেছিল, যার ফলে তার নির্মল আত্মায় অপার বেহেশতি শান্তি বিরাজ করতো সেই মানসিক অবস্থা থেকে বিচ্যুত হয়। লোভ-প্রলোভন, অন্যায় অত্যাচারের ফলে আত্মার শান্তি হয় বিঘ্নিত। আত্মা হয় মানসিক যন্ত্রণায় ক্ষত-বিক্ষত ও জর্জরিত।

রূপক অর্থে আমাদের মানসিক শান্তিময় অবস্থা [State of Felicity] থেকে শয়তানের ক্ষমতার কাছে আত্মসমর্পণ করাই হচ্ছে বেহেশ্‌ত থেকে পৃথিবীতে পতন যা অহরহ-ই আমাদের চারিপাশে ঘটে।

৫৩। মানুষ সৎ কাজের ফলে আত্মায় বেহেশ্‌তের শান্তি অনুভব করে, অসৎ কাজের ফল হচ্ছে দোযখের যন্ত্রণা। এই যন্ত্রনা হয় আত্মায়। এখানে আদম অর্থ মানব সম্প্রদায়কে বুঝানো হচ্ছে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই আদম সন্তান।

এখানে আদম, ইভ, শয়তান সবাইকে পরস্পরের শত্রু হিসেবে বলা হয়েছে। অর্থাৎ শয়তানের প্রলোভনই হচ্ছে মানুষের শত্রু, আত্মার যন্ত্রণা।

৫৪। পৃথিবীর আবাসস্থল মানব সন্তানের জন্য অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী। এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে অবস্থানকালে আদম সন্তানকে তার জীবিকার জন্য তার বাঁচার জন্য অহরহ সংগ্রাম করতে হবে-এইই আল্লাহ্‌র হুকুম। সংগ্রামী জীবনের মাধ্যমেই তাকে বেঁচে থাকতে হবে এবং এর মাধ্যমেই ভালোকে গ্রহণ করে, মন্দকে প্রতিহত করে আত্মাকে বেহেশ্‌তের উপযোগী করতে হবে। পৃথিবীতে তাঁর বেঁচে থাকার সংগ্রাম হচ্ছে আত্মিক এবাদতের এবং আত্মিক উন্নতির এক অপরিহার্য অংশ।

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি। (আয়াত ৩৭)

অতঃপর হযরত আদম (আঃ) স্বীয় পালনকর্তার কাছ থেকে কয়েকটি কথা শিখে নিলেন, অতঃপর আল্লাহ পাক তাঁর প্রতি (করুণাভরে) লক্ষ্য করলেন। নিশ্চয়ই তিনি মহা-ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু।

Then Adam received from his Lord Words . And his Lord pardoned him (accepted his repentance). Verily, He is the One Who forgives (accepts repentance), the Most Merciful.

فَتَلَقَّى آدَمُ مِن رَّبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
Fatalaqqa adamu min rabbihi kalimatin fataba AAalayhi innahu huwa alttawwabu alrraheemu

YUSUFALI: Then learnt Adam from his Lord words of inspiration, and his Lord Turned towards him; for He is Oft-Returning, Most Merciful.

PICKTHAL: Then Adam received from his Lord words (of revelation), and He relented toward him. Lo! He is the relenting, the Merciful.

SHAKIR: Then Adam received (some) words from his Lord, so He turned to him mercifully; surely He is Oft-returning (to mercy), the Merciful.

KHALIFA: Then, Adam received from his Lord words, whereby He redeemed him. He is the Redeemer, Most Merciful.

৩৭। অতঃপর আদম তার প্রভুর নিকট থেকে প্রত্যাদেশের বাণী প্রাপ্ত হলো ৫৫। এবং আল্লাহ্‌ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।

৫৫। ৩১ নং আয়াতে ‘আল্লাহ্‌ সকল জিনিসের প্রকৃতি শিক্ষা দিলেন’ বলা হয়েছে। এই ‘সকল জিনিষের প্রকৃতি হচ্ছে বস্তুর ধর্ম। ঠিক সেইভাবে এখানে আল্লাহ্‌র কাছ থেকে ‘প্রত্যাদেশের বাণী পেল অর্থাৎ প্রত্যাদেশ বা আধ্যাত্মিক’ জ্ঞান লাভ করলো।

কারণ কোনও জ্ঞান শিখতে হলে তার নিজস্ব চেষ্টায় শিখতে হয়। কিন্তু প্রত্যাদেশ বা আধ্যাত্মিক জ্ঞান যা আল্লাহ্‌র অসীম রহমত বা করুণার প্রতীক যা নদীর ফল্গুধারার মত স্বতঃপ্রবাহিত। হযরত আদম (আঃ) আল্লাহ্‌র কাছ থেকে সেই অসীম রহমতেরই সন্ধান পেয়েছিলেন।

আরবীতে অনুতাপ [তওবা] কথাটির অর্থ ফিরিয়া আসা এবং ‘তওয়াফ’ কথাটির ব্যবহার হয়েছে আল্লাহ্‌র কাছে কৃত পাপের ক্ষমা চাওয়া হিসেবে। কারণ আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল ও দয়ালু (Oft-returning Or Ever returning)। ক্ষমা চাওয়ার পূর্বশর্ত হচ্ছে কৃত পাপের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করা। অনুতাপ তিনটি ধাপের সমন্বয়ে গঠিত।

প্রথমতঃ পাপী ব্যক্তি তার কৃত পাপকে সনাক্ত করবে। দ্বিতীয়তঃ সেই পাপ কাজকে শুধু সনাক্ত করলেই হবে না তা পরিত্যাগ করতে হবে। তৃতীয়তঃ ভবিষ্যতেও সে সেই মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকবে এই মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা ও দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করা। এই তিনটি ধাপের সমন্বয়ই হচ্ছে অনুতাপ করা।

এই তিনটি ধাপের যে কোনও একটির অভাব থাকলে তওবা হবে না। অর্থাৎ অতীতের পাপকে সনাক্ত করা, বর্তমানে তা পরিহার করা এবং ভবিষ্যতে তা না করার সংকল্প গ্রহণ করা-এই তিনটি জিনিসের সমাবেশ না ঘটা পর্যন্ত তওবা হবে না।

এরপরে আসে অতীতের কৃত পাপের জন্য ক্ষমা চাওয়া। মানুষ অত্যন্ত দুর্বল চরিত্রের। সে বার বার ভুল করে এবং বার বার আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা চায়। যতক্ষণ পর্যন্ত তার ক্ষমা চাওয়া হয় আন্তরিক এবং সত্যিকারের, আল্লাহ্‌ অসীম করুণার অধিকারী, রহমানুর রহীম এবং ক্ষমাশীল। একমাত্র তাঁর করুণাই আমাদের দোষত্রুটি মুক্ত হতে সাহায্য করে।

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি। (আয়াত ৩৮)

আমি হুকুম করলাম, তোমরা সবাই নীচে নেমে যাও। অতঃপর যদি তোমাদের নিকট আমার পক্ষ থেকে কোন হেদায়েত পৌঁছে, তবে যে ব্যক্তি আমার সে হেদায়েত অনুসারে চলবে, তার উপর না কোন ভয় আসবে, না (কোন কারণে) তারা চিন্তাগ্রস্ত ও সন্তপ্ত হবে।

We said: ”Get down all of you from this place (the Paradise), then whenever there comes to you Guidance from Me, and whoever follows My Guidance, there shall be no fear on them, nor shall they grieve.

قُلْنَا اهْبِطُواْ مِنْهَا جَمِيعاً فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُم مِّنِّي هُدًى فَمَن تَبِعَ هُدَايَ فَلاَ خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلاَ هُمْ يَحْزَنُونَ
Qulna ihbitoo minha jameeAAan fa-imma ya/tiyannakum minnee hudan faman tabiAAa hudaya fala khawfun AAalayhim wala hum yahzanoona

YUSUFALI: We said: “Get ye down all from here; and if, as is sure, there comes to you Guidance from me, whosoever follows My guidance, on them shall be no fear, nor shall they grieve.

PICKTHAL: We said: Go down, all of you, from hence; but verily there cometh unto you from Me a guidance; and whoso followeth My guidance, there shall no fear come upon them neither shall they grieve.

SHAKIR: We said: Go forth from this (state) all; so surely there will come to you a guidance from Me, then whoever follows My guidance, no fear shall come upon them, nor shall they grieve.

KHALIFA: We said, “Go down therefrom, all of you. When guidance comes to you from Me, those who follow My guidance will have no fear, nor will they grieve.

৩৮। আমরা বললাম, ‘তোমরা সকলে এই স্থান থেকে নেমে যাও। অবশ্যই [সেখানে] যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট সৎপথের নির্দেশ আসবে ৫৬, তখন যারা আমার সৎপথের নির্দেশ অনুসরণ করবে, তাদের কোন ভয় নাই, তারা দুঃখিতও হবে না।

৫৬। লক্ষ্য করুন এই আয়াতটি শুরু হয়েছে বহুবচন ‘আমরা’ দিয়ে এবং শেষে একবচন ‘আমার’ ব্যবহার করা হয়েছে। কুরআন শরীফের বহুস্থানে আল্লাহ্‌ নিজেকে প্রথম পুরুষ বহুবচন ‘আমরা’ ব্যবহার করেছেন।

কারণ এটা ব্যবহার হয়েছে সম্মানীয় অর্থে। এরকম ব্যবহার জনসাধারণের জন্য রাজকীয় হুকুম জারীর মধ্যেও করা হয়ে থাকে। ঠিক সে রকমভাবেই আদম, ইভ, শয়তানের জন্য যা সাধারণ হুকুম তা প্রকাশ করার জন্য সম্মানীয় আল্লাহ্‌র হুকুমকে বহুবচনের ব্যবহার করা হয়েছে; যেমন-‘আমরা বললাম, তোমরা এখান থেকে নেমে যাও।’

কিন্তু স্রষ্টা যখন ব্যক্তিগতভাবে কারও প্রতি করুণা প্রকাশ করেছেন তখন নিজেকে বহুবচনের পরিবর্তে একবচনের ব্যবহার করেছেন। যেমন, ‘যারা আমার সৎ পথের নির্দেশ অনুসরণ করবে, তাদের কোন ভয় নাই।’

এই আয়াতে মানুষের অধঃপতন সত্ত্বেও আদম সন্তানকে আল্লাহ্‌ সুন্দরতম জীবনের, তাঁর করুণাধারা, তাঁর ক্ষমার আশ্বাস দিয়েছেন। আশ্বাস দিয়েছেন পথের নিশানার। যদি মানব জাতি তার নির্দেশিত পথ অনুসরণ করে, তবে মহান স্রষ্টা আমাদের আশ্বাস দিচ্ছেন যে আমাদের কোনও ভয় নাই, পৃথিবীর কোন ব্যাথা, গ্লানি আমাদের আত্মাকে স্পর্শ করবে না।

আমাদের পার্থিব জীবন হবে শান্তিময় এবং পারলৌকিক জীবন হবে ঐশ্বর্যময়। কারণ আল্লাহ্‌র নির্দেশিত পথে চলার ফলে আত্মার যাত্রা শুরু হবে পরমাত্মার দিকে। পরমাত্মার সান্নিধ্যই আত্মার একমাত্র কাম্য। ফলে মহান স্রষ্টার করুণায় আত্মা হয় বিধৌত, আপ্লুত।

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি। (আয়াত ৩৯)

আর যে লোক তা অস্বীকার করবে এবং আমার নিদর্শনগুলোকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার প্রয়াস পাবে, তারাই হবে জাহান্নামবাসী; অন্তকাল সেখানে থাকবে।

But those who disbelieve and belie Our Ayât (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.) such are the dwellers of the Fire, they shall abide therein forever.

وَالَّذِينَ كَفَرواْ وَكَذَّبُواْ بِآيَاتِنَا أُولَـئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
Waallatheena kafaroo wakaththaboo bi-ayatina ola-ika as-habu alnnari hum feeha khalidoona

YUSUFALI: “But those who reject Faith and belie Our Signs, they shall be companions of the Fire; they shall abide therein.”

PICKTHAL: But they who disbelieve, and deny Our revelations, such are rightful Peoples of the Fire. They will abide therein.

SHAKIR: And (as to) those who disbelieve in and reject My communications, they are the inmates of the fire, in it they shall abide.

KHALIFA: “As for those who disbelieve and reject our revelations, they will be dwellers of Hell, wherein they abide forever.”

৩৯। ‘কিন্তু যারা ঈমানকে প্রত্যাখ্যান করবে এবং আমার আয়াত সমূহ মিথ্যা প্রতিপন্ন করে [লাগামহীন জীবন যাপন করবে], তারা অবশ্যই আগুনের অধিবাসী হবে। সেখানে তারা চিরদিন থাকবে।’ ৫৭

৫৭। কিন্তু যখন মানব সন্তান আল্লাহ্‌র নির্দেশিত পথ ত্যাগ করে, তখন সে আত্মার জন্য স্বর্গীয় আলো প্রবেশে পথ বন্ধ করে দেয়। এভাবে সে ক্রমাগত আল্লাহ্‌র নির্দেশিত পথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার ফলে তার আত্মায় আল্লাহ্‌র রহমত ও হেদায়েতের আলো পৌঁছাতে পারে না।

ইচ্ছাকৃতভাবে স্রষ্টার নির্দেশিত পথকে উপক্ষো করার ফলে আত্মা তার পবিত্রতা হারায়, ফলে আত্মা অন্ধকারে আবৃত হয়ে যায় এবং আত্মার মধ্যে যন্ত্রণার উদ্ভব হয়। আল্লাহ্‌র নির্দেশিত পথ হচ্ছে সৎ জীবন যাপন করা। সৎ জীবন যাপনের মাধ্যমে আত্মিক শক্তির উদ্ভব হয়। আত্মার মধ্যে আল্লাহ্‌র সান্নিধ্য লাভ করা যায়।

ফলে হৃদয় হয় আলোকিত। অর্থাৎ সৎ জীবন যাপনের ফলে আত্মায় বিভিন্ন গুণরাজির জন্ম নেয়। এই গুণরাজিই হচ্ছে আল্লাহ্‌র নেয়ামত। ফলে মানুষ আত্মার মধ্যে শান্তি লাভ করে।

কিন্তু যে ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহ্‌র প্রদর্শিত পথ পরিহার করে, তার হৃদয় ভয়, ভীতি, আশঙ্কায় পূর্ণ হয়ে যায়। হৃদয়ের মধ্যে আল্লাহ্‌র সান্নিধ্য অনুভব করতে সে হয় ব্যর্থ-ফলে তার হৃদয় সর্বদা থাকে শঙ্কিত, ভীত। এর ফলে জন্ম নেয় অনিশ্চয়তা এবং এক ধরণের আত্মিক যন্ত্রণা।

আত্মার এই যন্ত্রণাকেই [Spiritual Fire] দোযখের আগুন বলা হয়েছে একং তারা এই আগুনে চিরদিন থাকবে।

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি। (আয়াত ৪০)

হে বনী-ইসরাঈলগণ, তোমরা স্মরণ কর আমার সে অনুগ্রহ যা আমি তোমাদের প্রতি করেছি এবং তোমরা পূরণ কর আমার সাথে কৃত প্রতিজ্ঞা, তাহলে আমি তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ করব। আর ভয় কর আমাকেই।

O Children of Israel! Remember My Favour which I bestowed upon you, and fulfill (your obligations to) My Covenant (with you) so that I fulfill (My Obligations to) your covenant (with Me), and fear none but Me.

يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُواْ نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَوْفُواْ بِعَهْدِي أُوفِ بِعَهْدِكُمْ وَإِيَّايَ فَارْهَبُونِ
Ya banee isra-eela othkuroo niAAmatiya allatee anAAamtu AAalaykum waawfoo biAAahdee oofi biAAahdikum wa-iyyaya fairhabooni

YUSUFALI: O Children of Israel! call to mind the (special) favour which I bestowed upon you, and fulfil your covenant with Me as I fulfil My Covenant with you, and fear none but Me.

PICKTHAL: O Children of Israel! Remember My favour wherewith I favoured you, and fulfil your (part of the) covenant, I shall fulfil My (part of the) covenant, and fear Me.

SHAKIR: O children of Israel! call to mind My favor which I bestowed on you and be faithful to (your) covenant with Me, I will fulfill (My) covenant with you; and of Me, Me alone, should you be afraid.

KHALIFA: O Children of Israel, remember My favor, which I bestowed upon you, and fulfill your part of the covenant, that I fulfill My part of the covenant, and reverence Me.

রুকু – ৫

৪০। হে বণী ইসরাঈল! স্মরণ কর সেই [বিশেষ] অনুগ্রহ যা আমি তোমাদের দান করেছিলাম, এবং আমার সাথে কৃত তোমাদের অঙ্গীকার পূরণ কর ৫৮। আমিও তোমাদের সাথে আমার অঙ্গীকার পূরণ করবো। আর আমাকে ছাড়া আর কাউকে ভয় করবে না।

৫৮। আল্লাহ্‌ এখানে ইসরাঈলীদের প্রতি তাঁর অনুকম্পাসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। আল্লাহ্‌ বলেছেন যে তিনি তাদের মিশরীয় দাসত্ব থেকে মুক্ত করে দুধ ও মধুতে ভরা ক্যানান দেশে স্বাধীনভাবে বাঁচার সুযোগ করে দিয়েছেন। আল্লাহ্‌ বলেছেন, ‘আমি আমার চুক্তি পালন করেছি, তোমরা তোমাদের চুক্তি পালন কর।’

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি। (আয়াত ৪১)

আর তোমরা সে গ্রন্থের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, যা আমি অবতীর্ণ করেছি সত্যবক্তা হিসেবে তোমাদের কাছে। বস্তুতঃ তোমরা তার প্রাথমিক অস্বীকারকারী হয়ো না আর আমার আয়াতের অল্প মূল্য দিও না। এবং আমার (আযাব) থেকে বাঁচ।

And believe in what I have sent down (this Qur’ân), confirming that which is with you, [the Taurât (Torah) and the Injeel (Gospel)], and be not the first to disbelieve therein, and buy [get (ÊÇÎÐ ÇÌÑÇ)] not with My Verses [the Taurât (Torah) and the Injeel (Gospel)] a small price (i.e. getting a small gain by selling My Verses), and fear Me and Me Alone. (Tafsir At-Tabarî, Vol. I, Page 253).

وَآمِنُواْ بِمَا أَنزَلْتُ مُصَدِّقاً لِّمَا مَعَكُمْ وَلاَ تَكُونُواْ أَوَّلَ كَافِرٍ بِهِ وَلاَ تَشْتَرُواْ بِآيَاتِي ثَمَناً قَلِيلاً وَإِيَّايَ فَاتَّقُونِ
Waaminoo bima anzaltu musaddiqan lima maAAakum wala takoonoo awwala kafirin bihi wala tashtaroo bi-ayatee thamanan qaleelan wa-iyyaya faittaqooni

YUSUFALI: And believe in what I reveal, confirming the revelation which is with you, and be not the first to reject Faith therein, nor sell My Signs for a small price; and fear Me, and Me alone.

PICKTHAL: And believe in that which I reveal, confirming that which ye possess already (of the Scripture), and be not first to disbelieve therein, and part not with My revelations for a trifling price, and keep your duty unto Me.

SHAKIR: And believe in what I have revealed, verifying that which is with you, and be not the first to deny it, neither take a mean price in exchange for My communications; and Me, Me alone should you fear.

KHALIFA: You shall believe in what I have revealed herein, confirming what you have; do not be the first to reject it. Do not trade away My revelations for a cheap price, and observe Me.

৪১। আমি যা অবতীর্ণ করেছি তাতে বিশ্বাস স্থাপন কর; তোমাদের নিকট যা [যে কিতাব] আছে ইহা তার প্রত্যয়নকারী। আর তোমরাই ঈমানের প্রথম প্রত্যাখ্যানকারী হয়ো না এবং আমার আয়াতকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করোনা। এবং [তোমরা] শুধুমাত্র আমাকেই ভয় কর ৫৯।

৫৯। ইহুদীরা পূর্বেই আল্লাহ্‌র বাণী লাভ করেছে হযরত মুসার মাধ্যমে। সেই বাণীর সমর্থক হিসেবে হযরত মুহম্মদ (দঃ) এর আবির্ভাব। সুতরাং হযরতের (দঃ) কাছে আল্লাহ্‌ যা নাজিল করেছেন তা ইহুদীদের পূর্ব পরিচিত হওয়ার কথা। তবু ইহুদীরাই প্রথম, যারা আল্লাহ্‌র বাণীর বিরুদ্ধাচরণ করেছে।

নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ রক্ষার জন্যই তারা তা করে। কিন্তু আল্লাহ্‌র নির্দেশ তাদের ক্ষুদ্র বিচার-বিবেচনার অনেক উর্ধ্বে। আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ্‌র আয়াতসমূহের বিনিময়ে মূল্য গ্রহণ নিষিদ্ধ হওয়ার অর্থ হলো-মানুষের মর্জি ও স্বার্থের তাগিদে আয়াতসমূহের মর্ম বিকৃত ও ভুলভাবে প্রকাশ করে কিংবা তা গোপন রেখে টাকা-পয়সা, অর্থ-সম্পদ গ্রহণ করা নিষিদ্ধ। এ কাজটি উম্মতের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। তাই সৎ কাজ ও নিজ কর্তব্য সম্বন্ধে নির্দেশ আল্লাহ্‌র কাছ থেকে নিতে হবে।

অর্থাৎ কুরআন শরীফ পড়ে বুঝে সেই অনুযায়ী জীবন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কোনও পুরোহিত (পীর-ফকির-মাজার) বা অমনোনীত ফতোয়াবাজ বা সামাজিক রীতিনীতি বা সামাজিক সংস্কার এ সবের অনুগত হওয়া হারাম

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি। (আয়াত ৪২)

তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না এবং জানা সত্ত্বে সত্যকে তোমরা গোপন করো না।

And mix not truth with falsehood, nor conceal the truth [i.e. Muhammad Peace be upon him is Allâh’s Messenger and his qualities are written in your Scriptures, the Taurât (Torah) and the Injeel (Gospel)] while you know (the truth) .

وَلاَ تَلْبِسُواْ الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُواْ الْحَقَّ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ
Wala talbisoo alhaqqa bialbatili wataktumoo alhaqqa waantum taAAlamoona

YUSUFALI: And cover not Truth with falsehood, nor conceal the Truth when ye know (what it is).

PICKTHAL: Confound not truth with falsehood, nor knowingly conceal the truth.
SHAKIR: And do not mix up the truth with the falsehood, nor hide the truth while you know (it).

KHALIFA: Do not confound the truth with falsehood, nor shall you conceal the truth, knowingly.

৪২। সত্যকে মিথ্যা দ্বারা আবৃত করো না। জেনে শুনে সত্যকে গোপন করো না।
৪৩। এবং তোমরা সালাতে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাক; যাকাত আদায় কর; এবং যারা আমার সামনে মাথা নত করে তাদের সাথে মাথা নত কর [এবাদতের জন্য] ৬০।

৬০। সত্য গোপন করা এবং তাতে সংযোজন ও সংমিশ্রণ করা হারাম। যদিও উপরিউক্ত আয়াত ইহুদীদের সম্বোধন করে নাজিল করা হয়েছে তবুও এর আবেদন সর্বকালের সর্বযুগের, সর্ব জাতির জন্য সর্বাবস্থায় প্রযোজ্য। বাঙালি জাতির এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা কর্তব্য। শ্রোতা ও সম্বোধিত ব্যক্তিকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে বা নিজ কার্য সিদ্ধির উদ্দেশ্যে সত্যকে মিথ্যার সাথে উপস্থাপন করা সম্পূর্ণ না-জায়েজ ও হারাম।

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি ।
সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি ।

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি। (আয়াত ৪৩)

আর নামায কায়েম কর, যাকাত দান কর এবং নামাযে অবনত হও তাদের সাথে, যারা অবনত হয়।
And perform As-Salât (Iqâmat-as-Salât), and give Zakât, and Irka’ (i.e. bow down or submit yourselves with obedience to Allâh) along with Ar­Raki’ûn.

وَأَقِيمُواْ الصَّلاَةَ وَآتُواْ الزَّكَاةَ وَارْكَعُواْ مَعَ الرَّاكِعِينَ
Waaqeemoo alssalata waatoo alzzakata wairkaAAoo maAAa alrrakiAAeena

YUSUFALI: And be steadfast in prayer; practise regular charity; and bow down your heads with those who bow down (in worship).

PICKTHAL: Establish worship, pay the poor-due, and bow your heads with those who bow (in worship).

SHAKIR: And keep up prayer and pay the poor-rate and bow down with those who bow down.

KHALIFA: You shall observe the Contact Prayers (Salat) and give the obligatory charity (Zakat), and bow down with those who bow down.

৪২। সত্যকে মিথ্যা দ্বারা আবৃত করো না। জেনে শুনে সত্যকে গোপন করো না।
৪৩। এবং তোমরা সালাতে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাক; যাকাত আদায় কর; এবং যারা আমার সামনে মাথা নত করে তাদের সাথে মাথা নত কর [এবাদতের জন্য] ৬০।

৬০। সত্য গোপন করা এবং তাতে সংযোজন ও সংমিশ্রণ করা হারাম। যদিও উপরিউক্ত আয়াত ইহুদীদের সম্বোধন করে নাজিল করা হয়েছে তবুও এর আবেদন সর্বকালের সর্বযুগের, সর্ব জাতির জন্য সর্বাবস্থায় প্রযোজ্য।

বাঙালি জাতির এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা কর্তব্য। শ্রোতা ও সম্বোধিত ব্যক্তিকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে বা নিজ কার্য সিদ্ধির উদ্দেশ্যে সত্যকে মিথ্যার সাথে উপস্থাপন করা সম্পূর্ণ না-জায়েজ ও হারাম।

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি। (আয়াত ৪৪)

তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দাও এবং নিজেরা নিজেদেরকে ভূলে যাও, অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর? তবুও কি তোমরা চিন্তা কর না?

Enjoin you Al-Birr (piety and righteousness and each and every act of obedience to Allâh) on the people and you forget (to practise it) yourselves, while you recite the Scripture [the Taurât (Torah)]! Have you then no sense?

أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنسَوْنَ أَنفُسَكُمْ وَأَنتُمْ تَتْلُونَ الْكِتَابَ أَفَلاَ تَعْقِلُونَ
Ata/muroona alnnasa bialbirri watansawna anfusakum waantum tatloona alkitaba afala taAAqiloona

YUSUFALI: Do ye enjoin right conduct on the people, and forget (To practise it) yourselves, and yet ye study the Scripture? Will ye not understand?

PICKTHAL: Enjoin ye righteousness upon mankind while ye yourselves forget (to practise it)? And ye are readers of the Scripture! Have ye then no sense?

SHAKIR: What! do you enjoin men to be good and neglect your own souls while you read the Book; have you then no sense?

KHALIFA: Do you exhort the people to be righteous, while forgetting yourselves, though you read the scripture? Do you not understand?

৪৪। তোমরা কি মানুষকে সৎ কাজের আদেশ দাও, এবং নিজেরা তা [অনুশীলন] করতে ভুলে যাও? যদিও তোমরা আল্লাহ্‌র কিতাব পাঠ কর? তোমরা কি বুঝবে না?

৪৫। তোমরা [আল্লাহ্‌র] সাহায্য প্রার্থনা কর ধৈর্য্য, অধ্যবসায় এবং সালাতের মাধ্যমে। বিনয়ী ব্যক্তি ব্যতীত আর সকলের নিকট ইহা নিশ্চিতভাবে কঠিন কাজ

৬১। আল্লাহ্‌ এখানে ধৈর্য্য, অধ্যবসায় ও প্রার্থনার মাধ্যমে আল্লাহ্‌র সাহায্য প্রার্থনা করতে বলেছেন। বাংলায় আরবী সবর্‌ কথাটির অনুবাদ করা হয়েছে ধৈর্য্য। কিন্তু সবর্‌ কথাটির অর্থ এত ব্যাপক যে শুধুমাত্র ধৈর্য্য এই একটি মাত্র শব্দ দ্বারা এর অর্থের ব্যাপকতা বুঝানো সম্ভব নয়। এর দ্বারা বুঝায় –

১) ধৈর্য্য অর্থাৎ তাড়াহুড়া না করে ধীর স্থিরভাবে অগ্রসর হওয়ার ক্ষমতা।

২) কোন কাজে দৃঢ়ভাবে এবং অধ্যবসায়ের সাথে লেগে থাকার ক্ষমতা। যে কোনও কাজ করতে গেলে সাফল্য না-ও আসতে পারে, কিন্তু তার দরুন হতাশাগ্রস্থ না হয়ে দৃঢ়তার সাথে অগ্রসর হওয়ার ক্ষমতা এবং অধ্যাবসায়ী হওয়ার নামই ধৈর্য্য।

৩) কোনও কাজে ধারাবাহিকভাবে অগ্রসর হওয়ার ক্ষমতাই ধৈর্য্য। কোনও দৈব ক্ষমতায় (Chance action) বিশ্বাসী না হয়ে নিজের যোগ্যতার উপরে এবং আল্লাহ্‌র উপরে আস্থাশীল হয়ে ধারাবাহিকভাবে ক্রমান্বয়ে কাজ করার ক্ষমতাই হচ্ছে সবর্‌।

৪) সুখ-দুঃখ, সাফল্য-ব্যর্থতা সবই আল্লাহ্‌র দান হিসেবে গ্রহণ করার ক্ষমতা এবং সেই কারণে কোনও সাফল্যে বা সুখে উদ্বেলিত না হওয়া এবং ব্যর্থতা বা দুঃখে মানসিক অস্থিরতা প্রকাশ না করা বা ভেঙ্গে না পড়া বা আল্লাহ্‌কে দোষারোপ না করার নামই হচ্ছে স‌বর্‌ বা ধৈর্য্য।

এই চারটি গুণের সমন্বয় করলে চরিত্রের যে দৃঢ়তার অভিব্যক্তি বুঝানো যায় তাকেই এক কথায় সবর্‌ নামে অভিব্যক্তি করা হয়। এর অর্থ কেউ যেনো এ না বুঝে যে পৃথিবীর সুখ-দুঃখ, ব্যথা-বেদনা সম্পর্কে নিরাসক্ত ভাবই হচ্ছে সবর্‌‌।

সবর্‌ হচ্ছে সর্বক্ষণ, সর্বাবস্থায় আল্লাহ্‌র কাছে শুকরিযা আদায় করা। মনে এই আশা পোষণ করা যে দুঃখ তাঁরই দান। দুঃখের মাঝেও নিশ্চয়ই তাঁর কল্যাণময় ইঙ্গিত আছে। সুতরাং দুঃখের অমানিশা একদিন অতিক্রান্ত হবেই। এই বিশ্বাসের নামই সবর্‌।

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি। (আয়াত ৪৫)

ধৈর্য্যর সাথে সাহায্য প্রার্থনা কর নামাযের মাধ্যমে। অবশ্য তা যথেষ্ট কঠিন। কিন্তু সে সমস্ত বিনয়ী লোকদের পক্ষেই তা সম্ভব।

And seek help in patience and As-Salât (the prayer) and truly it is extremely heavy and hard except for Al-Khâshi’ûn [i.e. the true believers in Allâh – those who obey Allâh with full submission, fear much from His Punishment, and believe in His Promise (Paradise, etc.) and in His Warnings (Hell, etc.)].

وَاسْتَعِينُواْ بِالصَّبْرِ وَالصَّلاَةِ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلاَّ عَلَى الْخَاشِعِينَ
WaistaAAeenoo bialssabri waalssalati wa-innaha lakabeeratun illa AAala alkhashiAAeena

YUSUFALI: Nay, seek (Allah’s) help with patient perseverance and prayer: It is indeed hard, except to those who bring a lowly spirit,-

PICKTHAL: Seek help in patience and prayer; and truly it is hard save for the humble-minded,

SHAKIR: And seek assistance through patience and prayer, and most surely it is a hard thing except for the humble ones,

KHALIFA: You shall seek help through steadfastness and the Contact Prayers (Salat). This is difficult indeed, but not so for the reverent,

৪৪। তোমরা কি মানুষকে সৎ কাজের আদেশ দাও, এবং নিজেরা তা [অনুশীলন] করতে ভুলে যাও? যদিও তোমরা আল্লাহ্‌র কিতাব পাঠ কর? তোমরা কি বুঝবে না?৪৫। তোমরা [আল্লাহ্‌র] সাহায্য প্রার্থনা কর ধৈর্য্য, অধ্যবসায় এবং সালাতের মাধ্যমে। বিনয়ী ব্যক্তি ব্যতীত আর সকলের নিকট ইহা নিশ্চিতভাবে কঠিন কাজ ৬১।

৬১। আল্লাহ্‌ এখানে ধৈর্য্য, অধ্যবসায় ও প্রার্থনার মাধ্যমে আল্লাহ্‌র সাহায্য প্রার্থনা করতে বলেছেন। বাংলায় আরবী সবর্‌ কথাটির অনুবাদ করা হয়েছে ধৈর্য্য। কিন্তু সবর্‌ কথাটির অর্থ এত ব্যাপক যে শুধুমাত্র ধৈর্য্য এই একটি মাত্র শব্দ দ্বারা এর অর্থের ব্যাপকতা বুঝানো সম্ভব নয়। এর দ্বারা বুঝায় –

১) ধৈর্য্য অর্থাৎ তাড়াহুড়া না করে ধীর স্থিরভাবে অগ্রসর হওয়ার ক্ষমতা।

২) কোন কাজে দৃঢ়ভাবে এবং অধ্যবসায়ের সাথে লেগে থাকার ক্ষমতা। যে কোনও কাজ করতে গেলে সাফল্য না-ও আসতে পারে, কিন্তু তার দরুন হতাশাগ্রস্থ না হয়ে দৃঢ়তার সাথে অগ্রসর হওয়ার ক্ষমতা এবং অধ্যাবসায়ী হওয়ার নামই ধৈর্য্য।

৩) কোনও কাজে ধারাবাহিকভাবে অগ্রসর হওয়ার ক্ষমতাই ধৈর্য্য। কোনও দৈব ক্ষমতায় (Chance action) বিশ্বাসী না হয়ে নিজের যোগ্যতার উপরে এবং আল্লাহ্‌র উপরে আস্থাশীল হয়ে ধারাবাহিকভাবে ক্রমান্বয়ে কাজ করার ক্ষমতাই হচ্ছে সবর্‌।

৪) সুখ-দুঃখ, সাফল্য-ব্যর্থতা সবই আল্লাহ্‌র দান হিসেবে গ্রহণ করার ক্ষমতা এবং সেই কারণে কোনও সাফল্যে বা সুখে উদ্বেলিত না হওয়া এবং ব্যর্থতা বা দুঃখে মানসিক অস্থিরতা প্রকাশ না করা বা ভেঙ্গে না পড়া বা আল্লাহ্‌কে দোষারোপ না করার নামই হচ্ছে স‌বর্‌ বা ধৈর্য্য।

এই চারটি গুণের সমন্বয় করলে চরিত্রের যে দৃঢ়তার অভিব্যক্তি বুঝানো যায় তাকেই এক কথায় সবর্‌ নামে অভিব্যক্তি করা হয়। এর অর্থ কেউ যেনো এ না বুঝে যে পৃথিবীর সুখ-দুঃখ, ব্যথা-বেদনা সম্পর্কে নিরাসক্ত ভাবই হচ্ছে সবর্‌‌।

সবর্‌ হচ্ছে সর্বক্ষণ, সর্বাবস্থায় আল্লাহ্‌র কাছে শুকরিযা আদায় করা। মনে এই আশা পোষণ করা যে দুঃখ তাঁরই দান। দুঃখের মাঝেও নিশ্চয়ই তাঁর কল্যাণময় ইঙ্গিত আছে। সুতরাং দুঃখের অমানিশা একদিন অতিক্রান্ত হবেই। এই বিশ্বাসের নামই সবর্‌।

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি। (আয়াত ৪৬)

যারা একথা খেয়াল করে যে, তাদেরকে সম্মুখীন হতে হবে স্বীয় পরওয়ারদেগারের এবং তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে।

(They are those) who are certain that they are going to meet their Lord, and that unto Him they are going to return.

الَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُم مُّلاَقُو رَبِّهِمْ وَأَنَّهُمْ إِلَيْهِ رَاجِعُونَ
Allatheena yathunnoona annahum mulaqoo rabbihim waannahum ilayhi rajiAAoona

YUSUFALI: Who bear in mind the certainty that they are to meet their Lord, and that they are to return to Him.
PICKTHAL: Who know that they will have to meet their Lord, and that unto Him they are returning.
SHAKIR: Who know that they shall meet their Lord and that they shall return to Him.
KHALIFA: who believe that they will meet their Lord; that to Him they ultimately return.

৪৬। [তারাই বিনয়ী] যারা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করে যে [পরলোকে] তাদের প্রভুর সাথে সাক্ষাত লাভ ঘটবে এবং তাঁর নিকটই প্রত্যাবর্তিত করা হবে।

রুকু – ৬

৪৭। হে বণী ইসরাঈল! স্মরণ কর সেই [বিশেষ] অনুগ্রহ যা আমি তোমাদের দান করেছিলাম এবং [আমার প্রত্যাদেশ লাভের যোগ্যতায়] সবার উপরে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম ৬২।

৬২। আয়াত [২ : ৪০]-তে আল্লাহ্‌ ইসরাঈলীদের বলেছেন যে, তিনি তাদের বিশেষ নেয়ামত দান করেছেন। উপরিউক্ত আয়াতে সামগ্রিকভাবে নেয়ামতসমূহ বা আল্লাহ্‌র দানসমূহের (Gift) কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এখানে অনেক নেয়ামতের মধ্যে বিশেষভাবে একটি নেয়ামতের কথা বলা হয়েছে। ইহুদীদের ইতিহাস বলে আল্লাহ্‌ ইহুদীদের বিশেষ ক্ষেত্রে বিশ্ববাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি। (আয়াত ৪৭)

হে বনী-ইসরাঈলগণ! তোমরা স্মরণ কর আমার অনুগ্রহের কথা, যা আমি তোমাদের উপর করেছি এবং (স্মরণ কর) সে বিষয়টি যে, আমি তোমাদেরকে উচ্চমর্যাদা দান করেছি সমগ্র বিশ্বের উপর।
O Children of Israel! Remember My Favour which I bestowed upon you and that I preferred you to the ’Alamîn (mankind and jinns) (of your time period, in the past).

يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُواْ نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَنِّي فَضَّلْتُكُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ
Ya banee isra-eela othkuroo niAAmatiya allatee anAAamtu AAalaykum waannee faddaltukum AAala alAAalameena

YUSUFALI: Children of Israel! call to mind the (special) favour which I bestowed upon you, and that I preferred you to all other (for My Message).
PICKTHAL: O Children of Israel! Remember My favour wherewith I favoured you and how I preferred you to (all) creatures.
SHAKIR: O children of Israel! call to mind My favor which I bestowed on you and that I made you excel the nations.
KHALIFA: O Children of Israel, remember My favor which I bestowed upon you, and that I blessed you more than any other people.

৪৬। [তারাই বিনয়ী] যারা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করে যে [পরলোকে] তাদের প্রভুর সাথে সাক্ষাত লাভ ঘটবে এবং তাঁর নিকটই প্রত্যাবর্তিত করা হবে।

রুকু – ৬

৪৭। হে বণী ইসরাঈল! স্মরণ কর সেই [বিশেষ] অনুগ্রহ যা আমি তোমাদের দান করেছিলাম এবং [আমার প্রত্যাদেশ লাভের যোগ্যতায়] সবার উপরে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম ৬২।

৬২। আয়াত [২ : ৪০]-তে আল্লাহ্‌ ইসরাঈলীদের বলেছেন যে, তিনি তাদের বিশেষ নেয়ামত দান করেছেন। উপরিউক্ত আয়াতে সামগ্রিকভাবে নেয়ামতসমূহ বা আল্লাহ্‌র দানসমূহের (Gift) কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এখানে অনেক নেয়ামতের মধ্যে বিশেষভাবে একটি নেয়ামতের কথা বলা হয়েছে। ইহুদীদের ইতিহাস বলে আল্লাহ্‌ ইহুদীদের বিশেষ ক্ষেত্রে বিশ্ববাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি। (আয়াত ৪৮)

আর সে দিনের ভয় কর, যখন কেউ কারও সামান্য উপকারে আসবে না এবং তার পক্ষে কোন সুপারিশও কবুল হবে না; কারও কাছ থেকে ক্ষতিপূরণও নেয়া হবে না এবং তারা কোন রকম সাহায্যও পাবে না।

And fear a Day (of Judgement) when a person shall not avail another, nor will intercession be accepted from him nor will compensation be taken from him nor will they be helped.

وَاتَّقُواْ يَوْماً لاَّ تَجْزِي نَفْسٌ عَن نَّفْسٍ شَيْئاً وَلاَ يُقْبَلُ مِنْهَا شَفَاعَةٌ وَلاَ يُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلاَ هُمْ يُنصَرُونَ
Waittaqoo yawman la tajzee nafsun AAan nafsin shay-an wala yuqbalu minha shafaAAatun wala yu/khathu minha AAadlun wala hum yunsaroona

YUSUFALI: Then guard yourselves against a day when one soul shall not avail another nor shall intercession be accepted for her, nor shall compensation be taken from her, nor shall anyone be helped (from outside).

PICKTHAL: And guard yourselves against a day when no soul will in aught avail another, nor will intercession be accepted from it, nor will compensation be received from it, nor will they be helped.

SHAKIR: And be on your guard against a day when one soul shall not avail another in the least, neither shall intercession on its behalf be accepted, nor shall any compensation be taken from it, nor shall they be helped.

KHALIFA: Beware of the day when no soul can avail another soul, no intercession will be accepted, no ransom can be paid, nor can anyone be helped.

৪৮। সেদিনকে ভয় কর যেদিন একজন আর একজনের কোন উপকারেই আসবে না, কোন সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না, কোন বিনিময় গ্রহণ করা হবে না, [বাইরে থেকে] তারা কোন প্রকার সাহায্য লাভ করবে না ৬৩।

৬৩। আলোচ্য আয়াতে যেদিনের কথা বলা হয়েছে, সেটি হল কিয়ামতের দিন। সেদিন প্রত্যেককে নিজ নিজ কর্মফলের হিসাব দিতে হবে এবং প্রত্যেককে নিজ কর্মের জন্য দায়ী থাকতে হবে। কেহই অন্যের কর্ম ফলের জন্য দায়ী হবে না। অথবা পূণ্য কাজ বা সুপারিশের বদৌলতে বেহেশ্‌তে প্রবেশ করবে না; বা অপরের পাপের পরিণতিতে কেহ দোযখবাসী হবে না।

প্রত্যেকের দায়িত্ব প্রত্যেকের নিজের। এখানে আল্লাহ্‌ সাবধান করে দিচ্ছেন যে আমরা যেনো নিজেদের পাহারা দিয়ে রাখি। প্রত্যেকের দায়িত্ব তার নিজস্ব দায়িত্ব (Personal Responsibility)। একথা যেনো ইহুদীরা মনে না করে যে তারা আল্লাহ্‌র বিশেষ নেয়ামত প্রাপ্ত হয়েছিল, সুতরাং পরলোকে তাদের জন্য হবে বিশেষ সুপারিশ।

এখানে সকলের জন্য এই উপদেশ যে আল্লাহ্‌র চোখে সবাই সমান। সকলকে তার নিজ নিজ কর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। ধনী-দরিদ্র, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, সাদা-কালো, নারী-পুরুষ এর মধ্যে কোন ভেদাভেদ নাই।

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি। (আয়াত ৪৯)

আর (স্মরণ কর) সে সময়ের কথা, যখন আমি তোমাদিগকে মুক্তিদান করেছি ফেরআউনের লোকদের কবল থেকে যারা তোমাদিগকে কঠিন শাস্তি দান করত; তোমাদের পুত্রসন্তানদেরকে জবাই করত এবং তোমাদের স্ত্রীদিগকে অব্যাহতি দিত। বস্তুতঃ তাতে পরীক্ষা ছিল তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে, মহা পরীক্ষা।

And (remember) when We delivered you from Fir’aun’s (Pharaoh) people, who were afflicting you with a horrible torment, killing your sons and sparing your women, and therein was a mighty trial from your Lord.

وَإِذْ نَجَّيْنَاكُم مِّنْ آلِ فِرْعَوْنَ يَسُومُونَكُمْ سُوَءَ الْعَذَابِ يُذَبِّحُونَ أَبْنَاءكُمْ وَيَسْتَحْيُونَ نِسَاءكُمْ وَفِي ذَلِكُم بَلاء مِّن رَّبِّكُمْ عَظِيمٌ
Wa-ith najjaynakum min ali firAAawna yasoomoonakum soo-a alAAathabi yuthabbihoona abnaakum wayastahyoona nisaakum wafee thalikum balaon min rabbikum AAatheemun

YUSUFALI: And remember, We delivered you from the people of Pharaoh: They set you hard tasks and punishments, slaughtered your sons and let your women-folk live; therein was a tremendous trial from your Lord.

PICKTHAL: And (remember) when We did deliver you from Pharaoh’s folk, who were afflicting you with dreadful torment, slaying your sons and sparing your women: that was a tremendous trial from your Lord.

SHAKIR: And when We delivered you from Firon’s people, who subjected you to severe torment, killing your sons and sparing your women, and in this there was a great trial from your Lord.

KHALIFA: Recall that we saved you from Pharaoh’s people who inflicted upon you the worst persecution, slaying your sons and sparing your daughters. That was an exacting test from your Lord.

৪৯। এবং স্মরণ কর! আমি তোমাদের ফেরাউনের সম্প্রদায় থেকে উদ্ধার করেছিলাম। তারা তোমাদের জন্য কঠিন কাজ ও শাস্তি নির্ধারিত করেছিলো। তোমাদের পুত্র সন্তানদের হত্যা করতো এবং মেয়েদের জীবিত রাখতো ৬৪। এটা ছিল তোমার প্রভুর নিকট থেকে মহা পরীক্ষা।

৬৪। উপরে যে বিশেষ আচরণের কথা বলা হয়েছে এখান থেকে তার বিস্তারিত বর্ণনা আরম্ভ হয়েছে। মিশরের দাসত্ব বন্ধন ছিলো এক ভীষণ পরীক্ষা ইহুদীদের জন্য। দিবা-রাত্র তাদের অমানুষিক পরিশ্রম করতে হতো, তারপরও তারা পেতো অমানবিক ব্যবহার। কোনও এক গণক ভবিষ্যৎ বাণী করেছিল যে, ইসরাঈলী বংশে এমন এক ছেলের জন্ম হবে যার হাতে ফেরাউনের পতন হবে।

এজন্য ফেরাউন আদেশ দেন ইসরাঈলদের পুত্র সন্তানদের হত্যা করার জন্য এবং কন্যা সন্তানদের জীবিত রাখার জন্য। এই হুকুমের প্রেক্ষিতেই হযরত মুসার জন্মের পর তিনমাস পর্যন্ত তাঁকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। যখন আর তা সম্ভব হলো না তখন তাঁর মা তাকে একটি ঝুড়িতে করে নীল নদীতে ভাসিয়ে দেন।

পরবর্তীতে ফেরাউনের স্ত্রী ও কন্যা তাঁকে উদ্ধার করে এবং দত্তক হিসেবে গ্রহণ করেন [২৮:৯]। এভাবেই হযরত মুসা তাঁর শত্রুদের দ্বারাই প্রতিপালিত হতে থাকলেন। এ সবই আল্লাহ্‌র ইচ্ছা। কারণ হযরত মুসা আল্লাহ্‌ কর্তৃক নির্বাচিত ব্যক্তি, যিনি তাঁর জাতিকে মিশরীয় দাসত্ব থেকে মুক্ত করবেন।

আল্লাহ্‌র অপূর্ব লীলায় হযরত মুসা শুধু যে জীবন রক্ষা পেলেন তাই-ই নয় শত্রুপুরীতে বসবাস করে শত্রুদের সমস্ত জ্ঞান আহরণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। কারণ আল্লাহ্‌র ইচ্ছা ছিল মিশরীয়দের জ্ঞান ভান্ডার হযরত মুসার কাছে উন্মুক্ত করা। কারণ তিনি ছিলেন ইসরাঈলীদের মুক্ত করার জন্য আল্লাহ্‌ কর্তৃক নির্বাচিত ব্যক্তি সেজন্য আল্লাহ্‌ তাঁকে শত্রু শিবিরের সমস্ত জ্ঞান বিজ্ঞান শিক্ষা দিয়েছিলেন।

ফেরাউনের রাজপ্রাসাদে থেকে তিনি প্রত্যক্ষ করতে সক্ষম হয়েছিলেন মিশরবাসীর অত্যাচার, নিষ্ঠুরতা ইসরাঈলীদের উপর। এ সবই আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় সংঘটিত হয়। আল্লাহ্‌র ইচ্ছা হযরত মুসার জ্ঞান ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করা। কারণ এ জ্ঞান তাঁকে ইসরাঈলীদের মুক্ত করতে সাহায্য করবে।

সাধারণ উপদেশ হলো, আল্লাহ্‌র ইচ্ছা কীভাবে প্রতিপালিত হয় তা বোঝার ক্ষমতা বা রদ করার ক্ষমতা সাধারণ মানুষের নাই। থাকলে ফেরাউনের নিজ পুরীতে সন্তানতুল্য আদরে নিজশত্রু (হযরত মুসা) প্রতিপালিত হতো না।

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি।(আয়াত ৫০)

আর যখন আমি তোমাদের জন্য সাগরকে দ্বিখন্ডিত করেছি, অতঃপর তোমাদেরকে বাঁচিয়ে দিয়েছি এবং ডুবিয়ে দিয়েছি ফেরআউনের লোকদিগকে অথচ তোমরা দেখছিলে।
And (remember) when We separated the sea for you and saved you and drowned Fir’aun’s (Pharaoh) people while you were looking (at them, when the sea-water covered them).

وَإِذْ فَرَقْنَا بِكُمُ الْبَحْرَ فَأَنجَيْنَاكُمْ وَأَغْرَقْنَا آلَ فِرْعَوْنَ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ
Wa-ith faraqna bikumu albahra faanjaynakum waaghraqna ala firAAawna waantum tanthuroona

YUSUFALI: And remember We divided the sea for you and saved you and drowned Pharaoh’s people within your very sight.
PICKTHAL: And when We brought you through the sea and rescued you, and drowned the folk of Pharaoh in your sight.
SHAKIR: And when We parted the sea for you, so We saved you and drowned the followers of Firon and you watched by.
KHALIFA: Recall that we parted the sea for you; we saved you and drowned Pharaoh’s people before your eyes.

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি ।
সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি ।
৫০। এবং স্মরণ কর তোমাদের জন্য আমি সাগরকে দ্বিধাবিভক্ত করেছিলাম এবং তোমাদের রক্ষা করেছিলাম ও তোমাদের চোখের সম্মুখে ফেরাউনের সম্প্রদায়কে [সাগরে] নিমজ্জিত করেছিলাম ৬৫।

৬৫। শেষ পর্যন্ত ইসরাঈলীরা যখন মিশর থেকে পলায়ন করতে সক্ষম হলো, তখন ফেরাউন তাদের পশ্চাৎ ধাবন করলো। আল্লাহ্‌র কুদরতে সমুদ্র দ্বিধাবিভক্ত হলো এবং বনী-ইসরাঈলীরা লোহিত সাগর অতিক্রম করতে সক্ষম হলো। কিন্তু ফেরাউন তাদের পশ্চাদ্ধাবন করতে যেয়ে সমুদ্রে ডুবে মারা গেল।

[উপদেশ : অন্যায়কারীর ধ্বংস অবধারিত।- অনুবাদক]

আরও দেখুনঃ 

সূরা বাকারা পর্ব ৩ । সূচি । [ গাভী কুরবানী] সূরা নং ২ । পবিত্র কুরআন ।

সূরা বাকারা পর্ব ১ । সূচি । [ গাভী কুরবানী ] সূরা নং ২ । পবিত্র কুরআন ।

নাপাকি এবং নাপাকি থেকে পবিত্রতা অর্জনের উপায়

Leave a Comment