সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । [ গাভী কুরবানী] সূরা নং ২ । পবিত্র কুরআন ।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ ,আল বাকারা (আরবি ভাষায়: سورة البقرة) মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের দ্বিতীয় সূরা, এর আয়াত সংখ্যা ২৮৬ টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ৪০ টি। আল বাকারা সূরাটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি ।
সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি ।

Table of Contents

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ৮৫)

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ৮৬)

এরাই পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবন ক্রয় করেছে। অতএব এদের শাস্তি লঘু হবে না এবং এরা সাহায্যও পাবে না।
Those are they who have bought the life of this world at the price of the Hereafter. Their torment shall not be lightened nor shall they be helped.

أُولَـئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُاْ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا بِالآَخِرَةِ فَلاَ يُخَفَّفُ عَنْهُمُ الْعَذَابُ وَلاَ هُمْ يُنصَرُونَ

Ola-ika allatheena ishtarawoo alhayata alddunya bial-akhirati fala yukhaffafu AAanhumu alAAathabu wala hum yunsaroona

YUSUFALI: These are the people who buy the life of this world at the price of the Hereafter: their penalty shall not be lightened nor shall they be helped.

PICKTHAL: Such are those who buy the life of the world at the price of the Hereafter. Their punishment will not be lightened, neither will they have support.

SHAKIR: These are they who buy the life of this world for the hereafter, so their chastisement shall not be lightened nor shall they be helped.

KHALIFA: It is they who bought this lowly life at the expense of the Hereafter. Consequently, the retribution is never commuted for them, nor can they be helped.

৮৬। এরাই তারা, যারা পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবনকে ক্রয় করে থাকে। তাদের শাস্তিকে লঘু করা হবে না অথবা তাদের সাহায্যও করা হবে না।

রুকু – ১১

৮৭। আমি মুসাকে কিতাব দিয়েছিলাম এবং তাকে অনুসরণ করে পর্যায়ক্রমে রাসূল প্রেরণ করেছি। আমি মরিয়ম পুত্র ঈসাকে স্পষ্ট [প্রমাণ] দান করেছি এবং পবিত্র আত্মা দ্বারা শক্তিশালী করেছি ৯০।

তবে কি যখনই কোন রাসূল তোমাদের নিকট এমন কিছু এনেছে যা তোমাদের মনঃপূত হয় নাই, তখনই তোমরা অহংকারে স্ফীত হয়েছ?-এদের কতককে বলেছ প্রতারক এবং অন্যদের করেছ হত্যা ৯১।

৯০। [১৯:১৬-৩৪] এই আয়াতগুলিতে যীশুখৃষ্টের জন্মের বিবরণ দেয়া হয়েছে। কেন তাঁকে ‘মরিয়মের পুত্র’ নামে সম্বোধন করা হয়েছে? ‘স্পষ্ট প্রমাণ’ কি? ‘পবিত্র আত্মা’ কে যা দ্বারা তাঁকে শক্তিশালী করা হয়েছিলো? আমরা কুরআনের এই উক্তি সম্বন্ধে পরে আলোচনা করবো। দেখুন সূরা ৩, আয়াত ৬২ এবং টিকা ৪০১।

৯১। সেকশন ১১-১৩, আয়াত [২:৮৭-১১২] পর্যন্ত সাধারণভাবে কিতাবী লোকদের সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছে বিশেষভাবে ইহুদী ও খৃষ্টানদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। খৃষ্টানদের ধর্মগ্রন্থে যেসব নৈতিক আইনাবলী বিদ্যমান তা ইহুদীদের কিতাব যা আল্লাহ্‌ মুসাকে দান করেছেন তারই অনুরূপ। হযরত মুহম্মদের (দঃ) ধর্ম ইসলামের শিক্ষা সেই একই স্রষ্টার কাছ থেকে আগত।

সুতরাং খৃষ্টান বা ইহুদীদের তা না বোঝার বা না সনাক্ত করার কথা নয়। কিন্তু তাদের অন্ধ অহংকার ও উদ্ধতপনা তাদের ইসলাম গ্রহণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণ উপদেশ হচ্ছে, অহংকার একটি খারাপ রিপু যা সত্যকে দেখতে, অনুধাবন করতে ও গ্রহণ করতে বাধা দেয়।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ৮৭)

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ৮৮)

তারা বলে, আমাদের হৃদয় অর্ধাবৃত। এবং তাদের কুফরের কারণে আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন। ফলে তারা অল্পই ঈমান আনে।

And they say, ”Our hearts are wrapped (i.e. do not hear or understand Allâh’s Word).” Nay, Allâh has cursed them for their disbelief, so little is that which they believe.

وَقَالُواْ قُلُوبُنَا غُلْفٌ بَل لَّعَنَهُمُ اللَّه بِكُفْرِهِمْ فَقَلِيلاً مَّا يُؤْمِنُونَ

Waqaloo quloobuna ghulfun bal laAAanahumu Allahu bikufrihim faqaleelan ma yu/minoona

YUSUFALI: They say, “Our hearts are the wrappings (which preserve Allah’s Word: we need no more).” Nay, Allah’s curse is on them for their blasphemy: Little is it they believe.

PICKTHAL: And they say: Our hearts are hardened. Nay, but Allah hath cursed them for their unbelief. Little is that which they believe.
SHAKIR: And they say: Our hearts are covered. Nay, Allah has cursed them on account of their unbelief; so little it is that they believe.

KHALIFA: Some would say, “Our minds are made up!” Instead, it is a curse from GOD, as a consequence of their disbelief, that keeps them from believing, except for a few of them.

৮৮।  তারা বলেছিলো, ‘আমাদের হৃদয় আচ্ছাদিত ৯২ [তা আল্লাহ্‌র বাণীকে সংরক্ষিত করেছে, সুতরাং আমাদের আর প্রয়োজন নাই]।’ না, বরং তাদের আল্লাহ্‌ নিন্দার জন্য তাদের উপরে আল্লাহ্‌র অভিশাপ। তাদের অল্প সংখ্যকই ঈমান এনে থাকে ৯৩।

৯২। অহংকার বা অহংবোধ মানুষকে অন্ধ করে তোলে, এর ফলে স্রষ্টার করুণা ও মানুষের আত্মার মাঝে দেয়ালের সৃষ্টি হয়। ইহুদীদের ঠিক সেই অবস্থা হয়েছিলো। তারা বিশ্বাস করতো যে আল্লাহ্‌ প্রদত্ত জ্ঞান ও বিবেক দ্বারা একমাত্র তাদের হৃদয়ই পূর্ণ। গর্ব এবং অহংকার তাদের চোখের উপর পর্দা টেনে দিয়েছে-তাই তারা প্রকৃত সত্যকে দেখতে বা অনুধাবন করতে সক্ষম নয়।

তাদের দাবী, যে একমাত্র তারাই আল্লাহ্‌র বাণীর ধারক, বাহক ও রক্ষক। এ শুধু যে মিথ্যা তা-ই নয়, এ এক ধরণের কুফ্‌রী। বাস্তব সত্য হচ্ছে তারা আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। তারা অবিশ্বাসী, তারা আল্লাহ্‌কে বিশ্বাস করে না।

সার্বজনীন উপদেশ হচ্ছে যুগে-যুগে, কালে-কালে, দেশে-দেশে বহু ব্যক্তি, বহু জাতি দেখা যায় যারা ক্ষুদ্র জ্ঞানের অধিকারী হয়ে অহংকারে অন্ধ হয়ে যায় এবং এই অন্ধ অহংকার তাদের জ্ঞানের বৃহত্তর পরিসরে প্রবেশে বাঁধা দান করে। ধর্ম সম্বন্ধে ক্ষুদ্র জ্ঞান তাদের করে তোলে কুসংস্কারাচ্ছন্ন, একগুঁয়ে, অহংকারী। নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবার প্রবণতা জন্মায়।

এই মনোভাবের কারণেই যুগে যুগে, কালে-কালে, ধর্ম নিয়ে দ্বন্দ কলহের সৃষ্টি হয়েছে। এই মনোভাব হচ্ছে প্রকৃত কুফরী মনোভাব, অধার্মিকতার বা অবিশ্বাসের মনোভাব। আধ্যাত্মিক জগতে আল্লাহ্‌র নেয়ামত অফুরন্ত। এই সব মৌলবাদীরা অহংকারের ফলে সেই অফুরন্ত নেয়ামত হৃদয়ে ধারণ করার দরজা বন্ধ করে দেয়। ফলে তারা আল্লাহ্‌র রোষানলে পতিত হয়।

৯৩। মূল শব্দ ‘কাফারা’ এর অনেক মানে আছে-
১) আল্লাহ্‌র রহমতকে অস্বীকার করা এবং অকৃতজ্ঞ হওয়া।
২) ধর্মে বিশ্বাস হারানো এবং প্রত্যাদেশকে আল্লাহ্‌র প্রেরিত বাণীরূপে বিশ্বাস না করা।

৩) এরা আল্লাহ্‌র সম্পর্কে বহু মনগড়া কথা বলে। ব্যাখ্যা দান করে যা আল্লাহ্‌র প্রতি নিন্দারূপে আল্লাহ্‌র চোখে পরিগণিত।
এই লাইনটিতে এর যে কোনও একটি মানে প্রযোজ্য হতে পারে। কিন্তু মনে হয় এই লাইনটিতে এর তিনটি অর্থই সমভাবে প্রযোজ্য।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ৮৯)

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ৯০)

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ৯১)

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ৯২)

সুস্পষ্ট মু’জেযাসহ মূসা তোমাদের কাছে এসেছেন। এরপর তার অনুপস্থিতিতে তোমরা গোবৎস বানিয়েছ। বাস্তবিকই তোমরা অত্যাচারী।
And indeed Mûsa (Moses) came to you with clear proofs, yet you worshipped the calf after he left, and you were Zâlimûn (polytheists and wrong-doers).

وَلَقَدْ جَاءكُم مُّوسَى بِالْبَيِّنَاتِ ثُمَّ اتَّخَذْتُمُ الْعِجْلَ مِن بَعْدِهِ وَأَنتُمْ ظَالِمُونَ
Walaqad jaakum moosa bialbayyinati thumma ittakhathtumu alAAijla min baAAdihi waantum thalimoona

YUSUFALI: There came to you Moses with clear (Signs); yet ye worshipped the calf (Even) after that, and ye did behave wrongfully.

PICKTHAL: And Moses came unto you with clear proofs (of Allah’s Sovereignty), yet, while he was away, ye chose the calf (for worship) and ye were wrong-doers.

SHAKIR: And most certainly Musa came to you with clear arguments, then you took the calf (for a god) in his absence and you were unjust.

KHALIFA: Moses went to you with profound miracles, yet you worshiped the calf in his absence, and you turned wicked.

৯২। তোমাদের নিকট মুসা এসেছিলো স্পষ্ট [প্রমাণ] সহ। এর পরেও তোমরা গোবৎসের পূঁজা করেছিলে এবং তোমরা পাপিষ্ঠের [ন্যায়] আচরণ করেছিল।

৯৩। এবং স্মরণ কর, আমি তোমাদের অঙ্গীকার নিয়েছিলাম এবং আমি [উচ্চ সিনাই] পর্বতকে তোমাদের উর্দ্ধে উত্তোলন করেছিলাম, [বলেছিলাম]: “আমি তোমাদের যা দিলাম তা দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং [আইনের প্রতি] মনোযোগী হও। “৯৭। তারা বলেছিল ” আমরা শুনলাম এবং আমরা অমান্য করলাম ৯৮। ” [ফলে] কুফরী হেতু তাদের হৃদয়ে গোবৎসের প্রতি প্রীতি সঞ্চিত হয়েছিলো ৯৯।বলঃ” তা কতই না নিকৃষ্ট যা তোমাদের ঈমান তোমাদেরকে নির্দ্দেশ দেয়, [অবশ্য] যদি তোমাদের কোন ঈমান থাকে।”

৯৭+৯৮। [:৬৩] আয়াতের এবং [:৯৩] আয়াতের আরাম্ভ এক। কিন্তু সূচনা এক হলেও, এই দুই আয়াতের ভিন্ন প্রেক্ষাপট যুক্তির সাহায্যে উত্থাপন করা হয়েছে। [:৬৩] আয়াতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে সিনাই পর্বতের নীচে তারা আল্লাহ্‌র সাথে যে পবিত্র চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিল পরর্বতী যুগে কেমনভাবে তারা চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এই আয়াতে [:৯৩] সেই একই চুক্তি কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হচ্ছে সেই থেকে তারা চুক্তিটিকে অন্তরের সাথে গ্রহণ করে নাই। তারা মুখে বলে, “আল্লাহ্‌র সব হুকুম আমরা মানবো”, কিন্তু তারা মনে মনে বলে “আমরা অস্বীকার করবো,”কিন্তু তাদের অন্তর থেকে বলা উচিত ছিল, ” আমরা যা শুনলাম সবই মেনে চলবো।” কথা ও কাজের মধ্যে পার্থক্য না করা হচ্ছে মুত্তাকী বা বিশ্বাসী লোকের লক্ষণ [:২৮৫]।

৯৯। হযরত মুসা তুর পর্বতে কিতাবপ্রাপ্ত হওয়ার পর ফিরে এসে ইহুদীদের পবিত্র গ্রন্থের চুক্তিসমূহ মেনে চলার নির্দেশ দেন এবং ইহুদীরা অঙ্গীকার করেছিল যে তারা তাওরাতের অনুশাসন মেনে চলবে। তার অবর্তমানে ইহুদীরা সোনার গো-বৎস বানিয়ে পূজা করতে থাকে। হযরত মুসা ফিরে এসে প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হয়ে যান এবং সোনার গো-বৎসকে আগুনে পুড়িয়ে গুড়ো করে পানিতে মিশিয়ে ইহুদীদের খেতে বাধ্য করেন, এই ঘটনাকে কোরআনে উপমার সাহায্যে বর্ণনা করা হয়েছে।

সোনার গো-বৎস হচ্ছে আল্লাহ্‌র হুকুম না মানার, অবাধ্যতার, বিদ্রোহ এবং অবিশ্বাসের প্রতীক। একে তুলনা করা যায় সামান্য পরিমাণ বিষের প্রভূত ক্ষতি সাধন করার ক্ষমতার সাথে। গো-বৎস পূজার শাস্তি ছিলো ঐ বিষবৎ পানীয় পান করা। এই বিষ তারা পান করলো তাদের পাকস্থলীতে নয়; তাদের হৃদয়ে। আল্লাহর চোখে তাদের অপবিত্র, উদ্ধত, অহংকারী আত্মার বিনাশ হতে হবে। তাদের হতে হবে বিনয়ী [:৫৪]

 

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ৯৩)

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ৯৪)

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ৯৫)

কস্মিনকালেও তারা মৃত্যু কামনা করবে না ঐসব গোনাহর কারণে, যা তাদের হাত পাঠিয়ে দিয়েছে। আল্লাহ গোনাহগারদের সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছেন।
But they will never long for it because of what their hands have sent before them (i.e. what they have done). And Allâh is All-Aware of the Zâlimûn (polytheists and wrong-doers).

وَلَن يَتَمَنَّوْهُ أَبَدًا بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ وَاللّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمينَ
Walan yatamannawhu abadan bima qaddamat aydeehim waAllahu AAaleemun bialththalimeena

YUSUFALI: But they will never seek for death, on account of the (sins) which their hands have sent on before them. and Allah is well-acquainted with the wrong-doers.
PICKTHAL: But they will never long for it, because of that which their own hands have sent before them. Allah is aware of evil-doers.

SHAKIR: And they will never invoke it on account of what their hands have sent before, and Allah knows the unjust.

KHALIFA: They never long for it, because of what their hands have sent forth. GOD is fully aware of the wicked.

৯৪। বল, “যদি আল্লাহ্‌র নিকট অবস্থিত আখিরাতের আবাসস্থল অন্য লোকের না হয়ে বিশেষভাবে শুধু তোমাদের জন্যই হয়ে থাকে; তবে তোমরা মৃত্যু কামনা কর-যদি তোমরা সত্যবাদী হও।”

৯৫। কিন্তু তারা কখনও মৃত্যু কামনা করবে না, কারণ হচ্ছে তাদের [পাপ কর্ম] যা তাদের হাতসমূহ তাদের পূর্বেই [আল্লাহ্‌র নিকট] প্রেরণ করেছে ১০০। আল্লাহ্‌ পাপীদের সম্পর্কে ভালোভাবেই জানেন।

১০০। ‘Which their hands have sent on before them’ মওলানা ইউসুফ আলী লাইনটি এভাবে উপস্থাপন করেছেন “[তাদের পাপ] যা তাদের হাত সমূহ তাদের পূর্বেই আল্লাহ্‌ নিকট প্রেরণ করেছে।” কথাটার অর্থ অনেক ব্যাপক, মহাকালের গর্ভে কিছুই হারায় না । আমরা মৃত্যুর পরে আল্লাহর দরবারে নীত হব। কিন্তু আমাদের পৃথিবীতে কৃতকর্মগুলি আমাদের মৃত্যুর বহুপূর্বে সাথে সাথেই আল্লাহ্‌র দরবারে নীত হয়। “তাদের হাত যা পূর্বে প্রেরণ করেছে”- এই কথাটি কুরআন শরীফে বহুবার বলা হয়েছে।

আমাদের সু-কর্ম বা কু-কর্ম সবই আল্লাহ্‌র দরবারে তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছে যায়। এর কিছু উদাহরণ দেওয়া যায় বর্তমানে ইন্টারনেট, ফ্যাক্স ইত্যাদির সাহায্যে পৃথিবীর এক প্রান্তের সংবাদ মূহুর্তের মধ্যে পৃথিবীর অন্যপ্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। সুতরাং আমরা কি করি, আমরা কি ভাবি, কি আমাদের কাজের নিয়ত সব আমাদের চিন্তাধারার সাথে সংম্পৃক্ত। আর এই চিন্তাধারা ঐ ইন্টানেটের মত মূহুর্তের মধ্যে আল্লাহ্‌র দরবারে নীত হয়, কারণ আল্লাহ্‌ বারে বারে বলেছেন যে আল্লাহ্‌ আমাদের কাজের বিচার করবেন তার নিয়ত দ্বারা কাজ দ্বারা নয়।

এখানে এবং কুরআনে বহু স্থানে বলা হয়েছে যে মানুষের সুপ্ত এবং গুপ্ত সব পাপ কার্যই আল্লাহ্‌র দরবারে তার মৃত্যুর পূর্বেই নীত হয়, সূরা [৭:৪০] অথবা [৮:১৪] বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে পৃথিবীতে আমাদের কৃত ভালো কাজ ও মন্দ কাজ আমাদের মৃত্যুর বহু পূর্বেই তাৎক্ষণিকভাবে আল্লাহ্‌র দরবারে বিচারাধীন হওয়ার জন্য ফাইলবন্দী হয়ে নীত হয়। আমাদের এই কৃতকর্ম হবে আমাদের ব্যক্তিগত দায়িত্ব।

আল্লাহ্‌র দরবারে আমাদের কৃতকর্ম সবই আমাদের মৃত্যুর পূর্বেই আমাদের এই পৃথিবীতে অবস্থান সময়েই মহান আল্লাহ্‌র দরবারে পৌঁছে যাবে। আমরা বুঝতে পারি বা নাই পারি এর ফলাফল এই পৃথিবীতেই আমাদের জীবনে পেতে শুরু করি। আমরা দেখি সৎ আল্লাহ ভীরু লোকের জীবন শান্তিতে ভরে যায়। অপরপক্ষে, জাগতিক উন্নতি সত্ত্বেও অসৎ অধার্মিক লোকের শান্তি (Bliss) আসে না কারণ আত্মার শান্তির পূর্বশর্ত হচ্ছে আত্মিক উন্নতি [Spiritual growth] আবার আত্মার [Spiritual faculty] সমৃদ্ধির পূর্বশর্তই হচ্ছে সততা ও সৎ কাজ।

আল্লাহ্‌র নিয়তে যারা সততা অবলম্বন করে ও সৎ কাজ করে তাদের সেই নিয়ত ও কাজ তার মৃত্যুর পূর্বেই আল্লাহর দরবারে নীত হয় এবং আল্লাহ্‌ তাদের আত্মিক সমৃদ্ধি দান করেন। ফলশ্রুতিতে তারা আত্মার মাঝে শান্তি খুঁজে পায়। অপর পক্ষে যারা শুধু জাগতিক মোহে অসৎ ও অধার্মিকতার পথ অবলম্বন করে তাদের সেই নিয়ত বা চিন্তাধারাও আল্লাহ্‌র দরবারে তাদের মৃত্যুর পূর্বেই নীত হয়। ফলে তাদের আত্মিক উন্নতির পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে তারা ধন-সম্পদ থাকা সত্ত্বেও আত্মিক শান্তি থেকে বঞ্চিত হয় এবং এক ধরনের আত্মিক যন্ত্রণাতে ভোগে।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি ।(আয়াত ৯৬)

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ৯৭)

আপনি বলে দিন, যে কেউ জিবরাঈলের শত্রু হয়-যেহেতু তিনি আল্লাহর আদেশে এ কালাম আপনার অন্তরে নাযিল করেছেন, যা সত্যায়নকারী তাদের সম্মুখস্থ কালামের এবং মুমিনদের জন্য পথপ্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা।
Say (O Muhammad Peace be upon him ): ”Whoever is an enemy to Jibrael (Gabriel) (let him die in his fury), for indeed he has brought it (this Qur’ân) down to your heart by Allâh’s Permission, confirming what came before it [i.e. the Taurât (Torah) and the Injeel (Gospel)] and guidance and glad tidings for the believers.

قُلْ مَن كَانَ عَدُوًّا لِّجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَى قَلْبِكَ بِإِذْنِ اللّهِ مُصَدِّقاً لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًى وَبُشْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ
Qul man kana AAaduwwan lijibreela fa-innahu nazzalahu AAala qalbika bi-ithni Allahi musaddiqan lima bayna yadayhi wahudan wabushra lilmu/mineena

YUSUFALI: Say: Whoever is an enemy to Gabriel-for he brings down the (revelation) to thy heart by Allah’s will, a confirmation of what went before, and guidance and glad tidings for those who believe,-

PICKTHAL: Say (O Muhammad, to mankind): Who is an enemy to Gabriel! For he it is who hath revealed (this Scripture) to thy heart by Allah’s leave, confirming that which was (revealed) before it, and a guidance and glad tidings to believers;

SHAKIR: Say: Whoever is the enemy of Jibreel– for surely he revealed it to your heart by Allah’s command, verifying that which is before it and guidance and good news for the believers.

KHALIFA: Say, “Anyone who opposes Gabriel should know that he has brought down this (Quran) into your heart, in accordance with GOD’s will, confirming previous scriptures, and providing guidance and good news for the believers.”

৯৬। তুমি তাদের নিশ্চই জীবনের প্রতি, সমস্ত মানুষ এমনকি মুশরিকদের অপেক্ষা অধিক লোভী দেখবে। এদের প্রত্যেকে আকাঙ্খা করে যদি হাজার বৎসর পরমায়ু দেয়া হতো। কিন্তু এরূপ দীর্ঘায়ু তাদের [প্রাপ্য] শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না। কারণ তারা যা করে আল্লাহ্‌ সব দেখেন।

রুকু – ১২

৯৭। বল, “যে কেউ জিব্রাইলের শত্রু এই জন্য যে, সে ১০১ আল্লাহ্‌র নির্দেশে তোমার হৃদয়ে [প্রত্যাদেশ] অবতীর্ণ করেছে যা, উহার পূর্ববর্তী কিতাবের সমর্থক এবং যা মুমিনদের জন্য পথ প্রদর্শক ও শুভ সংবাদ।”

১০১। জিব্রাইল (আ) ওহী নিয়ে আগমন করেন, একথা রাসুল্লাহ (সাঃ) এর মুখে শুনে কতক ইহুদী বলতে থাকে, ইনি তো আমাদের শুত্রু: আমাদের সম্প্রদায়ের প্রলয়ঙ্কারী ঘটনাবলী এবং প্রাণান্তকর নির্দেশাবলী তার মাধ্যমেই অবতীর্ণ হয়েছে। পক্ষান্তরে মীকাঈল (আঃ) অত্যন্ত গুণী ফেরেশ্‌তা, তিনি বৃষ্টি ও রহমতের সাথে জড়িত। তিনি ওহী নিয়ে এলে আমরা তাকে মেনে নিতাম। এটা অবশ্যই একটা ভণ্ডামী – তারা আল্লাহ্‌র প্রেরিত একজন দূতকে মানবে, অন্য দূতকে প্রত্যাখান করবে, সেটা তো ভণ্ডামীরই লক্ষণ। হযরত মুহাম্মদের [সাঃ] অন্তরে আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশ পৌঁছে দিয়েছেন জিব্রাইল (আঃ)।

আধ্যাত্মিক আলোয় মুহাম্মদের (দঃ) অন্তর আল্লাহ্‌ আলোকিত করেছেন জিব্রাইলের দ্বারা। সুতরাং জিব্রাইলের বৈশিষ্ট্য না দেখে স্বয়ং কুরআনকে দেখা দরকার এবং দেখা দরকার মানুষ হিসাবে নবী করিমের নিষ্কলুষ, উজ্জ্বল চারিত্রিক গুণাবলী। আমাদের নিরক্ষর নবীর কিতাব পাওয়া, কোনও রকম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যতীত আমাদের নবীর চারিত্রিক গুণাবলী, তার প্রজ্ঞা, জ্ঞান সবই সেই সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌র অসীম ক্ষমতার ইঙ্গিত বহন করে। সবচেয়ে বড় কথা কোরআন [এর অবস্থান এই যে] সে পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব সমূহের সত্যায়ন করে, এবং কিতাবপ্রাপ্ত জাতিদের পথ প্রদর্শন করে ও মুমিনদের সুসংবাদ দেয়। আসমানী কিতাবসমূহের অবস্থা তাই-ই হয়ে থাকে। সুতরাং জিব্রাইলের দোহাই দিয়ে এই আসমানী কিতাবে বিশ্বাস স্থাপন না করার অর্থই হচ্ছে এ সবই ইহুদীদের কপটতা বা ছলনা।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ৯৮)

যে ব্যক্তি আল্লাহ তাঁর ফেরেশতা ও রসূলগণ এবং জিবরাঈল ও মিকাঈলের শত্রু হয়, নিশ্চিতই আল্লাহ সেসব কাফেরের শত্রু।
”Whoever is an enemy to Allâh, His Angels, His Messengers, Jibrael (Gabriel) and Mikael (Michael), then verily, Allâh is an enemy to the disbelievers.”

مَن كَانَ عَدُوًّا لِّلّهِ وَمَلآئِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَالَ فَإِنَّ اللّهَ عَدُوٌّ لِّلْكَافِرِينَ
Man kana AAaduwwan lillahi wamala-ikatihi warusulihi wajibreela wameekala fa-inna Allaha AAaduwwun lilkafireena

YUSUFALI: Whoever is an enemy to Allah and His angels and messengers, to Gabriel and Michael,- Lo! Allah is an enemy to those who reject Faith.

PICKTHAL: Who is an enemy to Allah, and His angels and His messengers, and Gabriel and Michael! Then, lo! Allah (Himself) is an enemy to the disbelievers.

SHAKIR: Whoever is the enemy of Allah and His angels and His messengers and Jibreel and Meekaeel, so surely Allah is the enemy of the unbelievers.

KHALIFA: Anyone who opposes GOD, and His angels, and His messengers, and Gabriel and Michael, should know that GOD opposes the disbelievers.

৯৮। যে কেউ আল্লাহ্‌র, তাঁর ফেরেশতাগণের, তাঁর রাসূলগণের এবং জিব্রাইল ও মীকাঈলের শত্রু; সে জেনে রাখুক; যারা ঈমান আনে না আল্লাহ তাদের শত্রু।

৯৯। আমি তোমার প্রতি সুস্পষ্ট নিদর্শন [আয়াতসমূহ] অবতীর্ণ করেছি। বিকৃত স্বভাব সম্পন্ন ব্যতীত আর কেউ তা প্রত্যাখান করে না।

১০০। [ঘটনা] কি এই নয় যে, প্রত্যেক সময় তারা অঙ্গীকার করে, [কিন্তু] তাদের মধ্যে একদল তা ছুঁড়ে ফেলে দেয়? বরং তাদের অধিকাংশই ঈমানহীন।

১০১। যখন তাদের নিকট আল্লাহ্‌র তরফ থেকে একজন রাসূল এসেছিলো, যে তাদের নিকট যা আছে উহার সমর্থক, কিতাবীদের একদল, আল্লাহ্‌র কিতাবটিকে পিছনে নিক্ষেপ করলো, যেনো [এটা এমন একটি ঘটনা যা] তারা জানে না ১০২।

১০২। এ আয়াতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর প্রতি ঈমান না আনার ব্যাপারে একটি বিশেষ অঙ্গীকার ভঙ্গের বিষয় বর্ণিত হয়েছে। তাদের কাছে আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে একজন মহান পয়গম্বর আসলেন এবং কুরআন নাজেল হলো যা ইহুদীদের কাছে যে ধর্মগ্রন্থ [তাওরাত] আছে তাকে সত্যায়ন করে। এ অবস্থায় রসূল করিম (সাঃ) এর প্রতি ঈমান আনা তাওরাতের নির্দেশ পালনেরই নামান্তর ছিল। তাওরাতকে তারাও আল্লাহ্‌র প্রেরিত গ্রন্থ মনে করতো। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা তাদের নিজেদের ধর্ম গ্রন্থের বাণীকে অস্বীকার করলো। নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী তার পরিবর্তন করলো। যদি তারা আন্তরিক হতো তবে তারা অবশ্যই দেখতে পেতো তাদের ধর্মগ্রন্থের [তাওরাতের] যে বাণী বা নৈতিক নীতিমালা, সে নীতিমালা আমাদের কুরআনের নৈতিক নীতিমালারই অনুরূপ।

কারণ সবই একই স্রষ্টার কাছ থেকে আগত। কিন্তু তারা সে চেষ্টা না করে কপটতার আশ্রয় গ্রহণ করলো। সবচেয়ে খারাপ কাজ যেটা তারা করলো তা হচ্ছে মিথ্যা কপটতা ও অমঙ্গলের পথ তারা বেছে নিল। মন্দের দ্বারা তারা প্রভাবিত হয়ে পড়লো। যেমন-তারা [আল্লাহ্‌র কিতাব অনুসরণ না করে] ম্যাজিক বা যাদুবিদ্যার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়লো এবং তারই অনুসরণ করতো। পরবর্তী আয়াতে এ সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছে।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ৯৯)

আমি আপনার প্রতি উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ অবতীর্ণ করেছি। অবাধ্যরা ব্যতীত কেউ এগুলো অস্বীকার করে না।
And indeed We have sent down to you manifest Ayât (these Verses of the Qur’ân which inform in detail about the news of the Jews and their secret intentions, etc.), and none disbelieve in them but Fâsiqûn (those who rebel against Allâh’s Command).

وَلَقَدْ أَنزَلْنَآ إِلَيْكَ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ وَمَا يَكْفُرُ بِهَا إِلاَّ الْفَاسِقُونَ
Walaqad anzalna ilayka ayatin bayyinatin wama yakfuru biha illa alfasiqoona

YUSUFALI: We have sent down to thee Manifest Signs (ayat); and none reject them but those who are perverse.
PICKTHAL: Verily We have revealed unto thee clear tokens, and only miscreants will disbelieve in them.

SHAKIR: And certainly We have revealed to you clear communications and none disbelieve in them except the transgressors.

KHALIFA: We have sent down to you such clear revelations, and only the wicked will reject them.

৯৮। যে কেউ আল্লাহ্‌র, তাঁর ফেরেশতাগণের, তাঁর রাসূলগণের এবং জিব্রাইল ও মীকাঈলের শত্রু; সে জেনে রাখুক; যারা ঈমান আনে না আল্লাহ তাদের শত্রু।

৯৯। আমি তোমার প্রতি সুস্পষ্ট নিদর্শন [আয়াতসমূহ] অবতীর্ণ করেছি। বিকৃত স্বভাব সম্পন্ন ব্যতীত আর কেউ তা প্রত্যাখান করে না।

১০০। [ঘটনা] কি এই নয় যে, প্রত্যেক সময় তারা অঙ্গীকার করে, [কিন্তু] তাদের মধ্যে একদল তা ছুঁড়ে ফেলে দেয়? বরং তাদের অধিকাংশই ঈমানহীন।

১০১। যখন তাদের নিকট আল্লাহ্‌র তরফ থেকে একজন রাসূল এসেছিলো, যে তাদের নিকট যা আছে উহার সমর্থক, কিতাবীদের একদল, আল্লাহ্‌র কিতাবটিকে পিছনে নিক্ষেপ করলো, যেনো [এটা এমন একটি ঘটনা যা] তারা জানে না ১০২।

১০২। এ আয়াতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর প্রতি ঈমান না আনার ব্যাপারে একটি বিশেষ অঙ্গীকার ভঙ্গের বিষয় বর্ণিত হয়েছে। তাদের কাছে আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে একজন মহান পয়গম্বর আসলেন এবং কুরআন নাজেল হলো যা ইহুদীদের কাছে যে ধর্মগ্রন্থ [তাওরাত] আছে তাকে সত্যায়ন করে। এ অবস্থায় রসূল করিম (সাঃ) এর প্রতি ঈমান আনা তাওরাতের নির্দেশ পালনেরই নামান্তর ছিল। তাওরাতকে তারাও আল্লাহ্‌র প্রেরিত গ্রন্থ মনে করতো। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা তাদের নিজেদের ধর্ম গ্রন্থের বাণীকে অস্বীকার করলো। নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী তার পরিবর্তন করলো।

যদি তারা আন্তরিক হতো তবে তারা অবশ্যই দেখতে পেতো তাদের ধর্মগ্রন্থের [তাওরাতের] যে বাণী বা নৈতিক নীতিমালা, সে নীতিমালা আমাদের কুরআনের নৈতিক নীতিমালারই অনুরূপ। কারণ সবই একই স্রষ্টার কাছ থেকে আগত। কিন্তু তারা সে চেষ্টা না করে কপটতার আশ্রয় গ্রহণ করলো। সবচেয়ে খারাপ কাজ যেটা তারা করলো তা হচ্ছে মিথ্যা কপটতা ও অমঙ্গলের পথ তারা বেছে নিল। মন্দের দ্বারা তারা প্রভাবিত হয়ে পড়লো। যেমন-তারা [আল্লাহ্‌র কিতাব অনুসরণ না করে] ম্যাজিক বা যাদুবিদ্যার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়লো এবং তারই অনুসরণ করতো। পরবর্তী আয়াতে এ সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছে।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি ।
সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি ।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি ।(আয়াত ১০০)

কি আশ্চর্য, যখন তারা কোন অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়, তখন তাদের একদল তা ছুঁড়ে ফেলে, বরং অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।
Is it not (the case) that every time they make a covenant, some party among them throw it aside? Nay! the truth is most of them believe not.

أَوَكُلَّمَا عَاهَدُواْ عَهْداً نَّبَذَهُ فَرِيقٌ مِّنْهُم بَلْ أَكْثَرُهُمْ لاَ يُؤْمِنُونَ
Awa kullama AAahadoo AAahdan nabathahu fareequn minhum bal aktharuhum la yu/minoona

YUSUFALI: Is it not (the case) that every time they make a covenant, some party among them throw it aside?- Nay, Most of them are faithless.
PICKTHAL: Is it ever so that when they make a covenant a party of them set it aside? The truth is, most of them believe not.

SHAKIR: What! whenever they make a covenant, a party of them cast it aside? Nay, most of them do not believe.

KHALIFA: Is it not a fact that when they make a covenant and pledge to keep it, some of them always disregard it? In fact, most of them do not believe.

৯৮। যে কেউ আল্লাহ্‌র, তাঁর ফেরেশতাগণের, তাঁর রাসূলগণের এবং জিব্রাইল ও মীকাঈলের শত্রু; সে জেনে রাখুক; যারা ঈমান আনে না আল্লাহ তাদের শত্রু।

৯৯। আমি তোমার প্রতি সুস্পষ্ট নিদর্শন [আয়াতসমূহ] অবতীর্ণ করেছি। বিকৃত স্বভাব সম্পন্ন ব্যতীত আর কেউ তা প্রত্যাখান করে না।

১০০। [ঘটনা] কি এই নয় যে, প্রত্যেক সময় তারা অঙ্গীকার করে, [কিন্তু] তাদের মধ্যে একদল তা ছুঁড়ে ফেলে দেয়? বরং তাদের অধিকাংশই ঈমানহীন।

১০১। যখন তাদের নিকট আল্লাহ্‌র তরফ থেকে একজন রাসূল এসেছিলো, যে তাদের নিকট যা আছে উহার সমর্থক, কিতাবীদের একদল, আল্লাহ্‌র কিতাবটিকে পিছনে নিক্ষেপ করলো, যেনো [এটা এমন একটি ঘটনা যা] তারা জানে না ১০২।

১০২। এ আয়াতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর প্রতি ঈমান না আনার ব্যাপারে একটি বিশেষ অঙ্গীকার ভঙ্গের বিষয় বর্ণিত হয়েছে। তাদের কাছে আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে একজন মহান পয়গম্বর আসলেন এবং কুরআন নাজেল হলো যা ইহুদীদের কাছে যে ধর্মগ্রন্থ [তাওরাত] আছে তাকে সত্যায়ন করে। এ অবস্থায় রসূল করিম (সাঃ) এর প্রতি ঈমান আনা তাওরাতের নির্দেশ পালনেরই নামান্তর ছিল। তাওরাতকে তারাও আল্লাহ্‌র প্রেরিত গ্রন্থ মনে করতো। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা তাদের নিজেদের ধর্ম গ্রন্থের বাণীকে অস্বীকার করলো।

নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী তার পরিবর্তন করলো। যদি তারা আন্তরিক হতো তবে তারা অবশ্যই দেখতে পেতো তাদের ধর্মগ্রন্থের [তাওরাতের] যে বাণী বা নৈতিক নীতিমালা, সে নীতিমালা আমাদের কুরআনের নৈতিক নীতিমালারই অনুরূপ। কারণ সবই একই স্রষ্টার কাছ থেকে আগত। কিন্তু তারা সে চেষ্টা না করে কপটতার আশ্রয় গ্রহণ করলো। সবচেয়ে খারাপ কাজ যেটা তারা করলো তা হচ্ছে মিথ্যা কপটতা ও অমঙ্গলের পথ তারা বেছে নিল। মন্দের দ্বারা তারা প্রভাবিত হয়ে পড়লো। যেমন-তারা [আল্লাহ্‌র কিতাব অনুসরণ না করে] ম্যাজিক বা যাদুবিদ্যার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়লো এবং তারই অনুসরণ করতো। পরবর্তী আয়াতে এ সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছে।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১০১)

যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রসূল আগমন করলেন-যিনি ঐ কিতাবের সত্যায়ন করেন, যা তাদের কাছে রয়েছে, তখন আহলে কেতাবদের একদল আল্লাহর গ্রন্থকে পশ্চাতে নিক্ষেপ করল-যেন তারা জানেই না।
And when there came to them a Messenger from Allâh (i.e. Muhammad Peace be upon him ) confirming what was with them, a party of those who were given the Scripture threw away the Book of Allâh behind their backs as if they did not know!

وَلَمَّا جَاءهُمْ رَسُولٌ مِّنْ عِندِ اللّهِ مُصَدِّقٌ لِّمَا مَعَهُمْ نَبَذَ فَرِيقٌ مِّنَ الَّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَابَ كِتَابَ اللّهِ وَرَاء ظُهُورِهِمْ كَأَنَّهُمْ لاَ يَعْلَمُونَ
Walamma jaahum rasoolun min AAindi Allahi musaddiqun lima maAAahum nabatha fareequn mina allatheena ootoo alkitaba kitaba Allahi waraa thuhoorihim kaannahum la yaAAlamoona

YUSUFALI: And when there came to them a messenger from Allah, confirming what was with them, a party of the people of the Book threw away the Book of Allah behind their backs, as if (it had been something) they did not know!
PICKTHAL: And when there cometh unto them a messenger from Allah, confirming that which they possess, a party of those who have received the Scripture fling the Scripture of Allah behind their backs as if they knew not,

SHAKIR: And when there came to them a Messenger from Allah verifying that which they have, a party of those who were given the Book threw the Book of Allah behind their backs as if they knew nothing.

KHALIFA: Now that a messenger from GOD has come to them, and even though he proves and confirms their own scripture, some followers of the scripture (Jews, Christians, and Muslims) disregard GOD’s scripture behind their backs, as if they never had any scripture.

৯৮। যে কেউ আল্লাহ্‌র, তাঁর ফেরেশতাগণের, তাঁর রাসূলগণের এবং জিব্রাইল ও মীকাঈলের শত্রু; সে জেনে রাখুক; যারা ঈমান আনে না আল্লাহ তাদের শত্রু।

৯৯। আমি তোমার প্রতি সুস্পষ্ট নিদর্শন [আয়াতসমূহ] অবতীর্ণ করেছি। বিকৃত স্বভাব সম্পন্ন ব্যতীত আর কেউ তা প্রত্যাখান করে না।

১০০। [ঘটনা] কি এই নয় যে, প্রত্যেক সময় তারা অঙ্গীকার করে, [কিন্তু] তাদের মধ্যে একদল তা ছুঁড়ে ফেলে দেয়? বরং তাদের অধিকাংশই ঈমানহীন।

১০১। যখন তাদের নিকট আল্লাহ্‌র তরফ থেকে একজন রাসূল এসেছিলো, যে তাদের নিকট যা আছে উহার সমর্থক, কিতাবীদের একদল, আল্লাহ্‌র কিতাবটিকে পিছনে নিক্ষেপ করলো, যেনো [এটা এমন একটি ঘটনা যা] তারা জানে না ১০২।

১০২। এ আয়াতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর প্রতি ঈমান না আনার ব্যাপারে একটি বিশেষ অঙ্গীকার ভঙ্গের বিষয় বর্ণিত হয়েছে। তাদের কাছে আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে একজন মহান পয়গম্বর আসলেন এবং কুরআন নাজেল হলো যা ইহুদীদের কাছে যে ধর্মগ্রন্থ [তাওরাত] আছে তাকে সত্যায়ন করে। এ অবস্থায় রসূল করিম (সাঃ) এর প্রতি ঈমান আনা তাওরাতের নির্দেশ পালনেরই নামান্তর ছিল। তাওরাতকে তারাও আল্লাহ্‌র প্রেরিত গ্রন্থ মনে করতো। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা তাদের নিজেদের ধর্ম গ্রন্থের বাণীকে অস্বীকার করলো।

নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী তার পরিবর্তন করলো। যদি তারা আন্তরিক হতো তবে তারা অবশ্যই দেখতে পেতো তাদের ধর্মগ্রন্থের [তাওরাতের] যে বাণী বা নৈতিক নীতিমালা, সে নীতিমালা আমাদের কুরআনের নৈতিক নীতিমালারই অনুরূপ। কারণ সবই একই স্রষ্টার কাছ থেকে আগত। কিন্তু তারা সে চেষ্টা না করে কপটতার আশ্রয় গ্রহণ করলো। সবচেয়ে খারাপ কাজ যেটা তারা করলো তা হচ্ছে মিথ্যা কপটতা ও অমঙ্গলের পথ তারা বেছে নিল। মন্দের দ্বারা তারা প্রভাবিত হয়ে পড়লো। যেমন-তারা [আল্লাহ্‌র কিতাব অনুসরণ না করে] ম্যাজিক বা যাদুবিদ্যার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়লো এবং তারই অনুসরণ করতো। পরবর্তী আয়াতে এ সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছে।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১০২)

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১০৩)

যদি তারা ঈমান আনত এবং খোদাভীরু হত, তবে আল্লাহর কাছ থেকে উত্তম প্রতিদান পেত। যদি তারা জানত।
And if they had believed, and guarded themselves from evil and kept their duty to Allâh, far better would have been the reward from their Lord, if they but knew!

وَلَوْ أَنَّهُمْ آمَنُواْ واتَّقَوْا لَمَثُوبَةٌ مِّنْ عِندِ اللَّه خَيْرٌ لَّوْ كَانُواْ يَعْلَمُونَ
Walaw annahum amanoo waittaqaw lamathoobatun min AAindi Allahi khayrun law kanoo yaAAlamoona

YUSUFALI: If they had kept their Faith and guarded themselves from evil, far better had been the reward from their Lord, if they but knew!

PICKTHAL: And if they had believed and kept from evil, a recompense from Allah would be better, if they only knew.

SHAKIR: And if they had believed and guarded themselves (against evil), reward from Allah would certainly have been better; had they but known (this).

KHALIFA: If they believe and lead a righteous life, the reward from GOD is far better, if they only knew.

১০৩। যদি তারা ঈমান আনতো এবং পাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করতো; তবে আল্লাহ্‌র নিকট থেকে পুরস্কার অধিক কল্যাণকর হতো-যদি তারা তা জানতো।

রুকু – ১৩

১০৪। হে বিশ্বাসীগণ! [নবীকে দ্বর্থ্যবোধক শব্দ] ‘রাঈনা’ বলো না, বরং [সম্মানকনক শব্দ] ‘উরজুরনা ‘ বল, এবং [তাঁর কথা] মনোযোগের সাথে শোন। অবিশ্বাসীদের জন্য আছে ভয়াবহ শাস্তি ১০৬।

১০৬। কোন কোন ইহুদী রাসুলুল্লাহ্‌কে (সাঃ) এর নিকট এসে দুরভিসন্ধিমূলকভাবে তাঁকে, ‘রাঈনা’ বলে সম্বোধন করত। হিব্রু ভাষায় এর অর্থ একটি বদ দোয়া। তারা এ নিয়তেই তা বলতো কিন্তু আরবী ভাষায় এর অর্থ হচ্ছে ‘আমাদের প্রতি লক্ষ্য করুন’ ফলে আরবীভাষীরা তাদের এই দুরভিসন্ধি বুঝতে পারতো না। ভাল অর্থের প্রতি লক্ষ্য রেখে কোন কোন মুসলমানও রাসুলুল্লাহ্‌কে এই শব্দে সম্বোধন করতেন। এতে দুষ্টরা আরও আশ্‌কারা পেতো ও পরস্পর হাসাহাসি করতো আর বলতো, ‘এত দিন আমরা গোপনেই তাকে মন্দ বলতাম। এখন এতে মুসলমানদেরও শরীক হওয়ার কারণে প্রকাশ্যে মন্দ বলার সুযোগ এসেছে’। তাদের এই সুযোগ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে আল্লাহ্‌ মুসলমানদের নির্দেশ দিচ্ছেন, ‘হে মুমিনগণ তোমরা ‘রাঈনা’ শব্দটি বলো না। এর পরিবর্তে উনযুরনা বলবে।

সার্বজনীন শিক্ষা হচ্ছে, প্রত্যেক যুগে প্রত্যেক জাতির মধ্যে একশ্রেণীর লোক থাকে যারা ভালো জিনিষকে কথার মাধ্যমে মন্দভাবে উপস্থাপন করতে ভালবাসে। এরা হচ্ছে বিশ্বনিন্দুক। এদের কথার ধুম্রজালে সাধারণ মানুষ হয় বিভ্রান্ত। আল্লাহ্‌র হুকুম হচ্ছে চিন্তা ও বক্তব্যে সৎ হওয়া। বক্তব্য হবে স্বচ্ছ চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। আরও হুকুম হচ্ছে সৎ বিবেকবান নেতার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, যে জাতির চিন্তা ও কথার মধ্যে ব্যবধান থাকে তারা মুনাফিক। কারণ তারা ভাবে এক কথা বলে অন্য কথা এরূপ ব্যক্তি বা জাতির উপর আল্লাহ্‌র গজব অবশ্যই নিপতিত হবে।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১০৪)

হে মুমিন গণ, তোমরা ‘রায়িনা’ বলো না-‘উনযুরনা’ বল এবং শুনতে থাক। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি।
O you who believe! Say not (to the Messenger Peace be upon him ) Râ’ina but say Unzurna (Do make us understand) and hear. And for the disbelievers there is a painful torment. (See Verse 4:46)

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَقُولُواْ رَاعِنَا وَقُولُواْ انظُرْنَا وَاسْمَعُوا ْوَلِلكَافِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌ
Ya ayyuha allatheena amanoo la taqooloo raAAina waqooloo onthurna waismaAAoo walilkafireena AAathabun aleemun

YUSUFALI: O ye of Faith! Say not (to the Messenger) words of ambiguous import, but words of respect; and hearken (to him): To those without Faith is a grievous punishment.

PICKTHAL: O ye who believe, say not (unto the Prophet): “Listen to us” but say “Look upon us,” and be ye listeners. For disbelievers is a painful doom.

SHAKIR: O you who believe! do not say Raina and say Unzurna and listen, and for the unbelievers there is a painful chastisement.

KHALIFA: O you who believe, do not say, “Raa`ena” (be our shepherd). Instead, you should say, “Unzurna” (watch over us), and listen. The disbelievers have incurred a painful retribution.

১০৩। যদি তারা ঈমান আনতো এবং পাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করতো; তবে আল্লাহ্‌র নিকট থেকে পুরস্কার অধিক কল্যাণকর হতো-যদি তারা তা জানতো।

রুকু – ১৩

১০৪। হে বিশ্বাসীগণ! [নবীকে দ্বর্থ্যবোধক শব্দ] ‘রাঈনা’ বলো না, বরং [সম্মানকনক শব্দ] ‘উরজুরনা ‘ বল, এবং [তাঁর কথা] মনোযোগের সাথে শোন। অবিশ্বাসীদের জন্য আছে ভয়াবহ শাস্তি ১০৬।

১০৬। কোন কোন ইহুদী রাসুলুল্লাহ্‌কে (সাঃ) এর নিকট এসে দুরভিসন্ধিমূলকভাবে তাঁকে, ‘রাঈনা’ বলে সম্বোধন করত। হিব্রু ভাষায় এর অর্থ একটি বদ দোয়া। তারা এ নিয়তেই তা বলতো কিন্তু আরবী ভাষায় এর অর্থ হচ্ছে ‘আমাদের প্রতি লক্ষ্য করুন’ ফলে আরবীভাষীরা তাদের এই দুরভিসন্ধি বুঝতে পারতো না। ভাল অর্থের প্রতি লক্ষ্য রেখে কোন কোন মুসলমানও রাসুলুল্লাহ্‌কে এই শব্দে সম্বোধন করতেন। এতে দুষ্টরা আরও আশ্‌কারা পেতো ও পরস্পর হাসাহাসি করতো আর বলতো, ‘এত দিন আমরা গোপনেই তাকে মন্দ বলতাম। এখন এতে মুসলমানদেরও শরীক হওয়ার কারণে প্রকাশ্যে মন্দ বলার সুযোগ এসেছে’। তাদের এই সুযোগ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে আল্লাহ্‌ মুসলমানদের নির্দেশ দিচ্ছেন, ‘হে মুমিনগণ তোমরা ‘রাঈনা’ শব্দটি বলো না। এর পরিবর্তে উনযুরনা বলবে।

সার্বজনীন শিক্ষা হচ্ছে, প্রত্যেক যুগে প্রত্যেক জাতির মধ্যে একশ্রেণীর লোক থাকে যারা ভালো জিনিষকে কথার মাধ্যমে মন্দভাবে উপস্থাপন করতে ভালবাসে। এরা হচ্ছে বিশ্বনিন্দুক। এদের কথার ধুম্রজালে সাধারণ মানুষ হয় বিভ্রান্ত। আল্লাহ্‌র হুকুম হচ্ছে চিন্তা ও বক্তব্যে সৎ হওয়া। বক্তব্য হবে স্বচ্ছ চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। আরও হুকুম হচ্ছে সৎ বিবেকবান নেতার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, যে জাতির চিন্তা ও কথার মধ্যে ব্যবধান থাকে তারা মুনাফিক। কারণ তারা ভাবে এক কথা বলে অন্য কথা এরূপ ব্যক্তি বা জাতির উপর আল্লাহ্‌র গজব অবশ্যই নিপতিত হবে।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১০৫)

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১০৬)

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১০৭)

তুমি কি জান না যে, আল্লাহর জন্যই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের আধিপত্য? আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন বন্ধু ও সাহায্যকারী নেই।
Know you not that it is Allâh to Whom belongs the dominion of the heavens and the earth? And besides Allâh you have neither any Walî (protector or guardian) nor any helper.

أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللّهَ لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ اللّهِ مِن وَلِيٍّ وَلاَ نَصِيرٍ
Alam taAAlam anna Allaha lahu mulku alssamawati waal-ardi wama lakum min dooni Allahi min waliyyin wala naseerin

YUSUFALI: Knowest thou not that to Allah belongeth the dominion of the heavens and the earth? And besides Him ye have neither patron nor helper.

PICKTHAL: Knowest thou not that it is Allah unto Whom belongeth the Sovereignty of the heavens and the earth; and ye have not, beside Allah, any guardian or helper?

SHAKIR: Do you not know that Allah’s is the kingdom of the heavens and the earth, and that besides Allah you have no guardian or helper?

KHALIFA: Do you not recognize the fact that GOD possesses the kingship of the heavens and the earth; that you have none besides GOD as your Lord and Master?

১০৭। তুমি কি জান না যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সীমানা আল্লাহ্‌রই নিয়ন্ত্রণাধীনে? তিনি ব্যতীত তোমাদের কোনও অভিভাবক নাই, সাহায্যকারীও নাই।

১০৮। তোমরা কি তোমাদের রাসূলকে সেইরূপ প্রশ্ন করতে চাও, প্রাচীনকালে মুসাকে যেরূপ করা হয়েছিল? ১০৮। কিন্তু যে বিশ্বাসী থেকে অবিশ্বাসীতে পরিবর্তিত হয়, নিঃসন্দেহে সে সরল পথ থেকে বিপথে যায় ১০৯।

১০৮। ইহুদীরা হযরত মুসা (আঃ) কে অপ্রাসঙ্গিক কুটিল প্রশ্ন দ্বারা অবিরাম হয়রানী করতো। এখানে আল্লাহ্‌ মুসলমানদের সেই উদাহরণ অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। আধ্যাত্মিক জগতে নিজেকে জাহির করা বা প্রচার করার মাধ্যমে কিছুই পাওয়া যায় না। সত্যিকারের যদি কিছু জানার আকাঙ্ক্ষা থাকে শুধুমাত্র তবেই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা উচিত।

১০৯। আরবী শব্দ ‘সাওয়াআ’ এর অর্থ অনেক ব্যাপক। শুধুমাত্র সরল পথ বা মসৃন পথ-এভাবে এর অর্থ প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এর দ্বারা বিভিন্ন ভাবের প্রকাশ পায়। যেমন-এ এমন পথ যা মসৃন [বন্ধুর পথের বিপরীত]; সুসামঞ্জস্যপূর্ণ [এলোমেলো এর বিপরীত]; সঙ্গতিপূর্ণ [অসঙ্গতির বিপরীত]; ন্যায়ের পথ [অন্যায়ের বিপরীত]; মধ্য পথ [চরম পথের বিপরীত] এবং যে পথ আদর্শ বা উদ্দেশ্যের প্রতি নিবেদিত। অর্থাৎ এটা এমন এক পথ যা মধ্য পথ, ন্যায় ও সত্যের আলোয় উদ্ভাসিত, পারিপার্শ্বিকের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

জীবনের উদ্দেশ্য হচ্ছে ভালোর প্রতি, সত্য ও সুন্দরের প্রতি নিবেদিত পরিকল্পিত জীবন। সুতরাং এ পথ অবলম্বন করতে হলে চারিত্রিক গুণাবলী অর্জন করতে হবে। সরল পথ হারায় অর্থাৎ চারিত্রিক গুণাবলীর যে মাধুর্য যা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সরল পথকে নির্দেশ করে, তা হারিয়ে ফেলে এবং ঠিক তার বিপরীত ধর্মই তার চরিত্রে প্রকাশ পায়। চারিত্রিক গুণাবলীর বিকাশই হচ্ছে ইসলামের সরল পথের ঠিকানা। ‘সাওয়াআ’ অর্থ এই সরল পথের ঠিকানা।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১০৮)

ইতিপূর্বে মূসা (আঃ) যেমন জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন, (মুসলমানগন, ) তোমরাও কি তোমাদের রসূলকে তেমনি প্রশ্ন করতে চাও? যে কেউ ঈমানের পরিবর্তে কুফর গ্রহন করে, সে সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়।
Or do you want to ask your Messenger (Muhammad Peace be upon him ) as Mûsa (Moses) was asked before (i.e. show us openly our Lord?) And he who changes Faith for disbelief, verily, he has gone astray from the right way.

أَمْ تُرِيدُونَ أَن تَسْأَلُواْ رَسُولَكُمْ كَمَا سُئِلَ مُوسَى مِن قَبْلُ وَمَن يَتَبَدَّلِ الْكُفْرَ بِالإِيمَانِ فَقَدْ ضَلَّ سَوَاء السَّبِيلِ
Am tureedoona an tas-aloo rasoolakum kama su-ila moosa min qablu waman yatabaddali alkufra bial-eemani faqad dalla sawaa alssabeeli

YUSUFALI: Would ye question your Messenger as Moses was questioned of old? but whoever changeth from Faith to Unbelief, Hath strayed without doubt from the even way.

PICKTHAL: Or would ye question your messenger as Moses was questioned aforetime? He who chooseth disbelief instead of faith, verily he hath gone astray from a plain road.

SHAKIR: Rather you wish to put questions to your Messenger, as Musa was questioned before; and whoever adopts unbelief instead of faith, he indeed has lost the right direction of the way.

KHALIFA: Do you wish to demand of your messenger what was demanded of Moses in the past? Anyone who chooses disbelief, instead of belief, has truly strayed off the right path.

১০৭। তুমি কি জান না যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সীমানা আল্লাহ্‌রই নিয়ন্ত্রণাধীনে? তিনি ব্যতীত তোমাদের কোনও অভিভাবক নাই, সাহায্যকারীও নাই।

১০৮। তোমরা কি তোমাদের রাসূলকে সেইরূপ প্রশ্ন করতে চাও, প্রাচীনকালে মুসাকে যেরূপ করা হয়েছিল? ১০৮। কিন্তু যে বিশ্বাসী থেকে অবিশ্বাসীতে পরিবর্তিত হয়, নিঃসন্দেহে সে সরল পথ থেকে বিপথে যায় ১০৯।

১০৮। ইহুদীরা হযরত মুসা (আঃ) কে অপ্রাসঙ্গিক কুটিল প্রশ্ন দ্বারা অবিরাম হয়রানী করতো। এখানে আল্লাহ্‌ মুসলমানদের সেই উদাহরণ অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। আধ্যাত্মিক জগতে নিজেকে জাহির করা বা প্রচার করার মাধ্যমে কিছুই পাওয়া যায় না। সত্যিকারের যদি কিছু জানার আকাঙ্ক্ষা থাকে শুধুমাত্র তবেই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা উচিত।

১০৯। আরবী শব্দ ‘সাওয়াআ’ এর অর্থ অনেক ব্যাপক। শুধুমাত্র সরল পথ বা মসৃন পথ-এভাবে এর অর্থ প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এর দ্বারা বিভিন্ন ভাবের প্রকাশ পায়। যেমন-এ এমন পথ যা মসৃন [বন্ধুর পথের বিপরীত]; সুসামঞ্জস্যপূর্ণ [এলোমেলো এর বিপরীত]; সঙ্গতিপূর্ণ [অসঙ্গতির বিপরীত]; ন্যায়ের পথ [অন্যায়ের বিপরীত]; মধ্য পথ [চরম পথের বিপরীত] এবং যে পথ আদর্শ বা উদ্দেশ্যের প্রতি নিবেদিত। অর্থাৎ এটা এমন এক পথ যা মধ্য পথ, ন্যায় ও সত্যের আলোয় উদ্ভাসিত, পারিপার্শ্বিকের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

জীবনের উদ্দেশ্য হচ্ছে ভালোর প্রতি, সত্য ও সুন্দরের প্রতি নিবেদিত পরিকল্পিত জীবন। সুতরাং এ পথ অবলম্বন করতে হলে চারিত্রিক গুণাবলী অর্জন করতে হবে। সরল পথ হারায় অর্থাৎ চারিত্রিক গুণাবলীর যে মাধুর্য যা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সরল পথকে নির্দেশ করে, তা হারিয়ে ফেলে এবং ঠিক তার বিপরীত ধর্মই তার চরিত্রে প্রকাশ পায়। চারিত্রিক গুণাবলীর বিকাশই হচ্ছে ইসলামের সরল পথের ঠিকানা। ‘সাওয়াআ’ অর্থ এই সরল পথের ঠিকানা।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১০৯)

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১১০)

তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা কর এবং যাকাত দাও। তোমরা নিজের জন্যে পূর্বে যে সৎকর্ম প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে। তোমরা যা কিছু কর, নিশ্চয় আল্লাহ তা প্রত্যক্ষ করেন।
And perform As-Salât (Iqâmat-as-Salât), and give Zakât, and whatever of good (deeds that Allâh loves) you send forth for yourselves before you, you shall find it with Allâh. Certainly, Allâh is All-Seer of what you do.

وَأَقِيمُواْ الصَّلاَةَ وَآتُواْ الزَّكَاةَ وَمَا تُقَدِّمُواْ لأَنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِندَ اللّهِ إِنَّ اللّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ
Waaqeemoo alssalata waatoo alzzakata wama tuqaddimoo li-anfusikum min khayrin tajidoohu AAinda Allahi inna Allaha bima taAAmaloona baseerun

YUSUFALI: And be steadfast in prayer and regular in charity: And whatever good ye send forth for your souls before you, ye shall find it with Allah: for Allah sees Well all that ye do.

PICKTHAL: Establish worship, and pay the poor-due; and whatever of good ye send before (you) for your souls, ye will find it with Allah. Lo! Allah is Seer of what ye do.

SHAKIR: And keep up prayer and pay the poor-rate and whatever good you send before for yourselves, you shall find it with Allah; surely Allah sees what you do.

KHALIFA: You shall observe the Contact Prayers (Salat) and give the obligatory charity (Zakat). Any good you send forth on behalf of your souls, you will find it at GOD. GOD is seer of everything you do.

১১০। তোমরা সালাতে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাক এবং যাকাত দাও। [তোমাদের মৃত্যুর] পূর্বে যা কিছু তোমরা তোমাদের আত্মার [কল্যাণের] জন্য প্রেরণ করবে, আল্লাহ্‌র নিকট তা [ফেরৎ] পাবে। তোমরা যা কর আল্লাহ্‌ সব ভালভাবে জানেন ১১৩।

১১৩। [২:৯৫] আয়াতে এবং টিকা ১০০ তে দ্রষ্টব্য।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১১১)

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১১২)

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১১৩)

ইহুদীরা বলে, খ্রীস্টানরা কোন ভিত্তির উপরেই নয় এবং খ্রীস্টানরা বলে, ইহুদীরা কোন ভিত্তির উপরেই নয়। অথচ ওরা সবাই কিতাব পাঠ করে! এমনিভাবে যারা মূর্খ, তারাও ওদের মতই উক্তি করে। অতএব, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাদের মধ্যে ফয়সালা দেবেন, যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছিল।
The Jews said that the Christians follow nothing (i.e. are not on the right religion); and the Christians said that the Jews follow nothing (i.e. are not on the right religion); though they both recite the Scripture. Like unto their word, said (the pagans) who know not. Allâh will judge between them on the Day of Resurrection about that wherein they have been differing.

وَقَالَتِ الْيَهُودُ لَيْسَتِ النَّصَارَى عَلَىَ شَيْءٍ وَقَالَتِ النَّصَارَى لَيْسَتِ الْيَهُودُ عَلَى شَيْءٍ وَهُمْ يَتْلُونَ الْكِتَابَ كَذَلِكَ قَالَ الَّذِينَ لاَ يَعْلَمُونَ مِثْلَ قَوْلِهِمْ فَاللّهُ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيمَا كَانُواْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ
Waqalati alyahoodu laysati alnnasara AAala shay-in waqalati alnnasara laysati alyahoodu AAala shay-in wahum yatloona alkitaba kathalika qala allatheena la yaAAlamoona mithla qawlihim faAllahu yahkumu baynahum yawma alqiyamati feema kanoo feehi yakhtalifoona

YUSUFALI: The Jews say: “The Christians have naught (to stand) upon; and the Christians say: “The Jews have naught (To stand) upon.” Yet they (Profess to) study the (same) Book. Like unto their word is what those say who know not; but Allah will judge between them in their quarrel on the Day of Judgment.
PICKTHAL: And the Jews say the Christians follow nothing (true), and the Christians say the Jews follow nothing (true); yet both are readers of the Scripture. Even thus speak those who know not. Allah will judge between them on the Day of Resurrection concerning that wherein they differ.

SHAKIR: And the Jews say: The Christians do not follow anything (good) and the Christians say: The Jews do not follow anything (good) while they recite the (same) Book. Even thus say those who have no knowledge, like to what they say; so Allah shall judge between them on the day of resurrection in what they differ.
KHALIFA: The Jews said, “The Christians have no basis,” while the Christians said, “The Jews have no basis.” Yet, both of them read the scripture. Such are the utterances of those who possess no knowledge. GOD will judge them on the Day of Resurrection, regarding their disputes.

রুকু – ১৪

১১৩। ইহুদীরা বলে, ‘খৃষ্টানদের [বিশ্বাসের] কোন ভিত্তি নাই’; এবং খৃষ্টানেরা বলে, ‘ইহুদীদের [বিশ্বাসের] কোন ভিত্তি নাই।’ যদিও তারা [একই কিতাব] পাঠ করে [বলে স্বীকার করে]। একইভাবে, যারা কিছুই জানে না তারাও অনুরূপ কথা বলে ১১৬। সুতরাং যে বিষয়ে তাদের মতভেদ আছে শেষ বিচারের দিনে আল্লাহ্‌ তা ফয়সালা করবেন।

১১৬। এই আয়াতে কিতাবধারীদের সম্বন্ধে আলোচনা করা হচ্ছে। যদিও তারা ঐশী গ্রন্থপ্রাপ্ত এবং ইব্রাহীমের ধর্মের অনুসারী, তবুও নিজেদের অজ্ঞতা এবং অন্ধ অহংকারে তারা একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। যদিও তারা সকলেই ঐশী গ্রন্থের অধিকারী।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি ।
সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি ।

[সার্বজনীন শিক্ষা হচ্ছে অজ্ঞতা, অন্ধ-অহংকার, একগুঁয়েমী আমাদের অন্তরে অন্ধকারের সৃষ্টি করে যা আমাদের সত্য ও সুন্দরকে চিনতে বাঁধা দান করে। ভালো-মন্দ সব একাকার হয়ে যায়, ফলে সত্যকে অস্বীকার করার প্রবণতা জন্মে।-অনুবাদক।]

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১১৪)

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১১৫)

পূর্ব ও পশ্চিম আল্লারই। অতএব, তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও, সেদিকেই আল্লাহ বিরাজমান। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ।
And to Allâh belong the east and the west, so wherever you turn yourselves or your faces there is the Face of Allâh (and He is High above, over His Throne). Surely! Allâh is All-Sufficient for His creatures’ needs, All-Knowing.

وَلِلّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ فَأَيْنَمَا تُوَلُّواْ فَثَمَّ وَجْهُ اللّهِ إِنَّ اللّهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
Walillahi almashriqu waalmaghribu faaynama tuwalloo fathamma wajhu Allahi inna Allaha wasiAAun AAaleemun

YUSUFALI: To Allah belong the east and the West: Whithersoever ye turn, there is the presence of Allah. For Allah is all-Pervading, all-Knowing.

PICKTHAL: Unto Allah belong the East and the West, and whithersoever ye turn, there is Allah’s Countenance. Lo! Allah is All-Embracing, All-Knowing.

SHAKIR: And Allah’s is the East and the West, therefore, whither you turn, thither is Allah’s purpose; surely Allah is Amplegiving, Knowing.

KHALIFA: To GOD belongs the east and the west; wherever you go there will be the presence of GOD. GOD is Omnipresent, Omniscient.

১১৫। পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহ্‌রই। যেদিকেই তাকাও না কেন সর্বত্র আল্লাহ্‌র উপস্থিতি বিদ্যমান। আল্লাহ্‌র [অবস্থান] সর্বব্যাপী, [তিনি] সর্বজ্ঞ ১১৮।

১১৮। ‘ওয়াজহা’ শব্দটির শাব্দিক অর্থ হচ্ছে ‘মুখমন্ডল’ এখানে অনুবাদ করা হয়েছে উপস্থিতি। টিকা ১০৭-দ্রষ্টব্য।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১১৬)

তারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। তিনি তো এসব কিছু থেকে পবিত্র, বরং নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু রয়েছে সবই তার আজ্ঞাধীন।
And they (Jews, Christians and pagans) say: Allâh has begotten a son (children or offspring). Glory be to Him (Exalted be He above all that they associate with Him). Nay, to Him belongs all that is in the heavens and on earth, and all surrender with obedience (in worship) to Him.

وَقَالُواْ اتَّخَذَ اللّهُ وَلَدًا سُبْحَانَهُ بَل لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ كُلٌّ لَّهُ قَانِتُونَ
Waqaloo itakhatha Allahu waladan subhanahu bal lahu ma fee alssamawati waal-ardi kullun lahu qanitoona

YUSUFALI: They say: “Allah hath begotten a son” :Glory be to Him.-Nay, to Him belongs all that is in the heavens and on earth: everything renders worship to Him.

PICKTHAL: And they say: Allah hath taken unto Himself a son. Be He glorified! Nay, but whatsoever is in the heavens and the earth is His. All are subservient unto Him.

SHAKIR: And they say: Allah has taken to himself a son. Glory be to Him; rather, whatever is in the heavens and the earth is His; all are obedient to Him.

KHALIFA: They said, “GOD has begotten a son!” Be He glorified; never! To Him belongs everything in the heavens and the earth; all are subservient to Him.

১১৬। তারা বলে, ‘আল্লাহ্‌ পুত্র সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ তিনি পবিত্র, বরং আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব আল্লাহ্‌র [নিয়ন্ত্রণাধীনে] সকল কিছুই তারই এবাদত করে ১১৯।

১১৯। ‘আল্লাহ্‌ পুত্র সন্তান গ্রহণ ,করেছেন’ এ কথাটির দ্বারা আল্লাহ্‌র মহিমা খর্ব করা হয়। শুধু খর্ব করাই নয়, এ এক ধরণের ‘ঈশ্বর নিন্দা’ কারণ এ কথার দ্বারা এটাই বোঝানো হয় যে, আল্লাহ্‌ সাধারণ মানুষের মত যৌন-তাড়িত বস্তুবাদী এক শক্তি। এতে আল্লাহ্‌র মহিমাকে খর্ব করা হয়। আল্লাহ্‌র কোন অভাব নাই। তিনি অভাবমুক্ত। মরণশীল মানুষ বা প্রাণীর যে কোনও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য মহান আল্লাহ্‌র জন্য প্রয়োগ করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। অপরপক্ষে, আধ্যাত্মিক মতবাদ অনুযায়ী সমস্ত সৃষ্টিই আল্লাহ্‌র সন্তান তুল্য।

মা যেভাবে নিজ সন্তানকে সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষা করে। স্নেহ ভালবাসায় সন্তানের জীবনকে ভরিয়ে দেয়, আল্লাহ্‌ তার সৃষ্টিকে মায়ের স্নেহের থেকেও বেশি ভালবাসেন। তাঁর করুণাধারা মায়ের স্নেহ অপেক্ষাও বেশি তাঁর সৃষ্টিকে ঘিরে থাকে।

সেই হিসেবে আমরা সবাই আল্লাহ্‌র সন্তান। তাঁর সৃষ্টির দিকে চোখ ফিরালে দেখতে পাই, সমস্ত সৃষ্টি তাঁর আইন অর্থাৎ হুকুম মেনে চলছে। বৃক্ষকুল, প্রাণীকূল, বিশ্ব-প্রকৃতি সদা-সর্বদা আল্লাহ্‌র আইন মেনে চলে। উদাহরণ স্বরূপ, বলা যায়-বীজকে উপযুক্ত পরিবেশে রাখলে অঙ্কুরোদগম ঘটে। বৃক্ষ তার নিজস্ব গতিতে বড় হয়, ফল-ফুলে শোভিত হয়ে এক সময়ে মরে যায়। এটা আল্লাহ্‌র আইন। পাহাড়, নদী, সমুদ্র, আকাশ, বাতাস, পানি, আলো সমস্ত বিশ্বভূবন ও বস্তুজগত সকলেই আল্লাহ্‌র প্রদত্ত স্ব-স্ব আইন মেনে চলে।

সেই হিসেবে বিশ্ব-চরাচরে সকলেই আল্লাহ্‌র গুণগানে ব্যস্ত। আল্লাহ্‌র আইন মান্য করা মানেই তাঁর এবাদত করা। বস্তুজগতের ক্ষমতা নাই আল্লাহ্‌র আইন অমান্য করার। একমাত্র মানুষকেই আল্লাহ্‌ সীমিত ইচ্ছা শক্তির স্বাধীনতা দিয়েছেন যেনো সে তা প্রয়োগ করতে পারে আত্মিক উন্নতির জন্য। কিন্তু মানুষের যে দেহ সে দেহের দিকে লক্ষ্য করলেও আমরা দেখতে পাই সে নির্ভুলভাবে আল্লাহ্‌র আইন মেনে চলে।

শৈশবে, কৈশোরে, যৌবনে, বার্ধক্যে তার যে পরিবর্তন তা আল্লাহ্‌র আইনকেই মেনে চলা। এ পরিবর্তনের ধারাকে রহিত করার ক্ষমতা কারও নাই। তাই আমাদের দেহ আল্লাহ্‌র আইন মেনে চলে। সুতরাং তাঁর গুণগান করে তাঁরই এবাদত করে। কিন্তু সীমিত স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি [Limited free will] প্রাপ্ত হওয়ার ফলে মানুষ আল্লাহ্‌র আইন লঙ্ঘন করার ক্ষমতা রাখে এবং এ শক্তি তার আত্মায় নিহিত। এর সদ্ব্যবহার করলে আত্মিক উন্নতি হয়। অপব্যবহার আত্মিক ক্ষতি হয়।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১১৭)

তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের উদ্ভাবক। যখন তিনি কোন কার্য সম্পাদনের সিন্ধান্ত নেন, তখন সেটিকে একথাই বলেন, ‘হয়ে যাও’ তৎক্ষণাৎ তা হয়ে যায়।
The Originator of the heavens and the earth. When He decrees a matter, He only says to it : ”Be!” – and it is.

بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَإِذَا قَضَى أَمْراً فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُن فَيَكُونُ
BadeeAAu alssamawati waal-ardi wa-itha qada amran fa-innama yaqoolu lahu kun fayakoonu

YUSUFALI: To Him is due the primal origin of the heavens and the earth: When He decreeth a matter, He saith to it: “Be,” and it is.

PICKTHAL: The Originator of the heavens and the earth! When He decreeth a thing, He saith unto it only: Be! and it is.

SHAKIR: Wonderful Originator of the heavens and the earth, and when He decrees an affair, He only says to it, Be, so there it is.

KHALIFA: The Initiator of the heavens and the earth: to have anything done, He simply says to it, “Be,” and it is.

১১৭। তিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর আদি স্রষ্টা। এবং যখন তিনি কিছু করতে সিদ্ধান্ত করেন, তিনি শুধু বলেন, ‘হও’ আর তা হয়ে যায়।

১১৮। যাদের কোন জ্ঞান নাই, তারা বলে, ‘আল্লাহ্‌ আমাদের সাথে কথা বলেন না কেন? অথবা আমাদের নিকট কোন নিদর্শন আসে না কেন?’ এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরাও অনুরূপ কথা বলতো। তাদের অন্তর একই রকম। যে কেউ দৃঢ়ভাবে [তাদের অন্তরে] ঈমানকে ধরে রাখে, আমি অবশ্যই তাদের জন্য নিদর্শনাবলীকে সুস্পষ্ট করেছি।

১১৯। আমি তোমাকে সত্যসহ শুভ সংবাদ দাতা এবং সতর্ককারী রূপে প্রেরণ করেছি। জাহান্নামের অধিবাসীদের সম্বন্ধে তোমাকে কোন প্রশ্ন করা হবে না।

১২০। ইহুদী ও খ্রীষ্টানগণ কখনও সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না তুমি তাদের ধর্ম মত অনুসরণ কর। বল, ‘আল্লাহ্‌র পথ নির্দেশই [একমাত্র] পথ নির্দেশ।’ তোমার নিকট যে জ্ঞান এসেছে তা প্রাপ্তির পর যদি তুমি তাদের খেয়াল খুশীর অনুসরণ কর, তবে আল্লাহ্‌র বিপক্ষে তোমার কোন রক্ষাকারী থাকবে না এবং কোন সাহায্যকারীও থাকবে না।

১২১। যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি যেভাবে তা পাঠ করা উচিত সেভাবে পাঠ কর। এরাই তারা যারা তাতে বিশ্বাস করে। যারা তাতে বিশ্বাস করতে অস্বীকার করে তারা ক্ষতিগ্রস্থ।

রুকু – ১৫

১২২। হে বনী ইসরাঈলীগণ! আমার সেই বিশেষ অনুগ্রহ স্মরণ কর যা দ্বারা আমি তোমাদের অনুগৃহীত করেছি এবং সকল [জাতির] মধ্যে তোমাদের [নবুয়তের জন্য] পছন্দ করেছি।

১২৩। সেই দিন থেকে নিজেকে রক্ষা কর, যেদিন কেউ কারও উপকারে আসবে না। কারও কাছ থেকে কোন ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করা হবে না। কোন সুপারিশ লাভজনক হবে না। এবং [বাইরে থেকে] কেউ কোন সাহায্য পাবে না ১২২।

১২২। [২: ১২২-১২৩] আয়াত দুটি, [২: ৪৭-৪৮] আয়াত দুটির পুনরাবৃত্তি। ১২৩ এর ভাষাতে সামান্য পরিবর্তন হলেও তা আয়াতের অর্থে কোনও পরিবর্তন ঘটে নাই। এই আয়াতগুলিতে ইহুদীদের প্রতি আল্লাহ্‌র অনুগ্রহের বর্ণনা সুন্দরভাবে শেষ করা হয়েছে। এরপরে শুরু হতে যাচ্ছে, আধ্যাত্মিক জগতে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর বংশধর হিসেবে [হযরত ইসমাইলের (আঃ) মাধ্যমে] আরবদের উপরে আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ বা করুণার বর্ণনা।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১১৮)

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১১৯)

নিশ্চয় আমি আপনাকে সত্যধর্মসহ সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারীরূপে পাঠিয়েছি। আপনি দোযখবাসীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন না।
Verily, We have sent you (O Muhammad Peace be upon him ) with the truth (Islâm), a bringer of glad tidings (for those who believe in what you brought, that they will enter Paradise) and a warner (for those who disbelieve in what you brought, they will enter the Hell-fire). And you will not be asked about the dwellers of the blazing Fire.

إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلاَ تُسْأَلُ عَنْ أَصْحَابِ الْجَحِيمِ
Inna arsalnaka bialhaqqi basheeran wanatheeran wala tus-alu Aaan as-habi aljaheemi

YUSUFALI: Verily We have sent thee in truth as a bearer of glad tidings and a warner: But of thee no question shall be asked of the Companions of the Blazing Fire.

PICKTHAL: Lo! We have sent thee (O Muhammad) with the truth, a bringer of glad tidings and a warner. And thou wilt not be asked about the owners of hell-fire.

SHAKIR: Surely We have sent you with the truth as a bearer of good news and as a warner, and you shall not be called upon to answer for the companions of the flaming fire.

KHALIFA: We have sent you with the truth as a bearer of good news, as well as a warner. You are not answerable for those who incur Hell.

১১৭। তিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর আদি স্রষ্টা। এবং যখন তিনি কিছু করতে সিদ্ধান্ত করেন, তিনি শুধু বলেন, ‘হও’ আর তা হয়ে যায়।

১১৮। যাদের কোন জ্ঞান নাই, তারা বলে, ‘আল্লাহ্‌ আমাদের সাথে কথা বলেন না কেন? অথবা আমাদের নিকট কোন নিদর্শন আসে না কেন?’ এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরাও অনুরূপ কথা বলতো। তাদের অন্তর একই রকম। যে কেউ দৃঢ়ভাবে [তাদের অন্তরে] ঈমানকে ধরে রাখে, আমি অবশ্যই তাদের জন্য নিদর্শনাবলীকে সুস্পষ্ট করেছি।

১১৯। আমি তোমাকে সত্যসহ শুভ সংবাদ দাতা এবং সতর্ককারী রূপে প্রেরণ করেছি। জাহান্নামের অধিবাসীদের সম্বন্ধে তোমাকে কোন প্রশ্ন করা হবে না।

১২০। ইহুদী ও খ্রীষ্টানগণ কখনও সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না তুমি তাদের ধর্ম মত অনুসরণ কর। বল, ‘আল্লাহ্‌র পথ নির্দেশই [একমাত্র] পথ নির্দেশ।’ তোমার নিকট যে জ্ঞান এসেছে তা প্রাপ্তির পর যদি তুমি তাদের খেয়াল খুশীর অনুসরণ কর, তবে আল্লাহ্‌র বিপক্ষে তোমার কোন রক্ষাকারী থাকবে না এবং কোন সাহায্যকারীও থাকবে না।

১২১। যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি যেভাবে তা পাঠ করা উচিত সেভাবে পাঠ কর। এরাই তারা যারা তাতে বিশ্বাস করে। যারা তাতে বিশ্বাস করতে অস্বীকার করে তারা ক্ষতিগ্রস্থ।

রুকু – ১৫

১২২। হে বনী ইসরাঈলীগণ! আমার সেই বিশেষ অনুগ্রহ স্মরণ কর যা দ্বারা আমি তোমাদের অনুগৃহীত করেছি এবং সকল [জাতির] মধ্যে তোমাদের [নবুয়তের জন্য] পছন্দ করেছি।

১২৩। সেই দিন থেকে নিজেকে রক্ষা কর, যেদিন কেউ কারও উপকারে আসবে না। কারও কাছ থেকে কোন ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করা হবে না। কোন সুপারিশ লাভজনক হবে না। এবং [বাইরে থেকে] কেউ কোন সাহায্য পাবে না ১২২।

১২২। [২: ১২২-১২৩] আয়াত দুটি, [২: ৪৭-৪৮] আয়াত দুটির পুনরাবৃত্তি। ১২৩ এর ভাষাতে সামান্য পরিবর্তন হলেও তা আয়াতের অর্থে কোনও পরিবর্তন ঘটে নাই। এই আয়াতগুলিতে ইহুদীদের প্রতি আল্লাহ্‌র অনুগ্রহের বর্ণনা সুন্দরভাবে শেষ করা হয়েছে। এরপরে শুরু হতে যাচ্ছে, আধ্যাত্মিক জগতে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর বংশধর হিসেবে [হযরত ইসমাইলের (আঃ) মাধ্যমে] আরবদের উপরে আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ বা করুণার বর্ণনা।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১২০)

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১২১)

আমি যাদেরকে গ্রন্থ দান করেছি, তারা তা যথাযথভাবে পাঠ করে। তারাই তৎপ্রতি বিশ্বাস করে। আর যারা তা অবিশ্বাস করে, তারাই হবে ক্ষতিগ্রস্ত।
Those (who embraced Islâm from Banî Israel) to whom We gave the Book [the Taurât (Torah)] [or those (Muhammad’s Peace be upon him companions) to whom We have given the Book (the Qur’ân)] recite it (i.e. obey its orders and follow its teachings) as it should be recited (i.e. followed), they are the ones that believe therein. And whoso disbelieves in it (the Qur’ân), those are they who are the losers. (Tafsir Al-Qurtubî. Vol. 2, Page 95).

الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَتْلُونَهُ حَقَّ تِلاَوَتِهِ أُوْلَـئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِ وَمن يَكْفُرْ بِهِ فَأُوْلَـئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ
Allatheena ataynahumu alkitaba yatloonahu haqqa tilawatihi ola-ika yu/minoona bihi waman yakfur bihi faola-ika humu alkhasiroona

YUSUFALI: Those to whom We have sent the Book study it as it should be studied: They are the ones that believe therein: Those who reject faith therein,- the loss is their own.

PICKTHAL: Those unto whom We have given the Scripture, who read it with the right reading, those believe in it. And whoso disbelieveth in it, those are they who are the losers.

SHAKIR: Those to whom We have given the Book read it as it ought to be read. These believe in it; and whoever disbelieves in it, these it is that are the losers.

KHALIFA: Those who received the scripture, and know it as it should be known, will believe in this. As for those who disbelieve, they are the losers.

১১৭। তিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর আদি স্রষ্টা। এবং যখন তিনি কিছু করতে সিদ্ধান্ত করেন, তিনি শুধু বলেন, ‘হও’ আর তা হয়ে যায়।

১১৮। যাদের কোন জ্ঞান নাই, তারা বলে, ‘আল্লাহ্‌ আমাদের সাথে কথা বলেন না কেন? অথবা আমাদের নিকট কোন নিদর্শন আসে না কেন?’ এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরাও অনুরূপ কথা বলতো। তাদের অন্তর একই রকম। যে কেউ দৃঢ়ভাবে [তাদের অন্তরে] ঈমানকে ধরে রাখে, আমি অবশ্যই তাদের জন্য নিদর্শনাবলীকে সুস্পষ্ট করেছি।

১১৯। আমি তোমাকে সত্যসহ শুভ সংবাদ দাতা এবং সতর্ককারী রূপে প্রেরণ করেছি। জাহান্নামের অধিবাসীদের সম্বন্ধে তোমাকে কোন প্রশ্ন করা হবে না।

১২০। ইহুদী ও খ্রীষ্টানগণ কখনও সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না তুমি তাদের ধর্ম মত অনুসরণ কর। বল, ‘আল্লাহ্‌র পথ নির্দেশই [একমাত্র] পথ নির্দেশ।’ তোমার নিকট যে জ্ঞান এসেছে তা প্রাপ্তির পর যদি তুমি তাদের খেয়াল খুশীর অনুসরণ কর, তবে আল্লাহ্‌র বিপক্ষে তোমার কোন রক্ষাকারী থাকবে না এবং কোন সাহায্যকারীও থাকবে না।

১২১। যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি যেভাবে তা পাঠ করা উচিত সেভাবে পাঠ কর। এরাই তারা যারা তাতে বিশ্বাস করে। যারা তাতে বিশ্বাস করতে অস্বীকার করে তারা ক্ষতিগ্রস্থ।

রুকু – ১৫

১২২। হে বনী ইসরাঈলীগণ! আমার সেই বিশেষ অনুগ্রহ স্মরণ কর যা দ্বারা আমি তোমাদের অনুগৃহীত করেছি এবং সকল [জাতির] মধ্যে তোমাদের [নবুয়তের জন্য] পছন্দ করেছি।

১২৩। সেই দিন থেকে নিজেকে রক্ষা কর, যেদিন কেউ কারও উপকারে আসবে না। কারও কাছ থেকে কোন ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করা হবে না। কোন সুপারিশ লাভজনক হবে না। এবং [বাইরে থেকে] কেউ কোন সাহায্য পাবে না ১২২।

১২২। [২: ১২২-১২৩] আয়াত দুটি, [২: ৪৭-৪৮] আয়াত দুটির পুনরাবৃত্তি। ১২৩ এর ভাষাতে সামান্য পরিবর্তন হলেও তা আয়াতের অর্থে কোনও পরিবর্তন ঘটে নাই। এই আয়াতগুলিতে ইহুদীদের প্রতি আল্লাহ্‌র অনুগ্রহের বর্ণনা সুন্দরভাবে শেষ করা হয়েছে। এরপরে শুরু হতে যাচ্ছে, আধ্যাত্মিক জগতে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর বংশধর হিসেবে [হযরত ইসমাইলের (আঃ) মাধ্যমে] আরবদের উপরে আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ বা করুণার বর্ণনা।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১২২)

হে বনী-ইসরাঈল! আমার অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যা আমি তোমাদের দিয়েছি। আমি তোমাদেরকে বিশ্বাবাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।
O Children of Israel! Remember My Favour which I bestowed upon you and that I preferred you to the ’Alamîn (mankind and jinns) (of your time-period, in the past).

يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُواْ نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَنِّي فَضَّلْتُكُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ
Ya banee isra-eela othkuroo niAAmatiya allatee anAAamtu AAalaykum waannee faddaltukum AAala alAAalameena

YUSUFALI: O Children of Israel! call to mind the special favour which I bestowed upon you, and that I preferred you to all others (for My Message).

PICKTHAL: O Children of Israel! Remember My favour wherewith I favoured you and how I preferred you to (all) creatures.

SHAKIR: O children of Israel, call to mind My favor which I bestowed on you and that I made you excel the nations.

KHALIFA: O Children of Israel, remember My favor which I bestowed upon you, and that I blessed you more than any other people.

১১৭। তিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর আদি স্রষ্টা। এবং যখন তিনি কিছু করতে সিদ্ধান্ত করেন, তিনি শুধু বলেন, ‘হও’ আর তা হয়ে যায়।

১১৮। যাদের কোন জ্ঞান নাই, তারা বলে, ‘আল্লাহ্‌ আমাদের সাথে কথা বলেন না কেন? অথবা আমাদের নিকট কোন নিদর্শন আসে না কেন?’ এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরাও অনুরূপ কথা বলতো। তাদের অন্তর একই রকম। যে কেউ দৃঢ়ভাবে [তাদের অন্তরে] ঈমানকে ধরে রাখে, আমি অবশ্যই তাদের জন্য নিদর্শনাবলীকে সুস্পষ্ট করেছি।

১১৯। আমি তোমাকে সত্যসহ শুভ সংবাদ দাতা এবং সতর্ককারী রূপে প্রেরণ করেছি। জাহান্নামের অধিবাসীদের সম্বন্ধে তোমাকে কোন প্রশ্ন করা হবে না।

১২০। ইহুদী ও খ্রীষ্টানগণ কখনও সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না তুমি তাদের ধর্ম মত অনুসরণ কর। বল, ‘আল্লাহ্‌র পথ নির্দেশই [একমাত্র] পথ নির্দেশ।’ তোমার নিকট যে জ্ঞান এসেছে তা প্রাপ্তির পর যদি তুমি তাদের খেয়াল খুশীর অনুসরণ কর, তবে আল্লাহ্‌র বিপক্ষে তোমার কোন রক্ষাকারী থাকবে না এবং কোন সাহায্যকারীও থাকবে না।

১২১। যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি যেভাবে তা পাঠ করা উচিত সেভাবে পাঠ কর। এরাই তারা যারা তাতে বিশ্বাস করে। যারা তাতে বিশ্বাস করতে অস্বীকার করে তারা ক্ষতিগ্রস্থ।

রুকু – ১৫

১২২। হে বনী ইসরাঈলীগণ! আমার সেই বিশেষ অনুগ্রহ স্মরণ কর যা দ্বারা আমি তোমাদের অনুগৃহীত করেছি এবং সকল [জাতির] মধ্যে তোমাদের [নবুয়তের জন্য] পছন্দ করেছি।

১২৩। সেই দিন থেকে নিজেকে রক্ষা কর, যেদিন কেউ কারও উপকারে আসবে না। কারও কাছ থেকে কোন ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করা হবে না। কোন সুপারিশ লাভজনক হবে না। এবং [বাইরে থেকে] কেউ কোন সাহায্য পাবে না ১২২।

১২২। [২: ১২২-১২৩] আয়াত দুটি, [২: ৪৭-৪৮] আয়াত দুটির পুনরাবৃত্তি। ১২৩ এর ভাষাতে সামান্য পরিবর্তন হলেও তা আয়াতের অর্থে কোনও পরিবর্তন ঘটে নাই। এই আয়াতগুলিতে ইহুদীদের প্রতি আল্লাহ্‌র অনুগ্রহের বর্ণনা সুন্দরভাবে শেষ করা হয়েছে। এরপরে শুরু হতে যাচ্ছে, আধ্যাত্মিক জগতে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর বংশধর হিসেবে [হযরত ইসমাইলের (আঃ) মাধ্যমে] আরবদের উপরে আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ বা করুণার বর্ণনা।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি ।(আয়াত ১২৩)

তোমরা ভয় কর সেদিনকে, যে দিন এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তি বিন্দুমাত্র উপকৃত হবে না, কারও কাছ থেকে বিনিময় গৃহীত হবে না, কার ও সুপারিশ ফলপ্রদ হবে না এবং তারা সাহায্য প্রাপ্ত ও হবে না।
And fear the Day (of Judgement) when no person shall avail another, nor shall compensation be accepted from him, nor shall intercession be of use to him, nor shall they be helped.

وَاتَّقُواْ يَوْماً لاَّ تَجْزِي نَفْسٌ عَن نَّفْسٍ شَيْئاً وَلاَ يُقْبَلُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلاَ تَنفَعُهَا شَفَاعَةٌ وَلاَ هُمْ يُنصَرُونَ
Waittaqoo yawman la tajzee nafsun AAan nafsin shay-an wala yuqbalu minha AAadlun wala tanfaAAuha shafaAAatun wala hum yunsaroona

YUSUFALI: Then guard yourselves against a-Day when one soul shall not avail another, nor shall compensation be accepted from her nor shall intercession profit her nor shall anyone be helped (from outside).

PICKTHAL: And guard (yourselves) against a day when no soul will in aught avail another, nor will compensation be accepted from it, nor will intercession be of use to it; nor will they be helped.

SHAKIR: And be on your guard against a day when no soul shall avail another in the least neither shall any compensation be accepted from it, nor shall intercession profit it, nor shall they be helped.

KHALIFA: Beware of the day when no soul will help another soul, no ransom will be accepted, no intercession will be useful, and no one will be helped.

১১৭। তিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর আদি স্রষ্টা। এবং যখন তিনি কিছু করতে সিদ্ধান্ত করেন, তিনি শুধু বলেন, ‘হও’ আর তা হয়ে যায়।

১১৮। যাদের কোন জ্ঞান নাই, তারা বলে, ‘আল্লাহ্‌ আমাদের সাথে কথা বলেন না কেন? অথবা আমাদের নিকট কোন নিদর্শন আসে না কেন?’ এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরাও অনুরূপ কথা বলতো। তাদের অন্তর একই রকম। যে কেউ দৃঢ়ভাবে [তাদের অন্তরে] ঈমানকে ধরে রাখে, আমি অবশ্যই তাদের জন্য নিদর্শনাবলীকে সুস্পষ্ট করেছি।

১১৯। আমি তোমাকে সত্যসহ শুভ সংবাদ দাতা এবং সতর্ককারী রূপে প্রেরণ করেছি। জাহান্নামের অধিবাসীদের সম্বন্ধে তোমাকে কোন প্রশ্ন করা হবে না।

১২০। ইহুদী ও খ্রীষ্টানগণ কখনও সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না তুমি তাদের ধর্ম মত অনুসরণ কর। বল, ‘আল্লাহ্‌র পথ নির্দেশই [একমাত্র] পথ নির্দেশ।’ তোমার নিকট যে জ্ঞান এসেছে তা প্রাপ্তির পর যদি তুমি তাদের খেয়াল খুশীর অনুসরণ কর, তবে আল্লাহ্‌র বিপক্ষে তোমার কোন রক্ষাকারী থাকবে না এবং কোন সাহায্যকারীও থাকবে না।

১২১। যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি যেভাবে তা পাঠ করা উচিত সেভাবে পাঠ কর। এরাই তারা যারা তাতে বিশ্বাস করে। যারা তাতে বিশ্বাস করতে অস্বীকার করে তারা ক্ষতিগ্রস্থ।

রুকু – ১৫

১২২। হে বনী ইসরাঈলীগণ! আমার সেই বিশেষ অনুগ্রহ স্মরণ কর যা দ্বারা আমি তোমাদের অনুগৃহীত করেছি এবং সকল [জাতির] মধ্যে তোমাদের [নবুয়তের জন্য] পছন্দ করেছি।

১২৩। সেই দিন থেকে নিজেকে রক্ষা কর, যেদিন কেউ কারও উপকারে আসবে না। কারও কাছ থেকে কোন ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করা হবে না। কোন সুপারিশ লাভজনক হবে না। এবং [বাইরে থেকে] কেউ কোন সাহায্য পাবে না ১২২।

১২২। [২: ১২২-১২৩] আয়াত দুটি, [২: ৪৭-৪৮] আয়াত দুটির পুনরাবৃত্তি। ১২৩ এর ভাষাতে সামান্য পরিবর্তন হলেও তা আয়াতের অর্থে কোনও পরিবর্তন ঘটে নাই। এই আয়াতগুলিতে ইহুদীদের প্রতি আল্লাহ্‌র অনুগ্রহের বর্ণনা সুন্দরভাবে শেষ করা হয়েছে। এরপরে শুরু হতে যাচ্ছে, আধ্যাত্মিক জগতে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর বংশধর হিসেবে [হযরত ইসমাইলের (আঃ) মাধ্যমে] আরবদের উপরে আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ বা করুণার বর্ণনা।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১২৪)

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১২৫)

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১২৬)

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১২৭)

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১২৮)

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১২৯)

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১৩০)

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি ।
সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি ।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । (আয়াত ১৩১)

স্মরণ কর, যখন তাকে তার পালনকর্তা বললেনঃ অনুগত হও। সে বললঃ আমি বিশ্বপালকের অনুগত হলাম।
When his Lord said to him, ”Submit (i.e. be a Muslim)!” He said, ”I have submitted myself (as a Muslim) to the Lord of the ’Alamîn (mankind, jinns and all that exists).”

إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ
Ith qala lahu rabbuhu aslim qala aslamtu lirabbi alAAalameena

YUSUFALI: Behold! his Lord said to him: “Bow (thy will to Me):” He said: “I bow (my will) to the Lord and Cherisher of the Universe.”
PICKTHAL: When his Lord said unto him: Surrender! he said: I have surrendered to the Lord of the Worlds.

SHAKIR: When his Lord said to him, Be a Muslim, he said: I submit myself to the Lord of the worlds.

KHALIFA: When his Lord said to him, “Submit,” he said, “I submit to the Lord of the universe.”

১৩১। দেখো! তাঁর প্রভু তাঁকে বলেছিলো, ‘[তোমার ইচ্ছাকে আমার নিকট] আত্মসমর্পণ কর।’ সে বলেছিলো, ‘সারা বিশ্ব-ভূবনের প্রভু ও প্রতিপালকের নিকট [আমার ইচ্ছাকে] সমর্পন করলাম’।

১৩২। এবং ইব্রাহীম ও ইয়াকুবও এই সম্বন্ধে তাদের পুত্রগণকে নির্দেশ দিয়ে বলেছিলো, ‘হে আমার পুত্রগণ! আল্লাহ্‌ তোমাদের জন্য [এই] দ্বীনকে মনোনীত করেছেন। সুতরাং ইসলামে বিশ্বাসী না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।’

১৩৩। ইয়াকুবের নিকট যখন মৃত্যু উপস্থিত হলো, তোমরা কি তখন উপস্থিত ছিলে ১৩১? দেখো! সে তাঁর পুত্রগণকে বলেছিলো, ‘আমার পরে তোমরা কার এবাদত করবে?’ তারা বলেছিলো, ‘আমরা আপনার ইলাহ্‌ এবং আপনার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের ইলাহ্‌ এরই এবাদত করবো ১৩২। আল্লাহ্‌-ই [প্রকৃত পক্ষে] একমাত্র ইলাহ্‌। আমরা তাঁর নিকট আত্মসমর্পন করি [ইসলাম]’।

১৩২। উপরের আয়াত দ্বারা বোঝানো হচ্ছে যে আল্লাহ্‌ এক এবং চিরন্তন। হযরত ইব্রাহীম, হযরত ইসহাক, হযরত ইসমাঈলের যে স্রষ্টা, আজও সেই একই স্রষ্টা বিরাজমান। ইব্রাহীমের ধর্মই হচ্ছে ইসলাম ধর্ম। এই ধর্ম হচ্ছে সমগ্র বিশ্ব মানবের ধর্ম, এই ধর্ম সমগ্র বিশ্ব মানবের এক অনন্য নির্দেশ নামা। ইসলাম ধর্ম কোনও এক যুগের ধর্ম নয়। তা সর্বকালের সর্বযুগের এবং সর্বসাধারণের। ইসলাম ধর্মের নির্যাস হচ্ছে এক স্রষ্টার কাছে আনুগত্য প্রকাশ। এখানে হযরত ইয়াকুবের মৃত্যুর সময়কার ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে।

আরও দেখুনঃ 

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । [ গাভী কুরবানী] সূরা নং ২ । পবিত্র কুরআন ।

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি । [ গাভী কুরবানী ] সূরা নং ২ । পবিত্র কুরআন ।

সূরা বাকারা পর্ব ১ । সূচি । [ গাভী কুরবানী ] সূরা নং ২ । পবিত্র কুরআন ।

নাপাকি এবং নাপাকি থেকে পবিত্রতা অর্জনের উপায়

 

 

 

 

Leave a Comment