সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । [ গাভী কুরবানী] সূরা নং ২ । পবিত্র কুরআন ।

সূরা বাকারা পর্ব ৫ ,আল বাকারা (আরবি ভাষায়: سورة البقرة) মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের দ্বিতীয় সূরা, এর আয়াত সংখ্যা ২৮৬ টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ৪০ টি। আল বাকারা সূরাটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে।

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি ।
সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি ।

Table of Contents

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি ।(আয়াত ১৩১)

স্মরণ কর, যখন তাকে তার পালনকর্তা বললেনঃ অনুগত হও। সে বললঃ আমি বিশ্বপালকের অনুগত হলাম।

When his Lord said to him, ”Submit (i.e. be a Muslim)!” He said, ”I have submitted myself (as a Muslim) to the Lord of the ’Alamîn (mankind, jinns and all that exists).”

إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ
Ith qala lahu rabbuhu aslim qala aslamtu lirabbi alAAalameena

YUSUFALI: Behold! his Lord said to him: “Bow (thy will to Me):” He said: “I bow (my will) to the Lord and Cherisher of the Universe.”

PICKTHAL: When his Lord said unto him: Surrender! he said: I have surrendered to the Lord of the Worlds.

SHAKIR: When his Lord said to him, Be a Muslim, he said: I submit myself to the Lord of the worlds.

KHALIFA: When his Lord said to him, “Submit,” he said, “I submit to the Lord of the universe.”

১৩১। দেখো! তাঁর প্রভু তাঁকে বলেছিলো, ‘[তোমার ইচ্ছাকে আমার নিকট] আত্মসমর্পণ কর।’ সে বলেছিলো, ‘সারা বিশ্ব-ভূবনের প্রভু ও প্রতিপালকের নিকট [আমার ইচ্ছাকে] সমর্পন করলাম’।

১৩২। এবং ইব্রাহীম ও ইয়াকুবও এই সম্বন্ধে তাদের পুত্রগণকে নির্দেশ দিয়ে বলেছিলো, ‘হে আমার পুত্রগণ! আল্লাহ্‌ তোমাদের জন্য [এই] দ্বীনকে মনোনীত করেছেন। সুতরাং ইসলামে বিশ্বাসী না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।’

১৩৩। ইয়াকুবের নিকট যখন মৃত্যু উপস্থিত হলো, তোমরা কি তখন উপস্থিত ছিলে

১৩১? দেখো! সে তাঁর পুত্রগণকে বলেছিলো, ‘আমার পরে তোমরা কার এবাদত করবে?’ তারা বলেছিলো, ‘আমরা আপনার ইলাহ্‌ এবং আপনার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের ইলাহ্‌ এরই এবাদত করবো ১৩২। আল্লাহ্‌-ই [প্রকৃত পক্ষে] একমাত্র ইলাহ্‌। আমরা তাঁর নিকট আত্মসমর্পন করি [ইসলাম]’।

১৩২। উপরের আয়াত দ্বারা বোঝানো হচ্ছে যে আল্লাহ্‌ এক এবং চিরন্তন। হযরত ইব্রাহীম, হযরত ইসহাক, হযরত ইসমাঈলের যে স্রষ্টা, আজও সেই একই স্রষ্টা বিরাজমান। ইব্রাহীমের ধর্মই হচ্ছে ইসলাম ধর্ম। এই ধর্ম হচ্ছে সমগ্র বিশ্ব মানবের ধর্ম, এই ধর্ম সমগ্র বিশ্ব মানবের এক অনন্য নির্দেশ নামা।

ইসলাম ধর্ম কোনও এক যুগের ধর্ম নয়। তা সর্বকালের সর্বযুগের এবং সর্বসাধারণের। ইসলাম ধর্মের নির্যাস হচ্ছে এক স্রষ্টার কাছে আনুগত্য প্রকাশ। এখানে হযরত ইয়াকুবের মৃত্যুর সময়কার ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে।

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি ।(আয়াত ১৩২)

এরই ওছিয়ত করেছে ইব্রাহীম তার সন্তানদের এবং ইয়াকুবও যে, হে আমার সন্তানগণ, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য এ ধর্মকে মনোনীত করেছেন। কাজেই তোমরা মুসলমান না হয়ে কখনও মৃত্যুবরণ করো না।

And this (submission to Allâh, Islâm) was enjoined by Ibrâhim (Abraham) upon his sons and by Ya’qûb (Jacob), (saying), ”O my sons! Allâh has chosen for you the (true) religion, then die not except in the Faith of Islâm (as Muslims – Islâmic Monotheism).”

وَوَصَّى بِهَا إِبْرَاهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَا بَنِيَّ إِنَّ اللّهَ اصْطَفَى لَكُمُ الدِّينَ فَلاَ تَمُوتُنَّ إَلاَّ وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ

Wawassa biha ibraheemu baneehi wayaAAqoobu ya baniyya inna Allaha istafa lakumu alddeena fala tamootunna illa waantum muslimoona

YUSUFALI: And this was the legacy that Abraham left to his sons, and so did Jacob; “Oh my sons! Allah hath chosen the Faith for you; then die not except in the Faith of Islam.”

PICKTHAL: The same did Abraham enjoin upon his sons, and also Jacob, (saying): O my sons! Lo! Allah hath chosen for you the (true) religion; therefore die not save as men who have surrendered (unto Him).

SHAKIR: And the same did Ibrahim enjoin on his sons and (so did) Yaqoub. O my sons! surely Allah has chosen for you (this) faith, therefore die not unless you are Muslims.

KHALIFA: Moreover, Abraham exhorted his children to do the same, and so did Jacob: “O my children, GOD has pointed out the religion for you; do not die except as submitters.”

১৩১। দেখো! তাঁর প্রভু তাঁকে বলেছিলো, ‘[তোমার ইচ্ছাকে আমার নিকট] আত্মসমর্পণ কর।’ সে বলেছিলো, ‘সারা বিশ্ব-ভূবনের প্রভু ও প্রতিপালকের নিকট [আমার ইচ্ছাকে] সমর্পন করলাম’।

১৩২। এবং ইব্রাহীম ও ইয়াকুবও এই সম্বন্ধে তাদের পুত্রগণকে নির্দেশ দিয়ে বলেছিলো, ‘হে আমার পুত্রগণ! আল্লাহ্‌ তোমাদের জন্য [এই] দ্বীনকে মনোনীত করেছেন। সুতরাং ইসলামে বিশ্বাসী না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।’

১৩৩। ইয়াকুবের নিকট যখন মৃত্যু উপস্থিত হলো, তোমরা কি তখন উপস্থিত ছিলে ১৩১? দেখো! সে তাঁর পুত্রগণকে বলেছিলো, ‘আমার পরে তোমরা কার এবাদত করবে?’

তারা বলেছিলো, ‘আমরা আপনার ইলাহ্‌ এবং আপনার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের ইলাহ্‌ এরই এবাদত করবো ১৩২। আল্লাহ্‌-ই [প্রকৃত পক্ষে] একমাত্র ইলাহ্‌। আমরা তাঁর নিকট আত্মসমর্পন করি [ইসলাম]’।

১৩২। উপরের আয়াত দ্বারা বোঝানো হচ্ছে যে আল্লাহ্‌ এক এবং চিরন্তন। হযরত ইব্রাহীম, হযরত ইসহাক, হযরত ইসমাঈলের যে স্রষ্টা, আজও সেই একই স্রষ্টা বিরাজমান। ইব্রাহীমের ধর্মই হচ্ছে ইসলাম ধর্ম। এই ধর্ম হচ্ছে সমগ্র বিশ্ব মানবের ধর্ম, এই ধর্ম সমগ্র বিশ্ব মানবের এক অনন্য নির্দেশ নামা।

ইসলাম ধর্ম কোনও এক যুগের ধর্ম নয়। তা সর্বকালের সর্বযুগের এবং সর্বসাধারণের। ইসলাম ধর্মের নির্যাস হচ্ছে এক স্রষ্টার কাছে আনুগত্য প্রকাশ। এখানে হযরত ইয়াকুবের মৃত্যুর সময়কার ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে।

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । (আয়াত ১৩৩)

তোমরা কি উপস্থিত ছিলে, যখন ইয়াকুবের মৃত্যু নিকটবর্তী হয়? যখন সে সন্তানদের বললঃ আমার পর তোমরা কার এবাদত করবে? তারা বললো, আমরা তোমার পিতৃ-পুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের উপাস্যের এবাদত করব। তিনি একক উপাস্য।

Or were you witnesses when death approached Ya’qûb (Jacob)? When he said unto his sons, ”What will you worship after me?” They said, ”We shall worship your Ilâh (God – Allâh), the Ilâh (God) of your fathers, Ibrâhim (Abraham), Ismâ’il (Ishmael), Ishâque (Isaac), One Ilâh (God), and to Him we submit (in Islâm).”

أَمْ كُنتُمْ شُهَدَاء إِذْ حَضَرَ يَعْقُوبَ الْمَوْتُ إِذْ قَالَ لِبَنِيهِ مَا تَعْبُدُونَ مِن بَعْدِي قَالُواْ نَعْبُدُ إِلَـهَكَ وَإِلَـهَ آبَائِكَ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَقَ إِلَـهًا وَاحِدًا وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ

Am kuntum shuhadaa ith hadara yaAAqooba almawtu ith qala libaneehi ma taAAbudoona min baAAdee qaloo naAAbudu ilahaka wa-ilaha aba-ika ibraheema wa-ismaAAeela wa-ishaqa ilahan wahidan wanahnu lahu muslimoona

YUSUFALI: Were ye witnesses when death appeared before Jacob? Behold, he said to his sons: “What will ye worship after me?” They said: “We shall worship Thy god and the god of thy fathers, of Abraham, Isma’il and Isaac,- the one (True) Allah: To Him we bow (in Islam).”

PICKTHAL: Or were ye present when death came to Jacob, when he said unto his sons: What will ye worship after me? They said: We shall worship thy god, the god of thy fathers, Abraham and Ishmael and Isaac, One Allah, and unto Him we have surrendered.

SHAKIR: Nay! were you witnesses when death visited Yaqoub, when he said to his sons: What will you serve after me? They said: We will serve your god and the god of your fathers, Ibrahim and Ismail and Ishaq, one Allah only, and to Him do we submit.

KHALIFA: Had you witnessed Jacob on his death bed; he said to his children, “What will you worship after I die?” They said, “We will worship your god; the god of your fathers Abraham, Ismail, and Isaac; the one god. To Him we are submitters.”

১৩১। দেখো! তাঁর প্রভু তাঁকে বলেছিলো, ‘[তোমার ইচ্ছাকে আমার নিকট] আত্মসমর্পণ কর।’ সে বলেছিলো, ‘সারা বিশ্ব-ভূবনের প্রভু ও প্রতিপালকের নিকট [আমার ইচ্ছাকে] সমর্পন করলাম’।

১৩২। এবং ইব্রাহীম ও ইয়াকুবও এই সম্বন্ধে তাদের পুত্রগণকে নির্দেশ দিয়ে বলেছিলো, ‘হে আমার পুত্রগণ! আল্লাহ্‌ তোমাদের জন্য [এই] দ্বীনকে মনোনীত করেছেন। সুতরাং ইসলামে বিশ্বাসী না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।’

১৩৩। ইয়াকুবের নিকট যখন মৃত্যু উপস্থিত হলো, তোমরা কি তখন উপস্থিত ছিলে ১৩১? দেখো! সে তাঁর পুত্রগণকে বলেছিলো, ‘আমার পরে তোমরা কার এবাদত করবে?’ তারা বলেছিলো, ‘আমরা আপনার ইলাহ্‌ এবং আপনার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের ইলাহ্‌ এরই এবাদত করবো ১৩২।

আল্লাহ্‌-ই [প্রকৃত পক্ষে] একমাত্র ইলাহ্‌। আমরা তাঁর নিকট আত্মসমর্পন করি [ইসলাম]’।

১৩২। উপরের আয়াত দ্বারা বোঝানো হচ্ছে যে আল্লাহ্‌ এক এবং চিরন্তন। হযরত ইব্রাহীম, হযরত ইসহাক, হযরত ইসমাঈলের যে স্রষ্টা, আজও সেই একই স্রষ্টা বিরাজমান। ইব্রাহীমের ধর্মই হচ্ছে ইসলাম ধর্ম। এই ধর্ম হচ্ছে সমগ্র বিশ্ব মানবের ধর্ম, এই ধর্ম সমগ্র বিশ্ব মানবের এক অনন্য নির্দেশ নামা।

ইসলাম ধর্ম কোনও এক যুগের ধর্ম নয়। তা সর্বকালের সর্বযুগের এবং সর্বসাধারণের। ইসলাম ধর্মের নির্যাস হচ্ছে এক স্রষ্টার কাছে আনুগত্য প্রকাশ। এখানে হযরত ইয়াকুবের মৃত্যুর সময়কার ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে।

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । (আয়াত ১৩৪)

আমরা সবাই তাঁর আজ্ঞাবহ। তারা ছিল এক সম্প্রদায়-যারা গত হয়ে গেছে। তারা যা করেছে, তা তাদেরই জন্যে। তারা কি করত, সে সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে না।

That was a nation who has passed away. They shall receive the reward of what they earned and you of what you earn. And you will not be asked of what they used to do.

تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُم مَّا كَسَبْتُمْ وَلاَ تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ
Tilka ommatun qad khalat laha ma kasabat walakum ma kasabtum wala tus-aloona AAamma kano yaAAmaloona

YUSUFALI: That was a people that hath passed away. They shall reap the fruit of what they did, and ye of what ye do! Of their merits there is no question in your case!

PICKTHAL: Those are a people who have passed away. Theirs is that which they earned, and yours is that which ye earn. And ye will not be asked of what they used to do.

SHAKIR: This is a people that have passed away; they shall have what they earned and you shall have what you earn, and you shall not be called upon to answer for what they did.

KHALIFA: Such is a community from the past. They are responsible for what they earned, and you are responsible for what you earned. You are not answerable for anything they have done.

১৩৪। সেই ছিলো এক সম্প্রদায় যারা গত হয়েছে। তারা যা করেছে তার ফল তারা লাভ করবে এবং তোমরা যা করবে তা তোমাদের। তাদের যোগ্যতা সম্বন্ধে তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে না ১৩৩।

১৩৩। শেষ বিচারের দিনে প্রত্যেককেই তার নিজ নিজ কর্মফল সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হবে। ব্যক্তিগত কর্মের এবং কর্মের নিয়ত দ্বারাই তাকে বিচার করা হবে। প্রত্যেক আত্মাকে তার ব্যক্তিগত দায় দায়িত্ব স্বীকার করতে হয়। অন্যজনের পাপ আর একজনকে স্পর্শ করবে না।

সেইরূপ অন্যজনের কৃত পূণ্যও আর একজনকে স্পর্শ করবে না। কোনও সুপারিশ গ্রহণযোগ্য হবে না। হোক সে খৃষ্টানদের বড় পাদ্রী বা মুসলমানদের বড় পীর, কারও সুপারিশ গ্রহণযোগ্য হবে না।

ইহুদী এবং খৃষ্টানরা বলে তারা হযরত ইব্রাহীমের সন্তান। সুতরাং তারা পরকালে বেহেশ্‌তে প্রবেশ করবে। তাদের বিশ্বাস তাদের পূর্ব পুরুষের সুকৃতি তাদের পরকালে মুক্তি দেবে। কিন্তু এই আয়াত [২:১৩৪] থেকে বোঝা যায় যে বাপ-দাদার সৎকর্ম সন্তানের উপকারে আসবে না; যতক্ষণ না তারা নিজে সৎকর্ম সম্পাদন করে।

এমনিভাবে বাপ-দাদাদের কুকর্মের শাস্তিও সন্তানেরা ভোগ করবে না; যদি তারা সৎ কর্মশীল হয়। এতে ইহুদীদের যে দাবী-তারা যা খুশী তাই করবে, শুধুমাত্র তারা ইহুদী এবং বাপ-দাদার সৎকর্মের উত্তরাধিকার সেই কারণে তারা বেহেশ্‌তে যাবে, কুরআনের আলোকে তা ভুল প্রমাণিত।

আমাদের মুসলমানদের মধ্যে কিছু লোকের ভ্রান্ত ধারণা আছে যে যারা সৈয়দ পরিবারের, রাসূলের বংশধর দেখে তারা পরকালে বিচারের সম্মুখীন হবে না। কুরআনে এ বিষয়টি বার বার বিভিন্নভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, ‘প্রত্যেকের আমলের [কাজের] দায়িত্ব তার নিজেকে বহন করতে হবে’। আরও আছে, ‘কিয়ামতের দিন একজনের বোঝা অন্যজন বহন করবে না’।

হাদীসে আছে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বলেছেন, ‘হে বনী হাশেম! এমন যেন না হয় যে, কিয়ামতের দিন অন্যান্য লোক নিজ নিজ সৎকর্ম নিয়ে আসবে আর তোমরা আসবে সৎকর্ম থেকে উদাসীন হয়ে শুধু বংশ গৌরব নিয়ে এবং আমি বলবো যে, আল্লাহ্‌র আযাব থেকে আমি তোমাদের বাঁচাতে পারবো না।’

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । (আয়াত ১৩৫)

তারা বলে, তোমরা ইহুদী অথবা খ্রীষ্টান হয়ে যাও, তবেই সুপথ পাবে। আপনি বলুন, কখনই নয়; বরং আমরা ইব্রাহীমের ধর্মে আছি যাতে বক্রতা নেই। সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
And they say, ”Be Jews or Christians, then you will be guided.” Say (to them, O Muhammad Peace be upon him ), ”Nay, (We follow) only the religion of Ibrâhim (Abraham), Hanifa [Islâmic Monotheism, i.e. to worship none but Allâh (Alone)], and he was not of Al-Mushrikûn (those who worshipped others along with Allâh – see V.2:105).”

وَقَالُواْ كُونُواْ هُودًا أَوْ نَصَارَى تَهْتَدُواْ قُلْ بَلْ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ
Waqaloo koonoo hoodan aw nasara tahtadoo qul bal millata ibraheema haneefan wama kana mina almushrikeena

YUSUFALI: They say: “Become Jews or Christians if ye would be guided (To salvation).” Say thou: “Nay! (I would rather) the Religion of Abraham the True, and he joined not gods with Allah.”

PICKTHAL: And they say: Be Jews or Christians, then ye will be rightly guided. Say (unto them, O Muhammad): Nay, but (we follow) the religion of Abraham, the upright, and he was not of the idolaters.

SHAKIR: And they say: Be Jews or Christians, you will be on the right course. Say: Nay! (we follow) the religion of Ibrahim, the Hanif, and he was not one of the polytheists.

KHALIFA: They said, “You have to be Jewish or Christian, to be guided.” Say, “We follow the religion of Abraham – monotheism – he never was an idol worshiper.”

১৩৫। তারা বলেছিলো, ‘যদি তোমরা [আধ্যাত্মিক মুক্তির] পথ নির্দেশ চাও, তবে ইহুদী অথবা খৃষ্টান হয়ে যাও।’ বল, [‘বরং আমি অনুসরণ করবো] ইব্রাহীমের সত্য ধর্ম ১৩৪, সে আল্লাহ্‌র সাথে অংশীদার করতো না।’

১৩৪। ইহুদী ও খৃষ্টানেরা উপদেশ দিত যে তোমরা ইহুদী হয়ে যাও [এটা ইহুদীদের কথা] অথবা খৃষ্টান হয়ে যাও [এটা খৃষ্টানদের কথা], তবে তোমরা পরকালে মুক্তি পাবে। কারণ ইহুদীদের ধারণা তারাই একমাত্র আল্লাহ্‌র বরপুত্র। যদিও তাদের এক আল্লাহ্‌র উপসনা শিক্ষা দেওয়া হয়েছিলো কিন্তু বাস্তবে তারা এই এক আল্লাহ্‌র পথ থেকে বিপথে চালিত হয়েছিল।

খৃষ্টানেরা আরব পৌত্তলিকদের মত আল্লাহ্‌র তিনরূপে বিশ্বাস করে আর তা হচ্ছে পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মা। কিন্তু আল্লাহ্‌ মুসলমানদের নির্দেশ দিচ্ছেন তাদের হযরত ইব্রাহীমের ধর্মের উপর স্থির থাকতে। হযরত ইব্রাহীমের ধর্ম কি? একেশ্বরবাদ এবং আল্লাহ্‌র কাছে পরিপূর্ণ আত্মসমর্পন-এই হচ্ছে হযরত ইব্রাহীমের ধর্মের মূল কথা, যার অপর নাম হচ্ছে ইসলাম।

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি ।(আয়াত ১৩৬)

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । (আয়াত ১৩৭)

অতএব তারা যদি ঈমান আনে, তোমাদের ঈমান আনার মত, তবে তারা সুপথ পাবে। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারাই হঠকারিতায় রয়েছে। সুতরাং এখন তাদের জন্যে আপনার পক্ষ থেকে আল্লাহই যথেষ্ট। তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।

So if they believe in the like of that which you believe, then they are rightly guided, but if they turn away, then they are only in opposition. So Allâh will suffice you against them. And He is the All-Hearer, the All-Knower.

فَإِنْ آمَنُواْ بِمِثْلِ مَا آمَنتُم بِهِ فَقَدِ اهْتَدَواْ وَّإِن تَوَلَّوْاْ فَإِنَّمَا هُمْ فِي شِقَاقٍ فَسَيَكْفِيكَهُمُ اللّهُ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

Fa-in amanoo bimithli ma amantum bihi faqadi ihtadaw wa-in tawallaw fa-innama hum fee shiqaqin fasayakfeekahumu Allahu wahuwa alssameeAAu alAAaleemu

YUSUFALI: So if they believe as ye believe, they are indeed on the right path; but if they turn back, it is they who are in schism; but Allah will suffice thee as against them, and He is the All-Hearing, the All-Knowing.

PICKTHAL: And if they believe in the like of that which ye believe, then are they rightly guided. But if they turn away, then are they in schism, and Allah will suffice thee (for defence) against them. He is the Hearer, the Knower.

SHAKIR: If then they believe as you believe in Him, they are indeed on the right course, and if they turn back, then they are only in great opposition, so Allah will suffice you against them, and He is the Hearing, the Knowing.

KHALIFA: If they believe as you do, then they are guided. But if they turn away, then they are in opposition. GOD will spare you their opposition; He is the Hearer, the Omniscient.

১৩৭। তোমরা যেরূপ বিশ্বাস করেছ তারাও যদি সেরূপ বিশ্বাস করে, তবে তারা প্রকৃতই সঠিক পথে আছে। কিন্তু যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে এরাই তারা যারা সাম্প্রদায়িক। তাদের বিরুদ্ধে তোমার জন্য আল্লাহ্‌ই যথেষ্ট ১৩৬ এবং তিনি সব কিছু শোনেন এবং সব কিছু জানেন।

১৩৬। ইব্রাহীমের ধর্ম হচ্ছে সহজ সরল পথ, তার বর্ণনা শেষে বলা হচ্ছে যে, যে কেউ এ পথে চলে বা বিশ্বাস করে তারাই সঠিক পথের দিশারী। অর্থাৎ যারা ইব্রাহীমের ধর্মের উপর বিশ্বাসী তারাই সঠিক পথ প্রাপ্ত। কিন্তু যারা সহজ সরল পথ ত্যাগ করে, বিভিন্ন মাসায়ালার সাহায্যে ধর্মীয় ব্যাখ্যায় ব্যস্ত, এসব লোকের মস্তিষ্ক ও চিন্তাধারা শুধু বস্তু বা বস্তুবাচক বিষয়াদির মধ্যেই নিমজ্জিত।

তারা এসব ব্যাপারে নিজ থেকে নানবিধ ব্যাখ্যা করতে প্রবৃত্ত হয় এবং একে দ্বীনের খেদমত বলে মনে করে। আজকাল মুসলমানদের মধ্যেও এ প্রবৃত্তি দেখা যায়। সহজ সরল দ্বীনকে তারা তাদের ব্যাখ্যার মাধ্যমে অত্যন্ত জটিল আচার-আচরণ ও শাস্ত্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে পরিণত করেছে। এই বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতা বা পোষাকী আচরণসিদ্ধতা বা বস্তুকেন্দ্রীকতা ইহুদী, খৃষ্টান, মুসলমান সবার মধ্যেই জন্মাতে পারি যদি তারা হযরত ইব্রাহীমের ধর্ম থেকে চ্যুত হয়।

মুসলমানদের মধ্যে এই গর্ব দেখা যায় যে তারা শেষ নবীর উম্মত, সুতরাং তারাই একমাত্র আল্লাহ্‌র রাস্তায় আছে। কিন্তু আল্লাহ্‌ বলেছেন মৌখিক ঈমানের কোনও মূল্য নাই আল্লাহ্‌র কাছে। আত্মিক সংবেদন দ্বারা যে কেউ হযরত ইব্রাহীমের ধর্মের উপরে স্থির আছে সেই মুসলমান। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে এটার সবার জন্যই প্রযোজ্য। যারাই ইব্রাহীমের ধর্ম থেকে চ্যুত হয়েছে তারাই ধর্ম নিয়ে সাম্প্রদায়িক হয়েছে এবং উগ্র মৌলবাদীতে পরিণত হয়েছে।

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । (আয়াত ১৩৮)

আমরা আল্লাহর রং গ্রহণ করেছি। আল্লাহর রং এর চাইতে উত্তম রং আর কার হতে পারে?আমরা তাঁরই এবাদত করি।
[Our Sibghah (religion) is] the Sibghah (Religion) of Allâh (Islâm) and which Sibghah (religion) can be better than Allâh’s? And we are His worshippers. [Tafsir Ibn Kathîr.]

صِبْغَةَ اللّهِ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللّهِ صِبْغَةً وَنَحْنُ لَهُ عَابِدونَ
Sibghata Allahi waman ahsanu mina Allahi sibghatan wanahnu lahu AAabidoona

YUSUFALI: (Our religion is) the Baptism of Allah: And who can baptize better than Allah? And it is He Whom we worship.
PICKTHAL: (We take our) colour from Allah, and who is better than Allah at colouring. We are His worshippers.

SHAKIR: (Receive) the baptism of Allah, and who is better than Allah in baptising? and Him do we serve.

KHALIFA: Such is GOD’s system, and whose system is better than GOD’s? “Him alone we worship.”

১৩৮। [আমাদের ধর্ম হচ্ছে] আল্লাহ্‌র রং ১৩৭। এবং আর কে আল্লাহ্‌র চেয়ে রঙে অধিক সুন্দর? এবং আমরা তারই এবাদত করি।

১৩৭। খ্রষ্টানেরা সন্তান জন্ম গ্রহণ করলে তারা সপ্তম দিনে তাকে গীর্জায় নিয়ে পবিত্র পানিতে গোসল করায় এবং খৃষ্ট ধর্মের গভীর রঙে রাঙানো বলে মনে করে। এটাকে তারা ব্যাপ্টিজম বলে।

ব্যাপ্টিজম খৃষ্টানদের একটি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, যার সাহায্যে প্রকাশ করে যে শিশুর জীবনে খৃষ্টান ধর্মের ছোপ লাগানো হলো, তার অনাগত ভবিষ্যতকে ধর্মের গভীর রং-এ রাঙানো হলো।

কিন্তু আল্লাহ্‌ বলেছেন বাহিরের এই আনুষ্ঠানিকতার কোনও মূল্য নাই। যে আত্মাকে আল্লাহ্‌র ভালবাসায় নিমজ্জিত করতে পারে সেই তো আল্লাহ্‌র রংয়ে নিজেকে রাঙাতে পারে। এখানে রং কথাটি প্রতীক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আল্লাহ্‌র প্রতি ভালবাসার যে রূপ তাকেই ‘আল্লাহ্‌র রং’ এই প্রতীক শব্দটি দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে। আল্লাহ্‌র রং-ই হচ্ছে সবচেয়ে স্থায়ী, সর্বোৎকৃষ্ট। বাহিরের রং এর কোনও মূল্য নাই। অন্তরের এই রং-ই হচ্ছে সর্বোৎকৃষ্ট।

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । (আয়াত ১৩৯)

আপনি বলে দিন, তোমরা কি আমাদের সাথে আল্লাহ সম্পর্কে তর্ক করছ? অথচ তিনিই আমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের ও পালনকর্তা। আমাদের জন্যে আমাদের কর্ম তোমাদের জন্যে তোমাদের কর্ম। এবং আমরা তাঁরই প্রতি একনিষ্ঠ।
Say (O Muhammad Peace be upon him to the Jews and Christians), ”Dispute you with us about Allâh while He is our Lord and your Lord? And we are to be rewarded for our deeds and you for your deeds. And we are sincere to Him in worship and obedience (i.e. we worship Him Alone and none else, and we obey His Orders).”

قُلْ أَتُحَآجُّونَنَا فِي اللّهِ وَهُوَ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ وَلَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُخْلِصُونَ
Qul atuhajjoonana fee Allahi wahuwa rabbuna warabbukum walana aAAmaluna walakum aAAmalukum wanahnu lahu mukhlisoona

YUSUFALI: Say: Will ye dispute with us about Allah, seeing that He is our Lord and your Lord; that we are responsible for our doings and ye for yours; and that We are sincere (in our faith) in Him?

PICKTHAL: Say (unto the People of the Scripture): Dispute ye with us concerning Allah when He is our Lord and your Lord? Ours are our works and yours your works. We look to Him alone.

SHAKIR: Say: Do you dispute with us about Allah, and He is our Lord and your Lord, and we shall have our deeds and you shall have your deeds, and we are sincere to Him.

KHALIFA: Say, “Do you argue with us about GOD, when He is our Lord and your Lord? We are responsible for our deeds, and you are responsible for your deeds. To Him alone we are devoted.”

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি ।
সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি ।

১৩৯। বল, ‘আল্লাহ্‌ আমাদের প্রভু এবং তোমাদের প্রভু তা দেখেও তোমরা কি আমাদের সাথে আল্লাহ্‌ সম্বন্ধে বিতর্কে লিপ্ত হতে চাও? আমরা আমাদের কর্মের জন্য দায়বদ্ধ এবং তোমরা তোমাদের। আমরা তাঁর প্রতি [বিশ্বাসে] আন্তরিক’।

১৪০। অথবা ১৩৮, তোমরা কি বল, ‘ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসাহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরগণ ইহুদী অথবা খৃষ্টান ছিলো’ ? বল, ‘তোমরা কি আল্লাহ্‌ অপেক্ষা বেশি জান ? আঃ! আল্লাহ্‌র নিকট থেকে যে প্রমাণ তারা পেয়েছে তা যারা গোপন করে তার থেকে বড় অন্যায়কারী আর কে আছে? তোমরা যা কর আল্লাহ্‌ সে সম্বন্ধে অমনোযোগী নন।’

১৩৮। [২ : ১৩৯] আয়াতে আল্লাহ্‌ রাসূলকে বলেছেন যে আপনি [ইহুদী ও খৃষ্টানদের] বলে দিন যে তোমরা কি এখনও ধর্ম সম্বন্ধে তর্ক বিতর্কে মগ্ন থাকবে। যখন তোমরা জান যে তিনি আমাদের এবং তোমাদের সকলেরই পালনকর্তা ও মালিক? তোমরা দাবী কর যে, তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের ধর্ম পালন কর।

তাহলে কি তোমরা দাবী কর যে, ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক ও ইয়াকুব এবং তাদের সন্তানেরা সবাই ইহুদী বা খৃষ্টান ছিলেন কারণ এরাই তোমাদের পূর্বপুরুষ। হযরত মুসা বা হযরত ঈসা নবীর আগমণের বহু পূর্বে হযরত ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক ও তাদের গোত্রদের অবস্থান ছিল। তাহলে কী ভাবে হযরত ইব্রাহীম যার আগমণ হযরত মুসার পূর্বে তিনি ইহুদী ছিলেন? খৃষ্টানেরা তাদের ধর্মে হযরত ঈসাকে খোদার পুত্র বলে শেরেকী করে। হযরত ইব্রাহীমকে খৃষ্টান হতে হলে তাকেও হযরত ঈসাকে খোদার পুত্র বলে মানতে হয়।

কিন্তু হযরত ইব্রাহীমের সময়ে পৃথিবীতে হযরত ঈসার অস্তিত্ব ছিল না। তাহলে কি ভাবে হযরত ইব্রাহীম খ্রষ্টধর্ম পালন করেছেন? সেই একইভাবে ইহুদী ধর্মেও অনেক বক্তব্য আসে যা ইব্রাহীমের ধর্মের বিরোধী। ইতিহাসই এর সাক্ষ্য দেয় যে একমাত্র ইসলামই অবিকৃতভাবে হযরত ইব্রাহীমের ধর্মকে উপস্থাপন করে, যার মূল কথা হচ্ছে আল্লাহ্‌র সাথে কাউকে অংশীদার না করা এবং একমাত্র আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য সৎকর্ম করা।

ইসলামের এই শিক্ষা হচ্ছে হযরত ইব্রাহীমের শিক্ষা যা যুগে যুগে হযরত মুসা, হযরত ঈসা ও অন্যান্য নবী রাসূলগণ প্রচার করে গেছেন। কিন্তু কালের পরিবর্তনের সাথে সাথে হযরত মুসা হযরত ঈসার ধর্মীয় গ্রন্থে এবং ধর্মের মূল বাণীতে অনেক শেরেকী প্রবেশ করে।

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । (আয়াত ১৪০)

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । (আয়াত ১৪১)

তার চাইতে অত্যাচারী কে, যে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার কাছে প্রমাণিত সাক্ষ্যকে গোপন করে? আল্লাহ তোমাদের কর্ম সম্পর্কে বেখবর নন। সে সম্প্রদায় অতীত হয়ে গেছে। তারা যা করেছে, তা তাদের জন্যে এবং তোমরা যা করছ, তা তোমাদের জন্যে। তাদের কর্ম সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞেস করা হবে না।
That was a nation who has passed away. They shall receive the reward of what they earned, and you of what you earn. And you will not be asked of what they used to do.

تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُم مَّا كَسَبْتُمْ وَلاَ تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُواْ يَعْمَلُونَ
Tilka ommatun qad khalat laha ma kasabat walakum ma kasabtum wala tus-aloona AAamma kanoo yaAAmaloona

YUSUFALI: That was a people that hath passed away. They shall reap the fruit of what they did, and ye of what ye do! Of their merits there is no question in your case:

PICKTHAL: Those are a people who have passed away; theirs is that which they earned and yours that which ye earn. And ye will not be asked of what they used to do.

SHAKIR: This is a people that have passed away; they shall have what they earned and you shall have what you earn, and you shall not be called upon to answer for what they did.

KHALIFA: That was a community from the past. They are responsible for what they earned, and you are responsible for what you earned. You are not answerable for anything they did.

১৪১। তারা ছিলো এক সম্প্রদায়, যারা অতীতে হয়েছে। তারা যা করেছে তার ফল তারা লাভ করবে, এবং তোমরা যা কর তা তোমাদের। তাদের যোগ্যতা সম্বন্ধে তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে না ১৩৯।

১৩৯। এই আয়াতের শুরু [২:১৩৪] আয়াত থেকে। আল্লাহ্‌ বিভিন্নভাবে আমাদের এই উপদেশ দিয়েছেন যে, একমাত্র সত্য ধর্ম হচ্ছে ইব্রাহীমের (আঃ) ধর্ম, যা যুগে যুগে প্রচার করেছেন বিভিন্ন নবী ও রাসূলগণ। যার সারমর্ম হচ্ছে এক স্রষ্টার উপর বিশ্বাস স্থাপন করা ও আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভের জন্য তাঁর সৃষ্টির সেবা করা। যার কর্মফল সে-ই ভোগ করবে। কারও পাপের জন্য অন্য কাউকে দায়ী করা হবে না; বা কারও পূণ্যও কেউ ভোগ করতে পারবে না।

সঙ্গীত যেমন প্রতিটি অনুচ্ছেদের শেষে প্রথম পংক্তিটির বার বার পুনরাবৃত্তি করা হয়। কোরআন শরীফ কবিতার ছন্দে নাজেল হয়েছে। সঙ্গীতের সেই সৌন্দর্য্য এখানেও ধরে রাখা হয়েছে এবং পূর্বের আয়াতের [২:১৩৪] পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। কুরআন শরীফ নাজেল হয়েছে কবিতার মাধ্যমে এবং পড়তেও হয় সুরেলাভাবে। এর ভাষা, ছন্দ, মাধুর্য্য অতুলনীয়। এই লাইনটি শেষে বার বার ব্যবহার করা হয়েছে’ সঙ্গীতের একটি লাইন যেরূপ বার বার ব্যবহার করা হয় সেরূপ এই বিষয়টির গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য।

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । (আয়াত ১৪২)

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । (আয়াত ১৪৩)

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । (আয়াত ১৪৪)

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । (আয়াত ১৪৫)

যদি আপনি আহলে কিতাবদের কাছে সমুদয় নিদর্শন উপস্থাপন করেন, তবুও তারা আপনার কেবলা মেনে নেবে না এবং আপনিও তাদের কেবলা মানেন না। তারাও একে অন্যের কেবলা মানে না। যদি আপনি তাদের বাসনার অনুসরণ করেন, সে জ্ঞানলাভের পর, যা আপনার কাছে পৌঁছেছে, তবে নিশ্চয় আপনি অবিচারকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।

And even if you were to bring to the people of the Scripture (Jews and Christians) all the Ayât (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.), they would not follow your Qiblah (prayer direction), nor are you going to follow their Qiblah (prayer direction). And they will not follow each other’s Qiblah (prayer direction). Verily, if you follow their desires after that which you have received of knowledge (from Allâh), then indeed you will be one of the Zâlimûn (polytheists, wrong-doers, etc.).

وَلَئِنْ أَتَيْتَ الَّذِينَ أُوْتُواْ الْكِتَابَ بِكُلِّ آيَةٍ مَّا تَبِعُواْ قِبْلَتَكَ وَمَا أَنتَ بِتَابِعٍ قِبْلَتَهُمْ وَمَا بَعْضُهُم بِتَابِعٍ قِبْلَةَ بَعْضٍ وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءهُم مِّن بَعْدِ مَا جَاءكَ مِنَ الْعِلْمِ إِنَّكَ إِذَاً لَّمِنَ الظَّالِمِينَ

Wala-in atayta allatheena ootoo alkitaba bikulli ayatin ma tabiAAoo qiblataka wama anta bitabiAAin qiblatahum wama baAAduhum bitabiAAin qiblata baAAdin wala-ini ittabaAAta ahwaahum min baAAdi ma jaaka mina alAAilmi innaka ithan lamina alththalimeena

YUSUFALI: Even if thou wert to bring to the people of the Book all the Signs (together), they would not follow Thy Qibla; nor art thou going to follow their Qibla; nor indeed will they follow each other’s Qibla. If thou after the knowledge hath reached thee, Wert to follow their (vain) desires,-then wert thou Indeed (clearly) in the wrong.

PICKTHAL: And even if thou broughtest unto those who have received the Scripture all kinds of portents, they would not follow thy qiblah, nor canst thou be a follower of their qiblah; nor are some of them followers of the qiblah of others. And if thou shouldst follow their desires after the knowledge which hath come unto thee, then surely wert thou of the evil-doers.

SHAKIR: And even if you bring to those who have been given the Book every sign they would not follow your qiblah, nor can you be a follower of their qiblah, neither are they the followers of each other’s qiblah, and if you follow their desires after the knowledge that has come to you, then you shall most surely be among the unjust.

KHALIFA: Even if you show the followers of the scripture every kind of miracle, they will not follow your Qiblah. Nor shall you follow their Qiblah. They do not even follow each others’ Qiblah. If you acquiesce to their wishes, after the knowledge that has come to you, you will belong with the transgressors.

১৪৫। যাদের কিতাব দেয়া হয়েছে, তুমি যদি তাদের নিকট সকল নিদর্শন [একসঙ্গে] হাজির কর, তবুও তারা তোমার কিব্‌লা অনুসরণ করবে না। তুমিও তাদের কিব্‌লা অনুসরণ করতে যাচ্ছ না। অবশ্যই তারা পরস্পরের কিব্‌লা অনুসরণ করবে না

১৫০। তোমার নিকট জ্ঞান আসার পরও যদি তুমি তাদের [মিথ্যা] খেয়াল-খুশীর অনুসরণ কর, নিশ্চয়ই তখন তুমি পাপীদের অন্তর্ভূক্ত হবে।

১৫০। টীকা নং ১৪৭ ও আয়াত ১৪৪ দেখুন। ইহুদী ও খৃষ্টানদের মধ্যে কিব্‌লা অনুসরণের রীতি ছিল কিন্তু ইসলামের মত এত সুদৃঢ় আইনের ভিত্তিতে কিব্‌লার অনুসরণ করতে তাদের একগুঁয়ে মন প্রস্তুত ছিল না।

আর ইসলামেও একটি সুনির্দিষ্ট কিব্‌লা নির্ধারণের পর পূর্বের মত অন্য কোন অনিশ্চিত, অপূর্ণ ও ভিন্ন ভিন্ন মতের পরিতোষক কোন কিছু গ্রহণের কোন অবকাশ থাকে না।

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । (আয়াত ১৪৬)

আমি যাদেরকে কিতাব দান করেছি, তারা তাকে চেনে, যেমন করে চেনে নিজেদের পুত্রদেরকে। আর নিশ্চয়ই তাদের একটি সম্প্রদায় জেনে শুনে সত্যকে গোপন করে।
Those to whom We gave the Scripture (Jews and Christians) recognise him (Muhammad SAW or the Ka’bah at Makkah) as they recongise their sons. But verily, a party of them conceal the truth while they know it – [i.e. the qualities of Muhammad SAW which are written in the Taurât (Torah) and the Injeel (Gospel)].

الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءهُمْ وَإِنَّ فَرِيقاً مِّنْهُمْ لَيَكْتُمُونَ الْحَقَّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ
Allatheena ataynahumu alkitaba yaAArifoonahu kama yaAArifoona abnaahum wa-inna fareeqan minhum layaktumoona alhaqqa wahum yaAAlamoona

YUSUFALI: The people of the Book know this as they know their own sons; but some of them conceal the truth which they themselves know.
PICKTHAL: Those unto whom We gave the Scripture recognise (this revelation) as they recognise their sons. But lo! a party of them knowingly conceal the truth.

SHAKIR: Those whom We have given the Book recognize him as they recognize their sons, and a party of them most surely conceal the truth while they know (it).

KHALIFA: Those who received the scripture recognize the truth herein, as they recognize their own children. Yet, some of them conceal the truth, knowingly.

১৪৬। কিতাবধারী লোকেরা এই [সত্যকে] সেরূপ জানে, যেরূপ তারা নিজেদের সন্তানদের চেনে ১৫১। কিন্তু তাদের এক দল জেনে শুনে সত্যকে গোপন করে।

১৫১। কিতাবধারী জাতিরা এই সত্যকে এমনভাবে চেনে যেমন তারা তাদের সন্তানদের চেনে। কারণ তাদের ধর্মগ্রন্থ, তাদের কৃষ্টি, ঐতিহ্য সবই সেই এক সত্যের উপরে প্রতিষ্ঠিত যা তাদের ধর্মের নূতন রূপকে স্বাগতম জানাতে সাহায্য করে। (কারণ এই রূপ সেই একই আল্লাহ্‌র নির্দেশে পরিবর্তিত ও সময়োপযোগী করে সংশোধিত। এরপরে আর কোনও জীবন-দর্শনের প্রয়োজন নেই-এটি সর্বকালের মানুষের জন্য একটি সম্পূর্ণ গ্রন্থ)।

কোন কোন অনুবাদকের মতে ‘this’ বা এই শব্দটি আমাদের নবীকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে। তাহলে এ আয়াতটির অর্থ দাঁড়ায় যে কিতাবধারী জাতিরা মুহম্মদকে সেরকম ভালভাবে জানে যেমন তারা তাদের সন্তানদের জানে। তারা জানে তিনি সত্যের প্রচারক, তারা জানে তিনি ইব্রাহীমের ধর্ম প্রচার করেছেন। তারা এও জানে যে তার বর্ণনাই তাদের ধর্মগ্রন্থে পূর্বেই বলা হয়েছে। কিন্তু অন্ধকার ও স্বার্থপরতা তাদের সত্য গোপন করতে এবং তাদের ধর্মগ্রন্থের বিপরীত কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে।

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি ।(আয়াত ১৪৭)

বাস্তব সত্য সেটাই যা তোমার পালনকর্তা বলেন। কাজেই তুমি সন্দিহান হয়ো না।
(This is) the truth from your Lord. So be you not one of those who doubt.

الْحَقُّ مِن رَّبِّكَ فَلاَ تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ

Alhaqqu min rabbika fala takoonanna mina almumtareena

YUSUFALI: The Truth is from thy Lord; so be not at all in doubt.

PICKTHAL: It is the Truth from thy Lord (O Muhammad), so be not thou of those who waver.
SHAKIR: The truth is from your Lord, therefore you should not be of the doubters.

KHALIFA: This is the truth from your Lord; do not harbor any doubt.

১৪৭। সত্য তোমার প্রভুর নিকট থেকে আগত ১৫২। সুতরাং তুমি বিন্দুমাত্র সন্দেহ পোষণ করো না।

১৫২। ‘সত্য’ হেদায়েতের ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ্‌র। মানুষ যত চেষ্টাই করুক সত্যকে গোপন রাখতে পারে না। মানুষের সন্দেহ, স্বার্থপরতা, বিকৃতি সবকিছুর উর্ধ্বে আল্লাহ্‌র অস্তিত্ব। পৃথিবীতে আল্লাহ্‌ই একমাত্র সত্য। তিনিই আদি এবং অন্ত। সুতরাং সত্য হেদায়েতের ক্ষমতা একমাত্র তাঁরই।

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । (আয়াত ১৪৮)

আর সবার জন্যই রয়েছে কেবলা একেক দিকে, যে দিকে সে মুখ করে (এবাদত করবে)। কাজেই সৎকাজে প্রতিযোগিতামূলকভাবে এগিয়ে যাও। যেখানেই তোমরা থাকবে, আল্লাহ অবশ্যই তোমাদেরকে সমবেত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।
For every nation there is a direction to which they face (in their prayers). So hasten towards all that is good. Wheresoever you may be, Allâh will bring you together (on the Day of Resurrection). Truly, Allâh is Able to do all things.

وَلِكُلٍّ وِجْهَةٌ هُوَ مُوَلِّيهَا فَاسْتَبِقُواْ الْخَيْرَاتِ أَيْنَ مَا تَكُونُواْ يَأْتِ بِكُمُ اللّهُ جَمِيعًا إِنَّ اللّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
Walikullin wijhatun huwa muwalleeha faistabiqoo alkhayrati aynama takoonoo ya/ti bikumu Allahu jameeAAan inna Allaha AAala kulli shay-in qadeerun

YUSUFALI: To each is a goal to which Allah turns him; then strive together (as in a race) Towards all that is good. Wheresoever ye are, Allah will bring you Together. For Allah Hath power over all things.

PICKTHAL: And each one hath a goal toward which he turneth; so vie with one another in good works. Wheresoever ye may be, Allah will bring you all together. Lo! Allah is Able to do all things.

SHAKIR: And every one has a direction to which he should turn, therefore hasten to (do) good works; wherever you are, Allah will bring you all together; surely Allah has power over all things.

KHALIFA: Each of you chooses the direction to follow; you shall race towards righteousness. Wherever you may be, GOD will summon you all. GOD is Omnipotent.

রুকু – ১৮

১৪৮। প্রত্যেকের [জীবনের] একটি উদ্দেশ্য রয়েছে, যেদিকে আল্লাহ্‌ তাকে ফিরিয়ে দেন ১৫৩। সুতরাং [জাতি হিসেবে] যা কিছু ভালো তার জন্য এক সাথে প্রতিযোগিতা কর। তোমরা যেখানেই থাক না কেন, আল্লাহ্‌ তোমাদের সকলকে একত্র করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ সর্ব বিষযের উপরে সর্বশক্তিমান।

১৫৩। ‘প্রত্যেকের [জীবনের] একটি উদ্দেশ্য রয়েছে, যেদিকে আল্লাহ্‌ তাকে ফিরিয়ে দেন’ এখানে ‘হু-ওয়া’ কথাটির অন্যভাবে অনুবাদ করলে বাক্যটির অর্থ দাঁড়ায় ‘প্রত্যেকের নিজস্ব লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য আছে যার দিকে সে ধাবিত হয়।

’ এখানে পৃথিবীর জীবনটাকে এক প্রতিযোগিতাপূর্ণ দৌড়ের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এই প্রতিযোগীতা ব্যক্তিগত হতে পারে বা জাতিগত হতে পারে প্রত্যেকেই নিজ নিজ লক্ষের দিকে প্রাণপণে দৌড়াচ্ছে। সে লক্ষ্যটি কি? সে লক্ষ্য হচ্ছে সত্য, সুন্দর ও যা কিছু ভালো তার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম।

আল্লাহ্‌ প্রতিটি মানুষকে পাঠিয়েছেন তার বিশেষ নেয়ামতে ধন্য করে। তাঁর নেয়ামত-ই হচ্ছে মানুষের জন্য বিশেষ গুণাবলী যা মানবকে করে গৌরবান্বিত, ধন্য। একেই আমরা আখ্যায়িত করি প্রতিভারূপে। তবে সবাই প্রতিভাবান না হলেও সকলের মধ্যেই আল্লাহ্‌র কিছু না কিছু নেয়ামত আছে।

বিজ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য, সঙ্গীত ইত্যাদি বিভিন্ন গুণাবলী বিভিন্ন মানুষের মধ্যে জন্মগতভাবে জন্ম নেয়। এই জন্মগতভাবে পাওয়া ক্ষমতাই হচ্ছে আল্লাহ্‌র বিশেষ দান। এই দানকে সম্পূর্ণ করায়ত্ব করতে হলে প্রত্যেককে তার সমস্ত সত্ত্বা ও আন্তরিকতা দিয়ে প্রাণপণে চেষ্টা করতে হবে। চেষ্টা ব্যতীত আল্লাহ্‌ প্রদত্ত এই নেয়ামতকে করায়ত্ব করা সম্ভব নয়।

আপাতঃদৃষ্টিতে বৈজ্ঞানিকের লক্ষ্য এক, শিল্পীর লক্ষ্য অন্য, সাহিত্যিকের লক্ষ্য আলাদা কিন্তু সামগ্রিকভাবে সকলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক, আর তা হচ্ছে পৃথিবীতে সত্য ও সুন্দরের প্রতিষ্ঠা ও সৃষ্টির সেবা করা ও মন্দকে প্রতিহত করা।

অর্থাৎ আল্লাহ্‌ প্রদত্ত নেয়ামত দ্বারা আল্লাহ্‌ প্রত্যেকের জন্য তার লক্ষ্য স্থির করে দিয়েছেন যে লক্ষ্য অর্জনের জন্য সে আপ্রাণ চেষ্টা করে। সে চেষ্টা ব্যক্তিগত হতে পারে আবার সমষ্টিগতও হতে পারে। এই চেষ্টার শেষ পরিণতি হচ্ছে আল্লাহ্‌ প্রদত্ত নেয়ামতকে আয়ত্ব করে তার সৃষ্টির সেবার জন্য তা নিবেদন করা। এখানে লক্ষ্য এক কিন্তু পথ প্রত্যেকের জন্য আলাদা।

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । (আয়াত ১৪৯)

আর যে স্থান থেকে তুমি বের হও, নিজের মুখ মসজিদে হারামের দিকে ফেরাও-নিঃসন্দেহে এটাই হলো তোমার পালনকর্তার পক্ষ থেকে নির্ধারিত বাস্তব সত্য। বস্তুতঃ তোমার পালনকর্তা তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অনবহিত নন।

And from wheresoever you start forth (for prayers), turn your face in the direction of Al-Masjid-al-Harâm (at Makkah), that is indeed the truth from your Lord. And Allâh is not unaware of what you do.

وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَإِنَّهُ لَلْحَقُّ مِن رَّبِّكَ وَمَا اللّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ

Wamin haythu kharajta fawalli wajhaka shatra almasjidi alharami wa-innahu lalhaqqu min rabbika wama Allahu bighafilin AAamma taAAmaloona

YUSUFALI: From whencesoever Thou startest forth, turn Thy face in the direction of the sacred Mosque; that is indeed the truth from the Lord. And Allah is not unmindful of what ye do.

PICKTHAL: And whencesoever thou comest forth (for prayer, O Muhammad) turn thy face toward the Inviolable Place of Worship. Lo! it is the Truth from thy Lord. Allah is not unaware of what ye do.

SHAKIR: And from whatsoever place you come forth, turn your face towards the Sacred Mosque; and surely it is the very truth from your Lord, and Allah is not at all heedless of what you do.

KHALIFA: Wherever you go, you shall turn your face (during Salat) towards the Sacred Masjid. This is the truth from your Lord. GOD is never unaware of anything you all do.

১৪৯। যেখান থেকেই তুমি বের হও না কেন, মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফিরাও ১৫৪। ইহা নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালকের নিকট থেকে আগত সত্য। তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে আল্লাহ্‌ অমনোযোগী নন।

১৫৪। এই আয়াতে প্রতিযোগিতাপূর্ণ দৌড়ের উপমাটির [২:১৪৮] ধারাবাহিকতা বর্ণনা করা হয়েছে। পূর্বে বলা হয়েছে এই দৌড়ের প্রতিযোগিতার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য এক। এখানে কিব্‌লাকে এর প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আয়াত [২:১৪৪] এ বলা হয়েছে নূতন মুসলমানদের জন্য কাবা হচ্ছে একতার প্রতীক।

এখানে কাবাকে বলা হচ্ছে সত্য, সুন্দর ও ভালোর প্রতীক-যে প্রতীক সকলেরই লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। এখানে খৃষ্টান বা ইহুদী বা মুসলমানদের মধ্যে কোনও পার্থক্য নাই। যে যেখানে থেকেই শুরু করুক না কেন সকলেরই শেষ লক্ষ্য একটাই। আর তা হচ্ছে পৃথিবীতে সত্য ও সুন্দরের এবং ভালোর প্রতিষ্ঠা।

এই এক লক্ষ্যে একত্রিত করার প্রতীক হচ্ছে কিব্‌লা। আয়াত [২:১৫০] এ এই একই কথার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। আয়াতে [২:১৫০] ‘Where soever’ কথাটি আরবীতে অনেক ব্যাপক অর্থ বহন করে। এর মানে তিনটি বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, (১) যে কোনও পরিবেশে, (২) যে কোনও যুগে, সময়ে (৩) যে কোনও স্থানে।

অর্থাৎ এর যে কোনও অবস্থানেই ব্যক্তি বা সমষ্টি থাকুক না কেন সকলের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য এক কিব্‌লার দিকে মুখ যা সত্য, সুন্দর ও ভালর প্রতীক।

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । (আয়াত ১৫০)

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । (আয়াত ১৫১)

যেমন, আমি পাঠিয়েছি তোমাদেরই মধ্য থেকে তোমাদের জন্যে একজন রসূল, যিনি তোমাদের নিকট আমার বাণীসমুহ পাঠ করবেন এবং তোমাদের পবিত্র করবেন; আর তোমাদের শিক্ষা দেবেন কিতাব ও তাঁর তত্ত্বজ্ঞান এবং শিক্ষা দেবেন এমন বিষয় যা কখনো তোমরা জানতে না।

Similarly (to complete My Blessings on you) We have sent among you a Messenger (Muhammad SAW) of your own, reciting to you Our Verses (the Qur’ân) and sanctifying you, and teaching you the Book (the Qur’ân) and the Hikmah (i.e. Sunnah, Islâmic laws and Fiqh – jurisprudence), and teaching you that which you used not to know.

كَمَا أَرْسَلْنَا فِيكُمْ رَسُولاً مِّنكُمْ يَتْلُو عَلَيْكُمْ آيَاتِنَا وَيُزَكِّيكُمْ وَيُعَلِّمُكُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُعَلِّمُكُم مَّا لَمْ تَكُونُواْ تَعْلَمُونَ

Kama arsalna feekum rasoolan minkum yatloo AAalaykum ayatina wayuzakkeekum wayuAAallimukumu alkitaba waalhikmata wayuAAallimukum ma lam takoonoo taAAlamoona

YUSUFALI: A similar (favour have ye already received) in that We have sent among you a Messenger of your own, rehearsing to you Our Signs, and sanctifying you, and instructing you in Scripture and Wisdom, and in new knowledge.

PICKTHAL: Even as We have sent unto you a messenger from among you, who reciteth unto you Our revelations and causeth you to grow, and teacheth you the Scripture and wisdom, and teacheth you that which ye knew not.

SHAKIR: Even as We have sent among you a Messenger from among you who recites to you Our communications and purifies you and teaches you the Book and the wisdom and teaches you that which you did not know.

KHALIFA: (Blessings) such as the sending of a messenger from among you to recite our revelations to you, purify you, teach you the scripture and wisdom, and to teach you what you never knew.

১৫০। সুতরাং তুমি যেখান থেকেই বের হও না কেন, মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফিরাও। আর যেখানেই তোমরা থাক না কেন এর দিকেই তোমাদের মুখ ফিরাবে। এটা এ জন্য যে, দুষ্ট লোকেরা ব্যতীত তোমাদের বিরুদ্ধে বিতর্ক করার কারও কোনও ভিত্তি না থাকে। অতএব, তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, ভয় করবে আমাকে। যেনো আমি তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ পূর্ণ করতে পারি এবং যাতে তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হতে পার।

১৫১। যেমন [অনুগ্রহ তোমরা ইতিমধ্যে পেয়েছ যে], তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের প্রতি রাসূল প্রেরণ করেছি ১৫৫। যে তোমাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করে, তোমাদের পরিশুদ্ধ করে, এবং তোমাদের কিতাব ও প্রজ্ঞা এবং নূতন জ্ঞান শিক্ষা দেয়।

১৫৫। এই [২:২৫১] আয়াতটি [২:১৫০] আয়াতের শেষ অংশরূপে পরিগণিত করা যায়। সুতরাং সম্পূর্ণ অর্থ হৃদয়ঙ্গম করতে হলে দুটো [১৫০ ও ১৫১] আয়াত এক সাথে পড়া প্রয়োজন। এখানে কাবাকে কিব্‌লা করার স্বপক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে, কাবাকে কিব্‌লা করার মাধ্যমে আল্লাহ্‌ আমাদের ধর্মকে সম্পূর্ণ করে দিচ্ছেন এবং সেই সাথে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর প্রার্থনাও মঞ্জুর করে দিচ্ছেন।

হযরত ইব্রাহীমের প্রার্থনা ছিল তিনটি। প্রথমটি ছিল মক্কা হবে পবিত্র নগরী [২:১২৬], দ্বিতীয়টি হচ্ছে সেখানে সত্যিকারের মুসলমানদের উদ্ভব হবে এবং কাবা শরীফ হচ্ছে পরহেযগারদের জন্য Sanctuary [২:১২৮] এবং তৃতীয়টি হচ্ছে আরবদের মধ্যে যেনো নবী প্রেরণ করা হয় যার গুণাবলী পৃথিবীকে উদ্ভাসিত করবে [২:১২৯]। এই আয়াতটিতে উপরিউক্ত কথাগুলিরই পুনরাবৃত্তি করে শেষ করা হয়েছে।

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি ।
সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি ।

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । (আয়াত ১৫২)

সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদের স্মরণ রাখবো এবং আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর; অকৃতজ্ঞ হয়ো না।
Therefore remember Me (by praying, glorifying, etc.). I will remember you, and be grateful to Me (for My countless Favours on you) and never be ungrateful to Me.

فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُواْ لِي وَلاَ تَكْفُرُونِ

Faothkuroonee athkurkum waoshkuroo lee wala takfurooni

YUSUFALI: Then do ye remember Me; I will remember you. Be grateful to Me, and reject not Faith.
PICKTHAL: Therefore remember Me, I will remember you. Give thanks to Me, and reject not Me.

SHAKIR: Therefore remember Me, I will remember you, and be thankful to Me, and do not be ungrateful to Me.

KHALIFA: You shall remember Me, that I may remember you, and be thankful to Me; do not be unappreciative.

১৫২। সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর ১৫৬। আমিও তোমাদের স্মরণ করবো। আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং ঈমানকে প্রত্যাখান করো না।

১৫৬। ‘জিকির’ কথাটির অনুবাদ করা হয়েছে স্মরণ করা। স্মরণ কর কথাটির দ্বারা জিকির শব্দটির পূর্ণাঙ্গভাব প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আরবী জিকির শব্দটি বিভিন্ন ভাবের প্রকাশ করে।

আমাদের ধর্মে জিকির শব্দটি ব্যবহার হয় (১) স্মরণ অর্থে (২) প্রশংসা অর্থে (৩) অনুশীলন অর্থে (৪) [To celebrate or commemorate] উদ্‌যাপন অর্থে (৫) গুরুত্ব দেওয়া অর্থে  ও (৬) ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে আনন্দ লাভ করা অর্থে ইত্যাদি। অর্থাৎ আল্লাহ্‌র নামকে ভক্তির সাথে, শ্রদ্ধার সাথে, কৃতজ্ঞতার সাথে, জীবনের প্রতিটি অবস্থায় স্মরণ করার নামই হচ্ছে জিকির করা। সুখ-দুঃখ, আনন্দ-ব্যাথা, সাফল্য-ব্যর্থতা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহ্‌র নাম স্মরণে আনন্দ পাওয়ার নামই হচ্ছে জিকির।

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । (আয়াত ১৫৩)

হে মুমিন গন! তোমরা ধৈর্য্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চিতই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন।

O you who believe! Seek help in patience and As-Salât (the prayer). Truly! Allâh is with As-Sâbirin (the patient ones, etc.).

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اسْتَعِينُواْ بِالصَّبْرِ وَالصَّلاَةِ إِنَّ اللّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ
Ya ayyuha allatheena amanoo istaAAeenoo bialssabri waalssalati inna Allaha maAAa alssabireena

YUSUFALI: O ye who believe! seek help with patient perseverance and prayer; for Allah is with those who patiently persevere.

PICKTHAL: O ye who believe! Seek help in steadfastness and prayer. Lo! Allah is with the steadfast.

SHAKIR: O you who believe! seek assistance through patience and prayer; surely Allah is with the patient.

KHALIFA: O you who believe, seek help through steadfastness and the Contact Prayers (Salat). GOD is with those who steadfastly persevere.

রুকু – ১৯

১৫৩। হে বিশ্বাসীগণ! ধৈর্য্য, অধ্যাবসায় ও প্রার্থনার মাধ্যমে [আল্লাহ্‌র] সাহায্য প্রার্থনা কর ১৫৭। যারা ধৈর্য্যরে সাথে অধ্যাবসায়ী হয়, আল্লাহ্‌ তাদের সাথে থাকেন।

১৫৭। আয়াত [২ : ৪৫] এ সব্‌র কথাটির গূঢ় অর্থ সংশ্লিষ্ট টিকাতে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে সব্‌র কথাটির অন্য আর একটি অর্থ সংযোজন করা হয়েছে যার অর্থ আত্ম সংযম। হাক্কানী তাঁর তাফসীরে আত্ম সংযমকে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে ভয়, রাগ বা লোভ-লালসা থেকে নিজেকে সংযত রাখা।

সব্‌র হচ্ছে ধৈর্য্য, অধ্যাবসায়, আত্ম সংযম এবং চরিত্রের দৃঢ়তা যাদের চরিত্রে এসব গুণের সমাবেশ ঘটে অর্থাৎ আল্লাহ্‌র উপরে ভরসা করে যে সব্‌র ধারণ করে আল্লাহ্‌ বলেছেন আল্লাহ্‌ তাদের সাথে থাকেন। এর থেকে বড় পুরস্কার বান্দার জীবনে আর কি হতে পারে? সেই সর্বশক্তিমানের সান্নিধ্যের চেয়ে মুসলমানের জীবনে আর চাওয়ার কি আছে?

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । (আয়াত ১৫৪)

আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝ না।

And say not of those who are killed in the Way of Allâh, ”They are dead.” Nay, they are living, but you perceive (it) not.

وَلاَ تَقُولُواْ لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبيلِ اللّهِ أَمْوَاتٌ بَلْ أَحْيَاء وَلَكِن لاَّ تَشْعُرُونَ

Wala taqooloo liman yuqtalu fee sabeeli Allahi amwatun bal ahyaon walakin la tashAAuroona

YUSUFALI: And say not of those who are slain in the way of Allah: “They are dead.” Nay, they are living, though ye perceive (it) not.

PICKTHAL: And call not those who are slain in the way of Allah “dead.” Nay, they are living, only ye perceive not.

SHAKIR: And do not speak of those who are slain in Allah’s way as dead; nay, (they are) alive, but you do not perceive.

KHALIFA: Do not say of those who are killed in the cause of GOD, “They are dead.” They are alive at their Lord, but you do not perceive.

১৫৪। আল্লাহ্‌র পথে যারা নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না ১৫৮। বরং তারা জীবিত, যদিও তোমরা [তা] উপলব্ধি করতে পার না।

১৫৮। ‘ধৈর্য্য, অধ্যবসায় এবং প্রার্থনা’ যা পূর্ববর্তী আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে জীবন বিমুখতা। বরং এর অর্থ ঠিক উল্টো। এর অর্থ হচ্ছে সোচ্চার ভাবে শক্তভাবে হাল ধরে মিথ্যার বিরুদ্ধে, সত্যের জন্য যুদ্ধ করা। কারণ সত্যের জন্য যুদ্ধ করাই হচ্ছে আল্লাহ্‌র জন্য যুদ্ধ করা।

আল্লাহ্‌র রাস্তায় যুদ্ধ করার অর্থ ধন-সম্পদ, আপন-জন, সুখ-সুবিধা, সর্বস্ব ত্যাগ করা, সত্যকে প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করা। সত্যের জন্য সংগ্রামে অনেক বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। এমনও হয় যে সারা জীবনের কর্মফলকে ত্যাগ করতে হয়। ত্যাগ করতে হয় অর্থ-সম্পদ, মান-সম্মান, যশ-প্রতিপত্তি, সামাজিক প্রতিষ্ঠা এমনকি অনেক সময় সমাজের চোখে, সাধারণ মানুষের চোখে নিজেকে হেয় প্রতিপন্ন হতে হয়। তবুও সবকিছুর পরিবর্তে বান্দা যখন আনন্দ চিত্তে, সন্তুষ্টির সাথে শুধুমাত্র সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে, তখন তার এই আপাতঃ ক্ষতি আর ক্ষতি থাকে না।

আধ্যাত্মিক জগতে বান্দা পায় আসল পুরস্কার। যারা সত্যের জন্য সংগ্রাম করে এই সংগ্রামে যদি তারা নিজেদের জীবন বিসর্জন দেয় তবুও তা বৃথা যায় না। তারা মানুষের ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকে। তারা হয় অমর। আর এই সংগ্রামে বান্দা অর্থ-সম্পদ, মান-সম্মান যা তারা হারায়-সত্যিকার অর্থে তারা তা হারায় না।

পৃথিবীর আর্থিক ক্ষতির বিনিময়ে আল্লাহ্‌ বান্দার সম্মুখে আধ্যাত্মিক জগতের দ্বার উন্মুক্ত করে দেন। আমরা মহামানবদের জীবন থেকে এই শিক্ষা পাই-তাদের সংগ্রাম তাদের মৃত্যুর পরও অমর হয়ে আছে। তারা মৃত নন। আবার সত্যের জন্য আত্মত্যাগ মানব সমাজের একটি বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে থাকতে পারে, যে আত্মত্যাগের দ্বারা মানুষ যুগে যুগে উপকৃত হয়। ইসলাম এই আত্মনিবেদনকে উৎসাহিত করে।

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । (আয়াত ১৫৫)

এবং অবশ্যই আমি তোমাদিগকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের।
And certainly, We shall test you with something of fear, hunger, loss of wealth, lives and fruits, but give glad tidings to As-Sâbirin (the patient ones, etc.).

وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوفْ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الأَمَوَالِ وَالأنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ

Walanabluwannakum bishay-in mina alkhawfi waaljooAAi wanaqsin mina al-amwali waal-anfusi waalththamarati wabashshiri alssabireena

YUSUFALI: Be sure we shall test you with something of fear and hunger, some loss in goods or lives or the fruits (of your toil), but give glad tidings to those who patiently persevere,

PICKTHAL: And surely We shall try you with something of fear and hunger, and loss of wealth and lives and crops; but give glad tidings to the steadfast,

SHAKIR: And We will most certainly try you with somewhat of fear and hunger and loss of property and lives and fruits; and give good news to the patient,

KHALIFA: We will surely test you through some fear, hunger, and loss of money, lives, and crops. Give good news to the steadfast.

১৫৫। নিশ্চিত থেকো, আমি তোমাদের ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ, জীবন অথবা [পরিশ্রমের] ফলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করবো। কিন্তু যারা ধৈর্য্যের সাথে অধ্যাবসায়ীয় হয়, তাদের শুভ সংবাদ দাও ১৫৯।

১৫৯। এখানে সুসংবাদ যার অর্থ আল্লাহ্‌র রহমত। ঠিক এই একই কথা অন্য ভাষায় বলা হয়েছে [২:১৫৩] আয়াতে। সেখানে বলা হয়েছে আল্লাহ্‌ তাদের সাথে থাকবেন। এর থেকে বড় পুরস্কার পরহেজগার বান্দার জন্য আর কী হতে পারে।

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । (আয়াত ১৫৬)

যখন তারা বিপদে পতিত হয়, তখন বলে, নিশ্চয় আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তাঁরই সান্নিধ্যে ফিরে যাবো।

Who, when afflicted with calamity, say: ”Truly! To Allâh we belong and truly, to Him we shall return.”

الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُواْ إِنَّا لِلّهِ وَإِنَّـا إِلَيْهِ رَاجِعونَ

Allatheena itha asabat-hum museebatun qaloo inna lillahi wa-inna ilayhi rajiAAoona

YUSUFALI: Who say, when afflicted with calamity: “To Allah We belong, and to Him is our return”:-

PICKTHAL: Who say, when a misfortune striketh them: Lo! we are Allah’s and lo! unto Him we are returning.

SHAKIR: Who, when a misfortune befalls them, say: Surely we are Allah’s and to Him we shall surely return.

KHALIFA: When an affliction befalls them, they say, “We belong to GOD, and to Him we are returning.”

১৫৬। যারা বিপদ-বিপর্যয় দ্বারা আক্রান্ত হলে বলে, “আমরা তো আল্লাহ্‌রই অধিকারভূক্ত এবং তাঁর দিকেই আমাদের প্রত্যাবর্তন।”

১৫৭। এরাই তারা যাদের প্রতি তাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে আশীর্বাদ ও অনুগ্রহ বর্ষিত হয়। এবং এরাই তারা যারা সৎপথের নির্দেশ লাভ করে।

১৫৮। দেখো! সাফা ও মারওয়া আল্লাহ্‌র [প্রতীক] নিদর্শনসমূহের অন্তর্গত ১৬০। সুতরাং যে কেহ কাবা গৃহে ১৬১ হজ্ব ও ওমরা সম্পন্ন করে, তারা এ দুটিকে প্রদক্ষিণ করবে, এতে কোন পাপ নাই। যদি কেহ সৎ কাজের আবেগকে মেনে চলে, তবে নিশ্চিত হও, আল্লাহ্‌ [সৎ কাজকে] চিনতে পারেন ও সব জানেন ১৬২।

১৬০। আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাসের সাথে ধৈর্য্য ও অধ্যবসায় গুণ দু’টি আল্লাহ্‌ প্রতীকের মাধ্যমে এখানে বর্ণনা করেছেন সাফা ও মারওয়া দুটি ছোট ছোট পাহাড় যা মক্কা নগরীর অন্তর্ভূক্ত এবং যার খুব নিকটেই যম্‌যম্‌ কূপ অবস্থিত এই পাহাড় দুটি ধৈর্য্য ও অধ্যাবসায়ের প্রতীক। এর সম্বন্ধে পূর্বেই বর্ণনা করা হয়েছে। টিকা ১২৩-এ।

প্যাগান আরবেরা এখান মূর্তি স্থাপন করেছিল। ফলে নওমুসলিমরা হজ্বের সময়ে এখানে দৌড়াদৌড়ি করতে ইতঃস্তত করছিল। অবশ্য তাদের একটা কথা অনুধাবন করা উচিত ছিল যে পবিত্র কাবা ঘর [আল্লাহ্‌র ঘর] মূর্তি দ্বারা ভর্তি ছিল এবং আল্লাহর রাসূল তা পরিষ্কার করে সেখানে আল্লাহ্‌র ইবাদতের প্রতিষ্ঠা করেন।

এখানে শিক্ষণীয় হচ্ছে, পবিত্র জিনিষের অপবিত্র ব্যবহার হয়ে যেতে পারে। তাই বলে, আমরা সেই পবিত্র জিনিষকে ত্যাগ করতে পারি না। যা পারি তা হচ্ছে তাকে শুদ্ধ করে তার স্বস্থানে স্থাপন করতে। অর্থাৎ সত্য মিথ্যা দ্বারা আবৃত হতে পারে। যেমন-সূর্য মেঘে ঢেকে গেলে সূর্য সূর্যই থাকে। সেরকম সত্য মিথ্যা দ্বারা আবৃত্ত হলেও সত্য প্রকাশ পাবেই। সে রকম যদি আমাদের কাজের উদ্দেশ্য এবং আমাদের জীবন যদি পবিত্র হয়, পৃথিবীর আর কেউই তার মূল্য দিক বা না দিক আল্লাহ্‌ তার মূল্য দেবেনই।

১৬১। ‘The House’ পবিত্র মসজিদ বলতে কাবা ঘরকেই বোঝানো হয়েছে। পবিত্র হজ্বব্রত পালনের সময়ে যিলহজ্ব মাসের ৯ম দিনে আরাফাতের ময়দানে যেতে হয় এবং তারপর কাবা ঘরকে প্রদক্ষিণ করতে হয়। হজ্বের সময় ব্যতীত অন্য সময়ে কাবা ঘর প্রদক্ষিণ করাকে বলে ওমরা করা।

ওমরা করার নিয়মাবলী ও হজ্বের নিয়মাবলী প্রায় একই শুধু ওমরার সময়ে আরাফাতের ময়দানে যেতে হয় না। তবে সাফা মারওয়া দৌড়াদৌড়ি করতে হয়। সাফা মারওয়া মুসলিম ধর্মে এক মাইলফলক। এর দ্বারা আল্লাহ্‌র প্রতি নির্ভরশীলার সাথে যে গুণ দুটির জন্য সাফা ও মারওয়া প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে তা হলো ধৈর্য্য, অধ্যাবসায়। আল্লাহ্‌র প্রতি নির্ভরশীলতা, ধৈর্য্য ও অধ্যবসায় এই হচ্ছে প্রকৃত মোমেন বান্দাদের চরিত্রের প্রধান ও অন্যতম গুণাবলী।

১৬২। আবেগের বশবর্তী হয়ে কোনও কাজ করা উচিত নয়। তীব্র আবেগে মানুষের ভাল-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় বিচারের ক্ষমতা লোপ পায়। সুতরাং তীব্র আবেগের বশবর্তী হয়ে কারও ক্ষতি করা বা কোনও অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া উচিত নয়। কিন্তু এখানে আল্লাহ্‌ বলেছেন যদি তীব্র আবেগ ভালর জন্য হয়, মানুষের মঙ্গলের জন্য হয়, তবে তা করা উচিত। সমাজ বা মানুষের ভয়ে তা ত্যাগ করা উচিত নয়।

আমরা যদি নিশ্চিতভাবে জানি যে আবেগ ও অনুভূতি আমাদের সুপথে চালিত করছে-আল্লাহ্‌র হুকুম হচ্ছে মানুষের বা সমাজের ভয়ে তা ত্যাগ না করে আল্লাহ্‌র উপরে নির্ভর করে তার সন্তুষ্টির জন্য তা সম্পাদন করা। একেই বলা হচ্ছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে।

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । (আয়াত ১৫৭)

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । (আয়াত ১৫৮)

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । (আয়াত ১৫৯)

নিশ্চয় যারা গোপন করে, আমি যেসব বিস্তারিত তথ্য এবং হেদায়েতের কথা নাযিল করেছি মানুষের জন্য কিতাবের মধ্যে বিস্তারিত বর্ণনা করার পরও; সে সমস্ত লোকের প্রতিই আল্লাহর অভিসম্পাত এবং অন্যান্য অভিসম্পাতকারীগণের ও।
Verily, those who conceal the clear proofs, evidences and the guidance, which We have sent down, after We have made it clear for the people in the Book, they are the ones cursed by Allâh and cursed by the cursers.

إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى مِن بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولَـئِكَ يَلعَنُهُمُ اللّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَّاعِنُونَ
Inna allatheena yaktumoona ma anzalna mina albayyinati waalhuda min baAAdi ma bayyannahu lilnnasi fee alkitabi ola-ika yalAAanuhumu Allahu wayalAAanuhumu allaAAinoona

YUSUFALI: Those who conceal the clear (Signs) We have sent down, and the Guidance, after We have made it clear for the people in the Book,-on them shall be Allah’s curse, and the curse of those entitled to curse,-

PICKTHAL: Lo! Those who hide the proofs and the guidance which We revealed, after We had made it clear to mankind in the Scripture: such are accursed of Allah and accursed of those who have the power to curse.

SHAKIR: Surely those who conceal the clear proofs and the guidance that We revealed after We made it clear in the Book for men, these it is whom Allah shall curse, and those who curse shall curse them (too).

KHALIFA: Those who conceal our revelations and guidance, after proclaiming them for the people in the scripture, are condemned by GOD; they are condemned by all the condemners.

১৫৯। আমি যেসব সুস্পষ্ট [নিদর্শন] প্রেরণ করেছি তা এবং কিতাবী জাতিদের নিকট পথ নির্দেশ স্পষ্ট করার পরও, যারা তা গোপন করে, তাদের উপরে আল্লাহ্‌র অভিশাপ এবং অভিশাপকারীগণও তাদের অভিশাপ দেয় ১৬৩।

১৬৩। ‘Those entitled to curse’ অভিশাপকারীগণ অর্থাৎ ফেরেশ্‌তা ও মানব গোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে যারা অভিশাপ দেয়ার ক্ষমতা রাখেন। [২:১৬১] এই আয়াতে বলা হয়েছে যারা অভিশপ্ত তারা আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ ও রহমত থেকে বঞ্চিত হবে। সেই সাথে বঞ্চিত হবে ফেরেশ্‌তা ও বৃহত্তর মানবগোষ্ঠীর শুভাশীষ থেকে।

কারণ তারা আল্লাহ্‌কে অস্বীকার করার ফলে নিজের আত্মার উপরে অত্যাচার করে। আল্লাহ্‌ মানুষের আত্মাকে পুতঃ এবং পবিত্র করে সৃষ্টি করেছেন। মানুষের আত্মা আল্লাহ্‌র রুহুর অংশবিশেষ [১৫:২৯]। অবিশ্বাসের দ্বারা আত্মার পবিত্রতা কলুষিত হয়ে যায়।

কলুষিত আত্মা মহান স্রষ্টার অনুগ্রহ লাভে ব্যর্থ হয় ফলে অন্ধকারে আচ্ছাদিত হয়। আল্লাহ্‌র সান্নিধ্য আত্মাকে করে আলোকিত, পরিতৃপ্ত, শান্ত এবং জ্ঞানী। অপর পক্ষে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহ্‌কে অস্বীকার করে, তাদের আত্মা হয় পথভ্রান্ত, উদভ্রান্ত, অন্ধকারে আচ্ছন্ন ও বিচলিত। পৃথিবীর জ্ঞান, বিজ্ঞান তাদের মানসিক এই অবস্থার [State of mind] পরিবর্তন করতে পারে না। এই অবস্থায়ই হচ্ছে অভিশপ্ত অবস্থা।

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি ।(আয়াত ১৬০)

তবে যারা তওবা করে এবং বর্ণিত তথ্যাদির সংশোধন করে মানুষের কাছে তা বর্ণনা করে দেয়, সে সমস্ত লোকের তওবা আমি কবুল করি এবং আমি তওবা কবুলকারী পরম দয়ালু।
Except those who repent and do righteous deeds, and openly declare (the truth which they concealed). These, I will accept their repentance. And I am the One Who accepts repentance, the Most Merciful.

إِلاَّ الَّذِينَ تَابُواْ وَأَصْلَحُواْ وَبَيَّنُواْ فَأُوْلَـئِكَ أَتُوبُ عَلَيْهِمْ وَأَنَا التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
Illa allatheena taboo waaslahoo wabayyanoo faola-ika atoobu AAalayhim waana alttawwabu alrraheemu

YUSUFALI: Except those who repent and make amends and openly declare (the Truth): To them I turn; for I am Oft-returning, Most Merciful.

PICKTHAL: Except those who repent and amend and make manifest (the truth). These it is toward whom I relent. I am the Relenting, the Merciful.

SHAKIR: Except those who repent and amend and make manifest (the truth), these it is to whom I turn (mercifully); and I am the Oft-returning (to mercy), the Merciful.

KHALIFA: As for those who repent, reform, and proclaim, I redeem them. I am the Redeemer, Most Merciful.

১৬০। কিন্তু যারা অনুতাপের মাধ্যমে নিজেকে সংশোধন করে এবং প্রকাশ্যে [সত্যকে] ঘোষণা করে, আমি তাদের তওবা কবুল করি, কারণ আমি বার বার তওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।

১৬১। যারা ঈমানকে প্রত্যাখ্যান করে এবং কাফিররূপে মারা যায়, তাদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত এবং ফেরেশ্‌তাগণ ও সকল মানুষের অভিসম্পাত।

১৬২। তারা সে অবস্থায় স্থায়ী হবে ১৬৪, তাদের শাস্তি লঘু করা হবে না, তাদের [ভাগ্যে] কোন অবসরও দেয়া হবে না।

১৬৪। ‘অভিশাপ’ এটা শুধুমাত্র মুখের কথা নয়। অভিশপ্ত হচ্ছে আত্মার এক বিশেষ অবস্থা। [State of mind] এই অবস্থা আল্লাহ্‌র অনুগ্রহের ঠিক উল্টো। আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ ও রহমত আত্মাকে অন্ধকার থেকে আলোর ভূবনে নিয়ে আসে।

ফলে আত্মার মধ্যে জন্ম নেয় শান্তি, অন্তর্দৃষ্টি [Spiritual insight] এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞা (Wisdom) এরকম অবস্থায় বান্দার মধ্যে জন্ম নেয় ন্যায়-অন্যায় বোঝার ক্ষমতা, ভালকে মন্দ থেকে পার্থক্য করার ক্ষমতা, ফলে তিনি হন বিবেকবান এবং আল্লাহ্‌র রহমতের ফলে তার সমস্ত সত্তা শান্তিতে ভরে যায়। পৃথিবীর দুঃখ ব্যাথা, লোভ-লালসা, হিংসা-দ্বেষ কিছুই তাকে স্পর্শ করতে পারে না। অনাবিল শান্তি এবং আলোর ভূবনে হয় আত্মার অগ্রযাত্রা।

অভিশাপ প্রাপ্ত অবস্থা ঠিক এর বিপরীত। অনেকে মনে করে মুখে উচ্চারণ করলেই অভিশাপগ্রস্থ করা যায় কোনও ব্যক্তিকে, কিন্তু তা ঠিক নয়। তাই ইংরেজী প্রবাদ আছে, ‘Causeless curse will not come.’ কিন্তু যদি অত্যাচারী নিপীড়িত ব্যক্তি আল্লাহ্‌র কাছে এর প্রতিকার চায় তাহলে তার কান্না আল্লাহ্‌র আরসকে কাঁপিয়ে দেয়, ফলে অত্যাচারিত ব্যক্তির অভিশাপের ফলে অন্যায়কারী, অত্যাচারী ব্যক্তির উপর আল্লাহ্‌র রোষানল পতিত হয়।

তারা আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হয়। অন্যায়কারী বা অত্যাচারী তার নিজের আত্মার উপরে অত্যাচার করে। ফলে আত্মার শান্তি হয় বিঘ্নিত। ঐ ব্যক্তি সর্বদা থাকে ভীত, সন্ত্রস্ত, বিচলিত, পৃথিবীর উপর সে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। এরাই হচ্ছে অভিশপ্ত আত্মা। এটা হচ্ছে এক ধরনের (State of mind) মানসিক অবস্থা।

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি ।
সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি ।

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । (আয়াত ১৬১)

নিশ্চয় যারা কুফরী করে এবং কাফের অবস্থায়ই মৃত্যুবরণ করে, সে সমস্ত লোকের প্রতি আল্লাহর ফেরেশতাগনের এবং সমগ্র মানুষের লা’নত।
Verily, those who disbelieve, and die while they are disbelievers, it is they on whom is the Curse of Allâh and of the angels and of mankind, combined.

إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَمَاتُوا وَهُمْ كُفَّارٌ أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ لَعْنَةُ اللّهِ وَالْمَلآئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ
Inna allatheena kafaroo wamatoo wahum kuffarun ola-ika AAalayhim laAAnatu Allahi waalmala-ikati waalnnasi ajmaAAeena

YUSUFALI: Those who reject Faith, and die rejecting,- on them is Allah’s curse, and the curse of angels, and of all mankind;

PICKTHAL: Lo! Those who disbelieve, and die while they are disbelievers; on them is the curse of Allah and of angels and of men combined.

SHAKIR: Surely those who disbelieve and die while they are disbelievers, these it is on whom is the curse of Allah and the angels and men all;

KHALIFA: Those who disbelieve and die as disbelievers, have incurred the condemnation of GOD, the angels, and all the people (on the Day of Judgment).

১৬০। কিন্তু যারা অনুতাপের মাধ্যমে নিজেকে সংশোধন করে এবং প্রকাশ্যে [সত্যকে] ঘোষণা করে, আমি তাদের তওবা কবুল করি, কারণ আমি বার বার তওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।

১৬১। যারা ঈমানকে প্রত্যাখ্যান করে এবং কাফিররূপে মারা যায়, তাদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত এবং ফেরেশ্‌তাগণ ও সকল মানুষের অভিসম্পাত।

১৬২। তারা সে অবস্থায় স্থায়ী হবে ১৬৪, তাদের শাস্তি লঘু করা হবে না, তাদের [ভাগ্যে] কোন অবসরও দেয়া হবে না।

১৬৪। ‘অভিশাপ’ এটা শুধুমাত্র মুখের কথা নয়। অভিশপ্ত হচ্ছে আত্মার এক বিশেষ অবস্থা। [State of mind] এই অবস্থা আল্লাহ্‌র অনুগ্রহের ঠিক উল্টো। আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ ও রহমত আত্মাকে অন্ধকার থেকে আলোর ভূবনে নিয়ে আসে। ফলে আত্মার মধ্যে জন্ম নেয় শান্তি, অন্তর্দৃষ্টি [Spiritual insight] এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞা (Wisdom) এরকম অবস্থায় বান্দার মধ্যে জন্ম নেয় ন্যায়-অন্যায় বোঝার ক্ষমতা,

ভালকে মন্দ থেকে পার্থক্য করার ক্ষমতা, ফলে তিনি হন বিবেকবান এবং আল্লাহ্‌র রহমতের ফলে তার সমস্ত সত্তা শান্তিতে ভরে যায়। পৃথিবীর দুঃখ ব্যাথা, লোভ-লালসা, হিংসা-দ্বেষ কিছুই তাকে স্পর্শ করতে পারে না। অনাবিল শান্তি এবং আলোর ভূবনে হয় আত্মার অগ্রযাত্রা।

অভিশাপ প্রাপ্ত অবস্থা ঠিক এর বিপরীত। অনেকে মনে করে মুখে উচ্চারণ করলেই অভিশাপগ্রস্থ করা যায় কোনও ব্যক্তিকে, কিন্তু তা ঠিক নয়। তাই ইংরেজী প্রবাদ আছে, ‘Causeless curse will not come.’ কিন্তু যদি অত্যাচারী নিপীড়িত ব্যক্তি আল্লাহ্‌র কাছে এর প্রতিকার চায় তাহলে তার কান্না আল্লাহ্‌র আরসকে কাঁপিয়ে দেয়, ফলে অত্যাচারিত ব্যক্তির অভিশাপের ফলে অন্যায়কারী, অত্যাচারী ব্যক্তির উপর আল্লাহ্‌র রোষানল পতিত হয়।

তারা আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হয়। অন্যায়কারী বা অত্যাচারী তার নিজের আত্মার উপরে অত্যাচার করে। ফলে আত্মার শান্তি হয় বিঘ্নিত। ঐ ব্যক্তি সর্বদা থাকে ভীত, সন্ত্রস্ত, বিচলিত, পৃথিবীর উপর সে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। এরাই হচ্ছে অভিশপ্ত আত্মা। এটা হচ্ছে এক ধরনের (State of mind) মানসিক অবস্থা।

আরও দেখুনঃ 

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । [ গাভী কুরবানী] সূরা নং ২ । পবিত্র কুরআন ।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । [ গাভী কুরবানী] সূরা নং ২ । পবিত্র কুরআন ।

সূরা বাকারা পর্ব ৩ । সূচি । [ গাভী কুরবানী] সূরা নং ২ । পবিত্র কুরআন ।

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি । [ গাভী কুরবানী ] সূরা নং ২ । পবিত্র কুরআন ।

সূরা বাকারা পর্ব ১ । সূচি । [ গাভী কুরবানী ] সূরা নং ২ । পবিত্র কুরআন ।

নাপাকি এবং নাপাকি থেকে পবিত্রতা অর্জনের উপায়

Leave a Comment