সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । [ গাভী কুরবানী] সূরা নং ২ । পবিত্র কুরআন ।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ ,আল বাকারা (আরবি ভাষায়: سورة البقرة) মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের দ্বিতীয় সূরা, এর আয়াত সংখ্যা ২৮৬ টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ৪০ টি। আল বাকারা সূরাটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি ।
সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি ।

Table of Contents

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৬২)

এরা চিরকাল এ লা’নতের মাঝেই থাকবে। তাদের উপর থেকে আযাব কখনও হালকা করা হবে না বরং এরা বিরাম ও পাবে না।
They will abide therein (under the curse in Hell), their punishment will neither be lightened, nor will they be reprieved.

خَالِدِينَ فِيهَا لاَ يُخَفَّفُ عَنْهُمُ الْعَذَابُ وَلاَ هُمْ يُنظَرُونَ
Khalideena feeha la yukhaffafu AAanhumu alAAathabu wala hum yuntharoona

YUSUFALI: They will abide therein: Their penalty will not be lightened, nor will respite be their (lot).

PICKTHAL: They ever dwell therein. The doom will not be lightened for them, neither will they be reprieved.

SHAKIR: Abiding in it; their chastisement shall not be lightened nor shall they be given respite.

KHALIFA: Eternally they abide therein. The retribution is never commuted for them, nor are they reprieved.

১৬০। কিন্তু যারা অনুতাপের মাধ্যমে নিজেকে সংশোধন করে এবং প্রকাশ্যে [সত্যকে] ঘোষণা করে, আমি তাদের তওবা কবুল করি, কারণ আমি বার বার তওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।

১৬১। যারা ঈমানকে প্রত্যাখ্যান করে এবং কাফিররূপে মারা যায়, তাদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত এবং ফেরেশ্‌তাগণ ও সকল মানুষের অভিসম্পাত।

১৬২। তারা সে অবস্থায় স্থায়ী হবে ১৬৪, তাদের শাস্তি লঘু করা হবে না, তাদের [ভাগ্যে] কোন অবসরও দেয়া হবে না।

১৬৪। ‘অভিশাপ’ এটা শুধুমাত্র মুখের কথা নয়। অভিশপ্ত হচ্ছে আত্মার এক বিশেষ অবস্থা। [State of mind] এই অবস্থা আল্লাহ্‌র অনুগ্রহের ঠিক উল্টো। আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ ও রহমত আত্মাকে অন্ধকার থেকে আলোর ভূবনে নিয়ে আসে। ফলে আত্মার মধ্যে জন্ম নেয় শান্তি, অন্তর্দৃষ্টি [Spiritual insight] এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞা (Wisdom) এরকম অবস্থায় বান্দার মধ্যে জন্ম নেয় ন্যায়-অন্যায় বোঝার ক্ষমতা, ভালকে মন্দ থেকে পার্থক্য করার ক্ষমতা, ফলে তিনি হন বিবেকবান এবং আল্লাহ্‌র রহমতের ফলে তার সমস্ত সত্তা শান্তিতে ভরে যায়। পৃথিবীর দুঃখ ব্যাথা, লোভ-লালসা, হিংসা-দ্বেষ কিছুই তাকে স্পর্শ করতে পারে না। অনাবিল শান্তি এবং আলোর ভূবনে হয় আত্মার অগ্রযাত্রা।

অভিশাপ প্রাপ্ত অবস্থা ঠিক এর বিপরীত। অনেকে মনে করে মুখে উচ্চারণ করলেই অভিশাপগ্রস্থ করা যায় কোনও ব্যক্তিকে, কিন্তু তা ঠিক নয়। তাই ইংরেজী প্রবাদ আছে, ‘Causeless curse will not come.’ কিন্তু যদি অত্যাচারী নিপীড়িত ব্যক্তি আল্লাহ্‌র কাছে এর প্রতিকার চায় তাহলে তার কান্না আল্লাহ্‌র আরসকে কাঁপিয়ে দেয়, ফলে অত্যাচারিত ব্যক্তির অভিশাপের ফলে অন্যায়কারী, অত্যাচারী ব্যক্তির উপর আল্লাহ্‌র রোষানল পতিত হয়। তারা আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হয়। অন্যায়কারী বা অত্যাচারী তার নিজের আত্মার উপরে অত্যাচার করে। ফলে আত্মার শান্তি হয় বিঘ্নিত। ঐ ব্যক্তি সর্বদা থাকে ভীত, সন্ত্রস্ত, বিচলিত, পৃথিবীর উপর সে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। এরাই হচ্ছে অভিশপ্ত আত্মা। এটা হচ্ছে এক ধরনের (State of mind) মানসিক অবস্থা।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৬৩)

আর তোমাদের উপাস্য একইমাত্র উপাস্য। তিনি ছাড়া মহা করুণাময় দয়ালু কেউ নেই।
And your Ilâh (God) is One Ilâh (God – Allâh), Lâ ilâha illa Huwa (there is none who has the right to be worshipped but He), the Most Beneficent, the Most Merciful.

وَإِلَـهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لاَّ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ
Wa-ilahukum ilahun wahidun la ilaha illa huwa alrrahmanu alrraheemu

YUSUFALI: And your Allah is One Allah: There is no god but He, Most Gracious, Most Merciful.

PICKTHAL: Your Allah is One Allah; there is no Allah save Him, the Beneficent, the Merciful.

SHAKIR: And your Allah is one Allah! there is no god but He; He is the Beneficent, the Merciful.

KHALIFA: Your god is one god; there is no god but He, Most Gracious, Most Merciful.

১৬৩। এবং তোমাদের আল্লাহ্‌ এক ও অদ্বিতীয়। তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই। তিনি পরম করুণাময় ও দয়াময় ১৬৫।

১৬৫। এই আয়াতটির মর্মার্থ হচ্ছে, যখনই ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহ্‌কে অস্বীকারকারী এবং অন্যায় অত্যাচারকারীদের সম্পর্কে আল্লাহ্‌র রোষানলের কথা বলা হয়েছে, তখনই আবার বান্দাকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে আল্লাহ্‌র রহমত (Grace) এবং করুণার (Mercy) কথা। এই আয়াতে আল্লাহ্‌র একত্বের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আয়াতটি শেষ করা হয়েছে। বিশ্ব প্রকৃতি, আকাশ-নভোমন্ডল সবই আপাতঃদৃষ্টিতে মনে হবে বিভিন্ন। কিন্তু যারা বিজ্ঞানের সাধক তারা জানেন বিশ্ব-প্রকৃতি, নভোমন্ডল সবই প্রকৃতির নিয়ম মেনে চলে। সে নিয়ম সবার জন্যই এক।

যেমন-উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, বিজ্ঞান বলে মানুষ ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে বুদ্ধি জগতের দিক থেকে বিভিন্নতা থাকলেও শারীরিক (Physiology) কলাকৌশল এক। রক্ত সঞ্চালন প্রণালী, Digestive System ইত্যাদি মানুষ ও প্রাণীর একই প্রক্রিয়ায় কাজ করে। তাইতো বিজ্ঞানীরা কোনও নতুন ঔষধ মানুষের পূর্বে কোনও প্রাণীর উপরে পরীক্ষা করে নেয়। একই নিয়ম বিশ্ব চরাচরের সবার জন্য প্রযোজ্য। একই নিয়মের আওতায় পৃথিবী, শুক্র, বৃহস্পতি, চন্দ্র, সূর্য ইত্যাদি। এ সমস্তই একটি তত্ত্বের প্রতিই আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে যে সব কিছুই এক জনের দ্বারা সৃষ্টি। বিভিন্ন স্রষ্টা বিভিন্ন জিনিস সৃষ্টি করলে বিশ্বজগতের বিজ্ঞান এক সূত্রে গাঁথা হতো না। বিভিন্ন বস্তু বিভিন্ন নিয়মের সূত্রে গাঁথা হতো। ফলে প্রকৃতি

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৬৪)

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৬৫)

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৬৬)

অনুসৃতরা যখন অনুসরণকারীদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে যাবে এবং যখন আযাব প্রত্যক্ষ করবে আর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে তাদের পারস্পরিক সমস্ত সম্পর্ক।

When those who were followed, disown (declare themselves innocent of) those who followed (them), and they see the torment, then all their relations will be cut off from them.

إِذْ تَبَرَّأَ الَّذِينَ اتُّبِعُواْ مِنَ الَّذِينَ اتَّبَعُواْ وَرَأَوُاْ الْعَذَابَ وَتَقَطَّعَتْ بِهِمُ الأَسْبَابُ

Ith tabarraa allatheena ittubiAAoo mina allatheena ittabaAAoo waraawoo alAAathaba wataqattaAAat bihimu al-asbabu

YUSUFALI: Then would those who are followed clear themselves of those who follow (them) : They would see the penalty, and all relations between them would be cut off.

PICKTHAL: (On the day) when those who were followed disown those who followed (them), and they behold the doom, and all their aims collapse with them.

SHAKIR: When those who were followed shall renounce those who followed (them), and they see the chastisement and their ties are cut asunder.

KHALIFA: Those who were followed will disown those who followed them. They will see the retribution, and all ties among them will be severed.

১৬৬। যাদের অনুসরণ করা হয়েছিলো, তারা অনুসারীগণ থেকে নিজেদের যখন মুক্ত করবে, তারা [অনুসারীগণ] তখন শাস্তিকে প্রত্যক্ষ করবে এবং এদের মধ্যকার সকল সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে।

১৬৭। যারা অনুসরণ করেছিলো, তারা বলবে, ‘যদি আমাদের আর একবার সুযোগ দেয়া হতো আমরা তাদের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করতাম, তারা যেরূপ আমাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।’ এরূপেই আল্লাহ্‌ তাদের কাজের [পরিণামকে] আক্ষেপের বিষয়রূপে দেখাবেন। তাদের জন্য আগুন থেকে বের হওয়ার কোন উপায় থাকবে না ১৬৮।

১৬৮। দেখুন [৩:১৫৬], [৮:৩৬], [১৯:৩৯], [৬৯:৫০], [২৫:২৩]। মৃত্যুর পরে আমাদের কৃতকর্মের ফলাফল হবে অপরিবর্তনীয়। অবিশ্বাসীরা পরলোকে অনুতাপের অনলে দগ্ধ হতে থাকবে যা থেকে তাদের মুক্তি ঘটবে না।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৬৭)

এবং অনুসারীরা বলবে, কতইনা ভাল হত, যদি আমাদিগকে পৃথিবীতে ফিরে যাবার সুযোগ দেয়া হত। তাহলে আমরাও তাদের প্রতি তেমনি অসন্তুষ্ট হয়ে যেতাম, যেমন তারা অসন্তুষ্ট হয়েছে আমাদের প্রতি। এভাবেই আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে দেখাবেন তাদের কৃতকর্ম তাদেরকে অনুতপ্ত করার জন্যে। অথচ, তারা কস্মিনকালেও আগুন থেকে বের হতে পারবে না।
And those who followed will say: ”If only we had one more chance to return (to the worldly life), we would disown (declare ourselves as innocent from) them as they have disowned (declared themselves as innocent from) us.” Thus Allâh will show them their deeds as regrets for them. And they will never get out of the Fire .

وَقَالَ الَّذِينَ اتَّبَعُواْ لَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَتَبَرَّأَ مِنْهُمْ كَمَا تَبَرَّؤُواْ مِنَّا كَذَلِكَ يُرِيهِمُ اللّهُ أَعْمَالَهُمْ حَسَرَاتٍ عَلَيْهِمْ وَمَا هُم بِخَارِجِينَ مِنَ النَّارِ
Waqala allatheena ittabaAAoo law anna lana karratan fanatabarraa minhum kama tabarraoo minna kathalika yureehimu Allahu aAAmalahum hasaratin AAalayhim wama hum bikharijeena mina alnnari

YUSUFALI: And those who followed would say: “If only We had one more chance, We would clear ourselves of them, as they have cleared themselves of us.” Thus will Allah show them (The fruits of) their deeds as (nothing but) regrets. Nor will there be a way for them out of the Fire.

PICKTHAL: And those who were but followers will say: If a return were possible for us, we would disown them even as they have disowned us. Thus will Allah show them their own deeds as anguish for them, and they will not emerge from the Fire.

SHAKIR: And those who followed shall say: Had there been for us a return, then we would renounce them as they have renounced us. Thus will Allah show them their deeds to be intense regret to them, and they shall not come forth from the fire.

KHALIFA: Those who followed will say, “If we can get another chance, we will disown them, as they have disowned us now.” GOD thus shows them the consequences of their works as nothing but remorse; they will never exit Hell.

১৬৬। যাদের অনুসরণ করা হয়েছিলো, তারা অনুসারীগণ থেকে নিজেদের যখন মুক্ত করবে, তারা [অনুসারীগণ] তখন শাস্তিকে প্রত্যক্ষ করবে এবং এদের মধ্যকার সকল সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে।

১৬৭। যারা অনুসরণ করেছিলো, তারা বলবে, ‘যদি আমাদের আর একবার সুযোগ দেয়া হতো আমরা তাদের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করতাম, তারা যেরূপ আমাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।’ এরূপেই আল্লাহ্‌ তাদের কাজের [পরিণামকে] আক্ষেপের বিষয়রূপে দেখাবেন। তাদের জন্য আগুন থেকে বের হওয়ার কোন উপায় থাকবে না ১৬৮।

১৬৮। দেখুন [৩:১৫৬], [৮:৩৬], [১৯:৩৯], [৬৯:৫০], [২৫:২৩]। মৃত্যুর পরে আমাদের কৃতকর্মের ফলাফল হবে অপরিবর্তনীয়। অবিশ্বাসীরা পরলোকে অনুতাপের অনলে দগ্ধ হতে থাকবে যা থেকে তাদের মুক্তি ঘটবে না।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৬৮)

হে মানব মন্ডলী, পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু-সামগ্রী ভক্ষন কর। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। সে নিঃসন্দেহে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
O mankind! Eat of that which is lawful and good on the earth, and follow not the footsteps of Shaitân (Satan). Verily, he is to you an open enemy.

يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُواْ مِمَّا فِي الأَرْضِ حَلاَلاً طَيِّباً وَلاَ تَتَّبِعُواْ خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ
Ya ayyuha alnnasu kuloo mimma fee al-ardi halalan tayyiban wala tattabiAAoo khutuwati alshshaytani innahu lakum AAaduwwun mubeenun

YUSUFALI: O ye people! Eat of what is on earth, Lawful and good; and do not follow the footsteps of the evil one, for he is to you an avowed enemy.

PICKTHAL: O mankind! Eat of that which is lawful and wholesome in the earth, and follow not the footsteps of the devil. Lo! he is an open enemy for you.

SHAKIR: O men! eat the lawful and good things out of what is in the earth, and do not follow the footsteps of the Shaitan; surely he is your open enemy.

KHALIFA: O people, eat from the earth’s products all that is lawful and good, and do not follow the steps of Satan; he is your most ardent enemy.

রুকু – ২১

১৬৮। হে মানবজাতি! পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্যবস্তু রয়েছে, তা থেকে আহার কর ১৬৯। এবং শয়তানের পদ চিহ্ন অনুসরণ করো না। অবশ্যই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।

১৬৯। এই আয়াতটি খাদ্য বস্তুর হালাল সম্পর্কে সতর্ক করে আরম্ভ করা হয়েছে। প্রথমে [২: ১৬৮-৭১] বিশ্ববাসীকে সম্বোধন করা হয়েছে। হতে পারে তারা মুসলিম বা পৌত্তলিক বা কিতাবধারী জাতি। আল্লাহ্‌র এ আহবান জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের জন্য। আয়াত [২:১৭২-৭৩]এ বিশেষভাবে মুসলমানদের আহবান করা হয়েছে।

তারপর [২:১৭৪-৭৬] তাদেরই সম্বোধন করা হয়েছে যারা ধর্মে আনুষ্ঠানিকতার উপরে খুব বেশি গুরুত্ব দেয় এবং ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে এরাই আমাদের সমাজের মৌলবাদীরূপে পরিচিত। এরা প্রকৃত ধর্মের প্রাণ থেকে বহুদূরে। আবার আর এক শ্রেণীর কথা বলা হয়েছে যারা কোনও নিয়ম কানুনে বিশ্বাস করে না, এরা আমাদের সমাজে প্রগতিশীল বলে দাবী করে। কিন্তু ইসলাম হচ্ছে মধ্যপথ অবলম্বী।

সুন্দর, সুস্থ সমাজে অবশ্যই কিছু ধরা বাঁধা নিয়ম-কানুন থাকবে। এই নিয়ম কানুন সমাজের সকল সদস্য-সদস্যাদের মঙ্গলার্থে সৃষ্টি এবং এই নিয়ম কানুন সম্পর্কে সমাজের সকল সদস্য-সদস্যাদের আন্তরিকতা থাকবে তা মানার জন্য। তবেই একটা Homogeneous (সমপ্রকৃতি) সমাজ হওয়া সম্ভব। তবে এখানে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন যে, এই সব নিয়ম-কানুন যেনো বাড়াবাড়িতে না পৌছাঁয় [২:১৭৬]। [পবিত্র বা Good : Taiyib=Pure, Clean, Wholesome, nourishing, pleasing to taste]

সুতরাং নিয়ম-কানুন বা ধর্মের আনুষ্ঠানিকতা বা আইন তা যদি সুস্থ, সুন্দর ও সমাজের বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য হয় তবে তাই-ই হচ্ছে ধর্মের আসল আনুষ্ঠানিকতা। কারণ ধর্মের আনুষ্ঠানিকতার সৃষ্টি করেছেন স্রষ্টা মানব গোষ্ঠীর বৃহত্তর কল্যাণের জন্য। তবে আনুষ্ঠানিকতা কখনও ধর্ম নয়। যে আনুষ্ঠানিকতা বা নিয়ম-কানুন সমাজকে এগিয়ে নেয়, মানব সভ্যতায় স্রষ্টার কাছাকাছি হতে সাহায্য করে এবং সমাজের মঙ্গলের জন্য সৃষ্টি তাই-ই স্রষ্টার মনোনীত।

সুতরাং সাধারণ নীতি হচ্ছে, যা ইসলামী আইন দ্বারা সিক্ত করেছে এবং যা ভালো এবং সমাজ ও মানুষের মঙ্গলের জন্য তা অনুসরণ যোগ্য এবং যা মন্দ, লজ্জ্বাজনক, যা সমাজের মঙ্গল বিধান করে না তা পরিহার করতে হবে। ধর্মের নামে অনেক অপব্যাখ্যা চালু হয়েছে আমাদের সমাজে, উদ্ভব হয়েছে মৌলবাদীদের; ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি হয়েছে আমাদের সমাজের মৌলবাদী মুসলিমদের যেমন উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, ‘মেয়েদের ঘরে আবদ্ধ রাখলেই ইসলাম রক্ষিত হবে।

’ আবার সমাজের অনেককে দেখা যায় বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় বিশ্বাসী যার সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক নাই যেমন মাজার পূঁজা ও ভাগ্য গণনায় বিশ্বাস করা ও পাথর ধারণ করা, বিশেষ ধরণের পোষাক পরিধান করা ইত্যাদি।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৬৯)

সে তো এ নির্দেশই তোমাদিগকে দেবে যে, তোমরা অন্যায় ও অশ্লীল কাজ করতে থাক এবং আল্লাহর প্রতি এমন সব বিষয়ে মিথ্যারোপ কর যা তোমরা জান না।
[Shaitân (Satan)] commands you only what is evil and Fahshâ (sinful), and that you should say against Allâh what you know not.

إِنَّمَا يَأْمُرُكُمْ بِالسُّوءِ وَالْفَحْشَاء وَأَن تَقُولُواْ عَلَى اللّهِ مَا لاَ تَعْلَمُونَInnama ya/murukum bialssoo-i waalfahsha-i waan taqooloo AAala Allahi ma la taAAlamoona

YUSUFALI: For he commands you what is evil and shameful, and that ye should say of Allah that of which ye have no knowledge.

PICKTHAL: He enjoineth upon you only the evil and the foul, and that ye should tell concerning Allah that which ye know not.

SHAKIR: He only enjoins you evil and indecency, and that you may speak against Allah what you do not know.

KHALIFA: He only commands you to commit evil and vice, and to say about GOD what you do not know.

১৬৯। সে তোমাদের মন্দ ও অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেয় এবং আল্লাহ্‌ সম্বন্ধে তোমাদের যে জ্ঞান নাই এমন সব বিষয়ে বলার জন্য নির্দেশ দেয়।

১৭০। যখন তাদের বলা হয়, ‘আল্লাহ্‌ যে প্রত্যাদেশ দিয়েছেন তা অনুসরণ কর’; তারা বলে, ‘না! আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের পথ অনুসরণ করবো।’ কি! যদিও তাদের পিতৃপুরুষগণ ছিলো প্রজ্ঞাবিহীন এবং তারা সঠিক পথে পরিচালিত ছিলো না তথাপিও ?

১৭১। যারা ঈমানকে প্রত্যাখ্যান করে, তাদের উপমা হচ্ছে ভেড়ার পালের ন্যায়-যারা শুধু হাঁকডাক ও চিৎকার ব্যতীত কিছুই শোনে না ১৭০। [এরা হচ্ছে] বধির, বোবা ও অন্ধ ১৭১। [সুতরাং] তারা হচ্ছে জ্ঞান ও প্রজ্ঞাবিহীন।

১৭০। যারা আল্লাহ্‌র অস্তিত্বে বিশ্বাসী নয়, তাদের আত্মায় স্বর্গীয় আলো প্রবেশের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। এ সেই আলো যা মানুষের আত্মাকে বিবেক, জ্ঞানে ও প্রজ্ঞায় সমৃদ্ধ করে। এ জ্ঞান দানের ক্ষমতা একমাত্র সর্বশক্তিমান ব্যতীত আর কারও নাই বিশ্বজগতে। ফলে অবিশ্বাসী ব্যক্তি ধর্মীয় জীবন যাপন পদ্ধতির মাধ্যমে অমিয় শান্তির বাণী হৃদয়ঙ্গম করতে অক্ষম হয়। এই ব্যক্তির উপমা হচ্ছে গরু ও ভেড়ার পালের মত। যেমন-গরুর পাল বা ভেড়ার পাল কিছুই বোঝে না, দেখে না, শোনে না।

দেখে না শোনে না এই অর্থে যে তারা শুধু মাত্র রাখালের চিৎকার দ্বারা পরিচালিত হয়। রাস্তার বা পথের ভাল-মন্দ বা চিৎকার বা শব্দের বিভিন্ন ধ্বনি (অর্থাৎ আদর বা রাগ) কিছুরই পার্থক্য করতে এরা অপারগ। সেই রকম যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌তে বিশ্বাসী নয়, তার হৃদয় বিবেকের আলো বা অন্তর্দৃষ্টি লাভে অক্ষম। অন্তর্দৃষ্টি না থাকার দরুণ চক্ষু থাকলেও কোনও ঘটনার গূঢ় অর্থ অনুধাবনে হবে ব্যর্থ, কান থাকলেও স্রষ্টার বাণীর গূঢ় অর্থ সে হৃদয়ঙ্গম করতে হবে ব্যর্থ। ‘They are void of wisdom’.

১৭১। আয়াত [২:১৮] তে বলা হয়েছে যে যারা আল্লাহ্‌কে অস্বীকার করে ‘তারা হবে বধির, বোবা এবং অন্ধ’। তারা আর কখনও সুপথে আসবে না। যেহেতু তারা স্রষ্টাকে অস্বীকার করে, সুতরাং তারা আত্মার মূল উৎপত্তিকে অস্বীকার করে। স্রষ্টাকে বিশ্বাস করার ফলে, তার উপরে নির্ভর করার ফলে আত্মার ভিতরে জন্ম নেয় এক বিশেষ স্বর্গীয় অনুভূতি [State of mind]। এই অনুভূতির ব্যবহারের ফলে ব্যক্তির জীবনে অন্তর্দৃষ্টি জন্ম নেয়। ভাল-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় বোঝার ক্ষমতা জন্মে। আত্মার ভিতরে

জন্ম নেয় বিবেকের আলো-যে আলোর উৎপত্তি স্বর্গীয়। এই আলো তাকে পথ দেখায়। এই আলোই তাকে আল্লাহ্‌র বাণীর অর্থ বুঝতে সাহায্য করে। এই আলোই তাকে সন্ধান দেয় শান্তির অমিয় ধারার। তারা চর্ম চক্ষুর বাইরেও দেখেন, শ্রবণেন্দ্রীয়ের বাইরেও শোনেন। এরা জ্ঞানী ও বিবেকবান। কিন্তু আল্লাহ্‌কে অস্বীকার করা ব্যক্তি গরু-ছাগলের পালের মত যারা চক্ষু থেকেও পথের নিশানা চেনে না, কান থাকতেও ধ্বনির পার্থক্য করতে পারেনা।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৭০)

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৭১)

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৭২)

হে ঈমানদারগণ, তোমরা পবিত্র বস্তু সামগ্রী আহার কর, যেগুলো আমি তোমাদেরকে রুযী হিসাবে দান করেছি এবং শুকরিয়া আদায় কর আল্লাহর, যদি তোমরা তাঁরই বন্দেগী কর।

O you who believe (in the Oneness of Allâh – Islâmic Monotheism)! Eat of the lawful things that We have provided you with, and be grateful to Allâh, if it is indeed He Whom you worship.

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُلُواْ مِن طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَاشْكُرُواْ لِلّهِ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ

Ya ayyuha allatheena amanoo kuloo min tayyibati ma razaqnakum waoshkuroo lillahi in kuntum iyyahu taAAbudoona

YUSUFALI: O ye who believe! Eat of the good things that We have provided for you, and be grateful to Allah, if it is Him ye worship.

PICKTHAL: O ye who believe! Eat of the good things wherewith We have provided you, and render thanks to Allah if it is (indeed) He Whom ye worship.

SHAKIR: O you who believe! eat of the good things that We have provided you with, and give thanks to Allah if Him it is that you serve.

KHALIFA: O you who believe, eat from the good things we provided for you, and be thankful to GOD, if you do worship Him alone.

১৭২। হে বিশ্বাসী সম্প্রদায়! আমি তোমাদের যে সব পবিত্র বস্তু দিয়েছি তা থেকে আহার কর এবং আল্লাহ্‌র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর-যদি তোমরা শুধু তাঁরই এবাদত করে থাক ১৭২।

১৭২। আল্লাহ্‌র নেয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাও আল্লাহ্‌র এবাদতের অংশ। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এক ধরণের অভ্যাস। দৈনন্দিন জীবনে আমরা বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংস্পর্শে আসি। মানুষের সমাজ সব সময়েই পরস্পরের উপরে নির্ভরশীল। এ ব্যতীত কোনও সমাজ চলতে পারে না। এই নির্ভরশীলতা স্বীকার করে নিলেই আত্মায় কৃতজ্ঞতা বোধ জন্মায়। এটা একটা স্বর্গীয় গুণ।

যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি প্রথমে কৃতজ্ঞ হবে অবশ্যই সে আল্লাহ্‌র নেয়ামতের প্রতিও কৃতজ্ঞ হবে। আল্লাহ্‌ কৃতজ্ঞ হতে বলেছেন কারণ কৃতজ্ঞতা মানুষের আত্মায় শান্তি আনে। অকৃতজ্ঞ আত্মায় সর্বদা হাহাকার বিরাজ করে ফলে শান্তি হয় তিরোহিত। অশান্ত আত্মা আল্লাহ্‌র বাণী ধারণে অক্ষম, আল্লাহ্‌র নেয়ামত সনাক্ত করতে অক্ষম।

ফলে অকৃতজ্ঞ আত্মা হিংসা দ্বেষে পরিপূর্ণ হয়ে যায় এবং আত্মার শান্তি হয় তিরোহিত। এই কারণে বলা হয় Gratitude for Allash’s gift is one form of worship. তবে এই কৃতজ্ঞতা বোধের প্রথম পাঠ শুরু হয় জীবনের শৈশবে-সমাজে দেয়া নেয়ার মাধ্যমে।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৭৩)

তিনি তোমাদের উপর হারাম করেছেন, মৃত জীব, রক্ত, শুকর মাংস এবং সেসব জীব-জন্তু যা আল্লাহ ব্যাতীত অপর কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমানী ও সীমালঙ্ঘনকারী না হয়, তার জন্য কোন পাপ নেই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহান ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু।

He has forbidden you only the Maytatah (dead animals), and blood, and the flesh of swine, and that which is slaughtered as a scrifice for others than Allâh (or has been slaughtered for idols, etc., on which Allâh’s Name has not been mentioned while slaughtering). But if one is forced by necessity without wilful disobedience nor transgressing due limits, then there is no sin on him. Truly, Allâh is Oft-Forgiving, Most Merciful.

إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنزِيرِ وَمَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللّهِ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلاَ عَادٍ فَلا إِثْمَ عَلَيْهِ إِنَّ اللّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

Innama harrama AAalaykumu almaytata waalddama walahma alkhinzeeri wama ohilla bihi lighayri Allahi famani idturra ghayra baghin wala AAadin fala ithma AAalayhi inna Allaha ghafoorun raheemun

YUSUFALI: He hath only forbidden you dead meat, and blood, and the flesh of swine, and that on which any other name hath been invoked besides that of Allah. But if one is forced by necessity, without wilful disobedience, nor transgressing due limits,- then is he guiltless. For Allah is Oft-forgiving Most Merciful.

PICKTHAL: He hath forbidden you only carrion, and blood, and swineflesh, and that which hath been immolated to (the name of) any other than Allah. But he who is driven by necessity, neither craving nor transgressing, it is no sin for him. Lo! Allah is Forgiving, Merciful.

SHAKIR: He has only forbidden you what dies of itself, and blood, and flesh of swine, and that over which any other (name) than (that of) Allah has been invoked; but whoever is driven to necessity, not desiring, nor exceeding the limit, no sin shall be upon him; surely Allah is Forgiving, Merciful.

KHALIFA: He only prohibits for you the eating of animals that die of themselves (without human interference), blood, the meat of pigs, and animals dedicated to other than GOD. If one is forced (to eat these), without being malicious or deliberate, he incurs no sin. GOD is Forgiver, Most Merciful.

১৭৩। আল্লাহ্‌ কেবলমাত্র নিষিদ্ধ করেছেন মৃত জন্তুর মাংস ১৭৩, রক্ত ও শুকরের মাংস এবং যার উপরে আল্লাহ্‌ নাম ব্যতীত অন্যের নাম উচ্চারিত হয়ছে [যবাই এর সময়ে] ১৭৪। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে অবাধ্য না হয়ে বা সীমা লঙ্ঘন না করে কেউ যদি প্রয়োজনে [তা আহার করতে] বাধ্য হয়, তবে সে হবে নির্দোষ। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ বার বার ক্ষমাশীল ও পরম করুণাময়।

১৭৩। ‘মৃত প্রাণীর মাংস’-এ কথাটির দ্বারা বোঝানো হচ্ছে সেই প্রাণী যা নিজে নিজেই মৃত্যু বরণ করেছে, তাকে খাবার জন্য আল্লাহ্‌র নামে মারা হয় নাই। তবে এর মধ্যে অবশ্য মাছ এবং চিংড়ি জাতীয় প্রাণী পড়ে না।

১৭৪। খাদ্য সম্বন্ধে বিস্তৃত বিবরণ আছে [৫:৩-৪]; [৬:১২৪, ১৩৮-১৪৬] ইত্যাদি। যারা ফিকা শাস্ত্র অধ্যায়ন করেন তারা এ সম্বন্ধে বিশদ ব্যাখ্যা দান করেছেন। এখানে মাওলানা ইউসুফ আলী সাহেবের খাদ্য সম্পর্কীয় সাধারণ নিয়ম নীতি আলোচনা করাই উদ্দেশ্য-বিশদ ব্যাখ্যায় তিনি অংশ গ্রহণ করেন নাই।

মৃত জন্তুর মাংস এবং রক্ত যে কোনও সভ্য ব্যক্তির ঘৃণার উদ্রেক করবে। ঠিক সেই রকম শুকরের মাংসও করবে, কারণ শুকর অত্যন্ত নোংরা জায়গায় থাকতে ভালবাসে। যদিও বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্ব শুকরকে অত্যন্ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখে তবু নিম্নলিখিত যুক্তিগুলির জন্য শুকরের মাংস অপবিত্র।

(১) যেহেতু শুকর জন্মগতভাবে অত্যন্ত নোংরা। সুতরাং নোংরা প্রাণীর মাংস ভক্ষকের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

(২) শুকরের মাংসে চর্বির পরিমান অত্যন্ত বেশি গরু এবং ছাগল অপেক্ষা যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

(৩) শুকরের মাংসের সাহায্যে বিভিন্ন রকম কৃমির রোগের বিস্তার লাভ করতে পারে। যেমন-Trichinosis.

(৪) দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে নিবেদিত প্রাণীর মাংস খাওয়া অবশ্যই যে কোনও কিতাবধারী জাতির জন্য হারাম।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি ।
সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি ।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৭৪)

নিশ্চয় যারা সেসব বিষয় গোপন করে, যা আল্লাহ কিতাবে নাযিল করেছেন এবং সেজন্য অল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা আগুন ছাড়া নিজের পেটে আর কিছুই ঢুকায় না। আর আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাদের সাথে না কথা বলবেন, না তাদের পবিত্র করা হবে, বস্তুতঃ তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।

Verily, those who conceal what Allâh has sent down of the Book, and purchase a small gain therewith (of worldly things), they eat into their bellies nothing but fire. Allâh will not speak to them on the Day of Resurrection, nor purify them, and theirs will be a painful torment.

إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنزَلَ اللّهُ مِنَ الْكِتَابِ وَيَشْتَرُونَ بِهِ ثَمَنًا قَلِيلاً أُولَـئِكَ مَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ إِلاَّ النَّارَ وَلاَ يُكَلِّمُهُمُ اللّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلاَ يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ

Inna allatheena yaktumoona ma anzala Allahu mina alkitabi wayashtaroona bihi thamanan qaleelan ola-ika ma ya/kuloona fee butoonihim illa alnnara wala yukallimuhumu Allahu yawma alqiyamati wala yuzakkeehim walahum AAathabun aleemun

YUSUFALI: Those who conceal Allah’s revelations in the Book, and purchase for them a miserable profit,- they swallow into themselves naught but Fire; Allah will not address them on the Day of Resurrection. Nor purify them: Grievous will be their penalty.

PICKTHAL: Lo! those who hide aught of the Scripture which Allah hath revealed and purchase a small gain therewith, they eat into their bellies nothing else than fire. Allah will not speak to them on the Day of Resurrection, nor will He make them grow. Theirs will be a painful doom.

SHAKIR: Surely those who conceal any part of the Book that Allah has revealed and take for it a small price, they eat nothing but fire into their bellies, and Allah will not speak to them on the day of resurrection, nor will He purify them, and they shall have a painful chastisement.

KHALIFA: Those who conceal GOD’s revelations in the scripture, in exchange for a cheap material gain, eat but fire into their bellies. GOD will not speak to them on the Day of Resurrection, nor will He purify them. They have incurred a painful retribution.

১৭৪। যারা আল্লাহ্‌র কিতাবের প্রত্যাদেশকে গোপন করে, এবং তার পরিবর্তে তারা তাদের জন্য দুঃখজনক বিনিময় ক্রয় করে, তারা নিজেদের জন্য আগুন ব্যতীত অন্য কিছু গলধঃকরণ করে না ১৭৫। পুনরুত্থানের দিনে আল্লাহ্‌ তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের পবিত্রও করবেন না। ভয়াবহ হবে তাদের শাস্তি।

১৭৫। ‘They eat nothing but fire into their bellies’ আক্ষরিক অনুবাদ শুনতে কিছুটা কঠোর এবং রসশূন্য মনে হয়। কিন্তু মূল আরবী শব্দের ভাব ঠিক তা নয়। ইসলাম সব সময়েই মধ্যপথ অবলম্বী, এমন কি খাদ্য ও পানীয়ের ব্যাপারেও ইসলাম মধ্যপথ অবলম্বী। ইসলাম, ধর্মের ব্যাপারে লাগাম ছাড়া স্বাধীনতার বিপক্ষে আবার অতিরিক্ত নিয়ম কানুন এবং আনুষ্ঠানিকতার বিপক্ষে।

এ ব্যাপারে ইসলাম খুব সাধারণ এবং যুক্তিযুক্ত কয়েকটি নিয়ম নীতির কথা বলে। এসব নিয়ম-নীতি ভঙ্গ শুধু যে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির সম্ভাবনা তাই নয় আত্মার বিকাশের প্রভূত ক্ষতির সম্ভাবনা।

কেউ যদি আল্লাহ্‌র নিয়ম-নীতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বা উদ্দেশ্য মূলকভাবে ব্যক্তিগত লাভের জন্য ধর্মের নামে জাল-জুয়াচুরি করে, তার পরিণতি ভয়াবহ, নৈতিক ও আত্মিক অধঃপতন অনিবার্য। কারণ এ হচ্ছে পাপ, বিশ্বাস এবং নৈতিকতার বিরুদ্ধে। এই নৈতিক অধঃপতনকে উপমার সাহায্যে উত্থাপন করতে যেয়ে বলা হয়েছে, এ যেনো আগুন ভক্ষণ করার সামিল।

আমাদের এই নশ্বর দেহে আগুন ভক্ষণ করা যে কী দুঃসহ যন্ত্রণা তা অনুধাবন করার জন্যই এই উপমার অবতারণা। আসলে হাশরের ময়দানে আত্মার যে যন্ত্রণা তা হবে নশ্বর দেহে আগুন ভক্ষণ করার যন্ত্রনার থেকেও বেশী। দৈহিক যন্ত্রণা সে যন্ত্রণার কাছে ম্লান হয়ে যাবে। সে যন্ত্রণা আরও বেড়ে যাবে কারণ বিচারক সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌, তার সমস্ত রহমত ও করুণা থেকে তাদের বঞ্চিত করবেন। এমনকি সামান্য প্রশ্নও তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে না।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৭৫)

এরাই হল সে সমস্ত লোক, যারা হেদায়েতের বিনিময়ে গোমরাহী খরিদ করেছে এবং (খরিদ করেছে) ক্ষমা ও অনুগ্রহের বিনিময়ে আযাব। অতএব, তারা দোযখের উপর কেমন ধৈর্য্য ধারণকারী।

Those are they who have purchased error at the price of Guidance, and torment at the price of Forgiveness. So how bold they are (for evil deeds which will push them) to the Fire.

أُولَـئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُاْ الضَّلاَلَةَ بِالْهُدَى وَالْعَذَابَ بِالْمَغْفِرَةِ فَمَآ أَصْبَرَهُمْ عَلَى النَّارِ

Ola-ika allatheena ishtarawoo alddalalata bialhuda waalAAathaba bialmaghfirati fama asbarahum AAala alnnari

YUSUFALI: They are the ones who buy Error in place of Guidance and Torment in place of Forgiveness. Ah! what boldness (They show) for the Fire!

PICKTHAL: Those are they who purchase error at the price of guidance, and torment at the price of pardon. How constant are they in their strife to reach the Fire!

SHAKIR: These are they who buy error for the right direction and chastisement for forgiveness; how bold they are to encounter fire.

KHALIFA: It is they who chose the straying instead of guidance, and the retribution instead of forgiveness. Consequently, they will have to endure Hell.

১৭৫। এরাই তারা যারা সৎপথের বিনিময়ে ভ্রান্ত পথ ক্রয় করে, ক্ষমার পরিবর্তে শাস্তি [ক্রয় করে]। আঃ আগুনের [শাস্তির] জন্য তারা কতই না সাহসী।

১৭৬। [তাদের ধ্বংসের] কারণ আল্লাহ্‌ সত্যসহ কিতাব [কোরআন] প্রেরণ করেছেন, কিন্তু যারা কিতাবের মাঝে মতভেদ অনুসন্ধান করে, তারা [মতভেদের জন্য] ধর্মের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে [যা প্রকৃত লক্ষ্য থেকে বহুদূরে] ১৭৬।

১৭৬। এতক্ষণ আলোচনার বিষয়বস্তু সীমাবদ্ধ ছিল জীবন ধারণের, বিশেষভাবে খাদ্য বস্তু সম্পর্কীয় আলোচনার মধ্যে। দেহ এবং আত্মা এই দুই-ই মিলেই পৃথিবীর জীবন। দেহের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আত্মার বিকাশ ঘটানোই হচ্ছে পৃথিবীতে আমাদের বাসস্থানের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য।

দেহ ব্যতীত আত্মার বিকাশ অসম্ভব। তাই দেহের প্রকৃত পরিচর্যার নিয়মাবলী এখানে আলোচিত হয়েছে। খাদ্য, পানীয়, যৌনসংযম ইত্যাদি বিধি নিষেধ না মানলে শুধু যে দেহ ক্ষতিগ্রস্থ হয় তা নয়, দেহের ভিতরে যে আত্মার বাস সে আত্মার বিকাশেরও অবনতি ঘটে। তাই এই আয়াতটিতে [২:১৭৬] দৈহিক নিয়মাবলী থেকে নৈতিকতা এবং বিশ্বাসের কথা বলা হয়েছে। যেমন-যে প্রচণ্ড মদ খায় এবং ব্যাভিচারে অভ্যস্ত তার আত্মার সুস্থ বিকাশ অসম্ভব।

যে ব্যক্তি ঘুষ খেয়ে বা হারাম পয়সায়, বা জাল-জুয়াচুরি করে জীবিকা নির্বাহ করে তার আত্মায় আল্লাহ্‌র নূর প্রবেশে বাঁধা পায় ইত্যাদি। সুতরাং ধর্মের সাথে জীবন ধারণের রীতিনীতি অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত।

এই আয়াতটিতে আল্লাহ্‌ বলেছেন যে এই পৃথিবীতে জীবন ধারণের জন্য যে নিয়মাবলী তিনি প্রেরণ করেছেন তা মানা কর্তব্য। কিন্তু এ নিয়ে যারা বাড়াবাড়ি করে তারা ধর্মের মূল সুর থেকে সরে যায়। যারা ধর্মের আনুষ্ঠানিকতা ও নিয়ম-নীতি নিয়ে বাড়াবাড়ি করে তারাই সাম্প্রদায়িকতায় পরিণত হয় এবং পরিণতিতে ধর্মের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে। ফলে এরা মৌলবাদীতে পরিণত হয়।

সুতরাং জীবন ধারণের রীতিনীতিই [খাদ্য, পানীয়, পর্দ্দা, বিয়ে ইত্যাদি] যেনো ধর্মে পরিণত না নয়। তাহলে ধর্মের মূল সূর হচ্ছে আত্মার বিকাশ, সেই পরম করুণাময়ের সান্নিধ্যলাভ, সেই বিশ্বাস, সেই মানসিকতা, সেই অনুভব ক্ষমতা আমাদের আত্মাকে আলোকিত করতে পারবে না। আমরা অন্ধকারে হারিয়ে যেয়ে নিজেদের মধ্যে শুধু বিভেদই সৃষ্টি করতে পারবো। এ কথাটাই এই আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৭৬)

আর এটা এজন্যে যে, আল্লাহ নাযিল করেছেন সত্যপূর্ণ কিতাব। আর যারা কেতাবের মাঝে মতবিরোধ সৃষ্টি করেছে নিশ্চয়ই তারা জেদের বশবর্তী হয়ে অনেক দূরে চলে গেছে।

That is because Allâh has sent down the Book (the Qur’ân) in truth. And verily, those who disputed as regards the Book are far away in opposition.

ذَلِكَ بِأَنَّ اللّهَ نَزَّلَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُواْ فِي الْكِتَابِ لَفِي شِقَاقٍ بَعِيدٍ

Thalika bi-anna Allaha nazzala alkitaba bialhaqqi wa-inna allatheena ikhtalafoo fee alkitabi lafee shiqaqin baAAeedin

YUSUFALI: (Their doom is) because Allah sent down the Book in truth but those who seek causes of dispute in the Book are in a schism Far (from the purpose).

PICKTHAL: That is because Allah hath revealed the Scripture with the truth. Lo! those who find (a cause of) disagreement in the Scripture are in open schism.

SHAKIR: This is because Allah has revealed the Book with the truth; and surely those who go against the Book are in a great opposition.

KHALIFA: This is because GOD has revealed this scripture, bearing the truth, and those who dispute the scripture are the most ardent opponents.

১৭৫। এরাই তারা যারা সৎপথের বিনিময়ে ভ্রান্ত পথ ক্রয় করে, ক্ষমার পরিবর্তে শাস্তি [ক্রয় করে]। আঃ আগুনের [শাস্তির] জন্য তারা কতই না সাহসী।

১৭৬। [তাদের ধ্বংসের] কারণ আল্লাহ্‌ সত্যসহ কিতাব [কোরআন] প্রেরণ করেছেন, কিন্তু যারা কিতাবের মাঝে মতভেদ অনুসন্ধান করে, তারা [মতভেদের জন্য] ধর্মের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে [যা প্রকৃত লক্ষ্য থেকে বহুদূরে] ১৭৬।

১৭৬। এতক্ষণ আলোচনার বিষয়বস্তু সীমাবদ্ধ ছিল জীবন ধারণের, বিশেষভাবে খাদ্য বস্তু সম্পর্কীয় আলোচনার মধ্যে। দেহ এবং আত্মা এই দুই-ই মিলেই পৃথিবীর জীবন। দেহের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আত্মার বিকাশ ঘটানোই হচ্ছে পৃথিবীতে আমাদের বাসস্থানের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য। দেহ ব্যতীত আত্মার বিকাশ অসম্ভব।

তাই দেহের প্রকৃত পরিচর্যার নিয়মাবলী এখানে আলোচিত হয়েছে। খাদ্য, পানীয়, যৌনসংযম ইত্যাদি বিধি নিষেধ না মানলে শুধু যে দেহ ক্ষতিগ্রস্থ হয় তা নয়, দেহের ভিতরে যে আত্মার বাস সে আত্মার বিকাশেরও অবনতি ঘটে। তাই এই আয়াতটিতে [২:১৭৬] দৈহিক নিয়মাবলী থেকে নৈতিকতা এবং বিশ্বাসের কথা বলা হয়েছে।

যেমন-যে প্রচণ্ড মদ খায় এবং ব্যাভিচারে অভ্যস্ত তার আত্মার সুস্থ বিকাশ অসম্ভব। যে ব্যক্তি ঘুষ খেয়ে বা হারাম পয়সায়, বা জাল-জুয়াচুরি করে জীবিকা নির্বাহ করে তার আত্মায় আল্লাহ্‌র নূর প্রবেশে বাঁধা পায় ইত্যাদি। সুতরাং ধর্মের সাথে জীবন ধারণের রীতিনীতি অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত।

এই আয়াতটিতে আল্লাহ্‌ বলেছেন যে এই পৃথিবীতে জীবন ধারণের জন্য যে নিয়মাবলী তিনি প্রেরণ করেছেন তা মানা কর্তব্য। কিন্তু এ নিয়ে যারা বাড়াবাড়ি করে তারা ধর্মের মূল সুর থেকে সরে যায়। যারা ধর্মের আনুষ্ঠানিকতা ও নিয়ম-নীতি নিয়ে বাড়াবাড়ি করে তারাই সাম্প্রদায়িকতায় পরিণত হয় এবং পরিণতিতে ধর্মের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে। ফলে এরা মৌলবাদীতে পরিণত হয়।

সুতরাং জীবন ধারণের রীতিনীতিই [খাদ্য, পানীয়, পর্দ্দা, বিয়ে ইত্যাদি] যেনো ধর্মে পরিণত না নয়। তাহলে ধর্মের মূল সূর হচ্ছে আত্মার বিকাশ, সেই পরম করুণাময়ের সান্নিধ্যলাভ, সেই বিশ্বাস, সেই মানসিকতা, সেই অনুভব ক্ষমতা আমাদের আত্মাকে আলোকিত করতে পারবে না। আমরা অন্ধকারে হারিয়ে যেয়ে নিজেদের মধ্যে শুধু বিভেদই সৃষ্টি করতে পারবো। এ কথাটাই এই আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৭৭)

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৭৮)

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৭৯)

হে বুদ্ধিমানগণ! কেসাসের মধ্যে তোমাদের জন্যে জীবন রয়েছে, যাতে তোমরা সাবধান হতে পার।
And there is (a saving of) life for you in Al-Qisâs (the Law of Equality in punishment), O men of understanding, that you may become Al-Muttaqûn (the pious – see V.2:2).

وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَاْ أُولِيْ الأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
Walakum fee alqisasi hayatun ya olee al-albabi laAAallakum tattaqoona

YUSUFALI: In the Law of Equality there is (saving of) Life to you, o ye men of understanding; that ye may restrain yourselves.
PICKTHAL: And there is life for you in retaliation, O men of understanding, that ye may ward off (evil).

SHAKIR: And there is life for you in (the law of) retaliation, O men of understanding, that you may guard yourselves.
KHALIFA: Equivalence is a life saving law for you, O you who possess intelligence, that you may be righteous.

১৭৯। হে বোধসম্পন্ন মানব সম্প্রদায়, কিসাসের আইন তোমাদের জন্য [জীবন রক্ষাকারী]; যেনো তোমরা নিজেদের সংযত করতে পার।

১৮০। তোমাদের মধ্যে কারও মৃত্যুকাল উপস্থিত হলে, যদি তার বিষয় সম্পত্তি থাকে, তবে ন্যায় সঙ্গত প্রথামত তার পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজনের জন্য ওসিয়াত করার বিধান তোমাদের দেয়া হলো। এটি আল্লাহ্‌ ভীরুদের জন্য একটি কর্তব্য ১৮৬।

১৮৬। মৃতব্যক্তির সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। কিন্তু এটি একটি ভাল পদ্ধতি যে, মৃত্যুপথযাত্রী পুরুষ বা মহিলা নিজের স্বাধীন ইচ্ছায় তার পিতা-মাতা ও নিকট আত্মীয়দের মধ্যে কারও সম্বন্ধে ওসিয়ত করে যেতে পারে। এটি হতে হবে তার কাছের লোকদের প্রতি ভালবাসার বহিঃপ্রকাশস্বরূপ এবং একান্ত আন্তরিকতার সাথে, কারও প্রতি অন্যায় করার নিয়ত যেনো তাতে না থাকে। এই ওসিয়ত অবশ্যই ন্যায়ের ভিত্তিতে হতে হবে।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৮০)

তোমাদের কারো যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, সে যদি কিছু ধন-সম্পদ ত্যাগ করে যায়, তবে তার জন্য ওসীয়ত করা বিধিবদ্ধ করা হলো, পিতা-মাতা ও নিকটাত্নীয়দের জন্য ইনসাফের সাথে পরহেযগারদের জন্য এ নির্দেশ জরুরী। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা সবকিছু শোনেন ও জানেন।
It is prescribed for you, when death approaches any of you, if he leaves wealth, that he make a bequest to parents and next of kin, according to reasonable manners. (This is) a duty upon Al-Muttaqûn (the pious – see V.2:2).

كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ إِن تَرَكَ خَيْرًا الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالأقْرَبِينَ بِالْمَعْرُوفِ حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِينَ
Kutiba AAalaykum itha hadara ahadakumu almawtu in taraka khayran alwasiyyatu lilwalidayni waal-aqrabeena bialmaAAroofi haqqan AAala almuttaqeena

YUSUFALI: It is prescribed, when death approaches any of you, if he leave any goods that he make a bequest to parents and next of kin, according to reasonable usage; this is due from the Allah-fearing.

PICKTHAL: It is prescribed for you, when death approacheth one of you, if he leave wealth, that he bequeath unto parents and near relatives in kindness. (This is) a duty for all those who ward off (evil).

SHAKIR: Bequest is prescribed for you when death approaches one of you, if he leaves behind wealth for parents and near relatives, according to usage, a duty (incumbent) upon those who guard (against evil).

KHALIFA: It is decreed that when death approaches, you shall write a will for the benefit of the parents and relatives, equitably. This is a duty upon the righteous.

১৭৯। হে বোধসম্পন্ন মানব সম্প্রদায়, কিসাসের আইন তোমাদের জন্য [জীবন রক্ষাকারী]; যেনো তোমরা নিজেদের সংযত করতে পার।

১৮০। তোমাদের মধ্যে কারও মৃত্যুকাল উপস্থিত হলে, যদি তার বিষয় সম্পত্তি থাকে, তবে ন্যায় সঙ্গত প্রথামত তার পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজনের জন্য ওসিয়াত করার বিধান তোমাদের দেয়া হলো। এটি আল্লাহ্‌ ভীরুদের জন্য একটি কর্তব্য ১৮৬।

১৮৬। মৃতব্যক্তির সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। কিন্তু এটি একটি ভাল পদ্ধতি যে, মৃত্যুপথযাত্রী পুরুষ বা মহিলা নিজের স্বাধীন ইচ্ছায় তার পিতা-মাতা ও নিকট আত্মীয়দের মধ্যে কারও সম্বন্ধে ওসিয়ত করে যেতে পারে। এটি হতে হবে তার কাছের লোকদের প্রতি ভালবাসার বহিঃপ্রকাশস্বরূপ এবং একান্ত আন্তরিকতার সাথে, কারও প্রতি অন্যায় করার নিয়ত যেনো তাতে না থাকে। এই ওসিয়ত অবশ্যই ন্যায়ের ভিত্তিতে হতে হবে।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৮১)

যদি কেউ ওসীয়ত শোনার পর তাতে কোন রকম পরিবর্তন সাধন করে, তবে যারা পরিবর্তন করে তাদের উপর এর পাপ পতিত হবে।
Then whoever changes the bequest after hearing it, the sin shall be on those who make the change. Truly, Allâh is All-Hearer, All-Knower.

فَمَن بَدَّلَهُ بَعْدَمَا سَمِعَهُ فَإِنَّمَا إِثْمُهُ عَلَى الَّذِينَ يُبَدِّلُونَهُ إِنَّ اللّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

Faman baddalahu baAAda ma samiAAahu fa-innama ithmuhu AAala allatheena yubaddiloonahu inna Allaha sameeAAun AAaleemun

YUSUFALI: If anyone changes the bequest after hearing it, the guilt shall be on those who make the change. For Allah hears and knows (All things).

PICKTHAL: And whoso changeth (the will) after he hath heard it – the sin thereof is only upon those who change it. Lo! Allah is Hearer, Knower.

SHAKIR: Whoever then alters it after he has heard it, the sin of it then is only upon those who alter it; surely Allah is Hearing, Knowing.

KHALIFA: If anyone alters a will he had heard, the sin of altering befalls those responsible for such altering. GOD is Hearer, Knower.

১৮১। ইহা শোনার পর যদি কেউ তা পরিবর্তন করে, তবে যারা পরিবর্তন করবে অপরাধ তাদেরই। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ [সব] শোনেন এবং জানেন।

১৮২। কিন্তু কেউ যদি ওসিয়াতকারীর পক্ষপাতিত্বের কিংবা অন্যায়ের আশঙ্কা করে ১৮৭, অতঃপর সে তাদের মাঝে মীমাংসা করে দেয়, এতে তার কোন পাপ হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ বার বার ক্ষমাশীল এবং পরম করুণাময়।

১৮৭। ইসলামের প্রাথমিক যুগে যতদিন পর্যন্ত ওয়ারিশগণের অংশ কুরআনের আয়াত দ্বারা [৪:১১] নির্ধারিত হয় নাই ততদিন পর্যন্ত নিয়ম ছিল মৃত্যুপথযাত্রী তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য ওসিয়ত করে যেতেন। অবশিষ্ট সম্পত্তি সন্তানদের মধ্যে বণ্টিত হত। সে নির্দেশটিই এ আয়াতে উল্লেখিত হয়েছে।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৮২)

যদি কেউ ওসীয়তকারীর পক্ষ থেকে আশংকা করে পক্ষপাতিত্বের অথবা কোন অপরাধমূলক সিদ্ধান্তের এবং তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়, তবে তার কোন গোনাহ হবে না। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।

But he who fears from a testator some unjust act or wrong-doing, and thereupon he makes peace between the parties concerned, there shall be no sin on him. Certainly, Allâh is Oft-Forgiving, Most Merciful.

فَمَنْ خَافَ مِن مُّوصٍ جَنَفًا أَوْ إِثْمًا فَأَصْلَحَ بَيْنَهُمْ فَلاَ إِثْمَ عَلَيْهِ إِنَّ اللّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

Faman khafa min moosin janafan aw ithman faaslaha baynahum fala ithma AAalayhi inna Allaha ghafoorun raheemun

YUSUFALI: But if anyone fears partiality or wrong-doing on the part of the testator, and makes peace between (The parties concerned), there is no wrong in him: For Allah is Oft-forgiving, Most Merciful.

PICKTHAL: But he who feareth from a testator some unjust or sinful clause, and maketh peace between the parties, (it shall be) no sin for him. Lo! Allah is Forgiving, Merciful.

SHAKIR: But he who fears an inclination to a wrong course or an act of disobedience on the part of the testator, and effects an agreement between the parties, there is no blame on him. Surely Allah is Forgiving, Merciful.

KHALIFA: If one sees gross injustice or bias on the part of a testator, and takes corrective action to restore justice to the will, he commits no sin. GOD is Forgiver, Most Merciful.

১৮১। ইহা শোনার পর যদি কেউ তা পরিবর্তন করে, তবে যারা পরিবর্তন করবে অপরাধ তাদেরই। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ [সব] শোনেন এবং জানেন।

১৮২। কিন্তু কেউ যদি ওসিয়াতকারীর পক্ষপাতিত্বের কিংবা অন্যায়ের আশঙ্কা করে ১৮৭, অতঃপর সে তাদের মাঝে মীমাংসা করে দেয়, এতে তার কোন পাপ হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ বার বার ক্ষমাশীল এবং পরম করুণাময়।

১৮৭। ইসলামের প্রাথমিক যুগে যতদিন পর্যন্ত ওয়ারিশগণের অংশ কুরআনের আয়াত দ্বারা [৪:১১] নির্ধারিত হয় নাই ততদিন পর্যন্ত নিয়ম ছিল মৃত্যুপথযাত্রী তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য ওসিয়ত করে যেতেন। অবশিষ্ট সম্পত্তি সন্তানদের মধ্যে বণ্টিত হত। সে নির্দেশটিই এ আয়াতে উল্লেখিত হয়েছে।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৮৩)

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পার।

O you who believe! Observing As-Saum (the fasting) is prescribed for you as it was prescribed for those before you, that you may become Al-Muttaqûn (the pious – see V.2:2).

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

Ya ayyuha allatheena amanoo kutiba AAalaykumu alssiyamu kama kutiba AAala allatheena min qablikum laAAallakum tattaqoona

YUSUFALI: O ye who believe! Fasting is prescribed to you as it was prescribed to those before you, that ye may (learn) self-restraint,-

PICKTHAL: O ye who believe! Fasting is prescribed for you, even as it was prescribed for those before you, that ye may ward off (evil);

SHAKIR: O you who believe! fasting is prescribed for you, as it was prescribed for those before you, so that you may guard (against evil).

KHALIFA: O you who believe, fasting is decreed for you, as it was decreed for those before you, that you may attain salvation.

রুকু – ২৩

১৮৩। হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য উপবাসের বিধান দেয়া হলো যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের দেয়া হয়েছিল, যেনো তোমরা আত্মসংযম [শিক্ষা] লাভ করতে পার ১৮৮।

১৮৮। ‘যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের দেয়া হয়েছিলো’ এই কথাটির অর্থ এই নয় যে মুসলমানদের রোজা ও পুর্ববর্তী জাতিসমূহের রোজার নিয়মকানুন বা দিন একই রকম। এ কথাটির দ্বারা এই বোঝানো হচ্ছে যে, রোজা মানে আত্ম সংযম যা পূর্ববর্তী জাতিসমূহের প্রতিও নাজিল হয়েছিল। রোজার মূল সুর বা উদ্দেশ্য হচ্ছে আত্মসংযম। জীবনের প্রতিটি ব্যাপারেই আত্মসংযমই হচ্ছে রোজার মূল বিয়ষবস্তু।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৮৪)

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৮৫)

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৮৬)

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৮৭)

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৮৮)

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৮৯)

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৯০)

আর লড়াই কর আল্লাহর ওয়াস্তে তাদের সাথে, যারা লড়াই করে তোমাদের সাথে। অবশ্য কারো প্রতি বাড়াবাড়ি করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না।

And fight in the Way of Allâh those who fight you, but transgress not the limits. Truly, Allâh likes not the transgressors. [This Verse is the first one that was revealed in connection with Jihâd, but it was supplemented by another (V.9:36)].

وَقَاتِلُواْ فِي سَبِيلِ اللّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ وَلاَ تَعْتَدُواْ إِنَّ اللّهَ لاَ يُحِبِّ الْمُعْتَدِينَ

Waqatiloo fee sabeeli Allahi allatheena yuqatiloonakum wala taAAtadoo inna Allaha la yuhibbu almuAAtadeena

YUSUFALI: Fight in the cause of Allah those who fight you, but do not transgress limits; for Allah loveth not transgressors.

PICKTHAL: Fight in the way of Allah against those who fight against you, but begin not hostilities. Lo! Allah loveth not aggressors.

SHAKIR: And fight in the way of Allah with those who fight with you, and do not exceed the limits, surely Allah does not love those who exceed the limits.

KHALIFA: You may fight in the cause of GOD against those who attack you, but do not aggress. GOD does not love the aggressors.

১৯০। যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে তোমরাও আল্লাহ্‌র পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর ২০৪। কিন্তু সীমা লঙ্ঘন করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ সীমালঙ্ঘনকারীগনকে ভালোবাসেন না।

২০৪। ইসলাম আত্মরক্ষা এবং আল্লাহ্‌র জন্য জিহাদকে অনুমোদন করে। যুদ্ধের সময়ে সর্বশক্তি দিয়ে বিপক্ষ দলকে প্রতিরোধ করতে বলা হয়েছে কিন্তু কোনও অবস্থাতেই আল্লাহ্‌ প্রদত্ত সীমারেখা অতিক্রম করতে নিষেধ করা হয়েছে। যুদ্ধ জয়ের পরে শত্রুপক্ষের ফসল, গাছ কাটার অনুমতি নাই। যদি শত্রুপক্ষ বশ্যতা স্বীকার করে তবে তাদের জন্য শান্তি স্থাপন করার হুকুম হয়েছে আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৯১)

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৯২)

আর তারা যদি বিরত থাকে, তাহলে আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু।
But if they cease, then Allâh is Oft-Forgiving, Most Merciful.

فَإِنِ انتَهَوْاْ فَإِنَّ اللّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

Fa-ini intahaw fa-inna Allaha ghafoorun raheemun

YUSUFALI: But if they cease, Allah is Oft-forgiving, Most Merciful.

PICKTHAL: But if they desist, then lo! Allah is Forgiving, Merciful.

SHAKIR: But if they desist, then surely Allah is Forgiving, Merciful.

KHALIFA: If they refrain, then GOD is Forgiver, Most Merciful.

১৯২। কিন্তু তারা যদি বিরত হয়, নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ বারে বারে ক্ষমাশীল এবং পরম দয়ালু।

১৯৩। যতক্ষণ [তাদের] দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও উৎপীড়ন বন্ধ না হয়; এবং ন্যায় নীতি ও আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত না হয়, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর ২০৭। কিন্তু যদি তারা বিরত হয়, তবে যারা অত্যাচারী তারা ব্যতীত অন্যদের বিরুদ্ধে শত্রুতা করা চলবে না ২০৮।

২০৭। আরবী শব্দ ‘দ্বীন’ এই কথাটির সংক্ষিপ্ত একটি শব্দ যার অর্থ অনেক ব্যাপক। দ্বীন শব্দটির দ্বারা যে ভাব প্রকাশ করে সেগুলি হচ্ছে কর্তব্যে অবিচল, ভাল-মন্দ বিচারের ক্ষমতা, ন্যায় বোধ, বিশ্বাস, আনুগত্য, কৃতজ্ঞতা বোধ, প্রথাগত আচার অনুষ্ঠান ইত্যাদি। যদি কোন রাষ্ট্র উপরোক্ত গুণাবলীর দ্বারা পরিচালিত হয় তবেই বলা যাবে সেখানে আল্লাহ্‌র দ্বীন প্রতিষ্ঠিত। শুধুমাত্র নাম সর্বস্ব ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আল্লাহ্‌র দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয় না।

২০৮। কিন্তু যদি কাফিররা তাদের চুক্তি ভঙ্গ করে এবং যুদ্ধ করে তবে তোমরাও যুদ্ধ কর জালিমদের সাথে।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৯৩)

আর তোমরা তাদের সাথে লড়াই কর, যে পর্যন্ত না ফেতনার অবসান হয় এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়। অতঃপর যদি তারা নিবৃত হয়ে যায় তাহলে কারো প্রতি কোন জবরদস্তি নেই, কিন্তু যারা যালেম (তাদের ব্যাপারে আলাদা)।

And fight them until there is no more Fitnah (disbelief and worshipping of others along with Allâh) and (all and every kind of) worship is for Allâh (Alone). But if they cease, let there be no transgression except against Az-Zâlimûn (the polytheists, and wrong-doers, etc.)

وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لاَ تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ لِلّهِ فَإِنِ انتَهَواْ فَلاَ عُدْوَانَ إِلاَّ عَلَى الظَّالِمِينَ

Waqatiloohum hatta la takoona fitnatun wayakoona alddeenu lillahi fa-ini intahaw fala AAudwana illa AAala alththalimeena

YUSUFALI: And fight them on until there is no more Tumult or oppression, and there prevail justice and faith in Allah; but if they cease, Let there be no hostility except to those who practise oppression.

PICKTHAL: And fight them until persecution is no more, and religion is for Allah. But if they desist, then let there be no hostility except against wrong-doers.

SHAKIR: And fight with them until there is no persecution, and religion should be only for Allah, but if they desist, then there should be no hostility except against the oppressors.

KHALIFA: You may also fight them to eliminate oppression, and to worship GOD freely. If they refrain, you shall not aggress; aggression is permitted only against the aggressors.

১৯২। কিন্তু তারা যদি বিরত হয়, নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ বারে বারে ক্ষমাশীল এবং পরম দয়ালু।

১৯৩। যতক্ষণ [তাদের] দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও উৎপীড়ন বন্ধ না হয়; এবং ন্যায় নীতি ও আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত না হয়, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর ২০৭। কিন্তু যদি তারা বিরত হয়, তবে যারা অত্যাচারী তারা ব্যতীত অন্যদের বিরুদ্ধে শত্রুতা করা চলবে না ২০৮।

২০৭। আরবী শব্দ ‘দ্বীন’ এই কথাটির সংক্ষিপ্ত একটি শব্দ যার অর্থ অনেক ব্যাপক। দ্বীন শব্দটির দ্বারা যে ভাব প্রকাশ করে সেগুলি হচ্ছে কর্তব্যে অবিচল, ভাল-মন্দ বিচারের ক্ষমতা, ন্যায় বোধ, বিশ্বাস, আনুগত্য, কৃতজ্ঞতা বোধ, প্রথাগত আচার অনুষ্ঠান ইত্যাদি। যদি কোন রাষ্ট্র উপরোক্ত গুণাবলীর দ্বারা পরিচালিত হয় তবেই বলা যাবে সেখানে আল্লাহ্‌র দ্বীন প্রতিষ্ঠিত। শুধুমাত্র নাম সর্বস্ব ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আল্লাহ্‌র দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয় না।

২০৮। কিন্তু যদি কাফিররা তাদের চুক্তি ভঙ্গ করে এবং যুদ্ধ করে তবে তোমরাও যুদ্ধ কর জালিমদের সাথে।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৯৪)

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৯৫)

আর ব্যয় কর আল্লাহর পথে, তবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না। আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ কর। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন।

And spend in the Cause of Allâh (i.e. Jihâd of all kinds, etc.) and do not throw yourselves into destruction (by not spending your wealth in the Cause of Allâh), and do good. Truly, Allâh loves Al-Muhsinûn (the good-doers).

وَأَنفِقُواْ فِي سَبِيلِ اللّهِ وَلاَ تُلْقُواْ بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ وَأَحْسِنُوَاْ إِنَّ اللّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ

Waanfiqoo fee sabeeli Allahi wala tulqoo bi-aydeekum ila alttahlukati waahsinoo inna Allaha yuhibbu almuhsineena

YUSUFALI: And spend of your substance in the cause of Allah, and make not your own hands contribute to (your) destruction; but do good; for Allah loveth those who do good.

PICKTHAL: Spend your wealth for the cause of Allah, and be not cast by your own hands to ruin; and do good. Lo! Allah loveth the beneficent.

SHAKIR: And spend in the way of Allah and cast not yourselves to perdition with your own hands, and do good (to others); surely Allah loves the doers of good.

KHALIFA: You shall spend in the cause of GOD; do not throw yourselves with your own hands into destruction. You shall be charitable; GOD loves the charitable.

১৯৫। তোমাদের ধন-সম্পদ আল্লাহ্‌র পথে ব্যয় কর। তোমরা নিজের হাতে নিজের ধ্বংস ডেকে এনো না ২১১। সৎ কাজ কর। যারা সৎ কাজ করে আল্লাহ্‌ তাদের ভালবাসেন।

২১১। প্রতিটি যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের প্রয়োজন। যদি যুদ্ধ ন্যায় সঙ্গত কারণে, অন্যায়কে প্রতিরোধের জন্য আল্লাহ্‌র দ্বীনকে প্রতিষ্ঠার জন্য হয়, তবেই সে যুদ্ধ হবে আল্লাহ্‌র কারণে যুদ্ধ করা বা ‘নীতির’ জন্য যুদ্ধ করা। এসব যুদ্ধের সময়ে, আল্লাহ্‌র হুকুম হচ্ছে যার অর্থ-সম্পদ আছে তা যুদ্ধের জন্য মুক্ত হস্তে দান করা।

শুধু অর্থ সম্পদ দান করেই দায়িত্ব পালন শেষ হয় না। সবচেয়ে বড় কর্তব্য ও দায়িত্ব পালন হচ্ছে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা সর্বান্তকরণে নিয়োগ করা। অর্থাৎ ‘আল্লাহ্‌র পথে’ ব্যয়ের সময়ে প্রত্যেকে স্ব-স্ব ক্ষমতা অনুযায়ী অর্থ-সম্পদ, মেধা, বুদ্ধি, শারীরিক সামর্থ এক কথায় সব কিছুই আল্লাহ্‌র রাস্তায় খরচ করবে। যদি কেউ এ সময়ে আল্লাহ্‌র রাস্তায় খরচ না করে অর্থ সম্পদকে কুক্ষিগত করে রাখে তবে সে তার নিজের ধ্বংস নিজেই ডেকে আনে। যদি কেউ তার অর্থ সম্পদকে আল্লাহ্‌র রাস্তায় ব্যয় না করে নিজস্ব ভোগ বিলাসের জন্য ব্যয় করে,

তবে সে প্রকারান্তে শত্রুকেই সাহায্য করে। এবং ফলস্বরূপ নিজের ধ্বংস নিজেই ডেকে আনে। তাদের বোঝা উচিত স্বার্থপরতা কখনও ভাল কিছু করতে সমর্থ হয় না। নিঃস্বার্থভাবে সমাজের জন্য যা কিছুই করা হয় তাই আল্লাহ্‌কে খুশী করে। এই উপদেশ সর্বকালের সর্বযুগের। যে সমাজে ধনীদের ধন-সম্পদ, কুক্ষিগত নয়, যে সমাজে ধন-সম্পদ শুধুমাত্র তাদের বিলাস-ব্যসনে ব্যয় হয় না। তাদের সম্পদে গরীবের হক থাকে, আমরা দেখি সে সমাজ উন্নতির দিকে ধাবিত হয়। আল্লাহ্‌র রহমত সে সমাজের উপর বর্ষিত হয়। এই ব্যয়কেই ‘আল্লাহ্‌র পথে’ ব্যয় বলা হয়েছে।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৯৬)

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৯৭)

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ১৯৮)

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি ।
সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি ।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি ।(আয়াত ১৯৯)

অতঃপর তওয়াফের জন্যে দ্রুতগতিতে সেখান থেকে ফিরে আস, যেখান থেকে সবাই ফিরে। আর আল্লাহর কাছেই মাগফেরাত কামনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাকারী, করুনাময়।
Then depart from the place whence all the people depart and ask Allâh for His Forgiveness. Truly, Allâh is Oft-Forgiving, Most-Merciful.

ثُمَّ أَفِيضُواْ مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ وَاسْتَغْفِرُواْ اللّهَ إِنَّ اللّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
Thumma afeedoo min haythu afada alnnasu waistaghfiroo Allaha inna Allaha ghafoorun raheemun

YUSUFALI: Then pass on at a quick pace from the place whence it is usual for the multitude so to do, and ask for Allah’s forgiveness. For Allah is Oft-forgiving, Most Merciful.

PICKTHAL: Then hasten onward from the place whence the multitude hasteneth onward, and ask forgiveness of Allah. Lo! Allah is Forgiving, Merciful.

SHAKIR: Then hasten on from the Place from which the people hasten on and ask the forgiveness of Allah; surely Allah is Forgiving, Merciful.

KHALIFA: You shall file together, with the rest of the people who file, and ask GOD for forgiveness. GOD is Forgiver, Most Merciful.

১৯৯। অতঃপর তোমরা দ্রুত পায়ে সে স্থান অতিক্রম করবে যেখান থেকে অন্যান্য লোকেরা ফিরে আসে ২২২। এবং আল্লাহ্‌র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ বারে বারে ক্ষমাশীল ও পরম করুণাময়।

২২২। দেখুন উপরের টিকা। আরাফাতে সকল হজ্জ্বযাত্রীগণ সমবেত হন। সুতরাং এটা খুবই স্বাভাবিক যে, প্রচণ্ড ভীড়ে সেখানে যানজটের সৃষ্টি হতে পারে; যার ফলে হজ্জ্বযাত্রীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। সুতরাং আরাফাতে প্রয়োজনীয় সময়ের অধিক সময় ব্যয় না করে বা অপেক্ষা না করে সেখান থেকে দ্রুত প্রত্যাবর্তন করতে বলা হয়েছে। হজ্জ্বযাত্রীদের উচিত প্রত্যেকে পরস্পরের সুখ-সুবিধার প্রতি দৃষ্টি দেয়া।

সূ রা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ২০০)

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ২০১)

আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে-হে পরওয়ারদেগার! আমাদিগকে দুনয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর এবং আমাদিগকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর।

And of them there are some who say: ”Our Lord! Give us in this world that which is good and in the Hereafter that which is good, and save us from the torment of the Fire!”

وِمِنْهُم مَّن يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

Waminhum man yaqoolu rabbana atina fee alddunya hasanatan wafee al-akhirati hasanatan waqina AAathaba alnnari

YUSUFALI: And there are men who say: “Our Lord! Give us good in this world and good in the Hereafter, and defend us from the torment of the Fire!”

PICKTHAL: And of them (also) is he who saith: “Our Lord! Give unto us in the world that which is good and in the Hereafter that which is good, and guard us from the doom of Fire.”

SHAKIR: And there are some among them who say: Our Lord! grant us good in this world and good in the hereafter, and save us from the chastisement of the fire.

KHALIFA: Others would say, “Our Lord, grant us righteousness in this world, and righteousness in the Hereafter, and spare us the retribution of Hell.”

২০১। আবার তাদের মধ্যে অনেক লোক আছে যারা বলে, ‘হে আমাদের প্রভু! আমাদের ইহকালে ও পরকালে কল্যাণ দান কর এবং আমাদের আগুনের আযাব থেকে রক্ষা কর।’

২০২। তারা যা অর্জন করেছে তা তাদেরই বণ্টন করা হবে ২২৫। বস্তুতঃ হিসাব গ্রহণে আল্লাহ্‌ অত্যন্ত তৎপর।

২২৫। আল্লাহ্‌র কাছে আমাদের সমস্ত কাজ কর্মের হিসাব পূণ্য এবং পাপের হিসাব অনুযায়ী জমা এবং খরচের খাতায় লেখা হয়ে যাচ্ছে। আর তা হচ্ছে মুহুর্তের মধ্যে। কারণ আল্লাহ্‌ আয়াতে [২:৯৫] বলেছেন যে, আমাদের কাজের হিসাব আমাদের মৃত্যুর বহু আগে তার দরবারে জমা হয়। আজকের কম্পিউটার যুগে দেখি পৃথিবীর একপ্রান্তের সংবাদ মুহূর্তের মধ্যে অন্য প্রান্তে চলে যায়। সুতরাং আমাদের হাত যা করে তার হিসাব মুহূর্তের মধ্যে আল্লাহ্‌র কাছে পৌঁছে যাবে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নাই।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ২০২)

এদেরই জন্য অংশ রয়েছে নিজেদের উপার্জিত সম্পদের। আর আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।

For them there will be alloted a share for what they have earned. And Allâh is Swift at reckoning.

أُولَـئِكَ لَهُمْ نَصِيبٌ مِّمَّا كَسَبُواْ وَاللّهُ سَرِيعُ الْحِسَابِ

Ola-ika lahum naseebun mimma kasaboo waAllahu sareeAAu alhisabi
YUSUFALI: To these will be allotted what they have earned; and Allah is quick in account.

PICKTHAL: For them there is in store a goodly portion out of that which they have earned. Allah is swift at reckoning.

SHAKIR: They shall have (their) portion of what they have earned, and Allah is swift in reckoning.

KHALIFA: Each of these will receive the share they have earned. GOD is most efficient in reckoning.

২০১। আবার তাদের মধ্যে অনেক লোক আছে যারা বলে, ‘হে আমাদের প্রভু! আমাদের ইহকালে ও পরকালে কল্যাণ দান কর এবং আমাদের আগুনের আযাব থেকে রক্ষা কর।’

২০২। তারা যা অর্জন করেছে তা তাদেরই বণ্টন করা হবে ২২৫। বস্তুতঃ হিসাব গ্রহণে আল্লাহ্‌ অত্যন্ত তৎপর।

২২৫। আল্লাহ্‌র কাছে আমাদের সমস্ত কাজ কর্মের হিসাব পূণ্য এবং পাপের হিসাব অনুযায়ী জমা এবং খরচের খাতায় লেখা হয়ে যাচ্ছে। আর তা হচ্ছে মুহুর্তের মধ্যে। কারণ আল্লাহ্‌ আয়াতে [২:৯৫] বলেছেন যে, আমাদের কাজের হিসাব আমাদের মৃত্যুর বহু আগে তার দরবারে জমা হয়। আজকের কম্পিউটার যুগে দেখি পৃথিবীর একপ্রান্তের সংবাদ মুহূর্তের মধ্যে অন্য প্রান্তে চলে যায়। সুতরাং আমাদের হাত যা করে তার হিসাব মুহূর্তের মধ্যে আল্লাহ্‌র কাছে পৌঁছে যাবে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নাই।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ২০৩)

আর স্মরণ কর আল্লাহকে নির্দিষ্ট সংখ্যক কয়েকটি দিনে। অতঃপর যে লোক তাড়াহুড়া করে চলে যাবে শুধু দু, দিনের মধ্যে, তার জন্যে কোন পাপ নেই। আর যে লোক থেকে যাবে তাঁর উপর কোন পাপ নেই, অবশ্য যারা ভয় করে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করতে থাক এবং নিশ্চিত জেনে রাখ, তোমরা সবাই তার সামনে সমবেত হবে।

And remember Allâh during the appointed Days. But whosoever hastens to leave in two days, there is no sin on him and whosoever stays on, there is no sin on him, if his aim is to do good and obey Allâh (fear Him), and know that you will surely be gathered unto Him.

وَاذْكُرُواْ اللّهَ فِي أَيَّامٍ مَّعْدُودَاتٍ فَمَن تَعَجَّلَ فِي يَوْمَيْنِ فَلاَ إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَن تَأَخَّرَ فَلا إِثْمَ عَلَيْهِ لِمَنِ اتَّقَى وَاتَّقُواْ اللّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ

Waothkuroo Allaha fee ayyamin maAAdoodatin faman taAAajjala fee yawmayni fala ithma AAalayhi waman taakhkhara fala ithma AAalayhi limani ittaqa waittaqoo Allaha waiAAlamoo annakum ilayhi tuhsharoona

YUSUFALI: Celebrate the praises of Allah during the Appointed Days. But if any one hastens to leave in two days, there is no blame on him, and if any one stays on, there is no blame on him, if his aim is to do right. Then fear Allah, and know that ye will surely be gathered unto Him.

PICKTHAL: Remember Allah through the appointed days. Then whoso hasteneth (his departure) by two days, it is no sin for him, and whoso delayeth, it is no sin for him; that is for him who wardeth off (evil). Be careful of your duty to Allah, and know that unto Him ye will be gathered.

SHAKIR: And laud Allah during the numbered days; then whoever hastens off in two days, there is no blame on him, and whoever remains behind, there is no blame on him, (this is) for him who guards (against evil), and be careful (of your duty) to Allah, and know that you shall be gathered together to Him.

KHALIFA: You shall commemorate GOD for a number of days (in Mena); whoever hastens to do this in two days commits no sin, and whoever stays longer commits no sin, so long as righteousness is maintained. You shall observe GOD, and know that before Him you will be gathered.

২০৩। তোমরা নির্দিষ্ট সংখ্যক দিনগুলিতে আল্লাহ্‌কে স্মরণ কর ২২৬। কিন্তু যদি কেউ তাড়াতাড়ি করে দুই দিনে চলে যায় তবে তার কোন পাপ নাই। [আবার ] যদি কেউ তাকওয়া [আল্লাহ্‌ প্রেম] অবলম্বনের উদ্দেশ্যে বিলম্ব করে তবে তারও কোন পাপ নাই। আল্লাহ্‌কে ভয় কর এবং জেনে রাখ অবশ্যই তোমাদের সকলকে তাঁর নিকট একত্র করা হবে।

২২৬। ‘নির্দিষ্ট সংখ্যক দিনসমুহে’-১০ যিলহজ্জ্বের পরে মীনাতে তিনদিন থেকে হজ্জ্বযাত্রীদের নিষ্ঠার সাথে আল্লাহ্‌কে স্মরণ করতে বলা হয়েছে। এই দিনগুলিকে বলা হয়েছে ‘তাশরীক’ [দেখুন আয়াত ২:২০০ ও টিকা ২২৩]। হজ্জ্বযাত্রী দুইদিন পর না তিনদিন পর চলে যাবে তা করা হয়েছে ঐচ্ছিক।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ২০৪)

আর এমন কিছু লোক রযেছে যাদের পার্থিব জীবনের কথাবার্তা তোমাকে চমৎকৃত করবে। আর তারা সাক্ষ্য স্থাপন করে আল্লাহকে নিজের মনের কথার ব্যাপারে। প্রকৃতপক্ষে তারা কঠিন ঝগড়াটে লোক।

And of mankind there is he whose speech may please you (O Muhammad SAW), in this worldly life, and he calls Allâh to witness as to that which is in his heart, yet he is the most quarrelsome of the opponents.

وَمِنَ النَّاسِ مَن يُعْجِبُكَ قَوْلُهُ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيُشْهِدُ اللّهَ عَلَى مَا فِي قَلْبِهِ وَهُوَ أَلَدُّ الْخِصَامِ

Wamina alnnasi man yuAAjibuka qawluhu fee alhayati alddunya wayushhidu Allaha AAala ma fee qalbihi wahuwa aladdu alkhisami

YUSUFALI: There is the type of man whose speech about this world’s life May dazzle thee, and he calls Allah to witness about what is in his heart; yet is he the most contentious of enemies.

PICKTHAL: And of mankind there is he whoso conversation on the life of this world pleaseth thee (Muhammad), and he calleth Allah to witness as to that which is in his heart; yet he is the most rigid of opponents.

SHAKIR: And among men is he whose speech about the life of this world causes you to wonder, and he calls on Allah to witness as to what is in his heart, yet he is the most violent of adversaries.

KHALIFA: Among the people, one may impress you with his utterances concerning this life, and may even call upon GOD to witness his innermost thoughts, while he is a most ardent opponent.

২০৪। একদল লোক আছে পার্থিব জীবন সম্বন্ধে যাদের কথাবার্তা তোমাকে চমৎকৃত করবে ২২৭। এবং সে তার অন্তরের [কথা] সম্বন্ধে আল্লাহ্‌কে সাক্ষী রাখে। প্রকৃত পক্ষে শত্রুদের মধ্যে সেই সবচেয়ে বেশী কলহ প্রিয়।

২০৫। যখন সে ফিরে যায়, তার উদ্দেশ্য হয় পৃথিবীর সর্বত্র অশান্তির সৃষ্টি করা এবং শস্য ও গৃহপালিত পশুর ধ্বংস সাধন করা। আর অশান্তি সৃষ্টিকারীকে আল্লাহ্‌ পছন্দ করেন না।

২০৬। যখন তাদের বলা হয়, ‘আল্লাহ্‌কে ভয় কর’, তখন সে তার ঔদ্ধত্য [রিপুর] দ্বারা পরিচালিত হয় [আরও] অপরাধের প্রতি। এদের জন্য জাহান্নামই যথেষ্ট; [শোওয়ার জন্য] কত নিকৃষ্ট সে বিছানা।

২২৭। আয়াত [২:২০০] এবং আয়াত [২:২০১] এ দু’ধরণের লোকের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। এই আয়াতে [২:২০৪] তৃতীয় আর এক ধরণের লোকের কথা বলা হয়েছে। এরা হচ্ছে ধূর্ত চালাক এবং কথা বার্তায় সাবলীল মোনাফেক। সাধারণ মানুষ এদের মনে করে, দুনিয়াদারী সম্বন্ধে অত্যন্ত অভিজ্ঞ। চমকপ্রদ কথা বার্তার ফলে এদের কথা দ্বারা তারা মোহবিষ্ট হয়ে পড়ে। নিষ্ঠাবান মুমিন মুসলমান, যারা আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য আত্ম বিসর্জন দিকে কুণ্ঠাবোধ করেন না,

এদের ক্ষতি সাধন করা, তাদের বিপথে চালিত করাই এই সব মোনাফেকদের উদ্দেশ্য। এদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা প্রসঙ্গে আল্লাহ্‌ বলেছেন (১) এরা মুখে অত্যন্ত মিষ্টি কিন্তু পিছনে এরা অঘটন ঘটনে পটিয়সী। (২) বিবাদ-বিসংবাদ ঘটানো, ঘৃণা-দ্বেষ, ঈর্ষা ছড়াতে এরা ওস্তাদ। (৩) এদের বাক্‌চাতুর্য্য আপাতঃ দৃষ্টিতে মনে হবে অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গত এবং যুক্তিসঙ্গত। (৪) এরা কথায় কথায় প্রতিজ্ঞা করে। সাধারণ ব্যক্তিদের পক্ষে এদের জাল জুয়াচুরি ধরা প্রায় অসম্ভব। (৫) এরা পরস্পরের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে তা থেকে ফায়দা লুটতে আগ্রহী, এরা আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ বঞ্চিত।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ২০৫)

যখন ফিরে যায় তখন চেষ্টা করে যাতে সেখানে অকল্যাণ সৃষ্টি করতে পারে এবং শস্যক্ষেত্র ও প্রাণনাশ করতে পারে। আল্লাহ ফাসাদ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা পছন্দ করেন না।

And when he turns away (from you ”O Muhammad SAW ”), his effort in the land is to make mischief therein and to destroy the crops and the cattle, and Allâh likes not mischief.

وَإِذَا تَوَلَّى سَعَى فِي الأَرْضِ لِيُفْسِدَ فِيِهَا وَيُهْلِكَ الْحَرْثَ وَالنَّسْلَ وَاللّهُ لاَ يُحِبُّ الفَسَادَ

Wa-itha tawalla saAAa fee al-ardi liyufsida feeha wayuhlika alhartha waalnnasla waAllahu la yuhibbu alfasada

YUSUFALI: When he turns his back, His aim everywhere is to spread mischief through the earth and destroy crops and cattle. But Allah loveth not mischief.

PICKTHAL: And when he turneth away (from thee) his effort in the land is to make mischief therein and to destroy the crops and the cattle; and Allah loveth not mischief.

SHAKIR: And when he turn,s back, he runs along in the land that he may cause mischief in it and destroy the tilth and the stock, and Allah does not love mischief-making.

KHALIFA: As soon as he leaves, he roams the earth corruptingly, destroying properties and lives. GOD does not love corruption.

২০৪। একদল লোক আছে পার্থিব জীবন সম্বন্ধে যাদের কথাবার্তা তোমাকে চমৎকৃত করবে ২২৭। এবং সে তার অন্তরের [কথা] সম্বন্ধে আল্লাহ্‌কে সাক্ষী রাখে। প্রকৃত পক্ষে শত্রুদের মধ্যে সেই সবচেয়ে বেশী কলহ প্রিয়।

২০৫। যখন সে ফিরে যায়, তার উদ্দেশ্য হয় পৃথিবীর সর্বত্র অশান্তির সৃষ্টি করা এবং শস্য ও গৃহপালিত পশুর ধ্বংস সাধন করা। আর অশান্তি সৃষ্টিকারীকে আল্লাহ্‌ পছন্দ করেন না।

২০৬। যখন তাদের বলা হয়, ‘আল্লাহ্‌কে ভয় কর’, তখন সে তার ঔদ্ধত্য [রিপুর] দ্বারা পরিচালিত হয় [আরও] অপরাধের প্রতি। এদের জন্য জাহান্নামই যথেষ্ট; [শোওয়ার জন্য] কত নিকৃষ্ট সে বিছানা।

২২৭। আয়াত [২:২০০] এবং আয়াত [২:২০১] এ দু’ধরণের লোকের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। এই আয়াতে [২:২০৪] তৃতীয় আর এক ধরণের লোকের কথা বলা হয়েছে। এরা হচ্ছে ধূর্ত চালাক এবং কথা বার্তায় সাবলীল মোনাফেক। সাধারণ মানুষ এদের মনে করে, দুনিয়াদারী সম্বন্ধে অত্যন্ত অভিজ্ঞ। চমকপ্রদ কথা বার্তার ফলে এদের কথা দ্বারা তারা মোহবিষ্ট হয়ে পড়ে। নিষ্ঠাবান মুমিন মুসলমান, যারা আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য আত্ম বিসর্জন দিকে কুণ্ঠাবোধ করেন না, এদের ক্ষতি সাধন করা,

তাদের বিপথে চালিত করাই এই সব মোনাফেকদের উদ্দেশ্য। এদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা প্রসঙ্গে আল্লাহ্‌ বলেছেন (১) এরা মুখে অত্যন্ত মিষ্টি কিন্তু পিছনে এরা অঘটন ঘটনে পটিয়সী। (২) বিবাদ-বিসংবাদ ঘটানো, ঘৃণা-দ্বেষ, ঈর্ষা ছড়াতে এরা ওস্তাদ। (৩) এদের বাক্‌চাতুর্য্য আপাতঃ দৃষ্টিতে মনে হবে অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গত এবং যুক্তিসঙ্গত। (৪) এরা কথায় কথায় প্রতিজ্ঞা করে। সাধারণ ব্যক্তিদের পক্ষে এদের জাল জুয়াচুরি ধরা প্রায় অসম্ভব। (৫) এরা পরস্পরের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে তা থেকে ফায়দা লুটতে আগ্রহী, এরা আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ বঞ্চিত।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ২০৬)

আর যখন তাকে বলা হয় যে, আল্লাহকে ভয় কর, তখন তার পাপ তাকে অহঙ্কারে উদ্বুদ্ধ করে। সুতরাং তার জন্যে দোযখই যথেষ্ট। আর নিঃসন্দেহে তা হলো নিকৃষ্টতর ঠিকানা।

And when it is said to him, ”Fear Allâh”, he is led by arrogance to (more) crime. So enough for him is Hell, and worst indeed is that place to rest!

وَإِذَا قِيلَ لَهُ اتَّقِ اللّهَ أَخَذَتْهُ الْعِزَّةُ بِالإِثْمِ فَحَسْبُهُ جَهَنَّمُ وَلَبِئْسَ الْمِهَادُ

Wa-itha qeela lahu ittaqi Allaha akhathat-hu alAAizzatu bial-ithmi fahasbuhu jahannamu walabi/sa almihadu

YUSUFALI: When it is said to him, “Fear Allah”, He is led by arrogance to (more) crime. Enough for him is Hell;-An evil bed indeed (To lie on)!

PICKTHAL: And when it is said unto him: Be careful of thy duty to Allah, pride taketh him to sin. Hell will settle his account, an evil resting-place.

SHAKIR: And when it is said to him, guard against (the punish ment of) Allah; pride carries him off to sin, therefore hell is sufficient for him; and certainly it is an evil resting place.

KHALIFA: When he is told, “Observe GOD,” he becomes arrogantly indignant. Consequently, his only destiny is Hell; what a miserable abode.

২০৪। একদল লোক আছে পার্থিব জীবন সম্বন্ধে যাদের কথাবার্তা তোমাকে চমৎকৃত করবে ২২৭। এবং সে তার অন্তরের [কথা] সম্বন্ধে আল্লাহ্‌কে সাক্ষী রাখে। প্রকৃত পক্ষে শত্রুদের মধ্যে সেই সবচেয়ে বেশী কলহ প্রিয়।

২০৫। যখন সে ফিরে যায়, তার উদ্দেশ্য হয় পৃথিবীর সর্বত্র অশান্তির সৃষ্টি করা এবং শস্য ও গৃহপালিত পশুর ধ্বংস সাধন করা। আর অশান্তি সৃষ্টিকারীকে আল্লাহ্‌ পছন্দ করেন না।

২০৬। যখন তাদের বলা হয়, ‘আল্লাহ্‌কে ভয় কর’, তখন সে তার ঔদ্ধত্য [রিপুর] দ্বারা পরিচালিত হয় [আরও] অপরাধের প্রতি। এদের জন্য জাহান্নামই যথেষ্ট; [শোওয়ার জন্য] কত নিকৃষ্ট সে বিছানা।

২২৭। আয়াত [২:২০০] এবং আয়াত [২:২০১] এ দু’ধরণের লোকের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। এই আয়াতে [২:২০৪] তৃতীয় আর এক ধরণের লোকের কথা বলা হয়েছে। এরা হচ্ছে ধূর্ত চালাক এবং কথা বার্তায় সাবলীল মোনাফেক। সাধারণ মানুষ এদের মনে করে, দুনিয়াদারী সম্বন্ধে অত্যন্ত অভিজ্ঞ। চমকপ্রদ কথা বার্তার ফলে এদের কথা দ্বারা তারা মোহবিষ্ট হয়ে পড়ে। নিষ্ঠাবান মুমিন মুসলমান, যারা আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য আত্ম বিসর্জন দিকে কুণ্ঠাবোধ করেন না, এদের ক্ষতি সাধন করা,

তাদের বিপথে চালিত করাই এই সব মোনাফেকদের উদ্দেশ্য। এদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা প্রসঙ্গে আল্লাহ্‌ বলেছেন (১) এরা মুখে অত্যন্ত মিষ্টি কিন্তু পিছনে এরা অঘটন ঘটনে পটিয়সী। (২) বিবাদ-বিসংবাদ ঘটানো, ঘৃণা-দ্বেষ, ঈর্ষা ছড়াতে এরা ওস্তাদ। (৩) এদের বাক্‌চাতুর্য্য আপাতঃ দৃষ্টিতে মনে হবে অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গত এবং যুক্তিসঙ্গত। (৪) এরা কথায় কথায় প্রতিজ্ঞা করে। সাধারণ ব্যক্তিদের পক্ষে এদের জাল জুয়াচুরি ধরা প্রায় অসম্ভব। (৫) এরা পরস্পরের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে তা থেকে ফায়দা লুটতে আগ্রহী, এরা আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ বঞ্চিত।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ২০৭)

আর মানুষের মাঝে এক শ্রেণীর লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সন্তুষ্টিকল্পে নিজেদের জানের বাজি রাখে। আল্লাহ হলেন তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত মেহেরবান।

And of mankind is he who would sell himself, seeking the Pleasure of Allâh. And Allâh is full of Kindness to (His) slaves.

وَمِنَ النَّاسِ مَن يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاء مَرْضَاتِ اللّهِ وَاللّهُ رَؤُوفٌ بِالْعِبَادِ

Wamina alnnasi man yashree nafsahu ibtighaa mardati Allahi waAllahu raoofun bialAAibadi

YUSUFALI: And there is the type of man who gives his life to earn the pleasure of Allah: And Allah is full of kindness to (His) devotees.

PICKTHAL: And of mankind is he who would sell himself, seeking the pleasure of Allah; and Allah hath compassion on (His) bondmen.

SHAKIR: And among men is he who sells himself to seek the pleasure of Allah; and Allah is Affectionate to the servants.

KHALIFA: Then there are those who dedicate their lives to serving GOD; GOD is compassionate towards such worshipers.

২০৭। আবার আর একদল লোক আছে, যারা আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য জীবন দিতে পারে। আল্লাহ্‌ [তাঁর] অনুগত বান্দাদের প্রতি দয়াতে পরিপূর্ণ ২২৯।

২২৯। আয়াত [২:২০৭] এ যে ধরণের লোকের বর্ণনা করা হয়েছে তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি বিধানের জন্য নিজের জীবন ত্যাগ করতে কুণ্ঠিত নয়। এরা আল্লাহ্‌র প্রতি অনুগত, আল্লাহ্‌র রাস্তায় উৎসর্গিত প্রাণ, দৃঢ় এবং বিশ্বস্ত। আমরা এ ধরণের বহু ব্যক্তির সন্ধান পাই। ইসলামের প্রথম যুগে, এরাই হচ্ছেন ইসলামের প্রকৃত স্তম্ভ (Pillar) বা থাম। শত অত্যাচার, হত্যা, অন্যায় অবিচারে তারা নতি স্বীকার করেন নাই। নিজের জীবনের এমনকি নিজের ভালবাসার জনের বিনিময়েও তারা ইসলামের রাস্তা থেকে বিচ্যুত হন নাই। সবকিছুর পরিবর্তে তারা তাদের নবী (সাঃ) এর পাশে পাহাড়ের মত অটল, অনড় থেকেছেন।

আর এদের কারণেই ইসলামের বিস্তার লাভ। আয়াত [২:২০৮] এ আল্লাহ্‌ এই দ্বিতীয় ধরণের বান্দাকে অনুসরণ করার জন্য সবাইকে আদেশ দিচ্ছেন এবং অন্য দু’ধরণের লোক যাদের এক ধরন শুধু পৃথিবীর অর্থ সম্পদ, প্রভাব-প্রতিপত্তি যাদের কাম্য পরকাল যাদের কাছে অর্থহীন আয়াত [২:২০০] এবং অন্য ধরণ [২:২০৪] যারা ধূর্ত এবং মোনাফেক, যারা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। যদি আমরা তা করতে পারি তবেই আমরা মুক্তি পাব, আমরা মুত্তাকী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবো।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি ।
সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি ।

সূরা বাকারা পর্ব ৬ । সূচি । (আয়াত ২০৮)

হে ঈমানদার গন! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ কর না। নিশ্চিত রূপে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।

O you who believe! Enter perfectly in Islâm (by obeying all the rules and regulations of the Islâmic religion) and follow not the footsteps of Shaitân (Satan). Verily! He is to you a plain enemy.

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ ادْخُلُواْ فِي السِّلْمِ كَآفَّةً وَلاَ تَتَّبِعُواْ خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ

Ya ayyuha allatheena amanoo odkhuloo fee alssilmi kaffatan wala tattabiAAoo khutuwati alshshaytani innahu lakum AAaduwwun mubeenun

YUSUFALI: O ye who believe! Enter into Islam whole-heartedly; and follow not the footsteps of the evil one; for he is to you an avowed enemy.

PICKTHAL: O ye who believe! Come, all of you, into submission (unto Him); and follow not the footsteps of the devil. Lo! he is an open enemy for you.

SHAKIR: O you who believe! enter into submission one and all and do not follow the footsteps of Shaitan; surely he is your open enemy.

KHALIFA: O you who believe, you shall embrace total submission; do not follow the steps of Satan, for he is your most ardent enemy.

২০৮। হে বিশ্বাসীগণ! সমস্ত মন প্রাণ দিয়ে ইসলাম গ্রহণ কর। এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।

২০৯। যদি তোমাদের নিকট সুস্পষ্ট [নিদর্শন] আসার পরেও তোমাদের পদস্খলন ঘটে, তবে জেনে রাখ আল্লাহ্‌ মহাশক্তিশালী ও প্রজ্ঞাময় ২৩০।

২৩০। আল্লাহ্‌র আদেশাবলী জানার পরেও কেউ যদি তা না মানে, তবে ক্ষতি আল্লাহ্‌র নয়, ক্ষতি তারই। সময়ের বৃহত্তর পরিসরে আল্লাহ্‌র পরিকল্পনা কার্যকর হবেই। কেউ যদি আল্লাহ্‌কে অস্বীকার করে তার পথ থেকে দূরে সরে যায় তা হয়তো ক্ষণকালের জন্য সমাজে কিছু অশান্তির সৃষ্টি করতে পারে।

কিন্তু সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌র তাতে কিছু ক্ষতিবৃদ্ধি হবে না। ক্ষতি হবে তারই যে আল্লাহ্‌কে অস্বীকার করে তার পথ থেকে দূরে সরে যাবে। আল্লাহ্‌ মহাপরাক্রমশালী, তার পরিকল্পনা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।

আরও দেখুনঃ 

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । [ গাভী কুরবানী] সূরা নং ২ । পবিত্র কুরআন ।

সূরা বাকারা পর্ব ৫ । সূচি । [ গাভী কুরবানী] সূরা নং ২ । পবিত্র কুরআন ।

সূরা বাকারা পর্ব ৪ । সূচি । [ গাভী কুরবানী] সূরা নং ২ । পবিত্র কুরআন ।

সূরা বাকারা পর্ব ৩ । সূচি । [ গাভী কুরবানী] সূরা নং ২ । পবিত্র কুরআন ।

সূরা বাকারা পর্ব ২ । সূচি । [ গাভী কুরবানী ] সূরা নং ২ । পবিত্র কুরআন ।

সূরা বাকারা পর্ব ১ । সূচি । [ গাভী কুরবানী ] সূরা নং ২ । পবিত্র কুরআন ।

নাপাকি এবং নাপাকি থেকে পবিত্রতা অর্জনের উপায়

 

 

 

 

Leave a Comment