সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । [ গাভী কুরবানী] সূরা নং ২ । পবিত্র কুরআন ।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ ,আল বাকারা (আরবি ভাষায়: سورة البقرة) মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের দ্বিতীয় সূরা, এর আয়াত সংখ্যা ২৮৬ টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ৪০ টি। আল বাকারা সূরাটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে।

Table of Contents

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২০৯)

অতঃপর তোমাদের মাঝে পরিস্কার নির্দেশ এসে গেছে বলে জানার পরেও যদি তোমরা পদস্খলিত হও, তাহলে নিশ্চিত জেনে রেখো, আল্লাহ, পরাক্রমশালী, বিজ্ঞ।

Then if you slide back after the clear signs (Prophet Muhammad SAW and this Qur’ân, and Islâm) have come to you, then know that Allâh is All-Mighty, All-Wise.

فَإِن زَلَلْتُمْ مِّن بَعْدِ مَا جَاءتْكُمُ الْبَيِّنَاتُ فَاعْلَمُواْ أَنَّ اللّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ

Fa-in zalaltum min baAAdi ma jaatkumu albayyinatu faiAAlamoo anna Allaha AAazeezun hakeemun

YUSUFALI: If ye backslide after the clear (Signs) have come to you, then know that Allah is Exalted in Power, Wise.

PICKTHAL: And if ye slide back after the clear proofs have come unto you, then know that Allah is Mighty, Wise.

SHAKIR: But if you slip after clear arguments have come to you, then know that Allah is Mighty, Wise.

KHALIFA: If you backslide, after the clear proofs have come to you, then know that GOD is Almighty, Most Wise.

২০৮। হে বিশ্বাসীগণ! সমস্ত মন প্রাণ দিয়ে ইসলাম গ্রহণ কর। এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।

২০৯। যদি তোমাদের নিকট সুস্পষ্ট [নিদর্শন] আসার পরেও তোমাদের পদস্খলন ঘটে, তবে জেনে রাখ আল্লাহ্‌ মহাশক্তিশালী ও প্রজ্ঞাময় ২৩০।

২৩০। আল্লাহ্‌র আদেশাবলী জানার পরেও কেউ যদি তা না মানে, তবে ক্ষতি আল্লাহ্‌র নয়, ক্ষতি তারই। সময়ের বৃহত্তর পরিসরে আল্লাহ্‌র পরিকল্পনা কার্যকর হবেই। কেউ যদি আল্লাহ্‌কে অস্বীকার করে তার পথ থেকে দূরে সরে যায় তা হয়তো ক্ষণকালের জন্য সমাজে কিছু অশান্তির সৃষ্টি করতে পারে।

কিন্তু সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌র তাতে কিছু ক্ষতিবৃদ্ধি হবে না। ক্ষতি হবে তারই যে আল্লাহ্‌কে অস্বীকার করে তার পথ থেকে দূরে সরে যাবে। আল্লাহ্‌ মহাপরাক্রমশালী, তার পরিকল্পনা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি ।
সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি ।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২১০)

তারা কি সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে যে, মেঘের আড়ালে তাদের সামনে আসবেন আল্লাহ ও ফেরেশতাগণ ? আর তাতেই সব মীমাংসা হয়ে যাবে। বস্তুতঃ সবকার্যকলাপই আল্লাহর নিকট গিয়ে পৌঁছবে।
Do they then wait for anything other than that Allâh should come to them in the shadows of the clouds and the angels? (Then) the case would be already judged. And to Allâh return all matters (for decision).

هَلْ يَنظُرُونَ إِلاَّ أَن يَأْتِيَهُمُ اللّهُ فِي ظُلَلٍ مِّنَ الْغَمَامِ وَالْمَلآئِكَةُ وَقُضِيَ الأَمْرُ وَإِلَى اللّهِ تُرْجَعُ الأمُورُ
Hal yanthuroona illa an ya/tiyahumu Allahu fee thulalin mina alghamami waalmala-ikatu waqudiya al-amru wa-ila Allahi turjaAAu al-omooru

YUSUFALI: Will they wait until Allah comes to them in canopies of clouds, with angels (in His train) and the question is (thus) settled? but to Allah do all questions go back (for decision).
PICKTHAL: Wait they for naught else than that Allah should come unto them in the shadows of the clouds with the angels? Then the case would be already judged. All cases go back to Allah (for judgment).

SHAKIR: They do not wait aught but that Allah should come to them in the shadows of the clouds along with the angels, and the matter has (already) been decided; and (all) matters are returned to Allah.

KHALIFA: Are they waiting until GOD Himself comes to them in dense clouds, together with the angels? When this happens, the whole matter will be terminated, and to GOD everything will be returned.

২১০। তারা শুধু কি এই প্রতীক্ষায় আছে যে, যতক্ষণ না আল্লাহ্‌ ফেরেশ্‌তাগণের সাথে তাদের নিকট উপস্থিত হবে [তাঁর বাহনে করে] মেঘের ছায়ার মধ্যে এবং [তখন এভাবে সবকিছুর] সমাধান হয়ে যাবে? কিন্তু [সিদ্ধান্তের জন্য] সকল বিষয় আল্লাহ্‌র নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে ২৩১।

২৩১। যদি বিশ্বাসের অভাব থাকে, যদি ঈমানের দৃঢ়তা না থাকে, তখনই আল্লাহ্‌র হুকুম মানার ক্ষেত্রে গড়িমসি দেখা যায়। তখনই তারা এ রকম বাক্য ব্যবহার করবে, ‘হ্যাঁ আমরা তখনই বিশ্বাস করবো যখন আল্লাহ্‌ তার ফেরেশ্‌তাদের সমবিভরে আমাদের সামনে তাঁর মহিমা উপস্থাপন করবেন।’ অর্থাৎ তারা তাদের মত করে আল্লাহ্‌কে বিশ্বাস করতে চায়; আল্লাহ্‌র মনোনীত পন্থায় নয়। কিন্তু তা তো হবার নয়। সব সিদ্ধান্তের একমাত্র মালিক আল্লাহ্‌। তার হুকুমই একমাত্র হুকুম, তার সিদ্ধান্তই একমাত্র সিদ্ধান্ত।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২১১)

বনী ইসরাঈলদিগকে জিজ্ঞেস কর, তাদেরকে আমি কত স্পষ্ট নির্দশনাবলী দান করেছি। আর আল্লাহর নেয়ামত পৌছে যাওয়ার পর যদি কেউ সে নেয়ামতকে পরিবর্তিত করে দেয়, তবে আল্লাহর আযাব অতি কঠিন।

Ask the Children of Israel how many clear Ayât (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.) We gave them. And whoever changes Allâh’s Favour after it had come to him, [e.g. renounces the Religion of Allâh (Islâm) and accepts Kufr (disbelief),] then surely, Allâh is Severe in punishment.

سَلْ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَمْ آتَيْنَاهُم مِّنْ آيَةٍ بَيِّنَةٍ وَمَن يُبَدِّلْ نِعْمَةَ اللّهِ مِن بَعْدِ مَا جَاءتْهُ فَإِنَّ اللّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ

Sal banee isra-eela kam ataynahum min ayatin bayyinatin waman yubaddil niAAmata Allahi min baAAdi ma jaat-hu fa-inna Allaha shadeedu alAAiqabi

YUSUFALI: Ask the Children of Israel how many clear (Signs) We have sent them. But if any one, after Allah’s favour has come to him, substitutes (something else), Allah is strict in punishment.

PICKTHAL: Ask of the Children of Israel how many a clear revelation We gave them! He who altereth the grace of Allah after it hath come unto him (for him), lo! Allah is severe in punishment.

SHAKIR: Ask the Israelites how many a clear sign have We given them; and whoever changes the favor of Allah after it has come to him, then surely Allah is severe in requiting (evil).

KHALIFA: Ask the Children of Israel how many profound miracles have we shown them! For those who disregard the blessings bestowed upon them by GOD, GOD is most strict in retribution.

রুকু – ২৬

২১১। বণী ইসরাঈলীদের জিজ্ঞেস কর, কতগুলি সুস্পষ্ট [নিদর্শন] আমি তাদের প্রেরণ করেছি? ২৩২। আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ আসার পরে কেউ তার পরিবর্তন করলে আল্লাহ্‌ তো শাস্তি দানে কঠোর ২৩৩।

২৩২। উপরের আয়াতের উদাহরণ আমরা দেখি হযরত মুসার সময়ে। আল্লাহ্‌ ইসরাঈলীদের তার মহিমা এবং নিদর্শন দেখান, তারপরও ইসরাঈলীরা আল্লাহ্‌র নির্দেশিত পথ ত্যাগ করে নিজেদের কল্পনায় গড়া মূর্তিপূজা এবং খেয়ালখুশী মত চলতে থাকে। এ কথাটা শুধুমাত্র ইসরাঈলীদের বেলায প্রযোজ্য তাই নয়। এ কথা সর্বকালের সর্বযুগের জন্য প্রযোজ্য। অবিশ্বাসীরা আল্লাহ্‌র পরিবর্তে নিজেদের কল্পনা প্রসূত শক্তির পূঁজা করে। প্রাচীন ইসরাঈলীরা সোনার গো-বৎস্য পঁজা করেছে, আজকের যুগে আমরা দেখি এর ধরণ পাল্টে গেছে। কেউ বিশ্বমানবতার নামে নাস্তিক, কেউ কমুনিজমের নামে নাস্তিক।

আবার কেউ আল্লাহ্‌র নামে Trinity তে বিশ্বাসী ইত্যাদি। অর্থাৎ সবাই স্ব-স্ব মত অনুসারে আল্লাহ্‌কে বিশ্বাস করতে চায়। আজ মুসলমানদের মধ্যে এত বিভক্তির কারণও এই একটাই। কিন্তু আল্লাহ্‌ বলেছেন এর দ্বারা তারা নিজেদেরই প্রতারিত করবে, কারণ আল্লাহ্‌র ন্যায় বিচার অবশ্যই আসবে। যারা তার রহমত ও করুণা অস্বীকার করে তাদের জন্য এই ন্যায় বিচার অত্যন্ত কঠোরভাবে প্রযোজ্য হবে।

২৩৩। আয়াত [২:১৯৬] এর শেষাংশে আল্লাহ্‌কে ভয় করতে বলা হয়েছে, যারা আল্লাহ্‌কে ভয় করে না তাদের কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে। আয়াত [২:২১১] এর শেষাংশে তাদের কথা বলা হয়েছে যারা আল্লাহ্‌র নিদর্শন অস্বীকার করে এবং পরিবর্তন করে তাদের শাস্তি হবে কঠোর।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২১২)

পার্থিব জীবনের উপর কাফেরদিগকে উম্মত্ত করে দেয়া হয়েছে। আর তারা ঈমানদারদের প্রতি লক্ষ্য করে হাসাহাসি করে। পক্ষান্তরে যারা পরহেযগার তারা সেই কাফেরদের তুলনায় কেয়ামতের দিন অত্যন্ত উচ্চমর্যাদায় থাকবে। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সীমাহীন রুযী দান করেন।

Beautified is the life of this world for those who disbelieve, and they mock at those who believe. But those who obey Allâh’s Orders and keep away from what He has forbidden, will be above them on the Day of Resurrection. And Allâh gives (of His Bounty, Blessings, Favours, Honours, etc. on the Day of Resurrection) to whom He wills without limit.

زُيِّنَ لِلَّذِينَ كَفَرُواْ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَيَسْخَرُونَ مِنَ الَّذِينَ آمَنُواْ وَالَّذِينَ اتَّقَواْ فَوْقَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَاللّهُ يَرْزُقُ مَن يَشَاء بِغَيْرِ حِسَابٍ

Zuyyina lillatheena kafaroo alhayatu alddunya wayaskharoona mina allatheena amanoo waallatheena ittaqaw fawqahum yawma alqiyamati waAllahu yarzuqu man yashao bighayri hisabin

YUSUFALI: The life of this world is alluring to those who reject faith, and they scoff at those who believe. But the righteous will be above them on the Day of Resurrection; for Allah bestows His abundance without measure on whom He will.

PICKTHAL: Beautified is the life of the world for those who disbelieve; they make a jest of the believers. But those who keep their duty to Allah will be above them on the Day of Resurrection. Allah giveth without stint to whom He will.

SHAKIR: The life of this world is made to seem fair to those who disbelieve, and they mock those who believe, and those who guard (against evil) shall be above them on the day of resurrection; and Allah gives means of subsistence to whom he pleases without measure.

KHALIFA: This worldly life is adorned in the eyes of the disbelievers, and they ridicule those who believe. However, the righteous will be far above them on the Day of Resurrection. GOD blesses whomever He wills, without limits.

২১২। যারা ঈমানকে প্রত্যাখান করে তাদের জন্য পৃথিবীর এই জীবনকে মনোমুগ্ধকর করেছি। তারা বিশ্বাসীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে। কিন্তু পুনরুত্থানের দিনে পূণ্যাত্মারা তাদের উর্ধ্বে অবস্থান করবে। আল্লাহ্‌ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত প্রাচুর্য দান করেন ২৩৪।

২৩৪। এই আয়াতে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুনিয়ার প্রতি আসক্তি হচ্ছে, সত্যের প্রতি, আধ্যাত্মিক জগতের প্রতি অনীহার প্রকৃত কারণ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। যার নিদর্শন হলো ধর্মভীরুদের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন। মানুষের পক্ষে শুধুমাত্র পার্থিব জীবনের উন্নতিতে অহংকারী হওয়া উচিত নয়। কারণ আল্লাহ্‌ সবাইকে সমান রিযিক দান করেন না।

আল্লাহ্‌ যাকে ইচ্ছা প্রচুর পরিমাণে দিয়ে থাকেন এবং দেখা যায় আমাদের ধারণায় যাদের পাওয়া উচিত নয়, তাদেরই অর্থবিত্ত বেশী। সময়ের বৃহত্তর পরিসরে, পৃথিবীর অগ্রযাত্রায়, আল্লাহ্‌র পরিকল্পনা বোঝা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই যে কেউ আল্লাহ্‌র নেয়ামতের অধিকারী হলে, কেন তাকে সে নেয়ামত দেওয়া হলো তা বোঝার ক্ষমতা আমাদের নাই। তবে এটা নিশ্চিত যে, আল্লাহ্‌ যাকে যে নেয়ামত দিয়েছেন তার সদ্ব্যবহার সম্বন্ধে হিসাব নেবেন পরকালে। যেমন-আমরা দিন শেষে আমাদের ব্যবসায়ের হিসাব মিলাই।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২১৩)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২১৪)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২১৫)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২১৬)

তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোন একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর। বস্তুতঃ আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না।

Jihâd (holy fighting in Allâh’s Cause) is ordained for you (Muslims) though you dislike it, and it may be that you dislike a thing which is good for you and that you like a thing which is bad for you. Allâh knows but you do not know.

كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَّكُمْ وَعَسَى أَن تَكْرَهُواْ شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ وَعَسَى أَن تُحِبُّواْ شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَّكُمْ وَاللّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لاَ تَعْلَمُونَ

Kutiba AAalaykumu alqitalu wahuwa kurhun lakum waAAasa an takrahoo shay-an wahuwa khayrun lakum waAAasa an tuhibboo shay-an wahuwa sharrun lakum waAllahu yaAAlamu waantum la taAAlamoona

YUSUFALI: Fighting is prescribed for you, and ye dislike it. But it is possible that ye dislike a thing which is good for you, and that ye love a thing which is bad for you. But Allah knoweth, and ye know not.

PICKTHAL: Warfare is ordained for you, though it is hateful unto you; but it may happen that ye hate a thing which is good for you, and it may happen that ye love a thing which is bad for you. Allah knoweth, ye know not.

SHAKIR: Fighting is enjoined on you, and h is an object of dislike to you; and it may be that you dislike a thing while it is good for you, and it may be that you love a thing while it is evil for you, and Allah knows, while you do not know.

KHALIFA: Fighting may be imposed on you, even though you dislike it. But you may dislike something which is good for you, and you may like something which is bad for you. GOD knows while you do not know.

২১৬। তোমাদের জন্য যুদ্ধের বিধান দেওয়া হলো এবং তোমরা তা অপছন্দ করলে ২৩৬। তোমরা যা অপছন্দ কর, সম্ভবতঃ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর এবং যা ভালবাস, সম্ভবতঃ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। কিন্তু আল্লাহ্‌ জানেন এবং তোমরা তা জান না।

২৩৬। সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ হচ্ছে জিহাদ। কারন আল্লাহ্‌র আইন রয়েছে সত্য ও ন্যায়ের মধ্যে। তাই সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা মানেই হচ্ছে আল্লাহ্‌র আইনের প্রতিষ্ঠা। আর সত্য ও ন্যায়ের জন্য যুদ্ধ করা হচ্ছে সর্বোচ্চ দান। পৃথিবীতে নিজের জীবনের চেয়ে বড় আর কি আছে? সেই জীবনকে যে দান করতে পারে তার থেকে বড় দাতা আর কে আছে? জেহাদ বা আল্লাহ্‌র জন্য সেই জীবনকে নিবেদন করা হয়। একথা স্মরণযোগ্য যে জেহাদ শুধুমাত্র অস্ত্রের সাহায্যেই হয় না লেখনীর সাহায্যে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা, জনমত গঠন করা জেহাদ।

সেই রকম বক্তৃতার মাধ্যমে, নেতৃত্বের মাধ্যমে যদি সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার জন্য ও অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা হয় তাও আল্লাহ্‌র চোখে জেহাদ। যদি কেউ নিজের দম্ভ প্রকাশের জন্য অন্যায় জুলুম বা অত্যাচার করে, নিজের নাম প্রকাশের জন্য কূট-তর্কে অবতীর্ণ হয়, নিজের হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য জনমত তৈরির চেষ্টা করে তবে তারা আল্লাহ্‌র চোখে নিন্দনীয়। আল্লাহ্‌ সবকিছুই জানেন।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২১৭)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২১৮)

আর এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই যে, যারা ঈমান এনেছে এবং যারা হিজরত করেছে আর আল্লাহর পথে লড়াই (জেহাদ) করেছে, তারা আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী। আর আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাকারী করুনাময়।
Verily, those who have believed, and those who have emigrated (for Allâh’s Religion) and have striven hard in the Way of Allâh, all these hope for Allâh’s Mercy. And Allâh is Oft-Forgiving, Most-Merciful.

إِنَّ الَّذِينَ آمَنُواْ وَالَّذِينَ هَاجَرُواْ وَجَاهَدُواْ فِي سَبِيلِ اللّهِ أُوْلَـئِكَ يَرْجُونَ رَحْمَتَ اللّهِ وَاللّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
Inna allatheena amanoo waallatheena hajaroo wajahadoo fee sabeeli Allahi ola-ika yarjoona rahmata Allahi waAllahu ghafoorun raheemun

YUSUFALI: Those who believed and those who suffered exile and fought (and strove and struggled) in the path of Allah,- they have the hope of the Mercy of Allah: And Allah is Oft-forgiving, Most Merciful.
PICKTHAL: Lo! those who believe, and those who emigrate (to escape the persecution) and strive in the way of Allah, these have hope of Allah’s mercy. Allah is Forgiving, Merciful.
SHAKIR: Surely those who believed and those who fled (their home) and strove hard in the way of Allah these hope for the mercy of Allah and Allah is Forgiving, Merciful.
KHALIFA: Those who believe, and those who emigrate and strive in the cause of GOD, have deserved GOD’s mercy. GOD is Forgiver, Most Merciful.

২১৮। যারা ঈমান এনেছে এবং যারা নির্বাসনের কষ্ট ভোগ করেছে এবং [সর্বশক্তি দিয়ে] আল্লাহ্‌র রাস্তায় যুদ্ধ করেছে, তাদের জন্য আল্লাহ্‌র অনুগ্রহের আশা আছে। আর আল্লাহ্‌ তো বারে বারে ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।

২১৯। তারা তোমাকে মদ ২৪০ ও জুয়া ২৪১ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বল, ‘এগুলির মধ্যে রয়েছে মহাপাপ এবং মানুষের জন্য কিছু লাভ। কিন্তু লাভ অপেক্ষা পাপ অনেক বেশী।’ তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে কি পরিমাণ তারা [দানে] ব্যয় করবে? বল, ‘তোমার প্রয়োজনের পরে যা উদ্বৃত্ত থাকে ২৪২।’ এভাবেই আল্লাহ্‌ তাঁর বিধান সমূহ তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট রূপে ব্যক্ত করেন-যেনো তোমরা চিন্তা করতে পার;-

২৪০। ‘Khamr’ শব্দটির অর্থ হচ্ছে ‘গাঁজানো’। হতে পারে তা আঙ্গুরের রস বা মদ। যদি একে বৃহত্তর অর্থে প্রয়োগ করা হয় তবে যে কোনও ‘গাঁজানো’ পানীয় এর জন্য তা প্রযোজ্য। সাধারণ অর্থে যে কোনও মাদক দ্রব্যের জন্য তা প্রযোজ্য।

২৪১। ‘Maisir’ শব্দটির অর্থ হচ্ছে পরিশ্রম ব্যতিরেকে খুব সহজে যা লাভ করা যায়, তাই হচ্ছে জুয়া বা Gambling। জাহিলিয়াতের যুগে নানা রকম জুয়ার প্রচলন ছিল। তার মধ্যে এক প্রকার জুয়া ছিল তীরের সাহায্যে ভাগ্য নির্ধারণ করতো। আজকের যুগে যাকে আমরা লটারী নামে অভিহিত করি। উট জবাই করে তার মাংস বন্টন করার সময়ে জুয়ার আশ্রয় নেয়া হতো, কেউ একাধিক অংশ পেতো, আবার কেউ বঞ্চিত হত। যে নীতির উপরে জুয়াকে নিন্দনীয় করা হয়েছে তা হচ্ছে এমন কিছু লাভ করা যা তার প্রাপ্য নয় অথবা সর্বস্ব হারানো। সমস্ত ব্যাপারটি হচ্ছে সম্পূর্ণ লটারী ও ‘মায়সারের’ অন্তর্ভূক্ত।

২৪২। কারও কোনও জিনিস প্রয়োজনের অতিরিক্ত মজুত করা উচিত নয়। সম্পদ যতটুকু আমাদের প্রয়োজন তা ব্যবহারের অনুমতি আছে কিন্তু বাড়তি সম্পদ জনহিতকর কাজে বা দান-ধ্যানে ব্যয় করবে।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২১৯)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২২০)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২২১)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২২২)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২২৩)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২২৪)

আর নিজেদের শপথের জন্য আল্লাহর নামকে লক্ষ্যবস্তু বানিও না মানুষের সাথে কোন আচার আচরণ থেকে পরহেযগারী থেকে এবং মানুষের মাঝে মীমাংসা করে দেয়া থেকে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে। আল্লাহ সবকিছুই শুনেন ও জানেন।

And make not Allâh’s (Name) an excuse in your oaths against your doing good and acting piously, and making peace among mankind. And Allâh is All-Hearer, All-Knower (i.e. do not swear much and if you have sworn against doing something good then give an expiation for the oath and do good).

وَلاَ تَجْعَلُواْ اللّهَ عُرْضَةً لِّأَيْمَانِكُمْ أَن تَبَرُّواْ وَتَتَّقُواْ وَتُصْلِحُواْ بَيْنَ النَّاسِ وَاللّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

Wala tajAAaloo Allaha AAurdatan li-aymanikum an tabarroo watattaqoo watuslihoo bayna alnnasi waAllahu sameeAAun AAaleemun

YUSUFALI: And make not Allah’s (name) an excuse in your oaths against doing good, or acting rightly, or making peace between persons; for Allah is One Who heareth and knoweth all things.

PICKTHAL: And make not Allah, by your oaths, a hindrance to your being righteous and observing your duty unto Him and making peace among mankind. Allah is Hearer, Knower.

SHAKIR: And make not Allah because of your swearing (by Him) an obstacle to your doing good and guarding (against evil) and making peace between men, and Allah is Hearing, Knowing.

KHALIFA: Do not subject GOD’s name to your casual swearing, that you may appear righteous, pious, or to attain credibility among the people. GOD is Hearer, Knower.

২২৪। তোমরা ভালকাজে, আত্মসংযমে অথবা মানুষের মাঝে শান্তি স্থাপনের ব্যাপারে বিরত থাকার জন্য, আল্লাহ্‌র [নামে] শপথকে অজুহাত করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ সব শোনেন এবং জানেন ২৫১।

২৫১। কুসংস্কারাচ্ছন্ন আরব সমাজে বহুবিধ নিয়মনীতি চালু ছিল যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। সে সময়ে আরবদের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার শপথ বাক্য চালু ছিল যা তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় ব্যবহার করতো। এর মধ্যে কিছু ছিল দাম্পত্য জীবন সম্পর্কিত। তারা শপথ বাক্য উচ্চারণ করতো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য, ভুল বোঝাবুঝি বা সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে।

এই আয়াত ও পরবর্তী তিন আয়াতে এদের সম্পর্কেই বলা হয়েছে। আয়াতে [২:২২৪] এর বক্তব্য সার্বজনীন; বলা হয়েছে সাধারণ লোকদের সম্পর্কে যারা আল্লাহ্‌র নামে শপথ করে সৎকর্ম, আত্মসংযম ও মানুষের মাঝে শান্তি স্থাপন থেকে বিরত থাকে। যদি এই সংকল্প হয়ে শুধুমাত্র রাগের বশে এবং তা যদি অন্তরের কথা না হয়, তবে আল্লাহ্‌র আশ্বাস, তিনি সর্বজ্ঞ, তিনি সব শোনেন, সব জানেন। তিনি তো চান বান্দার অন্তরের সঠিক আচরণ। বান্দার আচরণে অবাধ্যতা ও বাকচাতুর্য্য, ছলনা, আল্লাহ্‌র কাম্য নয়।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২২৫)

তোমাদের নিরর্থক শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে ধরবেন না, কিন্তু সেসব কসমের ব্যাপারে ধরবেন, তোমাদের মন যার প্রতিজ্ঞা করেছে। আর আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাকারী ধৈর্য্যশীল।

Allâh will not call you to account for that which is unintentional in your oaths, but He will call you to account for that which your hearts have earned. And Allâh is Oft-Forgiving, Most-Forbearing.

لاَّ يُؤَاخِذُكُمُ اللّهُ بِاللَّغْوِ فِيَ أَيْمَانِكُمْ وَلَكِن يُؤَاخِذُكُم بِمَا كَسَبَتْ قُلُوبُكُمْ وَاللّهُ غَفُورٌ حَلِيمٌ

La yu-akhithukumu Allahu biallaghwi fee aymanikum walakin yu-akhithukum bima kasabat quloobukum waAllahu ghafoorun haleemun

YUSUFALI: Allah will not call you to account for thoughtlessness in your oaths, but for the intention in your hearts; and He is Oft-forgiving, Most Forbearing.

PICKTHAL: Allah will not take you to task for that which is unintentional in your oaths. But He will take you to task for that which your hearts have garnered. Allah is Forgiving, Clement.

SHAKIR: Allah does not call you to account for what is vain in your oaths, but He will call you to account for what your hearts have earned, and Allah is Forgiving, Forbearing.

KHALIFA: GOD does not hold you responsible for the mere utterance of oaths; He holds you responsible for your innermost intentions. GOD is Forgiver, Clement.

২২৫। তোমাদের অর্থহীন শপথের জন্য আল্লাহ্‌ তোমাদের দায়ী করবেন না। কিন্তু তোমাদের অন্তরের সংকল্পের [নিয়তের] জন্য [দায়ী করবেন] ২৫২। এবং তিনি বারে বারে ক্ষমাশীল ও ধৈর্য্যশীল।

২৫২। এখানে বলা হয়েছে, যে শপথের পিছনে কোন উদ্দেশ্য নাই; রাগ, অভিমান বা আবেগ দ্বারা পরিচালিত কোনও শপথের জন্য আল্লাহ্‌ বান্দাকে দায়ী করবেন না। আল্লাহ্‌ বান্দাকে তার নিয়ত দ্বারা বিচার করবেন। যদি শপথ হয় তার অন্তরের ইচ্ছা তবেই আল্লাহ্‌র কাছে তা বিচার্য্য। উদ্দেশ্যবিহীন শপথের জন্য প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ কিছু দান করা প্রয়োজন।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২২৬)

যারা নিজেদের স্ত্রীদের নিকট গমন করবেনা বলে কসম খেয়ে বসে তাদের জন্য চার মাসের অবকাশ রয়েছে অতঃপর যদি পারস্পরিক মিল-মিশ করে নেয়, তবে আল্লাহ ক্ষামাকারী দয়ালু।

Those who take an oath not to have sexual relation with their wives must wait four months, then if they return (change their idea in this period), verily, Allâh is Oft-Forgiving, Most Merciful.

لِّلَّذِينَ يُؤْلُونَ مِن نِّسَآئِهِمْ تَرَبُّصُ أَرْبَعَةِ أَشْهُرٍ فَإِنْ فَآؤُوا فَإِنَّ اللّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

Lillatheena yu/loona min nisa-ihim tarabbusu arbaAAati ashhurin fa-in faoo fa-inna Allaha ghafoorun raheemun

YUSUFALI: For those who take an oath for abstention from their wives, a waiting for four months is ordained; if then they return, Allah is Oft-forgiving, Most Merciful.
PICKTHAL: Those who forswear their wives must wait four months; then, if they change their mind, lo! Allah is Forgiving, Merciful.

SHAKIR: Those who swear that they will not go in to their wives should wait four months; so if they go back, then Allah is surely Forgiving, Merciful.

KHALIFA: Those who intend to divorce their wives shall wait four months (cooling off); if they change their minds and reconcile, then GOD is Forgiver, Merciful.

২২৬। যারা স্ত্রীর সাথে মিলিত না হওয়ার জন্য শপথ করে, তারা চার মাস অপেক্ষা করবে। অতঃপর যদি তারা ফিরে আসে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ বারে বারে ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।

২২৭। কিন্তু যদি তারা তালাকের ব্যাপারে দৃঢ় মনোভাব সম্পন্ন হয়, তবে আল্লাহ্‌ সব শোনেন এবং সব জানেন ২৫৩।

২৫৩। আয়াত [২:২২৫, ২২৬, ২২৭] তিনটি আয়াত [২:২২৪] এর সাথে এক সঙ্গে পাঠ করা প্রয়োজন। যদিও আয়াত [২:২২৪] এর বক্তব্য সার্বজনীন তবুও এর সাথে পরের তিনটি আয়াতকে সম্পর্কযুক্ত করা হয়েছে।

সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগে আরবেরা মেয়েদের উপর বিভিন্নভাবে অত্যাচার করতো। এর একটা অন্যতম উপায় ছিল বিয়ের মাধ্যমে, যা ইসলাম রহিত করে। ইসলাম পূর্ব আরবের লোকেরা রাগের বশে বা খেয়াল খুশীমত আল্লাহ্‌র নামে শপথ করে বলতো যে তারা তাদের স্ত্রীদের নিকট গমন করবে না। এর ফলে মহিলাদের কোনও দাম্পত্য জীবন থাকতো না, কিন্তু তাকে অন্য কোথাও বিয়ে করার অধিকারও দেওয়া হতো না। ফলে মেয়েটির জীবন নষ্ট হয়ে যেতো। এর কেউ প্রতিবাদ করলে বলা হতো যে এটা আল্লাহ্‌র নামে শপথ। সুতরাং এটা মানতে বাধ্য।

ইসলামের বিধান হচ্ছে যদি ঐ শপথ ক্রোধের বশবর্তী হয়ে বা হঠাৎ খেয়ালের বশে করা হয়, কিন্তু সত্যিকারের নিয়ত না হয়; তবে সেই উদ্দেশ্যবিহীন শপথের কোনও মূল্য নাই আল্লাহ্‌র কাছে। উদ্দেশ্য বিহীন শপথের জন্য কোনও মেয়ের জীবন নষ্ট হয়ে যাওয়া ইসলাম অনুমোদন করে না। শপথ হতে হবে আন্তরিক যা সে সত্যিকারভাবে করতে চায় বা বিশ্বাস করে। আল্লাহ্‌ বিচার করবেন নিয়ত দ্বারা, চিন্তাবিহীন, উদ্দেশ্যবিহীন শপথ দ্বারা নয়। যদি কেউ সত্যিকারভাবে স্ত্রীর সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক ছেদ করতে চায়, তবে ইসলামের মতে তাকে চার মাস কাল অপেক্ষা করতে হবে। এর মধ্যে যদি তারা পরস্পর মিলিত হতে চায় তবে তা গ্রহণযোগ্য। চার মাস অপেক্ষার পরেও যদি মতের পরিবর্তন না হয় তবে তা তালাক হয়ে যাবে।

আমাদের দেশে গ্রামে কোথাও কোথাও এখনও রাগের বশবর্তী হয়ে তালাক উচ্চারণ করলেই মোল্লাদের বিচারে তা তালাক হয়ে যায়। স্বামী বা স্ত্রীকে এই চার মাসের সুযোগ দেওয়া হয় না বা আল্লাহ্‌ বলেছেন উদ্দেশ্য বিহীন নিয়তহীন অন্তরের শপথ আল্লাহ্‌র কাছে গ্রহণযোগ্য নয় আয়াত [২:২২৪] কোরআনের এই আদেশকে তারা লঙ্ঘন করে ধর্মের নামে।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২২৭)

আর যদি বর্জন করার সংকল্প করে নেয়, তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ শ্রবণকারী ও জ্ঞানী।
And if they decide upon divorce, then Allâh is All-Hearer, All-Knower.

وَإِنْ عَزَمُواْ الطَّلاَقَ فَإِنَّ اللّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
Wa-in AAazamoo alttalaqa fa-inna Allaha sameeAAun AAaleemun

YUSUFALI: But if their intention is firm for divorce, Allah heareth and knoweth all things.

PICKTHAL: And if they decide upon divorce (let them remember that) Allah is Hearer, Knower.

SHAKIR: And if they have resolved on a divorce, then Allah is surely Hearing, Knowing.

KHALIFA: If they go through with the divorce, then GOD is Hearer, Knower.

২২৬। যারা স্ত্রীর সাথে মিলিত না হওয়ার জন্য শপথ করে, তারা চার মাস অপেক্ষা করবে। অতঃপর যদি তারা ফিরে আসে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ বারে বারে ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।

২২৭। কিন্তু যদি তারা তালাকের ব্যাপারে দৃঢ় মনোভাব সম্পন্ন হয়, তবে আল্লাহ্‌ সব শোনেন এবং সব জানেন ২৫৩।

২৫৩। আয়াত [২:২২৫, ২২৬, ২২৭] তিনটি আয়াত [২:২২৪] এর সাথে এক সঙ্গে পাঠ করা প্রয়োজন। যদিও আয়াত [২:২২৪] এর বক্তব্য সার্বজনীন তবুও এর সাথে পরের তিনটি আয়াতকে সম্পর্কযুক্ত করা হয়েছে।

সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগে আরবেরা মেয়েদের উপর বিভিন্নভাবে অত্যাচার করতো। এর একটা অন্যতম উপায় ছিল বিয়ের মাধ্যমে, যা ইসলাম রহিত করে। ইসলাম পূর্ব আরবের লোকেরা রাগের বশে বা খেয়াল খুশীমত আল্লাহ্‌র নামে শপথ করে বলতো যে তারা তাদের স্ত্রীদের নিকট গমন করবে না। এর ফলে মহিলাদের কোনও দাম্পত্য জীবন থাকতো না, কিন্তু তাকে অন্য কোথাও বিয়ে করার অধিকারও দেওয়া হতো না। ফলে মেয়েটির জীবন নষ্ট হয়ে যেতো। এর কেউ প্রতিবাদ করলে বলা হতো যে এটা আল্লাহ্‌র নামে শপথ।

সুতরাং এটা মানতে বাধ্য। ইসলামের বিধান হচ্ছে যদি ঐ শপথ ক্রোধের বশবর্তী হয়ে বা হঠাৎ খেয়ালের বশে করা হয়, কিন্তু সত্যিকারের নিয়ত না হয়; তবে সেই উদ্দেশ্যবিহীন শপথের কোনও মূল্য নাই আল্লাহ্‌র কাছে। উদ্দেশ্য বিহীন শপথের জন্য কোনও মেয়ের জীবন নষ্ট হয়ে যাওয়া ইসলাম অনুমোদন করে না। শপথ হতে হবে আন্তরিক যা সে সত্যিকারভাবে করতে চায় বা বিশ্বাস করে। আল্লাহ্‌ বিচার করবেন নিয়ত দ্বারা, চিন্তাবিহীন, উদ্দেশ্যবিহীন শপথ দ্বারা নয়।

যদি কেউ সত্যিকারভাবে স্ত্রীর সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক ছেদ করতে চায়, তবে ইসলামের মতে তাকে চার মাস কাল অপেক্ষা করতে হবে। এর মধ্যে যদি তারা পরস্পর মিলিত হতে চায় তবে তা গ্রহণযোগ্য। চার মাস অপেক্ষার পরেও যদি মতের পরিবর্তন না হয় তবে তা তালাক হয়ে যাবে।

আমাদের দেশে গ্রামে কোথাও কোথাও এখনও রাগের বশবর্তী হয়ে তালাক উচ্চারণ করলেই মোল্লাদের বিচারে তা তালাক হয়ে যায়। স্বামী বা স্ত্রীকে এই চার মাসের সুযোগ দেওয়া হয় না বা আল্লাহ্‌ বলেছেন উদ্দেশ্য বিহীন নিয়তহীন অন্তরের শপথ আল্লাহ্‌র কাছে গ্রহণযোগ্য নয় আয়াত [২:২২৪] কোরআনের এই আদেশকে তারা লঙ্ঘন করে ধর্মের নামে।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২২৮)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি ।(আয়াত ২২৯)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৩০)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৩১)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৩২)

আর যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়ে দাও এবং তারপর তারাও নির্ধারিত ইদ্দত পূর্ন করতে থাকে, তখন তাদেরকে পূর্ব স্বামীদের সাথে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে নিয়মানুযায়ী বিয়ে করতে বাধাদান করো না। এ উপদেশ তাকেই দেয়া হচ্ছে, যে আল্লাহ ও কেয়ামত দিনের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে। এর মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে একান্ত পরিশুদ্ধতা ও অনেক পবিত্রতা। আর আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না।

And when you have divorced women and they have fulfilled the term of their prescribed period, do not prevent them from marrying their (former) husbands, if they mutually agree on reasonable basis. This (instruction) is an admonition for him among you who believes in Allâh and the Last Day. That is more virtuous and purer for you. Allâh knows and you know not.

وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاء فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ إِذَا تَرَاضَوْاْ بَيْنَهُم بِالْمَعْرُوفِ ذَلِكَ يُوعَظُ بِهِ مَن كَانَ مِنكُمْ يُؤْمِنُ بِاللّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكُمْ أَزْكَى لَكُمْ وَأَطْهَرُ وَاللّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لاَ تَعْلَمُونَ

Wa-itha tallaqtumu alnnisaa fabalaghna ajalahunna fala taAAduloohunna an yankihna azwajahunna itha taradaw baynahum bialmaAAroofi thalika yooAAathu bihi man kana minkum yu/minu biAllahi waalyawmi al-akhiri thalikum azka lakum waatharu waAllahu yaAAlamu waantum la taAAlamoona

YUSUFALI: When ye divorce women, and they fulfil the term of their (‘Iddat), do not prevent them from marrying their (former) husbands, if they mutually agree on equitable terms. This instruction is for all amongst you, who believe in Allah and the Last Day. That is (the course Making for) most virtue and purity amongst you and Allah knows, and ye know not.

PICKTHAL: And when ye have divorced women and they reach their term, place not difficulties in the way of their marrying their husbands if it is agreed between them in kindness. This is an admonition for him among you who believeth in Allah and the Last Day. That is more virtuous for you, and cleaner. Allah knoweth; ye know not.

SHAKIR: And when you have divorced women and they have ended– their term (of waiting), then do not prevent them from marrying their husbands when they agree among themselves in a lawful manner; with this is admonished he among you who believes in Allah and the last day, this is more profitable and purer for you; and Allah knows while you do not know.

KHALIFA: If you divorce the women, once they fulfill their interim, do not prevent them from remarrying their husbands, if they reconcile amicably. This shall be heeded by those among you who believe in GOD and the Last Day. This is purer for you, and more righteous. GOD knows, while you do not know.

রুকু – ৩০

২৩২। যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দাও, এবং তারা তাদের ইদ্দত কাল পূর্ণ করে, তাদের [পূর্ব] স্বামীদের বিয়ে করতে তাদের বাঁধা দিও না ২৬৫, যদি তারা পরস্পর ন্যায় সঙ্গতভাবে সম্মত থাকে। এই উপদেশ তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ্‌তে এবং শেষ বিচারের দিনে বিশ্বাস রাখে তাদের সকলের জন্য। এটাই হলো তোমাদের মধ্যে সর্বোচ্চ পূণ্য এবং পবিত্রতা [তৈরির গতিপথ]। এবং আল্লাহ্‌ তা জানেন তোমরা জান না।

২৬৫। বিবাহ বিচ্ছেদ ইসলামের চোখে অত্যন্ত ঘৃণ্য ব্যাপার। কারণ দাম্পত্য জীবন হচ্ছে সমাজের মূলভিত্তি। এই ভিত্তি দুর্বল হলে পুরো সমাজটাই দুর্বল হয়ে যাবে। সুতরাং বিবাহের বন্ধনকে বহাল রাখার ব্যাপারে ইসলামী জীবন ব্যবস্থা অত্যন্ত যত্নশীল। কিন্তু তাই বলে এমন কথা বলে না যে, স্নেহ, মায়া, ভালবাসা ও সম্মান ছাড়া যে বৈবাহিক জীবন তা যাপন করতেই হবে। তবে ভালবাসা ও সম্মানের উপর ভিত্তি করে যদি সমঝোতা হয় তবে সে বিয়ে টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে ইসলাম ধর্মে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। রাসূলের জীবনকালে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই আয়াত নাজেল হয়। তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে পুনঃর্বিবাহে বাঁধা দেওয়া হারাম।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৩৩)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি ।
সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি ।

সূরা বাকারা (আয়াত ২৩৪)

আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে এবং নিজেদের স্ত্রীদেরকে ছেড়ে যাবে, তখন সে স্ত্রীদের কর্তব্য হলো নিজেকে চার মাস দশ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করিয়ে রাখা। তারপর যখন ইদ্দত পূর্ণ করে নেবে, তখন নিজের ব্যাপারে নীতি সঙ্গত ব্যবস্থা নিলে কোন পাপ নেই। আর তোমাদের যাবতীয় কাজের ব্যাপারেই আল্লাহর অবগতি রয়েছে।

And those of you who die and leave wives behind them, they (the wives) shall wait (as regards their marriage) for four months and ten days, then when they have fulfilled their term, there is no sin on you if they (the wives) dispose of themselves in a just and honourable manner (i.e. they can marry). And Allâh is Well-Acquainted with what you do.

وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا فَعَلْنَ فِي أَنفُسِهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَاللّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ

Waallatheena yutawaffawna minkum wayatharoona azwajan yatarabbasna bi-anfusihinna arbaAAata ashhurin waAAashran fa-itha balaghna ajalahunna fala junaha AAalaykum feema faAAalna fee anfusihinna bialmaAAroofi waAllahu bima taAAmaloona khabeerun

YUSUFALI: If any of you die and leave widows behind, they shall wait concerning themselves four months and ten days: When they have fulfilled their term, there is no blame on you if they dispose of themselves in a just and reasonable manner. And Allah is well acquainted with what ye do.

PICKTHAL: Such of you as die and leave behind them wives, they (the wives) shall wait, keeping themselves apart, four months and ten days. And when they reach the term (prescribed for them) then there is no sin for you in aught that they may do with themselves in decency. Allah is informed of what ye do.

SHAKIR: And (as for) those of you who die and leave wives behind, they should keep themselves in waiting for four months and ten days; then when they have fully attained their term, there is no blame on you for what they do for themselves in a lawful manner; and Allah is aware of what you do.

KHALIFA: Those who die and leave wives, their widows shall wait four months and ten days (before they remarry). Once they fulfill their interim, you commit no error by letting them do whatever righteous matters they wish to do. GOD is fully Cognizant of everything you do.

২৩৪। তোমাদের মধ্য যারা বিধবা রেখে মৃত্যুবরণ কর, তাদের স্ত্রীরা চারিমাস দশদিন অপেক্ষা করবে ২৬৭। যখন ইদ্দত কাল পূর্ণ করবে, তখন নিয়ম অনুযায়ী তারা নিজেদের জন্য যা করবে তাতে তোমাদের কোন অপরাধ নাই। তোমরা যা কর আল্লাহ্‌ সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।

২৬৭। বিধবাদের জন্য ইদ্দত কাল ৪ মাস ১০ দিন। বিবাহ বিচ্ছেদ হলে ইদ্দত কাল ৩ মাস এবং বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে কিন্তু কুমারী তার ইদ্দত কালের প্রয়োজন নাই [৩৩:৪৯] আয়াত।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৩৫)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৩৬)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৩৭)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৩৮)

সমস্ত নামাযের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাযের ব্যাপারে। আর আল্লাহর সামনে একান্ত আদবের সাথে দাঁড়াও।
Guard strictly (five obligatory) As­Salawât (the prayers) especially the middle Salât (i.e. the best prayer ­ ’Asr). And stand before Allâh with obedience [and do not speak to others during the Salât (prayers)].

حَافِظُواْ عَلَى الصَّلَوَاتِ والصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَقُومُواْ لِلّهِ قَانِتِينَ
Hafithoo AAala alssalawati waalssalati alwusta waqoomoo lillahi qaniteena

YUSUFALI: Guard strictly your (habit of) prayers, especially the Middle Prayer; and stand before Allah in a devout (frame of mind).

PICKTHAL: Be guardians of your prayers, and of the midmost prayer, and stand up with devotion to Allah.

SHAKIR: Attend constantly to prayers and to the middle prayer and stand up truly obedient to Allah.

KHALIFA: You shall consistently observe the Contact Prayers, especially the middle prayer, and devote yourselves totally to GOD.

২৩৮। সালাতের [অভ্যাসকে] কঠোরভাবে রক্ষা করবে ২৭১, বিশেষভাবে মধ্যবর্তী সালাতের এবং [অন্তরে] ভক্তি সহকারে আল্লাহ্‌র সামনে দাঁড়াবে।

২৭১। আগে ও পরে সালাত সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে নামাজের হুকুম বর্ণনা করার ইঙ্গিত করে যে, আল্লাহ্‌র আনুগত্যই হচ্ছে প্রকৃত উদ্দেশ্য। সামাজিকতা ও বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের দ্বারা অন্যান্য কল্যাণ লাভ ছাড়াও সেই লক্ষ্যের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন একটা স্বতন্ত্র উদ্দেশ্য। এখানে সর্ব প্রকার সালাতের বিশেষত আসরের সালাতের প্রতি যত্নবান হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে দাঁড়াতে বলা হয়েছে।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৩৯)

অতঃপর যদি তোমাদের কারো ব্যাপারে ভয় থাকে, তাহলে পদচারী অবস্থাতেই পড়ে নাও অথবা সওয়ারীর উপরে। তারপর যখন তোমরা নিরাপত্তা পাবে, তখন আল্লাহকে স্মরণ কর, যেভাবে তোমাদের শেখানো হয়েছে, যা তোমরা ইতিপূর্বে জানতে না।
And if you fear (an enemy), perfrom Salât (pray) on foot or riding. And when you are in safety, offer the Salât (prayer) in the manner He has taught you, which you knew not (before).

فَإنْ خِفْتُمْ فَرِجَالاً أَوْ رُكْبَانًا فَإِذَا أَمِنتُمْ فَاذْكُرُواْ اللّهَ كَمَا عَلَّمَكُم مَّا لَمْ تَكُونُواْ تَعْلَمُونَ
Fa-in khiftum farijalan aw rukbanan fa-itha amintum faothkuroo Allaha kama AAallamakum ma lam takoonoo taAAlamoona

YUSUFALI: If ye fear (an enemy), pray on foot, or riding, (as may be most convenient), but when ye are in security, celebrate Allah’s praises in the manner He has taught you, which ye knew not (before).

PICKTHAL: And if ye go in fear, then (pray) standing or on horseback. And when ye are again in safety, remember Allah, as He hath taught you that which (heretofore) ye knew not.

SHAKIR: But if you are in danger, then (say your prayers) on foot or on horseback; and when you are secure, then remember Allah, as. He has taught you what you did not know.

KHALIFA: Under unusual circumstances, you may pray while walking or riding. Once you are safe, you shall commemorate GOD as He taught you what you never knew.

২৩৯। যদি তোমরা [শত্রুর] আশঙ্কা কর ২৭২ তবে দাঁড়িয়ে বা আরোহী অবস্থায় [যেটা বেশী সুবিধাজনক মনে হয়] সালাত আদায় করবে। কিন্তু যখন তোমরা নিরাপদ হবে, তখন আল্লাহ্‌কে স্মরণ করবে যেভাবে তিনি তোমাদের শিক্ষা দিয়েছেন, যা তোমরা [পূর্বে] জানতে না।

২৭২। আয়াত ২৩৮-২৩৯ সমজাতীয়, দুটিই বিপদের সময় আল্লাহ্‌কে স্মরণ করার পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে। ৪:১০১-১০৩ এ এটি আরো বিস্তারিত ভাবে বর্ণিত হয়েছে।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৪০)

আর যখন তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে তখন স্ত্রীদের ঘর থেকে বের না করে এক বছর পর্যন্ত তাদের খরচের ব্যাপারে ওসিয়ত করে যাবে। অতঃপর যদি সে স্ত্রীরা নিজে থেকে বেরিয়ে যায়, তাহলে সে নারী যদি নিজের ব্যাপারে কোন উত্তম ব্যবস্থা করে, তবে তাতে তোমাদের উপর কোন পাপ নেই। আর আল্লাহ হচ্ছেন পরাক্রমশালী বিজ্ঞতা সম্পন্ন।

And those of you who die and leave behind wives should bequeath for their wives a year’s maintenance and residence without turning them out, but if they (wives) leave, there is no sin on you for that which they do of themselves, provided it is honourable (e.g. lawful marriage). And Allâh is All-Mighty, All-Wise. [The order of this Verse has been cancelled (abrogated) by Verse 4:12].

وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا وَصِيَّةً لِّأَزْوَاجِهِم مَّتَاعًا إِلَى الْحَوْلِ غَيْرَ إِخْرَاجٍ فَإِنْ خَرَجْنَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِي مَا فَعَلْنَ فِيَ أَنفُسِهِنَّ مِن مَّعْرُوفٍ وَاللّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ

Waallatheena yutawaffawna minkum wayatharoona azwajan wasiyyatan li-azwajihim mataAAan ila alhawli ghayra ikhrajin fa-in kharajna fala junaha AAalaykum fee ma faAAalna fee anfusihinna min maAAroofin waAllahu AAazeezun hakeemun

YUSUFALI: Those of you who die and leave widows should bequeath for their widows a year’s maintenance and residence; but if they leave (The residence), there is no blame on you for what they do with themselves, provided it is reasonable. And Allah is Exalted in Power, Wise.

PICKTHAL: (In the case of) those of you who are about to die and leave behind them wives, they should bequeath unto their wives a provision for the year without turning them out, but if they go out (of their own accord) there is no sin for you in that which they do of themselves within their rights. Allah is Mighty, Wise.

SHAKIR: And those of you who die and leave wives behind, (make) a bequest in favor of their wives of maintenance for a year without turning (them) out, then if they themselves go away, there is no blame on you for what they do of lawful deeds by themselves, and Allah is Mighty, Wise.

KHALIFA: Those who die and leave wives, a will shall provide their wives with support for a year, provided they stay within the same household. If they leave, you commit no sin by letting them do whatever they wish, so long as righteousness is maintained. GOD is Almighty, Most Wise.

২৪০। তোমাদের মধ্যে যারা বিধবা স্ত্রী রেখে মারা যায়, তারা যেনো তাদের বিধবাদের জন্য এক বছরের থাকা ও খাওয়ার বন্দোবস্ত করে যায় ২৭৩। কিন্তু যদি তারা [গৃহ] ত্যাগ করে যায় এই শর্তে যে তারা নিজেদের জন্য যা করবে তা ন্যায়সঙ্গত, তাহলে তোমাদের কোন অপরাধ নাই। আল্লাহ্‌ অসীম ক্ষমতাধর, প্রজ্ঞাময়।

২৭৩। এখানে বিভিন্ন তফসীরকারদের মধ্যে মত পার্থক্য আছে। অনেকের মতে [৪:১২] দ্বারা বিধবাকে সম্পত্তির অংশ প্রদান করা হয় উত্তরাধিকারী সূত্রে। সুতরাং বিধবার এক বছরের ভরণ পোষণের যে আয়াতটি এখানে নাজিল হয়েছিল তা উক্ত আয়াত দ্বারা রহিত হয়ে গেলো। কিন্তু মওলানা ইউসুফ আলী তা মনে করেন না। উক্ত আয়াতটি সম্পত্তির ব্যাপারে প্রযোজ্য। কিন্তু বিধবা যদি ইচ্ছা করে এক বছরের পূর্বেই স্বামী গৃহ ত্যাগ করতে পারে। সেক্ষেত্রে তার ভরণ পোষণের দায়িত্ব রহিত হয়ে যায়।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৪১)

আর তালাকপ্রাপ্তা নারীদের জন্য প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী খরচ দেয়া পরহেযগারদের উপর কর্তব্য।
And for divorced women, maintenance (should be provided) on reasonable (scale). This is a duty on Al-Muttaqûn (the pious – see V.2:2).

وَلِلْمُطَلَّقَاتِ مَتَاعٌ بِالْمَعْرُوفِ حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِينَ
Walilmutallaqati mataAAun bialmaAAroofi haqqan AAala almuttaqeena

YUSUFALI: For divorced women Maintenance (should be provided) on a reasonable (scale). This is a duty on the righteous.

PICKTHAL: For divorced women a provision in kindness: a duty for those who ward off (evil).

SHAKIR: And for the divorced women (too) provision (must be made) according to usage; (this is) a duty on those who guard (against evil).

KHALIFA: The divorcees also shall be provided for, equitably. This is a duty upon the righteous.

২৪১। তালাকপ্রাপ্ত নারীদের ন্যায়সঙ্গত [মানে] ভরণ পোষণ দেবে। পূণ্যাত্মাদের জন্য এটা কর্তব্য।

২৪২। এভাবেই আল্লাহ্‌ তাঁর বিধান সমূহ তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট করেছেনে যেনো তোমরা বুঝতে পার।

রুকু – ৩২

২৪৩। তুমি কি তাদের দেখ নাই, যারা মৃত্যুভয়ে তাদের গৃহ পরিত্যাগ করেছিলো, যদিও তারা [সংখ্যায়] ছিলো হাজারে হাজার? আল্লাহ্‌ তাদের বলেছিলেন, ‘তোমাদের মৃত্যু হোক’। অতঃপর আল্লাহ্‌ তাদের জীবিত করেছিলেন ২৭৪। মানুষের প্রতি আল্লাহ্‌ অনুগ্রহে পূর্ণ; কিন্তু তাদের অধিকাংশই অকৃতজ্ঞ।

২৭৪। এই আয়াতে আমরা আবার জিহাদের কথায় ফিরে এলাম যা পূর্বে [২:২১৪-২১৬] বর্ণনা করা হয়েছে। জিহাদ সম্পর্কে আমাদের কোনও রকম ভ্রান্ত ধারণা থাকা উচিত নয়। একথা সর্বদা বিশ্বাস রাখা কর্তব্য যে জীবন ও মৃত্যুর মালিক একমাত্র আল্লাহ্‌। যদি আমরা আমাদের ঈমান বা বিশ্বাসের জন্য যুদ্ধ করতে প্রস্তুত না থাকি; যদি আমরা আমাদের বিশ্বাসের অস্তিত্ব রক্ষা করার জন্য আমাদের সমস্ত বিষয় সম্পত্তি, সহায়-সম্বল, আমাদের সর্ব প্রচেষ্টা নিয়োগ না করি, তবে অচিরেই আমাদের সযত্নে রক্ষিত অর্থ-সম্পদ, সহায়-সম্বল শত্রু কবলিত হয়ে যাবে।

জীবন ও মৃত্যুর মালিক আল্লাহ্‌। ভীতুরা মনে করে সযত্নে রক্ষা করায় তারা হয়তো মৃত্যুকে এড়াতে সক্ষম হবে, কিম্বা শত্রুর কাছে আত্ম নিবেদন করে নিজেকে এবং অর্থ সম্পদ রক্ষা করতে সক্ষম হবে। কিন্তু ইতিহাসই এর প্রমাণ বহন করে। যারা মৃত্যুকে বা ক্ষতিকে এড়ানোর জন্য ধর্ম যুদ্ধকে পরিহার করে এবং শত্রুর কাছে ভীতুর ন্যায় আত্মসমর্পন করে, তারা এর কোনটা থেকেই রেহাই পায় না। সংখ্যায় অধিক থাকলেও তাদের ভাগ্যে থাকে অপমানজনক মৃত্যু। এই উপদেশটি সর্বকালের এবং সর্বযুগের জন্য প্রযোজ্য। অবশ্য কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে আয়াতটি নাজেল হয় তফসীরকারদের মধ্যে মতভেদ আছে। কিন্তু এর যে উপদেশ বা শিক্ষা তা সার্বজনীন।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৪২)

এভাবেই আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্য স্বীয় নির্দেশ বর্ণনা করেন যাতে তোমরা তা বুঝতে পার।
Thus Allâh makes clear His Ayât (Laws) to you, in order that you may understand.

كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ
Kathalika yubayyinu Allahu lakum ayatihi laAAallakum taAAqiloona

YUSUFALI: Thus doth Allah Make clear His Signs to you: In order that ye may understand.

PICKTHAL: Thus Allah expoundeth unto you His revelations so that ye may understand.

SHAKIR: Allah thus makes clear to you His communications that you may understand.

KHALIFA: GOD thus explains His revelations for you, that you may understand.

২৪১। তালাকপ্রাপ্ত নারীদের ন্যায়সঙ্গত [মানে] ভরণ পোষণ দেবে। পূণ্যাত্মাদের জন্য এটা কর্তব্য।

২৪২। এভাবেই আল্লাহ্‌ তাঁর বিধান সমূহ তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট করেছেনে যেনো তোমরা বুঝতে পার।

রুকু – ৩২

২৪৩। তুমি কি তাদের দেখ নাই, যারা মৃত্যুভয়ে তাদের গৃহ পরিত্যাগ করেছিলো, যদিও তারা [সংখ্যায়] ছিলো হাজারে হাজার? আল্লাহ্‌ তাদের বলেছিলেন, ‘তোমাদের মৃত্যু হোক’। অতঃপর আল্লাহ্‌ তাদের জীবিত করেছিলেন ২৭৪। মানুষের প্রতি আল্লাহ্‌ অনুগ্রহে পূর্ণ; কিন্তু তাদের অধিকাংশই অকৃতজ্ঞ।

২৭৪। এই আয়াতে আমরা আবার জিহাদের কথায় ফিরে এলাম যা পূর্বে [২:২১৪-২১৬] বর্ণনা করা হয়েছে। জিহাদ সম্পর্কে আমাদের কোনও রকম ভ্রান্ত ধারণা থাকা উচিত নয়। একথা সর্বদা বিশ্বাস রাখা কর্তব্য যে জীবন ও মৃত্যুর মালিক একমাত্র আল্লাহ্‌। যদি আমরা আমাদের ঈমান বা বিশ্বাসের জন্য যুদ্ধ করতে প্রস্তুত না থাকি; যদি আমরা আমাদের বিশ্বাসের অস্তিত্ব রক্ষা করার জন্য আমাদের সমস্ত বিষয় সম্পত্তি, সহায়-সম্বল, আমাদের সর্ব প্রচেষ্টা নিয়োগ না করি, তবে অচিরেই আমাদের সযত্নে রক্ষিত অর্থ-সম্পদ, সহায়-সম্বল শত্রু কবলিত হয়ে যাবে।

জীবন ও মৃত্যুর মালিক আল্লাহ্‌। ভীতুরা মনে করে সযত্নে রক্ষা করায় তারা হয়তো মৃত্যুকে এড়াতে সক্ষম হবে, কিম্বা শত্রুর কাছে আত্ম নিবেদন করে নিজেকে এবং অর্থ সম্পদ রক্ষা করতে সক্ষম হবে। কিন্তু ইতিহাসই এর প্রমাণ বহন করে। যারা মৃত্যুকে বা ক্ষতিকে এড়ানোর জন্য ধর্ম যুদ্ধকে পরিহার করে এবং শত্রুর কাছে ভীতুর ন্যায় আত্মসমর্পন করে, তারা এর কোনটা থেকেই রেহাই পায় না। সংখ্যায় অধিক থাকলেও তাদের ভাগ্যে থাকে অপমানজনক মৃত্যু। এই উপদেশটি সর্বকালের এবং সর্বযুগের জন্য প্রযোজ্য। অবশ্য কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে আয়াতটি নাজেল হয় তফসীরকারদের মধ্যে মতভেদ আছে। কিন্তু এর যে উপদেশ বা শিক্ষা তা সার্বজনীন।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৪৩)

তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা মৃত্যুর ভয়ে নিজেদের ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন? অথচ তারা ছিল হাজার হাজার। তারপর আল্লাহ তাদেরকে বললেন মরে যাও। তারপর তাদেরকে জীবিত করে দিলেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের উপর অনুগ্রহকারী। কিন্তু অধিকাংশ লোক শুকরিয়া প্রকাশ করে না।Did you (O Muhammad SAW) not think of those who went forth from their homes in thousands, fearing death? Allâh said to them, ”Die”. And then He restored them to life. Truly, Allâh is full of Bounty to mankind, but most men thank not.

أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ خَرَجُواْ مِن دِيَارِهِمْ وَهُمْ أُلُوفٌ حَذَرَ الْمَوْتِ فَقَالَ لَهُمُ اللّهُ مُوتُواْ ثُمَّ أَحْيَاهُمْ إِنَّ اللّهَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى النَّاسِ وَلَـكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لاَ يَشْكُرُونَAlam tara ila allatheena kharajoo min diyarihim wahum oloofun hathara almawti faqala lahumu Allahu mootoo thumma ahyahum inna Allaha lathoo fadlin AAala alnnasi walakinna akthara alnnasi la yashkuroona

YUSUFALI: Didst thou not Turn by vision to those who abandoned their homes, though they were thousands (In number), for fear of death? Allah said to them: “Die”: Then He restored them to life. For Allah is full of bounty to mankind, but Most of them are ungrateful.PICKTHAL: Bethink thee (O Muhammad) of those of old, who went forth from their habitations in their thousands, fearing death, and Allah said unto them: Die; and then He brought them back to life. Lo! Allah is a Lord of Kindness to mankind, but most of mankind give not thanks.

SHAKIR: Have you not considered those who went forth from their homes, for fear of death, and they were thousands, then Allah said to them, Die; again He gave them life; most surely Allah is Gracious to people, but most people are not grateful.

KHALIFA: Have you noted those who fled their homes – though they were in the thousands – fearing death? GOD said to them, “Die,” then revived them. GOD showers His grace upon the people, but most people are unappreciative.

২৪১। তালাকপ্রাপ্ত নারীদের ন্যায়সঙ্গত [মানে] ভরণ পোষণ দেবে। পূণ্যাত্মাদের জন্য এটা কর্তব্য।

২৪২। এভাবেই আল্লাহ্‌ তাঁর বিধান সমূহ তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট করেছেনে যেনো তোমরা বুঝতে পার।

রুকু – ৩২

২৪৩। তুমি কি তাদের দেখ নাই, যারা মৃত্যুভয়ে তাদের গৃহ পরিত্যাগ করেছিলো, যদিও তারা [সংখ্যায়] ছিলো হাজারে হাজার? আল্লাহ্‌ তাদের বলেছিলেন, ‘তোমাদের মৃত্যু হোক’। অতঃপর আল্লাহ্‌ তাদের জীবিত করেছিলেন ২৭৪। মানুষের প্রতি আল্লাহ্‌ অনুগ্রহে পূর্ণ; কিন্তু তাদের অধিকাংশই অকৃতজ্ঞ।

২৭৪। এই আয়াতে আমরা আবার জিহাদের কথায় ফিরে এলাম যা পূর্বে [২:২১৪-২১৬] বর্ণনা করা হয়েছে। জিহাদ সম্পর্কে আমাদের কোনও রকম ভ্রান্ত ধারণা থাকা উচিত নয়। একথা সর্বদা বিশ্বাস রাখা কর্তব্য যে জীবন ও মৃত্যুর মালিক একমাত্র আল্লাহ্‌। যদি আমরা আমাদের ঈমান বা বিশ্বাসের জন্য যুদ্ধ করতে প্রস্তুত না থাকি; যদি আমরা আমাদের বিশ্বাসের অস্তিত্ব রক্ষা করার জন্য আমাদের সমস্ত বিষয় সম্পত্তি, সহায়-সম্বল, আমাদের সর্ব প্রচেষ্টা নিয়োগ না করি, তবে অচিরেই আমাদের সযত্নে রক্ষিত অর্থ-সম্পদ, সহায়-সম্বল শত্রু কবলিত হয়ে যাবে। জীবন ও মৃত্যুর মালিক আল্লাহ্‌।

ভীতুরা মনে করে সযত্নে রক্ষা করায় তারা হয়তো মৃত্যুকে এড়াতে সক্ষম হবে, কিম্বা শত্রুর কাছে আত্ম নিবেদন করে নিজেকে এবং অর্থ সম্পদ রক্ষা করতে সক্ষম হবে। কিন্তু ইতিহাসই এর প্রমাণ বহন করে। যারা মৃত্যুকে বা ক্ষতিকে এড়ানোর জন্য ধর্ম যুদ্ধকে পরিহার করে এবং শত্রুর কাছে ভীতুর ন্যায় আত্মসমর্পন করে, তারা এর কোনটা থেকেই রেহাই পায় না। সংখ্যায় অধিক থাকলেও তাদের ভাগ্যে থাকে অপমানজনক মৃত্যু। এই উপদেশটি সর্বকালের এবং সর্বযুগের জন্য প্রযোজ্য। অবশ্য কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে আয়াতটি নাজেল হয় তফসীরকারদের মধ্যে মতভেদ আছে। কিন্তু এর যে উপদেশ বা শিক্ষা তা সার্বজনীন।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৪৪)

আল্লাহর পথে লড়াই কর এবং জেনে রাখ, নিঃসন্দেহে আল্লাহ সবকিছু জানেন, সবকিছু শুনেন।
And fight in the Way of Allâh and know that Allâh is All-Hearer, All-Knower.

وَقَاتِلُواْ فِي سَبِيلِ اللّهِ وَاعْلَمُواْ أَنَّ اللّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
Waqatiloo fee sabeeli Allahi waiAAlamoo anna Allaha sameeAAun AAaleemun

YUSUFALI: Then fight in the cause of Allah, and know that Allah Heareth and knoweth all things.

PICKTHAL: Fight in the way of Allah, and know that Allah is Hearer, Knower.

SHAKIR: And fight in the way of Allah, and know that Allah is Hearing, Knowing.

KHALIFA: You shall fight in the cause of GOD, and know that GOD is Hearer, Knower.

২৪৪। সুতরাং আল্লাহ্‌র রাস্তায় যুদ্ধ কর এবং জেনে রেখ আল্লাহ্‌ সবকিছু শোনেন এবং সব কিছু জানেন ২৭৫।

২৭৫। এই আয়াতে পূর্বের আয়াতের বক্তব্যকে সমর্থন করা হচ্ছে। জেহাদ করতে হবে আল্লাহ্‌র আইনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য। যে যুদ্ধ স্বার্থ বা লোভের জন্য সংগঠিত হয় তা জেহাদ বা আল্লাহ্‌র জন্য যুদ্ধ নয়। আল্লাহ্‌ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। অর্থাৎ আমাদের সব কাজ, সব কথা, চিন্তা-ভাবনা, নিয়ত সবকিছু আমাদের থেকে আল্লাহ্‌ই বেশী জানেন। আমরা আমাদের অন্তরের গোপন চিন্তা-ভাবনা বা ইচ্ছা মানুষের কাছে গোপন করতে পারি। আমাদের পাপ বাহিরের পৃথিবীর কাছে লুকিয়ে রাখতে পারি, কিন্তু আল্লাহ্‌র কাছে কিছুই গোপন থাকে না। [দেখুন ২ : ২১৬ এবং টীকা ২৩৬]

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৪৫)

এমন কে আছে যে, আল্লাহকে করজ দেবে, উত্তম করজ; অতঃপর আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ-বহুগুণ বৃদ্ধি করে দিবেন। আল্লাহই সংকোচিত করেন এবং তিনিই প্রশস্ততা দান করেন এবং তাঁরই নিকট তোমরা সবাই ফিরে যাবে।
Who is he that will lend to Allâh a goodly loan so that He may multiply it to him many times? And it is Allâh that decreases or increases (your provisions), and unto Him you shall return.

مَّن ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللّهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَاعِفَهُ لَهُ أَضْعَافًا كَثِيرَةً وَاللّهُ يَقْبِضُ وَيَبْسُطُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ

Man tha allathee yuqridu Allaha qardan hasanan fayudaAAifahu lahu adAAafan katheeratan waAllahu yaqbidu wayabsutu wa-ilayhi turjaAAoona

YUSUFALI: Who is he that will loan to Allah a beautiful loan, which Allah will double unto his credit and multiply many times? It is Allah that giveth (you) Want or plenty, and to Him shall be your return.

PICKTHAL: Who is it that will lend unto Allah a goodly loan, so that He may give it increase manifold? Allah straiteneth and enlargeth. Unto Him ye will return.

SHAKIR: Who is it that will offer of Allah a goodly gift, so He will multiply it to him manifold, and Allah straitens and amplifies, and you shall be returned to Him.

KHALIFA: Who would lend GOD a loan of righteousness, to have it repaid to them multiplied manifold? GOD is the One who provides and withholds, and to Him you will be returned.

২৪৫। কে এমন আছ যে আল্লাহ্‌কে উত্তম ঋণ প্রদান করবে ২৭৬; আল্লাহ্‌ যা দ্বিগুণ পরিশোধ করবেন এবং বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন? আল্লাহ্‌-ই [তোমাদের] অভাব ও প্রাচুর্য [উভয়ই] দেন, এবং তাঁর কাছেই তোমরা হবে প্রত্যাণীত।

২৭৬। আল্লাহ্‌র রাস্তায় বা সৎ কাজে খরচ করাকে রূপকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে “উত্তম ঋণ”। বহু কারণেই এই ঋণকে উত্তম বলা যায়। (১) এর মাধ্যমে নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের প্রেরণা জন্মলাভ করে। (২) সাধারণভাবে অর্থ ঋণদানের ব্যাপারে অর্থ ফেরৎ পাওয়া বা না পাওয়ার একটা আশঙ্কা থাকে। কিন্তু এখানে আমরা সৎ কাজের মাধ্যমে যে ব্যয় করি তা আল্লাহ্‌র জন্য, আল্লাহ্‌কে পাওয়ার সাধনা। এ জীবন হচ্ছে পরকালের জন্য শিক্ষানবীশ কাল [Probationary Period] তবে কি আমরা আল্লাহ্‌র আইন প্রতিষ্ঠার নিয়তে সৎ কাজে অর্থ ব্যয় করতে পিছিয়ে যেতে পারি?

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৪৬)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৪৭)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৪৮)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৪৯)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৫০)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৫১)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৫২)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৫৩)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৫৪)

হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যে রুযী দিয়েছি, সেদিন আসার পূর্বেই তোমরা তা থেকে ব্যয় কর, যাতে না আছে বেচা-কেনা, না আছে সুপারিশ কিংবা বন্ধুত্ব। আর কাফেররাই হলো প্রকৃত যালেম।
O you who believe! Spend of that with which We have provided for you, before a Day comes when there will be no bargaining, nor friendship, nor intercession. And it is the disbelievers who are the Zâlimûn (wrong-doers, etc.).

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَنفِقُواْ مِمَّا رَزَقْنَاكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِيَ يَوْمٌ لاَّ بَيْعٌ فِيهِ وَلاَ خُلَّةٌ وَلاَ شَفَاعَةٌ وَالْكَافِرُونَ هُمُ الظَّالِمُونَ
Ya ayyuha allatheena amanoo anfiqoo mimma razaqnakum min qabli an ya/tiya yawmun la bayAAun feehi wala khullatun wala shafaAAatun waalkafiroona humu alththalimoona

YUSUFALI: O ye who believe! Spend out of (the bounties) We have provided for you, before the Day comes when no bargaining (Will avail), nor friendship nor intercession. Those who reject Faith they are the wrong-doers.

PICKTHAL: O ye who believe! spend of that wherewith We have provided you ere a day come when there will be no trafficking, nor friendship, nor intercession. The disbelievers, they are the wrong-doers.

SHAKIR: O you who believe! spend out of what We have given you before the day comes in which there is no bargaining, neither any friendship nor intercession, and the unbelievers– they are the unjust.

KHALIFA: O you who believe, you shall give to charity from the provisions we have given to you, before a day comes where there is no trade, no nepotism, and no intercession. The disbelievers are the unjust.

রুকু – ৩৪

২৫৪। হে বিশ্বাসীগণ ! যে [অনুগ্রহ] আমি তোমাদের দান করেছি
তা থেকে ব্যয় কর ২৯৪; সেই দিন আসার পূর্বে যেদিন কোন দরকষাকষি [চলবে না];

বন্ধুত্ব, সুপারিশ [কাজে] আসবে না ২৯৫। যারা ঈমানকে প্রত্যাখ্যান করে তারাই
পাপী।

২৯৪। ‘Spend’ বা ‘ব্যয় কর’। অর্থাৎ দান কর বা সৎ কাজে
নিয়োজিত কর। আল্লাহ্‌র যা কিছু দান, তা সবকিছু একা ভোগ করবে বলে মজুদ করে
রাখা হারাম। আল্লাহ্‌র এই দানকে শুধুমাত্র টাকা পয়সার নিক্তিতে মাপা যায়
না। সভ্যতার বিকাশের জন্য আল্লাহ্‌ মানুষকে যা কিছু দান করেছেন সবই
আল্লাহ্‌র নেয়ামত [দেখুন টিকা ২৭]। সৎ কাজ করাও হচ্ছে দান করা। সৎ কাজ কি ?
সৎ কাজ হচ্ছে সেই কাজ যা আল্লাহ্‌র সৃষ্টির মঙ্গলের জন্য করা হয়। হতে পারে
তা প্রতিবেশীর জন্য, হতে পারে তা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য, হতে পারে তা
অপরিচিত আগন্তুকের জন্য, হতে পারে তা সমাজের জন্য।

এমন কি হতে পারে তা পশু,
পাখী, বা গাছপালা বা প্রকৃতি। যা-ই আল্লাহ্‌র সৃষ্ট তার রক্ষণাবেক্ষণ, তার
মঙ্গলের জন্য, নিজের মেধা, মনন শক্তি, শ্রম, উৎসর্গ করার নামই হচ্ছে দান
করা। শুধু অর্থ সম্পদ গরীবের মধ্যে বিতরণকে সঙ্কীর্ণার্থে দান পরিগণিত করা
যায়, কিন্তু ইসলামের চোখে দানের সংজ্ঞা বা পরিধি অনেক ব্যাপক। আল্লাহ্‌
যাকে যে নেয়ামত [অর্থ-সম্পদ, মেধা-মননশক্তি, সাহিত্য প্রতিভা, শিল্পী মন,

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, প্রভাব-প্রতিপত্তি, সমাজে উচ্চ অধিষ্ঠান, উচ্চ বংশে
জন্ম ইত্যাদি] দিয়েছেন; সেই নেয়ামতকে নিঃস্বার্থভাবে জনগণের কল্যাণের জন্য
নিয়োজিত করাই হচ্ছে ইসলামের দৃষ্টিতে বৃহত্তর পরিসরে দান করা বা Charity।
এখানে নিঃস্বার্থ কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ এই দানের পিছনে যেনো দম্ভ,
আত্ম অহংকার বা সমাজের চোখে সুনামের মোহ বা কোনও বিশেষ সুবিধা লাভের
আকাঙ্খা থাকে না।

এই দানের হবে একটাই উদ্দেশ্য – আর তা হচ্ছে আল্লাহ্‌র
নেয়ামতকে আল্লাহ্‌র সৃষ্টির সেবায় নিয়োজিত করা যেনো স্রষ্টাকে খুশী করা
যায়, পরম করুণাময়ের সন্তুষ্টিই হবে দানের একমাত্র উদ্দেশ্য। আর এ কথাটা
অনুধাবনযোগ্য যে আল্লাহ্‌র নেয়ামত বলতে অর্থ-সম্পদ ব্যতীতও মানসিক এবং
আত্মিক নেয়ামতকেও বোঝায় [টিকা ২৭]। আল্লাহ্‌র সৃষ্ট সকল প্রাণী নিয়ে তাঁর
পরিবার। “তিনিই আল্লাহ্‌র সর্বাধিক প্রিয় যিনি আল্লাহ্‌র সৃষ্ট প্রাণীগণের
সর্বাধিক কল্যাণ সাধনের চেষ্টা করেন।” – হাদীস।
২৯৫। আরও দেখুন ২ : ৪৮, ১২৩।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৫৫)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৫৬)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৫৭)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৫৮)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৫৯)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৬০)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৬১)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৬২)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৬৩)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৬৪)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৬৫)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৬৬)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৬৭)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৬৮)

শয়তান তোমাদেরকে অভাব অনটনের ভীতি প্রদর্শন করে এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয়। পক্ষান্তরে আল্লাহ তোমাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও বেশী অনুগ্রহের ওয়াদা করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সুবিজ্ঞ।

 

Shaitân (Satan) threatens you with poverty and orders you to commit Fahshâ (evil deeds, illegal sexual intercourse, sins etc.); whereas Allâh promises you Forgiveness from Himself and Bounty, and Allâh is All-Sufficient for His creatures’ needs, All-Knower.

الشَّيْطَانُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُم بِالْفَحْشَاء وَاللّهُ يَعِدُكُم مَّغْفِرَةً مِّنْهُ وَفَضْلاً وَاللّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ

Alshshaytanu yaAAidukumu alfaqra waya/murukum bialfahsha-i waAllahu yaAAidukum maghfiratan minhu wafadlan waAllahu wasiAAun AAaleemun

YUSUFALI: The Evil one threatens you with poverty and bids you to conduct unseemly. Allah promiseth you His forgiveness and bounties. And Allah careth for all and He knoweth all things.

PICKTHAL: The devil promiseth you destitution and enjoineth on you lewdness. But Allah promiseth you forgiveness from Himself with bounty. Allah is All-Embracing, All-knowing.

SHAKIR: Shaitan threatens you with poverty and enjoins you to be niggardly, and Allah promises you forgiveness from Himself and abundance; and Allah is Ample-giving, Knowing.

KHALIFA: The devil promises you poverty and commands you to commit evil, while GOD promises you forgiveness from Him and grace. GOD is Bounteous, Omniscient.

২৬৮। শয়তান তোমাদের দারিদ্রের ভয় দেখায় এবং অশ্লীল কাজের আদেশ দেয়। আল্লাহ্‌ তোমাদের তাঁর ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন ৩১৮। আল্লাহ্‌ সকলের প্রতি যত্নশীল এবং তিনি সব কিছু জানেন।

৩১৮। ভালো মন্দের অবস্থান পরস্পর বিপরীত মেরুতে। কারণ ভালো এবং মন্দের নিয়ত সম্পূর্ণ বিপরীত। ভালো এবং মন্দের এই যে বৈষম্য তা পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় দানের নিয়তের মাধ্যমে। মন্দ সব সময়েই ভালো কাজে বাধা দান করবে। তাই যখন কোনও সৎ কাজের সংকল্প নেয়া হয়, তা শয়তানের দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হয়। মনের কোণে ভীড় করে যদি এই অর্থ ব্যয় তাকে দারিদ্রের মধ্যে টেনে আনে ? আবার অনেকে সৎ কাজে দান করার মত অর্থের সঙ্গতি করতে পারে না কারণ তাদের স্বার্থপরতা, লোভ, তাদের উচ্চ জীবন যাত্রার মান এবং জীবন যাত্রার মানের মানদণ্ড বজায় রাখার জন্য প্রচুর অপব্যয় এবং পরস্পরের মধ্যে এই অপচয়ের প্রতিযোগিতা, তাদের সৎ কাজে ব্যয় থেকে নিবৃত রাখে।

অর্থাৎ স্বার্থপরতা, লোভ, অপচয়, ভোগ-বিলাস তাদের সৎ কার্যে এবং দানের মানসিকতা থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। অপরপক্ষে, আল্লাহ্‌ সর্বদা আমাদের ভালোর দিকে আহবান করেন। তিনিই গোনাহ্‌ মাফকারী, তিনি প্রাচুর্যময়, তিনি সব কিছু দিতে পারেন, তিনিই একমাত্র প্রশান্তি দানকারী। আল্লাহ্‌ কারও সৎ কাজ ধ্বংস বা নষ্ট হতে দেন না। তিনি সুবিজ্ঞ অর্থাৎ নিয়ত অনুযায়ী ফল দান করেন।

যদি কারও সৎ কাজ নষ্ট হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে তার নিয়ত খাঁটি ছিল না। কারণ আল্লাহ্‌ আমাদের অন্তরের নিশানা জানেন। তাঁর কাছে কিছুই গোপন থাকে না। তাঁর কল্যাণের হাত সবার জন্য প্রসারিত কিন্তু যারা জ্ঞানী শুধু তারাই পারে সেই কল্যাণের হাত ধরতে। সত্য কথা হলো এই যে, যাকে আধ্যাত্মিক জ্ঞান দান করা হয়েছে, তাকে জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞান দান করা হয়েছে। বিরাট কল্যাণকর বস্তু সে প্রাপ্ত হয়। বস্তুতঃ উপদেশ তারাই গ্রহণ করে যারা জ্ঞানবান।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৬৯)

তিনি যাকে ইচ্ছা বিশেষ জ্ঞান দান করেন এবং যাকে বিশেষ জ্ঞান দান করা হয়, সে প্রভুত কল্যাণকর বস্তু প্রাপ্ত হয়। উপদেশ তারাই গ্রহণ করে, যারা জ্ঞানবান।
He grants Hikmah to whom He pleases, and he, to whom Hikmah is granted, is indeed granted abundant good. But none remember (will receive admonition) except men of understanding.

يُؤتِي الْحِكْمَةَ مَن يَشَاء وَمَن يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلاَّ أُوْلُواْ الأَلْبَابِ
Yu/tee alhikmata man yashao waman yu/ta alhikmata faqad ootiya khayran katheeran wama yaththakkaru illa oloo al-albabi

YUSUFALI: He granteth wisdom to whom He pleaseth; and he to whom wisdom is granted receiveth indeed a benefit overflowing; but none will grasp the Message but men of understanding.

PICKTHAL: He giveth wisdom unto whom He will, and he unto whom wisdom is given, he truly hath received abundant good. But none remember except men of understanding.

SHAKIR: He grants wisdom to whom He pleases, and whoever is granted wisdom, he indeed is given a great good and none but men of understanding mind.

KHALIFA: He bestows wisdom upon whomever He chooses, and whoever attains wisdom, has attained a great bounty. Only those who possess intelligence will take heed.

২৬৯। তিনি যাকে ইচ্ছা প্রজ্ঞা দান করেন। যাকে প্রজ্ঞা দান করা হয়, তাকে প্রভুত কল্যাণ দান করা হয়। কিন্তু বোধশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তি ব্যতীত আর কেউ [আল্লাহ্‌র] বাণীর তাৎপর্য গ্রহণ করতে পারবে না।

২৭০। যা কিছু তোমরা দানে অথবা মানতে ব্যয় কর, নিশ্চিত থেকো আল্লাহ্‌ তা জানেন। আর পাপীদের জন্য কোন সাহায্যকারী নাই।

২৭১। তোমরা যদি দানের কথা প্রকাশ কর ৩১৯, তাহলেও তা ভালো। কিন্তু তোমরা যদি তা গোপন রাখ এবং [প্রকৃত] অভাবগ্রস্থকে দাও তবে তা তোমাদের জন্য সর্বোত্তম। ইহা তোমাদের [আত্মার] পাপের কিছু [দাগ] মোচন করে দেবে। তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে আল্লাহ্‌ সবিশেষ অবহিত।

৩১৯। দান গোপনে করাই সর্বশ্রেষ্ঠ। অবশ্য প্রকাশ্য হলেও ক্ষতি নাই। যদি তা জনসাধারণের উপকারার্থে হয়। দানের বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত নিঃশব্দে, গোপনে, নিঃস্বার্থভাবে অভাবী মানুষের কাছে দান পৌঁছে দেয়া। কারণ দানের নিয়ত দ্বারা আল্লাহ্‌ এর বিচার করবেন। সৎ কর্মে দানের উদ্দেশ্য হবে আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভ। যদি দানের উদ্দেশ্য হয় লোক দেখানো এবং খ্যাতি এবং যশঃ তবে সে উদ্দেশ্য গ্রহীতার কাছে যতই গোপন থাকুক না কেন আল্লাহ্‌র কাছে তা প্রকাশ হয়ে যাবেই। ফলে দানের দ্বারা আমাদের আত্মিক উন্নতির পথ হয়ে যাবে রুদ্ধ। আমাদের আত্মার উন্নতির জন্য প্রয়োজন নিঃস্বার্থ দানের নিয়ত ও আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভ। একমাত্র খাঁটি নিয়তই আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ লাভে সক্ষম। যাকে দান করা হবে তাকে হতে হবে ‘অভাবগ্রস্থ’।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৭০)

তোমরা যে খয়রাত বা সদ্ব্যয় কর কিংবা কোন মানত কর, আল্লাহ নিশ্চয়ই সেসব কিছুই জানেন। অন্যায়কারীদের কোন সাহায্যকারী নেই।
And whatever you spend for spendings (e.g., in Sadaqah – charity, etc. for Allâh’s Cause) or whatever vow you make, be sure Allâh knows it all. And for the Zâlimûn (wrong-doers, etc.) there are no helpers.

وَمَا أَنفَقْتُم مِّن نَّفَقَةٍ أَوْ نَذَرْتُم مِّن نَّذْرٍ فَإِنَّ اللّهَ يَعْلَمُهُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ
Wama anfaqtum min nafaqatin aw nathartum min nathrin fa-inna Allaha yaAAlamuhu wama lilththalimeena min ansarin

YUSUFALI: And whatever ye spend in charity or devotion, be sure Allah knows it all. But the wrong-doers have no helpers.

PICKTHAL: Whatever alms ye spend or vow ye vow, lo! Allah knoweth it. Wrong-doers have no helpers.

SHAKIR: And whatever alms you give or (whatever) vow you vow, surely Allah knows it; and the unjust shall have no helpers.

KHALIFA: Any charity you give, or a charitable pledge you fulfill, GOD is fully aware thereof. As for the wicked, they will have no helpers.

২৬৯। তিনি যাকে ইচ্ছা প্রজ্ঞা দান করেন। যাকে প্রজ্ঞা দান করা হয়, তাকে প্রভুত কল্যাণ দান করা হয়। কিন্তু বোধশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তি ব্যতীত আর কেউ [আল্লাহ্‌র] বাণীর তাৎপর্য গ্রহণ করতে পারবে না।

২৭০। যা কিছু তোমরা দানে অথবা মানতে ব্যয় কর, নিশ্চিত থেকো আল্লাহ্‌ তা জানেন। আর পাপীদের জন্য কোন সাহায্যকারী নাই।

২৭১। তোমরা যদি দানের কথা প্রকাশ কর ৩১৯, তাহলেও তা ভালো। কিন্তু তোমরা যদি তা গোপন রাখ এবং [প্রকৃত] অভাবগ্রস্থকে দাও তবে তা তোমাদের জন্য সর্বোত্তম। ইহা তোমাদের [আত্মার] পাপের কিছু [দাগ] মোচন করে দেবে। তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে আল্লাহ্‌ সবিশেষ অবহিত।

৩১৯। দান গোপনে করাই সর্বশ্রেষ্ঠ। অবশ্য প্রকাশ্য হলেও ক্ষতি নাই। যদি তা জনসাধারণের উপকারার্থে হয়। দানের বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত নিঃশব্দে, গোপনে, নিঃস্বার্থভাবে অভাবী মানুষের কাছে দান পৌঁছে দেয়া। কারণ দানের নিয়ত দ্বারা আল্লাহ্‌ এর বিচার করবেন। সৎ কর্মে দানের উদ্দেশ্য হবে আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভ। যদি দানের উদ্দেশ্য হয় লোক দেখানো এবং খ্যাতি এবং যশঃ তবে সে উদ্দেশ্য গ্রহীতার কাছে যতই গোপন থাকুক না কেন আল্লাহ্‌র কাছে তা প্রকাশ হয়ে যাবেই। ফলে দানের দ্বারা আমাদের আত্মিক উন্নতির পথ হয়ে যাবে রুদ্ধ। আমাদের আত্মার উন্নতির জন্য প্রয়োজন নিঃস্বার্থ দানের নিয়ত ও আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভ। একমাত্র খাঁটি নিয়তই আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ লাভে সক্ষম। যাকে দান করা হবে তাকে হতে হবে ‘অভাবগ্রস্থ’।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি ।
সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি ।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৭১)

যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান-খয়রাত কর, তবে তা কতইনা উত্তম। আর যদি খয়রাত গোপনে কর এবং অভাবগ্রস্তদের দিয়ে দাও, তবে তা তোমাদের জন্যে আরও উত্তম। আল্লাহ তা’আলা তোমাদের কিছু গোনাহ দূর করে দিবেন। আল্লাহ তোমাদের কাজ কর্মের খুব খবর রাখেন।

If you disclose your Sadaqât (alms-giving), it is well, but if you conceal it, and give it to the poor, that is better for you. (Allâh) will forgive you some of your sins. And Allâh is Well-Acquainted with what you do.

إِن تُبْدُواْ الصَّدَقَاتِ فَنِعِمَّا هِيَ وَإِن تُخْفُوهَا وَتُؤْتُوهَا الْفُقَرَاء فَهُوَ خَيْرٌ لُّكُمْ وَيُكَفِّرُ عَنكُم مِّن سَيِّئَاتِكُمْ وَاللّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ

In tubdoo alssadaqati faniAAimma hiya wa-in tukhfooha watu/tooha alfuqaraa fahuwa khayrun lakum wayukaffiru AAankum min sayyi-atikum waAllahu bima taAAmaloona khabeerun

YUSUFALI: If ye disclose (acts of) charity, even so it is well, but if ye conceal them, and make them reach those (really) in need, that is best for you: It will remove from you some of your (stains of) evil. And Allah is well acquainted with what ye do.

PICKTHAL: If ye publish your almsgiving, it is well, but if ye hide it and give it to the poor, it will be better for you, and will atone for some of your ill-deeds. Allah is Informed of what ye do.

SHAKIR: If you give alms openly, it is well, and if you hide it and give it to the poor, it is better for you; and this will do away with some of your evil deeds; and Allah is aware of what you do.

KHALIFA: If you declare your charities, they are still good. But if you keep them anonymous, and give them to the poor, it is better for you, and remits more of your sins. GOD is fully Cognizant of everything you do.

২৬৯। তিনি যাকে ইচ্ছা প্রজ্ঞা দান করেন। যাকে প্রজ্ঞা দান করা হয়, তাকে প্রভুত কল্যাণ দান করা হয়। কিন্তু বোধশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তি ব্যতীত আর কেউ [আল্লাহ্‌র] বাণীর তাৎপর্য গ্রহণ করতে পারবে না।

২৭০। যা কিছু তোমরা দানে অথবা মানতে ব্যয় কর, নিশ্চিত থেকো আল্লাহ্‌ তা জানেন। আর পাপীদের জন্য কোন সাহায্যকারী নাই।

২৭১। তোমরা যদি দানের কথা প্রকাশ কর ৩১৯, তাহলেও তা ভালো। কিন্তু তোমরা যদি তা গোপন রাখ এবং [প্রকৃত] অভাবগ্রস্থকে দাও তবে তা তোমাদের জন্য সর্বোত্তম। ইহা তোমাদের [আত্মার] পাপের কিছু [দাগ] মোচন করে দেবে। তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে আল্লাহ্‌ সবিশেষ অবহিত।

৩১৯। দান গোপনে করাই সর্বশ্রেষ্ঠ। অবশ্য প্রকাশ্য হলেও ক্ষতি নাই। যদি তা জনসাধারণের উপকারার্থে হয়। দানের বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত নিঃশব্দে, গোপনে, নিঃস্বার্থভাবে অভাবী মানুষের কাছে দান পৌঁছে দেয়া। কারণ দানের নিয়ত দ্বারা আল্লাহ্‌ এর বিচার করবেন। সৎ কর্মে দানের উদ্দেশ্য হবে আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভ। যদি দানের উদ্দেশ্য হয় লোক দেখানো এবং খ্যাতি এবং যশঃ তবে সে উদ্দেশ্য গ্রহীতার কাছে যতই গোপন থাকুক না কেন আল্লাহ্‌র কাছে তা প্রকাশ হয়ে যাবেই। ফলে দানের দ্বারা আমাদের আত্মিক উন্নতির পথ হয়ে যাবে রুদ্ধ। আমাদের আত্মার উন্নতির জন্য প্রয়োজন নিঃস্বার্থ দানের নিয়ত ও আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভ। একমাত্র খাঁটি নিয়তই আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ লাভে সক্ষম। যাকে দান করা হবে তাকে হতে হবে ‘অভাবগ্রস্থ’।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৭২)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৭৩)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৭৪)

যারা স্বীয় ধন-সম্পদ ব্যয় করে, রাত্রে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে। তাদের জন্যে তাদের সওয়াব রয়েছে তাদের পালনকর্তার কাছে। তাদের কোন আশংঙ্কা নেই এবং তারা চিন্তিত ও হবে না।
Those who spend their wealth (in Allâh’s Cause) by night and day, in secret and in public, they shall have their reward with their Lord. On them shall be no fear, nor shall they grieve.

الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُم بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ سِرًّا وَعَلاَنِيَةً فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلاَ خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلاَ هُمْ يَحْزَنُونَ
Allatheena yunfiqoona amwalahum biallayli waalnnahari sirran waAAalaniyatan falahum ajruhum AAinda rabbihim wala khawfun AAalayhim wala hum yahzanoona

YUSUFALI: Those who (in charity) spend of their goods by night and by day, in secret and in public, have their reward with their Lord: on them shall be no fear, nor shall they grieve.

PICKTHAL: Those who spend their wealth by night and day, by stealth and openly, verily their reward is with their Lord, and their shall no fear come upon them neither shall they grieve.

SHAKIR: (As for) those who spend their property by night and by day, secretly and openly, they shall have their reward from their Lord and they shall have no fear, nor shall they grieve.

KHALIFA: Those who give to charity night and day, secretly and publicly, receive their recompense from their Lord; they will have nothing to fear, nor will they grieve.

রুকু – ৩৮

২৭৪। যারা রাত্রে দিনে, গোপনে-প্রকাশ্যে, তাদের সম্পদ [দান কাজে] ব্যয় করে, তাদের পুরস্কার তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে। তাদের কোন ভয় নাই তারা দুঃখিতও হবে না ৩২৩।

৩২৩। দানের বৈশিষ্ট্যের প্রধান প্রধান অংশগুলি এখানে পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে [নিঃস্বার্থভাবে নিজেকে নিয়োজিত করা, নিজের অর্থ সম্পদ দান করা]। কারণ এর পরের আয়াতেই দানের বিপরীত ধর্মের সমালোচনা করা হয়েছে। নিঃস্বার্থ দানের বিপরীত হচ্ছে, লোভ, স্বার্থপরতা, সুদ খাওয়া ইত্যাদি যারা দুঃস্থদের শোষণ করতে দ্বিধা বোধ করে না। এই আয়াতে বলা হয়েছে যারা নিঃস্বার্থভাবে দান করতে পারে, তাদের আত্মা সমৃদ্ধ হয়। এই সমৃদ্ধি আর্থিক নয়। এই সমৃদ্ধি আত্মিক। এদের জীবন (আত্মা), সুখ ও শান্তিতে ভরে যায়। জীবন থেকে অস্থিরতা, জীবন যাপনের ক্লেশ, প্রাত্যাহিক দিন যাপনের মানসিক চাপ, ভীতি সব দূর হয়ে যায়। আত্মায় নেমে আসে এক অনাবিল শান্তি। একেই বলা হচ্ছে, যে দান করে সে নিজের কল্যাণের জন্যই করে। অপরপক্ষে যে আর্ত মানবতাকে সাহায্যের পরিবর্তে শোষণ করে তার আত্মার অবনতি হয়।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি ।(আয়াত ২৭৫)

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৭৬)

আল্লাহ তা’আলা সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান খয়রাতকে বর্ধিত করেন। আল্লাহ পছন্দ করেন না কোন অবিশ্বাসী পাপীকে।

Allâh will destroy Ribâ (usury) and will give increase for Sadaqât (deeds of charity, alms, etc.) And Allâh likes not the disbelievers, sinners.

يَمْحَقُ اللّهُ الْرِّبَا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ وَاللّهُ لاَ يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ

Yamhaqu Allahu alrriba wayurbee alssadaqati waAllahu la yuhibbu kulla kaffarin atheemin

YUSUFALI: Allah will deprive usury of all blessing, but will give increase for deeds of charity: For He loveth not creatures ungrateful and wicked.

PICKTHAL: Allah hath blighted usury and made almsgiving fruitful. Allah loveth not the impious and guilty.

SHAKIR: Allah does not bless usury, and He causes charitable deeds to prosper, and Allah does not love any ungrateful sinner.

KHALIFA: GOD condemns usury, and blesses charities. GOD dislikes every disbeliever, guilty.

২৭৬। আল্লাহ্‌ সুদকে সকল অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত করেন, কিন্তু দান কাজকে বর্ধিত করেন। কারণ তিনি অকৃতজ্ঞ এবং দুষ্ট প্রাণীকে ভালোবাসেন না।

২৭৭। যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে এবং নিয়মিত সালাত কায়েম করে ও যাকাত দেয়, তাদের প্রভুর নিকট তাদের পুরস্কার রয়েছে। তাদের কোন ভয় নাই, তারা দুঃখিতও হবে না ৩২৭।

৩২৭। আয়াত [২:২৭৪] থেকে শুরু হয়েছে দান-ধ্যান ও সুদের মধ্যে তুলনা করা। আয়াত [২:২৭৪] এ এই বাক্যটি ব্যবহার করা হয়েছে, “তাহাদের পুরস্কার তাহাদের প্রতিপালকের নিকট আছে। তাহাদের কোন ভয় নাই, এবং তাহারা দুঃখিতও হবে না;” – যার বিষয়বস্তু ছিল দানের উপকার বর্ণনা প্রসঙ্গে।

এই আয়াতে [২ : ২৭৭] সেই একই লাইন ব্যবহার করা হয়েছে, এর পরবর্তী আয়াতসমূহতে উত্তমর্ণকে অধমর্ণের সাহায্যের জন্য নিম্নলিখিত সুপারিশসমূহ করা হয়েছে। (ক) অধমর্ণের সুদ মাপ করে দিতে, (খ) অধমর্ণকে আসল শোধ করার জন্য সময় দিতে; (গ) যদি সম্ভব হয় অধমর্ণের সব ঋণ মাপ করে দিতে যাতে উত্তমর্ণ দাতার সওয়াব লাভ করতে পারে। [তবে নিজেকে কষ্ট দিয়ে অথবা পারিবারিক বিশৃঙ্খলা তৈরী করে শুধুমাত্র সওয়াবের জন্য তা করা যাবে না। এখানে সম্ভব হলে তবেই ক্ষমা করতে হবে।]

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি ।(আয়াত ২৭৭)

নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, সৎকাজ করেছে, নামায প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং যাকাত দান করেছে, তাদের জন্যে তাদের পুরষ্কার তাদের পালনকর্তার কছে রয়েছে। তাদের কোন শঙ্কা নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।
Truly those who believe, and do deeds of righteousness, and perform As-Salât (Iqâmat-as-Salât), and give Zakât, they will have their reward with their Lord. On them shall be no fear, nor shall they grieve.

إِنَّ الَّذِينَ آمَنُواْ وَعَمِلُواْ الصَّالِحَاتِ وَأَقَامُواْ الصَّلاَةَ وَآتَوُاْ الزَّكَاةَ لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلاَ خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلاَ هُمْ يَحْزَنُونَ
Inna allatheena amanoo waAAamiloo alssalihati waaqamoo alssalata waatawoo alzzakata lahum ajruhum AAinda rabbihim wala khawfun AAalayhim wala hum yahzanoona

YUSUFALI: Those who believe, and do deeds of righteousness, and establish regular prayers and regular charity, will have their reward with their Lord: on them shall be no fear, nor shall they grieve.

PICKTHAL: Lo! those who believe and do good works and establish worship and pay the poor-due, their reward is with their Lord and there shall no fear come upon them neither shall they grieve.

SHAKIR: Surely they who believe and do good deeds and keep up prayer and pay the poor-rate they shall have their reward from their Lord, and they shall have no fear, nor shall they grieve.

KHALIFA: Those who believe and lead a righteous life, and observe the Contact Prayers (Salat), and give the obligatory charity (Zakat), they receive their recompense from their Lord; they will have nothing to fear, nor will they grieve.

২৭৬। আল্লাহ্‌ সুদকে সকল অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত করেন, কিন্তু দান কাজকে বর্ধিত করেন। কারণ তিনি অকৃতজ্ঞ এবং দুষ্ট প্রাণীকে ভালোবাসেন না।

২৭৭। যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে এবং নিয়মিত সালাত কায়েম করে ও যাকাত দেয়, তাদের প্রভুর নিকট তাদের পুরস্কার রয়েছে। তাদের কোন ভয় নাই, তারা দুঃখিতও হবে না ৩২৭।

৩২৭। আয়াত [২:২৭৪] থেকে শুরু হয়েছে দান-ধ্যান ও সুদের মধ্যে তুলনা করা। আয়াত [২:২৭৪] এ এই বাক্যটি ব্যবহার করা হয়েছে, “তাহাদের পুরস্কার তাহাদের প্রতিপালকের নিকট আছে। তাহাদের কোন ভয় নাই, এবং তাহারা দুঃখিতও হবে না;” – যার বিষয়বস্তু ছিল দানের উপকার বর্ণনা প্রসঙ্গে। এই আয়াতে [২ : ২৭৭] সেই একই লাইন ব্যবহার করা হয়েছে, এর পরবর্তী আয়াতসমূহতে উত্তমর্ণকে অধমর্ণের সাহায্যের জন্য নিম্নলিখিত সুপারিশসমূহ করা হয়েছে। (ক) অধমর্ণের সুদ মাপ করে দিতে, (খ) অধমর্ণকে আসল শোধ করার জন্য সময় দিতে; (গ) যদি সম্ভব হয় অধমর্ণের সব ঋণ মাপ করে দিতে যাতে উত্তমর্ণ দাতার সওয়াব লাভ করতে পারে। [তবে নিজেকে কষ্ট দিয়ে অথবা পারিবারিক বিশৃঙ্খলা তৈরী করে শুধুমাত্র সওয়াবের জন্য তা করা যাবে না। এখানে সম্ভব হলে তবেই ক্ষমা করতে হবে।]

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৭৮)

হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যে সমস্ত বকেয়া আছে, তা পরিত্যাগ কর, যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক।

O you who believe! Be afraid of Allâh and give up what remains (due to you) from Ribâ (usury) (from now onward), if you are (really) believers.

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللّهَ وَذَرُواْ مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

Ya ayyuha allatheena amanoo ittaqoo Allaha watharoo ma baqiya mina alrriba in kuntum mu/mineena

YUSUFALI: O ye who believe! Fear Allah, and give up what remains of your demand for usury, if ye are indeed believers.

PICKTHAL: O ye who believe! Observe your duty to Allah, and give up what remaineth (due to you) from usury, if ye are (in truth) believers.

SHAKIR: O you who believe! Be careful of (your duty to) Allah and relinquish what remains (due) from usury, if you are believers.

KHALIFA: O you who believe, you shall observe GOD and refrain from all kinds of usury, if you are believers.

২৭৮। হে বিশ্বাসীগণ ! আল্লাহকে ভয় কর, এবং সুদের যা বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা প্রকৃতই মুমিন হও।

২৭৯। যদি তোমরা তা না কর, তবে আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও ৩২৮। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে। অন্যায়ভাবে [মূলধনের বেশী চেয়ে] অত্যাচার করো না, এবং তোমরাও [মূলধনের কম গ্রহণ করে] অন্যায়ভাবে অত্যাচারিত হবে না।

৩২৮। ‘যুদ্ধ’ এখানে যে যুদ্ধের উল্লেখ করা হয়েছে, সে যুদ্ধ মতপার্থক্যের যুদ্ধ নয়। এ যুদ্ধের ঘোষণা আল্লাহ্‌ ও রাসূলের পক্ষ থেকে করা হয়েছে নিপীড়িত ও শোষিত অধমর্ণদের পক্ষ থেকে।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি ।
সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি ।

সূরা বাকারা পর্ব ৭ । সূচি । (আয়াত ২৭৯)

অতঃপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে যাও। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমরা নিজের মূলধন পেয়ে যাবে। তোমরা কারও প্রতি অত্যাচার করো না এবং কেউ তোমাদের প্রতি অত্যাচার করবে না।

And if you do not do it, then take a notice of war from Allâh and His Messenger but if you repent, you shall have your capital sums. Deal not unjustly (by asking more than your capital sums), and you shall not be dealt with unjustly (by receiving less than your capital sums).

فَإِن لَّمْ تَفْعَلُواْ فَأْذَنُواْ بِحَرْبٍ مِّنَ اللّهِ وَرَسُولِهِ وَإِن تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُؤُوسُ أَمْوَالِكُمْ لاَ تَظْلِمُونَ وَلاَ تُظْلَمُونَ

Fa-in lam tafAAaloo fa/thanoo biharbin mina Allahi warasoolihi wa-in tubtum falakum ruoosu amwalikum la tathlimoona wala tuthlamoona

YUSUFALI: If ye do it not, Take notice of war from Allah and His Messenger: But if ye turn back, ye shall have your capital sums: Deal not unjustly, and ye shall not be dealt with unjustly.

PICKTHAL: And if ye do not, then be warned of war (against you) from Allah and His messenger. And if ye repent, then ye have your principal (without interest). Wrong not, and ye shall not be wronged.

SHAKIR: But if you do (it) not, then be apprised of war from Allah and His Messenger; and if you repent, then you shall have your capital; neither shall you make (the debtor) suffer loss, nor shall you be made to suffer loss.

KHALIFA: If you do not, then expect a war from GOD and His messenger. But if you repent, you may keep your capitals, without inflicting injustice, or incurring injustice.

২৭৮। হে বিশ্বাসীগণ ! আল্লাহকে ভয় কর, এবং সুদের যা বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা প্রকৃতই মুমিন হও।

২৭৯। যদি তোমরা তা না কর, তবে আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও ৩২৮। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে। অন্যায়ভাবে [মূলধনের বেশী চেয়ে] অত্যাচার করো না, এবং তোমরাও [মূলধনের কম গ্রহণ করে] অন্যায়ভাবে অত্যাচারিত হবে না।

৩২৮। ‘যুদ্ধ’ এখানে যে যুদ্ধের উল্লেখ করা হয়েছে, সে যুদ্ধ মতপার্থক্যের যুদ্ধ নয়। এ যুদ্ধের ঘোষণা আল্লাহ্‌ ও রাসূলের পক্ষ থেকে করা হয়েছে নিপীড়িত ও শোষিত অধমর্ণদের পক্ষ থেকে।

আরও দেখুমঃ

সূরা বাকারা (আয়াত ২৮০)

সূরা বাকারা (আয়াত ২৮১)

সূরা বাকারা (আয়াত ২৮২)

সূরা বাকারা (আয়াত ২৮৩)

সূরা বাকারা (আয়াত ২৮৪)

সূরা বাকারা (আয়াত ২৮৫)

সূরা বাকারা (আয়াত ২৮৬)

নাপাকি এবং নাপাকি থেকে পবিত্রতা অর্জনের উপায়

 

 

Leave a Comment