সূরা মারইয়াম পার্ট-১ [হযরত জাকারিয়া এর প্রার্থনার কথা,বিবি মারইয়াম এবং পুত্র হযরত ঈসা-এর সম্পর্কে বলা হয়েছে ]সূরা ১৯। কুরআন ।

সূরা মারইয়াম পার্ট-১ , সূরা মারইয়াম (আরবি ভাষায়: سورة مريم‎‎) মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের ১৯ নম্বর সূরা; এর আয়াত অর্থাৎ বাক্য সংখ্যা ৯৮ এবং রূকু তথা অনুচ্ছেদ সংখ্যা ৬। সূরা মারইয়াম মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এই সূরাটির প্রথমে হযরত জাকারিয়া এর প্রার্থনার কথা, পরে বিবি মারইয়াম এবং পুত্র হযরত ঈসা-এর সম্পর্কে বলা হয়েছে।

সূরা মারইয়াম পার্ট-১

সূরা মারইয়াম পার্ট-১

সূরা মারইয়াম

সূরা মারইয়াম(আয়াত ০১)

কাফ-হা-ইয়া-আইন-সাদ
[These letters are one of the miracles of the Qur’ân, and none but Allâh (Alone) knows their meanings].

كهيعص
Kâf­ Hâ­Yâ­’Aîn­Sâd.

Kaf-ha-ya-AAayn-sad
YUSUFALI: Kaf. Ha. Ya. ‘Ain. Sad.
PICKTHAL: Kaf. Ha. Ya. A’in. Sad.
SHAKIR: Kaf Ha Ya Ain Suad.
KHALIFA: K. H. Y. `A. S. (Kaaf Haa Yaa `Ayn Saad)

০১। কাফ্‌ – হা – ইয়া – আয়ান – সাদ্‌ ২৪৫৫।
২৪৫৫। এটাই একমাত্র সূরা যা পাঁচটি সংক্ষিপ্ত বর্ণমালা দিয়ে শুরু।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ০২)

এটা আপনার পালনকর্তার অনুগ্রহের বিবরণ তাঁর বান্দা যাকারিয়ার প্রতি।
(This is) a mention of the mercy of your Lord to His slave Zakariya (Zachariah).

ذِكْرُ رَحْمَةِ رَبِّكَ عَبْدَهُ زَكَرِيَّا (2

Thikru rahmati rabbika AAabdahu zakariyya

YUSUFALI: (This is) a recital of the Mercy of thy Lord to His servant Zakariya.
PICKTHAL: A mention of the mercy of thy Lord unto His servant Zachariah.

SHAKIR: A mention of the mercy of your Lord to His servant Zakariya.
KHALIFA: A narration about your Lord’s mercy towards His servant Zachariah.

০২। ইহা তোমার প্রভুর অনুগ্রহের বিবরণ তাঁর বান্দা যাকারিয়ার প্রতি ২৪৫৬।

২৪৫৬। যাকারিয়ার প্রতি আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ বিভিন্ন ভাবে প্রদর্শন করা হয়েছে : ১) তাঁর প্রার্থনা মঞ্জুরের মাধ্যমে , ২) ইয়াহিয়ার মত সন্তান দানের মাধ্যমে, ৩) পিতা ও পুত্রের মধ্যে স্নেহের বন্ধনের মাধ্যমে, উপরন্তু,আল্লাহ্‌র নবী হিসেবে পৃথিবীতে ইয়াহিয়ার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে

[ দেখুন ( ৩: ৩৮ – ৪১ ) ও টিকা ]। সূরা ৩ নং এ ধর্ম যাজক হিসেবে তাঁর কর্তব্যের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, এই সূরাতে পিতা ও পুত্রের মধুর সম্পর্কের উপরে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ০৩)

যখন সে তাঁর পালনকর্তাকে আহবান করেছিল নিভৃতে।
When he called out his Lord (Allâh) a call in secret,

إِذْ نَادَى رَبَّهُ نِدَاء خَفِيًّا
Ith nada rabbahu nidaan khafiyyan

YUSUFALI: Behold! he cried to his Lord in secret,
PICKTHAL: When he cried unto his Lord a cry in secret,

SHAKIR: When he called upon his Lord in a low voice,
KHALIFA: He called his Lord, a secret call.

০৩। স্মরণ কর! যখন সে নিভৃতে তাঁর প্রভুকে আহ্বান করেছিলো ২৪৫৭।

২৪৫৭। ” নিভৃতে ” – অর্থাৎ লোকচক্ষুর অন্তরালে , গোপনে। কারণ জাকারিয়া আশঙ্কা করেন যে, তাঁর নিজ পরিবার ও আত্নীয় স্বজনেরা ভুল পথে পরিচালিত হতে যাচ্ছে। আল্লাহ্‌র বাণীকে সমুন্নত রাখাই ছিলো তাঁর একান্ত ইচ্ছা। এখানে অবশ্য পরিষ্কারভাবে বলা হয় নাই যে তাঁর আত্মীয়রাই ছিলো তাঁর সহকর্মী।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ০৪)

সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা আমার অস্থি বয়স-ভারাবনত হয়েছে; বার্ধক্যে মস্তক সুশুভ্র হয়েছে; হে আমার পালনকর্তা! আপনাকে ডেকে আমি কখনও বিফলমনোরথ হইনি।

Saying: ”My Lord! Indeed my bones have grown feeble, and grey hair has spread on my head, And I have never been unblest in my invocation to You, O my Lord!

قَالَ رَبِّ إِنِّي وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّي وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا وَلَمْ أَكُن بِدُعَائِكَ رَبِّ شَقِيًّا

Qala rabbi innee wahana alAAathmu minnee waishtaAAala alrra/su shayban walam akun biduAAa-ika rabbi shaqiyyan

YUSUFALI: Praying: “O my Lord! infirm indeed are my bones, and the hair of my head doth glisten with grey: but never am I unblest, O my Lord, in my prayer to Thee!

PICKTHAL: Saying: My Lord! Lo! the bones of me wax feeble and my head is shining with grey hair, and I have never been unblest in prayer to Thee, my Lord.

SHAKIR: He said: My Lord! surely my bones are weakened and my head flares with hoariness, and, my Lord! I have never been unsuccessful in my prayer to Thee:

KHALIFA: He said, “My Lord, the bones have turned brittle in my body, and my hair is aflame with gray. As I implore You, my Lord, I never despair.

০৪। প্রার্থনা করেছিলো, “হে আমার প্রভু ! আমার অস্থি দুর্বল হয়ে পড়েছে, আমার মাথার চুল ধূসর চক্‌চকে হয়েছে। হে আমার প্রভু! আমার প্রার্থনায় আমি কখনও ব্যর্থকাম হই নাই। ২৪৫৮

২৪৫৮। এই আয়াতগুলি প্রমাণ করে জাকারিয়ার আল্লাহ্‌র প্রতি ঐকান্তিক বিশ্বাস। জাকারিয়া ছিলেন আল্লাহ্‌র নিকট অত্যন্ত উচ্চমানের নবী।

মসজিদই ছিলো তাঁর কাজের স্থান। তাঁর আত্মীয়রা ছিলেন তাঁর সহকর্মী। কিন্তু তিনি আশঙ্কা করেন যে তাদের চরিত্রে প্রকৃত ধর্মীয় বিশ্বাসের উদ্দীপনা বা তেজ অনুপস্থিত। তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন – কারণ কে আল্লাহ্‌র পতাকাকে সমুন্নত রাখবে তাঁর পরে ?

সূরা মারইয়াম(আয়াত ০৫)

আমি ভয় করি আমার পর আমার স্বগোত্রকে এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা; কাজেই আপনি নিজের পক্ষ থেকে আমাকে এক জন কর্তব্য পালনকারী দান করুন।

”And Verily! I fear my relatives after me, since my wife is barren. So give me from Yourself an heir,

وَإِنِّي خِفْتُ الْمَوَالِيَ مِن وَرَائِي وَكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا فَهَبْ لِي مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا

Wa-innee khiftu almawaliya min wara-ee wakanati imraatee AAaqiran fahab lee min ladunka waliyyan

YUSUFALI: “Now I fear (what) my relatives (and colleagues) (will do) after me: but my wife is barren: so give me an heir as from Thyself,-

PICKTHAL: Lo! I fear my kinsfolk after me, since my wife is barren. Oh, give me from Thy presence a successor

SHAKIR: And surely I fear my cousins after me, and my wife is barren, therefore grant me from Thyself an heir,

KHALIFA: “I worry about my dependants after me, and my wife has been sterile. Grant me, from You, an heir.

০৫। ” [কিন্তু ] এখন আমি আশংকা করি, আমার পরে আমার আত্মীয় [ এবং সহকর্মীরা কি করবে ] ? কিন্তু আমার স্ত্রী বন্ধ্যা। সুতারাং তুমি তোমার নিকট থেকে আমাকে উত্তরাধিকারী দান কর ; ২৪৫৯

২৪৫৯। জাকারিয়া শুধুমাত্র পুত্র সন্তানের জন্য প্রার্থনা করেন নাই। যদি তিনি শুধুমাত্র বংশ রক্ষার জন্য পুত্র সন্তানের কামনা করতেন, তবে তিনি বহুপূর্বে তাঁর যৌবন কালেই তা করতেন। তিনি ছিলেন প্রকৃত ধার্মিক , সুতারাং তাঁর প্রার্থনায় ব্যক্তি স্বার্থ স্থান পেতে পারে না।

তিনি যখন দেখলেন যে, আল্লাহ্‌র কাজের জন্য প্রকৃত যোগ্য লোকের ভবিষ্যতে প্রয়োজন হবে তখনই তিনি সকলের মঙ্গলের জন্য পূণ্যবান এক পুত্র সন্তানের কামনা করেন।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ০৬)

সে আমার স্থলাভিষিক্ত হবে ইয়াকুব বংশের এবং হে আমার পালনকর্তা, তাকে করুন সন্তোষজনক।

”Who shall inherit me, and inherit (also) the posterity of Ya’qûb (Jacob) (inheritance of the religious knowledge and Prophethood, not the wealth, etc.). And make him, my Lord, one with whom You are Well-pleased!”.

يَرِثُنِي وَيَرِثُ مِنْ آلِ يَعْقُوبَ وَاجْعَلْهُ رَبِّ رَضِيًّا

Yarithunee wayarithu min ali yaAAqooba waijAAalhu rabbi radiyyan

YUSUFALI: “(One that) will (truly) represent me, and represent the posterity of Jacob; and make him, O my Lord! one with whom Thou art well-pleased!”

PICKTHAL: Who shall inherit of me and inherit (also) of the house of Jacob. And make him, my Lord, acceptable (unto Thee).

SHAKIR: Who should inherit me and inherit from the children of Yaqoub, and make him, my Lord, one in whom Thou art well pleased.

KHALIFA: “Let him be my heir and the heir of Jacob’s clan, and make him, my Lord, acceptable.”

০৬। [ এমন একজন ] যে আমার প্রতিনিধিত্ব করবে এবং প্রতিনিধিত্ব করবে ইয়াকুবের বংশের। এবং হে আমার প্রভু ! তুমি তাঁকে তোমার সন্তোষজনক বানিও ২৪৬০। ”

২৪৬০। উত্তরাধিকার কথাটির সাথে সম্পত্তির অংশীদারিত্ব জড়িত। আল্লাহ্‌র মোমেন বান্দা হিসেবে জাকারিয়ার পার্থিব সম্পদ না থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু তার ছিলো অমূল্য চারিত্রিক গুণরাজি। তিনি সেই অমূল্য চারিত্রিক সম্পদ সমূহ তাঁর পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে প্রবাহিত করতে চেয়েছিলেন।

নবী রসুলদের বংশ হিসেবে হযরত ইয়াকুবের বংশধরেরা এই সব অমূল্য নৈতিক ও চারিত্রিক গুণে সমৃদ্ধ ছিলেন। সুতারাং এই আয়াতে ‘প্রতিনিধিত্ব’ শব্দটি বৃহত্তর কর্তব্যের প্রতি দায়িত্বের আহ্বান। জাকারিয়া বৃদ্ধ বয়েসে অনুভব করতে পেরেছিলেন যে, তাঁর চারিপার্শ্বের লোকেরা আল্লাহ্‌র রাস্তা থেকে বিপথে পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর উত্তরাধিকারী কি তাঁর মত তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারবে ?

সূরা মারইয়াম(আয়াত ০৭)

হে যাকারিয়া, আমি তোমাকে এক পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছি, তার নাম হবে ইয়াহইয়া। ইতিপূর্বে এই নামে আমি কারও নাম করণ করিনি।

(Allâh said) ”O Zakariya (Zachariah)! Verily, We give you the glad tidings of a son, His name will be Yahya (John). We have given that name to none before (him).”

يَا زَكَرِيَّا إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلَامٍ اسْمُهُ يَحْيَى لَمْ نَجْعَل لَّهُ مِن قَبْلُ سَمِيًّا

Ya zakariyya inna nubashshiruka bighulamin ismuhu yahya lam najAAal lahu min qablu samiyyan

YUSUFALI: (His prayer was answered): “O Zakariya! We give thee good news of a son: His name shall be Yahya: on none by that name have We conferred distinction before.”

PICKTHAL: (It was said unto him): O Zachariah! Lo! We bring thee tidings of a son whose name is John; we have given the same name to none before (him).

SHAKIR: O Zakariya! surely We give you good news of a boy whose name shall be Yahya: We have not made before anyone his equal.

KHALIFA: “O Zachariah, we give you good news; a boy whose name shall be John (Yahya). We never created anyone like him before.”

০৭। [ তাঁর প্রার্থনা মঞ্জুর হয়েছিলো ] ” হে যাকারিয়া! আমি তোমাকে এক পুত্রের সুসংবাদ দিতেছি। তার নাম হবে ইয়াহিয়া। এই নামে পূর্বে আমি কারও নামকরণ করি নাই ২৪৬১।

২৪৬১। ইয়াহিয়া হচ্ছেন “John the Baptist” , যাকে যীশু খৃষ্টের আগমনের অগ্রদূত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর পিতার প্রার্থনার সাথে তাঁর কাজের সমন্বয় ঘটেছিলো। সে সময়ে ইহুদীরা আল্লাহ্‌র বাণীকে বিকৃত করে ফেলেছিলো। যীশুর আগমনের অগ্রদূত ইয়াহিয়া ও যীশু খৃষ্ট আল্লাহ্‌র বাণীকে পুণঃ প্রতিষ্ঠা করেন।

আরবীতে ইয়াহিয়া অর্থ ‘ জীবন’। হিব্রু ভাষাতে ইয়াহিয়াকে বলা হয় Johanan যার অর্থ “জোহাবার অনুগ্রহশীল। ইহুদীরা আল্লাহ্‌র পরিবর্তে ‘ জোহাবা ‘ শব্দটি ব্যবহার করে।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ০৮)

সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা কেমন করে আমার পুত্র হবে অথচ আমার স্ত্রী যে বন্ধ্যা, আর আমিও যে বার্ধক্যের শেষ প্রান্তে উপনীত।

He said: ”My Lord! How can I have a son, when my wife is barren, and I have reached the extreme old age.”

قَالَ رَبِّ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلَامٌ وَكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا وَقَدْ بَلَغْتُ مِنَ الْكِبَرِ عِتِيًّا

Qala rabbi anna yakoonu lee ghulamun wakanati imraatee AAaqiran waqad balaghtu mina alkibari AAitiyyan

YUSUFALI: He said: “O my Lord! How shall I have a son, when my wife is barren and I have grown quite decrepit from old age?”

PICKTHAL: He said: My Lord! How can I have a son when my wife is barren and I have reached infirm old age?

SHAKIR: He said: O my Lord! when shall I have a son, and my wife is barren, and I myself have reached indeed the extreme degree of old age?

KHALIFA: He said, “My Lord, will I have a son despite my wife’s sterility, and despite my old age?”

০৮। সে বলেছিলো, “হে আমার প্রভু ! কি ভাবে আমার পুত্র হবে, যখন আমার স্ত্রী বন্ধ্যা ও আমি বার্দ্ধক্যের শেষ সীমাতে উপণীত হয়েছি?

০৯। তিনি বললেন, ” এরূপে [ তা হবে ] ” ২৪৬২। তোমার প্রভু বলেছিলেন, ” এটা আমার জন্য সহজ। আমি তো তোমাকে পূর্বে সৃষ্টি করেছি যখন তুমি কিছুই ছিলে না।” ২৪৬৩

২৪৬২। “তিনি বললেন” – এই বাক্যটির “তিনি” বলতে কাক বোঝানো হয়েছে ? এখানে অধিকাংশ তফসীরকারের মত অনুসরণ করা হয়েছে। এখানে ” তিনি ” হচ্ছেন দেবদূত যিনি আল্লাহ্‌র বার্তা জাকারিয়ার কাছে বহন করে আনেন। দেখুন নীচের আয়াত [ ১৯: ২১ ]।

কোন কোন তফসীরকারের মতে এই ” তিনি ” শব্দটি জাকারিয়ার পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে। মানুষ অত্যাধিক আশ্চর্য হয়ে গেলে ” সত্যিই তাই হবে ” এরূপ বাক্য ব্যবহার করে থাকে।

অর্থাৎ জাকারিয়া আশ্চর্যান্বিত ভাবে উপরোক্ত বাক্য উচ্চারণ করেন যার অর্থ হবে ” সত্যিই কি এরূপ ঘটবে যে বৃদ্ধ বয়েসে আমার সন্তান লাভ ঘটবে। ” পরের লাইনে বলা হয়েছে যে “তোমার প্রতিপালক বলিলেন ইত্যাদি। সে ক্ষেত্রে হবে দেবদূতের বার্তা।

সূরা মারইয়াম

সূরা মারইয়াম(আয়াত ০৯)

তিনি বললেনঃ এমনিতেই হবে। তোমার পালনকর্তা বলে দিয়েছেনঃ এটা আমার পক্ষে সহজ। আমি তো পুর্বে তোমাকে সৃষ্টি করেছি এবং তুমি কিছুই ছিলে না।

He said: ”So (it will be). Your Lord says; It is easy for Me. Certainly I have created you before, when you had been nothing!”

قَالَ كَذَلِكَ قَالَ رَبُّكَ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ وَقَدْ خَلَقْتُكَ مِن قَبْلُ وَلَمْ تَكُ شَيْئً

Qala kathalika qala rabbuka huwa AAalayya hayyinun waqad khalaqtuka min qablu walam taku shay-an

YUSUFALI: He said: “So (it will be) thy Lord saith, ‘that is easy for Me: I did indeed create thee before, when thou hadst been nothing!’”

PICKTHAL: He said: So (it will be). Thy Lord saith: It is easy for Me, even as I created thee before, when thou wast naught.

SHAKIR: He said: So shall it be, your Lord says: It is easy to Me, and indeed I created you before, when you were nothing.

KHALIFA: He said, “Thus said your Lord: `It is easy for Me to do. I created you before that, and you were nothing.’ ”

০৯। তিনি বললেন, ” এরূপে [ তা হবে ] ” ২৪৬২। তোমার প্রভু বলেছিলেন, ” এটা আমার জন্য সহজ। আমি তো তোমাকে পূর্বে সৃষ্টি করেছি যখন তুমি কিছুই ছিলে না।” ২৪৬৩

২৪৬৩। এই পৃথিবীতে জন্মের পূর্বে মানুষের কোনও অস্তিত্বই ছিলো না। তাঁর সত্তা বা আত্মার অস্তিত্ব ছিলো শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র নিকট। যদিও মানুষের জন্ম ঘটে প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী। সৃষ্টির নিয়ম অনুযায়ী জীবের দেহের গঠন প্রকৃতি গঠিত হয়। তবুও সকল সৃষ্টির পিছনে কাজ করে আল্লাহ্‌র শক্তি।

এই সাধারণ অর্থ ব্যতীতও এই আয়াটিতে পরোক্ষভাবে অন্য আর এক বিশেষ ভাবের অবতারণা করেছে। জন বা ইয়াহিয়া ছিলেন যীশুর আগমনের বার্তাবাহী অগ্রদূত। তিনি যীশুর আগমনের পথ প্রশস্ত করেন। ” যখন তুমি কিছুই ছিলে না ” বাক্যটি দ্বারা পরোক্ষভাবে যীশুর অত্যাচার্য জন্ম ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। দেখুন আয়াত [ ১৯ : ২১ ]। আল্লাহ্‌র পক্ষে সবই সম্ভব তিনি সর্বশক্তিমান।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ১০)

সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে একটি নির্দশন দিন। তিনি বললেন তোমার নিদর্শন এই যে, তুমি সুস্থ অবস্থায় তিন দিন মানুষের সাথে কথাবার্তা বলবে না।

[Zakariya (Zachariah)] said: ”My Lord! Appoint for me a sign.” He said: ”Your sign is that you shall not speak unto mankind for three nights, though having no bodily defect.”

قَالَ رَبِّ اجْعَل لِّي آيَةً قَالَ آيَتُكَ أَلَّا تُكَلِّمَ النَّاسَ ثَلَاثَ لَيَالٍ سَوِيًّا

Qala rabbi ijAAal lee ayatan qala ayatuka alla tukallima alnnasa thalatha layalin sawiyyan

YUSUFALI: (Zakariya) said: “O my Lord! give me a Sign.” “Thy Sign,” was the answer, “Shall be that thou shalt speak to no man for three nights, although thou art not dumb.”

PICKTHAL: He said: My Lord! Appoint for me some token. He said: Thy token is that thou, with no bodily defect, shalt not speak unto mankind three nights.

SHAKIR: He said: My Lord! give me a sign. He said: Your sign is that you will not be able to speak to the people three nights while in sound health.

KHALIFA: He said, “My Lord, give me a sign.” He said, “Your sign is that you will not speak to the people for three consecutive nights.”

১০। যাকারিয়া বলেছিলো, ” হে আমার প্রভু ! আমাকে একটি নিদর্শন দাও।” ২৪৬৪। উত্তর হলো, ” তোমার নিদর্শন এই যে, তুমি বোবা না হওয়া সত্বেও কারও সাথে তিন রাত্রি বাক্যলাপ করবে না ” ২৪৬৫।

২৪৬৪। এখানে ” নিদর্শন ” অর্থ আল্লাহ্‌র অঙ্গীকার সত্য হবেই। এই বিশ্বাস জাকারিয়ার অন্তরে উৎপন্ন করার জন্য নিদর্শন।
২৪৬৫। [৩: ৪১] আয়াতটি এই [ ১৯ : ১০ ] আয়াতের সাথে তুলনা করুন। পার্থক্যটি কৌতুহল উদ্দীপক। এই আয়াতে বলা হয়েছে তিন রাত্রির কথা পূর্বেও আয়াতে অনুরূপ ক্ষেত্রে বলা হয়েছে তিন দিনের কথা।

অবশ্য এর জন্য আয়াতের অর্থের কোন পরিবর্তন ঘটে না। কারণ ‘দিন’ বলতে আমরা শুধুমাত্র দিবাভাগকে বুঝি না। ‘দিন’ বলতে দিন ও রাত্রির সমন্বয়ে ২৪ ঘণ্টাকে বুঝায়। কিন্তু এই দুই আয়াতে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য লক্ষণীয় যেখানে দিনের উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানের উল্লেখ্য সময় হচ্ছে উম্মত বা জনসাধারণের সাথে যে সময় তিনি কাটাতেন। ‘

রাত’ বলতে সেই সময়কে বোঝানো হয়েছে, যখন তিনি প্রার্থনা ও এবাদতে নিজের মধ্যে আত্মনিমগ্ন থাকতেন। লক্ষ্য করুণ পরবর্তী আয়াতে আছে ” সকাল ও সন্ধ্যায়” বাক্যটি।আবার আয়াতে [ ৩:৪১] আছে ” সন্ধ্যা ও সকালে ” বাক্যটি। এই বাক্য গুলিতে একই বিষয়কে বিপরীতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ১১)

অতঃপর সে কক্ষ থেকে বের হয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে এল এবং ইঙ্গিতে তাদেরকে সকাল সন্ধ্যায় আল্লাহকে স্মরণ করতে বললঃ
Then he came out to his people from Al-Mihrâb (a praying place or a private room, etc.), he told them by signs to glorify Allâh’s Praises in the morning and in the afternoon.

فَخَرَجَ عَلَى قَوْمِهِ مِنَ الْمِحْرَابِ فَأَوْحَى إِلَيْهِمْ أَن سَبِّحُوا بُكْرَةً وَعَشِيًّا
Fakharaja AAala qawmihi mina almihrabi faawha ilayhim an sabbihoo bukratan waAAashiyyan

YUSUFALI: So Zakariya came out to his people from him chamber: He told them by signs to celebrate Allah’s praises in the morning and in the evening.

PICKTHAL: Then he came forth unto his people from the sanctuary, and signified to them: Glorify your Lord at break of day and fall of night.

SHAKIR: So he went forth to his people from his place of worship, then he made known to them that they should glorify (Allah) morning and evening.

KHALIFA: He came out to his family, from the sanctuary, and signaled to them: “Meditate (on God) day and night.”

১১। অতঃপর যাকারিয়া তার কক্ষ থেকে বের হয়ে তার সম্প্রদায়ের নিকট এলো এবং ইঙ্গিতে তাদের সকাল – সন্ধ্যায় আল্লাহ্‌র পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতে বললো।

১২। [ তাঁর পুত্রের নিকট এই আদেশ এলো ] ২৪৬৬ ” হে ইয়াহিয়া ! এই কিতাব দৃঢ়তার সাথে গহণ কর। ” আমি তাকে শৈশবেই দান করেছিলাম জ্ঞান ও প্রজ্ঞা ২৪৬৭;-

২৪৬৬। সময়ের পরিক্রমায় একদিন পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। সূরাটির এই অধ্যায়ে প্রধানতঃ ইয়াহিয়ার কথা আলোচনা করা হয়েছে। এখন আল্লাহ্‌ তাকেঁ হুকুম দিলেন। আদেশ হলো, ” এই কিতাব দৃঢ়তার সাথে গ্রহণ কর।”

কিতাব অর্থ এখানে ইহুদীদের নিকট আল্লাহ্‌র প্রেরিত প্রত্যাদেশ তাওরাত। ইহুদীরা তাওরাতের বাণীকে বিকৃত করে ফেলেছিল। ইয়াহিয়ার [John the Bartist] উপরে দায়িত্ব হলো যীশুর জন্য ক্ষেত্র তৈরী করা , যিনি আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশের বিকৃতিকে সংশোধন ও সংস্কার সাধন করবেন ও নূতনভাবে ব্যাখ্যা দান করবেন।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ১২)

হে ইয়াহইয়া দৃঢ়তার সাথে এই গ্রন্থ ধারণ কর। আমি তাকে শৈশবেই বিচারবুদ্ধি দান করেছিলাম।

(It was said to his son): ”O Yahya (John)! Hold fast the Scripture [the Taurât (Torah)].” And We gave him wisdom while yet a child.

يَا يَحْيَى خُذِ الْكِتَابَ بِقُوَّةٍ وَآتَيْنَاهُ الْحُكْمَ صَبِيًّا

Ya yahya khuthi alkitaba biquwwatin waataynahu alhukma sabiyyan

YUSUFALI: (To his son came the command): “O Yahya! take hold of the Book with might”: and We gave him Wisdom even as a youth,

PICKTHAL: (And it was said unto his son): O John! Hold fast the Scripture. And we gave him wisdom when a child,

SHAKIR: O Yahya! take hold of the Book with strength, and We granted him wisdom while yet a child

KHALIFA: “O John, you shall uphold the scripture, strongly.” We endowed him with wisdom, even in his youth.

১২। [ তাঁর পুত্রের নিকট এই আদেশ এলো ] ২৪৬৬ ” হে ইয়াহিয়া ! এই কিতাব দৃঢ়তার সাথে গহণ কর। ” আমি তাকে শৈশবেই দান করেছিলাম জ্ঞান ও প্রজ্ঞা ২৪৬৭;-

২৪৬৭। “Hukm” শব্দটিকে অনুবাদ করা হয়েছে জ্ঞান কথাটির দ্বারা। তবে শব্দটির প্রকৃত অর্থ শুধুমাত্র জ্ঞান দ্বারা প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

এ হচ্ছে সেই জ্ঞান বা বিচার বুদ্ধি যা চেতনার মাঝে সত্য ও ন্যায়কে চেনার ক্ষমতা দান করে। ভালো ও মন্দকে সনাক্ত করার অন্তর্দৃষ্টি দান করে, ফলে পাপকে সনাক্ত করে তা পরিত্যাগ করার আদেশ দান করতে পারে।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ১৩)

এবং নিজের পক্ষ থেকে আগ্রহ ও পবিত্রতা দিয়েছি। সে ছিল পরহেযগার।
And (made him) sympathetic to men as a mercy (or a grant) from Us, and pure from sins [i.e. Yahya (John)] and he was righteous,

وَحَنَانًا مِّن لَّدُنَّا وَزَكَاةً وَكَانَ تَقِيًّا
Wahananan min ladunna wazakatan wakana taqiyyan

YUSUFALI: And piety (for all creatures) as from Us, and purity: He was devout,
PICKTHAL: And compassion from Our presence, and purity; and he was devout,

SHAKIR: And tenderness from Us and purity, and he was one who guarded (against evil),
KHALIFA: And (we endowed him with) kindness from us and purity, for he was righteous.

১৩। এবং পরদুঃখকাতরতা ও পবিত্রতা। সে ছিলো আন্তরিক ধর্মনিষ্ঠ ২৪৬৮।

২৪৬৮। এই আয়াতে ইয়াহিয়ার অন্যান্য বৈশিষ্ট্য যা আল্লাহ্‌ তাঁকে দান করেছিলেন তা তুলে ধরা হয়েছে। ইয়াহিয়া বেশীদিন বাঁচেন নাই। রোমান সম্রাটের প্রাদেশিক শাসন কর্তা হেরোডের [Herod] দ্বারা তিনি বন্দী হন

এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর শিরচ্ছেদ করা হয় কিন্তু তাঁর অল্প বয়স সত্বেও আল্লাহ্‌ তাঁকে দান করেন নিম্নলিখিত চারিত্রিক মাধুর্য : ১) আল্লাহ্‌ প্রদত্ত আধ্যাত্মিক জ্ঞান লাভ করেন, যার দরুণ তিনি নির্ভয়ে পাপকে অস্বীকার করেন। ২) কোমল হৃদয়, যা পরের দুঃখে কাতর হয়, আল্লাহ্‌র সৃষ্ট জীবের জন্য যে হৃদয় অনুভূতিশীল। তিনি গরীব , দুঃখীদের মধ্যেই তাঁর কাজকে সীমাবদ্ধ রাখতেন।

তিনি বিলাস ব্যসনকে ঘৃণা করতেন। ৩) তিনি ছিলেন পবিত্র হৃদয়ের অধিকারী। তিনি মনুষ্য সমাজ পরিত্যাগ করে জনবসতিহীন প্রান্তরে থাকতেন। এগুলি ছিলো তাঁর বৈশিষ্ট্য। তিনি তাঁর সমস্ত কাজই যৌবনেই শেষ করেন। আল্লাহ্‌র এই বিশেষ অনুগ্রহ তার চরিত্রে, তাঁর কাজের মাধ্যমে পরিষ্ফুট হয়।

তিনি ছিলেন আল্লাহ্‌র প্রতি একান্ত অনুগত, আল্লাহ্‌র সৃষ্ট জীবের প্রতি দুঃখে কাতর ও দয়াশীল। তিনি জীবনের কোনও অবস্থাতেই হিংসার বা উগ্রতার আশ্রয় গ্রহণ করেন নাই, তিনি ছিলেন করুণার প্রতীক। বিশেষ ভাবে তিনি তাঁর পিতামাতার প্রতি ছিলেন অত্যন্ত নম্র ও করুণাময়।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ১৪)

পিতা-মাতার অনুগত এবং সে উদ্ধত, নাফরমান ছিল না।

And dutiful towards his parents, and he was neither an arrogant nor disobedient (to Allâh or to his parents).

وَبَرًّا بِوَالِدَيْهِ وَلَمْ يَكُن جَبَّارًا عَصِيًّا

Wabarran biwalidayhi walam yakun jabbaran AAasiyyan

YUSUFALI: And kind to his parents, and he was not overbearing or rebellious.
PICKTHAL: And dutiful toward his parents. And he was not arrogant, rebellious.

SHAKIR: And dutiful to his parents, and he was not insolent, disobedient.
KHALIFA: He honored his parents, and was never a disobedient tyrant.

১৪। এবং পিতামাতার প্রতি দয়ালু। সে উদ্ধত বা বিদ্রোহী ছিলো না।

১৫। যেদিন সে জন্ম লাভ করে, যেদিন সে মৃত্যু বরণ করে, যেদিন সে পুণরুত্থিত হবে, তাঁর প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক ২৪৬৯।

২৪৬৯। এই আয়াতের কথাগুলি আল্লাহ্‌ ইয়াহিয়াকে বলেছেন। আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ, আর্শীবাদ ও শান্তি তাঁর উপরে বর্ষিত হয় যখন তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। আল্লাহ্‌র এই বিশেষ অনুগ্রহ তাঁর জীবনের শেষ পর্যন্ত প্রবাহিত হয়।

এমনকি অত্যাচারীরা তাঁকে যখন অন্যায়ভাবে হত্যা করে তখনও তার মানসিক শান্তি অটুট ছিলো।।আল্লাহ্‌ এখানে বলছেন তাঁর এই মানসিক অবস্থা পুনরুত্থানের দিনেও অটুট থাকবে।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ১৫)

তার প্রতি শান্তি-যেদিন সে জন্মগ্রহণ করে এবং যেদিন মৃত্যুবরণ করবে এবং যেদিন জীবিতাবস্থায় পুনরুত্থিত হবে।

And Salâmun (peace) be on him the day he was born, the day he dies, and the day he will be raised up to life (again)!

وَسَلَامٌ عَلَيْهِ يَوْمَ وُلِدَ وَيَوْمَ يَمُوتُ وَيَوْمَ يُبْعَثُ حَيًّا

Wasalamun AAalayhi yawma wulida wayawma yamootu wayawma yubAAathu hayyan

YUSUFALI: So Peace on him the day he was born, the day that he dies, and the day that he will be raised up to life (again)!

PICKTHAL: Peace on him the day he was born, and the day he dieth and the day he shall be raised alive!

SHAKIR: And peace on him on the day he was born, and on the day he dies, and on the day he is raised to life

KHALIFA: Peace be upon him the day he was born, the day he dies, and the day he is resurrected back to life.

১৪। এবং পিতামাতার প্রতি দয়ালু। সে উদ্ধত বা বিদ্রোহী ছিলো না।

১৫। যেদিন সে জন্ম লাভ করে, যেদিন সে মৃত্যু বরণ করে, যেদিন সে পুণরুত্থিত হবে, তাঁর প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক ২৪৬৯।

২৪৬৯। এই আয়াতের কথাগুলি আল্লাহ্‌ ইয়াহিয়াকে বলেছেন। আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ, আর্শীবাদ ও শান্তি তাঁর উপরে বর্ষিত হয় যখন তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। আল্লাহ্‌র এই বিশেষ অনুগ্রহ তাঁর জীবনের শেষ পর্যন্ত প্রবাহিত হয়।

এমনকি অত্যাচারীরা তাঁকে যখন অন্যায়ভাবে হত্যা করে তখনও তার মানসিক শান্তি অটুট ছিলো।।আল্লাহ্‌ এখানে বলছেন তাঁর এই মানসিক অবস্থা পুনরুত্থানের দিনেও অটুট থাকবে।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ১৬)

এই কিতাবে মারইয়ামের কথা বর্ণনা করুন, যখন সে তার পরিবারের লোকজন থেকে পৃথক হয়ে পূর্বদিকে এক স্থানে আশ্রয় নিল।

And mention in the Book (the Qur’ân, O Muhammad SAW , the story of) Maryam (Mary), when she withdrew in seclusion from her family to a place facing east.

وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مَرْيَمَ إِذِ انتَبَذَتْ مِنْ أَهْلِهَا مَكَانًا شَرْقِيًّا

Waothkur fee alkitabi maryama ithi intabathat min ahliha makanan sharqiyyan

YUSUFALI: Relate in the Book (the story of) Mary, when she withdrew from her family to a place in the East.

PICKTHAL: And make mention of Mary in the Scripture, when she had withdrawn from her people to a chamber looking East,

SHAKIR: And mention Marium in the Book when she drew aside from her family to an eastern place;

KHALIFA: Mention in the scripture Mary. She isolated herself from her family, into an eastern location.

রুকু – ২
১৬। বর্ণনা কর এই কিতাবের মরিয়মের [ কাহিনীর ] কথা ২৪৭০। যখন সে তার পরিবারবর্গ থেকে পৃথক হয়ে [নিরালায় ] পূর্ব দিকে এক স্থানে আশ্রয় নিল ২৪৭১।

২৪৭০। দেখুন মরিয়মের কাহিনীর জন্য সূরা [ ৩ : ৪২- ৫১ ] আয়াত। এখানে ঘটনাটিকে ভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে উত্থাপন করা হয়েছে। এখানে মেরীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার, পরিবার ও পরিবেশের আলোকে ঘটনাকে উত্থাপন করা হয়েছে।

২৪৭১। ” নিরালায় পূর্বদিকে এক স্থানে ” – এই বাক্যটির অর্থ সম্ভবতঃ মেরী তাঁর পরিবারবর্গ থেকে আলাদা হয়ে মসজিদের পূর্বদিকের নির্জন প্রকোষ্ঠে আশ্রয় গ্রহণ করেন। সেখানে নির্জনে তিনি আল্লাহ্‌র এবাদতে মশগুল হয়ে যান।

একান্ত প্রার্থনা ও এবাদতের মাধ্যমে তিনি পবিত্রতার এমন এক পর্যায়ে উন্নীত হন যে, তাঁর সামনে ফেরেশতার উপস্থিতি ধরা পড়ে। ফেরেশতা তাঁর সামনে মানুষের আকৃতিতে ধরা দেয়। মেরীর ধারণা হলো , তিনি একজন মানুষ। সুতারাং মেরী আল্লাহ্‌র নামে শপথ করে তাঁকে অনিষ্ট থেকে নিবৃত্ত করেন।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ১৭)

অতঃপর তাদের থেকে নিজেকে আড়াল করার জন্যে সে পর্দা করলো। অতঃপর আমি তার কাছে আমার রূহ প্রেরণ করলাম, সে তার নিকট পুর্ণ মানবাকৃতিতে আত্নপ্রকাশ করল।

She placed a screen (to screen herself) from them; then We sent to her Our Ruh [angel Jibrael (Gabriel)], and he appeared before her in the form of a man in all respects.

فَاتَّخَذَتْ مِن دُونِهِمْ حِجَابًا فَأَرْسَلْنَا إِلَيْهَا رُوحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَرًا سَوِيًّا

Faittakhathat min doonihim hijaban faarsalna ilayha roohana fatamaththala laha basharan sawiyyan

YUSUFALI: She placed a screen (to screen herself) from them; then We sent her our angel, and he appeared before her as a man in all respects.

PICKTHAL: And had chosen seclusion from them. Then We sent unto her Our Spirit and it assumed for her the likeness of a perfect man.

SHAKIR: So she took a veil (to screen herself) from them; then We sent to her Our spirit, and there appeared to her a well-made man.

KHALIFA: While a barrier separated her from them, we sent to her our Spirit. He went to her in the form of a human being.

১৭। সে তাদের নিকট থেকে [ আড়াল করার উদ্দেশ্যে ] পর্দ্দা স্থাপন করলো। অতঃপর আমি আমার ফেরেশতাকে প্রেরণ করলাম, এবং সে তার সম্মুখে পূর্ণ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করলো।

১৮। মারইয়াম বলেছিলো, ” আমি তোমা থেকে দয়াময় [আল্লাহ্‌র ] আশ্রয় প্রার্থনা করছি: যদি তুমি আল্লাহ্‌কে ভয় কর [ তবে আমার নিকটবর্তী হয়ো না ]।”

১৯। সে বলেছিলো, ” আমি তো তোমার প্রভুর প্রেরিত দূত, তোমার কাছে [ ঘোষণা করতে ] এসেছি এক পবিত্র পুত্র সন্তান উপহারের [ বার্তা ] ২৪৭২।

২৪৭২। আল্লাহ্‌ মেরীকে যীশু খৃষ্টের ‘মা’ হওয়ার সৌভাগ্যে গৌরবান্বিত করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। এখন সময় হয়েছে মেরীর সে খবর জানার।

সূরা মারইয়াম

সূরা মারইয়াম(আয়াত ১৮)

মারইয়াম বললঃ আমি তোমা থেকে দয়াময়ের আশ্রয় প্রার্থনা করি যদি তুমি আল্লাহভীরু হও।

She said: ”Verily! I seek refuge with the Most Beneficent (Allâh) from you, if you do fear Allâh.”

قَالَتْ إِنِّي أَعُوذُ بِالرَّحْمَن مِنكَ إِن كُنتَ تَقِيًّا

Qalat innee aAAoothu bialrrahmani minka in kunta taqiyyan

YUSUFALI: She said: “I seek refuge from thee to (Allah) Most Gracious: (come not near) if thou dost fear Allah.”

PICKTHAL: She said: Lo! I seek refuge in the Beneficent One from thee, if thou art Allah-fearing.

SHAKIR: She said: Surely I fly for refuge from you to the Beneficent Allah, if you are one guarding (against evil).

KHALIFA: She said, “I seek refuge in the Most Gracious, that you may be righteous.”

১৭। সে তাদের নিকট থেকে [ আড়াল করার উদ্দেশ্যে ] পর্দ্দা স্থাপন করলো। অতঃপর আমি আমার ফেরেশতাকে প্রেরণ করলাম, এবং সে তার সম্মুখে পূর্ণ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করলো।

১৮। মারইয়াম বলেছিলো, ” আমি তোমা থেকে দয়াময় [আল্লাহ্‌র ] আশ্রয় প্রার্থনা করছি: যদি তুমি আল্লাহ্‌কে ভয় কর [ তবে আমার নিকটবর্তী হয়ো না ]।”

১৯। সে বলেছিলো, ” আমি তো তোমার প্রভুর প্রেরিত দূত, তোমার কাছে [ ঘোষণা করতে ] এসেছি এক পবিত্র পুত্র সন্তান উপহারের [ বার্তা ] ২৪৭২।

২৪৭২। আল্লাহ্‌ মেরীকে যীশু খৃষ্টের ‘মা’ হওয়ার সৌভাগ্যে গৌরবান্বিত করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। এখন সময় হয়েছে মেরীর সে খবর জানার।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ১৯)

সে বললঃ আমি তো শুধু তোমার পালনকর্তা প্রেরিত, যাতে তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করে যাব।

(The angel) said: ”I am only a Messenger from your Lord, (to announce) to you the gift of a righteous son.”

قَالَ إِنَّمَا أَنَا رَسُولُ رَبِّكِ لِأَهَبَ لَكِ غُلَامًا زَكِيًّا

Qala innama ana rasoolu rabbiki li-ahaba laki ghulaman zakiyyan

YUSUFALI: He said: “Nay, I am only a messenger from thy Lord, (to announce) to thee the gift of a holy son.

PICKTHAL: He said: I am only a messenger of thy Lord, that I may bestow on thee a faultless son.

SHAKIR: He said: I am only a messenger of your Lord: That I will give you a pure boy.

KHALIFA: He said, “I am the messenger of your Lord, to grant you a pure son.”

১৭। সে তাদের নিকট থেকে [ আড়াল করার উদ্দেশ্যে ] পর্দ্দা স্থাপন করলো। অতঃপর আমি আমার ফেরেশতাকে প্রেরণ করলাম, এবং সে তার সম্মুখে পূর্ণ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করলো।

১৮। মারইয়াম বলেছিলো, ” আমি তোমা থেকে দয়াময় [আল্লাহ্‌র ] আশ্রয় প্রার্থনা করছি: যদি তুমি আল্লাহ্‌কে ভয় কর [ তবে আমার নিকটবর্তী হয়ো না ]।”

১৯। সে বলেছিলো, ” আমি তো তোমার প্রভুর প্রেরিত দূত, তোমার কাছে [ ঘোষণা করতে ] এসেছি এক পবিত্র পুত্র সন্তান উপহারের [ বার্তা ] ২৪৭২।

২৪৭২। আল্লাহ্‌ মেরীকে যীশু খৃষ্টের ‘মা’ হওয়ার সৌভাগ্যে গৌরবান্বিত করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। এখন সময় হয়েছে মেরীর সে খবর জানার।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ২০)

মরিইয়াম বললঃ কিরূপে আমার পুত্র হবে, যখন কোন মানব আমাকে স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিণীও কখনও ছিলাম না ?

She said: ”How can I have a son, when no man has touched me, nor am I unchaste?”

قَالَتْ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلَامٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ وَلَمْ أَكُ بَغِيًّا

Qalat anna yakoonu lee ghulamun walam yamsasnee basharun walam aku baghiyyan

YUSUFALI: She said: “How shall I have a son, seeing that no man has touched me, and I am not unchaste?”

PICKTHAL: She said: How can I have a son when no mortal hath touched me, neither have I been unchaste?

SHAKIR: She said: When shall I have a boy and no mortal has yet touched me, nor have I been unchaste?

KHALIFA: She said, “How can I have a son, when no man has touched me; I have never been unchaste.”

২০। মারইয়াম বলেছিলো, “যেখানে আমাকে কোন পুরুষ স্পর্শ করে নাই , সেখানে কিভাবে আমার পুত্র সন্তান হবে? আমি তো ব্যভিচারিণী নই।”

২১। সে বলেছিলো, ” এরূপেই [ হবে] “। তোমার প্রভু বলেছেন, ” ইহা আমার জন্য সহজ , [ আমার ইচ্ছা ] সে যেনো হয় মানুষের জন্য এক নিদর্শন এবং আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ স্বরূপ ২৪৭৩। ব্যাপারটি এ ভাবেই স্থির করা হয়েছে। ” ২৪৭৪

২৪৭৩। যীশুকে এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ বলেছেন তাঁর নিদর্শন ও অনুগ্রহ। আল্লাহ্‌ কর্তৃক যীশু খৃষ্টের প্রতি নির্দ্দিষ্ট কাজকে এখানে দুইভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে। ১) সাধারণ মানুষের কাছে তিনি হবেন এক অলৌকিক নিদর্শন তাঁর আশ্চর্যজনক জন্ম , জীবন ও আল্লাহ্‌র নিকট তাঁর প্রত্যাবর্তন। ২) যীশু খৃষ্টের প্রতি আল্লাহ্‌ প্রদত্ত নির্দ্দিষ্ট কাজ ছিলো অন্যান্য রাসুলদের মত।

তিনি ইসরাঈলীদের নিকট প্রেরিত হন। কিন্তু ইসরাঈলীরা ছিল কঠিন হৃদয় বিশিষ্ট। তাই এদের জন্য যীশুর খৃষ্টের বাণী ছিলো অপরের প্রতি দয়া ও করুণার উপদেশ।

২৪৭৪। আল্লাহ্‌ কোনও কিছু সৃষ্টি করতে চাইলে শুধু বলেন ‘হও’ আর তা হয়ে যায়। অনুরূপ আয়াত দেখুন [ ৩: ৪৭]। তার হুকুম সাথে সাথেই পালিত হয়। তিনি যদি ইচ্ছা করেন শুধু মাত্র তখনই তা দেরী হয়। সময় সম্বন্ধে আমাদের যে ধারণা সে তো শুধুমাত্র আপেক্ষিক ধারণা সময়ের প্রকৃত ধারণা আল্লাহ্‌ই জানেন।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ২১)

সে বললঃ এমনিতেই হবে। তোমার পালনকর্তা বলেছেন, এটা আমার জন্যে সহজ সাধ্য এবং আমি তাকে মানুষের জন্যে একটি নিদর্শন ও আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ স্বরূপ করতে চাই। এটা তো এক স্থিরীকৃত ব্যাপার।

He said: ”So (it will be), your Lord said: ’That is easy for Me (Allâh): And (We wish) to appoint him as a sign to mankind and a mercy from Us (Allâh), and it is a matter (already) decreed, (by Allâh).’ ”

قَالَ كَذَلِكِ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ وَلِنَجْعَلَهُ آيَةً لِلنَّاسِ وَرَحْمَةً مِّنَّا وَكَانَ أَمْرًا مَّقْضِيًّا

Qala kathaliki qala rabbuki huwa AAalayya hayyinun walinajAAalahu ayatan lilnnasi warahmatan minna wakana amran maqdiyyan

YUSUFALI: He said: “So (it will be): Thy Lord saith, ‘that is easy for Me: and (We wish) to appoint him as a Sign unto men and a Mercy from Us’:It is a matter (so) decreed.”

PICKTHAL: He said: So (it will be). Thy Lord saith: It is easy for Me. And (it will be) that We may make of him a revelation for mankind and a mercy from Us, and it is a thing ordained.

SHAKIR: He said: Even so; your Lord says: It is easy to Me: and that We may make him a sign to men and a mercy from Us, and it is a matter which has been decreed.

KHALIFA: He said, “Thus said your Lord, `It is easy for Me. We will render him a sign for the people, and mercy from us. This is a predestined matter.’ ”

২০। মারইয়াম বলেছিলো, “যেখানে আমাকে কোন পুরুষ স্পর্শ করে নাই , সেখানে কিভাবে আমার পুত্র সন্তান হবে? আমি তো ব্যভিচারিণী নই।”

২১। সে বলেছিলো, ” এরূপেই [ হবে] “। তোমার প্রভু বলেছেন, ” ইহা আমার জন্য সহজ , [ আমার ইচ্ছা ] সে যেনো হয় মানুষের জন্য এক নিদর্শন এবং আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ স্বরূপ ২৪৭৩। ব্যাপারটি এ ভাবেই স্থির করা হয়েছে। ” ২৪৭৪

২৪৭৩। যীশুকে এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ বলেছেন তাঁর নিদর্শন ও অনুগ্রহ। আল্লাহ্‌ কর্তৃক যীশু খৃষ্টের প্রতি নির্দ্দিষ্ট কাজকে এখানে দুইভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে। ১) সাধারণ মানুষের কাছে তিনি হবেন এক অলৌকিক নিদর্শন তাঁর আশ্চর্যজনক জন্ম , জীবন ও আল্লাহ্‌র নিকট তাঁর প্রত্যাবর্তন।

২) যীশু খৃষ্টের প্রতি আল্লাহ্‌ প্রদত্ত নির্দ্দিষ্ট কাজ ছিলো অন্যান্য রাসুলদের মত। তিনি ইসরাঈলীদের নিকট প্রেরিত হন। কিন্তু ইসরাঈলীরা ছিল কঠিন হৃদয় বিশিষ্ট। তাই এদের জন্য যীশুর খৃষ্টের বাণী ছিলো অপরের প্রতি দয়া ও করুণার উপদেশ।

২৪৭৪। আল্লাহ্‌ কোনও কিছু সৃষ্টি করতে চাইলে শুধু বলেন ‘হও’ আর তা হয়ে যায়। অনুরূপ আয়াত দেখুন [ ৩: ৪৭]। তার হুকুম সাথে সাথেই পালিত হয়। তিনি যদি ইচ্ছা করেন শুধু মাত্র তখনই তা দেরী হয়। সময় সম্বন্ধে আমাদের যে ধারণা সে তো শুধুমাত্র আপেক্ষিক ধারণা সময়ের প্রকৃত ধারণা আল্লাহ্‌ই জানেন।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ২২)

অতঃপর তিনি গর্ভে সন্তান ধারণ করলেন এবং তৎসহ এক দূরবর্তী স্থানে চলে গেলেন।
So she conceived him, and she withdrew with him to a far place (i.e. Bethlehem valley about 4-6 miles from Jerusalem).

فَحَمَلَتْهُ فَانتَبَذَتْ بِهِ مَكَانًا قَصِيًّا
Fahamalat-hu faintabathat bihi makanan qasiyyan

YUSUFALI: So she conceived him, and she retired with him to a remote place.
PICKTHAL: And she conceived him, and she withdrew with him to a far place.

SHAKIR: So she conceived him; then withdrew herself with him to a remote place.
KHALIFA: When she bore him, she isolated herself to a faraway place.

২২। সুতারাং সে তাঁকে গর্ভে ধারণ করলো; এবং সেই অবস্থায় সে এক দূরবর্তী স্থানে চলে গেল ২৪৭৫।

২৪৭৫। যে দিন জিব্রাইল কুমারী মেরীকে যীশুর আগমন বার্তা ঘোষণা করেন এবং মেরী যীশুকে গর্ভে ধারণ করেন, ধারণা করা হয় যে , স্থানটি ছিলো জেরুজালেম থেকে ৬৫ মাইল উত্তরে নাজেরা [Nazareth] নামক স্থান।

মেরী সন্তান প্রসব করেন জেরুজালেম থেকে ৬ মাইল দক্ষিণে বেথেলহামে। স্থানটি শুধু যে নাজেরা থেকে ৭১ মাইল দূরে ছিলো তাই নয়, যেখানে যীশু জন্মগ্রহণ করেন তা ছিলো বেথেলহামের এক নির্জন অজ্ঞাত স্থান। যীশু জন্ম গ্রহণ করেন খেজুর গাছের নীচে, পরে তাঁকে আস্তাবলের জাবনা পাত্রে স্থানান্তরিত করা হয়।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ২৩)

প্রসব বেদনা তাঁকে এক খেজুর বৃক্ষ-মূলে আশ্রয় নিতে বাধ্য করল। তিনি বললেনঃ হায়, আমি যদি কোনরূপে এর পূর্বে মরে যেতাম এবং মানুষের স্মৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে, যেতাম!

And the pains of childbirth drove her to the trunk of a date-palm. She said: ”Would that I had died before this, and had been forgotten and out of sight!”

فَأَجَاءهَا الْمَخَاضُ إِلَى جِذْعِ النَّخْلَةِ قَالَتْ يَا لَيْتَنِي مِتُّ قَبْلَ هَذَا وَكُنتُ نَسْيًا مَّنسِيًّا

Faajaaha almakhadu ila jithAAi alnnakhlati qalat ya laytanee mittu qabla hatha wakuntu nasyan mansiyyan

YUSUFALI: And the pains of childbirth drove her to the trunk of a palm-tree: She cried (in her anguish): “Ah! would that I had died before this! would that I had been a thing forgotten and out of sight!”

PICKTHAL: And the pangs of childbirth drove her unto the trunk of the palm-tree. She said: Oh, would that I had died ere this and had become a thing of naught, forgotten!

SHAKIR: And the throes (of childbirth) compelled her to betake herself to the trunk of a palm tree. She said: Oh, would that I had died before this, and had been a thing quite forgotten!

KHALIFA: The birth process came to her by the trunk of a palm tree. She said, “(I am so ashamed;) I wish I were dead before this happened, and completely forgotten.”

২৩। প্রসব বেদনা তাকে এক খেজুর গাছের তলায় আশ্রয় নিতে বাধ্য করলো। [ তীব্র দৈহিক যাতনায় ] সে কেঁদে বলেছিলো, ” হায়! এর আগে যদি আমি মরে যেতাম ! তবে লোকের স্মৃতি থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হতাম ” ২৪৭৬।

২৪৭৬। প্রসব বেদনার তীব্রতায় মেরী উপরের উক্তি করেন। সব কিছুর উর্দ্ধে মেরীও ছিলেন মানুষ। মানুষের শারীরিক যন্ত্রনাও তাঁকে ভোগ করতে হয়। পরিবেশটি ছিলো বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। আত্মীয়-স্বজন থেকে সূদূর বেথেলহামে প্রসব বেদনায় তীব্র যন্ত্রণাতে কুমারী মাতা ছ্টফট করছেন সম্পূর্ণ একা।

সূরা মারইয়াম

সূরা মারইয়াম(আয়াত ২৪)

অতঃপর ফেরেশতা তাকে নিম্নদিক থেকে আওয়ায দিলেন যে, তুমি দুঃখ করো না। তোমার পালনকর্তা তোমার পায়ের তলায় একটি নহর জারি করেছেন।

Then [the babe ’Iesa (Jesus) or Jibrael (Gabriel)] cried unto her from below her, saying: ”Grieve not! Your Lord has provided a water stream under you;

فَنَادَاهَا مِن تَحْتِهَا أَلَّا تَحْزَنِي قَدْ جَعَلَ رَبُّكِ تَحْتَكِ سَرِيًّا

Fanadaha min tahtiha alla tahzanee qad jaAAala rabbuki tahtaki sariyyan

YUSUFALI: But (a voice) cried to her from beneath the (palm-tree): “Grieve not! for thy Lord hath provided a rivulet beneath thee;

PICKTHAL: Then (one) cried unto her from below her, saying: Grieve not! Thy Lord hath placed a rivulet beneath thee,

SHAKIR: Then (the child) called out to her from beneath her: Grieve not, surely your Lord has made a stream to flow beneath you;

KHALIFA: (The infant) called her from beneath her, saying, “Do not grieve. Your Lord has provided you with a stream.

২৪। কিন্তু [ একটি স্বর ] তাকে [ খেজুর গাছের ] নীচ থেকে আহ্বান করে বললো, ” দুঃখ করো না! তোমার প্রভু তোমার [ পিপাসা নিবারণের ] জন্য নীচে একটি ছোট্ট নদী সৃষ্টি করেছেন ; –

২৫। ” এবং খেজুর গাছের কান্ডকে তোমার দিকে নাড়া দাও ; উহা তোমার জন্য তাজা পাকা খেজুর পতিত করবে। ২৪৭৭

২৪৭৭। দয়াময় আল্লাহ্‌র অদৃশ্য করুণার ধারা মেরীর জন্য খাদ্য ও পানীয়ের সুবন্দোবস্ত করেন। পানীয়ের জন্য আল্লাহ্‌ মেরীর জন্য ক্ষুদ্র নদীর সৃষ্টি করেন যাতে তিনি নিজেকে ধৌত করতে পারবেন।

আরও দেখুনঃ 

সূরা মারইয়ামপার্ট-২

সূরা কাহফ পার্ট-৫

সূরা কাহফ পার্ট-৪

সূরা কাহফ পার্ট-৩

সূরা কাহফ পার্ট-২

সূরা কাহফ পার্ট-১

সূরা মারইয়াম – উইকিপিডিয়া

Leave a Comment