সূরা মারইয়াম পার্ট-২ [হযরত জাকারিয়া এর প্রার্থনার কথা,বিবি মারইয়াম এবং পুত্র হযরত ঈসা-এর সম্পর্কে বলা হয়েছে ]সূরা ১৯। কুরআন ।

সূরা মারইয়াম পার্ট-২ , সূরা মারইয়াম (আরবি ভাষায়: سورة مريم‎‎) মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের ১৯ নম্বর সূরা; এর আয়াত অর্থাৎ বাক্য সংখ্যা ৯৮ এবং রূকু তথা অনুচ্ছেদ সংখ্যা ৬। সূরা মারইয়াম মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এই সূরাটির প্রথমে হযরত জাকারিয়া এর প্রার্থনার কথা, পরে বিবি মারইয়াম এবং পুত্র হযরত ঈসা-এর সম্পর্কে বলা হয়েছে।

সূরা মারইয়াম পার্ট-২

সূরা মারইয়াম পার্ট-২

সূরা মারইয়াম

সূরা মারইয়াম(আয়াত ২৫)

আর তুমি নিজের দিকে খেজুর গাছের কান্ডে নাড়া দাও, তা থেকে তোমার উপর সুপক্ক খেজুর পতিত হবে।
”And shake the trunk of date-palm towards you, it will let fall fresh ripe-dates upon you.”

وَهُزِّي إِلَيْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسَاقِطْ عَلَيْكِ رُطَبًا جَنِيًّا
Wahuzzee ilayki bijithAAi alnnakhlati tusaqit AAalayki rutaban janiyyan

YUSUFALI: “And shake towards thyself the trunk of the palm-tree: It will let fall fresh ripe dates upon thee.

PICKTHAL: And shake the trunk of the palm-tree toward thee, thou wilt cause ripe dates to fall upon thee.

SHAKIR: And shake towards you the trunk of the palmtree, it will drop on you fresh ripe dates:

KHALIFA: “If you shake the trunk of this palm tree, it will drop ripe dates for you.

২৪। কিন্তু [ একটি স্বর ] তাকে [ খেজুর গাছের ] নীচ থেকে আহ্বান করে বললো, ” দুঃখ করো না! তোমার প্রভু তোমার [ পিপাসা নিবারণের ] জন্য নীচে একটি ছোট্ট নদী সৃষ্টি করেছেন ; –

২৫। ” এবং খেজুর গাছের কান্ডকে তোমার দিকে নাড়া দাও ; উহা তোমার জন্য তাজা পাকা খেজুর পতিত করবে। ২৪৭৭

২৪৭৭। দয়াময় আল্লাহ্‌র অদৃশ্য করুণার ধারা মেরীর জন্য খাদ্য ও পানীয়ের সুবন্দোবস্ত করেন। পানীয়ের জন্য আল্লাহ্‌ মেরীর জন্য ক্ষুদ্র নদীর সৃষ্টি করেন যাতে তিনি নিজেকে ধৌত করতে পারবেন।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ২৬)

যখন আহার কর, পান কর এবং চক্ষু শীতল কর। যদি মানুষের মধ্যে কাউকে তুমি দেখ, তবে বলে দিওঃ আমি আল্লাহর উদ্দেশে রোযা মানত করছি। সুতরাং আজ আমি কিছুতেই কোন মানুষের সাথে কথা বলব না।

”So eat and drink and be glad, and if you see any human being, say: ’Verily! I have vowed a fast unto the Most Beneficent (Allâh) so I shall not speak to any human being this day.’”

فَكُلِي وَاشْرَبِي وَقَرِّي عَيْنًا فَإِمَّا تَرَيِنَّ مِنَ الْبَشَرِ أَحَدًا فَقُولِي إِنِّي نَذَرْتُ لِلرَّحْمَنِ صَوْمًا فَلَنْ أُكَلِّمَ الْيَوْمَ إِنسِيًّا

Fakulee waishrabee waqarree AAaynan fa-imma tarayinna mina albashari ahadan faqoolee innee nathartu lilrrahmani sawman falan okallima alyawma insiyyan

YUSUFALI: “So eat and drink and cool (thine) eye. And if thou dost see any man, say, ‘I have vowed a fast to (Allah) Most Gracious, and this day will I enter into not talk with any human being’”

PICKTHAL: So eat and drink and be consoled. And if thou meetest any mortal, say: Lo! I have vowed a fast unto the Beneficent, and may not speak this day to any mortal.
SHAKIR: So eat and drink and refresh the eye. Then if you see any mortal, say: Surely I have vowed a fast to the Beneficent Allah, so I shall not speak to any man today.

KHALIFA: “Eat and drink, and be happy. When you see anyone, say, `I have made a vow of silence; I am not talking today to anyone.’ ”

২৬। ” সুতারাং আহার কর এবং পান কর এবং [ তোমার সন্তানকে দেখে ] চক্ষু জুড়াও ২৪৭৮। এবং তুমি যদি কোন লোককে দেখ,তাহলে বলো, ‘ আমি পরম করুণাময় [আল্লাহ্‌র ] জন্য রোজার মানত করেছি, [ সুতারাং ] এই দিনে আমি কোন মানুষের সাথে বাক্যলাপ করবো না ২৪৭৯।”

২৪৭৮। “চক্ষু জুড়াও ” এটা একটা প্রবাদ বাক্য যার অর্থ শান্তি পাওয়া। আক্ষরিকভাবে এর অর্থ দাঁড়ায় ছোট নদীর ঠাণ্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে তাঁর চক্ষুকে ঠাণ্ডা করা ও যে অত্যাশ্চার্য শিশু সে লাভ করেছে তা দেখে তাঁর নয়ন জুড়ানো।

তাঁকে চারিদিকে লক্ষ্য করতে বলা হলো, এবং নির্দ্দেশ দান করা হলো, যদি কেউ কাছে আসে মেরী যেনো মৌনতা অবলম্বন করে। এবং মেরী সেই অনুযায়ী প্রতিজ্ঞা করেন।

২৪৭৯। মেরী সকল পুরুষ ও মেয়েকে আল্লাহ্‌র নামে শপথ করে বললেন যে তিনি মৌনতা অবলম্বন করেছেন।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ২৭)

অতঃপর তিনি সন্তানকে নিয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থিত হলেন। তারা বললঃ হে মারইয়াম, তুমি একটি অঘটন ঘটিয়ে বসেছ।
Then she brought him (the baby) to her people, carrying him. They said: ”O Mary! Indeed you have brought a thing Fariya (an unheard mighty thing).

فَأَتَتْ بِهِ قَوْمَهَا تَحْمِلُهُ قَالُوا يَا مَرْيَمُ لَقَدْ جِئْتِ شَيْئًا فَرِيًّا
Faatat bihi qawmaha tahmiluhu qaloo ya maryamu laqad ji/ti shay-an fariyyan

YUSUFALI: At length she brought the (babe) to her people, carrying him (in her arms). They said: “O Mary! truly an amazing thing hast thou brought!

PICKTHAL: Then she brought him to her own folk, carrying him. They said: O Mary! Thou hast come with an amazing thing.

SHAKIR: And she came to her people with him, carrying him (with her). They said: O Marium! surely you have done a strange thing.

KHALIFA: She came to her family, carrying him. They said, “O Mary, you have committed something that is totally unexpected.

২৭। শেষ পর্যন্ত সে সন্তানকে [ বাহুতে ] বহন করে তার সম্প্রদায়ের নিকট উপস্থিত হলো। তারা বলেছিলো, “হে মারইয়াম ! তুমি তো এক আশ্চর্য জিনিষ এনেছ! ২৪৮০

২৪৮০। মেরী শিশুকে নিয়ে তাঁর নিজ সম্প্রদায়ের নিকট গমন করলো। মেরীকে দেখে তাঁর সম্প্রদায়ের লোকেরা আশ্চর্যে হতবুদ্ধি হয়ে গেলো। মেরীর অর্ন্তধানে তারা মেরীর সম্বন্ধে সম্পূর্ণ খারাপ ধারণা পোষণ করেছিলো।

কিন্তু এখন সেই মেরী নির্লজ্জ্বের মত শিশুকে বক্ষে ধারণ করে তাদের সামনে হাজির। হারুনের পরিবারের জন্য তা কত বড় লজ্জ্বা। যে পরিবার ইহুদীদের মধ্যে প্রধান যাজক পরিবার বলে গণ্য সেখানে এরূপ ঘটনার কল্পনাও করা যায় না। আমরা পুরো দৃশ্যটি কল্পনা করতে পারি , যা ঘটেছিলো জেরুজালেমের অথবা নাজেরার উপসানালয়ে।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ২৮)

হে হারূণ-ভাগিনী, তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিলেন না এবং তোমার মাতাও ছিল না ব্যভিচারিনী।

”O sister (i.e. the like) of Hârûn (Aaron) [not the brother of Mûsa (Moses), but he was another pious man at the time of Maryam (Mary)]! Your father was not a man who used to commit adultery, nor your mother was an unchaste woman.”

يَا أُخْتَ هَارُونَ مَا كَانَ أَبُوكِ امْرَأَ سَوْءٍ وَمَا كَانَتْ أُمُّكِ بَغِيًّا

Ya okhta haroona ma kana abooki imraa saw-in wama kanat ommuki baghiyyan

YUSUFALI: “O sister of Aaron! Thy father was not a man of evil, nor thy mother a woman unchaste!”

PICKTHAL: O sister of Aaron! Thy father was not a wicked man nor was thy mother a harlot.

SHAKIR: O sister of Haroun! your father was not a bad man, nor, was your mother an unchaste woman.

KHALIFA: “O descendant of Aaron, your father was not a bad man, nor was your mother unchaste.”

২৮। ” হে হারূনের ভগ্নী! ২৪৮১। তোমার পিতা তো অসৎ ব্যক্তি ছিলো না এবং তোমার মাতাও ব্যভিচারিণী ছিলো না ! ”

২৪৮১। মুসার ভাই হারুন ইসরাঈল সম্প্রদায়ের যাজকদের মধ্যে প্রথম ছিলেন। হারুনের বংশকে যাজক বংশরূপে অভিহিত করা হতো। মেরী এবং এলিজাবেথ [ ইয়াহিয়ার মা ] ছিলেন জ্ঞাতি বোন। তারাও যাজক বংশ থেকে আগত। এই যাজক বংশকে হারুনের বংশ বলা হতো।

সে কারণে মেরীকে সম্ভোধন করা হয়েছে হারুনের বোন বলে। মেরীর পিতা ইমরান ও মাতা ছিলেন অত্যন্ত পরহেজগার এবং মোমেন বান্দা।

শুধু যে তারা মোমেন বান্দা ছিলেন তাই নয় তারা এমন এক সম্মানজনক ও আল্লাহ্‌র নেয়ামত প্রাপ্ত বংশ থেকে আগত সেখানে মেরীর এরকম তথাকথিত অধঃপতন তাঁর পূর্বপুরুষদের জন্যও সম্মান হানিকর।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ২৯)

অতঃপর তিনি হাতে সন্তানের দিকে ইঙ্গিত করলেন। তারা বললঃ যে কোলের শিশু তার সাথে আমরা কেমন করে কথা বলব?
Then she pointed to him. They said: ”How can we talk to one who is a child in the cradle?”

فَأَشَارَتْ إِلَيْهِ قَالُوا كَيْفَ نُكَلِّمُ مَن كَانَ فِي الْمَهْدِ صَبِيًّا
Faasharat ilayhi qaloo kayfa nukallimu man kana fee almahdi sabiyyan

YUSUFALI: But she pointed to the babe. They said: “How can we talk to one who is a child in the cradle?”

PICKTHAL: Then she pointed to him. They said: How can we talk to one who is in the cradle, a young boy?

SHAKIR: But she pointed to him. They said: How should we speak to one who was a child in the cradle?

KHALIFA: She pointed to him. They said, “How can we talk with an infant in the crib?”

২৯। কিন্তু মারইয়াম শিশুর প্রতি ইঙ্গিত করলো ২৪৮২। তারা বললো, ” কিভাবে আমরা দোলনাতে শায়িত শিশুর সাথে কথা বলবো ? ”

২৪৮২। তাদের এই অভিযোগের উত্তরে মেরী কি বলতে পারতেন ? সমস্ত ঘটনার কি ব্যাখ্যা তিনি দান করতে পারতেন যা ইসরাঈলীদের মনঃপুত হতো ? মেরীর ব্যাখ্যা কি ইহুদীদের আক্রমণাত্মক মনোভাবকে শান্ত করতে পারতো , যুগ ও সমাজের প্রেক্ষিতে বিবেচনা করলে এ কথাই বলা যায় যে, মেরী তাদের যে ব্যাখ্যাই দান করুন না কেন তা তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হতো না। মেরী যা করতে পারতেন , তিনি তাইই করলেন। তিনি জানতেন কোলের শিশুটি সাধারণ শিশু নয়।

তাই তিনি নিজে নিঃশ্চুপ থেকে শিশুটির প্রতি অঙ্গুলি প্রদর্শন করেন। কোলের শিশুই তার মাতার উদ্ধারের জন্য এগিয়ে আসে। শিশুটি অলৌকিক ভাবে মাতার পক্ষে কথা বলে ও যুক্তির অবতারণা করে এবং অবিশ্বাসী শ্রোতাদের মাঝে আল্লাহ্‌র মহিমা ঘোষণা করে।

সূরা মারইয়াম

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৩০)

সন্তান বললঃ আমি তো আল্লাহর দাস। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন।

”He [’Iesa (Jesus)] said: Verily! I am a slave of Allâh, He has given me the Scripture and made me a Prophet;”

قَالَ إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ آتَانِيَ الْكِتَابَ وَجَعَلَنِي نَبِيًّا
Qala innee AAabdu Allahi ataniya alkitaba wajaAAalanee nabiyyan

YUSUFALI: He said: “I am indeed a servant of Allah: He hath given me revelation and made me a prophet;

PICKTHAL: He spake: Lo! I am the slave of Allah. He hath given me the Scripture and hath appointed me a Prophet,

SHAKIR: He said: Surely I am a servant of Allah; He has given me the Book and made me a prophet;

KHALIFA: (The infant spoke and) said, “I am a servant of GOD. He has given me the scripture, and has appointed me a prophet.

৩০। সে [ শিশুটি ] বলেছিলো, ” প্রকৃতই আমি একজন আল্লাহ্‌র [ অনুগত ] দাস। তিনি আমাকে প্রত্যাদেশ দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন।

৩১। ” এবং আমি যেখানেই থাকি না কেন তিনি আমাকে তাঁর আর্শীবাদ ধন্য করেছেন। এবং আমাকে আদেশ দিয়েছেন যতদিন জীবিত থাকি ততদিন সালাত আদায় করতে এবং দান করতে ২৪৮৩।

২৪৮৩। যীশু খৃষ্ট ও ইয়াহিয়াকে কোরাণ শরীফে দু – একটি ব্যতিক্রম বাদে সমান্তরাল ভাবে তুলনা করা হয়েছে। এসব তুলনা ও ব্যতিক্রম উভয়ই আর্কষণীয়। যেমন যীশু খৃষ্টের জীবনের আরম্ভ সূচিত হয়, এই ঘোষণার মাধ্যমে যে যীশু আল্লাহ্‌র দাস, আল্লাহ্‌র ছেলে নন। আল্লাহ্‌র একান্ত অনুগত দাস হিসেবেই তিনি নিজেকে পরিচিত করেছেন, এখানেই তার মহানুভবতা।

ইয়াহিয়ার বৈশিষ্ট্য বা মহৎহৃদয় যা বর্ণনা করা হয়েছে আয়াত [ ১৯:১২ – ১৩ ] , যা যীশুর জন্য প্রযোজ্য নয়। এটা ছিলো যীশু ও ইয়াহিয়ার মধ্যে ব্যতিক্রমধর্মী তুলনা। কিন্তু আয়াত [ ১৯ : ১৩ – ১৫ ] ছিলো ইয়াহিয়ার বর্ণনা যার সমান্তরাল বর্ণনা আছে যীশুর জন্য এই আয়াতে [ ১৯ : ৩১ – ৩৩ ] প্রার্থনায়, আল্লাহ্‌র একান্ত অনুগত থাকা, সালাত ও যাকাতের [ দান ] প্রযোজ্য হয়েছে যীশুর ক্ষেত্রে ; এবং ইয়াহিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছে দয়া, পবিত্রতা এবং আনুগত্যের। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, চরিত্রের বিশেষ গুণাবলী যথা দয়া, পবিত্রতা ও আনুগত্য

[ যা ইয়াহিয়ার বৈশিষ্ট্য ] থাকলেই বিশ্বস্ত ও অনুগতভাবে সালাত বা প্রার্থনা ও যাকাত বা দান করা সম্ভব [ যা যীশু খৃষ্টের বৈশিষ্ট্য ] অর্থাৎ দয়া , আত্মার পবিত্রতা ও আনুগত্য হৃদয়ে থাকলেই প্রার্থনা ও জীবে দয়া সম্পূর্ণতা লাভ করে। ঠিক যে ভাবে ইয়াহিয়ার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যীশু খৃষ্টের আগমনের অগ্রগামী পথিক।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৩১)

আমি যেখানেই থাকি, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতদিন জীবিত থাকি, ততদিন নামায ও যাকাত আদায় করতে।

”And He has made me blessed wheresoever I be, and has enjoined on me Salât (prayer), and Zakât, as long as I live.”

وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيْنَ مَا كُنتُ وَأَوْصَانِي بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ مَا دُمْتُ حَيًّا

WajaAAalanee mubarakan aynama kuntu waawsanee bialssalati waalzzakati ma dumtu hayyan

YUSUFALI: “And He hath made me blessed wheresoever I be, and hath enjoined on me Prayer and Charity as long as I live;

PICKTHAL: And hath made me blessed wheresoever I may be, and hath enjoined upon me prayer and almsgiving so long as I remain alive,

SHAKIR: And He has made me blessed wherever I may be, and He has enjoined on me prayer and poor-rate so long as I live;

KHALIFA: “He made me blessed wherever I go, and enjoined me to observe the Contact Prayers (Salat) and the obligatory charity (Zakat) for as long as I live.

৩০। সে [ শিশুটি ] বলেছিলো, ” প্রকৃতই আমি একজন আল্লাহ্‌র [ অনুগত ] দাস। তিনি আমাকে প্রত্যাদেশ দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন।

৩১। ” এবং আমি যেখানেই থাকি না কেন তিনি আমাকে তাঁর আর্শীবাদ ধন্য করেছেন। এবং আমাকে আদেশ দিয়েছেন যতদিন জীবিত থাকি ততদিন সালাত আদায় করতে এবং দান করতে ২৪৮৩।

২৪৮৩। যীশু খৃষ্ট ও ইয়াহিয়াকে কোরাণ শরীফে দু – একটি ব্যতিক্রম বাদে সমান্তরাল ভাবে তুলনা করা হয়েছে। এসব তুলনা ও ব্যতিক্রম উভয়ই আর্কষণীয়। যেমন যীশু খৃষ্টের জীবনের আরম্ভ সূচিত হয়, এই ঘোষণার মাধ্যমে যে যীশু আল্লাহ্‌র দাস, আল্লাহ্‌র ছেলে নন। আল্লাহ্‌র একান্ত অনুগত দাস হিসেবেই তিনি নিজেকে পরিচিত করেছেন,

এখানেই তার মহানুভবতা। ইয়াহিয়ার বৈশিষ্ট্য বা মহৎহৃদয় যা বর্ণনা করা হয়েছে আয়াত [ ১৯:১২ – ১৩ ] , যা যীশুর জন্য প্রযোজ্য নয়। এটা ছিলো যীশু ও ইয়াহিয়ার মধ্যে ব্যতিক্রমধর্মী তুলনা। কিন্তু আয়াত [ ১৯ : ১৩ – ১৫ ] ছিলো ইয়াহিয়ার বর্ণনা যার সমান্তরাল বর্ণনা আছে যীশুর জন্য এই আয়াতে [ ১৯ : ৩১ – ৩৩ ] প্রার্থনায়,

আল্লাহ্‌র একান্ত অনুগত থাকা, সালাত ও যাকাতের [ দান ] প্রযোজ্য হয়েছে যীশুর ক্ষেত্রে ; এবং ইয়াহিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছে দয়া, পবিত্রতা এবং আনুগত্যের। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, চরিত্রের বিশেষ গুণাবলী যথা দয়া, পবিত্রতা ও আনুগত্য [ যা ইয়াহিয়ার বৈশিষ্ট্য ] থাকলেই বিশ্বস্ত ও অনুগতভাবে সালাত বা প্রার্থনা ও যাকাত বা দান করা সম্ভব

[ যা যীশু খৃষ্টের বৈশিষ্ট্য ] অর্থাৎ দয়া , আত্মার পবিত্রতা ও আনুগত্য হৃদয়ে থাকলেই প্রার্থনা ও জীবে দয়া সম্পূর্ণতা লাভ করে। ঠিক যে ভাবে ইয়াহিয়ার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যীশু খৃষ্টের আগমনের অগ্রগামী পথিক।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৩২)

এবং জননীর অনুগত থাকতে এবং আমাকে তিনি উদ্ধত ও হতভাগ্য করেননি।

”And dutiful to my mother, and made me not arrogant, unblest.

وَبَرًّا بِوَالِدَتِي وَلَمْ يَجْعَلْنِي جَبَّارًا شَقِيًّا

Wabarran biwalidatee walam yajAAalnee jabbaran shaqiyyan

YUSUFALI: “(He) hath made me kind to my mother, and not overbearing or miserable;
PICKTHAL: And (hath made me) dutiful toward her who bore me, and hath not made me arrogant, unblest.

SHAKIR: And dutiful to my mother, and He has not made me insolent, unblessed;
KHALIFA: “I am to honor my mother; He did not make me a disobedient rebel.

৩২। ” [আল্লাহ্‌ ] আমাকে আমার মাতার প্রতি দয়ালু করেছেন। তিনি আমাকে উদ্ধত ও হতভাগ্য করেন নাই। ২৪৮৪

২৪৮৪। উদ্ধত,বিদ্রোহী ও স্বেচ্ছাচারী আচরণ অন্যায় ও ক্ষতিকর। যাদের প্রতি উদ্ধত ও স্বেচ্ছাচারী আচরণ করা হয়, তাদের প্রতি অন্যায় করা হয়, আর যে উদ্ধত ও স্বেচ্ছাচারী তার জন্যও এই আচরণ ক্ষতিকর। সম্ভবতঃ যে এরূপ আচরণ করে সে অধিক ক্ষতিগ্রস্থ। কারণ তাঁর এই আচরণের দ্বারা সে তার আত্মার পবিত্রতা হারায়। তাঁর আত্মার অবস্থা হয়ে পড়ে অপবিত্র, বিশৃঙ্খল, অস্থির এবং এসবের শেষ পরিণতিতে সে হয় অসুখী, চরম দুর্দ্দশাগ্রস্থ ও হতভাগ্য ব্যক্তি। আত্মার এই অবস্থাকেই বলা যায় দোযখের পূর্ব অবস্থা।

উদ্ধত, বিদ্রোহী ও স্বেচ্ছাচারী আত্মার বিপরীত অবস্থা হচ্ছে শান্তি। ইয়াহিয়ার শেষ দিনগুলির মাধ্যমে আত্মার এই অবস্থাকে বর্ণনা করা সম্ভব। ইয়াহিয়া তাঁর প্রতি অন্যায় শাস্তিকে ধীর স্থির প্রশান্তভাবে গ্রহণ করেন। কোন অস্থিরতা বা শঙ্কা তাঁর ছিলো না।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৩৩)

আমার প্রতি সালাম যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন পুনরুজ্জীবিত হয়ে উত্থিত হব।

”And Salâm (peace) be upon me the day I was born, and the day I die, and the day I shall be raised alive!”

وَالسَّلَامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدتُّ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا

Waalssalamu AAalayya yawma wulidtu wayawma amootu wayawma obAAathu hayyan

YUSUFALI: “So peace is on me the day I was born, the day that I die, and the day that I shall be raised up to life (again)”!

PICKTHAL: Peace on me the day I was born, and the day I die, and the day I shall be raised alive!

SHAKIR: And peace on me on the day I was born, and on the day I die, and on the day I am raised to life.

KHALIFA: And peace be upon me the day I was born, the day I die, and the day I get resurrected.”

৩৩। ” সুতারাং আমার প্রতি শান্তি যেদিন আমি জন্ম লাভ করেছি, যেদিন আমি মারা যাব, এবং যেদিন আমি পুনরুত্থিত হব।” ২৪৮৫

২৪৮৫। দেখুন [ ১৯ : ১৫ ] এবং টিকা ২৪৬৯। যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয় নাই। দেখুন [ ৪:১৫৭ ] আয়াত।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৩৪)

এই মারইয়ামের পুত্র ঈসা। সত্যকথা, যে সম্পর্কে লোকেরা বিতর্ক করে।
Such is ’Iesa (Jesus), son of Maryam (Mary). (it is) a statement of truth, about which they doubt (or dispute).

ذَلِكَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ قَوْلَ الْحَقِّ الَّذِي فِيهِ يَمْتَرُونَ
Thalika AAeesa ibnu maryama qawla alhaqqi allathee feehi yamtaroona

YUSUFALI: Such (was) Jesus the son of Mary: (it is) a statement of truth, about which they (vainly) dispute.

PICKTHAL: Such was Jesus, son of Mary: (this is) a statement of the truth concerning which they doubt.

SHAKIR: Such is Isa, son of Marium; (this is) the saying of truth about which they dispute.

KHALIFA: That was Jesus, the son of Mary, and this is the truth of this matter, about which they continue to doubt.

৩৪। এই -ই হচ্ছে মারইয়াম পুত্র ঈসা। [ এটা হচ্ছে ] সত্যের বিবরণ যার সম্বন্ধে তারা [ বৃথা ] তর্ক করছে ২৪৮৬।

২৪৮৬। যীশু খৃষ্ট সম্বন্ধে বিভিন্ন মতবাদের রক্তাক্ত সংগ্রাম ও বির্তক বৃথা। যদিও বর্তমানে বিভিন্ন গীর্জা এসব নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামায় না , তবে তাদের অযৌক্তিক মতবাদও সম্পূর্ণ ত্যাগ করা উচিত।

সূরা মারইয়াম

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৩৫)

আল্লাহ এমন নন যে, সন্তান গ্রহণ করবেন, তিনি পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা, তিনি যখন কোন কাজ করা সিদ্ধান্ত করেন, তখন একথাই বলেনঃ হও এবং তা হয়ে যায়।

It befits not (the Majesty of) Allâh that He should beget a son [this refers to the slander of Christians against Allâh, by saying that ’Iesa (Jesus) is the son of Allâh]. Glorified (and Exalted be He above all that they associate with Him). When He decrees a thing, He only says to it, ”Be!” and it is.

مَا كَانَ لِلَّهِ أَن يَتَّخِذَ مِن وَلَدٍ سُبْحَانَهُ إِذَا قَضَى أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُن فَيَكُونُ

Ma kana lillahi an yattakhitha min waladin subhanahu itha qada amran fa-innama yaqoolu lahu kun fayakoonu

YUSUFALI: It is not befitting to (the majesty of) Allah that He should beget a son. Glory be to Him! when He determines a matter, He only says to it, “Be”, and it is.

PICKTHAL: It befitteth not (the Majesty of) Allah that He should take unto Himself a son. Glory be to Him! When He decreeth a thing, He saith unto it only: Be! and it is.

SHAKIR: It beseems not Allah that He should take to Himself a ! son, glory to be Him; when He has decreed a matter He only says to it “Be,” and it is.

KHALIFA: It does not befit GOD that He begets a son, be He glorified. To have anything done, He simply says to it, “Be,” and it is.

৩৫। আল্লাহ্‌র [ মর্যাদার ] সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় যে, তিনি সন্তান গ্রহণ করবেন। তিনি পবিত্র মহিমাময় ! তিনি যখন কিছু স্থির করেন তখন শুধু বলেন, ” হও ” এবং তা হয়ে যায় ২৪৮৭।

২৪৮৭। সন্তানের জন্মদান করা জৈবিক ব্যাপার যা সমস্ত প্রাণীকূলের মধ্যে বর্তমান। আল্লাহ্‌ পবিত্র ও মহিমাময়। তাঁকে এই সাধারণ প্রাণীকূলের সমগোত্রীয় কল্পনা করার মাধ্যমে আল্লাহ্‌র মহিমাকেই খর্ব করা হয়। তিনি অভাবমুক্ত। তাঁর মাঝে যৌনক্ষুধা বর্তমান এ ধারণা দ্বারা তাঁর মর্যদাকে হানি করা হয়। আল্লাহ্‌ সন্তান ধারণ করেন এ অপবাদ তারাই দেয় ,

যারা এই পার্থিব জীবনের বাইরে চিন্তা করতে অক্ষম। মোশরেকদের কুসংস্কার ও মানুষকে দেবত্ব আরোপের অভ্যাস থেকে উপরোক্ত ধারণার উদ্ভব।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৩৬)

তিনি আরও বললেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ আমার পালনকর্তা ও তোমাদের পালনকর্তা। অতএব, তোমরা তার এবাদত কর। এটা সরল পথ।

[’Iesa (Jesus) said]: ”And verily Allâh is my Lord and your Lord. So worship Him (Alone). That is the Straight Path. (Allâh’s Religion of Islâmic Monotheism which He did ordain for all of His Prophets).” [Tafsir At-Tabarî]

وَإِنَّ اللَّهَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ هَذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِيمٌ

Wa-inna Allaha rabbee warabbukum faoAAbudoohu hatha siratun mustaqeemun

YUSUFALI: Verily Allah is my Lord and your Lord: Him therefore serve ye: this is a Way that is straight.

PICKTHAL: And lo! Allah is my Lord and your Lord. So serve Him. That is the right path.
SHAKIR: And surely Allah is my Lord and your Lord, therefore serve Him; this is the right path.

KHALIFA: He also proclaimed, “GOD is my Lord and your Lord; you shall worship Him alone. This is the right path.”

৩৬। অবশ্যই আল্লাহ্‌ আমার প্রভু এবং তোমার প্রভু! সুতারাং তার সেবা কর। ইহাই সরল পথ ২৪৮৮।

২৪৮৮। যারা নিজেদের কুটতর্কের ধূম্রজালে কুসংস্কার ও অধিবিদ্যার আশ্রয় গ্রহণ করে তারাই একের ভিতরে তিন অথবা তিনের ভিতরে এক, এসব অবান্তর যুক্তির অবতারণা করে। কোরাণে সরল পথের নির্দ্দেশ দান করা হয়েছে প্রাঞ্জল ভাষাতে। কোন ঘোর প্যাঁচ বা বক্রতার অবকাশ নাই [ ১৮:১]। খৃষ্টের ধর্মোপদেশ সহজ সরল তার জীবনাদর্শের মত।

কিন্তু খৃষ্টানেরা তাঁকে বক্র করেছে বিভিন্ন মতবাদের অবতারণার মাধ্যমে। হযরত ঈসা (আঃ) বা খৃষ্টের সম্পর্কে বিভিন্ন মতবাদের সৃষ্টি করে খৃষ্টানগণ নিজেরাই বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৩৭)

অতঃপর তাদের মধ্যে দলগুলো পৃথক পৃথক পথ অবলম্বন করল। সুতরাং মহাদিবস আগমনকালে কাফেরদের জন্যে ধবংস।

Then the sects differed [i.e. the Christians about ’Iesa (Jesus) ], so woe unto the disbelievers [those who gave false witness by saying that ’Iesa (Jesus) is the son of Allâh] from the meeting of a great Day (i.e. the Day of Resurrection, when they will be thrown in the blazing Fire).

فَاخْتَلَفَ الْأَحْزَابُ مِن بَيْنِهِمْ فَوَيْلٌ لِّلَّذِينَ كَفَرُوا مِن مَّشْهَدِ يَوْمٍ عَظِيمٍ

Faikhtalafa al-ahzabu min baynihim fawaylun lillatheena kafaroo min mashhadi yawmin AAatheemin

YUSUFALI: But the sects differ among themselves: and woe to the unbelievers because of the (coming) Judgment of a Momentous Day!

PICKTHAL: The sects among them differ: but woe unto the disbelievers from the meeting of an awful Day.

SHAKIR: But parties from among them disagreed with each other, so woe to those who disbelieve, because of presence on a great

KHALIFA: The various parties disputed among themselves (regarding the identity of Jesus). Therefore, woe to those who disbelieve from the sight of a terrible day.

৩৭। কিন্তু দলগুলি নিজেদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি করলো। সুতারাং অনাগত গুরুত্বপূর্ণ শেষ বিচার দিবসে অবিশ্বাসীদের জন্য দুর্ভোগ ২৪৮৯।

২৪৮৯। Mash – ad শব্দটিকে অনুবাদ করা হয়েছে শেষ বিচার দিবস। এই শব্দটি যে ভাবকে বহন করে তা নিম্নরূপ : ১) যেখানে ও যে সময়ে সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণ করা হয়, যেমন বিচারালয়। ২) সেই সময় যখন কাহাকেও বিচারের জন্য উপস্থিত করা হয়। ৩) সাক্ষ্য প্রমাণের জন্য কোন ঘটনাকে উপস্থিত করা হয়। শেষ বিচারের দিনকে ভাষায় প্রকাশের জন্য উপযুক্ত শব্দ চয়ন বৈকি।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৩৮)

সেদিন তারা কি চমৎকার শুনবে এবং দেখবে, যেদিন তারা আমার কাছে আগমন করবে। কিন্তু আজ জালেমরা প্রকাশ্য বিভ্রান্তিতে রয়েছে।

How clearly will they (polytheists and disbelievers in the Oneness of Allâh) see and hear, the Day when they will appear before Us! But the Zalimûn (polytheists and wrong-doers) today are in plain error.

أَسْمِعْ بِهِمْ وَأَبْصِرْ يَوْمَ يَأْتُونَنَا لَكِنِ الظَّالِمُونَ الْيَوْمَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ

AsmiAA bihim waabsir yawma ya/toonana lakini alththalimoona alyawma fee dalalin mubeenin

YUSUFALI: How plainly will they see and hear, the Day that they will appear before Us! but the unjust today are in error manifest!

PICKTHAL: See and hear them on the Day they come unto Us! yet the evil-doers are to-day in error manifest.

SHAKIR: How clearly shall they hear and how clearly shall they see on the day when they come to Us; but the unjust this day are in manifest error.

KHALIFA: Wait till you hear them and see them when they come to face us. The transgressors on that day will be totally lost.

৩৮। যেদিন তারা আমার নিকট উপস্থিত হবে, সেদিন তারা কত সহজভাবে দেখতে ও শুনতে পারবে। কিন্তু অন্যায়কারীরা আজকে সুস্পষ্ট ভুলের মাঝে রয়েছে ২৪৯০।

২৪৯০। পুনরুত্থানের দিনে মানুষের অনুভব ও চেতনার বর্ণনা এই আয়াতে আছে। দেখুন [ ৫০ : ২২] আয়াত যেখানে পুনরুত্থানের বর্ণনা আছে।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৩৯)

আপনি তাদেরকে পরিতাপের দিবস সম্পর্কে হুশিয়ার করে দিন যখন সব ব্যাপারের মীমাংসা হয়ে যাবে। এখন তারা অনবধানতায় আছে এবং তারা বিশ্বাস স্থাপন করছে না।

And warn them (O Muhammad SAW) of the Day of grief and regrets, when the case has been decided, while (now) they are in a state of carelessness, and they believe not.

وَأَنذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الْأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ

Waanthirhum yawma alhasrati ith qudiya al-amru wahum fee ghaflatin wahum la yu/minoona

YUSUFALI: But warn them of the Day of Distress, when the matter will be determined: for (behold,) they are negligent and they do not believe!

PICKTHAL: And warn them of the Day of anguish when the case hath been decided. Now they are in a state of carelessness, and they believe not.

SHAKIR: And warn them of the day of intense regret, when the matter shall have been decided; and they are (now) in negligence and they do not believe.

KHALIFA: Warn them about the day of remorse, when judgment will be issued. They are totally oblivious; they do not believe.

৩৯। অত্যন্ত ক্লেশকর দিবস সম্বন্ধে তাদের সর্তক কর ২৪৯১ , যেদিন সকল বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। [ সাবধান ] এখন তারা অমনোযোগী এবং বিশ্বাসও করে না।

২৪৯১। “Hasrat” অনুবাদ করা হয়েছে ক্লেশকর দিবস। এর অন্যান্য অর্থ হচ্ছে দীর্ঘশ্বাস ,দীর্ঘশ্বাস ফেলা, ভুলত্রুটির জন্য দুঃখ, নিদারুণ মর্মপীড়া।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৪০)

আমিই চুড়ান্ত মালিকানার অধিকারী হব পৃথিবীর এবং তার উপর যারা আছে তাদের এবং আমারই কাছে তারা প্রত্যাবর্তিত হবে।

Verily! We will inherit the earth and whatsoever is thereon. And to Us they all shall be returned,

إِنَّا نَحْنُ نَرِثُ الْأَرْضَ وَمَنْ عَلَيْهَا وَإِلَيْنَا يُرْجَعُونَ
Inna nahnu narithu al-arda waman AAalayha wa-ilayna yurjaAAoona

YUSUFALI: It is We Who will inherit the earth, and all beings thereon: to Us will they all be returned.

PICKTHAL: Lo! We, only We, inherit the earth and all who are thereon, and unto Us they are returned.

SHAKIR: Surely We inherit the earth and all those who are on it, and to Us they shall be returned.

KHALIFA: We are the ones who inherit the earth and everyone on it; to us everyone will be returned.

৪০। নিশ্চয়ই পৃথিবী এবং এর উপরে সকল কিছুর মালিক আমি ২৪৯২। তারা সকলেই আমারই নিকট ফিরে আসবে।

২৪৯২। দেখুন আয়াত [ ৩ : ১৮০ ] ও টিকা ৪৮৫; আয়াত [ ১৫ : ২৩ ] ও টিকা ১৯৬৪। পৃথিবীতে যে ধন- সম্পদ ব্যক্তি অর্জন করে মৃত্যুর পরে তার বংশধরেরা তা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়। এই-ই পৃথিবীর নিয়ম। সমস্ত পৃথিবীর মালিক আল্লাহ্‌। তিনিই জীবন ও মৃত্যুর মালিক।

দৈহিক মৃত্যুর পরে যে চিরঞ্জীব আত্মার অবস্থান , তারও মালিক সেই সর্বশক্তিমান। মুত্যুর পরে আত্মা আল্লাহ্‌র নিকট ফিরে যায় যিনি সব কিছুর মালিক ও উৎস।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৪১)

আপনি এই কিতাবে ইব্রাহীমের কথা বর্ণনা করুন। নিশ্চয় তিনি ছিলেন সত্যবাদী, নবী।

And mention in the Book (the Qur’ân) Ibrâhim (Abraham). Verily! He was a man of truth, a Prophet.

وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّهُ كَانَ صِدِّيقًا نَّبِيًّا (41

Waothkur fee alkitabi ibraheema innahu kana siddeeqan nabiyyan

YUSUFALI: (Also mention in the Book (the story of) Abraham: He was a man of Truth, a prophet.

PICKTHAL: And make mention (O Muhammad) in the Scripture of Abraham. Lo! he was a saint, a prophet.

SHAKIR: And mention Ibrahim in the Book; surely he was a truthful man, a prophet.
KHALIFA: Mention in the scripture Abraham; he was a saint, a prophet.

রুকু – ৩

৪১। কিতাবে [আরও ] উল্লেখ করা হয়েছে ইব্রাহিমের [ কাহিনী ]। সে ছিলো একজন সত্যনিষ্ঠ মানুষ, একজন নবী।

৪২। স্মরণ কর, সে তাঁর পিতাকে বলেছিলো ২৪৯৩: ” হে আমার পিতা ! কেন তুমি তার এবাদত কর, যে শুনতে পারে না , দেখতে পারে না এবং তোমার কোন কাজে আসে না ?

২৪৯৩। এই আয়াতে হযরত ইব্রাহীমের তাঁর পিতার প্রতি সহৃদয় , সনির্বন্ধ মিনতিকে তুলে ধরা হয়েছে। ইব্রাহীমের পিতা ছিলেন পৌত্তলিক। তিনি একত্ববাদের আলো গ্রহণ করেন নাই, ইব্রাহীম তাকে সঠিক পথ প্রদর্শন ও পরিচালিত করতে চেয়েছিলেন।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৪২)

যখন তিনি তার পিতাকে বললেনঃ হে আমার পিতা, যে শোনে না, দেখে না এবং তোমার কোন উপকারে আসে না, তার এবাদত কেন কর?

When he said to his father: ”O my father! Why do you worship that which hears not, sees not and cannot avail you in anything?

إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ يَا أَبَتِ لِمَ تَعْبُدُ مَا لَا يَسْمَعُ وَلَا يُبْصِرُ وَلَا يُغْنِي عَنكَ شَيْئًا (42

Ith qala li-abeehi ya abati lima taAAbudu ma la yasmaAAu wala yubsiru wala yughnee AAanka shay-an

YUSUFALI: Behold, he said to his father: “O my father! why worship that which heareth not and seeth not, and can profit thee nothing?

PICKTHAL: When he said unto his father: O my father! Why worshippest thou that which heareth not nor seeth, nor can in aught avail thee?

SHAKIR: When he said to his father; O my father! why do you worship what neither hears nor sees, nor does it avail you in the least:

KHALIFA: He said to his father, “O my father, why do you worship what can neither hear, nor see, nor help you in any way?

রুকু – ৩

৪১। কিতাবে [আরও ] উল্লেখ করা হয়েছে ইব্রাহিমের [ কাহিনী ]। সে ছিলো একজন সত্যনিষ্ঠ মানুষ, একজন নবী।

৪২। স্মরণ কর, সে তাঁর পিতাকে বলেছিলো ২৪৯৩: ” হে আমার পিতা ! কেন তুমি তার এবাদত কর, যে শুনতে পারে না , দেখতে পারে না এবং তোমার কোন কাজে আসে না ?

২৪৯৩। এই আয়াতে হযরত ইব্রাহীমের তাঁর পিতার প্রতি সহৃদয় , সনির্বন্ধ মিনতিকে তুলে ধরা হয়েছে। ইব্রাহীমের পিতা ছিলেন পৌত্তলিক। তিনি একত্ববাদের আলো গ্রহণ করেন নাই, ইব্রাহীম তাকে সঠিক পথ প্রদর্শন ও পরিচালিত করতে চেয়েছিলেন।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৪৩)

হে আমার পিতা, আমার কাছে এমন জ্ঞান এসেছে; যা তোমার কাছে আসেনি, সুতরাং আমার অনুসরণ কর, আমি তোমাকে সরল পথ দেখাব।

”O my father! Verily! There has come to me of knowledge that which came not unto you. So follow me. I will guide you to a Straight Path.

يَا أَبَتِ إِنِّي قَدْ جَاءنِي مِنَ الْعِلْمِ مَا لَمْ يَأْتِكَ فَاتَّبِعْنِي أَهْدِكَ صِرَاطًا سَوِيًّا (43

Ya abati innee qad jaanee mina alAAilmi ma lam ya/tika faittabiAAnee ahdika siratan sawiyyan

YUSUFALI: “O my father! to me hath come knowledge which hath not reached thee: so follow me: I will guide thee to a way that is even and straight.

PICKTHAL: O my father! Lo! there hath come unto me of knowledge that which came not unto thee. So follow me, and I will lead thee on a right path.

SHAKIR: O my father! truly the knowledge has come to me which has not come to you, therefore follow me, I will guide you on a right path:

KHALIFA: “O my father, I have received certain knowledge that you did not receive. Follow me, and I will guide you in a straight path.

৪৩। ” হে আমার পিতা ! আমার নিকট [ সত্যের ] জ্ঞান এসেছে, যা তোমার কাছে পৌঁছায় নাই ২৪৯৪। সুতারাং আমাকে অনুসরণ কর। আমি তোমাকে সহজ সরল পথে পরিচালিত করবো।২৪৯৫
” আমার নিকট [সত্যের] জ্ঞান এসেছে, যা তোমার কাছে পৌঁছায় নাই।”

২৪৯৪। “আমার নিকট সত্যের জ্ঞান যা তোমার নিকট আসে নাই।” ইব্রাহীমের এই উক্তির মাধ্যমে আল্লাহ্‌ এই সত্যের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, সত্যের আলো সবার অন্তরে সমভাবে প্রবেশ লাভ করে না। অনেকের সত্যের আলোকে ধারণ করার ক্ষমতা অন্যদের অপেক্ষা বেশী।

এটা তাদের জন্য এক বিশেষ সুবিধা বা অধিকার যা আল্লাহ্‌ তাদের দান করেছেন। সুতারাং অন্যকে সেই পথের সন্ধান দান করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব। আয়াতটির অর্থ সার্বজনীন।

২৪৯৫। “Sawiyan” সঠিক মসৃণ,সমতল , পরিপূর্ণ, সম্পূর্ণ। সুতারাং এই শব্দটির বিভিন্ন অর্থ বিভিন্ন আয়াতে প্রযোজ্য হয়েছে। যেমন [ ১৯ : ১০ ] সম্পূর্ণ ক্ষমতা থাকা সত্বেও কাহারও সাথে “বাক্যালাপ করবে না” অর্থে। আয়াত [ ১৯ : ১৭ ] এ বর্ণনা আছে ফেরেশতা যাকে

” পূর্ণ মানব আকৃতিতে” প্রেরণ করা হয়। এখানে উপরের শব্দটির দ্বারা “পূর্ণ” ভাবকে প্রকাশ করা হয়েছে।

সূরা মারইয়াম

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৪৪)

হে আমার পিতা, শয়তানের এবাদত করো না। নিশ্চয় শয়তান দয়াময়ের অবাধ্য।
”O my father! Worship not Shaitân (Satan). Verily! Shaitân (Satan) has been a rebel against the Most Beneficent (Allâh).

يَا أَبَتِ لَا تَعْبُدِ الشَّيْطَانَ إِنَّ الشَّيْطَانَ كَانَ لِلرَّحْمَنِ عَصِيًّا (44
Ya abati la taAAbudi alshshaytana inna alshshaytana kana lilrrahmani AAasiyyan

YUSUFALI: “O my father! serve not Satan: for Satan is a rebel against (Allah) Most Gracious.

PICKTHAL: O my father! Serve not the devil. Lo! the devil is a rebel unto the Beneficent.

SHAKIR: O my father! serve not the Shaitan, surely the Shaitan is disobedient to the Beneficent Allah:

KHALIFA: “O my father, do not worship the devil. The devil has rebelled against the Most Gracious.

৪৪। ” হে আমার পিতা ! শয়তানের দাসত্ব করো না। শয়তান তো পরম করুণাময় [আল্লাহ্‌র ] অবাধ্য ২৪৯৬।

২৪৯৬। যেখানে আল্লাহ্‌ পরম করুণাময়, ন্যায়বান ও মহান তাঁর বান্দার প্রতি, সেখানে আল্লাহ্‌র বিরুদ্ধাচারণ করা জঘন্য পাপ যা ক্ষমার অযোগ্য যা শয়তানের কাজ।

আরও দেখুনঃ 

সূরা মারইয়ামপার্ট-৩

সূরা মারইয়াম – উইকিপিডিয়া

Leave a Comment