সূরা মারইয়াম পার্ট-৩ [হযরত জাকারিয়া এর প্রার্থনার কথা,বিবি মারইয়াম এবং পুত্র হযরত ঈসা-এর সম্পর্কে বলা হয়েছে ]সূরা ১৯। কুরআন ।পার্ট-৩

সূরা মারইয়াম পার্ট-৩ ,সূরা মারইয়াম (আরবি ভাষায়: سورة مريم‎‎) মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের ১৯ নম্বর সূরা; এর আয়াত অর্থাৎ বাক্য সংখ্যা ৯৮ এবং রূকু তথা অনুচ্ছেদ সংখ্যা ৬। সূরা মারইয়াম মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এই সূরাটির প্রথমে হযরত জাকারিয়া এর প্রার্থনার কথা, পরে বিবি মারইয়াম এবং পুত্র হযরত ঈসা-এর সম্পর্কে বলা হয়েছে।

সূরা মারইয়াম পার্ট-৩

সূরা মারইয়াম পার্ট-৩
সূরা মারইয়াম

সূরা মারইয়াম

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৪৫)

হে আমার পিতা, আমি আশঙ্কা করি, দয়াময়ের একটি আযাব তোমাকে স্পর্শ করবে, অতঃপর তুমি শয়তানের সঙ্গী হয়ে যাবে।

”O my father! Verily! I fear lest a torment from the Most Beneficent (Allâh) overtake you, so that you become a companion of Shaitân (Satan) (in the Hell-fire).” [Tafsir Al-Qurtubî]

يَا أَبَتِ إِنِّي أَخَافُ أَن يَمَسَّكَ عَذَابٌ مِّنَ الرَّحْمَن فَتَكُونَ لِلشَّيْطَانِ وَلِيًّا (45

Ya abati innee akhafu an yamassaka AAathabun mina alrrahmani fatakoona lilshshyatani waliyyan

YUSUFALI: “O my father! I fear lest a Penalty afflict thee from (Allah) Most Gracious, so that thou become to Satan a friend.”

PICKTHAL: O my father! Lo! I fear lest a punishment from the Beneficent overtake thee so that thou become a comrade of the devil.

SHAKIR: O my father! surely I fear that a punishment from the Beneficent Allah should afflict you so that you should be a friend of the Shaitan.

KHALIFA: “O my father, I fear lest you incur retribution from the Most Gracious, then become an ally of the devil.”

৪৫। ” হে আমার পিতা! আমি তো আশংকা করি যে পরম করুণাময় [আল্লাহ্‌র ] শাস্তি তোমাকে স্পর্শ করবে। ফলে, তুমি শয়তানের বন্ধুতে রূপান্তরিত হবে ২৪৯৭। ”

২৪৯৭। যা অন্যায় , পাপ, বেআইনী তাই-ই শয়তানের প্রতীক। এই আয়াতের সার্বজনীন উপদেশ হচ্চে যদি অন্তরের মাঝে পাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে না তুলে , যদি পাপের প্রতি আসক্তি জন্মে, তবে ইচ্ছাকৃত ভাবে আল্লাহ্‌র সত্যকে প্রত্যাখানের ফলে দয়াময়ের শাস্তি আমাদের জন্য অবধারিত হয়ে দাঁড়ায়।

হযরত ইব্রাহীমের তাঁর পিতার জন্য এই আশঙ্কা সার্বজনীন যা সকল যুগের সকল ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য। পাপের প্রতি আসক্তিকে শয়তানকে বন্ধুরূপে বর্ণনা করা হয়েছে। কারণ শয়তান আল্লাহ্‌র বিরুদ্ধাচারণ করার ফলে অপরাধী বলে সনাক্ত। আর যে কোনও পাপই হচ্ছে আল্লাহ্‌র বিরুদ্ধাচারণ করা।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৪৬)

পিতা বললঃ যে ইব্রাহীম, তুমি কি আমার উপাস্যদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ? যদি তুমি বিরত না হও, আমি অবশ্যই প্রস্তরাঘাতে তোমার প্রাণনাশ করব। তুমি চিরতরে আমার কাছ থেকে দূর হয়ে যাও।

He (the father) said: ”Do you reject my gods, O Ibrâhim (Abraham)? If you stop not (this), I will indeed stone you. So get away from me safely before I punish you.”

قَالَ أَرَاغِبٌ أَنتَ عَنْ آلِهَتِي يَا إِبْراهِيمُ لَئِن لَّمْ تَنتَهِ لَأَرْجُمَنَّكَ وَاهْجُرْنِي مَلِيًّا

Qala araghibun anta AAan alihatee ya ibraheemu la-in lam tantahi laarjumannaka waohjurnee maliyyan

YUSUFALI: (The father) replied: “Dost thou hate my gods, O Abraham? If thou forbear not, I will indeed stone thee: Now get away from me for a good long while!”

PICKTHAL: He said: Rejectest thou my gods, O Abraham? If thou cease not, I shall surely stone thee. Depart from me a long while!

SHAKIR: He said: Do you dislike my gods, O Ibrahim? If you do not desist I will certainly revile you, and leave me for a time.

KHALIFA: He said, “Have you forsaken my gods, O Abraham? Unless you stop, I will stone you. Leave me alone.”

৪৬। [পিতা] উত্তর দিয়েছিলো, ” হে ইব্রাহীম ! তুমি কি আমার দেব-দেবীকে ঘৃণা কর ? যদি তুমি নিবৃত্ত না হও, তবে আমি প্রস্তরঘাতে তোমার প্রাণনাশ করবই। এখন চিরদিনের জন্য আমার নিকট থেকে দূর হয়ে যাও।” ২৪৯৮

২৪৯৮। নিম্নের আয়াতগুলিতে [ ১৯ : ৪২ – ৪৫ ] এবং [ ১৯ : ৪৭ – ৪৮ ] ইব্রাহীম ও তাঁর পিতার বাক্‌ বিতন্ডা তুলে ধরা হয়েছে। মনে করতে পারি যে, তুমুল বাকবিতন্ডাকে এই কয়েকটি আয়াতের মাধ্যমে সংক্ষেপে প্রকাশ করা হয়েছে।

আয়াত [১৯ : ৪২ – ৪৫] হচ্ছে হযরত ইব্রাহীমের আন্তরিক প্রচেষ্টা তাঁর পিতাকে প্ররোচিত করার জন্য সত্য ধর্মের প্রতি এবং আয়াত [ ১৯ : ৪৭ – ৪৮ ] হচ্ছে পিতার রূঢ় ও বিরক্তিকর প্রত্যাখানের উত্তরে হযরত ইব্রাহীমের ভদ্র, নম্র, কোমল উত্তর দান। এই আয়াতগুলি এই সত্যের দিকে ইঙ্গিত করে যে, হযরত ইব্রাহীমের চরিত্রের মাধুর্য্য ছিলো সত্য ধর্মের অনুশীলন ও এক আল্লাহ্‌র এবাদতের পরিণতি ও

তাঁর পিতার গর্বিত ও উদ্ধত ব্যবহার ছিলো তাঁর অশুভ শক্তির পূজার ফল। এই আয়াতগুলির মাধ্যমে যে আধ্যাত্মিক শিক্ষা দান করা হয়েছে সেগুলিকে ব্যাখ্যা চারভাগে ভাগ করা যায়। ১ ) পূণ্যবান সন্তানেরা সব সময়ে পিতার প্রতি কর্তব্যপরায়ণ হয় এবং পিতার পার্থিব ও আধ্যাত্মিক জীবনের প্রতি যত্নশীল। ২) যদি পিতা সত্যের আলোকে প্রত্যাখান করে, সন্তান তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে পিতাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য।

৩) যে একবার সত্যের আলোকে হৃদয়ে অনুভব করেছে, তাঁর পক্ষে কোনও অবস্থায় সম্ভব হবে না তা প্রত্যাখান করা এমন কি এর জন্য যদি তাঁকে তার স্নেহময় পিতার স্নেহচ্যুত হতে হয় এবং স্নেহমতয় পিতা যদি স্নেহহীন হয়ে পড়ে , নিষ্ঠুর ভাবে তাকে বাড়ী থেকে বিতাড়ণ করেন, সন্তান তবুও পিতার প্রতি কঠোর হবে না , সন্তানের আবেদন হবে নম্র, কোমল ভালোবাসাতে পূর্ণ।

পিতার সমস্ত অসম্পূর্ণতাকে সন্তান ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে কিন্তু সেই সাথে সে তাঁর বিশ্বাসের প্রতি থাকবে অটল , সত্যের প্রতি থাকবে অবিচলিত।

এই হচ্ছে এই আয়াতগুলির সার্বজনীন আবেদন।

উপদেশ : যেভাবে বড়দের নসিহত করতে হবে।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৪৭)

ইব্রাহীম বললেনঃ তোমার উপর শান্তি হোক, আমি আমার পালনকর্তার কাছে তোমার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করব। নিশ্চয় তিনি আমার প্রতি মেহেরবান।

Ibrâhim (Abraham) said: ”Peace be on you! I will ask Forgiveness of my Lord for you. Verily! He is unto me, Ever Most Gracious.

قَالَ سَلَامٌ عَلَيْكَ سَأَسْتَغْفِرُ لَكَ رَبِّي إِنَّهُ كَانَ بِي حَفِيًّا (47

Qala salamun AAalayka saastaghfiru laka rabbee innahu kana bee hafiyyan

YUSUFALI: Abraham said: “Peace be on thee: I will pray to my Lord for thy forgiveness: for He is to me Most Gracious.

PICKTHAL: He said: Peace be unto thee! I shall ask forgiveness of my Lord for thee. Lo! He was ever gracious unto me.

SHAKIR: He said: Peace be on you, I will pray to my Lord to forgive you; surely He is ever Affectionate to me:

KHALIFA: He said, “Peace be upon you. I will implore my Lord to forgive you; He has been Most Kind to me.

৪৭। ইব্রাহীম বলেছিলো, ” তোমার প্রতি শান্তি। আমি আমার প্রভুর নিকট তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবো ২৪৯৯। অবশ্যই তিনি আমার প্রতি পরম করুণাময়।

২৪৯৯। দেখুন আয়াত [ ৯ : ১১৪ ] যেখানে ইব্রাহীমকে তাঁর পিতার জন্য আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা চাওয়া থেকে বিরত হওয়ার কারণ বর্ণনা করা হয়েছে।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৪৮)

আমি পরিত্যাগ করছি তোমাদেরকে এবং তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদের এবাদত কর তাদেরকে; আমি আমার পালনকর্তার এবাদত করব। আশা করি, আমার পালনকর্তার এবাদত করে আমি বঞ্চিত হব না।
”And I shall turn away from you and from those whom you invoke besides Allâh. And I shall call on my Lord; and I hope that I shall not be unblest in my invocation to my Lord.”

وَأَعْتَزِلُكُمْ وَمَا تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ وَأَدْعُو رَبِّي عَسَى أَلَّا أَكُونَ بِدُعَاء رَبِّي شَقِيًّا
WaaAAtazilukum wama tadAAoona min dooni Allahi waadAAoo rabbee AAasa alla akoona biduAAa-i rabbee shaqiyyan

YUSUFALI: “And I will turn away from you (all) and from those whom ye invoke besides Allah: I will call on my Lord: perhaps, by my prayer to my Lord, I shall be not unblest.”

PICKTHAL: I shall withdraw from you and that unto which ye pray beside Allah, and I shall pray unto my Lord. It may be that, in prayer unto my Lord, I shall not be unblest.

SHAKIR: And I will withdraw from you and what you call on besides Allah, and I will call upon my Lord; may be I shall not remain unblessed in calling upon my Lord.

KHALIFA: “I will abandon you and the gods you worship beside GOD. I will worship only my Lord. By imploring my Lord alone, I cannot go wrong.”

৪৮। আমি তোমাদের থেকে এবং আল্লাহ্‌ ব্যতীত যাদের এবাদত কর, তাদের [ সকলের ] থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। আমি আমার প্রভুকে আহ্বান করি। সম্ভবতঃ আমার প্রার্থনা দ্বারা আমি আমার প্রভুর নিকট অভিশপ্ত হব না ২৫০০।

২৫০০। ইব্রাহীম তাঁর পিতা এবং পিতৃগৃহ ত্যাগ করেন এবং আর কোনও দিনই সেখানে ফিরে আসেন নাই। তিনি আজন্ম পরিচিত গৃহ ত্যাগ করে অজানার উদ্দেশ্যে পা বাড়ান , কারণ মিথ্যা ধর্ম ও অনাচারের সাথে আপোষ-মিমাংসা করা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিলো না।

তবে এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে অন্যায় অত্যাচারের পরিবর্তে হযরত ইব্রাহীমের ব্যবহার ছিলো কোমলতায়, ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। তিনি মধুর ভাবে তাঁর পিতার রূঢ় ব্যবহারের উত্তর দান করেন। হযরত ইব্রাহীমের একমাত্র আশা ছিলো পরম করুণাময়ের আর্শীবাদ।

এই আয়াতের মাধ্যমে হযরত ইব্রাহীমের বহু শতাব্দী পরে আল্লাহ্‌র হুকুম, সত্যের আলোকে সমুন্নত রাখার জন্য যে হিজরত হযরত মুহম্মদের (সা) দ্বারা সংঘটিত হবে তারই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৪৯)

অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে এবং তার আল্লাহ ব্যতীত যাদের এবাদত করত, তাদের সবাইকে পরিত্যাগ করলেন, তখন আমি তাকে দান করলাম ইসহাক ও ইয়াকুব এবং প্রত্যেককে নবী করলাম।

So when he had turned away from them and from those whom they worshipped besides Allâh, We gave him Ishâque (Isaac) and Ya’qûb (Jacob), and each one of them We made a Prophet.

فَلَمَّا اعْتَزَلَهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ وَهَبْنَا لَهُ إِسْحَقَ وَيَعْقُوبَ وَكُلًّا جَعَلْنَا نَبِيًّا

Falamma iAAtazalahum wama yaAAbudoona min dooni Allahi wahabna lahu ishaqa wayaAAqooba wakullan jaAAalna nabiyyan

YUSUFALI: When he had turned away from them and from those whom they worshipped besides Allah, We bestowed on him Isaac and Jacob, and each one of them We made a prophet.

PICKTHAL: So, when he had withdrawn from them and that which they were worshipping beside Allah, We gave him Isaac and Jacob. Each of them We made a prophet.

SHAKIR: So when he withdrew from them and what they worshipped besides Allah, We gave to him Ishaq and Yaqoub, and each one of them We made a prophet.

KHALIFA: Because he abandoned them and the gods they worshiped beside GOD, we granted him Isaac and Jacob, and we made each of them a prophet.

৪৯। অতঃপর সে যখন তাদের থেকে এবং আল্লাহ্‌ ব্যতীত যাদের তারা এবাদত করতো, তাদের [ সকলের ] থেকে দুরে সরে গেলো, আমি তাকে দান করলাম, ইসাহাক ও ইয়াকুব। এবং তাদের প্রত্যেককে নবী করলাম ২৫০১।

২৫০১। ইসাহাক ও ইসাহাকের পুত্র ইয়াকুবের কথা এখানে শুধু উল্লেখ করা হয়েছে , কারণ ইব্রাহীমের বংশের দুই শাখার এটা হচ্ছে এক শাখা। হযরত ইব্রাহীমের বংশের দুই শাখাই পয়গম্বরদের আগমনে ধন্য। ইসাহাকের শাখার উল্লেখ এখানে করা হয়েছে, এই শাখাতে আগমন করেন হযরত মুসা, হযরত ঈসা বা যীশু খ্রীষ্ট।

অপর শাখা হচ্ছে হযরত ইসমাঈলের বংশধর যার কথা পরবর্তী পাঁচটি আয়াতে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে বিশেষ সম্মানের সাথে। এই শাখাতে জন্ম গ্রহণ করেন শেষ নবী হযরত মুহম্মদ (সা)। সে কারণেই তাঁর উল্লেখ হযরত মুসার পরে করা হয়েছে। দেখুন [ ২১ : ৭২ ]।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৫০)

আমি তাদেরকে দান করলাম আমার অনুগ্রহ এবং তাদেরকে দিলাম সমুচ্চ সুখ্যাতি।

And We gave them of Our Mercy (a good provision in plenty), and We granted them honour on the tongues (of all the nations, i.e everybody remembers them with a good praise).

وَوَهَبْنَا لَهُم مِّن رَّحْمَتِنَا وَجَعَلْنَا لَهُمْ لِسَانَ صِدْقٍ عَلِيًّا

Wawahabna lahum min rahmatina wajaAAalna lahum lisana sidqin AAaliyyan

YUSUFALI: And We bestowed of Our Mercy on them, and We granted them lofty honour on the tongue of truth.

PICKTHAL: And we gave them of Our mercy, and assigned to them a high and true renown.

SHAKIR: And We granted to them of Our mercy, and We left (behind them) a truthful mention of eminence for them.

KHALIFA: We showered them with our mercy, and we granted them an honorable position in history.

৫০। এবং তাদেরকে আমার অনুগ্রহ দান করলাম। সত্যের বাণীতে তাদের জন্য সুউচ্চ সম্মান মঞ্জুর করলাম ২৫০২।

২৫০২। ইব্রাহীম এবং তাঁর ছেলে ইসাহাক ও নাতি ইয়াকুব এবং তাঁদের বংশধরেরা পয়গম্বরদের আগমনের ধারা অব্যাহত রাখেন। তাঁর সকলেই সত্য প্রচারের পতাকা সমুন্নত রাখেন। এ সব নবী ও রাসুলেরা যুগ যুগ ধরে মানুষের সম্মান ও শ্রদ্ধার পাত্র, সত্যের উপাসক রূপে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত।

হযরত ইব্রাহীম আল্লাহ্‌র কাছে প্রার্থনা করেছিলেন যে, পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে যারা সত্য ধর্মে বিশ্বাসী তাদের দ্বারা তিনি যেনো প্রশংসিত হতে পারেন। দেখুন আয়াত [ ২৬ : ৮৪ ] যেখানেও হযরত ইব্রাহীম অনুরূপ প্রার্থনা করেন। আল্লাহ্‌ তাঁকে অনুগ্রহ ও যশ দানে ধন্য করেন।

সূরা মারইয়াম

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৫১)

এই কিতাবে মূসার কথা বর্ণনা করুন, তিনি ছিলেন মনোনীত এবং তিনি ছিলেন রাসূল, নবী।

And mention in the Book (this Qur’ân) Mûsa (Moses). Verily! He was chosen and he was a Messenger (and) a Prophet.

وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مُوسَى إِنَّهُ كَانَ مُخْلَصًا وَكَانَ رَسُولًا نَّبِيًّا

Waothkur fee alkitabi moosa innahu kana mukhlasan wakana rasoolan nabiyyan

YUSUFALI: Also mention in the Book (the story of) Moses: for he was specially chosen, and he was a messenger (and) a prophet.

PICKTHAL: And make mention in the Scripture of Moses. Lo! he was chosen, and he was a messenger (of Allah), a prophet.

SHAKIR: And mention Musa in the Book; surely he was one purified, and he was a messenger, a prophet.

KHALIFA: Mention in the scripture Moses. He was devoted, and he was a messenger prophet.

রুকু – ৪

৫১। এই কিতাবের উল্লেখ করা হয়েছে মুসার [ কাহিনী ]। তাঁকে বিশেষভাবে মনোনীত করা হয়েছিলো , এবং সে ছিলো রাসুল [ এবং ] একজন নবী ২৫০৩।

২৫০৩। এখানে হযরত মুসা সম্বন্ধে তিনটি বিশেষণ প্রয়োগ করা হয়েছে। ১) তিনি ছিলেন বিশুদ্ধ চিত্ত অর্থাৎ আল্লাহ্‌ তাঁকে বিশেষ ভাবে নির্বাচিত করেন সে কারণে তাঁর অন্তকরণকে পরিশুদ্ধ ও বিশুদ্ধ করা হয় যেনো তিনি ইহুদীদের মিশরের দাসত্ব থেকে মুক্ত করতে পারেন। হযরত মুসার আর একটি উপাধি ছিলো ” কলিমউল্লাহ্‌ ” অর্থাৎ যে [ ফেরেশতা ব্যতীত ] সরাসরি আল্লাহ্‌ যার সাথে কথা বলেছেন।

দেখুন [ ৪ : ১৬৪ ] ও টিকা ৬৭০। ২) তিনি ছিলেন রাসুল , অর্থাৎ আল্লাহ্‌ তাঁকে কিতাব দান করেন এবং তাঁর ছিলো উম্মত বা সংগঠিত সম্প্রদায় , যেখানে তিনি আল্লাহ্‌র হুকুম বা আইন সমূহ প্রবর্তন করেন। ৩) তিনি ছিলেন নবী অর্থাৎ যিনি আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশ লাভ করে থাকেন।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৫২)

আমি তাকে আহবান করলাম তূর পাহাড়ের ডান দিক থেকে এবং গুঢ়তত্ত্ব আলোচনার উদ্দেশে তাকে নিকটবর্তী করলাম।

And We called him from the right side of the Mount, and made him draw near to Us for a talk with him [Mûsa (Moses)].

وَنَادَيْنَاهُ مِن جَانِبِ الطُّورِ الْأَيْمَنِ وَقَرَّبْنَاهُ نَجِيًّا

Wanadaynahu min janibi alttoori al-aymani waqarrabnahu najiyyan

YUSUFALI: And we called him from the right side of Mount (Sinai), and made him draw near to Us, for mystic (converse).

PICKTHAL: We called him from the right slope of the Mount, and brought him nigh in communion.

SHAKIR: And We called to him from the blessed side of the mountain, and We made him draw nigh, holding communion (with Us).

KHALIFA: We called him from the right side of Mount Sinai. We brought him close, to confer with him.

৫২। এবং আমি তাকে [ সিনাই ] পর্বতের দক্ষিণ দিক থেকে ডেকেছিলাম ২৫০৪, এবং তাঁকে আমার দিকে আকর্ষণ করেছিলাম অতীন্দ্রিয়[ কথোপকথনের ] জন্য।

২৫০৪। এই আয়াতে যে ঘটনার ইঙ্গিত করা হয়েছে , তাঁর পূর্ণ বিবরণ আছে আয়াতে [ ২০ : ৯ – ৩৬ ]। এখানে [Exod iii , 1 – 18 এবং iv : 1- 17] এর অনুরূপ বিবরণের উল্লেখ করা যায়। সময়টা ছিলো মুসার নবুয়ত প্রাপ্তি বা আল্লাহ্‌র নিকট থেকে তাঁর দায়িত্ব প্রাপ্তির পূর্বে।

সে সময়ে মুসা তাঁর শ্বশুরের মেষ পালকে চারণভূমিতে পরিচালনা করছিলেন এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিভ্রমন করছিলেন। ঘটনাটি সেই সময়কার, স্থানটি ছিলো সিনাই পর্বতের [Jabal Musa] পাদদেশে। মুসা দূরে আলো দেখতে পেলেন। কিন্তু যখন আলোর নিকটবর্তী হলেন, তিনি একটি কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন। তিনি যখন স্বরটির আরও নিকটবর্তী হলেন ,

তাঁর জন্য অপার রহস্যের দূয়ার উম্মুক্ত হলো। আল্লাহ্‌ তাঁকে তাঁর যুতা খুলে আরও নিকটবর্তী হওয়ার জন্য আদেশ দান করেন, হযরত মুসাকে তাঁর দায়িত্ব অপর্ণ করা হয় , এবং তাঁর ভাই হারুনকে তাঁর সাহায্যে নিযুক্ত করা হয় ও নবীর পদে উন্নীত করা হয়। এর পরেই মুসা এবং হারুন ফেরাউনের সাথে সাক্ষাত করেন যার বিবরণ আছে [ ৭ : ১০৩ – ১০৪ ] আয়াতে।

“দক্ষিণ দিক থেকে” বাক্যটির অর্থ মুসা তুর পর্বতের দিকে মুখ করে দাঁড়ানোর পরে পর্বতের ডান দিক থেকে স্বর শুনতে পেলেন। আবার আক্ষরিক অর্থে না নিয়ে আরবী অনুবাদকে যদি আলঙ্করিক অর্থে নেওয়া হয় , তবে “ডান দিকে ” বাক্যটির অর্থ দাঁড়াবে সেই দিক যে দিক আল্লাহ্‌র অনুগ্রহে ধন্য।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৫৩)

আমি নিজ অনুগ্রহে তাঁকে দান করলাম তাঁর ভাই হারুনকে নবীরূপে।
And We bestowed on him his brother Hârûn (Aaron), (also) a Prophet, out of Our Mercy.

وَوَهَبْنَا لَهُ مِن رَّحْمَتِنَا أَخَاهُ هَارُونَ نَبِيًّا
Wawahabna lahu min rahmatina akhahu haroona nabiyyan

YUSUFALI: And, out of Our Mercy, We gave him his brother Aaron, (also) a prophet.

PICKTHAL: And We bestowed upon him of Our mercy his brother Aaron, a prophet (likewise).

SHAKIR: And We gave to him out of Our mercy his brother Haroun a prophet.

KHALIFA: And we granted him, out of our mercy, his brother Aaron as a prophet.

৫৩। আমি আমার অনুগ্রহ স্বরূপ তার ভাই হারূনকে [-ও ] নবী রূপে তাকে দিলাম ২৫০৫।

২৫০৫। মুসার জিহ্বার জড়তার জন্য তার তোতলামি ছিলো। সেই কারণে কর্তব্য সম্বন্ধে তাঁর আত্মবিশ্বাস ছিলো না। তিনি আল্লাহ্‌র কাছে তাঁর ভাই হারুনকে সহকারী হিসেবে প্রার্থনা করেন। পরম করুণাময় তাঁর সেই আবেদন মঞ্জুর করেন [ ২০ : ২৫ – ৩৬ ]।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৫৪)

এই কিতাবে ইসমাঈলের কথা বর্ণনা করুন, তিনি প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যাশ্রয়ী এবং তিনি ছিলেন রসূল, নবী।
And mention in the Book (the Qur’ân) Ismâ’il (Ishmael). Verily! He was true to what he promised, and he was a Messenger, (and) a Prophet.

وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِسْمَاعِيلَ إِنَّهُ كَانَ صَادِقَ الْوَعْدِ وَكَانَ رَسُولًا نَّبِيًّا
Waothkur fee alkitabi ismaAAeela innahu kana sadiqa alwaAAdi wakana rasoolan nabiyyan

YUSUFALI: Also mention in the Book (the story of) Isma’il: He was (strictly) true to what he promised, and he was a messenger (and) a prophet.

PICKTHAL: And make mention in the Scripture of Ishmael. Lo! he was a keeper of his promise, and he was a messenger (of Allah), a prophet.

SHAKIR: And mention Ismail in the Book; surely he was truthful in (his) promise, and he was a messenger, a prophet.

KHALIFA: And mention in the scripture Ismail. He was truthful when he made a promise, and he was a messenger prophet.

৫৪। কিতাবে ইস্‌মাঈলের [ কাহিনীও ] উল্লেখ আছে। সে তাঁর প্রতিশ্রুতি পালনে ছিলো [ কঠোর ] সত্যাশ্রয়ী ২৫০৬। এবং সে ছিলো রাসুল ও নবী।

২৫০৬। হযরত ইসমাঈল ছিলেন ‘Az-zabih’ বা আল্লাহ্‌র জন্য উৎসর্গ করা বলি। যখন হযরত ইব্রাহীমকে বলা হলো তাঁকে উৎসর্গ বা কোরবাণী দেবার জন্য, ইসমাঈল স্বতঃস্ফুর্তভাবে আত্মোৎসর্গ করেন, এবং শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর প্রতিজ্ঞায় অটল ছিলেন।

ভয় পেয়ে পিছিয়ে আসেন নাই। অবশ্য শেষ পর্যন্ত আল্লাহ্‌র হুকুমে ইসমাঈলের পরিবর্তে ভেড়া কোরবাণী হয়ে যায়। তিনি ছিলেন আরব সম্প্রদায়ের আদি উৎস পুরুষ। তারই পরবর্তী বংশধরের মধ্যে জন্ম গ্রহণ করেন আল্লাহ্‌র রাসুল নবী করিম হযরত মুহম্মদ (সা)। ইসলামিক উম্মত এবং কিতাব হযরত ইসমাঈলের নবুয়ত্বের ধারাবাহিকতার ফসল। তিনি ছিলেন ” রাসুল, নবী “।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৫৫)

তিনি তাঁর পরিবারবর্গকে নামায ও যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিতেন এবং তিনি তাঁর পালনকর্তার কাছে পছন্দনীয় ছিলেন।

And he used to enjoin on his family and his people As-Salât (the prayers) and the Zakât, and his Lord was pleased with him.

وَكَانَ يَأْمُرُ أَهْلَهُ بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَكَانَ عِندَ رَبِّهِ مَرْضِيًّا

Wakana ya/muru ahlahu bialssalati waalzzakati wakana AAinda rabbihi mardiyyan

YUSUFALI: He used to enjoin on his people Prayer and Charity, and he was most acceptable in the sight of his Lord.

PICKTHAL: He enjoined upon his people worship and almsgiving, and was acceptable in the sight of his Lord.

SHAKIR: And he enjoined on his family prayer and almsgiving, and was one in whom his Lord was well pleased.

KHALIFA: He used to enjoin his family to observe the Contact Prayers (Salat) and the obligatory charity (Zakat); he was acceptable to his Lord.

৫৫। সে তার লোকদের সালাত ও দানের নির্দ্দেশ দিত। এবং সে ছিলো তার প্রভুর সন্তোষভাজন ২৫০৭।

২৫০৭। “প্রতিপালকের সন্তোষভাজন” অর্থাৎ আল্লাহ্‌র জন্য মনোনীত উৎসর্গ করা জীবন। দেখুন উপরের টিকা।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৫৬)

এই কিতাবে ইদ্রীসের কথা আলোচনা করুন, তিনি ছিলেন সত্যবাদী নবী।
And mention in the Book (the Qur’ân) Idris (Enoch).Verily! He was a man of truth, (and) a Prophet.

وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِدْرِيسَ إِنَّهُ كَانَ صِدِّيقًا نَّبِيًّا

Waothkur fee alkitabi idreesa innahu kana siddeeqan nabiyyan

YUSUFALI: Also mention in the Book the case of Idris: He was a man of truth (and sincerity), (and) a prophet:

PICKTHAL: And make mention in the Scripture of Idris. Lo! he was a saint, a prophet;

SHAKIR: And mention Idris in the Book; surely he was a truthful man, a prophet,

KHALIFA: And mention in the scripture Idris. He was a saint, a prophet.

৫৬। কিতাবে আরও উল্লেখ আছে ইদরীসের কাহিনী ২৫০৮। সে ছিলো সত্যবাদী [ বিশ্বস্ত এবং ] একজন নবী।

৫৭। এবং আমি তাঁকে উন্নীত করেছিলাম উচ্চ মর্যাদায়।

২৫০৮। কোরাণ শরীফে দুইবার হযরত ইদরীসের উল্লেখ আছে। এই সূরাতে ও সূরা [ ২১ : ৮৫ ] আয়াতে। যেখানে তাঁকে ধৈর্য্যশীল রূপে বর্ণনা করা হয়েছে। বাইবেলে [Gen . V. 21 – 24] তাঁর পরিচিতি হচ্ছে যিনি “Walked with God.” এ কথা সত্য হতেও পারে নাও হতে পারে। বাইবেলের [Gen. V. 24] বর্ণিত ভাষ্য [God took him] অনুযায়ী এই আয়াতকে [ ১৯ : ৫৭ ] ব্যাখ্যা করা যায় না। ” উচ্চ মর্যদায় উন্নীত করার

” অর্থ এই নয় যে, তিনি মৃত্যুর তোরণ অতিক্রম না করেই আল্লাহ্‌র নিকট উন্নীত হন। কোরাণ শরীফের বর্ণনা থেকে আমরা যেটুকু বুঝতে পারি তা হচ্ছে তিনি ছিলেন সত্যাশ্রয়ী, বিশ্বস্ত এবং তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট তাঁর ছিলো উচ্চ মর্যদা। এই সব গুণাবলীতে তিনি যাদের সমকক্ষ ছিলেন , তাদের উল্লেখ করা হয়েছে তার উল্লেখের সম্বন্ধে।

তিনি সর্বদা জনসাধারণের সংস্পর্শে থাকতেন এবং তিনি ছিলেন তাদের সম্মানের পাত্র। হযরত ইদ্রিসের উল্লেখের মাধ্যমে এই উপদেশ দেয়া হয়েছে যে, আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য আমাদের জনসংযোগ বিচ্যুত হওয়ার আবশ্যক নাই। আল্লাহ্‌কে পাওয়ার জন্য লোকালয় ত্যাগ করে বনে যাওয়ার প্রয়োজন নাই। কারণ যিনি আল্লাহ্‌র অনুগ্রহভাজন হবেন তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে অপরজনকে পথ দেখানো।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৫৭)

আমি তাকে উচ্চে উন্নীত করেছিলাম।
And We raised him to a high station.

وَرَفَعْنَاهُ مَكَانًا عَلِيًّا

WarafaAAnahu makanan AAaliyyan

YUSUFALI: And We raised him to a lofty station.
PICKTHAL: And We raised him to high station.

SHAKIR: And We raised him high in Heaven.
KHALIFA: We raised him to an honorable rank.

৫৬। কিতাবে আরও উল্লেখ আছে ইদরীসের কাহিনী ২৫০৮। সে ছিলো সত্যবাদী [ বিশ্বস্ত এবং ] একজন নবী।

৫৭। এবং আমি তাঁকে উন্নীত করেছিলাম উচ্চ মর্যাদায়।

২৫০৮। কোরাণ শরীফে দুইবার হযরত ইদরীসের উল্লেখ আছে। এই সূরাতে ও সূরা [ ২১ : ৮৫ ] আয়াতে। যেখানে তাঁকে ধৈর্য্যশীল রূপে বর্ণনা করা হয়েছে। বাইবেলে [Gen . V. 21 – 24] তাঁর পরিচিতি হচ্ছে যিনি “Walked with God.” এ কথা সত্য হতেও পারে নাও হতে পারে। বাইবেলের [Gen. V. 24] বর্ণিত ভাষ্য [God took him] অনুযায়ী এই আয়াতকে [ ১৯ : ৫৭ ] ব্যাখ্যা করা যায় না। ”

উচ্চ মর্যদায় উন্নীত করার ” অর্থ এই নয় যে, তিনি মৃত্যুর তোরণ অতিক্রম না করেই আল্লাহ্‌র নিকট উন্নীত হন। কোরাণ শরীফের বর্ণনা থেকে আমরা যেটুকু বুঝতে পারি তা হচ্ছে তিনি ছিলেন সত্যাশ্রয়ী, বিশ্বস্ত এবং তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট তাঁর ছিলো উচ্চ মর্যদা। এই সব গুণাবলীতে তিনি যাদের সমকক্ষ ছিলেন , তাদের উল্লেখ করা হয়েছে তার উল্লেখের সম্বন্ধে।

তিনি সর্বদা জনসাধারণের সংস্পর্শে থাকতেন এবং তিনি ছিলেন তাদের সম্মানের পাত্র। হযরত ইদ্রিসের উল্লেখের মাধ্যমে এই উপদেশ দেয়া হয়েছে যে, আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য আমাদের জনসংযোগ বিচ্যুত হওয়ার আবশ্যক নাই। আল্লাহ্‌কে পাওয়ার জন্য লোকালয় ত্যাগ করে বনে যাওয়ার প্রয়োজন নাই। কারণ যিনি আল্লাহ্‌র অনুগ্রহভাজন হবেন তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে অপরজনকে পথ দেখানো।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৫৮)

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৫৯)

অতঃপর তাদের পরে এল অপদার্থ পরবর্তীরা। তারা নামায নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুবর্তী হল। সুতরাং তারা অচিরেই পথভ্রষ্টতা প্রত্যক্ষ করবে।

Then, there has succeeded them a posterity who have given up As-Salât (the prayers) [i.e. made their Salât (prayers) to be lost, either by not offering them or by not offering them perfectly or by not offering them in their proper fixed times, etc.] and have followed lusts. So they will be thrown in Hell.

فَخَلَفَ مِن بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا

Fakhalafa min baAAdihim khalfun adaAAoo alssalata waittabaAAoo alshshahawati fasawfa yalqawna ghayyan

YUSUFALI: But after them there followed a posterity who missed prayers and followed after lusts soon, then, will they face Destruction,-

PICKTHAL: Now there hath succeeded them a later generation whom have ruined worship and have followed lusts. But they will meet deception.

SHAKIR: But there came after them an evil generation, who neglected prayers and followed and sensual desires, so they win meet perdition,

KHALIFA: After them, He substituted generations who lost the Contact Prayers (Salat), and pursued their lusts. They will suffer the consequences.

৫৯। কিন্তু তাদের পরের বংশধরেরা সালাত বাদ দিত, এবং কাম-প্রবৃত্তির অনুসরণ করতো। শীঘ্রই তারা [তাদের ] ধ্বংস প্রত্যক্ষ করবে; ২৫১১

২৫১১। পৃথিবীতে উত্থান ও পতন সময়ের ধর্ম। কখনও কখনও অন্যায়, অসত্য ,অধর্ম , পৃথিবীকে সাময়িকভাবে গ্রাস করে। কিন্তু তখনও একদল লোক থাকে যারা অন্যায়, অসত্য, অধর্মের কাছে আত্মসমর্পন করে না।

যদিও তাঁরা সংখ্যায় হয় স্বল্প। তাঁরা নিজেদের ভুল বুঝতে পারে; অনুতাপ করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে। এদের আল্লাহ্‌ পরলোকে শাস্তি দান করবেন না, কারণ পৃথিবীতে তাঁরা সৎজীবন যাপন করেছেন, তারা অসৎ জীবনের প্রভাবে আল্লাহ্‌র মনোনীত জীবন ব্যবস্থা ভুলে যায় নাই। পরের আয়াতে আল্লাহ্‌ এদের ঈমান ও সৎকর্মের পূর্ণ পুরষ্কারের প্রতিশ্রুতি দান করেছেন।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৬০)

কিন্তু তারা ব্যতীত, যারা তওবা করেছে, বিশ্বাস স্থাপন করেছে। সুতরাং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের উপর কোন জুলুম করা হবে না।

Except those who repent and believe (in the Oneness of Allâh and His Messenger Muhammad SAW), and work righteousness. Such will enter Paradise and they will not be wronged in aught.

إِلَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَأُوْلَئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ شَيْئًا

Illa man taba waamana waAAamila salihan faola-ika yadkhuloona aljannata wala yuthlamoona shay-an

YUSUFALI: Except those who repent and believe, and work righteousness: for these will enter the Garden and will not be wronged in the least,-

PICKTHAL: Save him who shall repent and believe and do right. Such will enter the Garden, and they will not be wronged in aught –

SHAKIR: Except such as repent and believe and do good, these shall enter the garden, and they shall not be dealt with unjustly in any way:

KHALIFA: Only those who repent, believe, and lead a righteous life will enter Paradise, without the least injustice.

৬০। [অবশ্য ] যারা অনুতাপ করে , ঈমান আনে, সৎকাজ করে তারা ব্যতীত। তারা তো জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের প্রতি এতটুকু যুলুম করা হবে না।

৬১। অনন্ত [ সুখের ] বাগান, যে অদৃশ্য বিষয়ের প্রতিশ্রুতি পরম করুণাময় [আল্লাহ্‌ ] তাঁর বান্দাদের দিয়েছেন। তাঁর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সফল হবে।

৬২। তারা সেখানে শন্তির সম্ভাষণ ব্যতীত অন্য কোন অসার বাক্য শুনবে না ২৫১২। সেখানে সকাল – সন্ধ্যায় তাদের জন্য থাকবে জীবনোপকরণ ২৫১৩।

২৫১২। “Salam” যার বাংলা অনুবাদ করা হয়েছে শান্তি। সালাম শব্দটির সঙ্কীনার্থে ব্যবহার হয় না। এর অর্থ ব্যপক; নিম্নলিখিত ভাবগুলি “সালাম” শব্দটি দ্বারা প্রকাশ করা হয় : ১) স্থায়ী নিরাপত্তার অনুভূতি; যে অনুভূতি এই পৃথিবীতে অনুভব করা সম্ভব নয়। ২) নির্ভরযোগ্য ,মুক্ত, ত্রুটিহীন, সম্পূর্ণ ইত্যাদি যা “Salam” শব্দটি থেকে উদ্ভুত।

৩) নিরাপদ রাখা, পাপ থেকে মুক্ত করা উদ্ধার করা, ইত্যাদি যা “Salam” শব্দটি থেকে উদ্ভুত, ৪) সামঞ্জস্য রক্ষা করে অভিবাদন করা ৫) সন্তুষ্টভাবে পরিত্যাগ করা; ৬) শান্তির সকল সাধারণ অর্থে যেমনঃ কোনও রকম পীড়াদায়ক অবস্থা থেকে মুক্ত থাকা। উপরের অর্থগুলি সব কিছুই “সালাম” শব্দটি দ্বারা প্রকাশ করা যায়।

২৫১৩। “Rizq” জীবনোপকরণ অর্থ অস্তিত্বেও জন্য যা প্রয়োজন সবই। এই শব্দটি ব্যপক অর্থে ব্যবহৃত যেমন : শরীর, মন, আত্মার সম্পূর্ণ প্রশান্তির জন্য যা প্রয়োজন। ” সকাল – সন্ধ্যা” শব্দটি দ্বারা প্রারম্ভ ও শেষ কে বোঝানো হয়েছে অর্থাৎ ব্যাপক সময় বোঝানো হয়েছে।

সূরা মারইয়াম

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৬১)

তাদের স্থায়ী বসবাস হবে যার ওয়াদা দয়াময় আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে অদৃশ্যভাবে দিয়েছেন। অবশ্যই তাঁর ওয়াদার তারা পৌঁছাবে।

(They will enter) ’Adn (Eden) Paradise (everlasting Gardens), which the Most Beneficent (Allâh) has promised to His slaves in the unseen: Verily! His Promise must come to pass.

جَنَّاتِ عَدْنٍ الَّتِي وَعَدَ الرَّحْمَنُ عِبَادَهُ بِالْغَيْبِ إِنَّهُ كَانَ وَعْدُهُ مَأْتِيًّا

Jannati AAadnin allatee waAAada alrrahmanu AAibadahu bialghaybi innahu kana waAAduhu ma/tiyyan

YUSUFALI: Gardens of Eternity, those which (Allah) Most Gracious has promised to His servants in the Unseen: for His promise must (necessarily) come to pass.

PICKTHAL: Gardens of Eden, which the Beneficent hath promised to His slaves in the unseen. Lo! His promise is ever sure of fulfilment –

SHAKIR: The gardens of perpetuity which the Beneficent Allah has promised to His servants while unseen; surely His promise shall come to pass.

KHALIFA: The gardens of Eden await them, as promised by the Most Gracious for those who worship Him, even in privacy. Certainly, His promise must come to pass.

৬০। [অবশ্য ] যারা অনুতাপ করে , ঈমান আনে, সৎকাজ করে তারা ব্যতীত। তারা তো জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের প্রতি এতটুকু যুলুম করা হবে না।

৬১। অনন্ত [ সুখের ] বাগান, যে অদৃশ্য বিষয়ের প্রতিশ্রুতি পরম করুণাময় [আল্লাহ্‌ ] তাঁর বান্দাদের দিয়েছেন। তাঁর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সফল হবে।

৬২। তারা সেখানে শন্তির সম্ভাষণ ব্যতীত অন্য কোন অসার বাক্য শুনবে না ২৫১২। সেখানে সকাল – সন্ধ্যায় তাদের জন্য থাকবে জীবনোপকরণ ২৫১৩।

২৫১২। “Salam” যার বাংলা অনুবাদ করা হয়েছে শান্তি। সালাম শব্দটির সঙ্কীনার্থে ব্যবহার হয় না। এর অর্থ ব্যপক; নিম্নলিখিত ভাবগুলি “সালাম” শব্দটি দ্বারা প্রকাশ করা হয় : ১) স্থায়ী নিরাপত্তার অনুভূতি; যে অনুভূতি এই পৃথিবীতে অনুভব করা সম্ভব নয়। ২) নির্ভরযোগ্য ,মুক্ত, ত্রুটিহীন, সম্পূর্ণ ইত্যাদি যা “Salam” শব্দটি থেকে উদ্ভুত।

৩) নিরাপদ রাখা, পাপ থেকে মুক্ত করা উদ্ধার করা, ইত্যাদি যা “Salam” শব্দটি থেকে উদ্ভুত, ৪) সামঞ্জস্য রক্ষা করে অভিবাদন করা ৫) সন্তুষ্টভাবে পরিত্যাগ করা; ৬) শান্তির সকল সাধারণ অর্থে যেমনঃ কোনও রকম পীড়াদায়ক অবস্থা থেকে মুক্ত থাকা। উপরের অর্থগুলি সব কিছুই “সালাম” শব্দটি দ্বারা প্রকাশ করা যায়।

২৫১৩। “Rizq” জীবনোপকরণ অর্থ অস্তিত্বেও জন্য যা প্রয়োজন সবই। এই শব্দটি ব্যপক অর্থে ব্যবহৃত যেমন : শরীর, মন, আত্মার সম্পূর্ণ প্রশান্তির জন্য যা প্রয়োজন। ” সকাল – সন্ধ্যা” শব্দটি দ্বারা প্রারম্ভ ও শেষ কে বোঝানো হয়েছে অর্থাৎ ব্যাপক সময় বোঝানো হয়েছে।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৬২)

তারা সেখানে সালাম ব্যতীত কোন অসার কথাবার্তা শুনবে না এবং সেখানে সকাল-সন্ধ্যা তাদের জন্যে রুযী থাকবে।

They shall not hear therein (in Paradise) any Laghw (dirty, false, evil vain talk), but only Salâm (salutations of peace). And they will have therein their sustenance, morning and afternoon. [See (V.40:55)].

لَا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا إِلَّا سَلَامًا وَلَهُمْ رِزْقُهُمْ فِيهَا بُكْرَةً وَعَشِيًّا

La yasmaAAoona feeha laghwan illa salaman walahum rizquhum feeha bukratan waAAashiyyan

YUSUFALI: They will not there hear any vain discourse, but only salutations of Peace: And they will have therein their sustenance, morning and evening.

PICKTHAL: They hear therein no idle talk, but only Peace; and therein they have food for morn and evening.

SHAKIR: They shall not hear therein any vain discourse, but only: Peace, and they shall have their sustenance therein morning and evening.

KHALIFA: They will not hear any nonsense therein; only peace. They receive their provisions therein, day and night.

৬০। [অবশ্য ] যারা অনুতাপ করে , ঈমান আনে, সৎকাজ করে তারা ব্যতীত। তারা তো জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের প্রতি এতটুকু যুলুম করা হবে না।

৬১। অনন্ত [ সুখের ] বাগান, যে অদৃশ্য বিষয়ের প্রতিশ্রুতি পরম করুণাময় [আল্লাহ্‌ ] তাঁর বান্দাদের দিয়েছেন। তাঁর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সফল হবে।

৬২। তারা সেখানে শন্তির সম্ভাষণ ব্যতীত অন্য কোন অসার বাক্য শুনবে না ২৫১২। সেখানে সকাল – সন্ধ্যায় তাদের জন্য থাকবে জীবনোপকরণ ২৫১৩।

২৫১২। “Salam” যার বাংলা অনুবাদ করা হয়েছে শান্তি। সালাম শব্দটির সঙ্কীনার্থে ব্যবহার হয় না। এর অর্থ ব্যপক; নিম্নলিখিত ভাবগুলি “সালাম” শব্দটি দ্বারা প্রকাশ করা হয় : ১) স্থায়ী নিরাপত্তার অনুভূতি; যে অনুভূতি এই পৃথিবীতে অনুভব করা সম্ভব নয়। ২) নির্ভরযোগ্য ,মুক্ত, ত্রুটিহীন, সম্পূর্ণ ইত্যাদি যা “Salam” শব্দটি থেকে উদ্ভুত।

৩) নিরাপদ রাখা, পাপ থেকে মুক্ত করা উদ্ধার করা, ইত্যাদি যা “Salam” শব্দটি থেকে উদ্ভুত, ৪) সামঞ্জস্য রক্ষা করে অভিবাদন করা ৫) সন্তুষ্টভাবে পরিত্যাগ করা; ৬) শান্তির সকল সাধারণ অর্থে যেমনঃ কোনও রকম পীড়াদায়ক অবস্থা থেকে মুক্ত থাকা। উপরের অর্থগুলি সব কিছুই “সালাম” শব্দটি দ্বারা প্রকাশ করা যায়।

২৫১৩। “Rizq” জীবনোপকরণ অর্থ অস্তিত্বেও জন্য যা প্রয়োজন সবই। এই শব্দটি ব্যপক অর্থে ব্যবহৃত যেমন : শরীর, মন, আত্মার সম্পূর্ণ প্রশান্তির জন্য যা প্রয়োজন। ” সকাল – সন্ধ্যা” শব্দটি দ্বারা প্রারম্ভ ও শেষ কে বোঝানো হয়েছে অর্থাৎ ব্যাপক সময় বোঝানো হয়েছে।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৬৩)

এটা ঐ জান্নাত যার অধিকারী করব আমার বান্দাদের মধ্যে পরহেযগারদেরকে।
Such is the Paradise which We shall give as an inheritance to those of Our slaves who have been Al-Muttaqûn (pious and righteous persons – See V.2:2).

تِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي نُورِثُ مِنْ عِبَادِنَا مَن كَانَ تَقِيًّا
Tilka aljannatu allatee noorithu min AAibadina man kana taqiyyan

YUSUFALI: Such is the Garden which We give as an inheritance to those of Our servants who guard against Evil.

PICKTHAL: Such is the Garden which We cause the devout among Our bondmen to inherit.
SHAKIR: This is the garden which We cause those of Our servants to inherit who guard (against evil).

KHALIFA: Such is Paradise; we grant it to those among our servants who are righteous.

৬৩। এই সেই বেহেশত্‌, আমার বান্দাদের মধ্যে আমি তাদের এর উত্তরাধিকার করবো যারা মন্দ থেকে নিজেকে বিরত রাখে।

৬৪। [ ফেরেশতারা বলবে ] ২৫১৪, ” আপনার প্রভুর আদেশ ব্যতীত আমরা অবতরণ করি না। আমাদের সম্মুখে যা আছে, পশ্চাতে যা আছে এবং দুই এর মধ্যবর্তী যা আছে সবই আল্লাহ্‌র অধিকারে এবং আপনার প্রভু কখনও ভুলে যান না ; –

২৫১৪। এই বাক্যটি জিব্রাঈলের (আঃ) কথা। কিছুকালের জন্য ওহী প্রেরণ বন্ধ ছিলো। ইহাতে রাসুর (সা) অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে জিব্রাঈল উপস্থিত হলে রাসুল (সা) তাঁকে বিলম্বের কারণ জিজ্ঞাসা করেন। তদুত্তরে জিব্রাঈল যা বলেন তাই এখানে বিবৃত করা হয়েছে। বিনয় প্রকাশের জন্য জিব্রাঈল ” আমরা ” শব্দটি ব্যবহার করেছেন। সার্বজনীন উপদেশ হচ্ছে : আমরা অনেক সময়েই আমাদের চারিপার্শ্বে অসৎ ও পাপীদের প্রভাব প্রতিপত্তি দেখে অধৈর্য্য হয়ে পড়ি।

আমাদের সাধ্য অনুযায়ী আল্লাহ্‌র রাস্তায় কাজ করার পরেও অনেক সময়ে তার কোনও প্রতিদান না পেলে আমরা অস্থির হয়ে পড়ি। সাধারণ মানুষের জ্ঞান ও দূরদৃষ্টি সীমাবদ্ধ সে কারণেই আমরা অনেক সময়ে প্রকৃত মঙ্গল বুঝতে না পেরে অভিযোগ করে থাকি। আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ বহনকারী ফেরেশতার আগমন কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়। তাঁর আগমন ঘটে শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র হুকুমে নির্দ্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য।

সুতারাং কোনও কারণেই আমাদের অধৈর্য্য হওয়া উচিত নয়। কারণ আল্লাহ্‌ কিছুই ভোলেন না। আমাদের কল্যাণের জন্য যখন যেমন প্রয়োজন সেই অনুযায়ী আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ বর্ষিত হয়। তাঁর দূরদর্শিতা , বিচক্ষণতা, সূদূর প্রসারী ও সকলের জন্য। আমাদের সে জন্য অধৈর্য্য হওয়ার প্রয়োজন নাই। আমাদের যা কর্তব্য তা হচ্ছে ধৈর্য্য ধারণ করে আল্লাহ্‌র রাস্তায় নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া।

সূরা মারইয়াম

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৬৪)

(জিব্রাইল বললঃ) আমি আপনার পালনকর্তার আদেশ ব্যতীত অবতরণ করি না, যা আমাদের সামনে আছে, যা আমাদের পশ্চাতে আছে এবং যা এ দুই-এর মধ্যস্থলে আছে, সবই তাঁর এবং আপনার পালনকর্তা বিস্মৃত হওয়ার নন।

And we (angels) descend not except by the Command of your Lord (O Muhammad SAW). To Him belongs what is before us and what is behind us, and what is between those two, and your Lord is never forgetful,

وَمَا نَتَنَزَّلُ إِلَّا بِأَمْرِ رَبِّكَ لَهُ مَا بَيْنَ أَيْدِينَا وَمَا خَلْفَنَا وَمَا بَيْنَ ذَلِكَ وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيًّا

Wama natanazzalu illa bi-amri rabbika lahu ma bayna aydeena wama khalfana wama bayna thalika wama kana rabbuka nasiyyan

YUSUFALI: (The angels say:) “We descend not but by command of thy Lord: to Him belongeth what is before us and what is behind us, and what is between: and thy Lord never doth forget,-

PICKTHAL: We (angels) come not down save by commandment of thy Lord. Unto Him belongeth all that is before us and all that is behind us and all that is between those two, and thy Lord was never forgetful –

SHAKIR: And we do not descend but by the command of your Lord; to Him belongs whatever is before us and whatever is behind us and whatever is between these, and your Lord is not forgetful.

KHALIFA: We do not come down except by the command of your Lord. To Him belongs our past, our future, and everything between them. Your Lord is never forgetful.

৬৩। এই সেই বেহেশত্‌, আমার বান্দাদের মধ্যে আমি তাদের এর উত্তরাধিকার করবো যারা মন্দ থেকে নিজেকে বিরত রাখে।

৬৪। [ ফেরেশতারা বলবে ] ২৫১৪, ” আপনার প্রভুর আদেশ ব্যতীত আমরা অবতরণ করি না। আমাদের সম্মুখে যা আছে, পশ্চাতে যা আছে এবং দুই এর মধ্যবর্তী যা আছে সবই আল্লাহ্‌র অধিকারে এবং আপনার প্রভু কখনও ভুলে যান না ; –

২৫১৪। এই বাক্যটি জিব্রাঈলের (আঃ) কথা। কিছুকালের জন্য ওহী প্রেরণ বন্ধ ছিলো। ইহাতে রাসুর (সা) অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে জিব্রাঈল উপস্থিত হলে রাসুল (সা) তাঁকে বিলম্বের কারণ জিজ্ঞাসা করেন। তদুত্তরে জিব্রাঈল যা বলেন তাই এখানে বিবৃত করা হয়েছে।

বিনয় প্রকাশের জন্য জিব্রাঈল ” আমরা ” শব্দটি ব্যবহার করেছেন। সার্বজনীন উপদেশ হচ্ছে : আমরা অনেক সময়েই আমাদের চারিপার্শ্বে অসৎ ও পাপীদের প্রভাব প্রতিপত্তি দেখে অধৈর্য্য হয়ে পড়ি। আমাদের সাধ্য অনুযায়ী আল্লাহ্‌র রাস্তায় কাজ করার পরেও অনেক সময়ে তার কোনও প্রতিদান না পেলে আমরা অস্থির হয়ে পড়ি।

সাধারণ মানুষের জ্ঞান ও দূরদৃষ্টি সীমাবদ্ধ সে কারণেই আমরা অনেক সময়ে প্রকৃত মঙ্গল বুঝতে না পেরে অভিযোগ করে থাকি। আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ বহনকারী ফেরেশতার আগমন কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়। তাঁর আগমন ঘটে শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র হুকুমে নির্দ্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য। সুতারাং কোনও কারণেই আমাদের অধৈর্য্য হওয়া উচিত নয়।

কারণ আল্লাহ্‌ কিছুই ভোলেন না। আমাদের কল্যাণের জন্য যখন যেমন প্রয়োজন সেই অনুযায়ী আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ বর্ষিত হয়। তাঁর দূরদর্শিতা , বিচক্ষণতা, সূদূর প্রসারী ও সকলের জন্য। আমাদের সে জন্য অধৈর্য্য হওয়ার প্রয়োজন নাই। আমাদের যা কর্তব্য তা হচ্ছে ধৈর্য্য ধারণ করে আল্লাহ্‌র রাস্তায় নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া।

আরও দেখুনঃ 

সূরা মারইয়ামপার্ট-৪

সূরা মারইয়ামপার্ট-২

সূরা মারইয়ামপার্ট-১

সূরা মারইয়ামপার্ট-১

সূরা কাহফ পার্ট-৫

সূরা মারইয়াম – উইকিপিডিয়া

Leave a Comment