সূরা মারইয়াম পার্ট-৪ [হযরত জাকারিয়া এর প্রার্থনার কথা,বিবি মারইয়াম এবং পুত্র হযরত ঈসা-এর সম্পর্কে বলা হয়েছে ] সূরা ১৯। কুরআন ।

সূরা মারইয়াম পার্ট-৪ ,সূরা মারইয়াম (আরবি ভাষায়: سورة مريم‎‎) মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের ১৯ নম্বর সূরা; এর আয়াত অর্থাৎ বাক্য সংখ্যা ৯৮ এবং রূকু তথা অনুচ্ছেদ সংখ্যা ৬। সূরা মারইয়াম মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এই সূরাটির প্রথমে হযরত জাকারিয়া এর প্রার্থনার কথা, পরে বিবি মারইয়াম এবং পুত্র হযরত ঈসা-এর সম্পর্কে বলা হয়েছে।

সূরা মারইয়াম পার্ট-৪

সূরা মারইয়াম পার্ট-৪

সূরা মারইয়াম

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৬৫)

তিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডলে এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবার পালনকর্তা। সুতরাং তাঁরই বন্দেগী করুন এবং তাতে দৃঢ় থাকুন আপনি কি তাঁর সমনাম কাউকে জানেন?

Lord of the heavens and the earth, and all that is between them, so worship Him (Alone) and be constant and patient in His worship. Do you know of any who is similar to Him? (of course none is similar or coequal or comparable to Him, and He has none as partner with Him). [There is nothing like unto Him and He is the All-Hearer, the All-Seer].

رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا فَاعْبُدْهُ وَاصْطَبِرْ لِعِبَادَتِهِ هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا

Rabbu alssamawati waal-ardi wama baynahuma faoAAbudhu waistabir liAAibadatihi hal taAAlamu lahu samiyyan

YUSUFALI: “Lord of the heavens and of the earth, and of all that is between them; so worship Him, and be constant and patient in His worship: knowest thou of any who is worthy of the same Name as He?”

PICKTHAL: Lord of the heavens and the earth and all that is between them! Therefor, worship thou Him and be thou steadfast in His service. Knowest thou one that can be named along with Him?

SHAKIR: The Lord of the heavens and the earth and what is between them, so serve Him and be patient in His service. Do you know any one equal to Him?

KHALIFA: The Lord of the heavens and the earth, and everything between them; you shall worship Him and steadfastly persevere in worshiping Him. Do you know of anyone who equals Him?

৬৫। “আকাশমন্ডলী , পৃথিবী এবং এই দুই এর মধ্যবর্তী সকল কিছুর প্রভু তিনি। সুতারাং তাঁর এবাদত কর এবং এবাদতে দৃঢ় ও ধৈর্যশীল থাক। তুমি কি আল্লাহ্‌র নামের সমগুণ সম্পন্ন কাউকে জান ? ২৫১৫ ”

২৫১৫। সত্যকে অনুধাবনের মাধ্যমে , জীবনের রহস্যকে উপলব্ধির মাধ্যমে, মানুষের জ্ঞানচক্ষু উম্মীলিত হয়। যত আমাদের এই অনুধাবন ও উপলব্ধির অনুভূতি প্রগাঢ় হবে তত আমাদের এই বোধোদয় ঘটবে যে আল্লাহ্‌র সমকক্ষ বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে আর কিছু নাই। তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ। সমস্ত সৌন্দর্য, সমস্ত গুণের আঁধার এক আল্লাহ্‌।

মানুষের মাঝে যে সব গূণাবলী দেখে আমরা মুগ্ধ হই, প্রকৃতির মাঝে যে সৌন্দর্য আমাদের অভিভূত করে সবই আল্লাহ্‌র গুণাবলীর ক্ষুদ্র প্রকাশ মাত্র। বিশ্ব-প্রকৃতির রূপ, রস, বর্ণ, গন্ধ, সৃষ্টি জগতের নানা বৈচিত্র সবই সেই এক স্রষ্টার নিজস্ব গুণাবলীর প্রকাশ মাত্র। তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ স্রষ্টা, সর্বশ্রেষ্ঠ শিল্পী, সর্বশ্রেষ্ঠ করুণাময়। তাঁর গুণাবলী সারা বিশ্ব-ব্রহ্মান্ডময় অণু পরমাণুতে ছড়িয়ে আছে।

তাঁর করুণা তাঁর সর্ব সৃষ্টিতে বিদ্যমান। পৃথিবীব্যপী তাঁর সৃষ্টি বৈচিত্রের সাথে তুলনা করার ক্ষমতা আর কেউ রাখে না। তিনিই একমাত্র প্রশংসনীয়।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৬৬)

মানুষ বলেঃ আমার মৃত্যু হলে পর আমি কি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হব?
And man (the disbeliever) says: ”When I am dead, shall I then be raised up alive?”

وَيَقُولُ الْإِنسَانُ أَئِذَا مَا مِتُّ لَسَوْفَ أُخْرَجُ حَيًّا
Wayaqoolu al-insanu a-itha ma mittu lasawfa okhraju hayyan

YUSUFALI: Man says: “What! When I am dead, shall I then be raised up alive?”
PICKTHAL: And man saith: When I am dead, shall I forsooth be brought forth alive?
SHAKIR: And says man: What! when I am dead shall I truly be brought forth alive?
KHALIFA: The human being asks, “After I die, do I come back to life?”

রুকু – ৫

৬৬। লোকে বলে, ” যখন আমি মরে যাব, তখন আমি আবার জীবিত অবস্থায় উত্থিত হব ?”

৬৭। কিন্তু মানুষ কি স্মরণ করে না যে, প্রথমে আমি তাকে শুণ্য থেকে সৃষ্টি করি ?

৬৮। সুতারাং তোমার প্রভুর শপথ ! নিঃসন্দেহে আমি ওদের এবং [তাদের সাথে ] শয়তানাদেরও একসঙ্গে সমবেত করবো ২৫১৬। অতঃপর আমি তাদের নতজানু করে জাহান্নামের চারিদিকে উপস্থিত করবো ২৫১৭।

২৫১৬। পরলোকে অবিশ্বাস করা, এটা যে শুধুমাত্র কোন দার্শনিক তত্বে সন্দেহ পোষণ করা তা নয়। এর সাথে জড়িত থাকে অবাধ্যতা, কুটিলতা, আত্মার ক্ষতিকর অভিজ্ঞতা ও সহজাত প্রেরণা যা মানুষের অন্তরের অন্তঃস্থলের অবস্থানকে নির্ণয় করে।

ঈমান বা বিশ্বাস আত্মার চেতনাকে সুসংহত করে, কেন্দ্রীভূত করে এক সুনির্দ্দিষ্ট লক্ষ্যের প্রতি। যার ফলে স্রষ্টাকে অনুভব করার ক্ষমতা, স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের আকাঙ্খা, শান্তির পরশ উপলব্ধির ক্ষমতা সহজাত প্রেরণা হিসেবে নিজের আত্মার মাঝে জন্ম লাভ করে। আত্মার এ অবস্থায় আল্লাহ্‌র ক্ষমতা সম্বন্ধে আমাদের কোনও সন্দেহই থাকবে না।

যে স্রষ্টা কোনও কিছু ব্যতীতই আমাদের সৃষ্টি করতে পারেন, তিনি অবশ্যই আমাদের সত্ত্বা বা অনুভব বা ব্যক্তিত্বকে এক ভুবন থেকে অন্য ভূবনে স্থানান্তরিত করতে সক্ষম। অর্থাৎ দৈহিক মৃত্যুর পরেও আমাদের সত্ত্বাকে অপরিবর্তিত রাখতে সক্ষম।

কিন্তু যদি আমরা ইচ্ছাকৃত ভাবে আল্লাহ্‌র পথ নির্দ্দেশকে অস্বীকার করি তবে আমাদের আত্মার একাগ্রতা নষ্ট হয়ে যাবে, ফলে আত্মার মাঝে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হবে। সৃষ্টি হবে সন্দেহ, বিভেদের। যার ফলে আল্লাহ্‌র রহমতের আলো এ সব আত্মায় প্রবেশে বাঁধা পায়।

ফলে, তারা হয় আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ বঞ্চিত। এদের কথাই বলা হয়েছে যাদের পরলোকে শয়তানের সাথে একত্র সমবেত করা হবে। শয়তান, মন্দ ও পাপের প্রতীক। অর্থাৎ এসব লোকের পাপ কার্যই হবে তাদের জন্য শয়তানের প্রতীক, যা পরলোকেও তাদের সাথে থাকবে।

সেখানে কিন্তু তাদের উদ্ধত, একগুয়ে ও অবাধ্যতা দূর হয়ে যাবে। সত্যকে অস্বীকার করার প্রতিফল তারা সর্বোচ্চ বিনয়ের সাথে গ্রহণ করবে। ” নতজানু ” শব্দটি দ্বারা সর্বোচ্চ বিনয়কে বোঝানো হয়েছে।

২৫১৭। ” জাহান্নামের চতুর্দিক” পাপের পথ বহুবিধ। পাপের শাস্তি জাহান্নাম। বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন পথে মানুষ পাপ করে থাকে। কিন্তু সকল পাপের পথই একখানে এসে মিলিত হয়, আর তা হচ্ছে “জাহান্নাম “। সে জন্যই বলা হয়েছে দোযখের সাতটি দরজা। দেখুন আয়াত [ ১৫ : ৪৪ ] এবং টিকা ১৯৭৭।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৬৭)

মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাকে ইতি পূর্বে সৃষ্টি করেছি এবং সে তখন কিছুই ছিল না।
Does not man remember that We created him before, while he was nothing?

أَوَلَا يَذْكُرُ الْإِنسَانُ أَنَّا خَلَقْنَاهُ مِن قَبْلُ وَلَمْ يَكُ شَيْئًا
Awa la yathkuru al-insanu anna khalaqnahu min qablu walam yaku shay-an

YUSUFALI: But does not man call to mind that We created him before out of nothing?
PICKTHAL: Doth not man remember that We created him before, when he was naught?

SHAKIR: Does not man remember that We created him before, when he was nothing?
KHALIFA: Did the human being forget that we created him already, and he was nothing?

রুকু – ৫

৬৬। লোকে বলে, ” যখন আমি মরে যাব, তখন আমি আবার জীবিত অবস্থায় উত্থিত হব ?”

৬৭। কিন্তু মানুষ কি স্মরণ করে না যে, প্রথমে আমি তাকে শুণ্য থেকে সৃষ্টি করি ?

৬৮। সুতারাং তোমার প্রভুর শপথ ! নিঃসন্দেহে আমি ওদের এবং [তাদের সাথে ] শয়তানাদেরও একসঙ্গে সমবেত করবো ২৫১৬। অতঃপর আমি তাদের নতজানু করে জাহান্নামের চারিদিকে উপস্থিত করবো ২৫১৭।

২৫১৬। পরলোকে অবিশ্বাস করা, এটা যে শুধুমাত্র কোন দার্শনিক তত্বে সন্দেহ পোষণ করা তা নয়। এর সাথে জড়িত থাকে অবাধ্যতা, কুটিলতা, আত্মার ক্ষতিকর অভিজ্ঞতা ও সহজাত প্রেরণা যা মানুষের অন্তরের অন্তঃস্থলের অবস্থানকে নির্ণয় করে।

ঈমান বা বিশ্বাস আত্মার চেতনাকে সুসংহত করে, কেন্দ্রীভূত করে এক সুনির্দ্দিষ্ট লক্ষ্যের প্রতি। যার ফলে স্রষ্টাকে অনুভব করার ক্ষমতা, স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের আকাঙ্খা, শান্তির পরশ উপলব্ধির ক্ষমতা সহজাত প্রেরণা হিসেবে নিজের আত্মার মাঝে জন্ম লাভ করে। আত্মার এ অবস্থায় আল্লাহ্‌র ক্ষমতা সম্বন্ধে আমাদের কোনও সন্দেহই থাকবে না।

যে স্রষ্টা কোনও কিছু ব্যতীতই আমাদের সৃষ্টি করতে পারেন, তিনি অবশ্যই আমাদের সত্ত্বা বা অনুভব বা ব্যক্তিত্বকে এক ভুবন থেকে অন্য ভূবনে স্থানান্তরিত করতে সক্ষম। অর্থাৎ দৈহিক মৃত্যুর পরেও আমাদের সত্ত্বাকে অপরিবর্তিত রাখতে সক্ষম।

কিন্তু যদি আমরা ইচ্ছাকৃত ভাবে আল্লাহ্‌র পথ নির্দ্দেশকে অস্বীকার করি তবে আমাদের আত্মার একাগ্রতা নষ্ট হয়ে যাবে, ফলে আত্মার মাঝে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হবে। সৃষ্টি হবে সন্দেহ, বিভেদের। যার ফলে আল্লাহ্‌র রহমতের আলো এ সব আত্মায় প্রবেশে বাঁধা পায়।

ফলে, তারা হয় আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ বঞ্চিত। এদের কথাই বলা হয়েছে যাদের পরলোকে শয়তানের সাথে একত্র সমবেত করা হবে। শয়তান, মন্দ ও পাপের প্রতীক। অর্থাৎ এসব লোকের পাপ কার্যই হবে তাদের জন্য শয়তানের প্রতীক, যা পরলোকেও তাদের সাথে থাকবে। সেখানে কিন্তু তাদের উদ্ধত, একগুয়ে ও অবাধ্যতা দূর হয়ে যাবে।

সত্যকে অস্বীকার করার প্রতিফল তারা সর্বোচ্চ বিনয়ের সাথে গ্রহণ করবে। ” নতজানু ” শব্দটি দ্বারা সর্বোচ্চ বিনয়কে বোঝানো হয়েছে।

২৫১৭। ” জাহান্নামের চতুর্দিক” পাপের পথ বহুবিধ। পাপের শাস্তি জাহান্নাম। বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন পথে মানুষ পাপ করে থাকে। কিন্তু সকল পাপের পথই একখানে এসে মিলিত হয়, আর তা হচ্ছে “জাহান্নাম “। সে জন্যই বলা হয়েছে দোযখের সাতটি দরজা। দেখুন আয়াত [ ১৫ : ৪৪ ] এবং টিকা ১৯৭৭।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৬৮)

সুতরাং আপনার পালনকর্তার কসম, আমি অবশ্যই তাদেরকে এবং শয়তানদেরকে একত্রে সমবেত করব, অতঃপর অবশ্যই তাদেরকে নতজানু অবস্থায় জাহান্নামের চারপাশে উপস্থিত করব।

So by your Lord, surely, We shall gather them together, and (also) the Shayâtin (devils) (with them), then We shall bring them round Hell on their knees.

فَوَرَبِّكَ لَنَحْشُرَنَّهُمْ وَالشَّيَاطِينَ ثُمَّ لَنُحْضِرَنَّهُمْ حَوْلَ جَهَنَّمَ جِثِيًّا

Fawarabbika lanahshurannahum waalshshayateena thumma lanuhdirannahum hawla jahannama jithiyyan

YUSUFALI: So, by thy Lord, without doubt, We shall gather them together, and (also) the Evil Ones (with them); then shall We bring them forth on their knees round about Hell;

PICKTHAL: And, by thy Lord, verily We shall assemble them and the devils, then We shall bring them, crouching, around hell.

SHAKIR: So by your Lord! We will most certainly gather them together and the Shaitans, then shall We certainly cause them to be present round hell on their knees.

KHALIFA: By your Lord, we will certainly summon them, together with the devils, and will gather them around Hell, humiliated.

রুকু – ৫

৬৬। লোকে বলে, ” যখন আমি মরে যাব, তখন আমি আবার জীবিত অবস্থায় উত্থিত হব ?”

৬৭। কিন্তু মানুষ কি স্মরণ করে না যে, প্রথমে আমি তাকে শুণ্য থেকে সৃষ্টি করি ?

৬৮। সুতারাং তোমার প্রভুর শপথ ! নিঃসন্দেহে আমি ওদের এবং [তাদের সাথে ] শয়তানাদেরও একসঙ্গে সমবেত করবো ২৫১৬। অতঃপর আমি তাদের নতজানু করে জাহান্নামের চারিদিকে উপস্থিত করবো ২৫১৭।

২৫১৬। পরলোকে অবিশ্বাস করা, এটা যে শুধুমাত্র কোন দার্শনিক তত্বে সন্দেহ পোষণ করা তা নয়। এর সাথে জড়িত থাকে অবাধ্যতা, কুটিলতা, আত্মার ক্ষতিকর অভিজ্ঞতা ও সহজাত প্রেরণা যা মানুষের অন্তরের অন্তঃস্থলের অবস্থানকে নির্ণয় করে।

ঈমান বা বিশ্বাস আত্মার চেতনাকে সুসংহত করে, কেন্দ্রীভূত করে এক সুনির্দ্দিষ্ট লক্ষ্যের প্রতি। যার ফলে স্রষ্টাকে অনুভব করার ক্ষমতা, স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের আকাঙ্খা, শান্তির পরশ উপলব্ধির ক্ষমতা সহজাত প্রেরণা হিসেবে নিজের আত্মার মাঝে জন্ম লাভ করে।

আত্মার এ অবস্থায় আল্লাহ্‌র ক্ষমতা সম্বন্ধে আমাদের কোনও সন্দেহই থাকবে না। যে স্রষ্টা কোনও কিছু ব্যতীতই আমাদের সৃষ্টি করতে পারেন, তিনি অবশ্যই আমাদের সত্ত্বা বা অনুভব বা ব্যক্তিত্বকে এক ভুবন থেকে অন্য ভূবনে স্থানান্তরিত করতে সক্ষম।

অর্থাৎ দৈহিক মৃত্যুর পরেও আমাদের সত্ত্বাকে অপরিবর্তিত রাখতে সক্ষম। কিন্তু যদি আমরা ইচ্ছাকৃত ভাবে আল্লাহ্‌র পথ নির্দ্দেশকে অস্বীকার করি তবে আমাদের আত্মার একাগ্রতা নষ্ট হয়ে যাবে, ফলে আত্মার মাঝে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হবে। সৃষ্টি হবে সন্দেহ, বিভেদের।

যার ফলে আল্লাহ্‌র রহমতের আলো এ সব আত্মায় প্রবেশে বাঁধা পায়। ফলে, তারা হয় আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ বঞ্চিত। এদের কথাই বলা হয়েছে যাদের পরলোকে শয়তানের সাথে একত্র সমবেত করা হবে। শয়তান, মন্দ ও পাপের প্রতীক।

অর্থাৎ এসব লোকের পাপ কার্যই হবে তাদের জন্য শয়তানের প্রতীক, যা পরলোকেও তাদের সাথে থাকবে। সেখানে কিন্তু তাদের উদ্ধত, একগুয়ে ও অবাধ্যতা দূর হয়ে যাবে। সত্যকে অস্বীকার করার প্রতিফল তারা সর্বোচ্চ বিনয়ের সাথে গ্রহণ করবে। ” নতজানু ” শব্দটি দ্বারা সর্বোচ্চ বিনয়কে বোঝানো হয়েছে।

২৫১৭। ” জাহান্নামের চতুর্দিক” পাপের পথ বহুবিধ। পাপের শাস্তি জাহান্নাম। বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন পথে মানুষ পাপ করে থাকে। কিন্তু সকল পাপের পথই একখানে এসে মিলিত হয়, আর তা হচ্ছে “জাহান্নাম “। সে জন্যই বলা হয়েছে দোযখের সাতটি দরজা। দেখুন আয়াত [ ১৫ : ৪৪ ] এবং টিকা ১৯৭৭।

সূরা মারইয়াম

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৬৯)

অতঃপর প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মধ্যে যে দয়াময় আল্লাহর সর্বাধিক অবাধ্য আমি অবশ্যই তাকে পৃথক করে নেব।
Then indeed We shall drag out from every sect all those who were worst in obstinate rebellion against the Most Beneficent (Allâh).

ثُمَّ لَنَنزِعَنَّ مِن كُلِّ شِيعَةٍ أَيُّهُمْ أَشَدُّ عَلَى الرَّحْمَنِ عِتِيًّا
Thumma lananziAAanna min kulli sheeAAatin ayyuhum ashaddu AAala alrrahmani AAitiyyan

YUSUFALI: Then shall We certainly drag out from every sect all those who were worst in obstinate rebellion against (Allah) Most Gracious.

PICKTHAL: Then We shall pluck out from every sect whichever of them was most stubborn in rebellion to the Beneficent.

SHAKIR: Then We will most certainly draw forth from every sect of them him who is most exorbitantly rebellious against the Beneficent Allah.

KHALIFA: Then we will pick out from each group the most ardent opponent of the Most Gracious.

৬৯। অতঃপর প্রত্যেক দলের মধ্যে যারা , পরম করুণাময় [আল্লাহ্‌র ] বিরুদ্ধে সর্বাপেক্ষা অনমনীয় বিদ্রোহী , আমি নিশ্চয়ই তাদের টেনে বের করবো।

৭০। অবশ্যই আমি সর্বাপেক্ষা ভালো জানি , তাদের মধ্যে সেখানে দগ্ধ হওয়ার জন্য যোগ্যতম কে ?

৭১। তোমরা প্রত্যেকেই উহা অতিক্রম করবে ২৫১৮। ইহা তোমার প্রভুর সিদ্ধান্ত যা অবশ্যই সম্পাদন করা হবে।

২৫১৮। এই লাইনটির তিন রকম ব্যাখ্যা সম্ভব : ১) প্রত্যেক ব্যক্তিকে উহা অর্থাৎ আগুনের মধ্যে দিয়ে বা উপর দিয়ে অতিক্রম করতে হবে। যারা পৃথিবীতে ‘তাকওয়া’ [ দেখুন ২:২ ও টিকা ২৬ ] অবলম্বন করেছিলো, আল্লাহ্‌ তাদের অনুগ্রহ করে রক্ষা করবেন।

অপর পক্ষে যারা পাপী তারা দোযখে নিক্ষিপ্ত হবে। ২) দ্বিতীয় ব্যাখ্যা হচ্ছে : এই আয়াতে “তোমরা” সর্বনামটি ব্যবহার করা হয়েছে ৬৯ নং আয়াতে যে সব “সর্বাধিক অবাধ্য ” জনের উল্লেখ আছে তাদের জন্য। এদের উল্লেখ ৭০ নং আয়াতেও আছে।

সে হিসেবে এই আয়াতটি শুধুমাত্র পাপীদের জন্য প্রযোজ্য। ৩) তৃতীয় ব্যাখ্যা হচ্ছে : “উহা” শব্দটি পুল সিরাত, যা জাহান্নামের উপরে অবস্থিত। উহা অতিক্রম করে জান্নাতে প্রবেশ করতে হবে। এই পুলের উল্লেখ কোরাণে নাই।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৭০)

অতঃপর তাদের মধ্যে যারা জাহান্নামে প্রবেশের অধিক যোগ্য, আমি তাদের বিষয়ে ভালোভাবে জ্ঞাত আছি।

Then, verily, We know best those who are most worthy of being burnt therein.

ثُمَّ لَنَحْنُ أَعْلَمُ بِالَّذِينَ هُمْ أَوْلَى بِهَا صِلِيًّا

Thumma lanahnu aAAlamu biallatheena hum awla biha siliyyan

YUSUFALI: And certainly We know best those who are most worthy of being burned therein.

PICKTHAL: And surely We are Best Aware of those most worthy to be burned therein.

SHAKIR: Again We do certainly know best those who deserve most to be burned therein.

KHALIFA: We know full well those who are most deserving of burning therein.

৬৯। অতঃপর প্রত্যেক দলের মধ্যে যারা , পরম করুণাময় [আল্লাহ্‌র ] বিরুদ্ধে সর্বাপেক্ষা অনমনীয় বিদ্রোহী , আমি নিশ্চয়ই তাদের টেনে বের করবো।

৭০। অবশ্যই আমি সর্বাপেক্ষা ভালো জানি , তাদের মধ্যে সেখানে দগ্ধ হওয়ার জন্য যোগ্যতম কে ?

৭১। তোমরা প্রত্যেকেই উহা অতিক্রম করবে ২৫১৮। ইহা তোমার প্রভুর সিদ্ধান্ত যা অবশ্যই সম্পাদন করা হবে।

২৫১৮। এই লাইনটির তিন রকম ব্যাখ্যা সম্ভব : ১) প্রত্যেক ব্যক্তিকে উহা অর্থাৎ আগুনের মধ্যে দিয়ে বা উপর দিয়ে অতিক্রম করতে হবে। যারা পৃথিবীতে ‘তাকওয়া’ [ দেখুন ২:২ ও টিকা ২৬ ] অবলম্বন করেছিলো, আল্লাহ্‌ তাদের অনুগ্রহ করে রক্ষা করবেন।

অপর পক্ষে যারা পাপী তারা দোযখে নিক্ষিপ্ত হবে। ২) দ্বিতীয় ব্যাখ্যা হচ্ছে : এই আয়াতে “তোমরা” সর্বনামটি ব্যবহার করা হয়েছে ৬৯ নং আয়াতে যে সব “সর্বাধিক অবাধ্য ” জনের উল্লেখ আছে তাদের জন্য।

এদের উল্লেখ ৭০ নং আয়াতেও আছে। সে হিসেবে এই আয়াতটি শুধুমাত্র পাপীদের জন্য প্রযোজ্য। ৩) তৃতীয় ব্যাখ্যা হচ্ছে : “উহা” শব্দটি পুল সিরাত, যা জাহান্নামের উপরে অবস্থিত। উহা অতিক্রম করে জান্নাতে প্রবেশ করতে হবে। এই পুলের উল্লেখ কোরাণে নাই।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৭১)

তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে তথায় পৌছবে না। এটা আপনার পালনকর্তার অনিবার্য ফায়সালা।

There is not one of you but will pass over it (Hell); this is with your Lord; a Decree which must be accomplished.

وَإِن مِّنكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَّقْضِيًّا

Wa-in minkum illa wariduha kana AAala rabbika hatman maqdiyyan

YUSUFALI: Not one of you but will pass over it: this is, with thy Lord, a Decree which must be accomplished.

PICKTHAL: There is not one of you but shall approach it. That is a fixed ordinance of thy Lord.

SHAKIR: And there is not one of you but shall come to it; this is an unavoidable decree of your Lord.

KHALIFA: Every single one of you must see it; this is an irrevocable decision of your Lord.

৬৯। অতঃপর প্রত্যেক দলের মধ্যে যারা , পরম করুণাময় [আল্লাহ্‌র ] বিরুদ্ধে সর্বাপেক্ষা অনমনীয় বিদ্রোহী , আমি নিশ্চয়ই তাদের টেনে বের করবো।

৭০। অবশ্যই আমি সর্বাপেক্ষা ভালো জানি , তাদের মধ্যে সেখানে দগ্ধ হওয়ার জন্য যোগ্যতম কে ?

৭১। তোমরা প্রত্যেকেই উহা অতিক্রম করবে ২৫১৮। ইহা তোমার প্রভুর সিদ্ধান্ত যা অবশ্যই সম্পাদন করা হবে।

২৫১৮। এই লাইনটির তিন রকম ব্যাখ্যা সম্ভব : ১) প্রত্যেক ব্যক্তিকে উহা অর্থাৎ আগুনের মধ্যে দিয়ে বা উপর দিয়ে অতিক্রম করতে হবে। যারা পৃথিবীতে ‘তাকওয়া’ [ দেখুন ২:২ ও টিকা ২৬ ] অবলম্বন করেছিলো,

আল্লাহ্‌ তাদের অনুগ্রহ করে রক্ষা করবেন। অপর পক্ষে যারা পাপী তারা দোযখে নিক্ষিপ্ত হবে। ২) দ্বিতীয় ব্যাখ্যা হচ্ছে : এই আয়াতে “তোমরা” সর্বনামটি ব্যবহার করা হয়েছে ৬৯ নং আয়াতে যে সব “সর্বাধিক অবাধ্য ” জনের উল্লেখ আছে তাদের জন্য।

এদের উল্লেখ ৭০ নং আয়াতেও আছে। সে হিসেবে এই আয়াতটি শুধুমাত্র পাপীদের জন্য প্রযোজ্য। ৩) তৃতীয় ব্যাখ্যা হচ্ছে : “উহা” শব্দটি পুল সিরাত, যা জাহান্নামের উপরে অবস্থিত। উহা অতিক্রম করে জান্নাতে প্রবেশ করতে হবে। এই পুলের উল্লেখ কোরাণে নাই।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৭২)

অতঃপর আমি পরহেযগারদেরকে উদ্ধার করব এবং জালেমদেরকে সেখানে নতজানু অবস্থায় ছেড়ে দেব।

Then We shall save those who use to fear Allâh and were dutiful to Him. And We shall leave the Zâlimûn (polytheists and wrongdoers, etc.) therein (humbled) to their knees (in Hell).

ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوا وَّنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا جِثِيًّا

Thumma nunajjee allatheena ittaqaw wanatharu alththalimeena feeha jithiyyan

YUSUFALI: But We shall save those who guarded against evil, and We shall leave the wrong-doers therein, (humbled) to their knees.

PICKTHAL: Then We shall rescue those who kept from evil, and leave the evil-doers crouching there.

SHAKIR: And We will deliver those who guarded (against evil), and We will leave the unjust therein on their knees.

KHALIFA: Then we rescue the righteous, and leave the transgressors in it, humiliated.

৭২। কিন্তু আমি তাদের রক্ষা করবো যারা নিজেদেরকে মন্দ থেকে রক্ষা করে। এবং পাপীদের [ বিনয়ে ] নতজানু অবস্থায় সেখানে ত্যাগ করবো।

৭৩। যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াত সমূহ তাদের নিকট আবৃত্তি করা হয়; তখন অবিশ্বাসীরা , যারা ঈমান এনেছে তাদের বলে, ” [ বলতো আমাদের ] দু দলের মধ্যে মর্যাদায় কোন দল শ্রেষ্ঠ ? কাদের সভার আড়ম্বর অধিক বেশী ? ” ২৫১৯

২৫১৯। এই পৃথিবীতে অবিশ্বাসীরা সব সময়েই অর্থ-সম্পদ, ক্ষমতা প্রতিপত্তিতে বা জনবলে শ্রেষ্ঠ প্রতিপন্ন হয়। কারণ জনবল সর্বদা যে দিকে সম্পদ ও ক্ষমতা সেদিকে ধাবিত হয়। জনবল বিশেষতঃ জনসমর্থনকে বোঝায়। কিন্তু পৃথিবীতে শেষ পর্যন্ত সত্য টিকে থাকবে এবং বিরাজ করবে এই আল্লাহ্‌র আইন।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৭৩)

যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন কাফেররা মুমিনদেরকে বলেঃ দুই দলের মধ্যে কোনটি মর্তবায় শ্রেষ্ঠ এবং কার মজলিস উত্তম?

And when Our Clear Verses are recited to them, those who disbelieve (the rich and strong among the pagans of Quraish who live a life of luxury) say to those who believe (the weak,

poor companions of Prophet Muhammad SAW who have a hard life): ”Which of the two groups (i.e. believers and disbelievers) is best in (point of) position and as regards station (place of council for consultation).”

وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ قَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلَّذِينَ آمَنُوا أَيُّ الْفَرِيقَيْنِ خَيْرٌ مَّقَامًا وَأَحْسَنُ نَدِيًّا

Wa-itha tutla AAalayhim ayatuna bayyinatin qala allatheena kafaroo lillatheena amanoo ayyu alfareeqayni khayrun maqaman waahsanu nadiyyan

YUSUFALI: When Our Clear Signs are rehearsed to them, the Unbelievers say to those who believe, “Which of the two sides is best in point of position? Which makes the best show in council?”

PICKTHAL: And when Our clear revelations are recited unto them, those who disbelieve say unto those who believe: Which of the two parties (yours or ours) is better in position, and more imposing as an army?

SHAKIR: And when Our clear communications are recited to them, those who disbelieve say to those who believe: Which of the two parties is best in abiding and best in assembly?

KHALIFA: When our revelations are recited to them, clearly, those who disbelieve say to those who believe, “Which of us is more prosperous? Which of us is in the majority?”

৭২। কিন্তু আমি তাদের রক্ষা করবো যারা নিজেদেরকে মন্দ থেকে রক্ষা করে। এবং পাপীদের [ বিনয়ে ] নতজানু অবস্থায় সেখানে ত্যাগ করবো।

৭৩। যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াত সমূহ তাদের নিকট আবৃত্তি করা হয়; তখন অবিশ্বাসীরা , যারা ঈমান এনেছে তাদের বলে, ” [ বলতো আমাদের ] দু দলের মধ্যে মর্যাদায় কোন দল শ্রেষ্ঠ ? কাদের সভার আড়ম্বর অধিক বেশী ? ” ২৫১৯

২৫১৯। এই পৃথিবীতে অবিশ্বাসীরা সব সময়েই অর্থ-সম্পদ, ক্ষমতা প্রতিপত্তিতে বা জনবলে শ্রেষ্ঠ প্রতিপন্ন হয়। কারণ জনবল সর্বদা যে দিকে সম্পদ ও ক্ষমতা সেদিকে ধাবিত হয়। জনবল বিশেষতঃ জনসমর্থনকে বোঝায়। কিন্তু পৃথিবীতে শেষ পর্যন্ত সত্য টিকে থাকবে এবং বিরাজ করবে এই আল্লাহ্‌র আইন।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৭৪)

তাদের পূর্বে কত মানব গোষ্ঠীকে আমি বিনাশ করেছি, তারা তাদের চাইতে সম্পদে ও জাঁক-জমকে শ্রেষ্ঠ ছিল।

And how many a generation (past nations) have We destroyed before them, who were better in wealth, goods and outward appearance?

وَكَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُم مِّن قَرْنٍ هُمْ أَحْسَنُ أَثَاثًا وَرِئْيًا

Wakam ahlakna qablahum min qarnin hum ahsanu athathan wari/yan

YUSUFALI: But how many (countless) generations before them have we destroyed, who were even better in equipment and in glitter to the eye?

PICKTHAL: How many a generation have We destroyed before them, who were more imposing in respect of gear and outward seeming!

SHAKIR: And how many of the generations have We destroyed before them who were better in respect of goods and outward appearance!

KHALIFA: Many a generation have we annihilated before them; they were more powerful, and more prosperous.

৭৪। ওদের পূর্বে আমি কত [ অসংখ্য ] মানব গোষ্ঠিকে বিনাশ করেছি, যারা অস্ত্র – শস্ত্র ও চাকচিক্যে বাহ্যদৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠতর ছিলো।

৭৫। বল ! যদি কেউ ভ্রান্ত পথে যায়, পরম করুণাময় [আল্লাহ্‌ ] তাদের [ ভ্রান্ত পথের রজ্জু ] বৃদ্ধি করে দেন , যতক্ষণ না তারা আল্লাহ্‌র দেয়া সতর্কবাণী প্রত্যক্ষ করবে – তা শাস্তি হিসেবেই হোক ২৫২০; অথবা কেয়ামতের [ আগমন ] হিসেবেই হোক। শেষ পর্যন্ত তারা বুঝতে পারবে , কে মর্যদায় নিকৃষ্ট এবং [ কে ] শক্তিতে সর্বাপেক্ষা দুর্বল।

২৫২০। আল্লাহ্‌ সর্তক করে দেন যে, প্রত্যেক মন্দ কাজের পরিণাম শাস্তি। এবং মৃত্যুই জীবনের শেষ নয়। মৃত্যুর সিংহদুয়ার পেরিয়ে , পরলোকে ইহকালের সকল কার্যের জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। একেই বলা হয়েছে শেষ বিচারের দিন।

মন্দ কাজ বা পাপের পরিণতি সব সময়ে যে পরকালেই ভোগ করতে হবে তা নয়, অনেক সময়ে দেখা যায় ইহকালেই শাস্তি বা পরিণতি শুরু হয়ে যায়। যেমন, অতিরিক্ত অসংযম ও বাড়াবাড়ির প্রতিফল এই জীবনেই অনেক সময়ে শুরু হয়ে যায়।

কিন্তু অনেক সময়ে মানুষের স্বার্থপরতা ও পাপ এত সুক্ষ ও ভালো মানুষের আবরণে ঢাকা থাকে যে, তা সাধারণ মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে। কিন্তু মানুষের বিচারে এরা রেহাই পেলেও আল্লাহ্‌র ন্যায় বিচার অবশ্যাম্ভবী। যে কোন ক্ষেত্রেই হোক না কেন ,

অহংকারী , গর্বিত পাপীরা জানতে পারবে “কে মর্যাদায় নিকৃষ্ট ও কে শক্তিতে দুর্বল ” অর্থাৎ সম্মান ও ক্ষমতায় কে নিকৃষ্ট ও কে দুর্বল যে ব্যাপারেও তারা সর্বদা বিদ্রূপ করতো ; যার উল্লেখ আছে আয়াত [ ১৯ : ৭৩]

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৭৫)

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৭৬)

যারা সৎপথে চলে আল্লাহ তাদের পথপ্রাপ্তি বৃদ্ধি করেন এবং স্থায়ী সৎকর্মসমূহ তোমার পালনকর্তার কাছে সওয়াবের দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ এবং প্রতিদান হিসেবেও শ্রেষ্ট।

And Allâh increases in guidance those who walk aright [true believers in the Oneness of Allâh who fear Allâh much (abstain from all kinds of sins and evil deeds which He has forbidden), and love Allâh much (perform all kinds of good deeds which He has ordained)]. And the righteous good deeds that last, are better with your Lord, for reward and better for resort.

وَيَزِيدُ اللَّهُ الَّذِينَ اهْتَدَوْا هُدًى وَالْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ خَيْرٌ عِندَ رَبِّكَ ثَوَابًا وَخَيْرٌ مَّرَدًّا

Wayazeedu Allahu allatheena ihtadaw hudan waalbaqiyatu alssalihatu khayrun AAinda rabbika thawaban wakhayrun maraddan

YUSUFALI: “And Allah doth advance in guidance those who seek guidance: and the things that endure, Good Deeds, are best in the sight of thy Lord, as rewards, and best in respect of (their) eventual return.”

PICKTHAL: Allah increaseth in right guidance those who walk aright, and the good deeds which endure are better in thy Lord’s sight for reward, and better for resort.

SHAKIR: And Allah increases in guidance those who go aright; and ever-abiding good works are with your Lord best in recompense and best in yielding fruit.

KHALIFA: GOD augments the guidance of those who choose to be guided. For the good deeds are eternally rewarded by your Lord, and bring far better returns.

৭৬। যারা পথের ঠিকানা অনুসন্ধান করে, আল্লাহ্‌ তাদের হেদায়েতের পথে অগ্রসর করান। যা [ শেষ পর্যন্ত ] টিকে থাকে তা হচ্ছে সৎ কাজ। যা পুরষ্কার লাভের জন্য এবং প্রতিদান হিসেবে আল্লাহ্‌র দৃষ্টিতে সর্বোৎকৃষ্ট ২৫২১।

২৫২১। ” যা শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে তা হচ্ছে সৎ কাজ ” – এই লাইনটি সূরা [ ১৮ : ৪৬ ] আয়াতের শেষার্ধে উল্লেখ আছে, শুধুমাত্র “প্রতিদান (maradd)চ্ শব্দটির স্থানে [ ১৮ : ৪৬ ] আয়াতে ” আশা আকাঙ্খা (amal)” শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি ক্ষেত্রেই এর জন্য অর্থের খুব একটা তারতম্য ঘটে নাই।

যেখানে পার্থিব সম্পদের আকাঙ্খার সাথে চাওয়া পাওয়াকে সমন্বিত করা হয়েছে সেখানে ” আশা-আকাঙ্খা” শব্দটি অধিক প্রযোজ্য। আবার যেখানে মর্যদা ও পাপীদের পার্থিব বিনিয়োগ যা সম্পদ ও ক্ষমতা লাভের কুটিল ষড়যন্ত্র, সেখানে ” প্রতিদান” শব্দটি অধিক প্রযোজ্য।

সূরা মারইয়াম

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৭৭)

আপনি কি তাকে লক্ষ্য করেছেন যে, আমার নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করে না এবং বলেঃ আমাকে অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি অবশ্যই দেয়া হবে।

Have you seen him who disbelieved in Our Ayât (this Qur’ân and Muhammad SAW) and (yet) says: ”I shall certainly be given wealth and children [if I will be alive (again)],”

أَفَرَأَيْتَ الَّذِي كَفَرَ بِآيَاتِنَا وَقَالَ لَأُوتَيَنَّ مَالًا وَوَلَدًا

Afaraayta allathee kafara bi-ayatina waqala laootayanna malan wawaladan

YUSUFALI: Hast thou then seen the (sort of) man who rejects Our Signs, yet says: “I shall certainly be given wealth and children?”

PICKTHAL: Hast thou seen him who disbelieveth in Our revelations and saith: Assuredly I shall be given wealth and children?

SHAKIR: Have you, then, seen him who disbelieves in Our communications and says: I shall certainly be given wealth and children?

KHALIFA: Have you noted the one who rejected our revelations then said, “I will be given wealth and children”?!

৭৭। তুমি কি সে সব লোককে লক্ষ্য করেছ, যারা আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখান করেছে , তথাপি বলে, আমাকে অবশ্যই ধন-সম্পদ ও সন্তান -সন্ততি দেয়া হবে ২৫২২।

২৫২২। অর্থ সম্পদ , প্রভাব-প্রতিপত্তি ও ক্ষমতায় যারা শ্রেষ্ঠ তাদের মানসিকতাকে এই আয়াতে তুলে ধরা হয়েছে। এ সব ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা তাদের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য গর্ব প্রকাশ করে থাকে। কিন্তু এদের মধ্যে আর এক দল থাকে যারা শুধু বর্তমান নয়, তারা ঘোষণা করে যে, ভবিষ্যতেও তাদের ধন-সম্পদ, ও ক্ষমতার পরিমাণ অব্যাহত থাকবে।

এখানে সন্তান সন্ততিকে জনবল বা ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যত সম্বন্ধে তারা নিশ্চিত হয় কি ভাবে ? সমস্ত কল্যাণ আল্লাহ্‌র হাতে। তাদের ঘোষণা দ্বারা প্রতীয়মান হবে যেনো আল্লাহ্‌ তাদের অনুগ্রহ করতে বাধ্য।

যেখানে তারা আল্লাহ্‌র সত্যকে অস্বীকার করে, আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান আনে না , সেখানে তারা এরূপ আশা কিভাবে করে ? অথবা তারা কি এমন ভান করে যে, তারা ভবিষ্যতকে প্রত্যক্ষ করতে পারে ? তারা কি ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি আল্লাহ্‌র নিকট থেকে লাভ করেছে ? কিন্তু কোনও মানুষই ভবিষ্যতের রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে পারবে না।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৭৮)

সে কি অদৃশ্য বিষয় জেনে ফেলেছে, অথবা দয়াময় আল্লাহর নিকট থেকে কোন প্রতিশ্রুতি প্রাপ্ত হয়েছে?

Has he known the unseen or has he taken a covenant from the Most Beneficent (Allâh)?

أَاطَّلَعَ الْغَيْبَ أَمِ اتَّخَذَ عِندَ الرَّحْمَنِ عَهْدًا

AttalaAAa alghayba ami ittakhatha AAinda alrrahmani AAahdan

YUSUFALI: Has he penetrated to the Unseen, or has he taken a contract with (Allah) Most Gracious?

PICKTHAL: Hath he perused the Unseen, or hath he made a pact with the Beneficent?
SHAKIR: Has he gained knowledge of the unseen, or made a covenant with the Beneficent Allah?

KHALIFA: Has he seen the future? Has he taken such a pledge from the Most Gracious?

৭৮। সে কি অদৃশ্যকে ভেদ করতে পেরেছে অথবা সে কি পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র সাথে চুক্তি করেছে ?

৭৯। কখনই না! তারা যা বলে তা আমি সংরক্ষিত করবো। এবং আমি তাকে শাস্তির উপরে শাস্তি বৃদ্ধি করবো ২৫২৩।

২৫২৩। এসব লোকের শাস্তি বৃদ্ধি করা হবে বা দ্বিগুণ করা হবে। কারণ প্রথমতঃ তারা আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান আনে নাই, দ্বিতীয়তঃ তারা আল্লাহ্‌র নামে মিথ্যা আরোপ করেছে।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৭৯)

না, এটা ঠিক নয়। সে যা বলে আমি তা লিখে রাখব এবং তার শাস্তি দীর্ঘায়িত করতে থাকব।
Nay! We shall record what he says, and We shall increase his torment (in the Hell);

كَلَّا سَنَكْتُبُ مَا يَقُولُ وَنَمُدُّ لَهُ مِنَ الْعَذَابِ مَدًّا
Kalla sanaktubu ma yaqoolu wanamuddu lahu mina alAAathabi maddan

YUSUFALI: Nay! We shall record what he says, and We shall add and add to his punishment.

PICKTHAL: Nay, but We shall record that which he saith and prolong for him a span of torment.

SHAKIR: By no means! We write down what he says, and We will lengthen to him the length of the chastisement

KHALIFA: Indeed, we will record what he utters, then commit him to ever-increasing retribution.

৭৮। সে কি অদৃশ্যকে ভেদ করতে পেরেছে অথবা সে কি পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র সাথে চুক্তি করেছে ?

৭৯। কখনই না! তারা যা বলে তা আমি সংরক্ষিত করবো। এবং আমি তাকে শাস্তির উপরে শাস্তি বৃদ্ধি করবো ২৫২৩।

২৫২৩। এসব লোকের শাস্তি বৃদ্ধি করা হবে বা দ্বিগুণ করা হবে। কারণ প্রথমতঃ তারা আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান আনে নাই, দ্বিতীয়তঃ তারা আল্লাহ্‌র নামে মিথ্যা আরোপ করেছে।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৮০)

সে যা বলে, মৃত্যুর পর আমি তা নিয়ে নেব এবং সে আমার কাছে আসবে একাকী।

And We shall inherit from him (at his death) all that he talks of (i.e. wealth and children which We have bestowed upon him in this world), and he shall come to Us alone.

وَنَرِثُهُ مَا يَقُولُ وَيَأْتِينَا فَرْدًا
Wanarithuhu ma yaqoolu waya/teena fardan

YUSUFALI: To Us shall return all that he talks of and he shall appear before Us bare and alone.

PICKTHAL: And We shall inherit from him that whereof he spake, and he will come unto Us, alone (without his wealth and children).

SHAKIR: And We will inherit of him what he says, and he shall come to Us alone.

KHALIFA: Then we inherit everything he possessed, and he comes back to us all alone.

৮০। সে যা বলে তার সব আমার কাছে ফিরে আসবে। এবং সে আমার কাছে উপস্থিত হবে রিক্ত এবং নিঃসঙ্গ অবস্থায় ২৫২৪।

২৫২৪। পৃথিবীতে যে সম্পদ ও ক্ষমতাকে ব্যক্তি কুক্ষিগত করে রাখে , তাঁর প্রকৃত মালিক সে নয়, সব কিছুর মালিক সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌। সব কিছুই আল্লাহ্‌র কাছে নীত হবে, যিনি সব কিছুর উৎস। মানুষও সেখানে নিঃসঙ্গ, পার্থিব সম্পদ ও ক্ষমতাচ্যুত হয়ে রিক্ত অবস্থায় আল্লাহ্‌র বিচারের সম্মুখীন হবে।

যে পার্থিব সম্পদ ও ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে সে পরকালকে অস্বীকার করেছিলো, তা তার কোনও কাজেই আসবে না। সেদিন তার সম্পদ, ক্ষমতা সবই থাকবে আল্লাহ্‌র অধিকারে।

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৮১)

তারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য ইলাহ গ্রহণ করেছে, যাতে তারা তাদের জন্যে সাহায্যকারী হয়।

And they have taken (for worship) âliha (gods) besides Allâh, that they might give them honour, power and glory (and also protect them from Allâh’s Punishment etc.).

وَاتَّخَذُوا مِن دُونِ اللَّهِ آلِهَةً لِّيَكُونُوا لَهُمْ عِزًّا

Waittakhathoo min dooni Allahi alihatan liyakoonoo lahum AAizzan

YUSUFALI: And they have taken (for worship) gods other than Allah, to give them power and glory!

PICKTHAL: And they have chosen (other) gods beside Allah that they may be a power for them.

SHAKIR: And they have taken gods besides Allah, that they should be to them a source of strength;

KHALIFA: They worship beside GOD other gods that (they think) may be of help to them.

৮১। [ এবাদতের জন্য ] তারা আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য উপাস্য গ্রহণ করে থাকে, যেনো তারা তাকে ক্ষমতা ও খ্যাতি দান করতে পারে ২৫২৫।

২৫২৫। “Izz” শব্দটির অর্থ উচ্চ শ্রেণী, ক্ষমতা, শক্তি, অন্যের উপরে আধিপত্য বিস্তারের ক্ষমতা , ইচ্ছাকে কার্যে পরিণত করার ক্ষমতা বা বিজয় গৌরব ইত্যাদি। “

সূরা মারইয়াম

সূরা মারইয়াম(আয়াত ৮২)

কখনই নয়, তারা তাদের এবাদত অস্বীকার করবে এবং তাদের বিপক্ষে চলে যাবে।

Nay, but they (the so-called gods) will deny their worship of them, and become opponents to them (on the Day of Resurrection).

كَلَّا سَيَكْفُرُونَ بِعِبَادَتِهِمْ وَيَكُونُونَ عَلَيْهِمْ ضِدًّا

Kalla sayakfuroona biAAibadatihim wayakoonoona AAalayhim diddan

YUSUFALI: Instead, they shall reject their worship, and become adversaries against them.

PICKTHAL: Nay, but they will deny their worship of them, and become opponents unto them.

SHAKIR: By no means! They shall soon deny their worshipping them, and they shall be adversaries to them.

KHALIFA: On the contrary, they will reject their idolatry, and will be their enemies.

৮২। পক্ষান্তরে , তারা [ উপাস্যরা ] তাদের এবাদত প্রত্যাখান করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যাবে ২৫২৬।

২৫২৬। দেখুন [ ১০ : ২৮ – ৩০ ] যেখানে বলা হয়েছে মিথ্যা উপাস্যরা তাদের উপাসনার কথা অস্বীকার করবে, তারা পূজারীদের শেষ বিচারের দিনে ত্যাগ করবে, ফলে তারা হতাশার মাঝে নিমজ্জিত হবে। আয়াতে [ ৫ : ১১৬ ] যীশু খৃষ্ট শেষ বিচারের দিনে অস্বীকার করবেন যে তিনি তাঁকে আল্লাহ্‌র অংশীদার হিসেবে পূজা করার কথা বলেছেন। এ সব অংশীবাদীদের আল্লাহ্‌র শাস্তির জন্য অর্পণ করা হবে।

আরও দেখুনঃ 

সূরা মারইয়ামপার্ট-৫

সূরা মারইয়ামপার্ট-৩

সূরা মারইয়ামপার্ট-২

সূরা মারইয়ামপার্ট-১

সূরা মারইয়ামপার্ট-১

সূরা কাহফ পার্ট-৫

সূরা মারইয়াম – উইকিপিডিয়া

Leave a Comment