সূরা হাজ্জ্ব পার্ট-৪ [ মুসলমানদের অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্ম হাজ্জ্ব এবং হাজ্জ্ব সংক্রান্ত দিকটি বেশি উম্মচিত হয়েছে ] সূরা ২২। কুরআন ।

সূরা হাজ্জ্ব পার্ট-৪ ,সুরা আল হাজ্জ্ব (আরবি: سورة الحج‎‎, “তীর্থযাত্রা, হজ্জ”) কুরআনের ২২তম সূরা। এই সূরাটি মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে। এর আয়াত সংখ্যা ৭৮। সুরাটি মূলত মুসলমানদের অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্ম হাজ্জ্ব এবং হাজ্জ্ব সংক্রান্ত দিকটি বেশি উম্মচিত হয়েছে।

সূরা হাজ্জ্ব পার্ট-৪

সূরা হাজ্জ্ব

সূরা হাজ্জ্ব

সূরা হাজ্জ্ব (আয়াত ৫৭)

এবং যারা কুফরি করে এবং আমার আয়াত সমূহকে মিথ্যা বলে তাদের জন্যে লাঞ্ছনাকর শাস্তি রয়েছে।
And those who disbelieved and belied Our Verses (of this Qur’ân), for them will be a humiliating torment (in Hell).

وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا فَأُوْلَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِينٌ
Waallatheena kafaroo wakaththaboo bi-ayatina faola-ika lahum AAathabun muheenun

YUSUFALI: And for those who reject Faith and deny our Signs, there will be a humiliating Punishment.
PICKTHAL: While those who disbelieved and denied Our revelations, for them will be a shameful doom.

SHAKIR: And (as for) those who disbelieve in and reject Our communications, these it is who shall have a disgraceful chastisement.
KHALIFA: While those who disbelieved and rejected our revelations have incurred a shameful retribution.

৫৬। সেদিন [ কেবলমাত্র ] আল্লাহ্‌র কাছেই ক্ষমতা থাকবে। তিনিই তাদের মধ্যে বিচার করবেন। সুতারাং যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে তারা আনন্দের বাগানে বাস করবে ২৮৩৭।

৫৭। এবং যারা ঈমানকে প্রত্যাখান করে এবং আমার নিদর্শনসমূহ মিথ্যা জেনেছে, তাদের জন্য আছে অপমানজনক শাস্তি।

২৮৩৭। যারা শয়তানের প্রলোভনের কাছে আত্মসমর্পন করে ,তাদের উপরেই শয়তানের প্রভুত্ব বিরাজ করে [ ১৭ : ৬২ – ৬৪]। সেই দিন অর্থাৎ শেষ বিচারের দিনে শয়তানের রাজত্বের হবে অবসান। শয়তানকে যে অবসর দান করা হয়েছিলো তা শেষ হয়ে যাবে, এবং সর্বত্র আল্লাহ্‌র আধিপত্য বিরাজ করবে।

সূরা হাজ্জ্ব (আয়াত ৫৮)

যারা আল্লাহর পথে গৃহ ত্যাগ করেছে, এরপর নিহত হয়েছে অথবা মরে গেছে; আল্লাহ তাদেরকে অবশ্যই উৎকৃষ্ট জীবিকা দান করবেন এবং আল্লাহ সর্বোৎকৃষ্ট রিযিক দাতা।

Those who emigrated in the Cause of Allâh and after that were killed or died, surely, Allâh will provide a good provision for them. And verily, it is Allâh Who indeed is the Best of those who make provision.

وَالَّذِينَ هَاجَرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ قُتِلُوا أَوْ مَاتُوا لَيَرْزُقَنَّهُمُ اللَّهُ رِزْقًا حَسَنًا وَإِنَّ اللَّهَ لَهُوَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ

Waallatheena hajaroo fee sabeeli Allahi thumma qutiloo aw matoo layarzuqannahumu Allahu rizqan hasanan wa-inna Allaha lahuwa khayru alrraziqeena

YUSUFALI: Those who leave their homes in the cause of Allah, and are then slain or die,- On them will Allah bestow verily a goodly Provision: Truly Allah is He Who bestows the best provision.
PICKTHAL: Those who fled their homes for the cause of Allah and then were slain or died, Allah verily will provide for them a good provision. Lo! Allah, He verily is Best of all who make provision.

SHAKIR: And (as for) those who fly in Allah’s way and are then slain or die, Allah will most certainly grant them a goodly sustenance, and most surely Allah is the best Giver of sustenance.
KHALIFA: Those who emigrate for the sake of GOD, then get killed, or die, GOD will surely shower them with good provisions. GOD is certainly the best Provider.

রুকু – ৮

৫৮। যারা আল্লাহ্‌র রাস্তায় তাদের ঘর-বাড়ী ত্যাগ করেছে এবং তারপরে নিহত হয়েছে অথবা মারা গেছে, তাদেরকে আল্লাহ্‌ এক উত্তম জীবিকা দান করবেন। প্রকৃতপক্ষে , তিনিই তো শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার দাতা ২৮৩৮।

২৮৩৮। “Rizq” জীবিকা বা জীবনোপকরণ। রূপক অর্থে শেষোক্ত অর্থটি অধিক প্রযোজ্য। কারণ মৃত্যুর পরে রিয্‌ক শব্দটি অবশ্যই আক্ষরিক অর্থে ব্যবহৃত হবে না। তা রূপক বা আলংকারিক অর্থে ব্যবহৃত হবে। অর্থাৎ ভবিষ্যত জীবনকে সুখী ও সমৃদ্ধশালী করার জন্য যা কিছু প্রয়োজন এবং পৃথিবীতে তার উপরে যারা নির্ভরশীল এবং তাঁর প্রিয়জনদের ভবিষ্যত জীবনের নিরাপত্তার জন্য যা কিছু প্রয়োজন সবই এই রিয্‌ক শব্দটি দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে।

সূরা হাজ্জ্ব (আয়াত ৫৯)

তাদেরকে অবশ্যই এমন এক স্থানে পৌছাবেন, যাকে তারা পছন্দ করবে এবং আল্লাহ জ্ঞানময়, সহনশীল।

Truly, He will make them enter an entrance with which they shall be well-pleased, and verily, Allâh indeed is All-Knowing, Most Forbearing.

لَيُدْخِلَنَّهُم مُّدْخَلًا يَرْضَوْنَهُ وَإِنَّ اللَّهَ لَعَلِيمٌ حَلِيمٌ

Layudkhilannahum mudkhalan yardawnahu wa-inna Allaha laAAaleemun haleemun

YUSUFALI: Verily He will admit them to a place with which they shall be well pleased: for Allah is All-Knowing, Most Forbearing.
PICKTHAL: Assuredly He will cause them to enter by an entry that they will love. Lo! Allah verily is Knower, Indulgent.

SHAKIR: He will certainly cause them to enter a place of entrance which they shall be well pleased with, and most surely Allah is Knowing, Forbearing.
KHALIFA: Most assuredly, He will admit them an admittance that will please them. GOD is Omniscient, Clement.

৫৯। তিনি তাদের এমন স্থানে স্থাপন করবেন যা তারা পছন্দ করবে। অবশ্যই আল্লাহ্‌ সব জানেন ও পরম ধৈর্যশীল ২৮৩৯।

২৮৩৯। যারা আল্লাহ্‌র রাস্তায় নিহত হয় তারা শহীদ। সাধারণ পূণ্যাত্মাদের তুলনায় শহীদদের জন্য আছে আরও অধিক পুরষ্কার। তাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ এবং আত্মনিবেদনের জন্য আল্লাহ্‌ তাদের পার্থিব সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞ। তিনি তাদের পৃথিবীর পূর্বের সকল কাজের খবর রাখেন। কিন্তু আল্লাহ্‌র রাস্তায় জীবন উৎসর্গ করার জন্য তাদের সমস্ত ক্রিয়া কর্ম জবাবদিহিতার উর্দ্ধে রাখা হয়। আল্লাহ্‌ তো সম্যক প্রজ্ঞাময়।

সূরা হাজ্জ্ব (আয়াত ৬০)

এ তো শুনলে, যে ব্যক্তি নিপীড়িত হয়ে নিপীড়ন পরিমাণে প্রতিশোধ গ্রহণ করে এবং পুনরায় সে নিপীড়িত হয়, আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ মার্জনাকারী ক্ষমাশীল।

That is so. And whoever has retaliated with the like of that which he was made to suffer, and then has again been wronged, Allâh will surely help him. Verily! Allâh indeed is Oft-Pardoning, Oft-Forgiving.

ذَلِكَ وَمَنْ عَاقَبَ بِمِثْلِ مَا عُوقِبَ بِهِ ثُمَّ بُغِيَ عَلَيْهِ لَيَنصُرَنَّهُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ لَعَفُوٌّ غَفُورٌ

Thalika waman AAaqaba bimithli ma AAooqiba bihi thumma bughiya AAalayhi layansurannahu Allahu inna Allaha laAAafuwwun ghafoorun

YUSUFALI: That (is so). And if one has retaliated to no greater extent than the injury he received, and is again set upon inordinately, Allah will help him: for Allah is One that blots out (sins) and forgives (again and again).

PICKTHAL: That (is so). And whoso hath retaliated with the like of that which he was made to suffer and then hath (again) been wronged, Allah will succour him. Lo! Allah verily is Mild, Forgiving.

SHAKIR: That (shall be so); and he who retaliates with the like of that with which he has been afflicted and he has been oppressed, Allah will most certainly aid him; most surely Allah is Pardoning, Forgiving.

KHALIFA: It is decreed that if one avenges an injustice that was inflicted upon him, equitably, then he is persecuted because of this, GOD will surely support him. GOD is Pardoner, Forgiving.

৬০। ইহা (এরকমই) যদি কেহ অত্যাচারিত হয়ে তুল্য প্রতিশোধ নিয়ে থাকে ও পুণরায় সে অত্যাচারিত হয়, তাহলে আল্লাহ্‌ তাকে সাহায্য করবেন। আল্লাহ্‌- ই [ পাপ ] মোচন করেন , এবং বারে বারে ক্ষমা করেন ২৮৪০।

২৮৪০। সাধারণভাবে মুসলমানদের উপরে আল্লাহ্‌র হুকুম হচ্ছে মন্দের পরিবর্তে ভালো করা [ ২৩ : ৯৬ ]। কিন্তু এমন অনেক সময় আসে যখন সাধারণ মানুষের পক্ষে তা করা সম্ভব হয় না। সে সব ক্ষেত্রে মন্দের পরিবর্তে মন্দ বা ক্ষতির পরিবর্তে ক্ষতি করার ততটুকু হুকুম আছে যতটুকু তার প্রতি করা হয়েছে। যদি সমান প্রতিশোধ নেওয়ার পরেও ব্যাপারটি সেখানেই শেষ না হয়, এবং অপর পক্ষ যদি পুণরায় আক্রমণ করতে উদ্যত হয়, এবং সকল সীমারেখা অতিক্রম করে, সেক্ষেত্রে আমাদের সকল দোষ ত্রুটি সত্ত্বেও আমরা আল্লাহ্‌র সাহায্য পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করি। কারণ আল্লাহ্‌ পাপ মোচনকারী এবং পুণঃ পুণঃ ক্ষমাশীল।

সূরা হাজ্জ্ব (আয়াত ৬১)

এটা এ জন্যে যে, আল্লাহ রাত্রিকে দিনের মধ্যে এবং দিনকে রাত্রির মধ্য দাখিল করে দেন এবং আল্লাহ সবকিছু শোনেন, দেখেন।

That is because Allâh merges the night into the day, and He merges the day into the night. And verily, Allâh is All-Hearer, All-Seer.

ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ يُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَيُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ وَأَنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ Thalika bi-anna Allaha yooliju allayla fee alnnahari wayooliju alnnahara fee allayli waanna Allaha sameeAAun baseerun

YUSUFALI: That is because Allah merges night into day, and He merges day into night, and verily it is Allah Who hears and sees (all things).

PICKTHAL: That is because Allah maketh the night to pass into the day and maketh the day to pass into the night, and because Allah is Hearer, Seer.

SHAKIR: That is because Allah causes the night to enter into the day and causes the day to enter into the night, and because Allah is Hearing, Seeing.

KHALIFA: It is a fact that GOD merges the night into the day, and merges the day into the night, and that GOD is Hearer, Seer.

৬১। ইহা এ জন্য যে, আল্লাহ্‌ রাত্রিকে প্রবেশ করান দিবসের মাঝে, এবং দিবসকে প্রবেশ করান রাত্রির মাঝে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ [ সব ] শোনেন [ সব ] দেখেন ২৮৪১।

২৮৪১। অনেকের কাছে আল্লাহ্‌র গুণাবলীর বর্ণনাকে অদ্ভুদ ও সামঞ্জস্যহীন মনে হতে পারে। কারণ একই সাথে বলা হয়েছেঃ তিনি দয়ালু আবার সেই সাথে ন্যায় বিচারক, তিনি বান্দাকে রক্ষা করেন আবার সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ অর্থাৎ আল্লাহ্‌র রাস্তায় শহীদ হওয়ার জন্য আহ্বান করেছেন। একদিকে মন্দের পরিবর্তে ভালো করার আদেশ দান করেন, আবার সমপরিমাণ প্রতিশোধেরও অধিকার দান করেছেন। কিন্তু যারা অদূরদর্শী শুধু তারাই আল্লাহ্‌র সম্বন্ধে এরূপ চিন্তা করতে পারে।

কারণ বিশ্ব প্রকৃতির মাঝে , আল্লাহ্‌র সৃষ্টির মাঝে এরূপ বহু সামঞ্জস্যহীনতা বিদ্যমান। ” আল্লাহ্‌ রাত্রিকে প্রবেশ করান দিবসের মধ্যে এবং দিবসকে প্রবিষ্ট করান রাত্রির মধ্যে।” অর্থাৎ আমাদের চেনা পৃথিবীর দিন রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধির উদাহরণ এখানে দেয়া হয়েছে। দিনের বা রাত্রির কোনও নির্দ্দিষ্ট সীমা রেখা নাই। বছরের কোনও সময়ে রাত্রি দিবসের মাঝে প্রবেশ করে দিবসকে সংক্ষিপ্ত করে ফেলে , আবার কখনও দিবস রাত্রির মাঝে প্রবেশ করে রাত্রিকে সংক্ষিপ্ত করে ফেলে।

দিবা রাত্রির পরিবর্তিত অবস্থান সত্বেও রাত্রি হচ্ছে বিশ্রামের জন্য নির্দ্দিষ্ট। বিশ্ব প্রকৃতি সুপ্তির কোলে ঢলে পড়ে। দিন হচ্ছে কর্মচাঞ্চল্যের জন্য নির্দ্দিষ্ট। সূর্যের প্রদীপ্ত আলোতে ভাস্বর সুন্দর এই পৃথিবী হেসে ওঠে। এই পৃথিবীতে অসংখ্য সৃষ্টির মাঝে আল্লাহ্‌র শিল্পী সত্তা ও জ্ঞানের চিহ্ন ভাস্বর, যা মানুষের সর্বোচ্চ জ্ঞানও অনুধাবনে অক্ষম। ঠিক সেরকম এই পৃথিবীতে মানুষে মানুষে , সামাজিক অবস্থান ও পরস্পরের সম্পর্কের ক্ষেত্র অত্যন্ত জটিলতায় পরিপূর্ণ যা সব সময়ে আমাদের পক্ষে অনুধাবন সম্ভব নয়। একমাত্র আল্লাহ্‌র পক্ষেই সম্ভব এসব সুক্ষ ভেদাভেদ সম্পর্কে অবহিত হওয়া এবং তাঁর সৃষ্ট জীবের আবেদনে সাড়া দেওয়া।

সূরা হাজ্জ্ব (আয়াত ৬২)

এটা এ কারণেও যে, আল্লাহই সত্য; আর তাঁর পরিবর্তে তারা যাকে ডাকে, তা অসত্য এবং আল্লাহই সবার উচ্চে, মহান।

That is because Allâh He is the Truth (the only True God of all that exists, Who has no partners or rivals with Him), and what they (the polytheists) invoke besides Him, it is Bâtil (falsehood) And verily, Allâh He is the Most High, the Most Great.

ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِن دُونِهِ هُوَ الْبَاطِلُ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ

Thalika bi-anna Allaha huwa alhaqqu waanna ma yadAAoona min doonihi huwa albatilu waanna Allaha huwa alAAaliyyu alkabeeru

YUSUFALI: That is because Allah – He is the Reality; and those besides Him whom they invoke,- they are but vain Falsehood: verily Allah is He, Most High, Most Great.

PICKTHAL: That is because Allah, He is the True, and that whereon they call instead of Him, it is the false, and because Allah, He is the High, the Great.

SHAKIR: That is because Allah is the Truth, and that what they call upon besides Him– that is the falsehood, and because Allah is the High, the Great.

KHALIFA: It is a fact that GOD is the Truth, while the setting up of any idolsbeside Him constitutes a falsehood, and that GOD is the Most High, the Supreme.

৬২। ইহা এই কারেণ যে, আল্লাহ্‌ – তিনিই সত্য ২৮৪২; এবং তিনি ব্যতীত তারা যা উদ্ভাবন করে সবই মিথ্যা, তিনিই আল্লাহ্‌ যিনি মহান, শ্রেষ্ঠ ২৮৪৩।

২৮৪২। এই আয়াতে অত্যন্ত জোরালো ভাবে এবং সুস্পষ্টভাবে আল্লাহ্‌র প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। আল্লাহ্‌-ই একমাত্র সত্য। তিনি ব্যতীত আর সবই ছায়া সদৃশ্য যার কোনও নিজস্ব অস্তিত্ব নাই।

২৮৪৩। মানুষ কল্পনার দ্বারা আল্লাহ্‌র প্রতিপক্ষ দাঁড় করায় যার কোন বাস্তব ভিত্তি নাই। মানুষ এই সব ভিত্তিহীন বস্তুর উপাসনার পরিবর্তে এক আল্লাহ্‌র উপাসনা করবে।

সূরা হাজ্জ্ব
সূরা হাজ্জ্ব (আয়াত ৬৩)
তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর ভূপৃষ্ট সবুজ-শ্যামল হয়ে উঠে। নিশ্চয় আল্লাহ সুক্ষদর্শী, সর্ববিষয়ে খবরদার।

See you not that Allâh sends down water (rain) from the sky, and then the earth becomes green? Verily, Allâh is the Most Kind and Courteous, Well-Acquainted with all things.

أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ أَنزَلَ مِنَ السَّمَاء مَاء فَتُصْبِحُ الْأَرْضُ مُخْضَرَّةً إِنَّ اللَّهَ لَطِيفٌ خَبِيرٌ

Alam tara anna Allaha anzala mina alssama-i maan fatusbihu al-ardu mukhdarratan inna Allaha lateefun khabeerun

YUSUFALI: Seest thou not that Allah sends down rain from the sky, and forthwith the earth becomes clothed with green? for Allah is He Who understands the finest mysteries, and is well-acquainted (with them).

PICKTHAL: Seest thou not how Allah sendeth down water from the sky and then the earth becometh green upon the morrow? Lo! Allah is Subtile, Aware.

SHAKIR: Do you not see that Allah sends down water from the cloud so the earth becomes green? Surely Allah is Benignant, Aware.

KHALIFA: Do you not see that GOD sends down from the sky water that turns the land green? GOD is Sublime, Cognizant.

৬৩। তোমরা কি দেখ না যে, আল্লাহ্‌ আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, এবং [ ফলে ] অবিলম্বে পৃথিবী সবুজ চাঁদরে ঢেকে যায় ? [ একমাত্র ] আল্লাহ্‌ -ই [ সৃষ্টির ] সুক্ষ রহস্য বুঝতে পারেন এবং [ তার সাথে ] সুপরিজ্ঞাত ২৮৪৪।

২৮৪৪। “Latif ” আল্লাহ্‌র আর এক নাম। এর সঠিক অর্থ প্রকাশ করা ভাষার পক্ষে দুঃসাধ্য। এর ধারণা অন্তরে ধারণ করা মানুষের অনুধাবন ক্ষমতার সর্বোচ্চ বিকাশের পক্ষেও কষ্টকর। তবুও এই শব্দটি দ্বারা সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌র যে সব গুণবাচক বিশেণকে প্রকাশ করা হয়েছে তা নিম্নরূপ : ১) সুক্ষদর্শী অন্তর্দশী, ২) এত সুক্ষ যে মানুষের দৃষ্টিসীমার বাইরে , ৩) এত পবিত্র যে ধারণা শক্তির অতীত, ৪) এত স্বয়ং সম্পূর্ণ যে পৃথিবীর সকল অতি সুক্ষ পার্থক্য এবং রহস্য বুঝতে সক্ষম ৫) এত দয়ালু এবং মহৎ যার দয়া ও মহত্বের প্রকাশ সর্বোচ্চ। মানুষের প্রতি তাঁর দয়া, করুণা ও অনুগ্রহ ধারণার অতীত। আল্লাহ্‌র নাম স্মরণের সাথে সাথে আল্লাহ্‌র এই গুণবাচক বিশেষণ গুলিকে হৃদয়ে অনুভবের চেষ্টা করা প্রয়োজন।

সূরা হাজ্জ্ব (আয়াত ৬৪)

নভোমন্ডল ও ভুপৃষ্ঠে যা কিছু আছে, সব তাঁরই এবং আল্লাহই অভাবমুক্ত প্রশংসার অধিকারী।

To Him belongs all that is in the heavens and all that is on the earth. And verily, Allâh He is Rich (Free of all wants), Worthy of all praise.

لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَإِنَّ اللَّهَ لَهُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ

Lahu ma fee alssamawati wama fee al-ardi wa-inna Allaha lahuwa alghaniyyu alhameedu

YUSUFALI: To Him belongs all that is in the heavens and on earth: for verily Allah,- He is free of all wants, Worthy of all Praise.
PICKTHAL: Unto Him belongeth all that is in the heavens and all that is in the earth. Lo! Allah, He verily is the Absolute, the Owner of Praise.

SHAKIR: His is whatsoever is in the heavens and whatsoever is in the earth; and most surely Allah is the Self-sufficient, the Praised.
KHALIFA: To Him belongs everything in the heavens and everything on earth. Absolutely, GOD is the Most Rich, Most Praiseworthy.

৬৪। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহ্‌র অধীনে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ সকল অভাবমুক্ত সকল প্রশংসার যোগ্য ২৮৪৫।

২৮৪৫। আয়াত [ ২২ : ৬১ – ৬৩ ] গুলিতে আল্লাহ্‌র প্রতি আরোপিত তাঁর গুণবাচক বিশেষণ গুলির কয়েকটির উল্লেখ আছে। যা ঐ সব আয়াতের সাথে সামঞ্জস্য পূর্ণ। এই আয়াতে পূর্ববর্তী সকল আয়াতের বক্তব্যকে সারসংক্ষেপ করা হয়েছে এবং আল্লাহ্‌র প্রতি আর দুটো গুণবাচক বিশেষণ বা নাম আরোপ করা হয়েছে। তিনি “অভাবমুক্ত” ও “প্রশংসার যোগ্য “। আল্লাহ্‌র দয়া ও করুণার ধারণা পৃথিবীতে কোন কিছুর সাথে তুলনা করা যায় না।

পৃথিবীর সকল কিছুই একে অন্যের উপরে নির্ভরশীল, এবং সকলেই প্রতিটি কর্মের জন্য প্রতিদান আশা করে , এমনকি নিঃস্বার্থ যে দান , তাও সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ নয় কারণ পরকালে সমুন্নত জীবনের আশায়, আল্লাহ্‌র ওয়াস্তে সে দান করা হয়। সুতারাং সম্পূর্ণ প্রতিদান বিহীন বা কোন কিছুর আশা না করে কেউ এ পৃথিবীতে কিছু করে না। এখানেই আল্লাহ্‌র করুণা ও দয়ার সাথে পৃথিবীর মানুষের কৃত সর্বোচ্চ দয়া ও করুণার পার্থক্য। আল্লাহ্‌ তাঁর সৃষ্ট পদার্থ থেকে কিছুই আশা করেন না। তিনি অভাবমুক্ত। আল্লাহ্‌ তাঁর সৃষ্ট পদার্থের উপরে নির্ভরশীল নন।

সুতারাং তাঁর দয়া ও করুণা পার্থিব দয়া ও করুণার সাথে তুলনীয় নয়। তা কোনও কবির লেখনী সম্পূর্ণ রূপে বর্ণনা করতে অক্ষম। একমাত্র আমাদের আন্তরিক ও ভক্তিপ্লুত হৃদয়ের ভালোবাসা থেকে যে সঙ্গীতের সৃষ্টি হয় তাই পারে আল্লাহ্‌র করুণা ও দয়ার কণামাত্র বর্ণনা করতে। দেখুন [ ২ : ৬৭ ]

সূরা হাজ্জ্ব (আয়াত ৬৫)

তুমি কি দেখ না যে, ভূপৃষ্টে যা আছে এবং সমুদ্রে চলমান নৌকা তৎসমুদয়কে আল্লাহ নিজ আদেশে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন এবং তিনি আকাশ স্থির রাখেন, যাতে তাঁর আদেশ ব্যতীত ভূপৃষ্টে পতিত না হয়। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি করুণাশীল, দয়াবান।

See you not that Allâh has subjected to you (mankind) all that is on the earth, and the ships that sail through the sea by His Command? He withholds the heaven from falling on the earth except by His Leave. Verily, Allâh is, for mankind, full of Kindness, Most Merciful.

أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ سَخَّرَ لَكُم مَّا فِي الْأَرْضِ وَالْفُلْكَ تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِأَمْرِهِ وَيُمْسِكُ السَّمَاء أَن تَقَعَ عَلَى الْأَرْضِ إِلَّا بِإِذْنِهِ إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَؤُوفٌ رَّحِيمٌ

Alam tara anna Allaha sakhkhara lakum ma fee al-ardi waalfulka tajree fee albahri bi-amrihi wayumsiku alssamaa an taqaAAa AAala al-ardi illa bi-ithnihi inna Allaha bialnnasi laraoofun raheemun

YUSUFALI: Seest thou not that Allah has made subject to you (men) all that is on the earth, and the ships that sail through the sea by His Command? He withholds the sky (rain) from failing on the earth except by His leave: for Allah is Most Kind and Most Merciful to man.

PICKTHAL: Hast thou not seen how Allah hath made all that is in the earth subservient unto you? And the ship runneth upon the sea by His command, and He holdeth back the heaven from falling on the earth unless by His leave. Lo! Allah is, for mankind, Full of Pity, Merciful.

SHAKIR: Do you not see that Allah has made subservient to you whatsoever is in the earth and the ships running in the sea by His command? And He withholds the heaven from falling on the earth except with His permission; most surely Allah is Compassionate, Merciful to men.

KHALIFA: Do you not see that GOD has committed in your service everything on earth? The ships run in the ocean by His command. He prevents the heavenly bodies from crashing onto the earth, except in accordance with His command. GOD is Most Kind towards the people, Most Merciful.

রুকু – ৯

৬৫। [ হে মানুষ ] তোমরা কি দেখ না যে, আল্লাহ্‌ তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন পৃথিবীর সকল কিছুকে এবং তাঁর আদেশে সমুদ্রে বিচরণশীল নৌযান সমূহকে ২৮৪৬ ? তাঁর অনুমতি ব্যতীত পৃথিবীর উপরে আকাশের [বৃষ্টির] পতনকে তিনিই ধরে রাখেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ মানুষের প্রতি দয়ালু ও পরম করুণাময় ২৮৪৭।

২৮৪৬। স্থলভাগ ও সমুদ্রকে আল্লাহ্‌ মানুষের আয়ত্বাধীন করে দিয়েছেন, যেনো মানুষ এদের উপরে আধিপত্য বিস্তার করতে পারে ও নিজের জীবন গড়তে পারে।

২৮৪৭। “Samaa” অর্থ ১) সুউচ্চ কোন কিছু, ২) ছাদ, ৩) আকাশ বা আকাশের সামিয়ানা ,৪) মেঘ বা বৃষ্টি। যদিও অধিকাংশ তফসীরকারগণ ” আকাশ ” শব্দটি ব্যবহার করেছেন , তবে মওলানা ইউসুফ আলী সাহেবের মতে শেষ অর্থটি হবে অধিক প্রযোজ্য। যদি বৃষ্টি কে ধরা হয় তবে সম্পূর্ণ আয়াতটি যে ভাবের প্রকাশ করে তা হচ্ছে তিনটি জিনিষ পৃথিবীতে মানুষের জীবন ধারাকে নিয়ন্ত্রিত করে মাটি, সমুদ্র ও বাতাস। বৃষ্টি হচ্ছে আল্লাহ্‌র করুণাধারার প্রতীক। তিনি মানুষের কল্যাণের জন্য বৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রিত করেন।

সূরা হাজ্জ্ব (আয়াত ৬৬)

সূরা হাজ্জ্ব (আয়াত ৬৭)

সূরা হাজ্জ্ব (আয়াত ৬৮)

তারা যদি আপনার সাথে বিতর্ক করে, তবে বলে দিন, তোমরা যা কর, সে সর্ম্পকে আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।
And if they argue with you (as regards the slaughtering of the sacrifices), say; ”Allâh knows best of what you do.

وَإِن جَادَلُوكَ فَقُلِ اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا تَعْمَلُونَ
Wa-in jadalooka faquli Allahu aAAlamu bima taAAmaloona

YUSUFALI: If they do wrangle with thee, say, “Allah knows best what it is ye are doing.”
PICKTHAL: And if they wrangle with thee, say: Allah is Best Aware of what ye do.

SHAKIR: And if they contend with you, say: Allah best knows what you do.
KHALIFA: If they argue with you, then say, “GOD is fully aware of everything you do.”

৬৮। যদি তারা তোমার সাথে বিতন্ডা করে তবে বল, ” তোমরা যা করছো সে সম্বন্ধে আল্লাহ্‌-ই সবচেয়ে ভালো জানেন। ” ২৮৪৯।

২৮৪৯। মানুষ সঠিক জ্ঞান লাভ না করা সত্বেও বিবাদ -বিতন্ডা করে থাকে, বিশেষতঃ দ্বীনের ব্যাপারে কথাটি অধিক প্রযোজ্য। দেখা যায় ধর্মীয় জ্ঞান বা ধর্মের ব্যাপারে আন্তরিকতা না থাকা সত্বেও মানুষ বৃথা র্তকবির্তকে লিপ্ত হয়। মানুষের প্রতিটি কর্ম ও কর্মের উদ্দেশ্য বা নিয়ত আল্লাহ্‌র নিকট সুস্পষ্ট। এই নিয়তের প্রেক্ষিতেই পরলোকে তাদের ধর্মানুরাগকে বিচার করা হবে, শুধুমাত্র তাদের বাদানুবাদের প্রেক্ষিতে নয়।

সূরা হাজ্জ্ব (আয়াত ৬৯)

তোমরা যে বিষয়ে মতবিরোধ করছ, আল্লাহ কিয়ামতের দিন সেই বিষয়ে তোমাদের মধ্যে ফায়সালা করবেন।
”Allâh will judge between you on the Day of Resurrection about that wherein you used to differ.”

اللَّهُ يَحْكُمُ بَيْنَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيمَا كُنتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ
Allahu yahkumu baynakum yawma alqiyamati feema kuntum feehi takhtalifoona

YUSUFALI: “Allah will judge between you on the Day of Judgment concerning the matters in which ye differ.”
PICKTHAL: Allah will judge between you on the Day of Resurrection concerning that wherein ye used to differ.

SHAKIR: Allah will judge between you on the day of resurrection respecting that in which you differ.
KHALIFA: GOD will judge among you on the Day of Resurrection regarding all your disputes.

৬৯। যে বিষয়ে তোমরা মতভেদে রয়েছ সে ব্যাপারে , শেষ বিচারের দিনে আল্লাহ্‌ -ই তোমাদের মধ্যে বিচার করে দেবেন।

৭০। তোমরা কি জান না আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে আল্লাহ্‌ সব জানেন ? নিশ্চয়ই এ সকলই নথিতে [ লেখা আছে ] এবং আল্লাহ্‌র জন্য তা অতি সহজ ২৮৫১।

২৮৫১। এই আয়াতের মাধ্যমেই আল্লাহ্‌র এক বিশেষ ক্ষমতা বা গুণের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। আল্লাহ্‌র জ্ঞান স্বয়ং সম্পূর্ণ , ব্যপক , এবং নির্ভুলভাবে সংরক্ষিত। মানুষের জ্ঞানের পরিধি সীমাবদ্ধ। আর এই সীমাবদ্ধ জ্ঞানকে নির্ভুল ভাবে লিপিবদ্ধ না করলে মানুষ ভুলে যায়। কিন্তু আল্লাহ্‌র জ্ঞান অসীম। সীমার বাঁধনে তা আবদ্ধ করা যায় না। আকাশ -পৃথিবীর সকল কিছুর জ্ঞান তাঁর স্বতঃস্ফুর্ত জ্ঞান এবং সব কিছু সংরক্ষিত থাকে। মহাকালের গর্ভে কিছুই হারিয়ে যায় না।

সূরা হাজ্জ্ব (আয়াত ৭০)

তুমি কি জান না যে, আল্লাহ জানেন যা কিছু আকাশে ও ভুমন্ডলে আছে এসব কিতাবে লিখিত আছে। এটা আল্লাহর কাছে সহজ।
Know you not that Allâh knows all that is in heaven and on earth? Verily, it is (all) in the Book (Al-Lauh Al-Mahfûz). Verily! That is easy for Allâh.

أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاء وَالْأَرْضِ إِنَّ ذَلِكَ فِي كِتَابٍ إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ
Alam taAAlam anna Allaha yaAAlamu ma fee alssama-i waal-ardi inna thalika fee kitabin inna thalika AAala Allahi yaseerun

YUSUFALI: Knowest thou not that Allah knows all that is in heaven and on earth? Indeed it is all in a Record, and that is easy for Allah.
PICKTHAL: Hast thou not known that Allah knoweth all that is in the heaven and the earth? Lo! it is in a record. Lo! that is easy for Allah.

SHAKIR: Do you not know that Allah knows what is in the heaven and the earth? Surely this is in a book; surely this is easy to Allah.
KHALIFA: Do you not realize that GOD knows everything in the heavens and everything on earth? All this is recorded in a record. This is easy for GOD to do.

৬৯। যে বিষয়ে তোমরা মতভেদে রয়েছ সে ব্যাপারে , শেষ বিচারের দিনে আল্লাহ্‌ -ই তোমাদের মধ্যে বিচার করে দেবেন।

৭০। তোমরা কি জান না আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে আল্লাহ্‌ সব জানেন ? নিশ্চয়ই এ সকলই নথিতে [ লেখা আছে ] এবং আল্লাহ্‌র জন্য তা অতি সহজ ২৮৫১।

২৮৫১। এই আয়াতের মাধ্যমেই আল্লাহ্‌র এক বিশেষ ক্ষমতা বা গুণের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। আল্লাহ্‌র জ্ঞান স্বয়ং সম্পূর্ণ , ব্যপক , এবং নির্ভুলভাবে সংরক্ষিত। মানুষের জ্ঞানের পরিধি সীমাবদ্ধ। আর এই সীমাবদ্ধ জ্ঞানকে নির্ভুল ভাবে লিপিবদ্ধ না করলে মানুষ ভুলে যায়। কিন্তু আল্লাহ্‌র জ্ঞান অসীম। সীমার বাঁধনে তা আবদ্ধ করা যায় না। আকাশ -পৃথিবীর সকল কিছুর জ্ঞান তাঁর স্বতঃস্ফুর্ত জ্ঞান এবং সব কিছু সংরক্ষিত থাকে। মহাকালের গর্ভে কিছুই হারিয়ে যায় না।

সূরা হাজ্জ্ব (আয়াত ৭১)

তারা আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর পূজা করে, যার কোন সনদ নাযিল করা হয়নি এবং সে সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞান নেই। বস্তুতঃ জালেমদের কোন সাহায্যকারী নেই।

And they worship besides Allâh others for which He has sent down no authority, and of which they have no knowledge and for the Zâlimûn (wrong-doers, polytheists and disbelievers in the Oneness of Allâh) there is no helper.

وَيَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَمَا لَيْسَ لَهُم بِهِ عِلْمٌ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِن نَّصِيرٍ

WayaAAbudoona min dooni Allahi ma lam yunazzil bihi sultanan wama laysa lahum bihi AAilmun wama lilththalimeena min naseerin

YUSUFALI: Yet they worship, besides Allah, things for which no authority has been sent down to them, and of which they have (really) no knowledge: for those that do wrong there is no helper.
PICKTHAL: And they worship instead of Allah that for which He hath sent down no warrant, and that whereof they have no knowledge. For evil-doers there is no helper.

SHAKIR: And they serve besides Allah that for which He has not sent any authority, and that of which they have no knowledge; and for the unjust there shall be no helper.
KHALIFA: Yet, they idolize beside GOD idols wherein He placed no power, and they know nothing about them. The transgressors have no helper.

৭১। তথাপি তারা আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়ে এমন কিছুর এবাদত করে যার বিধি সংগত ক্ষমতা তাদের প্রেরণ করা হয় নাই ২৮৫২। এবং যার সম্বন্ধে তাদের [ প্রকৃতই ] কোন জ্ঞান নাই। নিশ্চয়ই যারা পাপ করে তাদের কোন সাহায্যকারী নাই।

২৮৫২। যারা নির্বোধ ও সাধারণ জ্ঞান বির্বজিত শুধু তারাই পারে মিথ্যা উপাস্যের উপাসনা করতে। কারণ সামান্য দূরদৃষ্টি থাকলেই তারা বুঝতে পারতো এই উপাসনার কোনও প্রকৃত ভিত্তি নাই। এদেরকেই বলা হয়েছে ‘জালিম’ যারা মিথ্যা উপাস্যের উপাসনার দ্বারা আল্লাহ্‌কে অসম্মান করে তাদের কে সাহায্য করবে ?

সূরা হাজ্জ্ব (আয়াত ৭২)

যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হয়, তখন তুমি কাফেরদের চোখে মুখে অসন্তোষের লক্ষণ প্রত্যক্ষ করতে পারবে। যারা তাদের কাছে আমার আয়াত সমূহ পাঠ করে, তারা তাদের প্রতি মার মুখো হয়ে উঠে। বলুন, আমি কি তোমাদেরকে তদপেক্ষা মন্দ কিছুর সংবাদ দেব? তা আগুন; আল্লাহ কাফেরদেরকে এর ওয়াদা দিয়েছেন। এটা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল।

And when Our Clear Verses are recited to them, you will notice a denial on the faces of the disbelievers! They are nearly ready to attack with violence those who recite Our Verses to them. Say: ”Shall I tell you of something worse than that? The Fire (of Hell) which Allâh has promised to those who disbelieve, and worst indeed is that destination!”

وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ تَعْرِفُ فِي وُجُوهِ الَّذِينَ كَفَرُوا الْمُنكَرَ يَكَادُونَ يَسْطُونَ بِالَّذِينَ يَتْلُونَ عَلَيْهِمْ آيَاتِنَا قُلْ أَفَأُنَبِّئُكُم بِشَرٍّ مِّن ذَلِكُمُ النَّارُ وَعَدَهَا اللَّهُ الَّذِينَ كَفَرُوا وَبِئْسَ الْمَصِيرُ

Wa-itha tutla AAalayhim ayatuna bayyinatin taAArifu fee wujoohi allatheena kafaroo almunkara yakadoona yastoona biallatheena yatloona AAalayhim ayatina qul afaonabbi-okum bisharrin min thalikum alnnaru waAAadaha Allahu allatheena kafaroo wabi/sa almaseeru

YUSUFALI: When Our Clear Signs are rehearsed to them, thou wilt notice a denial on the faces of the Unbelievers! they nearly attack with violence those who rehearse Our Signs to them. Say, “Shall I tell you of something (far) worse than these Signs? It is the Fire (of Hell)! Allah has promised it to the Unbelievers! and evil is that destination!”

PICKTHAL: And when Our revelations are recited unto them, thou knowest the denial in the faces of those who disbelieve; they all but attack those who recite Our revelations unto them. Say: Shall I proclaim unto you worse than that? The Fire! Allah hath promised it for those who disbelieve. A hapless journey’s end!

SHAKIR: And when Our clear communications are recited to them you will find denial on the faces of those who disbelieve; they almost spring upon those who recite to them Our communications. Say: Shall I inform you of what is worse than this? The fire; Allah has promised it to those who disbelieve; and how evil the resort!

KHALIFA: When our revelations are recited to them, clearly, you recognize wickedness on the faces of those who disbelieve. They almost attack those who recite our revelations to them. Say, “Shall I inform you of something much worse? Hell is promised by GOD for those who disbelieve; what a miserable destiny.”

৭২। যখন উহাদের নিকট আমার স্পষ্ট আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হয় , তুমি অবিশ্বাসীদের মুখে প্রতিবাদের [ চিহ্ন ] লক্ষ্য করবে ২৮৫৩। ওরা [ অবিশ্বাসীরা ] তাদের আক্রমণ করতে উদ্যত হয় যারা ওদের কাছে আমার আয়াত সমূহ আবৃত্তি করে। বল, ” আমি কি তোমাদের এই সকল নিদর্শন অপেক্ষাও খারাপ কিছুর সংবাদ দিব ? ২৮৫৪ সেটা হচ্ছে জাহান্নামের আগুন। অবিশ্বাসীদের জন্য এটা হচ্ছে আল্লাহ্‌র প্রতিশ্রুতি। উহা অত্যন্ত মন্দ গন্তব্য স্থান। ”

২৮৫৩। “Munkar” অর্থ ১) কাউকে কিছু দিলে তা নিতে অস্বীকার করা। ২) কোনও বক্তব্যের প্রতি লক্ষ্য করতে বললে দেখতে অস্বীকার করা। ৩) অসম্মত হওয়া , বিরক্ত হওয়া ইত্যাদি।

২৮৫৪। এই বাক্যটি বিদ্রূপাত্মকরূপে ব্যবহৃত হয়েছে “তোমরা মনে কর আল্লাহ্‌র সুস্পষ্ট আয়াতসমূহের বিষয়বস্তু অরুচিকর। তোমাদের জন্য তদ্‌পেক্ষা অরুচিকর বস্তু আছে যদি তোমরা এখনও অনুতাপের মাধ্যমে আত্মসংশোধন না কর। আর তা হচ্ছে পরলোকের শাস্তি যা অবশ্যাম্ভবী।

সূরা হাজ্জ্ব

সূরা হাজ্জ্ব (আয়াত ৭৩)

হে লোক সকল! একটি উপমা বর্ণনা করা হলো, অতএব তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোন; তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের পূজা কর, তারা কখনও একটি মাছি সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা সকলে একত্রিত হয়। আর মাছি যদি তাদের কাছ থেকে কোন কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে তারা তার কাছ থেকে তা উদ্ধার করতে পারবে না, প্রার্থনাকারী ও যার কাছে প্রার্থনা করা হয়, উভয়েই শক্তিহীন।

O mankind! A similitude has been coined, so listen to it (carefully): Verily! Those on whom you call besides Allâh, cannot create (even) a fly, even though they combine together for the purpose. And if the fly snatched away a thing from them, they would have no power to release it from the fly. So weak are (both) the seeker and the sought.

يَا أَيُّهَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسْتَمِعُوا لَهُ إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ لَن يَخْلُقُوا ذُبَابًا وَلَوِ اجْتَمَعُوا لَهُ وَإِن يَسْلُبْهُمُ الذُّبَابُ شَيْئًا لَّا يَسْتَنقِذُوهُ مِنْهُ ضَعُفَ الطَّالِبُ وَالْمَطْلُوبُ

Ya ayyuha alnnasu duriba mathalun faistamiAAoo lahu inna allatheena tadAAoona min dooni Allahi lan yakhluqoo thubaban walawi ijtamaAAoo lahu wa-in yaslubuhumu alththubabu shay-an la yastanqithoohu minhu daAAufa alttalibu waalmatloobu

YUSUFALI: O men! Here is a parable set forth! listen to it! Those on whom, besides Allah, ye call, cannot create (even) a fly, if they all met together for the purpose! and if the fly should snatch away anything from them, they would have no power to release it from the fly. Feeble are those who petition and those whom they petition!

PICKTHAL: O mankind! A similitude is coined, so pay ye heed to it: Lo! those on whom ye call beside Allah will never create a fly though they combine together for the purpose. And if the fly took something from them, they could not rescue it from it. So weak are (both) the seeker and the sought!

SHAKIR: O people! a parable is set forth, therefore listen to it: surely those whom you call upon besides Allah cannot create fly, though they should all gather for it, and should the fly snatch away anything from them, they could not take it back from i weak are the invoker and the invoked.

KHALIFA: O people, here is a parable that you must ponder carefully: the idols you set up beside GOD can never create a fly, even if they banded together to do so. Furthermore, if the fly steals anything from them, they cannot recover it; weak is the pursuer and the pursued.

রুকু – ১০

৭৩। হে মানব সম্প্রদায় [ তোমাদের জন্য ] একটি উপমা উপস্থাপন করা হলো , মনোযোগ সহকারে উহা শ্রবণ কর। আল্লাহ্‌ ব্যতীত তোমরা যাকে আহ্বান কর, তারা তো একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারে না। যদি তারা এই উদ্দেশ্যে সকলে একত্রিত হয়, [ তবুও পারবে না ] এবং যদি মাছি কিছু তাদের নিকট থেকে ছিনিয়ে নেয়, উহাও মাছির নিকট থেকে উদ্ধার করার ক্ষমতা তাদের নাই। আবেদনকারী ও যাদের নিকট আবেদন করা হয় উভয়েই কত দুর্বল ২৮৫৫।

২৮৫৫। এই আয়াতে বলা হয়েছে যে মিথ্যা উপাস্য ও উপাস্যের উপসনাকারী উভয়েই দুর্বল , নির্বোধ এবং হতভাগ্য।

সূরা হাজ্জ্ব (আয়াত ৭৪)

তারা আল্লাহর যথাযোগ্য মর্যাদা বোঝেনি। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিধর, মহাপরাক্রমশীল।
They have not estimated Allâh His Rightful Estimate; Verily, Allâh is All-Strong, All-Mighty.

مَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ
Ma qadaroo Allaha haqqa qadrihi inna Allaha laqawiyyun AAazeezun

YUSUFALI: No just estimate have they made of Allah: for Allah is He Who is strong and able to Carry out His Will.
PICKTHAL: They measure not Allah His rightful measure. Lo! Allah is Strong, Almighty.

SHAKIR: They have not estimated Allah with the estimation that i due to Him; most surely Allah is Strong, Mighty.
KHALIFA: They do not value GOD as He should be valued. GOD is the Most Powerful, the Almighty.

৭৪। আল্লাহ্‌র [ মর্যাদা ] সম্বন্ধে তাদের প্রকৃত ধারণা নাই। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ ক্ষমতাবান , যিনি তাঁর ইচ্ছা সম্পাদনে সক্ষম ২৮৫৬।

২৮৫৬। যারা আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কিছুর উপাসনা করে , তারা কোনদিনই আল্লাহ্‌র প্রকৃত স্বরূপকে আত্মার মাঝে উপলব্ধি করতে পারবে না। আল্লাহ্‌ সর্বশক্তিমান। দ্যুলোকে -ভূলোকে সর্বত্র তিনি ক্ষমতাশালী। তিনি তাঁর পরিকল্পনা সর্বোতভাবে বাস্তবায়িত করতে সক্ষম। তিনি সকল ক্ষমতা ও সম্মানের উর্দ্ধে বিরাজ করেন। দেখুন “Aziz” শব্দটির অর্থের জন্য আয়াত [ ২২ : ৪০ এবং টিকা ২৮১৮ ]

সূরা হাজ্জ্ব (আয়াত ৭৫)

আল্লাহ ফেরেশতা ও মানুষের মধ্য থেকে রাসূল মনোনীত করেন। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্ব দ্রষ্টা!
Allâh chooses Messengers from angels and from men. Verily, Allâh is All-Hearer, All-Seer.

اللَّهُ يَصْطَفِي مِنَ الْمَلَائِكَةِ رُسُلًا وَمِنَ النَّاسِ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ
Allahu yastafee mina almala-ikati rusulan wamina alnnasi inna Allaha sameeAAun baseerun

YUSUFALI: Allah chooses messengers from angels and from men for Allah is He Who hears and sees (all things).
PICKTHAL: Allah chooseth from the angels messengers, and (also) from mankind. Lo! Allah is Hearer, Seer.

SHAKIR: Allah chooses messengers from among the angels and from among the men; surely Allah is Hearing, Seeing.
KHALIFA: GOD chooses from among the angels messengers, as well as from among the people. GOD is Hearer, Seer.

৭৫। আল্লাহ্‌ ফেরেশতাদের মধ্য থেকে তাঁর বাণী বাহক ২৮৫৭ মনোনীত করেন, এবং মানুষের মধ্য থেকেও। আল্লাহ্‌-ই [ সব কিছু ] শোনেন এবং দেখেন ২৮৫৮।

২৮৫৭। আল্লাহ্‌ ফেরেশতাদের মধ্যে থেকে তাঁর বাণীর বাহক মনোণীত করেন এবং মানুষের মধ্যে থেকেও। কারণ সাধারণ মানুষের পক্ষে ফেরেশতাদের মত পুত ও পবিত্রতার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব নয়। সুতারাং ফেরেশতারা আল্লাহ্‌র বাণীকে বহন করে আনে আল্লাহ্‌র নির্বাচিত নবী ও রসুলদের নিকট। ফেরেশতা ও নবী, রাসুল উভয়ই আল্লাহ্‌ কর্তৃক নির্বাচিত, এবং তাদের কার্যপ্রণালী আল্লাহ্‌র ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায়। তাঁরা শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র বাণীর প্রচারক হিসেবে কাজ করেন। সুতারাং কোনও অবস্থাতেই তাদের আল্লাহ্‌র প্রতিনিধি হিসেবে পূঁজা করা চলবে না।

তিনি মানুষকে তা স্বগোত্রের মধ্যে থেকে নির্বাচিত করেন যার নিকট ফেরেশতা আল্লাহ্‌র বাণীকে বহন করে নেয়, যা আধ্যাত্মিক জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ সত্য।

২৮৫৮। আল্লাহ্‌ তাঁর সৃষ্ট বস্তুর প্রতি করুণাময়। দীন-হীনের প্রতিও আল্লাহ্‌র করুণা সমভাবে প্রবাহিত, তিনি তাদের প্রার্থনাকে অসম্মান করেন না। তিনি সর্বশ্রোতা। সম্যক দ্রষ্টা।

সূরা হাজ্জ্ব (আয়াত ৭৬)

তিনি জানেন যা তাদের সামনে আছে এবং যা পশ্চাতে আছে এবং সবকিছু আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।
He knows what is before them, and what is behind them. And to Allâh return all matters (for decision).

يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَإِلَى اللَّهِ تُرْجَعُ الأمُورُ
YaAAlamu ma bayna aydeehim wama khalfahum wa-ila Allahi turjaAAu al-omooru

YUSUFALI: He knows what is before them and what is behind them: and to Allah go back all questions (for decision).
PICKTHAL: He knoweth all that is before them and all that is behind them, and unto Allah all things are returned. $$A

SHAKIR: He knows what is before them and what is behind them and to Allah are all affairs turned back.
KHALIFA: He knows their past and their future. To GOD belongs the ultimate control of all matters.

৭৬। তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা কিছু আছে তিনি তা জানেন। সকল বিষয় [ সিদ্ধান্তের জন্য ] আল্লাহ্‌র নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে ২৮৫৯।

২৮৫৯। সাধারণ মানুষ অতীত ও বর্তমান সময় নিয়ে মাথা ঘামায়। তারা নিজেদের মধ্যে তর্কবির্তক করে আল্লাহ্‌র প্রেরিত দূতদের আগমনের সময় সম্বন্ধে। এই আয়াতে আল্লাহ্‌ বলছেন মহাকালের গর্ভে পূর্ববর্তী ও পরর্বতী সময় কোনও ব্যাপারই নয়। আদি ও অন্ত সবই আল্লাহ্‌র কাছে প্রত্যাবর্তন করবে এবং তিনিই সব কিছুর বিচার করবেন।

সূরা হাজ্জ্ব পার্ট-৪

সূরা হাজ্জ্ব (আয়াত ৭৭)

হে মুমিনগণ! তোমরা রুকু কর, সেজদা কর, তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর এবং সৎকাজ সম্পাদন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।
O you who believe! Bow down, and prostrate yourselves, and worship your Lord and do good that you may be successful.

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ Ya ayyuha allatheena amanoo irkaAAoo waosjudoo waoAAbudoo rabbakum waifAAaloo alkhayra laAAallakum tuflihoona

YUSUFALI: O ye who believe! bow down, prostrate yourselves, and adore your Lord; and do good; that ye may prosper.
PICKTHAL: O ye who believe! Bow down and prostrate yourselves, and worship your Lord, and do good, that haply ye may prosper.

SHAKIR: O you who believe! bow down and prostrate yourselves and serve your Lord, and do good that you may succeed.
KHALIFA: O you who believe, you shall bow, prostrate, worship your Lord, and work righteousness, that you may succeed.

৭৭। হে বিশ্বাসী সম্প্রদায়! রুকু কর, সিজ্‌দা কর ও তোমাদের প্রভুকে শ্রদ্ধাভরে ভালোবাস এবং ভালো কাজ কর; যেনো তোমরা সফলকাম হতে পার ২৮৬০।

২৯৬০। “সফলকাম” এই শব্দটির ভাবার্থ হচ্ছে ইহকাল ও পরকাল উভয়কালে সাফল্য লাভ করা বা সমৃদ্ধি অর্জন করা। এই সাফল্য লাভের উপায় এই আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ্‌র এবাদত করা ও সৎকাজ করা এই দ্বিবিধ উপায়ের কথা এখানে বর্ণনা করা হয়েছে। এবাদত অর্থ জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য আল্লাহ্‌র হুকুম বা বিধানকে মেনে চলা এবং আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য সৎ কাজ করা বা তাঁর সৃষ্টির সেবায় আত্মনিয়োগ করা। ইহকাল ও পরকালের সমৃদ্ধির জন্য এই দ্বিবিধ কর্ম পদ্ধতিই একমাত্র আল্লাহ্‌র মনোনীত।

সূরা হাজ্জ্ব (আয়াত ৭৮)

আরও দেখুনঃ 

সূরা হাজ্জ্ব পার্ট-৩

সূরা হাজ্জ্ব পার্ট-২

সূরা হাজ্জ্ব পার্ট-১

সূরা নম্‌ল – উইকিপিডিয়া

 

 

Leave a Comment